প্রিন্ট ভিউ
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর অধিকতর সংশোধনকল্পে প্রণীত আইন
যেহেতু নিম্নবর্ণিত উদ্দেশ্যসমূহ পূরণকল্পে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ (২০১৮ সনের ৬৩ নং আইন) এর অধিকতর সংশোধন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়;
সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল :-
১। (১) এই আইন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) আইন, ২০২৬ নামে অভিহিত হইবে।
(২) ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে।
২। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ (২০১৮ সনের ৬৩ নং আইন), অতঃপর উক্ত আইন বলিয়া উল্লিখিত, এর ধারা ২ এর-
(ক) দফা (১২) এর পর নিম্নরূপ নূতন দফা (১২ক) ও (১২খ) সন্নিবেশিত হইবে, যথা :-
“(১২ক) “ডগ স্কোয়াড” অর্থ মাদকদ্রব্য শনাক্তকরণ ও অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনার উদ্দেশ্যে প্রশিক্ষিত কুকুর এবং উক্ত কুকুর পরিচালনা ও তত্ত্বাবধানের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সমন্বয়ে গঠিত অধিদপ্তরের বিশেষায়িত ইউনিট;
(১২খ) “ডিজিটাল ডিভাইস” অর্থ সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৮১ নং আইন) এর ধারা ২ এর উপ-ধারা (১) এর দফা (ণ)-তে সংজ্ঞায়িত ডিজিটাল ডিভাইস;”;
(খ) দফা (১৪) এর পর নিম্নরূপ নূতন দফা (১৪ক) ও (১৪খ) সন্নিবেশিত হইবে, যথা :-
“(১৪ক) “নিরাপত্তা হেফাজত” অর্থ মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধে আটককৃত ব্যক্তিকে আটকের পর হইতে সংশ্লিষ্ট থানায় সোপর্দের পূর্ব পর্যন্ত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের হেফাজতে অবস্থানকাল;
(১৪খ) নির্বাহী তদন্ত” অর্থ পুলিশ প্রবিধান, ১৯৪৩ এ উল্লিখিত নির্বাহী তদন্ত;”;
(গ) দফা (৩০) এর পর নিম্নরূপ নূতন দফা (৩০ক) ও (৩০খ) সন্নিবেশিত হইবে, যথা :-
“(৩০ক) “মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল” অর্থ ধারা ৪৪ক এর অধীন গঠিত মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল;
“(৩০খ) “মালখানা” অর্থ এই আইনের অধীন পরিচালিত মাদকবিরোধী অভিযানকালে অধিদপ্তর কর্তৃক জব্দকৃত আলামত সংরক্ষণের নির্ধারিত স্থান;”;
(ঘ) দফা (৩৪) এর প্রান্তস্থিত “এবং” শব্দ বিলুপ্ত হইবে; এবং
(ঙ) দফা (৩৫) এর প্রান্তস্থিত “।” দাঁড়ি চিহ্নের পরিবর্তে “;”সেমিকোলন চিহ্ন প্রতিস্থাপিত হইবে, এবং অতঃপর নিম্নরূপ নূতন দফা (৩৬) এবং (৩৭) সংযোজিত হইবে, যথা :-
“(৩৬) “সাইবার স্পেস” অর্থ আন্তঃসংযোগকৃত সকল ডিজিটাল ডিভাইস এবং ডিজিটাল নেটওয়ার্কসমূহের সকল ফিজিক্যাল এবং ভার্চুয়াল জগৎ বুঝাইবে (যেমন- ইন্টারনেট, টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, ব্লকচেইন কম্পিউটিং, মেশিন লার্নিং ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নেটওয়ার্ক, গেইমিং নেটওয়ার্ক, কম্পিউটারে এইডেড ম্যানুফ্যাকচারিং, মেশিন ভিশন, ক্লাউড কম্পিউটিং, ইন্টারনেট অব থিংস, সোশাল মিডিয়া এবং অন্যান্য সকল আধুনিকতম ইলেকট্রনিক ও অপটিক্যাল যোগাযোগ ব্যবস্থা যেখানে ডাটা তৈরি, ডাটা মিররিং, অ্যাকসেস, প্রেরণ, সংরক্ষণ, ব্যবস্থাপনাসহ সকল ধরনের হিউম্যান ও নন-হিউম্যান অনলাইন কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়) এবং ডিজিটাল ডিভাইস, কম্পিউটার, কম্পিউটার সিস্টেম, কম্পিউটার ডাটা, সিগনালিং ডাটা, ট্রাফিক ডাটা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উৎপন্ন ডাটাও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে; এবং
(৩৭) “হাজতখানা” অর্থ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কর্তৃক মাদক অপরাধ সংশ্লিষ্ট গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে নিরাপত্তা হেফাজতে আটক রাখিবার স্থান।”।
৩। উক্ত আইনের ধারা ৪ এর বিদ্যমান বিধান উপ-ধারা (১) হিসাবে সংখ্যায়িত হইবে, এবং অতঃপর নিম্নরূপ নূতন উপ-ধারা (২), (৩) ও (৪) সংযোজিত হইবে, যথা :-
“(২) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, অধিদপ্তর পোশাক ও আগ্নেয়াস্ত্র সজ্জিত জনবল সংবলিত একটি বিশেষায়িত সংস্থা হিসাবে গণ্য হইবে।
(৩) অধিদপ্তরের একটি মনোগ্রাম ও একটি পতাকা থাকিবে, যাহা সরকার কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতিতে তৈরি ও ব্যবহৃত হইবে।
(৪) অধিদপ্তর উহার কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অসাধারণ কৃতিত্ব, বীরত্ব, সততা, দক্ষতা ও সেবার স্বীকৃতিস্বরূপ পদক, সম্মাননা বা পুরস্কার প্রদান করিতে পারিবে; এবং এতদ্সংক্রান্ত যোগ্যতা, নির্বাচন পদ্ধতি, শ্রেণিবিন্যাস ও অন্যান্য বিষয়াদি সরকার কর্তৃক নির্ধারিত হইবে।’’।
৪। উক্ত আইনের ধারা ৬-
(ক) এ উল্লিখিত “অধিদপ্তরের কার্যাবলি হইবে নিম্নরূপ, যথা:-” শব্দগুলি, কমা ও চিহ্নের পরিবর্তে “মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে নোডাল এজেন্সি হিসাবে অধিদপ্তরের কার্যাবলি হইবে নিম্নরূপ, যথা :-” শব্দগুলি, কমা ও চিহ্ন প্রতিস্থাপিত হইবে;
(খ) এর দফা (গ) এর পরিবর্তে নিম্নরূপ দফা (গ) প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা :-
“(গ) মাদকদ্রব্য উৎপাদন, মজুদ, সংরক্ষণ, আমদানি, রপ্তানি, সরবরাহ, ব্যবহার ও নিয়ন্ত্রণে লাইসেন্স, পারমিট, পাস, অনুমোদন, নবায়ন, স্থগিতকরণ, বাতিলকরণ, তদন্ত, তদারকি এবং এতদ্সংক্রান্ত অন্যান্য কার্যক্রম গ্রহণ;”;
(গ) এর দফা (গ) এর পর নিম্নরূপ নূতন দফা (গগ) সন্নিবেশিত হইবে, যথা :-
“(গগ) মাদকদ্রব্য সংশ্লিষ্ট অপরাধ দমনে আইন প্রয়োগ, ফাইন্যান্সিয়াল ও সাইবার ক্রাইম, তদন্ত, প্রসিকিউশন, মামলা রুজুকরণ বা রেকর্ডকরণ এবং মাদকদ্রব্য-সৃষ্ট সম্ভাব্য ক্ষতিকর প্রতিক্রিয়া রোধকল্পে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ;”।
৫। উক্ত আইনের ধারা ১৫ এর উপ-ধারা (১) এর-
(ক) দফা (ক) এ উল্লিখিত “অনূর্ধ্ব ১ (এক) লক্ষ টাকা” শব্দগুলি, সংখ্যা ও বন্ধনীর পরিবর্তে “৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকা” শব্দগুলি, সংখ্যা ও বন্ধনী প্রতিস্থাপিত হইবে;
(খ) দফা (খ) এ উল্লিখিত “দ্বিতীয়বার” শব্দের পরিবর্তে “পুনরায়” শব্দ প্রতিস্থাপিত হইবে; এবং
(গ) দফা (খ) এর প্রান্তস্থিত “।” দাঁড়ি চিহ্নের পরিবর্তে “;”সেমিকোলন চিহ্ন প্রতিস্থাপিত হইবে, এবং অতঃপর নিম্নবর্ণিত নূতন দফা (গ) সংযোজিত হইবে, যথা :-
“(গ) লাইসেন্স, পারমিট অথবা পাস বাতিলের ক্ষেত্রে জব্দকৃত মালামাল সরকার কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতি অনুযায়ী বিলিবন্দেজ করিবে।”।
৬। উক্ত আইনের ধারা ২৫ এর পর নিম্নরূপ নূতন ধারা ২৫ক, ২৫খ এবং ২৫গ সন্নিবেশিত হইবে, যথা :-
“২৫ক। আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ বহন, ব্যবহার, সংরক্ষণ এবং নির্বাহী তদন্ত, ইত্যাদি।-(১) এই আইনের অধীন দায়িত্ব পালনকালে অধিদপ্তরের আগ্নেয়াস্ত্রের প্রাধিকারপ্রাপ্ত অফিসার সরকার কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতিতে আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ বহন, ব্যবহার ও সংরক্ষণ করিতে পারিবেন।
(২) সরকার কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতিতে গুলিবর্ষণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নির্বাহী তদন্ত পরিচালিত হইবে।
(৩) অধিদপ্তর উহার প্রধান কার্যালয়সহ সকল অফিস ভবনে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও যথাযথ প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে প্রশিক্ষিত জনবল নিয়োগপূর্বক নিজস্ব আরমারি বা অস্ত্রাগার নির্মাণ করিতে পারিবে।
২৫খ। হাজতখানা স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা।-(১) অধিদপ্তর উহার সকল কার্যালয়ে হাজতখানা স্থাপন ও পরিচালনা করিতে পারিবে।
(২) এই আইনের অধীনে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর বিধান অনুসারে আদালতে উপস্থাপনের নিমিত্ত আইনানুগ সময় পর্যন্ত উক্ত হাজতখানায় নিরাপত্তা হেফাজতে আটক রাখা যাইবে।
(৩) হাজতখানার নিরাপত্তা, তত্ত্বাবধান, পরিদর্শন, জবাবদিহিতা, স্বাস্থ্য এবং মানবাধিকার সুরক্ষা সম্পর্কিত বিষয়াবলি সরকার কর্তৃক নির্ধারিত হইবে।
(৪) পুরুষ ও নারীর জন্য হাজতখানায় পৃথক ব্যবস্থাপনা থাকিবে এবং শিশুদের জন্য শিশু আইন, ২০১৩ (২০১৩ সনের ২৪ নং আইন) অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে হইবে।
২৫গ। প্রসিকিউশন ও আদালতের কার্যক্রমে সহায়তা।-(১) এই আইনের অধীন অধিদপ্তর কর্তৃক দায়েরকৃত মামলাসমূহের বিচার নিশ্চিতকরণ, মামলা পরিচালনা ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীকে সহায়তা ও সমন্বয় সাধন, এবং আদালতকে প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথি সরবরাহের উদ্দেশ্যে অধিদপ্তর প্রতি জেলার আদালত ভবনে প্রসিকিউশন শাখা স্থাপন করিতে পারিবে।
(২) প্রসিকিউশন শাখায় নিযুক্ত অফিসার আদালতে মামলা সংক্রান্ত তথ্য, নথিপত্র, তদন্ত অগ্রগতি, আলামত প্রদর্শন, সাক্ষীর উপস্থিতি এবং বিচার কার্যক্রমে সহায়ক অন্যান্য বিষয় সমন্বয় করিবেন।”।
৭। উক্ত আইনের ধারা ২৬ এর উপ-ধারা (৪) এ উল্লিখিত “এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতের” শব্দগুলির পর “বা, ক্ষেত্রমত, মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের” শব্দগুলি ও কমাগুলি সন্নিবেশিত হইবে।
৮। উক্ত আইনের ধারা ২৭ এর উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত “এখতিয়ারসম্পন্ন আদালত” শব্দগুলির পর “বা, ক্ষেত্রমত, মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল” শব্দগুলি ও কমাগুলি এবং “উক্ত আদালত” শব্দগুলির পর “বা, ক্ষেত্রমত, ট্রাইব্যুনাল” শব্দগুলি ও কমাগুলি সন্নিবেশিত হইবে।
৯। উক্ত আইনের ধারা ২৮ এর উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত “এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতের” শব্দগুলির পর “বা, ক্ষেত্রমত, মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের” শব্দগুলি ও কমাগুলি সন্নিবেশিত হইবে।
১০। উক্ত আইনের ধারা ২৮ এর পর নিম্নরূপ নূতন ধারা ২৮ক সন্নিবেশিত হইবে, যথা:-
“২৮ক। মালখানা স্থাপন ও পরিচালনা, ইত্যাদি।-(১) এই আইনের অধীন পরিচালিত কোনো অভিযানকালে জব্দকৃত মাদকদ্রব্য ও অন্যান্য আলামত সংরক্ষণের জন্য অধিদপ্তরের নিজস্ব মালখানা থাকিবে যাহা সরকার কর্তৃক নির্ধারিত বিধি ও পদ্ধতি দ্বারা স্থাপিত ও পরিচালিত হইবে।
(২) আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বা বাহিনী কর্তৃক জব্দকৃত মাদকদ্রব্য বাজেয়াপ্তের জন্য আদালতের আদেশ প্রাপ্তির তারিখ হইতে ১৫ (পনেরো) কর্মদিবসের মধ্যে বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে উক্ত জব্দকৃত মাদকদ্রব্য ধ্বংস অথবা মাদকদ্রব্য ব্যতিত অন্য কোনো আলামত বা আলামতসমূহ আইনানুগ পদ্ধতিতে নিষ্পত্তি করিতে হইবে।”।
১১। উক্ত আইনের ধারা ২৯ এর-
(ক) উপ-ধারা (১) এর পর নিম্নরূপ নূতন উপ-ধারা (১ক) সন্নিবেশিত হইবে, যথা:-
“(১ক) মাদক অপরাধ মামলা দ্রুততম সময়ের মধ্যে দায়েরের সুবিধার্থে প্রত্যেক থানায় একটি বিশেষ সেল থাকিবে যাহা দ্রুত মাদক অপরাধ মামলা রুজু করিবে; আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল সংক্রান্ত এবং নিষ্পত্তিকৃত মামলা সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ করিবে এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মহাপরিচালক বরাবর মাসিক ভিত্তিতে প্রতিবেদন প্রেরণ করিবে।”;
(খ) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত “এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতের” শব্দগুলির পর “বা, ক্ষেত্রমত, মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের” শব্দগুলি ও কমাগুলি এবং “উক্ত আদালতকে” শব্দগুলির পর “বা, ক্ষেত্রমত, মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালকে” শব্দগুলি ও কমাগুলি সন্নিবেশিত হইবে।
১২। উক্ত আইনের ধারা ৩১ এর-
(ক) উপ-ধারা (১) এর-
(অ) দফা (ক) এ উল্লিখিত “এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতের” শব্দগুলির পর “বা, ক্ষেত্রমত, মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের” শব্দগুলি ও কমাগুলি সন্নিবেশিত হইবে; এবং
(আ) দফা (খ) এ উল্লিখিত “এখতিয়ারসম্পন্ন আদালত” শব্দগুলির পর “বা, ক্ষেত্রমত, মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল” শব্দগুলি ও কমাগুলি সন্নিবেশিত হইবে;
(খ) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত “এখতিয়ারসম্পন্ন আদালত” শব্দগুলির পর “বা, ক্ষেত্রমত, মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল” শব্দগুলি ও কমাগুলি সন্নিবেশিত হইবে;
(গ) উপ-ধারা (৩) এ উল্লিখিত “এখতিয়ারসম্পন্ন আদালত” শব্দগুলির পর “বা, ক্ষেত্রমত, মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল” শব্দগুলি ও কমাগুলি সন্নিবেশিত হইবে;
(ঘ) উপ-ধারা (৪) এ উল্লিখিত “এখতিয়ারসম্পন্ন আদালত” শব্দগুলির পর “বা, ক্ষেত্রমত, মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল” শব্দগুলি ও কমাগুলি সন্নিবেশিত হইবে;
(ঙ) উপ-ধারা (৫) এ উল্লিখিত “এখতিয়ারসম্পন্ন আদালত” শব্দগুলির পর “বা, ক্ষেত্রমত, মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল” শব্দগুলি ও কমাগুলি সন্নিবেশিত হইবে; এবং
(চ) উপ-ধারা (৬) এ উল্লিখিত “এখতিয়ারসম্পন্ন আদালত” শব্দগুলির পর “বা, ক্ষেত্রমত, মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল” শব্দগুলি ও কমাগুলি সন্নিবেশিত হইবে।
১৩। উক্ত আইনের ধারা ৩৩ এর-
(ক) উপ-ধারা (২) এর পর নিম্নরূপ নূতন উপ-ধারা (২ক) সন্নিবেশিত হইবে, যথা:-
“(২ক) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার অধিদপ্তরে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ সেল স্থাপন ও প্রতিষ্ঠা করিতে পারিবে।”;
(খ) উপ-ধারা (৩) এ উল্লিখিত “এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে” শব্দগুলির পর “বা, ক্ষেত্রমত, মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে” শব্দগুলি ও কমাগুলি সন্নিবেশিত হইবে;
(গ) উপ-ধারা (৪) এ উল্লিখিত “এখতিয়ারসম্পন্ন আদালত” শব্দগুলির পর “বা, ক্ষেত্রমত, মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল” শব্দগুলি ও কমাগুলি সন্নিবেশিত হইবে;
(ঘ) উপ-ধারা (৫) এ উল্লিখিত “এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতকে” শব্দগুলির পর “বা, ক্ষেত্রমত, মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালকে” শব্দগুলি ও কমাগুলি সন্নিবেশিত হইবে; এবং
(ঙ) উপ-ধারা (৫) এর পর নিম্নবর্ণিত নূতন উপ-ধারা (৬) সংযোজিত হইবে, যথা:-
“(৬) মাদক সংক্রান্ত মানি লন্ডারিং মামলায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, প্রয়োজনে, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইনটেলিজেন্স ইউনিটসহ অন্যান্য সহযোগী সংস্থার সমন্বয়ে বিধি মোতাবেক তদন্তকাজ সম্পন্ন করিতে পরিবে।”।
১৪। উক্ত আইনের ধারা ৩৪ এর-
(ক) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত “এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতের” শব্দগুলির পর “বা, ক্ষেত্রমত, মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের” শব্দগুলি এবং কমাগুলি সন্নিবেশিত হইবে; এবং
(খ) উপ-ধারা (২) এ-
(অ) উল্লিখিত “এখতিয়ারসম্পন্ন আদালত” শব্দগুলির পর “বা, ক্ষেত্রমত, মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল” শব্দগুলি ও কমাগুলি সন্নিবেশিত হইবে;
(আ) প্রথম শর্তাংশে উল্লিখিত “এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতের” শব্দগুলির পর “বা, ক্ষেত্রমত, মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের” শব্দগুলি ও কমাগুলি সন্নিবেশিত হইবে;
(ই) দ্বিতীয় শর্তাংশে উল্লিখিত “এখতিয়ারসম্পন্ন আদালত” শব্দগুলির পর “বা, ক্ষেত্রমত, মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল” শব্দগুলি ও কমাগুলি সন্নিবেশিত হইবে; এবং
(গ) উপ-ধারা (৩) এ উল্লিখিত “এখতিয়ারসম্পন্ন আদালত” শব্দগুলির পর “বা, ক্ষেত্রমত, মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল” শব্দগুলি ও কমাগুলি সন্নিবেশিত হইবে।
১৫। উক্ত আইনের ধারা ৩৫ এর পর নিম্নরূপ নূতন ধারা ৩৫ক, ৩৫খ এবং ৩৫গ সন্নিবেশিত হইবে, যথা:-
“৩৫ক। মাদক সংক্রান্ত সাইবার ক্রাইম নিয়ন্ত্রণ।-(১) সরকার অধিদপ্তরে মাদকদ্রব্য সংক্রান্ত সাইবার ক্রাইম নিয়ন্ত্রণ শাখা ও ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবরেটরি স্থাপন ও প্রতিষ্ঠা করিতে পারিবে।
(২) সাইবার স্পেসে সংগঠিত মাদকদ্রব্য অপরাধ শনাক্তকরণ, প্রতিরোধ, দমন ও উক্ত অপরাধের বিচার কার্যক্রম এখতিয়ারসম্পন্ন আদালত বা, ক্ষেত্রমত, মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক পরিচালিত হইবে।
(৩) কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা প্রতিষ্ঠান তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, ইন্টারনেট, ডার্ক ওয়েব, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন, ই-মেইল, এনক্রিপটেড মেসেজিং বা অন্য কোনো ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করিয়া মাদকদ্রব্যের ক্রয়-বিক্রয়, সরবরাহ, পরিবহণ বা বিতরণের উদ্দেশ্যে যোগাযোগ পরিচালনা করিলে, অথবা মাদকদ্রব্য সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা, ই-ওয়ালেট, ভার্চুয়াল সম্পদ বা ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার করিলে, তাহা এই আইনের অধীন অপরাধ বলিয়া গণ্য হইবে।
(৪) ডিজিটাল তথ্য সংরক্ষণ ও জব্দের ক্ষেত্রে-
(ক) অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কম্পিউটার, মোবাইল ডিভাইস, সার্ভার, ক্লাউড স্টোরেজ, ডিজিটাল ওয়ালেট এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ইলেকট্রনিক তথ্য জব্দ, সংরক্ষণ এবং ফরেনসিক পরীক্ষা গ্রহণের ব্যবস্থা করিবেন; এবং
(খ) মাদকদ্রব্যের প্রচার, ক্রয়, বিক্রয় বা ব্যবহারে উৎসাহ প্রদানকারী কোনো অনলাইন তথ্য-উপাত্ত, ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অ্যাকাউন্ট বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম সনাক্ত হইলে মহাপরিচালক উহা অপসারণ বা ব্লক করিবার জন্য বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে অনুরোধ করিতে পারিবেন।
৩৫খ। সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচার প্রতিরোধ, অভিযান পরিচালনা ও আন্তঃসংস্থা সমন্বয়।-(১) বাংলাদেশে মাদকদ্রব্যের অবৈধ অনুপ্রবেশ, চোরাচালান, পাচার, পরিবহণ ও বিস্তার প্রতিরোধকে জাতীয় অগ্রাধিকারমূলক কার্যক্রম হিসাবে গণ্য করা হইবে।
(২) অধিদপ্তরের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ সীমান্তবর্তী এলাকা, আন্তর্জাতিক সীমারেখা সংলগ্ন এলাকা, স্থলবন্দর, নৌবন্দর, বিমানবন্দর এবং মাদকদ্রব্য পাচারের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাসমূহে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, নজরদারি, অভিযান, তল্লাশি, জব্দ, গ্রেফতার ও তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করিবেন।
(৩) সীমান্ত নিরাপত্তার দায়িত্বপ্রাপ্ত বাহিনী অধিদপ্তরকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও তথ্য বিনিময়ে সহায়তা প্রদান করিবে।
৩৫গ। ডগ স্কোয়াড গঠন, পরিচালনা ও ব্যবহার।-(১) মাদকদ্রব্য সংক্রান্ত অপরাধ প্রতিরোধ, শনাক্তকরণ, তল্লাশি, উদ্ধার এবং আইন প্রয়োগ কার্যক্রম অধিকতর কার্যকরভাবে পরিচালনার উদ্দেশ্যে অধিদপ্তর নিজস্ব ডগ স্কোয়াড গঠন ও পরিচালনা করিতে পারিবে।
(২) ডগ স্কোয়াড বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর, স্থলবন্দর, ডাক ও কুরিয়ার সেবাকেন্দ্র, গুদাম, যানবাহন, ভবন এবং আইনানুগভাবে তল্লাশিযোগ্য অন্য যেকোনো স্থানে ব্যবহৃত হইবে।
(৩) ডগ স্কোয়াডের কুকুর, পরিচালনাকারী ইউনিট, কুকুর ক্রয়, চিকিৎসা, আবাসন, পরিবহণ, নিরাপত্তা ও প্রশিক্ষণ সম্পর্কিত বিষয়াদি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।”।
১৬। উক্ত আইনের ধারা ৩৬ এর-
(ক) উপ-ধারা (৪) এ উল্লিখিত “এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে” শব্দগুলির পর “বা, ক্ষেত্রমত, মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে” শব্দগুলি ও কমাগুলি এবং “উক্ত আদালত” শব্দগুলির পর “বা, ক্ষেত্রমত, মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল” শব্দগুলি ও কমাগুলি সন্নিবেশিত হইবে; এবং
(খ) উপ-ধারা (৬) এর পর নিম্নবর্ণিত নূতন উপ-ধারা (৭), (৮), (৯), (১০) ও (১১) সংযোজিত হইবে, যথা:-
“(৭) অপরাধীর বয়স, স্বভাব-চরিত্র, প্রাক পরিচয় অথবা শারীরিক ও মানসিক অবস্থা এবং অপরাধের ধরন অথবা অপরাধ সংগঠনে শাস্তি লাঘবকারী পরিস্থিতি বিবেচনাপূর্বক সংশ্লিষ্ট আদালত, বা ক্ষেত্রমত মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল প্রয়োজনে Probation of Offenders Ordinance, 1960 (Ordinance NO. XLV OF 1960) এর অধীন আইনানুগ কার্যক্রম গ্রহণ করিতে পারিবে।
(৮) অধিদপ্তরের লাইসেন্স গ্রহণ ব্যতিরেকে কেহ বেসরকারি পর্যায়ে মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র, মাদকাসক্তি পুনর্বাসন কেন্দ্র ও মাদকাসক্তি পরামর্শ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা করিলে অনূর্ধ্ব ১ (এক) বৎসর কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবে।
(৯) সরকার কর্তৃক বেসরকারি পর্যায়ে মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র ও মাদকাসক্তি পুনর্বাসন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার অনুমতি প্রদান করিবার পর অনুমতি প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান বিদ্যমান বিধি-বিধান অনুযায়ী পরিচালনা না করা হইলে তাহাকে কারণ দর্শানোর সুযোগ প্রদান করিয়া মহাপরিচালক লাইসেন্সটি বাতিল করিতে পারিবে।
(১০) উপ-ধারা (৯) এর অধীন প্রদত্ত বাতিল আদেশের দ্বারা কোনো ব্যক্তি সংক্ষুব্ধ হইলে তিনি বাতিল আদেশ প্রাপ্তির তারিখ হইতে ৩০ (ত্রিশ) কার্যদিবসের মধ্যে সরকারের নিকট আপিল করিতে পারিবে এবং আপিল কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হইবে।
(১১) নিউ সাইকোঅ্যাকটিভ সাবস্টেন্স (New Psychoactive Substance) আবির্ভূত ও চিহ্নিত হওয়া মাত্রই আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসমূহ অধিদপ্তরকে অবহিত করিবে এবং অধিদপ্তর এতদ্সংক্রান্ত আগাম সতর্কবার্তা (Early Warning System) জারি করিবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদানুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।”।
১৭। উক্ত আইনের ধারা ৩৬ এর পর নিম্নরূপ নূতন ধারা ৩৬ক সন্নিবেশিত হইবে, যথা:-
৩৬ক। সাইবার স্পেস বা ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করিয়া মাদকদ্রব্য বা সাইকোঅ্যাকটিভ সাবস্টেন্স এর অবৈধ ক্রয়, বিক্রয়, সরবরাহ, প্রস্তাব, প্রচার বা লেনদেন, ইত্যাদির দন্ড।-(১) যদি কোনো ব্যক্তি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে-
(ক) কোনো সাইবার স্পেস, ডিজিটাল ডিভাইস, ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, ইলেকট্রনিক যোগাযোগব্যবস্থা বা অন্য কোনো ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করিয়া মাদকদ্রব্য বা সাইকোঅ্যাকটিভ সাবস্টেন্স ক্রয়, বিক্রয়, সরবরাহ, প্রস্তাব, বিজ্ঞাপন, মধ্যস্থতা, যোগাযোগ অথবা এতদসংক্রান্ত কোনো অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করেন বা করিবার চেষ্টা করেন; অথবা
(খ) দফা (ক) এ বর্ণিত উদ্দেশ্যে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা, ই-ওয়ালেট, ভার্চুয়াল সম্পদ বা ক্রিপ্টোকারেন্সি, ইত্যাদি ব্যবহার করেন বা করিবার চেষ্টা করেন,
তাহা হইলে উহা হইবে অপরাধ:
তবে শর্ত থাকে যে, এই উপ-ধারার অধীন অপরাধের ক্ষেত্রে অপরাধীর নিকট হইতে মাদকদ্রব্য উদ্ধার হওয়া বাধ্যতামূলক হইবে না।
(২) কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনো অপরাধ করিলে তিনি যে কোনো মেয়াদের কারাদণ্ডে অথবা সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ডে এবং অনূর্ধ্ব ২০ (বিশ) লক্ষ টাকা অর্থদন্ডে দন্ডিত হইবেন।
(৩) উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনো অপরাধ আন্তর্জাতিকভাবে বা কোনো সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের মাধ্যমে সংগঠিত অথবা পুনঃসংগঠিত হইলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যে কোনো মেয়াদের কারাদণ্ডে অথবা অনূর্ধ্ব ৫০ (পঞ্চাশ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
(৪) উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনো অপরাধে ব্যবহৃত সাইবার স্পেস, ডিজিটাল ডিভাইস, ইত্যাদি বা ডিজিটাল অ্যাকাউন্ট, ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা, ই-ওয়ালেট, ভার্চুয়াল সম্পদ বা ক্রিপ্টোকারেন্সি, ইত্যাদি এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতের বা, ক্ষেত্রমত, মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের আদেশক্রমে ব্লক, অপসারণ, জব্দ, বাজেয়াপ্ত বা, ক্ষেত্রমত, রাষ্ট্রের অনুকূলে ন্যস্ত করা যাইবে।”।
১৮। উক্ত আইনের ধারা ৪৪ এর পর নিম্নরূপ নূতন ধারা ৪৪ক সন্নিবেশিত হইবে, যথা:-
“৪৪ক। ট্রাইব্যুনাল গঠন।-(১) এই আইনের অধীন অন্যূন ৫ (পাঁচ) বৎসর বা ততোধিক মেয়াদের কারাদণ্ড, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধ আমলে গ্রহণ ও বিচারের জন্য সরকার প্রত্যেক জেলা বা, ক্ষেত্রমত, মহানগর এলাকার জন্য ভৌগোলিক সীমারেখা নির্ধারণ করিয়া এক বা একাধিক ট্রাইব্যুনাল গঠন করিতে পারিবে, যাহা মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল নামে অভিহিত হইবে।
(২) একজন বিচারকের সমন্বয়ে ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠিত হইবে এবং সরকার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজগণের মধ্য হইতে উক্ত ট্রাইব্যুনালের বিচারক নিযুক্ত করিবে।
(৩) এই ধারার অধীন কোনো জেলায় বা মহানগর এলাকার জন্য মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল স্থাপন করা হইলে উক্ত জেলা বা মহানগর এলাকায় উপ-ধারা (১) এ বর্ণিত অপরাধ আমলে গ্রহণ ও বিচার করিবার ক্ষেত্রে ধারা ৪৪ এ উল্লিখিত এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতের এখতিয়ার বিলুপ্ত হইবে এবং এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে বিচারাধীন এরূপ মামলা ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরিত হইবে।
(৪) উপ-ধারা (৩) এর অধীন কোনো মামলা যে পর্যায় হইতে ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরিত হইবে সেই পর্যায় হইতে উক্ত মামলার বিচারকার্য পরিচালিত হইবে।”।
১৯। উক্ত আইনের ধারা ৪৭ এর
(ক) উপ-ধারা (১) এর-
(অ) দফা (খ) এ উল্লিখিত “এখতিয়ারসম্পন্ন আদালত” শব্দগুলির পর “বা, ক্ষেত্রমত, মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল” শব্দগুলি ও কমাগুলি সন্নিবেশিত হইবে; এবং
(আ) দফা (গ) এ উল্লিখিত “এখতিয়ারসম্পন্ন আদালত” শব্দগুলির পর “বা, ক্ষেত্রমত, মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল” শব্দগুলি ও কমাগুলি সন্নিবেশিত হইবে; এবং
(খ) উপ-ধারা (২) এ দুইবার উল্লিখিত “এখতিয়ারসম্পন্ন আদালত” শব্দগুলির পর “বা, ক্ষেত্রমত, মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল” শব্দগুলি ও কমাগুলি সন্নিবেশিত হইবে।
২০। উক্ত আইনের ধারা ৪৮ এর বিদ্যমান বিধান উপ-ধারা (১) হিসাবে সংখ্যায়িত হইবে, এবং অতঃপর পর নিম্নরূপ নূতন উপ-ধারা (২), (৩), (৪) ও (৫) সংযোজিত হইবে, যথা:-
“(২) মাদকদ্রব্য সংক্রান্ত মামলার অগ্রাধিকার ও দ্রুত নিষ্পত্তি মাদকদ্রব্য সংক্রান্ত মামলার প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ শুনানি, আদেশ এবং কার্যক্রম যথাযথভাবে লিখিত বা ডিজিটাল রেকর্ড আকারে সংরক্ষণ করিতে হইবে।
(৩) মাদকদ্রব্য সংক্রান্ত মামলাসমূহের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের জন্য অধিদপ্তরের একটি স্বতন্ত্র মামলা ব্যবস্থাপনা পর্যবেক্ষণ সেল থাকিবে।
(৪) মাদকদ্রব্য সংক্রান্ত মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মামলা পরিচালনা, সাক্ষ্য উপস্থাপন ও যুক্তি তর্ক উপস্থাপনে তৎপর থাকিবে ও নিয়মিত তদারকি করিবেন এবং মামলার অগ্রগতি সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রতি ৩ (তিন) মাস অন্তর অধিদপ্তরের নিকট প্রেরণ করিবেন।
(৫) সরকার মাদকদ্রব্য সংক্রান্ত মামলা পরিচালনার জন্য প্রশিক্ষিত কৌঁসুলি প্যানেল গঠন করিতে পারিবে।”।
২১। উক্ত আইনের ধারা ৪৯ এ উল্লিখিত “এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে” শব্দগুলির পর “বা, ক্ষেত্রমত, মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে” শব্দগুলি ও কমাগুলি এবং “উক্ত আদালত” শব্দগুলির পর “বা, ক্ষেত্রমত, মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল” শব্দগুলি ও কমাগুলি সন্নিবেশিত হইবে।
২২। উক্ত আইনের ধারা ৫০ এ দুইবার উল্লিখিত “এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে” শব্দগুলির পর “বা, ক্ষেত্রমত, মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে” শব্দগুলি ও কমাগুলি সন্নিবেশিত হইবে।
২৩। উক্ত আইনের ধারা ৫১ এর-
(ক) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত “এখতিয়ারসম্পন্ন আদালত” শব্দগুলির পর “বা, ক্ষেত্রমত, মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল” শব্দগুলি ও কমাগুলি সন্নিবেশিত হইবে;
(খ) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত “এখতিয়ারসম্পন্ন আদালত” শব্দগুলির পর “বা, ক্ষেত্রমত, মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল” শব্দগুলি ও কমাগুলি সন্নিবেশিত হইবে; এবং
(গ) উপ-ধারা (৩) এ উল্লিখিত “এখতিয়ারসম্পন্ন আদালত” শব্দগুলির পর “বা, ক্ষেত্রমত, মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল” শব্দগুলি ও কমাগুলি সন্নিবেশিত হইবে।
২৪। উক্ত আইনের ধারা ৫৩ এর পরিবর্তে নিম্নরূপ নূতন ধারা ৫৩ প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-
“৫৩। আপিল।-(১) এখতিয়ারসম্পন্ন আদালত কর্তৃক প্রদত্ত রায় বা আরোপিত দণ্ড দ্বারা সংক্ষুব্ধ পক্ষ, উক্ত রায় বা দণ্ডাদেশ প্রদানের তারিখ হইতে ৩০ (ত্রিশ) কার্যদিবসের মধ্যে, এখতিয়ারসম্পন্ন ফৌজদারি আদালতে আপিল করিতে পারিবে।
(২) মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক প্রদত্ত আদেশ, রায় বা আরোপিত দণ্ড দ্বারা সংক্ষুব্ধ পক্ষ, উক্ত আদেশ, রায় বা দণ্ডাদেশ প্রদানের তারিখ হইতে ৩০ (ত্রিশ) কার্যদিবসের মধ্যে, হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করিতে পারিবে।
(৩) উপ-ধারা (১) এবং (২) এ কার্যদিবস গণনার ক্ষেত্রে এখতিয়ারসম্পন্ন আদালত বা, ক্ষেত্রমত, মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের প্রদত্ত আদেশ, রায় বা দণ্ডাদেশের জাবেদা নকল পাওয়ার জন্য যে সময় অতিবাহিত হইবে, উহা উক্ত সময় হইতে কর্তন করিতে হইবে।”।