পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ আইন, ২০১৩
( ২০১৩ সনের ৫৩ নং আইন )
  [১০ নভেম্বর, ২০১৩]
     
     
পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার রাবনাবাদ চ্যানেলে অবস্থিত পায়রা বন্দরের জন্য
পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠাকল্পে প্রণীত আইন
 
যেহেতু পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার রাবনাবাদ চ্যানেলে অবস্থিত পায়রা বন্দর পরিচালনা, ব্যবস্থাপনা, উন্নয়ন, সম্প্রসারণ ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ নামে একটি বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা এবং আনুষঙ্গিক বিষয়াদি সম্পর্কে বিধান প্রণয়ন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়;
সেহেতু এতদদ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল :-
   
প্রথম অধ্যায়
প্রারম্ভিক
 
সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তন  
১। (১) এই আইন পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ আইন, ২০১৩ নামে অভিহিত হইবে।

(২) ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে।
   
   
 
সংজ্ঞা  
২। বিষয় ও প্রসঙ্গের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে―

(১) ‘‘অভ্যন্তরীণ নৌ-যান’’ অর্থে বাষ্প, তেল, বিদ্যুৎ অথবা অন্য কোন যান্ত্রিক পদ্ধতিতে অভ্যন্তরীণ জলপথে পরিবাহিত এবং পরিচালিত জাহাজও অন্তর্ভুক্ত হইবে;

(২) ‘‘কর্তৃপক্ষ’’ অর্থ ধারা ৪ এর অধীন প্রতিষ্ঠিত পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ;

(৩) ‘‘চেয়ারম্যান’’ অর্থ বোর্ডের চেয়ারম্যান;

(৪) ‘‘জাহাজ’’ অর্থ যে কোন জাহাজ, বার্জ, নৌকা, র‌্যাফট বা ক্রাফট অথবা নৌ-পথে যাত্রী বা পণ্য পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত বা নকশাকৃত অন্য যে কোন ধরনের নৌ-যান;

(৫) ‘‘ডক’’ অর্থে বেসিন, কপাটকল (locks) , খাল (cuts) , ঘাট (wharf) , পণ্যাগার, রেলপথ এবং ডক সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কার্যক্রম ও স্থাপনাও অন্তর্ভুক্ত হইবে;

(৬) ‘‘নোঙর স্থান (mooring) ’’ অর্থ কোন জাহাজ নোঙ্গর করিবার স্থান যেখানে জাহাজ হইতে পণ্য খালাস বা জাহাজে পণ্য বোঝাই করা হয় অথবা জাহাজ অবস্থান করে;

(৭) ‘‘নির্ধারিত’’ অর্থ বিধি দ্বারা নির্ধারিত;

(৮) ‘‘পণ্য’’ অর্থে যে কোন ধরনের সামগ্রী, পণ্যদ্রব্য এবং কন্টেইনারও অন্তর্ভুক্ত হইবে;

(৯) ‘‘পিয়ার’’ অর্থে সমুদ্র সংলগ্ন যে কোন ধাপ, সিঁড়ি, অবতরণ স্থল, জেটি, ভাসমান বার্জ বা পন্টুন এবং যে কোন সেতু বা সেতু সংলগ্ন স্থাপনাও অন্তর্ভুক্ত হইবে;

(১০) ‘‘প্রবিধান’’ অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত প্রবিধান;

(১১) ‘‘বন্দর পরিচালনা’’ অর্থ পণ্য ওঠা-নামা, পণ্য গ্রহণ ও হস্তান্তর, জাহাজ নিয়ন্ত্রণ, জাহাজ পরিদর্শন এবং বন্দর চ্যানেল বা বন্দর এলাকার মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড;

(১২) ‘‘ বোর্ড’’ অর্থ ধারা ৭ এর অধীন গঠিত বোর্ড;

(১৩) ‘‘বিধি’’ অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি;

(১৪) ‘‘ভূমি’’ অর্থে মাটিতে স্থাপিত দালান বা তৎসংলগ্ন স্থাপনা, নদীর চরসহ সর্বোচ্চ জোয়াররেখার নিম্নের নদীর তলদেশও অন্তর্ভুক্ত হইবে;

(১৫) ‘‘মাষ্টার’’ অর্থ জাহাজের ক্ষেত্রে, পাইলট বা পোতাশ্রয় মাষ্টার ব্যতীত, জাহাজ পরিচালনার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত বা জাহাজ নিয়ন্ত্রণকারী ব্যক্তি;

(১৬) ‘‘মালিক’’ অর্থে পণ্যের ক্ষেত্রে, কনসাইনার, কনসাইনি, জাহাজীকারক (shipper) এবং বিক্রয়, সংরক্ষণ, জাহাজীকরণ, খালাস বা অপসারণ কাজে নিয়োজিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এবং জাহাজের ক্ষেত্রে, জাহাজের আংশিক মালিক, চার্টারার, কনসাইনি ও বন্ধকগ্রহীতাও অন্তর্ভুক্ত হইবে;

(১৭) ‘‘সদস্য’’ অর্থ বোর্ডের সদস্য;

(১৮) ‘‘সর্বোচ্চ জোয়ার রেখা (high watermark) ’’ অর্থ বৎসরের যে কোন মৌসুমে বা ঋতুতে ভরা জোয়ারের সময় সাধারণতঃ ব্যাংক লাইন হিসেবে স্বীকৃত পানির সর্বোচ্চ অবস্থানের চিহ্নিত বা অংকিত লাইন।
   
   
 
বন্দর সীমানা  
৩। (১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বন্দরের সীমানা নির্ধারণ করিতে পারিবে, এবং সময় সময়, অনুরূপ প্রজ্ঞাপন দ্বারা, উক্ত সীমা পরিবর্তন বা পরিবর্ধন করিতে পারিবে।

(২) এই সীমানা (Port Limit) বন্দরের জাহাজ চলাচল পথের যে কোন অংশে বর্ধিত করিতে পারিবে এবং বহির্নোঙ্গর অথবা সমুদ্রের যে কোন অংশে, নদী, নদী-তীর, নদীর পাড় অথবা সংলগ্ন ভূমি এবং যে কোন ধরনের ডক, পিয়ার, শেড অথবা অন্যান্য কাজ-সমূহ যাহা জনস্বার্থে জাহাজ চলাচল, নৌ-পরিবহন, পণ্য উঠানামা, জাহাজের নিরাপত্তা অথবা উন্নয়ন, সংরক্ষণ অথবা বন্দরের সুশাসন অথবা নদী এবং নিরাপদ নৌ-চলাচলের জন্য হাই ওয়াটার মার্কের মধ্যে বন্দরের অধিকার সংরক্ষিত থাকিবে এবং হাই ওয়াটার মার্কের ৫০ মিটারের মধ্যে থাকা ব্যক্তি মালিকানাধীন সম্পত্তি, তীর, পাড় অথবা ভূমির যে কোন অংশে বন্দরের নিয়ন্ত্রণ থাকিবে।
   
   
দ্বিতীয় অধ্যায়
কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা, কমিটি, ইত্যাদি
 
কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা  
৪। (১) সরকার, এই আইন কার্যকর হইবার পর, যথাশীঘ্র সম্ভব, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ নামে একটি কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করিবে।

(২) কর্তৃপক্ষ একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হইবে এবং ইহার স্থায়ী ধারাবাহিকতা ও একটি সাধারণ সীলমোহর থাকিবে এবং সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে ইহার স্থাবর ও অস্থাবর উভয় প্রকার সম্পত্তি অর্জন করিবার, অধিকারে রাখিবার ও হস্তান্তর করিবার ক্ষমতা থাকিবে এবং কর্তৃপক্ষের পক্ষে বা উহার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা যাইবে।
   
   
 
কর্তৃপক্ষের কার্যালয়  
৫। কর্তৃপক্ষের প্রধান কার্যালয় পটুয়াখালী জেলায় অবস্থিত হইবে।
   
   
 
পরিচালনা ও প্রশাসন  
৬।(১) কর্তৃপক্ষের পরিচালনা ও প্রশাসন একটি বোর্ডের উপর ন্যস্ত থাকিবে এবং কর্তৃপক্ষ যে সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্য সম্পাদন করিতে পারিবে বোর্ডও সেই সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্য সম্পাদন করিতে পারিবে।

(২) বোর্ড উহার ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্যাবলী সম্পাদনের ক্ষেত্রে সরকার কর্তৃক সময় সময় প্রদত্ত নির্দেশনা অনুসরণ করিবে।
   
   
 
বোর্ড গঠন, ইত্যাদি  
৭। (১) বোর্ড নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে গঠিত হইবে, যথা:-

(ক) একজন চেয়ারম্যান;

(খ) তিনজন সার্বক্ষণিক সদস্য; এবং

(গ) তিনজন খণ্ডকালীন সদস্য।

(২) চেয়ারম্যান ও সার্বক্ষণিক সদস্যগণ সরকার কর্তৃক নির্ধারিত মেয়াদে ও শর্তাধীনে নিযুক্ত হইবেন ও কর্তৃপক্ষের সার্বক্ষণিক কর্মকর্তা হইবেন।

(৩) খণ্ডকালীন সদস্যগণ, ক্ষেত্রমত-

(ক) অর্থ মন্ত্রণালয়, নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় হইতে যুগ্ম-সচিব পদমর্যাদার নিম্নে নহেন এমন কর্মকর্তাদের মধ্য হইতে সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন;

(খ) নিয়োগের তারিখ হইতে দুই বৎসরের মেয়াদে স্বীয় পদে বহাল থাকিবেন; এবং

(গ) পুনরায় নিয়োগ লাভের যোগ্য হইবেন।

(৪) খণ্ডকালীন সদস্যগণের সম্মানী ও অন্যান্য বিষয়াদি সরকার কর্তৃক স্থিরীকৃত হইবে।

(৫) চেয়ারম্যান কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী হইবেন।

(৬) চেয়ারম্যানের পদ শূন্য হইলে বা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোন কারণে চেয়ারম্যান দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে, শূন্য পদে নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত বা চেয়ারম্যান পুনরায় স্বীয় দায়িত্ব পালনে সমর্থ না হওয়া পর্যন্ত জ্যেষ্ঠ সার্বক্ষণিক সদস্য চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করিবেন।
   
   
 
বোর্ডের সভা  
৮। (১) এই ধারার অন্যান্য বিধানাবলী সাপেক্ষে, বোর্ড উহার সভার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে।

(২) বোর্ডের সভা চেয়ারম্যান কর্তৃক নির্ধারিত স্থান ও সময়ে অনুষ্ঠিত হইবে:

তবে শর্ত থাকে যে, প্রতি দুই মাসে বোর্ডের কমপক্ষে একটি সভা অনুষ্ঠিত হইবে।

(৩) বোর্ডের সভায় কোরামের জন্য একজন সার্বক্ষণিক সদস্যসহ অন্যূন তিনজন সদস্যের উপস্থিতির প্রয়োজন হইবে।

(৪) বোর্ডের সভায় প্রত্যেক সদস্যের একটি করিয়া ভোট থাকিবে এবং ভোটের সমতার ক্ষেত্রে সভায় সভাপতিত্বকারী ব্যক্তির একটি দ্বিতীয় বা নির্ণায়ক ভোট প্রদানের ক্ষমতা থাকিবে।

(৫) চেয়ারম্যান বোর্ডের সকল সভায় সভাপতিত্ব করিবেন এবং তাহার অনুপস্থিতিতে জ্যেষ্ঠ সার্বক্ষণিক সদস্য উক্ত সভায় সভাপতিত্ব করিবেন।

(৬) বোর্ডের কোন কার্য বা কার্যধারা কেবলমাত্র বোর্ডের কোন সদস্যপদে শূন্যতা বা বোর্ড গঠনে ত্রুটি থাকিবার কারণে অবৈধ হইবে না এবং তৎসম্পর্কে কোন প্রশ্নও উত্থাপন করা যাইবে না।

(৭) সভায় কোন সুনির্দিষ্ট বিষয়ে মতামত, বক্তব্য, তথ্য বা ব্যাখ্যা উপস্থাপনের উদ্দেশ্যে চেয়ারম্যান সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞ কোন ব্যক্তিকে আমন্ত্রণ জানাইতে পারিবেন এবং তিনি সভায় তাহার বিশেষজ্ঞ মতামত, বক্তব্য, তথ্য বা ব্যাখ্যা উপস্থাপন করিতে পারিবেন।

(৮) আমন্ত্রিত সদস্যের সভায় ভোট প্রদানের ক্ষমতা থাকিবে না।
   
   
 
কমিটি  
৯। কর্তৃপক্ষ উহার দায়িত্ব পালনে সহায়তা দানের জন্য, প্রয়োজনবোধে, উহার যে কোন সদস্য, কর্মকর্তা বা অন্য কোন ব্যক্তি সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক কমিটি গঠন এবং এইরূপ কমিটির দায়িত্ব ও কার্যধারা নির্ধারণ করিতে পারিবে।
   
   
 
উপদেষ্টা কমিটি  
১০। কর্তৃপক্ষকে পরামর্শ প্রদানের জন্য সরকার, প্রয়োজনবোধে, কর্তৃপক্ষের সহিত পরামর্শক্রমে যত সংখ্যক ব্যক্তিকে উপযুক্ত মনে করিবেন তত সংখ্যক সদস্যের সমন্বয়ে একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠন করিতে পারিবে।
   
   
তৃতীয় অধ্যায়
কর্তৃপক্ষের কার্যাবলী ও ক্ষমতা
 
কর্তৃপক্ষের কার্যাবলী  
১১। কর্তৃপক্ষের কার্যাবলী হইবে নিম্নরূপ, যথা :-

(ক) বন্দর পরিচালনা, ব্যবস্থাপনা, উন্নয়ন, সম্প্রসারণ ও সংরক্ষণ;

(খ) বন্দর সংশ্লিষ্ট সকল ধরনের সেবা ও সুবিধাদি প্রদানের উদ্দেশ্যে প্রবেশ পথ (approach) চিহ্নিতকরণ, সংরক্ষণসহ যথাযথ ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ;

(গ) বন্দরের মধ্যে সকল ধরনের জাহাজ চলাচল, নোঙর করানো ও এতদ্‌সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কার্যাবলী নিয়ন্ত্রণ;

(ঘ) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, বন্দরের কার্যাবলী সম্পাদনের উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় অন্যান্য কার্য সম্পাদন।
   
   
 
কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা  
১২। (১) কর্তৃপক্ষ, এই আইনের বিধানাবলী সাপেক্ষে, উহার কার্যাবলী সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের নিমিত্ত প্রয়োজনীয় সকল ক্ষমতা প্রয়োগ করিতে পারিবে।

(২) উপ-ধারা (১) এ বর্ণিত ক্ষমতার সামগ্রিকতার আওতায় কর্তৃপক্ষ নিম্নবর্ণিত ক্ষমতা প্রয়োগ করিতে পারিবে, যথা :-

(ক) বন্দর সীমার মধ্যে ডক, মুরিং, পিয়ার এবং সেতুসহ প্রয়োজনীয় রাস্তা, রেলপথ, নালা, ছাদ, কালভার্ট, বেড়া, প্রবেশপথ নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং পরিচালনা;

(খ) বন্দরের পণ্য বোঝাই, খালাসীকরণ এবং মজুদের প্রয়োজনে যে কোন কার্য সম্পাদন;

(গ) বন্দর এলাকার মধ্যে যাত্রী, যানবাহন এবং পণ্য পরিবহনের উদ্দেশ্যে ফেরী সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং পরিচালনা;

(ঘ) জাহাজ হইতে পণ্য নামানো, জাহাজিকরণ বা অন্য কোন কারণে পণ্য পরিবহন, গ্রহণ, পরিচালনা এবং মজুদের উদ্দেশ্যে রেলওয়ে, ওয়্যারহাউজ, শেড, ইঞ্জিন, ক্রেন, স্কেল (scales) এবং অন্যান্য যন্ত্রপাতি নির্মাণ, সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং পরিচালনা;

(ঙ) নদীর তীর বা তলদেশ জলমগ্ন অবস্থা হইতে উদ্ধার (reclaim) , উত্তোলন, খনন, ঘেরাও বা বেড়া দেয়া;

(চ) জাহাজের বার্থিং ও পণ্য বোঝাই এবং খালাসীকরণের জন্য প্রয়োজনীয় স্থাপনা ও আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি তৈরী, সংগ্রহ, মেরামত এবং পরিচালনা;

(ছ) জাহাজ এবং উহাতে রক্ষিত জীবন ও সম্পদ রক্ষার্থে এবং জাহাজের নিরাপদ বার্থিং এবং ডুবন্ত জাহাজ বা সম্পদ উদ্ধারকল্পে উপযুক্ত জাহাজ (vessels), নির্মাণ, সংগ্রহ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং পরিচালনা;

(জ) জাহাজে জ্বালানী বা পানি সরবরাহ;

(ঝ) বন্দরের অগ্নি নিরাপত্তাসহ সামগ্রিক নিরাপত্তা গ্রহণ;

(ঞ) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, কর্তৃপক্ষ কর্তৃক কোন কিছু অর্জন, ভাড়া, ক্রয়, নির্মাণ, স্থাপন, তৈরী, পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ বা মেরামত;

(ট) বন্দর বা বন্দর সংলগ্ন এলাকার জোয়ার রেখার উচ্চ সীমার উপর বা নীচ যাহাই হউক, ডক বা অন্য কোন স্থাপনা নির্মাণ এবং অন্যান্য কার্যাদি নিয়ন্ত্রণ;

(ঠ) বন্দরের ভূমি ব্যবহার সম্পর্কে প্রয়োজনীয় বিধি প্রণয়ন;

(ড) বন্দর বা সংলগ্ন এলাকার প্রতিবন্ধকতা, অবৈধ দখল ও কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ এবং অবৈধ নির্মাণাদি অপসারণ;

(ঢ) বন্দর সীমানার মধ্যে Customs Act, 1969 (Act No. IV of 1969) এর অধীন লাইসেন্সপ্রাপ্ত এজেন্টদের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ;

(ণ) বন্দরের প্রয়োজনে উহার অবকাঠামো নির্মাণ, ব্যবস্থাপনা, পরিচালনা এবং রক্ষণাক্ষণের জন্য সরকারি বিধি-বিধান অনুসরণক্রমে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ঠিকাদার হিসাবে নিয়োগ প্রদান;

(ত) সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে বন্দর ব্যবহারকারীদের নিকট হইতে আদায়যোগ্য কর, টোল, রেইট ও ফিসের তফসিল প্রণয়ন;

(থ) কর্তৃপক্ষের বার্ষিক বাজেট প্রস্তুতকরণ;

(দ) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, যে কোন ধরনের চুক্তি, বণ্ড বা অনুরূপ আইনগত দলিলাদি সম্পাদন;

(ধ) বন্দর সীমানায় চ্যানেলের নাব্যতা রক্ষার্থে ও রক্ষণাবেক্ষণের উদ্দেশ্যে প্রয়োজন অনুযায়ী নদী খনন, বালি, মাটি, পাথর উত্তোলন এবং নদী সংরক্ষণের জন্য ট্রেনিং ওয়ালসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় স্থাপনা নির্মাণ, ড্রেজার ও যন্ত্রপাতি সংগ্রহ, রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনা;

(ন) নদীর গতিপথ ও নাব্যতা রক্ষার্থে জরীপ, গবেষণা, পরিবীক্ষণ এবং কারিগরি গবেষণা অথবা কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনে অন্য কোন সংস্থা দ্বারা কারণ অন্বেষণ, পরিবীক্ষণ বা কারিগরি গবেষণায় সহযোগিতা গ্রহণ;

(প) চ্যানেল খনন, ঢেউ প্রতিরোধক নির্মাণ, টার্মিনালের জন্য স্থান ও স্থাপনা নির্মাণ এবং বন্দর রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় কর্মকাণ্ড সম্পাদন;

(ফ) বন্দর সংশ্লিষ্ট কোন কাজের জন্য যে কোন স্থানীয়, বিদেশী বা সরকারি সংস্থার নিকট হইতে পরামর্শ ও সহযোগিতা গ্রহণ;

(ব) বন্দর উন্নয়ন ও পরিচালনার জন্য কোন প্রতিষ্ঠিত দেশী বা বিদেশী অভিজ্ঞতা সম্পন্ন বন্দর কর্তৃপক্ষ বা সংস্থার সাথে সমঝোতা স্মারক বা অনুরূপ আইনগত দলিলাদি স্বাক্ষর;

(ভ) রক্ষণাবেক্ষণের উদ্দেশ্যে প্রয়োজন মনে করিলে বন্দর স্থাপনা এবং উহার সংযোগকারী কোন রাস্তা বা উহার অংশ বিশেষের ব্যবহার নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নিষিদ্ধকরণ;

(ম) এই আইনের উদ্দেশ্যে পূরণকল্পে, বন্দর সংক্রান্ত সরকারের সকল সিদ্ধান্ত এবং নির্দেশনা বাস্তবায়ন; এবং

(য) বন্দরের কার্যক্রম সচল রাখার স্বার্থে প্রয়োজনীয় অন্যান্য কার্যক্রম সম্পাদন।
   
   
 
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, ইত্যাদির সহযোগিতা গ্রহণ  
১৩।এই আইনের অধীন পায়রা বন্দর প্রতিষ্ঠাকল্পে কারিগরি, আর্থিক বা অন্য কোন সহায়তা গ্রহণের প্রয়োজনে কর্তৃপক্ষ, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, Chittagong Port Authority Ordinance, 1976 (Ord. No. LII of 1976) এর অধীন প্রতিষ্ঠিত চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ বা এতদ্‌সংশ্লিষ্ট অন্য কোন কর্তৃপক্ষের সহায়তা গ্রহণ করিতে পারিবে।
   
   
 
সংরক্ষিত বন্দর এলাকা ঘোষণা  
১৪। কর্তৃপক্ষ, সাধারণ বা বিশেষ আদেশ দ্বারা, বন্দরের সুষ্ঠু পরিচালনার স্বার্থে এবং সর্বসাধারণের প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে, বন্দরের বিভিন্ন স্থান ও স্থাপনাকে সংরক্ষিত বন্দর এলাকা হিসাবে ঘোষণা করিতে পারিবে।
   
   
 
কর্তৃপক্ষের পণ্যের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ  
১৫। (১) কর্তৃপক্ষের কী, হুয়ারফ (wharf) ও পিয়ার এ পণ্য তাৎক্ষণিক অবতরণের পর পণ্য বিনষ্ট হওয়া হইতে রক্ষাকল্পে কর্তৃপক্ষ উহার গুদাম, শেড বা অন্য কোন স্থানে উক্ত পণ্য যত্ন সহকারে সংরক্ষণ করিবে।

(২) এই আইনের বিধানাবলী সাপেক্ষে কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণাধীন পন্যের ক্ষতি, ধ্বংস ও বিনষ্টের জন্য কর্তৃপক্ষ এইরূপ দায়ী থাকিবে যেরূপ Contract Act, 1872 (ACT No. IX of 1872) এর sections 151, 152, 161 এবং 164 এর অধীন একজন বেইলী (Bailee) দায়ী থাকেন:

তবে শর্ত থাকে যে, কর্তৃপক্ষ কর্তৃক কোন পণ্যের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণের তারিখ হইতে ১০ (দশ) দিন অতিক্রান্ত হইবার পর এই উপ-ধারার অধীন কর্তৃপক্ষকে দায়ী করা যাইবে না।
ব্যাখ্যা - এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে ‘‘হুয়ারফ’’ অর্থে সমুদ্র বা নদীর তীর যাহা পণ্য উঠা-নামা সহজতর করার জন্য উন্নয়ন করা হইয়াছে বা পণ্য উঠা-নামার জন্য ব্যবহৃত সমুদ্র বা নদীর তীর এবং তদ্‌সংলগ্ন দেয়ালকে বুঝাইবে।
   
   
 
শুল্ক কর্মকর্তাদের কাজের জন্য প্রয়োজনীয় স্থান সংরক্ষণ  
১৬। কোন আইনের অধীন শুল্ক ও তদ্‌সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনা ও তদারকির উদ্দেশ্যে এবং শুল্ক কর্মকর্তাদের কাজের সুবিধার্থে কর্তৃপক্ষের মালিকানাধীন জেটি, ডক, মুরিং, পিয়ার, শেডে তাহাদের জন্য প্রয়োজনীয় স্থান সংরক্ষণ করিতে হইবে এবং কর্তৃপক্ষকে উক্ত স্থান ব্যবহারজনিত মাশুল পরিশোধ করিতে হইবে।
   
   
 
কর্তৃপক্ষের পাইলট সার্ভিস প্রদানের ক্ষমতা, ইত্যাদি  
১৭। (১) কর্তৃপক্ষ বন্দরে জাহাজ আগমণ বা নির্গমণের জন্য Port Act, 1908 (Act, No. XV of 1908) এর বিধান অনুসারে পর্যাপ্ত সংখ্যক যোগ্যতাসম্পন্ন পাইলট নিয়োগ করিবে।

(২) কর্তৃপক্ষকে উপ-ধারা (১) এর অধীন পাইলট সার্ভিস প্রদানের জন্য উহার ব্যবহারকারীকে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত হারে চার্জ প্রদান করিতে হইবে।
   
   
 
বেসরকারি ডক নির্মাণ, ইত্যাদির অনুমোদনের ক্ষমতা  
১৮। কর্তৃপক্ষ, তদ্‌কর্তৃক নির্দিষ্টকৃত শর্তে, বন্দর সীমানার জোয়ার রেখার উচ্চ সীমার নীচে কোন ডক, পিয়ার, নোঙর স্থান বা অন্য কোন স্থাপনা নির্মাণের জন্য কোন ব্যক্তিকে অনুমতি প্রদান করিতে পারিবে।
   
   
 
নদী ব্যবহার কর আরোপের ক্ষমতা  
১৯। কর্তৃপক্ষ, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে এবং সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বন্দর সীমানায় আগত সমুদ্রগামী জাহাজ হইতে অবতরণ বা বোঝাইকৃত, বন্দরের কোন জেটি, ঘাট, গুদাম, নোঙরস্থান, ডক বা অবতরণস্থানে অবতরণ, বোঝাই হউক বা না হউক, পণ্যের উপর নদী ব্যবহার কর (river-dues) আরোপ করিতে পারিবে।
   
   
 
কোম্পানী গঠন, ইত্যাদি  
২০। (১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, কর্তৃপক্ষ, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, নূতন কোম্পানী গঠন করিতে পারিবে।

(২) কর্তৃপক্ষ উপ-ধারা (১) এর অধীন গঠিত কোম্পানীর শেয়ারের অংশীদার হইতে পারিবে এবং কোন ব্যক্তিকে উক্ত শেয়ারের অংশীদার হইবার অনুমতি প্রদান করিতে পারিবে।
   
   
 
অপারেটর নিয়োগ  
২১। (১) কর্তৃপক্ষ বন্দরে পণ্য গ্রহণ, সংরক্ষণ ও সরবরাহের জন্য, প্রয়োজন মনে করিলে, উহার সম্পূর্ণ বা অংশবিশেষ, নির্ধারিত পদ্ধতি ও শর্তে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে অপারেটর হিসাবে নিয়োগ করিতে পারিবে।

(২) অপারেটরের দায়িত্বাধীন পণ্যের ক্ষেত্রে ধারা ১৫(২) এর বিধান, প্রয়োজনীয় সংশোধন সাপেক্ষে, প্রযোজ্য হইবে।
   
   
 
খনন এবং ভরাট নিষিদ্ধকরণ  
২২। কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন ব্যতিরেকে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বন্দর সীমানা হইতে ৫০ (পঞ্চাশ) মিটারের মধ্যে এবং বন্দর কর্তৃক সময়ে সময়ে নির্দিষ্টকৃত এলাকায় কোনরূপ স্থাপনা নির্মাণ, অপসারণ, মাটি খনন বা ভরাট করিতে পারিবে না।
   
   
 
ডক, মুরিং, এ্যাংকরেজ, ইত্যাদি হইতে জাহাজ স্থানান্তর  
২৩। (১) কর্তৃপক্ষ লিখিত নোটিশ দ্বারা উহার আওতাধীন ডক, মুরিং, এ্যাংকরেজ অথবা অন্য কোন স্থান হইতে জাহাজ নোটিশে উল্লিখিত সময়ের মধ্যে অপসারণ করিবার জন্য ইহার স্বত্বাধিকারী, মাষ্টার বা এজেন্টকে নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রদত্ত নোটিশে উল্লিখিত সময়ের মধ্যে যদি উহার মালিক, মাষ্টার বা এজেন্ট উক্ত জাহাজ অপসারণ করিতে ব্যর্থ হন তাহা হইলে কর্তৃপক্ষ বিধি দ্বারা নির্ধারিত হারে মাশুল আরোপ করিতে পারিবে যাহা উক্ত জাহাজ স্বত্বাধিকারী, মাষ্টার বা এজেন্ট প্রদানে বাধ্য থাকিবে।

(৩) যদি কোন জাহাজের স্বত্বাধিকারী, মাষ্টার বা এজেন্ট উপ-ধারা (১) এর অধীন নির্দেশের প্রেক্ষিতে জাহাজ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অপসারণ করিতে ব্যর্থ হন তাহা হইলে কর্তৃপক্ষ উক্ত জাহাজ তদ্‌কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতিতে অপসারণ করিতে পারিবে এবং উক্তরূপে কোন জাহাজ অপসারণ করা হইলে উহা অপসারণ বাবদ যে অর্থ ব্যয়িত হইবে উক্ত ব্যয়িত অর্থের দ্বিগুণ অর্থ সংশ্লিষ্ট জাহাজের মালিক, মাষ্টার বা এজেন্ট হইতে আদায়যোগ্য হইবে।
   
   
চতুর্থ অধ্যায়
ট্যারিফ, ইজারা, ইত্যাদি
 
কর, মাশুল ইত্যাদির তফসিল  
২৪। (১) কর্তৃপক্ষ, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে ও সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বন্দর ব্যবহারকারীগণের নিকট হইতে আদায়যোগ্য কর, টোল, রেইট, ফিস বা মাশুলের তফসিল প্রণয়ন করিবে।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন ক্ষমতা প্রয়োগের সামগ্রিকতা ক্ষুণ্ণ না করিয়া, বিশেষতঃ, নিম্নবর্ণিত সকল বা যে কোন বিষয়ে কর, টোল, রেইট, ফিস বা মাশুলের তফসিল প্রণয়ন করিতে পারিবে, যথা :-

(ক) সমুদ্রগামী বা সমুদ্রগামী নহে এইরূপ জাহাজ হইতে কোন পণ্য কর্তৃপক্ষ বা কর্তৃপক্ষের অনুমতিক্রমে অন্য কোন প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা কর্তৃক নির্মিত ডক, জেটি ও নোঙর স্থানে অবতরণ বা উক্ত স্থান হইতে জাহাজ বোঝাইকরণ;

(খ) দফা (ক) তে উল্লিখিত জাহাজ কর্তৃক উক্ত ডক, জেটি বা নোঙরস্থান ব্যবহার;

(গ) কর্তৃপক্ষের আওতাভুক্ত কোন স্থান বা প্রাঙ্গনে পণ্য সংরক্ষণ বা গুদামজাতকরণ;

(ঘ) পণ্য অপসারণ;

(ঙ) কর্তৃপক্ষ বা উহার কর্মকর্তা ও কর্মচারী কর্তৃক কোন জাহাজ বা পণ্যের জন্য প্রদত্ত সেবা;

(চ) কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত কোন পূর্ত কাজ, যন্ত্র বা সরঞ্জামাদির ব্যবহার;

(ছ) কর্তৃপক্ষের মালিকানাধীন বা ভাড়াকৃত জাহাজের মাধ্যমে পরিবাহিত যাত্রী এবং তাহাদের ব্যক্তিগত দ্রব্যাদি পরিবহণ;

(জ) জাহাজকে ঘুরানো বা টানিয়া নেওয়া (towing) এবং বন্দর সীমানা বা বন্দর সীমানার বাহিরে জীবন বা সম্পদ রক্ষা করিবার উদ্দেশ্যে কোন নৌ-যান, টাগ, নৌকা বা যন্ত্রপাতি ব্যবহারের মাধ্যমে সহায়তা প্রদান।
   
   
 
মাশুল, ইত্যাদি মওকুফ  
২৫। কর্তৃপক্ষ, বিশেষ ক্ষেত্রে, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, ধারা ২৪ এর অধীন প্রণীত তফসিল অনুযায়ী আদায়যোগ্য কর, টোল, রেইট, ফিস ও মাশুল সম্পূর্ণ বা আংশিক মওকুফ করিতে পারিবে।
   
   
 
ফি, কর, টোল, রেইট, মাশুল, বকেয়া, ইত্যাদি আদায়  
২৬। এই আইনের অধীন অনাদায়ী ফি, কর, টোল, রেইট, মাশুল, বকেয়া Public Demands Recovery Act, 1913 (Act No. III of 1913) এর অধীন সরকারি দাবি হিসাবে আদায়যোগ্য হইবে।
   
   
 
অভ্যন্তরীণ নৌ-যানসমূহের তালিকাভুক্তি  
২৭। (১) বন্দর সীমানায় চলাচলকারী সকল অভ্যন্তরীণ নৌ-যানসমূহকে কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্ধারিত হারে ফি এবং অন্যান্য মাশুল প্রদান সাপেক্ষে, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, কর্তৃপক্ষ কর্তৃক তালিকাভুক্ত করিতে হইবে।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন তালিকাভুক্ত সকল অভ্যন্তরীণ নৌ-যানের মাষ্টারকে বন্দরে প্রবেশ অথবা বন্দর ত্যাগ করার প্রাক্কালে কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্ধারিত স্থানে রিপোর্ট করিতে হইবে।

(৩) উপ-ধারা (২) এ প্রদত্ত রিপোর্টে কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত ছকে নৌ-যানে পরিবাহিত পণ্যের প্রকৃতি ও পণ্যের মূল্য সম্পর্কে ঘোষণা প্রদান করিতে হইবে।
   
   
 
টোল, ইত্যাদির ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের পূর্বস্বত্ব  
২৮।(১) এই আইনের অধীনে কোন পণ্যের উপর ধার্যকৃত কর, টোল, রেইট, ফিস, মাশুল ও অন্যান্য পাওনাদি সম্পূর্ণরূপে পরিশোধিত না হওয়া পর্যন্ত উক্ত পণ্যের উপর কর্তৃপক্ষের পূর্বস্বত্ব থাকিবে এবং উক্তরূপ পাওনাদি সম্পূর্ণরূপে পরিশোধিত না হইলে কর্তৃপক্ষ উক্ত পণ্য জব্দ বা আটক রাখিতে পারিবে।

(২) কর্তৃপক্ষের মালিকানাধীন দালান, গুদাম, কোন ভূমি বা পণ্য মজুদের স্থানসহ অন্যান্য স্থান ব্যবহারজনিত কারণে কর্তৃপক্ষের পাওনা যথাযথভাবে দাবী করা সত্ত্বেও পরিশোধিত না হইলে উক্ত পাওনা আদায়ের জন্য উক্ত দালান, গুদাম, কোন ভূমি বা পণ্য মজুদের স্থানে রক্ষিত পণ্যের উপর কর্তৃপক্ষের পূর্বস্বত্ব বজায় থাকিবে এবং উক্ত পাওনা পরিশোধিত না হওয়া পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ উক্ত পণ্য জব্দ বা আটক রাখিতে পারিবে।

(৩) জাহাজ হইতে কোন পণ্য অবতরণের পর অনতিবিলম্বে উক্ত পণ্যের উপর প্রযোজ্য কর, টোল, রেইটস, ফি, মাশুলসহ যাবতীয় পাওনা পরিশোধযোগ্য হইবে এবং বন্দর সংরক্ষিত এলাকা হইতে কোন পণ্য অপসারণ কিংবা রপ্তানীযোগ্য পণ্য জাহাজীকরণের পূর্বেই যাবতীয় পাওনাদি পরিশোধযোগ্য হইবে।

(৪) জাহাজের ভাড়া, প্রাইমেজ কিংবা জেনারেল এভারেজ (General Average) অথবা সরকারি অন্য কোন পাওনা ব্যতীত কর্তৃপক্ষের কর, টোল, রেইটস, ফি, মাশুল সংক্রান্ত সকল পূর্বস্বত্ব ও দাবী অন্য যে কোন পূর্বস্বত্ব ও দাবী অপেক্ষা অগ্রাধিকার পাইবে।
   
   
 
ফ্রেইট বিষয়ে জাহাজের স্বত্বাধিকারীর পূর্বস্বত্ব  
২৯। কোন জাহাজের স্বত্বাধিকারী বা মাস্টার জাহাজ হইতে বন্দরের ডক বা পিয়ারে পণ্য নামানোর সময় বা পূর্বে এই মর্মে কর্তৃপক্ষকে যদি নোটিশ প্রদান করেন যে উক্ত পণ্যের ভাড়া, প্রাইমেজ বা জেনারেল এভারেজ বাবদ অর্থ অনাদায়ী রহিয়াছে তাহা হইলে উক্ত পণ্যের উপর জাহাজের স্বত্বাধিকারী বা মাস্টারের পূর্বস্বত্ব বজায় থাকিবে এবং উক্ত দাবী পণ্যের মালিক কর্তৃক পরিশোধিত হইবার পর উক্ত পূর্বস্বত্ব অবসায়িত (discharge) হইবে।
   
   
 
পণ্য বিক্রয়ের মাধ্যমে অনাদায়ী টোল আদায়  
৩০। কর্তৃপক্ষের কোন পাওনাদি অনাদায়ী থাকিলে এবং জাহাজ হইতে পণ্য অবতরণের ২ (দুই) মাসের মধ্যে বন্দরের এবং জাহাজের স্বত্বাধিকারীর পাওনা পরিশোধিত না হইলে উক্ত ২ (দুই) মাস সময় অতিক্রান্ত হইবার পর ১৫ (পনের) দিনের লিখিত নোটিশ প্রদানপূর্বক পণ্য নিলামে বিক্রির মাধ্যমে বন্দরের এবং জাহাজের স্বত্বাধিকারীর পাওনা আদায় করা যাইবে :

তবে শর্ত থাকে যে, পচনশীল ধরনের পণ্যের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন মনে করিলে, পণ্য অবতরণের ২৪ (চবিবশ) ঘন্টা অতিক্রান্ত হইবার পর যত দ্রুত সম্ভব উক্ত পণ্য সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে প্রকাশ্য নিলামের মাধ্যমে বিক্রয় করিতে পারিবে এবং এই ক্ষেত্রে কনসাইনি বা তাহার প্রতিনিধিকে জরুরি প্রয়োজন বিবেচনায় নোটিশ জারীর ব্যবস্থা করিতে হইবে।
   
   
 
জাহাজ ত্যাগে বিধি-নিষেধ  
৩১। (১) বন্দরে আগমনকারী কোন জাহাজ এই আইনের অধীন আদায়যোগ্য কোন টোল, রেইট, বকেয়া বা অন্য সকল পাওনাদি পরিশোধ না করিলে অথবা পরিশোধ করিতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করিলে, কর্তৃপক্ষ উক্ত টোল, রেইট বা চার্জ পরিশোধিত না হওয়া পর্যন্ত উক্ত জাহাজ আটক করিতে অথবা বন্দর ত্যাগের উপর বিধি-নিষেধ আরোপ করিতে পারিবে।

(২) উপ-ধারা (১) এর বিধান অনুসারে জাহাজ আটক অথবা বিধি-নিষেধ আরোপের ২ (দুই) মাসের মধ্যে জাহাজ মালিক পাওনাদি পরিশোধ না করিলে অথবা জাহাজ আটকের ক্ষেত্রে সকল ব্যয় পরিশোধ না করিলে কর্তৃপক্ষ উক্ত আটককৃত জাহাজ বা উক্ত জাহাজে রক্ষিত পণ্য প্রকাশ্য নিলামের মাধ্যমে বিক্রয় করিতে পারিবে।

(৩) কর্তৃপক্ষ উপ-ধারা (২) অনুসারে বিক্রয়লব্ধ অর্থ হইতে প্রাপ্য অর্থ সমন্বয় করিয়া অবশিষ্ট অর্থ, যদি থাকে, মালিক বা উহার প্রতিনিধিকে ফেরৎ প্রদান করিবে।
   
   
 
বন্দরের স্থাপনা ও সম্পত্তি ইজারা প্রদান  
৩২। কর্তৃপক্ষ উপযুক্ত মনে করিলে বন্দরের কোন স্থাপনা বা সম্পত্তির ব্যবস্থাপনা, পরিচালনা এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নিকট বিধি দ্বারা নির্ধারিত মেয়াদ, শর্ত ও পদ্ধতিতে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নিকট ইজারা প্রদান করিতে পারিবে।
   
   
 
বন্দর ছাড়পত্র, ইত্যাদি  
৩৩। কর্তৃপক্ষ যদি বন্দর ছাড়পত্র প্রদানের ক্ষমতাসম্পন্ন কোন সরকারি কর্মকর্তাকে এই মর্মে নোটিশ প্রদান করে যে, কোন জাহাজ বা জাহাজে রক্ষিত পণ্যের উপর এইরূপ ও তদধীন প্রণীত বিধির উপর আদায়যোগ্য পাওনা বা জরিমানা অনাদায়ী রহিয়াছে, তাহা হইলে তিনি উক্ত পাওনা বা জরিমানা পরিশোধিত না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট জাহাজকে বন্দর ছাড়পত্র ইস্যু করিবেন না।
   
   
 
অদাবীকৃত পণ্য, ইত্যাদি অপসারণ  
৩৪। (১) কোন পণ্যের স্বত্বাধিকারী পণ্যের দাবী পেশ বা খালাসের জন্য বন্দরে উপস্থিত হইতে ব্যর্থ হইলে বা পণ্যের জন্য আদায়যোগ্য ফি, কর টোল, রেইট ও মাশুল পরিশোধ করিবার পর বন্দর হইতে পণ্য খালাস না করিলে যেদিন উক্ত পণ্য কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে আসিবে উক্ত দিন হইতে ৩০(ত্রিশ) দিন অতিবাহিত হইবার পর সরাইয়া লইবার জন্য পণ্যের স্বত্বাধিকারীকে নোটিশ প্রদান করিবে।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রদত্ত নোটিশ নির্ধারিত পদ্ধতিতে জারী করিবার ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে হইবে।

(৩) যেইক্ষেত্রে মালিকানা অজ্ঞাত বা মালিক বরাবর নোটিশ জারী করা সম্ভব হয় নাই বা নোটিশ প্রাপ্তির পর তিনি উহা তামিল করেন নাই সেইক্ষেত্রে উক্ত পণ্য কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ৪৫ (পঁয়তাল্লিশ) দিন অতিবাহিত হইবার পর কর্তৃপক্ষ উহা প্রকাশ্য নিলামের মাধ্যমে বিক্রয় করিতে পারিবে।

(৪) সরকার, সরকারি গেজেট প্রজ্ঞাপন দ্বারা, যে কোন পণ্য বা যে কোন শ্রেণীর পণ্যকে এই ধারার প্রয়োগ হইতে অব্যাহতি প্রদান করিতে পারিবে।
   
   
 
নিলামের মাধ্যমে মাশুল, ইত্যাদি আদায়  
৩৫। (১) এই আইনের অন্যান্য ধারায় যাহা কিছুই থাকুক না কেন এই আইন বা তদধীন প্রণীত বিধি অনুযায়ী কর্তৃপক্ষের কর, টোল, রেইট, মাশুল, ক্ষতিপূরণ অনাদায়ী থাকিলে কর্তৃপক্ষ উহার নিয়ন্ত্রণাধীন পণ্য নিলামের মাধ্যমে বিক্রয় করিয়া অর্থ আদায় করিতে পারিবে।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন আদায়কৃত অর্থ অপর্যাপ্ত হইলে কর্তৃপক্ষ ধারা ২৬ এ বর্ণিত পদ্ধতি অনুসরণে অবশিষ্ট পাওনা আদায় করিতে পারিবে।
   
   
পঞ্চম অধ্যায়
তহবিল, হিসাবরক্ষণ, ইত্যাদি
 
কর্তৃপক্ষের তহবিল, ইত্যাদি  
৩৬। (১) কর্তৃপক্ষের একটি তহবিল থাকিবে এবং উহাতে নিম্নবর্ণিত অর্থ জমা হইবে, যথা:-

(ক) সরকার কর্তৃক প্রদত্ত অনুদান;

(খ) সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, কোন বিদেশী সরকার, সংস্থা বা আন্তর্জাতিক সংস্থা বা ব্যক্তি কর্তৃক প্রদত্ত অনুদান;

(গ) সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, কর্তৃপক্ষ কর্তৃক গৃহীত ঋণ;

(ঘ) স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, প্রতিষ্ঠান, কোম্পানী বা ব্যক্তি কর্তৃক প্রদত্ত অনুদান;

(ঙ) কর্তৃপক্ষের সম্পত্তি বিক্রয়লব্ধ অর্থ;

(চ) কর্তৃপক্ষের অর্জিত বন্দর ব্যবহার সংক্রান্ত কর, টোল, রেইট, মাশুল, বকেয়া ও ফি;

(ছ) কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত সেবা বাবদ প্রাপ্ত অর্থ;

(জ) সরকার কর্তৃক অনুমোদিত কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তিমূলে অংশীদারীত্বের ভিত্তিতে বিনিয়োগকৃত পুঁজি; এবং

(ঝ) অন্য কোন উৎস হইতে প্রাপ্ত অর্থ।

(২) তহবিলের অর্থ বোর্ডের অনুমোদনক্রমে কোন তফসিলি ব্যাংকে জমা রাখিতে হইবে।

(৩) বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে উক্ত তহবিল পরিচালনা করা হইবে।

(৪) প্রতি অর্থ বৎসর শেষে কর্তৃপক্ষ উহার তহবিলের উদ্ধৃত্ত অর্থ এতদুদ্দেশ্যে সরকারের নির্দেশনা,যদি থাকে, সাপেক্ষে সরকারি তহবিলে জমা প্রদান করিবে।
   
   
 
তহবিল ব্যবহার  
৩৭। (১) বন্দরের উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত যাবতীয় ব্যয় তহবিল হইতে নির্বাহ করা যাইবে।

(২) কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও আনুষঙ্গিক অন্যান্য ব্যয় তহবিল হইতে পরিশোধ করা যাইবে।

(৩) তহবিলের অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সরকার কর্তৃক প্রণীত বিধি-বিধান ও নির্দেশনা অনুসরণ করিতে হইবে।
   
   
 
ঋণ গ্রহণের ক্ষমতা  
৩৮। (১) কর্তৃপক্ষ, প্রয়োজনবোধে, সরকারের লিখিত পূর্বানুমতি গ্রহণপূর্বক কোন ব্যাংক বা কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা কোন সরকারি প্রতিষ্ঠান হইতে ঋণ গ্রহণ করিতে পারিবে।

(২) কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সরকারের নিকট হইতে অথবা সরকারের জামিনদারিত্বে কোন ঋণ গ্রহণ করা হইলে, উক্ত ঋণের শর্তাবলী সরকার কর্তৃক নির্ধারিত হইবে।
   
   
 
বাজেট বিবরণী  
৩৯। কর্তৃপক্ষ প্রতি বৎসর সরকার কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরবর্তী অর্থ বৎসরের বার্ষিক বাজেট বিবরণী অনুমোদনের জন্য সরকারের নিকট পেশ করিবে এবং উহাতে উক্ত অর্থ বৎসরের সরকারের নিকট হইতে কর্তৃপক্ষের কি পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হইবে উহার উল্লেখ থাকিবে।
   
   
 
হিসাবরক্ষণ ও নিরীক্ষা  
৪০। (১) কর্তৃপক্ষ উহার আয়-ব্যয়ের যথাযথ হিসাব রক্ষণ করিবে এবং হিসাবের বার্ষিক বিবরণী প্রস্ত্তত করিবে।

(২) বাংলাদেশের মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, অতঃপর মহাহিসাব নিরীক্ষক নামে অভিহিত, প্রতি বৎসর কর্তৃপক্ষের হিসাব নিরীক্ষা করিবেন এবং নিরীক্ষা রিপোর্টের একটি করিয়া অনুলিপি সরকার ও কর্তৃপক্ষের নিকট পেশ করিবেন।

(৩) কর্তৃপক্ষের হিসাব Bangladesh Chartered Accountants Order, 1973 (Order No. 2 0f 1973) অনুযায়ী সরকার কর্তৃক নিয়োগকৃত ২ (দুই) টি নিবন্ধিত চার্টার্ড একাউট্যান্টস ফার্ম দ্বারা প্রতি বৎসর নিরীক্ষা কার্য সম্পন্ন করিতে হইবে এবং উক্ত নিরীক্ষা মতামতসহ হিসাব প্রতিবেদন সরকার ও কর্তৃপক্ষের নিকট দাখিল করিতে হইবে।

(৪) উপ-ধারা (২) অনুযায়ী হিসাব নিরীক্ষার উদ্দেশ্যে মহাহিসাব নিরীক্ষক কিংবা তাহার নিকট হইতে এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি কর্তৃপক্ষের সকল রেকর্ড, দলিল-দস্তাবেজ, নগদ বা ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, জামানত, ভাণ্ডার এবং অন্যবিধ সম্পত্তি পরীক্ষা করিয়া দেখিতে পারিবেন এবং কর্তৃপক্ষের কোন সদস্য, কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করিতে পারিবেন।

(৫) প্রত্যেক অর্থ বৎসর শেষ হইবার অব্যবহিত পর কর্তৃপক্ষ উক্ত অর্থ বৎসরের সম্পাদিত কার্যাবলীর বিবরণ সম্বলিত একটি বার্ষিক প্রতিবেদন সরকারের নিকট পেশ করিবে।

(৬) সরকার প্রয়োজনে কর্তৃপক্ষের নিকট হইতে যে কোন সময়ে উহার যে কোন কাজের প্রতিবেদন বা বিবরণী আহবান করিতে পারিবে এবং কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উহা সরকারের নিকট প্রেরণ করিতে বাধ্য থাকিবে।
   
   
ষষ্ঠ অধ্যায়
অপরাধ, দণ্ড, ইত্যাদি
 
দণ্ড  
৪১। কোন ব্যক্তি যদি এই আইন, বিধি বা প্রবিধানের কোন বিধান লঙ্ঘন করেন তাহা হইলে উক্ত লঙ্ঘন হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অনূর্ধ্ব ৬ (ছয়) মাস কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব ৫০,০০০ (পঞ্চাশ হাজার) টাকা অর্থ দণ্ডে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।
   
   
 
দূষণের জন্য শাস্তি  
৪২। কোন ব্যক্তি যদি বন্দর সীমানার মধ্যে পানিতে, সৈকতে, তীরে অথবা ভূমিতে কোন বর্জ্য, ছাই, অথবা অন্য কিছু নিক্ষেপ করে অথবা নিক্ষেপ করিবার অনুমতি প্রদান করে যাহার ফলে পানি এবং পরিবেশ দূষিত হয়, তাহা হইলে তাহার এই কাজ হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ১,০০,০০০ (এক লক্ষ) টাকা পর্যন্ত অর্থ দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।
   
   
 
সম্পদের ক্ষতিপূরণ আদায়  
৪৩। অবহেলাজনিত কারণে কোন জাহাজ দ্বারা কোন ডক, পিয়ার, অথবা কোন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হইলে উক্ত জাহাজের স্বত্বাধিকারী, মাস্টার বা এজেন্টের নিকট হইতে ক্ষতির পরিমাণ অনুসারে ক্ষতিপূরণ আদায় করা যাইবে।
   
   
 
কোম্পানী কর্তৃক অপরাধ সংঘটন  
৪৪। (১) কোন কোম্পানী কর্তৃক এই আইনের অধীন কোন অপরাধ সংঘটিত হইলে উক্ত অপরাধের সহিত প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতা রহিয়াছে কোম্পানীর এইরূপ প্রত্যেক পরিচালক, ম্যানেজার, সচিব, অংশীদার, কর্মকর্তা এবং কর্মচারী উক্ত অপরাধ সংঘটন করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন, যদি না তিনি প্রমাণ করিতে পারেন যে, উক্ত অপরাধ তাহার অজ্ঞাতসারে সংঘটিত হইয়াছে অথবা উক্ত অপরাধ রোধ করিবার জন্য তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করিয়াছেন।

ব্যাখ্যা - এই ধারায় -

(ক) ‘‘কোম্পানী’’ অর্থে কোন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, অংশীদারী কারবার, সমিতি, সংঘ এবং সংগঠনও অন্তর্ভুক্ত হইবে;

(খ) বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ‘‘পরিচালক’’ অর্থে উহার কোন অংশীদার বা পরিচালনা বোর্ডের সদস্যও অন্তর্ভুক্ত হইবে।

(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত কোম্পানী আইনগত ব্যক্তি স্বত্ত্বা বিশিষ্ট (Body Corporate) হইলে, উক্ত উপ-ধারায় উল্লিখিত ব্যক্তিকে অভিযুক্ত ও দোষী সাব্যস্ত করা ছাড়াও উক্ত কোম্পানীকে আলাদাভাবে একই কার্যধারায় অভিযুক্ত ও দোষী সাব্যস্ত করা যাইবে, তবে ফৌজদারী মামলায় উহার উপর সংশ্লিষ্ট বিধান অনুসারে শুধু অর্থদণ্ড আরোপ করা যাইবে।
   
   
 
Code of Criminal Procedure, 1898 (Act No. V of 1898) এর প্রয়োগ  
৪৫।এই আইনের বিধানাবলীর সহিত অসঙ্গতীপূর্ণ না হওয়া সাপেক্ষে, এই আইনের অধীন অপরাধের তদন্ত, বিচার, আপীল এবং অন্যান্য বিষয়ে Code of Criminal Procedure, 1898 (Act No. V of 1898) এর বিধানাবলী প্রযোজ্য হইবে।
   
   
সপ্তম অধ্যায়
কর্মকর্তা, কর্মচারী নিয়োগ, ইত্যাদি
 
কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ, ইত্যাদি  
৪৬। (১) কর্তৃপক্ষ উহার কার্যাবলী সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারিবে:

তবে শর্ত থাকে যে, সরকারের পূর্বানুমোদন ব্যতিরেকে কর্তৃপক্ষ কোন কর্মকর্তা ও কর্মচারীর পদ সৃষ্টি করিতে পারিবে না।

(২) কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়োগ পদ্ধতি ও চাকুরীর শর্তাবলী প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
   
   
 
প্রেষণে নিয়োগ, ইত্যাদি  
৪৭। (১) সরকার, জনস্বার্থে, কর্তৃপক্ষের কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে নিম্নবর্ণিত যে কোন সংস্থায় এবং উক্ত সংস্থাসমূহের কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে কর্তৃপক্ষে প্রেষণে নিয়োগ করিতে পারিবে, যথা :-

(ক) মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ (Mongla Port Authority);
(খ) চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (Chittagong Port Authority);
(গ) বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (Bangladesh Inland Water Transport Authority) ; এবং
(ঘ) বাংলাদেশ স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষ (Bangladesh Land Port Authority)।
(২) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, বন্দর সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো প্রতিষ্ঠা বা নির্মাণের উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় বিবেচনা করিলে সরকার, তদ্‌কর্তৃক নির্ধারিত শর্তে, উহার নিয়ন্ত্রণাধীন কোন সংস্থা বা স্থানীয় অপরাপর কর্তৃপক্ষের কোন ব্যক্তির চাকুরি কর্তৃপক্ষের অধীনে ন্যস্ত করিতে পারিবে।
   
   
 
জনসেবক  
৪৮। কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এবং অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ Penal Code, 1860 (Act No. XLV of 1860) এর section 21 এ জনসেবক (Public Servant) কথাটি যে অর্থে ব্যবহৃত হইয়াছে সেই অর্থে জনসেবক হিসাবে গণ্য হইবে।
   
   
 
ক্ষমতা অর্পণ  
৪৯। কর্তৃপক্ষ, সাধারণ অথবা কোন বিশেষ আদেশ দ্বারা, উহার যে কোন ক্ষমতা বা দায়িত্ব সুনির্দিষ্ট শর্তে চেয়ারম্যান, অন্য কোন সদস্য বা উহার কোন কর্মকর্তাকে অর্পণ করিতে পারিবে।
   
   
অষ্টম অধ্যায়
বিবিধ
 
প্রবেশ, ইত্যাদির ক্ষমতা  
৫০। (১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে চেয়ারম্যান, সদস্য বা তদ্‌কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তা বন্দর ও তদ্‌সংশ্লিষ্ট এলাকার কোন স্থান, ঘড়বাড়ি বা অঙ্গনে প্রবেশ, পরিদর্শন, জরিপ ও অনুসন্ধান করিতে পারিবে।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন-

(ক) কোন স্থান, ঘরবাড়ি বা অঙ্গনে প্রবেশের পূর্বে উক্ত ভূমির মালিক বা তত্ত্বাবধায়ককে অন্যূন ২৪ (চব্বিশ) ঘন্টার নোটিশ প্রদান করিতে হইবে ; এবং

(খ) কোন স্থান, ঘরবাড়ি বা অঙ্গনে প্রবেশের সময়কাল অবশ্যই সূর্যোদয়ের পর হইতে সূর্যাস্তের পূর্ববর্তী সময়ের মধ্যে হইতে হইবে।
   
   
 
কর্তৃপক্ষের জন্য জমি হুকুমদখল বা অধিগ্রহণ  
৫১। (১) কর্তৃপক্ষের কার্যাবলী সম্পাদনের জন্য কোন ভূমি প্রয়োজন হইলে উহা জনস্বার্থে প্রয়োজন বলিয়া বিবেচিত হইবে এবং এতদুদ্দেশ্যে উহা Acquisition and Requisition of Immovable Property Ordinance, 1982 (Ordinance No. II of 1982) এর বিধান মোতাবেক হুকুমদখল বা অধিগ্রহণ করা যাইবে।

(২) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে কর্তৃপক্ষ অধিগ্রহণকৃত ভূমি ছাড়াও অন্য কোন ভূমি ক্রয়, লীজ, বিনিময় বা অন্য কোন উপায়ে অর্জন এবং নিষ্পত্তি করিতে পারিবে।
   
   
 
বার্ষিক প্রতিবেদন, ইত্যাদি  
৫২। (১) প্রতি অর্থ বৎসর শেষ হইবার পরবর্তী ৩ (তিন) মাসের মধ্যে কর্তৃপক্ষ তদ্‌কর্তৃক উক্ত অর্থ বৎসরে সম্পাদিত কার্যাবলীর বিবরণ এবং আয় ও ব্যয় সম্বলিত একটি বার্ষিক প্রতিবেদন সরকারের নিকট পেশ করিবে।

(২) সরকার, প্রয়োজনে কর্তৃপক্ষের নিকট হইতে উহার কার্যাবলী বা ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত কোন তথ্য, পরিসংখ্যান, হিসাব-নিকাশ, টেন্ডার ডকুমেন্ট, দলিল-দস্তাবেজ বা অন্য কিছু তলব করিতে পারিবে এবং কর্তৃপক্ষ উহা সরকারের নিকট প্রেরণ করিতে বাধ্য থাকিবে।
   
   
 
মামলা দায়েরের সীমাবদ্ধতা  
৫৩। (১) কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরে ইচ্ছুক ব্যক্তির নাম ঠিকানাসহ মামলা দায়েরের কারণ সংবলিত লিখিত নোটিশ কর্তৃপক্ষের নিকট দাখিলের ১(এক) মাস অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী, সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী অথবা অন্য কোন ব্যক্তি যিনি এই আইনের অধীন দায়িত্ব পালন ও কার্য সম্পাদন করিতেছেন তাহাদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা যাইবে না।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন কোন মামলা দায়ের করার অধিকার সৃষ্টির ৬ (ছয়) মাসের মধ্যে মামলা দায়ের করিতে হইবে।
   
   
 
বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা  
৫৪। এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।
   
   
 
প্রবিধান প্রণয়নের ক্ষমতা  
৫৫। কর্তৃপক্ষ, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে এবং সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইন ও বিধির সহিত অসঙ্গতিপূর্ণ নহে এইরূপ প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে।
   
   
 
ইংরেজিতে অনূদিত পাঠ প্রকাশ  
৫৬। (১) এই আইন কার্যকর হইবার পর সরকার, প্রয়োজনবোধে সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের ইংরেজিতে অনূদিত একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ (Authentic English Text) প্রকাশ করিতে পারিবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রকাশিত বাংলা ও ইংরেজি পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাইবে।
   
   
   
 

Copyright © 2010, Legislative and Parliamentary Affairs Division
Ministry of Law, Justice and Parliamentary Affairs