টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০১২
( ২০১২ সনের ৪৮ নং আইন )
  [১০ ডিসেম্বর, ২০১২]
     
     
জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করিবার উদ্দেশ্যে টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রণীত আইন
 
যেহেতু বৈশ্বিক উষ্ণতা নিয়ন্ত্রণ, প্রাকৃতিক বিপর্যয় সংক্রান্ত ঝুঁকি হ্রাস এবং জ্বালানি নিরাপত্তার প্রয়োজনে জীবাশ্ম-জ্বালানির উপর নির্ভরশীলতা ক্রমান্বয়ে হ্রাস করিয়া নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার হওয়া আবশ্যক; এবং
যেহেতু জ্বালানি সংরক্ষণ ও ইহার দক্ষ ব্যবহারের মাধ্যমে জ্বালানির অপচয় রোধ এবং বৈশ্বিক উষ্ণতা হ্রাসে ভূমিকা রাখা সম্ভব; এবং
যেহেতু জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করিবার উদ্দেশ্যে টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা এবং আনুষঙ্গিক বিষয়াদি সম্পর্কে বিধান করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়;
সেহেতু এতদ্‌দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল:-
   
প্রথম অধ্যায়
প্রারম্ভিক
 
সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তন  
১। (১) এই আইন টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০১২ নামে অভিহিত হইবে।

(২) সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, যে তারিখ নির্ধারণ করিবে সেই তারিখে ইহা কার্যকর হইবে।

*এস, আর, ও নং ৭৭-আইন/২০১৪, তারিখ: ১৪ মে, ২০১৪ ইং দ্বারা ৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২১ বঙ্গাব্দ মোতাবেক ২১ মে, ২০১৪ খ্রিস্টাব্দ উক্ত আইন কার্যকর হইয়াছে।
   
   
 
সংজ্ঞা  
২। বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে-

(১) ‘‘অ-নবায়নযোগ্য জ্বালানি’’ অর্থ প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা, পিট কয়লা, খনিজ তেল, অন্যান্য জীবাশ্ম-জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও আনবিক শক্তি হইতে প্রাপ্ত শক্তি এবং সরকার কর্তৃক সময় সময় সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা অ-নবায়নযোগ্য জ্বালানি হিসাবে ঘোষিত অন্য কোন উৎস হইতে প্রাপ্ত জ্বালীনি ও শক্তি;

(২) ‘‘কর্তৃপক্ষ’’ অর্থ ধারা ৪ এর অধীন প্রতিষ্ঠিত টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ;

(৩) ‘‘ক্লিন ডেভেলপমেন্ট মেকানিজম (সিডিএম)’’ অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত বিধিতে বর্ণিত ক্লিন ডেভেলপমেন্ট মেকানিজম;

(৪) ‘‘চেয়ারম্যান’’ অর্থ পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান;

(৫) ‘‘জ্বালানি’’ অর্থ নবায়নযোগ্য ও অ-নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং এইরূপ জ্বালানি ব্যবহারের মাধ্যমে সৃষ্ট শক্তি;

(৬) ‘‘জ্বালানি নিরীক্ষা (Energy Audit)অর্থ ডেজিগনেটেড কঞ্জুমার এর জ্বালানি ব্যবহারকারী যন্ত্র ও সরঞ্জাম, জ্বালানি ব্যবহারের প্রক্রিয়া যাচাই, পরিবীক্ষণ ও বিশ্লেষণ এর মাধ্যমে জ্বালানির দক্ষতা নিরূপণ, তুলনামূলক জ্বালানি ব্যয় সংক্রান্ত লাভ ক্ষতির হিসাব এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্র সনাক্তকরণপূর্বক জ্বালানি ব্যবহার হ্রাসের কর্মপরিকল্পনা সম্বলিত কারিগরী প্রতিবেদনও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;

(৭) ‘‘জ্বালানি নিরীক্ষক (Energy Auditor) ’’ অর্থ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্ধারিত যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান, যিনি বা যাহারা বিভিন্ন শিল্প ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, বৃহৎ ইমারত এবং জ্বালানি ব্যবহারকারী অন্যান্য স্থাপনায়, প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, জ্বালানি নিরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করিতে সক্ষম;

(৮) ‘‘জ্বালানি ব্যবস্থাপক (Energy Manager) ’’ অর্থ জ্বালানি ম্যানেজার হিসাবে দায়িত্ব পালনের জন্য কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্ধারিত যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তি, যিনি সার্বক্ষণিকভাবে কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্ধারিত প্রতিষ্ঠানে জ্বালানি ব্যবহার কার্যক্রম পরিবীক্ষণ, জ্বালানির অদক্ষ এবং অপচয়মূলক ব্যবহার হ্রাস, প্রতিবেদন প্রণয়ন, সংরক্ষণ এবং উহা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষকে সরবরাহ করেন;

(৯) ‘‘জ্বালানি সম্পদ’’ অর্থ দেশে উৎপাদিত অথবা বিদেশ হইতে আমদানীকৃত সকল ধরনের প্রাথমিক ও বাণিজ্যিক জ্বালানি অথবা রূপান্তরিত জ্বালানি, প্রাকৃতিক গ্যাস, খনিজ তেল, কয়লা, পীট কয়লা, বিদ্যুৎ, অন্যান্য জীবাশ্ম-জ্বালানি, বায়োগ্যাস, বায়োমাস, বায়ো-ফুয়েল, হাইড্রোজেন সেল, জিওথারমাল, জোয়ার-ভাটা ও ঢেউ হইতে প্রাপ্ত শক্তি, সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি, হাইড্রোপাওয়ার, আনবিক শক্তি, ইত্যাদি;

(১০) ‘‘জ্বালানি সংরক্ষণ (Energy Conservation)’’ অর্থ জ্বালানির দহন দক্ষতা উন্নতকরণ, জ্বালানির অপচয় রোধ, নির্গত তাপ পুনরুদ্ধার ও ব্যবহার, ব্যবহৃত জ্বালানির পরিবর্তে অধিকতর দক্ষতা সম্পন্ন পরিবেশ বান্ধব বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার, জ্বালানির দক্ষ ব্যবহার, ইত্যাদি পদক্ষেপের মাধ্যমে জ্বালানি সংরক্ষণ;

(১১) ‘‘টেকসই জ্বালানি’’ অর্থ নবায়নযোগ্য জ্বালানির উন্নয়ন এবং জ্বালানী সংরক্ষণ ও উহার দক্ষ ব্যবহার সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম ;

(১২) ‘‘ডেজিগনেটেড কঞ্জুমার’’ অর্থ বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে ডেজিগনেটেড কঞ্জুমার হিসাবে ঘোষিত গ্রাহক;

(১৩) ‘‘তহবিল’’ অর্থ ধারা ১৯ এ উল্লিখিত টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ তহবিল;

(১৪) ‘‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি’’ অর্থ বায়োমাস (জ্বালানি কাঠ, ধানের তুষ, আখের ছোবড়া, বর্জ্য ইত্যাদি), বায়ো-ফুয়েল, বায়োগ্যাস, হাইড্রো পাওয়ার, সৌর শক্তি, বায়ু শক্তি, হাইড্রোজেন সেল, জিওথারমাল, জোয়ার-ভাটা ও ঢেউ হইতে প্রাপ্ত জ্বালানি ও শক্তি এবং সরকার কর্তৃক সময় সময়, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা নবায়নযোগ্য জ্বালানি হিসেবে ঘোষিত অন্য কোন উৎস হইতে প্রাপ্ত জ্বালানি ও শক্তি;

(১৫) ‘‘নির্ধারিত’’ অর্থ বিধি বা প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত;

(১৬) ‘‘পরিচালনা পর্ষদ’’ অর্থ ধারা ৯ এর অধীন গঠিত পরিচালনা পর্ষদ;

(১৭) ‘‘প্রবিধান’’ অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত প্রবিধান;

(১৮) ‘‘ফুয়েল’’ অর্থ জ্বালানি দ্রব্য;

(১৯) ‘‘বিধি’’ অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি;

(২০) ‘‘সদস্য’’ অর্থ পরিচালনা পর্ষদের কোন সদস্য।
   
   
 
আইনের প্রধান্য  
৩। আপতত বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে অত্র আইনের উল্লিখিত বিধানাবলী প্রাধন্য পাইবে।
   
   
দ্বিতীয় অধ্যায়
কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা এবং উহার কার্যাবলী, ইত্যাদি
 
কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা  
৪। (১) এই আইন কার্যকর হইবার পর সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ নামে একটি কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করিবে।

(২) কর্তৃপক্ষ একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হইবে, যাহার স্থায়ী ধারাবাহিকতা ও একটি সাধারণ সীল মোহর থাকিবে এবং সরকারের পুর্বানুমোদনক্রমে, ইহার স্থাবর ও অস্থাবর উভয় প্রকার সম্পত্তি অর্জন করিবার, অধিকারে রাখিবার এবং হস্তান্তর করিবার ক্ষমতা থাকিবে এবং উক্ত নামে ইহা মামলা দায়ের করিতে পারিবে এবং ইহার বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করা যাইবে।
   
   
 
কর্তৃপক্ষের কার্যালয়  
৫। (১) কর্তৃপক্ষের প্রধান কার্যালয় ঢাকায় থাকিবে।

(২) কর্তৃপক্ষ, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, বাংলাদেশের যে কোন স্থানে উহার শাখা কার্যালয় স্থাপন করিতে পারিবে।
   
   
 
কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব ও কার্যাবলী  
৬। কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব ও কার্যাবলী হইবে নিম্নরূপ, যথা:-

(১) বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সংরক্ষণ এবং ইহার দক্ষ ব্যবহার সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টি ও উদ্বুদ্ধকরণের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ;

(২) বিদ্যুৎ ও জ্বালানি দক্ষ যন্ত্রপাতি ব্যবহারে উৎসাহ প্রদান এবং জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী যন্ত্রপাতি প্রমিতকরণসহ উক্ত যন্ত্রপাতি লেবেলিং এর ব্যবস্থাকরণ;

(৩) জ্বালানি ব্যবহারকারী যন্তপাতির মান নিরুপণ ও প্রত্যয়ন প্রদানের লক্ষ্যে পরীক্ষণাগার স্থাপন বা স্থাপনে সহায়তা প্রদান;

(৪) জ্বালানি সংরক্ষণ ও দক্ষ ব্যবহার সংক্রান্ত গবেষণা ও উন্নয়ন কাজে উৎসাহ প্রদান, এতদ্‌সংশ্লিষ্ট কাজ বা প্রকল্প বাস্তবায়নে উদ্ভাবনীমূলক অর্থায়নের ব্যবস্থা গ্রহণ এবং এতদ্‌বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ;

(৫) বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী ইমারত নির্মাণ বিধি প্রণয়ন ও উহা বাস্তবায়নে সরকারকে সহায়তা প্রদান;

(৬) জ্বালানি ব্যবস্থাপক ও জ্বালানি নিরীক্ষক নিয়োগ ও স্বীকৃত জ্বালানি নিরীক্ষণ প্রতিষ্ঠান নির্বাচনের লক্ষ্যে মান ও যোগ্যতা যাচাই সংক্রান্ত প্রবিধান প্রণয়ন;

(৭) সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানসমূহে জ্বালানি সংরক্ষণ ও উহার দক্ষ ব্যবহার কার্যক্রম বাস্তবায়ন সংশ্লিষ্ট কাজের সমন্বয় সাধন এবং প্রদর্শনীর মাধ্যমে বেসরকারি পর্যায়ে টেকসই জ্বালানির বাণিজ্যিক বাজার ব্যবস্থা গড়িয়া তোলা;

(৮) টেকসই জ্বালানি উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় আইন, বিধি-বিধান প্রণয়নে সরকারকে সহায়তা প্রদান;

(৯) জ্বালানি অদক্ষ যন্ত্রপাতি চিহ্নিতকরণ এবং উহার উৎপাদন, আমদানী ও বিক্রয় বন্ধ করিবার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ;

(১০) জ্বালানি ব্যবহারকারী বিভিন্ন গ্রাহক বা গ্রাহকশ্রেণিকে ডেজিগনেটেড কঞ্জুমার হিসাবে ঘোষণার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ;

(১১) নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্পদ ও এতদ্‌সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রযুক্তির খতিয়ান (inventory) প্রস্ত্ততকরণসহ উহার হালনাগাদকরণ এবং উহাদের ভৌগোলিক অবস্থান চিহ্নিতকরণ ও বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের উপযুক্ততা যাচাইপূর্বক আহরণের সম্ভাব্যতা নিরূপণ;

(১২) সিডিএম অথবা অনুরূপ অন্য কোন কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট প্রকল্প প্রণয়নে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা প্রদান;

(১৩) নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণপূর্বক উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন ও উহা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ;

(১৪) নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিষয়ক গবেষণা,উন্নয়ন, ডেমনস্ট্রেশন ও প্রশিক্ষণ কাজে কারিগরী ও আর্থিক সহায়তা প্রদান ;

(১৫) সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে উৎসাহ প্রদানের লক্ষ্যে জনসচেতনতা সৃষ্টি ও উদ্বুদ্ধকরণের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ;

(১৬) নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় অর্থের উৎস চিহ্নিতকরণে সহায়তা প্রদান এবং এইখাতে বিনিয়োগে উৎসাহ প্রদানের লক্ষ্যে প্রণোদনামূলক আর্থিক সুবিধা প্রদানের ব্যবস্থা করা;

(১৭) নবায়নযোগ্য জ্বালানির ট্যারিফ নির্ধারণ সংক্রান্ত বিষয়ে সরকারের সাথে আলোচনাপূর্বক বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরী কমিশন আইন, ২০০৩ (২০০৩ সনের ১৩ নং আইন) এর ধারা ৪ এর অধীন প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরী কমিশনে প্রস্তাব প্রেরণ;

(১৮) সরকারি আধা-সরকারি ও স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানসমূহে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাস্তবায়ন সংশ্লিষ্ট কাজের সমন্বয় সাধনে সরকারকে সহযোগিতা প্রদান;

(১৯) প্রদর্শনী প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে সেবরকারি পর্যায়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও জ্বালানি সাশ্রয়ী কার্যক্রম বাণিজ্যিকীকরণে উৎসাহ প্রদান ;

(২০) নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালাসহ এই আইন সংশ্লিষ্ট অন্যান্য নীতিমালা প্রণয়ন,হালনাগাদকরণ ও বাস্তবায়নে সরকারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান;

(২১) টেকসই জ্বালানি বিষয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং সংস্থার সহিত প্রয়োজনীয় সমন্বয় সাধন;

(২২) টেকসই জ্বালানি বিষয়ে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সহিত যোগাযোগ স্থাপন;

(২৩) বিধি দ্বারা বা সরকার কর্তৃক, সময় সময়, নির্ধারিত অন্যান্য দায়িত্ব পালন।
   
   
 
কর্তৃপক্ষের ফি আরোপের ক্ষমতা  
৭। এই আইনের অধীন সম্পাদিত কোন কাজের জন্য কর্তৃপক্ষ, সরকারের পুর্বানুমোদনক্রমে, উপযুক্ত ফি নির্ধারণ করিতে পারিবে।
   
   
তৃতীয় অধ্যায়
ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিষয়াবলী
 
ব্যবস্থাপনা  
৮। কর্তৃপক্ষের সাধারণ নির্দেশনা ও ব্যবস্থাপনা পর্ষদের উপর ন্যস্ত থাকিবে এবং কর্তৃপক্ষ যে সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্য সম্পাদন করিতে পারিবে পরিচালনা পর্ষদ সেই সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্য সম্পাদন করিতে পারিবে।
   
   
 
পরিচালনা পর্ষদ গঠন  
৯। (১) একজন চেয়ারম্যান এবং অনধিক ১৬ (ষোল) জন সদস্য সমন্বয়ে কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদ গঠিত হইবে।



(২) চেয়ারম্যান ও ৫ (পাঁচ) জন সদস্য পরিচালনা পর্ষদের সার্বক্ষণিক সদস্য হইবেন এবং অন্যান্য সদস্যগণ অবৈতনিক সদস্য হইবেন।

(৩) চেয়ারম্যান এবং পরিচালনা পর্ষদের সার্বক্ষণিক সদস্যগণ সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন এবং তাহাদের চাকরির শর্তাবলী সরকার কর্তৃক স্থিরকৃত হইবে।

(৪) চেয়ারম্যান কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী হইবেন ।

(৫) বিধিতে উল্লিখিত মন্ত্রণালয়/বিভাগের ৬ (ছয়) জন প্রতিনিধি, এবং শিক্ষাবিদ, পেশাজীবী, কারিগরী বিশেষজ্ঞ, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি বা বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা হইতে সরকার কর্তৃক মনোনীত ৫ (পাঁচ) জন সদস্য পরিচালনা পর্ষদের অবৈতনিক সদস্য হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হইবেন।

(৬) উপ-ধারা (৫) এর অধীন মনোনীত সদস্য তাহার মনোনয়নের তারিখ হইতে ২ (দুই) বৎসর মেয়াদে স্বীয় পদে অধিষ্ঠিত থাকিবেন:

তবে শর্ত থাকে যে, উক্তরূপ মনোনীত কোন সদস্য সরকার কর্তৃক অনুরুদ্ধ হইলে, তিনি সদস্য পদ হইতে পদত্যাগ করিবেন অথবা কোন সদস্য চেয়ারম্যানের উদ্দেশ্যে লিখিত স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে পারিবেন।

(৭) সরকার উপ-ধারা (৫) এর অধীন মনোনীত কোন সদস্যকে পুনঃমনোনয়ন প্রদান করিতে পারিবে।
   
   
 
পরিচালনা পর্ষদের সভা  
১০। (১) এই ধারার বিধানাবলী সাপেক্ষে, পরিচালনা পর্ষদ উহার সভার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে।

(২) পরিচালনা পর্ষদের সভা চেয়ারম্যান কর্তৃক নির্ধারিত স্থান ও সময়ে অনুষ্ঠিত হইবে:

তবে শর্ত থাকে যে, প্রতি ৩ (তিন) মাসে পরিচালনা পর্ষদের অন্যুন একটি সভা অনুষ্ঠিত হইবে।

(৩) পরিচালনা পর্ষদের সকল সভা চেয়ারম্যান এর সভাপতিত্বে এবং তাহার অনুপস্থিতিতে চেয়ারম্যানের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন সদস্য সভায় সভাপতিত্ব করিবেন।

(৪) পরিচালনা পর্ষদের সভার কোরাম গঠনের জন্য উহার চেয়ারম্যানসহ মোট সদস্য সংখ্যার অর্ধেকের বেশী সদস্যের উপস্থিতির প্রয়োজন হইবে।

(৫) পরিচালনা পর্ষদের সভায় উপস্থাপিত সকল বিষয় উপস্থিত সদস্যগণের প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা গরিষ্ঠতার ভিত্তিতে নিষ্পত্তি হইবে।

(৬) পরিচালনা পর্ষদের সভায় প্রত্যেক সদস্যের একটি করিয়া ভোট থাকিবে এবং ভোটের সমতার ক্ষেত্রে, সভায় সভাপতিত্বকারী ব্যক্তির দ্বিতীয় বা নির্ণায়ক ভোট থাকিবে।

(৭) পরিচালনা পর্ষদের কোন সদস্যপদে শূন্যতা বা পরিচালনা পর্ষদ গঠনে ত্রুটি থাকিবার কারণে পরিচালনা পর্ষদের কোন কার্য বা সিদ্ধান্ত অবৈধ হইবে না এবং তৎসম্পর্কে কোন প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে না।

(৮) পরিচালনা পর্যদের সভায় যোগদানের জন্য অবৈতনিক সদস্যগণ, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, কর্তৃপক্ষের তহবিল হইতে সম্মানী প্রাপ্য হইবেন।
   
   
 
কমিটি গঠন  
১১। পরিচালনা পর্ষদ উহার দায়িত্ব পালনে সহায়তার জন্য এক বা একাধিক কমিটি গঠন করিতে পারিবে এবং এইরূপ কমিটির দায়িত্ব ও কার্যাবলী পরিচালনা পর্ষদ কর্তৃক নির্ধারিত হইবে।
   
   
 
পরামর্শক সেবা গ্রহণ  
১২। কর্তৃপক্ষ ইহার বিশেষ কোন কার্য সম্পাদনের নিমিত্ত কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নিকট হইতে পরামর্শক সেবা গ্রহণ করিতে পারিবে।
   
   
চতুর্থ অধ্যায়
সংস্থাপন বিষয়ক
 
কর্মচারি নিয়োগ  
১৩। (১) কর্তৃপক্ষের একজন সচিব থাকিবেন, যিনি সরকারের উপ-সচিব পদমর্যাদার নিম্নে নহেন এইরূপ একজন কর্মকর্তা হইবেন এবং তিনি সরকার কর্তৃক নির্দিষ্ট শর্তে নিযুক্ত হইবেন।

(২) সরকার কর্তৃক অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামো সাপেক্ষে, কর্তৃপক্ষ উহার কার্যাবলী সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মকর্তা ও কর্মচারি নিয়োগ করিতে পারিবে এবং উক্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারির চাকুরির শর্তাবলী প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
   
   
 
জন সেবক হিসাবে গণ্য  
১৪। চেয়ারম্যান, সার্বক্ষনিক সদস্য এবং কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা ও কর্মচারিগণ Penal Code, 1860 (Act No. XLV of 1860) এর section 21 এর public servant (জন সেবক) অভিব্যক্তিটি যে অর্থে ব্যবহৃত হইয়াছে সে অর্থে জন সেবক হিসাবে গণ্য হইবেন।
   
   
 
ক্ষমতা অর্পণ  
১৫। কর্তৃপক্ষ, সাধারণ অথবা বিশেষ আদেশ দ্বারা, উহার যে কোন ক্ষমতা বা দায়িত্ব, নির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষে, চেয়ারম্যান বা উহার কোন সার্বক্ষণিক সদস্য বা কর্মকর্তাকে অর্পণ করিতে পারিবে।
   
   
 
চুক্তি সম্পাদন  
১৬। (১) কর্তৃপক্ষ ইহার কার্যবলী সম্পাদনের লক্ষ্যে যে কোন ব্যক্তি বা সংস্থার সহিত চুক্তি সম্পাদন করিতে পারিবে:

তবে শর্ত থাকে যে, কোন বিদেশী সরকার বা আন্তর্জাতিক সংস্থার সহিত চুক্তি সম্পাদনের ক্ষেত্রে সরকারের পূর্ব অনুমোদন গ্রহণ করিতে হইবে।

(২) এইরূপ চুক্তি কর্তৃপক্ষের পক্ষে চেয়ারম্যান অথবা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন সার্বক্ষণিক সদস্য বা কর্মকর্তা স্বাক্ষর করিতে পারিবেন।
   
   
 
প্রতিবেদন  
১৭। (১) প্রত্যেক অর্থ বৎসর সমাপ্তির পর কর্তৃপক্ষ তৎকর্তৃক পূর্ববর্তী বৎসরে গৃহীত ও সম্পাদিত কার্যাবলীর একটি প্রতিবেদন সরকারের নিকট পেশ করিবে।

(২) সরকার প্রয়োজনমত কর্তৃপক্ষের নিকট হইতে যে কোন সময় কর্তৃপক্ষের যে কোন বিষয়ের উপর প্রতিবেদন, বিবরণী, হিসার, পরিসংখ্যান বা অন্যান্য তথ্য আহবান করিতে পারিবে এবং কর্তৃপক্ষ উহা সরকারের নিকট সরবরাহ করিতে বাধ্য থাকিবে।
   
   
 
ঋণ গ্রহণের ক্ষমতা  
১৮। এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, কর্তৃপক্ষ, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, প্রয়োজনে কোন বাণিজ্যিক ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, অথবা দেশী বা বিদেশী অন্য কোন উৎস হইতে ঋণ গ্রহণ করিতে পারিবে।
   
   
ষষ্ঠ অধ্যায়
তহবিল, বাজেট এবং হিসাব রক্ষণ ও নিরীক্ষা
 
কর্তৃপক্ষের তহবিল  
১৯। (১) টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ তহবিল নামে কর্তৃপক্ষের একটি তহবিল থাকিবে।

(২) তহবিলে নিম্নবর্ণিত উৎস হইতে প্রাপ্ত অর্থ জমা হইবে, যথা:-

(ক) সরকার কর্তৃক প্রদত্ত মঞ্জুরী;

(খ) সরকারের নিকট হইতে গৃহীত ঋণ;

(গ) স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত মঞ্জুরী;

(ঘ) অন্য কোন উৎস হইতে গৃহীত ঋণ বা মঞ্জুরী;

(ঙ) সিডিএম বা অনুরূপ অন্য কোন কার্যক্রমের আওতায় বাস্তবায়িত প্রকল্প হইতে প্রাপ্ত অর্থ;

(চ) কোন পরামর্শ সেবা প্রদানের জন্য আহরিত অর্থ;

(ছ) এই আইনের অধীন সম্পাদিত কাজের জন্য আরোপিত ফি হইতে প্রাপ্ত অর্থ; এবং

(জ) অন্য কোন উৎস হইতে প্রাপ্ত অর্থ।

(৩) তহবিলের অর্থ কোন তফসিলি ব্যাংকে জমা রাখিতে হইবে:

তবে শর্ত থাকে যে, কোন তফসিলি ব্যাংকে না থাকিলে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক অনুমোদিত যে কোন বাণিজ্যিক ব্যাংকে তহবিলের অর্থ জমা রাখা যাইবে।

(৪) তহবিল হইতে কর্তৃপক্ষের যাবতীয় ব্যয় নির্বাহ করা হইবে।

(৫) সংশ্লিষ্ট অর্থ বছরে কর্তৃপক্ষের ব্যয় নির্বাহের পর তহবিলে উদ্বৃত্ত থাকিলে, উহার সম্পূর্ণ বা অংশ বিশেষ সরকারের কোষাগারে জমা করিতে হইবে।
   
   
 
বাজেট  
২০। কর্তৃপক্ষ, সরকার কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে, প্রতি অর্থ বৎসরের সম্ভাব্য আয় ও ব্যয় এবং উক্ত অর্থ বৎসরে, সরকারের নিকট হইতে কি পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হইবে উহা উল্লেখ করিয়া একটি বাজেট সরকারের অনুমোদনের জন্য পেশ করিবে।
   
   
 
হিসাব রক্ষণ ও নিরীক্ষা  
২১। (১) সরকার কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতিতে কর্তৃপক্ষ উহার হিসাব সংরক্ষণ করিবে।

(২) বাংলাদেশের মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক প্রতি বৎসর কর্তৃপক্ষের হিসাব নিরীক্ষা করিবেন এবং নিরীক্ষা প্রতিবেদনের একটি করিয়া অনুলিপি সরকার ও কর্তৃপক্ষের নিকট পেশ করিবেন।

(৩) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত নিরীক্ষা ছাড়াও Bangladesh Chartered Accountants Order, 1973 (P.O. No.2 of 1973) এর Article 2(1)(b) তে সংজ্ঞায়িত চার্টার্ড একাউন্টেন্ট দ্বারা কর্তৃপক্ষের হিসাব নিরীক্ষা করা যাইবে এবং এতদুদ্দেশ্যে কর্তৃপক্ষ এক বা একাধিক চার্টার্ড একাউন্টেন্ট নিয়োগ করিতে পারিবে এবং এইরুপে নিয়োগকৃত চার্টার্ড একাউন্টেন্ট সরকার কর্তৃক নির্ধারিত পারিতোষিক প্রাপ্য হইবেন।

(৪) কর্তৃপক্ষের হিসাব নিরীক্ষার উদ্দেশ্যে মহা হিসাব-নিরীক্ষক বা তাহার নিকট হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি বা উপ-ধারা (৩) এর অধীন নিয়োগকৃত চার্টার্ড একাউন্টেন্ট কর্তৃপক্ষের সকল রেকর্ড, দলিল-দস্তাবেজ, বার্ষিক ব্যালেন্স সিট , নগদ বা ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, জামানত, ভান্ডার এবং অন্যবিধ সম্পত্তি পরীক্ষা করিয়া দেখিতে পরিবেন এবং কোন সদস্য বা কর্তৃপক্ষের যে কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারিকে জিজ্ঞাসাবাদ করিতে পরিবেন।
   
   
সপ্তম অধ্যায়
বিবিধ
 
নির্দেশনা প্রদানে সরকারের সাধারণ ক্ষমতা  
২২। এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার, সময় সময়, কর্তৃপক্ষকে, তদবিবেচনায় যেরূপ উপযুক্ত মনে করিবে, সেইরূপ পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য নির্দেশনা প্রদান করিতে পারিবে এবং কর্তৃপক্ষ উক্তরূপ সকল নির্দেশনা পালন করিবে।
   
   
 
পরিদর্শনের ক্ষমতা  
২৩। কর্তৃপক্ষ, এই আইনের উদ্দেশ্য পুরণকল্পে, ডেজিগনেটেড কঞ্জুমার এর কোন জায়গা পরিদর্শন করিতে পারিবে।
   
   
 
সরল বিশ্বাসে কৃত কার্য রক্ষণ  
২৪। এই আইনের অধীন সরল বিশ্বাসে কৃত কোন কাজের ফলে কোন ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হইলে বা হইবার সম্ভাবনা থাকিলে তজ্জন্য কর্তৃপক্ষ, বা উহার চেয়ারম্যান, কোন সদস্য, কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে কোন দেওয়ানী বা ফৌজদারী মামলা রুজু করা যাইবে না বা অন্য কোন আইনগত কার্যধারা গ্রহণ করা যাইবে না।
   
   
 
অসুবিধা দুরীকরণ  
২৫। এই আইনের কোন বিধান কার্যকর করিবার ক্ষেত্রে কোন অসুবিধা দেখা দিলে সরকার উক্ত অসুবিধা দূরীকরণার্থে আদেশ দ্বারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবে।
   
   
 
বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা  
২৬। এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার, কর্তৃপক্ষের সহিত পরামর্শক্রমে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।
   
   
 
প্রবিধান প্রণয়নের ক্ষমতা  
২৭। এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে কর্তৃপক্ষ, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে।
   
   
 
জ্বালানি নিরীক্ষণ সেল এর বিলোপ, ইত্যাদি  
২৮। (১) কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা হইবার সঙ্গে সঙ্গে জ্বালানি নিরীক্ষণ সেল, অতঃপর বিলুপ্ত সেল বলিয়া উল্লিখিত বিলুপ্ত হইবে।

(২) বিলুপ্ত সেল এর সকল সম্পদ, অধিকার, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, ঋণ, দায় ও দায়িত্ব, সুবিধা এবং স্থাবর-অস্থাবর সকল সম্পত্তি, নগদ ও ব্যাংক স্থিতি, সংরক্ষিত সঞ্চিত তহবিল, বিনিয়োগ এবং অন্য সকল অধিকার এবং এইরূপ সম্পত্তিতে অথবা উহা হইতে উদ্ভূত অন্যান্য সকল স্বার্থ ও অধিকার এবং সকল বহি, রেজিস্টার, রেকর্ডপত্র এবং অন্য সকল দলিল-দস্তাবেজ কর্তৃপক্ষের নিকট হস্তান্তরিত হইবে এবং ন্যস্ত থাকিবে।

(৩) বিলুপ্ত সেল কর্তৃক কৃত কোন কার্য, গৃহীত কোন ব্যবস্থা, প্রদত্ত কোন আদেশ, জারীকৃত বিজ্ঞপ্তি এই আইনের অধীন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক কৃত, গৃহীত, প্রদত্ত বা জারীকৃত বলিয়া গণ্য হইবে।
   
   
 
ইংরেজীতে অনূদিত পাঠ প্রকাশ  
২৯। (১) এই আইন প্রবর্তনের পর সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের বাংলা পাঠের ইংরেজীতে অনূদিত একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ প্রকাশ করিবে।

(২) বাংলা ও ইংরেজী পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাইবে।
   
   
   
 

Copyright © 2010, Legislative and Parliamentary Affairs Division
Ministry of Law, Justice and Parliamentary Affairs