প্রিন্ট ভিউ

মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংক অধ্যাদেশ, ২০২৬

( ২০২৬ সনের ১৯ নং অধ্যাদেশ )

মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংক প্রতিষ্ঠাকল্পে প্রণীত

অধ্যাদেশ

যেহেতু ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম সুচারু ও কার্যকরভাবে পরিচালনার উদ্দেশ্যে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য-দূরীকরণের লক্ষ্যে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করিবার প্রয়োজনীয়তা রহিয়াছে;

যেহেতু সংসদ ভাঙ্গিয়া যাওয়া অবস্থায় রহিয়াছে এবং রাষ্ট্রপতির নিকট ইহা সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হইয়াছে যে, আশু ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি বিদ্যমান রহিয়াছে;

সেহেতু গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৩ (১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে, রাষ্ট্রপতি নিম্নরূপ অধ্যাদেশ প্রণয়ন ও জারি করিলেন, যথা:-

সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রয়োগ

১। (১) এই অধ্যাদেশ মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংক অধ্যাদেশ, ২০২৬ নামে অভিহিত হইবে।

(২) সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা যে তারিখ নির্ধারণ করিবে সেই তারিখে এই অধ্যাদেশ কার্যকর হইবে।

সংজ্ঞা

২। (১) বিষয় বা প্রসংগের পরিপন্থি কোনো কিছু না থাকিলে, এই অধ্যাদেশে-

(ক) “আমানত” অর্থ ব্যাংকের ঋণগ্রহীতা, অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ব্যাংকের কোনো সঞ্চয়ী স্কিম বা অন্যবিধ হিসাবে জমাকৃত অর্থ;

(খ) “উদ্যোগ মূলধন (Startup Capital)” অর্থ কোনো নবীন বা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাকে বিনিয়োগ চুক্তি, অংশীদারিত্ব বা অন্যবিধ চুক্তির আওতায় তাহার ব্যবসায় অর্থায়নের অংশ হিসাবে প্রদত্ত অর্থ;

(গ) “ঋণ” অর্থ মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরী অথরিটি আইন, ২০০৬ (২০০৬ সনের ৩২ নং আইন) এর ধারা ২ এর দফা (২২) এ বর্ণিত ঋণ সুবিধা;

(ঘ) “চেয়ারম্যান” অর্থ ধারা ১৫ এর অধীন নিযুক্ত ব্যাংকের চেয়ারম্যান;

(ঙ) “পরিচালক” অর্থ ধারা ১৩-তে উল্লিখিত ব্যাংকের পরিচালক;

(চ) “বাংলাদেশ ব্যাংক” Bangladesh Bank Order, 1972 (President’s Order. No. 127 of 1972) এর অধীন প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ ব্যাংক;

(ছ) “বোর্ড” অর্থ ধারা ১৩ এর অধীন গঠিত ব্যাংকের পরিচালনা বোর্ড;

(জ) “ব্যবস্থাপনা পরিচালক” অর্থ ধারা ১৬ এর অধীন নিযুক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক;

(ঝ) “ব্যাংক” অর্থ ধারা ৪ এর অধীন প্রতিষ্ঠিত কোনো মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংক;

(ঞ) “মাইক্রোফাইন্যান্স” অর্থ নিম্ন আয়ের ব্যক্তি ও প্রচলিত ব্যাংকিং সেবা বহির্ভূত ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসমূহকে ক্ষুদ্রঋণ, সঞ্চয় ও বীমা জাতীয় আর্থিক পরিষেবা প্রদানের মাধ্যমে স্বয়ংসম্পূর্ণকরণ এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে মূলধন তৈরি ও উদ্যোগের শুরুতে ক্ষমতায়নের মাধ্যমে দারিদ্র্য দূরীকরণ;

(ট) “লাইসেন্স” অর্থ লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত লাইসেন্স;

(ঠ) “লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ” অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংক;

(ড) “শেয়ার হোল্ডার বা বিনিয়োগকারী” অর্থ ধারা ৮ এ বর্ণিত ব্যাংকের শেয়ার ক্রয়কারী বা বিনিয়োগকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান;

(ঢ) “সংরক্ষিত তহবিল” অর্থ ধারা ২৪ এর অধীন গঠিত সংরক্ষিত তহবিল;

(ণ) “সামাজিক ব্যবসায়” অর্থ এইরূপ একটি সামাজিক উদ্যোগ, যাহার মূল উদ্দেশ্য সামাজিক সমস্যার সমাধান করা এবং যাহাতে বিনিয়োগকারীগণ কেবল তাহাদের মূল অর্থ ফেরত পাইবেন, তবে কোনো মুনাফা প্রাপ্য হইবেন না;

(ত) “ক্ষুদ্র উদ্যোগ” অর্থ স্থানীয় পর্যায়ে পণ্য বা সেবা উৎপাদন বা সরবরাহের উদ্দেশ্যে গঠিত এইরূপ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, যাহাতে সর্বোচ্চ ২৫ (পঁচিশ) জন জনবল নিয়োজিত থাকেন এবং যাহার মোট সম্পত্তির মূল্য সর্বোচ্চ ১.৫০ কোটি টাকা; এবং

(থ) “ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান” অর্থ মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরী অথরিটি আইন, ২০০৬ এর ধারা ২ এর দফা (২১) এ সংজ্ঞায়িত ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান।

(২) এই অধ্যাদেশে ব্যবহৃত যে সকল শব্দ বা অভিব্যক্তির সংজ্ঞা প্রদান করা হয় নাই, সেই সকল শব্দ বা অভিব্যক্তি, ব্যাংক-কোম্পানী আইন, ১৯৯১ (১৯৯১ সনের ১৪ নং আইন) এবং মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরী অথরিটি আইন, ২০০৬ এ যে অর্থে ব্যবহৃত হইয়াছে সেই অর্থে প্রযোজ্য হইবে।

অধ্যাদেশের প্রযোজ্যতা

৩। এই অধ্যাদেশের বিধানাবলির প্রযোজ্যতা সাপেক্ষে ব্যাংক-কোম্পানী আইন, ১৯৯১ এর বিধানাবলি প্রযোজ্য হইবে।

মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংক প্রতিষ্ঠা

৪। (১) লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতিতে ও যোগ্যতা পূরণ সাপেক্ষে লাইসেন্স গ্রহণপূর্বক, লাইসেন্সে উল্লিখিত নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকার জন্য মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা যাইবে।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রতিষ্ঠিত ব্যাংকের স্থায়ী ধারাবাহিকতা ও একটি সাধারণ সিলমোহর থাকিবে এবং এই অধ্যাদেশ বা তদ্‌ধীন প্রণীত বিধি বা প্রবিধান সাপেক্ষে, ইহার স্থাবর বা অস্থাবর বা উভয় প্রকার সম্পত্তি অর্জন করিবার, অধিকারে রাখিবার বা হস্তান্তর করিবার ক্ষমতা থাকিবে এবং ইহা স্বীয় নামে মামলা দায়ের করিতে পারিবে এবং ইহার বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করা যাইবে।

(৩) উপ-ধারা (১) এর অধীন লাইসেন্স গ্রহণের পূর্বে প্রস্তাবিত ব্যাংককে কোম্পানী আইন, ১৯৯৪ এর অধীন নিবন্ধিত হইতে হইবে।

(৪) উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রতিষ্ঠিত ব্যাংক, ব্যাংক-কোম্পানী আইন, ১৯৯১Bangladesh Bank Order, 1972 এবং ব্যাংকিং কোম্পানি সম্পর্কিত বিদ্যমান অন্যান্য আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে একটি ব্যাংক-কোম্পানী হিসাবে গণ্য হইবে।

(৫) অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই অধ্যাদেশের অধীন প্রতিষ্ঠিত কোনো ব্যাংক কোনো স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হইবে না।

ব্যাংকের কর্ম এলাকা

৫। এই অধ্যাদেশের অধীন প্রতিষ্ঠিত ব্যাংক, ধারা ৪ এর উপ-ধারা (১) এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, নিম্নবর্ণিত যেকোনো ভৌগোলিক এলাকায় কার্যক্রম পরিচালনার জন্য লাইসেন্স গ্রহণ করিতে পারিবে, যথা:-

(ক) এক বা একাধিক জেলা বা বিভাগ; অথবা

(খ) সমগ্র বাংলাদেশ।

ব্যাংকের কার্যালয়, ইত্যাদি

৬। ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদনক্রমে নির্ধারিত হইবে, তবে ব্যাংক, লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে, বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত স্থানে উহার আঞ্চলিক বা শাখা কার্যালয় স্থাপন করিতে পারিবে।

ব্যাংকের কার্যাবলি

৭। (১) ব্যাংক এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ কর্তৃক, সময় সময়, আরোপিত শর্তাবলি এবং প্রযোজ্য আইনের অধীন শর্তপূরণ সাপেক্ষে, নিম্নবর্ণিত সকল বা যেকোনো কার্যাবলি সম্পাদন করিতে পারিবে, যথা:-

(ক) শেয়ারহোল্ডারগণকে জামানতসহ বা জামানত ব্যতিরেকে, নগদে বা অন্য কোনো প্রকারে, সকল প্রকার অর্থনৈতিক কার্যক্রম সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে, বিশেষ করিয়া, নূতন উদ্যোক্তাগণের আত্ম-কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য দূরীকরণের লক্ষ্যে ব্যবসা ও জীবনমান উন্নয়ন করিবার জন্য ঋণ প্রদান করা;

(খ) ঋণগ্রহীতা বা অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান হইতে আমানত গ্রহণ করা;

(গ) ব্যবসায় পরিচালনার উদ্দেশ্যে উহার সম্পদ বা অন্য কোনো সম্পত্তি জামানত রাখিয়া ঋণ গ্রহণ করা;

(ঘ) প্রয়োজনে প্রদত্ত ঋণ এবং অগ্রিমের জামানত হিসাবে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির প্লেজ (Pledge), বন্ধক (Mortgage), হাইপোথিকেশন (Hypothecation) বা স্বত্বনিয়োগ (Assignment) গ্রহণ করা;

(ঙ) নবীন ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাগণের ব্যবসা প্রতিষ্ঠা ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে উদ্যোগ মূলধন বিনিয়োগ করা;

(চ) বিনিয়োগ হিসাবে কোনো সংবিধিবদ্ধ সংস্থার শেয়ার ক্রয় করা;

(ছ) সেভিংস সার্টিফিকেট, মালিকানা দলিল বা অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী নিরাপদ হেফাজতে রাখিবার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা;

(জ) শিল্প ও কৃষিভিত্তিক পণ্য, মৎস্য, গবাদিপশু, যন্ত্রাংশ, যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামাদি এবং শিল্পের কাঁচামাল ক্রয়, মজুদকরণ ও অন্যান্য আয়বর্ধক কার্যক্রমের জন্য ঋণ প্রদান করা;

(ঝ) নূতন উদ্যোক্তাগণকে ফি ব্যতীত কারিগরি ও প্রশাসনিক সহায়তা প্রদান করা;

(ঞ) ঋণগ্রহীতাগণকে ব্যবস্থাপনা, বিপণন, কারিগরি ও প্রশাসনিক বিষয়ে পরামর্শ প্রদানসহ সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে সেবা লাভের জন্য সহায়তা প্রদান করা;

(ট) সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ করা;

(ঠ) ব্যাংকের সম্পূর্ণ বা আংশিক দাবি পূরণকল্পে, যে কোনোভাবে ব্যাংকের দখলে থাকা স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রয় বা বিক্রয়লব্ধ অর্থ আদায় এবং ব্যাংকের নিকট জামানত স্বরূপ গচ্ছিত উক্ত স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তির উপর অধিকার, স্বত্ব বা স্বার্থ অর্জন, সংরক্ষণ বা ব্যবস্থাপনা করা; এবং

(ড) লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে, ব্যাংকের কার্যক্রমের সহিত সঙ্গতিপূর্ণ অন্য যেকোনো কার্য সম্পাদন করা ।

(২) উপ-ধারা (১) এ বর্ণিত কার্যাবলি ব্যতীত ব্যাংক অন্য কোনো কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হইতে পারিবে না।

শেয়ারহোল্ডার বা বিনিয়োগকারী, ইত্যাদি

৮। ধারা ১০ এর বিধান সাপেক্ষে নিম্নবর্ণিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কোনো ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডার হইতে পারিবে, যথা:-

(ক) ব্যাংকের ঋণগ্রহীতা;

(খ) ধারা ২ এর উপ-ধারা (১) এর দফা (থ)-তে বর্ণিত ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান;

(গ) Societies Registration Act, 1860 (Act No. XXI of 1860), Trusts Act, 1882 (Act No. II of 1882), সমবায় সমিতি আইন, ২০০১ (২০০১ সনের ৪৭ নং আইন) বা কোম্পানী আইন, ১৯৯৪ (১৯৯৪ সনের ১৮ নং আইন) এর অধীন নিবন্ধিত এইরূপ কোনো প্রতিষ্ঠান, যাহা উদ্যোগ মূলধন প্রদান কার্যক্রম পরিচালনা করে; এবং

(ঘ) একাধিক ব্যক্তি উদ্যোক্তা হিসাবে নিজস্ব অর্থায়নে।

অনুমোদিত মূলধন

৯। (১) ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন হইবে ৫০০ (পাঁচশত) কোটি টাকা।

(২) অনুমোদিত মূলধন প্রতিটি ১০০ (একশত) টাকা মূল্যমানের ৫ (পাঁচ) কোটি সাধারণ শেয়ারে বিভক্ত থাকিবে।

(৩) বোর্ড, সময় সময়, লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে, ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধনের পরিমাণ বৃদ্ধি করিতে পারিবে।

পরিশোধিত মূলধন

১০। (১) ব্যাংকের প্রারম্ভিক পরিশোধিত মূলধন হইবে অন্যূন ২০০ (দুইশত) কোটি টাকা, যাহা ব্যাংকের ঋণগ্রহীতা শেয়ারহোল্ডারগণ এবং অন্যান্য শেয়ারহোল্ডারগণ কর্তৃক পরিশোধ করা হইবে:

তবে শর্ত থাকে যে, ব্যাংকের ঋণগ্রহীতা শেয়ারহোল্ডারগণের মূলধন অন্যূন ৬০ (ষাট) শতাংশ হইবে এবং উহা ব্যাংক প্রতিষ্ঠার পর ক্রমান্বয়ে পরিশোধযোগ্য হইবে।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন নির্ধারিত মূলধন ব্যাংকের শেয়ার ক্রয়ের মাধ্যমে পরিশোধ করা হইবে।

(৩) বোর্ড, সময় সময়, লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে, ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ বৃদ্ধি করিতে পারিবে।

মূলধন সংরক্ষণ

১১। ব্যাংক-কোম্পানী আইন, ১৯৯১ এর ধারা ১৩ অনুযায়ী লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ ব্যাংকের মূলধন সংরক্ষণ সংক্রান্ত বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করিবে।

সামাজিক ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান হিসাবে কার্যক্রম পরিচালনা

১২। (১) ব্যাংক একটি সামাজিক ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান হিসাবে উহার কার্যক্রম পরিচালনা করিবে এবং ব্যাংকের বিনিয়োগকারীগণকে লভ্যাংশ হিসাবে পরিশোধকৃত সর্বমোট অর্থের পরিমাণ তাহাদের মোট বিনিয়োগের অতিরিক্ত হইবে না; তবে পরিশোধযোগ্য বিনিয়োগের পরিমাণ নির্ধারণের ক্ষেত্রে উক্ত অর্থের উপর কোনো ধার্য কর, যদি প্রযোজ্য হয়, পরিশোধ সাপেক্ষে প্রদেয় নীট অর্থের পরিমাণকে বুঝাইবে।

(২) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, ধারা ৮ এর দফা (ক)-তে উল্লিখিত শেয়ারহোল্ডার বা বিনিয়োগকারীগণ তাহাদের বিনিয়োগের বিপরীতে লভ্যাংশ পাইবার অধিকারী হইবেন এবং উক্ত ক্ষেত্রে উপ-ধারা (১) এ বর্ণিত লভ্যাংশের পরিমাণ সংক্রান্ত বিধিনিষেধ প্রযোজ্য হইবে না।

পরিচালনা বোর্ড

১৩। (১) নিম্নবর্ণিত সদস্যগণের সমন্বয়ে ব্যাংকের পরিচালনা বোর্ড গঠিত হইবে, যথা:-

(ক) বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে ঋণগ্রহীতা (শেয়ার হোল্ডার) কর্তৃক নির্বাচিত ৪ (চার) জন ব্যক্তি, যাহারা “নির্বাচিত পরিচালক” বলিয়া গণ্য হইবেন;

(খ) অন্যান্য শেয়ারহোল্ডারগণ কর্তৃক মনোনীত ৩ (তিন) জন পরিচালক;

(গ) লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ কর্তৃক মনোনীত ২ (দুই) জন স্বতন্ত্র পরিচালক; এবং

(ঘ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক, পদাধিকারবলে, বোর্ডের পরিচালক হইবেন, তবে তাহার ভোটাধিকার থাকিবে না।

(২) উপ-ধারা (১) এ বর্ণিত কোনো নির্বাচিত বা মনোনীত পরিচালক তাহার দায়িত্ব গ্রহণের তারিখ হইতে ৩ (তিন) বৎসর মেয়াদে স্বীয় পদে অধিষ্ঠিত থাকিবেন।

(৩) উপ-ধারা (২) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, বোর্ডের মোট সদস্য সংখ্যার অন্যূন তিন-চতুর্থাংশ সদস্যের ভোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে, নির্বাচিত বা মনোনীত পরিচালককে তাহার মেয়াদ পূর্ণ হইবার পূর্বে অপসারণ করা যাইবে।

(৪) কোনো নির্বাচিত বা মনোনীত পরিচালক একাদিক্রমে ২ (দুই) মেয়াদের অধিক পরিচালক পদে অধিষ্ঠিত থাকিতে পারিবেন না এবং কোনো নির্বাচিত বা মনোনীত পরিচালক পর পর ২ (দুই) মেয়াদে পরিচালক পদে অধিষ্ঠিত থাকিলে, দ্বিতীয় মেয়াদ সমাপ্ত হইবার তারিখ হইতে পরবর্তী ৩ (তিন) বৎসর অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত উক্ত ব্যাংকের পরিচালক পদে পুনঃনির্বাচিত বা পুনঃমনোনীত হইবার যোগ্য হইবেন না।

ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসন

১৪। (১) ব্যাংকের সার্বিক তত্ত্বাবধান ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব বোর্ডের উপর ন্যস্ত থাকিবে।

(২) যেকোনো নীতিগত বিষয়ে, ব্যাংক লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ কর্তৃক, সময় সময়, প্রদত্ত নির্দেশনা অনুসরণ করিবে।

চেয়ারম্যান

১৫। (১) ধারা ১৩ এর উপ-ধারা (১) এর দফা (ক) ও (খ)-তে বর্ণিত পরিচালকগণ তাহাদের মধ্য হইতে একজনকে ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসাবে নির্বাচন করিবেন।

(২) চেয়ারম্যানের পদ শূন্য হইলে কিংবা তাহার অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে চেয়ারম্যান তাহার দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে, শূন্যপদে নূতন চেয়ারম্যান কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত কিংবা চেয়ারম্যান পুনরায় স্বীয় দায়িত্ব পালনে সমর্থ না হওয়া পর্যন্ত, বোর্ড কর্তৃক মনোনীত যেকোনো পরিচালক চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালন করিবেন।

ব্যবস্থাপনা পরিচালক

১৬। (১) ব্যাংকের একজন ব্যবস্থাপনা পরিচালক থাকিবেন।

(২) ব্যাংক-কোম্পানী আইন, ১৯৯১ এ উল্লিখিত ব্যবস্থাপনা পরিচালক সংক্রান্ত বিধানাবলি অনুসরণপূর্বক, এবং লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে, বোর্ড কর্তৃক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিযুক্ত হইবে এবং তাহার চাকরির শর্তাবলি বোর্ডের সহিত সম্পাদিত চুক্তি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।

(৩) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হইবেন।

(৪) ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ শূন্য হইলে কিংবা তাহার অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাহার দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে, শূন্যপদে নূতন ব্যবস্থাপনা পরিচালক কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত কিংবা ব্যবস্থাপনা পরিচালক পুনরায় স্বীয় দায়িত্ব পালনে সমর্থ না হওয়া পর্যন্ত, বোর্ড কর্তৃক মনোনীত যেকোনো কর্মকর্তা ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসাবে দায়িত্ব পালন করিবেন।

পরিচালকের দায়িত্ব

১৭। চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং অন্যান্য পরিচালকগণ প্রবিধান দ্বারা এবং বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতিতে ব্যাংকের দায়িত্ব পালন ও কর্তব্য সম্পাদন করিবেন।

পদত্যাগ

১৮। (১) চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা অন্য কোনো পরিচালক বোর্ডের নিকট তাহার স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে স্বীয় পদ ত্যাগ করিবার আবেদন করিতে পারিবেন।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন আবেদন বোর্ড কর্তৃক গৃহীত হওয়া সাপেক্ষে কার্যকর হইবে এবং বোর্ড বিষয়টি যথাসময়ে লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষকে অবহিত করিবে।

সভা

১৯। (১) বোর্ডের সভা উহার চেয়ারম্যান কর্তৃক নির্ধারিত তারিখ, সময় ও স্থানে অনুষ্ঠিত হইবে।

(২) এই ধারার বিধান সাপেক্ষে, বোর্ডের সভার কার্যধারা ও ভোট গ্রহণের পদ্ধতি প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে।

(৩) বোর্ডের সভার কোরামের জন্য উহার মোট সদস্য সংখ্যার অন্যূন এক-তৃতীয়াংশ সদস্যের উপস্থিতির প্রয়োজন হইবে, তবে মুলতবি সভার ক্ষেত্রে কোনো কোরামের প্রয়োজন হইবে না।

(৪) চেয়ারম্যান বোর্ডের সকল সভায় সভাপতিত্ব করিবেন এবং তাহার অনুপস্থিতিতে সভায় উপস্থিত পরিচালকগণের মধ্য হইতে তাহাদের দ্বারা নির্বাচিত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্যতীত, যেকোনো পরিচালক সভায় সভাপতিত্ব করিবেন।

(৫) কেবল কোনো পরিচালক পদে শূন্যতা বা বোর্ড গঠনে ত্রুটি থাকিবার কারণে বোর্ডের কোনো কার্য বা কার্যধারা অবৈধ হইবে না এবং তদ্‌সম্পর্কে কোনো প্রশ্ন বা আপত্তি উত্থাপন করা যাইবে না।

(৬) সভার কোনো আলোচ্যসূচিতে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোনো পরিচালকের ব্যক্তিগত স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় থাকিলে তিনি বোর্ডের সভায় উক্ত বিষয়ের উপর আলোচনায় অংশগ্রহণ এবং ভোটাধিকার প্রয়োগ করিতে পারিবেন না।

(৭) কোনো বিষয়ে ভোটের সমতার ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য চেয়ারম্যানের নির্ণায়ক ভোট প্রদানের ক্ষমতা থাকিবে।

কমিটি

২০। (১) এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, বোর্ড উহার কার্যাবলি সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনে সহায়তা প্রদানের জন্য, প্রয়োজনে, এক বা একাধিক কমিটি গঠন করিতে পারিবে এবং উক্তরূপ কমিটির সদস্য সংখ্যা, উহার দায়িত্ব ও কার্যাবলি নির্ধারণ করিতে পারিবে।

(২) উপ-ধারা (১) এ বর্ণিত কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে ব্যাংক-কোম্পানী আইন, ১৯৯১ এবং লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষের, সময় সময়, জারীকৃত নির্দেশনা অনুসরণ করিতে হইবে।

আর্থিক প্রতিবেদন

২১। (১) ব্যাংক প্রত্যেক অর্থ বৎসর সমাপ্ত হইবার পর উক্ত বৎসরে ব্যাংক কর্তৃক সম্পাদিত ব্যবসা ও কার্যক্রম সম্পর্কিত একটি ব্যালেন্সশীট, লাভ-ক্ষতির হিসাব এবং আর্থিক প্রতিবেদন প্রণয়ন করিবে।

(২) উপ-ধারা (১) এর আর্থিক প্রতিবেদন প্রণয়নের ক্ষেত্রে ব্যাংক-কোম্পানী আইন, ১৯৯১ এবং এতদুদ্দেশ্যে, লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ কর্তৃক, সময় সময়, জারীকৃত নির্দেশিকা অনুসরণ করিতে হইবে।

নিরীক্ষা

২২। (১) এই অধ্যাদেশে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, ফাইনান্সিয়াল রিপোর্টিং আইন, ২০১৫ এর ধারা ৪০ এর বিধান অনুযায়ী প্রণীত ফাইনান্সিয়াল রিপোর্টিং স্ট্যান্ডার্ডস এবং অডিটিং স্ট্যান্ডার্ডস অনুসরণে ব্যাংক উক্ত আইনের অধীন প্রতিষ্ঠিত ফাইনান্সিয়াল কাউন্সিলের তালিকাভুক্ত নিরীক্ষক দ্বারা ব্যাংকের হিসাব নিরীক্ষা করিবে।

ব্যাখ্যা।-এই অধ্যাদেশের অধীন স্থাপিত ব্যাংক ফাইনান্সিয়াল রিপোর্টিং আইন, ২০১৫ (২০১৫ সনের ১৬ নং আইন) এর ধারা ২ এর দফা (৮) এ সংজ্ঞায়িত “জনস্বার্থ সংস্থা” হিসাবে বিবেচিত হইবে।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন নিয়োগকৃত নিরীক্ষককে ব্যাংকের বার্ষিক ব্যালেন্সশীট ও অন্যান্য হিসাবের অনুলিপি সরবরাহ করা হইবে এবং নিরীক্ষক যুক্তিসঙ্গত সময়ে ব্যাংকের সকল রেকর্ড, দলিল, হিসাব বহি ও ভাউচারসহ দাপ্তরিক ও অন্যান্য সম্পত্তি পরীক্ষা করিয়া দেখিতে পারিবেন এবং উক্ত হিসাব সম্পর্কে ব্যাংকের যে কোনো পরিচালক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করিতে পারিবেন।

(৩) নিরীক্ষক এই ধারার অধীন কৃত নিরীক্ষা প্রতিবেদন লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষের নিকট পেশ করিবেন এবং উক্ত প্রতিবেদনে এই মর্মে উল্লেখ করিতে হইবে যে, তাহাদের মতে বার্ষিক ব্যালেন্সশীটে এইরূপ প্রয়োজনীয় বিবরণাদি সন্নিবেশিত করা হইয়াছে এবং উহা এইরূপে প্রস্তুত করা হইয়াছে যাহাতে ব্যাংকের সম্পত্তির তথ্য ও কার্যক্রমের সত্য এবং সঠিক চিত্র প্রদর্শিত হয় এবং এই সকল বিষয়ে ব্যাংকের নিকট হইতে তাহারা কোনো ব্যাখ্যা বা তথ্য চাহিয়া থাকিলে উহার সরবরাহ সন্তোষজনক ছিল কি না তাহাও উল্লেখ করিবেন।

(৪) ব্যাংকের আমানতকারী এবং ঋণ গ্রহীতাগণের স্বার্থরক্ষায় পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হইয়াছে কিনা, তাহা নিরীক্ষিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করিতে হইবে।

প্রতিবেদন

২৩। (১) লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ প্রচলিত আইন ও বিধি-বিধান অনুসরণক্রমে, সময় সময়, ব্যাংক পরিদর্শন করিতে এবং ব্যাংকের নিকট হইতে ব্যাংকের যেকোনো বিষয়ের উপর তথ্য, প্রতিবেদন বা বিবরণী আহ্বান করিতে পারিবে এবং ব্যাংক, উক্ত চাহিদা অনুযায়ী তথ্য, প্রতিবেদন বা বিবরণী প্রেরণ করিবে।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রতিবেদনের বিষয়ে লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষের কোনো মন্তব্য, যদি থাকে, উহার ভিত্তিতে ব্যাংক মতামত প্রদান করিবে এবং ঋণগ্রহীতা বা আমানতকারীগণের স্বার্থ রক্ষা করিবার জন্য, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষের কোনোরূপ নির্দেশনা থাকিলে ব্যাংক উহা প্রতিপালন করিবে।

সংরক্ষিত তহবিল

২৪। ব্যাংক, প্রচলিত আইন ও বিধি-বিধান অনুসরণক্রমে, একটি সংরক্ষিত তহবিল গঠন করিবে এবং উক্ত তহবিলে ব্যাংকের নীট বার্ষিক মুনাফা বা আয় হইতে বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত পরিমাণ অর্থ জমা হইবে।

লভ্যাংশ ব্যবহার

২৫। ধারা ২৪ এর অধীন সংরক্ষিত তহবিলে জমা করা এবং পরিশোধ বন্ধ হইয়াছে বা উহা সন্দেহজনক (Doubtful) পর্যায়ে রহিয়াছে এইরূপ ঋণ, সম্পদের ঘাটতি এবং অন্যান্য ব্যাংক কর্তৃক নির্দিষ্টকৃত অনুরূপ অন্যান্য ঘাটতির ব্যবস্থা রাখিবার পর ব্যাংকের অবশিষ্ট নীট লভ্যাংশ এতদ্‌সংশ্লিষ্ট প্রচলিত আইন ও বিধি-বিধান অনুযায়ী এবং লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে সামাজিক খাতে ব্যবহার করা যাইবে।

কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ

২৬। (১) ব্যাংক উহার দায়িত্ব ও কার্যাবলি সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারিবে।

(২) কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়োগ ও চাকরির শর্তাবলি বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত হইবে।

ব্যাংকের পাওনা আদায়

২৭। (১) কোনো ঋণগ্রহীতা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঋণ বা ঋণের কোনো অংশ বা কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হইলে, উক্ত ঋণকে খেলাপি ঋণ হিসাবে গণ্য করা হইবে এবং মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংক এই অধ্যাদেশের বিধান প্রতিপালন সাপেক্ষে ঋণ আদায়ের উদ্যোগ গ্রহণ করিতে পারিবে:

তবে শর্ত থাকে যে, ঋণ গ্রহীতা বা ঋণ পরিশোধে বাধ্য এইরূপ প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিকে ১৫ (পনেরো) দিনের নোটিশ প্রদান ব্যতিরেকে এই ধারার অধীন খেলাপি ঋণ আদায় কার্যক্রম আরম্ভ করা যাইবে না।

(২) খেলাপি ঋণ আদায়ের ক্ষেত্রে লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত শর্ত সাপেক্ষে মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংক ঋণ পুনঃতফসিলীকরণ, পুনর্গঠন, অথবা বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি পদ্ধতি (ADR) অনুসরণ করিতে পারিবে।

(৩) খেলাপি ঋণ আদায়ের ক্ষেত্রে উপ-ধারা (২) এ বর্ণিত পদক্ষেপসমূহে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক অগ্রগতি না হইলে অথবা ঋণগ্রহীতার ঋণ পরিশোধে ইচ্ছাকৃত অসহযোগিতা প্রতীয়মান হইলে মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংক, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, প্রচলিত আইন অনুযায়ী ঋণ আদায়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবে।

(৪) উপ-ধারা (৩) এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংক অর্থ ঋণ আদালত আইন, ২০০৩ (২০০৩ সনের ৮ নং আইন) এর বিধান অনুসরণ করিতে পারিবে।

(৫) খেলাপি ঋণ আদায়ের ক্ষেত্রে মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংক স্বচ্ছতা, সামাজিক সংবেদনশীলতা এবং ঋণগ্রহীতার আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় গ্রহণ করিবে এবং জবরদস্তি বা হয়রানিমূলক, অবমাননাকর বা মানব মর্যাদা পরিপন্থি কোনো কার্যক্রম গ্রহণ করিতে পারিবে না।

(৬) এই ধারার অধীন খেলাপি ঋণ আদায় সংক্রান্ত বিস্তারিত কার্যক্রম ও পদ্ধতি এবং প্রয়োগযোগ্য আইনসমূহ বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।

ক্ষমতা অর্পণ

২৮। ব্যাংকের দক্ষতা নিশ্চিতকরণকল্পে এবং দৈনন্দিন ব্যবসায়িক লেনদেন কার্যক্রম সহজতর করিবার উদ্দেশ্যে, বোর্ড, উহার কোনো ক্ষমতা বা দায়িত্ব সুনির্দিষ্ট শর্তে চেয়ারম্যান, পরিচালক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা ব্যাংকের অন্য কোনো কর্মকর্তাকে অর্পণ করিতে পারিবে।

আনুগত্য ও গোপনীয়তা

২৯। (১) ব্যাংকের প্রত্যেক পরিচালক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী তাহার দায়িত্ব গ্রহণের পূর্বে বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতিতে ব্যাংকের আনুগত্য রক্ষা ও ব্যাংকের গোপনীয় তথ্য সংরক্ষণের বিষয়ে লিখিত ঘোষণা প্রদান করিবেন।

(২) কোনো পরিচালক, কর্মকর্তা বা কর্মচারী উপ-ধারা (১) এ বর্ণিত আনুগত্য ও গোপনীয়তার ঘোষণার শর্ত ভঙ্গ করিলে উহা হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ৬ (ছয়) মাসের কারাদণ্ড অথবা ১ (এক) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।

ব্যাংকের পরিচালক, ইত্যাদির অপসারণ

৩০। লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ, ব্যাংক-কোম্পানী আইন, ১৯৯১ এর ধারা ৪৬ এ বর্ণিত কারণে এবং উক্ত ধারায় উল্লিখিত পদ্ধতি অনুসরণপূর্বক, প্রয়োজনে, ব্যাংকের চেয়ারম্যান, কোনো পরিচালক বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে অপসারণ করিতে পারিবে।

পরিচালনা বোর্ড বাতিল করিবার ক্ষমতা

৩১। লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ, ব্যাংক-কোম্পানী আইন, ১৯৯১ এর ধারা ৪৭ এ বর্ণিত কারণে এবং উক্ত ধারায় উল্লিখিত পদ্ধতি অনুসরণপূর্বক, প্রয়োজনে, ব্যাংকের পরিচালনা বোর্ডকে বাতিল করিতে পারিবে।

ব্যাংকের অবসায়ন

৩২। ব্যাংকের অবসায়ন সংক্রান্ত বিষয়ে ব্যাংক-কোম্পানী আইন, ১৯৯১ এবং এতদ্‌সংশ্লিষ্ট প্রযোজ্য অন্যান্য আইনে যে সকল বিধান রহিয়াছে, সেই সকল বিধান এই অধ্যাদেশের অধীন প্রতিষ্ঠিত ব্যাংকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে।

বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা

৩৩। এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার, লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষের সহিত পরামর্শক্রমে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।

প্রবিধান প্রণয়নের ক্ষমতা

৩৪। এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, ব্যাংকের দক্ষ পরিচালনার উদ্দেশ্যে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই অধ্যাদেশ এবং তদ্‌ধীন প্রণীত কোনো বিধির সহিত অসামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়া সাপেক্ষে, প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে।

ইংরেজিতে অনূদিত পাঠ প্রকাশ

৩৫। (১) এই অধ্যাদেশ কার্যকর হইবার পর সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই অধ্যাদেশের মূল বাংলা পাঠের ইংরেজিতে অনূদিত একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ (Authentic English Text) প্রকাশ করিবে।

(২) বাংলা ও ইংরেজি পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাইবে।


Copyright © 2019, Legislative and Parliamentary Affairs Division
Ministry of Law, Justice and Parliamentary Affairs