প্রিন্ট

18/07/2024
Laws of Bangladesh

নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩

( ২০১৩ সনের ৪৩ নং আইন )

প্রথম অধ্যায়

প্রারম্ভিক

সংজ্ঞা
২। বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে-
 
 
(১) ‘‘কর্তৃপক্ষ’’ অর্থ ধারা ৫ এর অধীন প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ;
 
 
(২) ‘‘কীটনাশক বা বালাইনাশকের অবশিষ্টাংশ’’ অর্থ উৎপাদন, আমদানি, প্রক্রিয়াকরণ, মজুদ, সরবরাহ, বিক্রয় বা বিপণনের যে কোন পর্যায়ে, কীটনাশক বা বালাইনাশক ব্যবহারের ফলে, খাদ্য বস্ত্ততে উপস্থিত কোন বিশেষ বস্ত্ত বা উদ্ভুত কোন অবস্থা, যাহাতে কীটনাশক বা বালাইনাশকের মূল উপাদান, সহযোগী অংশ, রূপান্তরিত উৎপন্ন দ্রব্য, বিপাক বা শোষণকৃত (metabolites) অবশিষ্টাংশ, বিক্রিয়ার মাধ্যমে উৎপাদিত বস্ত্ত বা সৃষ্ট দূষিত বস্ত্তসহ এইরূপ কোন বস্ত্ত বিদ্যমান থাকে ও যাহাদের উপস্থিতিতে খাদ্যদ্রব্যে মারাত্মক বিষক্রিয়া সংঘটিত হয় বলিয়া বিবেচিত হয়; এবং কোন খাদ্যদ্রব্যে পরিবেশ হইতে সংক্রামিত অবশিষ্টাংশও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে; এবং
 
 
(৩) ‘‘খাদ্য’’ অর্থ চর্ব্য, চূষ্য, লেহ্য (যেমন-খাদ্যশস্য, ডাল, মৎস্য, মাংস, দুগ্ধ, ডিম, ভোজ্য-তৈল, ফলমূল, শাকসব্জি, ইত্যাদি) বা পেয় (যেমন- সাধারণ পানি, বায়ুবায়িত পানি, অঙ্গারায়িত পানি, এনার্জি-ড্রিংক, ইত্যাদি)-সহ সকল প্রকার প্রক্রিয়াজাত, আংশিক-প্রক্রিয়াজাত বা অপ্রক্রিয়াজাত আহার্য উৎপাদন এবং খাদ্য, প্রক্রিয়াকরণ বা প্রস্ত্ততকরণে ব্যবহৃত উপকরণ বা কাঁচামালও, যাহা মানবদেহের জন্য উপকারী আহার্য হিসাবে জীবন ধারণ, পুষ্টি সাধন ও স্বাস্থ্য-রক্ষা করিতে ব্যবহৃত হইয়া থাকে, উহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;
 
 
ব্যাখ্যা-
 
 
(ক) আহার্য প্রস্ত্ততকরণে ব্যবহৃত রঞ্জক, সুগন্ধি, মশলা, সংযোজন-দ্রব্য, সংরক্ষণ-দ্রব্য, এন্টি-অক্সিডেন্ট, যাহা মূল আহার্য নহে কিন্তু খাদ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ বা প্রস্ত্ততকরণে ব্যবহৃত হইয়া থাকে, খাদ্যের অন্তর্ভুক্ত হইবে;
 
 
(খ) সরকার কর্তৃক, সময় সময়, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা খাদ্য বলিয়া ঘোষিত দ্রব্যাদি, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, খাদ্যের অন্তর্ভুক্ত হইবে;
 
 
তবে ঔষধ, ভেষজ, মাদক ও সৌন্দর্য সামগ্রী, ইত্যাদি খাদ্যের অন্তর্ভুক্ত হইবে না।
 
 
(৪) ‘‘খাদ্য আদালত’’ অর্থ ধারা ৬৪ এর অধীন নির্ধারিত বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত;
 
 
(৫) ‘‘খাদ্য উৎপাদন’’ অর্থ যে কোন খাদ্যের উপাদানকে খাদ্যদ্রব্যে পরিবর্তন করিবার প্রক্রিয়া, যাহার সহিত অন্যান্য প্রক্রিয়াও অঙ্গীভূত থাকিতে পারে;
 
 
(৬) ‘‘খাদ্য পরীক্ষাগার’’ অর্থ কোন আইনের অধীন প্রতিষ্ঠিত বা সরকার কর্তৃক স্বীকৃত কোন খাদ্য পরীক্ষাগার বা প্রতিষ্ঠান, যে নামেই অভিহিত হউক না কেন;
 
 
(৭) ‘‘খাদ্য বিশ্লেষক’’ অর্থ ধারা ৪৫ এর উপ-ধারা (১) এর অধীন নিযুক্ত কোন খাদ্য বিশ্লেষক এবং উপ-ধারা (২) এর অধীন খাদ্য বিশ্লেষকের দায়িত্বপালনকারী ব্যক্তিও উহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;
 
 
(৮) ‘‘খাদ্য ব্যবসা’’ অর্থ খাদ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ, প্যাকেজিং, গুদামজাতকরণ, পরিবহন, আমদানি, বিতরণ বা বিক্রয় সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড এবং মজুদ, যোগান, সরবরাহ ও সেবাসহ খাদ্যদ্রব্য প্রস্ত্ততকরণ অথবা খাদ্যের উপাদান বিক্রয় সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;
 
 
(৯) ‘‘খাদ্য ব্যবসায়ী’’ অর্থ যে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আপাততঃ বলবৎ কোন আইনের অধীন বা প্রবিধান অনুযায়ী খাদ্য ব্যবসা পরিচালনা করেন এবং যিনি উক্ত ব্যবসার প্রতি দায়িত্বশীল বা উক্ত ব্যবসার সত্ত্বাধিকারী;
 
 
(১০) ‘‘খাদ্য সংযোজন দ্রব্য’’ অর্থ বিশেষ উদ্দেশ্যে খাদ্যের সহিত প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত মাত্রার সংযোজিত যে কোন বস্ত্ত, যাহা সাধারণত মূল আহার্য হিসাবে ভক্ষণ করা হয় না, তবে বৈশিষ্ট্যসূচক উপাদান হিসাবে কারিগরী প্রয়োজনে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, প্রস্ত্ততকরণ, মোড়কজাতকরণ, সংরক্ষণের মাধ্যমে, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে, প্রত্যাশিত উপযোগিতা প্রাপ্তির জন্য খাদ্যে ব্যবহৃত হয় এবং দূষক বা অন্য কোন মিশ্রিত পদার্থের অন্তর্ভুক্তি ব্যতিরেকেই খাদ্যের গুণগত মান অক্ষুণ্ণ রাখিবার জন্য মূল খাদ্যের বৈশিষ্ট্যকে প্রভাবিত করে;
 
 
(১১) ‘‘খাদ্য-স্থাপনা’’ অর্থ খাদ্যদ্রব্য বা খাদ্যোপকরণ উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ, আমদানি, সরবরাহ, মজুদ, বিতরণ বা বিক্রয়ের সহিত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ভূমি, দালানকোঠা, যানবাহন, ভ্যান, তাবু অথবা উন্মুক্ত, আবৃত বা দেওয়ালঘেরা কোন জায়গা অথবা যে কোন ধরনের অবকাঠামো এবং জলপ্রবাহ, হ্রদ, সমুদ্রতীর, নালা-নর্দমা, খানা-খন্দক, নদী, পোতাশ্রয় বা অন্য কোন জলাশয়ের উপর অবস্থিত অবকাঠামোও উহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;
 
 
(১২) ‘‘চেয়ারম্যান’’ অর্থ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান;
 
 
(১৩) ‘‘দণ্ডবিধি’’ অর্থ Penal Code (Act. No. XLV of 1860);
 
(১৪) ‘‘দূষক’’ অর্থ এইরূপ কোন বস্ত্ত যাহা, খাদ্যদ্রব্যে যোগ করা হউক বা না হউক, খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ, প্রস্ত্ততকরণ, মোড়কাবদ্ধকরণ, পরিবহন, মজুদ অথবা পরিবেশ-দূষণ বা অন্য কোন কারণে খাদ্যে উপস্থিত থাকিতে পারে, তবে পোকামাকড়ের অংশবিশেষ, চুল, লোম বা অন্য কোন বহিঃস্থ পদার্থ ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে না;
 
 
(১৫) ‘‘ধারণপাত্র’’ অর্থ ইতোপূর্বে ব্যবহৃত হইয়াছে এইরূপ কোন স্বাস্থ্য হানিকর পাত্র হইতে প্রস্ত্তত নয়, এইরূপ কোন আধার বা মোড়ক, যাহা ধূলাবালি, অননুমোদিত মাত্রার জৈব বা রাসায়নিক দূষক, আর্সেনিক, পারদ বা স্বাস্থ্য হানিকর ভারী-ধাতু হইতে মুক্ত;
 
 
(১৬) ‘‘নকল খাদ্য’’ অর্থ বিক্রয়ের জন্য অনুমোদিত কোন খাদ্যদ্রব্য বা খাদ্যোপকরণের অনুকরণে অননুমোদিতভাবে অনুরূপ খাদ্য উৎপাদন, আমদানি, প্রস্ত্তত বা লেবেলিং করা, যাহার মধ্যে অনুমোদিত খাদ্যের উপাদান, উপকরণ, বিশুদ্ধতা ও গুণগত মান বিদ্যমান থাকুক বা না থাকুক;
 
 
(১৭) ‘‘নিরাপদ খাদ্য’’ অর্থ প্রত্যাশিত ব্যবহার ও উপযোগিতা অনুযায়ী মানুষের জন্য বিশুদ্ধ ও স্বাস্থ্যসম্মত আহার্য;
 
 
(১৮) ‘‘নিরাপদ খাদ্য বিরোধী কার্য’’ অর্থ পঞ্চম অধ্যায়ে উল্লিখিত খাদ্য ব্যবসা পরিচালনায় বিধি-নিষেধ লংঘনজনিত কোন কার্য;
 
 
(১৯) ‘‘নির্ধারিত’’ অর্থ বিধি দ্বারা নির্ধারিত এবং, বিধি প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত, সরকারের অনুমোদনক্রমে, কর্তৃপক্ষ কর্তৃক লিখিত আদেশ দ্বারা নির্ধারিত;
 
 
(২০) ‘‘পরিদর্শক’’ অর্থ ধারা ৫১ এর উপ-ধারা (১) এর অধীন নিযুক্ত কোন নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক এবং উপ-ধারা (২) এর অধীন নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শকের দায়িত্বপালনকারী ব্যক্তিও উহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;
 
 
(২১) ‘‘পশু বা মৎস্য-রোগের ঔষধের অবশিষ্টাংশ’’ অর্থ পশু বা মৎস্য-রোগের ঔষধে ব্যবহৃত মূল যৌগ বা তাহার বিপাক বা শোষণকৃত-বস্ত্ত, যাহা কোন প্রাণীজ উৎস হইতে প্রাপ্ত খাদ্যদ্রব্যের ভোজ্য অংশে বা পশু বা মৎস্য খাদ্যের উপকরণের মধ্যে উপস্থিত ঔষধের অবশিষ্টাংশ এবং সহযোগী দূষণকারী দ্রব্যাদি (impurities) থাকিলে উহাও অন্তর্ভুক্ত হইবে;
 
 
(২২) ‘‘পরিষদ’’ অর্থ ধারা ৪ এর অধীন প্রতিষ্ঠিত জাতীয় নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা উপদেষ্টা পরিষদ;
 
 
(২৩) ‘‘প্রক্রিয়াকরণ-সহায়ক দ্রব্য’’ অর্থ যন্ত্রপাতি ও গৃহ-সরঞ্জাম ব্যতীত অন্য যে কোন পদার্থ বা বস্ত্ত, যাহা খাদ্য হিসাবে সরাসরি ভক্ষণ করা হয় না, তবে খাদ্যোপকরণ হিসাবে বিশেষ কারিগরি প্রয়োজনে কোন শোধন অথবা প্রক্রিয়াকরণের স্বার্থে ব্যবহৃত হয় বা প্রক্রিয়াকরণের পর চূড়ান্ত খাদ্যদ্রব্যে উপজাত বা অবশিষ্টাংশ (residue) বা যাহাদের অনিবার্য উপস্থিতি আদি নহে এইরূপ বস্ত্ত হিসাবে পরিলক্ষিত হয়;
 
 
(২৪) ‘‘প্রবিধান’’ অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত প্রবিধান;
 
 
(২৫) ‘‘ফৌজদারী কার্যবিধি’’ অর্থ Code of Criminal Procedure, 1898 (Act No. V of 1898);
 
(২৬) ‘‘বহিঃস্থ পদার্থ (extraneous matter)” অর্থ এইরূপ কোন পদার্থ যাহা খাদ্যপণ্য প্রস্ত্ততকরণে কাঁচামাল বা উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ বা প্যাকেজিং এ ব্যবহৃত হইবার কারণে উহার মধ্যে উপস্থিত থাকিতে পারে, কিন্তু উক্ত খাদ্যপণ্যকে অনিরাপদ করে না;
 
 
(২৭) ‘‘বিধি’’ অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি;
 
 
(২৮) ‘‘ব্যক্তি’’ অর্থে কোন কোম্পানি, সংস্থা, সংবিধিবদ্ধ হউক বা না হউক, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, অংশীদারী কারবার, সমিতি, সংঘ, সংগঠনও অন্তর্ভুক্ত হইবে;
 
 
(২৯) ‘‘ভেজাল খাদ্য’’ অর্থ এমন কোন খাদ্য বা খাদ্যদ্রব্যের অংশ,
 
 
(ক) যাহাকে রঞ্জিত, স্বাদ-গন্ধযুক্ত, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াকরণ বা আকর্ষণীয় করিবার জন্য এইরূপ পরিমাণ উপাদান দ্বারা মিশ্রিত করা হইয়াছে, যে পরিমাণ উপাদান মিশ্রিত করা মানব-স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এবং যাহা কোন আইনের অধীন নিষিদ্ধ; বা
 
 
(খ) যাহাকে রঞ্জিতকরণ, আবরণ প্রদান বা আকার পরিবর্তন করিবার জন্য এমন কোন উপাদান মাত্রাতিরিক্ত পরিমাণে মিশ্রিত করা হইয়াছে যাহার ফলে মূল খাদ্যদ্রব্যের ক্ষতি সাধিত হইয়াছে এবং যাহার ফলে উহার গুণাগুণ বা পুষ্টিমান হ্রাস পাইয়াছে; বা
 
 
(গ) যাহার মধ্য হইতে কোন স্বাভাবিক উপাদানকে সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে অপসারণপূর্বক অপেক্ষাকৃত স্বল্প মূল্যের ভিন্ন কোন উপাদান মিশ্রিত করিবার মাধ্যমে আপাতঃ ওজন বা পরিমাণ বৃদ্ধি বা আকর্ষণীয় করিয়া খাদ্যক্রেতার আর্থিক বা স্বাস্থ্যগত ক্ষতি সাধন করা হয়;
 
 
(৩০) ‘‘মৎস্য’’ অর্থ সকল প্রকার কোমল অস্থি ও কঠিন অস্থিবিশিষ্ট মাছ, স্বাদু ও লবণাক্ত পানির চিংড়ি, উভচর জলজ প্রাণী, কচ্ছপ, কাছিম, কাঁকড়া ও শামুক বা ঝিনুক জাতীয় জলজ প্রাণী, একাইনোডার্ম জাতীয় প্রাণী, ব্যাঙ ও উহার জীবনচক্রের যে কোন ধাপ এবং সরকার কর্তৃক, সময় সময়, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, ঘোষিত অন্য কোন জলজ প্রাণীও উহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;
 
 
(৩১) ‘‘সদস্য’’ অর্থ কর্তৃপক্ষের কোন সদস্য এবং, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, চেয়ারম্যানও উহার অন্তর্ভুক্ত হইবেন;
 
 
(৩২) ‘‘সভাপতি’’ অর্থ পরিষদের সভাপতি এবং, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, পরিষদের সহসভাপতিও উহার অন্তর্ভুক্ত হইবেন;
 
 
(৩৩) ‘‘সমন্বয় কমিটি’’ অর্থ ধারা ১৫ এর অধীন গঠিত কেন্দ্রীয় নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা সমন্বয় কমিটি।

Copyright © 2019, Legislative and Parliamentary Affairs Division
Ministry of Law, Justice and Parliamentary Affairs