প্রিন্ট ভিউ
স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন, ২০০৯ এর অধিকতর সংশোধনকল্পে প্রণীত আইন
যেহেতু নিম্নবর্ণিত উদ্দেশ্যসমূহ পূরণকল্পে স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন, ২০০৯ (২০০৯ সনের ৬০ নং আইন) এর অধিকতর সংশোধন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়;
সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল:-
১। (১) এই আইন স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) (সংশোধন) আইন, ২০২৬ নামে অভিহিত হইবে।
(২) ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে।
২। স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন, ২০০৯ (২০০৯ সনের ৬০ নং আইন), অতঃপর উক্ত আইন বলিয়া উল্লিখিত, এর ধারা ২ এর-
(ক) দফা (৪৮ক) বিলুপ্ত হইবে এবং উক্ত বিলুপ্ত দফা (৪৮ক) এর পর নিম্নরূপ নূতন দফা (৪৮খ) সন্নিবেশিত হইবে, যথা:-
“(৪৮খ) শ্লথগতির সাধারণ যানবাহন” অর্থ সড়ক, নগর বা কর্পোরেশন কর্তৃক নির্ধারিত এলাকায় জনসাধারণের চলাচলের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত এমন মানবচালিত, পশুচালিত বা প্যাডেলচালিত নিম্নগতির যানবাহন অথবা ৩ (তিন) চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিক্সা (ই-রিক্সা), যাহার কাঠামোগত নকশা এবং প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৩০ (ত্রিশ) কিলোমিটার পর্যন্ত সীমাবদ্ধ;”; এবং
(খ) দফা (৫৫ক) বিলুপ্ত হইবে।
৩। উক্ত আইনের ধারা ১৩ এর পর নিম্নরূপ নূতন ধারা ১৩ক সন্নিবেশিত হইবে, যথা:-
“১৩ক। বিশেষ পরিস্থিতিতে মেয়র ও কাউন্সিলরগণের অপসারণের ক্ষেত্রে সরকার এর ক্ষমতা।-এই আইনের অন্যান্য বিধানে কিংবা আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সরকার, বিশেষ পরিস্থিতিতে অত্যাবশ্যক বিবেচনা করিলে বা জনস্বার্থে, যে কোন বা সকল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র বা কাউন্সিলরগণকে অপসারণ করিতে পারিবে।”।
৪। উক্ত আইনের ধারা ২৫ এর পর নিম্নরূপ নূতন ধারা ২৫ক সন্নিবেশিত হইবে, যথা:-
“২৫ক। বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রশাসক নিয়োগ ও কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে সরকার এর ক্ষমতা।- (১) এই আইনের অন্যান্য বিধানে কিংবা আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সরকার, বিশেষ পরিস্থিতিতে, অত্যাবশ্যক বিবেচনা করিলে বা জনস্বার্থে, যে কোন সিটি কর্পোরেশনে উহার কার্যাবলী সম্পাদনের উদ্দেশ্যে, একজন উপযুক্ত ব্যক্তি বা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত উপযুক্ত কর্মকর্তাকে পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত প্রশাসক হিসাবে নিয়োগ প্রদান করিতে পারিবে।
(২) সরকার, প্রয়োজনবোধে, যথাযথ বলিয়া বিবেচিত হয় এমন সংখ্যক সদস্য সমন্বয়ে গঠিত কমিটিকে প্রশাসকের কর্ম সম্পাদনে সহায়তা প্রদানের জন্য নিয়োগ করিতে পারিবে।
(৩) উপ-ধারা (১) অনুযায়ী নিযুক্ত প্রশাসক এবং উপ-ধারা (২) অনুযায়ী নিযুক্ত কমিটির সদস্যবৃন্দ, যদি থাকে, যথাক্রমে মেয়র ও কাউন্সিলরের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করিবেন।”।
৫। উক্ত আইনের ধারা ৩২ক বিলুপ্ত হইবে।
৬। উক্ত আইনের ধারা ৩৫ এর উপ-ধারা (১) এর দফা (খখ) বিলুপ্ত হইবে।
৭। উক্ত আইনের তৃতীয় তফসিলের ক্রমিক ১৯.২ এর পরিবর্তে নিম্নরূপ ক্রমিক ১৯.২ প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-
“১৯.২. কোনো ব্যক্তি কর্পোরেশন কর্তৃক প্রদত্ত লাইসেন্স এবং নিবন্ধন ব্যতীত নগরীতে মোটরযান বা মোটর গাড়ী ছাড়া অন্য কোনো শ্লথগতির সাধারণ যানবাহন রাখিতে, ভাড়া দিতে বা চালাইতে পারিবেন না।”।
৮। উক্ত আইনের পঞ্চম তফসিলের ক্রমিক (৬০) এর পর নিম্নরূপ নূতন ক্রমিক (৬০ক) সন্নিবেশিত হইবে, যথা:-
“(৬০ক) লাইসেন্স এবং নিবন্ধন ব্যতীত ই-রিক্সা চালানো, অনুমোদিত গতিসীমার অতিরিক্ত গতিতে চালানো, অতিরিক্ত যাত্রী বহন, অননুমোদিত ব্যাটারি ব্যবহার, মোটর বা কাঠামো পরিবর্তন, নিষিদ্ধ এলাকায় চালানো, বিপজ্জনকভাবে চালানো, যাত্রী ব্যতীত মালামাল পরিবহন, সিগন্যাল অমান্য করা অথবা দুর্ঘটনার পর পালাইয়া যাওয়া।”।
৯। উক্ত আইনের ষষ্ঠ তফসিলের ক্রমিক (১৯) এর পর নিম্নরূপ নূতন ক্রমিক (১৯ক) সন্নিবেশিত হইবে, যথা:-
“(১৯ক) শ্লথগতির সাধারণ যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা, ই-রিক্সা নকশা ও প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য, নির্ধারিত স্থানে ই-রিক্সায় ব্যবহৃত ব্যাটারি রিচার্জকরণ, ই-রিক্সায় ব্যবহৃত ব্যাটারি পরিবেশ বান্ধব পদ্ধতিতে বিনষ্ট বা পুনর্ব্যবহারযোগ্য করা, কর্পোরেশনের অনুমোদিত অঞ্চল বা স্থানে ই-রিক্সা চলাচল সীমিতকরণ এবং বাস চলাচলের রুটে ই-রিক্সা নিষিদ্ধকরণ।”।
১০। (১) স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪ (২০২৪ সনের ৪ নং অধ্যাদেশ), স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ (২০২৫ সনের ৪৩ নং অধ্যাদেশ), স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ (২০২৫ সনের ৪৫ নং অধ্যাদেশ) এতদ্দ্বারা রহিত করা হইল।
(২) উক্তরূপ রহিতকরণ সত্ত্বেও উক্ত অধ্যাদেশ তিনটির অধীন কৃত কার্য বা গৃহীত ব্যবস্থা এই আইনের অধীন কৃত বা গৃহীত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।