প্রিন্ট ভিউ
1*শ্রমিক নিয়োগ, মালিক ও শ্রমিকের মধ্যে সম্পর্ক, সর্বনিম্ন মজুরীর হার নির্ধারণ, মজুরী পরিশোধ, কার্যকালে দুর্ঘটনাজনিত কারণে শ্রমিকের জখমের জন্যে ক্ষতিপূরণ, ট্রেড ইউনিয়ন গঠন, শিল্প বিরোধ উত্থাপন ও নিষ্পত্তি, শ্রমিকের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, কল্যাণ ও চাকুরীর অবস্থা ও পরিবেশ এবং শিক্ষাধীনতা ও সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি সম্পর্কে সকল আইনের সংশোধন ও সংহতকরণকল্পে প্রণীত আইন
যেহেতু শ্রমিক নিয়োগ, মালিক ও শ্রমিকের মধ্যে সম্পর্ক, সর্বনিম্ন মজুরীর হার নির্ধারণ, মজুরী পরিশোধ, কার্যকালে দুর্ঘটনাজনিত কারণে শ্রমিকের জখমের জন্য ক্ষতিপূরণ, ট্রেড ইউনিয়ন গঠন, শিল্প বিরোধ উত্থাপন ও নিষ্পত্তি, শ্রমিকের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, কল্যাণ ও চাকুরীর অবস্থা ও পরিবেশ এবং শিক্ষাধীনতা ও সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি সম্পর্কে সকল আইনের সংশোধন ও সংহতকরণকল্পে বিধান করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়;
সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইলঃ-
প্রথম অধ্যায়
প্রারম্ভিক
১। (১) এই আইন বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ নামে অভিহিত হইবে।
(২) এই আইন অবিলম্বে কার্যকর হইবে।
(৩) এই আইনের অন্যত্র ভিন্নরূপ কিছু নির্ধারিত না থাকিলে, এই আইন সমগ্র বাংলাদেশে প্রযোজ্য হইবে।
(৪) উপ-ধারা (৩) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইন নিম্নলিখিত প্রতিষ্ঠানসমূহ বা শ্রমিকগণের উপর প্রযোজ্য হইবে না, যথাঃ-
(ক) সরকার বা সরকারের অধীনস্থ কোন অফিস;
(খ) সিকিউরিটি প্রিন্টিং প্রেস;
(গ) সমরাস্ত্র কারখানা;
2[***]
(ঙ) প্রকাশ্য প্রদর্শনীতে ইহার প্রয়োজনে স্থাপিত এমন দোকানপাট বা স্টল যাহাতে শুধু খুচরা বেচাকেনা চলে;
(চ) প্রকাশ্য মেলায় বা বাজারে ধর্মীয় বা দাতব্য উদ্দেশ্যে স্থাপিত দোকানপাট বা স্টল;
(ছ) 3[মুনাফা বা লাভের জন্য পরিচালিত নহে এমন] শিক্ষা, প্রশিক্ষণ বা গবেষণা প্রতিষ্ঠান;
4[***];
(ঝ) দ্বিতীয় অধ্যায়ের প্রয়োগের ক্ষেত্রে, সরকারের মালিকানাধীন এবং সরকার কর্তৃক সরাসরিভাবে পরিচালিত এমন কোন দোকান বা শিল্প বা বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান যাহাতে শ্রমিকগণ সরকারী কর্মচারীগণের উপর প্রযোজ্য আচরণবিধি দ্বারা পরিচালিত হন;
(ঞ) এমন কোন শ্রমিক যাহার নিয়োগ এবং চাকুরির শর্তাবলী সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৬২, ৭৯, ১১৩ বা ১৩৩ এর অধীন প্রণীত আইন বা বিধি দ্বারা পরিচালিত হয়, তবে দ্বাদশ, ত্রয়োদশ এবং চতুর্দশ অধ্যায় প্রয়োগের ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত প্রতিষ্ঠানে নিযুক্ত কোন শ্রমিক এই নিষেধের অন্তভূর্ক্ত হইবেন না, যথাঃ-
(১) রেল বিভাগ;
(২) ডাক, তার ও টেলিফোন বিভাগ;
(৩) সড়ক ও জনপথ বিভাগ;
(৪) গণপূর্ত বিভাগ;
(৫) গণস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ;
(৬) বাংলাদেশ সরকারী মুদ্রণালয়।
(ট) দফা 5[(খ), (গ), (ঙ), (চ) ও (ছ)]- তে উল্লিখিত কোন প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত কোন শ্রমিক, তবে দ্বাদশ, ত্রয়োদশ এবং চতুর্দশ অধ্যায়ের প্রয়োগের ক্ষেত্রে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে নিযুক্ত, শিক্ষক ব্যতীত, অন্য কোন শ্রমিক এই নিষেধের অন্তভুর্ক্ত হইবেন না;
6[(ঠ) দ্বাদশ, ত্রয়োদশ এবং চতুর্দশ অধ্যায়ের প্রয়োগের ক্ষেত্র ব্যতীত অন্য কোনো ক্ষেত্রে নাবিক (Seafarers);]
7[***]
8[(ঢ) এমন কোনো কৃষি খামার, যেখানে সাধারণত পাঁচ জনের কম শ্রমিক কাজ করেন, তবে দ্বাদশ, ত্রয়োদশ এবং চতুর্দশ অধ্যায়ের প্রয়োগের ক্ষেত্রে যেকোনো কৃষি খামারে কর্মরত এবং অন্যান্য সকল কৃষি শ্রমিক এই নিষেধের অন্তর্ভুক্ত হইবে না;]
9[(ণ) দ্বাদশ, ত্রয়োদশ এবং চতুর্দশ অধ্যায়ের প্রয়োগের ক্ষেত্র ছাড়া অন্য কোনো ক্ষেত্রে কোনো গৃহ পরিচারক;] এবং
(ত) এমন কোন প্রতিষ্ঠান যাহা উহার মালিক কর্তৃক পরিবারের সদস্যগণের সাহায্যে পরিচালিত হয় এবং যাহাতে মজুরীর বিনিময়ে কোন শ্রমিক নিযুক্ত থাকেন না।
২। বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে-
(১) "অবসর" অর্থ এই আইনের ২৮ ধারা অনুযায়ী কোন শ্রমিকের নির্দিষ্ট বয়সে উপনীত হওয়ার কারণে স্বাভাবিকভাবে চাকুরীর অবসান। তবে কোন প্রতিষ্ঠানে ২৫ বছর চাকুরী পূর্ণ হওয়ার প্রেক্ষিতে শ্রমিকের স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণকেও অবসর বলিয়া গণ্য হইবে;
(১-ক) "আংশিক অক্ষমতা" অর্থ, যে ক্ষেত্রে অক্ষমতা অস্থায়ী প্রকৃতির, এমন অক্ষমতা যাহা যে দুর্ঘটনার কারণে তাহার অক্ষমতা সৃষ্টি হইয়াছে তাহা ঘটিবার সময় তিনি যে কাজে নিয়োজিত ছিলেন তৎসম্পর্কে তাহার উপার্জন ৰমতা কমাইয়া দেয় এবং যে ক্ষেত্রে অক্ষমতা স্থায়ী প্রকৃতির, এমন অক্ষমতা যাহা উক্ত সময়ে তিনি যে যে কাজ করিতে পারিতেন তাহার প্রত্যেকটি সম্পর্কে তাহার উপার্জন ক্ষমতা কমাইয়া দেয়ঃ-
তবে শর্ত থাকে যে, প্রথম তফসিলে উলিস্নখিত প্রত্যেক জখম স্থায়ী আংশিক অক্ষমতা সৃৃষ্টি করে বলিয়া গণ্য হইবে;
(২) "উৎপাদন প্রক্রিয়া" অর্থ নিম্নোক্ত যে কোন প্রক্রিয়া, যথাঃ-
(ক) কোন বস্তু বা পদার্থের ব্যবহার, বিক্রয়, পরিবহন, বিতরণ, প্রদর্শন বা হস্তান্তরের উদ্দেশ্যে উহা প্রস্তুত, পরিবর্তন, মেরামত, অলংকরণ, রংকরণ, ধৌতকরণ, সম্পূর্ণ বা নিখুঁতকরণ, গাঁট বা মোড়কবন্দীকরণ অথবা অন্য কোনভাবে নির্মাণ প্রক্রিয়ায় আরোপকরণ,
(খ) তৈল, গ্যাস, পানি, নর্দমার ময়লা অথবা অন্য কোন তরল আবর্জনা পাম্প করার প্রক্রিয়া,
(গ) শক্তি বা গ্যাস উৎপাদন, হ্রাস-বৃদ্ধিকরণ বা প্রেরণ প্রক্রিয়া,
(ঘ) জাহাজ বা নৌ-যান নির্মাণ, পুনঃনির্মাণ, মেরামত, সম্পূর্ণ বা নিখুঁতকরণ বা ভাঙ্গনের প্রক্রিয়া,
(ঙ) লেটারপ্রেস, লিথোগ্রাফি, ফটোগ্রেভোর, কম্পিউটার, ফটো কম্পোজ, অফসেট অথবা অনুরূপ কোন প্রক্রিয়া দ্বারা ছাপার কাজ অথবা বই-বাঁধাই এর প্রক্রিয়া যাহা ব্যবসা হিসাবে অথবা মুনাফার জন্য অথবা অন্য কোন ব্যবসার আনুষঙ্গিক বিষয় হিসাবে পরিচালিত হয়;
10[ (২ক) ‘‘উৎসব ভাতা’’ অর্থ কোনো কারখানা বা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রমিকদেরকে তাহাদের স্ব স্ব ধর্মীয় উৎসবের প্রাক্কালে প্রদেয় বিধি দ্বারা নির্ধারিত উৎসব ভাতা;]
(৩) কোন ট্রেড ইউনিয়ন সম্পর্কে "কর্মকর্তা" অর্থ উহার নির্বাহী কমিটির কোন সদস্য, কিন্তু কোন নিরীক্ষক বা আইন উপদেষ্টা ইহার অর্ন্তভুক্ত হইবেন না;
(৪) "কর্ম-ঘন্টা" অর্থ আহার এবং বিশ্রামের জন্য বিরতি ব্যতীত যে সময়ে কোন শ্রমিক কাজ করার জন্য মালিকের এখতিয়ারাধীন থাকেন;
(৫) "কর্মরত সাংবাদিক" অর্থ কোন ব্যক্তি যিনি একজন সার্বক্ষণিক সাংবাদিক এবং যিনি কোন সংবাদপত্র প্রতিষ্ঠানে বা তৎসংক্রান্ত কাজে উক্তরূপে নিয়োজিত আছেন, এবং কোন সম্পাদক, সম্পাদকীয় লেখক, সংবাদ সম্পাদক, উপ-সম্পাদক, ফিচার লেখক, রিপোর্টার, সংবাদদাতা, কপি টেস্টার, কাটুর্নিস্ট, সংবাদ চিত্র গ্রাহক, ক্যালিগ্রাফিষ্ট এবং প্রুফ রীডারও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবেন;
(৬) "কর্মশালা" অর্থ কোন বাড়ীঘর বা আঙ্গিনা যেখানে কোন শিল্প প্রক্রিয়া চলে;
(৭) "কারখানা" অর্থ এমন কোন ঘর-বাড়ী বা আঙ্গিনা যেখানে বৎসরে কোন দিন সাধারণতঃ পাঁচ জন বা ততোধিক শ্রমিক কর্মরত থাকেন এবং উহার যে কোন অংশে কোন উৎপাদন প্রক্রিয়া চালু থাকে, কিন্তু কোন খনি ইহার অর্ন্তভুক্ত হইবে না;
(৮) "কিশোর" অর্থ চৌদ্দ বৎসর বয়স পূর্ণ করিয়াছেন কিন্তু আঠার বৎসর বয়স পূর্ণ করেন নাই এমন কোন ব্যক্তি;
11[ (৮ক) “কৃষি শ্রমিক” অর্থ এইরূপ কোনো ব্যক্তি যিনি দৈনিক, সাপ্তাহিক, মাসিক অথবা বাৎসরিক ভিত্তিতে অথবা নির্দিষ্ট কোনো কাজ সম্পাদনে মজুরির বিনিময়ে কৃষিকর্মে অথবা কৃষিখামারে নিযুক্ত থাকেন;]
12[(৮খ) “কৃষি খামার” অর্থ ফসল, ফল, ফুল উৎপাদন, মৎস্য চাষ এবং পোল্ট্রি, পশু ও প্রাণী পালন হয় এইরূপ কোনো এলাকা যেখানে অন্যূন ০৫ (পাঁচ) জন শ্রমিক মজুরির বিনিময়ে নিয়োজিত থাকে;]
(৯) "খনি" অর্থ কোন খনন যেখানে খনিজ সম্পদ আহরণের জন্য বা অনুসন্ধানের জন্য কার্য-পরিচালনা করা হয়, এবং খনিতে বা উহার সন্নিকটে, ভূ-গর্ভে বা ভূ-পৃষ্ঠে এতদ্সংক্রান্ত সকল কাজ, যন্ত্রপাতি, ট্রাম পথ এবং সাইডিংও ইহার অর্ন্তভুক্ত হইবেঃ
তবে শর্ত থাকে যে, এমন কোন বাড়ী-ঘর বা আঙ্গিনার অংশ ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে না যাহাতে কোন উৎপাদন প্রক্রিয়া চালু আছে, যদি না উক্তরূপ প্রক্রিয়া সংশ্লিষ্ট খনিজ পদার্থের মন্ড বানাইবার জন্য বা উহা ড্রেসিং করিবার জন্য হয়;
13[ (৯ক) ‘‘খোরাকী ভাতা’’ অর্থ মূল মজুরী, মহার্ঘ ভাতা এবং এডহক বা অন্তবর্তী মজুরী, যদি থাকে, এর অর্ধেক;]
14[(৯খ) “গৃহ পরিচারক (Domestic Worker)” অর্থ এমন কোনো ব্যক্তি যিনি নিয়োগকারীর গৃহে মৌখিক বা লিখিতভাবে খন্ডকালীন অথবা পূর্ণকালীন নিয়োগের ভিত্তিতে গৃহকর্ম সম্পাদন করেন, এইক্ষেত্রে মেস বা ডরমিটরিও ‘গৃহ’ হিসাবে বিবেচিত হইবে;]
15[ (১০) ‘‘গ্রাচুইটি’’ অর্থ কোন শ্রমিকের প্রতি পূর্ণ বৎসর চাকুরী অথবা ছয় মাসের অতিরিক্ত সময়ের চাকুরীর জন্য তাহার সর্বশেষ প্রাপ্ত মজুরী হারে ন্যূনতম ৩০ দিনের মজুরী অথবা ১০ বৎসরের অধিককাল চাকুরীর ক্ষেত্রে তাহার সর্বশেষ প্রাপ্ত মজুরী হারে ৪৫ দিনের মজুরী যাহা উক্ত শ্রমিককে তাহার চাকুরীর অবসানে প্রদেয় 16[ ***]]
(১০-ক) "চা-বাগান" অর্থ চা উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত বা ব্যবহারের অভিপ্রেত কোন জমি, এবং চা কারাখানাও উহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(১১) "ছাটাই" অর্থ অপ্রয়োজনীয়তার কারণে মালিক কর্তৃক শ্রমিকের চাকুরীর অবসান;
(১২) "জনকল্যাণমূলক সার্ভিস" অর্থ-
(ক) জনসাধারণের জন্য বিদুৎ, গ্যাস, তৈল বা পানি উৎপন্ন, প্রস্তুত বা সরবরাহকরণ,
(খ) জনসাধারণের জন্য পয়ঃনিষ্কাশন বা স্বাস্থ্য ব্যবস্থা,
(গ) হাসপাতাল এবং এম্বুলেন্স সার্ভিস,
(ঘ) অগ্নি-নির্বাপন সার্ভিস,
(ঙ) ডাক, তার ও টেলিফোন সার্ভিস,
(চ) রেল, বিমান, সড়ক এবং নৌ-পরিবহন,
(ছ) বন্দর,
(জ) কোন প্রতিষ্ঠানের পাহারা-টহলদারী স্টাফ এবং নিরাপত্তা সার্ভিস,
(ঝ) অক্সিজেন এসিটাইলিন, এবং
(ঞ) ব্যাংকিং।
17[(১২ক) “জবরদস্তিমূলক বা বাধ্যতামূলক শ্রম” অর্থ এমন কোনো কাজ বা পরিষেবা, যাহা কোনো ব্যক্তির সম্মতি ছাড়া এবং শাস্তির হুমকি দিয়া বা শোষণমূলক পদ্ধতিতে আদায় করা হয়, তবে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জবরদস্তিমূলক বা বাধ্যতামূলক শ্রম হিসাবে গণ্য হইবে না, যথা:-
(ক) জাতীয় আপৎকালীন বা দুযোর্গকালীন সামরিক বাহিনীর আইনের অধীন বাধ্যতামূলক সামরিক সেবায় অংশগ্রহণ;
(খ) নাগরিক কর্তব্যের অংশ হিসাবে স্বাভাবিক সেবামূলক কাজ;
(গ) আদালতের আদেশে দণ্ডপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তির কাজ, তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত কাজ বা পরিষেবা কোনো সরকারি কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হইতে হইবে এবং উক্ত ব্যক্তিকে কোনো বেসরকারি ব্যক্তি, কোম্পানি বা সমিতির তত্ত্বাবধানে ভাড়ায় নিয়োগ বা নিয়োজিত করা যাইবে না;
(ঘ) জরুরি পরিস্থিতিতে আদায়কৃত যেকোনো কাজ বা পরিষেবা, যেমন- যুদ্ধ, আগুন, বন্যা, দুর্ভিক্ষ, ভূমিকম্প, মহামারি, পশু বা পোকামাকড়ের উপদ্রব অথবা মানুষের জীবন বা নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ কোনো দুর্যোগ;
(ঙ) সমাজের কল্যাণে কৃত গৌণ সেবামূলক কাজ, যাহা উক্ত সমাজের সদস্যগণ বা তাহাদের প্রতিনিধিদের সহিত প্রয়োজনীয়তার নিরিখে পরামর্শক্রমে করা হইবে;
(১২খ) “জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা ও হয়রানি” অর্থ কর্মক্ষেত্রে এমন সহিংসতা ও হয়রানি যাহা জেন্ডার, জেন্ডার পরিচয়, জেন্ডার অভিব্যক্তি, অথবা বৈষম্যমূলক জেন্ডার সংবেদনশীলতার উপর ভিত্তি করিয়া ঘটে, অথবা যাহা একটি নির্দিষ্ট জেন্ডার, জেন্ডার পরিচয় বা জেন্ডার অভিব্যক্তির ব্যক্তিদের উপর ক্ষতিকর বা অসামঞ্জস্যপূর্ণ প্রভাব ফেলে, ইহার মধ্যে যৌন হয়রানিও অন্তর্ভুক্ত হইবে;]
(১৩) "ট্রাইব্যুনাল" অর্থ এই আইনের অধীন স্থাপিত শ্রম আপীল ট্রাইব্যুনাল;
(১৪) "ট্রান্সমিশন যন্ত্রপাতি" অর্থ কোন শেফ্ট, চাকা, ড্রাম, পুলি, পুলির সিসটেম, কুপলিংস, ক্লাচ, ড্রাইভিং বেল্ট অথবা অন্য কোন কলকব্জা বা কৌশল যাহা দ্বারা কোন প্রাইম মুভারের গতি কোন যন্ত্রপাতি বা প্লান্টে প্রেরণ বা গ্রহণ করানো হয়;
18[(১৫) “ট্রেড ইউনিয়ন” অর্থ ত্রয়োদশ অধ্যায়ের অধীন গঠিত ও রেজিস্ট্রিকৃত শ্রমিকগণের বা কর্মকর্তাগণের বা মালিকগণের কোনো ট্রেড ইউনিয়ন বা অ্যাসোসিয়েশন বা সমিতি এবং কোনো ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন ও কনফেডারেশনও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;]
(১৬) "ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন" অর্থ ত্রয়োদশ অধ্যায়ের অধীন রেজিস্ট্রিকৃত কোন ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন;
(১৭) "ডিসচার্জ" অর্থ শারীরিক বা মানসিক অৰমতার কারণে অথবা অব্যাহত ভগ্ন স্বাস্থ্যের কারণে মালিক কতর্ৃক কোন শ্রমিকের চাকুরীর অবসান;
(১৮) "ঢিমে তালের কাজ" অর্থ কোন একদল শ্রমিক কর্তৃক সংঘবদ্ধ, ইচ্ছাকৃত এবং উদ্দেশ্যমূলকভাবে স্বাভাবিক উৎপাদনের গতি শ্লথ করিয়া দেওয়া এবং যাহা কোন যান্ত্রিক ত্রুটি বা কলকব্জা বা যন্ত্রপাতি বিকল বা ভাঙ্গিয়া যাওয়া বা শক্তি সরবরাহের ক্রটি বা ব্যর্থতা বা স্বাভাবিক জিনিসপত্র এবং কলকব্জার খুচরা যন্ত্রাংশ সরবরাহের ব্যর্থতার কারণে না ঘটে;
(১৯) "দিন" অর্থ ভোর ছয় ঘটিকা হইতে শুরু করিয়া কোন চব্বিশ ঘণ্টা সময়;
19[(১৯ক) “দুর্ঘটনা” অর্থ কর্মক্ষেত্রে অথবা কর্মক্ষেত্রের বাহিরে পেশাগত দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় বা মালিকের এখতিয়ারাধীন অবস্থায় আকস্মিকভাবে সংঘটিত কোনো ঘটনা যাহার কারণে শারীরিক জখম বা মানসিক আঘাত বা প্রাণহানি ঘটে;]
(২০) "দেওয়ানী কার্যবিধি" অর্থ দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ (১৯০৮ সনের ৫নং আইন);
(২১) "দোকান" অর্থ কোন বাড়ী-ঘর বা আংগিনা যাহা সম্পূর্ণ বা অংশতঃ কোন মালামাল নগদে বা বাকিতে, খুচরা বা পাইকারীভাবে বিক্রির জন্য ব্যবহৃত হয়, অথবা যেখানে কোন গ্রাহককে কোন সেবা দেওয়া হয়, এবং উক্ত বাড়ী-ঘরের আঙ্গিনায় হউক বা অন্যত্র হউক, উক্ত ব্যবসা-বাণিজ্য সম্পর্কে মূলতঃ ব্যবহৃত হয় এরূপ প্রত্যেক অফিস, ভান্ডার, কক্ষ, গুদাম ঘর বা কর্মস্থল, এবং সরকার কর্তৃক সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের উদ্দেশ্যে ঘোষিত অন্য কোন বাড়ী-ঘর বা আঙ্গিনাও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(২২) "ধর্মঘট" অর্থ কোন প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত একদল শ্রমিক কর্তৃক একত্রে কর্ম বন্ধকরণ বা কাজ করিতে অস্বীকৃতি অথবা উহাতে নিয়োজিত কোন শ্রমিক সমষ্টি কর্তৃক ঐকমত্যের ভিত্তিতে কাজ গ্রহণ করিতে বা কাজ চালাইয়া যাইতে অস্বীকৃতি;
20[(২৩) “নাবিক (Seafarers)” অর্থ মাস্টার এবং শিক্ষানবিশসহ জাহাজের কার্যে জাহাজের যে-কোনো পদে নিযুক্ত কোনো ব্যক্তি;]
(২৪) কোন ট্রেড ইউনিয়ন সম্পর্কে, "নির্বাহী কমিটি" অর্থ এমন কোন একদল লোক, উহা যে নামেই অভিহিত হউক না কেন, যাহার উপর ইউনিয়নের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী উহার ব্যবস্থাপনার ভার ন্যসত্দ আছে;
(২৫) "নিষ্পত্তি" অর্থ কোন সালিসী কার্য ধারায় উপনীত নিষ্পত্তি এবং সালিসী কার্যধারা ছাড়াও মালিক এবং শ্রমিকের মধ্যে সম্পাদিত এমন কোন চুক্তিও ইহার অর্ন্তভুক্ত হইবে যাহা লিখিত হয় এবং উভয় পক্ষের স্বাক্ষরযুক্ত হয় এবং যাহার কপি শ্রম পরিচালক এবং সালিসের নিকট প্রেরণ করা হয়;
(২৬) "নৌ-পরিবহন সার্ভিস" অর্থ নৌপথে নৌযানে ভাড়ায় বা অর্থের বিনিময়ে যাত্রী বা মালামাল পরিবহন সার্ভিস;
(২৭) "নৌযান" অর্থ কোন যন্ত্রচালিত নৌযান যাহা নৌ-পরিবহনের জন্য ব্যবহার করা হয় বা ব্যবহারযোগ্য, এবং কোন টাগ বা ফ্লাট এবং বার্জও ইহার অর্ন্তভুক্ত হইবে;
(২৮) "প্রশাসনিক শ্রমিক" অর্থ এমন কোন ব্যক্তি যিনি সার্বৰণিক ভিত্তিতে, কর্মরত সাংবাদিক বা সংবাদপত্র ছাপাখানা শ্রমিক ব্যতীত, কোন সংবাদপত্র প্রতিষ্ঠানে বা তৎসংক্রান্ত কোন কাজে যে কোন পদে নিয়োজিত আছেন;
(২৯) "পালা" অর্থ যে ক্ষেত্রে একই প্রকারের কাজ দিনের বিভিন্ন সময়ে দুই বা ততোধিক শ্রমিকদল দ্বারা সম্পাদিত হয় সে ক্ষেত্রে উক্তরূপ প্রত্যেক সময়;
(৩০) কোন মৃত ব্যক্তি সম্পর্কে, "পোষ্য" অর্থ নিম্নলিখিত যে কোন আত্মীয়, যথাঃ-
21[(ক) মৃতের স্ত্রী বা স্বামী, নাবালক সন্তান, অবিবাহিত কন্যা, বিধবা মাতা, এবং
(খ) সংশ্লিষ্ট শ্রমিকের মৃত্যুর সময় তাহার আয়ের উপর সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে নির্ভরশীল হইবার ক্ষেত্রে- মাতা, পিতা, বিধবা কন্যা, নাবালক ভ্রাতা, অবিবাহিত বা বিধবা ভগ্নি, বিধবা পুত্রবধূ, মৃত পুত্রের নাবালক সন্তান, মৃত মেয়ের নাবালক সন্তান যদি তাহার পিতা জীবিত না থাকেন, অথবা মৃত শ্রমিকের পিতা জীবিত না থাকিলে তাহার দাদা ও দাদী;]
(৩১) "প্রতিষ্ঠান" অর্থ কোন দোকান, বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান 22[ পরিবহন,], শিল্প প্রতিষ্ঠান অথবা বাড়ী-ঘর বা আঙ্গিনা যেখানে কোন শিল্প পরিচালনার জন্য শ্রমিক নিয়োগ করা হয়;
(৩২) "প্রতিষ্ঠানপুঞ্জ" অর্থ একই অথবা বিভিন্ন মালিকের অধীন কোন নির্দিষ্ট এলাকায় এমন একাধিক প্রতিষ্ঠান যেগুলিতে একই প্রকারের বা ধরনের শিল্প পরিচালিত হয়;
(৩৩) "প্রবিধান" অর্থ আইনের অধীন প্রণীত কোন প্রবিধান;
23[(৩৪) “প্রসূতি কল্যাণ” অর্থ চতুর্থ অধ্যায়ের অধীন কোনো নারী শ্রমিককে তাহার প্রসূতি হইবার কারণে প্রদেয় মজুরিসহ ছুটি ও বিধি দ্বারা নির্ধারিত অন্যান্য সুবিধা;]
(৩৫) "প্রাইমমুভার" অর্থ কোন ইঞ্জিন, মোটর বা অন্যকোন যন্ত্রপাতি যাহা শক্তি উৎপন্ন করে বা শক্তি যোগায়;
24[ (৩৫ক) ‘প্রাথমিক চিকিৎসায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত’ অর্থ এমন কোনো ব্যক্তি যাহার প্রাথমিক চিকিৎসা বিষয়ে রেজিস্টার্ড চিকিৎসক কর্তৃক প্রদত্ত অভিজ্ঞতার প্রত্যয়ন পত্র রহিয়াছে;]
(৩৬) "প্রাপ্ত বয়স্ক" অর্থ আঠার বৎসর বয়স পূর্ণ করিয়াছেন এমন কোন ব্যক্তি;
(৩৭) "ফৌজদারী কার্যবিধি" অর্থ ফৌজদারী কার্যবিধি, ১৮৯৮ (১৮৯৮ সনের ৫নং আইন);
(৩৮) "বন্ধ" অর্থ গ্রাহকের সেবা দেওয়ার জন্য বা কোন ব্যবসা পরিচালনা করিবার জন্য খোলা নাই;
(৩৯) "বরখাস্ত" অর্থ অসদাচরণের কারণে মালিক কর্তৃক কোন শ্রমিকের চাকুরীর অবসান;
25[(৩৯ক) “বন্দর কর্তৃপক্ষ” অর্থ চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ, পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং সরকার কর্তৃক, সময় সময়, ঘোষিত অন্য কোনো বন্দর কর্তৃপক্ষ;]
26[(৪০) “বাগান” অর্থ বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে রাবার, কফি, চা ইত্যাদি উৎপাদন অথবা সংরক্ষণ করা হয় এইরূপ কোনো এলাকা যেখানে অন্যূন ০৫ (পাঁচ) জন শ্রমিক নিয়োজিত থাকে;]
(৪১) "বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান" অর্থ এমন কোন প্রতিষ্ঠান যাহাতে বিজ্ঞাপন, কমিশন বা ফরওয়ার্ডিং এর ব্যবসা পরিচালনা করা হয় বা যাহা একটি বাণিজ্যিক এজেন্সী, এবং নিম্নলিখিত প্রতিষ্ঠানও ইহার অর্ন্তভুক্ত হইবে, যথাঃ-
(ক) কোন কারখানা বা শিল্প বা বাণিজ্য প্রতিষ্ঠানের করণিক বিভাগ,
(খ) এমন কোন ব্যক্তির অফিস-প্রতিষ্ঠান যিনি কোন শিল্প বা বাণিজ্য প্রতিষ্ঠানের সহিত সম্পাদিত চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য শ্রমিক নিযুক্ত করেন,
(গ) কোন যৌথ কোম্পানীর কোন ইউনিট,
(ঘ) কোন বীমা কোম্পানী, ব্যাংকিং কোম্পানী বা ব্যাংক,
(ঙ) কোন দালালের অফিস,
(চ) কোন স্টক এঙ্চেঞ্জ,
(ছ) কোন ক্লাব, হোটেল, রেস্তোরা বা খাবারের ঘর,
(জ) কোন সিনেমা বা থিয়েটার,
(ঝ) সরকার কর্তৃক, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের উদ্দেশ্যে বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান বলিয়া ঘোষিত অন্য কোন প্রতিষ্ঠান;
27[(৪১ক) “বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি কর্তৃপক্ষ অর্থ ধারা ৩৪৮গ-এর অধীন প্রতিষ্ঠিত কর্তৃপক্ষ;]
(৪২) "বিধি" অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত কোন বিধি;
28[ (৪২ক) ‘‘বিশেষজ্ঞ’’ অর্থ এমন কোন ব্যক্তি যিনি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মালিক কিংবা শ্রমিক নহেন, তবে সংশ্লিষ্ট সেক্টরের মালিক অথবা ট্রেড ইউনিয়ন নেতা কিংবা যাহার শ্রম, শিল্প ও কর্মস্থলে নিরাপত্তা সম্পর্কিত বিষয়ে বিশেষ জ্ঞান বা অভিজ্ঞতা রহিয়াছে;]
(৪৩) "বে-আইনী ধর্মঘট" অর্থ চতুর্দশ অধ্যায়ের 29[ বিধান লংঘন করিয়া] ঘোষিত, শুরুকৃত বা জারীকৃত কোন ধর্মঘট;
(৪৪) "বে-আইনী লক-আউট" অর্থ চতুর্দশ অধ্যায়ের 30[ বিধান লংঘন করিয়া] ঘোষিত, শুরুকৃত বা জারীকৃত কোন লক-আউট;
(৪৫) "মজুরী" অর্থ টাকায় প্রকাশ করা হয় বা যায় এমন সকল পারিশ্রমিক যাহা চাকুরীর শর্তাবলী, প্রকাশ্য বা উহ্য যেভাবেই থাকুক না কেন পালন করা হইলে কোন শ্রমিককে তাহার চাকুরীর জন্য বা কাজ করার জন্য প্রদেয় হয়, এবং উক্তরূপ প্রকৃতির অন্য কোন অতিরিক্ত প্রদেয় পারিশ্রমিকও ইহার অর্ন্তভুক্ত হইবে, তবে নিম্নলিখিত অর্থ ইহার অর্ন্তভুক্ত হইবে না, যথাঃ-
(ক) বাসস্থান সংস্থান, আলো, পানি, চিকিৎসা সুবিধা বা অন্য কোন সুবিধা প্রদানের মূল্য অথবা সরকার কর্তৃক সাধারণ বা বিশেষ আদেশ দ্বারা বাদ দেওয়া হইয়াছে এইরূপ কোন সেবার মূল্য,
(খ) অবসর ভাতা তহবিল বা ভবিষ্য তহবিলে মালিক কর্তৃক প্রদত্ত কোন চাঁদা,
(গ) কোন ভ্রমণ ভাতা অথবা কোন ভ্রমণ রেয়াতের মূল্য,
(ঘ) কাজের প্রকৃতির কারণে কোন বিশেষ খরচ বহন করিবার জন্য কোন শ্রমিককে প্রদত্ত অর্থ;
(৪৬) "মধ্যস্থতাকারী" অর্থ চতুর্দশ অধ্যায়ের অধীন নিযুক্ত কোন মধ্যস্থতাকারী;
31[ (৪৭) ‘‘মহাপরিদর্শক’’, ‘‘অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক’’, ‘‘যুগ্ম মহাপরিদর্শক’’, ‘‘উপ-মহাপরিদর্শক’’, ‘‘সহকারী মহাপরিদর্শক’’ এবং ‘‘শ্রম পরিদর্শক’’ অর্থ বিংশ অধ্যায়ের অধীন উক্ত পদে নিযুক্ত কোনো ব্যক্তি;]
32[ (৪৮) ‘‘মহাপরিচালক’’, ‘‘অতিরিক্ত মহাপরিচালক’’, ‘‘পরিচালক’’, ‘‘উপ-পরিচালক’’, ‘‘সহকারী পরিচালক’’ এবং ‘‘শ্রম কর্মকর্তা’’ অর্থ বিংশ অধ্যায়ের অধীন উক্ত পদে নিযুক্ত কোনো ব্যক্তি;]
(৪৯) কোন প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে, "মালিক" অর্থ এমন কোন ব্যক্তি যিনি প্রতিষ্ঠানে শ্রমিক নিয়োগ করেন, এবং নিম্নলিখিত ব্যক্তিগণও ইহার অর্ন্তভুক্ত হইবেন, যথাঃ-
(ক) উক্ত ব্যক্তির কোন উত্তরাধিকারী, অভিভাবক, হস্তান্তরমূলে উত্তরাধিকারী বা আইনগত প্রতিনিধি,
33[(খ) উক্ত প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনামূলক বা প্রধান নির্বাহী বা ব্যবস্থাপক বা প্রশাসনিক বা তদারকির জন্য লিখিতভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি;]
(গ) সরকার কর্তৃক বা সরকারের কর্তৃত্বাধীন পরিচালিত কোন প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে, এতদ্উদ্দেশ্য নিয়োজিত কোন কর্তৃপক্ষ, অথবা এরূপ কোন কর্তৃপক্ষ না থাকিলে, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের প্রধান,
(ঘ) কোন স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বা উহার পক্ষে পরিচালিত কোন প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে, এতদ্উদ্দেশ্যে নিযুক্ত কোন কর্মকর্তা অথবা এরূপ কোন কর্মকর্তা না থাকিলে, উহার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা,
(ঙ) অন্য কোন প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে, উহার মালিক এবং উহার প্রত্যেক পরিচালক, ব্যবস্থাপক, সচিব, প্রতিনিধি অথবা উহার কাজ-কর্মের ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত কোন কর্মকর্তা বা ব্যক্তি,
(চ) মালিক ব্যতীত অন্য কোন ব্যক্তির দখলে আছে এরূপ কোন প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে, উক্ত প্রতিষ্ঠান দখলকারী ব্যক্তি অথবা উহার নিয়ন্ত্রণকারী চূড়ান্ত ব্যক্তি অথবা ব্যবস্থাপক অথবা উক্ত কাজ-কর্মের ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত কোন উপযুক্ত কর্মকর্ত;
34[(৪৯ক) “মাস” অর্থ খ্রিষ্টীয় বর্ষপঞ্জির মাস;]
(৫০) "যন্ত্রপাতি" বলিতে প্রাইম মুভার, ট্রান্সমিশন যন্ত্রপাতি এবং এমন অন্য কোন যন্ত্রপাতি বা কলকব্জাকেও বুঝাইবে যাহার দ্বারা শক্তির উৎপাদন, হ্রাস-বৃদ্ধি বা প্রেরণ করা হয় অথবা প্রয়োগ করা হয়;
(৫১) "যান বাহন" অর্থ যান্ত্রিক শক্তি চালিত যানবাহন যাহা স্থল, নৌ ও আকাশ পথে যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত হয় বা ব্যবহারের যোগ্য, এবং কোন ট্রলিযান ও আনুগমিক যানও ইহার অর্ন্তভুক্ত হইবে;
35[(৫২) ‘‘যৌথ দর কষাকষি প্রতিনিধি (CBA)” অর্থ কোনো প্রতিষ্ঠানে বা প্রতিষ্ঠানপুঞ্জের এমন কোনো ট্রেড ইউনিয়ন বা ফেডারেশন বা কনফেডারেশন যাহা ত্রয়োদশ অধ্যায়ের অধীন উক্ত প্রতিষ্ঠানে, প্রতিষ্ঠানপুঞ্জে, বা খাতভিত্তিক, জাতীয় বা অন্যান্য স্তরে যৌথ দর-কষাকষির ব্যাপারে শ্রমিকগণের প্রতিনিধি;]
36[(৫২ক) “যৌন হয়রানি” অর্থ-
(ক) নিম্নলিখিত কোনো আচরণ; যথা:-
(১) অনাকাঙ্ক্ষিত যৌন আবেদনমূলক আচরণ (সরাসরি কিংবা ইঙ্গিতে) যেমন: শারীরিক স্পর্শ বা এ ধরনের প্রচেষ্টা;
(২) প্রাতিষ্ঠানিক এবং পেশাগত ক্ষমতা ব্যবহার করিয়া কাহারো সহিত যৌন সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করা;
(৩) যৌন-নিপীড়নমূলক উক্তি;
(৪) যৌন সুযোগ লাভের জন্য অবৈধ আবেদন;
(৫) পর্ণোগ্রাফি দেখানো;
(৬) যৌন আবেদনমূলক মন্তব্য বা ভঙ্গি;
(৭) অশালীন ভঙ্গি, অশালীন ভাষা বা মন্তব্যের মাধ্যমে উত্ত্যক্ত করা বা অশালীন উদ্দেশ্য পূরণে কোনো ব্যক্তির অলক্ষ্যে তাহার নিকটবর্তী হওয়া বা অনুসরণ করা, যৌন ইঙ্গিতমূলক ভাষা ব্যবহার করিয়া ঠাট্টা বা উপহাস করা;
(৮) চিঠি, টেলিফোন, মোবাইল, এসএমএস, ছবি, কার্টুন, বেঞ্চ, চেয়ার-টেবিল, নোটিশ বোর্ড, অফিস, ফ্যাক্টরির দেওয়ালে যৌন ইঙ্গিতমূলক অপমানজনক কোনো কিছু লেখা বা আঁকা;
(৯) ব্লাকমেইল অথবা চরিত্র হননের উদ্দেশ্যে স্থির বা ভিডিও চিত্র ধারণ করা;
(১০) যৌন ইঙ্গিত বা হয়রানি প্রত্যাখ্যানের কারণে কোনো ব্যক্তিকে প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রশিক্ষণমূলক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ হইতে জোরপূর্বক বিরত রাখা;
(১১) প্রেম নিবেদন করিয়া প্রত্যাখাত হইয়া হুমকি দেওয়া বা চাপ প্রয়োগ করা;
(১২) ভয় দেখাইয়া বা মিথ্যা আশ্বাস দিয়া বা প্রতারণার মাধ্যমে যৌন সম্পর্ক স্থাপন বা স্থাপনে চেষ্টা করা;
(১৩) ‘কুইড প্রো কো হয়রানি’, অর্থাৎ যৌন প্রকৃতির যেকোনো শারীরিক, মৌখিক বা অমৌখিক আচরণ এবং জেন্ডার-ভিত্তিক অন্যান্য আচরণ যাহা নারী ও পুরুষের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করিয়া এবং যাহা গ্রহণকারীর কাছে অনাকাঙ্ক্ষিত, অযৌক্তিক ও আপত্তিকর, এবং এই ধরনের আচরণ প্রত্যাখ্যান বা মানিয়া নেওয়াকে কোনো ব্যক্তির চাকুরির সিদ্ধান্ত প্রভাবিত করিবার ভিত্তি হিসাবে স্পষ্টভাবে বা পরোক্ষভাবে ব্যবহার করা;
(খ) যৌন প্রকৃতির শারীরিক, মৌখিক এবং অমৌখিক আচরণ এবং জেন্ডার, জেন্ডার পরিচয়, জেন্ডার অভিব্যক্তি অথবা বৈষম্যমূলক জেন্ডার সংবেদনশীলতার উপর ভিত্তি করিয়া পরিচালিত আচরণ যাহা নারী ও পুরুষ কর্মীদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করিয়া এবং একটি ভীতিপ্রদ, প্রতিকূল, অপমানজনক, আপত্তিকর ও অবমাননাকর কাজের পরিবেশ তৈরি করে;]
(৫৩) "রিলে" অর্থ যে ক্ষেত্রে একই প্রকারের কাজ দিনের বিভিন্ন সময়ে দুই বা ততোধিক শ্রমিক দল দ্বারা সম্পাদিত হয় সে ক্ষেত্রে, উক্তরূপ প্রত্যেক দল;
(৫৪) "রেজিস্টার্ড চিকিৎসক" অর্থ চিকিৎসক হিসাবে মেডিক্যাল এবং ডেন্টাল কাউন্সিল আইন, ১৯৮০ (১৯৮০ সনের ১৬নং আইন) এর অধীন রেজিস্ট্রিকৃত কোন ব্যক্তি;
(৫৫) "রেজিস্টার্ড ট্রেড ইউনিয়ন" অর্থ ত্রয়োদশ অধ্যায়ের অধীন রেজিস্ট্রিকৃত কোন ট্রেড ইউনিয়ন;
(৫৬) "রোয়েদাদ" অর্থ কোন মধ্যস্থতাকারী, শ্রম আদালত বা ট্রাইবু্যনাল কর্তৃক কোন শিল্প বিরোধ বা তৎসংক্রান্ত কোন বিষয়ের নিষ্পত্তি, এবং কোন অর্ন্তবর্তী রোয়েদাদও ইহার অর্ন্তভুক্ত হইবে;
(৫৭) "লক-আউট" অর্থ কোন মালিক কর্তৃক কোন কর্মস্থান অথবা উহার কোন অংশ বন্ধ করিয়া দেওয়া অথবা উহাতে সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কাজ স্থগিত রাখা অথবা কোন মালিক কর্তৃক চূড়ান্তভাবে বা শর্তসাপেক্ষে তাহার যে কোন সংখ্যক শ্রমিককে 37[ কাজ করিতে দিতে অস্বীকৃতি], যদি উক্তরূপ বন্ধকরণ, স্থগিতকরণ বা অস্বীকৃতি কোন শিল্প বিরোধ সম্পর্কে হয় বা ঘটে অথবা উহা শ্রমিকগণকে চাকুরীর কতিপয় শর্ত মানিতে বাধ্য করার উদ্দেশ্যে করা হয়;
(৫৮) "লে-অফ" অর্থ কয়লা, শক্তি বা কাঁচা মালের স্বল্পতা, অথবা মাল জমিয়া থাকা অথবা যন্ত্রপাতি বা কল-কব্জা বিকল বা ভাঙ্গিয়া যাওয়ার কারণে কোন শ্রমিককে কাজ দিতে মালিকের ব্যর্থতা, অস্বীকৃতি বা অক্ষমতা;
(৫৯) "শক্তি" অর্থ বৈদু্যতিক শক্তি এবং এমন অন্য কোন শক্তি যাহা যান্ত্রিকভাবে প্রেরণ করা হয় এবং যাহা মানব বা জন্তুর মাধ্যমে উৎপন্ন হয় না;
(৬০) "শিল্প" অর্থ যে কোন ব্যবসা, বাণিজ্য, উৎপাদন, বৃত্তি, পেশা, চাকুরী বা নিয়োগ;
(৬১) "শিল্প প্রতিষ্ঠান" অর্থ কোন কর্মশালা, উৎপাদন প্রক্রিয়া অথবা অন্য কোন প্রতিষ্ঠান যেখানে কোন বস্তু প্রস্তুত হয়, অভিযোজিত হয়, প্রক্রিয়াজাত করা হয় অথবা উৎপন্ন হয়, অথবা যেখানে ব্যবহার, পরিবহন, বিক্রয়, চালান অথবা হস্তান্তর করার লক্ষ্যে যে কোন বস্তু বা পদার্থের তৈরী, পরিবর্তন, মেরামত, অলংকরণ, সম্পূর্ণর্ বা নিখুঁতকরণ অথবা গাঁট বা মোড়কবন্দীকরণ অথবা অন্য কোনভাবে নির্মাণ প্রক্রিয়ায় আরোপ করার কোন কাজ পরিচালিত হয়, অথবা এমন অন্য কোন প্রতিষ্ঠান যাহা সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের উদ্দেশ্যে, শিল্প প্রতিষ্ঠান বলিয়া ঘোষণা করে, এবং নিম্নলিখিত প্রতিষ্ঠানগুলিও ইহার অর্ন্তভুক্ত হইবে, যথাঃ-
(ক) সড়ক পরিবহন, রেল পরিবহন সার্ভিস,
(খ) নৌ-পরিবহন সার্ভিস,
(গ) বিমান পরিবহন,
(ঘ) ডক, জাহাজ ঘাট বা জেটি,
(ঙ) খনি, পাথর খাদ, গ্যাস ক্ষেত্র বা তৈল ক্ষেত্র,
(চ) বাগান,
(ছ) কারখানা,
(জ) সংবাদপত্র প্রতিষ্ঠান,
(ঝ) কোন বাড়ী-ঘর, রাস্তা, সুড়ঙ্গ, নর্দমা, নালা বা সেতু, জাহাজ নির্মাণ, জাহাজ ভাঙ্গা, পুনঃ নির্মাণ, মেরামত, পরিবর্তন বা ভাঙ্গিয়া ফেলার অথবা জাহাজে মাল উঠানো-নামানো বা লইয়া যাওয়া সংক্রানত্দ কাজ বা ব্যবস্থা করার জন্য স্থাপিত কোন ঠিকাদার বা উপ-ঠিকাদারের প্রতিষ্ঠান 38[ ,
(ঞ) জাহাজ নির্মাণ,
(ট) জাহাজ পুন: প্রক্রিয়াজাতকরণ (রিসাইক্লিং),
39[(টট) জাহাজ ভাঙা (Ship breaking);]
(ঠ) ওয়েল্ডিং,
(ড) নিরাপত্তা কর্মী সরবরাহ করিবার জন্য আউটসোর্সিং কোম্পানী অথবা কোন ঠিকাদার বা উপ-ঠিকাদারের প্রতিষ্ঠান,
(ঢ) বন্দর; বন্দর বলিতে সকল সমুদ্র বন্দর, নৌ বন্দর ও স্থল বন্দর বুঝাইবে,
(ণ) মোবাইল অপারেটর কোম্পানী, মোবাইল নেটওয়ার্ক সেবা প্রদানকারী কোম্পানী ও ল্যান্ড ফোন অপারেটর কোম্পানী,
(ত) বেসরকারি রেডিও, টিভি চ্যানেল ও কেবল অপারেটর,
(থ) রিয়েল এস্টেট কোম্পানী, কুরিয়ার সার্ভিস ও বীমা কোম্পানী,
(দ) সার ও সিমেন্ট প্রস্ত্ততকারী কোম্পানী,
(ধ) মুনাফা বা লাভের জন্য পরিচালিত ক্লিনিক বা হাসপাতাল;
(ন) ধানকল বা চাতাল;
(প) করাতকল;
(ফ) মাছ ধরা ট্রলার;
(ব) মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প;
(ভ) 40[ সমুদ্রগামী] জাহাজ।]
(৬২) "শিল্প বিরোধ" অর্থ কোন ব্যক্তির চাকুরীর নিয়োগ সংক্রান্ত বা চাকুরীর শর্তাবলী বা কাজের অবস্থা বা পরিবেশ সংক্রান্ত কোন বিষয়ে মালিক এবং মালিক, মালিক এবং শ্রমিক বা শ্রমিক এবং শ্রমিকের মধ্যে কোন বিরোধ বা মত-পার্থক্য;
(৬৩) "শিশু" অর্থ চৌদ্দ বৎসর বয়স পূর্ণ করেন নাই এমন কোন ব্যক্তি;
(৬৪) "শ্রম আদালত" অর্থ এই আইনের অধীন প্রতিষ্ঠিত শ্রম আদালত;
41[(৬৫) “শ্রমিক” অর্থ শিক্ষাধীনসহ কোনো ব্যক্তি, তাহার চাকুরির শর্তাবলি প্রকাশ্য বা উহ্য যেভাবেই থাকুক না কেন, যিনি কোনো প্রতিষ্ঠানে বা শিল্পে সরাসরিভাবে বা কোনো ঠিকাদার, যে নামেই অভিহিত হউক না কেন, ইহার মাধ্যমে মজুরি বা অর্থের বিনিময়ে কোনো দক্ষ, অদক্ষ, কায়িক, কারিগরি, ব্যবসা উন্নয়নমূলক অথবা করণিক কাজে নিযুক্ত কর্মচারী বা কর্মকর্তা হিসাবে যে নামেই অভিহিত হউক না কেন, তবে ২(৪৯)(খ) নিযুক্ত ব্যক্তি ব্যতীত সকল ব্যক্তি ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;]
(৬৬) "সপ্তাহ" অর্থ সাত দিনের মেয়াদ যাহা কোন শুক্রবার সকাল ছয় ঘটিকা হইতে অথবা কোন এলাকার কোন প্রতিষ্ঠানের জন্য সরকার কর্তৃক স্থিরীকৃত অন্য কোন দিন হইতে শুরম্ন হয়;
(৬৭) "সম্পূর্ণ অক্ষমতা" অর্থ এমন অক্ষমতা, স্থায়ী প্রকৃতির হউক বা অস্থায়ী প্রকৃতির হউক, যাহা কোন শ্রমিককে, যে দুর্ঘটনার কারণে তাহার জখম হইয়াছে উহা ঘটিবার সময় তিনি যে যে কাজ করিতে সৰম ছিলেন উক্ত সকল কাজ হইতে তাহাকে অক্ষম করিয়া দেয় অথবা কর্মকালীন সময়ে ব্যবহৃত রাসায়নিক দ্রব্যাদির প্রতিক্রিয়া অথবা কাজের সাথে সম্পৃক্ত কোন দূষণের ফলে স্বাস্থ্যহানির কারণে উক্ত শ্রমিক স্থায়ী বা অস্থায়ী প্রকৃতির কর্মক্ষমতা হারায়ঃ
তবে শর্ত থাকে যে, উভয় চোখের স্থায়ী সম্পূর্ণ দৃষ্টিশক্তি লোপ পাইলে স্থায়ী সম্পূর্ণ অক্ষমতা ঘটিয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে অথবা প্রথম তফসিলে বর্ণিত কোন জখমসমূহের এইরূপ সংযোজন হইতেও স্থায়ী সম্পূর্ণ অক্ষমতা ঘটিয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে যেখানে উক্ত তফসিলে নির্ধারিত উক্ত জখমসমূহের জন্য উপার্জন ক্ষমতা লোপের মোট গড় হার শতকারা একশত ভাগ হয়;
(৬৮) "সড়ক পরিবহন সার্ভিস" অর্থ সড়ক পথে ভাড়ায় বা অর্থের বিনিময়ে গাড়ীতে যাত্রী বা মালামাল পরিবহন সার্ভিস;
(৬৯) "সংবাদপত্র" অর্থ কোন মুদ্রিত পর্যায়ক্রমিক প্রকাশনা যাহাতে সাধারণ সংবাদ বা উক্ত সংবাদের উপর মনত্দব্য থাকে এবং সরকার কর্তৃক, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, সংবাদপত্র বলিয়া ঘোষিত অন্য কোন মুদ্রিত পর্যায়ক্রমিক প্রকাশনাও ইহার অনত্দভর্ুক্ত হইবে;
(৭০) "সংবাদপত্র ছাপাখানা শ্রমিক" অর্থ কোন সংবাদপত্র প্রতিষ্ঠানে কোন ছাপার কাজ করার জন্য সার্বক্ষণিকভাবে নিয়োজিত কোন ব্যক্তি;
(৭১) "সংবাদপত্র প্রতিষ্ঠান" অর্থ সংবাদপত্র ছাপাইবার, উৎপাদন করিবার বা প্রকাশ করিবার কোন প্রতিষ্ঠান অথবা কোন সংবাদ এজেন্সী বা ফিচার সিন্ডিকেট পরিচালনারত কোন প্রতিষ্ঠান;
(৭২) "সংবাদপত্র শ্রমিক" অর্থ কোন কর্মরত সাংবাদিক, প্রশাসনিক শ্রমিক অথবা সংবাদপত্র ছাপাখানা শ্রমিক;
(৭৩) "সালিস" অর্থ চতুর্দশ অধ্যায়ের অধীন নিযুক্ত কোন সালিস;
(৭৪) "সালিসী কার্যধারা" অর্থ কোন সালিসের সম্মুখে সালিস সংক্রান্ত কোন কার্যধারা;
(৭৫) "সাংঘাতিক শারীরিক জখম" অর্থ এমন কোন জখম যাহাতে কোন ব্যক্তির কোন অঙ্গের ব্যবহার স্থায়ীভাবে নষ্ট হয় বা হওয়ার প্রকট সম্ভাবনা থাকে অথবা কোন অঙ্গের স্থায়ী জখম হয় বা হওয়ার প্রকট সম্ভাবনা থাকে, অথবা দৃষ্টিশক্তি বা শ্রবণশক্তি স্থায়ীভাবে নষ্ট বা জখম হয় বা হওয়ার প্রকট সম্ভাবনা থাকে বা কোন অঙ্গ স্থায়ীভাবে ভাঙচুর হয় বা হওয়ার প্রকট সম্ভাবনা থাকে অথবা জখম প্রাপ্ত ব্যক্তিকে কাজ হইতে বিশ দিনের অধিক সময় অনুপস্থিত থাকিতে বাধ্য করে বা করার প্রকট সম্ভাবনা থাকে;
(৭৬) কোন শ্রম আদালত সম্পর্কে "সিদ্ধান্ত" অর্থ, রোয়েদাদ ব্যতীত, শ্রম আদালতের এমন কোন সিদ্ধান্ত বা আদেশ যাহাতে কোন মামলা চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হয়;
(৭৭) "স্কীম" অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত কোন স্কীম।
42[(৭৮) “ব্ল্যাক লিস্টিং (Black Listing)” অর্থ কোনো প্রতিষ্ঠানের মালিক বা মালিকদের কোনো সংগঠন কর্তৃক গৃহীত এমন কোনো কার্যক্রম যাহা ঐ প্রতিষ্ঠানের বা মালিকদের কোনো সংগঠনের অধীন কোনো প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রমিকের সাময়িক ও বদলি শ্রমিকসহ ছাঁটাই, ডিসচার্জ, বরখাস্ত, অপসারণ, অবসর গ্রহণ বা অন্যকোনো কারণে চাকুরি অবসানের পর নূতন করিয়া কারখানা বা প্রতিষ্ঠানে চাকুরি লাভের ক্ষেত্রে অযোগ্য ঘোষণা করিবার উদ্দেশ্যে তালিকা বা ডাটাবেইস তৈরী করা;
(৭৯) “সহিংসতা ও হয়রানি” অর্থ কর্মক্ষেত্রে সকল অগ্রহণযোগ্য আচরণ, চর্চা, রীতি, একক বা দলবদ্ধভাবে উৎপীড়নমূলক কার্যকলাপ বা হুমকি অথবা মৌখিক ও শারীরিক নির্যাতন, যাহা একবার বা একাধিকবার ঘটিতে পারে এবং যার উদ্দেশ্য, ফলাফল বা সম্ভাব্য পরিণাম হলো শারীরিক, মানসিক, যৌন ও অর্থনৈতিক ক্ষতি, ইহার মধ্যে জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা ও হয়রানিও অন্তর্ভুক্ত হইবে।]
দ্বিতীয় অধ্যায়
নিয়োগ ও চাকুরীর শর্তাবলী
৩। (১) প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে শ্রমিকগণের নিয়োগ ও তৎসংক্রান্ত আনুষঙ্গিক অন্যান্য বিষয়াদি এই অধ্যায়ের বিধান অনুযায়ী পরিচালিত হইবেঃ
তবে শর্ত থাকে যে, কোন প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক নিয়োগ সংক্রান্ত নিজস্ব চাকুরী বিধি থাকিতে পারিবে, কিন্তু এই প্রকার কোন বিধি কোন শ্রমিকের জন্য এই অধ্যায়ের কোন বিধান হইতে কম অনুকূল হইতে পারিবে না43[:
আরও শর্ত থাকে যে, এই আইন যে সকল প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয় সে সকল প্রতিষ্ঠান এই আইনে প্রদত্ত কোন সুযোগ সুবিধার চাইতে কম সুযোগ সুবিধা দিয়া কোননীতি, বিধি-বিধান, হাউজ পলিসি করিতে পারিবে না।]
(২) উপ-ধারা (১) এর শর্তাংশে উল্লিখিত চাকুরী বিধি অনুমোদনের জন্য প্রতিষ্ঠানের মালিক কর্তৃক প্রধান পরিদর্শকের নিকট পেশ করিতে হইবে, এবং প্রধান পরিদর্শক উহা প্রাপ্তির 44[45[১২০ (একশত বিশ)] দিনের] মধ্যে তাহার বিবেচনায় যথাযথ আদেশ প্রদান করিবেন।
(৩) প্রধান পরিদর্শকের অনুমোদন ব্যতীত উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত কোন চাকুরী বিধি কার্যকর করা যাইবে না।
46[(৪) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত ১২০ (একশত বিশ) দিনের মধ্যে মহাপরিদর্শক আদেশ প্রদান না করিলে, উক্ত সময় অতিক্রান্ত হইবার ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে অথবা মহাপরিদর্শক কর্তৃক প্রদত্ত আদেশ দ্বারা সংক্ষুব্ধ হইলে, আদেশ প্রাপ্তির ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে কোনো ব্যক্তি, সরকারের নিকট প্রতিকারের জন্য আবেদন বা, ক্ষেত্রমত, আপিল করিতে পারিবেন এবং সরকার উক্ত আবেদন বা, ক্ষেত্রমত, আপিল প্রাপ্তির ৪৫ (পঁয়তাল্লিশ) দিনের মধ্যে উহা নিষ্পত্তি করিবে এবং এতদ্বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলিয়া গণ্য হইবে।]
(৫) উপ-ধারা (২) এর কোন বিধান সরকারের মালিকানাধীন, ব্যবস্থাপনাধীন বা নিয়ন্ত্রণাধীন কোন প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না।
৪। (১) কাজের ধরন ও প্রকৃতির ভিত্তিতে কোন প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত শ্রমিকগণকে নিম্নলিখিত শ্রেণীতে বিভক্ত করা যাইবে, যথাঃ-
(ক) শিক্ষাধীন;
(খ) বদলী;
(গ) সাময়িক;
(ঘ) অস্থায়ী;
48[(ঙ) শিক্ষানবিশ;
(চ) স্থায়ী ; ও
(ছ) মৌসুমী শ্রমিক।]
(২) কোন শ্রমিককে শিক্ষাধীন শ্রমিক বলা হইবে যদি কোন প্রতিষ্ঠানে তাহার নিয়োগ প্রশিক্ষণার্থী হিসাবে হয়; এবং প্রশিক্ষণকালে তাহাকে ভাতা প্রদান করা হয় 49[, এবং এইরূপ শ্রমিকের ক্ষেত্রে আইনের অষ্টাদশ অধ্যায় প্রযোজ্য হইবে।]
(৩) কোন শ্রমিককে বদলী শ্রমিক বলা হইবে যদি কোন প্রতিষ্ঠানে তাহাকে কোন স্থায়ী শ্রমিক বা শিক্ষানবিসের পদে তাহাদের সাময়িক অনুপস্থিতিকালীন সময়ের জন্য নিযুক্ত করা হয়।
50[(৪) কোন শ্রমিককে সাময়িক বলা হইবে যদি কোন প্রতিষ্ঠানে সাময়িক ধরনের কাজে সাময়িকভাবে তাহাকে নিয়োগ করা হয়;]
(৫) কোন শ্রমিককে অস্থায়ী শ্রমিক বলা হইবে যদি কোন প্রতিষ্ঠানে তাহার নিয়োগ এমন কোন কাজের জন্য হয় যাহা একান্তভাবে অস্থায়ী ধরনের এবং যাহা সীমিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
(৬) কোন শ্রমিককে শিক্ষানবিস শ্রমিক বলা হইবে যদি কোন প্রতিষ্ঠানের কোন স্থায়ী পদে তাহাকে আপাততঃ নিয়োগ করা হয় এবং তাহার শিক্ষানবিশীকাল সমাপ্ত না হইয়া থাকে।
(৭) কোন শ্রমিককে স্থায়ী শ্রমিক বলা হইবে যদি কোন প্রতিষ্ঠানে তাহাকে স্থায়ীভাবে নিযুক্ত করা হয়, অথবা প্রতিষ্ঠানে তিনি তাহার শিক্ষানবিশীকাল সন্তোষজনকভাবে সমাপ্ত করিয়া থাকেন।
(৮) কেরানী-সংক্রান্ত কাজে নিযুক্ত কোন শ্রমিকের শিক্ষানবিশীকাল হইবে ছয় মাস এবং অন্যান্য শ্রমিকের জন্য এই সময় হইবে তিন মাসঃ
তবে শর্ত থাকে যে, একজন দক্ষ শ্রমিকের ক্ষেত্রে তাহার শিক্ষানবিশীকাল আরও তিন মাস বৃদ্ধি করা যাইবে যদি কোন কারণে প্রথম তিন মাস শিক্ষানবিসীকালে তাহার কাজের মান নির্ণয় করা সম্ভব না হয়51[:
আরও শর্ত থাকে যে, শিক্ষানবিশকাল শেষে বা তিন মাস মেয়াদ বৃদ্ধি শেষে কনফরমেশন লেটার দেওয়া না হইলেও উপ-ধারা (৭) এর বিধান অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট শ্রমিক স্থায়ী বলিয়া গণ্য হইবে।]
(৯) যদি কোন শ্রমিকের চাকুরী তাহার শিক্ষানবিসীকালে, বর্ধিত সময়সহ, অবসান হয়, এবং ইহার পরবর্তী তিন বছরের মধ্যে যদি তিনি একই মালিক কর্তৃক পুনরায় নিযুক্ত হন তাহা হইলে তিনি, যদি না স্থায়ীভাবে নিযুক্ত হন, একজন শিক্ষানবিসী হিসাবে গণ্য হইবেন এবং তাহার নতুন শিক্ষানবিশীকাল গণনার ক্ষেত্রে পূর্বের শিক্ষানবিশীকাল হিসাবে আনা হইবে।
(১০) যদি কোন স্থায়ী শ্রমিক কোন নতুন পদে শিক্ষানবিস হিসাবে নিযুক্ত হন, তাহা হইলে তাহার শিক্ষানবিসীকালে যে কোন সময় তাহাকে পূর্বের স্থায়ী পদে ফেরত আনা যাইবে।
52[(১১) কোন শ্রমিককে মৌসুমী শ্রমিক বলা হইবে যদি কোন প্রতিষ্ঠানে মৌসুমকালে কোন শ্রমিককে মৌসুমী কাজে নিয়োগ করা হয় এবং মৌসুম চলাকালীন পর্যন্ত কর্মরত থাকেন।
(১২) চিনি কল, চাতাল প্রভৃতি শিল্প এবং মৌসুমী কারখানায় শ্রমিক নিয়োগের ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী বৎসরে নিয়োগকৃত শ্রমিকদেরকে অগ্রাধিকার প্রদান করিতে হইবে।]
১২। (১) অগ্নিকান্ড, আকষ্মিক বিপত্তি, যন্ত্রপাতি বিকল, বিদু্যৎ সরবরাহ বন্ধ, মহামারী, ব্যাপক দাঙ্গা-হাঙ্গামা অথবা মালিকের নিয়ন্ত্রণ বহির্ভূত অন্য কোন কারণে প্রয়োজন হইলে, কোন মালিক যে কোন সময় তাহার প্রতিষ্ঠানের কোন শাখা বা শাখাসমূহ আংশিক বা সম্পূর্ণ বন্ধ করিয়া দিতে পারিবেন এবং যে কারণে উক্তরূপ বন্ধের আদেশ দেওয়া হইবে তাহা বিদ্যমান থাকা পর্যনত্দ এই বন্ধের আদেশ বহাল রাখিতে পারিবেন। কাজ বন্ধ রাখা
(২) যদি উক্তরূপ বন্ধের আদেশ কর্মসময়ের পরে দেওয়া হয়, তাহা হইলে পরবর্তী কর্মসময় শুরু হওয়ার আগে মালিক প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট শাখার নোটিশ বোর্ডে বা কোন প্রকাশ্য স্থানে নোটিশ সাঁটিয়া বা লটকাইয়া দিয়া উক্ত বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শ্রমিকগণকে অবহিত করিবেন।
(৩) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত নোটিশে বন্ধ পরবর্তী কাজ কখন শুরু হইবে এবং সংশ্লিষ্ট শ্রমিকগণকে কাজ পুনরায় শুরু হওয়ার পূর্বে কোন সময় তাহাদের কর্মস্থলে অবস্থান করিতে হইবে কি না তৎসম্পর্কে নির্দেশ থাকিবে।
(৪) যদি উক্তরূপ বন্ধ কর্মসময়ের মধ্যেই সংঘটিত হয়, তাহা হইলে মালিক উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত পন্থায় নোটিশ মারফত সংশ্লিষ্ট শ্রমিকগণকে যথাশীঘ্র সম্ভব তৎসম্পর্কে অবহিত করিবেন, এবং এই নোটিশে পরবর্তী কাজ কখন শুরু হইবে এবং শ্রমিকগণ কর্মস্থলে অবস্থান করিবেন কি না তৎসম্পর্কে নির্দেশ থাকিবে।
(৫) উক্তরূপ কাজ বন্ধের পর যে সমস্ত শ্রমিককে কর্মস্থলে অবস্থানের নির্দেশ দেওয়া হইবে, তাহাদের এই অবস্থানের সময় এক ঘণ্টার কম হইলে তাহারা কোন মজুরী নাও পাইতে পারেন, এবং এই অবস্থানের সময় ইহার অধিক হইলে তাহারা অবস্থানকালীন সম্পূর্ণ সময়ের জন্য মজুরী পাইবেন।
(৬) যদি কাজ বন্ধের মেয়াদ এক কর্ম দিবসের চেয়ে বেশী না হয়, তাহা হইলে সংশ্লিষ্ট কোন শ্রমিক, উপ-ধারা (৫) এর ৰেত্র ব্যতীত, কোন মজুরী নাও পাইতে পারেন।
(৭) যদি কাজ বন্ধের মেয়াদ এক কর্ম দিবসের অধিক হয় তাহা হইলে, সাময়িক বা বদলী শ্রমিক ব্যতীত, সংশ্লিষ্ট প্রত্যেক শ্রমিককে এক দিনের অতিরিক্ত সকল বন্ধ কর্ম দিবসের জন্য মজুরী প্রদান করা হইবে।
56[(৮) যদি কাজ বন্ধের মেয়াদ ৩ (তিন) কর্মদিবসের অধিক হয়, তাহা হইলে সংশ্লিষ্ট শ্রমিকগণকে লে-অফ করা হইবে এবং তাহাদেরকে ধারা ১৬ অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ প্রদান করিতে হইবে।]
(৯) উপ-ধারা (৮) এ উল্লিখিত লে-অফ কাজ বন্ধ হওয়ার প্রথম দিন হইতেই বলবৎ হইবে, এবং প্রথম তিন দিনের জন্য প্রদত্ত কোন মজুরী সংশ্লিষ্ট শ্রমিককে প্রদেয় লে-অফকালীন ক্ষতিপূরণের সহিত সমন্বিত করা হইবে।
(১০) কাজ বন্ধের কারণে যদি কোন ঠিকা-হারের শ্রমিক ক্ষতিগ্রস্ত হন তাহা হইলে উপ-ধারা (৯) এর প্রয়োজনে তাহার পূর্ববর্তী এক মাসে গড় দৈনিক আয়কে দৈনিক মজুরী বলিয়া গণ্য করা হইবে।
১৪। 57[(১) এই অধ্যায়ের উদ্দেশ্যে, যদি কোনো শ্রমিক কোনো প্রতিষ্ঠানে পূর্ববর্তী ১২ (বার) পঞ্জিকা মাসে বাস্তবে অন্ততঃ ২৪০ (দুইশত চল্লিশ) দিন বা ৬ (ছয়) পঞ্জিকা মাসে বাস্তবে অন্তত ১২০ (একশত বিশ) দিন কাজ করিয়া থাকেন, তাহা হইলে তিনি যথাক্রমে ‘এক বৎসর’ বা ‘ছয় মাস’ উক্ত প্রতিষ্ঠানে অবিচ্ছিন্নভাবে কাজ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন।]
(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত কোন শ্রমিকের বাস্তবে কাজ করার দিন গণনার ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত দিনগুলিও গণনায় আনা হইবে, যথাঃ-
(ক) তাহার লে-অফের দিনগুলি;
(খ) অসুস্থতা বা দুর্ঘটনার কারণে মজুরীসহ বা বিনা মজুরীতে ছুটির দিনগুলি;
(গ) বৈধ ধর্মঘট অথবা অবৈধ লক-আউটের কারণে কর্মহীন দিনগুলি;
(ঘ) নারী শ্রমিকগণের ক্ষেত্রে, অনধিক 58[১২০ (একশত বিশ) দিন] পর্যন্ত প্রসূতি ছুটি।
59[(৩) ধারা ১৯, ২০ অথবা ২৩ এর অধীন ক্ষতিপূরণ অথবা ধারা ২২, ২৩, ২৬ অথবা ২৭ এর অধীন মজুরি হিসাবের প্রয়োজনে “মজুরি” বলিতে কোনো শ্রমিকের ছাঁটাই, বরখাস্ত, অপসারণ, ডিসচার্জ, অবসর গ্রহণ বা চাকুরির অবসানের পূর্ববর্তী সর্বশেষ মাসিক মূল মজুরি ও মহার্ঘ ভাতা এবং এডহক বা অন্তবর্তী মজুরি, যদি থাকে, উহাকে বুঝাইবে।]
১৬৷ 60[(১) যে ক্ষেত্রে বদলি বা সাময়িক শ্রমিক নহেন, এইরূপ কোনো শ্রমিককে লে-অফ করা হয়, যাহার নাম কোনো প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত রহিয়াছে এবং যিনি মালিকের অধীন অন্তত ৩ (তিন) মাস চাকুরি সম্পূর্ণ করিয়াছেন, তাহা হইলে মালিক তাহাকে, সাপ্তাহিক ছুটির দিন ব্যতীত তাহার লে-অফের সকল দিনের জন্য ক্ষতিপূরণ প্রদান করিবেন।]
(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত ক্ষতিপূরণের পরিমাণ হইবে সংশ্লিষ্ট শ্রমিকের মোট মূল মজুরী এবং মহার্ঘ ভাতা এবং এডহক বা অর্ন্তবর্তী মজুরী, যদি থাকে, এর অর্ধেক এবং তাহাকে লে-অফ করা না হইলে তিনি যে আবাসিক ভাতা পাইতেন, তাহার সম্পূর্ণের সমান৷
61[(৩) যে বদলি শ্রমিকের নাম কোনো প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত রহিয়াছে, তিনি এই ধারার প্রয়োজনে বদলি বলিয়া গণ্য হইবেন না যদি তিনি উক্ত প্রতিষ্ঠানে অবিচ্ছিন্নভাবে ১ (এক) বৎসর চাকুরি সম্পূর্ণ করিয়া থাকেন।]
62[***]
63[(৫) যদি কোনো পঞ্জিকা বর্ষে কোনো শ্রমিককে অবিচ্ছিন্নভাবে বা বিচ্ছিন্নভাবে ৪৫ (পঁয়তাল্লিশ) দিনের অধিক সময়ের জন্য লে-অফ করা হয়, এবং উক্ত ৪৫ (পঁয়তাল্লিশ) দিনের পর লে-অফের সময় যদি আরও ১৫ (পনের) দিন বা তদূর্ধ্ব সময় বর্ধিত হয়, তাহা হইলে উক্ত শ্রমিককে, শ্রমিক এবং মালিকের মধ্যে ভিন্নরূপ কোনো চুক্তি না থাকিলে, পরবর্তী প্রত্যেক ১৫ (পনের) বা তদূর্ধ্ব দিনসমূহের লে-অফের জন্য উপ-ধারা (২) এর বিধান অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ প্রদান করিতে হইবে।]
64[***]
(৭) কোন ক্ষেত্রে যদি কোন শ্রমিককে কোন পঞ্জিকা বত্সরে উপরে উল্লিখিত প্রথম পঁয়তাল্লিশ দিন লে-অফের পর কোন অবিচ্ছিন্ন পনের দিন বা তদূর্ধ্ব সময়ের জন্যে লে-অফ করিতে হয়, তাহা হইলে মালিক উক্ত শ্রমিককে লে-অফের পরিবর্তে ধারা ২০ এর অধীন ছাঁটাই করিতে পারিবেন৷
65[১৭। কোনো প্রতিষ্ঠানে শ্রমিকগণকে লে-অফ করা সত্ত্বেও মালিককে তাহাদের জন্য রেজিস্টার সংরক্ষণ করিতে হইবে এবং স্বাভাবিক কর্মসময়ে লে-অফকৃত শ্রমিকগণের মধ্যে যাহারা কাজের জন্য হাজিরা দিবেন, তাহাদের নাম উহাতে লিপিবদ্ধ করিবার ব্যবস্থা করিতে হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, লে-অফকালীন অন্য কোনভাবে শ্রমিক রেজিস্টার সংরক্ষণ বা শ্রমিক রেজিস্টার বহির্ভূত কোনো শ্রমিক নিয়োগ করা যাইবে না।]
66[১৯। যদি কোন শ্রমিক কোন মালিকের অধীন অবিচ্ছিন্নভাবে অন্ততঃ 67[১ (এক)] বৎসরের অধিককাল চাকুরীরত থাকা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন, তাহা হইলে মালিক মৃত শ্রমিকের কোন মনোনীত ব্যক্তি বা মনোনীত ব্যক্তির অবর্তমানে তাহার কোন পোষ্যকে তাহার প্রত্যেক পূর্ণ বৎসর বা উহার ০৬ (ছয়) মাসের অধিক সময় চাকুরীর জন্য ক্ষতিপূরণ হিসাবে ৩০(ত্রিশ) দিনের এবং প্রতিষ্ঠানে কর্মরত অবস্থায় অথবা কর্মকালীন দুর্ঘটনার কারণে পরবর্তীতে মৃত্যুর ক্ষেত্রে ৪৫ (পঁয়তাল্লিশ) দিনের মজুরী অথবা গ্রাচুইটি, যাহা অধিক হইবে, প্রদান করিবেন, এবং এই অর্থ মৃত শ্রমিক চাকুরী হইতে অবসর গ্রহণ করিলে যে অবসর জনিত সুবিধা প্রাপ্ত হইতেন, তাহার অতিরিক্ত হিসাবে প্রদেয় হইবে।]
২৩। (১) এই আইনে লে-অফ, ছাঁটাই, ডিসচার্জ এবং চাকুরীর অবসান সম্পর্কে অন্যত্র যাহা কিছুই বলা হউক না কেন, কোন শ্রমিককে বিনা নোটিশে বা নোটিশের পরিবর্তে বিনা মজুরীতে চাকুরী হইতে বরখাস্ত করা যাইবে, যদি তিনি-
(ক) কোন ফৌজদারী অপরাধের জন্য দণ্ডপ্রাপ্ত হন; অথবা
(খ) ধারা ২৪ এর অধীন অসদাচরণের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হন।
(২) অসদাচরণের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত কোন শ্রমিককে উপ-ধারা (১) এর অধীন চাকুরী হইতে বরখাস্তের পরিবর্তে, বিশেষ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে, নিম্নলিখিত যে কোন শাস্তি প্রদান করা যাইবে, যথাঃ-
(ক) অপসারণ;
(খ) নীচের পদে, গ্রেডে বা বেতন স্কেলে অনধিক এক বৎসর পর্যন্ত আনয়ন;
(গ) অনধিক এক বৎসরের জন্য পদোন্নতি বন্ধ;
(ঘ) অনধিক এক বৎসরের জন্য মজুরী বৃদ্ধি বন্ধ;
(ঙ) জরিমানা;
(চ) অনধিক সাত দিন পর্যন্ত বিনা মজুরীতে বা বিনা খোরাকীতে সাময়িক বরখাস্ত;
(ছ) ভর্ৎসনা ও সতর্কীকরণ।
68[(৩) উপ-ধারা (২) (ক) এর অধীন 69[বরখাস্তকৃত বা] অপসারিত কোন শ্রমিককে, যদি তাহার অবিচ্ছিন্ন চাকুরীর মেয়াদ অন্যুন এক বৎসর হয়, মালিক ক্ষতিপূরণ বাবদ প্রত্যেক সম্পুর্ণ চাকুরী বৎসরের জন্য ১৫ দিনের মজুরী প্রদান করিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, কোন শ্রমিককে উপ-ধারা (৪) (খ) ও (ছ) এর অধীন অসদাচরণের জন্য বরখাস্ত করা হইলে তিনি কোন ক্ষতিপূরণ পাইবেন না। তবে এইরূপ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শ্রমিক তাহার অন্যান্য আইনানুগ পাওনাদি যথা নিয়মে পাইবেন।]
(৪) নিম্নলিখিত কাজ করা অসদাচরণ বলিয়া গণ্য হইবে, যথাঃ-
(ক) উপরস্থের কোন আইনসংগত বা যুক্তিসংগত আদেশ মানার ক্ষেত্রে এককভাবে বা অন্যের সঙ্গে সংঘবদ্ধ হইয়া ইচ্ছাকৃতভাবে অবাধ্যতা;
(খ) মালিকের ব্যবসা বা সম্পত্তি সম্পর্কে চুরি, 70[আত্মসাৎ,] প্রতারণা বা অসাধুতা;
(গ) মালিকের অধীন তাঁহার বা অন্য কোন শ্রমিকের চাকুরী সংক্রান্ত ব্যাপারে ঘুষ গ্রহণ বা প্রদান;
(ঘ) বিনা ছুটিতে অভ্যাসগত অনুপস্থিতি অথবা ছুটি না নিয়া এক সঙ্গে দশ দিনের অধিক সময় অনুপস্থিতি;
(ঙ) অভ্যাসগত বিলম্বে উপস্থিতি;
(চ) প্রতিষ্ঠানে প্রযোজ্য কোন আইন, বিধি বা প্রবিধানের অভ্যাসগত লঙ্ঘন;
71[(ছ) প্রতিষ্ঠানে উচ্ছৃংখলতা, দাংগা-হাংগামা, অগ্নিসংযোগ বা ভাংচুর;]
(জ) কাজে-কর্মে অভ্যাসগত গাফিলতি;
(ঝ) প্রধান পরিদর্শক কর্তৃক অনুমোদিত চাকুরী সংক্রান্ত, শৃঙ্খলা বা আচরণসহ, যে কোন বিধির অভ্যাসগত লঙ্ঘন;
(ঞ) মালিকের অফিসিয়াল রেকর্ডের রদবদল, জালকরণ, অন্যায় পরিবর্তন, উহার ক্ষতিকরণ বা উহা হারাইয়া ফেলা।
(৫) উপ-ধারা (১) (ক) এর অধীন বরখাস্তকৃত কোন শ্রমিক যদি আপীলে খালাস পান, তাহা হইলে তাহাকে তাহার পূর্বতন পদে বহাল করিতে হইবে, অথবা নূতন কোন উপযুক্ত পদে তাহাকে নিয়োগ করিতে হইবে, এবং যদি ইহার কোনটিই সম্ভব না হয়, তাহা হইলে তাহাকে ডিসচার্জকৃত কোন শ্রমিককে প্রদেয় ক্ষতিপূরণের সমান হারে ক্ষতিপূরণ প্রদান করিতে হইবে, তবে বরখাস্ত হওয়ার কারণে ইতিমধ্যে প্রাপ্ত ক্ষতিপূরণের টাকা ইহা হইতে বাদ যাইবে।
২৭৷ (১) কোন স্থায়ী শ্রমিক মালিককে ষাট দিনের লিখিত নোটিশ প্রদান করিয়া তাহার চাকুরী হইতে ইস্তফা দিতে পারিবেন৷
(২) কোন অস্থায়ী শ্রমিক-
(ক) মাসিক মজুরীর ভিত্তিতে নিয়োজিত শ্রমিকের ক্ষেত্রে, ত্রিশ দিনের,
(খ) অন্য শ্রমিকের ক্ষেত্রে, চৌদ্দ দিনের,
লিখিত নোটিশ মালিকের নিকট প্রদান করিয়া তাহার চাকুরী হইতে ইস্তফা দিতে পারিবেন৷
(৩) যে ক্ষেত্রে শ্রমিক বিনা নোটিশে চাকুরী হইতে ইস্তফা দিতে চাহেন সে ক্ষেত্রে, তিনি উপ-ধারা (১) অথবা (২) এর অধীন প্রদেয় নোটিশের পরিবর্তে নোটিশ মেয়াদের জন্য মজুরীর সমপরিমাণ অর্থ মালিককে প্রদান করিয়া ইহা করিতে পারিবেন৷
76[ (৩ক) উপ-ধারা (৩) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোন শ্রমিক বিনা নোটিশে অথবা বিনা অনুমতিতে ১০ দিনের অধিক কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকিলে মালিক উক্ত শ্রমিককে ১০ দিনের সময় প্রদান করিয়া এই সম্পর্কে ব্যাখ্যা প্রদান করিতে এবং চাকুরীতে পুনরায় যোগদানের জন্য নোটিশ প্রদান করিবেন এবং এইরূপ ক্ষেত্রে উক্ত শ্রমিক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা প্রদান বা চাকুরীতে যোগদান না করিলে সংশ্লিষ্ট শ্রমিককে তাহার আত্নপক্ষ সমর্থনের জন্য আরো ৭দিন সময় প্রদান করিবেন। তাহাতেও যদি সংশ্লিষ্ট শ্রমিক চাকুরীতে যোগদান অথবা আত্নপক্ষ সমর্থন না করেন তবে, উক্ত শ্রমিক অনুপস্থিতির দিন হইতে 77[ চাকুরি হইতে ইস্তফা দিয়াছেন] বলিয়া গণ্য হইবেন।]
78[(৪) যেক্ষেত্রে এই ধারার অধীন কোনো স্থায়ী শ্রমিক চাকুরি হইতে ইস্তফা দেন, সেক্ষেত্রে, মালিক উক্ত শ্রমিককে ক্ষতিপূরণ হিসাবে তাহার প্রত্যেক সম্পূর্ণ বৎসরের চাকুরির জন্য-
(ক) যদি তিনি ৩ (তিন) বৎসর পর্যন্ত অবিচ্ছিন্নভাবে মালিকের অধীন চাকুরি করিয়া থাকেন তাহা হইলে, ৭ (সাত) দিনের মজুরি;
(খ) যদি তিনি ৩ (তিন) বৎসরের বেশি কিন্তু ১০ (দশ) বছরের কম মেয়াদে মালিকের অধীন অবিচ্ছিন্নভাবে চাকুরি করিয়া থাকেন তাহা হইলে, ১৫ (পনের) দিনের মজুরি;
(গ) যদি তিনি ১০ (দশ) বৎসর বা তদূর্ধ্ব সময় মালিকের অধীন অবিচ্ছিন্নভাবে চাকুরি করিয়া থাকেন তাহা হইলে, ৩০ (ত্রিশ) দিনের মজুরি, অথবা গ্রাচ্যুইটি, যদি প্রদেয় হয়, যাহা অধিক হইবে, প্রদান করিবেন, এবং ক্ষতিপূরণ এই আইনের অধীন শ্রমিককে প্রদেয় অন্যান্য সুবিধার অতিরিক্ত হইবে।]
৩২৷ (১) কোন শ্রমিকের চাকুরীর অবসান হইলে, তাহা যে কোন প্রকারেই হউক না কেন, তিনি তাহার চাকুরীর অবসানের 83[৬ (ছয়) মাসের] মধ্যে মালিক কর্তৃক তাহাকে বরাদ্দকৃত বাসস্থান ছাড়িয়া দিবেন৷
(২) উক্ত সময়ের মধ্যে বাসস্থান ছাড়িয়া না দিলে মালিক শ্রম আদালতে তাহার বিরুদ্ধে অভিযোগ পেশ করিতে পারিবেন84[:
তবে শর্ত থাকে যে, শ্রমিকের সকল পাওনা পরিশোধ না করিয়া কোন শ্রমিককে বাসস্থান হইতে উচ্ছেদ করা যাইবে না।]
(৩) আদালত উভয় পক্ষকে শ্রবণ করিয়া মামলাটি সংতিগপ্তভাবে বিচার করিবে, এবং যুক্তিসঙ্গত সময়ের মধ্যে শ্রমিককে বাসস্থানটি ছাড়িয়া দেওয়ার জন্য নির্দেশ দিতে পারিবে৷
(৪) আদালত কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাসস্থান ছাড়িয়া না দিলে শ্রমিককে উহা হইতে বলপূর্বক উচ্ছেদ করিবার জন্য প্রয়োজনবোধে আদালত কোন পুলিশ কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিতে পারিবে৷
(৫) উপ-ধারা (৪) এর অধীন আদালতের নির্দেশপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা আদালতের আদেশের সারমর্ম এবং উহাতে তাহার প্রবেশের ইচ্ছা বাসস্থানে বসবাসরত ব্যক্তিগণকে অবহিত করিবেন, এবং বাসস্থান ছাড়িয়া দেওয়ার জন্য তাহাদিগকে অন্ততঃ ছয় ঘন্টা সময় দিবেন, এবং অতঃপর উহার দখল গ্রহণের জন্য বল প্রয়োগের পূর্বে উহাতে বসবাসকারী শিশুগণকে বাহির হইয়া আসার জন্য সম্ভাব্য সকল সুযোগ দিবেন৷
তৃতীয় অধ্যায়
কিশোর শ্রমিক নিয়োগ
চতুর্থ অধ্যায়
প্রসূতি কল্যাণ সুবিধা
৪৫৷ (১) কোন মালিক তাহার প্রতিষ্ঠানে সজ্ঞানে কোন নারীকে তাহার সন্ত্মান প্রসবের অব্যবহিত পরবর্তী আট সপ্তাহের মধ্যে কোন কাজ করাতে পারিবেন না।
(২) কোন নারী কোন প্রতিষ্ঠানে তাহার সন্ত্মান প্রসবের অব্যবহিত পরবর্তী 92[৬০ (ষাট) দিনের] মধ্যে কোন কাজ করিতে পারিবেন না।
(৩) কোন মালিক কোন নারীকে এমন কোন কাজ করার জন্য নিয়োগ করিতে পারিবেন না যাহা দুষ্কর বা শ্রম-সাধ্য অথবা যাহার জন্য দীর্ঘতগণ দাঁড়াইয়া থাকিতে হয় অথবা যাহা তাহার জন্য হানিকর হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, যদি-
(ক) তাহার এই বিশ্বাস করার কারণ থাকে, অথবা যদি নারী তাহাকে অবহিত করিয়া থাকেন যে, দশ সপ্তাহের মধ্যে তাহার সন্তান প্রসব করার সম্ভাবনা আছে;
(খ) মালিকের জানামতে নারী পূর্ববর্তী দশ সপ্তাহের মধ্যে সন্তান প্রসব করিয়াছেনঃ
তবে শর্ত থাকে যে, চা-বাগান শ্রমিকের তেত্রে সংশ্লিষ্ট চা-বাগানের চিকিৎসক কর্তৃক যতদিন পযর্ন্ত সক্ষমতার সার্টিফিকেট পাওয়া যাইবে ততদিন পযর্ন্ত উক্ত শ্রমিক হালকা ধরণের কাজ করিতে পারিবেন এবং অনুরূপ কাজ যতদিন তিনি করিবেন ততদিন তিনি উক্ত কাজের জন্য প্রচলিত আইন অনুসারে নির্ধারিত হারে মজুরী পাইবেন, যাহা প্রসূতি কল্যাণ ভাতার অতিরিক্ত হিসাবে প্রদেয় হইবে।
৪৬৷ (১) প্রত্যেক নারী শ্রমিক তাহার মালিকের নিকট হইতে তাহার সন্তান প্রসবের সম্ভাব্য তারিখের অব্যবহিত পূর্ববর্তী 93[৬০ (ষাট) দিন] এবং সন্তান প্রসবের অব্যবহিত পরবর্তী 94[৬০ (ষাট) দিনের] জন্য প্রসূতি কল্যাণ সুবিধা পাইবার অধিকারী হইবেন, এবং তাহার মালিক তাহাকে এই সুবিধা প্রদান করিতে বাধ্য থাকিবেনঃ
তবে শর্ত থাকে যে, কোন নারী উক্তরূপ সুবিধা পাইবেন না যদি না তিনি তাহার মালিকের অধীন তাহার সন্তান প্রসবের অব্যবহিত পূর্বে অন্যুন ছয় মাস কাজ করিয়া থাকেন।
(২) কোন 95[প্রসূতিকে] উক্তরূপ সুবিধা প্রদেয় হইবে না যদি তাহার সন্তান প্রসবের সময় তাহার দুই বা ততোধিক সন্তান জীবিত থাকে, তবে এতেগত্রে তিনি কোন ছুটি পাইবার অধিকারী হইলে তাহা পাইবেন।
৪৭৷ (১) কোন অন্তঃসত্ত্বা নারী এই আইনের অধীন প্রসূতি কল্যাণ সুবিধা পাইবার অধিকারী হইলে তিনি যে কোন দিন মালিককে লিখিত বা মৌখিকভাবে এই মর্মে নোটিশ দিবেন যে, নোটিশের 96[৬০ (ষাট) দিনের] মধ্যে তাহার সন্ত্মান প্রসবের সম্ভাবনা আছে, এবং উক্ত নোটিশে তাহার মৃত্যুর তেগত্রে এই সুবিধা যিনি গ্রহণ করিবেন তাহার নামও উল্লেখ থাকিবে৷
(২) কোন 97[প্রসূতি] উক্তরূপ কোন নোটিশ প্রদান না করিয়া থাকিলে তাহার সন্তান প্রসবের সাত দিনের মধ্যে তিনি উক্তরূপ নোটিশ প্রদান করিয়া তাহার সন্ত্মান প্রসব সম্পর্কে মালিককে অবহিত করিবেন৷
98[(৩) উপ-ধারা (১) অথবা (২) এ উল্লিখিত নোটিশ প্রাপ্তির পর মালিক সংশ্লিষ্ট নারীকে-
(ক) উপ-ধারা (১) এর অধীন নোটিশের ক্ষেত্রে, উহা প্রদানের তারিখের পরের দিন হইতে প্রাপ্য প্রসূতি কল্যাণ সুবিধাসহ ১২০ (একশত বিশ) দিন পর্যন্ত কাজে অনুপস্থিত থাকিবার জন্য অনুমতি প্রদান করিবেন;
(খ) উপ-ধারা (২) এর অধীন নোটিশের ক্ষেত্রে, সন্তান প্রসবের তারিখ হইতে প্রাপ্য প্রসূতি কল্যাণ সুবিধাসহ ১২০ (একশত বিশ) দিন পর্যন্ত কাজে অনুপস্থিত থাকিবার জন্য অনুমতি প্রদান করিবেন।]
(৪) কোন মালিক সংশ্লিষ্ট নারীর ইচ্ছানুযায়ী নিম্নলিখিত যে কোন পন্থায় প্রসূতি কল্যাণ সুবিধা প্রদান করিবেন, যথাঃ-
(ক) যে ক্ষেত্রে কোন রেজিস্টার্ড চিকিত্সকের নিকট হইতে এই মর্মে প্রাপ্ত প্রত্যয়নপত্র পেশ করা হয় যে, নারী 99[৬০ (ষাট) দিনের] মধ্যে সন্তান প্রসবের সম্ভাবনা আছে, সে ক্ষেত্রে প্রত্যয়ন পত্র পেশ করার পরবর্তী তিন কর্ম দিবসের মধ্যে প্রসব পূর্ববর্তী 100[৬০ (ষাট) দিনের] জন্য প্রদেয় প্রসূতি কল্যাণ সুবিধা প্রদান করিবেন, এবং নারীর সন্তান প্রসবের প্রমাণ পেশ করার তারিখ হইতে পরবর্তী তিন কর্ম দিবসের মধ্যে অবশিষ্ট সময়ের জন্য প্রদেয় উক্তরূপ সুবিধা প্রদান করিবেন; অথবা
(খ) মালিকের নিকট সন্ত্মান প্রসবের প্রমাণ পেশ করার পরবর্তী তিন কর্ম দিবসের মধ্যে সন্তান প্রসবের তারিখসহ উহার পূর্ববর্তী 101[৬০ (ষাট) দিনের] জন্য প্রদেয় প্রসূতি কল্যাণ সুবিধা প্রদান করিবেন, এবং উক্ত প্রমাণ পেশের পরবর্তী 102[৬০ (ষাট) দিনের] মধ্যে অবশিষ্ট মেয়াদের সুবিধা প্রদান করিবেন; 103[ ***]
(গ) সন্তান প্রসবের প্রমাণ পেশ করার পরবর্তী তিন কর্ম দিবসের মধ্যে উক্ত সম্পূর্ণ সময়ের জন্য প্রদেয় প্রসূতি কল্যাণ সুবিধা প্রদান করিবেন 104[ ; অথবা
(ঘ) কোনো নারী শ্রমিক মালিককে নোটিশ দেওয়ার পূর্বেই যদি সন্তান প্রসব করিয়া থাকেন তাহা হইলে সন্তান প্রসবের প্রমাণ পেশ করিবার পরবর্তী ৩ (তিন) কর্ম দিবসের মধ্যে উক্ত সম্পূর্ণ সময়ের জন্য প্রদেয় প্রসূতি কল্যাণ সুবিধাসহ প্রসব পরবর্তী 105[৬০ (ষাট) দিন] পর্যন্ত অনুপস্থিত থাকিবার অনুমতি দিবেন:]
তবে শর্ত থাকে যে, এই উপ-ধারার অধীন যে প্রসূতি কল্যাণ বা উহার কোন অংশ প্রদান সন্তান প্রসবের প্রমাণ পেশের উপর নির্ভরশীল, সেরূপ কোন প্রমাণ কোন নারী তাহার সন্তান প্রসবের তিন মাসের মধ্যে পেশ না করিলে তিনি এই সুবিধা পাইবার অধিকার হইবেন না 106[ :
আরো শর্ত থাকে যে, প্রসূতি কল্যাণ ছুটিতে যাইবার নির্ধারিত তারিখের পূর্বে কোনো নারী শ্রমিকের গর্ভপাত ঘটিলে তিনি কোনো প্রসূতি কল্যাণ সুবিধা পাইবেন না, তবে স্বাস্থ্যগত কারণে ছুটির প্রয়োজন হইলে তিনি তাহা ভোগ করিতে পারিবেন।]
(৫) উপ-ধারা (৪) এর অধীন যে প্রমাণ পেশ করিতে হইবে, উক্ত প্রমাণ জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন, ২০০৪ (২০০৪ সনের ২৯ নং আইন) এর অধীন প্রদত্ত জন্ম রেজিস্টারের সত্যায়িত উদ্ধৃতি, অথবা কোন রেজিস্টার্ড চিকিত্সকের প্রত্যয়নপত্র, অথবা মালিকের নিকট গ্রহণযোগ্য অন্য কোন প্রমাণ হইতে পারিবে।
৪৮। 107[(১) এই অধ্যায়ের অধীন যে প্রসূতি কল্যাণ সুবিধা প্রদেয় হইবে উহা উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত পন্থায় গণনা করিয়া দৈনিক, সাপ্তাহিক বা, ক্ষেত্রমত, মাসিক, গড় মজুরি হারে সম্পূর্ণ নগদে বা ব্যাংক হিসাবে বা ইলেক্ট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের মাধ্যমে (ইএফটি) প্রদান করিতে হইবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর প্রয়োজনে দৈনিক গড় মজুরি গণনার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রসূতি কর্তৃক তাহার সর্বশেষ ধার্যকৃত মাসিক মোট মজুরিকে ২৬ (ছাব্বিশ) দ্বারা ভাগ করিতে হইবে।]
৪৯৷ (১) এই অধ্যায়ের অধীন প্রসূতি কল্যাণ সুবিধা পাওয়ার অধিকারী কোন নারী সন্তান প্রসবকালে অথবা উহার পরবর্তী 109[৬০ (ষাট) দিনের] মধ্যে মৃত্যুবরণ করিলে মালিক, শিশু সন্তানটি যদি বাঁচিয়া থাকে, যে ব্যক্তি শিশুর তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন তাহাকে, এবং, যদি শিশু সন্তান জীবিত না থাকে, তাহা হইলে এই অধ্যায়ের অধীন নারীর মনোনীত ব্যক্তিকে অথবা কোন মনোনীত ব্যক্তি না থাকিলে মৃত নারীর আইনগত প্রতিনিধকে উক্তরূপ সুবিধা প্রদান করিবেন।
(২) যদি উক্তরূপ কোন নারী প্রসূতি কল্যাণ সুবিধা পাওয়ার অধিকারী হওয়ার সময় সীমার মধ্যে কিন্তু সন্তান প্রসবের পূর্বে মারা যান, তাহা হইলে মালিক উক্ত নারীর মৃত্যুর তারিখসহ তত্পূর্ববর্তী সময়ের জন্য উক্তরূপ সুবিধা প্রদান করিতে বাধ্য থাকিবেন, তবে ইতিমধ্যে প্রদত্ত উক্তরূপ সুবিধা যদি প্রদেয় সুবিধা হইতে বেশী হয়, তাহা হইলেও উহা আর ফেরত লইতে পারিবেন না, এবং নারীর মৃত্যুর সময় পর্যন্ত যদি মালিকের নিকট এই বাবদ কিছু পাওনা থাকে, তাহা হইলে তিনি এই অধ্যায়ের অধীন নারীর কোন মনোনীত ব্যক্তিকে, অথবা কোন মনোনীত ব্যক্তি না থাকিলে, তাহার আইনগত প্রতিনিধকে উহা প্রদান করিবেন।
৫০৷ যদি কোন নারীর সন্তান প্রসবের পূর্ববতী ছয় মাস এবং সন্তান প্রসবের পরবর্তী 110[৬০ (ষাট) দিন] মেয়াদের মধ্যে তাহাকে চাকুরী হইতে ডিসচার্জ, বরখাস্ত্ম বা অপসারণ করার জন্য অথবা তাহার চাকুরী অন্যভাবে অবসানের জন্য মালিক কোন নোটিশ বা আদেশ প্রদান করেন, এবং উক্তরূপ নোটিশ বা আদেশের যদি যথেষ্ট কোন কারণ না থাকে তাহা হইলে, এই নোটিশ বা আদেশ প্রদান না করা হইলে এই অধ্যায়ের অধীন সংশ্লিষ্ট নারী যে প্রসূতি কল্যাণ সুবিধা পাইবার অধিকারী হইতেন, উহা হইতে তিনি বঞ্চিত হইবেন না।
পঞ্চম অধ্যায়
স্বাস্থ্য রক্ষা ব্যবস্থা
৫৯৷ প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে-
(ক) উহাতে কর্মরত শ্রমিকগণ কাজের সময়ে যাহাতে সহজে ব্যবহার করিতে পারেন এরূপ সুবিধাজনক স্থানে বিধি দ্বারা নির্ধারিত প্রকারে প্রয়োজনীয় সংখ্যক 112[স্বাস্থ্য সম্মত শৌচাগার ও প্রক্ষালন কক্ষের] ব্যবস্থা করিতে হইবে;
(খ) উক্ত 113[শৌচাগার ও প্রক্ষালন কক্ষ] পুরুষ এবং নারী শ্রমিকগণের জন্য স্বতন্ত্রভাবে ব্যবস্থা করিতে হইবে;
(গ) 114[শৌচাগার ও প্রক্ষালন কক্ষগুলিতে] যথেষ্ট আলো, বাতাস এবং সার্বক্ষণিক পানির ব্যবস্থা রাখিতে হইবে; এবং
(ঘ) উক্ত 115[শৌচাগার ও প্রক্ষালন কক্ষ মালিকের নিজ খরচে] জীবানুনাশক ও পরিষ্কারক ব্যবহারের মাধ্যমে সব সময় পরিষ্কার ও স্বাস্থ্যসম্মত রাখিতে হইবে৷
ষষ্ঠ অধ্যায়
নিরাপত্তা
118[৬১ক। (১) কোনো প্রতিষ্ঠানে এমনভাবে কোনো কাজ বা উৎপাদন প্রক্রিয়া চালানো এবং পণ্য সংরক্ষণ করা যাইবে না, যাহা শারীরিক আঘাতের কারণ হইতে পারে।
(২) কোনো মালিক কোনো শ্রমিককে এমন বিপজ্জনক কাজ করিতে বাধ্য করিতে পারিবেন না যদি শ্রমিক তাহার ঊর্ধ্বতনকে জানান যে, কাজের পদ্ধতি তাহার জীবন বা স্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর বিপদ ঘটাইতে পারে।
(৩) কোনো মালিক কোনো শ্রমিকের বিরুদ্ধে কোনো শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা বা অন্য কোনো অযাচিত পদক্ষেপ গ্রহণ করিতে পারিবেন না, যদি শ্রমিক এই আইন এবং পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা (OSH) নীতি অনুসারে ব্যক্তিগত সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন এবং এমন কোনো পরিস্থিতি হইতে নিজেকে সরাইয়া নেন যাহা সম্পর্কে তাহার বিশ্বাস করিবার যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকে যে তাহা একটি আসন্ন ও গুরুতর বিপদ সৃষ্টি করিবে।
(৪) বিদ্যমান অন্যান্য আইন ও নীতি অনুযায়ী শ্রমিক প্রতিনিধিরা যদি যথাযথভাবে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেন, তাহা হইলে কোনো মালিক তাহাদের বিরুদ্ধে কোনো শৃঙ্খলাবদ্ধ ব্যবস্থা বা অন্য কোনো অযাচিত পদক্ষেপ গ্রহণ করিতে পারিবেন না।
(৫) যদি পেশাগত নিরাপত্তার ঝুঁকির কারণে কাজ বন্ধ থাকে, তবে মালিক যদি ইচ্ছা করেন, শ্রমিককে অন্য কোনো অপেক্ষাকৃত নিরাপদ কাজে নিযুক্ত করিতে পারিবেন, তবে শর্ত থাকে যে, তাহার মজুরি ও অন্যান্য শর্ত একই থাকিবে।]
সপ্তম অধ্যায়
স্বাস্থ্য, স্বাস্থ্য বিধি ও নিরাপত্তা সম্পর্কে বিশেষ বিধান
৭৯৷ যে ক্ষেত্রে সরকার এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে, কোন প্রতিষ্ঠানের কোন কর্ম পরিচালনায় ইহাতে নিযুক্ত কোন ব্যক্তির সাংঘাতিক শারীরিক জখম, বিষাক্রান্ত বা ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, সে ক্ষেত্রে সরকার বিধি দ্বারা উক্ত প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে লিখিত বিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে, যথাঃ-
(ক) কোন্ কোন্ পরিচালনা ঝুঁকিপূর্ণ উহা ঘোষণা;
(খ) নারী, কিশোর এবং শিশুদের উক্ত কাজে নিয়োগ নিষিদ্ধ করা;
(গ) উক্ত কাজে নিয়োজিত প্রত্যেক ব্যক্তির নিয়মিত শারীরিক পরীক্ষার ব্যবস্থা করা এবং উক্ত কাজের জন্য উপযুক্ত বলিয়া প্রত্যয়িত হন নাই এই রকম কোন ব্যক্তির ইহাতে নিয়োগ নিষিদ্ধ করা;
(ঘ) উক্ত কাজে নিযুক্ত ব্যক্তিগণের বা উহার আশে পাশে কর্মরত ব্যক্তিগণের সু-রক্ষার ব্যবস্থা করা, এবং কর্ম পরিচালনার ব্যাপারে বিশেষ কোন বস্তু বা পন্থা ব্যবহার করা; এবং
(ঙ) ক্ষতিকারক রাসায়নিক পদার্থ সম্পর্কে নোটিশ ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করার নোটিশ৷
৮০৷ 127[(১) কোনো প্রতিষ্ঠানে, কর্মস্থলে আসা-যাওয়ার পথে কোনো দুর্ঘটনা ঘটিলে, যাহার ফলে জীবনহানি বা শারীরিক আঘাত হয়, অথবা কোনো আকস্মিক বিস্ফোরণ, অগ্নিসংযোগ, অগ্নিকাণ্ড বা পানি বা ধোঁয়ার প্রবেশ ঘটে, তাহা হইলে মালিক, পেশাগত স্বাস্থ্য পরিষেবা, চিকিৎসা অনুশীলনকারী এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থা ঘটনার বিষয়ে অবগত হইবার পরবর্তী ২ দুই) কার্যদিবসের মধ্যে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর এর সংশ্লিষ্ট পরিদর্শক এবং শ্রম অধিদপ্তর এর সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক শ্রম কার্যালয় বা বিভাগীয় শ্রম কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে লিখিত অথবা ডিজিটাল নোটিশ প্রদান করিবেন :
তবে শর্ত থাকে যে, এই ধরনের ঘটনা ঘটিবার পর অবিলম্বে ফ্যাক্টরি কর্তৃপক্ষ সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি কমানো বা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনিবার জন্য তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্দেশ্যে সরকার, ফায়ার সার্ভিস, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, থানা, এবং প্রয়োজনে, নিকটস্থ হাসপাতাল বা সরকারি-বেসরকারি চিকিৎসা সেবা প্রতিষ্ঠানে টেলিফোন, মোবাইল ফোন, এসএমএস বা ফ্যাক্সের মাধ্যমে অবহিত করিবে।
ব্যাখ্যা- “কর্মস্থলে আসা-যাওয়ার পথে” দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে এই ধরনের নোটিশ শুধুমাত্র পরিসংখ্যানগত উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হইবে। কর্মস্থলে আসা-যাওয়ার পথে দুর্ঘটনাগুলি ধারা ২ এর দফা (১৯ক) এবং ধারা ১৫০ এ উল্লিখিত দুর্ঘটনার আওতার বাইরে এবং কোনও দায়বদ্ধতার সহিত সম্পর্কিত নহে।]
(২) যে ক্ষেত্রে উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত কোন দুর্ঘটনায় শারীরিক জখম হওয়ার কারণে উহা কোন আহত শ্রমিককে আটচল্লিশ ঘন্টার অধিক সময় পর্যন্ত কাজে অনুপস্থিত থাকিতে বাধ্য করে, সে ক্ষেত্রে বিধি দ্বারা নির্ধারিত রেজিস্টারে ইহা লিপিবদ্ধ করিয়া রাখিতে হইবে৷
(৩) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত রেজিস্টারে লিখিত বিবরণের একটি কপি মালিক প্রত্যেক বত্সর ৩০শে জুন এবং ৩১শে ডিসেম্বর এর পরবর্তী পনর দিনের মধ্যে প্রধান পরিদর্শকের নিকট প্রেরণ করিবেন
128[৮১। যেক্ষেত্রে কোনো প্রতিষ্ঠানে বিধি দ্বারা নির্ধারিত কোনো বিপজ্জনক ঘটনা ঘটে, উহাতে কোনো শারীরিক জখম হউক বা না হউক, মালিক পরবর্তী ৩ (তিন) দিনের মধ্যে তৎসম্পর্কে নোটিশ দ্বারা কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক, সংশ্লিষ্ট স্থানীয় পরিদর্শক এবং শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, আওতাধীন সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক শ্রম দপ্তর বা বিভাগীয় শ্রম দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অবহিত করিবেন।]
৮২৷ 129[(১) কোনো প্রতিষ্ঠানে যদি কোনো শ্রমিক দ্বিতীয় তফসিলে উল্লিখিত কোনো ব্যাধিতে আক্রান্ত হন, তাহা হইলে নিয়োগকর্তা অথবা সংশ্লিষ্ট শ্রমিক বা তাহার মনোনীত কোনো ব্যক্তি, রেজিস্টার্ড চিকিৎসক, পেশাগত স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রদানকারী ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থা পরিদর্শককে বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে লিখিত নোটিশের মাধ্যমে অবহিত করিবেন এবং বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে ২ (দুই) কার্যদিবসের মধ্যে রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করিতে হইবে।
(২) যদি কোনো রেজিস্টার্ড চিকিৎসক, পেশাগত স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রদানকারী ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থা কোনো প্রতিষ্ঠানের বর্তমান বা ভূতপূর্ব কোনো শ্রমিককে চিকিৎসাকালে দেখেন যে, তিনি দ্বিতীয় তফসিলে উল্লিখিত কোনো ব্যাধিতে ভুগিতেছেন বা ভুগিতেছেন বলিয়া তাহার সন্দেহ হইতেছে, তাহা হইলে উক্ত চিকিৎসক অবিলম্বে একটি লিখিত রিপোর্ট মারফত মহাপরিদর্শককে নিম্নলিখিত বিষয় অবহিত করিবেন, যথা :-
(ক) রোগীর নাম এবং ডাক যোগাযোগের ঠিকানা;
(খ) রোগী যে রোগে ভুগিতেছেন বা ভুগিতেছেন বলিয়া সন্দেহ হইতেছে, তাহার নাম;
(গ) যে প্রতিষ্ঠানে রোগী বর্তমানে কাজ করিতেছেন বা সর্বশেষ কাজ করিয়াছেন, তাহার নাম ও ঠিকানা।]
130[(২ক) প্রধান পরিদর্শক কর্তৃক নির্ধারিত সংশ্লিষ্ট মালিক উক্তরূপ পেশাগত ব্যাধিতে আক্রান্ত, ক্ষতিগ্রস্থ শ্রমিকের চিকিৎসার ব্যবস্থা করিবেন।]
(৩) সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, দ্বিতীয় তফসিলে কোন নূতন রোগ সংযোজন করিতে পারিবে অথবা উহা হইতে কোন রোগ বাদ দিতে পারিবে৷
৮৫৷ (১) এই আইনে কোন বিষয় সম্বন্ধে সুস্পষ্ট বিধান নাই এরূপ কোন ক্ষেত্রে, যদি পরিদর্শকের নিকট ইহা প্রতীয়মান হয় যে, কোন প্রতিষ্ঠান বা উহার অংশবিশেষ অথবা উহাতে বা উহার সহিত সংশ্লিষ্ট নষ্ট বা উহা কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত কোন ব্যাপার বা রীতি মানুষের জীবন ও নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক, অথবা এমন ত্রম্নটিপূর্ণ যে উহা মানুষের শারীরিক ক্ষতি করিতে পারে, তাহা হইলে তিনি লিখিত নোটিশ দ্বারা তত্সম্পর্কে মালিককে অবহিত করিতে পারিবেন এবং নোটিশে উল্লিখিত সময়ের মধ্যে ও পদ্ধতিতে, যে যে কারণে উহা বিপজ্জনক বা ক্ষতিকারক বা ত্রুটিপূর্ণ তাহা দূরীভূত করার নির্দেশ দিতে পারিবেন৷
(২) উপ-ধারা (১) এর বিধানের হানি না করিয়া, পরিদর্শক লিখিত আদেশ দ্বারা কোন প্রতিষ্ঠানের মালিককে তাহার প্রতিষ্ঠানের বা উহার কোন অংশের কোন স্তম্ভ উপড়াইয়া ফেলা বা কমাইয়া ফেলা নিষিদ্ধ করিতে পারিবেন, যদি তাহার মতে ইহা দ্বারা অন্য কোন স্তম্ভভ ভাঙ্গিয়া পড়ার অথবা প্রতিষ্ঠানের কোন অংশ অকালে ধ্বসিয়া পড়ার সম্ভাবনা থাকে অথবা ইহা প্রতিষ্ঠানের জন্য বিপজ্জনক হয়৷
131[(৩) যদি পরিদর্শক মনে করেন যে, কোনো প্রতিষ্ঠানে নিযুক্ত কোনো ব্যক্তির জীবন, স্বাস্থ্য বা নিরাপত্তার জন্য আসন্ন বিপদ রহিয়াছে, তাহা হইলে তিনি সংশ্লিষ্ট মালিককে তাহার এই মতামতের কারণ লিখিতভাবে জানাইবেন, একইসাথে, পরিদর্শক লিখিত আদেশের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের কোনো অংশ, প্ল্যান্ট, লে-আউট বা কর্মপদ্ধতি প্রয়োগ বা ব্যবহার নিষিদ্ধ করিতে পারিবেন এবং ঐ অংশে কোনো ব্যক্তিকে কাজ করানো থেকে বিরত রাখিতে পারিবেন, এবং এই নিষেধাজ্ঞা ততক্ষণ পর্যন্ত বলবৎ থাকিবে যতক্ষণ না পরিদর্শক নিশ্চিত হবেন যে, বিপদ সম্পূর্ণরূপে দূর হইয়াছে:
তবে শর্ত থাকে যে, কোনো ব্যক্তি উক্ত বিপদ অপসারণের কাজে নিযুক্ত থাকিলে তৎসম্পর্কে এই আদেশ প্রযোজ্য হইবে না।]
(৪) উপ-ধারা (৩) এর অধীন প্রদত্ত আদেশ দ্বারা সংক্ষুদ্ধ কোন মালিক আদেশ প্রাপ্তির দশ দিনের মধ্যে উহার বিরুদ্ধে প্রধান পরিদর্শকের নিকট আপীল করিতে পারিবেন, এবং তিনি এই আদেশ বহাল, সংশোধন বা বাতিল করিতে পারিবেন৷
132[(৫) উপ-ধারা (১) এবং (৩) এর অধীন প্রদত্ত প্রত্যেক আদেশ সম্পর্কে পরিদর্শক তাৎক্ষণিকভাবে সরকারের সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরের নিকট রিপোর্ট পেশ করিবেন, এবং সংশ্লিষ্ট মালিককে এই রিপোর্ট প্রদান সম্পর্কে অবহিত করিবেন।]
(৬) প্রধান পরিদর্শক উপ-ধারা (৪) এর অধীন তৎকর্তৃক প্রদত্ত বাতিলের আদেশ ব্যতীত অন্য কোন আদেশ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে সরকারের নিকট রিপোর্ট পেশ করিবেন, এবং এই রিপোর্ট প্রদান সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট মালিককেও অবহিত করিবেন৷
(৭) কোন মালিকের উপ-ধারা (১), (৩) অথবা (৪) এর অধীন প্রদত্ত কোন আদেশের বিরুদ্ধে আপত্তি থাকিলে তিনি আদেশ প্রাপ্তির বিশ দিনের মধ্যে উক্ত আপত্তি এবং উহার কারণ লিপিবদ্ধ করতঃ সরকারের নিকট লিখিতভাবে জানাইবেন এবং সরকার উহা একটি কমিটির নিকট সিদ্ধান্তের জন্য প্রেরণ করিবে৷
(৮) উক্ত কমিটির সিদ্ধান্ত না পাওয়া পর্যন্ত, যে আদেশের বিরম্নদ্ধে আপত্তি উত্থাপন করা হইয়াছে মালিককে উহা মানিয়া চলিতে হইেবঃ
তবে শর্ত থাকে যে, মালিকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কমিটি উহার সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রদত্ত আদেশ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখিতে পারিবে৷
৮৭৷ ধারা ৩৯, ৪০ এবং ৪২ এর বিধানগুলি কিশোর শ্রমিকগণের জন্য যেমন প্রযোজ্য নারী শ্রমিকগণের জন্যও তেমন প্রযোজ্য হইবে।
অষ্টম অধ্যায়
কল্যাণমূলক ব্যবস্থা
136[৯০ক। (১) পঞ্চাশ বা তদূর্ধ্ব সংখ্যক শ্রমিক নিয়োজিত রহিয়াছেন এমন প্রত্যেক প্রতিষ্ঠান বিধি দ্বারা নির্ধারিত পন্থায় সেইফটি কমিটি গঠন এবং উহাকে কার্যকর করিতে হইবে।
(২) সেইফটি কমিটি চিহ্নিত ঝুঁকি, দুর্ঘটনা, বিপজ্জনক ঘটনা এবং রোগ সম্পর্কে মালিক বা তাহার প্রতিনিধিদেরকে অবহিত করিবে।]
৯১৷ (১) প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে-
(ক) উহাতে কর্মরত শ্রমিকগণের ব্যবহারের জন্য যথেষ্ঠ সংখ্যক উপযুক্ত গোসলখানা ও ধৌতকরণের সুবিধা এবং উহার রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা থাকিতে হইবে;
(খ) উক্তরূপ সুবিধাদি পুরুষ ও নারী শ্রমিকগণের জন্য স্বতন্ত্রভাবে থাকিতে হইবে, এবং উহা যথাযথভাবে পর্দাঘেরা থাকিবে;
(গ) উক্তরূপ সুবিধাদি সব সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখিতে হইবে এবং সহজে গমনযোগ্য হইতে হইবে৷
(২) সরকার বিধি দ্বারা কোন প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে উক্তরূপ সুবিধাদির মান নির্ধারণ করিতে পারিবে৷
৯৪৷ (১) সাধারণতঃ চল্লিশ বা ততোধিক নারী শ্রমিক নিয়োজিত আছেন এরূপ প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে তাহাদের ছয় বৎসরের কম বয়সী শিশু সন্তানগণের ব্যবহারের জন্য এক বা একাধিক উপযুক্ত কক্ষের ব্যবস্থা ও রক্ষণাবেক্ষণ করিতে হইবে৷
(২) উক্তরূপ কোন কক্ষে যথেষ্ট স্থান সংস্থান, আলো ও বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা থাকিবে, এবং উহা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মতভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করিতে হইবে, এবং কক্ষটি শিশুদের পরিচর্যার জন্য অভিজ্ঞ বা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারীর তত্ত্বাবধানে থাকিবে।
(৩) উক্তরূপ কক্ষ শিশুদের মায়েদের জন্য সহজগম্য হইতে হইবে, এবং যুক্তিসংগতভাবে যতদূর সম্ভব উহা প্রতিষ্ঠানের এমন কোন অংশের সংলগ্ন বা নিকটে অবস্থিত হইবে না যেখান হইতে বিরক্তিকর ধোঁয়া, ধুলাবালি বা গন্ধ নির্গত হয়, অথবা যেখানে অতি মাত্রায় শব্দময় কাজ-কর্ম পরিচালিত হয়।
(৪) উক্তরূপ কক্ষ মজবুতভাবে নির্মাণ করিতে হইবে, এবং ইহার সকল দেওয়ালে ও ছাদে উপযুক্ত তাপ প্রতিরোধক বস্তু থাকিতে হইবে এবং ইহা পানি-রোধক হইতে হইবে।
(৫) উক্তরূপ কক্ষের উচ্চতা মেঝে হইতে ছাদের সর্বনিম্ন অংশ পর্যন্ত ৩৬০ সেণ্টিমিটারের নীচে হইবে না, এবং উহাতে অবস্থানরত প্রত্যেক শিশুর জন্য মেঝের পরিমাণ হইবে কমপক্ষে ৬০০ বর্গ সেণ্টিমিটার।
(৬) উক্তরূপ কোন কক্ষের প্রত্যেক অংশের জন্য প্রচুর আলো-বাতাস ও মুক্ত বায়ু সঞ্চালনের উপযুক্ত ও কার্যকর ব্যবস্থা থাকিতে হইবে।
(৭) উক্তরূপ কোন কক্ষ যথেষ্ট আসবাবপত্র দ্বারা সজ্জিত থাকিবে এবং বিশেষ করিয়া প্রত্যেক শিশুর জন্য বিছানাসহ একটি খাট বা দোলনা থাকিবে, এবং প্রত্যেক মা যখন শিশুকে দুধ পান করাইবেন বা পরিচর্যা করিবেন, তখন তাহার ব্যবহারের জন্য অন্ততঃ একটি চেয়ার বা এই প্রকারের কোন আসন থাকিতে হইবে, এবং তুলনামূলকভাবে বয়স্ক শিশুদের জন্য যথেষ্ট ও উপযুক্ত খেলনার সরবরাহ থাকিতে হইবে।
(৮) তুলনামূলকভাবে বয়স্ক শিশুদের জন্য একটি উপযুক্ত ঘেরা দেওয়া ছায়াময় উন্মুক্ত খেলার মাঠ থাকিেবঃ
তবে শর্ত থাকে যে, প্রধান পরিদর্শক লিখিত আদেশ দ্বারা কোন প্রতিষ্ঠানকে এই উপ-ধারার বিধান হইতে অব্যাহতি দিতে পারিবেন যদি তিনি এই মর্মে সন্তুষ্ট হন যে উক্তরূপ খেলার মাঠ করার জন্য প্রতিষ্ঠানের যথেষ্ট জায়গা নাই।
নবম অধ্যায়
কমর্ঘন্টা ও ছুটি
১০৯। কোন নারী শ্রমিককে তাহার বিনা অনুমতিতে কোন প্রতিষ্ঠানে রাত দশ ঘটিকা হইতে ভোর ছয় ঘটিকা পযর্ন্ত সময়ের মধ্যে কোন কাজ করিতে দেওয়া হইবে না।
১১৭। (১) কোন প্রতিষ্ঠানে অবিচ্ছিন্নভাবে এক বৎসর চাকুরী পূর্ণ করিয়াছেন এমন প্রত্যেক প্রাপ্ত বয়স্ক শ্রমিককে পরবর্তী বারো মাস সময়ে তাহার পূর্ববর্তী বারো মাসের কাজের জন্য মজুরীসহ নিম্নবর্ণিত হারে গণনার ভিত্তিতে ছুটি মঞ্জুর করিতে হইবে, যথাঃ-
(ক) কোন দোকান বা বাণিজ্য বা শিল্প প্রতিষ্ঠান অথবা কোন কারখানা অথবা সড়ক পরিবহন প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে, প্রতি আঠার দিন কাজের জন্য একদিন;
(খ) কোন চা বাগানের ক্ষেত্রে, প্রতি বাইশ দিন কাজের জন্য একদিন;
(গ) কোন সংবাদপত্র শ্রমিকের ক্ষেত্রে প্রতি এগার দিন কাজের জন্য একদিন।
(২) কোন প্রতিষ্ঠানে অবিচ্ছিন্নভাবে এক বৎসর চাকুরী পূর্ণ করিয়াছেন এমন প্রত্যেক অপ্রাপ্ত বয়স্ক শ্রমিককে পরবর্তী বারো মাস সময়ে তাহার পূর্ববর্তী বারো মাসের কাজের জন্য মজুরীসহ নিম্নবর্ণিত হারে গণনার ভিত্তিতে ছুটি মঞ্জুর করিতে হইবে; যথাঃ-
151[(ক) কোনো কারখানার ক্ষেত্রে, প্রতি ১৪ (চৌদ্দ) দিন কাজের জন্য ১ (এক) দিন;]
(খ) কোন চা-বাগানের ক্ষেত্রে, প্রতি আঠার দিন কাজের জন্য একদিন;
(গ) কোন দোকান বা বাণিজ্য অথবা শিল্প প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে, প্রতি চৌদ্দ দিন কাজের জন্য একদিন।
(৩) এই ধারার অধীন মঞ্জুরকৃত কোন ছুটির সময়ের মধ্যে যদি অন্য কোন ছুটি পড়ে তাহা হইলে উক্ত ছুটি ও ইহার অর্ন্তভুক্ত হইবে।
(৪) যদি কোন শ্রমিক কোন বারো মাস মেয়াদের মধ্যে উপ-ধারা (১) অথবা (২) এর অধীন তাহার প্রাপ্য কোন ছুটি সম্পূর্ণ বা অংশত ভোগ না করেন তাহা হইলে উক্তরূপ প্রাপ্য ছুটি পরবর্তী বারো মাস মেয়াদে তাহার প্রাপ্য ছুটির সহিত যুক্ত হইবে।
(৫) উপ-ধারা (৪) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোন প্রাপ্ত বয়স্ক শ্রমিকের এই ধারার অধীন ছুটি পাওনা বন্ধ হইয়া যাইবে যখন তাহার পাওনা অর্জিত ছুটি-
(ক) কোন কারখানা অথবা সড়ক পরিবহন প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে, চলিস্নশ দিন হয়;
(খ) কোন চা-বাগান, দোকান বা বাণিজ্য অথবা শিল্প প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে, ষাট দিন হয়।
(৬) উপ-ধারা (৪) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোন 152[ কিশোর] শ্রমিকের এই ধারার অধীন ছুটি পাওনা বন্ধ হইয়া যাইবে যখন তাহার পাওনা অর্জিত ছুটি-
(ক) কোন কারখানা অথবা চা-বাগানের ক্ষেত্রে, ষাট দিন হয়;
(খ) কোন দোকান বা বাণিজ্য অথবা শিল্প প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে, আশি দিন হয়।
(৭) কোন শ্রমিক অর্জিত ছুটির জন্য দরখাসত্দ করিলে যদি মালিক কোন কারণে উহা না-মঞ্জুর করেন, তাহা হইলে উক্ত না-মঞ্জুরকৃত ছুটি সংশিস্নষ্ট শ্রমিকের হিসাবে উপ-ধারা (৫) অথবা (৬) এ উলিস্নখিত সীমার অতিরিক্ত পাওনা হিসাবে যুক্ত হইবে।
(৮) এই ধারা প্রয়োজনে, কোন শ্রমিক কোন প্রতিষ্ঠানে অবিচ্ছিন্নভাবে কোন সময়ের জন্য কাজ সমপূর্ণ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন যদিও বা উক্ত সময়ে নিম্নলিখিত কারণে তাহার কাজ ব্যাহত হইয়া থাকে, যথাঃ-
(ক) কোন বন্ধের দিন;
(খ) কোন মজুরীসহ ছুটি;
(গ) পীড়া বা দুর্ঘটনার কারণে মজুরীসহ বা মজুরী ছাড়া কোন ছুটি;
153[(ঘ) অনধিক ১২০ (একশত বিশ) দিন পর্যন্ত প্রসূতিকালীন ছুটি;]
(ঙ) কোন লে-অফ;
(চ) আইন সম্মত কোন ধর্মঘট বা বে-আইনী কোন লক-আউট।
১১৮। (১) প্রত্যেক শ্রমিককে প্রতি পঞ্জিকা বৎসরে 154[১৩ (তের)] দিনের মজুরীসহ উৎসব ছুটি মঞ্জুর করিতে হইবে।
(২) বিধি দ্বারা নির্ধারিতভাবে মালিক উক্ত ছুটির দিন ও তারিখ স্থির করিবেন।
155[ (৩) কোনো শ্রমিককে কোনো উৎসব-ছুটির দিনে কাজ করিতে বলা যাইতে পারিবে, তবে ইহার জন্য তাহাকে এক দিনের বিকল্প ছুটি এবং দুই দিনের ক্ষতিপূরণমূলক মজুরি প্রদান করিতে হইবে।]
দশম অধ্যায়
মজুরী ও উহার পরিশোধ
১৩২। (১) যে ক্ষেত্রে এই আইনের বিধানের খেলাপ 163[ করিয়া] কোন শ্রমিকের মজুরী হইতে কোন কর্তন করা হয় অথবা কোন শ্রমিকের মজুরী পরিশোধ করা না হয় অথবা তাহার মজুরী কিংবা কোন বিধির আওতায় প্রদেয় গ্রাচুইটি বা ভবিষ্য তহবিলের প্রাপ্য পরিশোধে বিলম্বে ঘটে সে ক্ষেত্রে তিনি, অথবা তাহার মৃতু্য হইলে তাহার কোন উত্তরাধিকারী অথবা কোন আইনসঙ্গত প্রতিনিধি 164[বা কোনো পরিদর্শক] কর্তৃক মজুরী ফেরত পাওয়ার জন্য অথবা বকেয়া বা বিলম্বিত মজুরী ও অন্যান্য পাওনা আদায়ের জন্য শ্রম আদালতে দরখাসত্দ করিতে পারিবেন।
(২) উক্তরূপ দরখাসত্দ, সংশিস্নষ্ট শ্রমিক যে স্থানে কাজ করিতেন অথবা যে স্থানে তাহাকে মজুরী পরিশোধ করা হইত সে স্থান যে শ্রম আদালতের এখতিয়ারাধীন, সে শ্রম আদালতে মজুরী কর্তনের তারিখ হইতে অথবা, ক্ষেত্রমত, মজুরী প্রদেয় হওয়ার তারিখ হইতে বারো মাসের মধ্যে পেশ করিতে হইবেঃ
তবে শর্ত থাকে যে, উক্তরূপ কোন দরখাস্ত উক্ত সময়ের পরেও পেশ করা যাইবে যদি দরখাস্তকারী শ্রম আদালতকে এই মর্মে সন্তুষ্ট করিতে পারেন যে, উক্ত সময়ের মধ্যে দরখাসত্দ দাখিল না করার পিছনে তাহার যথেষ্ট কারণ ছিল।
(৩) শ্রম আদালত উপ-ধারা (১) এর অধীন কোন দরখাসত্দ প্রাপ্তির পর উহার উপর দরখাসত্দকারী এবং মালিক অথবা মজুরী পরিশোধের জন্য এই অধ্যায়ের বিধান অনুযায়ী দায়ী অন্য কোন ব্যক্তিকে শুনানীর জন্য যুক্তসংগত সুযোগ দান করিবে এবং প্রয়োজনীয় সাৰ্য প্রমাণ গ্রহণ করিবে, এবং যে মজুরী কর্তন করা হইয়াছে বা যে মজুরী পরিশোধ করা হয় নাই বা পরিশোধে বিলম্ব করা হইতেছে উহা দরখাসত্দকারীকে পরিশোধ করিবার জন্য মালিক বা মজুরী পরিশোধের জন্য দায়ী উক্ত ব্যক্তিকে নির্দেশ দিতে পারিবে।
(৪) উপ-ধারা (৩) এর অধীন কোন আদেশ এই আইনের অধীন উক্ত মালিক বা মজুরী পরিশোধের জন্য দায়ী ব্যক্তির বিরম্নদ্ধে গ্রহণীয় কোন শাসত্দিমূলক ব্যবস্থার হানি করিবে না।
(৫) শ্রম আদালত উপ-ধারা (৩) এর অধীন প্রদত্ত নির্দেশের সময় মজুরীর শতকরা পঁচিশ ভাগ ৰতিপূরণ হিসাবে দরখাসত্দকারীকে প্রদানের জন্যও মালিক বা মজুরী পরিশোধের জন্য দায়ী ব্যক্তিকে নির্দেশ দিতে পারিবে।
(৬) মজুরী পরিশোধে বিলম্বের ক্ষেত্রে উপ-ধারা (৫) এর অধীন ৰতিপূরণ প্রদানের জন্য কোন নির্দেশ দেওয়া যাইবে না, যদি শ্রম আদালত এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে, উক্ত বিলম্বের কারণ ছিল-
(ক) শ্রমিককে প্রদেয় মজুরীর পরিমাণ সম্পর্কে প্রকৃত ভুল বা প্রকৃত বিরোধ;
(খ) কোন জরম্নরী অবস্থা অথবা বিশেষ পরিস্থিতির কারণে মজুরী পরিশোধের জন্য দায়ী ব্যক্তি কর্তৃক তাহার যুক্তিসংগত চেষ্টা সত্ত্বেও যথাসময়ে উহা প্রদান করিতে অৰমতা; অথবা
(গ) মজুরী গ্রহণে অথবা উহার জন্য দরখাসত্দ করিতে শ্রমিকের ব্যর্থতা।
(৭) এই ধারার অধীন কোন দরখাসত্দ শুনানীকালে যদি শ্রম আদালত এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে, উক্ত দরখাসত্দ বিদ্বেষ প্রসূত অথবা বিরক্তিকর তাহা হইলে আদালত দরখাসত্দকারীকে অনধিক দুইশত টাকা পর্যনত্দ জরিমানা করিতে পারিবে এবং উহা মালিক বা মজুরী পরিশোধের জন্য দায়ী ব্যক্তিকে প্রদান করিবার নির্দেশ দিতে পারিবে।
একাদশ অধ্যায়
মজুরী বোর্ড
১৩৯। (১) যে ক্ষেত্রে কোন শিল্পে নিযুক্ত শ্রমিকগণের বিরাজমান মজুরী হারের পরিপেক্ষিতে সরকার এই মর্মে অভিমত পোষণ করে যে, উক্ত শিল্পে নিযুক্ত সকল বা যে কোন শ্রেণীর শ্রমিকের নিম্নতম মজুরী হার স্থির করা প্রয়োজন এবং যুক্তিসংগত সে ক্ষেত্রে সরকার মজুরী বোর্ডকে প্রয়োজনীয় তদন্তান্তে উক্ত শ্রমিকগণ বা শ্রমিক শ্রেণীর জন্য নিম্নতম মজুরী হার সুপারিশ করার জন্য নির্দেশ দিতে পারিবে।
ব্যাখ্যাঃ কোন শিল্পের মালিক কিংবা শ্রমিক পক্ষ অথবা উভয় পক্ষের দাখিলকৃত আবেদনক্রমে সরকার সেই শিল্পে নিযুক্ত শ্রমিকের ন্যুনতম মজুরীর হার নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনা করিতে পারিবে।
(২) মজুরী বোর্ড উক্তরূপ নির্দেশ প্রাপ্তির ছয় মাসের মধ্যে সরকারের নিকট উহার সুপারিশ পেশ করিবেঃ
তবে শর্ত থাকে যে, মজুরী বোর্ডের অনুরোধে সরকার উক্ত মেয়াদ বৃদ্ধি করিতে পারিবে।
(৩) উপ-ধারা (১) এর নির্দেশ মোতাবেক মজুরী বোর্ড কোন গ্রেডের সকল শ্রমিক শ্রেণীর জন্য নিম্নতম মজুরী হারের সুপারিশ করিতে পারিবে, এবং উক্তরূপ সুপারিশে-
(ক) মেয়াদী কাজ এবং ঠিকা কাজের জন্য নিম্নতম মজুরীর হার; এবং
(খ) ঠিকা কাজে নিযুক্ত শ্রমিকগণের জন্য নিম্নতম মেয়াদী হার;
এরও সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করিতে পারিবে।
(৪) মজুরী বোর্ড কর্তৃক সুপারিশকৃত মেয়াদী হার ঘন্টা, দৈনিক, সাপ্তাহিক বা মাসিক ভিত্তিতে হইতে পারিবে।
(৫) মজুরী বোর্ড উহার সুপারিশে নিম্নতম মজুরীর হার সমগ্র দেশের জন্য একইভাবে গ্রহণ করা উচিত হইবে না কি উহাতে উল্লিখিত স্থানে উহাতে বর্ণিত স্থানীয় ব্যতিক্রম সহকারে গ্রহণ করা উচিত হইবে-ইহাও নির্দেশ করিবে।
(৬) কোন শিল্পে নিযুক্ত শ্রমিকের জন্য স্থিরকৃত ন্যূনতম মজুরীর হার সরকারের নির্দেশক্রমে প্রতি 165[৩ (তিন)] বছর অন্তর পুনঃনির্ধারণ করিবে।
দ্বাদশ অধ্যায়
দুর্ঘটনাজনিত কারণে জখমের জন্য ক্ষতিপূরণ
171[১৫১ক। (১) এই আইনের অন্যান্য বিধানে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সরকার বিধি দ্বারা উপযুক্ত বিবেচিত একটি কর্মস্থলে দুর্ঘটনাজনিত ক্ষতিপূরণ তহবিল (Employment Injury Scheme Fund) প্রতিষ্ঠা করিবে, এবং উক্ত বিধিতে তহবিলের ব্যবস্থাপনা বোর্ডের গঠন ও কার্যাবলি, প্রদেয় সুবিধার প্রকার ও মাত্রা নির্ধারণ, তহবিলের অর্থায়ন উৎস ও পদ্ধতি, এবং তহবিলের কার্যকর প্রশাসন ও বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য বিষয়াবলি অন্তর্ভুক্ত থাকিবে।
(২) সরকার এই উদ্দেশ্যে সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা কোনো কোনো শিল্প বা খাতে এই তহবিল প্রযোজ্য হইবে তাহা নির্ধারণ করিতে পারিবে এবং এইরূপ নির্ধারণের পর কর্মস্থলে দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে ধারা ১৫০ এর আওতায় মালিকের দায়িত্ব সংক্রান্ত এই আইনের বিধানাবলি সংশ্লিষ্ট শিল্প বা খাতের মালিকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না।]
ত্রয়োদশ অধ্যায়
ট্রেড ইউনিয়ন এবং শিল্প সম্পর্ক
178[১৭৫। (১) বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থি কোনো কিছু না থাকিলে এবং ধারা ১(৪) ও ২(৬৫) তে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই অধ্যায়ে “শ্রমিক” অর্থ ধারা ২(৬৫) এ সংজ্ঞায়িত “শ্রমিক” এর পাশাপাশি স্ব-নিয়োজিত শ্রমিক, দৈনিক বা অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োজিত শ্রমিক, কিংবা কোনো ডিজিটাল শ্রম প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নিয়োজিত ব্যক্তি, এবং এই অধ্যায়ের অধীন শিল্পবিরোধ সম্পর্কে কোনো কার্যধারার প্রয়োজনে, উক্ত বিরোধের সূত্রে অথবা বিরোধের ফলে লে-অফকৃত, ছাঁটাইকৃত, ডিসচার্জকৃত, বরখাস্তকৃত অথবা অন্যভাবে চাকুরি হইতে অপসারিত কোনো শ্রমিক অথবা যাহার লে-অফ, ছাঁটাই, ডিসচার্জ, বরখাস্ত বা অপসারণ হইতে উক্ত বিরোধ উত্থিত হইয়াছে এইরূপ কোনো শ্রমিক ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবেন, কিন্তু কোনো প্রতিষ্ঠানের পাহারা টহলদারি অথবা নিরাপত্তা স্টাফ, অগ্নি-নির্বাপক স্টাফের কোনো সদস্য এবং গোপনীয় সহকারী ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবেন না।
(২) প্রশাসনিক, তদারকি কর্মকর্তা বা ব্যবস্থাপনামূলক কাজে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিগণ তাহাদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়া আলাদাভাবে অ্যাসোসিয়েশন বা সমিতি গঠন করিতে পারিবেন।]
১৭৬৷ এই অধ্যায়ের বিধান সাপেক্ষে-
(ক) মুখ্যতঃ শ্রমিক এবং মালিকের সম্পর্ক, অথবা শ্রমিক এবং শ্রমিকের সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণ করার লক্ষ্যে কোন পার্থক্য ছাড়াই সকল শ্রমিকের ট্রেড ইউনিয়ন গঠন করার এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের গঠনতন্ত্র সাপেক্ষে তাহাদের নিজস্ব পছন্দের ট্রেড ইউনিয়নে যোগদানের অধিকার থাকিবে;
180[(কক) মুখ্যত প্রশাসনিক, তদারকি কর্মকর্তা বা ব্যবস্থাপনামূলক কাজে দায়িত্বপ্রাপ্ত এমন ব্যবস্থাপনামূলক কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিগণের তাহাদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কোনো পার্থক্য ছাড়াই অ্যাসোসিয়েশন বা সমিতি গঠন করিবার এবং সংশ্লিষ্ট সমিতির গঠনতন্ত্র অনুসারে তাহাদের নিজস্ব পছন্দের সমিতিতে যোগদানের অধিকার থাকিবে;]
(খ) মুখ্যতঃ মালিক এবং শ্রমিকের সম্পর্ক, অথবা মালিক এবং মালিকের সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণ করার লক্ষ্যে কোন পার্থক্য ছাড়াই সকল মালিকের ট্রেড ইউনিয়ন গঠন করার এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের গঠনতন্ত্র সাপেক্ষে তাহাদের নিজস্ব পছন্দের ট্রেড ইউনিয়নে যোগদানের অধিকার থাকিবে;
(গ) শ্রমিকগণের এবং মালিকগণের ট্রেড ইউনিয়নের ফেডারেশন গঠন করার এবং উহাতে যোগদান করার অধিকার থাকিবে, এবং উক্তরূপ কোন ইউনিয়ন বা ফেডারেশন এর শ্রমিক অথবা মালিকগণের সংগঠনের কোন আন্তর্জাতিক সংস্থা বা কনফেডারেশনের সহিত সম্বন্ধীকরণের অধিকার থাকিবে; এবং
(ঘ) ট্রেড ইউনিয়নসমূহের এবং মালিকদের সমিতিসমূহের নিজস্ব গঠনতন্ত্র ও বিধিমালা প্রণয়নের, সম্পূর্র্র্ণ স্বাধীনভাবে নিজস্ব প্রতিনিধদের নির্বাচনের, সমিতির প্রশাসন ও কর্মতত্পরতা, সংগঠনের এবং কর্মসূচী প্রণয়নের অধিকার থাকিবে181[;
(ঙ) যে প্রতিষ্ঠানের জন্য ট্রেড ইউনিয়ন গঠিত হইবে উক্ত প্রতিষ্ঠানের মোট শ্রম শক্তি বা সদস্যের শতকরা ২০ ভাগ নারী থাকিলে সে ক্ষেত্রে ইউনিয়ন নির্বাহী কমিটিতে ন্যূনতম ১০% নারী সদস্য থাকিতে হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, এই আইন দ্বারা যে ইউনিয়ন রেজিস্ট্রেশন হইবে সেই ইউনিয়ন এই আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হইবে।]
১৭৮৷ (১) কোন ট্রেড ইউনিয়ন রেজিস্ট্রিকরণের জন্য দরখাস্ত শ্রম পরিচালকের অথবা এতদসংশ্লিষ্ট বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট পেশ করিতে হইবে৷
(২) উক্ত দরখাস্তের সহিত নিম্নলিখিত বিষয়গুলি সংযোজিত থাকিবে, যথাঃ-
(ক) নিম্নলিখিত তথ্য সরবরাহ করিয়া একটি বিবরণ, যথাঃ-
(১) ট্রেড ইউনিয়নের নাম এবং উহার প্রধান কার্যালয়ের ঠিকানা,
(২) ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের তারিখ,
184[ (৩) ট্রেড ইউনিয়নের কর্মকর্তাগণের নাম, পিতা ও মাতার নাম, বয়স, 185[***], পেশা এবং ইউনিয়নে তাহাদের পদ এবং অনানুষ্ঠানিক সেক্টরে কর্মরত শ্রমিকদের ক্ষেত্রে ছবিসহ প্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্র বা জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্ম নিবন্ধন সনদ,]
(৪) সকল চাঁদা দানকারী সদস্যগণের বিবরণ,
(৫) যে প্রতিষ্ঠানের সহিত ট্রেড ইউনিয়নটি সংশ্লিষ্ট উহার নাম, এবং উহাতে নিযুক্ত বা কর্মরত শ্রমিকের মোট 186[সংখ্যা, এবং এই উপ-দফার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, প্রতিষ্ঠানে কতজন শ্রমিক কর্মরত রহিয়াছেন, সেই বিষয়ে ঐ প্রতিষ্ঠানের কোনো শ্রমিক ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের নিকট প্রত্যয়ন চাহিলে তাহা ১০ (দশ) কার্যদিবসের মধ্যে সরবরাহ করিতে হইবে,]
(৬) কোন ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের ক্ষেত্রে, উহার সদস্য ইউনিয়নের নাম, ঠিকানা ও রেজিস্ট্রি নম্বর৷
187[(খ) সাধারণ সভার কার্যবিবরণী সভাপতির স্বাক্ষরিত এবং অনুমোদিত গঠনতন্ত্র;]
188[***]
(ঘ) ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের ক্ষেত্রে, উহার সদস্য হওয়ার জন্য সম্মতি প্রকাশ করিয়া প্রত্যেক সদস্য ইউনিয়ন কর্তৃক গৃহীত প্রস্তাবের একটি কপি;
189[(২ক) ট্রেড ইউনিয়নের সদস্যদের কোনো ব্যক্তিগত তথ্য, যাহা এই ধারা অনুসারে রেজিস্ট্রারের কাছে জমা দেওয়া হইয়াছে তাহা মালিকসহ অন্য কোনো তৃতীয় পক্ষের কাছে প্রকাশ করা যাইবে না।]
190[ ***]
১৭৯৷ (১) এই অধ্যায়ের অধীন কোন ট্রেড ইউনিয়ন রেজিস্ট্রিকরণের অধিকারী হইবে না, যদি না উহার গঠনতন্ত্রে নিম্নলিখিত বিষয়াদির বিধান থাকে, যথাঃ-
(ক) ট্রেড ইউনিয়নের নাম ও ঠিকানা;
(খ) ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের উদ্দেশ্য;
191[ (গ) কোনো শ্রমিকের ট্রেড ইউনিয়নের সদস্য হওয়ার পদ্ধতি এবং বিধি দ্বারা নির্ধারিত ফরমে সদস্যপদ গ্রহণের ঘোষণা;]
(ঘ) ট্রেড ইউনিয়নের তহবিলের উত্স এবং উক্ত তহবিল কি উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হইবে তাহার বর্ণনা 192[ :
তবে শর্ত থাকে যে, ইউনিয়নের চাঁদা ব্যতিরেকে দেশি বা বিদেশি অন্য কোনো উৎস হইতে অর্থ সংগ্রহ করিবার ক্ষেত্রে তাহা সরকারকে অবহিত করিতে হইবে;]
(ঙ) ট্রেড ইউনিয়নের গঠনতন্ত্র কর্তৃক নিশ্চিত কোন সুবিধা কোন সদস্য কর্তৃক পাওয়ার অধিকারী হওয়ার জন্য শর্ত এবং কোন সদস্যের উপর জরিমানা অথবা বাজেয়াপ্তির আদেশ প্রদানের শর্ত;
(চ) ট্রেড ইউনিয়নের সদস্যগণের তালিকা সংরক্ষণ এবং উহার কর্মকর্তা ও সদস্য কর্তৃক উহা পরিদর্শনের পর্যাপ্ত সুবিধা;
(ছ) গঠনতন্ত্রের পরিবর্তন, সংশোধন ও বাতিলের পন্থা;
(জ) ট্রেড ইউনিয়ন তহবিলের নিরাপদ 193[ সংরক্ষণ], উহার বাত্সরিক নিরীক্ষা, নিরীক্ষার পন্থা, এবং ট্রেড ইউনিয়নের কর্মকর্তা ও উহার সদস্য কর্তৃক উহার হিসাব বই পরিদর্শনের পর্যাপ্ত সুবিধা;
(ঝ) ট্রেড ইউনিয়ন অবলুপ্তির পন্থা;
(ঞ) ট্রেড ইউনিয়নের সাধারণ সদস্যগণ কর্তৃক উহার কর্মকর্তা নির্বাচনের পন্থা, এবং কর্মকর্তাগণের কার্যকালের মেয়াদ যাহা কোন ক্ষেত্রেই 194[৩(তিন)] বত্সরের বেশী হইবে না 195[ এবং প্রতিষ্ঠানপুঞ্জের ক্ষেত্রে কর্মকর্তাগণের কার্যকালের মেয়াদ তিন বৎসরের বেশী হইবে না:
তবে শর্ত থাকে যে, রাষ্ট্রীয় জরুরী অবস্থা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ (Force majure) বা অনুরূপ কোন কারণে ট্রেড ইউনিয়নের ক্ষেত্রে 196[৩(তিন)] বৎসর অথবা প্রতিষ্ঠানপুঞ্জের ক্ষেত্রে ৩ বৎসরের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হইলেও উক্ত কমিটিকে অবৈধ ঘোষণা করা যাইবে না।]
197[(ট) কর্মকর্তার সংখ্যা ট্রেড ইউনিয়নের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্ধারিত হইবে;]
(ঠ) ট্রেড ইউনিয়নের কর্মকর্তাগণের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রকাশের পদ্ধতি; এবং
198[(ড) ট্রেড ইউনিয়নের নির্বাহী কমিটি এবং সাধারণ সদস্যদের সভা আহ্বান করিবার বিষয়টি গঠনতন্ত্রে উল্লিখিত বিধান অনুযায়ী পরিচালিত হইবে, তবে সাধারণ সদস্যদের সভা বৎসরে অন্তত একবার আয়োজন করিতে হইবে;]
199[(২) কোনো প্রতিষ্ঠানে কর্মরত অন্যূন ২০ জন শ্রমিক একত্রিত হইয়া এই অধ্যায়ের অধীন ট্রেড ইউনিয়ন রেজিস্ট্রিকরণের জন্য আবেদন করিতে পারিবেন, তবে শ্রমিকগণের কোনো ট্রেড ইউনিয়ন এই অধ্যায়ের অধীন রেজিস্ট্রিকরণের অধিকারী হইবে না, যদি না উহার সদস্য সংখ্যা যে প্রতিষ্ঠানে উহা গঠিত হইয়াছে, সেই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রমিকগণের মোট সংখ্যার নিম্নরূপভাবে নির্ধারিত হয়:
(ক) প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক সংখ্যা ২০ জন হইতে ৩০০ জন পর্যন্ত ২০ জন;
(খ) প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক সংখ্যা ৩০১ জন হইতে ৫০০ জন পর্যন্ত ৪০ জন;
(গ) প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক সংখ্যা ৫০১ জন হইতে ১৫০০ জন পর্যন্ত ১০০ জন;
(ঘ) প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক সংখ্যা ১৫০১ জন হইতে ৩০০০ জন পর্যন্ত ৩০০ জন; এবং
(ঙ) প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক সংখ্যা ৩০০১ জন হইতে তদূর্ধ্ব পর্যন্ত ৪০০ জন।]
200[(২ক) মহাপরিচালক অথবা এতৎসংশ্লিষ্ট বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ হইতে তালিকা সংগ্রহ করিয়া অথবা ডিজিটাল পদ্ধতিতে অনলাইনে ধারা ১৭৮ এর উপ-ধারা (২) এর দফা (ক) এর উপ-দফা (৫) এবং এই ধারায় বর্ণিত বিষয়াদির সঠিকতা যাচাই করিবেন;]
(৩) যে ক্ষেত্রে কোন দুই বা ততোধিক প্রতিষ্ঠান একই মালিকের অধীন কি না, অথবা একই শিল্প পরিচালনার উদ্দেশ্যে উহারা পরস্পর সংশ্লিষ্ট ও সম্পর্কযুক্ত কি না এইরূপ কোন সন্দেহ বা বিরোধ দেখা দেয় সে ক্ষেত্রে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য শ্রম পরিচালকের নিকট প্রেরণ করা যাইবে৷
(৪) উপ-ধারা (৩) এর অধীন শ্রম পরিচালক কর্তৃক প্রদত্ত কোন সিদ্ধান্তের দ্বারা কোন ব্যক্তি সংক্ষুব্ধ হইলে তিনি সিদ্ধান্তপ্রদানের তারিখ হইতে ত্রিশ দিনের মধ্যে উহার বিরুদ্ধে শ্রম আদালতে আপীল করিতে পারিবেন, এবং এই বিষয়ে শ্রম আদালতের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হইবে৷
201[(৫) কোনো প্রতিষ্ঠানে অথবা প্রতিষ্ঠানপূঞ্জে ধারা ১৭৫ এর উপ-ধারা (১) এবং (২) এর অধীন শ্রমিকগণের বা ব্যক্তিগণের বা কর্মকর্তাগণের বা মালিকগণের প্রতিক্ষেত্রে কোনো সময়ে ০৫ (পাঁচ) টির অধিক রেজিস্ট্রেশন প্রদান করা যাইবে না।]
১৮০। (১) কোন ট্রেড ইউনিয়নের গঠনতন্ত্রে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোন ব্যক্তি উহার কর্মকর্তা অথবা সদস্য নির্বাচিত হওয়ার বা থাকিবার যোগ্য হইবেন না, যদি-
(ক) তিনি নৈতিক স্খলনজনিত কোন ফৌজদারী অপরাধে দোষী সাব্যসত্দ হইয়া থাকেন, অথবা ধারা ১৯৬(২)(ঘ) অথবা ধারা ২৯৮ এর অধীন কোন অপরাধের জন্য দোষী সাব্যসত্দ হইয়া থাকেন এবং তাহার মুক্তিলাভের পর দুই বৎসর কাল অতিবাহিত না হইয়া থাকে;
(খ) যে প্রতিষ্ঠানে ট্রেড ইউনিয়ন গঠন করা হইয়াছে সে প্রতিষ্ঠানে তিনি শ্রমিক হিসাবে নিয়োজিত বা কর্মরত না থাকেন 202[203[।
204[***]
(২) উপ-ধারা (১)(খ) এর কোন কিছুই কোন ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের ৰেত্রে প্রযোজ্য হইবে না।
১৮২৷ (১) 205[ মহাপরিচালক], কোন ট্রেড ইউনিয়ন কর্তৃক এই অধ্যায়ের সকল প্রয়োজনীয় বিষয়াদি পালিত হইয়াছে 206[এই মর্মে নিশ্চিত হইবার পর], বিধি দ্বারা নির্ধারিত রেজিস্টারে উহাকে রেজিস্ট্রি করিবেন, এবং রেজিস্ট্রিকরণের জন্য দরখাস্ত প্রাপ্তির 207[ পঞ্চান্ন] দিনের মধ্যে বিধি দ্বারা নির্ধারিত ফরমে একটি রেজিস্ট্রিকরণ-প্রত্যয়নপত্র প্রদান করিবেন৷
(২) যদি 208[ মহাপরিচালক] উক্ত দরখাস্তে অত্যাবশ্যক কোন তথ্যের অসম্পূর্র্র্ণতা দেখিতে পান তাহা হইলে তিনি দরখাস্ত প্রাপ্তির 209[ বারো] দিনের মধ্যে উক্ত বিষয়ে তাহার আপত্তি ট্রেড ইউনিয়নকে লিখিতভাবে জানাইবেন, এবং ট্রেড ইউনিয়ন উহা প্রাপ্তির পনর দিনের মধ্যে ইহার জবাব দিবে 210[ । ] 211[***]
(৩) যখন শ্রম পরিচালক কর্তৃক উত্থাপিত আপত্তি সন্তোষজনকভাবে মিটানো হয়, তখন তিনি উপ-ধারা (১) এর বিধান অনুযায়ী ট্রেড ইউনিয়নটিকে রেজিস্ট্রি করিবেন; এবং উহা যদি সন্তোষজনক ভাবে মিটানো না হয়, তাহা হইলে তিনি দরখাস্ত প্রত্যাখ্যান করিবেন৷
(৪) যে ক্ষেত্রে শ্রম পরিচালক কোন দরখাস্ত প্রত্যাখ্যান করেন অথবা আপত্তি মিটানোর পরেও উপ-ধারা (১) এর উল্লিখিত 212[ পঞ্চান্ন] দিন সময়সীমার মধ্যে দরখাস্ত নিষ্পত্তি না করেন, সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ট্রেড ইউনিয়ন উক্তরূপ প্রত্যাখ্যানের তারিখ অথবা উল্লিখিত সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়ার তারিখ, যাহা আগে হইবে, উহা হইতে ত্রিশ দিনের মধ্যে শ্রম আদালতে আপীল করিতে পারিবে৷
(৫) শ্রম আদালত আপীলটি শুনানীর পর উপযুক্ত বিবেচনা করিলে, উহার রায়ে কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া শ্রম পরিচালককে ট্রেড ইউনিয়নটি রেজিস্ট্রি করিবার জন্য এবং উহার তারিখ হইতে সাত দিনের মধ্যে রেজিস্ট্রি প্রত্যয়নপত্র প্রদান করিবার জন্য নির্দেশ দিতে পারিবে অথবা আপীলটি খারিজ করিতে পারিবে৷
(৬) উপ-ধারা (৫) অনুসারে শ্রম আদালত কর্তৃক প্রদত্ত রায়ের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ পক্ষ শ্রম আদালতের আদেশ প্রাপ্তির ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে শ্রম আপীল আদালতে আপলি দায়ের করিতে পারিবেন৷
213[ (৭) রেজিস্ট্রেশনের আবেদন নিষ্পত্তির জন্য সরকার এই ধারার বিধানাবলির সহিত সামঞ্জস্য রাখিয়া মানসম্পন্ন পরিচালনা পদ্ধতি (Standard Operating Procedure) প্রণয়ন করিবে।]
214[(৮) রেজিস্ট্রেশন প্রদানের কার্যপ্রণালির আওতায় কোনো বিষয়ে প্রশ্ন উত্থাপিত হইলে, সে বিষয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে গঠিত তদারকি কমিটির সুপারিশের আলোকে বিষয়টি নিষ্পত্তি করিতে হইবে।]
১৮৩৷ (১) এই অধ্যায়ে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের উদ্দেশ্যে কোন প্রতিষ্ঠানপুঞ্জ একটি প্রতিষ্ঠান বলিয়া বিবেচিত হইবে, এবং এই প্রতিষ্ঠানপুঞ্জের অন্তর্ভুক্ত কোন প্রতিষ্ঠানে কোন স্বতন্ত্র ট্রেড ইউনিয়ন গঠন করা যাইবে না৷
(২) এই ধারার উদ্দেশ্যে কোন “প্রতিষ্ঠানপুঞ্জ” বলিতে কোন নির্ধারিত এলাকায় একই প্রকারের কোন নির্ধারিত শিল্পে নিয়োজিত এবং অনধিক বিশ জন শ্রমিক নিযুক্ত আছেন- এইরূপ সকল প্রতিষ্ঠানকে বুঝাইবে৷
(৩) উপ-ধারা (২) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোন নির্ধারিত এলাকায় নিম্নবর্ণিত যে কোন শিল্প পরিচালনারত সকল প্রতিষ্ঠান, উহাদের প্রত্যেকটিতে নিযুক্ত শ্রমিকসংখ্যা যাহাই থাকুক না কেন, উক্ত এলাকার জন্য একটি প্রতিষ্ঠানপুঞ্জ বলিয়া গণ্য হইবে, যথাঃ-
215[(ক) বাস,মিনিবাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ইত্যাদি ব্যক্তি মালিকানাধীন যান্ত্রিক সড়ক পরিবহন;
(কক) রিক্সা, রিক্সাভ্যান, ঠেলাগাড়ী ইত্যাদি ব্যক্তি মালিকানাধীন অযান্ত্রিক সড়ক পরিবহন;]
(খ) ব্যক্তি মালিকানাধীন অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন;
(গ) অনূর্ধ ১০০ জন শ্রমিক নিয়োজিত দর্জি ও পোষাক প্রস্তুতকারী শিল্প;
(ঘ) চা শিল্প;
(ঙ) জুট বেলিং;
(চ) চামড়া শিল্প;
(ছ) বিড়ি;
(জ) হস্তচালিত তাঁত;
(ঝ) হোশিয়ারী;
(ঞ) ছাপাখানা;
(ট) অনধিক পঁচিশ অতিথি কক্ষবিশিষ্ট হোটেল অথবা মোটেল;
(ঠ) হোটেলের অংশ হিসাবে নহে-এমন রেস্তোরাঁ;
(ড) ক্ষুদ্র ধাতব শিল্প;
(ঢ) বই-বাঁধাই;
(ণ) সিনেমা এবং থিয়েটার216[;
(ত) জাহাজ নির্মাণ ;
(থ) জাহাজ পুন: প্রক্রিয়াজাতকরণ (রিসাইক্লিং)
(দ) নির্মাণ শ্রমিক ;
(ধ) চাতাল বা চাল কল শ্রমিক ;
(ন) কৃষি খামার 217[;]]
218[(প) গৃহ পরিচারক;]
তবে শর্ত থাকে যে, সরকার যদি জাতীয় স্বার্থে উচিত বলিয়া মনে করে, তাহা হইলে সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, উপরোক্ত শিল্পের তালিকার সহিত অন্য কোন শিল্প যোগ করিতে পারিবে৷
(৪) উপ-ধারা (২) অথবা (৩) এ উল্লিখিত নির্ধারিত এলাকা বলিতে সরকার কর্তৃক, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এতদউদ্দেশ্যে কোন নির্ধারিত শিল্পের জন্য নির্ধারিত কোন এলাকা বুঝাইবে; এবং উক্তরূপ এলাকা জাতীয়, আঞ্চলিক অথবা স্থানীয় ভিত্তিতে নির্ধারিত হইতে পারিবে; এবং ভিন্ন ভিন্ন শিল্পের জন্য ভিন্ন ভিন্ন এলাকা নির্ধারণ করা যাইবে৷
(৫) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত নির্ধারিত শিল্প বলিতে সরকার কর্তৃক, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এতদ্উদ্দেশ্যে নির্ধারিত কোন শিল্পকে বুঝাইবে৷
(৬) কোন প্রতিষ্ঠানপুঞ্জে গঠিত কোন ট্রেড ইউনিয়ন রেজিস্ট্রি করা যাইবে যদি উক্ত প্রতিষ্ঠানপুঞ্জের অন্তর্ভুক্ত সকল প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত সকল শ্রমিকের মোট সংখ্যার অন্যুন 219[২০ (বিশ) জন] উহার সদস্য হয়৷
(৭) এই অধ্যায়ে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, যদি কোন প্রতিষ্ঠানপুঞ্জে গঠিত কোন ট্রেড ইউনিয়নের গঠনতন্ত্রে এরূপ বিধান থাকে যে, উক্ত প্রতিষ্ঠানপুঞ্জের অন্তর্ভুক্ত কোন প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত নহেন এরূপ কোন ব্যক্তি উহার কর্মকর্তা নির্বাচিত হইতে বা থাকিতে পারিবেন-তাহা হইলে উক্তরূপ কোন ব্যক্তি উহার কোন কর্মকর্তা নির্বাচিত হইতে বা থাকিতে পারিবেনঃ
তবে শর্ত থাকে যে, কোন অবস্থাতেই উক্তরূপ ব্যক্তির সংখ্যা উহার মোট কর্মকর্তার সংখ্যার এক-চতুর্থাংশের অধিক হইতে পারিবে না৷
(৮) এই ধারার বিধান সাপেক্ষে, কোন স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠানে গঠিত ট্রেড ইউনিয়নের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য এই অধ্যায়ের অন্য সকল ধারা কোন প্রতিষ্ঠানপুঞ্জে গঠিত ট্রেড ইউনিয়নের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হইবে৷
220[***]
১৮৫৷ 221[(১) এই অধ্যায়ে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সমুদ্রগামী জাহাজে সাধারণত কর্মরত থাকেন এইরূপ নাবিকগণ (Seafarers) যথা- অফিসার ও রেটিংস, তাহাদের স্ব-স্ব ট্রেড ইউনিয়ন গঠন করিতে পারিবেন এবং এইরূপ ক্ষেত্রে অফিসার ও রেটিংসদের স্ব-স্ব ইউনিয়ন যৌথ দর কষাকষি চুক্তি স্বাক্ষর করিতে পারিবেন।]
(২) কোন নাবিক উক্তরূপ কোন ট্রেড ইউনিয়নের সদস্য হইবেন না যদি না তাহার একটি অবিচ্ছিন্ন ডিসচার্জ প্রত্যয়নপত্র থাকে অথবা বাণিজ্যিক জাহাজ ব্যবসায়ের কোন প্রতিষ্ঠানে নাবিক হিসাবে নিযুক্তির কোন নিয়োগ পত্র থাকে৷
222[***]
224[১৮৫ক। (১) এই অধ্যায়ে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, 225[***] বন্দর কর্তৃপক্ষের চাকুরীতে নিযুক্ত কর্মচারীগণ তাহাদের নিজস্ব ট্রেড ইউনিয়ন গঠন করিতে পারিবেন।
(২) 226[***] বন্দর কর্তৃপক্ষে নিযুক্ত কর্মচারীগণ তাহাদের স্ব-স্ব কর্তৃপক্ষে কেবল একটি করিয়া ট্রেড ইউনিয়ন গঠন করিতে পারিবেন।
(৩) উপ-ধারা (৫) এর বিধান সাপেক্ষে, 227[***] বন্দর ব্যবহারকারী, বার্থ-অপারেটর, শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটর ও বন্দর সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রদত্ত নিয়োগ পত্রসহ কাজে নিযুক্ত শ্রমিক ও কর্মচারীগণ সমষ্টিগতভাবে স্ব-স্ব বন্দরে কেবল একটি করিয়া ট্রেড ইউনিয়ন গঠন করিতে পারিবেন।
(৪) 228[***] বন্দর কর্তৃপক্ষে শ্রমিক নিয়োগকারী মালিকগণ স্ব-স্ব কর্তৃপক্ষে সমষ্টিগতভাবে কেবল একটি করিয়া ট্রেড ইউনিয়ন গঠন করিতে পারিবেন।
(৫) কোন শ্রমিক বা কর্মচারী উপ-ধারা (৩) এর অধীন কোন ট্রেড ইউনিয়নের সদস্য হইতে পারিবেন না, যদি না-
(ক) তিনি বন্দর ব্যবহারকারী, বার্থ-অপারেটর, শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটর ও বন্দর সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে ১(এক) বৎসর অধিককাল 229[নিরবচ্ছিন্নভাবে] নিযুক্ত থাকেন ; এবং
(খ) তাহার শ্রমিক বা কর্মচারী হিসাবে নিযুক্তির কোন নিয়োগ পত্র থাকে।
(৬) বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইন, ২০০৯ কার্যকর হইবার ৬ (ছয়) মাসের মধ্যে এই ধারার বিধান অনুযায়ী ট্রেড ইউনিয়ন গঠন করিতে হইবে।
230[(৭) এই আইনের অন্যান্য ধারায় যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সরকার, জনস্বার্থে-
(ক) এই ধারার অধীন গঠিত ট্রেড ইউনিয়নের কার্যক্রম এই আইনের অন্যান্য বিধান সাপেক্ষে, যেকোনোভাবে নিয়ন্ত্রণ করিতে পারিবে; এবং
(খ) ধারা ১৯০ এর অধীন যে কোনো ট্রেড ইউনিয়নের নিবন্ধন বাতিলের ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবে।]
(৮) এই আইনের অন্যান্য ধারায় যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সরকার, জনস্বার্থে,-
(ক) এই ধারার অধীন গঠিত ট্রেড ইউনিয়নের কার্যক্রম এই আইনের অন্যান্য বিধান সাপেক্ষে, যে কোনভাবে নিয়ন্ত্রণ; এবং
(খ) ধারা ১৯০ এর অধীন যে কোন ট্রেড ইউনিয়নের নিবন্ধন বাতিলের ব্যবস্থা গ্রহণ, করিতে পারিবে।]
১৮৮। 232[(১) কোনো ট্রেড ইউনিয়নের গঠনতন্ত্রের প্রত্যেক সংশোধন, উহার কর্মকর্তার প্রত্যেক পরিবর্তন, এবং উহার নাম ও ঠিকানার পরিবর্তন উক্তরূপ সংশোধন বা পরিবর্তনের ১৫ (পনেরো) দিনের মধ্যে রেজিস্ট্রি ডাকযোগে অথবা হাতে হাতে নোটিশ প্রদান করিয়া মহাপরিচালককে অবহিত করিতে হইবে, এবং মহাপরিচালক নোটিশ প্রাপ্তির পর, উক্তরূপ সংশোধন বা পরিবর্তন এই আইন এবং তদনুযায়ী প্রণীত বিধি অনুযায়ী হইলে, ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে রেজিস্ট্রিকরণপূর্বক সঙ্গে সঙ্গে উহার একটি কপি সংশ্লিষ্ট শ্রমিক প্রতিনিধিকে এবং মালিককে তাহার অবগতির জন্য প্রেরণ করিবেন।]
233[ (২) মহাপরিচালক উক্তরূপ কোনো সংশোধন বা পরিবর্তন রেজিস্ট্রি করিতে অস্বীকার করিতে পারিবেন যদি উহা এই অধ্যায়ের কোনো বিধানের খেলাপ করিয়া করা হয়।]
(৩) কোন ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনকে উহার সহিত কোন নূতন সদস্য ইউনিয়নের সংযুক্তি অথবা উহা হইতে কোন সদস্য ইউনিয়নের বিযুক্তি সম্পর্কে, উহা সংগঠিত হওয়ার ষাট দিনের মধ্যে, রেজিস্ট্রি ডাকযোগে প্রেরিত নোটিশ মারফত শ্রম পরিচালককে অবহিত করিতে হইবে।
234[(৪) যদি কোনো ট্রেড ইউনিয়নের কর্মকর্তাদের পরিবর্তনের বিষয়ে বিরোধ থাকে, তাহা হইলে উক্ত বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে মহাপরিচালক প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করিবেন।]
(৫) শ্রম আদালত উপ-ধারা (৪) এর অধীন কোন আপীল প্রাপ্তির সাত দিনের মধ্যে উহার শুনানীর পর, উপযুক্ত বিবেচনা করিলে উহার রায়ে কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া সংশিস্নষ্ট ট্রেড ইউনিয়নের সংশোধন অথবা উহার কর্মকর্তার পরিবর্তন রেজিস্ট্রি করার জন্য শ্রম পরিচালককে নির্দেশ দিতে, অথবা শ্রম পরিচালকের তত্ত্বাবধানে ইউনিয়নের নূতন নির্বাচন অনুষ্ঠানের নির্দেশ দিতে পারিবে।
১৯০৷ (১) এই ধারার অন্য বিধান সাপেক্ষে, শ্রম পরিচালক কোন ট্রেড ইউনিয়নের রেজিস্ট্রি 235[বাতিলের জন্য আবেদন] করিতে পারিবেন, যদি-
236[ (ক) রেজিস্ট্রি বাতিলের জন্য ট্রেড ইউনিয়ন সাধারণ সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে দরখাস্ত করে;]
(খ) উহার অস্তিত্ব বিলুপ্ত হয়;
(গ) উহা প্রতারণা অথবা কোন তথ্যের মিথ্যা বর্ণনার মাধ্যমে রেজিস্ট্রি হাসিল করিয়া থাকে 237[যাহা বস্তুনিষ্ঠ সাক্ষ্যপ্রমাণ দ্বারা সমর্থিত হইতে হইবে];
238[ ***]
(ঙ) উহা কোন অসত্ শ্রম আচরণ করিয়া থাকে;
(চ) উহার সদস্য সংখ্যা এই অধ্যায়ের অধীন প্রয়োজনীয় সংখ্যার নীচে নামিয়া যায়; অথবা
(ছ) উহা এই অধ্যায় বা কোন বিধির বিধান লঙ্ঘন করিয়া থাকে৷
(২) যে ক্ষেত্রে শ্রম পরিচালক তদন্তান্তে এই মর্মে সন্তুষ্ট হন যে, কোন ট্রেড ইউনিয়নের রেজিস্ট্রি বাতিল করা উচিত, সে ক্ষেত্রে তিনি উহার রেজিস্ট্রি বাতিল করার জন্য অনুমতি প্রার্থনা করিয়া শ্রম আদালতে দরখাস্ত পেশ করিবেন৷
(৩) শ্রম পরিচালক শ্রম আদালত হইতে অনুমতি প্রাপ্তির ত্রিশ দিনের মধ্যে উক্ত ট্রেড ইউনিয়নের রেজিস্ট্রি বাতিল করিয়া দিবেন৷
(৪) কোন ট্রেড ইউনিয়নের রেজিস্ট্রি উপ-ধারা (১) (ঙ) অনুযায়ী বাতিল করা যাইবে না যদি না উক্ত ট্রেড ইউনিয়ন কর্তৃক অভিযোগে বর্ণিত অসত্ শ্রম আচরণ সংঘঠিত হওয়ার তিন মাসের মধ্যে শ্রম আদালতে দরখাস্ত করা হয়৷
১৯৫৷ 239[ (১)] কোন মালিক অথবা মালিকগণের ট্রেড ইউনিয়ন অথবা তাহাদের পক্ষে ভারপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি-
(ক) কোন চাকুরী চুক্তিতে সংশ্লিষ্ট শ্রমিকের কোন ট্রেড ইউনিয়নে যোগদান করা অথবা কোন ট্রেড ইউনিয়নে উহার সদস্য পদ চালু রাখার অধিকারের উপর বাধাসম্বলিত কোন শর্ত আরোপ করিবেন না;
(খ) কোন শ্রমিক কোন ট্রেড ইউনিয়নের সদস্য বা কর্মকর্তা আছেন অথবা নহেন-এই অজুহাতে তাহার চাকুরীতে নিয়োজিত করিতে অথবা নিয়োজিত রাখিতে অস্বীকার করিবেন না;
(গ) কোন শ্রমিক কোন ট্রেড ইউনিয়নের সদস্য বা কর্মকর্তা আছেন অথবা নহেন-এই অজুহাতে তাহার চাকুরীতে নিযুক্তি, পদোন্নতি, চাকুরীর শর্তাবলী অথবা কাজের শর্তাবলী সম্বন্ধে তাহার বিরুদ্ধে কোন বৈষম্য করিবেন না;
(ঘ) কোন শ্রমিক কোন ট্রেড ইউনিয়নের সদস্য অথবা কর্মকর্তা আছেন অথবা হইতে চাহেন, অথবা অন্য কোন ব্যক্তিকে উক্তরূপ সদস্য বা কর্মকর্তা হওয়ার জন্য প্ররোচিত করেন, এই কারণে অথবা কোন ট্রেড ইউনিয়নের গঠন, কার্যকলাপ ও উহার প্রসারে অংশগ্রহণ করেন এই কারণে তাহাকে চাকুরী হইতে বরখান্ত, ডিসচার্জ অথবা অপসারণ করা যাইবে না বা উহা করার ভয় প্রদর্শন করা যাইবে না, অথবা তাহার চাকুরীর কোন প্রকার ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া যাইবে না;
(ঙ) কোন শ্রমিককে বা অন্য কোন ব্যক্তিকে কোন সুযোগ দিয়া বা সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব করিয়া অথবা তাহার জন্য সুযোগ সংগ্রহ করিয়া অথবা সংগ্রহ করার প্রস্তাব দিয়া তাহাকে কোন ট্রেড ইউনিয়নের সদস্য বা কর্মকর্তা হইতে বিরত রাখার জন্য অথবা উক্ত পদ ছাড়িয়া দেওয়ার জন্য প্রলুব্ধ করিবেন না;
(চ) ভীতি প্রদর্শন, বল প্রয়োগ, চাপ প্রয়োগ, হুমকি প্রদর্শন, কোন স্থানে আটক, শারীরিক আঘাত, পানি, শক্তি এবং টেলিফোন সুবিধা বিচ্ছিন্ন করিয়া অথবা অন্য কোন পন্থা অবলম্বন করিয়া কোন যৌথ দর কষাকষি প্রতিনিধি কর্মকর্তাকে কোন চুক্তিতে উপনীত হওয়ার অথবা নিষ্পত্তিনামায় দস্তখত করার জন্য বাধ্য করিবেন না বা বাধ্য করার চেষ্টা করিবেন না;
(ছ) ধারা ২০২ এর অধীন কোন নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করিবেন না অথবা কোনভাবে ইহা প্রভাবিত করিবেন না;
(জ) ধারা ২১১ এর অধীন কোন ধর্মঘট চলাকালে অথবা অবৈধ নহে এরূপ কোন ধর্মঘট চলাকালে, কোন নূতন শ্রমিক নিয়োগ করিবেন না, তবে সালিস যদি এই মর্মে সন্তুষ্ট হন যে, কোন প্রতিষ্ঠানে সম্পূর্র্র্ণ কর্ম বিরতির কারণে উহার যন্ত্রপাতি অথবা অন্য কোন স্থাপনার ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হইবার সম্ভাবনা আছে তাহা হইলে তিনি, প্রতিষ্ঠানের যে বিভাগে বা শাখায় অনুরূপ ক্ষতি হইবার সম্ভাবনা আছে সেখানে সীমিত সংখ্যক অস্থায়ী শ্রমিক নিয়োগ করিতে অনুমতি দিতে পারিবেন;
(ঝ) অংশগ্রহণকারী কমিটির কোন সুপারিশ অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যর্থ হইবেন না;
(ঞ) কোন শিল্প বিরোধ সম্পর্কে যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি কর্তৃক প্রদত্ত কোন পত্রের উত্তর দিতে ব্যর্থ হইবেন না;
(ট) ধারা ১৮৭ এর বিধান ভংগ করিয়া কোন ট্রেড ইউনিয়নের 240[সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক বা কোনো কর্মকর্তাকে] বদলী করিবেন না; 241[***]
(ঠ) কোন বে-আইনী লক-আউট শুরু করিবেন না বা চালু রাখিবেন না অথবা উহাতে অংশ গ্রহণের জন্য অন্য কোন ব্যক্তিকে প্ররোচিত করিবেন না।
242[(ড) কোনো শ্রমিক বা ইউনিয়নের কোনো সদস্যকে কোনো কারণে চাকুরির অবসান করা হইলে, ব্ল্যাক লিস্টিং (Black listing) করিয়া নোটিশ জারি বা ডাটাবেইজ এ অন্তর্ভুক্ত করিবেন না;
(ঢ) মালিক বা মালিকদের সংগঠনের নিয়ন্ত্রণে শ্রমিক সংগঠন প্রতিষ্ঠাকে উদ্বুদ্ধ করিবেন না;
(ণ) মালিক বা মালিকদের সংগঠনের নিয়ন্ত্রণে শ্রমিক সংগঠনকে রাখিবার উদ্দেশ্যে আর্থিক বা অন্য কোনরূপ সহায়তা করিবেন না;
(ত) পক্ষপাতমূলকভাবে বিদ্যমান ট্রেড ইউনিয়ন কর্মকর্তাদের বরখাস্ত করা এবং অন্য ট্রেড ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠায় উদ্বুদ্ধ করিবেন না;
(থ) চাকুরির শর্তাবলি লঙ্ঘন করিয়া কোনো শ্রমিককে ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং মালিকের বিরুদ্ধে আইন বা প্রবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ দায়ের বা কোনো কার্যক্রমে অংশগ্রহণের কারণে, হেল্পলাইনসহ, বা উপযুক্ত প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের আশ্রয় নেওয়ার কারণে, অথবা উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত অসৎ শ্রম আচরণ তদন্তে সাক্ষ্য প্রদানের কারণে কর্মক্ষেত্রে কোনো প্রতিশোধমূলক (Retaliation) ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন না।]
243[ (২) অসৎ শ্রম আচরণ বিষয়ক তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সরকার এই ধারার বিধানাবলির সহিত সামঞ্জস্য রাখিয়া মানসম্পন্ন পরিচালনা পদ্ধতি (Standard Operating Procedure) প্রণয়ন করিবে।]
247[ ১৯৬ক। (১) শ্রমিক কর্তৃক ট্রেড ইউনিয়ন প্রক্রিয়া চলাকালে অথবা রেজিস্ট্রেশন দরখাস্ত অনিষ্পন্ন থাকাকালে অথবা রেজিস্ট্রেশনের পরে মালিক কর্তৃক শ্রমিকের চাকুরির শর্তাবলি লঙ্ঘন এবং কর্মস্থলে প্রতিশোধমূলক (retaliation) কোনো কার্যক্রম গ্রহণ করিলে ইহা উক্ত মালিকের পক্ষে এন্টি-ট্রেড ইউনিয়ন ডিসক্রিমিনেশন হইবে।
248[(১ক) যদি মালিক শ্রমিকদের চাকুরির শর্তাবলি লঙ্ঘন করেন এবং ধারা ১৯৫ এর উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত অসৎ শ্রম আচরণ তদন্তের আবেদনের কারণে কর্মক্ষেত্রে কোনো প্রতিশোধমূলক (Retaliation) ব্যবস্থা গ্রহণ করেন, তবে তাহা এন্টি ট্রেড ইউনিয়ন ডিসক্রিমিনেশন বলিয়া গণ্য হইবে।]
(২) এন্টি-ট্রেড ইউনিয়ন ডিসক্রিমিনেশন বিষয়ক তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সরকার এই ধারার বিধানাবলির সহিত সামঞ্জস্য রাখিয়া মানসম্পন্ন পরিচালনা পদ্ধতি (Standard Operating Procedure) প্রণয়ন করিবে।]
249[১৯৬খ। (১) যদি মালিক ধারা ১৯৫(১) এ উল্লিখিত কোনো অসৎ শ্রম আচরণ করেন অথবা ধারা ১৯৬ক(১) এ উল্লিখিত উপায়ে শ্রমিকের প্রতি বৈষম্য করেন, তাহা হইলে সংশ্লিষ্ট মালিককে মহাপরিচালক কর্তৃক অবিলম্বে এই ধরনের কার্যকলাপ বন্ধ করিবার নির্দেশ দেওয়া যাইবে, যদি এই ধরনের কার্যকলাপের কারণে কোনো শ্রমিকের ক্ষতি হয়, তাহা হইলে মালিককে উক্ত ক্ষতি পুনরুদ্ধারসহ আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানেরও আদেশ মহাপরিচালক কর্তৃক দেওয়া যাইবে।
(২) শ্রম অধিদপ্তরের কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (SOP) অনুসারে সম্পন্ন হইবে।]
২০২। (১) যে ৰেত্রে কোন প্রতিষ্ঠানে একটিমাত্র ট্রেড ইউনিয়ন থাকে সে ৰেত্রে উক্ত প্রতিষ্ঠানের জন্য উহা যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি বলিয়া গণ্য হইবে।
(২) যে ক্ষেত্রে কোন প্রতিষ্ঠানে একাধিক ট্রেড ইউনিয়ন থাকে সে ক্ষেত্রে 253[ ইউনিয়ন সমূহ নিজেদের মধ্যে নির্বাচন কমিশনার মনোনয়নপূর্বক যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি (CBA) নির্বাচনের ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে অথবা] কোন ট্রেড ইউনিয়ন অথবা মালিক এতদ্উদ্দেশ্যে দরখাস্ত করিলে শ্রম পরিচালক দরখাস্ত প্রাপ্তির একশত বিশ দিনের মধ্যে প্রতিষ্ঠানে কোন্ ট্রেড ইউনিয়ন যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি হইবে, ইহা নির্ধারণের জন্য গোপন ভোটের ব্যবস্থা করিবেন।
(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন কোন দরখাসত্দ প্রাপ্তির পর শ্রম পরিচালক লিখিত নোটিশ দ্বারা সংশিস্নষ্ট প্রতিষ্ঠানের সকল ট্রেড ইউনিয়নকে নোটিশে উলিস্নখিত সময়ের মধ্যে, যাহা পনের দিনের অধিক হইবে না, গোপন ব্যালটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করিবে কি না ইহা জানাইবার জন্য নির্দেশ দিবেন।
(৪) যদি কোন ট্রেড ইউনিয়ন উপ-ধারা (৩) এর অধীন প্রদত্ত নোটিশের উলিস্নখিত সময় সীমার মধ্যে গোপন ব্যালটে উহার প্রতিদ্বন্দ্বিতা সম্পর্কে শ্রম পরিচালককে কিছু জানাইতে ব্যর্থ হয়, তাহা হইলে উহা, উক্ত ব্যালটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করিবে না বলিয়া বুঝিতে হইবে।
(৫) যদি নোটিশে উলিস্নখিত সময়-সীমার মধ্যে কোন ট্রেড ইউনিয়নই গোপন ব্যালটে উহার প্রতিদ্বন্দ্বিতা সম্পর্কে শ্রম পরিচালককে কিছুই না জানায় তাহা হইলে যে ট্রেড ইউনিয়ন উপ-ধারা (২) এর অধীন দরখাসত্দ করিয়াছে উহাকে উক্ত প্রতিষ্ঠানে যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি হিসাবে ঘোষণা করা হইবে, যদি প্রতিষ্ঠানে নিযুক্ত শ্রমিকগণের মোট সংখ্যার অনূ্যন এক-তৃতীয়াংশ শ্রমিক উহার সদস্য থাকে।
(৬) শ্রম পরিচালক কর্তৃক অনুরোদ্ধ হইলে প্রত্যেক মালিক তাহার প্রতিষ্ঠানে, বদলী ও সাময়িক শ্রমিক ব্যতীত, অনূ্যন তিন মাস যাবত নিযুক্ত আছেন এমন সকল শ্রমিকের একটি তালিকা তাহার নিকট প্রেরণ করিবেন, এবং উক্ত তালিকায় নিম্নলিখিত তথ্য সনি্নবেশিত থাকিবে, যথাঃ-
(১) প্রত্যেক শ্রমিকের নাম,
(২) তাহার পিতা ও মাতার নাম ও বয়স,
(প্রযোজ্য ৰেত্রে স্বামী/স্ত্রীর নামও দিতে হইবে)
(৩) তাহার শাখা বা বিভাগের নাম,
(৪) তাহার কর্মস্থলের নাম,
(৫) তাহার টিকেট নম্বর এবং নিয়োগের তারিখ।
(৭) শ্রম পরিচালক কর্তৃক অনুরোদ্ধ হইলে, প্রত্যেক মালিক উপ-ধারা (৬) এ উলিস্নখিত তালিকার প্রয়োজনীয় সংখ্যক অতিরিক্ত কপি সরবরাহ করিবেন এবং উক্তরূপ সরবরাহকৃত তালিকার সত্যতা যাচাই করিবার জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করিবেন।
(৮) মালিকের নিকট হইতে শ্রমিকগণের তালিকা প্রাপ্তির পর শ্রম পরিচালক উহার একটি করিয়া কপি প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রত্যেক ট্রেড ইউনিয়নের নিকট প্রেরণ করিবেন এবং একটি কপি তাহার অফিসের কোন প্রকাশ্য স্থানে লটকাইয়া দিবেন এবং আরেকটি কপি সংশিস্নষ্ট প্রতিষ্ঠানের কোন প্রকাশ্য স্থানে লটকাইয়া দিবেন, এবং উহার সহিত একটি নোটিশ দ্বারা উহাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উক্ত তালিকা সম্পর্কে কাহারও কোন আপত্তি থাকিলে তাহা তাহার নিকট পেশ করিবার জন্য আহবান করিবেন।
(৯) শ্রম পরিচালক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোন আপত্তি পাইলে তিনি তাহা প্রয়োজনীয় তদনত্দানত্দে নিষ্পন্ন করিবেন।
(১০) শ্রম পরিচালক উপ-ধারা (৯) এর অধীন তাহার প্রদত্ত সিদ্ধানত্দ মোতাবেক মালিক কতর্ৃক সরবরাহকৃত শ্রমিকগণের তালিকার প্রয়োজনীয় সংশোধন বা পরিবর্তন করিবেন।
(১১) উপ-ধারা (১০) এর অধীন কোন সংশোধন অথবা পরিবর্তনের পর, অথবা যে ৰেত্রে শ্রম পরিচালক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোন আপত্তি পান নাই সে ৰেত্রে, উক্ত সময় অতিবাহিত হওয়ার পর তিনি সংশিস্নষ্ট প্রতিষ্ঠানে নিযুক্ত শ্রমিকগণের একটি চূড়ানত্দ তালিকা প্রস্তুত করিবেন এবং উহা যথাযথভাবে প্রত্যয়ন করিয়া উহার কপি সংশিস্নষ্ট মালিক এবং প্রত্যেক প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ট্রেড ইউনিয়নের নিকট ভোট গ্রহণের জন্য নির্ধারিত তারিখের অনত্দতঃ সাত দিন পূর্বে প্রেরণ করিবেন।
(১২) উপ-ধারা (১১) এর অধীন প্রস্তুতকৃত এবং প্রত্যয়িত শ্রমিকগণের তালিকা ভোটার তালিকা বলিয়া গণ্য হইবে, এবং উক্ত তালিকায় যে শ্রমিকের নাম থাকিবে, তিনি যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি নির্ধারণী নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অধিকারী হইবেন।
(১৩) প্রত্যেক মালিক শ্রম পরিচালক কতর্ৃক অনুরোদ্ধ হইলে, নির্বাচন পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সকল সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করিবেন, কিন্তু তিনি নির্বাচনের ব্যাপারে কোনরূপ হসত্দৰেপ করিবেন না বা কোনভাবে তাহার প্রভাব খাটাইবেন না।
(১৪) ভোট গ্রহণ কেন্দ্রের পঁয়তালিস্নশ মিটারের মধ্যে কোন ব্যক্তি ভোট প্রার্থনা করিতে পারিবেন না।
(১৫) যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি নির্ধারণের জন্য গোপন ভোট গ্রহণের উদ্দেশ্যে শ্রম পরিচালক-
(ক) ভোট গ্রহণের তারিখ ঠিক করিবেন, এবং ইহা প্রত্যেক প্রতিদ্বন্দ্বী ট্রেড ইউনিয়নকে এবং প্রত্যেক মালিককে অবহিত করিবেন;
(খ) ভোট গ্রহণের জন্য নির্দিষ্ট তারিখে প্রত্যেক ভোট গ্রহণ কেন্দ্রে ভোট প্রদানের জন্য ব্যালট বাঙ্ স্থাপন করিবেন, এবং উহা প্রতিদ্বন্দ্বী ট্রেড ইউনিয়নের প্রতিনিধিগণের উপস্থিতিতে, যদি থাকেন, সীল করিয়া দিবেন;
(গ) ভোট গ্রহণ কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ পরিচালনা করিবেন, এবং উক্ত কেন্দ্রে প্রতিদ্বন্দ্বী ট্রেড ইউনিয়নের প্রতিনিধিগণকে উপস্থিত থাকিবার সুযোগ দিবেন;
(ঘ) ভোট গ্রহণ সমাপ্তির পর, উক্ত প্রতিনিধিগণ যদি উপস্থিত থাকেন, তাহা হইলে তাহাদের উপস্থিতিতে ব্যালট বাঙ্ খুলিবেন এবং উহাতে প্রাপ্ত ভোট গণনা করিবেন; এবং
(ঙ) ভোট গণনা শেষে, যে ট্রেড ইউনিয়ন সর্্বোচ্চ সংখ্যক ভোট প্রাপ্ত হইবে, উহাকে যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি বলিয়া ঘোষণা করিবেনঃ
তবে শর্ত থাকে যে, কোন ট্রেড ইউনিয়নকে উক্তরূপ যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি ঘোষণা করা যাইবে না, যদি না উহার প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা সংশিস্নষ্ট প্রতিষ্ঠানে নিযুক্ত সকল শ্রমিকের মোট সংখ্যার অনূ্যন এক-তৃতীয়াংশ হয়।
(১৬) যে ৰেত্রে উপ-ধারা (১৫) (ঙ) এর অধীন কোন ট্রেড ইউনিয়নকে কোন প্রতিষ্ঠানের জন্য যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি বলিয়া ঘোষণা করা হয়, সে ৰেত্রে উহা উক্ত ঘোষণার তারিখ হইতে দুই বৎসরের জন্য উক্ত প্রতিষ্ঠানে যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি থাকিবে, এবং উক্ত সময়ের মধ্যে উক্ত প্রতিষ্ঠানে কোন নূতন যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি নির্ধারণের জন্য কোন দরখাসত্দ গ্রহণ করা হইবে নাঃ
তবে শর্ত থাকে যে, প্রতিষ্ঠানপুঞ্জের ৰেত্রে কোন যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধির মেয়াদ হইবে তিন বৎসর।
(১৭) উপ-ধারা (১৬) তে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, যে ৰেত্রে কোন ট্রেড ইউনিয়ন কোন প্রতিষ্ঠানে বিদ্যমান যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধির মেয়াদ শেষ হইবার পর উহার পরবতর্ী যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি হইতে আগ্রহী, অথবা যে ৰেত্রে বিদ্যমান কোন যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি পরবতর্ী মেয়াদের জন্য ও যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি হিসাবে থাকিতে আগ্রহী সে ৰেত্রে উহা বিদ্যমান যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধির মেয়াদ শেষ হইবার তারিখের পূর্বে একশত বিশ দিন হইতে একশত পঞ্চাশ দিনের মধ্যে শ্রম পরিচালকের নিকট পরবতর্ী যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি নির্ধারণের লৰ্যে গোপন ব্যালটে ভোট গ্রহণের ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানাইয়া দরখাসত্দ পেশ করিতে পারিবে।
(১৮) যে ৰেত্রে উপ-ধারা (১৭) এর অধীন কোন দরখাসত্দ পেশ করা হয়, সে ৰেত্রে দরখাসত্দ প্রাপ্তির একশত বিশ দিনের মধ্যে উক্ত প্রতিষ্ঠানে পরবতর্ী যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি নির্ধারণের জন্য গোপন ভোট গ্রহণ করিতে হইবে, তবে উক্ত নির্বাচনের ফলে ঘোষিত পরবতর্ী যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি বিদ্যমান যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধির মেয়াদ শেষ হইবার তারিখ হইতে সংশিস্নষ্ট প্রতিষ্ঠানের পরবতর্ী যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি হইবে।
(১৯) যে ৰেত্রে উপ-ধারা (১৭) এর অধীন কোন দরখাসত্দ প্রাপ্তির পর, শ্রম পরিচালকের নিয়ন্ত্রণবহিভর্ূত কোন কারণে বিদ্যমান যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধির মেয়াদ শেষ হইবার পূর্বে কোন প্রতিষ্ঠানের জন্য পরবতর্ী যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি নির্ধারণ করা সম্ভব না হয়, সে ৰেত্রে বিদ্যমান যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি নূতন যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি নির্ধারিত না হওয়া পর্যনত্দ উক্ত প্রতিষ্ঠানে যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি হিসাবে কাজ চালাইয়া যাইবে।
(২০) যে ৰেত্রে উপ-ধারা (১৭) এর অধীন কোন দরখাসত্দ পাওয়া না যায় সেৰেত্রে শ্রম পরিচালক বিদ্যমান যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধির মেয়াদ শেষ হইবার পর একশত বিশ দিনের মধ্যে নতুন নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করিবেন, এবং বিদ্যমান যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি অনত্দবর্তীকালীন সময়ে সংশিস্নষ্ট প্রতিষ্ঠানে যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি হিসাবে কাজ চালাইয়া যাইবেন।
(২১) যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি নির্ধারণী নির্বাচনে কোন বিষয় সম্বন্ধে কোন বিরোধ দেখা দিলে উহা শ্রম আদালতে পেশ করিতে হইবে, এবং ঐ বিষয়ে উক্ত আদালতের সিদ্ধানত্দ চূড়ানত্দ হইবে।
254[ ***]
(২৩) কোন যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি, উহার অবস্থানের হানি না করিয়া এই অধ্যায়ের অধীন কোন কার্যধারায়, যাহাতে উহা নিজেই একটি পৰ, উহা সদস্য আছে এমন কোন ফেডারেশনকে পৰভুক্ত করিতে পারিবে।
(২৪) কোন প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে উহার যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি-
(ক) শ্রমিকদের চাকুরী না থাকা (Jobless) (কর্মহীনতা), চাকুরীর শর্তাবলী অথবা কাজের পরিবেশ সম্বন্ধে মালিকের সংগে যৌথ দরকষাকষি করার;
255[***]
256[(গ) ধারা ২১১ এর বিধান অনুযায়ী ধর্মঘটের নোটিশ প্রদানের এবং উহা ঘোষণা করিবার;]
(ঘ) কোন কল্যাণ প্রতিষ্ঠানে অথবা ভবিষ্য তহবিলে এবং পঞ্চদশ অধ্যায়ের অধীন প্রতিষ্ঠিত শ্রমিকগণের অংশগ্রহণ তহবিলের ট্রাস্টি বোর্ডে শ্রমিকগণের প্রতিনিধি মনোনয়ন করার; এবং
257[***]
(২৫) এই আইনের আওতায় ঘোষিত কোন প্রতিষ্ঠানপুঞ্জে যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি নির্ধারণ অথবা নির্বাচনের ৰেত্রেও এই ধারার বিধানাবলী প্রযোজ্য হইবে।
258[ (২৬) প্রত্যেক মালিক তাহার প্রতিষ্ঠানে নির্বাচিত যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি (CBA) এর জন্য বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে অফিস কক্ষ বরাদ্দ করিবে ।]
২০৩৷ (১) এই অধ্যায়ে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোন ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন কোন প্রতিষ্ঠান বা প্রতিষ্ঠানপুঞ্জের যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি বলিয়া গণ্য হইবে, যদি উক্ত প্রতিষ্ঠানে উহার কোন সদস্য ট্রেড ইউনিয়ন উহার নির্বাহী কমিটির সভায় গৃহীত কোন প্রস্তাব দ্বারা ফেডারেশনকে উক্ত প্রতিষ্ঠানে উহার পক্ষে যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি হিসাবে কাজ করিবার জন্য ক্ষমতা প্রদান করে:
তবে শর্ত থাকে যে, উক্তরূপ কোন ক্ষমতা প্রদান অনুমোদনযোগ্য হইবে না, যদি না ফেডারেশনের এবং সদস্য ট্রেড ইউনিয়নের গঠনতন্ত্রে উক্তরূপ ক্ষমতা প্রদানের বিধান থাকে৷
(২) কোন ফেডারেশন কেবলমাত্র সেই প্রতিষ্ঠান বা প্রতিষ্ঠানপুঞ্জে যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি হিসাবে কাজ করিবে, যে প্রতিষ্ঠান বা প্রতিষ্ঠানপুঞ্জে উহার কোন সদস্য ট্রেড ইউনিয়ন যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি হিসাবে আছে৷
(৩) এই ধারার কোন কিছুই ধারা ২০০ (৫) এর অধীনে গঠিত এবং রেজিস্ট্রিকৃত কোন জাতীয় ভিত্তিক ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না।
261[(৪) যদি কোনো ফেডারেশন বা কনফেডারেশন, যাহারা কোনো সেক্টরে জাতীয় বা অন্য কোনো স্তরে শ্রমিকদের প্রতিনিধিত্ব করে, সেই সেক্টরের মালিকদের প্রতিনিধিত্বকারী এক বা একাধিক সংস্থাকে যৌথ দরকষাকষিতে অংশগ্রহণের জন্য অনুরোধ করে অথবা, যদি কোনো সেক্টরের মালিকদের প্রতিনিধিত্বকারী সংস্থা সেই সেক্টরের জাতীয় বা অন্য কোনো স্তরে শ্রমিকদের প্রতিনিধিত্ব করে এমন কোনো ফেডারেশন বা কনফেডারেশনকে যৌথ দরকষাকষিতে অংশগ্রহণের জন্য অনুরোধ করে, তাহা হইলে যে পক্ষ এই ধরনের অনুরোধ পাইয়াছে তাহারা যৌথ দর কষাকষিতে অংশগ্রহণ করিতে পারিবে।
(৫) যৌথ দরকষাকষির পক্ষ স্বাধীনভাবে আলোচনার বিষয় সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিতে পারিবে, এবং কারখানার কর্মপরিবেশ, নিয়োগের শর্তাবলি এবং শ্রমিক-মালিক-প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সম্পর্ক সম্পর্কিত যে কোনও বিষয়ে যৌথ দরকষাকষি করা যাইতে পারে।]
262[২০৩ক। (১) এক বা একাধিক ট্রেড ইউনিয়নের ফেডারেশন বা কনফেডারেশন, যাহারা সেক্টর, জাতীয় বা অন্য কোনো পর্যায়ে শ্রমিকদের প্রতিনিধিত্ব করে, তাহারা মালিক সংগঠন বা সংগঠনসমূহের সহিত যৌথভাবে দরকষাকষির জন্য অনুরোধ করিতে পারিবে।
(২) একটি সেক্টরের মালিকদের প্রতিনিধিত্বকারী এক বা একাধিক মালিক সংগঠন, যৌথভাবে কাজ করে, সেই সেক্টরের কর্মীদের প্রতিনিধিত্বকারী এক বা একাধিক যথাযথভাবে অনুমোদিত ট্রেড ইউনিয়নকে যৌথ দরকষাকষিতে অংশগ্রহণের জন্য অনুরোধ করিতে পারিবে।
(৩) যখন কোনো ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন বা কনফেডারেশন মালিক সংগঠন বা সংগঠনসমূহকে যৌথ দরকষাকষির জন্য অনুরোধ করিবে, অথবা কোনো মালিক সংগঠন বা সংগঠনসমূহ ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন বা কনফেডারেশনকে যৌথ দরকষাকষির জন্য অনুরোধ করিবে, তখন অনুরোধপ্রাপ্ত সংগঠন অনুরোধ প্রাপ্তির ১০ (দশ) দিনের মধ্যে অনুরোধকারী পক্ষকে লিখিতভাবে জবাব দিবে।
(৪) খসড়া চুক্তি প্রস্তুত করা এবং যৌথ চুক্তি চূড়ান্ত করিবার প্রক্রিয়া ও সময়সীমা সংশ্লিষ্ট পক্ষসমূহ পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে নির্ধারণ করিতে পারিবে।]
২০৪৷ 264[(১) যদি কোনো যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি (সিবিএ) বা ট্রেড ইউনিয়ন অনুরোধ করে, তাহা হইলে মালিক তাহার প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সেই সকল শ্রমিকের মজুরি হইতে নির্ধারিত পরিমাণ অর্থ কর্তন করিবেন, যাহারা সেই সিবিএ বা ট্রেড ইউনিয়নের সদস্য, এবং এই অর্থের পরিমাণ তাহাদের গঠনতন্ত্রে উল্লেখ থাকিতে হইবে অথবা সিবিএ বা ট্রেড ইউনিয়ন কর্তৃক অন্যভাবে নির্ধারিত হইতে পারিবে, তবে, প্রতিটি ক্ষেত্রে পৃথক শ্রমিকের লিখিত সম্মতি থাকিতে হইবে, যাহা সিবিএ বা ট্রেড ইউনিয়ন কর্তৃক আবেদনে উল্লেখ থাকিবে।]
(২) কোন মালিক উপ-ধারা (১) অনুসারে শ্রমিকগণের মজুরী হইতে টাকা কাটিয়া থাকিলে কর্তিত সম্পূর্র্র্ণ টাকা পরবর্তী ১৫ (পনের) দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সিবিএ 265[বা ট্রেড ইউনিয়ন] ইউনিয়নের হিসাবে জমা দিবেন৷
(৩) উপ-ধারা (১) মোতাবেক উহার সদস্যদের মজুরী হইতে টাকা কাটা হইতেছে কি না সংশ্লিষ্ট সিবিএ 266[বা ট্রেড ইউনিয়ন] তাহা যাচাই করিতে চাহিলে মালিক উহার পূর্ণ সুযোগ প্রদান করিবেন৷
২০৮৷ (১) অংশগ্রহণকারী কমিটির সুনির্দিষ্ট সুপারিশমালা, তত্কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে, বাস্তবায়নের জন্য প্রতিষ্ঠানের মালিক 273[***] প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন৷
(২) যদি কোন কারণে মালিক 274[***] নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অংশগ্রহণকারী কমিটির সুপারিশমালা বাস্তবায়ন করিতে কোন কারণে অসুবিধা বোধ করেন, তাহা হইলে তত্সম্পর্কে কমিটিকে অবহিত করিতে হইবে, এবং উহা যথাশীঘ্র সম্ভব বাস্তবায়নের জন্য সম্ভাব্য সকল প্রচেষ্টা গ্রহণ করিতে হইবে৷
চর্তুদশ অধ্যায়
বিরোধ নিষ্পত্তি, শ্রম আদালত, শ্রম আপীল ট্রাইব্যুনাল, আইনগত কার্যধারা, ইত্যাদি
২১১৷ (১) যে পক্ষ কোন শিল্প বিরোধ উত্থাপন করে সে পক্ষ ধারা ২১০ (১১) এর অধীন ব্যর্থতার প্রত্যয়নপত্র প্রাপ্তির তারিখ হইতে পনর দিনের মধ্যে অন্য পক্ষকে ধর্মঘট অথবা, ক্ষেত্রমত, লক আউটের নোটিশ প্রদান করিতে পারিবে, যাহাতে নোটিশ প্রদানের পর অন্যুন সাত দিন এবং অনধিক চৌদ্দ দিনের মধ্যে কোন তারিখ হইতে উহা শুরু হইবে উহার উল্লেখ থাকিবে, অথবা উক্ত বিরোধ উত্থাপনকারী পক্ষ বিরোধটি নিষ্পত্তির জন্য শ্রম আদালতে দরখাস্ত করিতে পারিবেঃ
তবে শর্ত থাকে যে, কোন যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি ধর্মঘটের কোন নোটিশ জারী করিতে পারিবে না, যদি না বিধি দ্বারা নির্ধারিত পন্থায় সালিসের তত্ত্বাবধানে, এতদ্উদ্দেশ্যে বিশেষভাবে অনুষ্ঠিত কোন গোপন ভোটের মাধ্যমে উহার মোট সদস্য সংখ্যার অন্যুন 275[ ৫১ শতাংশ] সদস্য ধর্মঘটের পক্ষে তাহাদের রায় প্রদান করেন৷
(২) যদি কোন ধর্মঘট বা লক-আউট শুরু হইয়া যায়, তাহা হইলে বিরোধটি নিষ্পত্তির জন্য বিরোধে জড়িত যে কোন পক্ষ শ্রম আদালতে দরখাস্ত পেশ করিতে পারিবে৷
(৩) যদি কোন ধর্মঘট বা লক-আউট ত্রিশ দিনের বেশী স্থায়ী হয়, তাহা হইলে সরকার, লিখিত আদেশ দ্বারা, উহা নিষিদ্ধ করিতে পারিবেঃ
তবে শর্ত থাকে যে, সরকার উক্ত ত্রিশ দিনের পূর্বে ও যে কোন সময়ে, লিখিত আদেশ দ্বারা কোন ধর্মঘট বা লক-আউট নিষিদ্ধ ঘোষণা করিতে পারিবে, যদি সরকার এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে, উক্তরূপ অব্যাহত ধর্মঘট বা লক-আউট জনজীবনে সাংঘাতিক কষ্টের কারণ হইয়াছে অথবা ইহা জাতীয় স্বার্থের হানিকর৷
(৪) কোন জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সরকার, ইহাতে কোন ধর্মঘট বা লক-আউট শুরু হইবার পূর্বে অথবা পরে যে কোন সময়, লিখিত আদেশ দ্বারা উহা নিষিদ্ধ ঘোষণা করিতে পারিবে৷
(৫) কোন ক্ষেত্রে সরকার উপ-ধারা (৩) অথবা (৪) এর অধীন কোন ধর্মঘট বা লক-আউট নিষিদ্ধ ঘোষণা করিলে সরকার তত্ক্ষণাত্ বিরোধটি নিষ্পত্তির জন্য শ্রম আদালতে প্রেরণ করিবে৷
(৬) শ্রম আদালত বিরোধের উভয় পক্ষকে শুনানীর সুযোগ দিয়া যথাশীঘ্র সম্ভব, বিরোধটি উহার নিকট প্রেরণের তারিখ হইতে অনধিক ষাট দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করিয়া উহার রোয়েদাদ প্রদান করিেবঃ
তবে শর্ত থাকে যে, শ্রম আদালত প্রয়োজনবোধে বিরোধীয় কোন বিষয়ে অন্তর্বর্তী রোয়েদাদ প্রদান করিতে পারিবেঃ
আরোও শর্ত থাকে যে, রোয়েদাদ প্রদানে কোন বিলম্বের কারণে রোয়েদাদ অবৈধ হইবে না৷
(৭) শ্রম আদালতের কোন রোয়েদাদ তত্কর্তৃক নির্ধারিত সময়সীমা, যাহা দুই বত্সরের অধিক হইবে না, পর্যন্ত বলবত্ থাকিবে৷
(৮) যদি কোন প্রতিষ্ঠান নূতন স্থাপিত হয়, অথবা বিদেশী মালিকানাধীন হয়, অথবা বিদেশী সহযোগিতায় স্থাপিত হয়, তাহা হইলে উক্তরূপ প্রতিষ্ঠানে উত্পাদন শুরু হওয়ার পরবর্তী 276[২ (দুই) বৎসর] পর্যন্ত ধর্মঘট কিংবা লক-আউট নিষিদ্ধ থাকিবে৷ তবে, উক্তরূপ প্রতিষ্ঠানে উত্থিত কোন শিল্প বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে এই অধ্যায়ে বর্ণিত অন্যান্য বিধান প্রযোজ্য হইবে৷
২১৩৷ কোন যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি 277[, ট্রেড ইউনিয়ন] অথবা কোন মালিক অথবা কোন শ্রমিক এই আইন বা কোন রোয়েদাদ বা কোন নিষ্পত্তি বা চুক্তির অধীন বা দ্বারা নিশ্চিত বা প্রদত্ত 278[বা কোন প্রচলিত প্রথা বা কোন বিজ্ঞপ্তি বা কোন আদেশ বা কোন নোটিফিকেশন বা অন্য কোন ভাবে স্বীকৃত] কোন অধিকার প্রয়োগের জন্য শ্রম আদালতে দরখাস্ত করিতে পারিবেন৷
পঞ্চদশ অধ্যায়
কোম্পানীর মুনাফায় শ্রমিকের অংশগ্রহণ
২৩৫৷ (১) অংশগ্রহণ তহবিল ও কল্যাণ তহবিল স্থাপিত হইবার পর যথাশীঘ্র সম্ভব নিম্নরূপ সদস্য সমন্বয়ে একটি ট্রাস্টি বোর্ড গঠিত হইবে, যথাঃ-
(ক) কোম্পানীর যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি 291[বা অংশগ্রহণকারী কমিটি] কর্তৃক মনোনীত দুইজন সদস্য এবং এইরূপ কোন প্রতিনিধি না থাকিলে, কোম্পানীর শ্রমিকগণ কর্তৃক তাহাদের নিজেদের মধ্য হইতে নির্বাচিত দুইজন সদস্য; এবং
(খ) কোম্পানীর ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক মনোনীত দুইজন সদস্য, যাহাদের মধ্যে অন্ততঃ একজন হইবেন কোম্পানীর হিসাব শাখা হইতে মনোনীত ব্যক্তি৷
(২) ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যগণ পালাক্রমে উপ-ধারা (১) (ক) ও (১) (খ) এর অধীন সদস্যগণের মধ্য হইতে প্রত্যেক বত্সরের জন্য উহার একজন চেয়ারম্যান নির্বাচিত করিবেন, তবে প্রথম চেয়ারম্যান উপ-ধারা (১)(খ) এর অধীন সদস্যগণের মধ্য হইতে হইবে৷
(৩) এই অধ্যায় এবং এতদ্উদ্দেশ্যে প্রণীত বিধির বিধান অনুযায়ী ট্রাস্টি বোর্ড তহবিলদ্বয়ের ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনা করিবে৷
(৪) ট্রাস্টি বোর্ড উহার ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালনের ব্যাপারে সরকার কর্তৃক সময় সময় প্রদত্ত নির্দেশের অধীন থাকিবে৷
(৫) সরকার যদি এই মত পোষণ করে যে, ট্রাস্টি বোর্ড বা উহার কোন সদস্য দায়িত্ব পালনে পুনঃ পুনঃ ব্যর্থ হইতেছে অথবা সাধারণতঃ তহবিলদ্বয়ের লক্ষ্য ও স্বার্থের সহিত অসংগতিপূর্ণভাবে কাজ-কর্ম করিতেছে তাহা হইলে সরকার, বোর্ড বা সদস্যটিকে কারণ দর্শাইবার সুযোগ দান করিয়া, আদেশ দ্বারা-
(ক) উহাতে নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য বোর্ড বাতিল করিতে পারিবে, অথবা সদস্যটিকে তাহার পদ হইতে অপসারণ করিতে পারিবে; এবং
(খ) ট্রাস্টি বোর্ড পুনর্গঠিত না হওয়া পর্যন্ত বা উক্ত সদস্যের পদে নূতন সদস্য মনোনীত বা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত বোর্ডের বা উক্ত সদস্যের ক্ষমতা ও দায়িত্ব, আদেশে উল্লিখিত ব্যক্তি কর্তৃক প্রয়োগ ও পালনের জন্য নির্দেশ দিতে পারিবে৷
(৬) উপ-ধারা (৫) এর অধীন ট্রাস্টি বোর্ড বাতিল হইবার পর, উহার সদস্যগণ তাহাদের পদে আর বহাল থাকিবেন না এবং এই অধ্যায়ে বা কোন বিধিতে ট্রাস্টি বোর্ডের উল্লেখ থাকিলে উহা উক্ত উপ-ধারার অধীন প্রদত্ত আদেশে উল্লিখিত ব্যক্তিকে বুঝাইবে৷
(৭) বাতিলের মেয়াদ শেষ হইবার পূর্বেই এই অধ্যায়ের বিধান অনুযায়ী ট্রাস্টি বোর্ড পুনর্গঠিত হইবে যাহাতে ইহা উক্ত মেয়াদ শেষ হইবার পর উহার কার্যভার গ্রহণ করিতে পারে৷
292[(৮) উপ-ধারা ৫ এর দফা (ক) এ অধীন সরকার কর্তৃক কোন ট্রাস্টি বোর্ড বাতিল করা হইলে অথবা উহার চেয়ারম্যান বা কোন সদস্যকে অপসারণ করা হইলে উক্ত বোর্ডের সদস্যবৃন্দ অথবা উহার চেয়ারম্যান বা সংশ্লিষ্ট সদস্য ট্রাস্টি বোর্ডে পূনঃনির্বাচিত বা মনোনীত হইতে পারিবেন না।]
২৪২৷ 298[(১) প্রত্যেক বৎসর অংশগ্রহণ তহবিলে জমাকৃত মোট অর্থ সমান ভাগে সকল সুবিধাভোগীর মধ্যে বণ্টন করিতে হইবে।]
(২) যদি কোন 299[সুবিধাভোগী] স্বেচ্ছায় কোম্পানীর চাকুরী ত্যাগ করিয়া চলিয়া যান, তাহা হইলে এই অধ্যায়ের অধীন তহবিলদ্বয় হইতে তাহাকে কোন সুবিধা প্রদেয় হইলে তাহা তিনি পাইবেন৷
(৩) কোন 300[সুবিধাভোগীর] চাকুরী, বরখাস্ত ব্যতীত, অন্য কোনভাবে অবসান করা হইলে, তিনি কোম্পানীর চাকুরী হইতে অবসরপ্রাপ্ত কোন 301[সুবিধাভোগীর] সমতুল্য হইবেন৷
(৪) কোন 302[সুবিধাভোগী] চাকুরী হইতে বরখাস্ত হইলে, তহবিলদ্বয়ে তাহার অংশ বাজেয়াপ্ত হইবে৷
(৫) যে ক্ষেত্রে কোন 303[সুবিধাভোগী] কোন কোম্পানীর কোন অফিস বা ইউনিট হইতে উহার অন্য কোন অফিস বা ইউনিটে বদলী হন, সে ক্ষেত্রে তাহার নামে জমাকৃত তহবিলদ্বয়ের সুবিধা উক্ত বদলীকৃত অফিসে বা ইউনিটের তহবিলদ্বয়ে স্থানান্তরিত হইবে, এবং তাহার পূর্বের অফিস বা ইউনিটের চাকুরী তাহার বদলীকৃত অফিস বা ইউনিটের তহবিল হইতে প্রদেয় সুযোগের ক্ষেত্রে গণনায় আনা হইবে৷
(৬) কোন 304[সুবিধাভোগীর] অবসর গ্রহণের পর তিনি, অথবা কোম্পানীতে চাকুরীরত থাকাকালে তাহার মৃত্যু ঘটিলে তাহার মনোনীত স্বত্ত্বভোগী, এই অধ্যায়ের অধীন পূর্ণ সুবিধা ভোগ করিবেন৷
306[ ষোড়শ-ক অধ্যায়
বিলুপ্ত ডক-শ্রমিক ব্যবস্থাপনা বোর্ড সংক্রান্ত বিধান
সপ্তদশ অধ্যায়
ভবিষ্য তহবিল
২৬৪৷ 308[(১) বেসরকারি খাতের কোনো প্রতিষ্ঠান উহার শ্রমিকগণের সুবিধার জন্য ভবিষ্য তহবিল গঠন করিবে।]
(২) উপরিউক্ত ভবিষ্য তহবিল ধারা ৩ এর অধীন কোন প্রতিষ্ঠান কর্তৃক এতদ্উদ্দেশ্যে প্রণীত বিধি দ্বারা নির্ধারিত পন্থায় গঠিত হইবে৷
(৩) উপ-ধারা (২) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, বেসরকারী খাতের কোন প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত শ্রমিকগণের জন্য ভবিষ্য তহবিল গঠনের উদ্দেশ্যে সরকার বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে, এবং যদি উক্তরূপ বিধি প্রণীত হয় তাহা হইলে যে প্রতিষ্ঠানে উহা প্রযোজ্য হইবে সে প্রতিষ্ঠান উহার বিধানাবলী মানিয়া চলিতে বাধ্য থাকিবে৷
(৪) উক্তরূপ ভবিষ্য তহবিল একটি ট্রাস্টি বোর্ড দ্বারা পরিচালিত হইবে৷
(৫) উক্তরূপ ট্রাস্টি বোর্ড সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মালিক এবং উহাতে নিযুক্ত শ্রমিকগণের সমান সংখ্যক প্রতিনিধি সমন্বয়ে গঠিত হইবে; এবং সরকার কর্তৃক মনোনীত কোন ব্যক্তি ইহার চেয়ারম্যান হইবেন৷
(৬) মালিকের প্রতিনিধি মালিক কর্তৃক মনোনীত হইবেন এবং শ্রমিকগণের প্রতিনিধি যৌথ দর কষাকষি প্রতিনিধি কর্তৃক মনোনীত হইবেন 309[ :
তবে শর্ত থাকে যে, যে ক্ষেত্রে কোনো প্রতিষ্ঠানে কোনো যৌথ দর কষাকষি প্রতিনিধি থাকিবে না সেই ক্ষেত্রে অংশগ্রহণকারী কমিটি কর্তৃক শ্রমিক প্রতিনিধি মনোনীত হইবেন।]
(৭) যে ক্ষেত্রে কোন প্রতিষ্ঠানে কোন যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি 310[ বা অংশগ্রহণকারী কমিটি নাই, সে ক্ষেত্রে শ্রমিকগণের প্রতিনিধি মহাপরিচালকের] তত্ত্বাবধানে, উক্ত প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের দ্বারা নির্বাচিত হইবেন৷
(৮) ট্রাস্টি বোর্ডের সকল সদস্য দুই বত্সরের মেয়াদে তাহাদের পদে অধিষ্ঠিত থাকিবেনঃ
তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত মেয়াদ শেষ হওয়া সত্ত্বেও তাহাদের উত্তরাধিকারীগণ কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত তাহারা স্বীয় পদে বহাল থাকিবেন৷
(৯) যে প্রতিষ্ঠানে ভবিষ্য তহবিল গঠন করা হইয়াছে সে প্রতিষ্ঠানের প্রত্যেক স্থায়ী শ্রমিক উহাতে তাহার চাকুরী এক বত্সর পূর্ণ করিবার পর প্রত্যেক মাসে উহার ভবিষ্য তহবিলে, ভিন্নরূপ কোন চুক্তি না থাকিলে, তাহার মাসিক মূল মজুরীর অন্যুন সাত শতাংশ এবং অনধিক আট শতাংশ হারে চাঁদা প্রদান করিবেন; এবং মালিকও ইহাতে উক্ত হারে চাঁদা প্রদান করিবেন৷
311[(১০) এই ধারায় যাহা কিছুই থাকুক না কেন, যেসকল প্রতিষ্ঠানে অন্যূন ১০০ (একশত) জন স্থায়ী শ্রমিক কর্মরত রহিয়াছেন, সেই সকল প্রতিষ্ঠানের মালিক শ্রমিকগণের সুবিধার জন্য ভবিষ্য তহবিল গঠন করিতে বাধ্য থাকিবে, তবে কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত জনবলের মধ্যে যাহারা লিখিতভাবে আগ্রহ প্রকাশ করিবে তাহাদের জন্য প্রাতিষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রবর্তিত সর্বজনীন পেনশন স্কিম ‘প্রগতি’-তে অংশগ্রহণ করিলে ভবিষ্য তহবিল গঠনের বিধান হইতে অব্যাহতি পাইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত স্কীমে মালিক ৫০% চাঁদা প্রদান করিবেন এবং কর্মরত শ্রমিকও ৫০% চাঁদা প্রদান করিবেন,
আরও শর্ত থাকে যে, কোনো শ্রমিক স্কীমের সদস্য হইতে লিখিতভাবে অনাগ্রহ প্রকাশ করিলে মালিক তাহার প্রদত্ত ৫০% চাঁদা প্রদান করিতে বাধ্য থাকিবেন না।]
312[***]
313[(১২) উক্ত ভবিষ্য তহবিলে জমাকৃত মোট অর্থের অন্যূন অর্ধেক সরকারি মালিকানাধীন বিনিয়োগযোগ্য কোনো খাতে বিনিয়োগ করা যাইবে।]
(১৩) উক্ত ভবিষ্য তহবিলের পরিচালনা ব্যয় মালিক বহন করিবেন৷
(১৪) প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়ের হিসাব যেভাবে নিরীক্ষিত হয়, ভবিষ্য তহবিলের প্রতি বত্সরের আয়-ব্যয়ের হিসাবও সেভাবে প্রতিষ্ঠানের খরচে নিরীক্ষিত হইবেঃ
তবে শর্ত থাকে যে, সরকার নিজ খরচে উক্ত তহবিলের আয়-ব্যয়ের কোন বিশেষ নিরীক্ষার জন্য স্বতন্ত্র নিরীক্ষক নিয়োগ করিতে পারিবে৷
(১৫) ভবিষ্য তহবিলের আয়-ব্যয়ের হিসাব তত্সম্পর্কে নিরীক্ষা রিপোর্টসহ, নিরীক্ষা রিপোর্ট পেশ করার এক মাসের মধ্যে শ্রম পরিচালকের নিকট প্রেরণ করিতে হইবে৷
314[***]
(১৭) এই ধারার বিধান অনুযায়ী ভবিষ্য তহবিল গঠনকারী কোন প্রতিষ্ঠান ভবিষ্য তহবিল আইন, ১৯২৫ (১৯২৫ সনের ১৯নং আইন) এর উদ্দেশ্যে সরকারী প্রতিষ্ঠান বলিয়া গণ্য হইবে৷
(১৮) এই ধারায় বেসরকারী খাতের প্রতিষ্ঠান বলিতে এমন কোন প্রতিষ্ঠানকে বুঝাইবে যাহা সরকার বা কোন স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সরাসরি মালিকানায় বা ব্যবস্থাপনায় নাই অথবা যাহার ক্ষেত্রে সরকার বা কোন স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রণীত কোন ভবিষ্য তহবিল বিধি প্রযোজ্য হয় না৷
২৬৬৷ (১) সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, চা-বাগান শ্রমিক ভবিষ্য তহবিল ট্রাস্টি বোর্ড নামে একটি বোর্ড গঠন করিবে৷
(২) নিম্নরূপ সদস্য সমন্বয়ে ট্রাস্টি বোর্ড গঠিত হইবে, যথা
(ক) 315[(ক) মহাপরিচালক, শ্রম অধিদপ্তর, পদাধিকারবলে, যিনি ইহার চেয়ারম্যান হইবেন;]
(খ) মালিকগণের প্রতিনিধিত্বকারী তিনজন সদস্য;
(গ) চা-শ্রমিকগণের প্রতিনিধিত্বকারী তিনজন সদস্য;
(ঘ) চা-শিল্পের সহিত সংশ্লিষ্ট নহেন এরূপ দুইজন সদস্য৷
(৩) 316[***] অন্যান্য সদস্যগণ সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হইবেনঃ
তবে শর্ত থাকে যে, উপ-ধারা (২) (খ) ও (গ) এর অধীন সদস্যগণ সরকার কর্তৃক এতদউদ্দেশ্যে স্বীকৃত মালিকগণ ও ক্ষেত্রমত, শ্রমিকগণের সংগঠনের সহিত আলোচনাক্রমে নিযুক্ত হইবেন৷
(৪) চেয়ারম্যান ও অন্যান্য সদস্যগণ তাহাদের নিযুক্তির তারিখ হইতে তিন বত্সর মেয়াদে তাহাদের পদে অধিষ্ঠিত থাকিবেনঃ
তবে শর্ত থাকে যে, উক্তরূপ মেয়াদ শেষ হওয়া সত্ত্বেও, তাহাদের উত্তরাধিকারীগণ কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত তাহারা স্বীয় পদে বহাল থাকিবেন৷
(৫) চেয়ারম্যান ও অন্যান্য সদস্যগণ এই অধ্যায় অথবা বিধি দ্বারা অর্পিত দায়িত্ব পালন করিবেন৷
(৬) ট্রাস্টি বোর্ড একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হইবে, এবং ইহার স্থায়ী ধারাবাহিকতাও একটি সাধারণ সীলমোহর থাকিবে, এবং ইহার নামে ইহা মামলা দায়ের করিতে পারিবে বা ইহার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা যাইবে৷
317[(৭) কোন ব্যক্তি ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য হইতে পারিবেন না, যদি তিনি -
(ক) নৈতিক স্খলনজনিত কোন ফৌজদারী মামলায় দোষী সাব্যস্ত হন;
(খ) উপযুক্ত আদালত কর্তৃক দেউলিয়া ঘোষিত হইবার পর পাঁচ বৎসর অতিবাহিত না হয়;
(গ) উপযুক্ত আদালত কর্তৃক মানসিক ভারসাম্যহীন বা বুদ্ধিভ্রষ্ট বলিয়া ষোষিত হন।
(৮) ট্রাস্টি বোর্ড উহার কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে, এতদুদ্দেশ্যে সরকারের পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে, প্রবিধানমালা প্রণয়নপূর্বক প্রয়োজনীয় সংখ্যক জনবল নিয়োগ করিতে পারিবে।]
অষ্টাদশ অধ্যায়
শিক্ষাধীনতা
ঊনবিংশ অধ্যায়
অপরাধ, দন্ড এবং পদ্ধতি
২৮৩৷ কোন ব্যক্তি ধারা ৩৩-এর অধীন প্রদত্ত শ্রম আদালতের কোন আদেশ পালন করিতে অস্বীকার করিলে অথবা ব্যর্থ হইলে, তিনি তিন মাস পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা 321[অন্যূন ২০ (বিশ) হাজার হইতে অনধিক ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার] টাকা পর্যন্ত অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন৷
২৮৪৷ কোন ব্যক্তি কোন শিশু বা কিশোরকে চাকুরীতে নিযুক্ত করিলে, অথবা এই আইনের কোন বিধান লঙ্ঘন করিয়া কোন শিশু বা কিশোরকে চাকুরী করিবার অনুমতি দিলে, তিনি 322[অন্যূন ২০ (বিশ) হাজার হইতে অনধিক ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার] টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন৷
২৮৫৷ কোন শিশুর পিতা-মাতা বা অভিভাবক ধারা ৩৫-এর বিধান লঙ্ঘন করিয়া কোন শিশু সম্পর্কে চুক্তি সম্পাদন করিলে, তিনি 323[অন্যূন ৫ (পাঁচ) হাজার হইতে অনধিক ১০ (দশ) হাজার] টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন৷
২৮৬৷ (১) কোন মালিক চতুর্থ অধ্যায়ের 324[ বিধান অনুযায়ী কোনো নারী শ্রমিককে প্রসূতি কল্যাণ সুবিধা হইতে বঞ্চিত করিলে ], তিনি 325[ অন্যূন ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার হইতে অনধিক ১ (এক) লক্ষ] টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।
(২) যে ক্ষেত্রে আদালত উপ-ধারা (১) এর অধীন কোন অর্থদণ্ড আরোপ করে সে ক্ষেত্রে, আদালত উহার রায় প্রদানকালে আদায়কৃত দণ্ডের অর্থ সম্পূর্র্র্ণ বা উহার কোন অংশ সংশ্লিষ্ট নারীকে, যে কারণে উক্ত অর্থদণ্ড আরোপ করা হইয়াছে সে কারণ হইতে উদ্ভুত ক্ষতির জন্য, ক্ষতিপূরণ হিসাবে প্রদানের আদেশ দিতে পারিবে।
326[ (৩) আদালত, উপ-ধারা (২) এর অতিরিক্ত হিসাবে, চতুর্থ অধ্যায়ের যে সুবিধা হইতে শ্রমিককে বঞ্চিত করা হইয়াছে, সেই সুবিধা প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট মালিককে আদেশ প্রদান করিবে।]
২৮৭৷ কোন নারী, চতুর্থ অধ্যায়ের বিধি মোতাবেক তাহার মালিক কর্তৃক অনুমোদিত অনুপস্থিতিকালে, নগদ অর্থ অথবা জিনিসের বিনিময়ে কোন কাজ করিলে, তিনি এক হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।
২৮৯৷ (১) কোন মালিক একাদশ অধ্যায়ের অধীন ঘোষিত নিম্নতম মজুরী হারের কম হারে কোন শ্রমিককে মজুরী প্রদান করিলে, তিনি এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডে, অথবা 327[অন্যূন ২০ (বিশ) হাজার হইতে অনধিক ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার] টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন৷
(২) যে ক্ষেত্রে আদালত উপ-ধারা (১) এর অধীন কোন দণ্ড আরোপ করে, সেক্ষেত্রে, আদালত উহার রায় প্রদানকালে, উক্তরূপ কোন লঙ্ঘন না হইলে সংশ্লিষ্ট শ্রমিককে যে মজুরী প্রদেয় হইত এবং উক্তরূপ লঙ্ঘন করিয়া মজুরী হিসাবে যে অর্থ প্রদান করা হইয়াছে উহার পার্থক্যের পরিমাণ অর্থ তাহাকে প্রদান করিবার আদেশ দিতে পারিবে৷
২৯০৷ কোন ব্যক্তি এই আইনের বিধান লঙ্ঘন করিয়া কোন দুর্ঘটনা সম্পর্কে নোটিশ দিতে ব্যর্থ হইলে তিনি, যদি দুর্ঘটনার কারণে সাংঘাতিক শারীরিক জখম হয়, তাহা হইলে 329[অন্যূন ৫ (পাঁচ) হাজার হইতে অনধিক ১০ (দশ) হাজার টাকা] অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন, অথবা যদি দুর্ঘটনার কারণে জীবন হানি ঘটে, তাহা হইলে ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ডে, অথবা 330[অন্যূন ১০ (দশ) হাজার হইতে অনধিক ২০ (বিশ) হাজার] টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন৷
২৯১৷ 331[(১) কোনো ব্যক্তি ধারা ১৯৫ বা ১৯৬ক এর কোনো বিধান লঙ্ঘন করিলে তিনি ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ডে, অথবা অন্যূন ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার হইতে অনধিক ১ (এক) লক্ষ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।
(২) কোনো শ্রমিক ধারা ১৯৬ এর কোনো বিধান লঙ্ঘন করিলে, তিনি তিন মাস পর্যন্ত কারাদণ্ডে অথবা দশ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।
(৩) কোনো ট্রেড ইউনিয়ন অথবা শ্রমিক ব্যতীত অন্য কোনো ব্যক্তি, ধারা ১৯৬ এর কোনো বিধান লঙ্ঘন করিলে তিনি ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ডে অথবা বিশ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।]
332[(৪) কোনো ব্যক্তি ধারা ৩১৭(৪)(খ) এবং ১৯৬খ এর কোনো বিধান লঙ্ঘন করিলে তিনি ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ডে, অথবা অন্যূন ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার হইতে অনধিক ১ (এক) লক্ষ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।]
333[২৯২৷ কোনো ব্যক্তি এই আইনের অধীন অবশ্য পালনীয় কোনো নিষ্পত্তি, সিদ্ধান্ত, রোয়েদাদ বা ধারা ১২৪ক এর সিদ্ধান্ত ভঙ্গ করিলে, তিনি এক বৎসর পর্যন্ত কারাদণ্ডে, অথবা অন্যূন ২০ (বিশ) হাজার হইতে অনধিক ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।]
২৯৪৷ 334[(১) কোনো শ্রমিক কোনো বেআইনি ধর্মঘট শুরু করিলে, অথবা চালাইয়া গেলে, অথবা উহাকে আগাইয়া নেওয়ার জন্য কোনো কাজ করিলে, তিনি তিন মাস পর্যন্ত কারাদণ্ডে অথবা অন্যূন ১০ (দশ) হাজার হইতে অনধিক ২০ (বিশ) হাজার পর্যন্ত অর্থদণ্ডে অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।
(২) কোনো মালিক কোনো বেআইনি লক-আউট শুরু করিলে, অথবা চালাইয়া গেলে, অথবা উহাকে আগাইয়া নেওয়ার জন্য কোনো কাজ করিলে, তিনি ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ডে অথবা অন্যূন ২০ (বিশ) হাজার হইতে অনধিক ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ডে, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।]
335[২৯৫৷ কোনো ব্যক্তি কোনো বেআইনি ধর্মঘট বা লক-আউটে অংশগ্রহণের জন্য অথবা উহার জন্য অর্থ খরচ বা সরবরাহের জন্য অথবা অন্য কোনোভাবে উহাকে আগাইয়া নেওয়ার জন্য কোনো ব্যক্তিকে প্ররোচিত বা উৎসাহিত করিলে, তিনি ৩ (তিন) মাস পর্যন্ত কারাদণ্ডে অথবা অন্যূন ২০ (বিশ) হাজার হইতে অনধিক ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।]
336[২৯৬৷ কোনো ব্যক্তি কোনো ঢিমে তালের কাজে অংশগ্রহণ করিলে অথবা অন্য কোনো ব্যক্তিকে উহাতে অংশগ্রহণে প্ররোচিত বা উৎসাহিত করিলে অথবা অন্য কোনো ভাবে উহাকে আগাইয়া নেওয়ার জন্য কোনো কাজ করিলে, তিনি ৩ (তিন) মাস পর্যন্ত কারাদণ্ডে অথবা অন্যূন ২০ (বিশ) হাজার হইতে অনধিক ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।]
337[২৯৯৷ কোনো ব্যক্তি অ-রেজিস্ট্রিকৃত অথবা রেজিস্ট্রি বাতিল হইয়াছে এমন কোনো ট্রেড ইউনিয়নের, রেজিস্ট্রেশন প্রাপ্তি সংক্রান্ত কোনো কর্মকাণ্ড ব্যতীত, অন্য কোনো কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করিলে অথবা অন্য কোনো ব্যক্তিকে উক্তরূপ কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের জন্য উৎসাহিত বা প্ররোচিত করিলে অথবা উক্তরূপ কোনো ট্রেড ইউনিয়নের তহবিলের জন্য সদস্য চাঁদা ব্যতীত অন্য কোনো চাঁদা আদায় করিলে, তিনি ২ (দুই) হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।]
338[৩০০৷ কোনো ব্যক্তি একই সময়ে একাধিক ট্রেড ইউনিয়নের সদস্য হইলে বা থাকিলে, তিনি ২ (দুই) হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন। ]
৩০২৷ কোন ব্যক্তি এই আইনের কোন বিধানের অধীন অন্য কোন ব্যক্তিকে প্রদত্ত কোন সক্ষমতা পত্র নিজের বরাবরে প্রদত্ত সক্ষমতাপত্র হিসাবে সজ্ঞানে ব্যবহার করিলে বা ব্যবহারের চেষ্টা করিলে, অথবা অন্য কোন ব্যক্তিকে সজ্ঞানে উহা ব্যবহার করিতে অথবা ব্যবহারের চেষ্টা করিতে অনুমতি দিলে, তিনি তিন মাস পর্যন্ত কারাদণ্ডে, অথবা 341[৫ (পাঁচ) হাজার] টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন৷
347[৩০৭। কোনো ব্যক্তি এই আইন বা কোনো বিধি, প্রবিধান বা স্কীমের কোনো বিধান লঙ্ঘন করিলে বা মানিতে ব্যর্থ হইলে, এবং ইহার জন্য উহাতে অন্য কোনো দণ্ডের বিধান না থাকিলে, তিনি ৩ (তিন) মাস পর্যন্ত কারাদণ্ডে অথবা অন্যূন ২৫ (পচিশ) হাজার হইতে অনধিক ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।]
348[৩০৭ক। কোনো ব্যক্তি ধারা ৩৩২ক এর বিধান লঙ্ঘন করিলে বা মানিতে ব্যর্থ হইলে তিনি অন্যূন ২০ (বিশ) হাজার হইতে অনধিক ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।
৩০৭খ। কোনো ব্যক্তি ধারা ৩৪৫গ এর বিধান লঙ্ঘন করিলে বা মানিতে ব্যর্থ হইলে তিনি অন্যূন ২০ (বিশ) হাজার হইতে অনধিক ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।]
৩০৯৷ (১) এই অধ্যায়ের অন্যত্র যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোন ব্যক্তি এই আইন বা কোন বিধি, প্রবিধান বা স্কীমের কোন বিধান লঙ্ঘন করিলে, তিনি-
(ক) যদি উক্ত লংঘনের কারণে প্রাণহানী হয় তাহা হইলে চার বৎসর পর্যন্ত কারাদণ্ডে, অথবা এক লক্ষ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবে;
(খ) যদি উক্ত লংঘনের কারণে সাংঘাতিক শারীরিক জখম হয় তাহা হইলে, দুই বৎসর পর্যন্ত কারাদণ্ডে, অথবা 349[অন্যূন ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার হইতে অনধিক ১ (এক) লক্ষ] টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন; অথবা
(গ) যদি উক্ত লংঘনের কারণে কোন প্রতিষ্ঠানে কোন শ্রমিক বা অন্য কোন ব্যক্তি অন্যভাবে জখমপ্রাপ্ত হন বা তাহার অন্য কোন বিপদ সৃষ্টি হয় তাহা হইলে, ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ডে, অথবা 350[অন্যূন ১০ (দশ) হাজার হইতে অনধিক ২০ (বিশ) হাজার] টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন৷
(২) কোন আদালত এই ধারার অধীন অর্থদণ্ডের আদেশ প্রদানকালে দণ্ডের আদায়কৃত অর্থের সম্পূর্র্র্ণ বা কোন অংশ ক্ষতিপূরণ হিসাবে জখম প্রাপ্ত ব্যক্তিকে অথবা, তাহার মৃত্যু হইলে, তাহার আইনগত প্রতিনিধকে প্রদানের জন্য আদেশ দিতে পারিবে৷
(৩) এই আইন বা কোন বিধি, প্রবিধান বা স্কীমের উক্তরূপ লংঘনের জন্য উচ্চতর কোন শাস্তির ব্যবস্থা থাকিলে ইহার ক্ষেত্রে এই ধারার কোন কিছুই প্রযোজ্য হইবে না৷
বিংশ অধ্যায়
প্রশাসন, পরিদশর্ন, ইত্যাদি
৩১৭৷ (১) এই আইনের উদ্দেশ্যে সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, একজন শ্রম পরিচালক নিযুক্ত করিবে এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক অতিরিক্ত শ্রম পরিচালক, যুগ্ম-শ্রম পরিচালক, 352[ উপ শ্রম পরিচালক, সহকারী শ্রম পরিচালক এবং শ্রম কর্মকর্তা] নিযুক্ত করিতে পারিবে৷
(২) যে ক্ষেত্রে অতিরিক্ত শ্রম পরিচালক, যুগ্ম-শ্রম পরিচালক, 353[ উপ শ্রম পরিচালক, সহকারী শ্রম পরিচালক বা শ্রম কর্মকর্তা] নিযুক্ত করা হয় সে ক্ষেত্রে সরকার উক্ত প্রজ্ঞাপনে এই আইনের অধীন তাহাদের প্রত্যেকের কর্মক্ষেত্র বা এলাকা নির্ধারণ করিয়া দিবে৷
(৩) সকল অতিরিক্ত শ্রম পরিচালক, যুগ্ম-শ্রম পরিচালক, 354[ উপ শ্রম পরিচালক, সহকারী শ্রম পরিচালক এবং শ্রম কর্মকর্তার] উপর শ্রম পরিচালকের তত্ত্বাবধান এবং নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা থাকিবে৷
(৪) শ্রম পরিচালকের নিম্নরূপ ক্ষমতা ও দায়িত্ব থাকিবে, যথাঃ-
(ক) ত্রয়োদশ অধ্যায়ের অধীন ট্রেড ইউনিয়ন রেজিস্ট্রিকরণ এবং এতদ্উদ্দেশ্যে রেজিস্টার রক্ষণ;
355[(খ) কোনো অপরাধের জন্য বা অসৎ শ্রম আচরণের জন্য বা এন্টি ট্রেড ইউনিয়ন ডিস্ক্রিমিনেশনের জন্য অথবা ত্রয়োদশ অধ্যায়ের কোনো বিধান ভঙ্গের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক শ্রমিককে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদানের আদেশ প্রদান করিবেন, উক্ত আদেশ প্রতিপালন না করা হইলে শ্রম আদালতে অভিযোগ পেশ করিতে পারিবে;]
(গ) কোন প্রতিষ্ঠান/প্রতিষ্ঠানপুঞ্জ সম্পর্কে কোন্ ট্রেড ইউনিয়ন যৌথ দর কষাকষি প্রতিনিধি হিসাবে প্রত্যায়িত হইবার অধিকারী তাহা নির্ধারণ;
356[***]
(ঙ) কোন শিল্প বিরোধে সালিস হিসাবে কর্তব্য পালন;
(চ) অংশগ্রহণকারী কমিটির কাজ কর্ম তত্ত্বাবধান; 357[***]
358[(চচ) ভবিষ্য তহবিল এর কাজকর্ম তত্ত্বাবধান এবং উহার ট্রাস্টি বোর্ডে শ্রমিক প্রতিনিধি নির্বাচন তত্ত্বাবধান;]
359[(চচচ) শ্রমিকের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে চিকিৎসা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি, প্রসূতি কল্যাণ সুবিধা, পরিবার-পরিকল্পনা বিষয়ক কার্যক্রম, বিনোদন, সামাজিক সুরক্ষা, শ্রম প্রশাসন সংশ্লিষ্ট গবেষণা ও পরিসংখ্যান সংক্রান্ত কার্যক্রম গ্রহণসহ অন্যান্য কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়ন এবং শ্রম পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও এতদ্সংক্রান্ত প্রতিবেদন সরকারের নিকট প্রেরণ;]
(ছ) এই আইন বা বিধি দ্বারা অর্পিত অন্য কোন দায়িত্ব পালন৷
(৫) শ্রম পরিচালক লিখিত সাধারণ বা বিশেষ আদেশ দ্বারা, তাহার কোন ক্ষমতা বা দায়িত্ব কোন অতিরিক্ত শ্রম পরিচালক, যুগ্ম-শ্রম পরিচালক, 360[ উপ শ্রম পরিচালক, সহকারী শ্রম পরিচালক বা শ্রম কর্মকর্তার] উপর অর্পণ করিতে পারিবেন৷
365[৩১৮ক। (১) শ্রম পরিদর্শন ব্যবস্থার কার্যাবলি হইবে নিম্নরূপ, যথা:-
(ক) শ্রমিকের চাকুরির শর্তাবলি এবং সুরক্ষার সহিত সম্পর্কিত আইনি বিধানসমূহ যথা- কর্মঘণ্টা, মজুরি, পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা, কল্যাণমূলক ব্যবস্থা, শিশু ও কিশোরদের কর্মে নিয়োজিতকরণ, জবরদস্তিমূলক শ্রমসহ পরিদর্শকের মাধ্যমে বলবৎযোগ্য সহিংসতা ও হয়রানিসহ, অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আইনগত বিধানসমূহ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা;
(খ) আইনি বিধানসমূহের সর্বোচ্চ ও কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিতকল্পে কারিগরি সহায়তা ও পরামর্শ প্রদান;
(গ) পরিদর্শক কর্তৃক দায়িত্বপালনকালে তাহার গোচরে আসা এমন কোনো ত্রুটি বা অপব্যবহার যাহা বিদ্যমান আইনগত বিধি-বিধান দ্বারা নির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত নহে এমন বিষয়সমূহ যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচরে আনয়ন;
(ঘ) সরকার কর্তৃক সময় সময় বিধি দ্বারা নির্ধারিত অন্যান্য কার্যাবলি সম্পাদন।
(২) সরকার কর্তৃক অর্পিত অন্য যে কোনো দায়িত্ব, এমন হইবে না, যাহা পরিদর্শকের পরিদর্শন সংক্রান্ত মূল দায়িত্বের সহিত সাংঘর্ষিক হয় বা বিঘ্ন সৃষ্টি করে এবং নিয়োগকর্তা ও শ্রমিকের প্রতি আইনগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তাহার এখতিয়ার ও নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়।]
৩১৯৷ (১) এই আইনের উদ্দেশ্যে, প্রধান পরিদর্শক বা কোন উপ-প্রধান পরিদর্শক, 366[সহকারী প্রধান পরিদর্শক, পরিদর্শক বা সহকারী পরিদর্শকের], তাহাদের এখতিয়ারাধীন এলাকায়, নিম্নরূপ ক্ষমতা বা দায়িত্ব থাকিবে, যথাঃ-
367[(ক) প্রয়োজনীয় সহকারী সহকারে, তাহার বিবেচনায় কোনো প্রতিষ্ঠান হিসাবে গণ্য বা ব্যবহৃত কোনো স্থান, আঙ্গিনা, নৌযান বা যানবাহনে যে কোনো যুক্তিসংগত সময়ে ‘কর্তৃপক্ষকে আগাম অবহিত করিয়া কিংবা অবহিতকরণ ব্যতিরেকে’ মানসম্পন্ন (Operating Procedure) অনুসারে প্রবেশ, পরিদর্শন, তদন্ত এবং পরীক্ষাকার্য পরিচালনা;]
(খ) এই আইন বা কোন বিধি, প্রবিধান বা স্কীম মোতাবেক রক্ষিত কোন রেজিস্টার, রেকর্ড, নথিপত্র, নোটিশ, প্রত্যয়নপত্র বা অন্য কোন দলিল-দস্তাবেজ তলব করা, এবং ইহা আটক, পরিদর্শন বা পরীক্ষা করা বা ইহার নকল করা;
(গ) কোন প্রতিষ্ঠান বা উহাতে নিযুক্ত কোন শ্রমিক সম্পর্কে এই আইন বা কোন বিধি, প্রবিধান বা স্কীমের কোন বিধান যথাযথভাবে মানা হইতেছে কিনা ইহা নির্ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান বা পরীক্ষণ;
(ঘ) কোন প্রতিষ্ঠানে পাওয়া গিয়াছে বা কোন প্রতিষ্ঠানে অব্যবহিত পূর্ববর্তী দুই মাসের মধ্যে চাকুরীতে নিযুক্ত ছিলেন বা আছেন বলিয়া বিশ্বাস এরূপ কোন লোকের এই আইন বা কোন বিধি, প্রবিধান বা স্কীম সম্পর্কিত কোন বিষয়ে জবানবন্দী গ্রহণ;
(ঙ) জবানবন্দী বা পরীক্ষা গ্রহণ করা হইয়াছে এরূপ প্রত্যেক ব্যক্তির নিকট হইতে সত্যতা প্রতিপাদনের জন্য জবানবন্দী বা পরীক্ষা সংক্রান্ত রেকর্ড বা কাগজপত্রে স্বাক্ষর গ্রহণ;
(চ) প্রয়োজন হইলে কোন মালিক কর্তৃক রক্ষিত কোন রেজিস্টার, রেকর্ড, প্রত্যয়নপত্র, নোটিশ বা অন্য কোন দলিল-দস্তাবেজ সম্বন্ধে তাহার বা তত্কর্তৃক নিযুক্ত কোন ব্যক্তির নিকট হইতে কৈফিয়ত্ বা ব্যাখ্যা তলব করা; 368[***]
(ছ) এই আইন বা কোন বিধি দ্বারা আরোপিত অন্য কোন ক্ষমতা প্রয়োগ বা দায়িত্ব সম্পাদন 369[;]
370[(জ) পরিদর্শন কার্য সুচারুরূপে সম্পন্ন করিবার নিমিত্ত সরকার প্রয়োজনীয় সংখ্যক মানসম্পন্ন পরিচালনা পদ্ধতি (Standard Operating Procedure) প্রণয়ন করিতে পারিবে।]
(২) এই আইন বা কোন বিধি, প্রবিধান বা স্কীমের অধীন ক্ষমতা প্রয়োগ বা দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় কোন প্রবেশ, পরিদর্শন, পরীক্ষণ, অনুসন্ধান বা অন্য কোন কাজ করার জন্য সকল পন্থা বা ব্যবস্থা পরিদর্শকের তলব অনুযায়ী কোন প্রতিষ্ঠানের মালিককে করিতে হইবে৷
(৩) প্রত্যেক মালিককে এই আইন বা কোন বিধি, প্রবিধান বা স্কীমের উদ্দেশ্যে, সকল রেকর্ড, রেজিস্টার, এবং অন্য কোন দলিল-দস্তাবেজ পরীক্ষার জন্য পরিদর্শকের নিকট তাহার তলব অনুযায়ী হাজির করিতে হইবে, এবং উক্ত পরিদর্শকের চাহিদা অনুযায়ী তত্সম্পর্কে অন্য কোন তথ্যও সরবরাহ করিতে হইবে৷
(৪) এই আইন বা কোন বিধি, প্রবিধান বা স্কীমের প্রয়োগ সংক্রান্ত কোন ব্যাপারে ইহার অধীন দায়িত্ব পালনের প্রয়োজনে কোন পরিদর্শক কোন মালিকের নিকট হইতে কোন রেকর্ড, রেজিস্টার, বা অন্য কোন দলিল-দস্তাবেজ তলব করিতে এবং ইহা আটক করিতে পারিবেন৷
371[(৫) মহাপরিদর্শক, অথবা তাহার নিকট হইতে এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত তাহার অধঃস্তন কোনো কর্মকর্তা, এই আইন বা কোনো বিধি, প্রবিধান বা স্কীমের অধীন, তাহার এখতিয়ারাধীন কোনো বিষয়ে, কোনো অপরাধের জন্য কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে শ্রম আদালতে অভিযোগ পেশ করিতে পারিবেন।
(৫ক) ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক আইনের লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ, তদারকি এবং শ্রম আদালতে মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে অভিন্ন অনুসরণীয় পদ্ধতি নিশ্চিতকরণে সরকার মানসম্পন্ন পরিচালনা পদ্ধতি (Standard Operating Procedure) প্রণয়ন করিবে।]
372[***]
373[৩১৯ক। (১) পরিদর্শক কর্মক্ষেত্রে আইনের ব্যত্যয় বা লঙ্ঘন সংক্রান্ত যে কোনো অভিযোগের সূত্র সম্পর্কে সম্পূর্ণ গোপনীয়তা বজায় রাখিবেন, এবং তাহার মালিক বা তাহার প্রতিনিধিকে কোনো রকম পূর্বতথ্য বা নোটিশ দিবেন না যে, উক্ত অভিযোগ প্রাপ্তির কারণে কর্মস্থলে তদন্ত বা পরিদর্শন করা হইয়াছে।
(২) যদি কোনো শ্রমিকের এই মর্মে যুক্তিযুক্ত বিশ্বাস থাকে যে, তিনি শ্রম পরিদর্শকের নিকট দাখিলকৃত অভিযোগের জন্য মালিকের পক্ষ হইতে বৈষম্য অথবা বৈরী আচরণের শিকার হইয়াছেন, তাহা হইলে তিনি তাহার অনুযোগ শ্রম আদালতে উত্থাপন করিবার অধিকারী হইবেন।]
৩২৩৷ (১) সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, জাতীয় শিল্প স্বাস্থ্য ও 375[সেইফটি] কাউন্সিল নামে একটি কাউন্সিল গঠন করিতে পারিবে।
(২) নিম্নরূপ সদস্য সমন্বয়ে উক্ত কাউন্সিল গঠিত হইবে, যথাঃ-
(ক) শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত মন্ত্রী, পদাধিকারবলে, যিনি উহার চেয়ারম্যান হইবেন;
(খ) শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব, পদাধিকারবলে;
(গ) শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব, পদাধিকারবলে;
376[(গ) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, পদাধিকারবলে;]
(ঘ) স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, পদাধিকারবলে;
(ঙ) বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব, পদাধিকারবলে;
(চ) নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব, পদাধিকারবলে;
(ছ) যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সচিব, পদাধিকারবলে;
377[(ছছ) শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, পদাধিকারবলে;]
378[(ছছছ) শিল্পাঞ্চল পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক, পদাধিকারবলে;]
(জ) শিল্প প্রতিষ্ঠানসমূহের প্রতিনিধিত্বকারী সাতজন সদস্য, যাহারা সরকার কর্তৃক মালিকগণের ব্যাপক প্রতিনিধিত্বকারী প্রতিষ্ঠান-সমূহের সহিত আলোচনাক্রমে নিযুক্ত হইবেন;
(ঝ) শ্রমিকগণের প্রতিনিধিত্বকারী সাতজন সদস্য, যাহারা সরকার কর্তৃক, শ্রমিকগণের ব্যাপক প্রতিনিধিত্বকারী ট্রেড ইউনিয়ন-সমূহের সহিত আলোচনাক্রমে নিযুক্ত হইবেনঃ
তবে শর্ত থাকে যে, শ্রমিক ও মালিক উভয় পক্ষের প্রতিনিধদের মধ্যে অন্তত একজন করে নারী প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত থাকিবেন।
379[(ঝঝ) শিল্প, স্বাস্থ্য ও সেইফটি বিষয়ে সরকার কর্তৃক নিযুক্ত পাঁচজন বিশেষজ্ঞ ব্যক্তি;]
380[(ঞ) কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক, পদাধিকারবলে যিনি ইহার সদস্য সচিবও হইবেন।]
(৩) মনোনীত সদস্যগণ তিন বত্সর মেয়াদে তাহাদের পদে অধিষ্ঠিত থাকিবেন।
(৪) কাউন্সিল উহার নিজস্ব কার্যবিধি অনুসরণ করিবে।
(৫) কাউন্সিল-
(ক) শিল্প প্রতিষ্ঠানসমূহে 381[সেইফটি] নিশ্চিত করার জন্য এবং উহাতে স্বাস্থ্য সম্মত বা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও অবস্থা বজায় রাখার জন্য জাতীয় নীতিমালা প্রণয়ন করিবে;
(খ) উহার নীতিমালা বাস্তবায়নের জন্য দিক নির্দেশনা প্রস্তুত করিবে।
(৬) প্রত্যেক প্রতিষ্ঠান কাউন্সিল কর্তৃক প্রস্তুতকৃত দিক নির্দেশনা অনুসরণে তত্কর্তৃক প্রণীত নীতিমালা বাস্তবায়নের জন্য যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করিবে।
একবিংশ অধ্যায়
বিবিধ
৩২৬৷ (১) সরকার-
(ক) কোন কারখানা বা কোন শ্রেণীর কারখানা নির্মাণ, প্রতিষ্ঠা বা সম্প্রসারণের জন্য বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে প্রধান পরিদর্শকের নিকট হইতে লিখিত পূর্ব অনুমতি গ্রহণের জন্য নির্দেশ দিতে পারিবে382[:
তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত ক্ষেত্রে যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদিত কারখানা ভবনের নক্সার (Structural Design) সহিত কারখানার মেশিন স্থাপনের নক্সার (Factory Layout Plan) কাঠামোগত কোন ব্যত্যয় বা পরিবর্তন ঘটানো যাইবে না;]
383[(খ) কোনো প্রতিষ্ঠান বা কারখানা বা কোনো শ্রেণির কারখানাকে লাইসেন্স প্রদানের নির্দেশ দিতে পারিবেন এবং উক্ত লাইসেন্স প্রতি ৫ (পাঁচ) বৎসর পরপর নবায়ন করিতে হইবে, তবে ঠিকাদার সংস্থার লাইসেন্স এর মেয়াদ হইবে ১ (এক) বৎসর, এবং বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে এবং সরকার কর্তৃক সময় সময় ধার্যকৃত ফিস প্রদানপূর্বক উহা রেজিস্ট্রিকরণ বা লাইসেন্স গ্রহণ ও নবায়ন করিতে হইবে।]
(২) যদি উপ-ধারা (১) মোতাকে অনুমতির জন্য নক্শাসহ কোন দরখাস্ত প্রধান পরিদর্শরে নিকট প্রেরণ করার পর তত্কর্তৃক উহা প্রাপ্তির 384[তিন মাসের মধ্যে প্রধান পরিদর্শকের কোন আদেশ অথবা নির্দেশনা দরখাস্তকারীকে প্রদান না করিলে সংক্ষুব্ধ প্রতিষ্ঠান মালিক পরবর্তী ত্রিশ দিনের মধ্যে প্রতিকার চাহিয়া সরকারের নিকট আবেদন করিতে পারিবে]৷
(৩) যে ক্ষেত্রে প্রধান পরিদর্শক কোন কারখানা নির্মাণ বা সম্প্রসাররে জন্য অথবা উহা রেজিস্ট্রিকরণ বা উহার জন্য লাইসেন্স প্রদারে অনুমতি প্রদান করিতে অস্বীকার কনে সে ক্ষেত্রে দরখাস্তকারী, উক্ত অস্বীকৃতির ষাট দিনের মধ্যে ইহার বিরুদ্ধে সরকারের নিকট আপীল করিতে পারিবেন৷
ব্যাখ্যাঃ কোন কারখানায় কেবল মাত্র কোন যন্ত্রপাতি বা কলকব্জা পরিবর্তন বা প্রতিস্থাপন অথবা, বিধি দ্বারা নির্ধারিত সীমার মধ্যে, কোন নূতন যন্ত্রপাতি বা কলকব্জা সংযোজন এই ধারার অধীন কারখানা সম্প্রসারণ বলিয়া গণ্য হইবে না৷
385[৩৩২। (১) মালিক, নিয়োগকর্তা ও কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব হইবে নিম্নরূপ, যথা:-
(ক) মালিক, নিয়োগকর্তা ও কর্তৃপক্ষ কর্মস্থলে সহিংসতা, হয়রানি প্রতিরোধে কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ যেন বৈরী না হয় তাহা নিশ্চিত করা;
(খ) যৌন হয়রানি ও সহিংসতা বন্ধে যেসকল নিষেধাজ্ঞা ও শাস্তির উল্লেখ রহিয়াছে তাহা ব্যাপকভাবে প্রচার ও প্রকাশ করা;
(গ) কর্মস্থলে যৌন হয়রানিমূলক সকল প্রকার ঘটনাকে প্রতিরোধ করিতে একটি কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা;
(ঘ) সহিংসতা ও হয়রানির বিরুদ্ধে একটি কর্মস্থল নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা;
(ঙ) পেশাগত নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় সহিংসতা ও হয়রানি এবং সংশ্লিষ্ট মনোসামাজিক ঝুঁকিকে বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া;
(চ) সহিংসতা ও হয়রানির ঝুঁকি চিহ্নিত ও মূল্যায়ন করা এবং তা প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা;
(ছ) কর্মরত কর্মী ও শ্রমিকদের জন্য চিহ্নিত ঝুঁকি ও বিপদ সম্পর্কে এবং প্রতিরোধ ও সুরক্ষার ব্যবস্থা, তাহাদের অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য এবং প্রশিক্ষণ দেওয়া;
(জ) কর্মস্থলের ওয়েবসাইটে এতদ্সংক্রান্ত প্রতিবেদন ও অভিযোগ ব্যবস্থাপনার পদ্ধতির বিবরণ প্রদান করা;
(ঝ) প্রতিষ্ঠানে সংঘটিত যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী মামলা দায়ের করিবার জন্য যথাযথ কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
(২) কোনো প্রতিষ্ঠানের কোনো কাজে কোনো নারী নিযুক্ত থাকিলে, তিনি যে পদমর্যাদারই হোন না কেন, তাহার প্রতি উক্ত প্রতিষ্ঠানের কোনো সহকর্মী বা অন্য কেহ এমন কোনো আচরণ করিতে পারিবেন না যাহা অশ্লীল কিংবা অভদ্রজনোচিত বলিয়া গণ্য হইতে পারে, কিংবা যাহা উক্ত নারীর শালীনতা ও সম্ভ্রমের পরিপন্থি।]
386[৩৩২ক। (১) প্রত্যেক মালিক সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে বৈষম্য, সহিংসতা ও হয়রানির অভিযোগ তদন্তের জন্য একটি অভিযোগ নিষ্পত্তি কমিটি গঠন করিবে, এবং উক্ত কমিটিতে ৫ (পাঁচ) জন সদস্য থাকিবে, যেখানে প্রতিষ্ঠানের মধ্য হইতে সংখ্যাগরিষ্ঠ নারী প্রতিনিধি থাকিবেন এবং প্রধান হইবেন একজন নারী, কমিটিতে দুজন সদস্যকে জেন্ডার এবং যৌন নির্যাতনের বিষয়ে কাজ করে এমন প্রতিষ্ঠান হইতে নিতে হইবে।
(২) কমিটি প্রতিটি অভিযোগ বা সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন গ্রহণ, তদন্ত এবং পরিচালনা করিবে এবং বৈষম্য, সহিংসতা ও হয়রানির ক্ষেত্রে শূন্য সহনশীলতা (জিরো টলারেন্স) নীতি অনুসরণ করিবে।
(৩) কমিটি গোপনীয়তা রক্ষা এবং মানব মর্যাদার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করিয়া কাজ পরিচালনা করিবে এবং অভিযোগ বা প্রতিবেদন গ্রহণ, তদন্ত ও ব্যবস্থাপনায় কোনো বাধা সৃষ্টি করিবে না।
(৪) লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তির পর, অভিযোগ নিষ্পত্তি কমিটি বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।]
৩৩৮৷ (১) যে ক্ষেত্রে কোন আঙ্গিনার বিভিন্ন বাড়ী বিভিন্ন মালিকের স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠানের ব্যবহারের জন্য ভাড়া দেওয়া হয় সে ক্ষেত্রে, আঙ্গিনার মালিক রাস্তা, নর্দমা, পানি সরবরাহ, আলো ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মত সাধারণ সেবা ও সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা বা রক্ষণের জন্য দায়ী থাকিবেন৷
388[(২) একাধিক নিয়োগকারীর যৌথ দায়িত্ব, যেক্ষেত্রে কোনো আঙিনার স্বতন্ত্র এবং স্বয়ংসম্পূর্ণ ফ্ল্যাট বা বাড়ি বিভিন্ন মালিকের স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠানের ব্যবহারের জন্য ভাড়া দেওয়া হয় সেইক্ষেত্রে, আঙিনার মালিক নিম্নলিখিত বিষয়ে এই আইন বা বিধির বিধান ভঙ্গ বা লঙ্ঘনের জন্য এমনভাবে দায়ী হইবেন যেন তিনি উক্ত প্রতিষ্ঠানসমূহের মালিক, যথা:-
(ক) শৌচাগার, প্রক্ষালনকক্ষ এবং ধৌতকরণ সুবিধাসমূহে পানির অভিন্ন সরবরাহের ব্যবস্থা করা;
(খ) আঙ্গিনার মালিকের এমন কলকব্জা বা যন্ত্রপাতি বেড়া দেওয়া যাহা কোনো ভাড়াটের ব্যবহারের জন্য বিশেষভাবে তাহার নিকট হস্তান্তর করা হয় নাই;
(গ) উপরের তলা এবং ফ্ল্যাটগুলির জন্য নিরাপদ যাতায়াত ব্যবস্থা, এবং সিঁড়ি ও অভিন্ন পথের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা;
(ঘ) অগ্নিকাণ্ডের ক্ষেত্রে সাবধানতামূলক ব্যবস্থা;
(ঙ) হয়েস্ট এবং উত্তোলন যন্ত্রের ব্যবস্থা ও রক্ষণ; এবং
(চ) আঙ্গিনার অন্য কোনো অভিন্ন সুবিধা রক্ষণ।
(২ক) যদি একাধিক নিয়োগকারী বা প্রতিষ্ঠান একই জায়গায় কাজ করে, তবে তাহাদের একে অপরের সহিত সমন্বয় করিয়া আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করিতে হইবে।]
(ক) 389[শৌচাগার, প্রক্ষালনকক্ষ] এবং ধৌতকরণ সুবিধাসমূহে পানির অভিন্ন সরবরাহের ব্যবস্থা করা;
(খ) আঙ্গিনার মালিকের এমন কলকব্জা বা যন্ত্রপাতি বেড়া দেওয়া যাহা কোন ভাড়াটের ব্যবহারের জন্য বিশেষভাবে তাহার নিকট হস্তান্তর করা হয় নাই;
(গ) উপরের তলা এবং ফ্লাটগুলির জন্য নিরাপদ যাতায়াত ব্যবস্থা, এবং সিঁড়ি ও অভিন্ন পথের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা;
(ঘ) অগ্নিকান্ডের ক্ষেত্রে সাবধানতামূলক ব্যবস্থা;
(ঙ) হয়েষ্ট এবং উত্তোলন যন্ত্রের ব্যবস্থা ও রক্ষণ; এবং
(চ) আঙ্গিনার অন্য কোন অভিন্ন সুবিধা রক্ষণ৷
(৩) যে ক্ষেত্রে কোন আঙ্গিনার অভিন্ন [শৌচাগার, প্রক্ষালনকক্ষ] ও ধৌতকরণ সুবিধাযুক্ত স্বতন্ত্র কক্ষ বিভিন্ন মালিকের স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান হিসাবে ব্যবহারের জন্য ভাড়া দেওয়া হয়, সে ক্ষেত্রেও উপ- ধারা (২) এর বিধান প্রযোজ্য হইবে৷
(৪) যে ক্ষেত্রে কোন আঙ্গিনার কোন কক্ষ বা শেডের বিভিন্ন অংশ বিভিন্ন মালিকের স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান হিসাবে ব্যবহারের জন্য ভাড়া দেওয়া হয় সে ক্ষেত্রে, আঙ্গিনার মালিক পঞ্চম অধ্যায়ের, ধারা ৫৩ এবং ৫৫ ব্যতীত এবং ষষ্ঠ অধ্যায়ের, ধারা ৪০, ৬৪, ৭৪, ৭৫ এবং ৭৭ ব্যতীত এবং ধারা ৯১ এর কোন বিধান ভঙ্গ বা লংঘনের জন্য দায়ী থাকিবেনঃ
তবে শর্ত থাকে যে, ধারা ৬৩, ৬৫ এবং ৭২ এর বিধান সম্পর্কে কেবলমাত্র তাহার নিয়ন্ত্রণাধীন কোন বিষয়ের সহিত সংশ্লিষ্ট বিধানের ক্ষেত্রে তাহার দায়িত্ব থাকিবেঃ
আরও শর্ত থাকে যে, আঙ্গিনার মালিক কর্তৃক সরবরাহকৃত অথবা তাহার মালিকানাধীন কোন যন্ত্রপাতি ও কল-কব্জা সম্পর্কে ষষ্ঠ অধ্যায়ের বিধানগুলি মানিয়া চলার জন্য তিনি দায়ী থাকিবেন৷
(৫) প্রধান পরিদর্শকের, সরকারের নিয়ন্ত্রণ সাপেক্ষে, এই ধারার বিধান পালন সম্পর্কে আঙ্গিনার মালিককে প্রয়োজনীয় কোন আদেশ দেওয়ার ক্ষমতা থাকিবে৷
(৬) উপ-ধারা (৩) এবং (৪) সম্পর্কে, এই আইনের উদ্দেশ্যে নিযুক্ত শ্রমিকের সংখ্যা গণনার ক্ষেত্রে সমস্ত আঙ্গিনাকে একটি মাত্র প্রতিষ্ঠান হিসাবে গণ্য করা হইবে৷
390[৩৪৫। (১) কোনো শ্রমিকের জন্য কোনো মজুরি নির্ধারণ বা নিম্নতম মজুরির হার স্থিরীকরণের ক্ষেত্রে, একই প্রকৃতির বা একই মান বা মূল্যের কাজের জন্য পুরুষ, নারী এবং অক্ষম শ্রমিকগণের জন্য সমান মজুরির নীতি অনুসরণ করিতে হইবে, এবং এতৎসংক্রান্ত কোনো ভেদের কারণে কোনো বৈষম্য করা যাইবে না।
(২) উপ-ধারা (১) এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, ধারা ২(৪৫)(ক), (গ) এবং (ঘ) তে উল্লিখিত উপাদানসমূহ বিবেচনাযোগ্য হইবে।]
391[৩৪৫ক। (১) কোনো মালিক কোনো শ্রমিকের সহিত বৈষম্যমূলক আচরণ করিতে পারিবেন না।
ব্যাখ্যা।-এই উপ-ধারায় ‘বৈষম্য’ বলিতে এমন আচরণ বোঝানো হইয়াছে, যাহা জাতি, বর্ণ, লিঙ্গ, লিঙ্গ পরিচয়, ধর্ম, রাজনৈতিক মতামত, জাতীয়তা, সামাজিক অবস্থান, বংশ বা প্রতিবন্ধীতার কারণে কোনো ব্যক্তিকে আলাদা করা, বাদ দেওয়া বা কম গুরুত্ব দেওয়া হয় এবং যাহার ফলে চাকুরি বা পেশায় সমতার সুযোগ ও আচরণ নষ্ট হয়।
(২) যদি কোনো নির্দিষ্ট কাজের জন্য বিশেষ যোগ্যতা বা দক্ষতা অপরিহার্য হয়, তবে সেই ভিত্তিতে গৃহীত সিদ্ধান্তকে বৈধ ধরা হইবে এবং এটি বৈষম্য হিসাবে গণ্য হইবে না।
(৩) নিম্নোক্ত বিষয়গুলোও বৈষম্য হিসেবে ধরা হইবে না, যথা:-
(ক) এমন ব্যবস্থা, যাহা যুক্তিসঙ্গতভাবে সন্দেহভাজন বা রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ কার্যকলাপে জড়িত ব্যক্তিদের জন্য;
(খ) অতীতে বৈষম্যমূলক আইন বা চর্চার কারণে সামাজিক, অর্থনৈতিক বা শিক্ষাগতভাবে বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে গৃহীত বিশেষ সুরক্ষা বা সহায়তা কার্যক্রম।
৩৪৫খ। (১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ উভয় ধরনের বৈষম্য নিষিদ্ধ হইবে।
(২) প্রত্যক্ষ বৈষম্য তখন ঘটে, যখন কোনো ব্যক্তি অন্য ব্যক্তির সহিত কম অনুকূল আচরণ করে, যাহা প্রকাশ্যে বা গোপনে নিষিদ্ধকরণ ( যেমন- লিঙ্গ, জাতি বা ধর্ম) করা হয়, এবং ইহার মধ্যে যৌন ও অন্যান্য ধরনের হয়রানিও অন্তর্ভুক্ত হইবে।
(৩) পরোক্ষ বৈষম্য তখন ঘটে, যখন কোনো ব্যক্তি এমন একটি শর্ত বা নিয়ম আরোপ করে, যাহা আপাতদৃষ্টিতে নিরপেক্ষ মনে হইলেও-
(ক) নিষিদ্ধ কারণে কিছু ব্যক্তিকে অন্যদের তুলনায় বেশি অসুবিধায় ফেলে; এবং
(খ) কাজের জন্য বাস্তবিকভাবে প্রয়োজনীয় নহে।
(৪) প্রমাণের দায়িত্ব নিম্নরূপভাবে নিয়োগকর্তার উপর থাকিবে, যথা:-
(ক) কম অনুকূল আচরণ বৈষম্যমূলক নহে; এবং
(খ) আরোপিত শর্ত বা নিয়ম যুক্তিসঙ্গত।
৩৪৫গ। (১) কোনো ব্যক্তি কোনো শ্রমিককে জোরপূর্বক বা বাধ্যতামূলক শ্রমে নিযুক্ত করিতে পারিবে না।
(২) কোনো ব্যক্তি অন্য কাউকে জোরপূর্বক বা বাধ্যতামূলক শ্রমে নিয়োগ বা ব্যবহারে সহায়তা করিতে পারবে না।]
৩৪৮৷ 392[(১) সরকার, শ্রমিকগণের ও মালিকগণের ট্রেড ইউনিয়নের কর্মকর্তাগণ, সাধারণ শ্রমিক ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে এই আইনের উপর প্রশিক্ষণ প্রদানের লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং প্রশিক্ষণ কোর্স ও গবেষণা পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করিবে।]
(২) উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক আহুত হইলে, শ্রমিকগণের ট্রেড ইউনিয়নের কোন কর্মকর্তা উক্তরূপ প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশগ্রহণ করিবেন৷
(৩) সাধারণতঃ অন্যুন পঞ্চাশ জন শ্রমিক নিয়োগকারী কোন প্রতিষ্ঠানের মালিক অথবা তত্কর্তৃক নির্ধারিত প্রতিষ্ঠানের কোন কর্মকর্তা, উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক আহুত হইলে উক্তরূপ প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশগ্রহণ করিবেন৷
(৪) উক্তরূপ প্রশিক্ষণ কোর্সের ব্যয় সরকার কর্তৃক নির্ধারিত অনুপাতে সরকার এবং মালিক বহন করিবেন৷
(৫) উক্তরূপ প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশ গ্রহণের জন্য ব্যয়িত সময় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব পালনে ব্যয়িত সময় বলিয়া গণ্য হইবে৷
(৬) এই ধারায় “উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ” বলিতে সরকার, অথবা এই ধারার অধীন প্রশিক্ষণ কোর্সের ব্যবস্থা পরিচালনার জন্য সরকার কর্তৃক স্থাপিত বা সরকারের নিকট হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন প্রতিষ্ঠান বা কর্তৃপক্ষকে বুঝাইবে৷
(৭) এই ধারায় যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোন যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি বা ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন, শ্রম পরিচালকের অনুমোদনক্রমে, অনধিক সাত দিনের মেয়াদে ট্রেড ইউনিয়নের কর্মকর্তাগণের জন্য এই আইনের উপর প্রশিক্ষণ কোর্সের ব্যবস্থা করিতে পারিবে, এবং মালিকের অনুমতিক্রমে উক্তরূপ কোর্সে অংশগ্রহণকারী কোন ব্যক্তির ক্ষেত্রে উপ-ধারা (৫) এর বিধান প্রযোজ্য হইবে৷
393[৩৪৮ক। (১) আইন, নীতি বা শ্রম সংক্রান্ত বিষয়ে সরকারকে পরামর্শ প্রদানের জন্য সরকার জাতীয় ও সেক্টরভিত্তিক ‘ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদ’ নামে পরিষদ গঠন করিতে পারিবে।
(২) পরিষদের গঠন এবং উহার কার্যপরিধি সরকার কর্তৃক নির্ধারিত হইবে।]
394[৩৪৮খ। যৌথ দরকষাকষির মাধ্যমে সামাজিক ও শ্রম সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণ, সম্মিলিত চুক্তি প্রণয়ন এবং সেইগুলির বাস্তবায়ন নিশ্চিত করিবার জন্য পক্ষগুলির প্রতিনিধিদের নিয়া একটি জাতীয় সামাজিক সংলাপ ফোরাম গঠন করা যাইবে।
৩৪৮গ। (১) এই আইনে বা বিদ্যমান অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুক থাকুক না কেন, শ্রম-সংক্রান্ত ব্যক্তিগত ও যৌথ বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য এই আইনের আওতায় একটি বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি কর্তৃপক্ষ গঠন করা হইবে যাহা নিরপেক্ষ ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে কার্যক্রম পরিচালনা করিবে।
(২) কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হিসাবে একজন অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজ বা শ্রম অধিকার ও আন্তর্জাতিক শ্রম মান বিষয়ক অভিজ্ঞ অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা বা বেসরকারি পর্যায়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তিকে সরকার বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে নিয়োগ প্রদান করিবে।
(৩) এই কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সরকার প্রয়োজনীয় সংখ্যক দপ্তর স্থাপন করিবে।
(৪) সালিশ পরিচালনার জন্য কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করিবার জন্য মধ্যস্থতাকারীগণ (Conciliators) ও সালিশকারকদের প্যানেল (Panel of Arbitrators) থাকিবে।
(৫) এই কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম তদারকি করিবার জন্য সরকার ত্রিপক্ষীয় প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে সরকারি গেজেটে বিজ্ঞপ্তি আকারে একটি গভর্নিং বডি গঠন করিবে।
(৬) গভর্নিং বডি শ্রম অধিদপ্তর (DOL) এবং কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের (DIFE) মনোনীত তালিকা হইতে মধ্যস্থতাকারীগণকে (Conciliators) নিয়োগ করিবে এবং সালিশকারকগণকে (Panel of Arbitrators) প্যানেল গঠন করিবে, মধ্যস্থতাকারীগণের (Conciliators) এবং সালিশকারকগণের (Panel of Arbitrators) যোগ্যতা ও দক্ষতা সংক্রান্ত বিষয়াবলি বিধি দ্বারা নির্ধারণ করা হইবে।
(৭) গভর্নিং বডির সদস্য মনোনয়নের মানদণ্ড ও পদ্ধতি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে এবং গভর্নিং বডি গঠনের বিষয়টি সরকারি গেজেটে বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশ করা হইবে।]
৩৫১৷ (১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে অথবা এই আইনের অধীন বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে বা করা যাইবে- এরূপ প্রত্যেক বা যে কোন বিষয় সম্পর্কে সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, 395[সমন্বিতভাবে একক অথবা পৃথক পৃথক] বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।
(২) বিশেষ করিয়া, এবং উপরিউক্ত ক্ষমতার সামগ্রিকতা ক্ষুণ্ন না করিয়া, অনুরূপ বিধিতে নিম্নলিখিত অধ্যায়সমূহের অধীন নিম্নবর্ণিত সকল বা যে কোন বিষয়ে বিধান করা যাইবে, যথাঃ-
(ক) পঞ্চম অধ্যায়ের অধীন-
(১) কোন প্রতিষ্ঠানের জন্য পর্যাপ্ত আলো-বাতাস সঞ্চালন, যুক্তিসংগত তাপমাত্রার মান নির্ধারণ, এবং উহাতে তাপমাপক যন্ত্র রক্ষণ;
(২) কোন প্রতিষ্ঠানে উহার বর্জ্য পদার্থ এবং জঞ্জাল অপসারণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নির্ধারণ এবং নির্ধারিত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক উহার অনুমোদন;
(৩) কৃত্রিমভাবে আর্দ্রতা বৃদ্ধি করিতে হয়-এ রকম কোন প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে-
(ক) আর্দ্রতার মান নির্ধারণ,
(খ) কৃত্রিমভাবে বাতাসের আর্দ্রতা বৃদ্ধির পন্থা নিয়ন্ত্রণ,
(গ) বাতাসের আর্দ্রতা নির্ধারণ ও লিপিবদ্ধকরণের জন্য পরীক্ষা, এবং
(ঘ) পর্যাপ্ত আলো-বাতাস এবং বাতাসকে ঠান্ডা রাখা নিশ্চিত করার জন্য পন্থা নির্ধারণ;
(৪) প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানের জন্য উপযুক্ত এবং পর্যাপ্ত আলোর মান নির্ধারণ;
(৫) কোন প্রতিষ্ঠানে পান করার পানি সম্পর্কে বিধান মানিয়া চলা নিশ্চিতকরণ;
396[(৬) কোন প্রতিষ্ঠানের জন্য শৌচাগার ও প্রক্ষালনকক্ষের সংখ্যা নির্ধারণ;]
(৭) কোন প্রতিষ্ঠানের জন্য পিকদানীর ধরন ও সংখ্যা নির্ধারণ এবং উহার স্থাপন এবং যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থাকরণ; এবং
(৮) কোন প্রতিষ্ঠানের স্বাস্থ্য রক্ষা সম্বন্ধে অতিরিক্ত ব্যবস্থা নির্ধারণ৷
(খ) ষষ্ঠ অধ্যায়ের অধীন-
(১) কোন প্রতিষ্ঠানের কোন বিশেষ যন্ত্রপাতি বা উহার অংশ সম্পর্কে অতিরিক্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থার বিধান,
(২) কোন যন্ত্রপাতির বিপজ্জনক অংশের নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নির্ধারণ;
(৩) কোন উত্তোলক যন্ত্র সম্পর্কে অনুসরণীয় অতিরিক্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাদি নির্ধারণ;
(৪) কোন কলকব্জা বা যন্ত্রপাতির পরীক্ষা এবং তত্সম্পর্কে অতিরিক্ত নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নির্ধারণ; এবং
(৫) কোন প্রতিষ্ঠানে নারী, পুরুষ এবং কিশোর কর্তৃক সর্বোচ্চ ভারবহণ, উত্তোলন বা স্থানান্তরের ক্ষমতা নির্ধারণ397[:
(৬) কোন প্রতিষ্ঠানে অগ্নি নির্বাবক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা সর্ম্পকে অতিরিক্ত সর্তকতামূলক ব্যবস্থাদি নির্ধারণ।]
(গ) দশম অধ্যায়ের অধীন-
(১) উক্ত অধ্যায়ের বাস্তবায়নের প্রয়োজনে রক্ষীতব্য রেকর্ড, রেজিস্টার, বিবরণী ও নোটিশ রক্ষণ এবং এগুলির ফরম নির্ধারণ;
(২) কোন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রমিকগণকে প্রদেয় মজুরীর হার বর্ণনা করিয়া উহার কোন প্রকাশ্য স্থানে নোটিশ লটকানো; এবং
(৩) শ্রমিকগণকে মজুরী প্রদানের প্রয়োজনে মালিক কর্তৃক রক্ষিত বাটখারা ও ওজন মাপার যন্ত্রপাতি এবং ওজন মাপার ব্যবস্থাদি নিয়মিত পরিদর্শনের বিধান৷
(ঘ) একাদশ অধ্যায়ের অধীন-
(১) মজুরীর হার নির্ধারণের জন্য বোর্ড কর্তৃক অনুসরণীয় পদ্ধতি;
(২) নিম্নতম মজুরী হারের দ্বারা প্রভাবিত হইতে পারেন এরূপ সকল ব্যক্তিকে তত্সম্পর্কে মন্তব্য এবং প্রস্তাব পেশ করার সুযোগ দান; এবং
(৩) প্রয়োজনীয় সকল বই, মজুরী স্লপি, রেজিস্টার এবং অন্যান্য রেকর্ডপত্র রক্ষণ এবং উহার ফরম ও লিখিতব্য বিষয়াদি নির্ধারণ এবং উহা প্রমাণীকরণ পদ্ধতি৷
(ঙ) দ্বাদশ অধ্যায়ের অধীন-
(১) শ্রম আদালতের হাতে রক্ষিত অর্থ মৃত শ্রমিকের পোষ্যগণের সুবিধার জন্য বিনিয়োগের পন্থা এবং উক্তরূপ বিনিয়োগকৃত অর্থ এক শ্রম আদালত হইতে অন্য শ্রম আদালতে হস্তান্তরের ব্যবস্থা নির্ধারণ;
(২) অব্যয়িত অর্থ ধারা ১৫৫ (৫) এর অধীন শ্রমিকগণের উপকারের জন্য গঠিত তহবিলে হস্তান্তরের পন্থা এবং এই তহবিলের গঠন ও প্রশাসনের ব্যবস্থা;
(৩) চুক্তিনামা পেশ করার এবং উহা রেজিস্ট্রিকরণের জন্য ফরম ও পন্থা নির্ধারণ;
(৪) পুনর্বিবেচনা সাপেক্ষে শ্রম আদালত কর্তৃক মাসিক ক্ষতিপূরণ প্রদান, সম্পূর্র্র্ণ বা আংশিক স্থগিতকরণ; এবং
(৫) শ্রম আদালত কর্তৃক রেজিস্টার এবং কার্যধারা রক্ষণ৷
(চ) সপ্তদশ অধ্যায়ের অধীন-
(১) ভবিষ্য তহবিলে মালিক কর্তৃক তাহার এবং শ্রমিকের চাঁদা প্রদানের সময় ও পদ্ধতি এবং উক্ত চাঁদা আদায়ের পন্থা নির্ধারণ;
(২) ভবিষ্য তহবিল পরিচালনার জন্য ট্রাস্টি বোর্ডের ক্ষমতা ও দায়িত্ব;
(৩) ভবিষ্য তহবিল হইতে অর্থ উঠাইবার শর্তাদি এবং তত্সম্পর্কে অনুমোদনীয় কর্তন ও বাজেয়াপ্তী এবং ইহার সর্বোচ্চ পরিমাণ;
(৪) তলব করা হইলে কোন শ্রমিকের তাহার নিজের ও পরিবার সম্পর্কে তথ্য সরবরাহের ফরম;
(৫) কোন শ্রমিকের মৃত্যু হইলে তাহার নামে জমা অর্থ প্রদানের জন্য কোন ব্যক্তিকে মনোনয়ন এবং উক্তরূপ মনোনয়ন বাতিল বা সংশোধন;
(৬) ভবিষ্য তহবিলের সদস্যগণ সম্পর্কে রেকর্ড ও রেজিস্টার রক্ষণ এবং সদস্যগণ কর্তৃক সরবরাহ করিতে হইবে এরূপ বিবরণী;
(৭) কোন চাঁদা কার্ড, নিদর্শন বা চাকতির ফরম বা নমুনা এবং উহার বিতরণ, হেফাজত ও প্রতিস্থাপন; এবং
(৮) ভবিষ্য তহবিল হইতে কোন সদস্য কর্তৃক জীবন বীমার জন্য প্রিমিয়াম প্রদানের অনুমতির শর্তাদি৷
(ছ) অষ্টাদশ অধ্যায়ের অধীন-
(১) শিক্ষাধীন ব্যক্তির নির্বাচন এবং শিক্ষাধীনতা চুক্তির শর্তাদি;
(২) শিক্ষাধীনগণের শৃঙ্খলা, কল্যাণ, তত্ত্বাবধান এবং নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কিত পদ্ধতি;
(৩) শিক্ষাধীনগণের প্রশিক্ষণ সম্পর্কে মালিক কর্তৃক রক্ষণীয় রেকর্ডের ফরম;
(৪) পর্যায়ক্রমিক পরীক্ষা এবং সাফল্যজনকভাবে প্রশিক্ষণ সমাপনের পর প্রদত্ত প্রত্যয়নপত্র; এবং
(৫) ব্যবহারিক এবং তাত্ত্বিক পরীক্ষার মান নির্ধারণ৷