বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী আইন, ১৯৮৯
( ১৯৮৯ সনের ২২ নং আইন )
  [৩১ মে, ১৯৮৯]]
     
      Bangladesh Shilpakala Academy Act, ১৯৭৪ রহিত করিয়া কতিপয় সংশোধনীসহ উহা পুনঃপ্রণয়নের উদ্দেশ্যে প্রণীত আইন৷
 

যেহেতু Bangladesh Shilpakala Academy Act, ১৯৭৪ (XXXI of 1974) রহিত করিয়া কতিপয় সংশোধনীসহ উহা পুনঃপ্রণয়ন সমীচীন ও প্রয়োজনীয়;

সেহেতু এতদ্‌দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল :-

   
 
সংক্ষিপ্ত শিরোনামা  
১৷ এই আইন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী আইন, ১৯৮৯ নামে অভিহিত হইবে৷
   
   
 
সংজ্ঞা  
২৷ বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে,-

(ক) “একাডেমী” অর্থ এই আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী;

(খ) “মহাপরিচালক” অর্থ একাডেমীর মহাপরিচালক;

(গ) “সচিব” অর্থ একাডেমীর সচিব;

(ঘ) “পরিষদ” অর্থ ৫ ধারার অধীন গঠিত পরিষদ৷
   
   
 
একাডেমী প্রতিষ্ঠা  
৩৷ (১) এই আইন বলবত্ হইবার সঙ্গে সঙ্গে এই আইনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী নামে একটি একাডেমী প্রতিষ্ঠিত হইবে৷

(২) একাডেমী একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হইবে এবং ইহার স্থায়ী ধারাবাহিকতা ও একটি সাধারণ সীলমোহর থাকিবে এবং ইহার অস্থাবর ও স্থাবর উভয় প্রকার সম্পত্তি অর্জন করার, অধিকারে রাখার এবং হস্তান্তর করার ক্ষমতা থাকিবে এবং ইহার নামে ইহা মামলা দায়ের করিতে পারিবে বা ইহার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা যাইবে৷

(৩) একাডেমীর প্রধান কার্যালয় ঢাকায় থাকিবে৷
   
   
 
সাধারণ পরিচালনা  
৪৷ একাডেমীর সাধারণ পরিচালনা ও প্রশাসন একটি পরিষদের উপর ন্যস্ত থাকিবে এবং পরিষদ সেই সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কাজ করিতে পারিবে যাহা একাডেমী কর্তৃক প্রযুক্ত ও সম্পন্ন হইতে পারে৷
   
   
 
পরিষদের গঠন  
৫৷ (১) নিম্্নরূপ সদস্যগণের সমন্বয়ে পরিষদ গঠিত হইবে, যথা :-

(ক) সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় বা বিভাগের দায়িত্বে নিয়োজিত মন্ত্রী, যিনি পরিষদের সভাপতিও হইবেন;

(খ) সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় বা বিভাগের দায়িত্বে নিয়োজিত সচিব, যিনি পরিষদের সহ-সভাপতিও হইবেন;

(গ) অর্থ, শিক্ষা ও তথ্য মন্ত্রণালয় বা বিভাগের দায়িত্বে নিয়োজিত সচিববৃন্দ বা উক্ত সচিববৃন্দ কর্তৃক মনোনীত তাঁহাদের স্ব-স্ব মন্ত্রণালয় বা বিভাগ হইতে একজন করিয়া প্রতিনিধি;

(ঘ) সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সংস্কৃতি উপদেষ্টা;

(ঙ) জাতীয় সম্প্রচার কর্তৃপক্ষের সভাপতি, বাংলা একাডেমী এবং বাংলাদেশ জাতীয় যাদুঘরের মহাপরিচালকবৃন্দ, পদাধিকারবলে;

(চ) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের পরিচালক, পদাধিকারবলে;

(ছ) সরকার কর্তৃক মনোনীত একজন মহিলা, যিনি শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রে একজন স্বীকৃত ব্যক্তিত্ব;

(জ) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, পদাধিকারবলে;

(ঝ) সরকার কর্তৃক মনোনীত কোন জাতীয় দৈনিক পত্রিকার একজন সম্পাদক;

(ঞ) সরকার কর্তৃক মনোনীত প্রতিটি প্রশাসনিক বিভাগ হইতে একজন করিয়া খ্যাতিমান বেসরকারী ব্যক্তি;

(ট) সরকার কর্তৃক মনোনীত সঙ্গীত, নৃত্য ও নাটকের ক্ষেত্রে স্বীকৃত ব্যক্তিগণের মধ্য হইতে একজন করিয়া তিনজন ব্যক্তি;

(ঠ) একাডেমীর মহাপরিচালক, যিনি পরিষদের সচিবও হইবেন;

(ড) সরকার কর্তৃক মনোনীত তিন জন সংসদ-সদস্য৷

(২) পরিষদের মনোনীত সদস্যগণ তাঁহাদের মনোনয়নের তারিখ হইতে তিন বত্সরের জন্য সদস্য পদে বহাল থাকিবেন :

তবে শর্ত থাকে যে, একজন মনোনীত সদস্য যে কোন সময় সভাপতিকে উদ্দেশ্য করিয়া তাঁহার স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে পারিবেন [ :

তবে আরও শর্ত থাকে যে, সরকার যে কোন সময় কোন মনোনীত সদস্যের মনোনয়ন বাতিল করিতে পারিবে৷]
   
   
 
পরিষদের সভাপতি  
৬৷ (১) পরিষদের সভাপতি পরিষদের সকল সভায় সভাপতিত্ব করিবেন এবং এই আইন দ্বারা তাঁহার উপর অর্পিত সকল দায়িত্ব পালন করিবেন৷

(২) অসুস্থতা বা অন্য কোন কারণে পরিষদের সভাপতি তাঁহার দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে বা পরিষদের সভাপতির পদ শূন্য থাকিলে পরিষদের সহ-সভাপতি পরিষদের সভাপতির সকল দায়িত্ব পালন করিবেন৷
   
   
 
একাডেমীর ক্ষমতা ও দায়িত্ব  
৭৷ একাডেমীর নিম্নরূপ ক্ষমতা ও দায়িত্ব থাকিবে, যথা :-

(ক) জাতীয় আশা-আকাঙ্খার সংগে সংগতি রাখিয়া ললিতকলা, জাতীয় সংস্কৃতি ও কৃষ্টির উন্নয়ন, সমৃদ্ধি ও প্রসার ঘটানো এবং উহাদের উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ সুবিধা সৃষ্টি করা;

(খ) প্রতিভাবান ও পন্ডিত শিল্পী এবং কলাকুশলী দ্বারা কর্মশালা, সেমিনার ও আলোচনা সভার আয়োজন করা;

(গ) ললিতকলা, চারুকলা ও সংস্কৃতির বিশেষ ক্ষেত্র বা ধারার উত্কর্ষ সাধনের উদ্দেশ্যে স্বল্পকালীন উচ্চতর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা;

(ঘ) প্রতিভার বিকাশ সাধনের উদ্দেশ্যে শিক্ষার্থী-শিল্পীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা;

(ঙ) অভাবগ্রস্ত অথচ প্রতিভাবান শিক্ষার্থী শিল্পীদের, বিশেষ করিয়া কন্ঠ, নৃত্য ও যন্ত্র সংগীত শিল্পীদের জন্য প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে বৃত্তি প্রদানের ব্যবস্থা করা;

(চ) অজ্ঞাত বা স্বল্প পরিচিত প্রতিভাবান শিল্পীদের অনুসন্ধান করিয়া তাঁহাদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি করা;

(ছ) ললিতকলা এবং সংস্কৃতির ক্ষেত্রে নিবেদিত প্রতিষ্ঠানের অবদান মূল্যায়ন করিয়া প্রয়োজনবোধে উহাদিগকে আর্থিক অনুদান প্রদান করা এবং এইরূপ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের গুণগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়তা প্রদান করা;

(জ) শিল্পকলার সংশ্লিষ্ট বিষয়ের উপর প্রতিযোগিতার আয়োজন করা ও কৃতী শিল্পীদের পুরস্কার প্রদান করা;

(ঝ) শিল্পকলার বিভিন্ন বিষয়ের উপর শিক্ষামূলক ফিল্ম আমদানী করিয়া অথবা এইরূপ ফিল্ম দেশে তৈয়ার করিয়া তাহা প্রদর্শনের মাধ্যমে শিল্পকলা চর্চাকে উত্সাহিত করা;

(ঞ) বিভিন্ন দেশে ললিতকলা ক্ষেত্রে উদ্ভাবিত নব নব কলাকৌশল ও ধ্যানধারণা সম্পর্কে দেশের শিল্পী ও শিল্পানুরাগীদের পরিচিত করিয়া তুলিবার জন্য বিদেশ হইতে উন্নতমানের সাংস্কৃতিক দল বা গোষ্ঠীকে আমন্ত্রণ জানাইয়া দেশের শিল্পী ও শিল্পানুরাগীদের সম্মুখে তাঁহাদের কলাকৌশল পরিবেশনের ব্যবস্থা করা;

(ট) রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা;

(ঠ) ললিতকলা, চারুকলা ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট সমস্যা সমাধানের জন্য যোগ্য ব্যক্তির দ্বারা গবেষণা কর্মসূচী গ্রহণ এবং তাহা প্রকাশের ও বিক্রয়ের ব্যবস্থা করা;

(ড) দেশের সংস্কৃতিকে জনগণের সম্মুখে উপস্থাপনের জন্য বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও প্রদর্শনীর আয়োজন করা;

(ঢ) বিদেশে বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে তুলিয়া ধরিবার লক্ষ্যে সরকারের পূর্ব অনুমোদন লইয়া বিদেশে সাংস্কৃতিক দল প্রেরণ করা;

(ণ) উপরোল্লিখিত কার্যাদির সম্পূরক ও প্রাসঙ্গিক অন্যান্য কার্য সম্পাদন করা৷
   
   
 
একাডেমীর বিভাগ  
৮৷ (১) একাডেমীর নিম্নবর্ণিত বিভাগ থাকিবে, যথা :-

(ক) চারুকলা বিভাগ;

(খ) নাট্যকলা বিভাগ;

(গ) সংগীত ও নৃত্য বিভাগ;

(ঘ) প্রযোজনা বিভাগ;

(ঙ) আলোকচিত্র বিভাগ;

(চ) প্রশাসন ও অর্থ বিভাগ৷

(২) সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে একাডেমী নূতন বিভাগ সৃষ্টি করিতে পারিবে এবং উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত বিভাগগুলির যে কোন বিভাগ বিলুপ্ত করিতে পারিবে এবং উহাদের পুনর্বিন্যাস করিতে পারিবে৷

(৩) প্রশাসন ও অর্থ বিভাগ সচিবের দায়িত্বে ন্যস্ত থাকিবে এবং অন্যান্য প্রত্যেকটি বিভাগ একজন পরিচালকের দায়িত্বে ন্যস্ত থাকিবে৷

(৪) প্রতিটি বিভাগ একাডেমী কর্তৃক নির্ধারিত দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করিবে৷
   
   
 
মহাপরিচালক  
৯৷ (১) একাডেমীর একজন মহাপরিচালক থাকিবেন৷

(২) মহাপরিচালক সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন এবং তাঁহার চাকুরীর শর্তাদি সরকার কর্তৃক স্থিরীকৃত হইবে৷

(৩) মহাপরিচালকের পদ শূন্য হইলে, কিংবা অনুপস্থিতি বা অসুস্থতাহেতু বা অন্য কোন কারণে মহাপরিচালক দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে শূন্য পদে নবনিযুক্ত মহাপরিচালক কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত কিংবা মহাপরিচালক পুনরায় স্বীয় দায়িত্ব পালনে সমর্থ না হওয়া পর্যন্ত সচিব মহাপরিচালকরূপে কার্য করিবেন৷

(৪) মহাপরিচালক একাডেমীর সার্বক্ষণিক মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হইবেন এবং তিনি-

(ক) পরিষদ কর্তৃক প্রদত্ত ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্যসম্পাদন করিবেন;

(খ) পরিষদের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য দায়ী থাকিবেন;

(গ) একাডেমীর প্রশাসন পরিচালনা করিবেন৷
   
   
 
সচিব  
১০৷ (১) একাডেমীর একজন সচিব থাকিবেন৷

(২) সচিব সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন এবং তাঁহার চাকুরীর শর্তাদি সরকার কর্তৃক স্থিরীকৃত হইবে৷

(৩) সচিব মহাপরিচালককে তাঁহার যাবতীয় প্রশাসনিক কাজকর্মে সহায়তা করিবেন৷
   
   
 
পরিচালক ও অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ  
১১৷ (১) একাডেমী উহার বিভাগগুলি পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক পরিচালক নিয়োগ করিতে পারিবে৷

(২) একাডেমী উহার দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালনের জন্য অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারিবে৷

(৩) একাডেমীর পরিচালক ও উহার অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়োগ ও চাকুরীর শর্তাদি প্রবিধান দ্বারা নির্ধারণ করা হইবে৷
   
   
 
পরিষদের সভা  
১২৷ (১) পরিষদ প্রতি তিন মাসে কমপক্ষে একবার সভায় মিলিত হইবে এবং সভার তারিখ, সময় ও স্থান পরিষদের সভাপতি কর্তৃক নির্ধারণ করা হইবে৷

(২) একাডেমীর সভাপতি, প্রয়োজনবোধে, যে কোন সময় পরিষদের বিশেষ সভা আহবান করিতে পারিবেন৷

(৩) ন্যুনতম নয় জন সদস্য-সমন্বয়ে পরিষদের সভার কোরাম গঠিত হইবে৷

(৪) পরিষদের প্রত্যেক সদস্যের একটি করিয়া ভোট থাকিবে এবং ভোটের সমতার ক্ষেত্রে সভায় সভাপতিত্বকারী ব্যক্তির দ্বিতীয় বা নির্ণায়ক ভোট প্রদানের ক্ষমতা থাকিবে৷
   
   
 
কার্যনির্বাহী কমিটি  
১৩৷ (১) মহাপরিচালককে তাঁহার কার্য সম্পাদন ও দায়িত্ব পালনে সহায়তা করার জন্য একাডেমীর একটি কার্যনির্বাহী কমিটি থাকিবে৷

(২) এই কমিটি পরিষদ কর্তৃক নির্বাচিত অনধিক সাতজন সদস্য-সমন্বয়ে গঠিত হইবে৷

(৩) মহাপরিচালক কমিটির সভাপতি হইবেন এবং সচিব উহার [ সদস্য] এর দায়িত্ব পালন করিবেন৷

(৪) কমিটি প্রতি মাসে কমপক্ষে একবার সভায় মিলিত হইবে, তবে কমিটির সভাপতি প্রয়োজনবোধে যে কোন সময় কমিটির সভা আহবান করিতে পারিবেন৷
   
   
 
একাডেমীর সম্পত্তি বিক্রয় ইত্যাদি  
১৪৷ একাডেমীর স্বার্থে প্রয়োজন হইলে, পরিষদ একাডেমীর কোন সম্পত্তি, সরকারের পূর্বানুমতিক্রমে, বিক্রয় বা অন্য যে কোন উপায়ে হস্তান্তর করিতে পারিবে৷
   
   
 
একাডেমীর তহবিল  
১৫৷ (১) একাডেমীর একটি তহবিল থাকিবে এবং উহাতে সরকারের অনুদান, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বা অন্য কোন প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রদত্ত অনুদান এবং একাডেমী কর্তৃক প্রাপ্ত অন্য যে কোন অর্থ জমা হইবে৷

(২) এই তহবিল একাডেমীর নামে পরিষদ কর্তৃক অনুমোদিত কোন ব্যাংকে রাখা হইবে৷

(৩) এই তহবিল হইতে একাডেমীর প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহ করা হইবে৷
   
   
 
বার্ষিক বাজেট বিবরণী  
১৬৷ একাডেমী প্রতি বত্সর সরকার কর্তৃক নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরবর্তী অর্থ-বত্সরের বার্ষিক বাজেট বিবরণী সরকারের নিকট পেশ করিবে এবং উহাতে উক্ত অর্থ-বত্সরে সরকারের নিকট হইতে একাডেমীর কি পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন উহার উল্লেখ থাকিবে৷
   
   
 
হিসাব রক্ষণ ও নিরীক্ষা  
১৭৷ (১) একাডেমী যথাযথভাবে একাডেমীর হিসাব রক্ষণ করিবে এবং হিসাবের বার্ষিক বিবরণী প্রস্তুত করিবে৷

(২) বাংলাদেশের মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, অতঃপর মহা হিসাব-নিরীক্ষক নামে অভিহিত, প্রতি বত্সর একাডেমীর হিসাব নিরীক্ষা করিবেন এবং নিরীক্ষা রিপোর্টের একটি করিয়া কপি সরকার ও একাডেমীর নিকট পেশ করিবেন৷

(৩) উপ-ধারা (২) মোতাবেক হিসাব নিরীক্ষার উদ্দেশ্যে মহা হিসাব-নিরীক্ষক কিংবা তাঁহার নিকট হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি একাডেমীর সকল রেকর্ড, দলিল-দস্তাবেজ, নগদ বা ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, জামানত, ভান্ডার এবং অন্যবিধ সম্পত্তি পরীক্ষা করিয়া দেখিতে পারিবেন এবং একাডেমীর সভাপতি, সদস্য, মহাপরিচালক, পরিচালক, সচিব বা একাডেমীর যে কোন কর্মকর্তা বা অন্যান্য কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করিতে পারিবেন৷
   
   
 
প্রতিবেদন  
১৮৷ সরকার প্রয়োজনমত একাডেমীর নিকট হইতে একাডেমীর যে কোন বিষয়ের উপর প্রতিবেদন এবং বিবরণী আহবান করিতে পারিবেন এবং একাডেমী উহা সরকারের নিকট প্রেরণ করিতে বাধ্য থাকিবে৷
   
   
 
ক্ষমতা অর্পণ  
১৯৷ (১) পরিষদ এই আইনের বিধান মোতাবেক যে ক্ষমতার অধিকারী তাহা পরিষদ প্রয়োজনবোধে, তত্কর্তৃক নির্ধারিত শর্ত সাপেক্ষে, মহা-পরিচালককে অর্পণ করিতে পারিবে৷

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন অর্পিত ক্ষমতা ব্যতিরেকে, মহাপরিচালক এই আইনের বিধান মোতাবেক যে ক্ষমতার অধিকারী তাহা তিনি প্রয়োজনবোধে, তত্কর্তৃক নির্ধারিত শর্ত সাপেক্ষে, একাডেমীর যে কোন কর্মকর্তাকে অর্পণ করিতে পারিবেন৷
   
   
 
প্রবিধান প্রণয়ন  
২০৷ এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে পরিষদ, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে৷
   
   
 
রহিতকরণ ও হেফাজত  
২১৷ (১) The Bangladesh Shilpakala Academy Act, 1974 (XXXI of 1974), অতঃপর উক্ত Act বলিয়া উল্লিখিত, এতদ্বারা রহিত করা হইল৷

(২) উক্ত Act রহিত হইবার সঙ্গে সঙ্গে-

(ক) উক্ত Act এর অধীন গঠিত Bangladesh Shilpakala Academy, অতঃপর বিলুপ্ত Academy বলিয়া উল্লিখিত, বিলুপ্ত হইবে;

(খ) বিলুপ্ত Academy এর সকল সম্পদ, অধিকার, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব ও সুবিধাদি এবং স্থাবর ও অস্থাবর সকল সম্পত্তি, নগদ ও ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ এবং অন্য সকল দাবী ও অধিকার একাডেমীতে হস্তান্তরিত হইবে এবং একাডেমী উহার অধিকারী হইবে;

(গ) বিলুপ্ত হইবার অব্যবহিত পূর্বে বিলুপ্ত Academy এর যে সকল ঋণ, দায় এবং দায়িত্ব ছিল তাহা একাডেমীর ঋণ, দায় এবং দায়িত্ব হইবে;

(ঘ) বিলু্‌প্ত হইবার পূর্বে বিলু্‌প্ত Academy কর্তৃক অথবা উহার বিরুদ্ধে কৃত যে সকল মামলা-মোকদ্দমা চালু ছিল, সেই সকল মামলা-মোকদ্দমা একাডেমী কর্তৃক অথবা একাডেমীর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত বলিয়া গণ্য হইবে;

(ঙ) কোন চুক্তিতে, দলিলে বা চাকুরী শর্তে যাহাই থাকুক না কেন, বিলুপ্ত Academy এর মহাপরিচালক, সচিব এবং অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীর চাকুরী একাডেমীতে হস্তান্তরিত হইবে এবং তাঁহারা একাডেমী কর্তৃক নিযুক্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারী বলিয়া গণ্য হইবেন এবং তাঁহারা এই হস্তান্তরের পূর্বে যে শর্তে চাকুরীতে নিয়োজিত ছিলেন, একাডেমী কর্তৃক পরিবর্তিত না হওয়া পর্যন্ত, সেই একই শর্তে তাঁহারা একাডেমীর চাকুরীতে নিয়োজিত থাকিবেন৷
   
   
   
 
১ কোলন (:) দাঁড়ির (৷) পরিবর্তে এবং অতঃপর শর্তাংশটি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী (সংশোধন) আইন, ১৯৯৪ (১৯৯৪ সনের ৪ নং আইন) এর ২ ধারাবলে প্রতিস্থাপিত

২ “সদস্য” শব্দটি “সদস্য-সচিব” শব্দগুলির পরিবর্তে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী (সংশোধন) আইন, ১৯৯৪ (১৯৯৪ সনের ৪ নং আইন) এর ৩ ধারাবলে প্রতিস্থাপিত

Copyright © 2010, Legislative and Parliamentary Affairs Division
Ministry of Law, Justice and Parliamentary Affairs