পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড আইন, ২০১৩
( ২০১৩ সনের ৫৭ নং আইন )
  [১০ নভেম্বর, ২০১৩ ]
     
     
Rural Electrification Board Ordinance, 1977 (Ordinance No. LI of 1977) রহিতক্রমে উহা পুনঃপ্রণয়নের উদ্দেশ্যে প্রণীত আইন
 
যেহেতু পল্লী এলাকা ও কতিপয় অন্যান্য এলাকায় নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে কৃষি বিপ্লব, কুটিরশিল্প ও অন্যান্য শিল্পের বিকাশ এবং গ্রামীণ অর্থনীতি তথা কৃষি, শিল্প, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের উদ্দেশ্যে বিদ্যুৎ শক্তির কার্যকর ব্যবহার অব্যাহত রাখা এবং পল্লী বিদ্যুতায়ন কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে Rural Electrification Board Ordinance, 1977 (Ordinance No. LI of 1977) রহিতক্রমে উহা পুনঃপ্রণয়নের মাধ্যমে একটি পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড প্রতিষ্ঠা এবং এতদ্‌সংক্রান্ত বিধান করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়;



সেহেতু এতদ্‌দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল :-
   
প্রথম অধ্যায়
প্রারম্ভিক
 
সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তন  
১। (১) এই আইন পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড আইন, ২০১৩ নামে অভিহিত হইবে।

(২) ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে।
   
   
 
সংজ্ঞা  
২। বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে,-

(১) ‘‘চেয়ারম্যান’’ অর্থ বোর্ডের চেয়ারম্যান;

(২) ‘‘নির্ধারিত’’ অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি বা প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত;

(৩) ‘‘পল্লী এলাকা’’ অর্থ পৌর বা সিটি কর্পোরেশন এলাকাভুক্ত নহে এমন এলাকা, এবং এতদুদ্দেশ্যে, সময়ে সময়ে, সরকার কর্তৃক সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা নির্দিষ্টকৃত এইরূপ কোন পৌরসভা বা পৌরসভাভুক্ত এবং সিটি কর্পোরেশন বা সিটি কর্পোরেশনভুক্ত বা অন্য কোন এলাকাও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;

(৪) ‘‘প্রবিধান’’ অর্থ এ আইনের অধীন প্রণীত প্রবিধান;

(৫) ‘‘বিধি’’ অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি;

(৬) ‘‘বিদ্যুৎ আইন’’ অর্থ Electricity Act, 1910 (Act No. IX of 1910);
(৭) ‘‘বোর্ড’’ অর্থ ধারা ৩ এর অধীনে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড;

(৮) ‘‘ভূমি’’ অর্থ State Acquisition and tenancy Act, 1950 (E. B. Act No. XXVIII of 1950) এ সংজ্ঞায়িত কোন Land;


(৯) ‘‘সদস্য’’ অর্থ বোর্ডের একজন সদস্য এবং চেয়ারম্যানও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবেন;

(১০) ‘‘সমিতি’’ অর্থ এই আইনের অধীনে গঠিত এবং বোর্ড কর্তৃক নিবন্ধিত পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি; এবং

(১১) ‘‘সরকার’’ অর্থ বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এর বিদ্যুৎ বিভাগ।
   
   
দ্বিতীয় অধ্যায়
বোর্ড প্রতিষ্ঠা এবং উহার কার্যাবলী, ইত্যাদি
 
বোর্ড প্রতিষ্ঠা  
৩। (১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড নামে একটি বোর্ড থাকিবে।

(২) বোর্ড একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হইবে, যাহার স্থায়ী ধারাবাহিকতা ও একটি সাধারণ সীলমোহর থাকিবে এবং এই আইনের বিধানাবলী ও তদধীনে প্রণীত বিধিমালা সাপেক্ষে ইহার স্থাবর ও অস্থাবর উভয় প্রকার সম্পত্তি অর্জন করিবার, অধিকারে রাখিবার ও হস্তান্তর করিবার ক্ষমতা থাকিবে এবং উক্ত নামে বোর্ড মামলা দায়ের করিতে পারিবে এবং ইহার বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করা যাইবে।
   
   
 
বোর্ডের কার্যালয়  
৪। । বোর্ডের প্রধান কার্যালয় ঢাকায় থাকিবে এবং উহার কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার স্বার্থে বোর্ড বাংলাদেশের যে কোন স্থানে শাখা কার্যালয় স্থাপন করিতে পারিবে এবং প্রয়োজনে স্থাপিত কোন শাখা কার্যালয় স্থানান্তর বা বিলুপ্ত করিতে পারিবে।
   
   
 
বোর্ডের গঠন  
৫। (১) নিম্নবর্ণিত ১২ (বার) জন সদস্য সমন্বয়ে বোর্ড গঠিত হইবে, যথা :-

(ক) সরকার কর্তৃক নিযুক্ত একজন চেয়ারম্যান, যিনি বোর্ডের সভাপতিও হইবেন;

(খ) সরকার কর্তৃক নিযুক্ত বোর্ডের নিম্নবর্ণিত কর্মকর্তাগণ বোর্ডের সার্বক্ষণিক সদস্য হইবেন, যথা :-

(১) সদস্য (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন);

(২) সদস্য (বিতরণ ও পরিচালন);

(৩) সদস্য (সমিতি ব্যবস্থাপনা);

(৪) সদস্য (অর্থ);

(৫) সদস্য (প্রশাসন); এবং

(গ) নিম্নবর্ণিত ব্যক্তিগণ বোর্ডের খণ্ডকালীন সদস্য হইবেন, যথা :-

(১) বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের অন্যূন পরিচালক পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা;

(২) বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের অন্যূন পরিচালক পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা;

(৩) বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশনের অন্যূন পরিচালক পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা;

(৪) বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের অন্যূন পরিচালক পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা;

(৫) বাংলাদেশ পাওয়ার গ্রীড কোম্পানী অব বাংলাদেশ এর অন্যূন পরিচালক পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা; এবং

(৬) ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড একাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি) কর্তৃক মনোনীত ১ (এক) জন চার্টার্ড একাউন্ট্যান্ট।

(২) সরকার, বোর্ডের চাকুরীতে অন্যূন ২০(বিশ) বৎসরের চাকুরীসহ সমিতি ব্যবস্থাপনা

সংক্রান্ত প্রশাসনিক কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কর্মকর্তাগণের মধ্য হইতে সদস্য (সমিতি ব্যবস্থাপনা) এবং ইলেট্রিক্যাল বা মেকানিক্যাল বা সিভিল ইঞ্জিনিয়ারগণের মধ্য হইতে সদস্য (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) ও সদস্য (বিতরণ ও পরিচালন) নিযুক্ত করিবে।

(৩) সরকার কর্তৃক নির্ধারিত শর্তে চেয়ারম্যান এবং অন্যান্য সার্বক্ষণিক সদস্যগণ তাহাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করিবেন।
   
   
 
বোর্ডের কার্যাবলী  
৬। এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, বোর্ড নিম্নবর্ণিত কার্যাবলী সম্পাদন এবং তদুদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় প্রকল্প প্রণয়ন, বাস্তবায়ন, পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ ও মূল্যায়ন সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম গ্রহণ করিতে পারিবে, যথা :-

(ক) পল্লী এলাকায় এবং সরকার কর্তৃক নির্দিষ্টকৃত অন্যান্য এলাকায় বিদ্যুৎ উৎপাদন, পরিচালন, রূপান্তর ও বিতরণ ব্যবস্থা সংক্রান্ত বিষয়ে নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন;

(খ) বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদি প্রস্ত্তত, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ ও অবকাঠামো নির্মাণসহ কোন ব্যবসায় অংশগ্রহণ এবং সরকারি বা বেসরকারি অংশীদারিত্বে অন্য কোন সংস্থার সহিত সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর ও চুক্তিবদ্ধ হওয়া এবং এতদ্‌সংক্রান্ত বিষয়ে নীতিমালা প্রণয়ন;

(গ) প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও মূল্যায়ন কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠান, শাখা, অবকাঠামো, ইত্যাদি স্থাপন এবং এতদ্‌সংক্রান্ত বিষয়ে নীতিমালা প্রণয়ন;

(ঘ) বোর্ড হইতে সমিতি ও অন্যান্য গোষ্ঠী কর্তৃক ঋণ বা পুনঃঋণ গ্রহণের শর্তাদি নির্ধারণ করা এবং প্রকল্প মূল্য নিরূপণ ও ঋণ প্রশাসনের জন্য নীতি নির্ধারণ;

(ঙ) সরকারের অনুমোদনক্রমে পল্লী বিদ্যুতায়নের এবং উহার সহিত সংশ্লিষ্ট কার্য সম্পাদনে সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার এবং সর্বোচ্চ আর্থ-সামাজিক সুবিধা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে নীতি নির্ধারণ;

(চ) কোন সমিতি বা অন্য কোন গোষ্ঠীকে নির্ধারিত শর্তাধীনে অনুমোদিত প্রকল্প বাস্তবায়ন, পূর্তকর্ম ও সেবাসমূহ পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার জন্য অগ্রিম প্রদান এবং বিদ্যুৎ সংযোগ গ্রহণ ও বিদ্যুৎ শক্তির উৎপাদনমুখী ব্যবহারের জন্য উহার সদস্যগণকে উপযোগী করিয়া তুলিতে সমিতিকে ঋণ প্রদান;

(ছ) পল্লী এলাকায় বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা স্থাপন ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক উন্নতির জন্য বিদ্যুৎ শক্তি ব্যবহারের সুবিধার্থে জরিপ চালানো এবং সম্ভাব্যতা যাচাই সাপেক্ষে প্রকল্প গ্রহণ;

(জ) সরকারের অনুমোদনের জন্য প্রতিবেদন ও প্রকল্প পেশ এবং অনুমোদিত প্রকল্প বাস্তবায়ন;

(ঝ) বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত শর্তের অধীন সম্পাদিত প্রকল্প, ইহার পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার জন্য কোন সমিতি বা অন্য গোষ্ঠীর নিকট হস্তান্তর;

(ঞ) বোর্ডের কার্যক্রম পরিচালনার উদ্দেশ্যে সরকার ও অন্যান্য সংস্থা বা ব্যক্তির নিকট হইতে অর্থ, মঞ্জুরি, সম্পদ, সম্পত্তি, স্থাপনা, ইত্যাদি ঋণ, দান ও অনুদান গ্রহণ;

(ট) প্রকল্প বাস্তবায়ন ও ব্যবস্থাপনা এবং সংশ্লিষ্ট সেবা প্রদানের উদ্দেশ্যে সম্ভাব্য বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীগণকে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক গ্রুপ যথা, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি, বৈদ্যুতিক ও অন্যান্য সমবায় সমিতি, বিদ্যুৎ সমিতি, এসোসিয়েশন ও কোম্পানীকে সংগঠিতকরণ এবং প্রয়োজনে একাধিক সমিতিকে একীভূতকরণ বা কোন সমিতিকে একাধিক সমিতিতে বিভাজনকরণ;

(ঠ) বোর্ডের সহিত সমিতি নিবন্ধীকরণ ও উহাদের ব্যবস্থাপনা, উন্নয়ন, সমন্বয়, রাজস্ব আয় ও অন্যান্য কার্যাবলীর ধরন নির্ধারণের উদ্দেশ্যে বিধি, প্রবিধি, উপ-আইন এবং নির্দেশিকা, ইত্যাদি প্রণয়ন;

(ড) অর্থনৈতিক কার্যাদি যথা-কৃষি উন্নয়ন ও গ্রামীণ শিল্প ও অন্যান্য শিল্প স্থাপন এবং সমাজের অনুন্নত অংশের আয় বৃদ্ধি ও জীবন যাত্রার মানোন্নয়নে সহায়তা প্রদানের জন্য বিদ্যুৎ শক্তি ব্যবহার বৃদ্ধির উপর বিশেষ গুরুত্ব প্রদানপূর্বক পল্লী উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জনে বিদ্যুতের কার্যকর ব্যবহারের ব্যবস্থা গ্রহণ;

(ঢ) সরকারের অনুমোদনক্রমে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড এবং অন্যান্য সংস্থার বৈদ্যুতিক ব্যবস্থাদিসহ উহার সহিত সংশ্লিষ্ট পরিসম্পদ ও দায়গ্রহণ এবং উহাদের সংস্কার, উন্নয়ন ও তদারকির ব্যবস্থা গ্রহণ;

(ণ) পল্লী বিদ্যুতায়ন কর্মসূচী এবং ইহার সহিত সংশ্লিষ্ট কার্যাবলী প্রস্ত্তত, বাস্তবায়ন, পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা কার্যকর কর্মসূচী সংগঠিতকরণ;

(ত) বোর্ড এবং উহার নিবন্ধনকৃত সমিতি ও অন্যান্য গোষ্ঠী, শাখা কর্তৃক অনুসরণীয় কার্যের মান, যন্ত্রপাতি পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ, ক্রয় ও গুদামজাতকরণ, কর্মচারী ও অর্থ প্রশাসন এবং ব্যবস্থাপনার অন্যান্য দিকের প্রমিত মান নির্ধারণসহ পরিবীক্ষণ (monitoring) এবং নিরীক্ষা কার্যক্রম মূল্য নিরূপণ ও ঋণ প্রশাসনের জন্য নীতি নির্ধারণ পরিচালনা;







(থ) পল্লী উন্নয়ন কার্যক্রমে সরকারি সংস্থা, আগ্রহী বেসরকারি সংস্থা এবং স্থানীয় প্রশাসন ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করা এবং গ্রামীণ এলাকায় শিল্প স্থাপন, সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ ও নিষ্কাশনে সহায়তা প্রদান এবং বিদ্যুতের বাণিজ্যিক ও আবাসিক ব্যবহার বৃদ্ধিকরণের উদ্যোগ গ্রহণ;







(দ) বোর্ডের কর্মসূচী বাস্তবায়ন এবং কার্যাবলী সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য বোর্ড বা সমিতির চুরি যাওয়া বা হারাইয়া যাওয়া অথবা হ্রাস পাওয়া সম্পদের মূল্য এবং অনাদায়যোগ্য পাওনার যেই পরিমাণ বোর্ড ন্যায়সঙ্গত মনে করিবে সেই পরিমাণ প্রচলিত বিধি-বিধান অনুসরণপূর্বক অবলোপন (writing off);

(ধ) বিদ্যুতের অবৈধ ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ, খেলাপী গ্রাহকদের সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ, বৈদ্যুতিক তার, খুঁটি ও অন্যান্য সরঞ্জামাদি চুরি বা বিনষ্টকরণের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনের আওতায় ব্যবস্থা গ্রহণ; এবং

(ন) বোর্ড প্রয়োজন মনে করিলে সরকারের অনুমোদনক্রমে এই আইন সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কার্যাদি সম্পাদন।
   
   
 
অনুমতিপত্রের অধিকারী হওয়া  
৭। বোর্ড, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে বিদ্যুৎ আইনের অধীন অনুমতিপ্রাপ্ত হিসাবে গণ্য হইবে এবং উক্ত আইনের অধীনে অনুমতি প্রাপ্তির (Licensee) সকল ক্ষমতা উহার থাকিবে :

তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত আইনের ধারা ৩ হইতে ১১, ধারা ২১(২)(৩), ধারা ২২, ধারা ২৩ এবং ধারা ২৭ অথবা তফসিলের দফা ১ হইতে ১২ এ অনুমতিপত্রের অধিকারীর কোন দায়-দায়িত্ব বোর্ডের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা যাইবে না।
   
   
তৃতীয় অধ্যায়
বোর্ডের সভা, ইত্যাদি
 
চেয়ারম্যান ও সদস্যের কার্যাবলী  
৮। (১) চেয়ারম্যন বোর্ডের প্রধান নির্বাহী হইবেন এবং তিনি, এই আইন ও তদধীন প্রণীত বিধি ও প্রবিধান অনুসারে, বোর্ডের প্রশাসন পরিচালনা করিবেন।

(২) চেয়ারম্যান ও সদস্যগণ, বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত বা সময়ে সময়ে নির্দেশিত ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্যাবলী সম্পাদন করিবেন।
   
   
 
বোর্ডের সভা  
৯। (১) এই ধারার অন্যান্য বিধানাবলী সাপেক্ষে, বোর্ড উহার সভার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে।

(২) বোর্ড প্রতি বৎসর অন্যূন ৪ (চার) বার সভায় মিলিত হইবে এবং উহার সভা চেয়ারম্যান কর্তৃক নির্ধারিত স্থান ও সময়ে অনুষ্ঠিত হইবে।

(৩) বোর্ডের সভা, চেয়ারম্যান এর সম্মতিক্রমে পরিচালনা বোর্ডের সচিবের স্বাক্ষরিত লিখিত নোটিশ দ্বারা আহবান করিতে হইবে।

(৪) বোর্ডের সভায় কোরামের জন্য ২ (দুই) জন সার্বক্ষণিক সদস্যসহ অন্যূন ৫ (পাঁচ) জন সদস্যের উপস্থিতির প্রয়োজন হইবে, তবে মুলতবী সভার ক্ষেত্রে কোন কোরামের প্রয়োজন হইবে না।

(৫) বোর্ডের সভায় উপস্থিত প্রত্যেক সদস্যের একটি করিয়া ভোট থাকিবে এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটের ভিত্তিতে সভায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হইবে, তবে প্রদত্ত ভোটের সমতার ক্ষেত্রে সভার সভাপতি দ্বিতীয় বা নির্ণায়ক ভোট প্রদান করিতে পারিবেন।

(৬) বোর্ডের সকল সভায় চেয়ারম্যান সভাপতিত্ব করিবেন এবং তাহার অনুপস্থিতিতে চেয়ারম্যান কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন সার্বক্ষণিক সদস্য উক্ত সভায় সভাপতিত্ব করিবেন।

(৭) বোর্ডের কোন কার্য বা কার্যধারা কেবলমাত্র বোর্ডের কোন সদস্য পদে শূন্যতা বা বোর্ড গঠনে ত্রুটি থাকিবার কারণে অবৈধ হইবে না এবং তদ্‌সম্পর্কে কোন আদালতে প্রশ্নও উত্থাপন করা যাইবে না।
   
   
চতুর্থ অধ্যায়
চুক্তি, প্রতিবেদন, ঋণ গ্রহণ, ইত্যাদি
 
চুক্তি সম্পাদন  
১০। (১) বোর্ড এবং বোর্ড কর্তৃক অর্পিত ক্ষমতাবলে কোন সমিতি উহার কার্যাবলী সম্পাদনের লক্ষ্যে যে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সহিত চুক্তি সম্পাদন করিতে পারিবে :

তবে শর্ত থাকে যে, কোন বিদেশী সরকার বা আন্তর্জাতিক সংস্থার সহিত চুক্তি সম্পাদনের ক্ষেত্রে সরকারের পূর্বানুমোদন গ্রহণ করিতে হইবে।

(২) এইরূপ চুক্তি বোর্ডের পক্ষে চেয়ারম্যান অথবা তদ্‌কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন সার্বক্ষণিক সদস্য বা কর্মকর্তা অথবা বোর্ড কর্তৃক অর্পিত ক্ষমতাবলে সমিতির কোন কর্মকর্তা স্বাক্ষর করিতে পারিবেন।
   
   
 
প্রতিবেদন  
১১। (১) প্রত্যেক অর্থ বৎসর সমাপ্তির পর অনধিক ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে বোর্ড তদ্‌কর্তৃক পূর্ববর্তী বৎসরে গৃহীত ও সম্পাদিত কার্যাবলীর একটি প্রতিবেদন সরকারের নিকট পেশ করিবে।

(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত প্রতিবেদনে নিম্নবর্ণিত বিষয়সমূহের উল্লেখ থাকিতে হইবে, যথা :-

(ক) সরকারের চাহিদা অনুযায়ী প্রত্যর্পণ (return) , হিসাব বিবরণী, প্রাক্কলন ও পরিসংখ্যান;

(খ) এই আইনের অধীন প্রাপ্ত নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উল্লিখিত অনিয়ম ও ত্রুটি-বিচ্যুতি নিরসনকল্পে বোর্ড কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপ, মতামত ও সুপারিশ;

(গ) সুনির্দিষ্ট বিষয়ের উপর সরকার কর্তৃক আহুত তথ্য ও মতামত যদি থাকে; এবং


(ঘ) পরীক্ষা বা অন্যবিধ প্রয়োজনে সরকারের চাহিদা অনুযায়ী প্রেরিত তথ্য বা কাগজাদির কপি।

(৩) সরকার, প্রয়োজনবোধে বোর্ডের নিকট হইতে যে কোন সময় বোর্ডের যে কোন কার্যক্রম বা বিষয়ের উপর প্রতিবেদন এবং বিবরণী চাহিতে পারিবে এবং বোর্ড উহা সরকারের নিকট সরবরাহ করিতে বাধ্য থাকিবে।
   
   
 
ঋণ গ্রহণের ক্ষমতা  
১২। এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, বোর্ড, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, যে কোন ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান অথবা দেশী বা বিদেশী যে কোন বৈধ উৎস হইতে ঋণ গ্রহণ করিতে পারিবে।
   
   
পঞ্চম অধ্যায়
স্থাপনা নির্মাণ, বিদ্যুৎ সরবরাহ, ইত্যাদি
 
বিদ্যুৎ সরবরাহ সংক্রান্ত বিধানাবলী  
১৩। আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহাই থাকুক না কেন, বোর্ড-

(ক) সরকার কর্তৃক নির্ধারিত শর্তে যে কোন বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা গ্রহণ, অধিগ্রহণ এবং পরিচালনা করিতে বা উহা পরিচালনার জন্য যে কোন সমিতির নিকট হস্তান্তর করিতে পারিবে;

(খ) সরকার কর্তৃক নির্দিষ্টকৃত বোর্ড কিংবা সমিতির নির্ধারিত এলাকায় অন্য কোন বিদ্যুৎ বিতরণকারী সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান গ্রাহক সংযোগের উদ্দেশ্যে বৈদ্যুতিক লাইন বা অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণ ও সম্প্রসারণ করিতে পারিবে না এবং গ্রাহক সংযোগ প্রদান করিতে পারিবে না;

(গ) যেকোন সরকারি বা বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সহিত চুক্তি সম্পাদনের মাধ্যমে তাহাদের নিকট হইতে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত মূল্য ও শর্তে বিদ্যুৎ সরবরাহ গ্রহণ করিতে পারিবে; এবং

(ঘ) বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড এবং অন্যান্য যে কোন বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান যাহা কোন ব্যক্তি বা সত্তা দ্বারা পরিচালিত তাহাদের নিকট হইতে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত মূল্য ও শর্তে বিদ্যুৎ সরবরাহ গ্রহণ করিতে পারিবে।
   
   
 
কতিপয় বিদ্যুৎ পদ্ধতির পরিচালনা, ইত্যা  
১৪। এই আইন বা আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহাই থাকুক না কেন, কোন পল্লী এলাকায় বোর্ড কর্তৃক বিদ্যুৎ উৎপাদন, পরিচালন, বা বিতরণ পদ্ধতি স্থাপনের পর উক্ত পল্লী এলাকা পৌরসভা বা সিটি করপোরেশন বা অন্য কোন কর্তৃপক্ষের অন্তর্ভুক্ত হইলে অনুরূপ স্থাপিত পদ্ধতিতে বোর্ড কর্তৃক বিদ্যুৎ উৎপাদন, রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার কার্য এইরূপে চলমান থাকিবে যেন উক্ত এলাকা পৌরসভা বা সিটি করপোরেশন বা অন্য কোন কর্তৃপক্ষের অন্তর্ভুক্ত হয় নাই।
   
   
 
প্রবেশাধিকার  
১৫। (১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে চেয়ারম্যান অথবা কোন সদস্য বা এতদুদ্দেশ্যে চেয়ারম্যান কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত বোর্ড বা সমিতির যে কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারী অথবা অন্য কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নিম্নোক্ত কাজে যে কোন স্থল, ঘরবাড়ী বা অঙ্গনে প্রবেশ করিতে পারিবে, যথা :-

(ক) যে কোন পরিদর্শন, জরিপ, পরীক্ষা, মূল্য নির্ধারণ বা তদন্ত ;

(খ) ভূমি খনন বা গর্ত ভরাট ;

(গ) সীমানা নির্ধারণ ও বৈদ্যুতিক লাইন বা পূর্ত কার্য সম্পাদন ;

(ঘ) অনুরূপ সীমানা নির্ধারণ, বৈদ্যুতিক লাইন ও স্থাপনাসমূহ চিহ্নিতকরণের উদ্দেশ্যে কোন চিহ্ন স্থাপন ও গর্ত খনন; অথবা

(ঙ) এই আইনের যে কোন উদ্দেশ্য পূরণের জন্য প্রয়োজনে এইরূপ অন্যবিধ কার্য সম্পাদন।

(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত কার্যসমূহ সম্পাদনের লক্ষ্যে কোন ভূমি, ঘরবাড়ী বা অঙ্গনের দখলদার বা মালিককে অন্যূন চবিবশ ঘন্টার নোটিশ প্রদান করিয়া যে কোন স্থান, ঘরবাড়ী বা অঙ্গনে সূর্যোদয়ের পর ও সূর্যাস্তের পূর্বে যে কোন সময় প্রবেশ করিতে এবং এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে যে কোন কার্যক্রম পরিচালনা করিতে পারিবেন।
   
   
 
ভূগর্ভস্থ, ভূমিস্থ ও ভূউপরিস্থ কাঠামো স্থাপনের ক্ষমতা  
১৬। বোর্ড বা সমিতি বিদ্যুৎ পরিচালন, বিতরণ ও পরিকল্পনা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য এবং এই আইনের অধীন উহার অন্যান্য কার্যাবলী সম্পাদনের জন্য ভূগর্ভে, ভূমিতে ও ভূমির উপরে তার, খুঁটি, বন্ধনী, যন্ত্রপাতি এবং অন্যান্য কাঠামো স্থাপন করিতে পারিবে।
   
   
 
বোর্ড বা সমিতি, ইত্যাদির জন্য ভূমি অধিগ্রহণ  
১৭। বোর্ডের কার্যাবলী সম্পাদনের জন্য কোন জমি প্রয়োজন হইলে উহা জনস্বার্থে প্রয়োজনীয় বলিয়া বিবেচিত হইবে এবং এতদুদ্দেশ্যে উহার Acquisition and Requisition of Immovable Property Ordinance, 1982 (Ordinance No. II of 1982) এর বিধান মোতাবেক হুকুমদখল বা অধিগ্রহণ করা যাইবে।
   
   
ষষ্ঠ অধ্যায়
তহবিল ও হিসাব নিরীক্ষা
 
তহবিল  
১৮। (১) বোর্ডের কার্য পরিচালনার জন্য পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড তহবিল

নামে একটি নিজস্ব তহবিল থাকিবে এবং নিম্নবর্ণিত উৎসসমূহ হইতে প্রাপ্ত অর্থ উক্ত তহবিলে জমা হইবে, যথা :-

(ক) সরকার কর্তৃক প্রদত্ত বরাদ্দ;

(খ) সরকারের নিকট হইতে প্রাপ্ত ঋণ;

(গ) স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত অনুদান;

(ঘ) সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে মঞ্জুরীকৃত বৈদেশিক অনুদান ও ঋণ;

(ঙ) বিদ্যুতের বিক্রয়লব্ধ অর্থ; এবং

(চ) বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত অন্যান্য উৎস হইতে প্রাপ্ত অর্থ।

(২) বোর্ডের তহবিল বোর্ডের নামে যে কোন তফসিলি ব্যাংকে জমা রাখা হইবে এবং বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে উক্ত তহবিল হইতে অর্থ উত্তোলন করা যাইবে।

(৩) বোর্ডের চেয়ারম্যান, সদস্য, কর্মকর্তা ও অন্যান্য কর্মচারীগণের বেতন, ভাতা ও অন্যান্য পারিশ্রমিকসহ এই আইনের আওতায় সংশ্লিষ্ট কার্যাবলীর জন্য বোর্ড তহবিল হইতে অর্থ ব্যয় করিতে পারিবে :

তবে শর্ত থাকে যে, তহবিলের অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সরকারের নিয়মনীতি ও বিধি-বিধান অনুসরণ করিতে হইবে।

(৪) বোর্ডের তহবিল হইতে বোর্ডের প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহ করা হইবে।

(৫) বোর্ড উহার তহবিল সরকার কর্তৃক অনুমোদিত কোন খাতে বিনিয়োগ করিতে পারিবে।

ব্যাখ্যা ‘তফসিলি ব্যাংক’ বলিতে Bangladesh Bank Order, 1972 (P.O.No. 127 of 1972) এর Article 2(J) তে সংজ্ঞায়িত ‘Schedule Bank’
   
   
 
বাজেট  
১৯। বোর্ড, সরকার কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে, প্রতি অর্থ বৎসরের সম্ভাব্য আয় ও ব্যয় এবং উক্ত অর্থ বৎসরে, সরকারের নিকট হইতে কি পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হইবে উহা উল্লেখ করিয়া একটি বাজেট বিবরণী সরকারের অনুমোদনের জন্য পেশ করিবে।
   
   
 
হিসাব ও নিরীক্ষা  
২০। (১) সরকার কর্তৃক নির্দেশিত পদ্ধতিতে বোর্ড উহার হিসাব সংরক্ষণ করিবে এবং বোর্ড কর্তৃক নির্দেশিত পদ্ধতিতে সমিতি বা এই আইনের ধারা ৬(ট) এ উল্লিখিত প্রতিষ্ঠান উহার হিসাব নিরীক্ষা করিবেন।

(২) বাংলাদেশের মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, অতঃপর মহা হিসাব-নিরীক্ষক হিসাবে উল্লিখিত, যেইরূপ পদ্ধতিতে উপযুক্ত মনে করিবেন সেইরূপ পদ্ধতিতে বোর্ডের হিসাব নিরীক্ষিত হইবে।

(৩) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত নিরীক্ষা ছাড়াও, Chartered Accountants Order, 1973 (P.O. No. 2 of 1973) এর Article 2(1) (b) তে সংজ্ঞায়িত Chartered Accountant দ্বারা প্রতি বৎসর বোর্ডের হিসাব নিরীক্ষা করা হইবে এবং এতদুদ্দেশ্যে বোর্ড Chartered Accountant নিয়োগ করিতে পারিবে।

(৪) উপ-ধারা (২) এর অধীনে নিরীক্ষার উদ্দেশ্যে মহা হিসাব-নিরীক্ষক বা এতদুদ্দেশ্যে তদ্‌কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত যে কোন ব্যক্তি বোর্ডের সকল রেকর্ড, বই, দলিলপত্র, নগদ অর্থ, জামানত, ভান্ডার ও অন্যান্য সম্পত্তি পরীক্ষা করিতে পারিবেন এবং বোর্ডের চেয়ারম্যান অথবা যে কোন সদস্য, কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করিতে পারিবেন।

(৫) এই ধারার অধীন নিরীক্ষা সম্পাদনের পর যথাশীঘ্র সম্ভব মহা হিসাব-নিরীক্ষক তাহার নিরীক্ষা প্রতিবেদন বোর্ডে প্রেরণ করিবেন এবং বোর্ড অনধিক ০৩ (তিন) মাসের মধ্যে মতামতসহ উহা সরকারের নিকট প্রেরণ করিবে।

(৬) নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উল্লিখিত ত্রুটি বা অনিয়মসমূহ দূরীকরণের জন্য বোর্ড তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণ করিবে।

(৭) বোর্ডের অধীন গঠিত ও নিবন্ধিত সমিতি, এসোসিয়েশন বা কোম্পানির যাবতীয় নিরীক্ষা কার্যাবলী বোর্ডের উপর ন্যস্ত থাকিবে।
   
   
 
ট্যারিফ প্রস্তাব, ইত্যাদি  
২১। (১) বোর্ড, সময়ে সময়ে, সমিতির সদস্যগণের নিকট বিদ্যুৎ বিক্রয়ের জন্য বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরী কমিশন অথবা যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট ট্যারিফ প্রস্তাব পেশ করিবে।

(২) বোর্ড উপ-ধারা (১) এর অধীন ট্যারিফ প্রস্তাব পেশ করিবার সময় লক্ষ্য রাখিবে যে, উক্ত মূল্যহার দ্বারা সমিতিসমূহ বা অন্যান্য শাখাসমূহ যাহাতে ন্যূনতম অর্থায়ন, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ এবং সম্পদের অবচয়ের অর্থ আদায় করিতে পারে।
   
   
 
পাওনা অর্থ আদায়  
২২। এই আইনের অধীনে কোন ব্যক্তি অথবা প্রতিষ্ঠানের নিকট হইতে বোর্ড বা সমিতিসমূহের যে কোন পরিমাণ অর্থ পাওনা থাকিলে উহা সরকারি দাবি হিসাবে Public Demands Recovary Act, 1913 (Ben Act No. III of 1913) এর বিধান অনুসারে আদায়যোগ্য হইবে।
   
   
সপ্তম অধ্যায়
নিয়োগ, ক্ষমতা, ইত্যাদি
 
উপদেষ্টা ও পরামর্শক নিয়োগ  
২৩। এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে বোর্ড ইহার বিশেষ কোন কার্য সম্পাদনের নিমিত্ত কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে উপদেষ্টা বা পরামর্শক হিসাবে নিয়োগ করিতে পারিবে এবং তাহাদের নিয়োগ ও কর্মের শর্তাদি প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
   
   
 
কর্মকর্তা এবং কর্মচারী নিয়োগ  
২৪। (১) বোর্ড উহার কার্যাবলী সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের উদ্দেশ্যে, সরকার কর্তৃক অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মকর্তা ও অন্যান্য কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারিবে এবং তাহাদের চাকুরীর শর্তাবলী প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে।

(২) বোর্ড, অন্য কোন সংস্থা হইতে প্রেষণে কর্মকর্তা বা কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারিবে এবং অনুরূপভাবে ইহার নিজস্ব কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে অন্য সংস্থায় প্রেষণে প্রেরণ করিতে পারিবে।
   
   
 
জনসেবক  
২৫। চেয়ারম্যান, সার্বক্ষণিক সদস্য এবং বোর্ডের কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ এবং সমিতির কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ Penal Code, 1860 (Act No. XLV of 1860) এর section 21 এ ‘‘public servant” (জনসেবক) অভিব্যক্তিটি যে অর্থে ব্যবহৃত হইয়াছে সে অর্থে public servant (জনসেবক) হিসাবে গণ্য হইবেন।
   
   
 
ক্ষমতা অর্পণ  
২৬। বোর্ড, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, প্রজ্ঞাপনে উল্লিখিত ক্ষমতা, সীমা ও শর্ত সাপেক্ষে, বোর্ডের চেয়ারম্যান অথবা যে কোন সদস্য বা কর্মকর্তা অথবা সমিতির কোন কর্মকর্তাকে এই আইন বা তদধীন প্রণীত বিধি বা প্রবিধানের অধীন বোর্ডের যে কোন দায়িত্ব পালন ও কর্তব্য সম্পাদনের ক্ষমতা অর্পণ করিতে পারিবে।
   
   
অষ্টম অধ্যায়
বিবিধ
 
নির্দেশনা প্রদানের ক্ষমতা  
২৭। সরকার, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, এই আইনের কোন বিধান কার্যকর করিবার ক্ষেত্রে কোন অসুবিধা দেখা দিলে সময় সময়, বোর্ডকে, উক্ত অসুবিধা দূরীকরণার্থে তদবিবেচনায় যেইরূপ উপযুক্ত মনে করিবে, সেইরূপ পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা নির্দেশনা প্রদান করিতে পারিবে এবং বোর্ড উক্তরূপ সকল নির্দেশনা পালন করিবে।
   
   
 
বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা  
২৮। এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।
   
   
 
প্রবিধান প্রণয়নের ক্ষমতা  
২৯।এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, বোর্ড সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, এবং সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইন ও তদ্‌ধীন প্রণীত বিধির সহিত অসামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এইরূপ প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে।
   
   
 
জরুরী ও অত্যাবশ্যকীয় সার্ভিস  
৩০। বোর্ড, সমিতি বা এ আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে গঠিত অন্যান্য সংস্থা বা কোম্পানীর চাকুরী সরকারের জরুরী ও অত্যাবশ্যকীয় সার্ভিস হিসেবে গণ্য হইবে।
   
   
 
বোর্ড, ইত্যাদিকে দোকান, বাণিজ্যিক স্থাপনা, কারখানা, শিল্প ইত্যাদি হিসাবে ব্যাখ্যা না করা  
৩১। আপাততঃ বলবৎ অন্যান্য আইনে যাহাই থাকুক না কেন, শ্রম আইন ২০০৬ (২০০৬ সনের ৪২নং আইন) অনুযায়ী বোর্ড, সমিতি বা এই আইনের ধারা ৬(ট) এ বর্ণিত কোন সংগঠন বা কোম্পানীকে দোকান, বাণিজ্যিক স্থাপনা, কারখানা, শিল্প, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বা শিল্প প্রতিষ্ঠান হিসাবে ব্যাখ্যা করা যাইবে না।
   
   
 
অবসায়ন  
৩২। স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের অবসায়ন সংক্রান্ত আইনের কোন বিধান বোর্ডের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না, এবং সরকারের নির্দেশ বা সরকার যে পদ্ধতি নির্দেশ করিবে উহা ব্যতীত বোর্ড অবসায়ন করা যাইবে না।
   
   
 
রহিতকরণ ও হেফাজত  
৩৩। (১) এর আইন প্রবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে Rural Electrification Board Ordinance, 1977 (Ordinance No.LI of 1977), অত:পর উক্ত আইন বলিয়া উল্লিখিত, রহিত হইবে।

(২) উক্ত আইন রহিত হওয়া সত্ত্বেও-

(ক) উক্ত আইনের অধীন কৃত বা গৃহীত ব্যবস্থা, সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া সাপেক্ষে, এই আইনের অধীন কৃত বা গৃহীত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে;

(খ) উক্ত আইনের অধীন প্রণীত সকল বিধি, প্রদত্ত সকল আদেশ, জারিকৃত সকল প্রজ্ঞাপন বা নোটিশ এই আইনের বিধানাবলীর সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া সাপেক্ষে, রহিত বা সংশোধিত না হওয়া পর্যন্ত, বলবৎ থাকিবে এবং এই আইনের অধীন প্রণীত, প্রদত্ত বা জারিকৃত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে; এবং

(গ) উক্ত আইন দ্বারা উহার অধীন আরোপিত কোন কর বা ফিস বা অন্য কোন পাওনা, এই আইন প্রবর্তনের অব্যবহিত পূর্বে অনাদায়ী থাকিলে, উহা উক্ত আইন অনুযায়ী আদায় করা হইবে, এবং কোন বিষয় অনিষ্পন্ন থাকিলে, তাহা উক্ত আইন অনুযায়ী এমনভাবে নিষ্পন্ন হইবে যেন উক্ত আইন রহিত হয় নাই।
   
   
 
ইংরেজীতে অনূদিত পাঠ প্রকাশ, ইত্যাদি  
৩৪। (১) এই আইন কার্যকর হইবার পর সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের মূল বাংলা পাঠের ইংরেজীতে অনূদিত একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ (Authentic English Text) প্রকাশ করিবে।
(২) এই আইনের বাংলা ও ইংরেজী পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাইবে।
   
   
   
 

Copyright © 2010, Legislative and Parliamentary Affairs Division
Ministry of Law, Justice and Parliamentary Affairs