জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশ (সুরক্ষা প্রদান) আইন, ২০১১
( ২০১১ সনের ৭ নং আইন )
  [২২ জুন , ২০১১]
     
     জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশকারীকে আইনগত সুরক্ষা প্রদান এবং প্রাসঙ্গিক অন্যান্য বিষয়ে বিধান প্রণয়নকল্পে প্রণীত আইন ।
 
যেহেতু জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশকারীকে আইনগত সুরক্ষা প্রদান এবং প্রাসঙ্গিক অন্যান্য বিষয়ে বিধান করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়;

সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল:-
   
 
সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তন  
১।(১) এই আইন জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশ (সুরক্ষা প্রদান) আইন, ২০১১ নামে অভিহিত হইবে।

(২) ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে।
   
   
 
সংজ্ঞা  
২। বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে-

(১) ‘‘উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ’’ অর্থে কোন সংস্থার প্রধান বা উক্ত সংস্থার সহিত সংযুক্ত বা অধীনস্থ কোন অধিদপ্তর, পরিদপ্তর বা দপ্তরের বিভাগীয়, আঞ্চলিক, জেলা, উপজেলা বা ইউনিয়ন কার্যালয় এর প্রধান বা প্রধান নির্বাহী এবং নিম্নবর্ণিত ব্যক্তি বা পদধারীগণও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবেন, যথাঃ-

(ক) সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তিবর্গের ক্ষেত্রে, প্রেসিডেন্ট;

(খ) সংসদ সদস্যের ক্ষেত্রে, স্পীকার;

(গ) বিচার কর্ম বিভাগের কোন সদস্যের ক্ষেত্রে, সুপ্রীম কোর্ট এর রেজিস্ট্রার;

(ঘ) দুর্নীতির সহিত সংশ্লিষ্ট হইলে, দুর্নীতি দমন কমিশন;

(ঙ) সরকারি অর্থের সহিত সংশ্লিষ্ট হইলে, মহা-হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক; এবং

(চ) অবৈধ বা অনৈতিক কার্যের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা;

(২) ‘‘কর্মকর্তা’’ অর্থে কোন সংস্থায় নির্বাচিত, মনোনীত, চুক্তিভিত্তিক বা সার্বক্ষণিকভাবে নিযুক্ত আছেন বা ছিলেন এমন ব্যক্তিও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবেন;

(৩) ‘‘জনস্বার্থ’’ অর্থ সরকার বা সরকারের নির্দেশে জনগণ বা জনগণের কিয়দংশের স্বার্থে বা কল্যাণে গৃহীত কর্ম;

(৪) ‘‘জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট তথ্য’’ বা ‘‘তথ্য’’ অর্থ কোন সংস্থার এইরূপ কোন তথ্য যাহাতে প্রকাশ পায় যে, কোন কর্মকর্তা-

(ক) সরকারি অর্থের অনিয়মিত ও অননুমোদিত ব্যয়;

(খ) সরকারি সম্পদের অব্যবস্থাপনা;

(গ) সরকারি সম্পদ বা অর্থ আত্মসাৎ বা অপচয়;

(ঘ) ক্ষমতার অপব্যবহার বা প্রশাসনিক ব্যর্থতা (maladministration);

(ঙ) ফৌজদারী অপরাধ বা বেআইনী বা অবৈধ কার্য সম্পাদন;

(চ) জনস্বাস্থ্য, নিরাপত্তা বা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর বা ঝুঁকিপূর্ণ কোন কার্যকলাপ; অথবা

(ছ) দুর্নীতি-

এর সহিত জড়িত ছিলেন, আছেন বা হইতে পারেন;

[ব্যাখ্যা: এই দফায় ‘‘দুর্নীতি’’ বলিতে Penal Code, 1860 (Act No. XLV of 1860) এর section 161 এ 'gratification' যে অর্থে ব্যবহৃত হইয়াছে সেই অর্থে বুঝাইবে।]

(৫) ‘‘তথ্য প্রকাশকারী’’ অর্থ যিনি উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের নিকট জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশ করেন;

(৬) ‘‘নির্ধারিত’’ অর্থ বিধি দ্বারা নির্ধারিত;

(৭) ‘‘ফৌজদারী কার্যবিধি’’ অর্থ Code of Criminal Procedure, 1898 (Act V of 1898);
(৮) ‘‘সংস্থা’’ অর্থ -

(ক) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী সৃষ্ট কোন সংস্থা;

(খ) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৫(৬) অনুচ্ছেদের অধীন প্রণীত কার্যবিধিমালার (Rules of Business) অধীন গঠিত সরকারের কোন মন্ত্রণালয়, বিভাগ বা কার্যালয়;
(গ) কোন আইন বা অধ্যাদেশ দ্বারা বা উহার অধীন গঠিত কোন সংবিধিবদ্ধ সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান;

(ঘ) সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত বা সরকারি তহবিল হইতে সাহায্যপুষ্ট কোন বেসরকারি সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান;

(ঙ) বিদেশী সাহায্যপুষ্ট কোন বেসরকারি সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান;

(চ) বেসরকারি সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান ;

(ছ) সরকারের পক্ষে অথবা সরকার বা সরকারি কোন সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের সহিত সম্পাদিত চুক্তি মোতাবেক সরকারি কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি, বেসরকারি সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান ; বা

(জ) সরকার কর্তৃক, সময় সময়, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা নির্ধারিত অন্য কোন সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে।
   
   
 
আইনের প্রাধান্য  
৩।আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের বিধানাবলী প্রাধান্য পাইবে।
   
   
 
জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশ  
৪ । (১) কোন তথ্য প্রকাশকারী উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের নিকট, যুক্তিযুক্ত বিবেচনায়, জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট সঠিক তথ্য প্রকাশ করিতে পারিবেন।

(২) কোন তথ্য প্রকাশকারী, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট সঠিক তথ্য প্রকাশ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে, যদি-

(ক) যুক্তিসঙ্গত কারণে তিনি বিশ্বাস করেন যে তথ্যটি সত্য; বা

(খ) তথ্যের সত্যতা সম্পর্কে বিশ্বাস করিবার যুক্তিসঙ্গত কারণ না থাকিলেও তিনি এইরুপ বিশ্বাস করেন যে, তথ্যটি সত্য হইতে পারে এবং তথ্যের গুরুত্ব বিবেচনা করিয়া উহার সত্যতা যাচাই করা সমীচীন।

(৩) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত কোন তথ্য, উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের নিকট, লিখিতভাবে সরাসরি হাতে হাতে, ডাকযোগে বা যে কোন ইলেক্ট্রনিক মাধ্যমে প্রকাশের উদ্দেশ্যে প্রেরণ করা যাইবে।

(৪) প্রকাশিত প্রত্যেকটি তথ্য, প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয় এইরূপ সহায়ক দলিলাদি বা উপকরণ দ্বারা, যদি থাকে, সমর্থিত(supported) হইতে হইবে।
   
   
 
তথ্য প্রকাশকারীর সুরক্ষা  
৫ । (১) কোন তথ্য প্রকাশকারী ধারা ৪ এর উপ-ধারা (১) এর অধীন জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট কোন সঠিক তথ্য প্রকাশ করিলে, উক্ত ব্যক্তির সম্মতি ব্যতীত, তাহার পরিচিতি প্রকাশ করা যাইবে না।

(২) জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট সঠিক তথ্য প্রকাশের কারণে তথ্য প্রকাশকারীর বিরুদ্ধে কোন ফৌজদারী বা দেওয়ানী মামলা বা, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, কোন বিভাগীয় মামলা দায়ের করা যাইবে না।

(৩) তথ্য প্রকাশকারী কোন চাকুরীজীবী হইলে শুধু জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশের কারণে তাহাকে পদাবনতি, হয়রানিমূলক বদলী বা বাধ্যতামূলক অবসর প্রদান করা বা এমন কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাইবে না যাহা তাহার জন্য মানসিক, আর্থিক বা সামাজিক সুনামের জন্য ক্ষতিকর হয় বা তাহার বিরুদ্ধে অন্য কোন প্রকার বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও বৈষম্যমূলক আচরণ করা যাইবে না।

(৪) উপ-ধারা (৬) এর বিধান সাপেক্ষে, ধারা ৪ এর অধীন প্রকাশিত তথ্য কোন দেওয়ানী বা ফৌজদারী মামলায় সাক্ষ্য হিসাবে গ্রহণ এবং তথ্য প্রকাশকারীকে কোন দেওয়ানী বা ফৌজদারী মামলায় সাক্ষী করা যাইবে না এবং মামলার কার্যক্রমে এমন কোন কিছু প্রকাশ করা যাইবে না যাহাতে উক্ত ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশিত হয় বা হইতে পারে।

(৫) কোন দেওয়ানী বা ফৌজদারী মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণের অন্তর্ভুক্ত কোন বহি, দলিল বা কাগজপত্রে যদি এমন কিছু থাকে, যাহাতে তথ্য প্রকাশকারীর পরিচয় অন্তর্ভুক্ত থাকে, তাহা হইলে আদালত কোন ব্যক্তিকে, উক্ত বহি, দলিল বা কাগজপত্রের যে অংশে উক্তরূপ পরিচয় লিপিবদ্ধ থাকে সেই অংশ পরিদর্শনের অনুমতি প্রদান করিবে না।

(৬) এই ধারায় অন্য যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোন মামলার শুনানীকালে আদালতের নিকট যদি প্রতীয়মান হয় যে, তথ্য প্রকাশকারী ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রকাশ করিয়াছেন অথবা তথ্য প্রকাশকারীর প্রকৃত পরিচয় প্রকাশ ব্যতীত উক্ত মামলায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব নয়, তাহা হইলে আদালত সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশকারীর পরিচয় প্রকাশ করিতে এবং মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে তাহার বিরুদ্ধে ধারা ১০ এর বিধান অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবে।
   
   
 
তদন্ত ও আইনানুগ কার্যক্রম  
৬ । (১) কোন তথ্য প্রকাশকারী ধারা ৪ এর অধীন উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের নিকট কোন তথ্য প্রকাশ করিলে উক্ত কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্তের উদ্যোগ গ্রহণ করিবে অথবা বিষয়টি অন্য কোন উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের এখতিয়ারাধীন হইলে উহা সেই কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করিবে।

(২) উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের নিকট কোন জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হইলে বা, ক্ষেত্রমত, প্রেরণ করা হইলে উক্ত কর্তৃপক্ষ স্বয়ং বিষয়টি তদন্ত করিতে পারিবে অথবা অন্য কোন যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিষয়টি তদন্ত করাইতে পারিবে।

(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন কোন বিষয় তদন্তকালে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ বা, ক্ষেত্রমত, যথাযথ কর্তৃপক্ষ তথ্য প্রকাশকারীর নিকট হইতে, প্রয়োজনে, প্রাসঙ্গিক তথ্য ও উপাত্ত সংগ্রহ করিতে পারিবে।

(৪) তদন্তকালে বা তদন্ত অনুষ্ঠানের পর যদি দেখা যায় যে,-

(ক) প্রকৃত ঘটনা ও অভিযোগ তুচ্ছ প্রকৃতির, বিরক্তিকর এবং ভিত্তিহীন; অথবা

(খ) তদন্ত ও আইনানুগ কার্যক্রম চালাইবার মত যথেষ্ট কোন কারণ ও উপাদান বিদ্যমান নাই-

তাহা হইলে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ তৎক্ষণাৎ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে গৃহীত কার্যক্রম বন্ধ করিবে, এবং বিষয়টি উপ-ধারা (২) এর বিধান অনুযায়ী অন্য কোন যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক তদন্ত করা হইলে, উক্ত কর্তৃপক্ষ উহার প্রতিবেদন উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করিবে এবং উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ তদনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিবে।

(৫) নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত অনুষ্ঠানের পর যদি দেখা যায় যে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগটি সত্য ও সঠিক, তাহা হইলে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ তাহার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুসারে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।

(৬) এই ধারার অধীন কোন তদন্তের ক্ষেত্রে কোন তদন্তকারী কর্মকর্তা নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে উহার তদন্ত কার্যক্রম সমাপ্ত করিতে ব্যর্থ হইলে এবং নির্ধারিত সময়ের প্রয়োজন হইলে, তৎসম্পর্কে যুক্তিসঙ্গত কারণ উল্লেখপূর্বক বর্ধিত সময় মঞ্জুরের জন্য আবেদন না করিলে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে হইবে।


   
   
 
তদন্তের ক্ষেত্রে সহায়তা  
৭ । (১) কোন তথ্য প্রকাশকারী জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশ করিলে, তিনি, সংশ্লিষ্ট তথ্যের সত্যতা তদন্তের ক্ষেত্রে, পুলিশ বা অন্য যে কোন তদন্তকারী কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করিবেনঃ

তবে শর্ত থাকে যে, কোন তথ্য প্রকাশকারীকে এইরূপ কোন তদন্তে সহায়তা করিতে বাধ্য করা যাইবে না, যাহার ফলে তাহার জীবন ও শারীরিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত হইতে পারে বা তিনি ভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হইতে পারেন।

(২) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ, যথাযথ কর্তৃপক্ষ বা, ক্ষেত্রমত, তদন্তকারী কর্মকর্তা, তদন্তের ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বা অন্য যে কোন সরকারি কর্তৃপক্ষ বা সংবিধিবদ্ধ সংস্থার নিকট সহায়তার জন্য অনুরোধ করিতে পারিবেন এবং তদনুসারে উক্ত কর্তৃপক্ষ বা সংস্থা সহায়তা প্রদান করিবে।
   
   
 
ফলাফল অবহিতকরণ  
৮। কোন তথ্য প্রকাশকারী কর্তৃক উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের নিকট যথাযথভাবে জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট কোন তথ্য প্রকাশ করা হইলে, তথ্য প্রকাশকারী অনুরোধ করিলে, সংশ্লিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে কি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হইয়াছে তাহা তাহাকে, তাহার গোপনীয়তা অক্ষুণ্ণ রাখিয়া, অবহিত করিতে হইবে।
   
   
 
ধারা ৫ এর বিধান লংঘনের দণ্ড  
৯। (১) কোন ব্যক্তি ধারা ৫ এর বিধান লংঘন করিলে তিনি এই আইনের অধীন অপরাধ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে এবং উক্ত অপরাধের জন্য তিনি অন্যূন ২ (দুই) বৎসর বা অনধিক ৫ (পাঁচ) বৎসর কারাদণ্ডে বা অর্থদণ্ডে বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।

(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত অপরাধী কোন সরকারি কর্মকর্তা হইলে, তাহার বিরুদ্ধে উক্ত উপ-ধারায় উল্লিখিত দণ্ড ছাড়াও বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে হইবে।
   
   
 
মিথ্যা তথ্য প্রকাশ করিবার দণ্ড  
১০। (১) মিথ্যা জানিয়া বা তথ্যের সত্যতা সম্পর্কে সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিত না হইয়া কোন তথ্য প্রকাশকারী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কোন ভিত্তিহীন তথ্য প্রকাশ করিলে, যাহা জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট তথ্য নহে বা যে তথ্যের ভিত্তিতে এই আইনের অধীন তদন্ত বা বিচার কার্য পরিচালিত হইবার সম্ভাবনা থাকে, তিনি মিথ্যা তথ্য প্রকাশ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন।

(২) কোন তথ্য প্রকাশকারী উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত কোন মিথ্যা তথ্য প্রকাশ করিলে তিনি এই আইনের অধীন অপরাধ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে এবং উক্ত অপরাধের জন্য তিনি অন্যূন ২ (দুই) বৎসর বা অনধিক ৫ (পাঁচ) বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে বা অর্থদণ্ডে বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।

(৩) তথ্য প্রকাশকারী কোন সরকারি কর্মকর্তা হইলে এবং তিনি উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত কোন মিথ্যা তথ্য প্রকাশ করিলে তাহার বিরুদ্ধে উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত দণ্ড ছাড়াও বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাইবে।
   
   
 
ফৌজদারী কার্যবিধির প্রয়োগ  
১১। এই আইনে ভিন্নরূপ কিছু না থাকিলে, কোন অপরাধের অভিযোগ দায়ের, তদন্ত, বিচার ও নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে Code of Criminal Procedure, 1898 (Act V of 1898) এর বিধানাবলী প্রযোজ্য হইবে।
   
   
 
অপরাধের আমলযোগ্যতা, অ-আপোষযোগ্যতা ও জামিনযোগ্যতা  
১২। এই আইনের অধীন অপরাধসমূহ আমলযোগ্য(cognizable), অ-আপোষযোগ্য(non-compoundable) ও জামিনযোগ্য (bailable) হইবে।
   
   
 
অর্থদণ্ডকে ক্ষতিপূরণ হিসাবে রুপান্তর  
১৩। আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইনে ভিন্নরূপ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, উপযুক্ত আদালত তদ্‌কর্তৃক ধারা ১০ এর অধীন আরোপিত অর্থদণ্ডকে, তথ্য প্রকাশকারীর দ্বারা ভিত্তিহীন বা মিথ্যা তথ্য প্রকাশের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির জন্য ক্ষতিপূরণ হিসাবে গণ্য করিতে পারিবে এবং অর্থদণ্ড বা ক্ষতিপূরণের অর্থ দণ্ডিত তথ্য প্রকাশকারীর নিকট হইতে আদায়যোগ্য হইবে।
   
   
 
পুরস্কার বা সম্মাননা প্রদান, ইত্যাদি  
১৪। কোন তথ্য প্রকাশকারীর তথ্যের ভিত্তিতে এই আইনের অধীন আনীত অভিযোগ বা অপরাধ আদালত কর্তৃক প্রমাণিত হইলে, উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ, সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশকারীকে যথাযথ পুরস্কার বা সম্মাননা প্রদান করিতে পারিবে।


   
   
 
বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা  
১৫। এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।
   
   
 
ইংরেজীতে অনূদিত পাঠ প্রকাশ  
১৬। (১) এই আইন কার্যকর হইবার পর সরকার, প্রয়োজনবোধে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের ইংরেজীতে অনূদিত একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ (Authentic English Text) প্রকাশ করিতে পারিবে।
(২) এই আইনের বাংলা ও ইংরেজী পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাইবে।
   
   
   
 

Copyright © 2010, Legislative and Parliamentary Affairs Division
Ministry of Law, Justice and Parliamentary Affairs