প্রিন্ট ভিউ
বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাষ্ট আইন, ১৯৯০ এর অধিকতর সংশোধনকল্পে প্রণীত
অধ্যাদেশ
যেহেতু নিম্নবর্ণিত উদ্দেশ্যসমূহ পূরণকল্পে, বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাষ্ট আইন ১৯৯০ (১৯৯০ সনের ২৮ নং আইন) এর অধিকতর সংশোধন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; এবং
যেহেতু সংসদ ভাঙ্গিয়া যাওয়া অবস্থায় রহিয়াছে এবং রাষ্ট্রপতির নিকট ইহা সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হইয়াছে যে, আশু ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি বিদ্যমান রহিয়াছে;
সেহেতু গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি নিম্নরূপ অধ্যাদেশ প্রণয়ন ও জারি করিলেন:-
১। (১) এই অধ্যাদেশ বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাষ্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬ নামে অভিহিত হইবে।
(২) ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে।
২। বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাষ্ট আইন, ১৯৯০ (১৯৯০ সনের ২৮ নং আইন), অতঃপর উক্ত আইন বলিয়া উল্লিখিত, এর ধারা ২ এর-
(ক) দফা (ক) এর পরিবর্তে নিম্নরূপ দফা (ক) প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-
“(ক) “কর্মচারী” অর্থ বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত Monthly Payment Order (MPO)-ভুক্ত, অতঃপর এমপিওভুক্ত বলিয়া উল্লিখিত, কোন কর্মচারী;”;
(খ) দফা (খ)-তে উল্লিখিত “বেসরকারী” শব্দের পর “এমপিওভুক্ত” শব্দ সন্নিবেশিত হইবে;
(গ) দফা (ঘ)-তে উল্লিখিত “কলেজ” শব্দের পর, “দাখিল ও তদূর্ধ্ব পর্যায়ের সহিত সংযুক্ত ইবতেদায়ি মাদ্রাসা” কমা ও শব্দগুলি সন্নিবেশিত হইবে;
(ঘ) দফা (চ) এর পরিবর্তে নিম্নরূপ দফা (চ) প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-
“(চ) “শিক্ষক” অর্থ বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত এমপিওভুক্ত কোন শিক্ষক।”।
৩। উক্ত আইনের ধারা ৬ এর পরিবর্তে নিম্নরূপ ধারা ৬ প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-
“৬। ট্রাষ্টী বোর্ড।-(১) ট্রাষ্টী বোর্ড নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে গঠিত হইবে, যথা:-
(ক) সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, যিনি উহার চেয়ারম্যানও হইবেন;
(খ) মহাপরিচালক, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, যিনি উহার ভাইস-চেয়ারম্যানও হইবেন;
(গ) মহাপরিচালক, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর;
(ঘ) মহাপরিচালক, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর;
(ঙ) চেয়ারম্যান, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকা;
(চ) সরকার কর্তৃক মনোনীত মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের একজন পরিচালক;
(ছ) মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ কর্তৃক মনোনীত একজন কর্মকর্তা;
(জ) কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ কর্তৃক মনোনীত একজন কর্মকর্তা;
(ঝ) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কর্তৃক মনোনীত একজন কর্মকর্তা;
(ঞ) অর্থ বিভাগ কর্তৃক মনোনীত একজন কর্মকর্তা;
(ট) সরকার কর্তৃক মনোনীত এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ১১ (এগারো) জন শিক্ষক যাহাদের মধ্যে-
(অ) ২ (দুই) জন কর্মরত এবং একজন অবসরপ্রাপ্ত বেসরকারী কলেজের শিক্ষক;
(আ) ২ (দুই) জন কর্মরত এবং একজন অবসরপ্রাপ্ত বেসরকারী মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষক;
(ই) ২ (দুই) জন কর্মরত এবং একজন অবসরপ্রাপ্ত দাখিল ও তদূর্ধ্ব পর্যায়ের বেসরকারী মাদ্রাসার শিক্ষক;
(ঈ) একজন বেসরকারী উচ্চ মাধ্যমিক ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা ইনষ্টিটিউটের শিক্ষক; এবং
(উ) একজন বেসরকারী কারিগরি মাধ্যমিক ইনষ্টিটিউটের শিক্ষক;
(ঠ) সরকার কর্তৃক মনোনীত বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৩ (তিন) জন কর্মচারী;
(ড) পরিচালক, কল্যাণ ট্রাষ্ট যিনি উহার সদস্য-সচিবও হইবেন।
(২) উপ-ধারা (১) এর দফা (ট) ও (ঠ) এর অধীন মনোনীত সদস্যগণ তাঁহাদের মনোনয়নের তারিখ হইতে ৩ (তিন) বৎসরের মেয়াদে স্বীয় পদে বহাল থাকিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, সরকার উক্ত মেয়াদ শেষ হইবার পূর্বেই কোন কারণ না দর্শাইয়া যে কোন সময় উক্তরূপ যে কোন সদস্যের মনোনয়ন বাতিল করিতে পারিবে:
আরও শর্ত থাকে যে, উক্তরূপ যে কোন সদস্য সরকারের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে পারিবে।”।
৪। উক্ত আইনের ধারা ৭ এর-
(ক) দফা (খ) এর পরিবর্তে নিম্নরূপ দফা (খ) প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-
“(খ) বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারীগণ চাকুরীরত অবস্থায় কোন কারণে অক্ষম হইয়া পড়িলে তাঁহাদেরকে আর্থিক সাহায্য অনুমোদন;”;
(খ) দফা (গ) এর পরিবর্তে নিম্নরূপ দফা (গ) প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-
“(গ) বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারীগণ চাকুরীরত অবস্থায় তাঁহাদের মৃত্যু ঘটিলে তাঁহাদের পরিবারবর্গকে সাহায্য অনুমোদন;”;
(গ) দফা (ঘ) এর পরিবর্তে নিম্নরূপ দফা (ঘ) প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-
“(ঘ) বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারীগণ চাকুরীরত অবস্থায় দীর্ঘদিন গুরুতর অসুস্থ থাকিলে তাঁহাদের আর্থিক সাহায্য অনুমোদন;”।
৫। উক্ত আইনের ধারা ৮ এর-
(ক) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত “সচিব” শব্দের পরিবর্তে “সদস্য-সচিব” শব্দ প্রতিস্থাপিত হইবে;
(খ) উপ-ধারা (৩) এর পরিবর্তে নিম্নরূপ উপ-ধারা (৩) প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-
“(৩) বোর্ডের সভায় সভাপতিত্ব করিবেন উহার চেয়ারম্যান এবং তাঁহার অনুপস্থিতিতে ভাইস-চেয়ারম্যান সভাপতিত্ব করিবেন।”;
(গ) উপ-ধারা (৪) এ উল্লিখিত “বা উহার নিকটবর্তী সংখ্যক” শব্দগুলি বিলুপ্ত হইবে;
(ঘ) উপ-ধারা (৬) এর পর নিম্নরূপ নূতন উপ-ধারা (৭) সংযোজিত হইবে, যথা:-
“(৭) কোন কারণে বোর্ড গঠন করা সম্ভব না হইলে অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা হিসাবে সরকারের অনুমোদনক্রমে, শিক্ষক ও কর্মচারীদের কল্যাণ সুবিধাদি প্রদান করা যাইবে।”।
৬। উক্ত আইনের ধারা ৯ এর-
(ক) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত “এককালীন এক কোটি টাকা” শব্দগুলির পরিবর্তে “অর্থ” শব্দ প্রতিস্থাপিত হইবে;
(খ) উপ-ধারা (৪) এর পরিবর্তে নিম্নরূপ উপ-ধারা (৪) প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-
“(৪) ট্রাষ্টের তহবিলের অর্থ, সরকারের অনুমোদনসাপেক্ষে, কোন রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক বা সরকারি বণ্ড বা বিলে বিনিয়োগ করিতে হইবে এবং স্থায়ী ও চলতি তহবিল প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে পরিচালিত হইবে।”;
(গ) উপ-ধারা (৫) বিলুপ্ত হইবে।
৭। উক্ত আইনের ধারা ১৩ এর পরিবর্তে নিম্নরূপ ধারা ১৩ প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-
“১৩। ট্রাষ্টের কর্মকর্তা ও কর্মচারী।- (১) ট্রাষ্টের কার্যাবলী সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের উদ্দেশ্যে ট্রাষ্টী বোর্ড সরকার কর্তৃক অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারিবে এবং তাঁহাদের চাকুরীর শর্তাবলী প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
(২) ট্রাষ্টের একজন পরিচালক থাকিবেন, যিনি সরকার কর্তৃক প্রেষণে নিযুক্ত হইবেন এবং তিনি ট্রাষ্টী বোর্ড কর্তৃক প্রদত্ত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন, দায়িত্ব পালন ও কার্যসম্পাদন করিবেন।”।
৮। উক্ত আইনের ধারা ১৫ বিলুপ্ত হইবে।