প্রিন্ট ভিউ

ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) আইন, ২০২৬

( ২০২৬ সনের ৯১ নং আইন )

যেহেতু নিম্নবর্ণিত উদ্দেশ্যসমূহ পূরণকল্পে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫ (২০০৫ সনের ১১ নং আইন) এর অধিকতর সংশোধন সমীচীন ও প্রয়োজনীয়;

সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন প্রণয়ন করা হইল:-

সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তন

১। (১) এই আইন ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) আইন, ২০২৬ নামে অভিহিত হইবে।

(২) ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে।

২০০৫ সনের ১১নং আইনের প্রস্তাবনার সংশোধন

২। ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫ (২০০৫ সনের ১১ নং আইন), অতঃপর উক্ত আইন বলিয়া উল্লিখিত, এর প্রস্তাবনার দ্বিতীয় প্যারায় দুইবার উল্লিখিত “ইং” শব্দের পরিবর্তে “খ্রিষ্টাব্দ” শব্দ প্রতিস্থাপিত হইবে।

২০০৫ সনের ১১নং আইনের ধারা ২ এর সংশোধন

৩। উক্ত আইনের ধারা ২ এর-

(ক) দফা (ক) এর পর নিম্নরূপ নূতন দফা (কক) সন্নিবেশিত হইবে, যথা:-

“(কক) “কুম্ভি পাতা বা টেন্ডু পাতার বিড়ি” অর্থ কুম্ভি পাতা বা টেন্ডু পাতায় মোড়ানো বা তৈরিকৃত বিড়ি এবং অন্য কোনো গাছের পাতা দ্বারা মোড়ানো বা তৈরিকৃত বিড়িও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে, কিন্তু কাগজ দ্বারা মোড়ানো প্রচলিত বিড়ি ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে না;”;

(খ) দফা (খ) এর পরিবর্তে নিম্নরূপ দফা (খ) প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-

“(খ) “তামাক” অর্থ কোনো নিকোটিয়ানা টাবাকাম বা নিকোটিয়ানা রাসটিকার শ্রেণিভুক্ত উদ্ভিদ বা এতদসম্পর্কিত অন্য কোনো উদ্ভিদ বা উহাদের কোনো পাতা বা ফল, শিকড়, ডাল বা উহার কোনো অংশ;”;

(গ) দফা (গ) এর পরিবর্তে নিম্নরূপ দফা (গ) প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-

“(গ) “তামাকজাত দ্রব্য” অর্থ তামাক, তামাক পাতা বা উহার নির্যাস হইতে প্রস্তুতকৃত যে-কোনো দ্রব্য, যাহা চোষণ বা চিবানোর মাধ্যমে গ্রহণ করা যায় বা ধূমপানের মাধ্যমে শ্বাসের সহিত টানিয়া লওয়া যায় বা অন্য কোনোভাবে সেবন করা যায় এবং বিড়ি, সিগারেট, চুরুট, গুল, জর্দ্দা, খৈনী, সাদাপাতা, সিগার, হুক্কা বা পাইপের ব্যবহার্য মিশ্রণ (mixture) ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;

(ঘ) দফা (চ) এর পরিবর্তে নিম্নরূপ দফা (চ) প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-

“(চ) “পাবলিক প্লেস” অর্থ সরকারি-বেসরকারি মালিকানা নির্বিশেষে জনসাধারণ কর্তৃক সম্মিলিতভাবে ব্যবহার্য যে-কোনো স্থান যেমন: শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি অফিস, আধা-সরকারি অফিস, স্বায়ত্তশাসিত অফিস ও বেসরকারি অফিস, গ্রন্থাগার, লিফট, আচ্ছাদিত কর্মক্ষেত্র (indoor work place), হাসপাতাল ভবন, ক্লিনিক ভবন ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার ভবন, আদালত ভবন, বিমানবন্দর ভবন, সমুদ্রবন্দর ভবন, নৌ-বন্দর ভবন, রেলওয়ে স্টেশন ভবন ও প্ল্যাটফর্ম, বাস টার্মিনাল ভবন, প্রেক্ষাগৃহ, প্রদর্শনী কেন্দ্র, থিয়েটার হল, বিপণী ভবন, যে-কোনো ধরনের হোটেল, রেস্টুরেন্ট, খাবার দোকান, কফি হাউজ এবং উল্লিখিত পাবলিক প্লেসমূহের প্রাঙ্গণ, কমিউনিটি সেন্টারসহ যে-কোনো ধরনের সামাজিক অনুষ্ঠানস্থল, পাবলিক টয়লেট, শিশুপার্ক, মেলা, পাবলিক পরিবহণে আরোহণের উদ্দেশ্যে যাত্রীদের অপেক্ষার জন্য নির্দিষ্ট সারিসহ সেবাগ্রহণের নিমিত্ত মানুষের যে-কোনো সারি অথবা সরকার বা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান কর্তৃক, সাধারণ বা বিশেষ আদেশ দ্বারা, সময় সময় ঘোষিত অন্য যে-কোনো বা সকল স্থান;”;

ব্যাখ্যা।-পাবলিক প্লেস-এর সংজ্ঞার্থে অন্তর্ভুক্ত সকল ভবনের বারান্দা, প্রবেশ ও বহির্গমন গেইট এবং ভবন সংশ্লিষ্ট এলাকা তাহা আচ্ছাদিত বা উন্মুক্ত যেভাবেই হউক না কেন, ভবনের সামনে ও পেছনের মাঠ, উন্মুক্ত স্থান বা বাগানও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;”;

(ঙ) দফা (ছ) এ উল্লিখিত ‘যান্ত্রিক’ শব্দের পরিবর্তে ‘যান্ত্রিক ও অযান্ত্রিক’ শব্দগুলি প্রতিস্থাপিত হইবে;

(চ) দফা (জ) এর প্রান্তস্থিত ‘এবং’ শব্দ বিলুপ্ত হইবে; এবং

(ছ) দফা (ঝ) এর পরিবর্তে নিম্নরূপ দফা (ঝ) প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-

“(ঝ) “ব্যক্তি” অর্থ প্রাকৃতিক সত্তাবিশিষ্ট কোনো ব্যক্তি এবং কোম্পানি, সমিতি, সংস্থা বা ব্যক্তিসমষ্টি, সংবিধিবদ্ধ হউক বা না হউক, এবং তামাকজাত দ্রব্য উৎপাদনকারী বা পরিবেশনকারীও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;”

(জ) দফা (ঝ) এর পর নিম্নরূপ দফা (ঞ) সংযোজিত হইবে, যথা:-

“(ঞ) “স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজিং” অর্থ তামাকজাত দ্রব্যের মোড়কের আকার (shape), আয়তন (size), মোড়কের উপাদান, মোড়কজাতকরণ এবং মোড়কে তামাকজাত দ্রব্যের পরিমাণ ও সংখ্যাসংক্রান্ত সরকার প্রদত্ত নির্দেশনা অনুযায়ী প্রস্তুতকৃত স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজিং।”

২০০৫ সনের ১১নং আইনের ধারা ৩ এর সংশোধন

৪। উক্ত আইনের ধারা ৩ এ উল্লিখিত “(২০০৯ সনের ২৪ নং আইন)” সংখ্যাগুলি, শব্দগুলি এবং বন্ধনীর পর “, গাজীপুর মহানগরী পুলিশ আইন, ২০১৮ (২০১৮ সনের ১৯ নং আইন), রংপুর মহানগরী পুলিশ আইন, ২০১৮ (২০১৮ সনের ২০ নং আইন)” শব্দগুলি, সংখ্যাগুলি, চিহ্নগুলি এবং বন্ধনীগুলি সন্নিবেশিত হইবে।

২০০৫ সনের ১১নং আইনের ধারা ৪ এর সংশোধন

৫। উক্ত আইনের ধারা ৪ এর-

(ক) উপান্তটীকায় উল্লিখিত ‘ধূমপান’ শব্দের পরিবর্তে ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার’ শব্দগুলি প্রতিস্থাপিত হইবে;

(খ) উপ-ধারা (১) এর পরিবর্তে নিম্নরূপ উপ-ধারা (১) প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-

“(১) কোনো ব্যক্তি কোনো পাবলিক প্লেস এবং পাবলিক পরিবহণে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার করিতে পারিবেন না:

তবে শর্ত থাকে যে, সরকার কোনো পাবলিক প্লেসে ধূমপানের জন্য এলাকা নির্দিষ্ট করিবার উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করিতে পারিবে।”; এবং

(গ) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত ‘তিনশত টাকা’ শব্দগুলির পরিবর্তে ‘দুই হাজার টাকা’ শব্দগুলি প্রতিস্থাপিত হইবে।

২০০৫ সনের ১১নং আইনের ধারা ৫ এর সংশোধন

৬। উক্ত আইনের ধারা ৫ এর-

(ক) উপ-ধারা (১) এর-

দফা (ঘ), (ঙ), (চ), (ছ) ও ব্যাখ্যা এর পরিবর্তে নিম্নরূপ দফা (ঘ), (ঙ), (চ), (ছ) ও ব্যাখ্যাসমূহ প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-

“(ঘ) কোনো প্রেক্ষাগৃহে, প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া, ইন্টারনেট মাধ্যম, ওয়েবসাইট, ওয়েবপেইজ, ইলেক্ট্রনিক মেইল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তামাক বা তামাকজাত দ্রব্য-সম্পর্কিত কোনো বিজ্ঞাপন প্রচার করিবেন না বা করাইবেন না;

(ঙ) বাংলাদেশে প্রস্তুতকৃত বা লভ্য ও প্রচারিত, বিদেশে প্রস্তুতকৃত কোনো সিনেমা, নাটক বা প্রামাণ্য চিত্রে তামাকজাত দ্রব্য ও ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম ব্যবহারের দৃশ্য ও তামাকজাত দ্রব্য বা দ্রব্যের মোড়ক টেলিভিশন, রেডিয়ো, ইন্টারনেট, ওটিটি (Over The Top-OTT) প্ল্যাটফর্ম, অ্যাপস (Apps), মঞ্চ অনুষ্ঠান বা অন্য কোনো গণমাধ্যমে প্রচার, প্রদর্শন বা বর্ণনা করিবেন না বা করাইবেন না;

(চ) তামাকজাত দ্রব্যের ব্র্যান্ড নাম বা মোড়ক, প্যাকেট বা কৌটার অনুরূপ বা সদৃশ অন্য কোনো দ্রব্য বা পণ্যের মোড়ক, প্যাকেট বা কৌটার উৎপাদন, বিক্রয় বা বিতরণ করিবেন না বা করাইবেন না এবং অন্য কোনো পণ্যের ব্র্যান্ড নাম বা মোড়ক, প্যাকেট বা কৌটার অনুরূপ বা সদৃশ কোনো তামাকজাত দ্রব্য ও ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম-এর মোড়ক, প্যাকেট বা কৌটার উৎপাদন, বিক্রয় বা বিতরণ করিবেন না বা করাইবেন না;

(ছ) কোনো ব্যক্তি তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয়স্থলে (point of sales) তামাকজাত দ্রব্যের কোনো ধরনের প্যাকেট, কৌটা, খালি বা নমুনা মোড়ক প্রদর্শনসহ যে কোনো উপায়ে তামাকজাত দ্রব্যের বিজ্ঞাপন প্রচার করিবেন না বা করাইবেন না;’’

ব্যাখ্যা।-এই উপ-ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে-

(ক) “তামাকজাত দ্রব্যের বিজ্ঞাপন প্রচার” অর্থ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোনো তামাকজাত দ্রব্য বা তামাকের ব্যবহার প্রবর্ধনের উদ্দেশ্যে যে কোনো ধরনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করা;

(খ) “ইন্টারনেট” বলিতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন, ২০০৬-এর ধারা ২ এর দফা (৮) এ প্রদত্ত সংজ্ঞা অনুযায়ী ইন্টারনেটকে বুঝাইবে;

(গ) “ইলেকট্রনিক মেইল” বলিতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন, ২০০৬-এর ধারা ২ এর দফা (৯) এ প্রদত্ত সংজ্ঞা অনুযায়ী ইলেকট্রনিক মেইলকে বুঝাইবে।”;

(খ) উপ-ধারা (৩) এর পরিবর্তে নিম্নরূপ উপ-ধারা (৩) প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-

“(৩) অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচির (Corporate Social Responsibility) নামে কোনো তামাক বা তামাকজাত দ্রব্যের উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের নাম, সাইন, ট্রেডমার্ক ও প্রতীক ব্যবহার করা যাইবে না এবং কোনো বাণিজ্যিক গোষ্ঠী বা প্রতিষ্ঠানকে অথবা কোনো অনুষ্ঠান বা কর্মসূচির নামে কোনো প্রকার সহায়তা প্রদান করা যাইবে না।”; এবং

(গ) উপ-ধারা (৪) এ উল্লিখিত ‘এক লক্ষ টাকা’ শব্দগুলির পরিবর্তে ‘পাঁচ লক্ষ টাকা’ শব্দগুলি প্রতিস্থাপিত হইবে।

২০০৫ সনের ১১নং আইনে নূতন ধারা ৬খ, ৬গ ও ৬ঘ এর সন্নিবেশ

৭। উক্ত আইনের ধারা ৬ক এর পর নিম্নরূপ নূতন ধারা ৬খ, ৬গ ও ৬ঘ সন্নিবেশিত হইবে, যথা:-

“৬খ। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, খেলাধুলার স্থান ইত্যাদির সীমানার মধ্যে তামাক ও তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয় নিষিদ্ধ।-(১) কোনো ব্যক্তি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, খেলাধুলার স্থান ও শিশু পার্কের সীমানার ১০০ মিটারের মধ্যে তামাক ও তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয় করিবেন না বা করাইবেন না।

(২) সরকার বা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান সময় সময় সাধারণ বা বিশেষ আদেশ দ্বারা উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত সীমানার পরিধি বৃদ্ধি করিতে পারিবে।

(৩) কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর বিধান লঙ্ঘন করিলে তিনি অনধিক পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং উক্ত ব্যক্তি দ্বিতীয়বার বা পুনঃ পুনঃ একই ধরনের অপরাধ সংঘটন করিলে তিনি পর্যায়ক্রমিকভাবে উক্ত দণ্ডের দ্বিগুণ হারে দণ্ডনীয় হইবেন।

৬গ। কুম্ভি পাতা, টেন্ডু পাতার বিড়ি ইত্যাদি নিষিদ্ধ।-(১) কোনো ব্যক্তি কুম্ভি পাতা, টেন্ডু পাতা বা অন্য কোনো গাছের পাতা দ্বারা মোড়ানো বিড়ি উৎপাদন, আমদানি, মজুত, বিপণন, বিতরণ, পরিবহণ, বাজারজাতকরণ ও ক্রয়-বিক্রয় করিবেন না বা করাইবেন না।

(২) কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর বিধান লঙ্ঘন করিলে তিনি অনূর্ধ্ব ৩ (তিন) মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা অনধিক ২,০০,০০০ (দুই লক্ষ) টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং উক্ত ব্যক্তি দ্বিতীয়বার বা পুনঃ পুনঃ একই ধরনের অপরাধ সংঘটন করিলে তিনি পর্যায়ক্রমিকভাবে উক্ত দণ্ডের দ্বিগুণ হারে দণ্ডনীয় হইবেন।

(৩) এই ধারার অধীন কোনো অপরাধ সংঘটনকারী ব্যক্তি যদি কোম্পানি হয়, তাহা হইলে উক্ত কোম্পানির লাইসেন্স বাতিল, আর্থিক লেনদেন স্থগিত বা জব্দসহ আর্থিক জরিমানা আরোপ করা যাইবে।

(৪) কোনো ব্যক্তি কুম্ভি পাতা, টেন্ডু পাতা বা অন্য কোনো গাছের পাতা দ্বারা মোড়ানো বিড়ি ব্যবহার করিবেন না।

(৫) কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (৪) এর বিধান লঙ্ঘন করিলে তিনি অনধিক ৫,০০০ (পাঁচ হাজার) টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।

৬ঘ। তামাকজাত দ্রব্যের সাথে আসক্তিমূলক দ্রব্য ব্যবহার নিষিদ্ধ।-(১) কোনো ব্যক্তি তামাক ও তামাকজাত দ্রব্যের সহিত কোনো ক্ষতিকর আসক্তিমূলক দ্রব্য যুক্ত করিবেন না বা করাইবেন না।

(২) কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর বিধান লঙ্ঘন করিলে তিনি অনূর্ধ্ব ৬ (ছয়) মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা অনধিক ৫,০০,০০০ (পাঁচ লক্ষ) টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং উক্ত ব্যক্তি দ্বিতীয়বার বা পুনঃ পুনঃ একই ধরনের অপরাধ সংঘটন করিলে তিনি পর্যায়ক্রমিকভাবে উক্ত দণ্ডের দ্বিগুণ হারে দণ্ডনীয় হইবেন।”।

২০০৫ সনের ১১নং আইনের ধারা ৭ ও ধারা ৭ক এর বিলুপ্তি

৮। উক্ত আইনের ধারা ৭ ও ধারা ৭ক বিলুপ্ত হইবে।

২০০৫ সনের ১১নং আইনের ধারা ৮ এর সংশোধন

৯। উক্ত আইনের ধারা ৮ এর-

(ক) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত ‘ধারা ৭ এর অধীন ধূমপান এলাকা হিসাবে চিহ্নিত বা নির্দিষ্ট স্থানের বাহিরে’ শব্দগুলি ও সংখ্যা বিলুপ্ত হইবে; এবং

(খ) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত ‘এক হাজার টাকা’ শব্দগুলির পরিবর্তে ‘পাঁচ হাজার টাকা’ শব্দগুলি প্রতিস্থাপিত হইবে।

২০০৫ সনের ১১নং আইনের ধারা ৯ এর সংশোধন

১০। উক্ত আইনের ধারা ৯ এর-

(ক) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত ‘কোনো পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহণে’ শব্দগুলির পরিবর্তে ‘কোনো পাবলিক প্লেস, পাবলিক পরিবহণ এবং তামাক ও তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয়স্থলে ও বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানে’ শব্দগুলি প্রতিস্থাপিত হইবে;

(খ) উপ-ধারা (৩) এর পর নিম্নরূপ নূতন উপ-ধারা (৩ক) সন্নিবেশিত হইবে, যথা:-

“(৩ক) এই আইনের বিধান লঙ্ঘনপূর্বক কোনো ব্যক্তি তামাকজাত দ্রব্যের বিক্রয়কেন্দ্র বা অন্য কোথাও যদি কোনো তামাকজাত দ্রব্যের কোনো বিজ্ঞাপন প্রচার বা প্রদর্শন বা অন্য কোনোভাবে প্রচারণা করিলে কর্তৃত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উক্ত অবৈধ প্রচার বন্ধ করিতে এবং প্রচারণা সামগ্রী বা উপকরণ অপসারণ করিবার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নির্দেশনা প্রদান করিতে পারিবেন, উক্তরূপ নির্দেশ সত্ত্বেও উক্ত অবৈধ প্রচার বন্ধ না করিলে এবং প্রচারণা সামগ্রী বা উপকরণ অপসারণ না করিলে কর্তৃত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উক্ত বিজ্ঞাপন প্রচার বন্ধ বা উপকরণ অপসারণের লক্ষ্যে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবেন এবং প্রয়োজনে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নিতে পারিবেন।”; এবং

(গ) উপ-ধারা (৪) এ উল্লিখিত ‘উপ-ধারা (৩) এর অধীন’ শব্দগুলি, চিহ্নগুলি, সংখ্যা ও বন্ধনীর পরিবর্তে ‘উপ-ধারা (৩) ও (৩ক)-এর অধীন’ শব্দগুলি, চিহ্নগুলি, সংখ্যাগুলি ও বন্ধনী প্রতিস্থাপিত হইবে।

২০০৫ সনের ১১নং আইনের ধারা ১০ এর সংশোধন

১১। উক্ত আইনের ধারা ১০ এর-

(ক) উপ-ধারা (১)-এর পরিবর্তে নিম্নরূপ উপ-ধারা (১) প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-

“(১) তামাকজাত দ্রব্যের সকল ধরনের প্যাকেট, মোড়ক, কার্টন, বস্তা ও কৌটার উভয় পার্শ্বে মূল প্রদর্শনী তল বা যে সকল প্যাকেটে দুইটি প্রধান পার্শ্বদেশ নাই সেই সকল প্যাকেটের মূল প্রদর্শনী তলের উপরিভাগে অন্যূন শতকরা ৭৫ (পঁচাত্তর) ভাগ পরিমাণ স্থান জুড়িয়া তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহারের কারণে সৃষ্ট ক্ষতি সম্পর্কে, রঙ্গিন ছবি ও লেখাসম্বলিত স্বাস্থ্যসম্পর্কিত সতর্কবাণী, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, বাংলায় মুদ্রণ করিতে হইবে।”;

(খ) উপ-ধারা (৩) এ উল্লিখিত ‘বিবৃতি’ শব্দের পর ‘এবং উৎপাদনের তারিখ উল্লেখসহ’ শব্দগুলি সংযোজিত হইবে;

(গ) উপ-ধারা (৫) এ উল্লিখিত ‘বিবৃতি’ শব্দের পর ‘এবং উৎপাদনের তারিখ’ শব্দগুলি সংযোজিত হইবে।

(ঘ) উপ-ধারা (৬)-এর পর নিম্নরূপ উপ-ধারা (৭) সংযোজিত হইবে, যথা:-

‘‘(৭) এই ধারার অধীন কোনো অপরাধ সংঘটনকারী ব্যক্তি যদি কোম্পানি হয়, তাহা হইলে উক্ত কোম্পানির সংশ্লিষ্ট মালামাল জব্দসহ কোম্পানির মালিক, ব্যবস্থাপক বা সংশ্লিষ্ট দায়ী ব্যক্তি অনূর্ধ্ব ৬ (ছয়) মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা অনধিক ৫,০০,০০০ (পাঁচ লক্ষ) টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং উক্ত ব্যক্তি দ্বিতীয়বার বা পুনঃ পুনঃ একই ধরনের অপরাধ সংঘটন করিলে তিনি পর্যায়ক্রমিকভাবে উক্ত দণ্ডের দ্বিগুণ হারে দণ্ডনীয় হইবেন এবং উক্ত কোম্পানির তামাক ও তামাকজাত দ্রব্য উৎপাদন ও বিক্রয়ের লাইসেন্স বাতিল করা যাইবে।”।

২০০৫ সনের ১১নং আইনে নূতন ধারা ১০ক এর সন্নিবেশ

১২। উক্ত আইনের ধারা ১০ এর পর নিম্নরূপ নূতন ধারা ১০ক সন্নিবেশিত হইবে, যথা:-

“১০ক। স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজিং ব্যতীত তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয়ের উপর বিধিনিষেধ।-(১) অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোনো ব্যক্তি মোড়ক বা কৌটা ব্যতীত তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয় করিবেন না বা করাইবেন না।

(২) উপ-ধারা (১) এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, তামাকজাত দ্রব্যের প্যাকেট, মোড়ক ও কৌটার আকার, আয়তন ও ওজন, উহাতে তামাক ও তামাকজাত দ্রব্যের সংখ্যা ও পরিমাণ, উৎপাদনের তারিখ এবং কুইটলাইন হেল্প নম্বর মুদ্রণ সংক্রান্ত বিষয়াদি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।

(৩) কোনো ব্যক্তি এই ধারার বিধান লঙ্ঘন করিলে তিনি অনূর্ধ্ব ১ (এক) মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা অনধিক ৫,০০০ (পাঁচ হাজার) টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং উক্ত ব্যক্তি দ্বিতীয়বার বা পুনঃ পুনঃ একই ধরনের অপরাধ সংঘটন করিলে তিনি পর্যায়ক্রমিকভাবে উক্ত দণ্ডের দ্বিগুণ হারে দণ্ডনীয় হইবেন।

(৪) এই ধারার অধীন কোনো অপরাধ সংঘটনকারী ব্যক্তি যদি কোম্পানি হয়, তাহা হইলে উক্ত কোম্পানির সংশ্লিষ্ট মালামাল জব্দসহ কোম্পানির মালিক, ব্যবস্থাপক বা সংশ্লিষ্ট দায়ী ব্যক্তি অনূর্ধ্ব ৬ (ছয়) মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা অনধিক ২,০০,০০০ (দুই লক্ষ) টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং উক্ত ব্যক্তি দ্বিতীয়বার বা পুনঃ পুনঃ একই ধরনের অপরাধ সংঘটন করিলে তিনি পর্যায়ক্রমিকভাবে উক্ত দণ্ডের দ্বিগুণ হারে দণ্ডনীয় হইবেন এবং উক্ত কোম্পানির তামাক ও তামাকজাত দ্রব্য উৎপাদন ও বিক্রয়ের লাইসেন্স বাতিল করা যাইবে।”।

২০০৫ সনের ১১নং আইনের ধারা ১৪ এর সংশোধন

১৩। উক্ত আইনের ধারা ১৪ এর উপ-ধারা (২) এর পরিবর্তে নিম্নরূপ উপ-ধারা (২) প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-

“(২) এই আইনের অধীন কোনো অভিযোগ দায়ের ও মামলা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধি প্রযোজ্য হইবে।”।

Ordinance No. LVII of 1975 এর রহিতকরণ ও হেফাজত

১৪। (১) The Bidi Manufacture (Prohibition) Ordinance, 1975 (Ordinance No. LVII of 1975) এতদ্দ্বারা রহিত করা হইল।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন রহিতকরণ সত্ত্বেও রহিত Ordinance এর অধীন কৃত কোনো কার্য অথবা গৃহীত কোনো ব্যবস্থা এই আইনের অধীন এমনভাবে কৃত বা গৃহীত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে যেন, উক্ত কৃত কার্য অথবা গৃহীত ব্যবস্থা গ্রহণ করিবার সময় এই আইন বলবৎ ছিল।

রহিতকরণ ও হেফাজত

১৫। (১) ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ (২০২৫ সনের ৮০ নং অধ্যাদেশ) এতদ্দ্বারা রহিত করা হইল।

(২) উক্তরূপ রহিতকরণ সত্ত্বেও রহিত অধ্যাদেশের অধীন কৃত কোনো কাজকর্ম বা গৃহীত কোনো ব্যবস্থা এই আইনের অধীন কৃত বা গৃহীত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।


Copyright © 2019, Legislative and Parliamentary Affairs Division
Ministry of Law, Justice and Parliamentary Affairs