কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্ট আইন, ২০১৮
( ২০১৮ সনের ৫২ নং আইন )
  [৮ অক্টোবর, ২০১৮]
     
     
সরকারের পাশাপাশি সামাজিক সংগঠন, বেসরকারি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় দেশের গ্রামীণ জনগণের দোরগোড়ায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্ট গঠন ও আনুষঙ্গিক অন্যান্য বিষয়ে বিধান প্রণয়নকল্পে প্রণীত আইন
 
যেহেতু সরকারের পাশাপাশি সামাজিক সংগঠন, বেসরকারি ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় দেশের গ্রামীণ জনগণের দোরগোড়ায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্ট গঠন ও আনুষঙ্গিক অন্যান্য বিষয়ে বিধান করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়;

সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল:-
   
 
সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তন  
১। (১) এই আইন কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্ট আইন, ২০১৮ নামে অভিহিত হইবে।

(২) ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে।
   
   
 
সংজ্ঞা  
২। বিষয় অথবা প্রসঙ্গের পরিপন্থি কোনো কিছু না থাকিলে, এই আইনে-

(ক) ‘কমিউনিটি ক্লিনিক’ অর্থ গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর সমন্বিত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করিবার জন্য ইউনিয়ন পরিষদের ওয়ার্ড পর্যায়ে স্থাপিত কমিউনিটি ক্লিনিক;

(খ) ‘ট্রাস্ট’ অর্থ ধারা ৩ এর অধীন প্রতিষ্ঠিত কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্ট;

(গ) ‘ট্রাস্টি বোর্ড’ অর্থ ধারা ৯ এর অধীন গঠিত ট্রাস্টি বোর্ড;

(ঘ) ‘তহবিল’ অর্থ ধারা ১৪ এ উল্লিখিত ট্রাস্ট এর তহবিল;

(ঙ) ‘প্রবিধান’ অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত প্রবিধান;

(চ) ‘বিধি’ অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি;

(ছ) ‘ব্যবস্থাপনা পরিচালক’ অর্থ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক;

(জ) ‘সদস্য’ অর্থ ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য; এবং

(ঝ) ‘সভাপতি’ অর্থ ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি।
   
   
 
ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠা  
৩। (১) এই আইন কার্যকর হইবার পর, যথাশীঘ্র সম্ভব, সরকার এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্ট নামে একটি ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠা করিবে।

(২) ট্রাস্ট একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হইবে এবং ইহার স্থায়ী ধারাবাহিকতা ও একটি সাধারণ সিলমোহর থাকিবে এবং ইহার স্থাবর ও অস্থাবর উভয় প্রকার সম্পত্তি অর্জন করিবার, অধিকারে রাখিবার এবং হস্তান্তর করিবার ক্ষমতা থাকিবে এবং ইহা স্বীয় নামে মামলা দায়ের করিতে পারিবে এবং উক্ত নামে ইহার বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করা যাইবে।
   
   
 
কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন  
৪। (১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, ট্রাস্ট, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, বাংলাদেশের যে কোনো ইউনিয়নে কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করিতে পারিবে।

(২) এই আইন কার্যকর হইবার সঙ্গে সঙ্গে সরকার কর্তৃক ‘Revitalization of Community Health Care Initiatives in Bangladesh (RCHCIB)’ শীর্ষক প্রকল্প এবং ‘Community Based Health Care’ শীর্ষক অপারেশনাল প্ল্যানের আওতায় স্থাপিত কমিউনিটি ক্লিনিকসমূহ ট্রাস্টের অধীনে ন্যস্ত হইবে।
   
   
 
ট্রাস্টের কার্যালয়  
৫। ট্রাস্টের প্রধান কার্যালয় ঢাকায় থাকিবে এবং ট্রাস্টি বোর্ড, প্রয়োজনবোধে, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, বাংলাদেশের যে কোনো স্থানে উহার শাখা কার্যালয় স্থাপন করিতে পারিবে।
   
   
 
সাধারণ পরিচালনা ও প্রশাসন  
৬। ট্রাস্টের সাধারণ পরিচালনা ও প্রশাসন ট্রাস্টি বোর্ডের উপর ন্যস্ত থাকিবে এবং ট্রাস্ট যে সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্য সম্পাদন করিতে পারিবে, ট্রাস্টি বোর্ডও সেই সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্য সম্পাদন করিতে পারিবে।
   
   
 
ট্রাস্টের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য  
৭। ট্রাস্টের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হইবে নিম্নরূপ, যথা:-

(ক) গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর সমন্বিত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান কার্যক্রমে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণ;

(খ) গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে সমন্বিত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান;

(গ) সমন্বিত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সামাজিক সহযোগিতা গ্রহণ, ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানের নিকট হইতে সম্পদ অথবা অনুদান সংগ্রহ ও উহার সুষ্ঠু ব্যবহার; এবং

(ঘ) কমিউনিটি ক্লিনিকের সহিত ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জেলা পর্যায়ের হাসপাতাল, বিশেষায়িত হাসপাতাল এবং মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের একটি কার্যকর রেফারেল পদ্ধতি প্রতিষ্ঠা।
   
   
 
ট্রাস্টের উপদেষ্টা পরিষদ  
৮। (১) নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে ট্রাস্টি বোর্ডের একটি উপদেষ্টা পরিষদ থাকিবে, যথা:-

(ক) প্রধানমন্ত্রী, যিনি উহার সভাপতিও হইবেন;

(খ) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত মন্ত্রী;

(গ) অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী;

(ঘ) পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী;

(ঙ) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী;

(চ) সচিব, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ;

(ছ) সচিব, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ; এবং

(জ) প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক মনোনীত ১ (এক) জন স্বনামধন্য ব্যক্তি।

(২) প্রধানমন্ত্রী প্রয়োজনে কোনো মন্ত্রীকে, যিনি উপদেষ্টা পরিষদেরও সদস্য, উপদেষ্টা পরিষদের সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালনের অনুমতি প্রদান করিতে পারিবেন।

(৩) উপ-ধারা (১) এর অধীন গঠিত উপদেষ্টা পরিষদ প্রয়োজনবোধে, সময় সময়, ট্রাস্টি বোর্ডকে দিক্-নির্দেশনা ও পরামর্শ প্রদান করিবে।
   
   
 
ট্রাস্টি বোর্ড গঠন  
৯। (১) ট্রাস্টি বোর্ড নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে গঠিত হইবে, যথা:-

(ক) প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক মনোনীত সমাজহিতৈষী স্বনামধন্য ১ (এক) জন ব্যক্তি, যিনি উহার সভাপতিও হইবেন ;

(খ) প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক মনোনীত চিকিৎসা ক্ষেত্রে স্বনামধন্য ১ (এক) জন ব্যক্তি, যিনি উহার সহ-সভাপতিও হইবেন;

(গ) সচিব, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ বা তৎকর্তৃক মনোনীত উক্ত বিভাগের ১ (এক) জন অতিরিক্ত সচিব;

(ঘ) সচিব, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ বা তৎকর্তৃক মনোনীত উক্ত বিভাগের ১ (এক) জন অতিরিক্ত সচিব;

(ঙ) সচিব, অর্থ বিভাগ বা তৎকর্তৃক মনোনীত উক্ত বিভাগের ১ (এক) জন অতিরিক্ত সচিব;

(চ) সচিব, পরিকল্পনা বিভাগ বা তৎকর্তৃক মনোনীত উক্ত বিভাগের ১ (এক) জন অতিরিক্ত সচিব;

(ছ) মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর;

(জ) মহাপরিচালক, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর;

(ঝ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক, এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড;

(ঞ) সভাপতি, ফেডারেশন অফ বাংলাদেশ চেম্বার্স অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ;

(ট) সভাপতি, বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতি;

(ঠ) সরকার কর্তৃক মনোনীত ৩ (তিন) জন বিশিষ্ট ব্যক্তি, যাহাদের মধ্যে অন্যূন ১ (এক) জন হইবেন মহিলা চিকিৎসক;

(ড) ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, যিনি উহার সদস্য-সচিবও হইবেন।

(২) উপ-ধারা (১) এর দফা (ঠ) এর অধীন মনোনীত সদস্যগণ তাহাদের মনোনয়নের তারিখ হইতে ৩ (তিন) বৎসর পর্যন্ত স্বীয় পদে বহাল থাকিবেন:

তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত মেয়াদ শেষ হইবার পূর্বে সরকার, যে কোনো মনোনীত সদস্যকে কোনোরূপ কারণ দর্শানো ব্যতিরেকে তাহার দায়িত্ব হইতে অব্যাহতি প্রদান করিতে পারিবে:

আরও শর্ত থাকে যে, সরকারের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে উক্তরূপ কোনো সদস্য স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে পারিবেন।
   
   
 
ট্রাস্টের দায়িত্ব ও কার্যাবলি  
১০। ট্রাস্টি বোর্ডের দায়িত্ব ও কার্যাবলি হইবে নিম্নরূপ, যথা:-

(ক) কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে গ্রামের মানুষকে নিরবচ্ছিন্ন সমন্বিত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক, আর্থিক ও অন্যান্য ব্যবস্থাপনা;

(খ) তহবিলের জন্য অর্থ সংগ্রহ ও ব্যবহার;

(গ) ট্রাস্টের সকল স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণ ও সংরক্ষণ;

(ঘ) গ্রামীণ জনগণের সমন্বিত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি অথবা কার্যক্রমে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসহ সামাজিক সংগঠনসমূহ, বেসরকারি সংস্থা এবং সমাজের বিত্তশালীদের সম্পৃক্তকরণ;

(ঙ) কমিউনিটি ক্লিনিকের ব্যবস্থাপনা, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ;

(চ) স্বাস্থ্যসেবায় জনগণের অংশগ্রহণ ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত করিবার জন্য কমিউনিটি ক্লিনিকের আওতাভুক্ত এলাকাসমূহের জনগণের মধ্য হইতে মনোনীত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত কমিউনিটি গ্রুপকে কার্যকর ও গতিশীলকরণ;

(ছ) কমিউনিটি ক্লিনিক পরিচালনায় কমিউনিটি গ্রুপকে সহযোগিতা এবং গ্রামীণ জনগণের স্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা ও পুষ্টিসেবা নিশ্চিত করিবার জন্য স্বেচ্ছাপ্রণোদিত মহিলা, পুরুষ, কিশোর অথবা কিশোরীসহ সমাজের সর্বস্তরের প্রতিনিধিত্বকারী প্রয়োজনীয় সংখ্যক ব্যক্তিগণের সমন্বয়ে গঠিত কমিউনিটি সাপোর্ট গ্রুপকে কার্যকর ও গতিশীলকরণ;

(জ) সমন্বিত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার আওতা ও পরিধি প্রবিধান দ্বারা নির্ধারণ;

(ঝ) ট্রাস্ট ও কমিউনিটি ক্লিনিকের সকল কার্যক্রমে ডিজিটাল পদ্ধতির ব্যবহার, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, নিশ্চিতকরণ; এবং

(ঞ) সরকার এবং উপদেষ্টা পরিষদ কর্তৃক নির্দেশিত অন্যান্য কার্যাবলি সম্পাদন।
   
   
 
সমন্বয় ও তদারকি  
১১। (১) স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য), জেলা সিভিল সার্জন, উপ-পরিচালক পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এবং উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয়ের সহিত সুষ্ঠু সমন্বয়ের মাধ্যমে কমিউনিটি ক্লিনিকসমূহের কার্যক্রম পরিচালিত হইবে।

(২) কমিউনিটি ক্লিনিকসমূহের মাধ্যমে সরকারের স্বাস্থ্য কার্যক্রমসমূহের যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিতকরণের জন্য ট্রাস্টের সাংগঠনিক কাঠামোর আওতায় কর্মরত কর্মচারী এবং স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের প্রশাসনিক কাঠামোর আওতায় কর্মরত কর্মচারীগণ কমিউনিটি ক্লিনিক পরিচালনা কার্যক্রমের স্ব স্ব দায়িত্বের জন্য ব্যবস্থাপনা পরিচালকের নিকট দায়বদ্ধ থাকিবে।

(৩) জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারগণ কমিউনিটি ক্লিনিকের কার্যক্রম নিয়মিত তদারকি করিবেন।
   
   
 
কমিটি গঠন  
১২। (১) ট্রাস্টি বোর্ড উহার কার্যাবলি সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের নিমিত্ত, প্রয়োজনে, এক বা একাধিক কমিটি বা উপকমিটি গঠন এবং উহার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে।

(২) ট্রাস্টি বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত সংখ্যক সদস্য সমন্বয়ে কমিটি ও উপ-কমিটি গঠিত হইবে।

(৩) কমিটি এবং উপ-কমিটিতে স্থানীয় জনগণকে বিশেষ করিয়া কমিউনিটি ক্লিনিক ভবন প্রতিষ্ঠায় সংশ্লিষ্ট জমিদাতা পরিবারের প্রতিনিধিকে অন্তর্ভুক্ত করিতে হইবে।
   
   
 
ট্রাস্টি বোর্ডের সভা  
১৩। (১) এই ধারার অন্যান্য বিধানসাপেক্ষে, ট্রাস্টি বোর্ড উহার সভার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে।

(২) ট্রাস্টি বোর্ডের সভা, উহার সভাপতির সম্মতিক্রমে উহার সদস্য-সচিব কর্তৃক আহূত হইবে এবং সভাপতি কর্তৃক নির্ধারিত স্থান ও সময়ে অনুষ্ঠিত হইবে:

তবে শর্ত থাকে যে, প্রতি ৩ (তিন) মাসে বোর্ডের অন্যূন একটি সভা অনুষ্ঠিত হইবে, তবে জরুরি প্রয়োজনে সভাপতি যে কোনো সময় বোর্ডের সভা আহ্বান করিতে পারিবেন।

(৩) সভাপতি বোর্ডের সভায় সভাপতিত্ব করিবেন, সভাপতির অনুপস্থিতিতে সহ-সভাপতি এবং তাহাদের উভয়ের অনুপস্থিতিতে সভায় উপস্থিত সদস্যগণ কর্তৃক তাহাদের মধ্য হইতে মনোনীত কোনো সদস্য বোর্ডের সভায় সভাপতিত্ব করিবেন।

(৪) ট্রাস্টি বোর্ডের সভায় কোরামের জন্য মোট সদস্য সংখ্যার অন্যূন এক-তৃতীয়াংশ সদস্যের উপস্থিতি প্রয়োজন হইবে, তবে মুলতবি সভার ক্ষেত্রে কোরামের প্রয়োজন হইবে না।

(৫) ট্রাস্টি বোর্ডের সভায় উহার প্রত্যেক সদস্যের একটি করিয়া ভোট থাকিবে এবং ভোটের সমতার ক্ষেত্রে সভায় সভাপতিত্বকারীর দ্বিতীয় অথবা নির্ণায়ক ভোট প্রদানের ক্ষমতা থাকিবে।

(৬) ট্রাস্টি বোর্ডের সকল সিদ্ধান্ত সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সম্মতিতে গৃহিত হইবে।

(৭) সদস্য পদে শুধুমাত্র শূন্যতা বা বোর্ড গঠনে ত্রুটি থাকিবার কারণে বোর্ডের কোনো কার্য বা কার্যধারা অবৈধ হইবে না এবং তৎসম্পর্কে কোনো প্রশ্নও উত্থাপন করা যাইবে না।
   
   
 
ট্রাস্টের তহবিল  
১৪। (১) ট্রাস্টের একটি তহবিল থাকিবে এবং উহা নিম্নরূপ দুইটি অংশে বিভক্ত থাকিবে, যথা:-

(ক) স্থায়ী তহবিল; এবং

(খ) চলতি তহবিল

(২) উপ-ধারা (১) এর দফা (ক) এর অধীন গঠিত স্থায়ী তহবিলে নিম্নবর্ণিত উৎস হইতে প্রাপ্ত অর্থ জমা হইবে, যথা:-

(ক) সরকার কর্তৃক প্রদত্ত এককালীন অনুদান;

(খ) সরকার কর্তৃক, সময় সময়, প্রদত্ত অনুদান; এবং

(গ) উক্তরূপে জমাকৃত অর্থ হইতে প্রাপ্ত লভ্যাংশের সমুদয় অথবা অংশবিশেষ।

(৩) স্থায়ী তহবিলের অর্থ কোনো তপশিলি ব্যাংকে জমা রাখিতে হইবে এবং উক্তরূপ অর্থ ট্রাস্টের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য ব্যয় করা যাইবে এবং ব্যাংকের হিসাব ট্রাস্টি বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সদস্য-সচিবের স্বাক্ষরে পরিচালিত হইবে।

(৪) উপ-ধারা (১) এর দফা (খ) এর অধীন গঠিত চলতি তহবিলে নিম্নরূপ অর্থ জমা হইবে, যথা:-

(ক) সরকার কর্তৃক প্রদত্ত বার্ষিক অনুদান;

(খ) স্থানীয় ব্যক্তি অথবা স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত দান ও অনুদান;

(গ) বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের স্বেচ্ছাধীন আর্থিক সহায়তা;

(ঘ) প্রবাসীদের স্বেচ্ছাধীন আর্থিক সহায়তা;

(ঙ) সরকার অনুমোদিত বিদেশি উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার অনুদান;

(চ) সরকার অনুমোদিত অন্যান্য দেশি ও বিদেশি উৎস হইতে প্রাপ্ত অর্থ;

(ছ) সমাজের বিত্তবান, শিল্পপতি, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী ও অন্যান্য সংগঠন, সামাজিক প্রতিষ্ঠান বা অন্য কোনো উৎস হইতে প্রাপ্ত স্বেচ্ছাধীন অনুদান;

(জ) ট্রাস্টের আয়বর্ধনমূলক বিনিয়োগকৃত অর্থ হইতে মুনাফা বা লভ্যাংশের সমুদয় অর্থ অথবা উহার অংশবিশেষ;

(ঝ) সরকার অনুমোদিত লটারির টিকেট বিক্রয়লব্ধ অর্থ।

(৫) ট্রাস্টের দৈনন্দিন ব্যয় ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা চলতি তহবিল হইতে নির্বাহ করা হইবে।

(৬) স্থানীয় পর্যায়ে সংগৃহীত অর্থ চলতি তহবিলে কমিউনিটি ক্লিনিকের নামে স্থানীয় ব্যাংক হিসাবে জমা রাখিতে হইবে এবং এই ব্যাংক হিসাব ট্রাস্টি বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতিতে পরিচালিত হইবে।

(৭) ট্রাস্টি বোর্ডের সভায় গৃহিত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ট্রাস্ট আয়বর্ধনমূলক কর্মসূচি গ্রহণ ও বিনিয়োগ করিতে পারিবে।
   
   
 
ব্যবস্থাপনা পরিচালক  
১৫। (১) ট্রাস্টের ১ (এক) জন ব্যবস্থাপনা পরিচালক থাকিবেন।

(২) সরকারের ১ (এক) জন অতিরিক্ত সচিব ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসাবে নিযুক্ত হইবেন এবং তাহার চাকরির শর্তাদি সরকার কর্তৃক স্থিরীকৃত হইবে।

(৩) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ট্রাস্টের সার্বক্ষণিক মুখ্য নির্বাহী হইবেন এবং তিনি-

(ক) বোর্ডের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য দায়ী থাকিবেন;

(খ) বোর্ড কর্তৃক প্রদত্ত দায়িত্ব ও কার্য সম্পাদন করিবেন; এবং

(গ) ট্রাস্টের সাধারণ প্রশাসন পরিচালনা করিবেন।

(৪) ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ শূন্য হইলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা অথবা অন্য কোনো কারণে ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাহার দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে শূন্যপদে নবনিযুক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত কিংবা ব্যবস্থাপনা পরিচালক পুনরায় স্বীয় দায়িত্ব পালনে সমর্থ না হওয়া পর্যন্ত সরকার কর্তৃক মনোনীত ১ (এক) জন অতিরিক্ত সচিব ব্যবস্থাপনা পরিচালকরূপে দায়িত্ব পালন করিবেন।
   
   
 
ট্রাস্টের কর্মচারী  
১৬। (১) ট্রাস্ট ইহার কার্যাবলি সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের উদ্দেশ্যে সরকার কর্তৃক অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী বিভিন্ন গ্রেডের প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারিবে।

(২) ট্রাস্টের কর্মচারীদের চাকরির শর্তাবলি প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
   
   
 
বাজেট  
১৭। ট্রাস্ট প্রতি বৎসর সরকার কর্তৃক নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরবর্তী অর্থ বৎসরের বার্ষিক বাজেট বিবরণী সরকারের নিকট পেশ করিবে এবং উহাতে উক্ত অর্থ বৎসরে সরকারের নিকট হইতে ট্রাস্টের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের পরিমাণ উল্লেখ থাকিবে।
   
   
 
হিসাবরক্ষণ ও নিরীক্ষা  
১৮। (১) ট্রাস্ট উহার আয়-ব্যয়ের যথাযথ হিসাবরক্ষণ করিবে এবং হিসাবের বার্ষিক বিবরণী প্রস্তুত করিবে।

(২) বাংলাদেশের মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, অতঃপর মহা হিসাব-নিরীক্ষক বলিয়া উল্লিখিত, প্রতি বৎসর ট্রাস্টের হিসাব নিরীক্ষা করিবেন এবং নিরীক্ষা রিপোর্টের অনুলিপি সরকার ও বোর্ডের নিকট পেশ করিবেন।

(৩) উপ-ধারা (২) অনুযায়ী হিসাব নিরীক্ষার উদ্দেশ্যে মহা হিসাব-নিরীক্ষক কিংবা তাহার নিকট হইতে এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি ট্রাস্টের সকল রেকর্ড, দলিল-দস্তাবেজ, নগদ অথবা ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, জামানত, ভাণ্ডার এবং অন্যবিধ সম্পত্তি পরীক্ষা করিয়া দেখিতে পারিবেন এবং ট্রাস্টের যে কোনো সদস্য ও কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করিতে পারিবেন।

(৪) উপ-ধারা (২) এর অধীন হিসাব-নিরীক্ষা ছাড়াও Bangladesh Chartered Accountants Order, 1973 (P.O No. 2 of 1973) এর Article 2(1)(b) তে সংজ্ঞায়িত চার্টার্ড একাউনটেন্ট দ্বারা ট্রাস্টের হিসাব নিরীক্ষা করা যাইবে এবং এতদুদ্দেশ্যে এক বা একাধিক চার্টার্ড একাউনটেন্ট নিয়োগ করিতে পারিবে।
   
   
 
প্রতিবেদন  
১৯। (১) প্রত্যেক অর্থ বৎসর শেষ হইবার পরবর্তী বৎসরের ৩০শে জুনের মধ্যে ট্রাস্টি বোর্ড উক্ত অর্থ বৎসরের সম্পাদিত কার্যাবলির বিবরণ সংবলিত একটি বার্ষিক প্রতিবেদন সরকারের নিকট পেশ করিবে।

(২) সরকার, প্রয়োজনে, ট্রাস্টি বোর্ডের নিকট হইতে যে কোনো সময়ে উহার যে কোনো কাজের প্রতিবেদন বা বিবরণী আহ্বান করিতে পারিবে এবং ট্রাস্টি বোর্ড উহা সরকারের নিকট প্রেরণ করিতে বাধ্য থাকিবে।
   
   
 
ক্ষমতা অর্পণ  
২০। ট্রাস্টি বোর্ড এই আইন অথবা বিধির অধীন ইহার যে কোনো ক্ষমতা, প্রয়োজনে এবং নির্ধারিত শর্তে, সভাপতি বা অন্য কোনো সদস্য, অথবা ৯ম বা তদুর্ধ্ব গ্রেডভুক্ত অন্য কোনো কর্মচারীর নিকট অর্পণ করিতে পারিবে।
   
   
 
বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা  
২১। এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।
   
   
 
প্রবিধান প্রণয়নের ক্ষমতা  
২২। এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, ট্রাস্টি বোর্ড, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে এবং সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইন অথবা বিধির সহিত অসামঞ্জস্যপূর্ণ নহে, এইরূপ প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে।
   
   
 
নীতিমালা প্রণয়নের ক্ষমতা  
২৩। এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, ট্রাস্টি বোর্ড, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইন, বিধি, প্রবিধান বা সরকারি কোনো বিধি-বিধানের সহিত অসামঞ্জস্যপূর্ণ নহে, এইরূপ নীতিমালা প্রণয়ন করিতে পারিবে।
   
   
 
হেফাজত  
২৪। আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইন, সমঝোতা স্মারক, চুক্তি বা অন্য কোনো দলিলে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইন কার্যকর হইবার সঙ্গে সঙ্গে-

(ক) ৩০ জুন ২০১৫ এ সমাপ্ত ‘Revitalization of Community Health Care Initiatives in Bangladesh (RCHCIB)’ শীর্ষক প্রকল্প, অতঃপর সমাপ্ত প্রকল্প বলিয়া উল্লিখিত, এবং ‘Community Based Health Care’ শীর্ষক অপারেশনাল প্ল্যান, অতঃপর উক্ত প্ল্যান বলিয়া উল্লিখিত, উহার কার্যালয়ের সকল স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি এবং নগদ ও ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ ও জামানত, সকল দাবি, হিসাব বহি, রেজিস্টার, এবং অন্যান্য দলিল ট্রাস্টে ন্যস্ত হইবে;

(খ) সমাপ্ত প্রকল্প ও অপারেশনাল প্ল্যানের অধীন প্রকল্প কার্যালয় বা কমিউনিটি ক্লিনিক কর্তৃক কৃত কোনো কার্য বা গৃহিত ব্যবস্থা বা ইস্যুকৃত বিজ্ঞপ্তি ট্রাস্ট কর্তৃক কৃত, গৃহিত বা ইস্যুকৃত বলিয়া গণ্য হইবে;

(গ) সমাপ্ত প্রকল্প ও অপারেশনাল প্ল্যানের সকল দায়-দায়িত্ব ট্রাস্টের দায়-দায়িত্ব বলিয়া গণ্য হইবে;

(ঘ) সমাপ্ত প্রকল্প ও অপারেশনাল প্ল্যানের বিরুদ্ধে বা তৎকর্তৃক দায়েরকৃত মামলা বা আইনগত কার্যধারা ট্রাস্টের বিরুদ্ধে বা ট্রাস্ট কর্তৃক দায়েরকৃত মামলা বা আইনগত কার্যধারা বলিয়া গণ্য হইবে;

(ঙ) ‘Revitalization of Community Health Care Initiatives in Bangladesh (RCHCIB)’ প্রকল্প এবং ‘Community Based Health Care’ শীর্ষক অপারেশনাল প্ল্যানের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর এবং কমিউনিটি ক্লিনিকের সকল কর্মচারীর চাকরি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ট্রাস্টে ন্যস্ত হইবে এবং উক্ত প্রকল্প ও প্ল্যানের অধীন চাকরির জ্যেষ্ঠতা অনুযায়ী তাহাদের চাকরির জ্যেষ্ঠতা প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে এবং দেশে প্রচলিত অন্যান্য সংবিধিবদ্ধ সংস্থায় কর্মরত কর্মচারীদের ন্যায় তাহাদের স্থায়ীকরণ, বেতন বৃদ্ধি, পদোন্নতির সুযোগ, গ্র্যাচুইটি এবং অবসরভাতাসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা প্রাপ্য হইবে।
   
   
 
ইংরেজিতে অনূদিত পাঠ প্রকাশ  
২৫। (১) এই আইন কার্যকর হইবার পর সরকার, সরকারি গেজেট প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের ইংরেজিতে অনূদিত একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ (Authentic English Text) প্রকাশ করিতে পারিবে।

(২) বাংলা ও ইংরেজি পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাইবে।
   
   
   
 

Copyright © 2010, Legislative and Parliamentary Affairs Division
Ministry of Law, Justice and Parliamentary Affairs