প্রিন্ট ভিউ
বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা আইন, ২০০২ এর সংশোধনকল্পে প্রণীত
অধ্যাদেশ
যেহেতু নিম্নবর্ণিত উদ্দেশ্যসমূহ পূরণকল্পে, বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা আইন, ২০০২ (২০০২ সনের ২৭ নং আইন) এর সংশোধন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; এবং
যেহেতু সংসদ ভাঙ্গিয়া যাওয়া অবস্থায় রহিয়াছে এবং রাষ্ট্রপতির নিকট ইহা সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হইয়াছে যে, আশু ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি বিদ্যমান রহিয়াছে;
সেহেতু গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি নিম্নরূপ অধ্যাদেশ প্রণয়ন ও জারি করিলেন:-
১। (১) এই অধ্যাদেশ বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬ নামে অভিহিত হইবে।
(২) ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে।
২। বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা আইন, ২০০২ (২০০২ সনের ২৭ নং আইন), অতঃপর উক্ত আইন বলিয়া উল্লিখিত, এর ধারা ২ এর-
(ক) দফা (খ)-তে উল্লিখিত “প্রতিষ্ঠানের” শব্দের পর “Monthly Payment Order (MPO)-ভুক্ত, অতঃপর এমপিওভুক্ত বলিয়া উল্লিখিত,” শব্দগুলি, বন্ধনী ও কমাগুলি সন্নিবেশিত হইবে;
(খ) দফা (ছ)-তে উল্লিখিত “কলেজ” শব্দের পর “, দাখিল ও তদূর্ধ্ব পর্যায়ের সহিত সংযুক্ত ইবতেদায়ি মাদ্রাসা” কমা ও শব্দগুলি সন্নিবেশিত হইবে;
(গ) দফা (ঝ)-তে উল্লিখিত “প্রতিষ্ঠানের” শব্দের পর “এমপিওভুক্ত” শব্দ সন্নিবেশিত হইবে।
৩। উক্ত আইনের ধারা ৬ এর পরিবর্তে নিম্নরূপ ধারা ৬ প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-
“৬। পরিচালনা পরিষদ গঠন।-(১) বোর্ডের একটি পরিচালনা পরিষদ থাকিবে যাহা নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে গঠিত হইবে, যথা:-
(ক) সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, যিনি উহার চেয়ারম্যানও হইবেন;
(খ) মহাপরিচালক, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, যিনি উহার ভাইস-চেয়ারম্যানও হইবেন;
(গ) মহাপরিচালক, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর;
(ঘ) মহাপরিচালক, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর;
(ঙ) চেয়ারম্যান, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকা;
(চ) সরকার কর্তৃক মনোনীত মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের একজন পরিচালক;
(ছ) মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ কর্তৃক মনোনীত একজন কর্মকর্তা;
(জ) কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ কর্তৃক মনোনীত একজন কর্মকর্তা;
(ঝ) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কর্তৃক মনোনীত একজন কর্মকর্তা;
(ঞ) অর্থ বিভাগ কর্তৃক মনোনীত একজন কর্মকর্তা;
(ট) সরকার কর্তৃক মনোনীত এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ১১ (এগারো) জন শিক্ষক যাহাদের মধ্যে-
(অ) ২ (দুই) জন কর্মরত এবং একজন অবসরপ্রাপ্ত বেসরকারী কলেজের শিক্ষক;
(আ) ২ (দুই) জন কর্মরত এবং একজন অবসরপ্রাপ্ত বেসরকারী মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষক,
(ই) ২ (দুই) জন কর্মরত এবং একজন অবসরপ্রাপ্ত দাখিল ও তদূর্ধ্ব পর্যায়ের বেসরকারী মাদ্রাসার শিক্ষক,
(ঈ) একজন বেসরকারী উচ্চ মাধ্যমিক ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা ইনষ্টিটিউটের শিক্ষক; এবং
(উ) একজন বেসরকারী কারিগরি মাধ্যমিক ইনষ্টিটিউটের শিক্ষক;
(ঠ) সরকার কর্তৃক মনোনীত বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৩ (তিন) জন কর্মচারী;
(ড) পরিচালক, অবসর সুবিধা বোর্ড, যিনি উহার সদস্য-সচিবও হইবেন।
(২) উপ-ধারা (১) এর দফা (ট) ও (ঠ) এর অধীন মনোনীত সদস্যগণ তাহাদের মনোনয়নের তারিখ হইতে ৩ (তিন) বৎসরের মেয়াদে স্বীয় পদে বহাল থাকিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, সরকার উক্ত মেয়াদ শেষ হইবার পূর্বেই যে কোন সময় যে কোন সদস্যের মনোনয়ন বাতিল করিতে পারিবে:
আরও শর্ত থাকে যে, উক্তরূপ যে কোন সদস্য সরকারের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে পারিবেন।”।
৪। উক্ত আইনের ধারা ৭ এর-
(ক) দফা (ক)-তে উল্লিখিত “সুবিধাদি প্রদান” শব্দগুলির পরিবর্তে “সুবিধাদির অনুমোদন” শব্দগুলি প্রতিস্থাপিত হইবে;
(খ) দফা (খ) এর পরিবর্তে নিম্নরূপ দফা (খ) প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-
“(খ) চাকরিরত অবস্থায় কোন শিক্ষক বা কর্মচারী মৃত্যুবরণ করিলে তাহার পরিবারকে প্রদত্ত অবসর সুবিধাদির অনুমোদন;”;
(গ) দফা (গ) এর শুরুতে “সরকারের অনুমোদনক্রমে” শব্দগুলি সন্নিবেশিত হইবে;
(ঘ) দফা (ঘ)-তে উল্লিখিত “অন্য যে কোন” শব্দগুলি বিলুপ্ত হইবে।
৫। উক্ত আইনের ধারা ৮ এর
(ক) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত “সচিব” শব্দের পরিবর্তে “সদস্য-সচিব” শব্দ প্রতিস্থাপিত হইবে;
(খ) উপ-ধারা (৩) এর পরিবর্তে নিম্নরূপ উপ-ধারা (৩) প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-
“(৩) চেয়ারম্যান পরিষদের সভায় সভাপতিত্ব করিবেন এবং তাহার অনুপস্থিতিতে ভাইস-চেয়ারম্যান সভাপতিত্ব করিবেন।”;
(গ) উপ-ধারা (৪) এ উল্লিখিত “মোট সদস্যের” শব্দগুলির পর “অন্যূন” শব্দ সন্নিবেশিত হইবে;
(ঘ) উপ-ধারা (৬) এর পর নিম্নরূপ নূতন উপ-ধারা (৭) সংযোজিত হইবে, যথা:-
“(৭) কোন কারণে বোর্ড গঠন করা সম্ভব না হইলে অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা হিসাবে, সরকারের অনুমোদনক্রমে, শিক্ষক ও কর্মচারীদের অবসর সুবিধাদি প্রদান করা যাইবে।”।
৬। উক্ত আইনের ধারা ৯ এর-
(ক) উপ-ধারা (৩) এর দফা (ক)-তে উল্লিখিত “প্রথম” শব্দটি বিলুপ্ত হইবে;
(খ) উপ-ধারা (৪) এর পরিবর্তে নিম্নরূপ উপ-ধারা (৪) প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-
“(৪) স্থায়ী তহবিলের অর্থ, সরকারের অনুমোদনসাপেক্ষে, কোন রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক বা সরকারি বন্ড বা বিলে বিনিয়োগ করিতে হইবে এবং বোর্ডের কোন কার্য সম্পাদনের উদ্দেশ্যে উক্ত তহবিলের অর্থ ব্যয় করা যাইবে না।”।
(গ) উপ-ধারা (৪) এর পর নিম্নরূপ নূতন উপ-ধারা (৪ক) সন্নিবেশিত হইবে, যথা:-
“(৪ক) স্থায়ী ও চলতি তহবিল প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে পরিচালিত হইবে।”।
৭। উক্ত আইনের ধারা ১২ এর পরিবর্তে নিম্নরূপ ধারা ১২ প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-
“১২। বোর্ডের কর্মকর্তা ও কর্মচারী।- (১) বোর্ডের কার্যাবলী সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের উদ্দেশ্যে, পরিষদ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারিবে এবং তাহাদের চাকুরীর শর্তাবলী প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
(২) বোর্ডের একজন পরিচালক থাকিবেন, যিনি সরকার কর্তৃক প্রেষণে নিযুক্ত হইবেন এবং তিনি বোর্ড কর্তৃক প্রদত্ত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন, দায়িত্ব পালন ও কার্যসম্পাদন করিবেন।”।
৮। উক্ত আইনের ধারা ১৪ বিলুপ্ত হইবে।