প্রিন্ট ভিউ
আর্থিকভাবে অসচ্ছল, সহায়-সম্বলহীন এবং নানাবিধ আর্থ-সামাজিক কারণে বিচার প্রাপ্তিতে অসমর্থ বিচারপ্রার্থী জনগণকে আইনগত সহায়তা 1[এবং অধিকতর জনমুখী বিচার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় বিচারপ্রার্থী জনগণকে স্বল্প সময়ে কম খরচে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি সেবা] প্রদানকল্পে প্রণীত আইন৷
যেহেতু আর্থিকভাবে অসচ্ছল, সহায়-সম্বলহীন এবং নানাবিধ আর্থ-সামাজিক কারণে বিচার প্রাপ্তিতে অসমর্থ বিচারপ্রার্থী জনগণকে আইনগত সহায়তা 2[এবং অধিকতর জনমুখী বিচার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় বিচারপ্রার্থী জনগণকে স্বল্প সময়ে কম খরচে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি সেবা] প্রদান সমীচীন ও প্রয়োজনীয়;
সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল:-
১৷ (১) এই আইন আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০ নামে অভিহিত হইবে৷
(২) সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, যে তারিখ নির্ধারণ করিবে সেই তারিখে এই আইন কার্যকর হইবে।
* এস, আর, ও নং ১১৯-আইন/২০০০, তারিখ: ২৭ শে এপ্রিল, ২০০০ ইং দ্বারা ১৪ই বৈশাখ, ১৪০৭ বঙ্গাব্দ মোতাবেক ২৮শে এপ্রিল, ২০০০ খ্রিস্টাব্দ উক্ত আইন কার্যকর হইয়াছে।
3[২। বিষয় বা প্রসংগের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে,-
4[(ক)“অধিদপ্তর” অর্থ ধারা ৩ এর অধীন প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তর;]
5[(কক)] “আইনগত সহায়তা” অর্থ-
(অ) আর্থিকভাবে অসচ্ছল, সহায়-সম্বলহীন এবং নানাবিধ আর্থ-সামাজিক কারণে বিচারপ্রাপ্তিতে অসমর্থ বিচারপ্রার্থীকে-
(১) কোন আদালতে দায়েরযোগ্য, দায়েরকৃত বা বিচারাধীন মামলায় আইনি পরামর্শ ও সহায়তা প্রদান;
(২) Code of Civil Procedure, 1908 (Act No. V of 1908) এবং প্রচলিত অন্যান্য আইনের বিধান অনুসারে মধ্যস্থতার মাধ্যমে কোন বিরোধ বা মামলা নিষ্পত্তির উদ্দেশ্যে নিযুক্ত মধ্যস্থতাকারী বা এই আইনের অধীন নিযুক্ত স্পেশাল মেডিয়েটরকে সম্মানি প্রদান;
(৩) মামলার আনুষঙ্গিক খরচ প্রদানসহ অন্য যে কোন সহায়তা প্রদান;
(আ) যে কোন আবেদনকারীকে আইনি তথ্য ও পরামর্শসেবা প্রদান;
(ই) মামলাপূর্ব যেকোন বিরোধ মধ্যস্থতার মাধ্যমে নিষ্পত্তি;
(ঈ) যেকোন আদালত বা ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক প্রেরিত মামলা মধ্যস্থতার মাধ্যমে নিষ্পত্তি;
(খ) “আদালত” অর্থ বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের উভয় বিভাগসহ বাংলাদেশের যেকোন আদালত;
(গ) “আবেদন” বা ‘দরখাস্ত’ অর্থ আইনগত সহায়তা প্রাপ্তির কোন আবেদন বা দরখাস্ত;
6[(ঘ) “সভাপতি” অর্থ জাতীয় উপদেষ্টা পরিষদ এর সভাপতি;]
(ঙ) “চীফ লিগ্যাল এইড অফিসার”, “লিগ্যাল এইড অফিসার” অর্থ ধারা ২১ক এর অধীন নিয়োগকৃত চীফ লিগ্যাল এইড অফিসার ও লিগ্যাল এইড অফিসার;
7[(ঙঙ) “জাতীয় উপদেষ্টা পরিষদ” অর্থ ধারা ৬ এর অধীন গঠিত জাতীয় উপদেষ্টা পরিষদ;]
(চ) “জেলা কমিটি” অর্থ এই আইনের অধীন গঠিত জেলা কমিটি;
8[(ছ) “মহাপরিচালক” অর্থ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক;]
(জ) “প্রবিধান” অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত প্রবিধান;
9[(জজ) “প্যানেল আইনজীবী” অর্থ ধারা ১৫ এর অধীন তালিকাভুক্ত আইনজীবী;]
(ঝ) “বিচারপ্রার্থী” অর্থ কোন আদালতে দায়েরযোগ্য বা দায়েরকৃত দেওয়ানী, পারিবারিক বা ফৌজদারী বা অন্য কোন মামলার সম্ভাব্য বা প্রকৃত বাদী, বিবাদী, ফরিয়াদী বা আসামী;
(ঞ) “বিধি” অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি;
(ট) “বিশেষ কমিটি” অর্থ এই আইনের অধীন গঠিত বিশেষ কমিটি;
10[***]
(ড) “মধ্যস্থতা” অর্থ এমন একটি আইনি প্রক্রিয়া যাহা এই আইনের অধীন নিয়োজিত চীফ লিগ্যাল এইড অফিসার, লিগ্যাল এইড অফিসার বা স্পেশাল মেডিয়েটর কর্তৃক বিবদমান পক্ষগণের মধ্যকার দ্বন্দ্ব নিরসনে পক্ষদের বা তাহাদের প্রতিনিধিদের শারীরিক বা ভার্চুয়াল উপস্থিতিতে পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তিতে সহায়তা করা, যাহা মামলাপূর্ব মধ্যস্থতা (Pre-case Mediation) এবং আদালত বা ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক প্রেরিত মামলা দায়ের-পরবর্তী মধ্যস্থতা (Post-case Mediation)-কে অন্তর্ভুক্ত করিবে;
(ঢ) “মধ্যস্থতাকারী” অর্থ চীফ লিগ্যাল এইড অফিসার, লিগ্যাল এইড অফিসার বা, ক্ষেত্রমত, স্পেশাল মেডিয়েটর;
(ণ) “মধ্যস্থতা-চুক্তি (Mediation Agreement)” অর্থ মধ্যস্থতার মাধ্যমে পক্ষগণ কর্তৃক সম্পাদিত এবং চীফ লিগ্যাল এইড অফিসার কর্তৃক প্রত্যায়িত চুক্তিপত্র;
11[(ণণ) “মহানগর কমিটি” অর্থ এই আইনের অধীন গঠিত মহানগর কমিটি;]
(ত) “সদস্য” অর্থ 12[জাতীয় উপদেষ্টা পরিষদ] বা, ক্ষেত্রমত, সুপ্রীম কোর্ট কমিটি, জেলা কমিটি, বিশেষ কমিটি, উপজেলা কমিটি বা ইউনিয়ন কমিটির কোন সদস্য;
13[***]
(দ) “সুপ্রীম কোর্ট কমিটি” অর্থ এই আইনের অধীন গঠিত সুপ্রীম কোর্ট কমিটি;
(ধ) “স্পেশাল মেডিয়েটর” অর্থ ধারা ১৫ক এর উপ-ধারা (১) এর অধীন তালিকাভুক্ত স্পেশাল মেডিয়েটর।]
14[৩। সরকার, অবিলম্বে, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তর নামে একটি অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করিবে।]
15[৪। (১) অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয় ঢাকায় অবস্থিত হইবে।
(২) সরকার, প্রয়োজনবোধে, ঢাকা বা ঢাকার বাহিরে যে কোনো স্থানে ইহার শাখা কার্যালয় স্থাপন করিতে পারিবে।]
16[৫। (১) অধিদপ্তর বাংলাদেশে আইনগত সহায়তা সেবা সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সরকারিভাবে এখতিয়ারসম্পন্ন একমাত্র প্রতিষ্ঠান হিসাবে দায়িত্ব পালন করিবে।
(২) বাংলাদেশে আইনগত সহায়তা সেবা সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনার সাথে সম্পৃক্ত বেসরকারি সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানসমূহের কর্ম এলাকা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানকে সুপারিশ বা মতামত প্রদান করিতে পারিবে এবং সময় সময় তাহাদের আইনগত সহায়তা প্রদান কার্যক্রমসমূহ পর্যবেক্ষণ করিবে।
(৩) পেশাদার মধ্যস্থতাকারী সৃষ্টির উদ্দেশ্যে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমসহ মধ্যস্থতার সনদ প্রদান করিবে।
(৪) প্রবাসী নাগরিক ও বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশী শ্রমিকদের আইনগত সহায়তা প্রদানের জন্য বিভিন্ন দূতাবাসে লিগ্যাল এইড অফিসার পদায়নে সরকারকে সুপারিশ ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করিবে।
(৫) অধিদপ্তর এই ধারার বিধান বাস্তবায়নকল্পে প্রয়োজনীয় যেকোনো নির্দেশনা প্রস্তুত ও জারি করিতে পারিবে।]
17[৬। (১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, আইনগত সহায়তা কার্যক্রম উন্নয়ন বিষয়ক নীতিমালা ও পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং আনুষঙ্গিক অন্যান্য বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও দিক-নির্দেশনা প্রদান ও বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের নিমিত্ত জাতীয় উপদেষ্টা পরিষদ নামে একটি পরিষদ থাকিবে।
(২) জাতীয় উপদেষ্টা পরিষদ নিম্নবর্ণিত ১৫ (পনের) জন সদস্য সমন্বয়ে গঠিত হইবে, যথা:-
(ক) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী বা উপদেষ্টা, যিনি উহার সভাপতি হইবেন;
(খ) বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল;
(গ)সচিব, আইন ও বিচার বিভাগ;
(ঘ) সচিব, সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয়;
(ঙ) সচিব, অর্থ বিভাগ;
(চ) সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়;
(ছ) সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়;
(জ) সচিব, পরিকল্পনা বিভাগ;
(ঝ) সচিব, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়;
(ঞ) সচিব, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়;
(ট) রেজিস্ট্রার জেনারেল, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট;
(ঠ) মহা-কারা পরিদর্শক;
(ড) ভাইস-চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ বার কাউন্সিল;
(ঢ) সরকার কর্তৃক মনোনীত আইন ও অধিকার সম্পর্কিত বেসরকারি সংস্থার ২ (দুই) জন প্রতিনিধি;
(ণ) মহাপরিচালক, বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তর, যিনি ইহার সদস্য-সচিবও হইবেন।
(৩) উপ-ধারা (১) এর দফা (ঢ) এ উল্লিখিত সদস্যগণের প্রত্যেকে স্ব স্ব মনোনয়ন প্রাপ্তির তারিখ হইতে ২ (দুই) বৎসর মেয়াদে স্বীয় পদে বহাল থাকিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, উপযুক্ত কারণ উদ্ভব হইলে সরকার উপ-ধারা (১) এর দফা (ঢ) এ উল্লিখিত সদস্যগণের যে কাহারো মনোনয়ন মেয়াদপূর্তির পূর্বেই বাতিল করিতে পারিবে:
আরও শর্ত থাকে যে, উপ-ধারা (১) এর দফা (ঢ) এ উল্লিখিত সদস্যগণ সরকার বরাবর পদত্যাগপত্র প্রেরণপূর্বক স্বীয় পদ হইতে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করিতে পারিবেন।]
18[৭। (১) অধিদপ্তরের দায়িত্ব ও কার্যাবলি হইবে নিম্নরূপ, যথা:-
(ক) অসচ্ছল, সহায়-সম্বলহীন এবং নানাবিধ আর্থ-সামাজিক কারণে বিচার প্রাপ্তিতে অসমর্থ বিচারপ্রার্থী জনগণকে সরকারি খরচে আইনগত সহায়তা প্রদান ও সময় সময় আইনগত সহায়তা প্রার্থীর যোগ্যতা নির্ধারণ;
(খ) স্বল্প সময়ে কম খরচে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি সেবা প্রদানের উদ্দেশ্যে মধ্যস্থতা সেবার সম্প্রসারণ ও বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ;
(গ) কোনো নাগরিক বা শিশু বা সংক্ষুদ্ধ ব্যক্তির তাৎক্ষণিক জরুরী আইনগত সহায়তা প্রয়োজন হলে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে জরুরি আইনগত সহায়তা (Emergency Legal Support) ও আইনি পরামর্শ প্রদান;
(ঘ) মহানগর, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে বা যেকোন স্থানে আইনগত পরামর্শ প্রদানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ;
(ঙ) যেকোনো রাষ্ট্রে অবস্থানরত বাংলাদেশী প্রবাসী নাগরিক বা অভিবাসী শ্রমিকের প্রয়োজন বিবেচনায় আইনগত সহায়তা প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ;
(চ) প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সনদপ্রাপ্ত পেশাদার মধ্যস্থতাকারীর দক্ষতা উন্নয়ন;
(ছ) আইনগত সহায়তা কার্যক্রমে সাথে সম্পৃক্ত বেসরকারি সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের কর্ম এলাকা বিষয়ে সুপারিশ বা মতামত প্রদান;
(জ) সরকারি এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রদত্ত আইনগত সহায়তা বা কার্যক্রম এবং মধ্যস্থতা কার্যক্রমের সমন্বয়করণ;
(ঝ) আইনগত সহায়তা, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি, জরুরি আইনগত সহায়তা, আনুষঙ্গিক সহায়তা (মানসিক স্বাস্থ্য, নিরাপদ আশ্রয়, কর্ম-ব্যবস্থা) ইত্যাদি বিবিধ সেবা অসহায় বিচারপ্রার্থীর প্রয়োজন হইলে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সরকারি-বেসরকারি সেবাপ্রদান প্রতিষ্ঠানসমূহে পরস্পর রেফারেল সিস্টেম চালুকরণ;
(ঞ) আইনগত সহায়তা, মধ্যস্থতা, আইনগত সচেতনতা সেবাসমূহের মানোন্নয়নে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার সহিত যোগাযোগ রক্ষা এবং এতদ্সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সরকারের প্রতিনিধিত্ব করা;
(ট) আইনগত সহায়তা কার্যক্রমের গুণগত মানোন্নয়নে ও কার্যকর সেবা নিশ্চিতকরণের উদ্দেশ্যে গবেষণা কার্যক্রম ও বিভিন্ন প্রকল্প প্রস্তাব গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন;
(ঠ) আইনগত সহায়তা ও বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি সম্পর্কিত বিষয়াবলী বিভিন্ন পর্যায়ের পাঠ্যসূচিতে ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের পাঠক্রমে অন্তর্ভূক্তকরণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ;
(ড) কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যায়ে আইনগত সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে সভা, সেমিনার, গণশুনানি, উঠান-বৈঠক, কর্মশালার আয়োজন এবং জাতীয় ও বেসরকারি পর্যায়ে প্রিন্ট ও ইলিক্ট্রনিক মিডিয়া এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আইনত সহায়তা সেবা ও আইন বিষয়ে জনসচেতনতামূলক তথ্যপ্রচার;
(ঢ) প্রচারণামূলক সামগ্রী যেমন- বুকলেট, পুস্তিকা, বিলবোর্ড, জনসচেতনামূলক অডিও-ভিডিও ইত্যাদি প্রচারণামূলক সামগ্রী তৈরি ও বিতরণ;
(ণ) সকল বিচারপ্রার্থী জনগণের জন্য আইনগত সহায়তা কার্যক্রম ডিজিটাল পদ্ধতিতে সহজলভ্যকরণ এবং ডেটাবেজ তথ্য সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ;
(ত) মহানগর, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়সহ অধিদপ্তরের অধীন সকল কার্যালয়ে আইনগত সহায়তা ও বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি সংক্রান্ত কার্যক্রম তদারকি ও তত্ত্বাবধান;
(থ) আইনের অধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত চীফ লিগ্যাল এইড অফিসার, লিগ্যাল এইড অফিসার, প্যানেল আইনজীবী এবং স্পেশাল মেডিয়েটরগণের কার্যাবলি তত্ত্বাবধান;
(দ) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকারি অথবা বেসরকারি সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের সহিত চুক্তি, সমঝোতা-স্মারক, ইত্যাদি সম্পাদন ও যেকোনো ধরনের সহায়তা গ্রহণ;
(ধ) সরকারের নিকট বার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপন এবং উক্তরূপ উপস্থাপনের ৭ (সাত) কার্যদিবসের মধ্যে অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশ;
(ন) উপরিউক্ত দায়িত্ব ও কর্তব্যসমূহ প্রতিপালনের জন্য প্রয়োজনীয় যেকোনো কার্য সম্পাদন।
(২) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, অধিদপ্তর, সরকার কর্তৃক নির্ধারিত, অন্যান্য কার্যও সম্পাদন করিবে।]
19[৮। (১) বৎসরে কমপক্ষে ২ (দুই) বার পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত হইবে।
২) পরিষদ উহার সভার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে।
৩) সভাপতি কর্তৃক নির্ধারিত স্থান, তারিখ ও সময়ে পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত হইবে।
৪) সভাপতি পরিষদের সকল সভায় সভাপতিত্ব করিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, সভাপতির অনুপস্থিতিতে পরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য কর্তৃক মনোনীত কোনো সদস্য সভায় সভাপতিত্ব করিতে পারিবেন।
৫) পরিষদের মোট সদস্যের এক-তৃতীয়াংশের উপস্থিতিতে সভার কোরাম গঠিত হইবে এবং সভায় উপস্থিত সদস্যগণের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে পরিষদের সিদ্ধান্ত গৃহীত হইবে।
(৬) উপদেষ্টা পরিষদ, প্রয়োজনবোধে, উহার কোনো সভায় পর্যবেক্ষক বা পরামর্শক হিসেবে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে আমন্ত্রণ জানাইতে পারিবে।]
20[৮ক। (১) বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টে সুপ্রীম কোর্ট কমিটি নামে একটি কমিটি থাকিবে এবং উহা নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে গঠিত হইবে, যথা: —
(ক) 21[বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি] কর্তৃক মনোনীত হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারপতি, যিনি ইহার চেয়ারম্যানও হইবেন;
22[(কক) বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি কর্তৃক মনোনীত হাইকোর্ট বিভাগের একজন রেজিস্ট্রার;]
(খ) সুপ্রীম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক এবং উক্ত সমিতি কর্তৃক মনোনীত সমিতির অন্য একজন সদস্য;
(গ) প্রধান বিচারপতি কর্তৃক মনোনীত সুপ্রীম কোর্টে আইন পেশায় নিয়োজিত মানবাধিকার ও সমাজকল্যাণ কার্যক্রম পরিচালনাকারী দুইজন আইনজীবী, যাহাদের মধ্যে একজন মহিলা থাকিবেন;
(ঘ) 23[অধিদপ্তর] কর্তৃক মনোনীত জাতীয়ভাবে প্রতিষ্ঠিত আইন ও মানবাধিকার ইস্যুতে কার্যক্রম পরিচালনাকারী বেসরকারি সংস্থার দুইজন প্রতিনিধি;
(ঙ) বাংলাদেশের অ্যাটর্নি-জেনারেল কর্তৃক মনোনীত একজন অন্যূন ডেপুটি অ্যাটর্নি-জেনারেল;
(চ) 24[অধিদপ্তর কর্তৃক মনোনীত] অন্যূন উপ-পরিচালক পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা;
25[(ছ) লিগ্যাল এইড অফিসার, সুপ্রীম কোর্ট, যিনি ইহার সদস্য-সচিবও হইবেন;]
(২) উপ-ধারা (১) এর দফা (গ) এবং (ঘ) এর অধীন মনোনীত সদস্যগণ তাহাদের মনোনয়নের তারিখ হইতে দুই বৎসর মেয়াদে স্বীয় পদে বহাল থাকিবেন।
26[৮খ। সুপ্রীম কোর্ট কমিটির দায়িত্ব ও কার্যাবলি হইবে নিম্নরূপ, যথা:-
(ক) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, আইনগত সহায়তা প্রদান কার্যক্রমের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ বিষয়ে সুপ্রীম কোর্ট কমিটি জাতীয় উপদেষ্টা পরিষদ এর নিকট প্রস্তাব বা প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রেরণ করিতে পারিবে;
(খ) ধারা ১৫ এর উপ-ধারা (১) অনুসারে প্রণীত প্যানেল আইনজীবীর তালিকা অনুমোদন প্রদান করিবে;
(গ) প্যানেল আইনজীবীর কর্মদক্ষতা, আন্তরিকতা, সেবা প্রদানের সদিচ্ছা, দায়িত্ব পালনে সততা, নিষ্ঠা বিবিধ বিষয় বিবেচনা করিয়া কমিটি প্যানেল আইনজীবীর তালিকা সময় সময় হালনাগাদ করিবে;
(ঘ) প্যানেলভুক্ত কোনো আইনজীবীর বিরুদ্ধে বিচারপ্রার্থীর নিকট হইতে অর্থ দাবি, বিচারপ্রার্থীর সাথে অনৈতিক আচরণ, দায়িত্বে অবহেলা বিবিধ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে কমিটি অভিযুক্ত প্যানেল আইনজীবীকে প্রয়োজনীয় শুনানির সুযোগ প্রদান করিয়া যদি তাহাকে দোষী হিসেবে চিহ্নিত করে, তাহা হইলে তাহার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্তে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল বরাবর বিষয়টি প্রেরণ করিতে পারিবে এবং তাহার নাম প্যানেল আইনজীবীর তালিকা হইতে কর্তন করিবে;
(ঙ) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সুপ্রীম কোর্ট কমিটির চেয়ারম্যান আইনগত সহায়তা প্রদান কার্যক্রম বাস্তবায়নে সুপ্রীম কোর্টে সংশ্লিষ্ট লিগ্যাল এইড অফিসারের দায়িত্ব ও কার্যক্রম সময় সময় তদারকি করিয়া প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করিবেন;
(চ) সুপ্রীম কোর্ট কমিটি সুপ্রীম কোর্টে আইনগত সহায়তা সংক্রান্ত সরকার বা অধিদপ্তর কর্তৃক অর্পিত অন্যান্য দায়িত্ব পালন করিবে।
৮গ। (১) বৎসরে কমপক্ষে ২ (দুই) বার কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হইবে।
(২) কমিটি উহার সভার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে।
(৩) সভাপতি কর্তৃক নির্ধারিত স্থান, তারিখ ও সময়ে পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত হইবে।
(৪) সভাপতি কমিটির সকল সভায় সভাপতিত্ব করিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, সভাপতির অনুপস্থিতিতে কমিটির সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য কর্তৃক মনোনীত কোনো সদস্য সভায় সভাপতিত্ব করিতে পারিবেন।
(৫) কমিটির মোট সদস্যের এক-তৃতীয়াংশের উপস্থিতিতে সভার কোরাম গঠিত হইবে এবং সভায় উপস্থিত সদস্যগণের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে কমিটির সিদ্ধান্ত গৃহীত হইবে।]
৯৷ (১) প্রত্যেক জেলায় 27[অধিদপ্তরের] একটি জেলা কমিটি থাকিবে এবং উহা 28[***] নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে গঠিত হইবে, যথা:-
(ক) জেলা ও দায়রা জজ, যিনি ইহার চেয়ারম্যানও হইবেন;
29[(কক) চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা তৎকর্তৃক মনোনীত অন্যূন অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা;]
30[(খ) জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট বা তত্কর্তৃক মনোনীত অন্যুন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা;]
31[(গ) জেলা পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট বা তত্কর্তৃক মনোনীত অন্যুন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট পদমর্যদার একজন কর্মকর্তা;]
32[(গগ) সংশ্লিষ্ট জেলার সিভিল সার্জন বা তৎকর্তৃক মনোনীত একজন ডেপুটি সিভিল সার্জন;]
(ঘ) জেলার জেল সুপারিনটেনডেন্ট;
(ঙ) জেলা সমাজকল্যাণ বিষয়ক কর্মকর্তা, যদি থাকে;
33[(চ) জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, যদি থাকে;
(চচ) জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা, যদি থাকে;
(চচচ) জেলা তথ্য কর্মকর্তা;]
(ছ) জাতীয় মহিলা সংস্থার জেলা কমিটির চেয়ারম্যান বা তত্কর্তৃক মনোনীত কমিটির একজন প্রতিনিধি;
34[(ছছ) সরকার কর্তৃক মনোনীত সংশ্লিষ্ট জেলার পৌরসভার একজন মেয়র, একজন উপজেলা চেয়ারম্যান এবং একজন গণ্যমান্য ব্যক্তি;]
(জ) জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি;
(ঝ) জেলার সরকারী উকিল;
(ঞ) জেলার পাবলিক প্রসিকিউটর;
35[***]
(ট) জেলার বেসরকারী কারাগার পরিদর্শক, যদি থাকে, তাহাদের মধ্য হইতে সরকার কর্তৃক মনোনীত একজন বেসরকারী কারাগার পরিদর্শক;
36[(টট) পার্বত্য জেলার ক্ষেত্রে, সংশ্লিষ্ট পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কর্তৃক মনোনীত উক্ত জেলা পরিষদের দুইজন সদস্য, যাহাদের মধ্যে একজন মহিলা থাকিবেন;]
(ঠ) জেলা কমিটির চেয়ারম্যান কর্তৃক মনোনীত জেলার বেসরকারী স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা, যদি থাকে, এর একজন প্রতিনিধি;
37[(ড) জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক;]
38[(ঢ) 39[চীফ লিগ্যাল এইড অফিসার], যিনি ইহার সদস্য-সচিবও হইবেন।]
40[***]
41[(২ক) যদি কোন জেলায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল থাকে, তাহা হইলে উক্ত ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর জেলা কমিটির সদস্য হইবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, কোন জেলায় একাধিক নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল থাকিলে উক্ত ট্রাইব্যুনালসমূহে কর্মরত বিচারকগণের মধ্যে যিনি জ্যেষ্ঠ এবং নিয়োগপ্রাপ্ত বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটরগণের মধ্যে যিনি জ্যেষ্ঠ, সদস্য হইবেন৷]
42[***]
43[(৩) উপ-ধারা (১) এর দফা (ছ), (ট) ও (ঠ) এর অধীন মনোনীত সদস্যগণ এবং দফা (ছছ) এর অধীন মনোনীত গণ্যমান্য ব্যক্তি তাহাদের মনোনয়নের তারিখ হইতে দুই বৎসর মেয়াদে স্বীয় পদে বহাল থাকিবেনঃ
তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বেই মনোনয়নকারী কর্তৃপক্ষ কোন কারণ না দর্শাইয়া উক্তরূপ কোন সদস্যকে তাহার পদ হইতে অপসারণ করিতে পারিবেঃ
আরো শর্ত থাকে যে, উক্তরূপ কোন সদস্য সরকারের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে পারিবেন।]
44[১০। জেলা কমিটির দায়িত্ব ও কার্যাবলি হইবে নিম্নরূপ, যথা:-
(ক) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, জেলায় পরিচালিত আইনগত সহায়তা প্রদান কার্যক্রমের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ বিষয়ে জেলা কমিটি জাতীয় উপদেষ্টা পরিষদ এর নিকট প্রস্তাব বা প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রেরণ করিতে পারিবে;
(খ) মামলায় আইনগত সহায়তা প্রদান কার্যক্রমে জেলা জজ আদালত বা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত বা অন্যান্য আদালতের জন্য ধারা ১৫ এর উপ-ধারা (২) অনুসারে প্রণীত প্যানেল আইনজীবীর তালিকা অনুমোদন প্রদান করিবে;
(গ) প্যানেল আইনজীবীর কর্মদক্ষতা, আন্তরিকতা, সেবা প্রদানের সদিচ্ছা, দায়িত্ব পালনে সততা, নিষ্ঠা বিবিধ বিষয় বিবেচনা করিয়া কমিটি প্যানেল আইনজীবীর তালিকা সময় সময় হালনাগাদ করিবে;
(ঘ) প্যানেলভুক্ত কোনো আইনজীবীর বিরুদ্ধে বিচারপ্রার্থীর নিকট হইতে অর্থ দাবি, বিচারপ্রার্থীর সাথে অনৈতিক আচরণ, দায়িত্বে অবহেলা বিবিধ বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া গেলে কমিটি অভিযুক্তকে প্রয়োজনীয় শুনানির সুযোগ প্রদান করিয়া যদি তাহাকে দোষী হিসেবে চিহ্নিত করে, তাহা হইলে তাহার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্তে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল বরাবর বিষয়টি প্রেরণ করিতে পারিবে এবং তাহার নাম প্যানেল আইনজীবীর তালিকা হইতে কর্তন করিবে;
(ঙ) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, জেলা কমিটির চেয়ারম্যান আইনগত সহায়তা প্রদান কার্যক্রম বাস্তবায়নে জেলায় সংশ্লিষ্ট চীফ লিগ্যাল এইড অফিসার ও লিগ্যাল এইড অফিসারের দায়িত্ব ও কার্যক্রম সময় সময় তদারকি করিয়া প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করিবেন;
(চ) জেলা কমিটি আইনগত সহায়তা সংক্রান্ত সরকার বা অধিদপ্তর কর্তৃক অর্পিত অন্যান্য দায়িত্ব পালন করিবে।]
45[১১। (১) প্রতি মাসে কমপক্ষে ১ (এক) বার কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হইবে;
(২) কমিটি উহার সভার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে;
(৩) সভাপতি কর্তৃক নির্ধারিত স্থান, তারিখ ও সময়ে কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হইবে;
(৪) সভাপতি কমিটির সকল সভায় সভাপতিত্ব করিবেন;
তবে শর্ত থাকে যে, সভাপতির অনুপস্থিতিতে কমিটির সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য কর্তৃক মনোনীত কোনো সদস্য সভায় সভাপতিত্ব করিতে পারিবেন।
(৫) কমিটির মোট সদস্যের এক-তৃতীয়াংশের উপস্থিতিতে সভার কোরাম গঠিত হইবে এবং সভায় উপস্থিত সদস্যগণের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে কমিটির সিদ্ধান্ত গৃহীত হইবে।]
১২৷ (১) 46[অধিদপ্তর], সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে এবং সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, প্রতিটি উপজেলায় 47[অধিদপ্তরের] উপজেলা কমিটি এবং প্রতিটি ইউনিয়নে 48[অধিদপ্তরের] ইউনিয়ন কমিটি গঠন করিতে পারিবে৷
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রত্যেক উপজেলা কমিটি ও ইউনিয়ন কমিটি একজন চেয়ারম্যান ও চৌদ্দজন সদস্য সমন্বয়ে গঠিত হইবে এবং চেয়ারম্যান ও সদস্যদের যোগ্যতা, অপসরাণ, পদত্যাগ ইত্যাদি প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে৷
(৩) উপ-ধারা (১) এর অধীন গঠিত 49[অধিদপ্তরের] উপজেলা কমিটি ও ইউনিয়ন কমিটির দায়িত্ব, কার্যাবলী এবং সভার কার্য পদ্ধতি প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে৷
50[১২ক। (১) এই আইনের অন্যান্য বিধানে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, 51[অধিদপ্তর], সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে এবং সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, শ্রম আদালত ও দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থিত বিভিন্ন আদালতের চৌকির জন্য পৃথক পৃথকভাবে এক বা একাধিক বিশেষ কমিটি গঠন করিতে পারিবে।
(২) একজন চেয়ারম্যান ও চৌদ্দজন সদস্য সমন্বয়ে বিশেষ কমিটি গঠিত হইবে এবং চেয়ারম্যান ও সদস্যদের মনোনয়ন, মনোনয়নের যোগ্যতা, অপসারণ, পদত্যাগ ইত্যাদি প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
(৩) বিশেষ কমিটির দায়িত্ব, কার্যাবলী এবং সভার কার্য পদ্ধতি প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে।]
52[১৩। (১) প্রত্যেক মহানগরে অধিদপ্তরের একটি মহানগর কমিটি থাকিবে এবং নিম্নবর্ণিত সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত হইবে, যথা:-
(ক) মহানগর দায়রা জজ, যিনি ইহার চেয়ারম্যানও হইবেন;
(খ) চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট;
(গ) বিভাগীয় কমিশনার বা তৎকর্তৃক মনোনীত অন্যূন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা;
(ঘ) পুলিশ কমিশনার বা তৎকর্তৃক মনোনীত অন্যূন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার পদমর্যদার একজন কর্মকর্তা;
(ঙ) সংশ্লিষ্ট মহানগরে অবস্থিত সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক অথবা তাঁহার মনোনীত ১ (এক) জন প্রতিনিধি;
(চ) উপ-কারা মহাপরিদর্শক বা সিনিয়র জেল সুপার;
(ছ) জেলা সমাজকল্যাণ বিষয়ক কর্মকর্তা, যদি থাকে;
(জ) জেলা তথ্য কর্মকর্তা;
(ঝ) জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক;
(ঞ) মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর;
(ট) কমিটির চেয়ারম্যান কর্তৃক মনোনীত মহানগর এলাকার বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের অনধিক ৪ (চার) জন প্রতিনিধি;
(ঠ) কমিটির চেয়ারম্যান কর্তৃক মনোনীত মহানগর এলাকার বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এর ১ (এক) জন প্রতিনিধি, যদি থাকে;
(ড) চীফ লিগ্যাল এইড অফিসার (মহানগর), যিনি ইহার সদস্য-সচিবও হইবেন।
(২) মহানগর এলাকায় কর্মরত বিভাগীয় স্পেশাল জজ বা স্পেশাল জজ থাকিলে, উক্ত স্পেশাল জজ ও বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর মহানগর কমিটির সদস্য হইবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, মহানগরে একাধিক স্পেশাল জজ থাকিলে কর্মরত বিচারকগণের মধ্যে যিনি জ্যেষ্ঠ এবং নিয়োগপ্রাপ্ত বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটরগণের মধ্যে যিনি জ্যেষ্ঠ, তিনি সদস্য হইবেন ৷
(৩) যেসকল মহানগরে সিটি কর্পোরেশন রহিয়াছে সেই সকল মহানগর কমিটিতে সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র কর্তৃক মনোনীত দুইজন কাউন্সিলর সদস্য হইবেন; যাহাদের মধ্যে ১ (এক) জন নারী সদস্য থাকিবেন।
(৪) মনোনীত সদস্যগণ মনোনয়নের তারিখ হইতে ২ (দুই) বৎসর মেয়াদে স্বীয় পদে বহাল থাকিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বেই মনোনয়নকারী কর্তৃপক্ষ উপযুক্ত কারণ দর্শাইয়া উক্তরূপ কোনো সদস্যকে তাহার পদ হইতে অপসারণ করিতে পারিবে:
আরও শর্ত থাকে যে, উক্তরূপ কোনো সদস্য সরকারের উদ্দেশ্যে স্বীয় স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে পদত্যাগ করিতে পারিবেন।]
53[১৩ক। মহানগর কমিটির দায়িত্ব ও কার্যাবলি হইবে নিম্নরূপ, যথা:-
(ক) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, মহানগর এলাকায় পরিচালিত আইনগত সহায়তা প্রদান কার্যক্রমের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ বিষয়ে মহানগর কমিটি জাতীয় উপদেষ্টা পরিষদ এর নিকট প্রস্তাব বা প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রেরণ করিতে পারিবে;
(খ) মামলায় আইনগত সহায়তা প্রদান কার্যক্রমে দায়রা জজ আদালত বা চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত বা অন্যান্য আদালতের জন্য ধারা ১৫ এর উপ-ধারা (২কক) অনুসারে প্রণীত প্যানেল আইনজীবীর তালিকা অনুমোদন প্রদান করিবে;
(গ) প্যানেল আইনজীবীর কর্মদক্ষতা, আন্তরিকতা, সেবা প্রদানের সদিচ্ছা, দায়িত্ব পালনে সততা, নিষ্ঠা বিবিধ বিষয় বিবেচনা করিয়া কমিটি প্যানেল আইনজীবীর তালিকা সময় সময় হালনাগাদ করিবে;
(ঘ) প্যানেলভুক্ত কোনো আইনজীবীর বিরুদ্ধে বিচারপ্রার্থীর নিকট হইতে অর্থ দাবি, বিচারপ্রার্থীর সাথে অনৈতিক আচরণ, দায়িত্বে অবহেলা বিবিধ বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া গেলে কমিটি অভিযুক্তকে প্রয়োজনীয় শুনানির সুযোগ প্রদান করিয়া যদি তাহাকে দোষী হিসেবে চিহ্নিত করে; তাহা হইলে তাহার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্তে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল বরাবর বিষয়টি প্রেরণ করিতে পারিবে এবং তাহার নাম প্যানেল আইনজীবীর তালিকা হইতে কর্তন করিবে;
(ঙ) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, মহানগর কমিটির চেয়ারম্যান আইনগত সহায়তা প্রদান কার্যক্রম বাস্তবায়নে মহানগরে সংশ্লিষ্ট লিগ্যাল এইড অফিসারের দায়িত্ব ও কার্যক্রম সময় সময় তদারকি করিয়া প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করিবে;
(চ) মহানগর কমিটি আইনগত সহায়তা সংক্রান্ত সরকার বা অধিদপ্তর কর্তৃক অর্পিত অন্যান্য দায়িত্ব পালন করিবে।]
54[১৪। (১) বৎসরে কমপক্ষে ৪ (চার) বার কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হইবে;
(২) কমিটি সভার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে;
(৩) সভাপতি কর্তৃক নির্ধারিত স্থান, তারিখ ও সময়ে কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হইবে;
(৪) সভাপতি কমিটির সকল সভায় সভাপতিত্ব করিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, সভাপতির অনুপস্থিতিতে কমিটির সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য কর্তৃক মনোনীত কোনো সদস্য সভায় সভাপতিত্ব করিতে পারিবেন;
(৫) কমিটির মোট সদস্যের এক-তৃতীয়াংশের উপস্থিতিতে সভার কোরাম গঠিত হইবে এবং সভায় উপস্থিত সদস্যগণের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে কমিটির সিদ্ধান্ত গৃহীত হইবে]
55[১৪ক। (১) আইনগত সহায়তা প্রদান বা মধ্যস্থতা কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত বেসরকারি সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান তাহাদের কর্ম এলাকা বা প্রকল্প এলাকা বিষয়ে অধিদপ্তরকে অবহিত করিবে এবং অধিদপ্তর বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার কর্ম এলাকা বিষয়ে একটি তালিকা প্রস্তুত করিবে।
(২) বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংস্থাসমূহ তাহাদের আইনগত সহায়তা প্রদান ও মধ্যস্থতা কার্যক্রমের ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন অধিদপ্তরের নিকট পেশ করিবে এবং অধিদপ্তরের ডেটাবেইজ সিস্টেমে উহা সংরক্ষিত হইবে।
(৩) অধিদপ্তর উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আইনগত সহায়তা প্রদান কার্যক্রম বিষয়ে সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত প্রতিবেদন বার্ষিক জাতীয় প্রতিবেদনে অর্ন্তভুক্ত করিবে।]
১৫৷ (১) 56[সুপ্রীমকোর্ট কমিটি] এই আইনের আওতায় প্রদত্ত আইনগত সহায়তার অধীনে বাংলাদেশ সুপ্রীমকোর্টে দায়েরযোগ্য বা দায়েরকৃত মামলার পরামর্শ প্রদান ও মামলা পরিচালনার জন্য সুপ্রীমকোর্টের মামলা পরিচালনায় অন্যুন 57[৫ (পাঁচ)] বত্সরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আইনজীবীগণের মধ্য হইতে একটি তালিকা প্রণয়ন করিবে 58[:]
59[তবে শর্ত থাকে যে, এইরূপ তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য বাংলাদেশ সুপ্রীমকোর্টে আইনজীবী হিসাবে তালিকাভুক্ত অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজগণের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতার শর্ত শিথিলযোগ্য।]
(২) প্রত্যেক জেলা কমিটি এই আইনের আওতায় প্রদত্ত আইনগত সহায়তার অধীনে জেলার কোন আদালতে দায়েরযোগ্য বা দায়েরকৃত মামলার পরামর্শ প্রদান ও মামলা পরিচালনার জন্য জেলা আদালতে মামলা পরিচালনায় অন্যুন ৫ (পাঁচ) বত্সরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আইনজীবীগণের মধ্য হইতে একটি তালিকা প্রণয়ন করিবে৷
60[(২ক) বিশেষ কমিটি এই আইনের আওতায় প্রদত্ত আইনগত সহায়তার অধীনে শ্রম আদালত বা চৌকি আদালতে দায়েরযোগ্য বা দায়েরকৃত মামলার পরামর্শ প্রদান ও মামলা পরিচালার জন্য সংশ্লিষ্ট শ্রম আদালত বা চৌকি আদালতে মামলা পরিচালনায় অন্যূন ৫ (পাঁচ) বৎসরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন আইনজীবীগণের মধ্য হইতে একটি তালিকা প্রণয়ন করিবে।]
61[(২কক) মহানগর কমিটি এই আইনের আওতায় প্রদত্ত আইনগত সহায়তার অধীনে মহানগর দায়রা জজ আদালত, চীফ মেট্রিাপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত বা অধীন অন্যান্য আদালতে দায়েরযোগ্য বা দায়েরকৃত মামলার পরামর্শদান ও মামলা পরিচালার জন্য সংশ্লিষ্ট আদালতে মামলা পরিচালনায় অন্যূন ৫ (পাঁচ) বৎসরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন আইনজীবীগণের মধ্য হইতে একটি তালিকা প্রণয়ন করিবে।]
(৩) এই ধারার অধীন প্রণীত প্রত্যেক তালিকায় অন্যুন 62[এক-তৃতীয়াংশ] মহিলা আইনজীবী, যদি উপযুক্ত পাওয়া যায়, রাখা হইবে৷
(৪) কোন বিচারপ্রার্থীর আবেদন বা দরখাস্ত বিবেচনাক্রমে যদি কোন ক্ষেত্রে, আইনগত সহায়তা প্রদানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, তাহা হইলে 63[সুপ্রীম কোর্ট কমিটি বা, ক্ষেত্রমত, জেলা কমিটি64[, মহানগর কমিটি] বা বিশেষ কমিটি] 65[কর্তৃক অনুমোদিত তালিকা হইতে সংশ্লিষ্ট চীফ লিগ্যাল এইড অফিসার বা, ক্ষেত্রমত, লিগ্যাল এইড অফিসার কোনো আইনজীবীকে এতদুদ্দেশ্যে নিযুক্ত করিবে]:
তবে শর্ত থাকে যে, এইরূপ নিযুক্তির ক্ষেত্রে বিচারপ্রার্থীর পছন্দ, যতদূর সম্ভব, বিবেচনা করা হইবে।
66[(৫) উপ-ধারা (৪) এর অধীন নিযুক্ত আইনজীবীকে প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হারে সম্মানি বা ফি প্রদান করা হইবে।]
67[১৫ক। (১) এই আইনের অধীনে স্পেশাল মেডিয়েটর হিসাবে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য 68[অধিদপ্তর], সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজ এবং মধ্যস্থতা বিষয়ে অভিজ্ঞ ও বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত আইনজীবীগণের মধ্য হইতে স্পেশাল মেডিয়েটরগণের একটি তালিকা প্রস্তুত করিবে।
(২) 69[অধিদপ্তর], সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, উক্ত তালিকা হইতে প্রত্যেক লিগ্যাল এইড অফিসে মধ্যস্থতা কার্যক্রমের চাহিদা ও প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক স্পেশাল মেডিয়েটর নিয়োগ প্রদান করিবে।
(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন নিযুক্ত স্পেশাল মেডিয়েটরগণ বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে দায়িত্ব পালন করিবে।
(৪) উপ-ধারা (২) এর অধীন নিযুক্ত স্পেশাল মেডিয়েটরকে প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে সম্মানি বা ফি প্রদান করা হইবে।]
70[১৫খ। (১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, পেশাদার মধ্যস্থতাকারী সৃষ্টি, তালিকাভুক্তকরণ এবং তাহাদের দক্ষতা বৃদ্ধি নিশ্চিত করিবার জন্য অধিদপ্তর বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে মধ্যস্থতাকারীকে সনদ প্রদান করিবে।
(২) সনদ প্রদানের লক্ষ্যে আবেদন যাচাই-বাছাই, মূল্যায়ন ও পরীক্ষা গ্রহণপূর্বক তালিকাভুক্তির জন্য অধিদপ্তরের একটি ‘মধ্যস্থতাকারী সনদ কমিটি’ থাকিবে, যাহা নিম্নবর্ণিত সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত হইবে, যথা:-
(ক) মহা-পরিচালক, অধিদপ্তর, যিনি উহার সভাপতি হইবেন;
(খ) যুগ্ম-সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা, আইন ও বিচার বিভাগ;
(গ) রেজিস্ট্রার (হাইকোর্ট বিভাগ) পদমর্যাদার কর্মকর্তা, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট;
(ঘ) সচিব, বাংলাদেশ বার কাউন্সিল;
(ঙ) মধ্যস্থতা বিষয়ে স্বীকৃত বিশেষজ্ঞ বা বেসরকারি সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের ২ (দুই) জন প্রতিনিধি;
(চ) উপ-পরিচালক, অধিদপ্তর, যিনি উহার সদস্য-সচিব হইবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, কমিটি প্রয়োজন মনে করিলে যে কোনো উপযুক্ত ব্যক্তিকে সদস্য হিসেবে কো-অপ্ট করিতে পারিবে।
(৩) “মধ্যস্থতাকারী সনদ কমিটি”, সনদ প্রদান বা মধ্যস্থতাকারী তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে বিভিন্ন জেলা, উপজেলা বা আদালত কেন্দ্রিক মধ্যস্থতাকারীর বাস্তব চাহিদার সহিত সঙ্গতি রক্ষা করিবে।
(৪) সনদ প্রাপ্তির জন্য আবেদন প্রক্রিয়া, ন্যূনতম যোগ্যতা, প্রশিক্ষণ, আচরণবিধি, মূল্যায়ন ও পরীক্ষা পদ্ধতি এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয়াবলি সরকার কর্তৃক প্রণীত বিধি বা অধিদপ্তর কর্তৃক জারিকৃত আদেশ দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
(৫) প্রত্যেক সনদপ্রাপ্ত মধ্যস্থতাকারীর লাইসেন্সের মেয়াদ প্রাথমিকভাবে ৫ (পাচঁ) বছর হইবে এবং নির্ধারিত শর্তসাপেক্ষে বিধি বা অধিদপ্তরের আদেশ দ্বারা প্রণীত পদ্ধতিতে নবায়নযোগ্য হইবে।
(৬) কোনো সনদপ্রাপ্ত মধ্যস্থতাকারী কর্তৃক শর্ত ভঙ্গ বা অসদাচরণ সংঘটিত হইলে অধিদপ্তর, বিধি বা অধিদপ্তরের আদেশ দ্বারা নির্ধারিত প্রক্রিয়ায়, সতর্কীকরণ, লাইসেন্স স্থগিতকরণ বা বাতিলকরণসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবে।
(৭) লাইসেন্স বাতিল বা স্থগিতকরণের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ কোনো মধ্যস্থতাকারী প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়ের সচিব বা সচিব কর্তৃক মনোনীত কোনো কর্মকর্তা বরাবর নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আপিল করিতে পারিবে, এবং আপিল প্রক্রিয়া বিধি বা অধিদপ্তরের আদেশ দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
(৮) অধিদপ্তর সময় সময় সকল সনদপ্রাপ্ত মধ্যস্থতাকারীর তালিকা সরকারি গেজেট ও উহার ওয়েবসাইটে প্রকাশ করিবে।
১৫গ। সনদপ্রাপ্ত মধ্যস্থতাকারী, বিধিমালা বা অধিদপ্তরেরে আদেশের আলোকে, যেসকল মধ্যস্থতা কার্যক্রম নিষ্পত্তি করিবে তাহা চীফ লিগ্যাল এইড অফিসার কর্তৃক স্বীকৃতি (Accreditation) পাইবার উদ্দেশ্যে তাহার নিকট উপস্থাপন করিবে এবং তদুদ্দেশ্যে চীফ লিগ্যাল এইড অফিসার যাচাইপূর্বক প্রত্যায়ন করিতে পারিবে এবং চীফ লিগ্যাল এইড অফিসার কর্তৃক প্রত্যায়িত প্রতিটি মধ্যস্থতা চুক্তির ক্ষেত্রে ২১গ ধারার বিধান কার্যকর হইবে।]
71[১৬৷ (১) এই আইনের অধীন আইনগত সহায়তার জন্য সকল আবেদন অধিদপ্তরের অধীন সুপ্রীম কোর্ট লিগ্যাল এইড কার্যালয় বা আঞ্চলিক, জেলা বা উপজেলার লিগ্যাল এইড কার্যালয়ে সরাসরি বা অনলাইনে দাখিল করিতে পারিবে।
(২) এই আইনের অধীন কোনো আবেদন বা দরখাস্ত কোনো কার্যালয় কর্তৃক অগ্রাহ্য হইলে সংক্ষুদ্ধ বিচারপ্রার্থী উক্তরূপ সিদ্ধান্তের তারিখ হইতে ৬০ (ষাট) দিনের মধ্যে অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের নিকট আপীল পেশ করিতে পারিবেন এবং এই ব্যাপারে মহাপরিচালকের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হইবে।]
১৮৷ 74[***]
(২) বাংলাদেশের মহা-হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, অতঃপর মহা-হিসাব নিরীক্ষক নামে অভিহিত, প্রতি বৎসর 75[অধিদপ্তরের] হিসাব নিরীক্ষা করিবেন এবং নিরীক্ষা রিপোর্টের একটি করিয়া অনুলিপি সরকার ও সংস্থার নিকট পেশ করিবেন।
(৩) উপ-ধারা (২) মোতাবেক হিসাব নিরীক্ষার উদ্দেশ্যে মহা-হিসাব নিরীক্ষক কিংবা তাহার নিকট হইতে এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি 76[অধিদপ্তরের] সকল রেকর্ড দলিল-দস্তাবেজ নগদ বা ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, জামানত ভাণ্ডার এবং অন্যবিধ সম্পত্তি পরীক্ষা করিয়া দেখিতে পারিবেন এবং যে কোন সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদ করিতে পারিবেন।
77[২০৷ (১) সরকার, অধিদপ্তরের নিকট হইতে যেকোনো সময় উহার কার্যপরিধিভুক্ত যেকোনো বিষয়ের উপর প্রতিবেদন বা বিবরণী আহ্বান করিতে পারিবে এবং অধিদপ্তর উহা সরবরাহ করিবে।
(২) অধিদপ্তর আঞ্চলিক, জেলা বা উপজেলার বা যেকোনো স্থানে স্থাপিত উহার অধীন কোনো কার্যালয় হইতে যেকোনো সময় উহার কার্যপরিধিভুক্ত যেকোনো বিষয়ের উপর প্রতিবেদন বা বিবরণী আহ্বান করিতে পারিবে এবং কার্যালয়সমূহ উহা সরবরাহ করিবে।]
78[২১। (১) অধিদপ্তরের ১ (এক) জন মহাপরিচালক থাকিবেন, যিনি অধিদপ্তরের প্রধান নির্বাহী হইবেন।
(২) অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, অতিরিক্ত মহাপরিচালক, পরিচালক, উপ-পরিচালক, সহকারী পরিচালক বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিসের যথাক্রমে জেলা জজ, অতিরিক্ত জেলা জজ, যুগ্ম জেলা জজ, সিনিয়র সিভিল জজ, সিভিল জজগণের মধ্য হইতে নিয়োগপ্রাপ্ত হইবে।
(৩) মহাপরিচালকের দায়িত্ব হইবে নিম্নরূপ, যথা: -
(ক) ধারা ৫ ও ৭ সহ এই আইনে উল্লিখিত দায়িত্ব ও কার্যাবলি সম্পাদন;
(খ) অধিদপ্তরের সকল প্রশাসনিক ও আর্থিক কার্যাদি পরিচালনা;
(গ) অধিদপ্তরের কর্মচারীগণের কার্যাবলি তদারকি এবং দিক-নির্দেশনা প্রদান।
(৪) মহাপরিচালক এই আইনের বিধানাবলি সাপেক্ষে এবং সময় সময়, সরকার কর্তৃক প্রদত্ত নির্দেশনা প্রতিপালন, কার্যাবলি সম্পাদন, ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করিবেন।
(৫) অধিদপ্তরের কার্যাবলি সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের উদ্দেশ্যে, সরকার কর্তৃক অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী অধিদপ্তরের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মচারী থাকিবে এবং তাহার বেতন, ভাতা ও চাকুরীর অন্যান্য শর্তাদি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, বিধি প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত কর্মচারীর বেতন, ভাতা ও চাকুরীর অন্যান্য শর্তাদি সরকার কর্তৃক জারিকৃত আদেশ বা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিধি বা আদেশ দ্বারা নির্ধারিত হইবে।]
80[২১ক। 81[(১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিসের সদস্যদের মধ্য হইতে, প্রয়োজনীয় সংখ্যক চীফ লিগ্যাল এইড অফিসার এবং লিগ্যাল এইড অফিসার নিয়োগ ও পদায়ন করিবে এবং তাহাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য 82[অধিদপ্তর], সময় সময়, আদেশ দ্বারা নির্ধারণ করিবে।]
83[(১ক) উপ-ধারা (১) এর অধীন চীফ লিগ্যাল এইড অফিসার পদায়ন না হওয়া পর্যন্ত 84[অধিদপ্তর] আদেশ দ্বারা লিগ্যাল এইড অফিসারকে, ক্ষেত্রমত, চীফ লিগ্যাল এইড অফিসারের দায়িত্ব প্রদান করিতে পারিবে।]
85[(২) চীফ লিগ্যাল এইড অফিসার বা লিগ্যাল এইড অফিসার আইনগত সহায়তা প্রার্থীকে, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, আইনি পরামর্শ প্রদান করিতে পারিবে, মামলাপূর্ব মধ্যস্থতার (Pre-case Mediation) উদ্যোগ গ্রহণ করিতে পারিবে এবং প্রচলিত আইনের অধীন আপসযোগ্য যে কোন বিষয় কোন আদালত বা ট্রাইব্যুনাল মামলা দায়ের-পরবর্তী মধ্যস্থতা (Post-case Mediation) কার্যক্রমের জন্য প্রেরণ করিলে উহা নিষ্পত্তির ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট অফিসারের থাকিবে।]]
86[87[২১খ। (১) আপাতত বলবৎ অন্য কোন আইনে ভিন্নতর যাহা কিছুই থাকুক না কেন, মামলাপূর্ব মধ্যস্থতা বিষয়ে এই আইনের বিধানাবলি কার্যকর হইবে।
(২) এই আইনের তফসিলে বর্ণিত বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে, সংক্ষুব্ধ পক্ষকে আবশ্যিকভাবে উক্ত বিরোধ প্রথমে লিগ্যাল এইড অফিসে মধ্যস্থতার মাধ্যমে নিষ্পত্তির উদ্দেশ্যে আবেদন করিতে হইবে, এবং মধ্যস্থতা প্রক্রিয়া ব্যর্থ হইলে বিরোধের কোন পক্ষ প্রয়োজনে উপযুক্ত আদালতে মামলা দায়ের করিতে পারিবে।
(৩) উপ-ধারা (২) অনুসারে মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে মামলা দায়েরকারীকে বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে প্রস্তুতকৃত প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট আদালতে বাধ্যতামূলকভাবে দাখিল করিতে হইবে।
(৪) উপ-ধারা (২) অনুসারে মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে মামলাপূর্ব মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ায় ব্যয়িত সময় তামাদির মেয়াদ গণনার ক্ষেত্রে বাদ যাইবে।
(৫) এই আইনের অধীন মধ্যস্থতা কার্যক্রম গ্রহণের ক্ষেত্রে চীফ লিগ্যাল এইড অফিসার, লিগ্যাল এইড অফিসার বা ক্ষেত্রমত, স্পেশাল মেডিয়েটর এর অধিক্ষেত্র সমগ্র জেলা ব্যাপী নির্ধারিত হইবে।
88[২১গ। (১) পক্ষগণের সহি/স্বাক্ষর ও মধ্যস্থতাকারীর স্বাক্ষরক্রমে সম্পাদিত এবং চীফ লিগ্যাল এইড অফিসার কর্তৃক প্রত্যায়িত প্রতিটি মধ্যস্থতা চুক্তি চূড়ান্ত, বলবৎযোগ্য এবং পক্ষগণের উপর বাধ্যকর হইবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন চুক্তি আদালতের ডিক্রি অথবা ক্ষেত্রমত, চূড়ান্ত আদেশ হিসাবে গণ্য হইবে এবং এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতের মাধ্যমে উক্ত ডিক্রি বা আদেশ জারি করা যাইবে।
২১ঘ। এই আইনের অধীন মামলাপূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রম চলমান অবস্থায় বিশেষ কোন ব্যবস্থা গ্রহণের কারণ উদ্ভূত হইলে লিগ্যাল এইড অফিস প্রয়োজনীয় আদেশ বা নির্দেশ দিতে পারিবে এবং উক্ত আদেশ বা নির্দেশ বাস্তবায়নে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, সংবিধিবদ্ধ সরকারি সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করিবে।
২১ঙ। এই আইন, বিধি বা প্রবিধানের অধীন সরল বিশ্বাসে (in Good Faith) কৃত কোন কাজের ফলে কোন ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হইলে বা তাহার ক্ষতিগ্রস্ত হইবার সম্ভাবনা থাকিলে তজ্জন্য 89[জাতীয় উপদেষ্টা পরিষদ বা কমিটির চেয়ারম্যান, সদস্য, অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বা অধিদপ্তরের] অন্য কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারী, চীফ লিগ্যাল এইড অফিসার, লিগ্যাল এইড অফিসার বা স্পেশাল মেডিয়েটর এর বিরুদ্ধে কোন দেওয়ানী বা ফৌজদারী মামলা বা অন্য কোন প্রকার আইনগত কার্যধারা রুজু করিতে পরিবেন না। ]
90[২২৷ মহাপরিচালক এই আইনের অধীন তাহার কোনো ক্ষমতা অথবা দায়িত্ব প্রয়োজনবোধে, কারণ উল্লেখপূর্বক লিখিত আদেশ দ্বারা, অধিদপ্তরের কোনো অতিরিক্ত মহাপরিচালক বা কোনো পরিচালক বরাবর অর্পণ করিতে পারিবেন।]
২৪৷ এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে 93[অধিদপ্তর], সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে এবং সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে৷