প্রিন্ট ভিউ
দেশের আর্থ সামাজিক উন্নয়ন দ্রুত ত্বরান্বিত করিবার লক্ষ্যে দেশি বা বিদেশি বিনিয়োগকারীগণকে আকৃষ্ট, শিল্প স্থাপনে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে অবকাঠামো নির্মাণ, বিনিয়োগকারীদেরকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সেবা প্রদানের মাধ্যমে বিনিয়োগ বান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এতদ্সংশ্লিষ্ট কতিপয় আইন রহিত করিয়া দেশের শীর্ষ বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থা গঠনের লক্ষ্যে একটি নূতন আইন প্রণয়নকল্পে প্রণীত আইন
যেহেতু দেশের আর্থ সামাজিক উন্নয়ন দ্রুত ত্বরান্বিত করিবার লক্ষ্যে দেশি বা বিদেশি বিনিয়োগকারীগণকে আকৃষ্ট, শিল্প স্থাপনে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে অবকাঠামো নির্মাণ, বিনিয়োগকারীদেরকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সেবা প্রদানের মাধ্যমে বিনিয়োগ বান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এতদ্সংশ্লিষ্ট কতিপয় আইন রহিত করিয়া দেশের শীর্ষ বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থা গঠনের লক্ষ্যে একটি নূতন আইন প্রণয়ন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়;
সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন প্রণয়ন করা হইল:-
প্রথম অধ্যায়
প্রারম্ভিক
১। (১) এই আইন “ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬” নামে অভিহিত হইবে।
(২) সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা যেই তারিখ নির্ধারণ করিবে, সেই তারিখ হইতে এই আইন কার্যকর হইবে।
২। বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থি কোনো কিছু না থাকিলে, এই আইনে,-
(১) “অপারেটর” অর্থ শিল্পাঞ্চল রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান;
(২) “অনুমোদিত শিল্প” অর্থ এ আইনের অধীনে কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদিত শিল্প;
(৩) “অবকাঠামো” অর্থ রাষ্ট্রীয় খাতের এমন কোনো নূতন বা বিদ্যমান ভৌত বা অ-ভৌত পরিকাঠামো বা অবকাঠামো যাহার দ্বারা গণপণ্য বা গণসেবা বা উভয়ই সৃষ্টি হয় বা করা হয়;
(৪) “কর্তৃপক্ষ” অর্থ ধারা ৪ এ উল্লিখিত ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ;
(৫) “ক্ষুদ্রাকার পিপিপি প্রকল্প” অর্থ গাইডলাইন দ্বারা নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী ক্ষুদ্রাকার পিপিপি প্রকল্পের শ্রেণিভুক্ত যে কোনো পিপিপি প্রকল্প;
(৬) “গণপণ্য” অর্থ এমন কোনো পণ্য যাহা সর্বসাধারণের জন্য রাষ্ট্রীয় খাতের অবকাঠামো হইতে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে উৎপাদিত বা উৎসারিত বা সৃষ্টি হয় বা করা হয়;
(৭) “গণসেবা” অর্থ এমন কোনো সেবা যাহা সর্বসাধারণের জন্য রাষ্ট্রীয় অবকাঠামো হইতে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে উৎপাদিত বা উৎসারিত বা সৃষ্টি হয় বা করা হয়;
(৮) “গভর্নিং বোর্ড” অর্থ ধারা ৭ এর অধীন গঠিত গভর্নিং বোর্ড;
(৯) “গাইডলাইন” বা “নির্দেশিকা” অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত গাইডলাইন;
(১০) “চুক্তিকারী কর্তৃপক্ষ” অর্থ কোনো মন্ত্রণালয় বা বিভাগ বা তদধীন কোনো দপ্তর বা অধিদপ্তর বা পরিদপ্তর, বা কর্পোরেশন বা সংবিধিবদ্ধ সংস্থা, স্থানীয় সরকার, বা অনুরূপ কোনো সংস্থা, বা কর্তৃপক্ষ;
(১১) “জিটুজি অংশীদারিত্ব” অর্থ বাংলাদেশ সরকার এবং অন্য কোনো দেশের সরকারের মধ্যে স্বাক্ষরিত কোনো দ্বিপাক্ষিক কাঠামো চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক বা পারস্পারিক সহযোগিতার অধীন পিপিপি প্রকল্প বা অন্য কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন বা শিল্প প্রকল্প বা শিল্পাঞ্চল প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার বা তৎকর্তৃক মনোনীত কোনো সরকারি সংস্থা, কর্তৃপক্ষ বা প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি এবং অন্য কোনো দেশের সরকার বা তৎকর্তৃক মনোনীত উপযুক্ত কোনো সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি এর মধ্যে সম্পাদিত কোনো কোনো অংশীদারিত্ব বা উদ্যোগ;
(১২) “ডেভেলপার” অর্থ শিল্পাঞ্চলে ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান;
(১৩) “তহবিল” অর্থ এই আইনের ধারা ৫৩ এ উল্লিখিত কর্তৃপক্ষের তহবিল;
(১৪) “নির্ধারিত” অর্থ বিধি, প্রবিধান, গাইডলাইন, নীতি বা আদেশ দ্বারা নির্ধারিত এবং অনুরূপ বিধি, প্রবিধান, গাইডলাইন বা নীতি প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত সরকার কর্তৃক সরকারি গেজেটে আদেশ দ্বারা নির্ধারিত;
(১৫) “চেয়ারম্যান” অর্থ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান;
(১৬) “সদস্য” অর্থ কর্তৃপক্ষের কোনো সদস্য;
(১৭) “নীতিমালা” অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত নীতিমালা;
(১৮) “পিপিপি প্রকল্প” অর্থ রাষ্ট্রীয় খাতের এমন কোনো প্রকল্প যাহা সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বাস্তবায়নের জন্য গৃহীত;
(১৯) “প্রকল্প” অর্থ এমন কোনো কর্মকাণ্ড বা কর্মসূচি বা উভয়ের সমষ্টি যাহার মাধ্যমে নিম্নরূপ পরিকল্পনা বা কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়। যথা:
(ক) নূতন কোনো অবকাঠামো নির্মাণ বা পরিচালনা বা উভয় করিবার পরিকল্পনা;
(খ) বিদ্যমান কোনো অবকাঠামো বিনির্মাণ বা পরিচালনা বা উভয় করিবার পরিকল্পনা;
(গ) দফা (ক) ও (খ) এ বর্ণিত উভয় কর্মকাণ্ড করিবার পরিকল্পনা;
(ঘ) কোনো অবকাঠামোর সুবিধার সহিত সংযুক্ত নহে এমন সকল পণ্য বা সেবা সরবরাহ; বা
(ঙ) কোনো চুক্তিকারী কর্তৃপক্ষের মালিকানাধীন বা আওতাধীন কোনো সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিতকল্পে, নির্ধারিত আইনি কাঠামোর মাধ্যমে নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য উক্ত সম্পদের স্বল্প কিংবা দীর্ঘ মেয়াদী লীজ মূলে হস্তান্তর বা ব্যবহারের অধিকার প্রদান করার পরিকল্পনা;
(২০) “প্রকল্প কোম্পানি” অর্থ ধারা ৪১ এর অধীন গঠিত কোনো কোম্পানি এবং উক্ত অর্থে বেসরকারি অংশীদারও অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(২১) “প্রণোদনা” অর্থ বিনিয়োগকে উৎসাহিত করিবার জন্য সরকার কর্তৃক, সময় সময়, প্রদত্ত বা ঘোষিত কোনো সাধারণ বা বিশেষ সুবিধা বা ভর্তুকি এবং উক্ত অর্থে পিপিপি খাতে ডেভেলপার/বিনিয়োগকারীকে আর্থিক ও নীতিগত সুবিধাও অন্তর্ভুক্ত হইবে এবং উক্ত প্রণোদনা বিনিয়োগকারী, ডেভেলপার, অপারেটর এর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হইবে;
(২২) “প্রবিধান” অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত প্রবিধিমালা;
(২৩) “বেসরকারি অংশীদার” অর্থ চুক্তিকারী কর্তৃপক্ষ ব্যতীত চুক্তির অপর পক্ষ এবং উক্ত অর্থে প্রকল্প কোম্পানি বা উহার ইকুইটি সরবরাহকারী (Equity Provider) অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(২৪) “বিধি” অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি;
(২৫) “বেসরকারি খাত” অর্থ সরকার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত কিংবা সরকারের জন্য সংরক্ষিত হিসাবে ঘোষিত নহে এইরূপ কোনো শিল্প বা বাণিজ্যিক খাত;
(২৬) “ব্যক্তি” অর্থ প্রাকৃতিক সত্তাবিশিষ্ট কোনো ব্যক্তি এবং ইহাতে কোনো প্রতিষ্ঠান, কোম্পানি, অংশীদারি কারবার, কর্পোরেশন, ফার্ম, সমিতি, সংঘ বা ব্যক্তিসমষ্টি, সংবিধিবদ্ধ হউক বা না হউক, অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(২৭) “মন্ত্রিসভা কমিটি” অর্থ Rules of Business, 1996 এর Rule 18 এর অধীন গঠিত Cabinet Committee on Economic Affairs;
(২৮) “শিল্প" (Industry) অর্থ মুনাফা অর্জন বা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত এমন কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বা সংবিধিবদ্ধ উদ্যোগ, যেখানে প্রযুক্তি, শ্রম, মূলধন, মেধা সম্পদ বা যন্ত্রপাতির উল্লেখযোগ্য ব্যবহারের মাধ্যমে-
(ক) কোনো কাঁচামাল, বস্তু বা সামগ্রীর আদি অবস্থার রূপান্তর, প্রক্রিয়াজাতকরণ বা সংযোজনের (Assembling) দ্বারা নতুন পণ্য উৎপাদন বা পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি (Value Addition) করা হয়; অথবা
(খ) স্থায়ী বা মেধা সম্পদের বাণিজ্যিক ব্যবহারের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় নীতি দ্বারা স্বীকৃত কোনো সেবা বা অবকাঠামোমূলক কার্যক্রম সম্পাদন করা হয়।
(২৯) “শিল্প প্রকল্প” অর্থ এ আইনের ধারা ২ (২৮) এর অধীনে বর্ণিত শিল্পের অধীনে বাস্তবায়িত/বাস্তবায়নযোগ্য যে কোনো প্রকল্প;
(৩০) “সরকারি শিল্প বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান” অর্থ-
(ক) কোনো শিল্প বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান যাহা সরকারের মালিকানাধীন বা নিয়ন্ত্রণাধীন অথবা তৎকর্তৃক স্থাপিত, প্রতিষ্ঠিত, পরিচালিত বা গঠিত কোনো কর্পোরেশন, ট্রাস্ট, বোর্ড, কোম্পানি; অথবা
(খ) অন্য যে কোনো প্রকারের প্রতিষ্ঠান যাহা সরকার হস্তান্তর করিবার অধিকারী; এবং
(গ) দফা (ক) এ উল্লিখিত শিল্প বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং দফা (খ) এ উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানে সরকারের বা উক্তরূপ প্রতিষ্ঠানের কোনো অংশ, স্বত্ব, স্বার্থ বা পরিচালনা বা ব্যবস্থাপনার অধিকারসহ অন্য যে কোনো অধিকারও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(৩১) “সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব” বা “পিপিপি” অর্থ চুক্তিকারী কর্তৃপক্ষ এবং কোনো বেসরকারি অংশীদারের মধ্যে পিপিপি চুক্তির ব্যবস্থা যাহার অধীন-
(ক) উক্ত বেসরকারি অংশীদার কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন, গণপণ্য উৎপাদন ও সরবরাহ, সরকারি কোন কার্য সম্পাদন, চুক্তিকারী কর্তৃপক্ষের পক্ষে সেবা প্রদান অথবা চুক্তিকারী কর্তৃপক্ষের মালিকানাধীন বা আওতাধীন কোনো সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি/দায়িত্ব গ্রহণ করে;
(খ) বেসরকারি অংশীদার দফা (ক) এ বর্ণিত কর্মকাণ্ড করিবার ক্ষেত্রে-
(অ) সরকারি তহবিল হইতে প্রকল্প বাস্তবায়ন, গণপণ্য, কার্য বা সেবার মূল্য গ্রহণ করে; বা
(আ) ক্রয়কারী ব্যবহারকারী বা সেবাগ্রহণকারীর নিকট হইতে তৎকর্তৃক (বেসরকারি অংশীদার) আদায়কৃত মাশুল/লেভি বা ফি গ্রহণ করে; বা
(ই) দফা (অ) এবং দফা (আ) এ উল্লিখিত গণপণ্য, কার্য বা সেবার মূল্য এবং মাশুল বা লেভি বা ফি সমন্বিতভাবে গ্রহণ করে; বা
(ঈ) চুক্তিকারী কর্তৃপক্ষকে উক্ত পিপিপি চুক্তির ব্যবস্থার শর্তানুসারে ফি, রয়্যালটি, মাশুল, লাভের অংশ, রাজস্বের অংশ বা অন্য যেকোনো প্রকার অর্থ প্রদান করে; এবং
(গ) সরকার বা চুক্তিকারী কর্তৃপক্ষ এবং বেসরকারি অংশীদার উক্ত পিপিপি চুক্তিয় ব্যবস্থার শর্তানুসারে উভয়ে নিজ নিজ ভূমিকা, দায়িত্ব, ঝুঁকি ও সুবিধা বণ্টন করে;
(৩২) “শিল্পাঞ্চল” অর্থ ধারা ১৬ এর অধীন সরকার কর্তৃক ঘোষিত কোনো শিল্পাঞ্চল এবং এই আইন প্রবর্তনের পূর্বের সকল ধরনের অর্থনৈতিক অঞ্চল, মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল, বেসরকারি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;
৩। আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের বিধানাবলি প্রাধান্য পাইবে।
দ্বিতীয় অধ্যায়
কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা, কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব, ইত্যাদি
৪। (১) এই আইন কার্যকর হইবার সঙ্গে সঙ্গে “ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ” নামে একটি কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠিত হইবে।
(২) কর্তৃপক্ষ একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হইবে এবং উহার স্থায়ী ধারাবাহিকতা ও একটি সাধারণ সীলমোহর থাকিবে এবং উহার স্থাবর ও অস্থাবর উভয় প্রকার সম্পত্তি অর্জন করিবার, অধিকারে রাখিবার এবং হস্তান্তর করিবার ক্ষমতা থাকিবে এবং উহা স্বীয় নামে মামলা দায়ের করিতে পারিবে এবং উহার বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করা যাইবে।
(৩) একজন চেয়ারম্যান ও ৭ (সাত) জন সদস্য সমন্বয়ে কর্তৃপক্ষ গঠিত হইবে এবং তাহারা দৈনন্দিন কাজে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করিবেন।
(৪) চেয়ারম্যান কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী হইবেন।
(৫) চেয়ারম্যান ও সদস্যগণ সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন এবং তাহাদের পদমর্যাদা, চাকরির মেয়াদ, বেতন-ভাতাদি ও অন্যান্য শর্তাবলি সরকার কর্তৃক নির্ধারিত হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, নিয়োগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিগণকে প্রাধান্য দিতে হইবে এবং এইক্ষেত্রে তাহাদের পদমর্যাদা, চাকরির মেয়াদ, বেতন-ভাতাদি ও অন্যান্য শর্তাবলি এমনভাবে নির্ধারিত হইবে যাহা যোগ্য ও বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিকে আকৃষ্ট করিবার ও নিয়োজিত রাখিবার জন্য পর্যাপ্ত হয়।
(৬) চেয়ারম্যান, কর্তৃপক্ষের যেকোনো সভা আহ্বান ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিতে পারিবেন, এবং কমপক্ষে ৩ (তিন) জনের উপস্থিতিতে সভার কোরাম পূর্ণ হইবে এবং সভায় উপস্থিত সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের মতামতের ভিত্তিতে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত গৃহীত হইবে।
(৭) চেয়ারম্যানের পদ শূন্য হইলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে তিনি তাহার দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে, ক্ষেত্রমত, শূন্য পদে নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত কিংবা চেয়ারম্যান পুনরায় স্বীয় দায়িত্ব পালনে সমর্থ না হওয়া পর্যন্ত কর্তৃপক্ষের জ্যেষ্ঠতম সদস্য চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করিবেন।
(৮) কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তক্রমে উহার যেকোনো দায়িত্ব পালনের জন্য উহার যেকোনো সদস্য বা কর্মকর্তাকে ক্ষমতা ন্যস্ত করা যাইবে।
৫। কর্তৃপক্ষের প্রধান কার্যালয় ঢাকায় থাকিবে এবং প্রয়োজনবোধে, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, যেকোনো স্থানে উহার শাখা কার্যালয় বা লিয়াজোঁ অফিস স্থাপন করা যাইবে।
৬। কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব ও কার্যাবলি হইবে নিম্নরূপ, যথা:-
(১) সাধারণ বিনিয়োগ সংক্রান্ত দায়িত্ব:
(ক) দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের সম্ভাবনা চিহ্নিতকরণ, দেশে ও বিদেশে উহার প্রচার ও প্রসার, বিনিয়োগ উন্নয়নে নিয়োজিত দেশি, বিদেশি ও আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের সাথে সমন্বয় সাধন;
(খ) দেশি ও বিদেশি পুঁজি বিনিয়োগ বিকাশের জন্য আর্থিক ও অ-আর্থিক সুযোগ, সুবিধা ও প্রণোদনার প্রস্তাব অনুমোদন;
(গ) বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় নীতিমালা, গাইডলাইন, নির্দেশিকা, আদর্শ পরিচালনা পদ্ধতি (Standard Operating Procedure- SOP) প্রণয়ন এবং বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিতপূর্বক উহা দূরীকরণে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তরের সহিত যোগাযোগ, সমন্বয় ও বাস্তবায়ন কার্যক্রম গ্রহণ;
(ঘ) দেশি-বিদেশি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বিনিয়োগ উদ্যোগের অনুমোদন;
(ঙ) শিল্প-বিনিয়োগ পুঁজি গঠন ও ব্যাংকিং খাতের বিনিয়োগ সহজলভ্যকরণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ বা সুপারিশ প্রদান;
(চ) পশ্চাৎ সংযোগ শিল্প শক্তিশালীকরণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ;
(ছ) শিল্প, শাখা অফিস, লিয়াজোঁ অফিস, প্রতিনিধি অফিস, প্রকল্প অফিস, বায়িং হাউসসহ সকল ধরনের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও সমজাতীয় অন্যান্য সকল প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় বিদেশি কর্মকর্তা, বিশেষজ্ঞ, কর্মচারী বা পরামর্শক নিয়োগের শর্তাবলি, কার্যপরিধি নির্ধারণ, ভিসা সুপারিশ ও কর্মানুমতি প্রদান এবং প্রযুক্তি হস্তান্তর, পর্যায়ক্রমিক স্থানীয় উৎপাদন, কারিগরি উত্তম চর্চা (Best Practices) প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন;
(জ) আন্তর্জাতিক, আঞ্চলিক, দ্বিপক্ষীয় বা বহুপক্ষীয় বিনিয়োগ চুক্তি স্বাক্ষরের লক্ষ্যে সরকারকে চুক্তিসমূহের খসড়া প্রণয়নে সহায়তা ও পরামর্শ প্রদান, অনাপত্তি প্রদান এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে চুক্তি স্বাক্ষরের ব্যবস্থা গ্রহণ;
(ঝ) সকল প্রকার শিল্পের উপাত্ত সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও উহাদের তথ্য ভান্ডার স্থাপন।
(ঞ) সরকারি শিল্প বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের অব্যবহৃত জমি বা স্থাপনা, শেয়ার, স্বত্ব বা সংশ্লিষ্ট অধিকার অধিকতর উপযোগী অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের লক্ষ্যে চিহ্নিতকরণ, মূল্যায়ন এবং হস্তান্তর, বরাদ্দ, ইজারা, ভাড়া বা কৌশলগত বিক্রয়ের ক্ষেত্রে সরকারকে পরামর্শ প্রদান।
(২) শিল্পাঞ্চল সংক্রান্ত দায়িত্ব:
(ক) শিল্পাঞ্চল প্রতিষ্ঠা ও উহার পরিচালনার জন্য উপযুক্ত এলাকা, ভূমি, ভবন বা স্থান নির্বাচন, প্রয়োজনে, অধিগ্রহণ, বিভাজন, বরাদ্দ, ইজারা বা ভাড়া প্রদান, এতদ্সংক্রান্ত শর্তাবলি নির্ধারণ এবং শিল্পাঞ্চল, শিল্প ইউনিট বা শিল্প প্রকল্প স্থাপনে ক্ষেত্রমত, সম্মতি বা অনুমোদন প্রদান;
(খ) অবকাঠামোসহ স্থানীয় সম্পদের প্রাপ্যতা, সড়ক ও যোগাযোগ সুবিধা, ভ্রমণ ও ব্যাংকিং সুবিধা এবং দক্ষ জনবলের প্রাপ্যতার ভিত্তিতে গুচ্ছনীতির আলোকে ভূমির অধিকতর দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করার নিমিত্তে শিল্পাঞ্চল প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনার জন্য উপযুক্ত এলাকা, ভূমি, ভবন বা স্থান নির্বাচন ও চিহ্নিতকরণসহ সম্মতি বা অনুমোদন প্রদান এবং এতদ্সংক্রান্ত শর্তাবলি নির্ধারণ;
(গ) নিজস্ব উদ্যোগে বা সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারিত্বমূলক উদ্যোগে চিহ্নিত শিল্পাঞ্চলের জন্য প্রয়োজনে ভূমি অধিগ্রহণ ও বিভাজন এবং সরকারের পক্ষ হইতে অধিগ্রহণকৃত ভূমির দখল গ্রহণ;
(ঘ) নিজস্ব উদ্যোগ বাস্তবায়ন ও ব্যবস্থাপনার জন্য চিহ্নিত শিল্পাঞ্চলে শিল্প ইউনিট, শিল্প প্রকল্প, ব্যবসায়িক ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠান স্থাপনের লক্ষ্যে, নির্ধারিত পদ্ধতিতে, আবেদনপ্রার্থী বিনিয়োগকারীগণের নিকট প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসায়িক ভিত্তিতে ভূমি, ভবন বা স্থান বরাদ্দ, ইজারা বা ভাড়া প্রদান এবং ক্ষেত্রমত শিল্প ইউনিট বা শিল্প প্রকল্প স্থাপনে সম্মতি বা অনুমোদন প্রদান;
(ঙ) শিল্পাঞ্চলের ভূমি উন্নয়ন, স্থাপনা বা অবকাঠামো নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ বা ব্যবস্থাপনার জন্য ডেভেলপার বা ক্ষেত্রমত অপারেটর নিয়োগ;
(চ) শিল্পাঞ্চল ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোগত সুবিধার উন্নয়ন, ব্যবস্থাপনা, পরিবীক্ষণ, তত্ত্বাবধান ও সমন্বয় সাধন;
(ছ) শিল্পাঞ্চল সংক্রান্ত প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রতিবন্ধকতা, সীমাবদ্ধতা বা জটিলতা নিরসনে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং শিল্পাঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়নে নিজস্ব ও শিল্পাঞ্চল ডেভেলপারের কার্যক্রম পরিবীক্ষণের মাধ্যমে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উন্নয়ন নিশ্চিতকরণ;
(জ) শিল্পাঞ্চলের পরিবেশ, সামাজিক ও অর্থনৈতিকসহ অন্যান্য ক্ষেত্রের অঙ্গীকারসমূহ বাস্তবায়নে উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণসহ, প্রযোজ্য আন্তর্জাতিক কনভেনশন, চুক্তি ও বিধি-বিধান পরিপালনে দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও পরিবীক্ষণ কার্যক্রম উৎসাহিত ও নিশ্চিতকরণ এবং শ্রেণিভিত্তিক শিল্পের জন্য পৃথক শিল্পাঞ্চল প্রতিষ্ঠা করিয়া দূষণপ্রবণ বা অপরিকল্পিতভাবে স্থাপিত শিল্প প্রতিষ্ঠানসমূহ স্থানান্তরের জন্য ব্যবসায়ী সংগঠনসমূহকে উৎসাহিতকরণ;
(ঝ) শিল্পাঞ্চল পরিচালনার জন্য শিল্পাঞ্চল ডেভেলপার ও শিল্প ইউনিটসমূহের প্রয়োজনীয় সেবা যেমন- শিল্পাঞ্চলের ভূমি নির্বাচনের অনুমতি, শিল্পাঞ্চল ঘোষণা, ক্লিয়ারেন্সসমূহ, সার্টিফিকেটসমূহ, সার্টিফিকেট অব অরিজিন, পারমিট ফর রিপ্যাট্রিয়েশন অব ক্যাপিটাল এন্ড ডেভিডেন্ডস, রেসিডেন্ট ও নন রেসিডেন্ট ভিসা, ওয়ার্ক পারমিট, আমদানি ও রপ্তানি পারমিট, নির্মাণ পারমিটসহ যে কোনো প্রকারের আইনগত দলিল, ইত্যাদি এ আইনের অধীনে প্রতিষ্ঠিত সিঙ্গেল ডিজিটাল প্লাটফর্মের মাধ্যমে প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ;
(ঞ) দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ উৎসাহিত করিবার মাধ্যমে দক্ষ শ্রমশক্তির কর্মসংস্থান নিশ্চিতকরণ এবং স্থানীয় অর্থনীতির চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে শিল্পাঞ্চলের অভ্যন্তরে ও বহির্ভূত স্থানে পশ্চাৎ সংযোগ শিল্প স্থাপন;
(ট) অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত উৎপাদন ও সেবা খাতের পরিকল্পিত শিল্পায়নের মাধ্যমে দেশের শিল্পনীতির বাস্তবায়ন ত্বরান্বিতকরণ;
(ঠ) শিল্পাঞ্চল হিসাবে ঘোষিত এলাকাসমূহকে শিল্পনগরী, কৃষিভিত্তিক শিল্পাঞ্চল, বাণিজ্যিক এলাকা হিসাবে উন্নয়নক্রমে ব্যাংকিং খাতের বিনিয়োগের মাধ্যমে অর্থনৈতিক কেন্দ্রে রূপান্তর করিয়া প্রশিক্ষিত শ্রমিক ও দক্ষ সেবা প্রদান সহজলভ্যকরণ;
(ড) শিল্পাঞ্চলের অভ্যন্তরে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আকর্ষণীয় পরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধা প্রদানের লক্ষ্যে গুচ্ছনীতির আলোকে এলাকা বিভাজনের মাধ্যমে অবকাঠামোসহ স্থানীয় সম্পদের প্রাপ্যতার ভিত্তিতে ভূমির অধিকতর দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিতকরণ;
(ঢ) শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক-কর্মচারীদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা, তাহাদের কল্যাণ নিশ্চিতকরণ এবং মালিক ও শ্রমিক-কর্মচারীদের মধ্যে সুষ্ঠু সম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় সরকার কর্তৃক সময়ে সময়ে প্রণীত আইন ও বিধানাবলি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ;
(ণ) নিজস্ব উদ্যোগ বাস্তবায়ন ও ব্যবস্থাপনার জন্য শিল্পাঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন;
(ত) শিল্পাঞ্চলের উন্নয়ন ও পরিচালনায় সরকারি ও বেসরকারি যৌথ অংশীদারিত্বকে উৎসাহিতকরণ।
(গ) পিপিপি সংক্রান্ত দায়িত্ব:
(ক) পিপিপি-সম্পর্কিত নীতিমালা, নির্দেশনা, গাইডলাইন ও কার্যপ্রণালিবিধি বা আদর্শ পরিচালনা পদ্ধতি (Standard Operating Procedure- SOP) প্রণয়ন;
(খ) পিপিপি প্রকল্পভিত্তিক বিশেষ সুযোগ-সুবিধা, প্রণোদনা, সরকারি আর্থিক অংশগ্রহণ বা সহায়ক সুবিধাদি নির্ধারণ, সিদ্ধান্ত প্রদান বা সুপারিশ করা;
(গ) পিপিপি প্রকল্প বিষয়ে, ক্ষেত্রমত, সম্মতি প্রদান, প্রকল্প কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান, প্রাক-যোগ্যতা ও দরপত্র দলিল প্রণয়ন, বেসরকারি অংশীদার নির্বাচন প্রক্রিয়া নির্ধারণ ও নির্বাচিত দরদাতা অনুমোদন;
(ঘ) পিপিপি চুক্তির নমুনা প্রণয়ন, পিপিপি কর্তৃপক্ষের অধীনে ন্যস্ত প্রকল্পের ক্ষেত্রে চুক্তি অনুমোদন ও স্বাক্ষর এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে চুক্তির সমাপ্তি অনুমোদন;
(ঙ) পিপিপি প্রকল্প পর্যালোচনা, অগ্রগতি মূল্যায়ন, পরিবীক্ষণ, তত্ত্বাবধান ও সমন্বয় সাধন;
(চ) পিপিপি প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রতিবন্ধকতা, সীমাবদ্ধতা বা জটিলতা নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ;
(ছ) পিপিপি প্রকল্পের জন্য পরামর্শক বা বিশেষজ্ঞ বা উভয়ের জন্য প্যানেল প্রস্তুত করা এবং নির্ধারিত পদ্ধতিতে উক্ত প্যানেল হইতে পরামর্শক বা বিশেষজ্ঞ নির্বাচন প্রক্রিয়াকরণ।
(ঘ) বিবিধ দায়িত্ব:
(ক) এই আইনে বর্ণিত অন্যান্য কার্য সম্পাদন;
(খ) কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রণোদনা, ভাতা, ঋণ সুবিধাসহ কল্যাণমূলক অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাদির উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন; এবং
(গ) সরকার বা গভর্নিং বোর্ড কর্তৃক, সময় সময়, অর্পিত যেকোনো কার্য সম্পাদন।
তৃতীয় অধ্যায়
গভর্নিং বোর্ড, নির্বাহী পরিষদ, প্রতিষ্ঠানিক কাঠামো, ইত্যাদি
৭। (১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে একটি গভর্নিং বোর্ড গঠিত হইবে, যথা:-
(ক) প্র ধানমন্ত্রী বা তৎকর্তৃক মনোনীত একজন ব্যক্তি, যিনি উহার সভাপতিও হইবেন;
(খ) অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী;
(গ) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী;
(ঘ) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী;
(ঙ) ভূমি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী;
(চ) শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী;
(ছ) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী;
(জ) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী;
(ঝ) প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব;
(ঞ) গভর্নর, বাংলাদেশ ব্যাংক;
(ট) সচিব, অর্থ বিভাগ;
(ঠ) সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়;
(ড) সচিব, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ;
(ঢ) সরকার কর্তৃক মনোনীত বেসরকারি খাতের ৪ (চার) জন প্রতিনিধি, তন্মধ্যে ২ (দুই) জন হইবে নারী প্রতিনিধি; এবং
(ণ) চেয়ারম্যান, যিনি উহার সদস্য-সচিবও হইবেন।
(২) বোর্ড প্রয়োজনে যেকোনো ব্যক্তিকে উহার সদস্য হিসাবে কো-অপ্ট করিতে পারিবে।
৮। (১) গভর্নিং বোর্ডের কার্যাবলি হইবে নিম্নরূপ, যথা:-
(ক) শিল্পাঞ্চল প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব অনুমোদন ও উহার উন্নয়ন, পরিচালনা, ব্যবস্থাপনা এবং নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক নীতি প্রণয়নসহ শিল্পাঞ্চল সম্পর্কিত বিষয়াদির দক্ষ ব্যবস্থাপনার উদ্দেশ্যে তৎবিবেচনায় কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান;
(খ) বিনিয়োগ বিকাশ সংক্রান্ত স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত নীতি ও পথ-নক্শার অনুমোদন;
(গ) শিল্পাঞ্চল ও পিপিপি প্রকল্পের সামগ্রিক কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা ও প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা প্রদান;
(ঘ) বিনিয়োগ বিকাশের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের জন্য নির্দেশনা প্রদান।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন গভর্নিং বোর্ড কর্তৃক গৃহীত কোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোনো মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সম্পৃক্ততা থাকিলে উক্ত মন্ত্রণালয় বা বিভাগের অনুমোদন গ্রহণ সাপেক্ষে কর্তৃপক্ষ উহা বাস্তবায়ন করিবে।
৯। (১) এই ধারার অন্যান্য বিধান সাপেক্ষে, গভর্নিং বোর্ড উহার সভার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিবে এবং বৎসরে অন্যূন দুইটি সভা অনুষ্ঠিত হইবে।
(২) সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের উপস্থিতিতে গভর্নিং বোর্ডের সভার কোরাম গঠিত হইবে।
(৩) গভর্নিং বোর্ডের সকল সভা, সভাপতির সম্মতিক্রমে, উহার সদস্য-সচিব কর্তৃক আহূত হইবে।
(৪) সভায় উপস্থিত সদস্যগণের সংখ্যাগরিষ্ঠের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে গভর্নিং বোর্ড সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিবে এবং ভোটের সমতার ক্ষেত্রে সভায় সভাপতিত্বকারী ব্যক্তির দ্বিতীয় বা নির্ণায়ক ভোট প্রদানের অধিকার থাকিবে।
(৫) গভর্নিং বোর্ড প্রয়োজনে, কোনো বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিকে বোর্ডের সভায় আমন্ত্রণ জানাইতে পারিবে এবং অনুরূপভাবে আমন্ত্রিত ব্যক্তি সভায় মতামত প্রদান করিতে পারিবেন, কিন্তু ভোটদানের অধিকারী হইবেন না।
(৬) দুইটি গভর্নিং বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত হইবার মধ্যবর্তী সময়ে উদ্ভূত জরুরী বিষয়াদি কর্তৃপক্ষের সুনির্দিষ্ট সুপারিশের ভিত্তিতে গভর্নিং বোর্ডের সভাপতির আদেশের জন্য পেশ করা হইবে এবং এইরূপে অনুমোদিত বা গৃহীত সিদ্ধান্ত ভূতাপেক্ষ অনুমোদনের জন্য গভর্নিং বোর্ডের পরবর্তী সভায় পেশ করা হইবে যাহা গভর্নিং বোর্ডের সিদ্ধান্ত হিসাবে গণ্য হইবে।
১০। (১) কর্তৃপক্ষ উহার দায়িত্ব পালনে সহায়তা প্রদানের জন্য এক বা একাধিক কমিটি গঠন করিতে পারিবে।
(২) কমিটির সদস্য সংখ্যা এবং উহার দায়িত্ব ও কার্যপদ্ধতি কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্ধারিত হইবে।
১১। (১) সরকার কর্তৃক অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামো সাপেক্ষে, কর্তৃপক্ষ উহার দায়িত্ব ও কর্তব্য সুষ্ঠুভাবে পালনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারিবে।
(২) কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের চাকরির শর্তাবলি প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
চতুর্থ অধ্যায়
শিল্পাঞ্চল প্রতিষ্ঠা, এলাকা বিভাজন, ইত্যাদি
১২। এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, দেশের পশ্চাৎপদ ও অনগ্রসর এলাকাসহ সম্ভাবনাময় সকল এলাকায় দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়ন তথা শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান, উৎপাদন এবং রপ্তানী বৃদ্ধি ও বহুমুখীকরণে উৎসাহ প্রদান এবং রাষ্ট্রের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অঙ্গীকারসমূহ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকার নিম্নবর্ণিত যেকোনো শ্রেণির শিল্পাঞ্চল প্রতিষ্ঠা করিতে পারিবে, যথা:-
(ক) দেশি বা বিদেশি ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে প্রতিষ্ঠিত শিল্পাঞ্চল;
(খ) দেশি বা প্রবাসী বাংলাদেশি বা বিদেশি বিনিয়োগকারী, গোষ্ঠী, ব্যবসায়িক সংগঠন বা গ্রুপ কর্তৃক, একক বা যৌথভাবে, প্রতিষ্ঠিত বেসরকারি শিল্পাঞ্চল;
(গ) সরকারি উদ্যোগ ও মালিকানায় প্রতিষ্ঠিত সরকারি শিল্পাঞ্চল;
(ঘ) একই ধরনের বিশেষায়িত কোনো শিল্প বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার জন্য, বেসরকারি বা সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে বা সরকারি উদ্যোগে, প্রতিষ্ঠিত বিশেষ শিল্পাঞ্চল;
(ঙ) সরকার বা তৎকর্তৃক মনোনীত কোনো সংস্থা বা কর্তৃপক্ষ বা প্রতিষ্ঠান এবং অন্য কোনো দেশের সরকার বা তৎকর্তৃক মনোনীত শিল্পাঞ্চল প্রতিষ্ঠা, পরিচালনা ও প্রসারে যোগ্য কোনো শিল্প উদ্যোক্তা, কনসোর্টিয়াম, জয়েন্ট ভেঞ্চার কোম্পানি বা শিল্প গোষ্ঠী এর মধ্যে অংশীদারিত্ব বা উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত শিল্পাঞ্চল;
(চ) এক বা একাধিক সরকারি সংস্থা বা কর্তৃপক্ষ বা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতায় বা অংশীদারিত্বে প্রতিষ্ঠিত শিল্পাঞ্চল;
(ছ) সরকার বা তৎকর্তৃক মনোনীত কোনো সংস্থা বা কর্তৃপক্ষ বা প্রতিষ্ঠান এবং বাংলাদেশের বা অন্য কোনো দেশের কোনো শিল্প উদ্যোক্তা, কনসোর্টিয়াম, জয়েন্ট ভেঞ্চার কোম্পানি বা শিল্প গোষ্ঠীর মধ্যে অংশীদারিত্ব বা উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এবং “কাস্টমস আইন, ২০২৩” এর অধীনে বিশেষায়িত শুল্কমুক্ত এলাকা হিসেবে ঘোষিত মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল।
১৩। (১) কর্তৃপক্ষ কোনো শিল্পাঞ্চলকে নিম্নবর্ণিত এলাকায় বিভাজন করিয়া মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করিবার জন্য আদেশ জারি করিতে পারিবে, যথা:-
(ক) রপ্তানীমুখী শিল্পের জন্য রপ্তানী প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (Export Processing Area);
(খ) দেশীয় বাজার চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত শিল্পের জন্য অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (Domestic Processing Area);
(গ) ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, ওয়্যার হাউজ, অফিস বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের জন্য বাণিজ্যিক এলাকা (Commercial Area);
(ঘ) আবাসন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বিনোদন ইত্যাদির জন্য প্রক্রিয়াকরণমুক্ত এলাকা (Non-Processing Area);
(ঙ) সৌর, বায়ু, বায়োগ্যাস, হাইড্রোজেন এবং কম কার্বন নির্গমনকারী পরিবেশবান্ধব শিল্প স্থাপনের জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও সবুজ শিল্প এলাকা (Renewable Energy & Green Industrial Area);
(চ) বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলাবদ্ধতা মোকাবেলায় অবকাঠামো, আশ্রয়কেন্দ্র ও জরুরি সেবা সুবিধার জন্য জলবায়ু সহনশীল ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এলাকা (Climate Resilient & Disaster Management Area);
(ছ) ই-ওয়েস্ট, শিল্প বর্জ্য, প্লাস্টিক রিসাইক্লিং ও সার্কুলার ইকোনোমি ভিত্তিক কার্যক্রমের জন্য বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও রিসাইক্লিং এলাকা (Waste Management & Recycling Area);
(জ) কৃষিপণ্য সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, কোল্ড চেইন ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের জন্য কৃষি-প্রসেসিং ও খাদ্য নিরাপত্তা এলাকা (Agro-Processing & Food Security Area);
(ঝ) রেল, সড়ক, নৌ ও সম্ভাব্য এয়ার কার্গো সংযোগ সমন্বিত আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থার জন্য ট্রান্সপোর্ট হাব ও মাল্টিমোডাল কানেক্টিভিটি এলাকা (Transport Hub & Multimodal Connectivity Area);
(ঞ) সমুদ্রসম্পদ ব্যবহার, মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, অফশোর এনার্জি ও উপকূলভিত্তিক শিল্পের জন্য নির্ধারিত ব্লু ইকোনোমি ও উপকূলীয় শিল্প এলাকা (Blue Economy & Coastal Industrial Area)।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন জারীকৃত আদেশের ভিত্তিতে কোনো এলাকার জন্য মাস্টারপ্ল্যান প্রস্তুত করা হইলে উহা অনুমোদনের জন্য কর্তৃপক্ষের নিকট উপস্থাপন করিতে হইবে এবং কর্তৃপক্ষ কর্তৃক উহা অনুমোদিত হইলে উক্ত প্ল্যান অনুযায়ী বিভাজিত এলাকা উক্ত অঞ্চলের নির্ধারিত অংশ হইবে।
১৪। (১) বাংলাদেশ সরকার ও অন্য কোনো দেশের সরকারের মধ্যে অংশীদারিত্ব বা উদ্যোগে অথবা এক বা একাধিক সরকারি সংস্থা বা কর্তৃপক্ষ বা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বা অংশীদারিত্বে শিল্পাঞ্চল স্থাপনের লক্ষ্যে সরকার যেকোনো পরিকল্পনা গ্রহণ করিতে পারিবে।
(২) উপধারা (১) এ বর্ণিত গৃহীত পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে, সরকার, উক্ত পরিকল্পনার টেকনিক্যাল ও অন্যান্য বিষয়ের উপর অভিজ্ঞতাসম্পন্ন প্রয়োজনীয় সংখ্যক সদস্য সমন্বয়ে প্রক্রিয়াকরণ কমিটি গঠন করিতে পারিবে।
(৩) উল্লিখিত প্রক্রিয়াকরণ কমিটি কর্তৃক গৃহীত পরিকল্পনার প্রাথমিক পর্যায় হইতে প্রস্তাব প্রণয়ন এবং ক্ষেত্র অনুযায়ী অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত বা সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে উপস্থাপনের পর্যায় না আসা পর্যন্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা সংরক্ষণ করিবে।
(৪) প্রক্রিয়াকরণ কমিটি কর্তৃক গৃহীত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পরিকল্পনা সংশ্লিষ্ট যেকোনো সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের সহিত যোগাযোগ, আলোচনা ও দর কষাকষির মাধ্যমে উক্ত সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় সর্বোচ্চ জনস্বার্থ সংরক্ষণ হয় এইরূপ সুপারিশ সম্বলিত প্রস্তাব প্রণয়ন করিবে।
(৫) প্রক্রিয়াকরণ কমিটির অন্যান্য দায়িত্ব ও কার্যাবলি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
১৫। (১) কর্তৃপক্ষ, সময় সময়, কোনো শিল্পাঞ্চলে বা শিল্পাঞ্চলের বাহিরে স্থাপিত নিবন্ধিত শিল্প এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের শ্রেণি নির্ধারণ করিতে পারিবে।
(২) সরকারের শিল্পনীতিতে বিদ্যমান সংরক্ষিত শিল্প হিসাবে চিহ্নিত খাত ব্যতীত ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পসহ অন্য যেকোনো খাতের শিল্প, যেমন- কৃষি খামার, সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান, ইত্যাদি শিল্পাঞ্চলে বা শিল্পাঞ্চলের বাইরে স্থাপন করা যাইবে।
পঞ্চম অধ্যায়
শিল্পাঞ্চল ঘোষণা, ভূমি অধিগ্রহণ, ডেভেলপার নিয়োগ, ইত্যাদি
১৬। সরকার, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, ভূমির সুনির্দিষ্ট বিবরণ উল্লেখ করিয়া, কোনো এলাকাকে শিল্পাঞ্চল হিসাবে নির্বাচন করিয়া কোনো সুনির্দিষ্ট নামে শিল্পাঞ্চল ঘোষণা এবং প্রয়োজনবোধে অনুরূপ প্রজ্ঞাপন দ্বারা উক্ত শিল্পাঞ্চলের নাম পরিবর্তন, সংশোধন বা পুনঃনামকরণ করিতে পারিবে; এবং কর্তৃপক্ষ, শিল্পাঞ্চলের অধিক্ষেত্রের ভিতরে বা বাহিরে কর্তৃপক্ষের অধীনে নিবন্ধিত যেকোনো শিল্প বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন, সংশোধন, পুনঃনামকরণ বা পুনঃনির্ধারণ করিতে পারিবে।
১৭। (১) আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোনো শিল্পাঞ্চল প্রতিষ্ঠা ও উন্নয়ন অথবা শিল্পাঞ্চলের অধিক্ষেত্রের বাহিরে কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ইতোমধ্যে নিবন্ধিত অথবা পরবর্তীতে আবেদনক্রমে নিবন্ধিত কোনো শিল্প বা বাণিজ্যিক প্রকল্পের জন্য কোনো ভূমির প্রয়োজন হইলে, উহা জনস্বার্থে প্রয়োজনীয় বলিয়া বিবেচিত হইবে এবং কর্তৃপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে উহা “স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুমদখল আইন, ২০১৭” এর অধীন অধিগ্রহণ করা যাইবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন অধিগ্রহণকৃত বা বরাদ্দকৃত ভূমি যে উদ্দেশ্যে অধিগ্রহণ বা বরাদ্দ করা হইয়াছে, কর্তৃপক্ষের লিখিত পূর্বানুমোদন ব্যতিরেকে উহা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যাইবে না।
(৩) সরকারি বা রাষ্ট্রায়ত্ত কোনো শিল্প বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবহারের অতিরিক্ত বা অব্যবহৃত ভূমিতে শিল্পাঞ্চল বা শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপন বা বরাদ্দের ক্ষেত্রে নতুন করিয়া ভূমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হইবে না; কর্তৃপক্ষ উক্তরূপ ভূমি চিহ্নিত করিয়া সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের মতামত গ্রহণপূর্বক অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির (CCEA) অনুমোদনক্রমে উহা উপযুক্ত শর্তে বরাদ্দ প্রদান করিতে পারিবে।
১৮। (১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, কর্তৃপক্ষ শিল্পাঞ্চলে ডেভেলপার ও অপারেটর নিয়োগ করিতে পারিবে এবং ডেভেলপার ও অপারেটর নিয়োগের শর্তাবলি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
(২) সরকার, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, বাংলাদেশ সরকার ও অন্য কোনো দেশের সরকারের মধ্যে অংশীদারিত্ব বা উদ্যোগে অথবা এক বা একাধিক সরকারি সংস্থা বা কর্তৃপক্ষ বা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতায় বা অংশীদারিত্বে শিল্পাঞ্চল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ডেভেলপার ও অপারেটর নিয়োগ করিতে পারিবে।
১৯। কোনো শিল্পাঞ্চলে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান শিল্প প্রকল্প বা উদ্যোগ, বাণিজ্যিক বা সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান বা অনুমোদিত অর্থনৈতিক পরিচালনার অনুমতি প্রাপ্ত হইলে, কর্তৃপক্ষ তৎকর্তৃক নির্ধারিত শর্তাবলি সাপেক্ষে, উক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ভূমি, ভবন, স্থান বা ভবনের স্পেস বরাদ্দ প্রদান করিবে অথবা ভাড়ার ভিত্তিতে বা অন্য কোনোভাবে ইজারা প্রদান করিতে পারিবে।
২০। (১) কোনো অনুমোদিত শিল্প প্রকল্প, ডেভেলপার, অপারেটর, অনুমতিপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এই আইন বা তদধীন প্রণীত কোনো বিধি-বিধান লঙ্ঘন করিলে অথবা অনুমোদন/নিবন্ধন পত্র, অনুমতিপত্র, বরাদ্দপত্র, ইজারা বা ভাড়ার কোনো আদেশ বা শর্ত ভঙ্গ করিলে, কর্তৃপক্ষ, উক্ত অনুমোদন, অনুমতিপত্র, বরাদ্দ, ইজারা বা ভাড়া স্থগিত বা বাতিল করিতে পারিবে।
(২) উপ-ধারা (১)-এর সামগ্রিকতাকে ক্ষুণ্ণ না করিয়া, কর্তৃপক্ষ কোনো ডেভেলপারকে প্রদত্ত অনুমতিপত্র স্থগিত বা বাতিল করিতে পারিবে, যদি উক্ত ডেভেলপার-
(ক) এই আইন বা তদধীন প্রণীত বিধি বা প্রবিধান বর্ণিত দায়িত্ব ও কার্যাবলি সম্পাদনে অসমর্থ হয়;
(খ) সরকার বা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত আদেশ বা নির্দেশনা সঠিকভাবে প্রতিপালন করিতে ব্যর্থ হয়;
(গ) অনুমতিপত্রের কোনো শর্ত ভঙ্গ করে; অথবা
(ঘ) অনুমতিপত্রে আরোপিত দায়িত্ব ও বাধ্যবাধকতা আর্থিক বা অন্য কোনো কারণে দক্ষতার সহিত প্রতিপালন করিতে ব্যর্থ হয়।
(৩) শিল্পাঞ্চল স্থাপনের জন্য বরাদ্দপ্রাপ্ত ভূমি অথবা ইজারা বা ভাড়ায় গৃহীত ভবন বা স্পেস অনুমোদিত/নিবন্ধিত শিল্প, সংশ্লিষ্ট ফরোয়ার্ড ও ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্প বা অনুমোদিত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ব্যতীত অন্য কোনো উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হইলে, কর্তৃপক্ষ উক্ত বরাদ্দ, ইজারা বা ভাড়া বাতিল করিতে পারিবে।
(৪) এই ধারার অধীন অনুমোদন/নিবদ্ধন, অনুমতিপত্র, বরাদ্দ, ইজারা বা ভাড়া স্থগিত বা বাতিলকরণ, বকেয়া ইজারার অর্থ বা ভাড়া আদায়ের পদ্ধতি প্রবিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
ষষ্ঠ অধ্যায়
বিশেষ সুবিধা ও প্রণোদনা, ইত্যাদি
২১। আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য-
(ক) শিল্পাঞ্চলের অভ্যন্তরে অবস্থিত শিল্প প্রকল্প/প্রতিষ্ঠান এর জন্য বিশেষ শুল্ক সুবিধা প্রদান করিতে পারিবে এবং “কাস্টমস আইন, ২০২৩” (২০২৩ সনের ৫৭ নং আইন) এর বিধান অনুযায়ী শিল্পাঞ্চলে স্থাপিত প্রতিষ্ঠানসমূহের আমদানি ও রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালনার সুবিধার্থে বিশেষ ব্যবস্থা প্রবর্তন করিতে পারিবে; এবং
(খ) এ আইনের অধীনে নিবন্ধিত শিল্পাঞ্চলের বহিস্থ নিবন্ধিত শিল্প প্রকল্প/প্রতিষ্ঠান এর জন্যও বিশেষ শুল্ক সুবিধা প্রদান করিতে পারিবে এবং “কাস্টমস আইন, ২০২৩” (২০২৩ সনের ৫৭ নং আইন) এর বিধান অনুযায়ী উক্ত প্রতিষ্ঠানসমূহের আমদানি ও রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালনার সুবিধার্থে বিশেষ ব্যবস্থা প্রবর্তন করিতে পারিবে।
(১) সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, খাতভিত্তিক শিল্প প্রকল্প/প্রতিষ্ঠানসমূহ, বিনিয়োগকারী, ডেভেলপার, অপারেটর ও পিপিপি প্রকল্পসমূহের জন্য আর্থিক ও অ-আর্থিক প্রণোদনা ও সুবিধাদি প্রদান করিতে পারিবে।
(২) তবে, উপধারা (১) এ যাহাকিছুই থাকুক না কেনো শিল্পাঞ্চলে স্থাপিত শিল্প প্রকল্প/প্রতিষ্ঠানসমূহের জন্য বিশেষ আর্থিক ও অ-আর্থিক প্রণোদনা ও সুবিধাদি প্রদান করিতে পারিবে।
২৩। আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সরকার “কাস্টমস আইন, ২০২৩” ব্যতীত (২০২৩ সনের ৫৭ নং আইন) যথাযথভাবে অনুসরণপূর্বক কোনো শিল্পাঞ্চলের প্রয়োজন বিবেচনায় উক্ত শিল্পাঞ্চলসহ বাংলাদেশের যেকোনো স্থানে স্থাপিত শিল্প প্রতিষ্ঠানের কাঁচামাল, প্যাকেজিং সামগ্রী, আধা-প্রক্রিয়াজাত দ্রব্যাদি এবং আনুষঙ্গিক দ্রব্যাদি আমদানি, সংরক্ষণ ও সরবরাহের জন্য উক্ত শিল্পাঞ্চল বা কর্তৃপক্ষের আওতাধীন যে কোনো স্থানকে বা কর্তৃপক্ষে নিবন্ধিত যে কোনো শিল্প প্রকল্প/প্রতিষ্ঠানের জমিকে সরকারি ওয়্যারহাউজ ঘোষণা করিতে পারিবে।
২৪। (১) আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, শিল্পাঞ্চলের বাইরে কর্তৃপক্ষে নিবন্ধিত যে কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠানের যন্ত্রপাতি, যন্ত্রাংশ, নির্মাণ সামগ্রী, কাঁচামাল ও মোড়ক-উপকরণ আমদানির জন্য আমদানি স্বত্বের প্রয়োজন হইলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে কর্তৃপক্ষের নিকট গাইডলাইন দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতি ও ফরমে আবেদন করিতে হইবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রাপ্ত আবেদন বিবেচনার পর কর্তৃপক্ষ আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানের প্রকৃতি ও প্রয়োজন বিবেচনা যথাযথ প্রাপ্তিসাপেক্ষে উপযুক্ত বিবেচনায় যাহাতে উক্ত যন্ত্রপাতি, যন্ত্রাংশ, নির্মাণ সামগ্রী, কাঁচামাল ও মোড়ক-উপকরণ আমদানি করা যায় কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় আমদানি অনুমতি (Import Permit) ছাড়পত্র প্রদান করিবে। রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও সিঙ্গেল ডিজিটাল প্লাটফর্মের মাধ্যমে কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় রপ্তানি অনুমতি (Export Permit) প্রদান করিবে।
(৩) শিল্পাঞ্চলে অবস্থিত কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠানের যন্ত্রপাতি, যন্ত্রাংশ, নির্মাণ সামগ্রী, কাঁচামাল ও মোড়ক-উপকরণ আমদানির প্রয়োজন হইলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে কর্তৃপক্ষের নিকট শিল্পাঞ্চলের জন্য নির্ধারিত পদ্ধতি ও ফরমে আবেদন করিতে হইবে।
(৪) উপ-ধারা (৩) এর অধীন প্রাপ্ত আবেদন বিবেচনার পর কর্তৃপক্ষ সেই অনুযায়ী যাহাতে উক্ত যন্ত্রপাতি, যন্ত্রাংশ, নির্মাণ সামগ্রী, কাঁচামাল ও মোড়ক-উপকরণ আমদানি করা যায় তজ্জন্য কর্তৃপক্ষ সিঙ্গেল ডিজিটাল প্লাটফর্মের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আমদানি অনুমতি (Import Permit) প্রদান করিবে। রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও সিঙ্গেল ডিজিটাল প্লাটফর্মের মাধ্যমে কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় রপ্তানি অনুমতি (Export permit) প্রদান করিবে।
২৫। কর্তৃপক্ষ কোনো শিল্পাঞ্চলে, বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনক্রমে, ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কোনো ব্যাংককে অনুমতি প্রদান করিতে পারিবে।
২৬। সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, কোনো শিল্পাঞ্চলের ডেভেলপার, অপারেটর বা উহাতে অবস্থিত কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠান/প্রকল্প কে নিম্নবর্ণিত সকল বা যেকোনো আইনের সকল বা যেকোনো বিধান হইতে অব্যাহতি দিতে পারিবে, অথবা এই মর্মে নির্দেশ দিতে পারিবে যে, উক্ত সকল বা যেকোনো আইনের বিধানাবলি, উক্ত প্রজ্ঞাপনে বিধৃত পরিবর্তন বা সংশোধন সাপেক্ষে প্রযোজ্য হইবে, যথা:-
(ক) Municipal Taxation Act, 1881 (Act No. XI of 1881);
(খ) Explosives Act, 1884 (Act No. IV of 1884);
(গ) Stamp Act, 1899 (Act No. II of 1809);
(ঘ) Foreign Exchange Regulation Act, 1947 (Act No. VII of 1947);
(ঙ) Building Construction Act, 1952 (E. B. Act No. II of 1953);
(চ) অগ্নি প্রতিরোধ ও নির্বাপণ আইন, ২০০৩ (২০০৩ সনের ৭ নং আইন);
(ছ) স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন ২০০৯ (২০০৯ সনের ৫৮ নং আইন);
(জ) জেলা পরিষদ আইন, ২০০০ (২০০০ সনের ১৯ নং আইন);
(ঝ) স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন, ২০০৯ (২০০৯ সনের ৬০ নং আইন);
(ঞ) স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ আইন, ২০০৯ (২০০৯ সনের ৬১ নং আইন);
(ট) মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ (২০১২ সনের ৪৭নং আইন);
(ঠ) বিদ্যুৎ আইন, ২০১৮ (২০১৮ সনের ৭ নং আইন);
(ড) বয়লার আইন, ২০২২ (২০২২ সনের ৬ নং আইন);
(ঢ) আয়কর আইন, ২০২৩ (২০২৩ সনের ১২ নং আইন);
(ণ) ভূমি উন্নয়ন কর আইন, ২০২৩ (২০২৩ সনের ৩১ নং আইন);
(ত) সরকার কর্তৃক, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, নির্ধারিত অন্য কোনো আইন।
২৭। কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠান কর্তৃক বিদেশি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে কোনো রয়্যালটি বা কারিগরি জ্ঞান বা কারিগরি সহায়তা ফি, ফ্রাঞ্চাইজ ফি প্রদেয় হইলে সংশ্লিষ্ট শিল্প প্রতিষ্ঠানকে, কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতিতে, উক্ত রয়্যালটি বা ফি নির্ধারণের জন্য কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করিতে হইবে এবং কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্ধারিত রয়্যালটি বা ফি সংশ্লিষ্ট শিল্প প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রদেয় হইবে।
সপ্তম অধ্যায়
বেসরকারি খাতে শিল্প প্রকল্প নিবন্ধন, বাতিল, অনিবন্ধিত শিল্প প্রতিষ্ঠান নিবন্ধীকরণ, ইত্যাদি
২৮। (১) আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত কোনো কর্তৃপক্ষ বা সংস্থার আওতাধীন শিল্প বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ব্যতীত যে কোনো বেসরকারি খাতে শিল্প স্থাপনে ইচ্ছুক প্রত্যেক ব্যক্তিকে তাহার প্রস্তাবিত শিল্প প্রকল্পের জন্য নিবন্ধন চাহিয়া কর্তৃপক্ষের নিকট গাইডলাইনে উল্লিখিত পদ্ধতিতে আবেদন করিতে হইবে। শিল্প প্রকল্পের নিবন্ধনের পদ্ধতি, শর্তাদি, নিবন্ধনপত্র সংশোধন এবং বাতিলের পদ্ধতি গাইডলাইন দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
(২) উপ-ধারা (১)-এর অধীন প্রাপ্ত আবেদন বিবেচনার সুবিধার্থে কর্তৃপক্ষ আবেদনকারীকে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহের জন্য নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে এবং প্রস্তাবিত শিল্প প্রকল্প-সম্পর্কিত কোনো বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অন্য যেকোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির পরামর্শ গ্রহণ করিতে পারিবে।
(৩) উপ-ধারা (১)-এর অধীন প্রাপ্ত আবেদন নিবন্ধনযোগ্য বলিয়া বিবেচিত হইলে কর্তৃপক্ষ প্রকল্পটি নিবন্ধন করিবে এবং আবেদনকারীকে একটি নিবন্ধনপত্র প্রদান করিবে এবং উক্ত নিবন্ধনপত্রে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন এবং উহাতে উৎপাদন শুরু করিবার সময়সীমা নির্ধারণ করিবে।
(৪) উপ-ধারা (৩)-এর অধীন কোনো শিল্প প্রকল্প নিবন্ধনকালে কর্তৃপক্ষ প্রকল্পটি যথাসময়ে বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় যাবতীয় বিষয় সম্পর্কে, বিশেষ করিয়া, নিম্নবর্ণিত সকল বা যেকোনো বিষয়ে, প্রাসঙ্গিকতা সাপেক্ষে, উহার সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত প্রদান করিবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষের নিকট উহা প্রেরণ করিবে, যথা:-
(ক) বৈদেশিক ঋণ, সরবরাহকারী ঋণ (Supplier’s Credit) ও বিলম্বিত ঋণের পরিমাণ ও শর্তাবলি;
(খ) সরকার বা অন্য কোনো স্থানীয় সরকার বা কর্তৃপক্ষের বা সংস্থার মালিকানাধীন বা নিয়ন্ত্রণাধীন শিল্প এলাকায় জমি বরাদ্দ;
(গ) আমদানিকৃত যন্ত্রপাতি, যন্ত্রাংশ, নির্মাণ সামগ্রী ও কাঁচামালের ক্ষেত্রে শুল্ক কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ছাড়করণের সময়সীমা;
(ঘ) পরিবেশ, অগ্নিনিরাপত্তা, নির্মাণ, বয়লার, বিস্ফোরক, মাদক সম্পর্কিত ছাড়পত্র/সনদ প্রদান/নবায়নের সময়সীমা; এবং
(ঙ) ভিসা, কর্মানুমতি, কর্মানুমতির বিপরীতে নিরাপত্তা ছাড়পত্র প্রদানের সময়সীমা;
(চ) বিদ্যুৎ, গ্যাস, পয়ঃপ্রণালির সংযোগ, টেলিযোগাযোগ স্থাপন এবং পানির সংযোগসহ প্রয়োজনীয় সকল ধরনের ইউটিলিটি সেবাসমূহ প্রদানের সময়সীমা;
(ছ) শিল্প, শিল্পাঞ্চল, পিপিপি প্রকল্প, শাখা, লিয়াজোঁ অফিস, প্রতিনিধি অফিস, প্রকল্প অফিস, এতদসংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান স্থাপন/পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় যে কোনো ধরনের সেবা/নিবন্ধন/লাইসেন্স/অনুমতি/অনুমোদন/ছাড়পত্র/অনাপত্তি পত্র প্রদান অথবা নবায়নের সময়সীমা;
(৫) উপ-ধারা (৪)-এ বর্ণিত এতদসংশ্লিষ্ট যেকোনো ধরনের সেবা/নিবন্ধন/লাইসেন্স/অনুমতি/ অনুমোদন/ছাড়পত্র/অনাপত্তিপত্র প্রদান অথবা নবায়নের ক্ষেত্রে এই কর্তৃপক্ষ কর্তৃক গৃহীত সকল সিদ্ধান্ত সরকার বা আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত প্রদানে ক্ষমতাপ্রাপ্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত বলিয়া গণ্য হইবে এবং তদানুযায়ী উহা বাস্তবায়ন করিতে হইবে।
(৬) উপ-ধারা (৪) এর অধীন কোনো ব্যক্তি বা সংস্থা বা কর্তৃপক্ষের নিকট কোনো সিদ্ধান্ত প্রেরণ করিলে উক্ত ব্যক্তি বা সংস্থা বা কর্তৃপক্ষ উক্ত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করিবে।
(৭) সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, সংস্থা, দপ্তর বা কর্তৃপক্ষ উপ-ধারা (৫) ও (৬)-এর অধীন এই কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণে ব্যর্থ বা অপারগ হইলে, এই কর্তৃপক্ষ বিষয়টি পর্যালোচনাপূর্বক লঙ্ঘনকারী ব্যক্তি, সংস্থা, দপ্তর বা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণার্থে যথাযথ নির্দেশ বা সুপারিশ প্রদান করিতে পারিবে। উক্ত নির্দেশ বা সুপারিশ অনুযায়ী উপ-ধারা (৫) ও (৬) লঙ্ঘনকারী ব্যক্তি, সংস্থা, দপ্তর বা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, সংস্থা, দপ্তর বা কর্তৃপক্ষ বাধ্য থাকিবে।
(৮) কোনো ব্যক্তি, কর্তৃপক্ষের পূ্র্বানুমতি ব্যতিরেকে, উপ-ধারা (৪) এর অধীন প্রদত্ত কোনো সুবিধা সংশ্লিষ্ট শিল্প প্রকল্প ব্যতীত অন্য কোনো উদ্দেশ্যে ব্যবহার করিতে পারিবেন না অথবা অনুমোদিত শিল্পের ধরন পরিবর্তন অথবা মালিকানার পরিবর্তন করিতে পারিবেন না।
(৯) অনুমোদিত শিল্প প্রকল্প “কোম্পানী আইন, ১৯৯৪” (১৯৯৪ সনের ১৮নং আইন) এর অধীন নিবন্ধিত কোনো কোম্পানি হইলে উহার মূলধন ইস্যুকরণ ও শেয়ার বিক্রয় সম্পর্কিত যাবতীয় বিষয়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের মাধ্যমে কর্তৃপক্ষ সরকারের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব সম্পাদন করিতে পারিবে।
(১০) কোনো শিল্প প্রকল্প উহার অনুমোদনপত্রে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন এবং উৎপাদন শুরু করিবার ক্ষেত্রে কোনো অসুবিধার সম্মুখীন হইলে উহা দূরীকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তা কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করিতে পারিবে এবং উক্তরূপ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ যথাযথ সহায়তা প্রদান করিবে।
(১১) অনুমোদিত শিল্প প্রকল্পের বাস্তবায়ন সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ সময় সময় প্রকল্প উদ্যোক্তার নিকট হইতে প্রয়োজনীয় তথ্য তলব করিতে পারিবে।
২৯। (১) আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত কোনো কর্তৃপক্ষ বা সংস্থার আওতাধীন শিল্প প্রতিষ্ঠান ব্যতীত সকল বেসরকারি খাতে স্থাপিত সকল অনিবন্ধিত শিল্পকে গাইডলাইন দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে নিবন্ধিত হইতে হইবে।
(২) বিদেশে নিবন্ধিত বেসরকারি বাণিজ্যিক কোম্পানির বাংলাদেশ শাখা, লিয়াজোঁ ও প্রতিনিধি অফিস, প্রকল্প অফিস স্থাপনের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতিতে অনুমতি গ্রহণ করিতে হইবে।
(৩) এই ধারার অধীন নিবন্ধিত বা অনুমতিপ্রাপ্ত যেকোনো শিল্প উহার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রচলিত আইনে নির্ধারিত সকল সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্য হইবে।
(৪) এই আইন প্রবর্তনের পূর্বে যেই সকল শিল্প প্রতিষ্ঠান নিবন্ধিত হইয়াছে বা বিদেশে নিবন্ধিত বেসরকারি বাণিজ্যিক কোম্পানির বাংলাদেশ শাখা, লিয়াজোঁ ও রিপ্রেজেন্টেটিভ অফিস, প্রকল্প অফিস স্থাপনের অনুমতি গ্রহণ করিয়াছে সেই সকল শিল্প প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এই ধারার কোনো কিছুই প্রযোজ্য হইবে না।
অষ্টম অধ্যায়
পিপিপি প্রকল্প গ্রহণ, অনুমোদন, বেসরকারি অংশীদার নির্বাচন, ইত্যাদি
৩০। (১) কোনো চুক্তিকারী কর্তৃপক্ষ, ক্ষেত্রমত, কর্তৃপক্ষ বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীর যেকোনো প্রকল্প অথবা বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীর বাইরে যেকোনো প্রকল্প চিহ্নিতক্রমে উহা পিপিপি’র মাধ্যমে বাস্তবায়নের জন্য পিপিপি প্রকল্প গ্রহণ করিতে পারিবে।
(২) গভর্নিং বোর্ড, প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীর যেকোনো প্রকল্প অথবা বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীর বাইরের যেকোনো প্রকল্পকে পিপিপি’র ভিত্তিতে বাস্তবায়নের জন্য চুক্তিকারী কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দিতে পারিবে;
(৩) চুক্তিকারী কর্তৃপক্ষ, ক্ষেত্রমত, পিপিপি কর্তৃপক্ষ, নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করিয়া জিটুজি পিপিপি প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করিতে পারিবে।
(৪) জিটুজি পিপিপি প্রকল্প প্রক্রিয়াকরণের ক্ষেত্রে এতদুদ্দেশ্যে অথবা অন্যান্য পিপিপি প্রকল্প প্রক্রিয়াকরণের জন্য প্রণীত বিধি-বিধান অনুসরণ করিতে হইবে।
(৫) দেশের সামাজিক অবকাঠামো খাতে এবং টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ক্ষুদ্রাকার পিপিপি প্রকল্প গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন চুক্তিকারী কর্তৃপক্ষ, ক্ষেত্রমত পিপিপি কর্তৃপক্ষ নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে নির্ধারিত গাইডলাইন অনুসরণপূর্বক সম্পন্ন করিতে পারিবে।
(৬) এসকল পিপিপি প্রকল্পসমূহে অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশীদারিত্ব, অর্থায়নের নানাবিধ উৎস এবং ফলপ্রদ পরিবীক্ষণ এবং মূল্যায়নের বিষয়সমূহ নিশ্চিতকল্পে বেসরকারি অংশীদার নির্বাচন প্রক্রিয়া, অর্থায়নের ধরন, অপারেশন এবং বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন সংক্রান্ত বিষয়াদি বিধি বা গাইডলাইন দ্বারা নির্ধারণ করা হইবে।
৩১। মন্ত্রিসভা কমিটি পিপিপি প্রকল্পের নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন করিবে, তবে ক্ষুদ্রাকার পিপিপি প্রকল্পের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগ গাইডলাইন দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে উক্ত প্রকল্পের নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন করিতে পারিবে।
৩২। (১) দেশের আর্থ সামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করিবার বা জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করিবার বা জনসাধারণের বড় ধরনের কোনো দুর্ভোগ দ্রুত নিরসনের প্রয়োজনে কোনো চুক্তিকারী কর্তৃপক্ষ, ক্ষেত্রমত, কর্তৃপক্ষ, মন্ত্রিসভার অনুমোদন সাপেক্ষে, যেকোনো প্রকল্পকে জাতীয় অগ্রাধিকার প্রকল্প ঘোষণা করিতে পারিবে।
(২) এই আইনে ভিন্নতর যাহা কিছুই থাকুক না কেন, উপ-ধারা (১) এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, চুক্তিকারী কর্তৃপক্ষ, ক্ষেত্রমত, কর্তৃপক্ষ, মন্ত্রিসভার অনুমোদন সাপেক্ষে, জাতীয় অগ্রাধিকার প্রকল্প অনুমোদন, বেসরকারি অংশীদার নির্বাচন, নেগোসিয়েশন, ইত্যাদির জন্য আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি বা সাব-কমিটি গঠন করিতে পারিবে।
(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন গঠিত কমিটির কর্মপরিধি, কার্যপদ্ধতি ও সভা অনুষ্ঠানসহ জাতীয় অগ্রাধিকার প্রকল্প অনুমোদন, বেসরকারি অংশীদার নির্বাচন, নেগোসিয়েশন, ইত্যাদি সংক্রান্ত বিষয়াদি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
৩৩। সরকার পিপিপি প্রকল্পের নিম্নবর্ণিত কর্মকাণ্ডের বিপরীতে অর্থ ও সরকার প্রদত্ত গ্যারান্টি প্রদান করিতে পারিবে, যথা:-
(ক) কারিগরি সহায়তার বিপরীতে অর্থায়ন (Technical Assistance Financing);
(খ) আর্থিক সামর্থ্য ঘাটতির বিপরীতে অর্থায়ন (Viability Gap Financing);
(গ) প্রকল্প কোম্পানিতে ইকুইটি ক্রয় বা ঋণের বিপরীতে অর্থায়ন (Financing Against Equity and Loan);
(ঘ) পিপিপি প্রকল্পের সহিত সংযুক্ত কম্পোন্যান্ট বাস্তায়নের বিপরীতে অর্থায়ন (Financing Against Linked Component);
(ঙ) কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্ধারিত অন্য কোনো কর্মকাণ্ডের বিপরীতে অর্থায়ন।
৩৪। পিপিপি প্রকল্পে বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করিবার জন্য সরকার, গভর্নিং বোর্ডের সুপারিশের ভিত্তিতে, সরকারি গেজেটে সাধারণ বা বিশেষ আদেশ দ্বারা, প্রণোদনা ঘোষণা করিতে পারিবে।
৩৫। (১) এই আইনের বিধানাবলি সাপেক্ষে, চুক্তিকারী কর্তৃপক্ষ পিপিপি প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে স্বীয় খাতের যেকোনো অবকাঠামো নির্মাণ বা বিদ্যমান অবকাঠামো সংস্কার বা পুনঃনির্মাণের জন্য বেসরকারি অংশীদারের সহিত অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পিপিপি চুক্তি সম্পাদন করিতে পারিবে।
(২) পিপিপি প্রকল্পের সুষ্ঠু বাস্তবায়ন নিশ্চিতকল্পে চুক্তিকারী কর্তৃপক্ষ যেকোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব প্রদান করিতে পারিবে।
(৩) চুক্তিকারী কর্তৃপক্ষের মালিকানাধীন বা আওতাধীন কোনো সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিতকল্পে, নির্ধারিত আইনি কাঠামোর মাধ্যমে নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য উক্ত সম্পদের স্বল্প কিংবা দীর্ঘ মেয়াদী লীজ মূলে হস্তান্তর বা ব্যবহারের অধিকার প্রদান করিতে পারিবে।
(৪) প্রকল্পের অগ্রগতি ও কার্যক্রম বিষয়ে চুক্তিকারী কর্তৃপক্ষ, নির্ধারিত পদ্ধতি ও সময় অন্তর, কর্তৃপক্ষের নিকট প্রতিবেদন দাখিল করিবে।
(৫) উপ-ধারা (৩) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কর্তৃপক্ষ যেকোনো সময় চুক্তিকারী কর্তৃপক্ষের নিকট যেকোনো প্রতিবেদন বা তথ্য-উপাত্ত যাচনা করিতে পারিবে এবং চুক্তিকারী কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করিতে পারিবে।
৩৬। (১) মন্ত্রিসভা কমিটি বা ক্ষুদ্রাকার পিপিপি প্রকল্পের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগ এর নীতিগত অনুমোদন ব্যতীত কোনো চুক্তিকারী কর্তৃপক্ষ পিপিপি প্রকল্পের জন্য বেসরকারি অংশীদার নির্বাচন প্রক্রিয়া গ্রহণ করিবে না।
(২) চুক্তিকারী কর্তৃপক্ষ, ক্ষেত্রমত, কর্তৃপক্ষ, প্রবিধান অনুযায়ী বেসরকারি অংশীদার নির্বাচন করিতে পারিবে।
৩৭। (১) যেকোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এতদসংশ্লিষ্ট গাইডলাইন অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় খাতের কোনো অবকাঠামো নির্মাণ বা বিদ্যমান অবকাঠামো অবকাঠামো সংস্কার বা পুনঃনির্মাণের ও পরিচালনার প্রস্তাব সংবলিত যেকোনো প্রকারের পিপিপি প্রকল্পের জন্য অযাচিত প্রস্তাব (Unsolicited Proposal) চুক্তিকারী কর্তৃপক্ষ, বা ক্ষেত্রমত, কর্তৃপক্ষের নিকট দাখিল করিতে পারিবে।
(২) গাইডলাইন অনুসারে অযাচিত প্রস্তাব মূল্যায়ন করিতে হইবে।
ব্যাখ্যা।-এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, ‘‘অযাচিত প্রস্তাব (Unsolicited Proposal)” অর্থ কোনো বেসরকারি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক স্ব-উদ্যোগে দাখিলকৃত কোনো লিখিত প্রস্তাব, যাহা সরকারের কোনো আনুষ্ঠানিক অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে প্রদত্ত নয়।
৩৮। পিপিপি চুক্তির যেই সকল শর্ত নেগোসিয়েশনের জন্য উন্মুক্ত নহে সেই সকল শর্ত ব্যতীত কেবল নেগোসিয়েশনযোগ্য শর্তাবলির বিষয়ে নেগোসিয়েশন করা যাইবে।
৩৯। (১) চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত বেসরকারি অংশীদারের সহিত, এই আইন, প্রবিধান ও সম্মত শর্তাবলি সাপেক্ষে, চুক্তিকারী কর্তৃপক্ষ পিপিপি চুক্তি সম্পাদন করিবে।
(২) চুক্তিকারী কর্তৃপক্ষ ও নির্বাচিত বেসরকারি অংশীদারের আইনগত সম্পর্ক, ঝুঁকির বণ্টন ও উহাদের অধিকার ও দায়-দায়িত্ব পিপিপি চুক্তির শর্তাবলি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
(৩) উপ-ধারা (১) ও (২) এর পরিধিকে সীমিত না করিয়া, পিপিপি চুক্তিতে নিম্ন-বর্ণিত যে কোনো বা সকল বিষয়াদি সংক্রান্ত বিধান থাকিতে পারিবে, যথা:-
(ক) প্রকল্পের ধরন;
(খ) পিপিপি চুক্তির মেয়াদ;
(গ) গণপণ্য ও গণসেবা;
(ঘ) কারিগরি নমুনা ও প্রতিপালন মানদণ্ড;
(ঙ) পরিবেশগত ও নিরাপত্তা চাহিদা;
(চ) বাস্তবায়ন নির্দেশক এবং সমাপ্তির তারিখ;
(ছ) লেভী আদায়ের মাধ্যমে ব্যয় পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা ও উহা সমন্বয়ের কৌশল;
(জ) নির্মাণ কার্য ও পরিচালনা অঙ্গীকারনামা;
(ঝ) বিমা;
(ঞ) স্বীকৃতি পরীক্ষা (Acceptance Test) ও পদ্ধতি;
(ট) পিপিপি চুক্তির পক্ষসমূহের অধিকার ও দায়িত্ব, ঝুঁকি বণ্টন;
(ঠ) সরকারি আর্থিক অংশগ্রহণের ধরন ও পরিমাণ;
(ড) পিপিপি চুক্তি সমাপ্তিতে সম্পদ হস্তান্তর (যদি থাকে);
(ঢ) হস্তান্তর পরবর্তী নির্ভরপত্র এবং পদ্ধতি;
(ণ) প্রতিবেদন দাখিল;
(ত) চুক্তিকারী কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধান কৌশল;
(থ) সম্পদের মালিকানা;
(দ) প্রাকৃতিক বিপর্যয়কালীন তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ;
(ধ) নিয়ন্ত্রণকারী আইন (Governing Law);
(ন) সালিশী ব্যবস্থা;
(প) প্রকল্প এলাকার উপর অধিকার;
(ফ) নিরাপত্তা স্বার্থ এবং
(ব) চুক্তি বাতিল সংক্রান্ত শর্তাদি।
(৪) পিপিপি চুক্তিতে এমন কোনো শর্তের সন্নিবেশ করা যাইবে না যাহা শ্রমিকদের মজুরির মান ও সাধারণ জনগণের সামাজিক সুযোগ-সুবিধা, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা এবং শিশুশ্রম নিষিদ্ধকরণ সংক্রান্ত কোনো বিধানের সহিত অসঙ্গতিপূর্ণ হয়।
(৫) আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইন বা আইনের মর্যাদাসম্পন্ন দলিলে ভিন্নতর যাহা কিছুই থাকুক না কেন, পিপিপি চুক্তি পক্ষগণের সম্মত ভাষায় প্রণয়ন করা যাইবে।
(৬) পিপিপি চুক্তি স্বাক্ষরের পর সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রকল্প কোম্পানিকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করিবে।
৪০। “তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯” (২০০৯ সনের ২০ নং আইন) এ ভিন্নতর কিছু না থাকিলে, এই অধ্যায়ের অধীন বেসরকারি অংশীদারের প্রাক-যোগ্যতা, দরপত্র প্রক্রিয়া ও নেগোসিয়েশন প্রক্রিয়া ও অনুমোদন সংশ্লিষ্ট সকল কাগজপত্র, তথ্য, দলিল-দস্তাবেজ গোপনীয় হইবে, এবং আদালতের আদেশ বা পক্ষগণের সম্মতি ব্যতিরেকে, তৃতীয় কোনো পক্ষের নিকট উহা প্রকাশ করা যাইবে না।
৪১। (১) বেসরকারি অংশীদার চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হইবার পর, পিপিপি চুক্তি সম্পাদনের পূর্বে বা পরে, কোম্পানি গঠন সংক্রান্ত বিদ্যমান আইনের বিধান অনুযায়ী শেয়ার দ্বারা সীমিতদায় কোম্পানি গঠন করিতে হইবে।
(২) পিপিপি চুক্তিতে স্বাক্ষর করিবার পর, বেসরকারি অংশীদারের সকল দায়-দায়িত্ব ও অধিকার প্রকল্প কোম্পানির উপর অর্পিত হইবে।
(৩) প্রকল্প কোম্পানির সংঘস্মারক, সংঘবিধি ও উপ-আইন বা উহার নিয়ন্ত্রক দলিলে কোনো গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন করিবার প্রয়োজন হইলে, বেসরকারি অংশীদারকে উক্তরূপ পরিবর্তন সাধনের পূর্বে চুক্তিকারী কর্তৃপক্ষের অনুমোদন গ্রহণ করিতে হইবে।
৪২। (১) পিপিপি চুক্তির বিধান প্রয়োগ বা ব্যাখ্যা বা উভয়ের ক্ষেত্রে কোনো বিরোধ উদ্ভূত হইলে, পক্ষগণ কর্তৃক পিপিপি চুক্তির অধীন সম্মত নিম্নবর্ণিত উপায়ে উহা নিষ্পত্তি করিবে, যথা:-
(ক) চুক্তির পক্ষদ্বয়ের মধ্যে পারস্পরিক সম্মতির মাধ্যমে; বা
(খ) দফা (ক) এর অধীন বিরোধ মীমাংসা না হওয়ার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞ মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে; বা
(গ) দফা (খ) এর অধীন বিরোধ মীমাংসা না হওয়ার ক্ষেত্রে পিপিপি পক্ষগণের সালিশ (Arbitration) এর মাধ্যমে।
(২) আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইন বা আইনের মর্যাদাসম্পন্ন দলিলে ভিন্নতর যাহা কিছুই থাকুক না কেন, উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে পিপিপি চুক্তির দ্বারা জাতীয় বা আন্তর্জাতিক বিধি-বিধান গ্রহণ করা যাইবে এবং সালিশি ব্যবস্থা ঢাকায় হইবে; তবে বিশেষ ক্ষেত্রে সম্মতির ভিত্তিতে অন্য কোনো দেশেও হইতে পারিবে।
(৩) আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইন বা আইনের মর্যাদাসম্পন্ন দলিলে ভিন্নতর যাহা কিছুই থাকুক না কেন, পিপিপি চুক্তির বিধান প্রয়োগের ক্ষেত্রে উদ্ভূত বিরোধ উপ-ধারা (১) এর অধীন নিষ্পত্তির উদ্যোগ গ্রহণ না করিয়া কোনো পক্ষ জাতীয় বা আন্তর্জাতিক আদালতের আশ্রয় গ্রহণ করিতে পারিবে না।
(৪) এই ধারার অধীনে সালিশি ব্যবস্থার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হইবে।
৪৩। কোনো ব্যক্তি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, দরপত্রদাতা বা নির্বাচিত দরপত্রদাতা যদি চুক্তিকারী কর্তৃপক্ষ বা উহার কোনো কর্মকর্তা কর্তৃক প্রদত্ত কোনো আদেশ বা সিদ্ধান্ত দ্বারা সংক্ষুব্ধ হন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বা দরপত্রদাতা বা নির্বাচিত দরপত্রদাতা, নির্ধারিত পদ্ধতিতে সংশ্লিষ্ট আদেশ বা সিদ্ধান্তের বিষয়ে উক্ত আদেশ বা সিদ্ধান্ত প্রদানের তারিখ হইতে ৩০ (ত্রিশ) কার্যদিবসের মধ্যে কর্তৃপক্ষের নিকট আপিল দায়ের করিতে পারিবেন এবং আপিলের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলিয়া বিবেচিত হইবে।
৪৪। (১) বেসরকারি অংশীদার নির্বাচন প্রক্রিয়া ও পিপিপি প্রকল্প বাস্তবায়নের সহিত জড়িত কোনো ব্যক্তি যদি, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে, উক্ত প্রক্রিয়া পরিচালনা বা উক্ত প্রকল্প বাস্তবায়নকালে কোনো দুর্নীতিমূলক কার্য, প্রতারণামূলক কার্য, চক্রান্তমূলক কার্য বা জবরদস্তিমূলক কার্যে লিপ্ত হয়, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি দুর্নীতি বা ক্ষেত্রমত, অসদাচরণ বা উভয়ের জন্য দায়ী হইবেন এবং তাহার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে দুর্নীতির মামলাসহ আচরণ ও শৃঙ্খলা সংক্রান্ত চাকরি বিধি অনুযায়ী বিভাগীয় মামলা দায়ের করা যাইবে।
(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত দুর্নীতিমূলক কার্য, প্রতারণামূলককার্য, চক্রান্তমূলক কার্য বা জবরদস্তিমূলক কার্যের সহিত কোনো প্রতিষ্ঠান জড়িত থাকিলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে স্থায়ী বা সাময়িকভাবে অগ্রহণযোগ্য ঘোষণাসহ, ক্ষেত্রমত, উহার প্রাক-যোগ্যতা, দরপত্র বা পিপিপি চুক্তি বাতিল করিতে হইবে।
ব্যাখ্যা।-এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, ‘‘দুর্নীতিমূলক কার্য’’, ‘‘প্রতারণামূলক কার্য’’, ‘‘জবরদস্তিমূলক কার্য’’ ও ‘‘চক্রান্তমূলক কার্য’’ অভিব্যক্তিসমূহ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন, ২০০৬ (২০০৬ সনের ২৪ নং আইন) এর অধীন প্রণীত পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা, ২০২৫ এর বিধি ১৪৯ এ সংজ্ঞায়িত অর্থে ব্যবহৃত হইবে।
৪৫। বেসরকারি অংশীদার নির্বাচন প্রক্রিয়ায় দরপত্র মূল্যায়নের সহিত জড়িত কোনো ব্যক্তির নিকট যদি প্রতীয়মান হয় যে, কোনো প্রকল্প বা সংযুক্ত প্রকল্পের সহিত জড়িত কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির সহিত তাহার, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ, স্বার্থের সংঘাত রহিয়াছে, তাহা হইলে তিনি উক্তরূপ প্রতীয়মান হইবার সঙ্গে সঙ্গে উক্ত প্রক্রিয়া হইতে নিজেকে প্রত্যাহার করিয়া লইবেন; এবং যদি তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে নিজেকে প্রত্যাহার না করেন, তাহা হইলে উহা ধারা ৪৫ এ সংজ্ঞায়িত অর্থে ‘চক্রান্তমূলক কার্য’ বলিয়া গণ্য হইবে।
ব্যাখ্যা।--এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, ‘‘স্বার্থের সংঘাত’’ বলিতে কোনো ব্যক্তি বা তাহার স্ত্রী বা স্বামী বা পুত্র বা কন্যার, কোনো প্রকল্প বা সংযুক্ত প্রকল্প বা কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যবসার সহিত এমন কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ আর্থিক বা ব্যবসায়িক সম্পর্ক বা স্বার্থকে বুঝাইবে, যাহার দ্বারা উক্ত ব্যক্তি কর্তৃক বেসরকারি অংশীদার নির্বাচন প্রক্রিয়ায় দরপত্র মূল্যায়নে প্রদেয় সিদ্ধান্ত প্রভাবিত হইতে পারে বা হইবার সম্ভাবনা থাকে।
৪৬। (১) আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইন বা আইনের মর্যাদাসম্পন্ন দলিলে ভিন্নতর যাহা কিছুই থাকুক না কেন, গণপণ্য বা গণসেবা সরবরাহ করিবার বিনিময়ে পিপিপি চুক্তি অনুযায়ী লেভি আরোপ করিবার অধিকার বেসরকারি অংশীদার বা প্রকল্প কোম্পানির থাকিবে।
(২) পিপিপি চুক্তিতে লেভি নির্ধারণ এবং সমন্বয়ের পদ্ধতি ও সূত্র বিধৃত থাকিতে হইবে।
ব্যাখ্যা।-এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, ‘‘লেভি’’ অর্থ গণপণ্য বা গণসেবা সরবরাহ করিবার বিনিময়ে পিপিপি চুক্তি অনুযায়ী প্রকল্প কোম্পানি কর্তৃক প্রাপ্য অর্থ; এবং ট্যারিফ, টোল, ফি, বা চার্জও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে।
৪৭। অংশীদারিত্ব চুক্তির মেয়াদকালে যে কোনো সময়, প্রকল্প কোম্পানি কর্তৃক গণপণ্য সরবরাহ বা গণসেবা প্রদান করিবার ক্ষেত্রে উহার ব্যবহারকারীগণের দাবি বা অভিযোগসমূহ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে, প্রয়োজনীয় পদ্ধতি প্রবর্তনের জন্য, চুক্তিকারী কর্তৃপক্ষ প্রকল্প কোম্পানিকে নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে।
নবম অধ্যায়
সরকারি শিল্প বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বা ইহাদের অব্যবহৃত জমি বা স্থাপনা বরাদ্দ প্রদান, ইত্যাদি
৪৮। (১) দেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বেসরকারি খাতে শিল্প স্থাপন ও সরকারি শিল্প বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও ইহাদের অব্যবহৃত জমি বা স্থাপনা, শেয়ার ও স্বত্ব হস্তান্তর বা কৌশলগত বিক্রয় (Strategic Divestiture) এবং অধিকতর উপযোগী অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের জন্য সরকার নীতিমালা প্রণয়ন করিবে: তবে শর্ত থাকে যে, অনুরূপ নীতিমালা প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত, কর্তৃপক্ষ এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার কর্তৃক সময় সময় জারিকৃত বিশেষ বা সাধারণ আদেশের মাধ্যমে উক্ত হস্তান্তর বা কৌশলগত বিক্রয় কার্যক্রম সম্পন্ন করিতে পারিবে।
(২) সরকার বরাদ্দযোগ্য সরকারি শিল্প বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের অধিকতর উপযোগী অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের জন্য হস্তান্তর বা বরাদ্দ প্রদান বা কৌশলগত বিক্রয়ের লক্ষ্যে সামগ্রিকভাবে উক্ত শিল্প বা প্রতিষ্ঠান বা উহার অংশবিশেষ, মেশিনারি বা অব্যবহৃত জমি বা স্থাপনার তালিকা করিবে, যাহাতে ইহার সংক্ষিপ্ত ইতিবৃত্ত, আনুমানিক মূল্য এবং সম্পদ ও দায়-দেনা সম্পর্কে সুস্পষ্ট বর্ণনা থাকিবে।
(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন তালিকাভুক্ত কোনো সরকারি শিল্প বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও উহার অব্যবহৃত মেশিনারি, জমি বা স্থাপনা কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করা হইলে কর্তৃপক্ষ উহার হস্তান্তর বা বরাদ্দ প্রদান, বা কৌশলগত বিক্রয়ের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।
(৪) দেশি-বিদেশি আগ্রহী বিনিয়োগকারীগণ অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে উক্তরূপ সরকারি শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনার জন্য বরাদ্দ বা কৌশলগত বিক্রয়ের মাধ্যমে গ্রহণ করিতে পারিবেন এবং অব্যবহৃত জমি লীজ গ্রহণ করিতে পারিবেন, এবং এতদুদ্দেশ্যে চুক্তিপত্র সম্পাদিত হইবে।
(৫) এই ধারার অধীন কোনো সরকারি শিল্প বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বা ইহার অব্যবহৃত জমি বা স্থাপনা বরাদ্দ, হস্তান্তর বা কৌশলগত বিক্রয়ের মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থ কর্তৃপক্ষ কোনো তফসিলি ব্যাংকে একটি পৃথক হিসাবে জমা রাখিবে, এবং উক্ত অর্থ হইতে সংশ্লিষ্ট শিল্প বা প্রতিষ্ঠানের পূর্বের দায়-দেনা প্রচলিত আইন অনুযায়ী পরিশোধ করা হইবে এবং অবশিষ্ট অর্থ প্রজাতন্ত্রের সংযুক্ত তহবিলে জমা করিতে হইবে।
(৬) এই ধারার অধীন কোনো সরকারি শিল্প বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনার জন্য হস্তান্তর বা বরাদ্দ প্রদান বা কৌশলগত বিক্রয় সংক্রান্ত চুক্তি প্রণয়নকালে সংশ্লিষ্ট সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শ্রমিকগণ যাহাতে তাহাদের প্রাপ্য ন্যায্য পাওনা হইতে বঞ্চিত না হন সরকার সেই বিষয়ে প্রচলিত আইন ও এতদ্বিষয়ে অন্যান্য নীতি অনুসরণ করিয়া প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করিবে।
৪৯। (১) কোনো সরকারি শিল্প বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের হস্তান্তর বা বরাদ্দ গ্রহীতা চুক্তিপত্রের কোনো শর্ত লঙ্ঘন করিলে, উক্ত চুক্তিপত্র অনুসারে সরকার বা, ক্ষেত্রমত, কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠানটির দখল গ্রহণ করিতে এবং প্রয়োজনবোধে, উক্ত চুক্তিপত্র এবং এতদ্সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দলিল বাতিলসহ আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবে।
(২) উক্তরূপ কোনো হস্তান্তর বা বরাদ্দ গ্রহীতা প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করিতে ব্যর্থ হইলে দখলসহ উহার সকল ইউটিলিটি বিল পরিশোধ সাপেক্ষে, প্রতিষ্ঠানটি সরকারের অনুকূলে প্রত্যর্পণ করিবে এবং উক্ত প্রতিষ্ঠানের সম্পদের কোনো ক্ষয়-ক্ষতি হইলে বিধি অনুযায়ী সরকার উহা সমন্বয়পূর্বক চুক্তির শর্তানুসারে হস্তান্তরগ্রহীতাকে উহার মূল্য পরিশোধ করিবে।
দশম অধ্যায়
সিঙ্গেল ডিজিটাল প্লাটফর্ম
৫০। (১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, বিনিয়োগ ও ব্যবসা সংক্রান্ত সকল সেবা, অনুমোদন, লাইসেন্স, ছাড়পত্র ও পারমিটের নিরবচ্ছিন্ন, স্বচ্ছ ও কার্যকর সেবা প্রদান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি সিঙ্গেল ডিজিটাল প্লাটফর্ম প্রতিষ্ঠা করিতে হইবে। প্রয়োজন সাপেক্ষে কর্তৃপক্ষের প্রধান বা শাখা অফিসে সেবা প্রদানকারী সকল সংস্থার ডেস্ক স্থাপন করিতে হইবে এবং সেখানে প্রয়োজনীয় ক্ষমতাপ্রদান সাপেক্ষে উক্ত সংস্থার এক বা একাধিক কর্মচারীকে সংযুক্ত করিতে হইবে।
(২) সংশ্লিষ্ট সকল সেবা প্রদানকারী সংস্থা বাধ্যতামূলকভাবে, কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত সীমার মধ্যে উক্ত সিঙ্গেল ডিজিটাল প্লাটফর্ম- এর সহিত সংযুক্ত থাকিবে এবং কর্তৃপক্ষ উক্ত ডিজিটাল প্লাটফর্মের উন্নয়ন, বাস্তবায়ন ও পরিচালনা করিবে।
(৩) সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সাথে আলোচনাপূর্বক নির্ধারিত সময়সীমার (Cut-Off Timeline) মধ্যে বর্তমানে কার্যরত সকল পৃথক ওয়ান স্টপ সার্ভিস পোর্টাল ও অন্যান্য সেবা প্রদান প্ল্যাটফর্মসমূহ ধাপে ধাপে সিঙ্গেল ডিজিটাল প্লাটফর্ম-এ একীভূত (Integrate) বা স্থানান্তর (Migrate) করিতে হইবে এবং উক্ত সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়ার পর কোনো সংস্থা নিজস্ব পৃথক পোর্টালের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করিতে পারিবে না।
(৪) সিঙ্গেল ডিজিটাল প্লাটফর্ম সংক্রান্ত বিষয়াদি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, বিধি প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ এতদুদ্দেশ্যে আদেশ জারি করিতে পারিবে।
একাদশ অধ্যায়
পরিদর্শন, তদন্ত, বিশেষাধিকার, ইত্যাদি
৫১। (১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার, কর্তৃপক্ষ বা তৎকর্তৃক নিযুক্ত কোনো ব্যক্তি প্রতিষ্ঠান-
(ক) কোনো প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি পরিদর্শন করিতে পারিবে; এবং
(খ) যেকোনো সরকারি ও বেসরকারি শিল্প বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করিয়া উহা পরিদর্শন করিতে বা উহাতে কোনো তদন্ত পরিচালনা করিতে পারিবে এবং উক্তরূপ প্রবেশ, পরির্দশন, তদন্তের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় সকল প্রকার সুযোগ-সুবিধা প্রদান করিবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর দফা (খ) এর অধীন পরিদর্শন, তদন্ত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বা অন্যবিধ উপায়ে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করিয়া কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠানটিতে জনস্বার্থে কোনো সংস্কার আনয়ন প্রয়োজন মনে করিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবে এবং এতদুদ্দেশ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটিকে যথাযথ নির্দেশ দিতে পারিবে।
৫২। কর্তৃপক্ষের নিম্নবর্ণিত বিশেষ অধিকার থাকিবে, যথা:-
(ক) শিল্পাঞ্চলে স্থাপিত কোনো কোম্পানি, শিল্প বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি বা প্রকল্প-কোম্পানির নিকট কর্তৃপক্ষের কোনো পাওনা, মূল্য, বকেয়া, ফি, সার্ভিস চার্জ, ক্ষতিপূরণ বা ক্ষতির অর্থ অনাদায়ী থাকিলে, উহা উক্ত কোম্পানি, প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি বা প্রকল্প-কোম্পানির নিকট হইতে আদায়যোগ্য হইবে, এবং উক্ত পাওনা পরিশোধে ব্যর্থতার ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ চুক্তি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট মালিক, পরিচালক বা পরিচালনা পর্ষদের বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক বা আইনগত কার্যধারা গ্রহণ করিতে পারিবে এবং উক্ত পাওনা The Public Demands Recovery Act, 1913 (No. III of 1913) এর বিধান অনুযায়ী সরকারি দাবি হিসাবে আদায় করিতে পারিবে;
(খ) কোনো মালিক, শ্রমিক, কর্মচারী, নির্বাহী বা ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি শ্রমিক অসন্তোষ, ধর্মঘট বা লক-আউট সৃষ্টিকারী কোনো কার্য বা প্ররোচনার সহিত জড়িত থাকিলে, কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে উক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণসহ নির্ধারিত সময়ের জন্য প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ রাখিবার নির্দেশ দিতে পারিবে এবং এ কারণে কর্তৃপক্ষ কোনো ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য দায়ী হইবে না;
(গ) কর্তৃপক্ষের বকেয়া পাওনা, অন্যান্য পাওনা বা দায়-দেনা পরিশোধে ব্যর্থ হইলে, কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মেশিনপত্র, যন্ত্রপাতি, কাঁচামাল অথবা অন্য কোনো পণ্য অপসারণ করিয়া গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্ধারিত হারে বা কমিটির মাধ্যমে মূল্যায়নপূর্বক অন্য কোনো শিল্প বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানকে বরাদ্দ প্রদান করিতে পারিবে;
(ঘ) পূর্বোক্ত উপধারা (ক) এবং (খ) এ বর্ণিত কার্যক্রমের পরও কর্তৃপক্ষের পাওনা বকেয়া থাকিলে উক্ত পাওনা The Public Demands Recovery Act, 1913 (No. III of 1913) এর বিধান অনুযায়ী সরকারি দাবি হিসাবে আদায় করিতে পারিবে।
দ্বাদশ অধ্যায়
তহবিল, বাজেট, হিসাব রক্ষণ ও নিরীক্ষা, প্রতিবেদন, ইত্যাদি
৫৩। (১) “ইনভেস্ট বাংলাদেশ তহবিল” নামে কর্তৃপক্ষের একটি তহবিল থাকিবে, যাহাতে নিম্নবর্ণিত অর্থ জমা হইবে:-
(ক) সরকার কর্তৃক প্রদত্ত অনুদান, ঋণ বা অন্য কোনো অর্থ;
(খ) স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, সংবিধিবদ্ধ সংস্থা বা সরকার কর্তৃক অনুমোদিত অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রদত্ত অনুদান বা অর্থ;
(গ) সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে, দেশীয় বা বিদেশি উৎস হইতে গৃহীত ঋণ, অনুদান বা আর্থিক সহায়তা;
(ঘ) কর্তৃপক্ষের অধীনস্থ অন্য কোনো এলাকা, ভূমি, প্লট, ভবন বা ভবনের স্পেস বরাদ্দ, ইজারা, ভাড়া বা ব্যবহারের বিপরীতে প্রাপ্ত অর্থ;
(ঙ) কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত সেবা, অনুমতি, নিবন্ধন, ছাড়পত্র, প্রকল্প উন্নয়ন, পরামর্শ, সহায়তা বা অন্য কোনো কার্যক্রমের বিপরীতে প্রাপ্ত ফি, সার্ভিস চার্জ, প্রকল্প উন্নয়ন ফি, সাকসেস (Succession) ফি বা অন্য কোনো চার্জ;
(চ) সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারিত্ব, যৌথ উদ্যোগ, ডেভেলপার নিয়োগ, প্রকল্প বাস্তবায়ন বা কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত অন্য কোনো অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড হইতে প্রাপ্ত মুনাফা, আয় বা অর্থ;
(ছ) কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অন্য কোনো বৈধ উৎস হইতে প্রাপ্ত অর্থ।
(২) সরকার কর্তৃক প্রদত্ত অনুদান ব্যাতীত তহবিলের অন্যান্য অর্থ সরকার অনুমোদিত কোনো তফসিলি ব্যাংকে জমা রাখা হইবে এবং প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে উক্ত তহবিল পরিচালনা, উত্তোলন ও ব্যয় করা যাইবে।
(৩) তহবিল হইতে কর্তৃপক্ষের সমুদয় ব্যয় নির্বাহ করা হইবে।
(৪) সংশ্লিষ্ট অর্থ-বৎসরে কর্তৃপক্ষের ব্যয় নির্বাহের পর তহবিলে কোনো অর্থ উদ্বৃত্ত থাকিলে, উক্ত অর্থ কর্তৃপক্ষের তহবিলে জমা থাকিবে এবং পরবর্তী কার্যক্রমে ব্যবহার করা যাইবে।
(৫) কর্তৃপক্ষ, গভর্নিং বোর্ডের অনুমোদনক্রমে, তহবিলের অর্থ দ্বারা ট্রেজারি বন্ড, ট্রেজারি বিল, সঞ্চয়পত্র ও নির্দিষ্ট মেয়াদী আমানত (FDR) ক্রয় করিতে পারিবে।
ব্যাখ্যা।-এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, ‘‘তফসিলি ব্যাংক’’ বলিতে Bangladesh Bank Order, 1972 (P.O. 127 of 1972) এর Article 2 এর Clause (j)-তে সংজ্ঞায়িত Scheduled Bank-কে বুঝাইবে।
৫৪। কর্তৃপক্ষ প্রতি বৎসর সরকার কর্তৃক নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরবর্তী অর্থ-বৎসরের বার্ষিক বাজেট বিবরণী সরকারের নিকট পেশ করিবে এবং উহাতে উক্ত বৎসরে সরকারের নিকট হইতে কর্তৃপক্ষের কী পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হইবে উহার উল্লেখ থাকিবে, তবে কর্তৃপক্ষ এর পৌনঃপুনিক ব্যয় নির্বাহে ক্রমান্বয়ে নিজস্ব আয় বৃদ্ধির প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখিবে।
৫৫। (১) কর্তৃপক্ষ যথাযথভাবে উহার হিসাবরক্ষণ করিবে এবং হিসাবের বার্ষিক বিবরণী প্রস্তুত করিবে।
(২) বাংলাদেশের মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, অতঃপর মহা হিসাব-নিরীক্ষক বলিয়া উল্লিখিত, প্রতি বৎসর কর্তৃপক্ষের হিসাব নিরীক্ষা করিবেন এবং নিরীক্ষা প্রতিবেদনের একটি করিয়া অনুলিপি সরকার ও কর্তৃপক্ষের নিকট পেশ করিবেন।
(৩) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত নিরীক্ষা ছাড়াও Bangladesh Chartered Accountants Order, 1973 (P.O. No. 2 of 1973) এর Article 2(1)(b) তে সংজ্ঞায়িত চার্টাড একাউন্টেন্ট দ্বারা কর্তৃপক্ষের হিসাব নিরীক্ষা করা যাইবে এবং এতদুদ্দেশ্যে কর্তৃপক্ষ এক বা একাধিক চার্টার্ড একাউন্টেন্ট নিয়োগ করিতে পারিবে এবং এইরূপে নিয়োগকৃত চার্টার্ড একাউন্টেন্ট সরকার কর্তৃক নির্ধারিত পারিতোষিক প্রাপ্য হইবেন।
(৪) কর্তৃপক্ষের হিসাব নিরীক্ষার উদ্দেশ্যে মহা হিসাব-নিরীক্ষক বা তাহার নিকট হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি বা উপ-ধারা (৩) এর অধীন নিয়াগকৃত চার্টার্ড একাউন্টেন্ট কর্তৃপক্ষের সকল রেকর্ড, দলিল-দস্তাবেজ, বার্ষিক ব্যালেন্স সিট, নগদ বা ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, জামানত, ভাণ্ডার এবং অন্যবিধ সম্পত্তি পরীক্ষা করিয়া দেখিতে পারিবেন এবং চেয়ারম্যান, সদস্য, সচিব অথবা কর্তৃপক্ষের যেকোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করিতে পারিবেন।
(৫) নিরীক্ষক তৎকর্তৃক নিরীক্ষিত হিসাব সম্পর্কে সরকারের নিকট লিখিত প্রতিবেদন দাখিল করিবেন এবং উক্ত প্রতিবেদনে নিম্নবর্ণিত বিষয়াদির উল্লেখ থাকিবে-
(ক) নিরীক্ষকের বিবেচনায় বিভিন্ন হিসাব বহি যথাযথভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হইয়াছিল কি না;
(খ) উহাতে কর্তৃপক্ষের কার্যক্রমের যথার্থ প্রতিফলন ঘটিয়াছিল কি না;
(গ) যদি কোনো ক্ষেত্রে নিরীক্ষক কর্তৃপক্ষের নিকট হইতে কোনো তথ্য বা ব্যাখ্যা চাহিয়া থাকেন, তাহা হইলে উহা সরবরাহ করা হইয়াছিল কি না; এবং
(ঘ) উহা সন্তোষজনক ছিল কি না।
(৬) এই ধারার অন্যান্য বিধানে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সরকার-
(ক) সরকার এবং গ্রাহকদের স্বার্থ সংরক্ষণে কর্তৃপক্ষ কী কার্যক্রম গ্রহণ করিয়াছিল তৎসম্পর্কে অথবা কর্তৃপক্ষের হিসাব নিরীক্ষা পদ্ধতির যথার্থতা সম্পর্কে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য নিরীক্ষকদেরকে নির্দেশনা প্রদান করিতে পারিবে;
(খ) যে কোনো সময় নিরীক্ষার পরিধি বর্ধিত করিতে পারিবে;
(গ) নিরীক্ষার ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতি অনুসরণের জন্য অথবা নিরীক্ষকের বিবেচনায় জনস্বার্থে অন্য কোনো বিষয় পরীক্ষা করা প্রয়োজন হইলে উক্তরূপ পরীক্ষা করিবার জন্য নির্দেশনা দিতে পারিবে।
৫৬। (১) কর্তৃপক্ষ প্রত্যেক অর্থ বৎসর সমাপ্ত হইবার পরবর্তী ৯০ (নব্বই) দিনের মধ্যে উক্ত বৎসরে তৎকর্তৃক সম্পাদিত কার্যাবলির উপর একটি বার্ষিক প্রতিবেদন সরকারের নিকট পেশ করিবে।
(২) সরকার, প্রয়োজনে, কর্তৃপক্ষের নিকট হইতে উহার যেকোনো বিষয়ের উপরে প্রতিবেদন বা বিবরণী তলব করিতে পারিবে এবং কর্তৃপক্ষ উহা সরকারের নিকট সরবরাহ করিতে বাধ্য থাকিবে।
৫৭। (১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে ও কর্তৃপক্ষের কার্যাবলি সম্পাদনের জন্য, কর্তৃপক্ষ, গভর্নিং বোর্ডের সুপারিশক্রমে এবং সরকারে অনুমোদনক্রমে, কোনো ব্যাংক, ঋণপ্রদানকারী সংস্থা বা অন্য কোনো দেশি বা বিদেশি উৎস হইতে ঋণ গ্রহণ করিতে পারিবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন গৃহীত ঋণ প্রযোজ্য শর্তাবলি অনুসারে পরিশোধের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকিবে।
ত্রয়োদশ অধ্যায়
শ্রম আইন, শ্রমিক অধিকার ও সামাজিক সুরক্ষা
৫৮। (১) বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ (২০০৬ সনের ৪২ নং আইন) এর বিধানাবলি, শিল্পাঞ্চল এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্প বা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অভিযোজনসহকারে প্রযোজ্য হইবে।
(২) এই আইনের অধীন কোনো অনুমতিপত্র, বরাদ্দপত্র, ইজারা, ডেভেলপার চুক্তি, পিপিপি চুক্তি বা অন্য কোনো চুক্তিতে এমন কোনো শর্ত সন্নিবেশ করা যাইবে না, যাহা শ্রমিকদের মজুরির মান, শ্রমিক অধিকার, সাধারণ জনগণের সামাজিক সুযোগ-সুবিধা, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা এবং শিশুশ্রম নিষিদ্ধকরণ সংক্রান্ত প্রচলিত আইনের কোনো বিধানের সহিত অসঙ্গতিপূর্ণ হয়।
চতুর্দশ অধ্যায়
বিবিধ
৫৯। (১) আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইন বা এই আইনের অন্যান্য বিধানে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, অন্য কোনো কর্তৃপক্ষ বা সংস্থার কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠান বা শিল্প এলাকার উন্নয়ন, পরিচালনা বা ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন হইলে, সরকার, গভর্নিং বোর্ডের সহিত পরামর্শক্রমে, উক্ত শিল্প প্রতিষ্ঠান বা শিল্প এলাকা, পারস্পরিক সম্মত শর্তে কর্তৃপক্ষের উপর ন্যস্ত করিতে পারিবে, অনরূপভাবে কর্তৃপক্ষের কোনো শিল্পাঞ্চল কিংবা উহাতে স্থাপিত কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠান অপর কোনো কর্তৃপক্ষ বা সংস্থার নিকট উহার উন্নয়ন, পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার জন্য হস্তান্তর করিতে পারিবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর উদ্দেশ্যে কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি স্বাক্ষর করিতে পারিবে।
৬০। (১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, কর্তৃপক্ষ, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, কোম্পানি আইন, ১৯৯৪ (১৯৯৪ সনের ১৮ নং আইন) অনুযায়ী কোম্পানি গঠন করিতে পারিবে।
(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত কোম্পানি এতদ্বিষয়ে বিদ্যমান আইন ও বিধি-বিধানের অধীন গঠিত ও পরিচালিত হইবে।
৬১। (১) কর্তৃপক্ষ, উহার কর্যাবলি দক্ষতার সহিত সম্পাদনের জন্য গবেষক, পরামর্শক, বিশেষজ্ঞ, নিরীক্ষক ও প্যানেল আইনজীবী নিয়োগ করিতে পারিবে।
(২) কর্তৃপক্ষের গবেষক, পরামর্শক, বিশেষজ্ঞ ও নিরীক্ষকদের নিয়োগ ও চাকুরির শর্তাবলি প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
(৩) এই আইন, ইহার অধীন প্রণীত বিধি ও প্রবিধানের বিধানাবলি সাপেক্ষে কর্তৃপক্ষের পরামর্শক, বিশেষজ্ঞ, নিরীক্ষকগণ এবং চুক্তির বিধানাবলি সাপেক্ষে প্যানেল আইনজীবীগণ নির্বাহী চেয়ারম্যানের সার্বিক নিয়ন্ত্রণ ও তত্ত্বাবধানে তাহাদের দায়িত্ব পালন করিবেন।
৬২। এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, কর্তৃপক্ষ সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা করিতে পারিবে।
৬৩। এই আইনের বিধানাবলি কার্যকর করিবার ক্ষেত্রে কোনো অসুবিধা দেখা দিলে সরকার, উক্তরূপ অসুবিধা দূরীকরণার্থ, সরকারি গেজেটে আদেশ দ্বারা, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবে।
৬৪। (১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, নূতন বিধি প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত, এই আইনের সহিত সাংঘর্ষিক না হওয়া সাপেক্ষে, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল আইন, ২০১০ (২০১০ সনের ৪২ নং আইন), বাংলাদেশ সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব আইন, ২০১৫ (২০১৫ সনের ১৮ নং আইন) এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০১৬ (২০১৬ সনের ৩৬ নং আইন) এর অধীন প্রণীত বিধিমালা কার্যকর থাকিবে এবং যদি সাংঘর্ষিকতা দেখা যায় তাহা হইলে এই আইনের বিধানাবলি কার্যকর হইবে।
(২) এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, বিধি প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত সরকার প্রয়োজনীয় আদেশ জারি করিতে পারিবে।
৬৫। (১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, কর্তৃপক্ষ, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, নূতন প্রবিধানমালা প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত, এই আইনের সহিত সাংঘর্ষিক না হওয়া সাপেক্ষে, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল আইন, ২০১০ (২০১০ সনের ৪২ নং আইন), বাংলাদেশ সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব আইন, ২০১৫ (২০১৫ সনের ১৮ নং আইন) এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০১৬ (২০১৬ সনের ৩৬ নং আইন) এর অধীন প্রণীত প্রবিধানমালা কার্যকর থাকিবে এবং যদি সাংঘর্ষিকতা দেখা যায় তাহা হইলে এই আইনের বিধানাবলি কার্যকর হইবে।
(২) এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, প্রবিধান প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় আদেশ জারি করিতে পারিবে।
৬৬। (১) বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল আইন, ২০১০ (২০১০ সনের ৪২ নং আইন), বাংলাদেশ সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব আইন, ২০১৫ (২০১৫ সনের ১৮ নং আইন), বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০১৬ (২০১৬ সনের ৩৬ নং আইন), এবং ওয়ান স্টপ সার্ভিস আইন, ২০১৮ (২০১৮ সনের ১০ নং আইন) এতদ্দ্বারা রহিত করা হইল এবং উহাদের অধীন প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিলুপ্ত করা হইল।
(২) উপ-ধারা (১)-এর অধীন রহিতকরণ সত্ত্বেও উক্ত রহিতকৃত আইনসমূহের অধীন কৃত কার্য বা গৃহীত ব্যবস্থা এই আইনের অধীন কৃত বা গৃহীত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে এবং কোনো কার্যক্রম চলমান থাকিলে উহা এই আইনের অধীন নিষ্পন্ন হইবে।
(৩) এই আইন কার্যকর হইবার সঙ্গে সঙ্গে উপ-ধারা (১) এর অধীন বিলুপ্ত কর্তৃপক্ষসমূহের-
(ক) স্থাবর ও অস্থাবর সকল সম্পত্তি এবং উক্ত সম্পত্তিতে বা উহা হইতে উদ্ভূত অন্য সকল অধিকার ও স্বার্থ, নগদ ও ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, বিনিয়োগ, সকল হিসাব বহি, রেকর্ড এবং অন্যান্য দলিল কর্তৃপক্ষের নিকট হস্তান্তরিত এবং উহার উপর ন্যস্ত হইবে;
(খ) সকল ঋণ, দায় ও দায়িত্ব এবং উহার দ্বারা, উহার পক্ষে বা উহার সহিত সম্পাদিত সকল চুক্তি কর্তৃপক্ষের ঋণ, দায় ও দায়িত্ব এবং উহার দ্বারা, উহার পক্ষে বা উহার সহিত সম্পাদিত চুক্তি বলিয়া গণ্য হইবে;
(গ) বিরুদ্ধে বা তৎকর্তৃক দায়েরকৃত মামলা বা আইনগত কার্যধারা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক দায়েরকৃত মামলা বা আইনগত কার্যধারা বলিয়া গণ্য হইবে এবং তদনুযায়ী উহা নিষ্পত্তি হইবে; এবং
(ঘ) সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ এই আইনের অধীন প্রতিষ্ঠিত কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা ও কর্মচারী বলিয়া গণ্য হইবেন এবং এই আইন প্রবর্তনের অব্যবহিত পূর্বে তাহারা যে শর্তে চাকরিতে নিয়োজিত ছিলেন, কর্তৃপক্ষ কর্তৃক পরিবর্তিত না হওয়া পর্যন্ত, সেই একই শর্তে নিয়োজিত থাকিবেন:
আরও শর্ত থাকে যে, যে সকল কর্মচারী সরকারি কর্মচারী হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন, তাহারা সরাসরি সরকারি কর্মচারী হিসাবে বহাল থাকিবেন, এবং তাহাদের মধ্যে যে সকল কর্মচারী সরকার কর্তৃক অনুমোদিত পেনশন সুবিধার আওতায় ছিলো তাহাদের জন্য পেনশন বিধিমালা কার্যকর থাকিবে।
৬৭। (১) এই আইন কার্যকর হইবার পর সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের মূল বাংলা পাঠের ইংরেজিতে অনূদিত একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ (Authentic English Text) প্রকাশ করিবে।
(২) বাংলা ও ইংরেজি পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাইবে।