প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন, ২০১৩
( ২০১৩ সনের ৩৯ নং আইন )
  [ ০৯ অক্টোবর, ২০১৩]
     
     
প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সুরক্ষা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে এতদ্‌সংক্রান্ত বিদ্যমান আইন রহিতক্রমে পুনঃপ্রণয়নের উদ্দেশ্যে প্রণীত আইন
 
যেহেতু গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে সকল মঅধিকার, মানবসত্ত্বার মর্যাদা, মৌলিক মানবাধিকার ও সামাজিক সাম্য প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হইয়াছে; এবং
যেহেতু বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার সংক্রান্ত জাতিসংঘ সনদ (United Nations Convention on the Rights of the Persons with Disabilities) অনুসমর্থন করিয়াছে; এবং
যেহেতু প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সুরক্ষা নিশ্চিতকল্পে এতদ্‌সংক্রান্ত বিদ্যমান আইন রহিতক্রমে পুনঃপ্রণয়নের লক্ষ্যে বিধান করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়;
সেহেতু এতদ্‌দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল:—
   
 
সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তন  
১। (১) এই আইন প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন, ২০১৩ নামে অভিহিত হইবে।

(২) এই আইনের—

(ক) ধারা ৩১ ও ৩৬ ব্যতীত অবশিষ্ট ধারা ও তফসিল অবিলম্বে কার্যকর হইবে; এবং

(খ) ধারা ৩১ ও ৩৬, সরকার সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা যে তারিখ নির্ধারণ করিবে, সেই তারিখে কার্যকর হইবে।
   
   
 
সংজ্ঞা  
২। বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে—

(১) ‘‘উপজেলা কমিটি’’ অর্থ ধারা ২৩ এর অধীন গঠিত প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা সংক্রান্ত উপজেলা কমিটি;

(২) ‘‘একীভূত শিক্ষা’’ অর্থ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী এবং অ-প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর একইসঙ্গে অধ্যয়ন;

(৩) ‘‘কমিটি’’ অর্থ এই আইনের অধীন গঠিত, ক্ষেত্রমত, জাতীয় সমন্বয় কমিটি বা জাতীয় নির্বাহী কমিটি বা কোন জেলা কমিটি বা কোন উপজেলা কমিটি বা কোন শহর কমিটি;

(৪) ‘‘জাতীয় নির্বাহী কমিটি’’ অর্থ ধারা ১৯ এর অধীন গঠিত প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা সংক্রান্ত জাতীয় নির্বাহী কমিটি;

(৫) ‘‘জাতীয় সমন্বয় কমিটি’’ অর্থ ধারা ১৭ এর অধীন গঠিত প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা সংক্রান্ত জাতীয় সমন্বয় কমিটি;

(৬) ‘‘জেলা কমিটি’’ অর্থ ধারা ২১ এর অধীন গঠিত প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা সংক্রান্ত জেলা কমিটি;

(৭) ‘‘তফসিল’’ অর্থ এই আইনের তফসিল;

(৮) ‘‘নির্ধারিত’’ অর্থ বিধি দ্বারা নির্ধারিত;

(৯) ‘‘প্রতিবন্ধিতা’’ অর্থ যেকোন কারণে ঘটিত দীর্ঘমেয়াদী বা স্থায়ীভাবে কোন ব্যক্তির শারীরিক, মানসিক, বুদ্ধিগত, বিকাশগত বা ইন্দ্রিয়গত ক্ষতিগ্রস্ততা বা প্রতিকূলতা এবং উক্ত ব্যক্তির প্রতি দৃষ্টিভঙ্গিগত ও পরিবেশগত বাধার পারস্পরিক প্রভাব, যাহার কারণে উক্ত ব্যক্তি সমতার ভিত্তিতে সমাজে পূর্ণ ও কার্যকর অংশগ্রহণে বাধাপ্রাপ্ত হন;

(১০) ‘‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তি’’ অর্থ ধারা ৩ এ বর্ণিত যে কোন ধরনের প্রতিবন্ধিতাসম্পন্ন কোন ব্যক্তি;

(১১) ‘‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার’’ অর্থ ধারা ১৬ তে উল্লিখিত এক বা একাধিক যে কোন অধিকার এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার সংক্রান্ত আপাতত বলবৎ অন্য কোন আইন বা আইনের ক্ষমতাসম্পন্ন দলিলে উল্লিখিত অন্য কোন অধিকার, মানবাধিকার বা মৌলিক অধিকার;

(১২) ‘‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সংগঠন’’ অর্থ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিগণ স্বয়ং বা যেসকল প্রতিবন্ধী ব্যক্তি নিজেদের অধিকারের কথা প্রকাশ করিতে পারেন না, তাহাদের পক্ষে তাহাদের মাতা-পিতা বা বৈধ বা আইনানুগ অভিভাবক কর্তৃক তাহাদের কল্যাণ ও স্বার্থ সুরক্ষার জন্য গঠিত ও পরিচালিত কোন সংগঠন বা প্রতিষ্ঠান;

(১৩) ‘‘প্রবেশগম্যতা’’ অর্থ ভৌত অবকাঠামো, যানবাহন, যোগাযোগ, তথ্য, এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিসহ জনসাধারণের জন্য প্রাপ্য সকল সুবিধা ও সেবাসমূহে অন্যান্যদের মত প্রত্যেক প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সমসুযোগ ও সমআচরণ প্রাপ্তির অধিকার;

(১৪) ‘‘প্রয়োজনীয় স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য উপযোগী পরিবেশ ও ন্যায্য সুযোগ সুবিধা (reasonable accommodation)’’ অর্থ প্রয়োজনীয় এবং যথার্থ পরিমার্জন ও সমন্বয়, যাহা অসামঞ্জস্যপূর্ণ বা মাত্রাতিরিক্ত বোঝা আরোপ না করিয়া প্রয়োজনীয় নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে অন্যদের সহিত সমতার ভিত্তিতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার উপভোগ ও অনুশীলন নিশ্চিত করে;

(১৫) ‘‘ফৌজদারী কার্যবিধি’’ অর্থ Code of Criminal Procedure, 1898 (Act No. V of 1898);

(১৬) ‘‘বাংলা ইশারা ভাষা’’ অর্থ শ্রবণপ্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও বাকপ্রতিবন্ধী ব্যক্তির জন্য প্রণীত বাংলা ইশারা ভাষা, যাহা তাহাদের নিজস্ব সংস্কৃতি হইতে উৎসারিত এবং অন্যান্য ভাষার মতই গতিশীল ও পরিবর্তনশীল;

(১৭) ‘‘বিচারগম্যতা (access to justice)’’ অর্থ সকল আইনী কার্যধারায়, যেমন: অভিযোগ দায়ের, অনুসন্ধান, সাক্ষ্য প্রদান, তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ায় কোন প্রতিবন্ধী ব্যক্তির, পদ্ধতিগত ও বয়স উপযোগী সুবিধাসহ, সাধারণ ব্যক্তির ন্যায় সমভাবে অংশগ্রহণের অধিকার;

(১৮) ‘‘বিধি’’ অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত কোন বিধি;

(১৯) ‘‘বিশেষ শিক্ষা’’ অর্থ প্রতিবন্ধিতার ধরন অনুযায়ী বিশেষ ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত কোন আবাসিক বা অনাবাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক পরিচালিত শিক্ষা কার্যক্রম, যাহা মূলধারার শিক্ষার সহিত সাদৃশ্যপূর্ণ এবং যেখানে বিশেষ যত্ন ও পরিচর্যার পাশাপাশি প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা বিদ্যমান;

(২০) ‘‘বৈষম্য’’ অর্থ প্রতিবন্ধীদের প্রতি সাধারণ ব্যক্তিদের তুলনায় অন্যায্য আচরণ এবং নিম্নবর্ণিত এক বা একাধিক কর্মকান্ড উক্ত অন্যায্য আচরণের অন্তর্ভুক্ত হইবে, যথা:—

(ক) প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার হইতে বঞ্চিত করা;

(খ) পক্ষপাতিত্বমূলক আচরণ করা;

(গ) প্রতিবন্ধী হিসাবে প্রাপ্য কোন সুযোগ বা সুবিধা প্রদানে অস্বীকৃতি বা কম সুযোগ-সুবিধা প্রদান; এবং

(ঘ) সরকার কর্তৃক নির্ধারিত অন্য কোন কর্মকাণ্ড;

(২১) ‘‘ব্রেইল (braille)’’ অর্থ দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তির ব্যবহারের জন্য সৃষ্ট বর্ণমালা;

(২২) ‘‘শহর কমিটি’’ অর্থ ধারা ২৪ এর অধীন গঠিত প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা সংক্রান্ত শহর কমিটি;

(২৩) ‘‘শহর এলাকা’’ অর্থ সিটি কর্পোরেশন বা, ক্ষেত্রমত, পৌরসভা এলাকায় অবস্থিত সমাজসেবা অধিদপ্তরের কোন শহর সমাজসেবা কার্যক্রম (ইউসিডি) কার্যালয়ের আওতাধীন এলাকা;

(২৪) ‘‘সচিব’’ অর্থে সিনিয়র সচিবও অন্তর্ভুক্ত হইবেন;

(২৫) ‘‘সমন্বিত শিক্ষা’’ অর্থ মূলধারার বিদ্যালয়ে, প্রতিবন্ধিতার ধরন অনুযায়ী, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর উপযোগী বিশেষ ব্যবস্থাধীন শিক্ষা ব্যবস্থা;

(২৬) ‘‘সমাজভিত্তিক পুনর্বাসন’’ অর্থ সমাজের সকল কর্মকাণ্ডে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অংশগ্রহণ নিশ্চিত করিবার লক্ষ্যে তাহাকে কোন বিচ্ছিন্ন প্রতিষ্ঠানে না রাখিয়া সমাজের মধ্যেই তাহার উন্নয়ন প্রয়াস;

(২৭) ‘‘সুরক্ষা’’ অর্থ, সার্বিক অর্থকে সীমিত না করিয়া, তফসিলে উল্লিখিত কোন কর্মকাণ্ড;

(২৮) ‘‘সমান আইনী স্বীকৃতি (equal recognition before the law)’’ অর্থ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে সর্বত্রই ব্যক্তি হিসাবে সমান আইনী স্বীকৃতি এবং জীবনের সকল ক্ষেত্রে সমান আইনী কর্তৃত্ব (legal capacity)ভোগ;

(২৯) ‘‘স্ব-সহায়ক সংগঠন’’ অর্থ প্রতিবন্ধী ব্যক্তি বা তাহাদের পরিবারের কল্যাণ ও স্বার্থ সুরক্ষায় গঠিত ও পরিচালিত কোন সংগঠন।
   
   
 
প্রতিবন্ধিতার ধরন  
৩। এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের শারীরিক, মানসিক, বুদ্ধিগত, বিকাশগত, ইন্দ্রিয়গত ক্ষতিগ্রস্ততা এবং প্রতিকূলতার ভিন্নতা বিবেচনায়, প্রতিবন্ধিতার ধরনসমূহ হইবে নিম্নরূপ, যথা:—

(ক) অটিজম বা অটিজমস্পেকট্রাম ডিজঅর্ডারস (autism or autism spectrum disorders);

(খ) শারীরিক প্রতিবন্ধিতা (physical disability);

(গ) মানসিক অসুস্থতাজনিত প্রতিবন্ধিতা (mental illness leading to disability);

(ঘ) দৃষ্টিপ্রতিবন্ধিতা (visual disability);

(ঙ) বাকপ্রতিবন্ধিতা (speech disability);

(চ) বুদ্ধিপ্রতিবন্ধিতা (intellectual disability);

(ছ) শ্রবণপ্রতিবন্ধিতা (hearing disability);

(জ) শ্রবণ-দৃষ্টিপ্রতিবন্ধিতা (deaf-blindness);

(ঝ) সেরিব্রাল পালসি (cerebral palsy);

(ঞ) ডাউন সিনড্রোম (Down syndrome);

(ট) বহুমাত্রিক প্রতিবন্ধিতা (multiple disability); এবং

(ঠ) অন্যান্য প্রতিবন্ধিতা (other disability) ।
   
   
 
অটিজম বা অটিজমস্পেকট্রাম ডিজঅর্ডারস (autism or autism spectrum disorders)  
৪। যাহাদের মধ্যে নিম্নবর্ণিত দফাসমূহে উল্লিখিত লক্ষণসমূহের মধ্যে দফা (ক), (খ) ও (গ) এর উপস্থিতি নিশ্চিতভাবে এবং দফা (ঘ), (ঙ), (চ), (ছ), (জ), (ঝ), (ঞ) ও (ট) তে বর্ণিত লক্ষণসমূহের মধ্যে এক বা একাধিক লক্ষণ পরিলক্ষিত হইবে, তাহারা অটিজম বৈশিষ্টসম্পন্ন ব্যক্তি বলিয়া বিবেচিত হইবেন, যথা:—

(ক) মৌখিক বা অমৌখিক যোগাযোগে সীমাবদ্ধতা;

(খ) সামাজিক ও পারস্পরিক আচার-আচরণ, ভাববিনিময় ও কল্পনাযুক্ত কাজ-কর্মের সীমাবদ্ধতা;

(গ) একই ধরনের বা সীমাবদ্ধ কিছু কাজ বা আচরণের পুনরাবৃত্তি;

(ঘ) শ্রবণ, দর্শন, গন্ধ, স্বাদ, স্পর্শ, ব্যথা, ভারসাম্য ও চলনে অন্যদের তুলনায় বেশি বা কম সংবেদনশীলতা;

(ঙ) বুদ্ধি প্রতিবন্ধিতা বা অন্য কোন প্রতিবন্ধিতা বা খিচুনী;

(চ) এক বা একাধিক নির্দিষ্ট বিষয়ে অসাধারণ দক্ষতা এবং একই ব্যক্তির মধ্যে বিকাশের অসমতা;

(ছ) চোখে চোখ না রাখা বা কম রাখা (eye contact);

(জ) অতিরিক্ত চঞ্চলতা বা উত্তেজনা, অসংগতিপূর্ণ হাসি-কান্না;

(ঝ) অস্বাভাবিক শারিরীক অঙ্গভঙ্গি;

(ঞ) একই রুটিনে চলার প্রচন্ড প্রবণতা; এবং

(ট) সরকার কর্তৃক , সময়ে সময়ে, গেজেট নোটিফিকেশনের দ্বারা নির্ধারিত অন্য কোন বৈশিষ্ট্য।



[ব্যাখ্যা: অটিজম মস্তিস্কের স্বাভাবিক বিকাশের এইরূপ একটি জটিল প্রতিবন্ধকতা যাহা শিশুর জন্মের এক বৎসর ছয়মাস হইতে তিন বৎসরের মধ্যে প্রকাশ পায়। এই ধরনের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সাধারণত শারীরিক গঠনে কোন সমস্যা বা ত্রুটি থাকে না এবং তাহাদের চেহারা ও অবয়ব অন্যান্য সুস্থ ও স্বাভাবিক মানুষের মতই হইয়া থাকে। অনেক ক্ষেত্রে ছবি আঁকা, গান করা, কম্পিউটার চালনা বা গাণিতিক সমাধানসহ অনেক জটিল বিষয়ে এই ধরনের ব্যক্তিরা বিশেষ দক্ষতা প্রদর্শন করিয়া থাকে।]


   
   
 
শারীরিক প্রতিবন্ধিতা (physical disability)  
৫। নিম্নবর্ণিত দফাসমূহে উল্লিখিত বৈশিষ্ট্যসমূহের মধ্যে এক বা একাধিক বৈশিষ্ট্যের অধিকারী ব্যক্তি ‘শারীরিকপ্রতিবন্ধী ব্যক্তি’ বলিয়া বিবেচিত হইবেন, যথা:—

(ক) একটি বা উভয় হাত বা পা না থাকা; বা

(খ) কোন হাত বা পা পূর্ণ বা আংশিকভাবে অবশ অথবা গঠনগত এইরূপ ত্রুটিপূর্ণ বা দূর্বল যে, দৈনন্দিন সাধারণ কাজ-কর্ম বা সাধারণ চলন বা ব্যবহার ক্ষমতা আংশিক বা পূর্ণভাবে ব্যাহত হয়; বা

(গ) স্নায়ুবিক অসুবিধার কারণে স্থায়ীভাবে শারীরিক ভারসাম্য না থাকা।
   
   
 
মানসিক অসুস্থতাজনিত প্রতিবন্ধিতা (mental illness leading to disability)  
৬। সিজোফ্রেনিয়া বা অনুরূপ ধরনের কোন মনস্তাত্বিক সমস্যা, যেমনক্লিনিক্যাল ডিপ্রেশন, বাইপোলার ডিজঅর্ডার, পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস, দুশ্চিন্তা বা ফোবিয়াজনিত কোন মানসিক সমস্য, যাহার কারণে কোন ব্যক্তির দৈনন্দিন জীবন বাধাগ্রস্ত হয়, তিনি মানসিক অসুস্থাজনিত প্রতিবন্ধী ব্যক্তি বলিয়া বিবেচিত হইবেন।
   
   
 
দৃষ্টিপ্রতিবন্ধিতা (visual disability)  
৭। নিম্নবর্ণিত দফাসমূহে উল্লিখিত বৈশিষ্ট্যসমূহের মধ্যে এক বা একাধিক বৈশিষ্ট্যের অধিকারী ব্যক্তি ‘দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তি’ বলিয়া বিবেচিত হইবেন, যথা:—

(ক) সম্পূর্ণ দৃষ্টিহীনতা (blindness):


(অ) উভয় চোখে একেবারেই দেখিতে না পারা; বা

(আ) যথাযথ লেন্স ব্যবহারের পরও দৃষ্টি তীক্ষ্ণতা (visual acuity) ৬/৬০ বা ২০/২০০ এর কম; বা

(ই) দৃষ্টি ক্ষেত্র (visual field) ২০ ডিগ্রী বা উহার চাইতে কম;

(খ) আংশিক দৃষ্টিহীনতা (partial blindness), যথা:— এক চোখে একেবারেই দেখিতে না পারা;

(গ) ক্ষীণদৃষ্টি (low vision):

(অ) উভয় চোখে আংশিক বা কম দেখিতে পারা; বা

(আ) যথাযথ লেন্স ব্যবহারের পরও দৃষ্টি তীক্ষ্ণতা (visual acuity) ৬/১৮ বা ২০/৬০ এবং ৬/৬০ বা ২০/২০০ এর মধ্যে; বা

(ই) দৃষ্টি ক্ষেত্র (visual field) ২০ ডিগ্রী হইতে ৪০ ডিগ্রীর মধ্যে।
   
   
 
বাকপ্রতিবন্ধিতা (speech disability)  
৮। নিম্নবর্ণিত দফাসমূহে উল্লিখিত বৈশিষ্ট্যসমূহের মধ্যে এক বা একাধিক বৈশিষ্ট্যের অধিকারী ব্যক্তি ‘বাকপ্রতিবন্ধী ব্যক্তি’ বলিয়া বিবেচিত হইবেন, যথা:—

(ক) একেবারেই কথা বলিতে না পারা;

(খ) সাধারণ কথোপকথনে প্রয়োজনীয় শব্দ সাজাইয়া এবং প্রয়োজনীয় পরিমাণ স্বরে স্পষ্ট উচ্চারণে কথা বলায় সীমাবদ্ধতা; বা

(গ) কণ্ঠনালী ও গলার স্বর বা বাক প্রক্রিয়া সংক্রান্ত সমস্যা, জন্মগত ত্রুটি, ক্ষতিগ্রস্ততা বা সীমাবদ্ধতার কারণে শব্দ তৈরি ও উচ্চারণে সমস্যা; বা

(ঘ) বাক প্রক্রিয়া সংক্রান্ত সমস্যা, ত্রুটি বা ক্ষতিগ্রস্ততার কারণে বাধাহীনভাবে কথা বলায় সীমাবদ্ধতা, যেমন- তোতলামো।
   
   
 
বুদ্ধিপ্রতিবন্ধিতা (intellectual disability)  
৯। নিম্নবর্ণিত দফাসমূহে উল্লিখিত বৈশিষ্ট্যসমূহের মধ্যে এক বা একাধিক বৈশিষ্ট্যের অধিকারী ব্যক্তি ‘বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তি’ বলিয়া বিবেচিত হইবেন, যথা:—

(ক) বয়স উপযোগী কার্যকলাপে তাৎপর্যপূর্ণ সীমাবদ্ধতা; বা

(খ) বুদ্ধিবৃত্তিক কার্যকলাপে সীমাবদ্ধতা, যেমন- কার্যকারণ বিশ্লেষণ, শিক্ষণ বা সমস্যা সমাধান; বা

(গ) দৈনন্দিন কাজের দক্ষতায় সীমাবদ্ধতা, যেমন- যোগাযোগ, নিজের যত্ন নেওয়া, সামাজিক দক্ষতা, নিজেকে পরিচালনা করা, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা, লেখাপড়া, ইত্যাদি; বা

(ঘ) বুদ্ধাঙ্ক স্বাভাবিক মাত্রা অপেক্ষা কম।


   
   
 
শ্রবণপ্রতিবন্ধিতা (hearing disability)  
১০। (১) শব্দের তীব্রতা ৬০ ডেসিবল এর নিম্নে হইলে শুনিতে না পাওয়া ব্যক্তি ‘শ্রবণপ্রতিবন্ধী ব্যক্তি’ বলিয়া বিবেচিত হইবেন।

(২) শ্রবণপ্রতিবন্ধিতার ধরনসমূহ হইবে নিম্নরূপ, যথা:—

(ক) সম্পূর্ণ শ্রবণহীনতা (complete deafness): উভয় কানে একেবারেই শুনিতে না পারা; বা

(খ) আংশিক শ্রবণহীনতা (partial deafness): এক কানে একেবারেই শুনিতে না পারা; বা

(গ) ক্ষীণ শ্রবণ (hard of hearing): উভয় কানে আংশিক বা কম শুনিতে পারা বা কখনো কখনো শুনিতে না পারা।
   
   
 
শ্রবণ-দৃষ্টিপ্রতিবন্ধিতা (deaf-blindness)  
১১। (১) কোন ব্যক্তির মধ্যে একই সঙ্গে শ্রবণ ও দৃষ্টি শক্তির আংশিক বা পূর্ণ সীমাবদ্ধতা বিদ্যমান থাকিলে এবং উহার ফলে যোগাযোগ, বিকাশ এবং শিক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে সমস্যার সম্মুখীন হইলে, তিনি ‘শ্রবণ-দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তি’ বলিয়া বিবেচিত হইবেন।

(২) শ্রবণ-দৃষ্টিপ্রতিবন্ধিতার ধরনসমূহ হইবে নিম্নরূপ, যথা:—

(ক) মাঝারি হইতে গুরুতর মাত্রার শ্রবণ প্রতিবন্ধিতা এবং উল্লেখযোগ্য মাত্রার দৃষ্টি প্রতিবন্ধিতা;

(খ) মাঝারি হইতে গুরুতর মাত্রার শ্রবণ প্রতিবন্ধিতা, উল্লেখযোগ্য মাত্রার দৃষ্টি প্রতিবন্ধিতা ও অন্য কোন প্রতিবন্ধিতা;

(গ) দৃষ্টি এবং শ্রবণ ইন্দ্রিয়গত প্রক্রিয়ায় সমস্যা; এবং

(ঘ) দৃষ্টি এবং শ্রবণ শক্তি ক্ষতিগ্রস্ততার ক্রমাবনতি।
   
   
 
সেরিব্রাল পালসি (cerebral palsy)  
১২। (১) অপরিণত মস্তিষ্কে কোন আঘাত বা রোগের আক্রমণের কারণে যদি কোন ব্যক্তির,—

(ক) সাধারণ চলাফেরা ও দেহভঙ্গিতে অস্বাভাবিকতা, যাহা দৈনন্দিন কার্যক্রমকে সীমাবদ্ধ করে;

(খ) এইরূপ ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের ক্ষতিগ্রস্ততার পরিমাণ পরবর্তীতে হ্রাস বা বৃদ্ধি না হয়; এবং

(গ) উপযুক্ত স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের মাধ্যমে দৈনন্দিন কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করা যায়,—

তাহা হইলে তিনি ‘সেরিব্রাল পালসিজনিত প্রতিবন্ধী ব্যক্তি’ বলিয়া বিবেচিত হইবেন।

(২) সেরিব্রাল পালসিজনিত প্রতিবন্ধিতার বৈশিষ্ট্যসমূহ হইবে নিম্নরূপ, যথা:—

(ক) পেশী খুব শক্ত বা শিথিল থাকা;

(খ) হাত বা পায়ের সাধারণ নাড়াচড়ায় অসামঞ্জস্যতা বা সীমাবদ্ধতা;

(গ) স্বাভাবিক চলাফেরায় ভারসাম্যহীনতা বা ভারসাম্য কম থাকা;

(ঘ) দৃষ্টি, শ্রবণ, বুদ্ধিগত বা সর্বক্ষেত্রে কম বা বেশি মাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ততা;

(ঙ) আচরণগত সীমাবদ্ধতা;

(চ) যোগাযোগের সীমাবদ্ধতা; বা

(ছ) এক হাত বা দুই হাত অথবা এক পা বা দুই পা অথবা এক পাশের হাত ও পা বা উভয় পাশের হাত ও পা আক্রান্ত হওয়া।
   
   
 
ডাউন সিনড্রোম (Down syndrome)  
১৩। কোন ব্যক্তির মধ্যে বংশানুগতিক (genetic) কোন সমস্য, যাহা ২১তম ক্রমোসোম জোড়ায় একটি অতিরিক্ত ক্রমোসোমের উপস্থিতির সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত এবং যাহার মধ্যে মৃদু হইতে গুরুতর মাত্রার বুদ্ধিপ্রতিবন্ধিকতা, দুর্বল পেশীক্ষমতা, খর্বাকৃতি ও মঙ্গোলয়ড মুখাকৃতির বিশেষ বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান, তিনি ‘ডাউন সিনড্রোমজনিত প্রতিবন্ধী ব্যক্তি’ বলিয়া বিবেচিত হইবেন।
   
   
 
বহুমাত্রিক প্রতিবন্ধিতা (multiple disability)  
১৪। কোন ব্যক্তির মধ্যে, ধারা ৪ হইতে ১২ তে উল্লিখিত প্রতিবন্ধিতার মধ্যে, একাধিক ধরনের প্রতিবন্ধিতা পরিলক্ষিত হইলে তিনি ‘বহুমাত্রিকপ্রতিবন্ধী ব্যক্তি’ বলিয়া বিবেচিত হইবেন।


   
   
 
অন্যান্য প্রতিবন্ধিতা (other disability)  
১৫। কোন ব্যক্তির মধ্যে যদি ধারা ৪ হইতে ১৩ তে উল্লিখিত প্রতিবন্ধিতা ব্যতীত এইরূপ অন্য কোন অস্বাভাবিক শারীরিক ও মানসিক বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান থাকে যাহা তাহার স্বাভাবিক জীবন-যাপন, বিকাশ ও চলাফেরায় বাধা সৃষ্টি করে, তাহা হইলে জাতীয় সমন্বয় কমিটি ঘোষণা করিলে উক্ত ব্যক্তিও, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি বলিয়া বিবেচিত হইবেন।
   
   
 
প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার  
১৬। (১) প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার সংক্রান্ত আপাতত বলবৎ অন্য কোন আইন বা আইনের ক্ষমতাসম্পন্ন দলিলের বিধিবিধানের সামগ্রিকতাকে ক্ষুণ্ণ না করিয়া, প্রতিবন্ধিতার ধরন অনুযায়ী, প্রত্যেক প্রতিবন্ধী ব্যক্তির নিম্নবর্ণিত অধিকার থাকিবে, যথা :-

(ক) পূর্ণমাত্রায় বাঁচিয়া থাকা ও বিকশিত হওয়া;

(খ) সর্বক্ষেত্রে সমান আইনী স্বীকৃতি এবং বিচারগম্যতা;

(গ) উত্তরাধিকারপ্রাপ্তি;

(ঘ) স্বাধীন অভিব্যক্তি ও মত প্রকাশ এবং তথ্যপ্রাপ্তি;

(ঙ) মাতা-পিতা, বৈধ বা আইনগত অভিভাবক, সন্তান বা পরিবারের সহিত সমাজে বসবাস, বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন ও পরিবার গঠন;

(চ) প্রবেশগম্যতা;

(ছ) সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় ইত্যাদি ক্ষেত্রে, প্রতিবন্ধিতার ধরন অনুযায়ী, পূর্ণ ও কার্যকরভাবে অংশগ্রহণ;

(জ) শিক্ষার সকল স্তরে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উপযুক্ত সুযোগ সুবিধা প্রাপ্তি সাপেক্ষে, একীভূত বা সমন্বিত শিক্ষায় অংশগ্রহণ;

(ঝ) সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মে নিযুক্তি;

(ঞ) কর্মজীবনে প্রতিবন্ধিতার শিকার ব্যক্তি কর্মে নিয়োজিত থাকিবার, অন্যথায়, যথাযথ পুনর্বাসন বা ক্ষতিপূরণপ্রাপ্তি;

(ট) নিপীড়ন হইতে সুরক্ষা এবং নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশের সুবিধাপ্রাপ্তি;

(ঠ) প্রাপ্যতা সাপেক্ষে, সর্বাধিক মানের স্বাস্থ্যসেবাপ্রাপ্তি;

(ড) শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রসহ প্রযোজ্য সকল ক্ষেত্রে ‘প্রয়োজনীয় স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য উপযোগী পরিবেশ ও ন্যায্য সুযোগ সুবিধা’ (reasonable accommodation) প্রাপ্তি;

(ঢ) শারীরিক, মানসিক ও কারিগরী সক্ষমতা অর্জন করিয়া সমাজজীবনের সকল ক্ষেত্রে সম্পূর্ণভাবে একীভূত হইবার লক্ষ্যে সহায়কসেবা ও পুনর্বাসন সুবিধাপ্রাপ্তি;

(ণ) মাতা-পিতা বা পরিবারের উপর নির্ভরশীল প্রতিবন্ধী ব্যক্তি মাতা-পিতা বা পরিবার হইতে বিচ্ছিন্ন হইলে বা তাহার আবাসন ও ভরণ-পোষণের যথাযথ সংস্থান না হইলে, যথাসম্ভব, নিরাপদ আবাসন ও পুনর্বাসন;

(ত) সংস্কৃতি, বিনোদন, পর্যটন, অবকাশ ও ক্রীড়া কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ;

(থ) শ্রবণপ্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও বাকপ্রতিবন্ধী ব্যক্তির নিজ ইচ্ছা অনুযায়ী, যথাসম্ভব, বাংলা ইশারা ভাষাকে প্রথম ভাষা হিসাবে গ্রহণ;

(দ) ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা;

(ধ) স্ব-সহায়ক সংগঠন ও কল্যাণমূলক সংঘ বা সমিতি গঠন ও পরিচালনা;

(ন) জাতীয় পরিচয়পত্র প্রাপ্তি, ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তি, ভোট প্রদান এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণ; এবং

(প) সরকার কর্তৃক সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা নির্ধারিত অন্য কোন অধিকার।

(২) কোন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত অধিকার সংক্রান্ত বিষয়ে কোন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, কর্তৃপক্ষ বা সংস্থা কোন প্রকারের বৈষম্য প্রদর্শন বা বৈষম্যমূলক আচরণ করিতে পারিবে না।
   
   
 
জাতীয় সমন্বয় কমিটি  
১৭। এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা সংক্রান্ত জাতীয় সমন্বয় কমিটি’ নামে একটি কমিটি গঠিত হইবে, যথা :-

(ক) মন্ত্রী, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, যিনি ইহার সভাপতিও হইবেন;

(খ) স্পীকার কর্তৃক মনোনীত দুইজন সংসদ সদস্য, যাহাদের মধ্যে একজন সরকারদলীয় এবং অন্যজন প্রধান বিরোধীদলীয় হইবেন;

(গ) সচিব, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়;

(ঘ) সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়;

(ঙ) সচিব, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়;

(চ) সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়;

(ছ) সচিব, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়;

(জ) সচিব, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়;

(ঝ) সচিব, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়;

(ঞ) সচিব, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়;

(ট) সচিব, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়;

(ঠ) সচিব, শিক্ষা মন্ত্রণালয়;

(ড) সচিব, তথ্য মন্ত্রণালয়;

(ঢ) সচিব, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়;

(ণ) সচিব, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়;

(ত) সচিব, অর্থ বিভাগ;

(থ) সচিব, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ;

(দ) সচিব, স্থানীয় সরকার বিভাগ;

(ধ) মহাপরিচালক, সমাজসেবা অধিদপ্তর;

(ন) প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার সুরক্ষায় কর্মরত বেসরকারি সংস্থা, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সংগঠন বা স্ব-সহায়ক সংগঠন হইতে সরকার কর্তৃক মনোনীত ৪ (চার) জন মহিলা এবং ৩ (তিন) জন পুরুষ প্রতিনিধি;

(প) জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক, যিনি উহার সদস্য-সচিবও হইবেন।
   
   
 
জাতীয় সমন্বয় কমিটির দায়িত্ব ও কার্যাবলি  
১৮। জাতীয় সমন্বয় কমিটির দায়িত্ব ও কার্যাবলি হইবে নিম্নরূপ, যথা:—

(ক) প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মন্ত্রণালয় বা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান বা জাতীয় পর্যায়ের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের সকল কর্মকাণ্ডের সমন্বয় সাধন;

(খ) প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জাতীয় নীতি প্রণয়ন এবং আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির জন্য গৃহীত ব্যবস্থাদির সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ করিয়া প্রয়োজনীয় আইন বা বিধি-বিধানের উন্নয়ন সাধনের জন্য এবং উহা বাস্তবায়নের জন্য সরকারকে পরামর্শ প্রদান;

(গ) পর্যায়ক্রমে প্রত্যেক বিভাগ, জেলা ও উপজেলা এলাকায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের উপযোগী বিশেষায়িত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা এবং বিদ্যমান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে সকল ধরনের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের উপযোগী শিক্ষার পরিবেশ সৃষ্টির উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য সরকারকে পরামর্শ প্রদান;

(ঘ) প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সুরক্ষা নিশ্চিত করিবার লক্ষ্যে যে কোন মন্ত্রণালয় বা বিভাগ বা কর্তৃপক্ষ বা রাষ্ট্রীয় বা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান বা সংবিধিবদ্ধ সংস্থা বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সংগঠন বা স্ব-সহায়ক সংগঠন বা কমিটিসমূহকে পরামর্শ বা নির্দেশনা প্রদান;

(ঙ) প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার, মর্যাদা ও কল্যাণ নিশ্চিতকল্পে সরকারকে যে কোন সুপারিশ প্রদান; এবং

(চ) অনুরূপ অন্য কোন দায়িত্ব বা কার্যাবলি সম্পাদন।
   
   
 
জাতীয় নির্বাহী কমিটি  
১৯। এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা সংক্রান্ত জাতীয় নির্বাহী কমিটি’ নামে একটি কমিটি গঠিত হইবে, যথা:—

(ক) সচিব, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, যিনি ইহার সভাপতিও হইবেন;

(খ) মহাপরিচালক, সমাজসেবা অধিদপ্তর;

(গ) গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় কর্তৃক মনোনীত উক্ত মন্ত্রণালয়ের অন্যূন যুগ্ম-সচিব পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা;

(ঘ) স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক মনোনীত উক্ত মন্ত্রণালয়ের অন্যূন যুগ্ম-সচিব পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা;

(ঙ) শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক মনোনীত উক্ত মন্ত্রণালয়ের অন্যূন যুগ্ম-সচিব পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা;

(চ) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক মনোনীত উক্ত মন্ত্রণালয়ের অন্যূন যুগ্ম-সচিব পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা;

(ছ) তথ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক মনোনীত উক্ত মন্ত্রণালয়ের অন্যূন যুগ্ম-সচিব পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা;

(জ) যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় কর্তৃক মনোনীত উক্ত মন্ত্রণালয়ের অন্যূন যুগ্ম-সচিব পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা;

(ঝ) শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় কর্তৃক মনোনীত উক্ত মন্ত্রণালয়ের অন্যূন যুগ্ম-সচিব পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা;

(ঞ) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক মনোনীত উক্ত মন্ত্রণালয়ের অন্যূন যুগ্ম-সচিব পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা;

(ট) মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক মনোনীত উক্ত মন্ত্রণালয়ের অন্যূন যুগ্ম-সচিব পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা;

(ঠ) অর্থ বিভাগ কর্তৃক মনোনীত উক্ত বিভাগের অন্যূন যুগ্ম-সচিব পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা;

(ড) লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ কর্তৃক মনোনীত উক্ত বিভাগের অন্যূন যুগ্ম-সচিব পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা;

(ঢ) স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক মনোনীত উক্ত বিভাগের অন্যূন যুগ্ম-সচিব পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা;

(ণ) প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার সুরক্ষায় কর্মরত বেসরকারি সংস্থা বা প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সংগঠন বা স্ব-সহায়ক সংগঠন হইতে সরকার কর্তৃক মনোনীত ২ (দুই) জন মহিলা এবং ২ (দুই) জন পুরুষ প্রতিনিধি;

(ত) ব্যবস্থাপনা পরিচালক, জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন, যিনি উহার সদস্য-সচিবও হইবেন।
   
   
 
জাতীয় নির্বাহী কমিটির দায়িত্ব ও কার্যাবলি  
২০। জাতীয় নির্বাহী কমিটির দায়িত্ব ও কার্যাবলি হইবে নিম্নরূপ, যথা:—

(ক) সরকার বা জাতীয় সমন্বয় কমিটি কর্তৃক গৃহীত নীতি, নির্দেশনা ও পরামর্শ যথাযথভাবে বাস্তবায়নের পদক্ষেপ গ্রহণ;

(খ) প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে যে কোন প্রতিষ্ঠান বা সংবিধিবদ্ধ সংস্থা বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সংগঠন বা স্ব-সহায়ক সংগঠন বা কমিটিসমূহকে পরামর্শ বা নির্দেশনা প্রদান এবং উহাদের কর্মকাণ্ডের সমন্বয় সাধন করা;

(গ) কমিটির কার্যাবলি পরিবীক্ষণ, তদারকি ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান;

(ঘ) প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার সুরক্ষার নিমিত্ত গৃহীত কার্যক্রম সম্পর্কে জাতীয় সমন্বয় কমিটির নিকট বৎসরে অন্তত একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন; এবং

(ঙ) জাতীয় সমন্বয় কমিটি কর্তৃক নির্ধারিত অন্য কোন দায়িত্ব বা কার্যাবলি সম্পাদন।
   
   
 
জেলা কমিটি  
২১। (১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, প্রত্যেক জেলায় নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা সংক্রান্ত জেলা কমিটি’ নামে একটি কমিটি গঠিত হইবে, যথা:—

(ক) জেলা প্রশাসক, যিনি উহার সভাপতিও হইবেন;

(খ) পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট;

(গ) সিভিল সার্জন;

(ঘ) জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা;

(ঙ) জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা;

(চ) গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী;

(ছ) স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী;

(জ) জেলা তথ্য কর্মকর্তা;

(ঝ) জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা;

(ঞ) জেলা আইনগত সহায়তা প্রদান কমিটির সাধারণ সম্পাদক;

(ট) প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রের প্রতিবন্ধী বিষয়ক কর্মকর্তা (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে);

(ঠ) জেলা প্রশাসক কর্তৃক মনোনীত সংশ্লিষ্ট জেলার সমাজসেবামূলক কাজে নিয়োজিত একজন ব্যক্তি;

(ড) প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার সুরক্ষায় কর্মরত বেসরকারি সংস্থা বা প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সংগঠন বা স্ব-সহায়ক সংগঠন, যদি থাকে, হইতে জেলা প্রশাসক কর্তৃক মনোনীত ১ (এক) জন মহিলাসহ অনধিক ২ (দুই) জন প্রতিনিধি;

(ঢ) জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক, যিনি উহার সদস্য-সচিবও হইবেন।

(২) জাতীয় সংসদের স্পীকার কর্তৃক মনোনীত সংশ্লিষ্ট জেলার একজন সংসদ সদস্য উপ-ধারা (১) এ বর্ণিত কমিটির উপদেষ্টা হইবেন:

তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত জেলায় কোন মহিলা সংসদ সদস্য থাকিলে, মনোনয়ন প্রদানের ক্ষেত্রে, উক্ত মহিলা সংসদ সদস্যকে অগ্রাধিকার প্রদান করিতে হইবে।
   
   
 
জেলা কমিটির দায়িত্ব ও কার্যাবলি  
২২। জেলা কমিটির দায়িত্ব ও কার্যাবলি হইবে নিম্নরূপ, যথা:—

(ক) সরকার বা জাতীয় সমন্বয় কমিটি বা জাতীয় নির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত বা নির্দেশনা বাস্তবায়ন;

(খ) প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার সুরক্ষার নিমিত্ত গৃহীত কার্যক্রম সম্পর্কে জাতীয় নির্বাহী কমিটির নিকট বৎসরে অন্তত একটি প্রতিবেদন প্রেরণ;

(গ) সকল উপজেলা কমিটি বা শহর কমিটি বা প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষার জন্য প্রতিষ্ঠিত জেলা পর্যায়ের সকল সরকারি অফিস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা বেসরকারি সংস্থা বা প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সংগঠন বা স্ব-সহায়ক সংগঠন, কার্যাবলির সমন্বয় সাধন, পরিবীক্ষণ, তদারকি ও প্রয়োজনীয় নির্দেশ প্রদান; এবং

(ঘ) জাতীয় সমন্বয় কমিটি বা জাতীয় নির্বাহী কমিটি কর্তৃক নির্ধারিত অন্য কোন দায়িত্ব বা কার্যাবলি সম্পাদন।
   
   
 
উপজেলা কমিটি  
২৩। (১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, প্রত্যেক উপজেলায় নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা সংক্রান্ত উপজেলা কমিটি’ নামে একটি কমিটি গঠিত হইবে, যথা:—

(ক) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, যিনি উহার সভাপতিও হইবেন;

(খ) উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা;

(গ) স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপজেলা প্রকৌশলী;

(ঘ) থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা;

(ঙ) উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা;

(চ) উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা;

(ছ) উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা;

(জ) উপজেলা আইনগত সহায়তা প্রদান কমিটির সভাপতি;

(ঝ) পৌরসভা, যদি থাকে, মেয়র কর্তৃক মনোনীত একজন প্রতিনিধি;

(ঞ) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কর্তৃক মনোনীত সংশ্লিষ্ট উপজেলার সমাজসেবামূলক কাজে নিয়োজিত একজন ব্যক্তি;

(ঞ) প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার সুরক্ষায় কর্মরত বেসরকারি সংস্থা বা প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সংগঠন বা স্ব-সহায়ক সংগঠন হইতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কর্তৃক মনোনীত ১ (এক) জন মহিলাসহ অনধিক ২ (দুই) জন প্রতিনিধি;

(ট) উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা, যিনি উহার সদস্য-সচিবও হইবেন।

(২) উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত কমিটির উপদেষ্টা হইবেন।

(৩) উপজেলা কমিটি সংশ্লিষ্ট উপজেলার অন্তর্গত শহর এলাকা, যদি থাকে, ব্যতীত সমগ্র উপজেলার আঞ্চলিক সীমানার মধ্যে উহার দায়-দায়িত্ব ও কার্যক্রম পরিচালনা করিবে এবং যদি উপজেলার অন্তর্গত কোন পৌরসভায় সমাজসেবা অধিদপ্তরের বিদ্যমান শহর সমাজসেবা কার্যক্রম (ইউসিডি) কার্যালয় না থাকে, তবে উপজেলা কমিটি উক্ত পৌরসভাতেও উহার দায়-দায়িত্ব ও কার্যক্রম পরিচালনা করিবে।
   
   
 
শহর কমিটি  
২৪। (১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন শহর এলাকা বা এলাকাসমূহে নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা সংক্রান্ত শহর কমিটি’ নামে এক বা, ক্ষেত্রমত, একাধিক কমিটি গঠিত হইবে, যথা:—

(ক) সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বা, ক্ষেত্রমত, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা, যিনি উহার সভাপতিও হইবেন;

(খ) সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক কর্তৃক মনোনীত কোন উপযুক্ত কর্মকর্তা;

(গ) সিটি কর্পোরেশনের বা, ক্ষেত্রমত, সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার;

(ঘ) সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা, ক্ষেত্রমত, থানা শিক্ষা কর্মকর্তা (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সকল);

(ঙ) সংশ্লিষ্ট জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা বা তদ্‌কর্তৃক মনোনীত কোন উপযুক্ত কর্মকর্তা;

(চ) সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সকল);

(ছ) প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার সুরক্ষায় কর্মরত বেসরকারি সংস্থা বা প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সংগঠন বা স্ব-সহায়ক সংগঠন, যদি থাকে, হইতে সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বা, ক্ষেত্রমত, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা কর্তৃক মনোনীত ১ (এক) জন মহিলাসহ অনধিক ২ (দুই) জন প্রতিনিধি; এবং

(জ) শহর সমাজসেবা কর্মকর্তা, যিনি উহার সদস্য-সচিবও হইবেন।

(২) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, পৌরসভার আওতাধীন শহর এলাকায় নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা সংক্রান্ত শহর কমিটি’ নামে একটি কমিটি গঠিত হইবে, যথা:—

(ক) সংশ্লিষ্ট পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, যিনি উহার সভাপতিও হইবেন;

(খ) সংশ্লিষ্ট পৌরসভার মেডিকেল অফিসার;

(গ) সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা থানা শিক্ষা কর্মকর্তা;

(ঘ) সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা;

(ঙ) সংশ্লিষ্ট উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা বা, ক্ষেত্রমত, জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা কর্তৃক মনোনীত কোন উপযুক্ত কর্মকর্তা;

(চ) প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার সুরক্ষায় কর্মরত বেসরকারি সংস্থা বা প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সংগঠন বা স্ব-সহায়ক সংগঠন, যদি থাকে, হইতে পৌরসভার মেয়র কর্তৃক মনোনীত ১ (এক) জন মহিলাসহ অনধিক ২ (দুই) জন প্রতিনিধি; এবং

(ছ) শহর সমাজসেবা কর্মকর্তা, যিনি উহার সদস্য-সচিবও হইবেন।

(৩) উপ-ধারা (১) এর অধীন গঠিত শহর কমিটি বা, ক্ষেত্রমত, কমিটিসমূহ সংশ্লিষ্ট শহর এলাকায় অর্থাৎ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় অবস্থিত সমাজসেবা অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট শহর সমাজসেবা কার্যক্রম (ইউসিডি) কার্যালয়ের এখতিয়ারাধীন এলাকায় উহার দায়-দায়িত্ব ও কার্যক্রম পরিচালনা করিবে।

(৪) কোন সিটি কর্পোরেশনে একটি মাত্র ইউসিডি কার্যালয় থাকিলে উক্ত সিটি কর্পোরেশনে একটি শহর কমিটি গঠিত হইবে যাহার সভাপতি হইবেন সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং যেক্ষেত্রে কোন সিটি কর্পোরেশনে একাধিক ইউসিডি কার্যালয় থাকিবে, সেইক্ষেত্রে ইউসিডি কার্যালয়ের সংখ্যা অনুযায়ী শহর কমিটি গঠিত হইবে এবং, আঞ্চলিক কার্যালয় থাকিলে, উহার সভাপতি হইবেন আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা এবং, আঞ্চলিক কার্যালয় না থাকিলে, উহার সভাপতি হইবেন সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ।

(৫) উপ-ধারা (২) এর অধীন গঠিত শহর কমিটি, সংশ্লিষ্ট শহর এলাকায় অর্থাৎ সংশ্লিষ্ট পৌরসভার আওতাধীন এলাকায় উহার দায়-দায়িত্ব ও কার্যক্রম পরিচালনা করিবে।

[ব্যাখ্যা: এই ধারায়—

(ক) ‘‘আঞ্চলিক কার্যালয়’’ অর্থ সিটি কর্পোরেশনের যে অঞ্চলে সমাজসেবা অধিদপ্তরের শহর সমাজসেবা কার্যক্রম (ইউসিডি) কার্যালয় অবস্থিত, সেই অঞ্চলের সিটি কর্পোরেশনের আঞ্চলিক কার্যালয়;

(খ) ‘‘আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা’’ অর্থ আঞ্চলিক কার্যালয়ের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা;

(গ) ‘‘শহর সমাজসেবা কার্যক্রম’’ বা ‘‘ইউসিডি’’ অর্থ সমাজসেবা অধিদপ্তরের বিদ্যমান শহর সমাজসেবা কার্যক্রম; এবং

(ঘ) ‘‘সিটি কর্পোরেশন’’ অর্থ স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন, ২০০৯ (২০০৯ সনের ৬০ নং আইন) এর অধীন প্রতিষ্ঠিত কোন সিটি কর্পোরেশন।]
   
   
 
উপজেলা কমিটি বা শহর কমিটির দায়িত্ব ও কার্যাবলি  
২৫। উপজেলা কমিটি বা শহর কমিটির দায়িত্ব ও কার্যাবলি হইবে নিম্নরূপ, যথা :—

(ক) প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিতকল্পে জাতীয় সমন্বয় কমিটি কর্তৃক প্রণীত নীতি ও প্রদত্ত নির্দেশনা, জাতীয় নির্বাহী কমিটি এবং জেলা কমিটি কর্তৃক প্রদত্ত সিদ্ধান্ত বা নির্দেশনা বাস্তবায়ন;

(খ) সরকার কর্তৃক গৃহীত প্রকল্প বা কর্মসূচি সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা শহর এলাকায় বাস্তবায়ন বা পরিবীক্ষণ;

(গ) উপজেলা ও শহর এলাকায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত সকল সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ডের সমন্বয় সাধন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান;

(ঘ) প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার সুরক্ষায় গৃহীত ও সম্পাদিত কার্যক্রম সম্পর্কে জেলা কমিটির নিকট বৎসরে অন্তত একটি প্রতিবেদন প্রেরণ;

(ঙ) উত্তরাধিকারসূত্রে বা অন্য কোনভাবে প্রাপ্ত বা অর্জিত কোন সম্পত্তি কোন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি দেখাশুনা করিতে অসমর্থ হইলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, তাহার মাতা-পিতা, বৈধ বা আইনগত অভিভাবক বা প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সংগঠনের আবেদনের প্রেক্ষিতে, প্রয়োজনে, উক্ত সম্পত্তির সুরক্ষাকল্পে কমিটি স্বয়ং বা তদ্‌কর্তৃক যথাযথ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নিকট উক্ত সম্পত্তির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব প্রদান:

তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত সম্পত্তির রক্ষণাবেক্ষণকারী হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে উক্ত সম্পত্তি হইতে অর্জিত আয়, লভ্যাংশ বা মুনাফা, যদি থাকে, নিয়মিত প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে প্রদান করিতে হইবে এবং কমিটিকে, নির্ধারিত পদ্ধতি ও সময়ে, উক্ত সম্পত্তির হালনাগাদ হিসাব ও সুরক্ষার সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে অবহিত করিতে হইবে।

(চ) এই আইন ও তদধীন প্রণীত বিধিমালা অনুসরণে প্রত্যেক প্রতিবন্ধী ব্যক্তির নিবন্ধন ও পরিচয়পত্র প্রদান; এবং

(ছ) জাতীয় সমন্বয় কমিটি বা জাতীয় নির্বাহী কমিটি কর্তৃক নির্ধারিত অন্য কোন দায়িত্ব বা কার্যালি সম্পাদন।
   
   
 
মনোনীত সদস্যের যোগ্যতা, অযোগ্যতা, পদত্যাগ, ইত্যাদি  
২৬। (১) কোন ব্যক্তি কোন কমিটিতে মনোনীত সদস্য হইবার বা থাকিবার যোগ্য হইবেন না, যদি তিনি—

(ক) বাংলাদেশের নাগরিক না হন বা উহা পরিত্যাগ করেন বা হারান; বা

(খ) কোন উপযুক্ত আদালত কর্তৃক অপ্রকৃতিস্থ বলিয়া ঘোষিত হন; বা

(গ) আপাতত বলবৎ কোন আইনের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত কোন উপযুক্ত আদালত কর্তৃক দেউলিয়া ঘোষিত হন এবং তাঁহার দেউলিয়াত্বের অবসান না হয়; বা

(ঘ) নৈতিক স্খলনজনিত কোন ফৌজদারী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হইয়া অন্যূন ২ (দুই) বৎসর কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন; বা

(ঙ) এই আইন বা বিধির অধীন কোন অপরাধ সংঘটনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন:

তবে শর্ত থাকে যে, মনোনয়ন প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ বা কর্মকর্তা যে কোন সময় সংশ্লিষ্ট মনোনয়ন বাতিলপূর্বক তদস্থলে নূতন কোন ব্যক্তিকে মনোনয়ন প্রদান করিতে পারিবেন:

আরও শর্ত থাকে যে, মনোনীত কোন সদস্য যে কোন সময় সংশ্লিষ্ট কমিটির সভাপতির উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে তাহার সদস্যপদ ত্যাগ করিতে পারিবেন।

(২) এই আইনের অন্য কোন বিধানে ভিন্নরূপ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সরকার, প্রয়োজনে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের অধীন গঠিত যে কোন কমিটির সদস্য সংখ্যা হ্রাস বা বৃদ্ধি করিতে পারিবে এবং যে কোন ব্যক্তিকে কমিটিতে কো-অপ্ট করিতে পারিবে।

[ব্যাখ্যা: এই ধারায় ‘‘মনোনীত সদস্য’’ বলিতে কমিটির কোন মনোনীত সদস্যকে বুঝাইবে।]
   
   
 
কমিটির সভা  
২৭। (১) এই ধারার বিধানাবলি সাপেক্ষে, এই আইনের অধীন গঠিত কমিটিসমূহ উহাদের সভার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে।

(২) প্রতি বৎসর জাতীয় সমন্বয় কমিটির অন্যূন দু্‌ইটি সভা, জাতীয় নির্বাহী কমিটির অন্যূন তিনটি সভা, জেলা কমিটির অন্যূন চারটি সভা এবং উপজেলা বা শহর কমিটির অন্যূন ছয়টি সভা অনুষ্ঠিত হইবে।

(৩) কমিটিসমূহের সভা উহাদের সভাপতি কর্তৃক নির্ধারিত স্থান ও সময়ে অনুষ্ঠিত হইবে।

(৪) সংশ্লিষ্ট কমিটির সভাপতি সংশ্লিষ্ট কমিটির সকল সভায় সভাপতিত্ব করিবেন এবং তাহার অনুপস্থিতিতে তদ্‌কর্তৃক নির্দেশিত অন্য কোন সদস্য বা এইরূপ কোন নির্দেশনা না থাকিলে সভায় উপস্থিত সদস্যদের দ্বারা নির্বাচিত অন্য কোন সদস্য সভাপতিত্ব করিবেন।

(৫) কমিটির সভায় কোরামের জন্য উহার মোট সদস্য সংখ্যার অন্যূন এক তৃতীয়াংশ সদস্যের উপস্থিতির প্রয়োজন হইবে।

(৬) কমিটির সভায় সাধারণভাবে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিতে হইবে, তবে কোন বিষয়ে দ্বিমত দেখা দিলে উপস্থিত সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গৃহীত হইবে।

(৭) ভোট গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রত্যেক সদস্যের একটি করিয়া ভোটাধিকার থাকিবে এবং ভোটে সমতার ক্ষেত্রে সভায় সভাপতিত্বকারী ব্যক্তির দ্বিতীয় বা নির্ণায়ক ভোট প্রদানের ক্ষমতা থাকিবে।

(৮) কমিটি উহার সভার কোন আলোচ্য বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুবিধার্থে কোন বিশেষজ্ঞ বা ওয়াকেবহাল কোন ব্যক্তিকে মতামত বা বক্তব্য প্রদানের জন্য আমন্ত্রণ জানাইতে পারিবে, তবে উক্ত আমন্ত্রিত ব্যক্তির কোন ভোটাধিকার থাকিবে না।

(৯) শুধু কোন সদস্যপদে শূন্যতা বা সংশ্লিষ্ট কমিটি গঠনে ত্রুটি থাকিবার কারণে উহার কোন কার্য বা কার্যধারা অবৈধ হইবে না এবং তৎসম্পর্কে কোন আদালতে বা অন্য কোন কর্তৃপক্ষের নিকট কোন প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে না।
   
   
 
উপ-কমিটি  
২৮। জাতীয় সমন্বয় কমিটি, জাতীয় নির্বাহী কমিটি, জেলা কমিটি, উপজেলা কমিটি বা শহর কমিটি উহার কাজে সহায়তার জন্য, প্রয়োজনবোধে, উহার এক বা একাধিক সদস্য এবং অন্য কোন ব্যক্তি সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক উপ-কমিটি গঠন করিতে পারিবে এবং উক্ত উপ-কমিটির সদস্য সংখ্যা ও দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ করিতে পারিবে।
   
   
 
সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব  
২৯। (১) প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকারসমূহ যাহাতে তাহারা যথাযথ সহজ উপায়ে ভোগ করিতে পারে সেই লক্ষ্যে সকল সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, আপতত বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, জাতীয় সমন্বয় কমিটি কর্তৃক প্রণীত নীতি ও প্রদত্ত নির্দেশনা ও অন্যান্য কমিটি কর্তৃক গৃহীত সিদ্ধান্ত ও প্রদত্ত নির্দেশনা বাস্তবায়নে এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কল্যাণ ও স্বার্থ সুরক্ষায় সরকার কর্তৃক গৃহীত কর্মসূচি বা প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করিবে।

(২) সরকার, তফসিলে উল্লিখিত, প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সমধিকার সুরক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়নে পযায়ক্রমে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করিবে।
   
   
 
দায়িত্ব অর্পণ  
৩০। কমিটি, উহার দায়িত্ব ও কার্যাবলি দক্ষতার সহিত সম্পাদনের জন্য, যেরূপ শর্ত আরোপ করা উপযুক্ত বলিয়া বিবেচনা করিবে সেইরূপ শর্তাধীনে, উহার দায়িত্ব ও কার্যাবলি উহার কোন সদস্য বা অন্য কোন ব্যক্তি বা সংস্থাকে অর্পণ করিতে পারিবে।
   
   
 
প্রতিবন্ধী ব্যক্তির নিবন্ধন ও পরিচয়পত্র প্রদান  
৩১। (১) প্রতিবন্ধী ব্যক্তি হিসাবে নিবন্ধন ও পরিচয়পত্র গ্রহণের জন্য প্রতিবন্ধী ব্যক্তি যে উপজেলায় বা শহর এলাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করেন সেই উপজেলার উপজেলা কমিটি বা, ক্ষেত্রমত, সেই শহর এলাকার শহর কমিটির সভাপতির নিকট উক্ত প্রতিবন্ধী ব্যক্তি স্বয়ং বা তাহার মাতা-পিতা, বৈধ বা আইনানুগ অভিভাবক বা প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সংগঠন, নির্ধারিত তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা সরকারি হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকের প্রত্যায়নপত্রসহ, আবেদন করিতে পারিবেন।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রাপ্ত আবেদনপত্রের সহিত প্রদত্ত তথ্যাদির সঠিকতা ও যথার্থতা যাচাই করিয়া উপজেলা কমিটি বা, ক্ষেত্রমত, শহর কমিটির নিকট উপযুক্ত বিবেচিত হইলে, আবেদনকারীকে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি হিসাবে নিবন্ধন করিবার এবং তাহার অনুকূলে পরিচয়পত্র ইস্যু করিবার জন্য কমিটির সভাপতি সদস্য-সচিবকে নির্দেশ প্রদান করিবেন অথবা উপযুক্ত বিবেচিত না হইলে কমিটি সংশ্লিষ্ট আবেদন প্রত্যাখ্যান করিতে পারিবে:

তবে শর্ত থাকে যে, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি বা, ক্ষেত্রমত, তাহার মাতা-পিতা, বৈধ বা আইনানুগ অভিভাবক বা প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সংগঠনকে শুনানী প্রদান না করিয়া কোন আবেদন প্রত্যাখ্যান করা যাইবে না এবং আবেদন একান্তই প্রত্যাখ্যান করিতে হইলে, উহার কারণ বর্ণনা করিয়া, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি বা, ক্ষেত্রমত, তাহার মাতা-পিতা, বৈধ বা আইনানুগ অভিভাবক বা প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সংগঠনকে অবহিত করিতে হইবে।

(৩) কোন আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হইলে, প্রত্যাখ্যানের কারণ অবহিত হইবার ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে আবেদনকারী জেলা কমিটির নিকট আপীল করিতে পারিবে।

(৪) সদস্য-সচিব, উপ-ধারা (২) এর অধীন, কমিটির সভাপতির নিকট হইতে নির্দেশনা প্রাপ্তির সঙ্গে সঙ্গে একটি রেজিস্টারে আবেদনে উল্লিখিত তথ্যাদি সংরক্ষণ করিয়া নির্ধারিত ফরমে আবেদনকারীকে নিবন্ধনপূর্বক তাহার অনুকূলে পরিচয়পত্র ইস্যু করিবে।


(৫) উপ-ধারা (১) এর অধীন আবেদনকারী প্রতিবন্ধী ব্যক্তি কিনা তাহা প্রমাণের ক্ষেত্রে উপজেলা কমিটি বা, ক্ষেত্রমত, শহর কমিটি সংশ্লিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা সরকারি হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকের প্রত্যায়নপত্র বিবেচনায় গ্রহণ করিবে।


(৬) এই ধারার অধীন ইস্যূকৃত পরিচয়পত্র ব্যতীত কোন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এ আইন বা অন্য কোন আইনে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির জন্য নির্ধারিত কোন সুবিধা গ্রহণ করিতে পারিবে না।

(৭) প্রতিবন্ধী ব্যক্তি হিসাবে নিবন্ধন এবং পরিচয়পত্র ও, ক্ষেত্রমত, ডুপ্লিকেট পরিচয়পত্র প্রদানসহ আনুষঙ্গিক বিষয়াদি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
   
   
 
গণপরিবহনে আসন সংরক্ষণ, ইত্যাদি  
৩২। (১) আপাতত বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সরকার কর্তৃক সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সকল গণপরিবহনের মালিক বা কর্তৃপক্ষ তৎপরিবহনের মোট আসন সংখ্যার শতকরা ৫ (পাঁচ) ভাগ আসন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সংরক্ষিত রাখিবেন।

(২) কোন গণপরিবহনের মালিক বা কর্তৃপক্ষ উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত ব্যবস্থা গ্রহণ না করিলে বা করা হইতে বিরত থাকিলে অথবা কোন গণপরিবহনের চালক, সুপারভাইজার বা কন্ডাক্টর কোন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে সংরক্ষিত আসনে আসন গ্রহণ করিতে সহায়তা না করিলে বা আসন গ্রহণ করিতে বাধা সৃষ্টি করিলে কমিটি, যথাযথ অনুসন্ধানপূর্বক উহার সত্যতা নিরূপন করিয়া, উক্ত পরিবহনের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করিবার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষকে সুপারিশ প্রদান করিবে।

[ব্যাখ্যা: এই ধারায় ‘গণপরিবহন’ বলিতে স্থল, জল ও আকাশপথে ভাড়ার বিনিময়ে যাত্রী পরিবহন করে এমন কোন সাধারণ পরিবহনকে বুঝাইবে। ]
   
   
 
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির ভর্তি সংক্রান্ত বৈষম্যের প্রতিকার  
৩৩। (১) আপাতত: বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, শুধুমাত্র প্রতিবন্ধিতার কারণে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান বা কর্তৃপক্ষ উক্ত ব্যক্তির, অন্যান্য যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও, ভর্তির আবেদন প্রত্যাখ্যান করিতে পারিবেন না।

(২) এই আইনের অন্য কোন বিধানে ভিন্নরূপ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান বা কর্তৃপক্ষ উপ-ধারা (১) এর অধীন ভর্তি সংক্রান্ত কোন বৈষম্য করিলে, বৈষম্যের শিকার প্রতিবন্ধী ব্যক্তি উক্ত বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কমিটির নিকট অভিযোগ দায়ের করিতে পারিবে।

(৩) কমিটি, উপ-ধারা (১) এর অধীন, কোন অভিযোগ প্রাপ্ত হইলে উক্ত অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান বা কর্তৃপক্ষকে যথাযথ শুনানীর সুযোগ প্রদান করিয়া, উপযুক্ত মনে করিলে, সংশ্লিষ্ট প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে ভর্তির জন্য নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে এবং, প্রয়োজনে, উক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান বা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উক্ত প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষকে সুপারিশ প্রদান করিবে।
   
   
 
গণস্থাপনায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তির প্রবেশগম্যতা নিশিচতকরণ  
৩৪। (১) আপাতত বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, গণস্থাপনায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তির প্রবেশগম্যতা নিশ্চিতকল্পে Building Construction Act, 1952 (East Bengal Act II of 1953) ও তদধীন প্রণীত বিধি-বিধান অনুসরণ করিতে হইবে।

(২) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সর্বসাধারণ গমন করে এইরূপ বিদ্যমান সকল গণস্থাপনা, এই আইন কার্যকর হইবার পর, যথাশীঘ্র ও যতদূর সম্ভব, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আরোহন, চলাচল ও ব্যবহার উপযোগী করিতে হইবে।

[ব্যাখ্যা: এই ধারায় ’গণস্থাপনা’ বলিতে সর্বসাধারণ গমন বা চলাচল করে এমন সকল সরকারি ও বেসরকারি ইমারত বা ভবন, পার্ক, স্টেশন, বন্দর, টার্মিনাল ও সড়ককে বুঝাইবে।]
   
   
 
প্রতিবন্ধিতার কারণে কর্মে নিযুক্ত না করা, ইত্যাদি  
৩৫। (১) আপাতত বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও, প্রতিবন্ধিতার ধরন অনুযায়ী, উপযোগী কোন কর্মে নিযুক্ত হইতে কোন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে বঞ্চিত বা তাহার প্রতি বৈষম্য করা বা তাহাকে বাধাগ্রস্ত করা যাইবে না।

(২) কোন কর্ম কোন প্রতিবন্ধী ব্যক্তির জন্য উপযোগী কিনা এই মর্মে কোন প্রশ্ন উত্থাপিত হইলে, উক্ত বিষয়ে জাতীয় সমন্বয় কমিটি প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করিবে এবং এতদ্‌বিষয়ে জাতীয় সমন্বয় কমিটির নির্দেশনা চূড়ান্ত বলিয়া গণ্য হইবে।
   
   
 
বৈষম্য নিষিদ্ধকরণ ও ক্ষতিপূরণ প্রদান  
৩৬। (১) এই আইনের অন্য কোন বিধানে ভিন্নতর যাহা কিছুই থাকুক না কেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার সংক্রান্ত বিষয়ে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বা কর্তৃপক্ষ বা সংস্থা কোন প্রকারের বৈষম্য প্রদর্শন বা বৈষম্যমূলক আচরণ করিতে পারিবে না।

(২) কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বা কর্তৃপক্ষ বা সংস্থা কোন প্রকার বৈষম্য প্রদর্শন বা বৈষম্যমূলক আচরণ করিলে অথবা কোন কার্যের দ্বারা কিংবা কোন কাজ করা হইতে বিরত থাকিবার কারণে অথবা এই আইনে উল্লিখিত কোন অধিকার হইতে বঞ্চিত হইবার কারণে কোন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হইলে দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দাবী করিয়া সংশ্লিষ্ট জেলা কমিটির নিকট আবেদন করা যাইবে।

(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন কোন ক্ষতিপূরণের আবেদন করা হইলে জেলা কমিটি, প্রয়োজনে, নির্ধারিত পদ্ধতিতে, বিষয়টি অনুসন্ধান এবং শুনানী গ্রহণ করিয়া, তদ্‌কর্তৃক নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে, উক্ত উপ-ধারায় উল্লিখিত বৈষম্য দূর করার জন্য বা, ক্ষেত্রমত, অধিকার বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের প্রতি আদেশ প্রদান করিবে।

(৪) উপ-ধারা (৩) এর অধীন জেলা কমিটি কর্তৃক নির্দিষ্টকৃত সময়সীমার মধ্যে উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত বৈষম্য দূর করা না হইলে বা, ক্ষেত্রমত, অধিকার বাস্তবায়ন করা না হইলে জেলা কমিটি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির ক্ষতিগ্রস্ততার মাত্রা এবং দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সামর্থ বিবেচনা করিয়া ক্ষতিপূরণের পরিমান নির্ধারণপূর্বক, ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের প্রতি আদেশ প্রদান করিতে পারিবে।

(৫) কোন ব্যক্তি উপ-ধারা (৪) এর অধীন জেলা কমিটি কর্তৃক প্রদত্ত কোন আদেশ দ্বারা সংক্ষুদ্ধ হইলে উক্তরূপ আদেশ প্রদানের তারিখ হইতে পরবর্তী ৩০ (ত্রিশ) কার্যদিবসের মধ্যে জাতীয় নির্বাহী কমিটির নিকট আপীল করিতে পারিবে:

তবে শর্ত থাকে যে, জাতীয় নির্বাহী কমিটি যদি এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে, আপিলকারী যুক্তিসংগত কারণে উক্ত সময়সীমার মধ্যে আপিল দায়ের করিতে পারে নাই, তাহা হইলে কমিটি, স্বীয় বিবেচনায়, উক্ত সময়সীমা অতিবাহিত হইবার পর অনধিক ৩০(ত্রিশ) দিনের মধ্যে আপিল আবেদন গ্রহণ করিতে পারিবে।

(৬) জাতীয় নির্বাহী কমিটি উপ-ধারা (৫) এর অধীন আপিল আবেদন প্রাপ্তির পরবর্তী ৪৫ (পঁয়তাল্লিশ) দিনের মধ্যে, প্রয়োজনে, নির্ধারিত পদ্ধতিতে বিষয়টি শুনানী গ্রহণ করিয়া, আপিলকারীর অনুকূলে প্রয়োজনীয় আদেশ প্রদান করিবে অথবা, তদ্‌বিবেচনায় গ্রহণযোগ্য না হইলে, আপিলটি খারিজ করিবে।

(৭) উপ-ধারা (৬) এর অধীন প্রদত্ত জাতীয় নির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের জন্য বাধ্যতামূলক হইবে।

(৮) এই ধারার অধীন ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য আদেশপ্রাপ্ত হইলে, দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট আদেশে উল্লিখিত সময়সীমার মধ্যে আবেদনকারীকে ক্ষতিপূরণের অর্থ প্রদান করিতে বাধ্য থাকিবে।

(৯) এই আইনের অধীন পরিশোধযোগ্য কোন ক্ষতিপূরণ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরিশোধ করা না হইলে তাহা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নিকট হইতে Public Demands Recovery Act, 1913 (Act IX of 1913) এর বিধান অনুযায়ী বকেয়া ভূমি রাজস্ব যে পদ্ধতিতে আদায় করা হয় সেই পদ্ধতিতে আদায়যোগ্য হইবে এবং আদায়ান্তে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে প্রদান করা হইবে।

(১০) এই আইনের অধীন আরোপিত ক্ষতিপূরণের অর্থ আদায়ের সুবিধার্ধে জাতীয় নির্বাহী কমিটি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, কর্তৃপক্ষ বা প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে অনুরোধ করিতে পারিবে।

(১১) এই ধারায় ভিন্নরূপ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অবহেলা, অগ্রাহ্যতা বা অন্য কোন কার্যের কারণে যদি কোন ব্যক্তি প্রতিবন্ধিতার শিকার হন, সেক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যথাযথ ক্ষতিপূরণ আদায়ের জন্য উপযুক্ত আদালতে মামলা দায়ের করা যাইবে।
   
   
 
অপরাধ ও দণ্ড  
৩৭। (১) কোন ব্যক্তি প্রতিবন্ধিতার কারণে কোন প্রতিবন্ধী ব্যক্তির আইনের আশ্রয় লাভে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি বা সৃষ্টির চেষ্টা করিলে উহা এই আইনের অধীন অপরাধ হইবে এবং তিনি উক্ত অপরাধের জন্য অনধিক ৩ (তিন) বৎসরের কারাদণ্ড বা অনধিক ৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।

(২) কোন ব্যক্তি উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্য সম্পত্তি বণ্টনের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধিতার কারণে কোন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে প্রাপ্য হিস্যা হইতে বঞ্চিত করিলে উহা এই আইনের অধীন অপরাধ হইবে এবং তিনি উক্ত অপরাধের জন্য অনধিক ৩ (তিন) বৎসরের কারাদণ্ড বা অনধিক ৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।

(৩) কোন ব্যক্তি প্রতিবন্ধী ব্যক্তির কোন সম্পদ আত্মসাৎ করিলে উহা এই আইনের অধীন অপরাধ হইবে এবং তিনি উক্ত অপরাধের জন্য অনধিক ৩ (তিন) বৎসরের কারাদণ্ড বা অনধিক ৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।

(৪) কোন ব্যক্তি পাঠ্যপুস্তকসহ যে কোন প্রকাশনা এবং গণমাধ্যমে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি বা প্রতিবন্ধিতা সম্পর্কে নেতিবাচক, ভ্রান্ত ও ক্ষতিকর ধারণা প্রদান বা নেতিবাচক শব্দের ব্যবহার বা ব্যবহারের মাধ্যমে ব্যঙ্গ করিলে উহা এই আইনের অধীন অপরাধ হইবে এবং তিনি উক্ত অপরাধের জন্য অনধিক ৩ (তিন) বৎসরের কারাদণ্ড বা অনধিক ৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।

(৫) কোন ব্যক্তি অসত্য বা ভিত্তিহীন তথ্য প্রদানের মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি হিসাবে নিবন্ধিত হইলে বা পরিচয়পত্র গ্রহণ করিলে উহা এই আইনের অধীন অপরাধ হইবে এবং তিনি উক্ত অপরাধের জন্য অনধিক ১ (এক) বৎসরের কারাদণ্ড বা অনধিক ১০ (দশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।

(৬) কোন ব্যক্তি জালিয়াতির মাধ্যমে পরিচয়পত্র তৈরী করিলে উহা এই আইনের অধীন অপরাধ হইবে এবং তিনি উক্ত অপরাধের জন্য অনধিক ৭ (সাত) বৎসরের কারাদণ্ড বা অনধিক ৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
   
   
 
মামলা দায়ের, আমলযোগ্যতা, ইত্যাদি  
৩৮। (১) ফৌজদারী কার্যবিধিতে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের অধীন সংঘটিত কোন অপরাধের জন্য সংক্ষুব্ধ প্রতিবন্ধী ব্যক্তি স্বয়ং অথবা তাহার মাতা-পিতা, বৈধ বা আইনানুগ অভিভাবক অথবা প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সংগঠন মামলা দায়ের করিতে পারিবেন।



(২) এই আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধের বিচার প্রথম শ্রেণির বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে বিচারযোগ্য হইবে।



(৩) এই আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধসমূহ অ-আমলযোগ্য (non-cognizable), আপোষযোগ্য (compoundable) এবং জামিনযোগ্য (bailable) হইবে।
   
   
 
ফৌজদারী কার্যবিধির প্রয়োগ  
৩৯। এই আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধের তদন্ত, বিচার ও আপীলসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ে ফৌজদারী কার্যবিধি প্রযোজ্য হইবে।
   
   
 
কোম্পানি কর্তৃক অপরাধ সংঘটন  
৪০। এই আইনের কোন বিধান লঙ্ঘনকারী ব্যক্তি যদি কোম্পানি হয়, তাহা হইলে উক্ত কোম্পানির প্রত্যেক পরিচালক বা ব্যবস্থাপক বা সচিব বা অন্য কোন কর্মকর্তা বা এজেন্ট বিধানটি লঙ্ঘন করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে, যদি না তিনি যদি প্রমাণ করিতে পারেন যে, উক্ত লঙ্ঘন তাহার অজ্ঞাতসারে সংঘটিত হইয়াছে অথবা উক্ত লঙ্ঘন রোধ করিবার জন্য তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করিয়াছেন।

[ব্যাখ্যা। - এই ধারায়—
(ক) ‘কোম্পানি’ বলিতে কোন সংবিধিবদ্ধ সংস্থা, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, অংশীদারী কারবার, সমিতি, সংঘ বা সংগঠনও অন্তর্ভুক্ত হইবে; এবং
(খ) বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ‘পরিচালক’ বলিতে উহার কোন অংশীদার বা পরিচালনা বোর্ডের সদস্যও অন্তর্ভুক্ত হইবে।]
   
   
 
বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা  
৪১। এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।
   
   
 
অস্পষ্টতা দূরীকরণ  
৪২। এই আইনের কোন বিধান কার্যকর করিবার ক্ষেত্রে কোন অস্পষ্টতা দেখা দিলে সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের বিধানাবলির সহিত সঙ্গতিপূর্ণ হওয়া সাপেক্ষে, উক্তরূপ অস্পষ্টতা দূর করিতে পারিবে।
   
   
 
আইনের ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশ  
৪৩। এই আইন প্রবর্তনের পর সরকার, প্রয়োজনবোধে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের বাংলা পাঠের ইংরেজিতে অনূদিত একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ (Authentic English Text) প্রকাশ করিতে পারিবে:

তবে শর্ত থাকে যে, বাংলা পাঠ ও ইংরেজি পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাইবে।
   
   
 
রহিতকরণ ও হেফাজত  
৪৪। (১) এই আইন প্রবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ আইন, ২০০১ (২০০১ সনের ১২ নং আইন) রহিত হইবে।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন রহিত হওয়া সত্ত্বেও, উক্ত রহিত আইনের অধীন কৃত সকল কাজকর্ম বা গৃহীত ব্যবস্থা এই আইনের অধীন কৃত বা গৃহীত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে এবং এই আইন কার্যকর হইবার তারিখে অনিষ্পন্ন কার্যাদি, যতদূর সম্ভব, এই আইনের অধীন নিষ্পন্ন করিতে হইবে।


   
   
   
 

Copyright © 2010, Legislative and Parliamentary Affairs Division
Ministry of Law, Justice and Parliamentary Affairs