বাংলাদেশ পর্যটন বোর্ড আইন, ২০১০
( ২০১০ সনের ৩৭ নং আইন )
  [১৮ই জুলাই, ২০১০ ]
     
     বাংলাদেশে পর্যটন শিল্প ও সেবার সার্বিক উন্নয়ন, পরিচালনা ও বিকাশের লক্ষ্যে পর্যটন বোর্ড প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে প্রণীত আইন
 
যেহেতু, বাংলাদেশে পর্যটন শিল্প ও সেবার সার্বিক উন্নয়ন, পরিচালনা ও বিকাশের লক্ষ্যে পর্যটন বোর্ড প্রতিষ্ঠার নিমিত্ত বিধান করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়;

সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল -
   
 
সংক্ষিপ্ত শিরোনাম, প্রবর্তন ও প্রযোজ্যতা  
১। (১) এই আইন বাংলাদেশ পর্যটন বোর্ড আইন, ২০১০ নামে অভিহিত হইবে।

(২) সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, যে তারিখ নির্ধারণ করিবে সেই তারিখে ইহা কার্যকর হইবে।

(৩) ইহা বাংলাদেশের পর্যটন সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রসমূহের জন্য প্রযোজ্য হইবে।

* এস, আর, ও নং ৩০৩-আইন/২০১০, তারিখ: ২৫ আগস্ট, ২০১০ ইং দ্বারা ১৭ ভাদ্র, ১৪১৭ বঙ্গাব্দ মোতাবেক ১ সেপ্টেম্বর, ২০১০ খ্রিস্টাব্দ উক্ত আইন কার্যকর হইয়াছে।
   
   
 
সংজ্ঞা  
২। বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে-

(১) "গভর্নিং বডি" অর্থ ধারা ৬ এর অধীন গঠিত গভর্নিং বডি;

(২) "চেয়ারম্যান" অর্থ গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান;

(৩) "পর্যটক" অর্থ এমন ব্যক্তি যিনি তাহার স্বাভাবিক বসবাসের স্থান হইতে অন্য কোন নতুন স্থানে উপার্জনমূলক কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্য ব্যতীত অবকাশযাপন, বিনোদন, ব্যবসায়িক প্রয়োজনে বা অন্য যে কোন কারণে গমন করিয়া অনধিক এক বৎসর অবস্থান করেন;

(৪) "প্রধান নির্বাহী" অর্থ বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা;

(৫) "প্রবিধান" অর্থ আইনের অধীন প্রণীত প্রবিধান;

(৬) "বিধি" অর্থ আইনের অধীন প্রণীত বিধি;

(৭) "বোর্ড" অর্থ ধারা ৪ এর অধীন প্রতিষ্ঠিত 'বাংলাদেশ পর্যটন বোর্ড';

(৮) "সদস্য" অর্থ গভর্নিং বডির সদস্য।
   
   
 
আইনের প্রাধান্য  
৩। আপাততঃ বলবৎ পর্যটন সংশ্লিষ্ট অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের বিধানাবলী প্রাধান্য পাইবে।
   
   
 
বোর্ড প্রতিষ্ঠা  
৪। (১) এই আইনের উদ্দেশ্যে পূরণকল্পে পর্যটন সংরক্ষণ বিষয়াদির উন্নয়ন, নিয়ন্ত্রণ, সমন্বয় সাধন ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য, সরকার, এই আইন কার্যকর হইবার পর যথাশীঘ্র সম্ভব, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বাংলাদেশ পর্যটন বোর্ড (Bangladesh Tourism Board) নামে একটি বোর্ড প্রতিষ্ঠা করিবে।

(২) বোর্ড একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হইবে এবং উহার স্থায়ী ধারাবাহিকতা থাকিবে এবং একটি সাধারণ সীলমোহর থাকিবে এবং এই আইনের বিধান সাপেক্ষে, উহার স্থাবর ও অস্থাবর উভয় প্রকার সম্পত্তি অর্জন করিবার, অধিকারে রাখিবার ও হস্তান্তর করিবার ক্ষমতা থাকিবে; এবং বোর্ড স্বীয় নামে উহার পক্ষে মামলা দায়ের করিতে পারিবে বা উহার বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করা যাইবে।
   
   
 
বোর্ডের কার্যালয়  
৫। (১) বোর্ডের প্রধান কার্যালয় ঢাকায় থাকিবে।

(২) বোর্ড, প্রয়োজনে, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, দেশের বা বিদেশের যে কোন স্থানে উহার শাখা কার্যালয় স্থাপন করিতে পারিবে।
   
   
 
বোর্ডের পরিচালনা ও প্রশাসন  
৬।(১) বোর্ডের একটি গভর্নিং বডি থাকিবে এবং বোর্ডের পরিচালনা ও প্রশাসন উক্ত গভর্নিং বডির উপর ন্যস্ত থাকিবে এবং বোর্ড যে সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্যসম্পাদন করিতে পারিবে গভর্নিং বডিও সেই সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্যসম্পাদন করিতে পারিবে।

(২) নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে গভর্নিং বডি গঠিত হইবে, যথা :-

(১) সচিব, বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, যিনি উহার চেয়ারম্যানও হইবেন;

(২) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের প্রতিনিধি, যুগ্ম-সচিব পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা;

(৩) স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রতিনিধি, যুগ্ম-সচিব পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা;

(৪) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের প্রতিনিধি, যুগ্ম-সচিব পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা;

(৫) সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, যুগ্ম-সচিব পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা;

(৬) পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, যুগ্ম-সচিব পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা;

(৭) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, যুগ্ম-সচিব পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা;

(৮) পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, যুগ্ম-সচিব পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা;

(৯) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, যুগ্ম-সচিব পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা;

(১০) ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, যুগ্ম-সচিব পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা;

(১১) চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন;

(১২) ট্রাভেল এজেন্সী সংগঠন বা সমপর্যায়ভুক্ত সংগঠন হইতে একজন প্রতিনিধি;

(১৩) ট্যুর অপারেটর সংগঠন বা সমপর্যায়ভুক্ত সংগঠন হইতে একজন প্রতিনিধি;

(১৪) হোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরা বা সমপর্যায়ভুক্ত সংগঠন হইতে একজন প্রতিনিধি;

(১৫) পর্যটন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ একজন শিক্ষাবিদ বা গবেষক;

(১৬) পর্যটন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ একজন মহিলা প্রতিনিধি;

(১৭) প্রধান নির্বাহী, পদাধিকারবলে, যিনি উহার সদস্য-সচিবও হইবেন।

(৩) উপ-ধারা (২) এর ক্রমিক নং (১২) হইতে (১৬) পর্যন্ত সদস্যগণ সরকার কর্তৃক মনোনীত হইবেন।

(৪) সরকার কর্তৃক মনোনীত কোন সদস্য মনোনয়নের তারিখ হইতে তিন বৎসরের মেয়াদে স্বীয় পদে বহাল থাকিবেন :

তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত সদস্য তাহার মেয়াদ শেষ হইবার পূর্বে চেয়ারম্যানের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে পারিবেন অথবা সরকার যে কোন সময় তাহাকে তাহার দায়িত্ব হইতে অব্যাহতি প্রদান করিতে পারিবে।
   
   
 
বোর্ডের কার্যাবলী  
৭। বোর্ডের কার্যাবলী হইবে নিম্নরূপ, যথাঃ-

(১) এই আইনের লক্ষ্যে ও উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য নীতিমালা প্রণয়ন, সুপারিশ প্রদান ও বিদ্যমান পর্যটন সংক্রান্ত নীতিমালা বাস্তবায়নে সহায়তা;

(২) পর্যটন শিল্পের সার্বিক উন্নয়নে গৃহীত পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টদের পরামর্শ বা দিকনির্দেশনা প্রদান;

(৩) পর্যটন-আকর্ষণ চিহ্নিতকরণ, সংরক্ষন, উন্নয়ন, বিকাশ ও গণসচেতনতা তৈরী;

(৪) দায়িত্বশীল পর্যটন (responsible tourism) বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে সরকার, ব্যক্তিখাত, স্থানীয় জনগোষ্ঠী, স্থানীয় প্রশাসন, এনজিও, নারী সংগঠন ও মিডিয়ার অংশগ্রহণের ব্যবস্থাকরণ;

(৫) বিদেশি পর্যটন প্রতিষ্ঠানের সাথে দেশীয় সরকারি বা বেসরকারি পর্যটন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ স্থাপনে সহযোগিতা প্রদান ও কাজে সমন্বয় সাধন;

(৬) বাংলাদেশে পর্যটকদের আগমন এবং অবস্থানকে সহজতর ও নিরাপদ করাসহ অন্যান্য স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার সাথে সমন্বয় সাধন;

(৭) পর্যটন শিল্প সহায়ক সুবিধাসমূহ সৃষ্টি এবং পর্যটন সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন কার্যক্রমে সহায়তা প্রদান ও দেশে-বিদেশে বিপণনের বিষয়ে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান, সরকারি বিভাগ বা দপ্তরের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা ও সমন্বয় সাধন;

(৮) পর্যটন শিল্পের মানব সম্পদ উন্নয়নে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন ও পরিচালনায় প্রয়োজনীয় সহায়তা ও দিকনির্দেশনা প্রদান;

(৯) পর্যটন-আকর্ষণের মান নিয়ন্ত্রণ এবং পর্যটকদের স্বার্থ রক্ষায় মানসম্পদ পর্যটন সেবা প্রদান নিশ্চিতকরণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ;

(১০) প্রতিবন্ধী পর্যটকদের অংশগ্রহণের সুবিধাদি নিশ্চিতকরণ;

(১১) পর্যটন শিল্পে নারীর অধিকার ও অংশগ্রহণ সংরক্ষণ;

(১২) পর্যটন শিল্পের উন্নয়নের জন্য গবেষণা, আন্তর্জাতিক বাজার পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণপূর্বক যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ;

(১৩) পর্যটন সম্পৃক্ত রুগ্ন শিল্পকে সহায়তা প্রদানকল্পে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান;

(১৪) পর্যটন সম্পর্কিত যাবতীয় মেলার আয়োজন ও প্রচার বা প্রকাশনামূলক কার্যক্রম গ্রহণে দিকনির্দেশনা প্রদান;

(১৫) পর্যটন সংক্রান্ত ডাটাবেস তৈরী করা;

(১৬) সরকার কর্তৃক সময় সময় অন্য যেইরূপ দায়িত্ব অর্পণ করা হইবে সেইরূপ দায়িত্ব পালন।
   
   
 
বোর্ডের ক্ষমতা ও দায়িত্ব  
৮। এই আইনের বিধান সাপেক্ষে, বোর্ডের নিম্নবণিত ক্ষমতা ও দায়িত্ব থাকিবে, যথা :-

(১) এই আইনের লক্ষ্যে ও উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য প্রণীত নীতিমালা বাস্তবায়ন;

(২) সরকারের অনুমোদনক্রমে বোর্ডের কার্যক্রম এবং প্রশাসন কিভাবে পরিচালিত হইবে এবং ইহার অর্থ সংক্রান্ত বিষয়াদি কিভাবে নির্বাহ করা হইবে তৎসম্পর্কে প্রবিধান প্রণয়ন;

(৩) পর্যটন শিল্প বিকাশের লক্ষ্যে ভূমি চিহ্নিতকরণ;

(৪) সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে পর্যটন শিল্প বিকাশের লক্ষ্যে সম্পত্তি অর্জন, অধিকার সংরক্ষণ ও হস্তান্তর;

(৫) সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে বোর্ডের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো নির্ধারণ ; বোর্ডের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পদ সৃষ্টি এবং তাহাদের চাকুরীর শর্তাবলী নির্ধারণ;

(৬) বোর্ডের বার্ষিক বাজেট এবং সম্পূরক বাজেট অনুমোদন;

(৭) নিরী্ক্ষা প্রতিবেদন অনুমোদন;

(৮) সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে বোর্ডের লক্ষ্যে ও উদ্দেশ্যের সহিত সামঞ্জস্য রক্ষা করিয়া করপোরেট পরিকল্পনা এবং বার্ষিক ও মধ্যবর্তী বিনিয়োগ পরিকল্পনা অনুমোদন;

(৯) সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে বোর্ডের নিজস্ব অর্থায়নে বিনিয়োগ এবং তদুদ্দেশ্যে অর্থসংস্থানের অনুমোদন;

(১০) সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে দেশি-বিদেশি সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি সম্পাদন;

(১১) পর্যটক সৃষ্টিকারী দেশসমূহে পর্যটন বিপণনে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহকে সহায়তা প্রদান ; এবং

(১২) সরকার কর্তৃক নির্ধারিত অন্যান্য দায়িত্ব।
   
   
 
গভর্নিং বডির সভা  
৯। (১) এই ধারার বিধানাবলী সাপেক্ষে, গভর্নিং বডি উহার সভার স্থান, সময় ও কার্য-পদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে।

(২) সভার কোরামের জন্য সর্বমোট সদস্য-সংখ্যার কমপক্ষে এক-তৃতীয়াংশ সদস্যের উপস্থিতি প্রয়োজন হইবে।

(৩) গভর্নিং বডির সকল সভায় চেয়ারম্যান, বা তাঁহার অনুপস্থিতিতে চেয়ারম্যান কতৃর্কমনোনীত অপর কোন সদস্য সভাপতিত্ব করিবেন।

(৪) প্রতি দুই মাসে অন্ততঃ একবার গভর্নিং বডির সভা অনুষ্ঠিত হইবে।

(৫) সভায় উপস্থিত প্রত্যেক সদস্যের একটি করিয়া ভোট থাকিবে এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে সিদ্ধান্ত গৃহীত হইবে; তবে প্রদত্ত ভোটের সমতার ক্ষেত্রে সভাপতিত্বকারী সদস্য একটি দ্বিতীয় বা নির্ণায়ক ভোট প্রদান করিতে পারিবেন।

(৬) গভর্নিং বডি উহার সভার কোন আলোচ্য বিষয়ে বিশেষ অবদান রাখিতে সক্ষম এইরূপ যে কোন ব্যক্তিকে, বা প্রয়োজনে যে কোন পর্যটককে, আমন্ত্রণ করিতে পারিবে, এবং উক্ত ব্যক্তি আলোচনায় অংশগ্রহণ করিতে পারিবেন, তবে তাহার কোন ভোটাধিকার থাকিবে না।

(৭) শুধুমাত্র কোন সদস্য পদে শূন্যতা বা গভর্ণিং বডি গঠনে ত্রুটি থাকিবার কারণে গভর্ণিং বডির কার্য বা কার্যধারা অবৈধ হইবে না এবং তৎসম্পর্কে কোন প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে না।
   
   
 
কমিটি  
১০। বোর্ড এই আইনের অধীন উহার কোন ক্ষমতা প্রয়োগ বা কোন কার্যসম্পাদনের বিষয়ে উহাকে সহায়তা করিবার উদ্দেশ্যে, তৎকর্তৃক নির্ধারিত সীমা ও শর্ত সাপেক্ষে, গভর্নিং বডির কোন সদস্য বা বোর্ডের কর্মকর্তা সমন্বয়ে এক বা একাধিক কমিটি গঠন করিতে পারিবে, এবং প্রয়োজনবোধে উক্ত কমিটিতে অন্য কোন ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করিতে পারিবে।
   
   
 
ক্ষমতা অর্পণ  
১১। বোর্ড প্রয়োজনে এই আইনের অধীন ইহার কোন ক্ষমতা কোন সদস্য, কমিটি বা বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত কোন ব্যক্তির নিকট অর্পণ করিতে পারিবে।
   
   
 
প্রধান নির্বাহী  
১২। (১) বোর্ডের একজন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা থাকিবেন।

(২) প্রধান নির্বাহী বোর্ড কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন এবং তাহার চাকুরীর শর্তাবলী প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে।

(৩) প্রধান নির্বাহী পদে নিয়োগ প্রদান না করা পর্যন্ত বোর্ডের চাহিদার প্রেক্ষিতে সরকার যুগ্ম-সচিব বা অতিরিক্ত সচিব পদ মর্যাদার কোন কর্মকর্তাকে প্রধান নির্বাহী হিসাবে প্রেষণে নিয়োগ প্রদান করিতে পারিবে।

(৪) প্রধান নির্বাহী বোর্ডের সার্বক্ষণিক কর্মকর্তা হইবেন, এবং এই আইন, বিধি ও প্রবিধানের বিধানাবলী সাপেক্ষে, তিনি তাঁহার ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্যাবলী সম্পাদন করিবেন।

(৫) প্রধান নির্বাহী তাঁহার কাজের জন্য বোর্ডের নিকট দায়ী থাকিবেন।
   
   
 
প্রধান নির্বাহী ক্ষমতা ও কার্যাবলী  
১৩। এই আইনের অধীনে প্রধান নির্বাহীর ক্ষমতা ও কার্যাবলী নিম্নরূপ হইবে, যথা :-

(১) বোর্ডের সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনাসমূহ বাস্তবায়ন;

(২) বোর্ডের স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী কর্মসূচি এবং বাৎসরিক কর্মসূচির বাজেট প্রণয়ন;

(৩) বোর্ডের রাজস্ব বাজেট প্রণয়ন;

(৪) বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত পরিকল্পনা ও কর্মসূচিসমূহের বাস্তবায়ন;

(৫) প্রয়োজনীয় কর্মকর্তা বা কর্মচারী নিয়োগদান;

(৬) চেয়ারম্যানের নির্দেশ মোতাবেক গভর্নিং বডির সভার নোটিশ জারীকরণ;

(৭) প্রধান নির্বাহী হিসাবে বোর্ডের উদ্দেশ্য অর্জনে অন্যান্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ; এবং

(৮) সরকার কর্তৃক আরোপিত অন্যান্য দায়িত্ব পালন।
   
   
 
বোর্ডের কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ  
১৪। (১) সরকার কর্তৃক অনুমোদিত অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী, বোর্ড উহার কার্যাবলী সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের নিমিত্ত প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারিবে।

(২) বোর্ডের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়োগ ও চাকরির শর্তাবলী প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে।

(৩) সরকার, বোর্ডের চাহিদার প্রেক্ষিতে, বোর্ডে প্রেষণে কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ প্রদান করিতে পারিবে।
   
   
 
প্রতিবেদন  
১৫। (১) অর্থ বৎসর সমাপ্তির ৯০ (নব্বই) দিনের মধ্যে প্রধান নির্বাহী বোর্ডের যাবতীয় কার্যক্রমের উপর একটি বাৎসরিক প্রতিবেদন গভর্নিং বডির নিকট উপস্থাপন করিবেন এবং গভর্নিং বডির অনুমোদনক্রমে উহার একটি অনুলিপি সরকারের নিকট প্রেরণ করিবেন।

(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত বাৎসরিক প্রতিবেদনটি বোর্ড জনসমক্ষে প্রকাশের ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।
   
   
 
তহবিল গঠন  
১৬। (১) বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প ও সেবার সার্বিক উন্নয়ন, পরিচালনা ও বিকাশের লক্ষ্যে এবং পর্যটন ক্ষেত্রে সহায়তা প্রদানকল্পে বোর্ডের একটি তহবিল থাকিবে।

(২) বোর্ডের তহবিলে নিম্নবর্ণিত উৎস হইতে প্রাপ্ত অর্থ জমা হইবে, যথা :-

(ক) সরকার কর্তৃক প্রদত্ত অনুদান ও ঋণ;

(খ) সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে কোন বিদেশি সরকার বা সংস্থা বা আন্তর্জাতিক সংস্থা হইতে প্রাপ্ত অনুদান;

(গ) কোন স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত অনুদান;

(ঘ) কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রদত্ত অনুদান ; এবং

(ঙ) অন্য যে কোন উৎস হইতে প্রাপ্ত অর্থ।

(৩) এই তহবিল, বোর্ডের নামে, গভর্ণিং বডি কর্তৃক অনুমোদিত এক বা একাধিক তফসিলি

ব্যাংকে জমা রাখা যাইবে।

(৪) বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে ও ফরমে তহবিল রক্ষণ এবং উহার অর্থ ব্যয় করিতে হইবে।
   
   
 
বাজেট  
১৭। (১) বোর্ড প্রতি বৎসর সরকার কর্তৃক নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরবর্তী অর্থ বৎসরের বার্ষিক বাজেট বিবরণী সরকারের নিকট পেশ করিবে এবং উহাতে উক্ত অর্থ বৎসরে সরকারের নিকট হইতে বোর্ডের কি পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হইবে উহার উল্লেখ থাকিবে।

(২) উক্তরূপ বাজেট প্রণয়নের ক্ষেত্রে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করিতে হইবে এবং প্রস্তাবিত বাজেটে গভর্নিং বডির অনুমোদন থাকিতে হইবে।
   
   
 
হিসাব ও নিরীক্ষা  
১৮। (১) সরকার কর্তৃক নির্দেশিত পদ্ধতিতে উহার হিসাব রক্ষাণ করিবে এবং হিসাবের বার্ষিক বিবরণী প্রস্তুত করিবে।

(২) বাংলাদেশের মহাহিসাব নিরী্ক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, অতঃপর মহাহিসাব নিরীক্ষক নামে উল্লিখিত,প্রতি বৎসর বোর্ডের হিসাব নিরী্ক্ষা করিবেন এবং নিরী্ক্ষা প্রতিবেদনের রিপোর্টের একটি করিয়া অনুলিপি সরকার ও বোর্ডের নিকট পেশ করিবে।

(৩) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত নিরীক্ষা প্রতিবেদনের উদ্দেশ্যে, মহাহিসাব নিরী্ক্ষক কিংবা তাহার নিকট হইতে এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি বোর্ডের সকল রেকর্ড, দলিল-দস্তাবেজ, নগদ বা ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, জামানত, ভান্ডার এবং অন্যবিধ সম্পত্তি পরীক্ষা করিয়া দেখিতে পারিবেন এবং গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান বা কোন সদস্য বা বোর্ডের যে কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারী বা সংশ্লিষ্ট অন্য কোন ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করিতে পারিবেন।
   
   
 
গভর্নিং বডির সদস্য এবং বোর্ডের কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ জনসেবক  
১৯। গভর্নিং বডির সকল সদস্য এবং বোর্ডের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারী Penal Code (Act XLV of 1860) এর section 21 এ সংজ্ঞায়িত অর্থে জনসেবক গণ্য হইবেন।
   
   
 
বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা  
২০। এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।
   
   
 
প্রবিধান প্রণয়নের ক্ষমতা  
২১। এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে বোর্ড, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে এবং সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইন বা কোন বিধির সহিত অসামঞ্জস্যপূর্ণ নহে এইরূপ প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে।
   
   
 
ইংরেজিতে অনূদিত পাঠ প্রকাশ  
২২। এই আইনের মূল পাঠ বাংলাতে হইবে এবং সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা উহার ইংরেজিতে অনূদিত একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ প্রকাশ করিবে :

তবে শর্ত থাকে যে, বাংলা পাঠ ও ইংরেজী পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাইবে।
   
   
   
 

Copyright © 2010, Legislative and Parliamentary Affairs Division
Ministry of Law, Justice and Parliamentary Affairs