প্রিন্ট ভিউ

মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬

( ২০২৬ সনের ৫৫ নং আইন )

মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২ রহিতপূর্বক সময়োপযোগী করিয়া পুনঃপ্রণয়নের উদ্দেশ্যে প্রণীত আইন

যেহেতু মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন, মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালানের শিকার ব্যক্তিগণের সুরক্ষা ও অধিকার বাস্তবায়ন এবং নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিতকরণের উদ্দেশ্যে বিধান করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; এবং

যেহেতু মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালানসংক্রান্ত সংঘবদ্ধভাবে সংঘটিত অপরাধসমূহ প্রতিরোধ ও দমনকল্পে, United Nations Convention against Transnational Organized Crime, Protocol to Prevent, Suppress and Punish Trafficking in Persons Especially Women and Children, supplementing the United Nations Convention against Transnational Organized Crime এবং SAARC Convention on Preventing and Combating Trafficking in Women and Children for Prostitution এর সহিত সঙ্গতিপূর্ণ বিধান করিয়া একটি নূতন আইন প্রণয়ন করিবার জন্য সরকার ‍সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিয়াছে; এবং

যেহেতু মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২ (২০১২ সনের ৩ নং আইন) রহিতপূর্বক উহা সময়োপযোগী করিয়া পুনঃপ্রণয়ন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়;

সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল:—

প্রথম অধ্যায়

প্রারম্ভিক

সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তন

১। (১) এই আইন মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬ নামে অভিহিত হইবে।

(২) ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে।

সংজ্ঞা

২। বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থি কোনো কিছু না থাকিলে, এই আইনে—

(১) “অপহরণ (abduction)” অর্থ দফা (২০) এ বর্ণিত কোনো শোষণমূলক কার্যের উদ্দেশ্যে ভয়ভীতি প্রদর্শন বা বলপ্রয়োগ করিয়া কোনো ব্যক্তিকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বা বাহিরে গমন, অভিবাসন বা বহির্গমন করিতে বাধ্য করা এবং Penal Code, 1860 (Act No. XLV of 1860) এর section 362-তে Abduction অভিব্যক্তিটি যে অর্থে ব্যবহৃত হইয়াছে, সেই অর্থও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;

(২)“অবৈধ প্রবেশ (illegal entry)” অর্থ গন্তব্য দেশ (receiving or destination state) হিসাবে বাংলাদেশে বা অন্য কোনো রাষ্ট্রে বৈধভাবে প্রবেশের জন্য নির্ধারিত বন্দর বা স্থান ব্যতীত অন্য কোনো বন্দর বা স্থান ব্যবহার করিয়া অথবা প্রয়োজনীয় শর্তাবলি (legal requirements) প্রতিপালন না করিয়া এক বা একাধিক রাষ্ট্রের (transit state) সীমান্ত অতিক্রম করা;

(৩) “অভিবাসী (migrant)” অর্থ এইরূপ কোনো ব্যক্তি যিনি এক দেশ হইতে অন্য দেশে গমন করেন বা গমন করিবার উদ্দেশ্যে কোনো কার্যক্রম গ্রহণ করেন;

(৪) “আশ্রয় কেন্দ্র” অর্থ জেলখানা ব্যতীত এইরূপ কোনো প্রতিষ্ঠান যাহা, যে নামেই অভিহিত হউক না কেন, মানব পাচার বা অভিবাসী চোরাচালানের শিকার কিংবা মানব পাচার বা অভিবাসী চোরাচালান হইতে উদ্ধারকৃত ব্যক্তিকে গ্রহণ, আশ্রয় প্রদান এবং পুনর্বাসনকল্পে প্রতিষ্ঠিত;

(৫) “আশ্রয় দেওয়া” বা “লুকাইয়া রাখা (harbouring)” অর্থ কোনো ব্যক্তিকে তাহার দেশের অভ্যন্তরে বা বাহিরে বিক্রয় বা পাচারের উদ্দেশ্যে কিংবা কোনো অভিবাসীকে চোরাচালানের উদ্দেশ্যে লুকাইয়া রাখা, আশ্রয় দেওয়া বা অন্য কোনোভাবে সহায়তা করা এবং Penal Code, 1860 এর section 52A-তে Harbour অভিব্যক্তিটি যে অর্থে ব্যবহৃত হইয়াছে, সেই অর্থও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;

(৬) “ঋণ-দাসত্ব (debt-bondage)” অর্থ কোনো ব্যক্তির এইরূপ অবস্থা, যাহার কারণে উক্ত ব্যক্তি কোনো ঋণের জন্য প্রকৃতপক্ষে দায়গ্রস্ত হইলে অথবা বেআইনিভাবে তাহাকে ঋণ-দায়গ্রস্ত বলিয়া দাবি করা হইলে উক্ত ব্যক্তিকে উক্ত ঋণের জামানতস্বরূপ নিজের ব্যক্তিগত সেবা বা শ্রম প্রদান করিতে হয়, কিন্তু উক্ত সেবা বা শ্রমের মূল্য ঋণ পরিশোধ হিসাবে গণ্য হয় না, অথবা উক্ত সেবা বা শ্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য প্রদান করিতে হয়;

(৭) “জবরদস্তিমূলক শ্রম বা সেবা” অর্থ কোনো ব্যক্তির জীবন, স্বাধীনতা, অধিকার, সম্পত্তি, সুনাম বা অন্য কোনো বিষয়ে ক্ষতি সাধনের হুমকি প্রদর্শন করিয়া, তাহার ইচ্ছার বিরুদ্ধে, তাহার নিকট হইতে গৃহীত কার্য বা সেবা;

(৮) “ট্রাইব্যুনাল” অর্থ ধারা ৩৬ এর অধীন গঠিত মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল;

(৯) “দাসত্ব” অর্থ কোনো ব্যক্তির অবস্থান বা মর্যাদার (status) এইরূপ পর্যায়ে অবনমন, যাহার ফলে উক্ত ব্যক্তি অন্য কোনো ব্যক্তি কর্তৃক সম্পত্তির ন্যায় নিয়ন্ত্রিত ও ব্যবহৃত হয় এবং উক্ত ব্যক্তি কর্তৃক গৃহীত কোনো ঋণ বা সম্পাদিত কোনো চুক্তির কারণে উদ্ভূত কোনো শর্ত বা অবস্থাও (condition) ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;

(১০) “নবজাতক” অর্থ অনূর্ধ্ব ৪০ (চল্লিশ) দিন বয়সের কোনো শিশু;

(১১) “পতিতাবৃত্তি” অর্থ বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে অথবা অর্থ বা সুবিধা (kind) লেনদেন করিয়া কোনো ব্যক্তিকে যৌন শোষণ;

(১২) “পতিতালয়” অর্থ পতিতাবৃত্তি পরিচালনার উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত কোনো বাড়ি, যানবাহন, স্থান বা স্থাপনা;

(১৩) “প্রতারণা (fraud)” অর্থ ঘটনা (fact) বা আইন সম্পর্কে ইচ্ছাকৃত বা দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে কোনো কথা বা আচরণ অথবা লিখিত কোনো চুক্তি বা দলিল দ্বারা অন্যকে প্রতারিত বা প্রলুব্ধ করা বা ভুল পথে পরিচালিত করা এবং প্রতারণাকারী ব্যক্তি বা অন্য কোনো ব্যক্তির অভিপ্রায়কে কেন্দ্র করিয়া সংঘটিত প্রবঞ্চনা এবং Contract Act, ১৮৭২ (Act No. IX of ১৮৭২) এর section ১৭ এ Fraud অভিব্যক্তিটি যে অর্থে ব্যবহৃত হইয়াছে, সেই অর্থও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;

(১৪) “প্রতারণামূলক ভ্রমণ দলিল বা পরিচয়পত্র (fraudulent travel or identity document)” অর্থ এইরূপ কোনো ভ্রমণ দলিল বা পরিচয়পত্র, যাহা—

(ক) কোনো রাষ্ট্রের পক্ষে প্রস্তুত বা প্রদান করিবার জন্য আইনগতভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি বা সংস্থা ব্যতীত অন্য কোনো ব্যক্তি বা সংস্থা কর্তৃক জালিয়াতির মাধ্যমে প্রস্তুত করা হইয়াছে বা উহার কোনো গুরুত্বপূর্ণ অংশ পরিবর্তন করা হইয়াছে; বা

(খ) মিথ্যা বর্ণনা (misrepresentation) প্রদান করিয়া, জোরজবরদস্তি করিয়া, অসদুপায়ে বা অন্য কোনো বেআইনি উপায়ে সংগ্রহ করা হইয়াছে; বা

(গ) উহার বৈধ অধিকারী (rightful holder) ব্যতীত অন্য কোনো ব্যক্তি কর্তৃক ব্যবহৃত হইতেছে;

(১৫) “বলপ্রয়োগ” অর্থ কোনো ব্যক্তি কর্তৃক অপর কোনো ব্যক্তির উপর শক্তি প্রয়োগ করিয়া বা তাহাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করিয়া বা তাহার উপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ প্রয়োগ কিংবা তাহার কোনো প্রকার ক্ষতিসাধন করিবার বা তাহাকে আটক রাখিবার হুমকি প্রদর্শন করিয়া বা তাহাকে নির্যাতনপূর্বক বেআইনি কোনো কাজ করিতে বা আইনানুগ কোনো কাজ করা হইতে বিরত থাকিতে বাধ্য করা;

(১৬) “ব্যক্তি” অর্থ স্বাভাবিক ব্যক্তিসহ (natural person) যেকোনো কোম্পানি, অংশীদারি কারবার, ফার্ম বা একাধিক ব্যক্তির সমিতি বা সংঘ, উহা নিবন্ধিত হউক বা না হউক;

(১৭) “মানব পাচারের শিকার ব্যক্তি (trafficked person)” বা “চোরাচালানের শিকার অভিবাসী (smuggled migrant)” বা “ভিকটিম” অর্থ এই আইনের অধীন সংঘটিত মানব পাচার বা, ক্ষেত্রমত, অভিবাসী চোরাচালানের শিকার কোনো ব্যক্তি বা অভিবাসী, এবং উক্ত ব্যক্তি বা অভিবাসীর আইনগত অভিভাবক বা উত্তরাধিকারীও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;

(১৮) “মারাত্মক জখম” অর্থ Penal Code, 1860 এর section 320-তে সংজ্ঞায়িত grievous hurt;

(১৯) “শিশু” অর্থ ১৮ (আঠারো) বৎসর বয়সের নিম্নের কোনো ব্যক্তি;

(২০) “শোষণ (exploitation)” অর্থ কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে তাহার সম্মতিক্রমে বা বিনা সম্মতিতে কৃত অন্যান্য কার্যের মধ্যে নিম্নবর্ণিত কার্যসমূহ, যথা:—

(ক) পতিতাবৃত্তি বা যৌন শোষণ (sexual exploitation) এর মাধ্যমে কোনো ব্যক্তিকে শোষণ;

(খ) কোনো ব্যক্তিকে পতিতাবৃত্তি অথবা পর্নোগ্রাফি উৎপাদন বা বিতরণে নিয়োজিত করিয়া মুনাফা ভোগ;

(গ) জবরদস্তিমূলক শ্রম বা সেবা আদায়;

(ঘ) ঋণ-দাসত্ব, দাসত্ব, দাসত্বরূপ কর্মকাণ্ড, বা গৃহস্থালিতে সার্ভিটিউড (domestic servitude);

(ঙ) প্রতারণামূলক বিবাহের মাধ্যমে শোষণ;

(চ) কোনো ব্যক্তিকে জোরপূর্বক বিনোদন ব্যবসায় ব্যবহার;

(ছ) কোনো ব্যক্তিকে ভিক্ষাবৃত্তিতে বাধ্যকরণ;

(জ) ব্যবসা করিবার উদ্দেশ্যে কোনো ব্যক্তির অঙ্গ-প্রত্যঙ্গহানী বা তাহাকে বিকলাঙ্গকরণ (removal of organs for trading);

(ঝ) কোনো ব্যক্তিকে অপরাধমূলক কার্য, যেমন— মাদক পরিবহণ ও বিতরণ, অন-লাইন প্রতারণা (scamming), ইত্যাদি করিতে বাধ্যকরণ;

(ঞ) কোনো ব্যক্তিকে আটক রাখিয়া মুক্তিপণ দাবি বা উহা আদায়; এবং

(ট) অসৎ উদ্দেশ্যে দত্তক গ্রহণের মাধ্যমে শোষণ;

(২১) “সক্রিয় অনুসন্ধান (proactive inquiry)” অর্থে ট্রাইব্যুনালে দায়েরকৃত কোনো অভিযোগে অভিযোগকারীর দাবি অনুসারে অভিযুক্ত ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট কি না তদ্‌সম্পর্কে প্রাথমিক সত্যতা যাচাই করিবার উদ্দেশ্যে ট্রাইব্যুনালের আদেশক্রমে কোনো ব্যক্তি, আইন প্রয়োগকারী বা তদন্ত সংস্থা, নির্বাহী কর্তৃপক্ষ, সরকারি সংস্থা বা সরকার কর্তৃক অনুমোদিত ও নিবন্ধিত বা অনিবন্ধিত কোনো বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) অথবা বৈদেশিক অনুদান (স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম) রেগুলেশন আইন, ২০১৬ (২০১৬ সনের ৪৩ নং আইন) অনুযায়ী নিবন্ধিত কোনো বেসরকারি সংস্থার নিকট হইতে অথবা উপযুক্ত ও নির্ভরযোগ্য অন্য কোনো উৎস হইতে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহকরণ অন্তর্ভুক্ত হইবে;

(২২) “সরকারি কর্মচারী (public servant/official)” অর্থ Penal Code, 1860 এর section 21 এ বর্ণিত কোনো জনসেবক বা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১৫২ অনুচ্ছেদে উল্লিখিত সংজ্ঞানুসারে প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত কোনো ব্যক্তি, যিনি এই আইনের অধীন কোনো দায়িত্ব পালন করেন;

(২৩) “সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র” অর্থ জাতীয়তা এবং অবস্থান নির্বিশেষে ২ (দুই) বা ততোধিক ব্যক্তির কাঠামোবদ্ধ কোনো সংগঠন, যাহা নির্দিষ্টকাল পর্যন্ত সক্রিয় এবং যাহার সদস্যগণ এই আইনের অধীন কোনো অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্যে একত্রে কাজ করে;

(২৪) “সার্ভিটিউড (servitude)” অর্থ কাজ বা সেবা প্রদান করিবার বাধ্যবাধকতা অথবা জবরদস্তিমূলক কাজ বা সেবার শর্তাবলি, যাহা হইতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নিষ্কৃতি পান না বা যাহা তিনি পরিবর্তন করিতে পারেন না।

আইনের প্রাধান্য

৩। (১) উপ-ধারা (৩) এর বিধান সাপেক্ষে, আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের বিধানাবলি প্রাধান্য পাইবে।

(২) উপ-ধারা (১) এর বিধান সত্ত্বেও, বিদ্যমান অন্য কোনো আইনে ভিকটিম এবং সাক্ষীর সুরক্ষা বিষয়ক শ্রেয় মানদণ্ডের (standard of excellence) বিধান থাকিলে উক্ত বিধান, এই আইনের সহিত অসামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়া সাপেক্ষে, প্রযোজ্য হইবে।

(৩) উপ-ধারা (১) এর বিধান সত্ত্বেও, এই আইন অভিবাসন ও বহিরাগমন বিষয়ক অন্যান্য বিদ্যমান আইনের পরিপূরক হইবে এবং উহাদের ব্যত্যয়ে ব্যবহৃত হইবে না।

আইনের অতিরাষ্ট্রিক (extra territorial) প্রয়োগ

৪। (১) বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সীমানার বাহিরে অথবা বাংলাদেশের কোনো জাহাজ বা বিমানে কোনো ব্যক্তি বাংলাদেশি কোনো নাগরিকের বিরুদ্ধে এই আইনের অধীন কোনো অপরাধ সংঘটন করিলে উক্ত ব্যক্তি ও অপরাধের ক্ষেত্রে এই আইনের বিধানাবলি প্রযোজ্য হইবে।

(২) যদি কোনো ব্যক্তি বাংলাদেশের বাহির হইতে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অথবা বাংলাদেশের অভ্যন্তর হইতে বাংলাদেশের বাহিরে এই আইনের অধীন কোনো অপরাধ সংঘটন করেন, তাহা হইলে উক্ত অপরাধ ও উহা সংঘটনের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া বাংলাদেশে সংঘটিত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে এবং উক্ত ব্যক্তি ও অপরাধের ক্ষেত্রে এই আইনের বিধানাবলি প্রযোজ্য হইবে।

দ্বিতীয় অধ্যায়

মানব পাচার ও তদ্সংশ্লিষ্ট অপরাধসমূহ এবং দণ্ড

মানব পাচার

৫। (১) মানব পাচার অর্থ কোনো ব্যক্তিকে—

(ক) ভয়ভীতি প্রদর্শন বা বলপ্রয়োগ করিয়া; বা

(খ) প্রতারণা করিয়া বা উক্ত ব্যক্তির আর্থ-সামাজিক বা পরিবেশগত বা অন্য কোনো অসহায়ত্বকে (vulnerability) কাজে লাগাইয়া; বা

(গ) অর্থ বা অন্য কোনো সুবিধা (kind) লেনদেনপূর্বক উক্ত ব্যক্তির উপর নিয়ন্ত্রণ রহিয়াছে এইরূপ কোনো ব্যক্তির সম্মতি গ্রহণ করিয়া,

বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বা বাহিরে যৌন শোষণ বা শ্রম শোষণ বা অন্য কোনো শোষণের উদ্দেশ্যে অপহরণ, ক্রয় বা বিক্রয়, সংগ্রহ বা গ্রহণ, পরিবহণ বা স্থানান্তর, চালান বা আটক করা বা লুকাইয়া রাখা বা আশ্রয় দেওয়া।

(২) যেক্ষেত্রে কোনো শিশু পাচারের শিকার হয়, সেইক্ষেত্রে উপ-ধারা (১) এ বর্ণিত মানব পাচার অপরাধ সংঘটনের মাধ্যমসমূহ (means) অনুসৃত হইয়াছে কি না তাহা বিবেচিত হইবে না।

ব্যাখ্যা।—এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, যদি কোনো ব্যক্তি বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বা বাহিরে ধারা ২ এর দফা (২০) এ বর্ণিত কোনো শোষণমূলক পরিস্থিতির শিকার হইতে পারে মর্মে জানা থাকা সত্ত্বেও অন্য কোনো ব্যক্তিকে কাজ বা চাকরির উদ্দেশ্যে গমন, অভিবাসন বা বহির্গমন করিতে প্রলুব্ধ বা সহায়তা করেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তির এইরূপ কার্য মানব পাচার বলিয়া গণ্য হইবে।

মানব পাচারের অপরাধ ও উহার দণ্ড

৬। (১) যদি কোনো ব্যক্তি মানব পাচার করেন, তাহা হইলে উহা হইবে অপরাধ।

(২) যদি কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনো অপরাধ সংঘটন করেন, তাহা হইলে তিনি অনধিক যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে কিন্তু অন্যূন ৫ (পাঁচ) বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে এবং অন্যূন ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।

সংঘবদ্ধ মানব পাচারের অপরাধ ও উহার দণ্ড

৭। যদি কোনো সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের সকল সদস্যের সাধারণ অভিপ্রায় সাধনের উদ্দেশ্যে উক্ত চক্রের একাধিক সদস্য কর্তৃক এই আইনের অধীন কোনো মানব পাচার অপরাধ সংঘটিত হয়, তাহা হইলে উক্ত চক্রের প্রত্যেক সদস্য উক্ত অপরাধ সংঘটনের দায়ে অভিযুক্ত হইবেন এবং অপরাধ সংঘটনকারী প্রত্যেক সদস্য মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে কিন্তু অন্যূন ৭ (সাত) বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে এবং অন্যূন ৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।

মানব পাচার অপরাধ সংঘটনে সুযোগ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে সম্পত্তি ব্যবহারের অনুমতি প্রদান, দলিলাদি গ্রহণ, ইত্যাদির অপরাধ ও উহার দণ্ড

৮। (১) যদি কোনো ব্যক্তি সজ্ঞানে কোনো মানব পাচার অপরাধ সংঘটনের সুযোগ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে তাহার সম্পত্তি ব্যবহার করিবার অনুমতি প্রদান করিয়া অথবা কোনো দলিল-দস্তাবেজ গ্রহণ, বাতিল, গোপন, অপসারণ, ধ্বংস বা উহার স্বত্ব গ্রহণ করিয়া নিজেকে উক্ত অপরাধের সহিত জড়িত করেন, তাহা হইলে উহা হইবে অপরাধ।

(২) যদি কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনো অপরাধ সংঘটন করেন, তাহা হইলে তিনি অনধিক ৭ (সাত) বৎসর কিন্তু অন্যূন ৩ (তিন) বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে এবং অন্যূন ৩০ (ত্রিশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।

জবরদস্তি বা দাসত্বমূলক শ্রম বা সেবা প্রদান করিতে বাধ্য করিবার অপরাধ ও উহার দণ্ড

৯। (১) যদি কোনো ব্যক্তি ধারা ২ এর দফা (২০) এ বর্ণিত শোষণের উদ্দেশ্যে অন্য কোনো ব্যক্তিকে শ্রম বা সেবা প্রদান করিতে বাধ্য করেন বা ঋণ-দাস করিয়া রাখেন বা বলপ্রয়োগ বা যেকোনো প্রকার চাপ প্রয়োগ করেন অথবা করিবার হুমকি প্রদর্শন করিয়া শ্রম বা সেবা আদায় করেন, তাহা হইলে উহা হইবে অপরাধ।

(২) যদি কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনো অপরাধ সংঘটন করেন, তাহা হইলে তিনি অনধিক ১২ (বারো) বৎসর কিন্তু অন্যূন ৫ (পাঁচ) বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে এবং অন্যূন ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।

মানব পাচার অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্যে অপহরণ ও চুরি করিবার অপরাধ ও উহার দণ্ড

১০। (১) যদি কোনো ব্যক্তি মানব পাচারের অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্যে বা যৌন শোষণসহ ধারা ২ এর দফা (২০) এ বর্ণিত অন্য কোনো শোষণের উদ্দেশ্যে কোনো ব্যক্তিকে অপহরণ করেন, তাহা হইলে উহা হইবে অপরাধ।

(২) যদি কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনো অপরাধ সংঘটন করেন, তাহা হইলে তিনি অনধিক ১০ (দশ) বৎসর কিন্তু অন্যূন ৫ (পাঁচ) বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে এবং অন্যূন ২০ (বিশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।

(৩) যদি কোনো ব্যক্তি মানব পাচারের অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্যে কোনো নবজাতককে কোনো হাসপাতাল, সেবা-সদন, মাতৃ-সদন, শিশু-সদন বা উক্ত নবজাতকের পিতা-মাতা বা অন্য কোনো ব্যক্তির হেফাজত হইতে চুরি করেন, তাহা হইলে উহা হইবে অপরাধ।

(৪) যদি কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (৩) এর অধীন কোনো অপরাধ সংঘটন করেন, তাহা হইলে তিনি অনধিক যাবজ্জীবন কিন্তু অন্যূন ৫ (পাঁচ) বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে এবং অন্যূন ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।

পতিতাবৃত্তি বা অন্য কোনো প্রকারের যৌন শোষণের উদ্দেশ্যে আমদানি বা স্থানান্তরের অপরাধ ও উহার দণ্ড

১১। (১) যদি কোনো ব্যক্তি বল প্রয়োগ বা প্রতারণা করিয়া অথবা প্রলোভন দেখাইয়া কোনো নারীকে পতিতাবৃত্তি বা অন্য কোনো প্রকারের যৌন শোষণমূলক কাজে অথবা কোনো বেআইনি কাজে নিয়োজিত করিবার উদ্দেশ্যে তাহাকে বিদেশ হইতে বাংলাদেশে আনয়ন করেন বা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে স্থানান্তর করেন বা বিদেশে প্রেরণ করেন অথবা ক্রয় বা বিক্রয় করেন বা অনুরুপ কোনো উদ্দেশ্যে তাহার দখলে রাখেন, তাহা হইলে উহা হইবে অপরাধ।

(২) যদি কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনো অপরাধ সংঘটন করেন, তাহা হইলে তিনি অনধিক ১০ (দশ) বৎসর কিন্তু অন্যূন ৩ (তিন) বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে এবং অন্যূন ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।

ব্যাখ্যা।—এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে,—

(ক) কোনো ব্যক্তি কোনো নারীকে কোনো পতিতা বা পতিতালয়ের রক্ষণাবেক্ষণকারী বা ব্যবস্থাপকের নিকট ভাড়ায় প্রদান করিলে অথবা বিক্রয় করিলে বা অন্য কোনোভাবে হস্তান্তর করিলে উক্ত ব্যক্তি, ভিন্নরূপ প্রমাণিত না হইলে, উক্ত নারীকে পতিতাবৃত্তিতে নিয়োজিত করিবার উদ্দেশ্যে উক্তরূপে ভাড়ায় প্রদান করিয়াছেন বা বিক্রয় করিয়াছেন অথবা হস্তান্তর করিয়াছেন বলিয়া অনুমান করিতে হইবে;

(খ) কোনো নারীকে কোনো পতিতা বা পতিতালয়ের রক্ষণাবেক্ষণকারী বা ব্যবস্থাপক ক্রয় বা ভাড়া করিলে বা অন্য কোনোভাবে দখলে লইলে, তিনি ভিন্নরূপ প্রমাণিত না হইলে, উক্ত নারীকে পতিতাবৃত্তিতে নিয়োজিত করিবার উদ্দেশ্যে ক্রয় বা ভাড়া করিয়াছেন বা দখলে লইয়াছেন বলিয়া অনুমান করিতে হইবে।

পতিতালয় পরিচালনা করিবার বা কোনো স্থানকে পতিতালয় হিসাবে ব্যবহারের অনুমতি প্রদানের অপরাধ ও উহার দণ্ড

১২। (১) যদি কোনো ব্যক্তি পতিতালয় স্থাপন বা পরিচালনা করেন অথবা উহা স্থাপন বা পরিচালনা করিতে অনুমতি প্রদান করেন কিংবা উহা স্থাপন বা পরিচালনায় সহায়তা বা অংশগ্রহণ করেন, তাহা হইলে উহা হইবে অপরাধ।

(২) যদি কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনো অপরাধ সংঘটন করেন, তাহা হইলে তিনি অনধিক ৫ (পাঁচ) বৎসর কিন্তু অন্যূন ৩ (তিন) বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে এবং অন্যূন ২০ (বিশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।

(৩) যদি কোনো ভাড়াটিয়া, ইজারাদার, দখলদার অথবা কোনো স্থান দেখাশোনার দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তি বা উহার তত্ত্বাবধায়ক সচেতনভাবে উক্ত স্থান বা উহার কোনো অংশবিশেষ পতিতালয় হিসাবে ব্যবহার করিবার অনুমতি প্রদান করেন অথবা কোনো বাড়ির মালিক, ইজারাদাতা বা জমির মালিক অথবা উক্ত মালিক বা ইজারাদাতার কোনো প্রতিনিধি উক্ত বাড়ি অথবা উহার কোনো অংশবিশেষ পতিতালয় হিসাবে ব্যবহৃত হইবে মর্মে জানা সত্ত্বেও উক্ত বাড়ি বা জমি ভাড়া প্রদান করেন, তাহা হইলে উহা হইবে অপরাধ।

(৪) যদি কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (৩) এর অধীন কোনো অপরাধ সংঘটন করেন, তাহা হইলে তিনি অনধিক ৫ (পাঁচ) বৎসর কিন্তু অন্যূন ৩ (তিন) বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে এবং অন্যূন ২০ (বিশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।

পতিতাবৃত্তির উদ্দেশ্যে আহ্বান জানাইবার অপরাধ ও উহার দণ্ড

১৩। (১) যদি কোনো ব্যক্তি রাস্তায় বা জনসাধারণের ব্যবহার্য স্থানে অথবা গৃহের অভ্যন্তরে বা বাহিরে অথবা অন্য কোনো স্থানে পতিতাবৃত্তির উদ্দেশ্যে মুখের ভাষায় বা অঙ্গভঙ্গি করিয়া বা অশালীন ভাবভঙ্গি প্রদর্শন করিয়া অন্য কোনো ব্যক্তিকে আহ্বান করেন, তাহা হইলে উহা হইবে অপরাধ।

(২) যদি কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনো অপরাধ সংঘটন করেন, তাহা হইলে তিনি অনধিক ৩ (তিন) বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অনধিক ২০ (বিশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ডে অথবা উভয়দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।

তৃতীয় অধ্যায়

অভিবাসী চোরাচালান ও তদ্সংশ্লিষ্ট অপরাধসমূহ এবং দণ্ড

অভিবাসী চোরাচালান

১৪। অভিবাসী চোরাচালান (Smuggling of migrants) অর্থ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোনো সুবিধা লাভের উদ্দেশ্যে—

(ক) Foreigners Act, 1946 (Act No. XXXI of 1946) এর section 2 এর clause (a)-তে উল্লিখিত সংজ্ঞা অনুযায়ী বিদেশি নাগরিক হিসাবে গণ্য এইরূপ কোনো ব্যক্তিকে বাংলাদেশে অথবা বাংলাদেশ হইতে এইরূপ কোনো রাষ্ট্রে অবৈধভাবে প্রবেশ করানো (procurement of illegal entry) যেখানে উক্ত ব্যক্তি সেই রাষ্ট্রের নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দা নহেন; বা

(খ) Citizenship Act, 1951 (Act No. II of 1951) অনুযায়ী বাংলাদেশের নাগরিক হিসাবে গণ্য এইরূপ কোনো ব্যক্তিকে এইরূপ কোনো রাষ্ট্রে অবৈধভাবে প্রবেশ করানো (procurement of illegal entry) যেখানে উক্ত ব্যক্তি সেই রাষ্ট্রের নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দা নহেন।

অভিবাসী চোরাচালানের অপরাধ ও উহার দণ্ড

১৫। (১) যদি কোনো ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে অভিবাসী চোরাচালান করেন বা করিবার চেষ্টা করেন, তাহা হইলে উহা হইবে অপরাধ।

(২) যদি কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনো অপরাধ সংঘটন করেন, তাহা হইলে তিনি অনধিক ১০ (দশ) বৎসর কিন্তু অন্যূন ৩ (তিন) বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে এবং অন্যূন ১ (এক) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।

অভিবাসী চোরাচালান অপরাধে সহায়তার সৃষ্টির উদ্দেশ্যে দলিলাদি সৃজন, সংগ্রহ, সরবরাহ বা দখল সংক্রান্ত অপরাধ ও উহার দণ্ড

১৬। (১) যদি কোনো ব্যক্তি কোনো সুবিধা লাভের উদ্দেশ্যে অভিবাসী চোরাচালান কার্যে সহায়তা করিবার নিমিত্ত ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো দলিল সৃজন করেন বা সৃজন করিবার চেষ্টা করেন অথবা কোনো দলিল সংগ্রহ বা সরবরাহ করেন বা দখলে রাখেন অথবা উহা সংগ্রহ বা সরবরাহ করিবার বা দখলে রাখিবার চেষ্টা করেন, তাহা হইলে উহা হইবে অপরাধ।

(২) যদি কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনো অপরাধ সংঘটন করেন, তাহা হইলে তিনি অনধিক ৩ (তিন) বৎসর কিন্তু অন্যূন ১ (এক) বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে এবং অন্যূন ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।

কোনো সুবিধার বিনিময়ে অবৈধ বাসিন্দাকে আশ্রয় প্রদানের অপরাধ ও উহার দণ্ড

১৭। (১) যদি কোনো ব্যক্তি কোনো সুবিধা লাভের উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে এইরূপ কোনো ব্যক্তিকে আশ্রয় প্রদান করেন বা আশ্রয় প্রদানের চেষ্টা করেন যিনি বাংলাদেশের নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দা নহেন এবং যিনি বৈধভাবে বাংলাদেশে অবস্থান করিবার জন্য প্রয়োজনীয় শর্তাবলি প্রতিপালন করেন নাই, তাহা হইলে উহা হইবে অপরাধ।

(২) যদি কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনো অপরাধ সংঘটন করেন, তাহা হইলে তিনি অনধিক ৩ (তিন) বৎসর কিন্তু অন্যূন ১ (এক) বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে এবং অনধিক ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।

চোরাচালানের শিকার অভিবাসীকে মারাত্মক জখম করা, তাহার জীবন বা নিরাপত্তা বিপন্ন করা বা তাহার প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ করা, ইত্যাদি অপরাধ ও উহার দণ্ড

১৮। (১) যদি সংঘটিত অভিবাসী চোরাচালান অপরাধের কারণে চোরাচালানের শিকার অভিবাসী মারাত্মকভাবে জখম (grievious hurt) হইয়া থাকেন বা তাহার জীবন-বিপন্নকারী রোগ হইয়া থাকে বা তাহার মৃত্যু ঘটিয়া থাকে বা এইরূপ পরিস্থিতির উদ্ভব হইয়া থাকে যাহার ফলে তাহার জীবন বা নিরাপত্তা বিপন্ন হইয়া পড়ে বা বিপন্ন হইবার সম্ভাবনা থাকে অথবা তাহাকে শোষণের উদ্দেশ্যে তাহার প্রতি নিষ্ঠুর, অমানবিক বা লাঞ্চনাকর আচরণ করা হয়, তাহা হইলে উহা হইবে অপরাধ।

(২) যদি কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনো অপরাধ সংঘটন করেন, তাহা হইলে তিনি অনধিক যাবজ্জীবন কিন্তু অন্যূন ৫ (পাঁচ) বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে এবং অন্যূন ১ (এক) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।

সংঘবদ্ধ অভিবাসী চোরাচালানের অপরাধ ও উহার দণ্ড

১৯। যদি অভিবাসী চোরাচালানের কোনো অপরাধ সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের কর্মকাণ্ডের অংশ হিসাবে সংঘটিত হইয়া থাকে, তাহা হইলে অভিযুক্ত ব্যক্তি বা উক্ত চক্রের অভিযুক্ত প্রত্যেক সদস্য সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কিন্তু অন্যূন ৫ (পাঁচ) বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে এবং অন্যূন ১ (এক) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডণীয় হইবেন।

অভিবাসী চোরাচালানের উদ্দেশ্যে ডিজিটাল বা প্রচলিত অন্য কোনো মাধ্যমে বিজ্ঞাপন প্রচার, ইত্যাদির অপরাধ ও উহার দণ্ড

২০। (১) যদি কোনো ব্যক্তি, সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো ওয়েবসাইট, ডিজিটাল সামাজিক মাধ্যম, লাইভ-স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম বা কোনো অনলাইন, ডিজিটাল বা ইলেকট্রনিক অথবা প্রচলিত অন্য কোনো মাধ্যম যেমন- ছাপানো, হাতে লেখা, ইত্যাদি ব্যবহার করিয়া অভিবাসী চোরাচালানের উদ্দেশ্যে কোনো বিজ্ঞাপন প্রচার কিংবা অনুরূপ বা ভিন্ন কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করেন এবং উক্তরূপ প্রচার বা পরিচালনার ফলে অভিবাসী চোরাচালান অপরাধ সংঘটিত হয় বা সংঘটনের চেষ্টা করা হয় বা কোনো ব্যক্তি উক্তরূপ অভিবাসী হইবার জন্য প্ররোচিত হন বা অন্য কোনো ব্যক্তিকে প্ররোচিত করেন অথবা যদি কোনো ব্যক্তি অন্য কোনো ব্যক্তিকে অভিবাসী চোরাচালান অপরাধ সংঘটনে সহায়তা করেন, তাহা হইলে উহা হইবে অপরাধ।

(২) যদি কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনো অপরাধ সংঘটন করেন, তাহা হইলে তিনি অনধিক ৭ (সাত) বৎসর কিন্তু অন্যূন ৩ (তিন) বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে এবং অন্যূন ১ (এক) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।

চতুর্থ অধ্যায়

অন্যান্য অপরাধ ও দণ্ড, ইত্যাদি

সংবাদ মাধ্যমে মানব পাচার বা চোরাচালানের শিকার ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশের অপরাধ ও উহার দণ্ড

২১। (১) যদি কোনো ব্যক্তি ট্রাইব্যুনালের অনুমতি ব্যতিরেকে মানব পাচার বা অভিবাসী চোরাচালানের শিকার কোনো ব্যক্তির নাম-ঠিকানা বা তাহার ছবি বা অন্যবিধ তথ্য বা তাহার পরিচয় কোনো সংবাদপত্রে বা অন্য কোনো সংবাদ মাধ্যমে কিংবা অনলাইন বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করেন, তাহা হইলে উহা হইবে অপরাধ।

(২) যদি কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনো অপরাধ সংঘটন করেন, তাহা হইলে তিনি অনধিক ৬ (ছয়) মাসের কারাদণ্ডে বা অনধিক ১ (এক) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।

অপরাধ সংঘটনে প্ররোচনা, ষড়যন্ত্র বা সহায়তার অপরাধ ও উহার দণ্ড

২২। (১) যদি কোনো ব্যক্তি এই আইনের অধীন কোনো অপরাধ সংঘটনে প্ররোচনা বা ষড়যন্ত্র করেন এবং উক্ত প্ররোচনা বা ষড়যন্ত্রের ফলে অপরাধটি সংঘটিত হয় অথবা যদি কোনো ব্যক্তি অন্য কোনো ব্যক্তিকে এই আইনের অধীন কোনো অপরাধ সংঘটনে সহায়তা করেন, তাহা হইলে উহা হইবে অপরাধ।

(২) যদি কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনো অপরাধ সংঘটন করেন, তাহা হইলে তিনি মূল অপরাধের জন্য যে দণ্ড নির্ধারিত রহিয়াছে সেই দণ্ডেই দণ্ডনীয় হইবেন।

ভিকটিম বা সাক্ষীকে হুমকি, ইত্যাদি প্রদানপূর্বক তদন্ত বা বিচারকার্যে বিঘ্ন সৃষ্টি করিবার অপরাধ ও উহার দণ্ড

২৩। (১) যদি কোনো ব্যক্তি মানব পাচার বা অভিবাসী চোরাচালানের শিকার কোনো ব্যক্তি বা তাহার পরিবারের কোনো সদস্যকে বা মামলার সাক্ষীকে হুমকি প্রদান, ভয়-ভীতি প্রদর্শন বা বলপ্রয়োগ করিয়া কিংবা অন্য কোনোভাবে এই আইনের অধীন দায়েরকৃত কোনো মামলার তদন্ত বা বিচারকার্যে কোনোরূপ বিঘ্ন সৃষ্টি করেন, তাহা হইলে উহা হইবে অপরাধ।

(২) যদি কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনো অপরাধ সংঘটন করেন, তাহা হইলে তিনি অনধিক ৭ (সাত) বৎসর কিন্তু অন্যূন ৩ (তিন) বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে এবং অন্যূন ২০ (বিশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।

আপসের উদ্দেশ্যে ভিকটিম বা সাক্ষীকে চাপ প্রয়োগ, প্রভাবিত ও ভয়-ভীতি প্রদর্শন করিবার অপরাধ ও উহার দণ্ড

২৪। (১) যদি কোনো ব্যক্তি এই আইনের অধীন সংঘটিত কোনো অপরাধের আপস করিবার উদ্দেশ্যে মামলার তদন্ত পর্যায়ে অথবা বিচার চলাকালে অপরাধের শিকার ব্যক্তির বা তাহার পরিবারের কোনো সদস্যের উপর কোনো প্রকার চাপ প্রয়োগ করেন বা চাপ প্রয়োগ করিবার চেষ্টা করেন কিংবা অভিযুক্ত ব্যক্তির পক্ষে সাক্ষ্য প্রদানের জন্য কোনো সাক্ষীকে প্রভাবিত করেন বা প্রভাবিত করিবার চেষ্টা করেন কিংবা হুমকি প্রদান বা ভয়-ভীতি প্রদর্শন করেন, তাহা হইলে উহা হইবে অপরাধ।

(২) যদি কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনো অপরাধ সংঘটন করেন, তাহা হইলে তিনি অনধিক ৫ (পাঁচ) বৎসর কিন্তু অন্যূন ২ (দুই) বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে এবং অন্যূন ২০ (বিশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।

মিথ্যা মামলা বা মিথ্যা অভিযোগ দায়ের, ইত্যাদি অপরাধ ও উহার দণ্ড

২৫। (১) যদি কোনো ব্যক্তি অন্য কোনো ব্যক্তির ক্ষতিসাধন করিবার উদ্দেশ্যে এই আইনের অধীন মিথ্যা বা হয়রানিমূলক মামলা বা মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেন বা আইনি প্রক্রিয়ার অপব্যবহার করেন বা অন্য কোনো ব্যক্তিকে উহা করিতে বাধ্য করেন, তাহা হইলে উহা হইবে অপরাধ।

(২) যদি কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনো অপরাধ সংঘটন করেন, তাহা হইলে তিনি অনধিক ৫ (পাঁচ) বৎসর ও অন্যূন ২ (দুই) বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে এবং অন্যূন ২০ (বিশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।

(৩) ট্রাইব্যুনাল কোনো লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে অথবা উহার স্বীয় ক্ষমতায় উপ-ধারা (১) এ বর্ণিত অপরাধ আমলে লইয়া বিচার আরম্ভ করিতে পারিবে এবং প্রয়োজনে, কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া, মূল মামলার বিচার স্থগিত করিতে পারিবে।

কোম্পানি বা ফার্ম কর্তৃক অপরাধ সংঘটন

২৬। কোনো কোম্পানি বা ফার্ম কর্তৃক, উহা বাংলাদেশে নিবন্ধিত (incorporated) হউক বা না হউক, এই আইনের অধীন কোনো অপরাধ সংঘটিত হইলে অপরাধ সংঘটনকালে উক্ত কোম্পানি বা ফার্মের মালিক, পরিচালক, ম্যানেজার, সচিব বা এজেন্টের দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তি অপরাধ সংঘটন করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন, যদি না তিনি প্রমাণ করিতে পারেন যে, অপরাধটি তাহার অজ্ঞাতসারে সংঘটিত হইয়াছে এবং উহা রোধ করিবার জন্য তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করিয়াছেন।

অপরাধের আমলযোগ্যতা, জামিনযোগ্যতা ও আপসযোগ্যতা

২৭। এই আইনের অধীন অপরাধসমূহ আমলযোগ্য (cognizable), অ-জামিনযোগ্য (non-bailable) এবং অ-আপসযোগ্য (non-compoundable) হইবে।

পঞ্চম অধ্যায়

অভিযোগ দায়ের ও তদন্ত, বিচার পদ্ধতি, ইত্যাদি

অভিযোগ দায়ের

২৮। এই আইনের অধীন কোনো অপরাধ সংঘটিত হইলে কোনো ব্যক্তি থানায় অথবা ট্রাইব্যুনালে উক্ত অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ দায়ের করিতে পারিবেন এবং পুলিশ এই ধরনের অভিযোগ আনয়নকারী ব্যক্তিকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা প্রদান করিবে এবং আইনি কার্যধারার কারণে ভিন্নরূপ প্রয়োজন না হইলে তাহার নাম-পরিচয় গোপন রাখিতে হইবে।

অপরাধ সংঘটনের ক্ষেত্রে আইনগত অনুমান (presumption)

২৯। কোনো ব্যক্তির হেফাজত হইতে অথবা তাহার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে থাকা কোনো স্থান হইতে মানব পাচার বা অভিবাসী চোরাচালান অপরাধের শিকার কোনো ব্যক্তিকে অথবা মানব পাচার বা অভিবাসী চোরাচালান অপরাধ সংঘটনে ব্যবহৃত কোনো বস্তু উদ্ধার করা হইলে উক্ত ব্যক্তি যদি মানব পাচারকারী বা অভিবাসী চোরাচালানকারী হিসাবে যুক্তিসংগতভাবে সন্দেহভাজন হন অথবা তিনি যদি উদ্ধারকৃত উক্ত মানব পাচার বা অভিবাসী চোরাচালানের শিকার ব্যক্তি কর্তৃক মানব পাচারকারী বা অভিবাসী চোরাচালানকারী হিসাবে চিহ্নিত হন, তাহা হইলে ভিন্নরূপ প্রমাণিত না হইলে, উক্ত ব্যক্তি মানব পাচার বা অভিবাসী চোরাচালান অপরাধ সংঘটন করিয়াছেন বলিয়া অনুমান (presumption) করা যাইবে।

তদন্ত

৩০। (১) এই আইনের অধীন অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ থানায় দায়ের করা হইলে সাব-ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার নিম্নে নহেন এইরূপ কোনো পুলিশ কর্মকর্তা তদন্তকার্য সম্পন্ন করিবেন।

(২) Code of Criminal Procedure, 1898 (Act No. V of 1898) এ ভিন্নরূপ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোনো অভিযোগকারী ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের করিলে ট্রাইব্যুনাল তাহাকে পরীক্ষা করিয়া এবং অভিযোগ ও উহার সমর্থনে দাখিলকৃত কাগজপত্র, যদি থাকে, পর্যালোচনা করিয়া এবং অনধিক ১৫ (পনেরো) কার্যদিবসের মধ্যে কারণ উল্লেখপূর্বক ট্রাইব্যুনালের নিকট যেরূপ উপযুক্ত বলিয়া বিবেচিত হইবে সেইরূপ সক্রিয় অনুসন্ধান (proactive inquiry) পরিচালনাপূর্বক—

(ক) সন্তুষ্ট হইলে অভিযোগটি এজাহার হিসাবে গণ্য করিয়া তদন্ত করিবার জন্য সংশ্লিষ্ট থানার অফিসার-ইনচার্জকে নির্দেশ প্রদান করিবে; এবং

(খ) সন্তুষ্ট না হইলে অভিযোগটি নাকচ (reject) করিবে।

(৩) উপ-ধারা (২) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, ট্রাইব্যুনাল উপযুক্ত ক্ষেত্রে অভিযোগটি এজাহার হিসাবে গণ্য করিয়া তদন্ত করিবার জন্য সংশ্লিষ্ট থানার অফিসার-ইনচার্জকে নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে।

(৪) উপ-ধারা (১) এর অধীন থানায় দায়েরকৃত অথবা উপ-ধারা (২) এর দফা (ক) বা উপ-ধারা (৩) অনুযায়ী তদন্তের জন্য ট্রাইব্যুনাল হইতে থানায় প্রেরিত অভিযোগটির তদন্তকার্য সংশ্লিষ্ট থানার অফিসার-ইনচার্জ তাহার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশক্রমে সরকার কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে তদন্তের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো তদন্ত সংস্থা বা ইউনিটের নিকট হস্তান্তর করিতে পারিবেন এবং উক্ত তদন্ত সংস্থা বা ইউনিটের প্রধান কর্তৃক দায়িত্বপ্রাপ্ত সাব-ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার নিম্নে নহেন এইরূপ কোনো পুলিশ কর্মকর্তা অভিযোগটির তদন্তকার্য সম্পন্ন করিবেন, এবং এইরূপ ক্ষেত্রে তিনি Code of Criminal Procedure, 1898 এ বর্ণিত একজন পুলিশ কর্মকর্তার সকল ক্ষমতা প্রয়োগ করিতে পারিবেন।

(৫) ধারা ৩১ এর বিধান সাপেক্ষে, উপ-ধারা (১) এর অধীন অভিযোগ দায়েরের বা উপ-ধারা (২) এর দফা (ক) বা উপ-ধারা (৩) এর অধীন ট্রাইব্যুনাল হইতে তদন্তের নির্দেশ প্রাপ্তির অথবা উপ-ধারা (৪) এর অধীন সংশ্লিষ্ট তদন্ত সংস্থা বা ইউনিটের প্রধানের নিকট হইতে তদন্তের দায়িত্ব প্রাপ্তির অনধিক ৯০ (নব্বই) দিবসের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করিতে হইবে।

(৬) উপ-ধারা (৫) এ উল্লিখিত সময়সীমার মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন না হইলে তদন্তকারী কর্মকর্তা উক্ত সময়সীমা শেষ হইবার অন্তত ৩ (তিন) কার্যদিবস পূর্বে তাহার নিয়ন্ত্রণকারী কর্মকর্তার নিকট বা, ক্ষেত্রমত, ট্রাইব্যুনাল হইতে তদন্তের নির্দেশ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনালের নিকট সময়সীমা বৃদ্ধির জন্য লিখিতভাবে আবেদন করিবেন এবং উক্ত নিয়ন্ত্রণকারী কর্মকর্তা বা, ক্ষেত্রমত, ট্রাইব্যুনাল উক্ত সময়সীমার মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করিতে ব্যর্থতার জন্য প্রদর্শিত কারণে সন্তুষ্ট হইলে তদন্তের সময়সীমা অতিরিক্ত ৪৫ (পঁয়তাল্লিশ) দিবস বৃদ্ধি করিতে পারিবে:

তবে শর্ত থাকে যে, আন্তঃরাষ্ট্রীয় তদন্তের ক্ষেত্রে কেবল ট্রাইব্যুনাল উহার স্বীয় বিবেচনায় যৌক্তিক মেয়াদে তদন্তের সময়সীমা বৃদ্ধি করিতে পারিবে।

(৭) তদন্ত প্রতিবেদনে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ বা তদ্‌সম্পর্কে কার্যক্রম গ্রহণের সুপারিশ না থাকিলেও ট্রাইব্যুনাল প্রয়োজনীয় বিবেচনা করিলে কারণ উল্লেখপূর্বক উক্ত ব্যক্তির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অপরাধ বিচারার্থ গ্রহণ করিতে পারিবে।

(৮) অপরাধ তদন্তের ক্ষেত্রে বিদেশি সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ বা নিরীক্ষণ কিংবা তদ্‌সংশ্লিষ্ট কার্যাদি সম্পন্ন করিবার জন্য বিদেশ গমনের আবশ্যকতা দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক সরকারের নিকট প্রেরিত লিখিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সরকার একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করিবে এবং উক্ত তদন্ত দলকে যথাসম্ভব প্রশাসনিক ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করিবে।

(৯) তদন্ত, নিরাপত্তা বিধান এবং প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম ও দায়িত্বসমূহের সমন্বয় ও তদারকি করিবার উদ্দেশ্যে সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, পুলিশ সদর দপ্তরে একটি কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল গঠন করিবে।

প্রতিরোধমূলক তল্লাশি ও আটক

৩১। (১) মানব পাচার বা অভিবাসী চোরাচালান অপরাধ প্রতিরোধকল্পে, সাব-ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার নিম্নে নহেন এইরূপ কোনো পুলিশ কর্মকর্তা তাহার ঊর্ধ্বতন নিয়ন্ত্রণকারী কর্মকর্তার অনুমোদন বা নির্দেশ সাপেক্ষে, প্রতিরোধমূলক তল্লাশি করিবার, যেকোনো আঙিনায় প্রবেশ করিবার এবং কোনো অপরাধ সংঘটনে ব্যবহৃত হইবার সম্ভাবনা রহিয়াছে এইরূপ সরঞ্জাম, তথ্য প্রমাণ বা দলিলাদি আটক করিবার ক্ষমতাপ্রাপ্ত হইবেন।

(২) কোনো ব্যক্তির সহিত অথবা কোনো স্থানে এই আইনের অধীন অপরাধ সংঘটনের উপযোগী সরঞ্জাম বা উপাদান থাকিলে এবং তল্লাশি পরোয়ানা সংগ্রহে বিলম্বের কারণে অপরাধটি প্রকৃতই সংঘটিত হইবার বা কোনো সাক্ষ্য প্রমাণ নষ্ট হইবার যুক্তিসংগত কারণ বিদ্যমান থাকিলে উপ-ধারা (১) এর অধীন বিনা পরোয়ানায় তল্লাশি করা যাইবে এবং তল্লাশি চালাইবার পূর্বে তল্লাশির জন্য প্রস্তুত অফিসার যে স্থানে তল্লাশি চালাইবেন সেই স্থান যে এলাকায় অবস্থিত সেই এলাকার ২ (দুই) বা ততোধিক সম্মানিত অধিবাসীকে তল্লাশিতে হাজির থাকিতে ও উহার সাক্ষী হইতে আহ্বান জানাইবেন এবং উক্ত সাক্ষীদের উপস্থিতিতে তল্লাশি চালাইতে হইবে; উক্ত অফিসার তল্লাশির সময় জব্দকৃত সরঞ্জাম এবং যে সকল স্থানে উক্ত সরঞ্জাম পাওয়া গিয়াছে উহার একটি তালিকা প্রস্তুত করিবেন এবং উহাতে সাক্ষীগণের স্বাক্ষর গ্রহণ করিবেন।

(৩) Code of Criminal Procedure, 1898 এর section 103 এর বিধানের আলোকে এবং যে ব্যক্তির শরীর বা সম্পত্তিতে তল্লাশি চালানো হইবে তাহার মানবাধিকার ও মানবিক মর্যাদার প্রতি যথোপযুক্ত সম্মান প্রদর্শনপূর্বক তল্লাশি সম্পাদন করিতে হইবে এবং কোনো নারীর বিরুদ্ধে তল্লাশি পরিচালনা করা হইলে তল্লাশি দলের সহিত অবশ্যই একজন নারী কর্মকর্তা বা নারী প্রবেশন কর্মকর্তা থাকিবেন।

(৪) তল্লাশি সম্পাদনের ৭২ (বাহাত্তর) ঘণ্টার মধ্যে তল্লাশি কার্যে নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তা তল্লাশির কারণ এবং ফলাফলের বিবরণ সংবলিত প্রতিবেদন প্রস্তুত করিবেন এবং উহার অনুলিপি ইলেকট্রনিক বা অন্য কোনো মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট এবং সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালে প্রেরণ করিবেন যাহা ট্রাইব্যুনালের হেফাজতে রক্ষিত থাকিবে।

(৫) উপ-ধারা (৪) এ উল্লিখিত প্রতিবেদনের একটি করিয়া অনুলিপি তল্লাশি কার্যে নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে এবং যাহার বিরুদ্ধে তল্লাশি পরিচালিত হইয়াছে তাহাকেও প্রদান করিতে হইবে।

ব্যাংক হিসাব, ইত্যাদি নিরীক্ষা ও নিষ্ক্রিয়করণ

৩২। (১) যদি তদন্তকারী কর্মকর্তার এইরূপ বিশ্বাস করিবার যথেষ্ট কারণ থাকে যে, কোনো ব্যক্তি মানব পাচার বা অভিবাসী চোরাচালান অপরাধের সহিত জড়িত থাকিয়া অবৈধ অর্থ ও সম্পদ সংগ্রহ করিয়াছেন বা সংগ্রহে লিপ্ত রহিয়াছেন এবং উক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে এই আইনের বিধান অনুসারে কার্যক্রম গ্রহণের নিমিত্ত তাহার ব্যাংক হিসাব অথবা আয়কর বা সম্পদের কর সংক্রান্ত রেকর্ডপত্র পরীক্ষা করা প্রয়োজন, তাহা হইলে তদন্তকারী কর্মকর্তা মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (২০১২ সনের ৫ নং আইন) অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।

(২) তদন্তকারী কর্মকর্তা মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ধারা ২ এর দফা (শ) এর উপ-দফা (১২) ও (১৬)-তে উল্লিখিত সম্পৃক্ত অপরাধ নিয়ন্ত্রণের জন্য এই আইনের অধীন একজন তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসাবে গণ্য হইবেন এবং তিনি মানব পাচার বা অভিবাসী চোরাচালানের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ বা সম্পদ সম্পর্কে উক্ত আইন অনুযায়ী তদন্তসহ পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করিতে পারিবেন।

(৩) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত অনুরূপ বিশ্বাসের কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া তদন্তকারী কর্মকর্তা উক্ত হিসাব অথবা রেকর্ডপত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষা করিবার কিংবা সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাব নিষ্ক্রিয় (freezing) কিংবা সম্পদ যাচাই-বাছাই (scrutinizing) করিবার অনুমতি প্রদানের জন্য ট্রাইব্যুনালে আবেদন করিবেন।

(৪) এই আইনের অধীন কোনো অপরাধ সংঘটনে বা সংঘটনের প্রচেষ্টায় কোনো বাড়ি, স্থাপনা, জমি বা, ক্ষেত্রমত, যানবাহন ব্যবহৃত হইয়াছে বা হইতেছে বলিয়া তদন্তকারী কর্মকর্তা কর্তৃক যুক্তিসংগতভাবে বিশ্বাস করিবার কারণ থাকিলে তিনি উক্ত বাড়ি, স্থাপনা বা জমি তাহার নিয়ন্ত্রণে বা, ক্ষেত্রমত, যানবাহন আটক রাখিবার অনুমতি প্রদানের জন্য ট্রাইব্যুনালে আবেদন করিতে পারিবেন।

(৫) উপ-ধারা (৩) বা উপ-ধারা (৪) এর অধীন পেশকৃত আবেদন পর্যালোচনাপূর্বক এবং আবেদনকারী উপস্থিত থাকিলে শুনানির সুযোগ প্রদান করিয়া ট্রাইব্যুনাল আবেদনটি নিষ্পত্তি করিবে এবং ট্রাইব্যুনাল যুক্তিসংগত বলিয়া বিবেচনা করিলে প্রার্থিত অনুমতি প্রদান করিবে এবং উহার একটি অনুলিপি সংশ্লিষ্ট ব্যাংক, কর কর্মকর্তা বা, ক্ষেত্রমত, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করিবে।

(৬) উপ-ধারা (৩) এর অধীন অনুমতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তাহার পরীক্ষা-নিরীক্ষার অগ্রগতি ও ফলাফল সম্পর্কে ট্রাইব্যুনালকে, সময় সময়, অবহিত করিবেন।

সম্পত্তি হস্তান্তর ইত্যাদি নিষিদ্ধ, বাজেয়াপ্তকরণ ও অতিরাষ্ট্রিক নিষেধাজ্ঞা

৩৩। (১) মানব পাচার বা অভিবাসী চোরাচালান অপরাধের তদন্তকালে যদি তদন্তকারী কর্মকর্তার এইরূপ বিশ্বাস করিবার যথেষ্ট কারণ থাকে যে, কোনো ব্যক্তির নিকট উক্ত অপরাধলব্ধ অর্জিত সম্পত্তি রহিয়াছে, তাহা হইলে তিনি অনুরূপ বিশ্বাসের কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া তদন্ত কার্য সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত উক্ত সম্পত্তির বিক্রয়, বন্ধক অথবা অন্য কোনো প্রকার হস্তান্তর নিষিদ্ধ করিবার আদেশ প্রদানের জন্য ট্রাইব্যুনালে আবেদন করিতে পারিবেন।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন পেশকৃত আবেদন পর্যালোচনাপূর্বক এবং আবেদনকারী ও যাহার বিরুদ্ধে আবেদন করা হইয়াছে তাহাকে শুনানির সুযোগ প্রদান করিয়া ট্রাইব্যুনাল আবেদনটি নিষ্পত্তি করিবে এবং যুক্তিসংগত বলিয়া বিবেচনা করিলে প্রার্থিত আদেশ প্রদান করিবে:

তবে শর্ত থাকে যে, বিশেষ কারণে কেবল আবেদনকারীর বক্তব্য শুনিয়া ট্রাইব্যুনাল আবেদনটির বিষয়ে আদেশ প্রদান করিতে পারিবে।

(৩) মামলা চলাকালীন অভিযোগকারী যদি এই মর্মে আবেদন করেন যে, অভিযুক্ত ব্যক্তির অপরাধ প্রমাণিত হইলে তাহার অপরাধলব্ধ অর্জিত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করিবার প্রয়োজন হইবে এবং সেই কারণে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাহার সম্পত্তির বিক্রয়, বন্ধক অথবা অন্য কোনো প্রকার হস্তান্তর বা লেনদেন নিষিদ্ধ করিবার আদেশ প্রদান করা প্রয়োজন, তাহা হইলে ট্রাইব্যুনাল, উক্ত আবেদনের ভিত্তিতে, যতদূর সম্ভব উভয় পক্ষকে শুনানির সুযোগ প্রদান করিয়া, প্রয়োজনে, উক্তরূপ আদেশ প্রদান করিতে পারিবে।

(৪) এই আইনের অধীন কোনো ব্যক্তি দোষী সাব্যস্ত হইলে ট্রাইব্যুনাল উক্ত দোষী ব্যক্তি কর্তৃক উক্ত অপরাধ সংঘটনের ফলে অর্জিত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করিয়া উহা মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ তহবিলে জমা প্রদানের আদেশ প্রদান করিতে পারিবে।

(৫) এই আইনের অধীন সংঘটিত কোনো অপরাধের বিচারের স্বার্থে ট্রাইব্যুনাল বিদেশে অবস্থিত অপরাধলব্ধ অর্জিত সম্পত্তি এবং উক্ত সম্পত্তির মাধ্যমে পরবর্তীকালে অভিযুক্ত ব্যক্তির অর্জিত অন্য কোনো সম্পত্তি অবরুদ্ধ (freeze) এবং ক্রোক (attach) করিবার জন্য সরকারকে নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে।

(৬) এই ধারার অধীন অবরুদ্ধ বা ক্রোককৃত সম্পত্তি সম্পর্কে সরকার অপরাধ সম্পর্কিত বিষয়ে পারস্পরিক সহায়তা আইন, ২০১২ (২০১২ সনের ৪ নং আইন) অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।

অভিযুক্ত ব্যক্তির বিদেশ গমনে বাধা

৩৪। (১) এই আইনের অধীন কোনো অপরাধের তদন্ত পর্যায়ে অপরাধের মাত্রা বিবেচনায় যদি তদন্তকারী কর্মকর্তার এইরূপ বিশ্বাস করিবার যথেষ্ট কারণ থাকে যে, অভিযুক্ত ব্যক্তি তাহার গ্রেফতার বা তাহাকে বিচারে সোপর্দকরণ এড়াইবার জন্য বিদেশ গমনের উদ্যোগ গ্রহণ করিয়াছেন, কিংবা তিনি বিদেশ গমন করিলে মামলার সার্বিক তদন্ত কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হইবে, তাহা হইলে তিনি অনুরূপ বিশ্বাসের কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া উক্ত অভিযুক্ত ব্যক্তির বিদেশ গমন বারিত করিবার প্রয়োজনীয় আদেশ প্রদানের জন্য ট্রাইব্যুনালে আবেদন করিতে পারিবেন।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন পেশকৃত আবেদন পর্যালোচনা করিয়া এবং আবেদনকারীকে ও যাহার বিরুদ্ধে আবেদন করা হইয়াছে তিনি উপস্থিত থাকিলে তাহাকে শুনানির সুযোগ প্রদান করিয়া ট্রাইব্যুনাল যুক্তিসংগত বলিয়া বিবেচনা করিলে অনধিক ৬০ (ষাট) দিবসের জন্য প্রার্থিত আদেশ প্রদান করিতে পারিবে।

(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন প্রদত্ত আদেশে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালে আবেদন করিলে ট্রাইব্যুনাল উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনিয়া এবং দাখিলকৃত কাগজাদি পর্যালোচনা করিয়া প্রদত্ত আদেশ বাতিল, প্রত্যাহার বা পরিবর্তন করিতে পারিবে কিংবা উহার বিবেচনায় উপযুক্ত অন্য কোনো আদেশ প্রদান করিতে পারিবে।

(৪) তদন্তকারী কর্মকর্তার লিখিত আবেদনের ভিত্তিতে ট্রাইব্যুনাল উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনিয়া উপ-ধারা (২) এর অধীন প্রদত্ত আদেশের মেয়াদ অনধিক ৩০ (ত্রিশ) দিবস বর্ধিত করিতে পারিবে।

Code of Criminal Procedure, 1898, Evidence Act, 1872, ইত্যাদির প্রযোজ্যতা

৩৫। (১) এই আইনের অধীন মামলা বা অভিযোগ দায়ের, তদন্ত, অপরাধসমূহের বিচার এবং বিচার সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয়ে এই আইনে কোনো বিধান না থাকিলে Code of Criminal Procedure, 1898 (Act No. V of 1898) এবং, ক্ষেত্রমত, Evidence Act, 1872 (Act No. I of 1872) এর বিধানাবলি প্রযোজ্য হইবে।

(২) এই আইনের অধীন অপরাধ ও দণ্ডের দায়-দায়িত্বের বিষয়ে Penal Code, 1860 এর Chapter III এর বিধানাবলি প্রযোজ্য হইবে।

(৩) এই আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধসমূহ Extradition Act, 1974 (Act No. XLVIII Of 1974) এর section 2 এর sub-section (1) এর clause (a)-তে সংজ্ঞায়িত extradition অপরাধ হিসাবে গণ্য হইবে।

ষষ্ঠ অধ্যায়

মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল গঠন

মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল গঠন

৩৬। (১) এই আইনের অধীন অপরাধসমূহের দ্রুত বিচারের উদ্দেশ্যে সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, জেলা ও দায়রা জজ পদমর্যাদার বিচারক সমন্বয়ে, প্রয়োজনে, প্রত্যেক জেলায় ট্রাইব্যুনাল গঠন করিতে পারিবে, এবং এইরূপ ট্রাইব্যুনাল মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল নামে অভিহিত হইবে।

(২) উপ-ধারা (১) অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংখ্যক ট্রাইব্যুনাল গঠিত না হওয়া পর্যন্ত সরকার সংশ্লিষ্ট জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারককে অথবা, প্রয়োজনে, সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা ও দায়রা জজকে তাহার দায়িত্বের অতিরিক্ত হিসাবে ট্রাইব্যুনালের বিচারক নিযুক্ত করিতে পারিবে।

(৩) এই ধারায় জেলা ও দায়রা জজ অর্থে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজও অন্তর্ভুক্ত হইবে।

আপিল

৩৭। ট্রাইব্যুনালের কোনো আদেশ, রায় বা দণ্ডের বিরুদ্ধে উক্ত আদেশ, রায় বা দণ্ডাদেশ প্রদানের তারিখ হইতে ৩০ (ত্রিশ) দিবসের মধ্যে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করা যাইবে।

অপরাধ বিচারার্থ গ্রহণ, ইত্যাদি

৩৮। (১) এই আইনের অধীন অপরাধসমূহ কেবল এই আইনের অধীন গঠিত ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক বিচারার্থ গ্রহণীয় হইবে এবং উক্ত ট্রাইব্যুনালে বিচারযোগ্য হইবে।

(২) যে আঞ্চলিক অধিক্ষেত্রে কোনো অপরাধ বা উহার অংশবিশেষ সংঘটিত হইয়াছে অথবা মানব পাচার বা অভিবাসী চোরাচালানের শিকার ব্যক্তিকে যে অঞ্চল হইতে উদ্ধার করা হইয়াছে বা তিনি যে অঞ্চলের অধিবাসী সেই আঞ্চলিক অধিক্ষেত্রের ক্ষমতাপ্রাপ্ত ট্রাইব্যুনাল উক্ত অপরাধের বিচার করিতে পারিবে।

(৩) বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সীমানার বাহিরে বাংলাদেশি কোনো নাগরিক বা কোম্পানি অথবা সচরাচর বাংলাদেশে বসবাস করেন (habitually resident in Bangladesh) এইরূপ কোনো ব্যক্তি এই আইনের অধীন কোনো অপরাধ সংঘটন করিলে তিনি যে ট্রাইব্যুনালের আঞ্চলিক অধিক্ষেত্রের অধিবাসী ছিলেন অথবা কোম্পানির ক্ষেত্রে উক্ত কোম্পানির নিবন্ধিত অফিস যে আঞ্চলিক অধিক্ষেত্রে ছিল সেই ট্রাইব্যুনাল উক্ত অপরাধের বিচার করিতে পারিবে।

(৪) যদি এই আইনের অধীন কোনো অপরাধের সহিত অন্য কোনো অপরাধ এইরূপভাবে জড়িত থাকে যে, ট্রাইব্যুনালের বিবেচনায় ন্যায় বিচারের স্বার্থে উভয় অপরাধের বিচার একইসঙ্গে বা একই মামলায় করা প্রয়োজন, তাহা হইলে উক্ত অন্য অপরাধের বিচার এই আইনের অধীন অপরাধের সহিত এই আইনের বিধান অনুসারে একই ট্রাইব্যুনালে করা যাইবে।

(৫) অভিযোগকারী পক্ষে ট্রাইব্যুনালে মামলা পরিচালনা করিবার জন্য সরকার প্রয়োজনে প্রসিকিউটর ‍নিয়োগ করিতে পারিবে এবং উক্ত প্রসিকিউটর নিয়োগ আদেশে উল্লিখিত মতে পাবলিক প্রসিকিউটর, অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর বা সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর হিসাবে গণ্য হইবেন।

ট্রাইব্যুনালের ক্ষমতা

৩৯। (১) এই আইনের বিধানাবলি সাপেক্ষে, ট্রাইব্যুনালের দায়রা আদালতের সকল ক্ষমতা থাকিবে এবং ট্রাইব্যুনাল ন্যায়বিচারের স্বার্থে কোনো সুরক্ষামূলক (protective order) আদেশসহ কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে তাহাদের অধীনে বা ব্যবস্থাপনায় থাকা কোনো প্রতিবেদন, দলিল বা রেজিস্টার ট্রাইব্যুনালের নিকট উত্থাপন বা প্রেরণ করিবার নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে।

(২) এই আইনের অধীন অপরাধসমূহের দ্রুত বিচার অথবা কোনো ভিকটিম বা সাক্ষীর নিরাপত্তার স্বার্থে ট্রাইব্যুনাল যেকোনো স্থানে প্রথম শ্রেণির জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা কমিশনের মাধ্যমে কিংবা সরাসরি বা ইলেকট্রনিক উপায়ে সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ বা তাহাকে পরীক্ষা করিতে পারিবে এবং ট্রাইব্যুনাল এই আইনের অধীন কোনো সরকারি কর্মচারীকে উহার সম্মুখে হাজির হইবার দায়িত্ব হইতে অব্যাহতি প্রদান করিয়া তাহার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা প্রতিবেদন সাক্ষ্য হিসাবে গ্রহণ করিতে পারিবে।

(৩) এই আইনের অধীন কোনো অপরাধের বিচার চলাকালে অথবা কোনো অপরাধের অভিযোগ উত্থাপনের পূর্বে ট্রাইব্যুনাল কোনো ব্যক্তির আবেদনক্রমে বা স্বীয় ক্ষমতাবলে নির্ধারিত মেয়াদ পর্যন্ত এবং শর্তাধীনে মানব পাচার বা অভিবাসী চোরাচালানের শিকার ব্যক্তিকে কোনো সরকারি বা বেসরকারি আশ্রয় কেন্দ্রে বা সমাজসেবা অধিদপ্তরসহ কোনো উপযুক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের হেফাজতে প্রদান করিতে পারিবে এবং মানব পাচার বা অভিবাসী চোরাচালানের শিকার ব্যক্তি নারী হইলে ট্রাইব্যুনাল আদেশ প্রদানের ক্ষেত্রে তাহার মতামত বিবেচনা করিতে পারিবে।

(৪) কোনো মামলায় চার্জ গঠনের পূর্বকাল পর্যন্ত ক্ষমতাসম্পন্ন ম্যাজিস্ট্রেট প্রয়োজনীয় পরিবর্তন সাপেক্ষে, (mutatis mutandis) উপ-ধারা (৩) এ প্রদত্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করিতে পারিবেন।

(৫) ট্রাইব্যুনাল প্রসিকিউশন পক্ষের বক্তব্য শুনিয়া কোনো অভিযুক্ত ব্যক্তিকে জামিনে মুক্তি দেওয়ার কারণে ন্যায়বিচার বিঘ্নিত হইবে না মর্মে সন্তুষ্ট হইলে তদ্‌মর্মে কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া তাহাকে জামিনে মুক্তি দিতে পারিবে।

ট্রাইব্যুনালের অধিকতর তদন্তসংক্রান্ত ক্ষমতা

৪০। ট্রাইব্যুনাল কোনো ব্যক্তির আবেদনক্রমে অথবা স্বীয় ক্ষমতায় কোনো মামলার অধিকতর তদন্তের এবং তদ্‌কতৃর্ক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করিবার আদেশ প্রদান করিতে পারিবে।

বিচারকার্য সম্পন্নের সময়সীমা

৪১। (১) ট্রাইব্যুনাল এই আইনের অধীন সংঘটিত কোনো অপরাধের অভিযোগ গঠনের ১৮০ (একশত আশি) কার্যদিবসের মধ্যে মামলার বিচারকার্য সম্পন্ন করিবে।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে মামলার বিচারকার্য সম্পন্ন না হইলে সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের বিচারককে পরবর্তী ১০ (দশ) কার্যদিবসের মধ্যে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে লিখিত ব্যাখ্যা প্রেরণ করিতে হইবে, যাহার একটি অনুলিপি সরকারের নিকট প্রেরণ করিতে হইবে এবং উক্ত ব্যাখ্যার ভিত্তিতে হাইকোর্ট বিভাগ যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবে।

রুদ্ধদ্বার কক্ষে বিচার

৪২। ন্যায় বিচারের স্বার্থে এবং নারী বা শিশু ভিকটিমের সুরক্ষার প্রয়োজনে ট্রাইব্যুনাল, কারণ উল্লেখ করিয়া এই আইনের অধীন কোনো অপরাধের বিচারকার্য কেবল মামলার পক্ষগণ এবং তাহাদের নিযুক্ত আইনজীবীগণ বা, প্রয়োজনে, অন্যান্য প্রতিনিধির উপস্থিতিতে রুদ্ধদ্বার কক্ষে অনুষ্ঠানের আদেশ প্রদান করিতে পারিবে।

আসামির অনুপস্থিতিতে বিচার

৪৩। Code of Criminal Procedure, 1898 (Act No. V of 1898) এর section 87, 88 ও 339B-তে ভিন্নরূপ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, যেক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনালের এই মর্মে বিশ্বাস করিবার যুক্তিসংগত কারণ থাকে যে, অভিযুক্ত ব্যক্তি তাহার গ্রেফতার বা তাহাকে বিচারে সোপর্দকরণ এড়াইবার জন্য পলাতক রহিয়াছেন বা আত্মগোপন করিয়াছেন এবং তাহার আশু গ্রেফতারের কোনো সম্ভাবনা নাই, সেইক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনাল অভিযোগপত্র বা তদন্ত প্রতিবেদন গৃহীত হইবার তারিখ হইতে পরবর্তী ১৫ (পনেরো) কার্য দিবসের মধ্যে উক্ত অনুপস্থিত বা পলাতক অভিযুক্ত ব্যক্তিকে হাজির করিবার নিমিত্ত ১ (এক)টি বহুল প্রচারিত বাংলা অথবা ইংরেজি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় আদেশ দ্বারা এবং তথ্য প্রযুক্তিভিত্তিক যেকোনো উপযুক্ত মাধ্যমে নোটিশ জারি করিয়া উক্ত অভিযুক্ত ব্যক্তিকে হাজির হইবার নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উক্ত অভিযুক্ত ব্যক্তি ট্রাইব্যুনালে হাজির না হইলে, ট্রাইব্যুনাল তাহার অনুপস্থিতিতে বিচার করিতে পারিবে:

তবে শর্ত থাকে যে, যদি কোনো অভিযুক্ত ব্যক্তি ট্রাইব্যুনালে হাজির হইবার পর বা তাহাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করিবার পর বা তাঁহাকে ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক জামিনে মুক্তি প্রদানের পর পলাতক হন, তাহা হইলে তাঁহার ক্ষেত্রে উল্লিখিত বিধান প্রযোজ্য হইবে না, এবং সেইক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনাল, কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া, অভিযুক্ত ব্যক্তির অনুপস্থিতিতে তাহার বিচার সম্পন্ন করিতে পারিবে।

ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক জবানবন্দি গ্রহণের ক্ষমতা

৪৪। (১) এই আইনের অধীন সংঘটিত কোনো অপরাধের তদন্তকারী কর্মকর্তা যদি মনে করেন যে, অপরাধের শিকার ব্যক্তি বা ঘটনা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল বা ঘটনাটি নিজ চক্ষে দেখিয়াছেন এইরূপ কোনো ব্যক্তির জবানবন্দি অপরাধের ত্বরিত বিচারের স্বার্থে কোনো ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক অবিলম্বে লিপিবদ্ধ করা প্রয়োজন, তাহা হইলে তিনি কোনো প্রথম শ্রেণির জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে উক্ত ব্যক্তির জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করিবার জন্য লিখিতভাবে বা অন্য কোনোভাবে অনুরোধ করিতে পারিবেন।

(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত ম্যাজিস্ট্রেট উপযুক্ত যেকোনো স্থানে উক্ত ব্যক্তির জবানবন্দি গ্রহণ করিবেন এবং উক্তরূপে গৃহীত জবানবন্দি তদন্ত প্রতিবেদনের সহিত সংযুক্ত করিয়া দাখিল করিবার নিমিত্ত তদন্তকারী কর্মকর্তার নিকট প্রেরণ করিবেন।

(৩) যদি উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত কোনো অপরাধের জন্য অভিযুক্ত কোনো ব্যক্তির বিচার কোনো ট্রাইব্যুনালে আরম্ভ হয় এবং দেখা যায় যে, উপ-ধারা (২) এর অধীন জবানবন্দি প্রদানকারী ব্যক্তির সাক্ষ্য প্রয়োজন, কিন্তু তিনি মৃত্যুবরণ করিয়াছেন বা তিনি সাক্ষ্য দিতে অক্ষম বা তাহাকে খুঁজিয়া পাওয়া সম্ভব নহে বা তাহাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করিবার চেষ্টা এইরূপ বিলম্ব, ব্যয় বা অসুবিধার বিষয় হইবে যাহা পরিস্থিতি অনুসারে কাম্য হইবে না, তাহা হইলে ট্রাইব্যুনাল উক্ত জবানবন্দি মামলায় সাক্ষ্য হিসাবে গ্রহণ করিতে পারিবে:

তবে শর্ত থাকে যে, কেবল উক্ত ব্যক্তির সাক্ষ্যের উপর ভিত্তি করিয়া ট্রাইব্যুনাল অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শাস্তি প্রদান করিতে পারিবে না।

দোভাষী নিয়োগ

৪৫। এই আইনের অধীন কোনো অপরাধের বিচারের যেকোনো পর্যায়ে পাচার বা চোরাচালানের শিকার ব্যক্তি বা কোনো সাক্ষী প্রয়োজনে অনুবাদক বা দোভাষী বা ইশারা ভাষার দোভাষী নিয়োগের অনুরোধ করিতে পারিবেন এবং ট্রাইব্যুনাল সেই মর্মে উপযুক্ত আদেশ প্রদান করিতে পারিবে।

ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক ক্ষতিপূরণ প্রদানের আদেশ, অর্থদণ্ড ও ক্ষতিপূরণ আদায়ের পদ্ধতি

৪৬। (১) এই আইনের অধীন সংঘটিত কোনো অপরাধের জন্য কোনো অভিযুক্ত ব্যক্তি দোষী সাব্যস্ত হইলে ট্রাইব্যুনাল তদ্‌কর্তৃক আরোপিত অর্থদণ্ডের অতিরিক্ত হিসাবে মানব পাচার বা অভিবাসী চোরাচালানের শিকার ব্যক্তির শারীরিক ও মানসিক চিকিৎসার ব্যয়, অত্যাবশ্যক যাতায়াত ও সাময়িক আবাসনের ব্যয়, হারানো আয়, যাতনা, প্রকৃত বা আবেগজনিত ক্ষতি এবং দুর্ভোগের তীব্রতা বিবেচনাপূর্বক যৌক্তিক পরিমাণে ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য তাহাকে আদেশ প্রদান করিতে পারিবে।

(২) ট্রাইব্যুনাল উপ-ধারা (১) এর অধীন ক্ষতিপূরণের আদেশ প্রদান না করিয়া কেবল অর্থদণ্ড আরোপ করিয়া থাকিলে উহা আরোপিত অর্থদণ্ডকে, প্রয়োজনবোধে, অপরাধের শিকার ব্যক্তির জন্য ক্ষতিপূরণ হিসাবে গণ্য করিবার আদেশ দিতে পারিবে এবং অর্থদণ্ড বা ক্ষতিপূরণের অর্থ দণ্ডিত ব্যক্তির নিকট হইতে বা তাহার বিদ্যমান সম্পদ হইতে আদায় করা সম্ভব না হইলে, ভবিষ্যতে তিনি যে সম্পদের মালিক বা অধিকারী হইবেন সেই সম্পদ হইতে উহা আদায়যোগ্য হইবে এবং এইরূপ ক্ষেত্রে উক্ত সম্পদের উপর অন্যান্য দাবি অপেক্ষা উক্ত অর্থদণ্ড বা ক্ষতিপূরণের দাবি প্রাধান্য পাইবে।

(৩) আরোপিত অর্থদণ্ড বা প্রদত্ত ক্ষতিপূরণ আদায়ের ক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনাল সংশ্লিষ্ট জেলার কালেক্টরকে, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে বা অনুরূপ বিধি না থাকিলে, ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতিতে, অপরাধীর স্থাবর বা অস্থাবর বা উভয়বিধ সম্পত্তির তালিকা প্রস্তুতক্রমে উহা ক্রোকপূর্বক নিলামে বিক্রয় করিয়া বা ক্রোক ব্যতীতই সরাসরি নিলামে বিক্রয় করিয়া বিক্রয়লব্ধ অর্থ ট্রাইব্যুনালে জমা প্রদানের নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে এবং ট্রাইব্যুনাল উক্ত অর্থ অপরাধের শিকার ব্যক্তিকে প্রদানের ব্যবস্থা করিবে।

বিদেশি দলিল, লিখিত তথ্য প্রমাণাদি বা উপাদানের গ্রহণযোগ্যতা

৪৭। (১) আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোনো বিদেশি লিখিত দলিল, আদালতের আদেশ বা রায়, তদন্ত প্রতিবেদন বা সরকারি ঘোষণা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ দ্বারা যথাযথভাবে সরবরাহকৃত এবং স্বাক্ষরিত ও প্রমাণীকৃত হইলে এবং বাংলাদেশে অবস্থিত সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাস অথবা দূতাবাস না থাকিলে দূতাবাসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সত্যায়িত হইয়া থাকিলে উহা ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য হিসাবে গ্রহণযোগ্য হইবে।

(২) কোনো দলিল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অথবা বাংলাদেশ দূতাবাস কতৃর্ক সত্যায়িত বা প্রমাণীকৃত হইলে সেই দলিলের বিষয়বস্তুর সত্যাসত্যের জন্য উক্ত মন্ত্রণালয় বা দূতাবাস দায়ী হইবে না।

ইলেকট্রনিক তথ্য প্রমাণের গ্রহণযোগ্যতা

৪৮। ট্রাইব্যুনালের সন্তুষ্টিসাপেক্ষে অডিও ভিজ্যুয়াল যন্ত্র বা কোনো ইলেকট্রনিক যোগাযোগের মাধ্যমে ধারণকৃত প্রমাণ সাক্ষ্য হিসাবে গ্রহণীয় হইবে।

সপ্তম অধ্যায়

মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালানের শিকার ব্যক্তি ও সাক্ষীদের সহায়তা এবং সুরক্ষা ও পুনর্বাসন

মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালানের শিকার ব্যক্তিদের বা ভিকটিমদের চিহ্নিতকরণ এবং উদ্ধার

৪৯। (১) সরকার মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালানের শিকার ব্যক্তিদের চিহ্নিতকরণ, উদ্ধার, প্রত্যাবাসন এবং পুনর্বাসনকল্পে বিধি দ্বারা কর্মপদ্ধতি নির্ধারণ করিবে এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাসমূহের সহিত অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করিবে।

(২) মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালানের শিকার ব্যক্তিদের চিহ্নিতকরণ, উদ্ধার, প্রত্যাবাসন এবং পুনর্বাসনের কর্মকাণ্ডসমূহ ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের, বিশেষত নারী ও শিশুদের কল্যাণ ও বিশেষ চাহিদার প্রতি লক্ষ রাখিয়া তাহাদের উপযোগী (victim-friendly) প্রক্রিয়ায় পরিচালনা করিতে হইবে।

ভিকটিম বা মানব পাচার কিংবা অভিবাসী চোরাচালানের শিকার ব্যক্তিগণের প্রত্যাবাসন (repatriation) ও প্রত্যাবর্তন (return)

৫০। (১) কোনো বাংলাদেশি নাগরিক অন্য কোনো দেশে মানব পাচার কিংবা অভিবাসী চোরাচালানের শিকার ব্যক্তি হিসাবে চিহ্নিত হইলে সরকার সংশ্লিষ্ট দেশের বাংলাদেশ দূতাবাস এবং, প্রয়োজনে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় তাহাকে বাংলাদেশে ফেরত আনিবার প্রক্রিয়ার আরম্ভ করিবে।

(২) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোনো দেশের বাংলাদেশস্থ দূতাবাস মানব পাচার বা অভিবাসী চোরাচালানের শিকার কোনো বাংলাদেশি নাগরিক সংশ্লিষ্ট বিদেশি রাষ্ট্রে আটক বা বন্দি অবস্থায় রহিয়াছেন মর্মে অবগত হইলে উক্ত দূতাবাস তাহাকে উদ্ধার করিয়া বাংলাদেশে পাঠাইবার প্রক্রিয়া আরম্ভ করিবে।

(৩) মানব পাচার কিংবা অভিবাসী চোরাচালানের শিকার কোনো ব্যক্তি কোনো মামলার কারণে কোনো বিদেশি রাষ্ট্রে থাকিতে বাধ্য হইলে বাংলাদেশ দূতাবাস উক্ত ব্যক্তিকে প্রয়োজনীয় আইনি পরামর্শ বা সহায়তা প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।

(৪) যেক্ষেত্রে কোনো বিদেশি নাগরিক বাংলাদেশে মানব পাচার কিংবা অভিবাসী চোরাচালানের শিকার ব্যক্তি হিসাবে চিহ্নিত হইবেন সেইক্ষেত্রে সরকার যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করিয়া উক্ত ব্যক্তির জবানবন্দি গ্রহণক্রমে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রের বাংলাদেশস্থ দূতাবাসের সহযোগিতায় যথোপযুক্ত কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে তাহাকে নিজ দেশে ফেরত পাঠাইবার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।

মানব পাচার কিংবা অভিবাসী চোরাচালানের শিকার ব্যক্তি ও জনসাধারণকে সাধারণভাবে তথ্য সরবরাহ

৫১। (১) মানব পাচার বা অভিবাসী চোরাচালানের শিকার ব্যক্তি সরকার, পুলিশ বা, ক্ষেত্রমত, সংশ্লিষ্ট বেসরকারি সংস্থাসমূহের নিকট হইতে পাচারকারী বা চোরাচালানকারীদের বিরুদ্ধে গৃহীত ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট ফৌজদারি মামলার সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে মাসে অন্তত একবার অবগত হইবার অধিকারী হইবেন।

(২) মানব পাচার বা অভিবাসী চোরাচালানের শিকার ব্যক্তিকে তদন্তকারী কর্মকর্তা অথবা তাহাকে চিহ্নিতকারী বা উদ্ধারকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান তাহার ক্ষতিপূরণের অধিকার, আইনি সহায়তার সুযোগ এবং এই আইনের অধীন অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে, যতদূর সম্ভব, তাৎক্ষণিকভাবে অবগত করিবে।

(৩) মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান অপরাধের শিকার ব্যক্তিদের গোপনীয়তার অধিকারের প্রতি যথোপযুক্ত সম্মান প্রদর্শনপূর্বক তাহাদের চিহ্নিতকরণ, উদ্ধার, স্থানান্তর, প্রত্যাবর্তন, প্রত্যাবাসন ও পুনর্বাসন সংক্রান্ত দায়িত্বসমূহ কার্যকরভাবে সম্পাদনে সরকার সংশ্লিষ্ট বেসরকারি সংস্থা, পেশাজীবী, সাংবাদিক বা জনসাধারণকে সরবরাহের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যসংবলিত ভাণ্ডার পরিচালনা করিবে।

আশ্রয় কেন্দ্র ও পুনর্বাসন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা

৫২। (১) মানব পাচার বা অভিবাসী চোরাচালানের শিকার ব্যক্তিদের শারীরিক ও মানসিক চিকিৎসাসেবা, পুনর্বাসন এবং পরিবারের সহিত পুনর্মিলনের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকার সমগ্র দেশে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে পর্যাপ্ত সংখ্যক আশ্রয় কেন্দ্র এবং পুনর্বাসন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করিবে।

(২) এই আইন বলবৎ হইবার সঙ্গে সঙ্গে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে এবং শর্তাধীনে নিরাপত্তা সংক্রান্ত ছাড়পত্র গ্রহণ এবং সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয় হইতে লাইসেন্স বা সাময়িক অনুমোদন গ্রহণ ব্যতীত কোনো আশ্রয় কেন্দ্র বা পুনর্বাসন কেন্দ্র বা অন্য কোনো কর্মকাণ্ড পরিচালনা করিতে পারিবে না।

নিরাপত্তা বিধান, পুনর্বাসন ও সামাজিক একীভূতকরণ

৫৩। (১) উদ্ধার হইবার পর মানব পাচার বা অভিবাসী চোরাচালান অপরাধের শিকার ব্যক্তিকে তাহার নিজ পরিবারে ফেরত পাঠানো সম্ভব না হইলে তাহাকে কোনো সরকারি বা বেসরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে বা পুনর্বাসনকেন্দ্রে প্রেরণ করিতে হইবে এবং সেইক্ষেত্রে এতদ্‌বিষয়ক যাবতীয় তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে সরকার বা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করিতে হইবে এবং নিয়মিতভাবে ৬ (ছয়) মাস অন্তর প্রতিবেদন আকারে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষকে অবহিত করিতে হইবে।

(২) আশ্রয় বা পুনর্বাসন কেন্দ্রে অবস্থানরত মানব পাচার বা অভিবাসী চোরাচালানের শিকার যেকোনো ব্যক্তি বা ভিকটিম সংশ্লিষ্ট বিষয়ে মতামত প্রদান করিবার এবং টেকসই পুনর্বাসন ও সামাজিক একীভূতকরণ সুবিধাদিসহ প্রয়োজনীয় শারীরিক ও মানসিক চিকিৎসা এবং আইনি ও মানসিক পরামর্শ সেবা পাইবার অধিকারী হইবে।

ফৌজদারি বিচারের ক্ষেত্রে ভিকটিম ও সাক্ষীর সুরক্ষা বিধান

৫৪। (১) গন্তব্য দেশে (destination state) বা ট্রানজিট দেশে (transit state) কোনো মানব পাচারের শিকার ব্যক্তির অবৈধ প্রবেশের জন্য, বা উক্ত দেশে তাহার অবৈধ অবস্থানকালের জন্য, অথবা উক্ত দেশে প্রবেশের উদ্দেশ্যে তদ্‌কর্তৃক প্রাপ্ত বা তাহাকে সরবরাহকৃত কোনো প্রতারণামূলক ভ্রমণ দলিল বা পরিচয়পত্র সংগ্রহ করিবার বা নিজ দখলে রাখিবার জন্য তাহাকে এই আইনের অধীন কোনো ফৌজদারি অভিযোগে দায়ী করা যাইবে না, যদি উক্ত কার্যগুলি সংঘটিত মানব পাচারের প্রত্যক্ষ পরিণতিস্বরূপ হইয়া থাকে।

(২) ফৌজদারি অপরাধ সংশ্লিষ্ট আপাতত বলবৎ আইনের সামগ্রিকতাকে ক্ষুণ্ন না করিয়া ধারা ১৫, ১৬, ১৭, ১৮ ও ১৯ এ বর্ণিত কার্যের ফলে (object of conduct) চোরাচালানের শিকার অভিবাসীকে এই আইনের অধীন কোনো ফৌজদারি অভিযোগে দায়ী করা যাইবে না।

(৩) মানব পাচার বা অভিবাসী চোরাচালানের শিকার ব্যক্তি বা সাক্ষীর প্রতি কোনো প্রকার হুমকি প্রদর্শিত হইলে অথবা হুমকি বা যেকোনো প্রকার ঝুঁকির আশঙ্কা সৃষ্টি হইলে তিনি পুলিশি নিরাপত্তা পাইবার ও সরকার কর্তৃক প্রদেয় অন্যান্য সুরক্ষামূলক ব্যবস্থার অধিকারী হইবেন এবং আদালতে ও অন্যান্য ফৌজদারি প্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের বা আশ্রয়কেন্দ্রে বসবাসের সময় তাঁহার নিরাপত্তা বিধান করা উক্ত সুরক্ষামূলক ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত হইবে।

শিশু ভিকটিম ও শিশু সাক্ষীর অধিকার রক্ষা

৫৫। (১) ভিকটিম ও সাক্ষীর সুরক্ষা বিষয়ক এই আইনের অন্যান্য বিধানসমূহের সামগ্রিকতাকে ক্ষুণ্ন না করিয়া, মানব পাচার বা অভিবাসী চোরাচালান অপরাধের শিকার শিশু এবং শিশু সাক্ষী লইয়া কাজ করিবার সময় ট্রাইব্যুনালসহ যেকোনো ব্যক্তি উক্ত শিশু বা শিশু সাক্ষীর সর্বোত্তম কল্যাণ এবং অগ্রাধিকারের নীতি প্রয়োগ করিবে এবং শিশু আইন, ২০১৩ (২০১৩ সনের ২৪ নং আইন) ও বাংলাদেশ কর্তৃক স্বাক্ষরিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দলিলে সন্নিবেশিত নীতিসহ আপাতত বলবৎ এতদ্‌বিষয়ক যেকোনো আইনের বিধানসমূহ অনুসরণ করিবে।

(২) পুলিশ বা সরকার বা এই আইনের বিষয়বস্তু লইয়া কর্মরত কোনো ব্যক্তি শিশুবান্ধব কর্মকর্তার হস্তক্ষেপ বা শিশুবান্ধব প্রক্রিয়া ব্যতীত অন্য কোনোভাবে এই আইনের সহিত সংঘাতে জড়িত শিশু (children in conflict with this law) বা ইহার সংস্পর্শে আসা কোনো শিশু (children in contact with it) লইয়া কাজ করিবে না এবং মানব পাচার বা অভিবাসী চোরাচালানের শিকার কোনো শিশুকে বা ভিকটিম শিশুকে কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে (development centre) প্রেরণ করা বা আটক রাখা যাইবে না।

ক্ষতিপূরণ আদায়ে দেওয়ানি মামলা করিবার অধিকার

৫৬। ফৌজদারি মামলা দায়ের করিবার অধিকার ক্ষুণ্ন না করিয়া মানব পাচার বা অভিবাসী চোরাচালানের শিকার কোনো ব্যক্তি বা তদ্‌কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি বা তাহার কোনো আত্মীয় এই আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধের ফলে সৃষ্ট তাহার প্রকৃত ক্লেশ (sufferance) বা আইনগত ক্ষতির (legal injury) জন্য কিংবা উক্ত অপরাধের সহিত সম্পৃক্ত কোনো চুক্তি লঙ্ঘনের জন্য দেওয়ানি আদালতে ক্ষতিপূরণের মামলা দায়ের করিতে পারিবেন।

মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালানের শিকার ব্যক্তিকে আর্থিক সহায়তা প্রদান

৫৭। মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালানের শিকার কোনো ব্যক্তি বা ভিকটিমকে সরকার, ধারা ৫৯ এর অধীন গঠিত তহবিল হইতে আর্থিক সহায়তা প্রদান করিতে পারিবে:

তবে শর্ত থাকে যে, এইরূপ আর্থিক সহায়তা কোনো বেসরকারি সংস্থা হইতে অথবা আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০ (২০০০ সনের ৬ নং আইন) এর অধীন আইনগত সহায়তা পাইবার ক্ষেত্রে তাহার কোনো সুযোগ বা অধিকার খর্ব করিবে না।

অষ্টম অধ্যায়

মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান দমন ও প্রতিরোধে যৌথ বা পারস্পরিক আইনি সহায়তা

মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান দমন ও প্রতিরোধে যৌথ বা পারস্পরিক আইনি সহায়তা এবং সহযোগিতা

৫৮। (১) এই আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধের তদন্ত, বিচার এবং বিচারিক কার্যধারায় যৌথ বা পারস্পরিক আইনি সহায়তার ক্ষেত্র তৈরির নিমিত্ত সরকার যে সকল দেশে এই আইনের অধীন মানব পাচার বা অভিবাসী চোরাচালানের শিকার ব্যক্তি, সাক্ষী, অপরাধলব্ধ অর্থ, অপরাধের উপকরণ, সাক্ষ্য-প্রমাণ বা অভিযুক্ত ব্যক্তি বা অপরাধে প্ররোচনাকারী বা সহায়তাকারী ব্যক্তি উপস্থিত রহিয়াছে বা রহিবার সম্ভাবনা রহিয়াছে সেই সকল দেশের সহিত সমঝোতা স্মারক বা চুক্তি স্বাক্ষর করিবে:

তবে শর্ত থাকে যে, এই উপ-ধারার অধীন সমঝোতা স্মারক বা চুক্তি স্বাক্ষরিত না হওয়া পর্যন্ত এইরূপ যৌথ বা পারস্পরিক আইনি সহায়তা আদান প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে এই আইনের কোনো কিছুই সরকারকে নিবৃত্ত করিবে না।

(২) সরকার উপ-ধারা (১) এর অধীন স্বাক্ষরিত কোনো সমঝোতা স্মারক বা চুক্তির মাধ্যমে নিম্নবর্ণিত বিষয়ে যৌথ বা পারস্পরিক আইনি সহায়তার বিধান করিতে পারিবে, যথা:-

(ক) মানব পাচার বা অভিবাসী চোরাচালান অপরাধের তদন্ত, তল্লাশি বা আটক কার্যক্রম পরিচালনা এবং মানব পাচার বা অভিবাসী চোরাচালানের শিকার ব্যক্তির আইনগত সহযোগিতা সম্পর্কিত বিষয়;

(খ) শপথের মাধ্যমে সাক্ষীর পরীক্ষা এবং সাক্ষীর বক্তব্য, সরকারি প্রতিবেদন এবং আদালতে দাখিলকৃত সাক্ষ্য-প্রমাণাদি বিনিময়;

(গ) মানব পাচার বা অভিবাসী চোরাচালানের শিকার ব্যক্তির এবং মানব পাচার বা অভিবাসী চোরাচালান অপরাধ সংঘটনকারী বা সংঘটনের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তির পারস্পরিক বিনিময়;

(ঘ) অপরাধলব্ধ অর্থ বা সম্পত্তি বাজেয়াপ্তকরণ বা জরিমানা বা ক্রোক সংক্রান্ত আদালতের আদেশ কার্যকরকরণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় আইনগত, কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক সহযোগিতা; এবং

(ঙ) মানব পাচার বা অভিবাসী চোরাচালানের শিকার ব্যক্তির টেকসই পুনর্বাসন এবং তাহার নিজ দেশে সামাজিকভাবে একীভূতকরণ।

নবম অধ্যায়

বিবিধ

মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ তহবিল

৫৯। (১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ তহবিল নামে একটি তহবিল থাকিবে।

(২) মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ তহবিলে নিম্নবর্ণিত উৎস হইতে প্রাপ্ত অর্থ জমা হইবে, যথা:—

(ক) সরকারের মঞ্জুরি বা অনুদান;

(খ) কোনো স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত অনুদান;

(গ) কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রদত্ত অনুদান; এবং

(ঘ) অন্য যেকোনো উৎস হইতে প্রাপ্ত অর্থ।

(৩) তহবিলে অনুদান গ্রহণের পদ্ধতি ও তহবিল পরিচালনা পদ্ধতি বিধি দ্বারা নির্ধারণ করা যাইবে।

জাতীয় মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান দমন সংস্থা

৬০। (১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, জাতীয় মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান দমন সংস্থা নামে একটি সংস্থা থাকিবে।

(২) মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান অপরাধ দমন সংস্থার গঠন ও উহার কার্যপদ্ধতি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।

সমতার নীতির প্রয়োগ ও ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে বিধান

৬১। (১) এই আইনের অধীন অভিযুক্ত ব্যক্তি কিংবা মানব পাচার বা অভিবাসী চোরাচালানের শিকার ব্যক্তি বা সাক্ষী লইয়া কাজ করিবার সময় সমতার নীতি অনুসরণ করিতে হইবে এবং কাহারও প্রতি কোনো প্রকার বৈষম্য করা যাইবে না।

(২) কোনো সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে এই আইনের অধীন কোনো সরকারি ক্ষমতা অপব্যবহারের অথবা তাহার আইনি দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার অভিযোগ প্রমাণিত হইলে ট্রাইব্যুনালের সুপারিশক্রমে তাহার নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট চাকরি বিধি অনুসারে তাহার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গজনিত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবে এবং ট্রাইব্যুনালও তাহার বিরুদ্ধে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের আদেশ প্রদান করিতে পারিবে।

(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন কোনো শৃঙ্খলাভঙ্গজনিত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হইলে, নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ তদ্‌সম্পর্কে ১ (এক) মাসের মধ্যে ট্রাইব্যুনালকে অবহিত করিবে।

বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা

৬২। এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।

নির্দেশিকা প্রণয়ন, ইত্যাদি

৬৩। (১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার, মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান অপরাধ এবং অপরাধের শিকার ব্যক্তি শনাক্তকরণ নির্দেশিকা প্রস্তুত করিতে পারিবে।

(২) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার, মানব পাচার বা অভিবাসী চোরাচালান অপরাধের শিকার ব্যক্তির সুরক্ষা সেবা নিশ্চিতকল্পে ডিজিটাল ন্যাশনাল রেফারাল মেকানিজম প্রতিষ্ঠা করিতে পারিবে।

২০১২ সনের ৩ নং আইনের রহিতকরণ ও হেফাজত

৬৪। (১) মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২ (২০১২ সনের ৩ নং আইন), অতঃপর উক্ত আইন বলিয়া উল্লিখিত, এতদ্দ্বারা রহিত করা হইল।

(২) উক্তরূপ রহিতকরণের অব্যবহিত পূর্বে উক্ত আইনের অধীন কোনো মামলা বা কার্যধারা বিচারাধীন বা অনিষ্পন্ন থাকিলে উহা, যতদূর সম্ভব, এই আইনের বিধান অনুসারে নিষ্পত্তি করিতে হইবে।

(৩) উপ-ধারা (১) এর অধীন রহিতকরণ সত্ত্বেও, উক্ত আইনের অধীন-

(ক) কৃত কোনো কার্য, সূচিত কোনো কার্যধারা বা গৃহীত ব্যবস্থা বা প্রণীত কোনো বিধি বা প্রদত্ত কোনো আদেশ বা নির্দেশ বা জারিকৃত গাইডলাইন বা প্রজ্ঞাপন, এই আইনের বিধানাবলির সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া সাপেক্ষে, এই আইনের অধীন রহিত না হওয়া পর্যন্ত, বলবৎ থাকিবে, এবং উহা এই আইনের অধীন কৃত, সূচিত, গৃহীত, প্রণীত বা প্রদত্ত এবং জারিকৃত বলিয়া গণ্য হইবে;

(খ) গঠিত মানব পাচার প্রতিরোধ তহবিল এই আইনের অধীন গঠিত মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ তহবিল বলিয়া গণ্য হইবে;

(গ) গঠিত মানব পাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল, এই আইনের অধীন গঠিত মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল বলিয়া গণ্য হইবে;

(ঘ) গঠিত জাতীয় মানব পাচার দমন সংস্থা এই আইনের অধীন গঠিত জাতীয় মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান দমন সংস্থা বলিয়া গণ্য হইবে;

(ঙ) প্রতিষ্ঠিত আশ্রয় কেন্দ্র এবং পুনর্বাসন কেন্দ্র এই আইনের অধীন গঠিত আশ্রয় কেন্দ্র এবং পুনর্বাসন কেন্দ্র বলিয়া গণ্য হইবে।

রহিতকরণ ও হেফাজত

৬৫। (১) মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন অধ্যাদেশ, ২০২৬ (২০২৬ সনের ০৫ নং অধ্যাদেশ), অতঃপর উক্ত অধ্যাদেশ বলিয়া উল্লিখিত, এতদ্দ্বারা রহিত করা হইল।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন রহিতকরণ সত্ত্বেও, উক্ত অধ্যাদেশের অধীন কৃত কোনো কার্য, গৃহীত কোনো ব্যবস্থা বা সূচিত কোনো কার্যধারা এই আইনের অধীন কৃত, গৃহীত বা সূচিত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।

আইনের ইংরেজিতে অনূদিত পাঠ প্রকাশ।

৬৬। (১) এই আইন প্রবর্তনের পর সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের মূল বাংলা পাঠের ইংরেজিতে অনূদিত একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ (Authentic English Text) প্রকাশ করিতে পারিবে।

(২) মূল বাংলা পাঠ ও ইংরেজি পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাইবে।


Copyright © 2019, Legislative and Parliamentary Affairs Division
Ministry of Law, Justice and Parliamentary Affairs