প্রিন্ট ভিউ

1*বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি আইন, ১৯৮৯

( ১৯৮৯ সনের ২২ নং আইন )

Bangladesh Shilpakala Academy Act, ১৯৭৪ রহিত করিয়া কতিপয় সংশোধনীসহ উহা পুনঃপ্রণয়নের উদ্দেশ্যে প্রণীত আইন।

 
 
 

যেহেতু Bangladesh Shilpakala Academy Act, ১৯৭৪ (XXXI of 1974) রহিত করিয়া কতিপয় সংশোধনীসহ উহা পুনঃপ্রণয়ন সমীচীন ও প্রয়োজনীয়;

 
 
 
 

সেহেতু এতদ্‌দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল :-

 
 
 
সংক্ষিপ্ত শিরোনাম

১৷ এই আইন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি আইন, ১৯৮৯ নামে অভিহিত হইবে।

সংজ্ঞা

২৷ বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে,-

 
 
 
 

(ক) “একাডেমি” অর্থ এই আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি;

 
 
 
 

(খ) “মহাপরিচালক” অর্থ একাডেমির মহাপরিচালক;

 
 
 
 

2[(গ) “পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ)” অর্থ একাডেমির পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ);]

 
 
 
 

(ঘ) “পরিষদ” অর্থ ৫ ধারার অধীন গঠিত পরিষদ৷

একাডেমি প্রতিষ্ঠা

৩৷ (১) এই আইন বলবৎ হইবার সঙ্গে সঙ্গে এই আইনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি নামে একটি একাডেমি প্রতিষ্ঠিত হইবে।

 
 
 
 

(২) একাডেমি একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হইবে এবং ইহার স্থায়ী ধারাবাহিকতা ও একটি সাধারণ সীলমোহর থাকিবে এবং ইহার অস্থাবর ও স্থাবর উভয় প্রকার সম্পত্তি অর্জন 3[করিবার], অধিকারে 4[রাখিবার] এবং হস্তান্তর 5[করিবার] ক্ষমতা থাকিবে এবং ইহার নামে ইহা মামলা দায়ের করিতে পারিবে বা ইহার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা যাইবে।

 
 
 
 

6[(৩) একাডেমির প্রধান কার্যালয় ঢাকায় থাকিবে, তবে একাডেমি, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, দেশের অন্যান্য স্থানে ইহার শাখা কার্যালয় স্থাপন করিতে পারিবে।]

সাধারণ পরিচালনা

৪৷ একাডেমির সাধারণ পরিচালনা ও প্রশাসন একটি পরিষদের উপর ন্যস্ত থাকিবে এবং পরিষদ সেই সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কাজ করিতে পারিবে যাহা একাডেমি কর্তৃক প্রযুক্ত ও সম্পন্ন হইতে পারে।

পরিষদের গঠন

7[৫।  (১) নিম্নবর্ণিত সদস্যগণের সমন্বয়ে পরিষদ গঠিত হইবে, যথা:-

(ক) সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত মন্ত্রী/উপদেষ্টা/প্রতিমন্ত্রী/উপমন্ত্রী, যিনি ইহার সভাপতিও হইবেন;

(খ) সংষ্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব/সচিব, যিনি ইহার সহ-সভাপতিও হইবেন;

(গ) অর্থ বিভাগ, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ ও তথ্য সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব/সচিব বা তাহাদের কর্তৃক মনোনীত স্ব-স্ব মন্ত্রণালয় বা বিভাগ হইতে যুগ্মসচিবের নিম্নে নহেন এইরূপ ১ (এক) জন করিয়া প্রতিনিধি;

(ঘ) সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট অনুবিভাগ বা অধিশাখার যুগ্মসচিব;

(ঙ) বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক, পদাধিকারবলে;

(চ) জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক, পদাধিকারবলে;

(ছ) সরকার কর্তৃক মনোনীত ৮ টি প্রশাসনিক বিভাগ হইতে নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রসমূহের বিশিষ্ট ব্যক্তিগণের মধ্য হইতে ১ (এক) জন করিয়া মোট ৮ (আট) জন ব্যক্তি, যথা:-

(১) সংগীত;

(২) চারুকলা;

(৩) নাট্যকলা;

(৪) চলচ্চিত্র;

(৫) আলোকচিত্র;

(৬) নৃত্য ও অন্যান্য পারফর্মিং আর্টস;

(৭) গবেষণা, প্রকাশনা ও নিউ মিডিয়া;

(৮) সাংস্কৃতিক ব্র্যান্ডিং, উৎসব ও প্রযোজনা:

তবে শর্ত থাকে যে, কোনো প্রশাসনিক বিভাগ হইতে একটি ক্ষেত্রে ১ (এক) জনের অধিক মনোনয়ন প্রদান করা যাইবে না;

(জ) সরকার কর্তৃক মনোনীত ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী হইতে ১ (এক) জন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব;

(ঝ) সরকার কর্তৃক মনোনীত কোনো জাতীয় দৈনিক পত্রিকার একজন সম্পাদক;

(ঞ) একাডেমির মহাপরিচালক, যিনি ইহার সদস্য সচিবও হইবেন।

(২) পরিষদের মনোনীত সদস্যগণ তাঁহাদের মনোনয়নের তারিখ হইতে ৩ (তিন) বৎসরের জন্য সদস্য পদে বহাল থাকিবেন:

তবে শর্ত থাকে যে, একজন মনোনীত সদস্য যে কোনো সময় সভাপতিকে উদ্দেশ্য করিয়া তাঁহার স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে পদত্যাগ করিতে পারিবেন:

তবে আরও শর্ত থাকে যে, সরকার যে কোনো সময় কোনো মনোনীত সদস্যের মনোনয়ন বাতিল করিতে পারিবে।]

পরিষদের সভাপতি
৬৷ (১) পরিষদের সভাপতি পরিষদের সকল সভায় সভাপতিত্ব করিবেন এবং এই আইন দ্বারা তাঁহার উপর অর্পিত সকল দায়িত্ব পালন করিবেন৷
 
 
 
 
(২) অসুস্থতা বা অন্য কোন কারণে পরিষদের সভাপতি তাঁহার দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে বা পরিষদের সভাপতির পদ শূন্য থাকিলে পরিষদের সহ-সভাপতি পরিষদের সভাপতির সকল দায়িত্ব পালন করিবেন৷
একাডেমির দায়িত্ব ও কার্যাবলি

8[৭।  একাডেমির দায়িত্ব ও কার্যাবলি হইবে নিম্নরূপ, যথা:-

(ক) শত বছরের জমিদারি ও ঔপনিবেশিক শাসনের ফলে সৃষ্ট রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আধিপত্য রোধকল্পে জাতীয় আশা-আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সংগতি রাখিয়া সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের বিকাশ, ললিতকলা, জাতীয় সংস্কৃতির উন্নয়ন, সমৃদ্ধি ও প্রসার ঘটনোর লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সুযোগ সুবিধা সৃষ্টি করা;

(খ) সকল ধর্মের, সকল ভাষার, সকল জনগোষ্ঠীর মানুষের সংস্কৃতিকে ধারণ, লালন, পৃষ্ঠপোষকতা ও বিশ্বময় ছড়িয়ে দেওয়া;

(গ) শিল্পের বিদ্যমান নানা শাখার চর্চায় কাজ করিবার পাশাপাশি সংস্কৃতির যে নূতন নূতন ধারার উদ্ভব হইবে তাহা ধারণ করা;

(ঘ) প্রতিভাবান শিল্পী এবং কলাকুশলী দ্বারা কর্মশালা, সেমিনার ও আলোচনা সভার আয়োজন করা;

(ঙ) সংস্কৃতির সকল ক্ষেত্র বা ধারার উৎকর্ষ সাধনের উদ্দেশ্যে স্বল্পকালীন উচ্চতর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা;

(চ) প্রতিভার বিকাশ সাধনের উদ্দেশ্যে শিক্ষার্থী-শিল্পীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা;

(ছ) অসচ্ছল অথচ প্রতিভাবান শিক্ষার্থী শিল্পীদের জন্য বৃত্তি প্রদানের ব্যবস্থা করা;

(জ) অজ্ঞাত বা স্বল্প পরিচিত প্রতিভাবান শিল্পীদের অনুসন্ধান করিয়া তাঁহাদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি করা;

(ঝ) সংস্কৃতির সকল ক্ষেত্রে নিবেদিত প্রতিষ্ঠানের অবদান মূল্যায়ন করিয়া আবেদনের প্রেক্ষিতে উহাদিগকে আর্থিক অনুদান প্রদান করা এবং এইরূপ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের গুণগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়তা প্রদান করা;

(ঞ) শিল্পকলার সংশ্লিষ্ট বিষয়ের উপর প্রতিযোগিতার আয়োজন করা ও কৃতি শিল্পীদের পুরস্কার প্রদান করা;

(ট) বিভিন্ন দেশে সংস্কৃতির সকল ক্ষেত্রে উদ্ভাবিত নব নব কলাকৌশল ও ধ্যানধারণা সম্পর্কে দেশের শিল্পী ও শিল্পানুরাগীদের পরিচিত করিয়া তুলিবার জন্য বিদেশ হইতে উন্নতমানের সাংস্কৃতিক দল বা গোষ্ঠীকে আমন্ত্রণ জানাইয়া দেশের শিল্পী ও শিল্পানুরাগীদের সম্মুখে তাঁহাদের কলাকৌশল পরিবেশনের ব্যবস্থা করা;

(ঠ) রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা;

(ড) সংস্কৃতির সকল ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট সমস্যা সমাধানের জন্য যোগ্য ব্যক্তির দ্বারা গবেষণা কর্মসূচী গ্রহণ এবং তাহা প্রকাশের ব্যবস্থা করা।

(ঢ) দেশের সংস্কৃতিকে জনগণের সম্মুখে উপস্থাপনের জন্য বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও প্রদর্শনীর আয়োজন করা;

(ণ) বিদেশে বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে তুলিয়া ধরিবার লক্ষ্যে সরকারের পূর্ব অনুমোদন লইয়া বিদেশে সাংস্কৃতিক দল প্রেরণ করা;

(ত) উল্লিখিত কার্যাদির সম্পূরক ও প্রাসঙ্গিক অন্যান্য কার্য সম্পাদন করা।]

একাডেমির বিভাগ

9[৮।  (১) একাডেমির নিম্নবর্ণিত বিভাগ থাকিবে, যথা:-

(ক) সংগীত;

(খ) চারুকলা;

(গ) নাট্যকলা;

(ঘ) চলচ্চিত্র;

(ঙ) আলোকচিত্র;

(চ) নৃত্য ও অন্যান্য পারফর্মিং আর্টস;

(ছ) গবেষণা, প্রকাশনা ও নিউ মিডিয়া;

(ঝ) সাংস্কৃতিক ব্র্যান্ডিং, উৎসব ও প্রযোজনা;

(ঝ) প্রশাসন ও অর্থ;

(২) একাডেমি, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, নূতন বিভাগ সৃষ্টি করিতে পারিবে এবং উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত বিভাগগুলির যে কোনো বিভাগ বিলুপ্ত করিতে পারিবে এবং উহাদের পুনর্বিন্যাস করিতে পারিবে।

(৩) একাডেমির সাচিবিক দায়িত্ব পালনের জন্য একজন পরিচালক থাকিবেন, যিনি পদাধিকারবলে প্রশাসন ও অর্থ বিভাগের দায়িত্বে থাকেবে এবং অন্যান্য প্রত্যেকটি বিভাগ একজন পরিচালকের দায়িত্বে ন্যস্ত থাকিবে।

(৪) প্রতিটি বিভাগ একাডেমি কর্তৃক নির্ধারিত দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করিবে।]

মহাপরিচালক

৯৷ (১) একাডেমির একজন মহাপরিচালক থাকিবেন।

 
 
 
 

(২) মহাপরিচালক সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন এবং তাঁহার চাকুরীর শর্তাদি সরকার কর্তৃক স্থিরীকৃত হইবে।

 
 
 
 

(৩) মহাপরিচালকের পদ শূন্য হইলে, কিংবা অনুপস্থিতি বা অসুস্থতাহেতু বা অন্য কোন কারণে মহাপরিচালক দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে শূন্য পদে নবনিযুক্ত মহাপরিচালক কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত কিংবা মহাপরিচালক পুনরায় স্বীয় দায়িত্ব পালনে সমর্থ না হওয়া পর্যন্ত 10[পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মহাপরিচালক এর দায়িত্ব পালন করিবেন] ৷

 
 
 
 

(৪) মহাপরিচালক একাডেমির সার্বক্ষণিক মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হইবেন এবং তিনি-

 
 
 
 

(ক) পরিষদ কর্তৃক প্রদত্ত ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্যসম্পাদন করিবেন;

 
 
 
 

(খ) পরিষদের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য দায়ী থাকিবেন;

 
 
 
 

(গ) একাডেমির প্রশাসন পরিচালনা করিবেন।

পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ)

11[১০।  (১) একাডেমির একজন পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) থাকিবে, যিনি সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন এবং তাঁহার চাকরির শর্তাদি সরকার কর্তৃক স্থিরীকৃত হইবে।

(২) পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মহাপরিচালককে তাঁহার যাবতীয় প্রশাসনিক কার্যে সহায়তা করিবেন।]

পরিচালক ও অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ

১১৷ (১)  একাডেমি উহার বিভাগগুলি পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক পরিচালক নিয়োগ করিতে পারিবে৷

 
 
 
 

(২) একাডেমি উহার দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালনের জন্য অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারিবে৷

 
 
 
 

(৩) একাডেমির পরিচালক ও উহার অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়োগ ও চাকুরীর শর্তাদি প্রবিধান দ্বারা নির্ধারণ করা হইবে৷

পরিষদের সভা

১২৷ (১) পরিষদ প্রতি তিন মাসে কমপক্ষে একবার সভায় মিলিত হইবে এবং সভার তারিখ, সময় ও স্থান পরিষদের সভাপতি কর্তৃক নির্ধারণ করা হইবে৷

 
 
 
 

(২) একাডেমির সভাপতি, প্রয়োজনবোধে, যে কোন সময় পরিষদের বিশেষ সভা আহবান করিতে পারিবেন৷

 
 
 
 

(৩) ন্যুনতম নয় জন সদস্য-সমন্বয়ে পরিষদের সভার কোরাম গঠিত হইবে৷

 
 
 
 

(৪) পরিষদের প্রত্যেক সদস্যের একটি করিয়া ভোট থাকিবে এবং ভোটের সমতার ক্ষেত্রে সভায় সভাপতিত্বকারী ব্যক্তির দ্বিতীয় বা নির্ণায়ক ভোট প্রদানের ক্ষমতা থাকিবে৷

কার্যনির্বাহী কমিটি

১৩৷ (১) মহাপরিচালককে তাঁহার কার্য সম্পাদন ও দায়িত্ব পালনে সহায়তা করার জন্য একাডেমির একটি কার্যনির্বাহী কমিটি থাকিবে।

 
 
 
 

(২) এই কমিটি পরিষদ কর্তৃক নির্বাচিত অনধিক সাতজন সদস্য-সমন্বয়ে গঠিত হইবে।

 
 
 
 

(৩) মহাপরিচালক কমিটির সভাপতি হইবেন এবং 12[পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ)] উহার 13[সদস্য] এর দায়িত্ব পালন করিবেন।

 
 
 
 

(৪) কমিটি প্রতি মাসে কমপক্ষে একবার সভায় মিলিত হইবে, তবে কমিটির সভাপতি প্রয়োজনবোধে যে কোন সময় কমিটির সভা আহবান করিতে পারিবেন।

একাডেমির সম্পত্তি বিক্রয় ইত্যাদি

১৪৷ একাডেমির স্বার্থে প্রয়োজন হইলে, পরিষদ একাডেমির কোন সম্পত্তি, সরকারের পূর্বানুমতিক্রমে, বিক্রয় বা অন্য যে কোন উপায়ে হস্তান্তর করিতে পারিবে।

একাডেমির তহবিল

১৫৷ (১) একাডেমির একটি তহবিল থাকিবে এবং উহাতে সরকারের অনুদান, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বা অন্য কোন প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রদত্ত অনুদান এবং একাডেমি  কর্তৃক প্রাপ্ত অন্য যে কোন অর্থ জমা হইবে।

 
 
 
 

(২) এই তহবিল একাডেমির নামে পরিষদ কর্তৃক অনুমোদিত কোন ব্যাংকে রাখা হইবে।

 
 
 
 

(৩) এই তহবিল হইতে একাডেমির প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহ করা হইবে।

বার্ষিক বাজেট বিবরণী

১৬৷ একাডেমি প্রতি বৎসর সরকার কর্তৃক নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরবর্তী অর্থ-বৎসরের বার্ষিক বাজেট বিবরণী সরকারের নিকট পেশ করিবে এবং উহাতে উক্ত অর্থ-বৎসরের সরকারের নিকট হইতে একাডেমির কি পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন উহার উল্লেখ থাকিবে।

হিসাব রক্ষণ ও নিরীক্ষা

১৭৷ (১) একাডেমি যথাযথভাবে একাডেমির হিসাব রক্ষণ করিবে এবং হিসাবের বার্ষিক বিবরণী প্রস্তুত করিবে।

 
 
 
 

(২) বাংলাদেশের মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, অতঃপর মহা হিসাব-নিরীক্ষক নামে অভিহিত, প্রতি বৎসর একাডেমির হিসাব নিরীক্ষা করিবেন এবং নিরীক্ষা রিপোর্টের একটি করিয়া কপি সরকার ও একাডেমির নিকট পেশ করিবেন।

 
 
 
 

(৩) উপ-ধারা (২) মোতাবেক হিসাব নিরীক্ষার উদ্দেশ্যে মহা হিসাব-নিরীক্ষক কিংবা তাঁহার নিকট হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি একাডেমির সকল রেকর্ড, দলিল-দস্তাবেজ, নগদ বা ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, জামানত, ভান্ডার এবং অন্যবিধ সম্পত্তি পরীক্ষা করিয়া দেখিতে পারিবেন এবং একাডেমির সভাপতি, সদস্য, মহাপরিচালক, পরিচালক, সচিব বা একাডেমির যে কোন কর্মকর্তা বা অন্যান্য কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করিতে পারিবেন।

প্রতিবেদন
 
 

১৮৷ সরকার প্রয়োজনমত একাডেমির নিকট হইতে একাডেমির যে কোন বিষয়ের উপর প্রতিবেদন এবং বিবরণী আহবান করিতে পারিবেন এবং একাডেমি উহা সরকারের নিকট প্রেরণ করিতে বাধ্য থাকিবে।

ক্ষমতা অর্পণ

১৯৷ (১) পরিষদ এই আইনের বিধান মোতাবেক যে ক্ষমতার অধিকারী তাহা পরিষদ প্রয়োজনবোধে, তত্কর্তৃক নির্ধারিত শর্ত সাপেক্ষে, মহা-পরিচালককে অর্পণ করিতে পারিবে।

 
 
 
 

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন অর্পিত ক্ষমতা ব্যতিরেকে, মহাপরিচালক এই আইনের বিধান মোতাবেক যে ক্ষমতার অধিকারী তাহা তিনি প্রয়োজনবোধে, তত্কর্তৃক নির্ধারিত শর্ত সাপেক্ষে, একাডেমির যে কোন কর্মকর্তাকে অর্পণ করিতে পারিবেন।

প্রবিধান প্রণয়ন
২০৷ এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে পরিষদ, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে৷
রহিতকরণ ও হেফাজত

২১৷ (১) The Bangladesh Shilpakala Academy Act, 1974 (XXXI of 1974), অতঃপর উক্ত Act বলিয়া উল্লিখিত, এতদ্বারা রহিত করা হইল৷

 
 
 
 

(২) উক্ত Act রহিত হইবার সঙ্গে সঙ্গে-

 
 
 
 

(ক) উক্ত Act এর অধীন গঠিত Bangladesh Shilpakala Academy, অতঃপর বিলুপ্ত Academy বলিয়া উল্লিখিত, বিলুপ্ত হইবে;

 
 
 
 

(খ) বিলুপ্ত Academy এর সকল সম্পদ, অধিকার, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব ও সুবিধাদি এবং স্থাবর ও অস্থাবর সকল সম্পত্তি, নগদ ও ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ এবং অন্য সকল দাবী ও অধিকার একাডেমিতে হস্তান্তরিত হইবে এবং একাডেমি উহার অধিকারী হইবে;

 
 
 
 

(গ) বিলুপ্ত হইবার অব্যবহিত পূর্বে বিলুপ্ত Academy এর যে সকল ঋণ, দায় এবং দায়িত্ব ছিল তাহা একাডেমির ঋণ, দায় এবং দায়িত্ব হইবে;

 
 
 
 

(ঘ) বিলু্‌প্ত হইবার পূর্বে বিলু্‌প্ত Academy কর্তৃক অথবা উহার বিরুদ্ধে কৃত যে সকল মামলা-মোকদ্দমা চালু ছিল, সেই সকল মামলা-মোকদ্দমা একাডেমি কর্তৃক অথবা একাডেমির বিরুদ্ধে দায়েরকৃত বলিয়া গণ্য হইবে;

 
 
 
 

(ঙ) কোন চুক্তিতে, দলিলে বা চাকুরী শর্তে যাহাই থাকুক না কেন, বিলুপ্ত Academy এর মহাপরিচালক, সচিব এবং অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীর চাকুরী একাডেমিতে হস্তান্তরিত হইবে এবং তাঁহারা একাডেমি কর্তৃক নিযুক্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারী বলিয়া গণ্য হইবেন এবং তাঁহারা এই হস্তান্তরের পূর্বে যে শর্তে চাকুরীতে নিয়োজিত ছিলেন, একাডেমি কর্তৃক পরিবর্তিত না হওয়া পর্যন্ত, সেই একই শর্তে তাঁহারা একাডেমির চাকুরীতে নিয়োজিত থাকিবেন।

 
 

Copyright © 2019, Legislative and Parliamentary Affairs Division
Ministry of Law, Justice and Parliamentary Affairs