প্রিন্ট ভিউ

সরকারি হিসাব নিরীক্ষা আইন, ২০২৬

( ২০২৬ সনের ২৪ নং আইন )

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের সরকারি হিসাব নিরীক্ষা সংক্রান্ত বিধান যথাযথভাবে বাস্তবায়ন, সরকারি অর্থ প্রাপ্তি ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে অধিকতর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের হিসাব নিরীক্ষা কার্যক্রম সংক্রান্ত বিষয়ে বিধান প্রণয়নকল্পে প্রণীত আইন

যেহেতু গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১২৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক কর্তৃক প্রজাতন্ত্রের সরকারি হিসাব, সকল আদালত, সরকারি কর্তৃপক্ষ ও কর্মচারীর সরকারি হিসাব নিরীক্ষা ও রিপোর্টদানের মাধ্যমে আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা এবং সরকারি সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার যথাযথভাবে নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে বিধান করা প্রয়োজন; এবং

যেহেতু গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের সরকারি হিসাব নিরীক্ষা সংক্রান্ত বিধান যথাযথভাবে বাস্তবায়ন, সরকারি অর্থ প্রাপ্তি ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে অধিকতর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের হিসাব নিরীক্ষা কার্যক্রম সংক্রান্ত বিষয়ে বিধান প্রণয়ন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়;

সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল:—

সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তন

১। (১) এই আইন সরকারি হিসাব নিরীক্ষা আইন, ২০২৬ নামে অভিহিত হইবে।

(২) ইহা ৪ মে ২০২৫ তারিখে কার্যকর হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।

সংজ্ঞা

২। (১) বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থি কোনো কিছু না থাকিলে, এই আইনে-

(ক) “মহা হিসাব-নিরীক্ষক” অর্থ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১২৭(১) অনুচ্ছেদের অধীন নিয়োগপ্রাপ্ত মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক;

(খ) “সরকারি হিসাবসমূহ” অর্থ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৮৪ অনুচ্ছেদে উল্লিখিত সংযুক্ত তহবিল ও প্রজাতন্ত্রের সরকারি হিসাব;

(গ) “সরকারি হিসাব নিরীক্ষা” অর্থ মহা হিসাব-নিরীক্ষক বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি কর্তৃক গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান, এই আইনের বিধানাবলি বা অন্য কোনো আইনের অধীন সম্পাদিত যেকোনো হিসাব নিরীক্ষা;

(ঘ) “হিসাব নিরীক্ষা প্রতিবেদন” অর্থ মহা হিসাব-নিরীক্ষক বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি কর্তৃক সম্পাদিত নিরীক্ষায় প্রাপ্ত ফলাফল হইতে জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের জন্য রাষ্ট্রপতির নিকট পেশের নিমিত্ত প্রস্তুতকৃত চূড়ান্ত প্রতিবেদন যাহা মহা হিসাব-নিরীক্ষক কর্তৃক অনুমোদিত ও স্বাক্ষরিত।

(২) এই আইনে যেই সকল শব্দ এবং অভিব্যক্তি ব্যবহৃত হইয়াছে কিন্তু সংজ্ঞায়িত হয় নাই, সেই সকল শব্দ এবং অভিব্যক্তি আপাততঃ বলবৎ অন্য কোনো আইনে প্রদত্ত সংজ্ঞা এবং অভিব্যক্তির অনুরূপ হইবে।

Act No. 24 of 1974 এর অতিরিক্ততা

৩। এই আইনের বিধানাবলি Comptroller and Auditor-General (Additional Functions) Act, 1974 এর বিধানাবলির ব্যত্যয় না ঘটাইয়া উহার অতিরিক্ত হইবে।

মহা হিসাব-নিরীক্ষকের ক্ষমতা

৪। (১) মহা হিসাব-নিরীক্ষক হিসাব নিরীক্ষার ধরণ, সময়, মাত্রা, প্রকৃতি এবং আওতা নির্ধারণসহ হিসাব নিরীক্ষা বিষয়ক সকল ক্ষেত্রে নির্দেশনা প্রদান করিতে পারিবেন।

(২) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান, এই আইন বা এতদ্‌সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, মহা হিসাব-নিরীক্ষক যেকোনো ধরনের হিসাব নিরীক্ষা করিতে পারিবেন।

(৩) হিসাব নিরীক্ষা সংক্রান্ত কার্যক্রমের নিরপেক্ষতা নিশ্চিতকরণ ও স্বার্থের সংঘাত এড়াইবার লক্ষ্যে মহা হিসাব-নিরীক্ষক যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।

ব্যয় ও পরিশোধ সংক্রান্ত হিসাব নিরীক্ষা

৫। এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, মহা হিসাব-নিরীক্ষক ব্যয় ও পরিশোধ সংক্রান্ত নিম্নবর্ণিত হিসাব নিরীক্ষা করিতে পারিবেন, যথা:-

(ক) সরকারি অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আইন ও বিধি-বিধান প্রতিপালনপূর্বক সংযুক্ত তহবিল হইতে ব্যয়িত সকল অর্থ;

(খ) সরকারি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন, বাণিজ্য ও লাভ-ক্ষতির হিসাব, নগদ প্রবাহের হিসাব এবং ব্যালেন্স শিটসহ তাহাদের নিকট রক্ষিত সকল হিসাব; এবং

(গ) প্রজাতন্ত্রের সরকারি হিসাব হইতে পরিশোধিত সকল অর্থ।

ব্যাখ্যা।— এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, “সরকারি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান” অর্থে বাণিজ্যিক মূলনীতি অনুসরণ করিয়া পরিচালিত বাজেটভুক্ত সরকারি প্রতিষ্ঠান যাহা জনসেবা প্রদানের পাশাপাশি আর্থিক ফলাফল অর্জনের জন্য কার্যক্রম পরিচালনা করিয়া থাকে, (যেমন: রেলওয়ে, ডাক, ইত্যাদি)।

রাজস্ব ও প্রাপ্তি সংক্রান্ত হিসাব নিরীক্ষা

৬। (১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, মহা হিসাব-নিরীক্ষক সরকারি হিসাবসমূহে প্রাপ্য সকল রাজস্ব ও প্রাপ্তি নিম্নরূপভাবে হিসাব নিরীক্ষা করিতে পারিবেন, যথা:—

(ক) কর এবং কর-ব্যতীত রাজস্ব, ইত্যাদিসহ সংযুক্ত তহবিলের প্রাপ্তিসমূহ প্রচলিত পদ্ধতি অনুযায়ী যথাযথ এবং সঠিকভাবে জমা ও হিসাবভুক্ত হইয়াছে কিনা; এবং

(খ) প্রজাতন্ত্রের সরকারি হিসাবের প্রাপ্তিসমূহ প্রচলিত পদ্ধতি অনুযায়ী যথাযথ এবং সঠিকভাবে জমা ও হিসাবভুক্ত হইয়াছে কিনা।

ভান্ডার ও মজুত সংক্রান্ত হিসাব নিরীক্ষা

৭। মহা হিসাব-নিরীক্ষক সকল নিরীক্ষাধীন প্রতিষ্ঠানে রক্ষিত ভান্ডার (store) এবং মজুত (stock) হিসাব নিরীক্ষা করিতে পারিবেন।

সম্পদ ও দায় সংক্রান্ত হিসাব নিরীক্ষা

৮। মহা হিসাব-নিরীক্ষক সরকারের সম্পদ ও দায় সংক্রান্ত সরকারি হিসাবসমূহের সাথে সম্পর্কিত বিভিন্ন স্থিতি এবং নগদ স্থিতি হিসাব নিরীক্ষা করিতে পারিবেন।

সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব সংক্রান্ত হিসাব নিরীক্ষা

৯। মহা হিসাব-নিরীক্ষক বাংলাদেশ সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব আইন, ২০১৫ এর আওতায় সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের চুক্তি, চুক্তি ব্যবস্থাপনা ও এর মাধ্যমে গৃহীত প্রকল্পসমূহের সরকারি স্বার্থ সংশ্লিষ্ট অংশের হিসাব নিরীক্ষা করিতে পারিবেন।

ব্যাখ্যা।— এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, “সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব” অর্থ বাংলাদেশে সরকরি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব আইন, ২০১৫ এর ধারা ২ এর দফা (২৭) এ সংজ্ঞায়িত সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বকে বুঝাবে।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংস্থায় প্রদত্ত সরকারি অর্থের বিষয়ে হিসাব নিরীক্ষা কার্যক্রম

১০। (১) মহা হিসাব-নিরীক্ষক—

(ক) সরকারের সংযুক্ত তহবিল হইতে কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংস্থাকে কোনো ঋণ বা সাহায্য-মঞ্জুরি প্রদান করা হইলে, উক্ত প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার ব্যয় ও প্রাপ্তি হিসাব নিরীক্ষা করিতে পারিবেন;

(খ) সরকারের সংযুক্ত তহবিল হইতে কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংস্থায় কোনো অনুদান বা ঋণ প্রদান করা হইলে মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষ কর্তৃক যেই সকল শর্তসাপেক্ষে অনুদান বা ঋণ প্রদান করা হইয়াছে সেই সকল শর্ত সন্তোষজনকভাবে প্রতিপালন করা হইয়াছে কিনা উহা যাচাই করিতে পারিবেন;

(গ) কোনো বেসরকারি সংস্থা বা ব্যক্তি প্রদত্ত দলিলাদির উপর ভিত্তি করিয়া সরকার কর্তৃক উক্ত বেসরকারি সংস্থা বা ব্যক্তিকে কোনোরূপ অর্থ বা সম্পদ প্রদান করা হইলে তাহার সঠিকতা ও যথার্থতা নিরূপণ করিবার জন্য মহা হিসাব-নিরীক্ষক, প্রয়োজনে, উক্ত সংস্থা বা ব্যক্তির হিসাব সংশ্লিষ্ট দলিলাদি যাচাই করিতে পারিবেন।

(২) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, বিদেশি রাষ্ট্র বা আন্তর্জাতিক সংস্থায় সংযুক্ত তহবিল হইতে প্রদত্ত অনুরূপ কোনো চাঁদা, সাহায্য, অনুদান বা ঋণসমূহের ক্ষেত্রে এই আইনের অধীন কোনো হিসাব নিরীক্ষা প্রযোজ্য হইবে না।

মিতব্যয়িতা, দক্ষতা এবং ফলপ্রসূতা হিসাব নিরীক্ষা

১১। এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, মহা হিসাব-নিরীক্ষক, সকল সরকারি দপ্তর, কর্তৃপক্ষ, বোর্ড, কর্পোরেশন বা প্রতিষ্ঠান যাহা রাষ্ট্রপতির আদেশ, সংসদ কর্তৃক প্রণীত আইন বা আইনের ক্ষমতাসম্পন্ন যেকোনো দলিল দ্বারা বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা বা অলাভজনক পন্থায় জনসেবা প্রদানের উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত, সরকারি কোম্পানি, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বা অনুরূপ কোনো সংস্থার মিতব্যয়িতা, দক্ষতা এবং ফলপ্রসূতা হিসাব নিরীক্ষা করিতে পারিবেন।

ব্যাখ্যা।— এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে,—

(ক) “সরকারি কোম্পানি” অর্থে কোম্পানী আইন, ১৯৯৪ এর অধীন যেকোনো কোম্পানি যাহা যৌথমূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর কর্তৃক নিবন্ধিত এবং যাহার মধ্যে সরকার অথবা স্থানীয় সরকারসহ সংবিধিবদ্ধ সংস্থা অথবা সংবিধিবদ্ধ কর্পোরেশনের কমপক্ষে ৫১ (একান্ন) শতাংশ শেয়ার বা স্বার্থ রহিয়াছে; উপরন্তু, ব্যাংক-কোম্পানী আইন, ১৯৯১ এর ধারা ৫ এর দফা (ণ) অনুসারে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক লাইসেন্সপ্রাপ্ত বাংলাদেশে ব্যাংক ব্যবসা পরিচালনাকারী কোনো রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি এবং যেকোনো বিশেষায়িত রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;

(খ) “স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান” অর্থ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৯(১) অনুচ্ছেদের অধীন গঠিত কোনো প্রতিষ্ঠান;

(গ) “স্থানীয় কর্তৃপক্ষ” অর্থ General Clauses Act, 1897 এর section 3 এর clause (28) এ সংজ্ঞায়িত “Local authority”

গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা

১২। মহা হিসাব-নিরীক্ষক বা তাঁহার নিকট হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সংশ্লিষ্ট দাপ্তরিক রেকর্ডসমূহের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করিয়া হিসাব নিরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করিবেন বা হিসাব নিরীক্ষা প্রতিবেদনের জবাব নিষ্পত্তি করিবেন।

বার্ষিক কর্মকৃতি (Performance), ইত্যাদি

১৩। (১) মহা হিসাব-নিরীক্ষক তাঁহার হিসাব নিরীক্ষা কার্যক্রমের অর্জন, মানসম্মত নিরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় সমস্যা এবং উহা সমাধানের দিক নির্দেশনা, হিসাব ও নিরীক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রমের গুণগত মান বৃদ্ধিকল্পে গৃহীত পদক্ষেপ এবং সুপারিশ সম্বলিত বার্ষিক কর্মকৃতি (Performance) প্রতিবেদন প্রকাশ করিবেন।

(২) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, মহা হিসাব-নিরীক্ষকের কার্যালয়ের কার্যক্রম, কর্মকৃতি (Performance), পেশাগত নৈতিক মূল্যবোধ, হিসাব নিরীক্ষা পদ্ধতি পর্যালোচনাপূর্বক এতৎসংক্রান্ত সুপারিশ প্রণয়ন করিয়া মহা হিসাব-নিরীক্ষক এর নিকট প্রতিবেদন দাখিল করিবার উদ্দেশ্যে মহা হিসাব-নিরীক্ষক একটি স্বতন্ত্র তদারকি কমিটি গঠন করিবেন।

অভিযোগ ও প্রতিকার, ইত্যাদি

১৪। (১) নিরীক্ষিত প্রতিষ্ঠান কর্তৃক নিরীক্ষা সংক্রান্ত বা নিরীক্ষকগণের পেশাগত নৈতিকতার ব্যত্যয় সংক্রান্ত অভিযোগ উত্থাপিত হইলে, অভিযোগের যথার্থ ভিত্তি রহিয়াছে মর্মে নিশ্চিত হইয়া, মহা হিসাব-নিরীক্ষক, অভিযোগ আমলে গ্রহণ করিবেন এবং আনীত অভিযোগের বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে যথাযথ তদন্ত অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।

(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে মহা হিসাব-নিরীক্ষক উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।

(৩) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান, এই আইন বা অন্য কোনো আইনের অধীন গৃহীত হিসাব নিরীক্ষা কার্যক্রমে নিরীক্ষাধীন প্রতিষ্ঠানের সকল পর্যায়ের কর্মচারী তথ্য প্রদানসহ হিসাব নিরীক্ষা কার্যক্রমে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করিবেন।

(৪) নিরীক্ষাকালে নিরীক্ষিত প্রতিষ্ঠান কর্তৃক কোনো মন্তব্য বা মতামত প্রদান করিলে নিরীক্ষক উহা চূড়ান্ত হিসাব নিরীক্ষা প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করিতে পারিবেন।

(৫) হিসাব নিরীক্ষা কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করিবার লক্ষ্যে হিসাব নিরীক্ষা প্রতিবেদন রাষ্ট্রপতি কর্তৃক সংসদে পেশের পর সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করিতে হইবে।

ব্যাখ্যা।— এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, "নিরীক্ষাধীন প্রতিষ্ঠান" অর্থ মহা হিসাব-নিরীক্ষকের হিসাব নিরীক্ষার আওতাভুক্ত কোনো প্রতিষ্ঠান।

বিশেষজ্ঞ নিয়োগ

১৫। হিসাব নিরীক্ষার উদ্দেশ্যে, মহা হিসাব-নিরীক্ষক, সংশ্লিষ্ট কাজে অভিজ্ঞতা, দক্ষতা এবং সুনাম রহিয়াছে এমন কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে, বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করিতে পারিবেন এবং সরকার উক্ত বিশেষজ্ঞের পারিশ্রমিক বাবদ প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান করিবে:

তবে শর্ত থাকে যে, বিশেষজ্ঞ নিয়োগের ক্ষেত্রে এতৎসংশ্লিষ্ট প্রচলিত বিধি-বিধান অনুসরণ করিতে হইবে।

আর্থিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা

১৬। (১) মহা হিসাব-নিরীক্ষক এর কার্যালয়ের জন্য অনুমোদিত ও নির্ধারিত খাতের বাজেট বরাদ্দ হইতে ব্যয় নির্বাহ করিবার ক্ষেত্রে মহা হিসাব-নিরীক্ষকের চূড়ান্ত কর্তৃত্ব থাকিবে।

(২) মহা হিসাব-নিরীক্ষকের কার্যালয়ের অনুকূলে বরাদ্দকৃত অর্থের ব্যয় এবং আয়, যদি থাকে, যথাযথ হিসাবায়ন করিতে হইবে এবং এতদুদ্দেশ্যে মহা হিসাব-নিরীক্ষক কর্তৃক নিযুক্ত কর্মকর্তা উহার প্রধান হিসাবদানকারী কর্মকর্তা হইবেন।

(৩) মহা হিসাব-নিরীক্ষকের কার্যালয়ের অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামোর আওতায় নন-ক্যাডার কর্মচারীর কোনো পদ শূন্য হইলে মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক এর কার্যালয়ের জন্য প্রণীত প্রচলিত বিধি মোতাবেক শূন্যপদ পূরণ এবং পদসংশ্লিষ্ট যাবতীয় সুবিধাদি প্রদানের ক্ষেত্রে সরকারের অনুমোদন গ্রহণ করিতে হইবে।

(৪) মহা হিসাব-নিরীক্ষকের কার্যালয়ের সাংগঠনিক কাঠামো, পদ-বিন্যাস, দপ্তরসমূহ একীভূতকরণ, পৃথকীকরণ বা বিলুপ্তকরণ, ইত্যাদি ক্ষেত্রে সরকারের অনুমোদন গ্রহণ করিতে হইবে।

চুক্তি সম্পাদন, ইত্যাদি

১৭। (১) মহা হিসাব-নিরীক্ষক, এই আইনের উদ্দেশ্যে পূরণকল্পে, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, যেকোনো আঞ্চলিক, আন্তর্জাতিক বা বিদেশি সংস্থা, প্রতিষ্ঠান বা এজেন্সির সহিত পরামর্শ ও সহযোগিতা আদান-প্রদানের জন্য চুক্তি সম্পাদন করিতে পারিবে।

(২) মহা হিসাব-নিরীক্ষকের কার্যালয়, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থার সদস্যপদ গ্রহণ এবং সদস্য হিসাবে নির্ধারিত উক্ত সংস্থার প্রয়োজনীয় চাঁদা (subscription) প্রদান করিতে পারিবে।

মহা হিসাব-নিরীক্ষকের প্রতিবেদন, ইত্যাদি

১৮। (১) মহা হিসাব-নিরীক্ষকের হিসাব নিরীক্ষা প্রতিবেদনসমূহ তাহার কার্যালয়ের বাৎসরিক কর্মকৃতির (Performance) বিস্তারিত বিবরণসহ রাষ্ট্রপতির নিকট পেশ করা হইবে এবং রাষ্ট্রপতি উহা সংসদে পেশ করিবার ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।

(২) মহা হিসাব-নিরীক্ষক এই আইনের অধীন পরিচালিত অনুসন্ধান, হিসাব নিরীক্ষা ও যাচাই কার্যক্রমের প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণপূর্বক উহার উপর সুনির্দিষ্ট ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ প্রদান করিতে পারিবেন।

(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন প্রতিবেদন গ্রহণকারী কর্তৃপক্ষ উক্ত প্রতিবেদনের উপর সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা গ্রহণপূর্বক উহা মহা হিসাব-নিরীক্ষক বা তাঁহার নিকট হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে অবহিত করিবে।

(৪) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত প্রতিবেদনের উপর সুনির্দিষ্ট কার্যক্রম গ্রহণের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী হিসাব নিরীক্ষা প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করিতে হইবে।

বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা

১৯। এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার, মহা হিসাব-নিরীক্ষকের সহিত পরামর্শক্রমে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।

রহিতকরণ ও হেফাজত

২০। (১) সরকারি হিসাব নিরীক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ (২০২৫ সনের ১৭ নং অধ্যাদেশ) এতদ্দ্বারা রহিত করা হইল।

(২) উক্তরূপ রহিতকরণ সত্ত্বেও রহিত অধ্যাদেশের অধীন কৃত কোনো কার্য বা গৃহীত কোনো ব্যবস্থা বৈধভাবে কৃত বা গৃহীত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।

ইংরেজিতে অনূদিত পাঠ প্রকাশ

২১। (১) এই আইন প্রবর্তনের পর সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের একটি নির্ভরযোগ্য ইংরেজি পাঠ (Authentic English Text) প্রকাশ করিতে পারিবে।

(২) বাংলা ও ইংরেজি পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাইবে।


Copyright © 2019, Legislative and Parliamentary Affairs Division
Ministry of Law, Justice and Parliamentary Affairs