বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস আইন, ২০০৯
( ২০০৯ সনের ৩০ নং আইন )
  [এপ্রিল ৮, ২০০৯]
     
     
জাতীয় নিরাপত্তা, যুদ্ধ কৌশল এবং চিকিৎসা, প্রকৌশল ও প্রযুক্তিসহ উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন ক্ষেত্রে অগ্রসরমান বিশ্বের সাথে সঙ্গতি রক্ষা ও সমতা অর্জন এবং জাতীয় পর্যায়ে উচ্চ শিক্ষা, গবেষণা, আধুনিক জ্ঞান চর্চা ও পঠন-পাঠনের সুযোগ সৃষ্টি ও সম্প্রসারণের নিমিত্ত সশস্ত্র বাহিনীর শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানসমূহের সমন্বয়ে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস্ নামে একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনকল্পে প্রণীত আইন।
 
যেহেতু জাতীয় নিরাপত্তা, যুদ্ধ কৌশল এবং চিকিৎসা, প্রকৌশল ও প্রযুক্তিসহ উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন ক্ষেত্রে অগ্রসরমান বিশ্বের সাথে সঙ্গতি রক্ষা ও সমতা অর্জন এবং জাতীয় পর্যায়ে উচ্চ শিক্ষা, গবেষণা, আধুনিক জ্ঞান চর্চা ও পঠন-পাঠনের সুযোগ সৃষ্টি ও সম্প্রসারণের নিমিত্ত সশস্ত্র বাহিনীর শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানসমূহের সমন্বয়ে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস্ নামে একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের লক্ষ্যে বিধান করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়;

সেহেতু এতদ্‌দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইলঃ-
   
 
সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তন  
১।(১) এই আইন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস্ আইন, ২০০৯ নামে অভিহিত হইবে।

(২) এই আইন ২২ জ্যৈষ্ঠ, ১৪১৫ বঙ্গাব্দ মোতাবেক ৫ জুন, ২০০৮ খ্রিস্টাব্দ তারিখ হইতে কার্যকর হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।
   
   
 
সংজ্ঞা  
২। বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে-

(১) "অধিভুক্ত কলেজ, ইনস্টিটিউট, একাডেমি বা প্রতিষ্ঠান" অর্থ এই আইন সংবিধি এবং বিশ্ববিদ্যালয় বিধি অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক স্বীকৃত ও অধিভুক্ত, বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর পরিচালনাধীন স্নাতক, স্নাতক-সম্মান ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রী পর্যায়ের কোন কলেজ, ইনস্টিটিউট, একাডেমি বা প্রতিষ্ঠান;

(২) " অংগীভূত কলেজ, ইনস্টিটিউট, একাডেমি বা প্রতিষ্ঠান" অর্থ এই আইন, সংবিধি এবং বিশ্ববিদ্যালয় বিধি অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক স্বীকৃত ও অংগীভূত, বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর পরিচালনাধীন কোন কলেজ, ইনস্টিটিউট, একাডেমি বা প্রতিষ্ঠান;

(৩) "অনুষদ" অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদ;

(৪) "অর্থ কমিটি" অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ কমিটি;

(৫) "ইনস্টিটিউট" অর্থ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক স্বীকৃত বা স্থাপিত কোন ইনস্টিটিউট, একাডেমি বা প্রতিষ্ঠান;

(৬) "একাডেমিক কাউন্সিল" অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিল;

(৭) "কর্তৃপক্ষ" অর্থ ধারা ২০ এর অধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন কর্তৃপক্ষ;

(৮) "কমিটি" অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন কমিটি;

(৯) "কর্মকর্তা" অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন কর্মকর্তা;

(১০) "কর্মচারী" অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন কর্মচারী;

(১১) "চ্যান্সেলর" অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর;

(১২) "ছাত্র" অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমে ভর্তিকৃত কোন ছাত্র বা ছাত্রী;

(১৩) "ট্রেজারার" অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার;

(১৪) "ডীন" অর্থ ধারা ১৬ তে বর্ণিত ডীন;

(১৫) "নির্ধারিত" অর্থ সংবিধি, বিশ্ববিদ্যালয় বিধি বা প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত;

(১৬) "প্রভোস্ট" অর্থ কোন হলের প্রধান;

(১৭) "পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও মূল্যায়ন কমিটি" অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও মূল্যায়ন কমিটি;

(১৮) "পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক" অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক;

(১৯) "প্রফেশনালস্" অর্থ দেশের বিভিন্ন সেক্টর যেমন, প্রযুক্তি, নিরাপত্তা, যুদ্ধ কৌশল, চিকিৎসা বিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনা, ব্যবসা সাধারণ শিক্ষা, ইত্যাদি বিষয়ে শিক্ষা গ্রহনে ইচ্ছুক কোন ব্যক্তি বা ছাত্র যিনি বর্তমানে চাকুরীরত আছেন বা ভবিষ্যতে চাকুরীরত হইবেন;

(২০) "প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর" অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর;

(২১) "বিভাগ" অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন বিভাগ;

(২২) "বিভাগীয় প্রধান" অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন বিভাগের প্রধান;

(২৩) "বিশ্ববিদ্যালয়" অর্থ ধারা ৩ এর অধীন স্থাপিত বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস;

(২৪) "বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন" অর্থ University Grants Commission of Bangladesh Order, 1973 (P. O. No10 of 1973) এর অধীন গঠিত University Grants Commission of Bangladesh;

(২৫) "বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন আদেশ" অর্থ University Grants Commission of Bangladesh Order, 1973 (P. O. No 10 of 1973);

(২৬) "রেজিস্ট্রার" অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার;

(২৭) "ভাইস-চ্যান্সেলর" অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর;

(২৮) "শিক্ষক বা প্রশিক্ষক" অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের সামরিক বা বেসামরিক অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক বা প্রভাষক বা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক শিক্ষক বা প্রশিক্ষক হিসাবে স্বীকৃত কোন ব্যক্তি;

(২৯) "সিন্ডিকেট" অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট;

(৩০) "সংবিধি", "বিশ্ববিদ্যালয় বিধি" বা ""প্রবিধান" অর্থ যথাক্রমে এই আইনের অধীন প্রণীত সংবিধি, বিশ্ববিদ্যালয় বিধি বা প্রবিধান;

(৩১) "সংস্থা" অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন সংস্থা;

(৩২) "হল" অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের সংঘবদ্ধ জীবন এবং সহশিক্ষাক্রমিক শিক্ষাদানের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণাধীন ছাত্রাবাস।
   
   
 
বিশ্ববিদ্যালয়  
৩। (১) এই আইনের বিধান অনুযায়ী ঢাকার মিরপুর সেনানিবাসে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস্ (Bangladesh University of Professionals) নামে একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হইবে।

(২) বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর, ভাইস-চ্যান্সেলর, প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর, ট্রেজারার, সিনেট, সিন্ডিকেট ও একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্যগণ সমন্বয়ে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস্ (Bangladesh University of Professionals) নামে একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা গঠিত হইবে।

(৩) বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ধারাবাহিকতা ও একটি সাধারণ সীলমোহর থাকিবে এবং এই আইনের বিধান সাপেক্ষে, ইহার স্থাবর ও অস্থাবর উভয় প্রকার সম্পত্তি অর্জন করিবার, অধিকারে রাখিবার এবং হস্তান্তর করিবার ক্ষমতা থাকিবে এবং উক্ত নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে বা বিপক্ষে মামলা দায়ের করা যাইবে।
   
   
 
অধিভুক্ত এবং অংগীভূত কলেজ, ইনস্টিটিউট, একাডেমি বা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি  
৪। (১) অধিভুক্ত এবং অংগীভূত কলেজ, ইনস্টিটিউট, একাডেমি ও প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক কার্যক্রম সরেজমিনে তদারকীকরণ, নিয়ন্ত্রণ, ব্যবস্থাপনা, উন্নয়ন, ইত্যাদি সংক্রান্ত বিষয়াদি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ন্ত্রনাধীনে পরিচালিত হইবে।

(২) বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর পরিচালনাধীন নিম্নবর্ণিত কলেজ, ইনস্টিটিউট ও একাডেমিসমূহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজ, ইনস্টিটিউট ও একাডেমি হইবে, যথাঃ-

(ক) ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ (এনডিসি);

(খ) ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড এন্ড সটাফ কলেজ (ডিএসসিএসসি);

(গ) মিলিটারী ইনসটিটিউট অব সাইন্স এন্ড টেকনোলজি (এমআইএসটি);

(ঘ) আর্মড ফোর্সেস মেডিক্যাল কলেজ (এএফএমসি);

(ঙ) আর্মড ফোর্সেস ইনস্টিটিউট অব প্যাথলজি (এএফআইপি);

(চ) আর্মড ফোর্সেস মেডিক্যাল ইনস্টিটিউট (এএফএমআই);

(ছ) বাংলাদেশ মিলিটারী একাডেমী (বিএমএ);

(জ) বাংলাদেশ নেভাল একাডেমী (বিএনএ);

(ঝ) বাংলাদেশ এয়ার ফোর্স একাডেমী (বিএএফএ);

(ঞ) সরকার কর্তৃক, সময় সময়, স্বীকৃত বা অনুমোদিত, অন্য কোন কলেজ, ইনস্টিটিউট, একাডেমী বা প্রতিষ্ঠান।

(৩) এই ধারায় উল্লিখিত বিষয়াদি সম্পর্কিত বিধান সংবিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
   
   
 
বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষমতা  
৫। এই আইন এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন আদেশের বিধান সাপেক্ষে, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিম্নবর্ণিত ক্ষমতা থাকিবে, যথাঃ-

(ক) অধিভুক্ত ও অংগীভূত কলেজ, ইনস্টিটিউট, একাডেমি ও প্রতিষ্ঠানসমূহের একাডেমিক কার্যক্রম ব্যবস্থাপনা, নিয়ন্ত্রণের জন্য রেগুলেটরী বডি হিসাবে কাজ করা;

(খ) প্রকৌশল, প্রযুক্তি, যুদ্ধ কৌশল নিরাপত্তা, চিকিৎসা, ব্যবসায় প্রশাসন, ইত্যাদি বিষয়ে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ে শিক্ষাদান, গবেষণা, জ্ঞানের উৎকর্ষ সাধন ও জ্ঞান বিতরণের ব্যবস্থা করা;

(গ) বিভাগ ও ইনস্টিটিউটে শিক্ষাদানের পাঠ্যক্রম নির্ধারণ করা;

(ঘ) বিভাগ, অনুষদ ও ইনস্টিটিউটের মধ্যে সমন্বয় সাধন করা;

(ঙ) বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত পাঠ্যক্রম অধ্যয়ন সম্পূর্ণ করিয়াছেন এবং সংবিধির শর্তানুযায়ী গবেষণার কাজ সম্পূর্ণ করিয়াছেন এমন ব্যক্তির পরীক্ষা গ্রহণ ও মূল্যায়ন করা এবং ডিগ্রী ও অন্যান্য একাডেমিক সম্মান প্রদান করা;

(চ) সংবিধিতে বিধৃত পদ্ধতিতে সম্মানসূচক ডিগ্রী বা অন্য কোন সম্মান প্রদান করা;

(ছ) অনুষদ, বিভাগ বা ইনসটিটিউটের ছাত্র নহেন এমন ব্যক্তিদেরকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক নির্ধারিত সার্টিফিকেট, ডিপ্লোমা প্রদানের উদ্দেশ্যে বক্তৃতামালার আয়োজন ও শিক্ষার ব্যবস্থা করা এবং সংবিধির শর্ত অনুযায়ী ডিপ্লোমা, সাটিফিকেট বা সম্মাননা প্রদান করা;

(জ) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনে তদ্‌কর্তৃক নির্ধারিত পন্থায় দেশে বা বিদেশে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহিত সহযোগিতা ও যৌথ গবেষণা কর্মসূচী গ্রহণ করা;

(ঝ) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনে, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন ও সরকার কর্তৃক নির্ধারিত শর্ত ও বাজেট বরাদ্দ সাপেক্ষে, অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক, প্রভাষক, সুপারনিউমারী অধ্যাপক ও এমেরিটাস অধ্যাপকের পদ এবং প্রয়োজনীয় অন্য কোন গবেষক ও শিক্ষকের পদসহ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পদ সৃষ্টি করা এবং সংশ্লিষ্ট সিলেকশন কমিটি কর্তৃক সুপারিশকৃত ব্যক্তিগণকে সেই সকল পদে নিয়োগ প্রদান করা;

(ঞ) কলেজ, ইনস্টিটিউট, একাডেমি ও প্রতিষ্ঠানসমূহকে অধিভুক্ত বা অনধিভুক্ত করা;

(ট) বিশ্ববিদ্যালয় বা অধিভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক পরিচালিত পাঠ্য বিষয় প্রস্তাব করা;

(ঠ) মেধার স্বীকৃতি প্রদানের উদ্দেশ্যে সংবিধি, বিশ্ববিদ্যালয় বিধি ও প্রবিধান অনুযায়ী ফেলোশীপ, পুরস্কার ও পদক প্রবর্তন ও বিতরণ করা;

(ড) শিক্ষা ও গবেষণার উন্নয়নের জন্য, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের অনুমোদনক্রমে, একাডেমিক জাদুঘর, পরীক্ষাগার, কর্মশিবির, বিভাগ, অনুষদ এবং ইনস্টিটিউট স্থাপন, রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনা করা;

(ঢ) বিশ্ববিদ্যালয় বিধি দ্বারা নির্ধারিত ফিস দাবী ও আদায় করা;

(ণ) বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা সম্প্রসারণ ও উন্নয়নের জন্য, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন ও সরকারের অনুমতিক্রমে, কোন দেশী বা বিদেশী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নিকট হইতে কোন অনুদান, চাঁদা বা বৃত্তি গ্রহণ করা এবং ট্রাস্ট ইত্যাদি গঠন করা;

(ত) বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ্য অর্জনের জন্য কোন চুক্তিতে আবদ্ধ হওয়া, চুক্তি বাস্তবায়ন করা, চুক্তির শর্ত পরিবর্তন করা অথবা চুক্তি বাতিল করা;

(থ) শিক্ষা ও গবেষণার উন্নতি ও অগ্রগতির জন্য পুস্তক ও জার্নাল প্রকাশ করা;

(দ) বিশ্ববিদ্যালয়ের অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জন ও বাস্তবায়নকল্পে প্রয়োজনীয় অন্যান্য কাজকর্ম সম্পাদন করা।
   
   
 
জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সকলের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় উন্মুক্ত  
৬। যে কোন জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র এবং শ্রেণীর ব্যক্তির জন্য বিশ্ববিদ্যালয় উন্মুক্ত থাকিবে এবং জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, জন্মস্থান বা শ্রেণীর কারণে কাহারও প্রতি কোন বৈষম্য করা যাইবে না।
   
   
 
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাদান  
৭। (১) বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল স্বীকৃত শিক্ষা ও গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক পরিচালিত হইবে এবং পরীক্ষাগার বা কর্মশিবিরের সকল বক্তৃতা ও কর্ম ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে।

(২) বিশ্ববিদ্যালয় বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে শিক্ষকগণ শিক্ষাদান পরিচালনা করিবেন।

(৩) শিক্ষাদানের দায়িত্ব কোন কর্তৃপক্ষের উপর থাকিবে তাহা সংবিধি অনুযায়ী নির্ধারিত হইবে।

(৪) শিক্ষাক্রম এবং পাঠ্যসূচী সংবিধি ও বিশ্ববিদ্যালয় বিধি অনুযায়ী নির্ধারণ করা হইবে।

(৫) বিশ্ববিদ্যালয় বিধি ও প্রবিধানে বিধৃত শর্তানুসারে টিউটোরিয়াল দ্বারা অনুমোদিত শিক্ষাদান করা হইবে।
   
   
 
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের দায়িত্ব  
৮। (১) বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন এক বা একাধিক ব্যক্তির সমন্বয়ে গঠিত কমিটি দ্বারা বিশ্ববিদ্যালয় ও উহার ভবন, হল, গ্রন্থাগার, পরীক্ষাগার, যন্ত্রপাতি, সহযোগী প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক পরিচালিত পরীক্ষা, শিক্ষাদান পদ্ধতি এবং অন্যান্য কার্যক্রম পরিদর্শন করাইতে পারিবে।

(২) বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন তৎকর্তৃক অনুষ্ঠিতব্য প্রত্যেক পরিদর্শন বা মূল্যায়নের অভিপ্রায় সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়কে পূর্বে অবহিত করিবে এবং এইরূপ পরিদর্শন ও মূল্যায়নে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিত্বের অধিকার থাকিবে।

(৩) বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন অনুরূপ পরিদর্শন বা মূল্যায়ন সম্পর্কে উহার অভিমত অবহিত করিয়া তৎসম্পর্কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সিন্ডিকেটকে পরামর্শ প্রদান করিবে এবং সিন্ডিকেট তৎকর্তৃক গৃহীত ব্যবস্থার প্রতিবেদন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন-এর নিকট প্রেরণ করিবে।

(৪) বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন শিক্ষা ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজন নিরূপণ করিবে এবং উহার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করিবে।

(৫) বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট ও অন্যান্য আর্থিক প্রয়োজন পরীক্ষা করিয়া সরকারের নিকট সুপারিশ প্রদান করিবে।

(৬) বিশ্ববিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত, রেজিস্ট্রার ও নথিপত্র রক্ষণাবেক্ষণ করিবে এবং কমিশনের চাহিদা অনুযায়ী পরিসংখ্যান এবং অন্যবিধ প্রতিবেদন ও তথ্য সরবরাহ করিবে।

(৭) বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের অনুমোদন সাপেক্ষে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজন অনুযায়ী, পদ সৃষ্টি ও নিয়োগ প্রদান করা হইবে।
   
   
 
বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা  
৯। বিশ্ববিদ্যালয়ে নিম্নবর্ণিত কর্মকর্তা থাকিবেন, যথাঃ-

(ক) ভাইস-চ্যান্সেলর;

(খ) প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর;

(গ) ট্রেজারার;

(ঘ) রেজিস্ট্রার;

(ঙ) সকল ডীন;

(চ) কলেজ পরিদর্শক;

(ছ) পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক; এবং

(জ) সংবিধি দ্বারা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা হিসাবে ঘোষিত অন্যান্য কর্মকর্তাগণ।
   
   
 
চ্যান্সেলর  
১০। (১) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর হইবেন।

(২) চ্যান্সেলর একাডেমিক ডিগ্রী ও সম্মানসূচক ডিগ্রী প্রদানের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করিবেনঃ

তবে শর্ত থাকে যে, চ্যান্সেলর ইচ্ছা করিলে কোন সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করিবার জন্য অন্য কোন ব্যক্তিকে মনোনয়ন প্রদান করিতে পারিবেন।

(৩) চ্যান্সেলর এই আইন ও সংবিধি দ্বারা অর্পিত ক্ষমতার অধিকারী হইবেন।

(৪) সম্মানসূচক ডিগ্রী প্রদানের প্রতিটি প্রস্তাবে চ্যান্সেলরের অনুমোদন থাকিতে হইবে।

(৫) চ্যান্সেলর বিশ্ববিদ্যালয়ের যে কোন ঘটনা তদন্ত করাইতে পারিবেন এবং তদন্ত প্রতিবেদন চ্যান্সেলর কর্তৃক সিন্ডিকেটে প্রেরিত হইলে সিন্ডিকেট সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করিবে এবং গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে চ্যান্সেলরকে অবহিত করিবে।

(৬) চ্যান্সেলরের নিকট যদি সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হয় যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কাজকর্ম গুরুতরভাবে বিঘ্নিত হওয়ার মত অস্বাভাবিক পরিস্থিতি বিরাজ করিতেছে, তাহা হইলে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কাজকর্ম চালু রাখিবার স্বার্থে প্রয়োজনীয় আদেশ ও নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবেন এবং অনুরূপ আদেশ ও নির্দেশ বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য বাধ্যতামূলক হইবে এবং ভাইস-চ্যান্সেলর উক্ত আদেশ বা নির্দেশ কার্যকর করিবেন।
   
   
 
ভাইস-চ্যান্সেলর নিয়োগ  
১১। (১) চ্যান্সেলর, তদকর্তৃক নির্ধারিত শর্তে, মেজর জেনারেল বা তদূর্ধ্ব পদবীর, চাকুরীরত বা অবসরপ্রাপ্ত, কোন কর্মকর্তা বা সমপদমর্যাদা সম্পন্ন বেসামরিক কোন কর্মকর্তাকে ৩ (তিন) বছর মেয়াদের জন্য ভাইস-চ্যান্সেলর পদে নিয়োগ দান করিতে পারিবেনঃ

তবে শর্ত থাকে যে, কোন ব্যক্তি একাদিক্রমে বা অন্যভাবে দুই মেয়াদের বেশী সময়কালের জন্য ভাইস-চ্যান্সেলর পদে নিয়োগ লাভের যোগ্য হইবেন না।

(২) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, চ্যান্সেলর প্রয়োজনবোধে যে কোন সময় কোন কারণ দর্শানো ব্যতিরেকে ভাইস-চ্যান্সেলরকে তাঁহার পদ হইতে অব্যাহতি প্রদান করিতে পারিবেন।

(৩) ভাইস-চ্যান্সেলর এর পদ শূন্য হইলে কিংবা ছুটি, অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোন কারণে তিনি তাঁহার দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে, শূন্য পদে নবনিযুক্ত ভাইস-চ্যান্সেলর কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত কিংবা ভাইস-চ্যান্সেলর পুনরায় স্বীয় দায়িত্ব পালনে সমর্থ না হওয়া পর্যন্ত, চ্যান্সেলরের ভিন্নরূপ সিদ্ধান্ত না থাকা সাপেক্ষে, প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর, ভাইস-চ্যান্সেলর এর দায়িত্ব পালন করিবেন।
   
   
 
ভাইস-চ্যান্সেলর এর ক্ষমতা ও দায়িত্ব্ব  
১২। (১) ভাইস-চ্যান্সেলর, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক বিষয়ে, সার্বক্ষণিক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হইবেন এবং, পদাধিকারবলে, সিনেট, সিন্ডিকেট, একাডেমিক কাউন্সিল, অর্থ কমিটি এবং পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও মূল্যায়ন কমিটির চেয়ারম্যান থাকিবেন।

(২) ভাইস-চ্যান্সেলর তাঁহার দায়িত্ব পালনে চ্যান্সেলরের নিকট দায়ী থাকিবেন।

(৩) ভাইস-চ্যান্সেলর এই আইন, সংবিধি এবং বিশ্ববিদ্যালয় বিধির বিধানাবলী বিশ্বস্ততার সহিত পালন ও কার্যকর করিবেন এবং তদুদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় ক্ষমতা প্রয়োগ করিতে পারিবেন।

(৪) ভাইস-চ্যান্সেলর বিশ্ববিদ্যালয়ের যে কোন কর্তৃপক্ষ বা সংস্থার সভায় উপস্থিত থাকিতে এবং উহার কার্যাবলীতে অংশগ্রহণ করিতে পারিবেন, তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা সংস্থার সদস্য না হইলে উহাতে তাঁহার ভোটদানের অধিকার থাকিবেনা।

(৫) ভাইস-চ্যান্সেলর সিনেট, সিন্ডিকেট, একাডেমিক কাউন্সিল, অর্থ কমিটি এবং পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও মূল্যায়ন কমিটির সভা আহবান করিবেন এবং উহাতে সভাপতিত্ব করিবেন।

(৬) সিন্ডিকেট, অর্থ কমিটি, পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও মূল্যায়ন কমিটি এবং একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য ভাইস-চ্যান্সেলর কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।

(৭) ভাইস-চ্যান্সেলর বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদ, ইনসটিটিউট, একাডেমি বা বিভাগ পরিদর্শন করিতে পারিবেন।

(৮) ভাইস-চ্যান্সেলর, তাঁহার বিবেচনায়, প্রয়োজন মনে করিলে তাঁহার যে কোন ক্ষমতা ও দায়িত্ব, সিন্ডিকেটের অনুমোদনক্রমে, বিশ্ববিদ্যালয়ের যে কোন শিক্ষক বা কর্মকর্তাকে অর্পণ করিতে পারিবেন।

(৯) ভাইস-চ্যান্সেলর, সিন্ডিকেটের পূর্বানুমোদনক্রমে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ করিতে এবং তাঁহাদের বিরুদ্ধে, বরখাস্তসহ, যে কোন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবেন।

(১০) ভাইস-চ্যান্সেলর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং শিক্ষার্থীদের উপর সাধারণ নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা প্রয়োগ করিবেন।

(১১) ভাইস-চ্যান্সেলর বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক, প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক শৃংখলা রক্ষার জন্য দায়ী থাকিবেন।

(১২) বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার ক্ষেত্রে জরুরী পরিস্থিতির উদ্ভব হইলে এবং ভাইস- চ্যান্সেলরের বিবেচনায় তৎসম্পর্কে তাৎক্ষণিক কোন ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজনীয় বিবেচিত হইলে, তিনি সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবেন এবং যে কর্তৃপক্ষ বা সংস্থা সাধারণতঃ বিষয়টি সম্পর্কে ব্যবস্থা গ্রহণ করিবার অধিকারপ্রাপ্ত সেই কর্তৃপক্ষ বা সংস্থা, যথাশীঘ্র সম্ভব, গৃহীত ব্যবস্থা সম্পর্কে ভাইস-চ্যান্সেলরকে অবহিত করিবেন।

(১৩) বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন কর্তৃপক্ষ বা সংস্থার সিদ্ধান্তের সহিত ভাইস-চ্যান্সেলর ঐকমত্য পোষণ না করিলে তিনি উক্ত সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন স্থগিত রাখিয়া তাঁহার মতামতসহ সিদ্ধান্তটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা সংস্থার নিকট পুনঃবিবেচনার জন্য ফেরৎ পাঠাইতে পারিবেন এবং যদি উক্ত কর্তৃপক্ষ বা সংস্থা পুনঃবিবেচনার পর ভাইস-চ্যান্সেলরের সহিত ঐকমত্য পোষণ না করেন তাহা হইলে তিনি বিষয়টি সিদ্ধান্তের জন্য চ্যান্সেলরের নিকট প্রেরণ করিবেন এবং উক্ত বিষয়ে চ্যান্সেলরের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হইবে, তবে সিন্ডিকেটের অনুমোদনক্রমে গৃহীত একাডেমিক বিষয়ে একাডেমিক কাউন্সিলের কোন সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলিয়া গণ্য হইবে।

(১৪) বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদিত বাজেট বাস্তবায়নে ভাইস-চ্যান্সেলর সার্বিক দায়িত্ব পালন করিবেন।

(১৫) উপ-ধারা (১)-(১৪) তে উল্লিখিত বিধানাবলী ছাড়াও ভাইস-চ্যান্সেলর এই আইন, সংবিধি, বিশ্ববিদ্যালয় বিধি ও প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত অন্যান্য ক্ষমতা প্রয়োগ করিবেন।
   
   
 
প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর  
১৩। (১) চ্যান্সেলর প্রয়োজনবোধে, তদকর্তৃক নির্ধারিত শর্তে ও মেয়াদে, সিলেকশন গ্রেডভুক্ত কোন অধ্যাপক বা সমপদমর্যাদা সম্পন্ন সামরিক কোন কর্মকর্তাকে প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর পদে নিয়োগদান করিতে পারিবেন।

(২) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, চ্যান্সেলর, প্রয়োজনবোধে যে কোন সময় কারণ দর্শানো ব্যতিরেকে, প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলরকে তাঁহার পদ হইতে অব্যাহতি প্রদান করিতে পারিবেন।

(৩) প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর সংবিধি ও বিশ্ববিদ্যালয় বিধি দ্বারা নির্ধারিত এবং ভাইস-চ্যান্সেলর কর্তৃক প্রদত্ত ক্ষমতা প্রয়োগ এবং দায়িত্ব পালন করিবেন।
   
   
 
ট্রেজারার  
১৪। (১) চ্যান্সেলর, তদকর্তৃক নির্ধারিত শর্তে ও মেয়াদে, কমোডর বা এয়ার কমোডর বা সিলেকশন গ্রেডভুক্ত কোন অধ্যাপককে ট্রেজারার হিসাবে নিয়োগদান করিতে পারিবেন।

(২) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, চ্যান্সেলর, প্রয়োজনবোধে যেকোন সময়, কোন কারণ দর্শানো ব্যতিরেকে, ট্রেজারারকে তাঁহার পদ হইতে অব্যাহতি প্রদান করিতে পারিবেন।

(৩) ট্রেজারার বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল প্রকার হিসাব রক্ষণাবেক্ষণ করিবেন এবং হিসাব সংক্রান্ত সকল বিষয়ে ভাইস-চ্যান্সেলরকে পরামর্শ প্রদান করিবেন।

(৪) ট্রেজারার, সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণ সাপেক্ষে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তি ও বিনিয়োগ তদারক করিবেন এবং তিনি বাৎসরিক বাজেট এবং হিসাব বিবরণী উপস্থাপনের জন্য দায়ী থাকিবেন।

(৫) ট্রেজারার, সিনেট কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত হইয়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিলের সার্বিক তত্ত্বাবধান ও যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করিবেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ সংক্রান্ত নীতি সম্পর্কে ভাইস-চ্যান্সেলর, সংশ্লিষ্ট কমিটি, ইনস্টিটিউট ও সংস্থাকে পরামর্শ প্রদান করিবেন।

(৬) যে খাতের জন্য অর্থ মঞ্জুর বা বরাদ্দ করা হইয়াছে সেই খাতেই যেন উহা ব্যয় হয় তাহা তদারক করিবার জন্য ট্রেজারার, সিন্ডিকেটের ক্ষমতা সাপেক্ষে, দায়ী থাকিবেন।

(৭) ট্রেজারার বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে অর্থ সংক্রান্ত সকল চুক্তিতে স্বাক্ষর করিবেন।

(৮) ট্রেজারার বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবিধি ও বিবিধ দ্বারা নির্ধারিত সমস্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করিবেন।

(৯) ছুটি, অসুস্থতা বা অন্য কোন কারণে ট্রেজারার এর পদ সাময়িকভাবে শূন্য হইলে সিন্ডিকেট অবিলম্বে চ্যান্সেলরকে তৎসম্পর্কে অবহিত করিবে এবং চ্যান্সেলর ট্রেজারারের কার্যাবলী সম্পাদনের জন্য যে প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন মনে করিবেন সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।
   
   
 
রেজিস্ট্রার  
১৫। (১) চ্যান্সেলর, তদকর্তৃক নির্ধারিত শর্তে ও মেয়াদে, একজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদবীর কর্মকর্তা বা সমপদমর্যাদা সম্পন্ন বেসামরিক কোন কর্মকর্তাকে রেজিস্ট্রার হিসাবে নিয়োগদান করিবেন।

(২) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন চ্যান্সেলর প্রয়োজনবোধে যে কোন সময় কোন কারণ দর্শানো ব্যতিরেকে রেজিষ্ট্রারকে তাহার পদ হইতে অব্যাহতি প্রদান করিতে পারিবেন।

(৩) রেজিস্ট্রার বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক কর্মকর্তা হইবেন, এবং তিনি-

(ক) সিনেট, সিন্ডিকেট ও একাডেমিক কাউন্সিলের সচিবের দায়িত্ব পালন করিবেন;

(খ) ভাইস-চ্যান্সেলর কর্তৃক তাঁহার হেফাজতে ন্যস্ত সকল গোপনীয় প্রতিবেদন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল রেকর্ডপত্র, দলিলপত্র ও সাধারণ সীলমোহর রক্ষণাবেক্ষণ করিবেন;

(গ) সিন্ডিকেট কর্তৃক তাঁহার তত্ত্বাবধানে ন্যস্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল সম্পত্তির তত্ত্বাবধায়ক হইবেন;

(ঘ) সকল প্রশাসনিক কার্যক্র