প্রিন্ট ভিউ
Public Gambling Act, 1867 রহিতক্রমে জুয়া, অনলাইন জুয়া, অনলাইন বেটিংসহ অনুরূপ কার্যক্রম প্রতিরোধ ও এতদসংক্রান্ত অপরাধের বিষয়ে দণ্ড প্রদানসহ আনুষঙ্গিক বিষয়ে যুগোপযোগী করিয়া নূতনভাবে বিধান প্রণয়নের লক্ষ্যে প্রণীত আইন
যেহেতু গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১৮(২) অনুচ্ছেদে জুয়া নিরোধের জন্য রাষ্ট্র কর্তৃক কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নীতি বিধৃত হইয়াছে; এবং
যেহেতু Public Gambling Act, 1867 (Act No. II of 1867) ডিজিটাল যুগের অনলাইন জুয়া, স্পোর্টস বেটিং, ভার্চুয়াল ক্যাসিনো, ক্রিপ্টোকারেন্সিভিত্তিক জুয়া, ভুয়া সিম ও ডিজিটাল আর্থিক জালিয়াতি প্রতিরোধে অকার্যকর ও অপর্যাপ্ত; এবং
যেহেতু অনলাইন বেটিং প্ল্যাটফর্ম, ভিপিএন (VPN), সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, ভুয়া মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (MFS) অ্যাকাউন্ট, বায়োমেট্রিক জালিয়াতি এবং ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে সংঘটিত জুয়া, অর্থপাচার ও প্রতারণা বাংলাদেশের সামাজিক শৃঙ্খলা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, জননিরাপত্তা ও তরুণ সমাজের জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করিতেছে; এবং
যেহেতু Public Gambling Act, 1867 রহিতক্রমে যুগোপযোগী করিয়া নূতনভাবে বিধান প্রণয়ন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়;
সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল-
প্রথম অধ্যায়
প্রারম্ভিক
১। (১) এই আইন জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬ নামে অভিহিত হইবে।
(২) ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে।
২। বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থি কোনো কিছু না থাকিলে, এই আইনে-
(১) "অর্থপাচার" অর্থ-
(ক) দেশে বিদ্যমান আইনের ব্যত্যয় ঘটাইয়া দেশের বাহিরে অর্থ বা সম্পত্তি প্রেরণ বা রক্ষণ;
(খ) দেশের বাহিরে যে অর্থ বা সম্পত্তিতে বাংলাদেশের স্বার্থ রহিয়াছে যাহা বাংলাদেশে আনয়ন যোগ্য ছিল তাহা বাংলাদেশে আনয়ন হইতে বিরত থাকা;
(গ) বিদেশ হইতে প্রকৃত পাওনা দেশে আনয়ন না করা বা বিদেশে প্রকৃত দেনার অতিরিক্ত পরিশোধ করা;
(২) "অনলাইন জুয়া বা দূরবর্তী জুয়া" অর্থ ইন্টারনেট, টেলিফোন, মোবাইল নেটওয়ার্ক, স্যাটেলাইট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ভিপিএন (VPN), প্রক্সি (Proxy) বা অন্য কোনো প্রযুক্তিগত যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে-
(ক) অনলাইন জুয়ার ওয়েবসাইট, অ্যাপ, সার্ভার বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম পরিচালনা করা;
(খ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জুয়া বা বেটিং গ্রুপ, পেজ বা চ্যানেল পরিচালনা করা;
(গ) অনলাইন জুয়ার অ্যাকাউন্ট খোলা, পরিচালনা বা ব্যবহার করা;
(ঘ) অনলাইন জুয়ার উদ্দেশ্যে অর্থ জমা, উত্তোলন বা স্থানান্তর করা; এবং
(ঙ) বিদেশি অনলাইন জুয়া প্ল্যাটফর্মের প্রতিনিধি, এজেন্ট বা সহযোগী হিসাবে কাজ করা;
(৩) "অনলাইন বেটিং” অর্থ খেলাধুলা, প্রতিযোগিতা, ই-স্পোর্টস, নির্বাচন, বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান বা অন্য কোনো ঘটনার ফলাফলের উপর অর্থ বা সম্পদের বিনিময়ে অনলাইন, ডিজিটাল বা ইলেকট্রনিক মাধ্যমে পরিচালিত কোনো বেটিং, এবং নিম্নবর্ণিত কার্যক্রমও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে, যথা:-
(ক) স্পোর্টস বেটিং (Sports Betting);
(খ) লাইভ বেটিং (Live Betting);
(গ) এক্সচেঞ্জ বেটিং (Exchange Betting);
(ঘ) ক্যাসিনো বেটিং (Casino Betting);
(ঙ) ভার্চুয়াল বেটিং (Virtual Betting);
(চ) ফ্যান্টাসি বেটিং (Fantasy Betting); এবং
(ছ) ই-স্পোর্টস বেটিং (E-sports Betting);
(৪) "ক্রিপ্টোকারেন্সি" অর্থ Bitcoin, Ethereum, USDT, Token, Virtual Coin বা অন্য কোনো বিকেন্দ্রীভূত ডিজিটাল মুদ্রা বা সম্পদ;
(৫) "ঘোস্ট সিম (Ghost SIM)" অর্থ প্রকৃত ব্যবহারকারীর পরিচয়বিহীন, অযাচাইকৃত বা গোপন পরিচয়ে ব্যবহৃত SIM Card:
(৬) "জুয়া" অর্থ
(ক) সকল প্রকার বাজি বা পণ ধরা;
(খ) অর্থ বা কোনো মূল্যমানের বিনিময়ে হাউজি, বিঙ্গো, লটারি, রুলেট, পাশা, পোকার, কার্ড গেম বা অনুরূপ খেলা পরিচালনা বা অংশগ্রহণ করা;
(গ) জুয়ার উদ্দেশ্যে অর্থ, সম্পদ বা অন্য কোনো মূল্যবান বস্তু বিনিয়োগ বা সংগ্রহ করা; এবং
(ঘ) জুয়া খেলার সুবিধার্থে কোনো স্থান, সামগ্রী, যন্ত্রপাতি বা ডিজিটাল অবকাঠামো সরবরাহ করা;
(৭) "জুয়ার স্থান" অর্থ এইরূপ কোনো বাড়ি, কক্ষ, ক্লাব, অফিস, কল সেন্টার (Call Center), সাইবার ক্যাফে, যানবাহন, নৌযান, আকাশযান, সার্ভার রুম, ডেটা সেন্টার, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ, সোশ্যাল মিডিয়া গ্রুপ (Social Media Group) বা চ্যানেল (Channel) কিংবা অন্য কোনো বাস্তব বা ভার্চুয়াল স্থান যাহা জুয়া, বেটিং, বাজি গ্রহণ, জুয়ার অর্থ লেনদেন, জুয়ার প্রচারণা বা জুয়ার প্রযুক্তিগত সহায়তার কাজে ব্যবহৃত হয় এবং গান, নাচ, খেলা, কার্নিভাল, সার্কাস বা প্রদর্শনীর আড়ালে জুয়া, বাজি, লটারি, বা হাউজির স্থান বা এইরূপ কাজে ব্যবহৃত অন্যান্য স্থাপনা;
(৮) "জুয়ার সামগ্রী" অর্থ জুয়া, অনলাইন জুয়া, বেটিং বা অনলাইন বেটিং পরিচালনায় ব্যবহৃত টেবিল গেম, কার্ড, কয়েন, পাশা, টোটালাইজেটর, কম্পিউটার, মোবাইল ডিভাইস, সার্ভার, সফট্ওয়্যার, ওয়েবসাইট, ডেটাবেজ, ডিজিটাল ওয়ালেট, ডেটাবেজ, ইলেকট্রনিক রেকর্ড, ক্রিপ্টো ওয়ালেট, কল সেন্টার ইক্যুইপমেন্ট (Call Center Equipment) বা অন্য কোনো যন্ত্রপাতি, রেকর্ডপত্র বা উপকরণ;
(৯) "টোটালাইজেটর” অর্থ এইরূপ কোনো যন্ত্র, সফট্ওয়্যার ব্যবস্থা বা প্রযুক্তি যাহা বহু ব্যক্তির বাজি গ্রহণ, হিসাব সংরক্ষণ, ফলাফল নির্ধারণ বা পুরস্কার বণ্টনের কাজে ব্যবহৃত হয়;
(১০) "ডিজিটাল গ্যাম্বলিং প্ল্যাটফর্ম (Digital Gambling Platform)" অর্থ কোনো ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ, সার্ভার, ক্লাউডভিত্তিক সিস্টেম, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম পেজ, গ্রুপ, চ্যানেল বা অন্য কোনো ডিজিটাল অবকাঠামো যাহা জুয়া বা বেটিং পরিচালনা, প্রচার বা সুবিধা প্রদান করে;
(১১) "ডিজিটাল ওয়ালেট" অর্থ ইলেকট্রনিক বা ভার্চুয়াল অর্থ সংরক্ষণ, স্থানান্তর বা লেনদেন ব্যবস্থাপনা সেবা;
(১২) "ডিজিটাল সম্পদ" অর্থ ক্রিপ্টোকারেন্সি, টোকেন, ভার্চুয়াল কয়েন, ডিজিটাল ওয়ালেটে সংরক্ষিত মূল্য, NFT (Non-Fungible Tokens) বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক মূল্যমানসম্পন্ন সম্পদ;
(১৩) "ফৌজদারি কার্যবিধি" অর্থ Code of Criminal Procedure, 1898 (Act No. V of 1898);
(১৪) "ব্যক্তি” অর্থে স্বাভাবিক ব্যক্তিসহ (natural person) যেকোনো কোম্পানি, অংশীদারি কারবার, ফার্ম বা একাধিক ব্যক্তির সমিতি বা সংঘ, উহা নিবন্ধিত হউক বা না হউক, অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(১৫) "বেটিং বা বাজি (Betting) বা পণ” অর্থ কোনো খেলা, প্রতিযোগিতা, ঘটনা বা ফলাফলের উপর অর্থ, সম্পদ বা আর্থিক মূল্যমানের কোনো বস্তু ঝুঁকির মধ্যে রাখিয়া লাভের উদ্দেশ্যে চুক্তি বা অংশগ্রহণ;
(১৬) "বাজিকর (Bookmaker)" অর্থ এইরূপ ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম যাহা বাজি গ্রহণ, বেটিং পরিচালনা, অডস্ নির্ধারণ, আর্থিক লেনদেন বা জুয়ার মধ্যস্থতাকারী হিসাবে কার্যক্রম পরিচালনা করে;
(১৭) "বায়োমেট্রিক জালিয়াতি" অর্থ কোনো ব্যক্তির আঙুলের ছাপ, মুখমন্ডল, আইরিশ বা অন্য কোনো জৈবিক পরিচয় (Biological Identity) ব্যবহার, নকল বা অপব্যবহার করিয়া ডিজিটাল পরিচয় গ্রহণক্রমে জালিয়াতি:
(১৮) "ভুয়া এমএফএস অ্যাকাউন্ট (MFS Account)" অর্থ জাল, মিথ্যা বা অন্য কোনো ব্যক্তির পরিচয় ব্যবহার করিয়া খোলা Mobile Financial Service (MFS) Account:
(১৯) "ভুয়া সিম” অর্থ জাল, মিথ্যা, ধারকৃত, ক্লোনকৃত বা অন্য কোনো ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) অথবা বায়োমেট্রিক তথ্য ব্যবহার করিয়া নিবন্ধিত SIM Card;
(২০) "ভিপিএন VPN (Virtual Private Network)" অর্থ এইরূপ প্রযুক্তি যাহা ব্যবহারকারীর প্রকৃত অবস্থান, পরিচয় বা ইন্টারনেট ট্র্যাফিক গোপন বা পরিবর্তন করিতে সক্ষম;
(২১) "ম্যাচ ফিক্সিং” অর্থ কোনো খেলা বা প্রতিযোগিতার ফলাফল পূর্বনির্ধারিত করিবার উদ্দেশ্যে অবৈধভাবে প্রভাব বিস্তার, ষড়যন্ত্র বা আর্থিক সুবিধা প্রদান;
(২২) "মিরর সাইট (Mirror Site)" অর্থ পূর্বে ব্লককৃত বা নিষিদ্ধ জুয়া ওয়েবসাইটের অনুরূপ বিকল্প ডোমেইন, প্রতিলিপি বা পুনঃপ্রকাশিত ওয়েবসাইট;
(২৩) "স্পট ফিক্সিং” অর্থ কোনো খেলা বা প্রতিযোগিতার নির্দিষ্ট অংশ, ঘটনা বা মুহূর্তের ফলাফল পূর্বনির্ধারিত করিবার উদ্দেশ্যে অবৈধ হস্তক্ষেপ; এবং
(২৪) "সাইবার ট্রাইব্যুনাল" অর্থ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন, ২০০৬ (২০০৬ সনের ৩৯ নং আইন) এর ধারা ৬৮ এর অধীন গঠিত সাইবার ট্রাইব্যুনাল।
৩। আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের বিধানাবলি প্রাধান্য পাইবে।
দ্বিতীয় অধ্যায়
অপরাধ
৪। কোনো ব্যক্তি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জুয়ার সাথে সম্পৃক্ত হইলে তাহা হইবে অপরাধ।
৫। কোনো ব্যক্তি অনলাইন জুয়া বা দূরবর্তী জুয়ার সাথে সম্পৃক্ত হইলে তাহা হইবে অপরাধ।
৬। কোনো ব্যক্তি অনলাইন বেটিং এর সাথে সম্পৃক্ত হইলে তাহা হইবে অপরাধ।
৭। কোনো ব্যক্তি জুয়ার স্থান পরিচালনা, নিয়ন্ত্রণ, ব্যবস্থাপনা, রক্ষণাবেক্ষণ, ভাড়া প্রদান, ব্যবহার বা ব্যবহারের অনুমতি প্রদান করিলে তাহা হইবে অপরাধ।
৮। কোনো ব্যক্তি জুয়ার সামগ্রী প্রস্তুত, সংরক্ষণ, বিক্রয়, বিতরণ, আমদানি, সরবরাহ বা ব্যবহার করিলে বা জুয়ার উদ্দেশ্যে সফট্ওয়্যার, অ্যাপ, সার্ভার, ডেটাবেজ, কার্ড, পাশা, টোটালাইজেটর বা অন্য কোনো যন্ত্রপাতি ব্যবহার করিলে তাহা হইবে অপরাধ।
৯। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বাজিকর হিসাবে কার্যক্রম পরিচালনা করিলে তাহা হইবে অপরাধ।
১০। (১) কোনো ব্যক্তি ম্যাচ ফিক্সিং করিলে তাহা হইবে অপরাধ।
(২) কোনো ব্যক্তি স্পট ফিক্সিং করিলে তাহা হইবে অপরাধ।
১১। কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, ইনফ্লুয়েন্সার (influencer), শিল্পী, খেলোয়াড় বা সেলিব্রিটি জুয়ার উদ্দেশ্যে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা, মিথ্যা লাভের প্রতিশ্রুতি প্রদান, প্রলোভনমূলক বিজ্ঞাপন, sponsorship, affiliate marketing বা referral campaign করিলে তাহা হইবে অপরাধ।
১২। কোনো ব্যক্তি ভিপিএন, প্রক্সি, মিরর সাইট, হোস্টিং, ডোমেইন সার্ভিস বা ক্লাউড ইনফ্রাস্ট্রাকচার, কনটেন্ট ডেলিভারি নেটওয়ার্ক বা অন্য কোনো প্রযুক্তিগত অবকাঠামো ব্যবহার করিয়া জুয়া পরিচালনা, জুয়ার তথ্য গোপন বা উহাতে সহায়তা করিলে অথবা ব্লককৃত জুয়া প্ল্যাটফর্ম পুনরায় চালু ও বিকল্প ডোমেইন ব্যবহার করিলে তাহা হইবে অপরাধ।
১৩। কোনো ব্যক্তি ভুয়া সিম, ঘোস্ট সিম, ভুয়া এমএফএস অ্যাকাউন্ট বা জাল পরিচয় ব্যবহার করিয়া জুয়া বা বেটিং কার্যক্রম পরিচালনা করিলে অথবা অন্যের জাতীয় পরিচয়পত্র, আঙুলের ছাপ, মুখমণ্ডল, বায়োমেট্রিক তথ্য বা ডিজিটাল পরিচয় ব্যবহার করিয়া জুয়া বা বেটিং সংক্রান্ত অ্যাকাউন্ট খোলা বা পরিচালনা করিলে তাহা হইবে অপরাধ।
১৪। কোনো ব্যক্তি জুয়ার অর্থ লেনদেন, স্থানান্তর, গোপনকরণ বা বৈধতা প্রদানের উদ্দেশ্যে ব্যাংক, এমএফএস, ডিজিটাল ওয়ালেট, হাওলা, হন্ডি বা অন্য কোনো আর্থিক ব্যবস্থা ব্যবহার করিলে বা পাচার করিলে অথবা জুয়ার অর্থ বা সম্পদ ক্রিপ্টোকারেন্সি, ভার্চুয়াল সম্পদ বা ডিজিটাল সম্পদে রূপান্তর, সংরক্ষণ বা স্থানান্তর করিলে তাহা হইবে অপরাধ।
তৃতীয় অধ্যায়
দণ্ড ও বিচার
১৫। কোনো ব্যক্তি ধারা ৪ এ বর্ণিত জুয়ার অপরাধ করিলে তিনি অনধিক ২ (দুই) বৎসর কারাদন্ডে, বা অনূর্ধ্ব ২ (দুই) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
১৬। কোনো ব্যক্তি ধারা ৫ এ বর্ণিত অনলাইন জুয়া বা দূরবর্তী জুয়ার অপরাধ করিলে তিনি অনধিক ৫ (পাঁচ) বৎসর কারাদন্ডে, বা অনূর্ধ্ব ১ (এক) কোটি টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
১৭। কোনো ব্যক্তি ধারা ৬ এ বর্ণিত অনলাইন বেটিং এর অপরাধ করিলে তিনি অনধিক ৭ (সাত) বৎসর কারাদন্ডে, বা অনূর্ধ্ব ৫ (পাঁচ) কোটি টাকা অর্থদন্ডে, বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
১৮। (১) কোনো ব্যক্তি ধারা ৭ এ বর্ণিত জুয়ার স্থান পরিচালনা, নিয়ন্ত্রণ, ব্যবস্থাপনা, রক্ষণাবেক্ষণ, ভাড়া প্রদান, ব্যবহার বা ব্যবহারের অনুমতি প্রদান করিলে তিনি অনধিক ৫ (পাঁচ) বৎসর কারাদণ্ডে, বা অনূর্ধ্ব ৪ (চার) লক্ষ টাকা অর্থদন্ডে, বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
(২) জুয়ার স্থান হিসাবে ব্যবহৃত ভবন, কক্ষ, যানবাহন, সার্ভার অবকাঠামো বা অন্য কোনো সম্পত্তি আদালতের আদেশক্রমে বাজেয়াপ্ত হইতে পারিবে।
১৯। (১) কোনো ব্যক্তি ধারা ৮ এ বর্ণিত জুয়ার সামগ্রী সংরক্ষণ, প্রস্তুত, সরবরাহ, বিক্রয়, বিতরণ, আমদানি বা ব্যবহার করিলে অথবা জুয়ার উদ্দেশ্যে সফটওয়্যার, অ্যাপ, সার্ভার, ডেটাবেজ, কার্ড, পাশা, টোটালাইজেটর বা অন্য কোনো যন্ত্রপাতি ব্যবহার করিলে তিনি অনধিক ৩ (তিন) বৎসর কারাদন্ডে, বা অনূর্ধ্ব ১০ (দশ) লক্ষ টাকা অর্থদন্ডে, বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
(২) আদালত, উপ-ধারা (১) এ বর্ণিত সামগ্রী বাজেয়াপ্ত বা ধ্বংস করিবার নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে।
১৯। (১) কোনো ব্যক্তি ধারা ৮ এ বর্ণিত জুয়ার সামগ্রী সংরক্ষণ, প্রস্তুত, সরবরাহ, বিক্রয়, বিতরণ, আমদানি বা ব্যবহার করিলে অথবা জুয়ার উদ্দেশ্যে সফটওয়্যার, অ্যাপ, সার্ভার, ডেটাবেজ, কার্ড, পাশা, টোটালাইজেটর বা অন্য কোনো যন্ত্রপাতি ব্যবহার করিলে তিনি অনধিক ৩ (তিন) বৎসর কারাদন্ডে, বা অনূর্ধ্ব ১০ (দশ) লক্ষ টাকা অর্থদন্ডে, বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
(২) আদালত, উপ-ধারা (১) এ বর্ণিত সামগ্রী বাজেয়াপ্ত বা ধ্বংস করিবার নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে।
২০। কোনো ব্যক্তি ধারা ৯ এ বর্ণিত বাজিকর হিসাবে কার্যক্রম পরিচালনা করিলে তিনি অনধিক ৭ (সাত) বৎসর কারাদণ্ডে, বা অনূর্ধ্ব ৫ (পাঁচ) কোটি টাকা অর্থদন্ডে, বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
২১। (১) কোনো ব্যক্তি ধারা ১০ এর উপ-ধারা (১) এ বর্ণিত ম্যাচ ফিক্সিং এর অপরাধ করিলে তিনি অনধিক ৭ (সাত) বৎসর কারাদন্ডে, বা অনূর্ধ্ব ১ (এক) কোটি টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
(২) কোনো ব্যক্তি ধারা ১০ এর উপ-ধারা (২) এ বর্ণিত স্পট ফিক্সিং এর অপরাধ করিলে তিনি অনধিক ৫ (পাঁচ) বৎসর কারাদন্ডে, বা অনূর্ধ্ব ৫০ (পঞ্চাশ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
(৩) আদালত ম্যাচ ফিক্সিং বা স্পট ফিক্সিং এ অভিযুক্ত ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অথবা স্থায়ীভাবে সংশ্লিষ্ট খেলাধুলা, প্রতিযোগিতা বা ক্রীড়া কার্যক্রমে অংশগ্রহণের অযোগ্য ঘোষণা করিতে পারিবে।
২২। কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, ইনফ্লুয়েন্সার (influencer), শিল্পী, খেলোয়াড় বা সেলিব্রিটি ধারা ১১ এ বর্ণিত জুয়ার উদ্দেশ্যে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা, মিথ্যা লাভের প্রতিশ্রুতি প্রদান, প্রলোভনমূলক বিজ্ঞাপন, sponsorship, affiliate marketing বা referral campaign করিলে তিনি অনধিক ৩ (তিন) বৎসর কারাদণ্ডে, বা অনূর্ধ্ব ৫০ (পঞ্চাশ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
২৩। কোনো ব্যক্তি ধারা ১২ এ বর্ণিত অপরাধ করিলে তিনি অনধিক ৭ (সাত) বৎসর কারাদন্ডে, বা অনূর্ধ্ব ৫ (পাঁচ) কোটি টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
২৪। (১) কোনো ব্যক্তি ধারা ১৩ এ বর্ণিত ভুয়া সিম, ঘোস্ট সিম, ভুয়া এমএফএস অ্যাকাউন্ট বা বায়োমেট্রিক জালিয়াতির অপরাধ করিলে তিনি অনধিক ৭ (সাত) বৎসর কারাদন্ডে, বা অনূর্ধ্ব ৫০ (পঞ্চাশ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
(২) উক্ত অপরাধ সংঘবদ্ধভাবে বা অর্থপাচারের উদ্দেশ্যে সংঘটিত হইলে তিনি অনধিক ১০ (দশ) বৎসর কারাদন্ডে, বা অনূর্ধ্ব ৫ (পাঁচ) কোটি টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
২৫। কোনো ব্যক্তি ধারা ১৪ এ বর্ণিত জুয়ার অর্থ লেনদেন, স্থানান্তর, গোপনকরণ বা বৈধতা প্রদানের উদ্দেশ্যে ব্যাংক, এমএফএস, ডিজিটাল ওয়ালেট, হাওলা, হুন্ডি বা অন্য কোনো আর্থিক ব্যবস্থা ব্যবহার করিলে বা পাচার করিলে অথবা জুয়ার অর্থ বা সম্পদ ক্রিপ্টোকারেন্সি, ভার্চুয়াল সম্পদ বা ডিজিটাল সম্পদে রূপান্তর, সংরক্ষণ বা স্থানান্তরের অপরাধ করিলে তিনি মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (২০১২ সনের ৫ নং আইন) এর অধীন সম্পৃক্ত অপরাধ (Predicate offence) হিসাবে দণ্ডিত হইবেন।
২৬। (১) কোনো কোম্পানি, কর্পোরেট সংস্থা, Digital Gambling Platform, Hosting Provider, Payment Gateway বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান কর্তৃক এই আইনের অধীন কোনো অপরাধ সংঘটিত হইলে, উক্ত অপরাধের সহিত প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতা রহিয়াছে এইরূপ কোম্পানি, কর্পোরেট সংস্থা বা ডিজিটাল প্র্যাটফর্ম এর পরিচালক, নির্বাহী কর্মকর্তা, ব্যবস্থাপক, সচিব, অংশীদার বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা কর্মচারী উক্ত অপরাধ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন, যদি না তিনি প্রমাণ করিতে পারেন যে, উক্ত অপরাধ তাহার অজ্ঞাতসারে সংঘটিত হইয়াছে এবং উহা রোধ করিবার জন্য তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করিয়াছেন।
(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত কোম্পানি বা কর্পোরেট সংস্থা বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বডি কর্পোরেট হইলে, উক্ত উপ-ধারায় উল্লিখিত ব্যক্তিকে অভিযুক্ত ও দোষী সাব্যস্ত করা ছাড়াও উক্ত কোম্পানি বা কর্পোরেট সংস্থা বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে পৃথকভাবে একই কার্যধারায় অভিযুক্ত ও দোষী সাব্যস্ত করা যাইবে, তবে ফৌজদারি মামলায় উহার উপর সংশ্লিষ্ট বিধান অনুসারে কেবল অর্থদণ্ড আরোপ করা যাইবে।
(৩) আদালত এইরূপ প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন, লাইসেন্স বা কার্যক্রম স্থগিত, বাতিল বা নিষিদ্ধ করিবার নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে।
২৭। কোনো ব্যক্তি যদি এই আইনের অধীন কোনো অপরাধে প্ররোচনা, সহায়তা, অর্থায়ন, প্রযুক্তিগত সহায়তা, অবকাঠামোগত সহায়তা বা ষড়যন্ত্র করেন তাহা হইলে তিনি মূল অপরাধের জন্য নির্ধারিত দন্ডে দণ্ডিত হইবেন।
২৮। এই আইনে উল্লিখিত কোনো অপরাধের জন্য দণ্ডিত ব্যক্তি যদি পুনরায় একই বা অনুরূপ অপরাধ করেন তাহা হইলে তিনি উক্ত অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ যে দণ্ড রহিয়াছে উহার দ্বিগুণ পর্যন্ত দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
২৯। (১) আদালত অপরাধে ব্যবহৃত বা অপরাধ হইতে অর্জিত অর্থ, সম্পদ, ব্যাংক হিসাব, MFS Account, Digital Wallet, Crypto Asset. Server. Domain. SIM. Device বা অন্য কোনো সম্পদ বাজেয়াপ্ত করিবার নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনো নির্দেশ প্রদান করা হইলে বাজেয়াপ্ত সম্পদ সরকার কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতিতে রাষ্ট্রের অনুকূলে ন্যস্ত হইবে।
৩০। কোনো আদালত, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা উপজেলা নির্বাহী অফিসারকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী বা সাব-ইন্সপেক্টরের নিম্নে নহেন এইরূপ পুলিশ কর্মকর্তার অভিযোগ ব্যতীত, এই আইনের অধীন কোনো মামলা বিচারার্থে গ্রহণ করিবে না।
৩১। (১) সাব-ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার নিম্নে নহেন এইরূপ কোনো পুলিশ অফিসার এই আইনের অধীন সংঘটিত কোনো অপরাধ তদন্ত করিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, কোনো মামলার সুষ্ঠু তদন্তের প্রয়োজনে সরকার উপযুক্ত মনে করিলে, যে কোনো সংস্থা বা কর্তৃপক্ষের নিকট তদন্ত স্থানান্তর করিতে পারিবে।
(২) তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রয়োজনে, আদালতের অনুমতিক্রমে, অভিযুক্ত ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব, MFS Account, Digital Wallet বা Crypto Wallet অস্থায়ীভাবে স্থগিত বা Freeze করিতে পারিবেন।
৩২। (১) এই আইনের অধীন অনলাইন জুয়া, অনলাইন বেটিং এবং সাইবার স্পেস ব্যবহার করিয়া সংঘটিত অপরাধের বিচার সাইবার ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক বিচার্য হইবে।
(২) উপ-ধারা (১) এ বর্ণিত অপরাধ ব্যতীত এই আইনের অধীন অন্যান্য অপরাধসমূহ ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী এখতিয়ার সম্পন্ন আদালত কর্তৃক বিচার্য হইবে।
৩৩। এই আইনের অন্য কোনো বিধানে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধসমূহ মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯ (২০০৯ সনের ৫৯ নং আইন) এর তফসিলভুক্ত হওয়া সাপেক্ষে, মোবাইল কোর্ট কর্তৃক বিচার করা যাইবে।
৩৪। এই আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধ আমলযোগ্য (Cognizable), জামিন অযোগ্য (Non Bailable) ও আপস অযোগ্য (Non-Compoundable) হইবে।
৩৫। এই আইনের যে সকল ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কোনো বিধান নেই সেইক্ষেত্রে অপরাধের তদন্ত, বিচার, তল্লাশি, জব্দ, গ্রেপ্তার, ফরেনসিক পরীক্ষা, সম্পদ বাজেয়াপ্তকরণ এবং অন্যান্য কার্যক্রমের ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধির বিধানাবলি প্রযোজ্য হইবে।
চতুর্থ অধ্যায়
বিবিধ
৩৬। (১) যদি কোনো পুলিশ অফিসারের এইরূপ বিশ্বাস করিবার কারণ থাকে যে, এই আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধ সংক্রান্ত কোনো কম্পিউটার, কম্পিউটার সিস্টেম, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক, সফটওয়্যার, অ্যাপ, সার্ভার, ডেটাবেজ, কার্ড, পাশা, টোটালাইজেটর বা অন্য কোনো প্রযুক্তিগত অবকাঠামো কোনো স্থানে বা ব্যক্তির নিকট রক্ষিত রহিয়াছে, তাহা হইলে, তিনি অনুরূপ বিশ্বাসের কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া, সাইবার ট্রাইব্যুনালের নিকট আবেদনের মাধ্যমে তল্লাশি পরোয়ানা সংগ্রহ করিয়া উক্তরূপ কম্পিউটার, কম্পিউটার সিস্টেম, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক, সফটওয়্যার, অ্যাপ, সার্ভার, ডেটাবেজ, কার্ড, পাশা, টোটালাইজেটর বা অন্য কোনো প্রযুক্তিগত অবকাঠামো তল্লাশি ও জব্দ করিতে পারিবেন।
(২) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, যদি উক্ত উপ-ধারায় বর্ণিত কম্পিউটার, কম্পিউটার সিস্টেম, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক, সফটওয়্যার, অ্যাপ, সার্ভার, ডেটাবেজ, কার্ড, পাশা, টোটালাইজেটর বা অন্য কোনো প্রযুক্তিগত অবকাঠামোতে থাকা তথ্য মুছিয়া ফেলা, পরিবর্তন করা, নষ্ট করা বা অন্য কোনো উপায়ে দুষ্প্রাপ্য হইবার বা করিবার সম্ভাবনা থাকে, তাহা হইলে পুলিশ অফিসার কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া, নিম্নবর্ণিত কার্য সম্পাদন করিতে পারিবেন, যথা:-
(ক) উক্ত স্থানে প্রবেশ করিয়া তল্লাশি এবং প্রবেশে বাধাপ্রাপ্ত হইলে ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ;
(খ) উক্ত স্থানে তল্লাশিকালে প্রাপ্ত অপরাধ সংঘটনে ব্যবহার্য কম্পিউটার, কম্পিউটার সিস্টেম, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক, সফটওয়্যার, অ্যাপ, সার্ভার, ডেটাবেজ, কার্ড, পাশা, টোটালাইজেটর বা অন্য কোনো প্রযুক্তিগত অবকাঠামোতে বা অন্যান্য সরঞ্জাম এবং অপরাধ প্রমাণে সহায়ক কোনো দলিল জব্দকরণ;
(গ) উক্ত স্থানে উপস্থিত যেকোনো ব্যক্তির দেহ তল্লাশি; এবং
(ঘ) উক্ত স্থানে উপস্থিত কোনো ব্যক্তি এই আইনের অধীন কোনো অপরাধ করিয়াছেন বা করিতেছেন বলিয়া সন্দেহ হইলে উক্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতার।
(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন তল্লাশি সম্পন্ন করিবার পর পুলিশ অফিসার তল্লাশি পরিচালনার প্রতিবেদন সাইবার ট্রাইব্যুনালের নিকট অনতিবিলম্বে দাখিল করিবেন।
(৪) উপ-ধারা (২) এর অধীন কোনো ব্যক্তিকে গ্রেফতার করিবার পর পুলিশ অফিসার সংবিধানের ৩৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী উক্ত ব্যক্তিকে অনতিবিলম্বে বা যাতায়াতের সময় ব্যতীত অনধিক ২৪ (চব্বিশ) ঘণ্টার মধ্যে নিকটস্থ ম্যাজিস্ট্রেট বা, ক্ষেত্রমত, ট্রাইব্যুনালে হাজির করিবেন।
৩৭। এই আইনের অধীন কোনো স্থান জুয়ার স্থান হিসাবে ব্যবহৃত হইতেছে বলিয়া প্রতীয়মান হইলে, আদালত বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ উক্ত স্থান সাময়িক বা স্থায়ীভাবে সিলগালা, বন্ধ বা জব্দ করিবার নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে।
৩৮। (১) সরকার বা তদকর্তৃক নির্ধারিত কর্তৃপক্ষ জনস্বার্থে বা এই আইনের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের স্বার্থে কোনো জুয়া, বেটিং বা জুয়া-সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ, সার্ভার, Domain Name, IP Address, URL, Social Media Page, Group, Channel বা Digital Gambling Platform ব্লক, অপসারণ বা নিষিদ্ধ করিতে পারিবে।
(২) Mirror Site, Clone Site বা বিকল্প Domain ব্যবহারের মাধ্যমে জুয়া কার্যক্রম পরিচালিত হইলে তাহাও একইভাবে ব্লক করা যাইবে।
৩৯। এই আইনের অধীন কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, এএফএস, পেমেন্ট গেটওয়ে, ডিজিটাল ওয়ালেট, ক্রিপ্টো ওয়ালেট বা অন্য কোনো আর্থিক অ্যাকাউন্ট জুয়ার কাজে ব্যবহৃত হইলে, আদালত উক্ত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, এএফএস, পেমেন্ট গেটওয়ে, ডিজিটাল ওয়ালেট, ক্রিপ্টো ওয়ালেট বা আর্থিক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করিবার নির্দেশ দিতে পারিবে।
৪০। (১) সরকার জুয়া, অনলাইন জুয়া, বেটিং, অর্থপাচার ও সংশ্লিষ্ট অপরাধ প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে একটি জাতীয় ডিজিটাল ব্ল্যাকলিস্ট ডেটাবেজ প্রণয়ন করিতে পারিবে।
(২) উক্ত ডেটাবেজে অপরাধী ব্যক্তির তথ্য, NID, SIM, MFS Account, ব্যাংক হিসাব, Wallet, Device, Domain, IP Address, Website, Mobile App বা অন্য কোনো প্রাসঙ্গিক তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা যাইবে।
৪১। (১) সরকার জুয়া প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে এনআইডি-সিম-এমএফএস লিংকিং সিস্টেম (NID-SIM-MFS Linking System) বাস্তবায়ন করিতে পারিবে।
(২) যে জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে সিম (SIM) নিবন্ধিত, সেই একই পরিচয়ের সহিত সংশ্লিষ্ট MFS Account, Digital Wallet বা অন্য কোনো আর্থিক হিসাবের তথ্য সমন্বিতভাবে যাচাই করা যাইবে।
(৩) এই আইনের উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, প্রয়োজনে, Biometric Verification, Facial Recognition Risk-based Verification System চালু করা যাইবে।
৪২। সরকার এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, একটি আন্তঃসংস্থা টাস্ক ফোর্স (Inter-Agency Task Force) গঠন করিতে পারিবে, যাহাতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, কর্তৃপক্ষ, গোয়েন্দা সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের প্রতিনিধিগণ অন্তর্ভুক্ত থাকিবেন।
৪৩। জুয়া প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগ ও সংস্থাসমূহের দায়িত্ব হইবে নিম্নরূপ, যথা:-
(ক) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আইন প্রয়োগ, সমন্বয়, তদারকি ও নীতিগত নির্দেশনা প্রদান করিবে;
(খ) ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় প্রযুক্তিগত নিয়ন্ত্রণ, ডিজিটাল অবকাঠামো তদারকি এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্ম নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে;
(গ) বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) অবৈধ ওয়েবসাইট, অ্যাপ, ডোমেইন, আইপি এড্রেস ও যোগাযোগ চ্যানেল ব্লক করিবার ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে;
(ঘ) বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ ফাইনান্সসিয়াল ইন্টিলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইউ) জুয়া সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেন, অর্থপাচার, সন্দেহজনক হিসাব ও আর্থিক গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনা করিবে;
(ঙ) নির্বাচন কমিশন জাতীয় পরিচয়পত্রসংক্রান্ত তথ্য যাচাই ও পরিচয় জালিয়াতি প্রতিরোধে সহযোগিতা করিবে;
(চ) গোয়েন্দা সংস্থাসমূহ জাতীয় পর্যায়ে তথ্য বিশ্লেষণ, গোয়েন্দা সহায়তা ও ডিজিটাল নজরদারি কার্যক্রম পরিচালনা করিবে;
(ছ) ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট তদন্ত, ডিজিটাল ফরেনসিক বিশ্লেষণ ও অপরাধী শনাক্তকরণ কার্যক্রম পরিচালনা করিবে;
(জ) জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি সাইবার নিরাপত্তা, সাইবার হুমকি বিশ্লেষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করিবে;
(ঝ) ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসমূহের মাধ্যমে জনসচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করিবে;
(ঞ) তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় গণমাধ্যমে জুয়া বিরোধী প্রচারণা, সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও বিজ্ঞাপন নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে;
(ট) যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় খেলাধুলাভিত্তিক বেটিং, ম্যাচ ফিক্সিং ও স্পট ফিক্সিং প্রতিরোধে কার্যক্রম পরিচালনা করিবে; এবং
(ঠ) শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহে জুয়ার কুফল বিষয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করিবে।
৪৪। (১) সরকার, AI Monitoring System, Deep Packet Inspection (DPI), Risk Scoring System, Transaction Monitoring System, Data Analytics ও অন্য কোনো আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করিয়া অনলাইন জুয়া ও অনলাইন বেটিং কার্যক্রম শনাক্ত ও প্রতিরোধ করিতে পারিবে।
(২) এআই-ভিত্তিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে সন্দেহজনক লেনদেন, ওয়েবসাইট, অ্যাপ, ডিভাইস, ওয়ালেট বা অ্যাকাউন্ট চিহ্নিত করা যাইবে।
৪৫। সরকার জুয়ার কুফল সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গণমাধ্যম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করিবে।
৪৬। (১) সরকার এই আইনের অধীন অপরাধ প্রতিরোধ, তদন্ত, বিচার, তথ্য বিনিময়, অর্থ পুনরুদ্ধার ও অপরাধী প্রত্যর্পণের উদ্দেশ্যে কোনো বিদেশি রাষ্ট্র, আন্তর্জাতিক সংস্থা, আন্তর্জাতিক আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা এবং Interpol এর সহিত সহযোগিতা করিতে পারিবে।
(২) প্রয়োজনবোধে দ্বিপাক্ষিক বা বহুপাক্ষিক চুক্তি সম্পাদন করা যাইবে।
৪৭। (১) সরকার জুয়া, বেটিং, অর্থপাচার ও সংশ্লিষ্ট অপরাধ বিষয়ে পরিসংখ্যান সংগ্রহ, গবেষণা পরিচালনা এবং বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করিতে পারিবে।
(২) উক্ত প্রতিবেদন জনসচেতনতা ও নীতিনির্ধারণের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যাইবে।
৪৮। সরকার, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।
৪৯। (১) Public Gambling Act, 1867 (Act No. II of 1867), অতঃপর উক্ত Act বলিয়া উল্লিখিত, এতদ্দ্বারা রহিত করা হইল।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন রহিতকরণ সত্ত্বেও উক্ত Act এর অধীন-
(ক) কৃত কোনো কার্য বা গৃহীত কোনো ব্যবস্থা এই আইনের অধীন কৃত বা গৃহীত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে;
(খ) জারীকৃত কোনো আদেশ, বিজ্ঞপ্তি অথবা প্রজ্ঞাপন এই আইনের অধীন জারীকৃত বলিয়া গণ্য হইবে;
(গ) কোনো মামলা অথবা কার্যধারা কোনো আদালতে বিচারাধীন থাকিলে উহা উক্ত আদালত কর্তৃক এইরূপে নিষ্পত্তি হইবে, যেন উক্ত Act রহিত হয় নাই।
৫০। (১) এই আইন কার্যকর হইবার পর সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, ইহার ইংরেজিতে অনূদিত একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ (Authentic English Text) প্রকাশ করিতে পারিবে।
(২) বাংলা ও ইংরেজি পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাইবে।