বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড আইন, ২০০০
( ২০০০ সনের ২৬ নং আইন )
  [১১ জুলাই, ২০০০ ]
     
      Bangladesh Water and Power Development Boards Order, 1972 (P. O. No. 59 of 1972) -এর অধীন প্রতিষ্ঠিত ইধহমষধফবংয ডধঃবত্ উবাবষড়ঢ়সবহঃ ইড়ধত্ফ সংক্রান্ত বিধানাবলী রহিত করিয়া পানি সম্পদের উন্নয়ন ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে সংশোধিত আকারে আইন প্রণয়নের উদ্দেশ্যে প্রণীত আইন৷
 

যেহেতু ইধহমষধফবংয ডধঃবত্ ধহফ চড়বিত্ উবাবষড়ঢ়সবহঃ ইড়ধত্ফং ঙত্ফবত্, ১৯৭২ (চ. ঙ. ঘড়. ৫৯ ড়ভ ১৯৭২) - এর অধীন প্রতিষ্ঠিত ইধহমষধফবংয ডধঃবত্ উবাবষড়ঢ়সবহঃ ইড়ধত্ফ সংক্রান্ত বিধানাবলী রহিত করিয়া পানি সম্পদের উন্নয়ন ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে সংশোধিত আকারে আইন প্রণয়ন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়;

সেহেতু এতদ্‌দ্বারা নিম্্নরূপ আইন করা হইল:-

   
 
সংক্ষিপ্ত শিরোনামা  
১৷ এই আইন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড আইন, ২০০০ নামে অভিহিত হইবে৷
   
   
 
সংজ্ঞা  
২৷ বিষয় বা প্রসংগের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে,-

(ক) “অতিরিক্ত মহাপরিচালক” অর্থ বোর্ডের অতিরিক্ত মহাপরিচালক;

(খ) “এফসিডি প্রকল্প” অর্থ বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পানি নিষ্কাশন প্রকল্প;

(গ) “এফসিডিআই প্রকল্প” অর্থ বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানি নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্প;

(ঘ) “চেয়ারম্যান” অর্থ পরিষদের চেয়ারম্যান;

(ঙ) “পরিষদ” অর্থ বোর্ডের পরিচালনা পরিষদ;

(চ) “প্রবিধান” অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত প্রবিধান;

(ছ) “বিধি” অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি;

(জ) “বোর্ড” অর্থ এই আইনের অধীনে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড;

(ঝ) “মহাপরিচালক” অর্থ বোর্ডের মহাপরিচালক;

(ঞ) “সদস্য” অর্থ পরিষদের সদস্য;

(ট) “স্থানীয় কর্তৃপক্ষ” অর্থ আপাততঃ বলবত্ কোন আইনের অধীন গঠিত সিটি কর্পোরেশন, জেলা পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ অথবা ইউনিয়ন পরিষদ৷
   
   
 
বোর্ড প্রতিষ্ঠা  
৩৷ (১) এই আইন বলবত্ হইবার সংগে সংগে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড নামে একটি সংস্থা প্রতিষ্ঠিত হইবে৷

(২) বোর্ড একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হইবে এবং ইহার স্থায়ী ধারাবাহিকতা ও একটি সাধারণ সীলমোহর থাকিবে এবং এই আইনের বিধানাবলীর সাপেক্ষে, ইহার স্থাবর ও অস্থাবর উভয় প্রকার সম্পত্তি অর্জন করার, অধিকারে রাখার ও হস্তান্তর করার ক্ষমতা থাকিবে এবং বোর্ডের নামে উহার পক্ষে বা বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা যাইবে৷
   
   
 
বোর্ডের প্রধান কার্যালয়  
৪৷ বোর্ডের প্রধান কার্যালয় ঢাকায় থাকিবে এবং ইহার কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের স্বার্থে বোর্ড বাংলাদেশের যে কোন স্থানে শাখা কার্যালয় স্থাপন করিতে পারিবে এবং প্রয়োজনে স্থাপিত কোন শাখা কার্যালয় স্থানান্তর বা বিলুপ্ত করিতে পারিবে৷
   
   
 
বোর্ডের ক্ষমতা ও দায়িত্ব  
৫৷ (১) এই আইনের বিধানাবলী সাপেক্ষে, পানি সম্পদের উন্নয়ন ও দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং ধারা ৬-এ বর্ণিত কার্যাবলী সম্পাদনের লক্ষ্যে বোর্ড সমগ্র বাংলাদেশ অথবা উহার যে কোন অংশে কার্যক্রম গ্রহণ করিতে পারিবে৷

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন ক্ষমতা ও দায়িত্বের সামগ্রিকতা ক্ষুণ্ন না করিয়া, বোর্ডের নিম্্নবর্ণিত ক্ষমতা ও দায়িত্ব থাকিবে, যথা:-

(ক) কোন ব্যক্তির আইনসংগত অধিকার ক্ষুণ্ন না করিয়া, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, সকল নদী, জলপথ ও ভূ-গর্ভস্থ পানিস্তরের পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ;

(খ) ধারা ৬-এর বিধানাবলী অনুসারে নির্মিত সকল পানি নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামো পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য যথাযথ মান ও নির্দেশিকা উদ্ভাবন ও প্রয়োগ;

(গ) বোর্ডের কার্যাবলী সম্পাদনের নিমিত্তে প্রয়োজনীয় কলকারখানা, মেশিন, যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য সহায়ক সরঞ্জাম সংগ্রহের জন্য চুক্তি স্বাক্ষর;

(ঘ) সরকার কর্তৃক অনুমোদিত প্রকল্প দলিলের ভিত্তিতে প্রকল্প প্রণয়ন, বাস্তবায়ন ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পরামর্শ ও সহায়তা লাভের জন্য কোন স্থানীয় সরকারী সংস্থা, স্থানীয় বা আন্তর্জাতিক পরামর্শক বা পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এর সহিত চুক্তি স্বাক্ষর;

(ঙ) সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানি নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পসমূহের পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সার্ভিস চার্জ ধার্যকরণ ও আদায়;

(চ) যে কোন সরকারী সংস্থার পক্ষে পানি সংশ্লিষ্ট যে কোন প্রকল্প, উহার সম্পূর্ণ কারিগরী, প্রশাসনিক ও আর্থিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখিয়া ডিপোজিট ওয়ার্ক হিসাবে বাস্তবায়ন৷
   
   
 
বোর্ডের কার্যাবলী  
৬৷ (১) সরকার কর্তৃক গৃহীত জাতীয় পানি নীতি ও জাতীয় পানি মহাপরিকল্পনার আলোকে এবং এই ধারার অন্যান্য বিধানাবলী সাপেক্ষে, বোর্ড নিম্্নবর্ণিত কার্যাবলী সম্পাদন এবং তদুদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় প্রকল্প প্রণয়ন, বাস্তবায়ন, পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ ও মূল্যায়ন সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম গ্রহণ করিতে পারিবে, যথা:-

কাঠামোগত কার্যাবলী:

(ক) নদী ও নদী অববাহিকা নিয়ন্ত্রণ ও উন্নয়ন এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানি নিষ্কাশন, সেচ ও খরা প্রতিরোধের লক্ষ্যে জলাধার, ব্যারেজ, বাঁধ, রেগুলেটর বা অন্য যে কোন অবকাঠামো নির্মাণ;

(খ) সেচ, মত্স্য চাষ, নৌ-পরিবহণ, বনায়ন, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও পরিবেশের সার্বিক উন্নয়নে সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে পানি প্রবাহের উন্নয়ন কিংবা পানি প্রবাহের গতিপথ পরিবর্তনের জন্য জলপথ, খালবিল ইত্যাদি পুনঃখনন;

(গ) ভূমি সংরক্ষণ, ভূমি পরিবৃদ্ধি ও পুনরুদ্ধার এবং নদীর মোহনা নিয়ন্ত্রণ;

(ঘ) নদীর তীর সংরক্ষণ এবং নদী ভাঙ্গন হইতে সম্ভাব্য ক্ষেত্রে শহর, বাজার, হাট এবং ঐতিহাসিক ও জাতীয় জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহ সংরক্ষণ;

(ঙ) উপকূলীয় বাঁধ নির্মাণ ও সংরক্ষণ;

(চ) লবণাক্ততার অনুপ্রবেশ রোধ এবং মরুকরণ প্রশমন;

(ছ) সেচ, পরিবেশ সংরক্ষণ ও পানীয় জল আহরণের লক্ষ্যে বৃষ্টির পানি ধারণ৷

অ-কাঠামোগত ও সহায়ক কার্যাবলী:

(জ) বন্যা ও খরা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ;

(ঝ) পানিবিজ্ঞান সম্পর্কিত অনুসন্ধান কার্য পরিচালনা এবং এতদসম্পর্কিত তথ্য ও উপাত্ত গ্রহণ, সংরক্ষণ ও বিতরণ;

(ঞ) পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থার সহযোগিতায় এবং সম্ভাব্য ক্ষেত্রে বোর্ডের সৃষ্ট অবকাঠামোভুক্ত নিজস্ব জমিতে বনায়ন, মত্স্য চাষ কর্মসূচী বাস্তবায়ন এবং বাঁধের উপর রাস্তা নির্মাণ;

(ট) বোর্ডের কার্যাবলীর উপর মৌলিক ও প্রায়োগিক গবেষণা;

(ঠ) বোর্ড কর্তৃক বাস্তবায়িত প্রকল্পের সুফল সংশ্লিষ্ট সুবিধাভোগীদের মধ্যে অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে সুবিধাভোগীদের সংগঠিতকরণ, প্রকল্পে তাহাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণ, প্রকল্প রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালন এবং প্রকল্প ব্যয় পুনরুদ্ধার সংক্রান্ত বিভিন্ন কলাকৌশল ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো উদ্ভাবন, বাস্তবায়ন ও পরিচালন৷

(২) বোর্ড উপ-ধারা (১)-এ বর্ণিত কার্যাবলী নিম্্নবর্ণিত শর্তাদি পালন সাপেক্ষে সম্পাদন করিবে, যথা:-

(ক) প্রকল্প গ্রহণের জন্য সরকার কর্তৃক নির্দেশিত মানদন্ড অনুসরণপূর্বক প্রকল্প প্রস্তাবনা পেশকরণ;

(খ) কারিগরী সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে নূতন উপাত্ত সংগ্রহ কিংবা ভৌত ও গাণিতিক মডেল সমীক্ষার প্রয়োজন থাকিলে উহা সম্পাদন;

(গ) প্রকল্পের পূর্ণ সফলতার জন্য যে সকল মন্ত্রণালয় ও সংস্থার অংশগ্রহণ প্রয়োজন, প্রকল্প প্রক্রিয়াকরণের শুরু হইতেই উহাদের সম্পৃক্তকরণ এবং প্রকল্পে উহাদের জন্য সুনির্দিষ্ট কার্যক্রম সন্নিবেশকরণ;

(ঘ) প্রকল্প প্রণয়ন, বাস্তবায়ন ও রক্ষণাবেক্ষণে প্রকল্প এলাকার জনগণের অংশগ্রহণ সম্পর্কিত প্রতিবেদন প্রণয়ন এবং প্রকল্প দলিলে উহার প্রাতিষ্ঠানিক বিন্যাস লিপিবদ্ধকরণ;

(ঙ) ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন সংক্রান্ত স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রস্তাব পেশকরণ;

(চ) প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে কৃষিকাজ, পরিবেশ, নৌ-চলাচল, পানি প্রবাহ, মত্স্য সম্পদ, জনজীবন ও পারিপার্শ্বিক এলাকায় উহার প্রভাব ও বিরূপ প্রতিক্রিয়া (যদি থাকে) এবং উহার সম্ভাব্য প্রতিকার সম্পর্কে প্রতিবেদন প্রণয়ন৷
   
   
 
বোর্ডের সাধারণ পরিচালনা  
৭৷ বোর্ডের বিষয়াদি ও কার্যাবলীর সাধারণ পরিচালনা ও প্রশাসন একটি পরিষদের উপর ন্যস্ত থাকিবে এবং বোর্ড যে সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্য সম্পাদন করিতে পারিবে পরিষদও সেই সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্য সম্পাদন করিতে পারিবে৷
   
   
 
পরিষদের গঠন  
৮৷ (১) পরিষদ নিম্্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে গঠিত হইবে, যথা :-

(ক) পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত মন্ত্রী, যিনি বোর্ডের চেয়ারম্যানও হইবেন;

(খ) সচিব, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়;

(গ) সচিব, অর্থ বিভাগ;

(ঘ) সচিব, স্থানীয় সরকার বিভাগ;

(ঙ) সচিব, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়;

(চ) সরকার কর্তৃক মনোনীত একজন পানি সম্পদ প্রকৌশলী বা বিজ্ঞানী;

(ছ) সরকার কর্তৃক মনোনীত একজন পানি সম্পদ বিশেষজ্ঞ;

(জ) সরকার কর্তৃক মনোনীত একজন এনজিও প্রতিনিধি;

(ঝ) সরকার কর্তৃক মনোনীত বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড একাউনটেন্ট-এর একজন প্রতিনিধি;

(ঞ) বোর্ড কর্তৃক বাস্তবায়িত প্রকল্পসমূহের সুবিধাভোগীদের মধ্য হইতে সরকার কর্তৃক মনোনীত দুইজন প্রতিনিধি;

(ট) পানি সম্পদ পরিকল্পনা আইন, ১৯৯২ (১৯৯২ সনের ১২ নং আইন)-এর অধীন গঠিত পানি সম্পদ পরিকল্পনা সংস্থার মহাপরিচালক;

(ঠ) মহাপরিচালক৷

(২) উপ-ধারা (১)-এর দফা (চ), (ছ), (জ), (ঝ) ও (ঞ)- েত উল্লিখিত সদস্যগণ তাহাদের দায়িত্বভার গ্রহণের তারিখ হইতে দুই বত্সরের মেয়াদে স্বীয় পদে বহাল থাকিবেন এবং পুনরায় একই মেয়াদে নিয়োগের জন্য যোগ্য হইবেন:

তবে শর্ত থাকে যে, সরকার উক্ত মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বেই কোন কারণ না দর্শাইয়া উক্ত-রূপ কোন সদস্যকে যে কোন সময় তাহার পদ হইতে অপসারণ করিতে পারিবে:

আরও শর্ত থাকে যে, উক্ত-রূপ কোন সদস্য তাহার মেয়াদ শেষ হইবার পূর্বে যে কোন সময় সরকারের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে পারিবেন৷

(৩) পরিষদের কোন সদস্যপদ শূন্য রহিয়াছে অথবা উহা গঠনে কোন ত্রুটি রহিয়াছে কেবল এই কারণে পরিষদের কোন কার্য বা কার্যধারা অবৈধ হইবে না এবং তত্সম্পর্কে কোন প্রশ্নও উত্থাপন করা যাইবে না৷
   
   
 
পরিষদের ক্ষমতা ও দায়িত্ব  
৯৷ (১) ধারা ৭ -এর অধীন ক্ষমতা ও দায়িত্বের সামগ্রিকতা ক্ষুণ্ন না করিয়া, এই আইনের বিধানাবলী সাপেক্ষে, পরিষদের নিম্্নবর্ণিত ক্ষমতা ও দায়িত্ব থাকিবে, যথা:-

(ক) জাতীয় পানি নীতি ও অন্যান্য দিকনির্দেশক সরকারী দলিলাদির সহিত সংগতি রাখিয়া বোর্ডের জন্য কৌশলগত দীর্ঘমেয়াদী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ এবং উহা বাস্তবায়নের পদ্ধতি নির্ধারণ;

(খ) বোর্ডের জন্য দীর্ঘ, মধ্যম ও স্বল্পমেয়াদী লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নির্ধারণ এবং উহাদের অর্জনের জন্য নিম্্নবর্ণিত নীতিমালা প্রণয়ন, যথা:-

(অ) প্রাতিষ্ঠানিক নীতি, যাহাতে, অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে, কার্যনির্বাহ পদ্ধতি, কর্মচারীদের চাকুরীবিধি এবং প্রশাসনিক ও আর্থিক ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ অন্তর্ভুক্ত থাকিবে;

(আ) মানব সম্পদ উন্নয়ন নীতি, যাহাতে, অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে, কর্মী উন্নয়ন, কর্ম-জীবন পরিকল্পনা ও প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত থাকিবে;

(ই) কর্মচারী ব্যবস্থাপনা নীতি, যাহা কর্মচারীদের পেশাগত দক্ষতা ও প্রেরণার জন্য সহায়ক পরিবেশের সৃষ্টি করিবে;

(গ) বোর্ডের বার্ষিক বাজেট ও সম্পূরক বাজেট অনুমোদন;

(ঘ) সরকার কর্তৃক নির্ধারিত আর্থিক সীমার মধ্যে সমস্ত ক্রয় ও সংগ্রহ প্রস্তাব অনুমোদন;

(ঙ) পরিষদ কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে নির্ধারিত মহাপরিচালকের আর্থিক ক্ষমতার উর্দ্ধের সকল অতিরিক্ত কাজের দাবী বিবেচনা ও অনুমোদন;

(চ) বোর্ডের সম্পত্তি বা প্রকল্পের বিক্রয়, অবসায়ন, ইজারা প্রদান, ব্যবস্থাপনা চুক্তি সম্পাদন ইত্যাদি বিষয়সমূহ বিবেচনা, ক্ষেত্রমত অনুমোদন ও সুপারিশকরণ;

(ছ) বোর্ডের পরিচালনা ও আর্থিক বিষয়ে ব্যবস্থাপনার জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে-

(অ) বোর্ডের প্রশাসন ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা দক্ষতার সহিত পরিচালনার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় বিধি ও প্রবিধান প্রণয়নের জন্য, যথাক্রমে, সুপারিশ পেশকরণ ও ব্যবস্থা গ্রহণ;

(আ) মহাপরিচালক ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের নিকট ক্ষমতা ও দায়িত্ব অর্পণ এবং ব্যবস্থাপনার যথোপযুক্ত মান নির্ধারণ;

(ই) মহাপরিচালক কর্তৃক পেশকৃত ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতির বিভিন্ন প্রতিবেদন পর্যালোচনা এবং অসন্তোষজনক কর্মসম্পাদনের জন্য দায়িত্ব নির্ধারণ ও প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ;

(ঈ) বোর্ডের বার্ষিক প্রতিবেদন ও অডিট প্রতিবেদন অনুমোদন;

(উ) সরকারের বিভিন্ন সংস্থা কর্তৃক পরিচালিত পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও তত্সম্পর্কে মহাপরিচালককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ প্রদান;

(জ) সরকারের বিবেচনার জন্য বোর্ডের অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামো পরিবর্তনের সুপারিশ পেশকরণ, যাহাতে বোর্ডের আওতাভুক্ত কোন ইউনিট বেসরকারীকরণ কিংবা কোন ইউনিটের কাজ বোর্ডের জনবল দ্বারা নিষ্পন্ন না করিয়া বাজার হইতে আহরণ করিবার প্রস্তাবও থাকিতে পারে৷

(২) পরিষদ-

(ক) বোর্ড জাতীয় পানি নীতিতে বিধৃত নীতিমালা ও দিকনির্দেশনা অনুযায়ী যেন পরিচালিত হয় তাহা নিশ্চিত করিবে; এবং

(খ) বোর্ডের জন্য স্বচ্ছ, দক্ষ ও আর্থিকভাবে সবল একটি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠা করিবে৷
   
   
 
পরিষদের সভা  
১০৷ (১) এই ধারার বিধানাবলী সাপেক্ষে, পরিষদ উহার সভার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে৷

(২) পরিষদের সভা চেয়ারম্যান কর্তৃক নির্ধারিত স্থান ও সময়ে অনুষ্ঠিত হইবে:

তবে শর্ত থাকে যে, প্রতি দুই মাসে পরিষদের কমপক্ষে একটি সভা অনুষ্ঠিত হইবে৷

(৩) পরিষদের সকল সভায় চেয়ারম্যান সভাপতিত্ব করিবেন এবং তাহার অনুপস্থিতিতে সভায় উপস্থিত সদস্যগণের দ্বারা নির্বাচিত কোন সদস্য সভাপতিত্ব করিবেন৷



(৪) সভার কোরামের জন্য অন্যুন ছয় জন সদস্যের উপস্থিতি প্রয়োজন হইবে৷
   
   
 
কমিটি গঠন  
১১৷ পরিষদ উহার কার্য সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে উহার সদস্য এবং উহার বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ অন্য কোন ব্যক্তির সমন্বয়ে অনধিক পাঁচজন সদস্যবিশিষ্ট এক বা একাধিক কমিটি গঠন করিতে পারিবে এবং অনুরূপ কোন কমিটি গঠিত হইলে উহার কার্যপরিধি অনুযায়ী উক্ত কমিটি দায়িত্ব পালন করিবে৷
   
   
 
মহাপরিচালক ও অতিরিক্ত মহাপরিচালক  
১২। (১) সংস্থার একজন মহাপরিচালক ও অনধিক পাঁচজন অতিরিক্ত মহাপরিচালক থাকিবে।

(২) মহাপরিচালক ও অতিরিক্ত মহাপরিচালকগণ সরকার কতর্ৃক নিযুক্ত হইবেন এবং তাহাদের চাকুরীর শর্তাবলী সরকার কতর্ৃক নির্ধারিত হইবে।

(৩) মহাপরিচালক বোর্ডের প্রধান নির্বাহী হইবেন এবং পরিষদের নির্দেশ অনুযায়ী বোর্ডের কার্য পরিচালনা করিবেন।
   
   
 
মহাপরিচালকের ক্ষমতা ও দায়িত্ব  
১৩। এই আইনের বিধান সাপেক্ষে মহাপরিচালকের নিম্নবর্ণিত ক্ষমতা ও দায়িত্ব থাকিবে, যথা:-

(ক) পরিষদ কতর্ৃক অনুমোদিত, আর্থিক, ও পরিচালনা লক্ষ্যসহ, সকল নীতি ও কর্মপন্থা বাস্তবায়ন ও প্রয়োগ করা;

(খ) জাতীয় পানি নীতি ও অন্যান্য দিকনির্দেশক সরকারী দলিলাদির সহিত সংগতি রাখিয়া বোর্ডের জন্য স্বল্প মেয়াদী, মধ্য মেয়াদী ও দীর্ঘ মেয়াদী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ এবং পরিষদের অনুমোদনক্রমে বাস্তবায়ন করা;

(গ) বোর্ডের যাবতীয় কার্যক্রম ও বিষয়াদি আর্থিক ও প্রশাসনিকভাবে যথাযথ পদ্ধতিতে এবং এই আইন, বিধি ও প্রবিধান অনুযায়ী পরিচালনা করা;

(ঘ) প্রত্যেক আর্থিক বৎসর শেষ হইবার পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে, উক্ত বৎসরে বোর্ডের কার্যক্রম ও বিষয়াদি পরিচালনা এবং কার্যসম্পাদন সম্পর্কে, নিরীক্ষা-প্রতিবেদন ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য প্রতিবেদনসহ, একটি বার্ষিক প্রতিবেদন পরিষদের নিকট পেশ করা;

(ঙ) পরিষদের নিকট, উহার বিবেচনা ও অনুমোদনের জন্য বোর্ডের বার্ষিক বাজেট এবং প্রয়োজনবোধে সম্পূরক বাজেট পেশ করা;

(চ) বোর্ডের সহিত সরকার অথবা সরকারের কোন দপ্তর, অফিস বা এজেন্সি অথবা অন্য কোন দেশী বা বিদেশী ব্যক্তি, কতর্ৃপক্ষ বা এজেন্সির লেনদেনের ব্যাপারে বোর্ডের প্রতিনিধিত্ব করা;

(ছ) চাকুরী বিধি ও প্রবিধান অনুযায়ী বোর্ডের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীর নিয়োগ প্রদান এবং তাহাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা;

(জ) বোর্ডের অভ্যন্তরে কর্মকর্তা ও কর্মচারী বদলী করা;

(ঝ) কোন মামলা রুজু করা বা উহার পক্ষ সমর্থন করা বা উহা প্রত্যাহার করা বা আপোষ করা;

(ঞ) কর্মচারীগণের জন্য কার্যসম্পাদন উৎসাহসহ, বোর্ডের দৈনন্দিন বিষয়াদি পরিচালনার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক নীতি, মানব সম্পদ উন্নয়ন নীতি, কর্মচারী ব্যবস্থাপনা নীতি ও অভ্যন্তরীণ কার্যপদ্ধতি প্রণয়ন এবং পরিষদের অনুমোদনক্রমে উহা বাস্তবায়ন করা;

(ট) সরকার কতর্ৃক নির্ধারিত আর্থিক সীমার মধ্যে সমস্ত সেবা, নির্মাণ, ক্রয় ও সংগ্রহ প্রস্তাব অনুমোদন এবং এতদসংক্রান্ত সকল চুক্তি স্বাক্ষর করা;

(ঠ) সরকার কতর্ৃক নির্ধারিত আর্থিক সীমার মধ্যে বোর্ডের সকল অতিরিক্ত কাজের দাবী বিবেচনা ও অনুমোদন;

(ড) পরিষদ ও সরকারের বিবেচনার জন্য অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামো পরিবর্তনের সুপারিশ পেশকরণ;

(ঢ) বোর্ডের সম্পত্তি বা প্রকল্পের সম্পত্তি বিক্রয়, অবসায়ন, ইজারা প্রদান, ব্যবস্থাপনা চুক্তি সম্পাদন ইত্যাদি বিষয়সমূহ পরিষদের বিবেচনার জন্য উপস্থাপন ও ক্ষেত্রমতে অনুমোদন করা;

(ণ) মহাপরিচালক তাহার যে কোন ক্ষমতা ও দায়িত্ব অতিরিক্ত মহাপরিচালক অথবা বোর্ডের যে কোন দফতরের উপর অর্পণ করিতে পারিবেন; এবং

(ত) সরকার বা পরিষদ কতর্ৃক আরোপিত অন্য কোন দায়িত্ব পালন করা।
   
   
 
কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ  
১৪। (১) বোর্ড উহার কার্যাবলী সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের উদ্দেশ্যে, সরকার কতর্ৃক অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মকর্তা ও অন্যান্য কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারিবে এবং তাহাদের চাকুরীর শর্তাবলী প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে।

(২) বোর্ড কোন অবস্থাতেই ওয়ার্কচার্জড, মাষ্টার-রোল কিংবা কন্টিনজেন্সী খাতে কোন কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারিবে না।
   
   
 
ভবিষ্যত প্রকল্পের বাস্তবায়ন ও ব্যবস্থাপনা  
১৫। (১) জাতীয় পানি নীতির বিধান অনুসারে এবং উপ-আঞ্চলিক ও স্থানীয় পানি ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনার আওতায় বোর্ড কেবল ১০০০ হেক্টরের অধিক আয়তন বিশিষ্ট প্রকল্প বাস্তবায়ন করিবে।

(২) উপ-আঞ্চলিক ও স্থানীয় পানি ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনার সহিত সংগতিপূর্ণ হওয়া সাপেক্ষে কোন স্থানীয় কতর্ৃপক্ষ কতর্ৃক অনূধর্্ব ১০০০ হেক্টর আয়তন বিশিষ্ট এফসিডিআই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যাইবে এবং এই ব্যাপারে বোর্ড ও উক্ত কতর্ৃপক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দিলে সরকার কতর্ৃক নির্ধারিত পদ্ধতিতে উহা নিষ্পত্তি করা হইবে।

(৩) অনধিক ৫০০০ হেক্টর আয়তন বিশিষ্ট প্রকল্পের ব্যবস্থাপনার দায়িত্বভার সরকার কতর্ৃক এতদুদ্দেশ্যে জারীকৃত নির্দেশিকা অনুসরণে প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের স্বার্থে গঠিত সংগঠন, যে নামেই অভিহিত হউক না কেন, এর উপর ন্যস্ত থাকিবে।

(৪) ৫০০০ হেক্টরের অধিক আয়তন বিশিষ্ট প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা সরকার কতর্ৃক এতদুদ্দেশ্যে জারীকৃত নির্দেশিকা অনুসরণে প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের স্বার্থে গঠিত সংগঠন, বোর্ড এবং পানি সম্পদ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার প্রতিনিধি সমন্বয়ে গঠিত একটি যৌথ পানি ব্যবস্থাপনা কমিটির উপর ন্যস্ত থাকিবে:

তবে শর্ত থাকে যে, সরকার প্রয়োজন মনে করিলে, উক্ত প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা, প্রকল্প এলাকায় কর্মরত কোন বেসরকারী সংস্থার নিকট বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণপূর্বক ঠিকা প্রদান করিতে পারিবে।

(৫) এই ধারায় উলি্লখিত যে কোন শ্রেণীর প্রকল্পের আয়তন সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা হ্রাস বা বৃদ্ধি করিতে পারিবে।
   
   
 
বিদ্যমান প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা ও মালিকানা হস্তান্তর  
১৬। (১) অনূধর্্ব ১০০০ হেক্টর আয়তন বিশিষ্ট এফসিডি ও এফসিডিআই প্রকল্পের মালিকানা পর্যায়ক্রমে স্থানীয় কতর্ৃপক্ষের নিকট হস্তান্তরিত হইবে এবং যে সমস্ত প্রকল্প উহাদের সুবিধাভোগীদের স্বার্থে গঠিত সংগঠনসমূহের দ্বারা ইতোমধ্যে সন্তোষজনকভাবে পরিচালিত হইতেছে সেইগুলি সর্বপ্রথম হস্তান্তরিত হইবে।

(২) বোর্ড কতর্ৃক বাস্তবায়িত কোন প্রকল্প বা উহার অংশবিশেষ অন্য কোন উন্নয়নমূলক কাজ কিংবা উহার রক্ষণাবেক্ষণের নিমিত্তে অন্য কোন সংস্থা বা স্থানীয় কতর্ৃপক্ষের নিকট হস্তান্তর করার প্রয়োজন হইলে বোর্ড, সরকার কতর্ৃক নির্ধারিত শর্তাধীনে, উহা করিতে পারিবে।

(৩) বোর্ড, সরকার কতর্ৃক নির্ধারিত পদ্ধতিতে ১০০০ হেক্টরের অধিক কিন্তু ৫০০০ হেক্টরের অনধিক আয়তন বিশিষ্ট প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা পর্যায়ক্রমে উক্ত প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের স্বার্থে গঠিত সংগঠনের নিকট অর্পণ করিবে এবং ৫০০০ হেক্টরের অধিক আয়তন বিশিষ্ট প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা ধারা ১৫-এর উপ-ধারা (৪) এর বিধান অনুসারে গঠিত যৌথ পানি ব্যবস্থাপনা কমিটির উপর ন্যস্ত করিবে।

(৪) এই ধারায় উলি্লখিত যে কোন শ্রেণীর প্রকল্পের আয়তন সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা হ্রাস বা বৃদ্ধি করিতে পারিবে।
   
   
 
বোর্ডের জন্য ভূমি হুকুমদখল, অধিগ্রহণ ইত্যাদি  
১৭। (১) বোর্ডের কোন প্রকল্প বাস্তবায়নের স্বার্থে কোন ভূমি প্রয়োজন হইলে উহা জনস্বার্থে প্রয়োজন বলিয়া বিবেচিত হইবে এবং তদুদ্দেশ্যে উহা অপয়ঁরংরঃরড়হ ধহফ জবয়ঁরংরঃরড়হ ড়ভ ওসসড়াধনষব চৎড়ঢ়বৎঃু ঙৎফরহধহপব, ১৯৮২ (ওও ড়ভ ১৯৮২)-এর বিধান মোতাবেক হুকুমদখল বা অধিগ্রহণ করা যাইবে।

(২) বোর্ড উহার প্রয়োজনে উপ-ধারা (১) এর অধীন হুকুমদখল বা অধিগ্রহণ ব্যতীত সরাসরি ক্রয় কিংবা ইজারার মাধ্যমে কোন ভূমির স্বত্ব অর্জন করিতে পারিবে এবং একইভাবে বিক্রয় কিংবা ইজারা বাতিলের মাধ্যমে উহার স্বত্ব ত্যাগ করিতে পারিবে।

(৩) কোন প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় সাময়িক ব্যবহারের জন্য প্রয়োজন হইলে তজ্জন্য বোর্ড কোন জমি ও অস্থাবর সম্পত্তি ভাড়ায় বা স্বল্পমেয়াদী ইজারায় গ্রহণ করিতে পারিবে।

(৪) বোর্ড উহার প্রকল্প রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নির্ধারিত জমি, সরকার কতর্ৃক গৃহীত নীতিমালা অনুযায়ী, স্বল্পমেয়াদী ইজারা প্রদান করিতে পারিবে।
   
   
 
অপ্রয়োজনীয় কিংবা পরিত্যাজ্য স্থাপনা ইত্যাদি বিক্রয়  
১৮। বোর্ডের মালিকানাধীন কোন প্রকল্প, স্থাপনা, দপ্তর কিংবা প্রতিষ্ঠান সংকোচন, অবসায়ন, স্থানান্তর কিংবা অন্য কোন কারণে আংশিক কিংবা সম্পূর্ণরূপে অপ্রয়োজনীয় কিংবা পরিত্যাজ্য হইয়া পড়িলে বোর্ড, সম্পত্তি হস্তান্তরের জন্য প্রচলিত আইনানুগ পদ্ধতি অনুসরণপূর্বক উক্ত প্রকল্প, স্থাপনা, দপ্তর কিংবা প্রতিষ্ঠানের জমি, দালানকোঠা ও অন্যান্য অবকাঠামো যে কোন সরকারী, আধা-সরকারী বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান কিংবা স্থানীয় কতর্ৃপক্ষের নিকট অথবা কোন বেসরকারী প্রতিষ্ঠান বা কোন ব্যক্তির নিকট নগদ মূল্যে বিক্রয় করিতে পারিবে:

তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত সম্পত্তি ক্রয়ের ক্ষেত্রে উলি্লখিত প্রতিষ্ঠান, কতর্ৃপক্ষ ও ব্যক্তির উপরে বর্ণিত ক্রম অনুসারে অগ্রাধিকার থাকিবে।
   
   
 
বার্ষিক প্রতিবেদন  
১৯। (১) বোর্ড প্রত্যেক অর্থ বৎসর সমাপ্ত হওয়ার পরবর্তী ৩০শে সেপ্টেম্বরের মধ্যে তৎকতর্ৃক উক্ত অর্থ বৎসর সংক্রান্ত একটি বার্ষিক প্রতিবেদন সরকারের নিকট পেশ করিবে যাহাতে, অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট অর্থ বৎসরে গৃহীত উন্নয়ন কৌশল, পরিকল্পিত ও বাস্তবায়িত কর্মসূচী, প্রাক্কলিত ও প্রকৃত আয় ও ব্যয়, সাফল্য নিরূপণের জন্য নির্ধারিত প্রধান নির্ণায়কসমূহের আলোকে অর্জন এবং সাংগঠনিক দক্ষতা সম্পর্কে বিস্তারিত বিবরণ এবং সংশ্লিষ্ট অর্থ বৎসরের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পসমূহের হাল অবস্থা এবং সমাপ্ত প্রকল্পসমূহের পরিচালনা ব্যবস্থার উপর বিশ্লেষণ থাকিবে।

(২) সরকার প্রয়োজনমত বোর্ডের নিকট হইতে যে কোন সময় বোর্ডের যে কোন বিষয়ের উপর প্রতিবেদন এবং বিবরণী আহ্বান করিতে পারিবে এবং বোর্ড উহা সরকারের নিকট সরবরাহ করিতে বাধ্য থাকিবে।
   
   
 
তহবিল  
২০। (১) বোর্ডের কার্য পরিচালনার জন্য উহার একটি নিজস্ব তহবিল থাকিবে এবং নিম্নবর্ণিত উৎসসমূহ হইতে প্রাপ্ত অর্থ উক্ত তহবিলে জমা হইবে, যথা:-

(ক) সরকার কতর্ৃক প্রদত্ত অনুদান;

(খ) কোন স্থানীয় কতর্ৃপক্ষ কতর্ৃক প্রদত্ত অনুদান;

(গ) সরকার কতর্ৃক মঞ্জুরীকৃত ঋণ;

(ঘ) সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে মঞ্জুরীকৃত বৈদেশিক অনুদান ও ঋণ;

(ঙ) বোর্ড কতর্ৃক বাস্তবায়িত কোন প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের নিকট হইতে সার্ভিস চার্জ বাবদ আদায়কৃত অর্থ;

(চ) ডিপোজিট ওয়ার্ক হইতে প্রাপ্ত আয়;

(ছ) অন্য কোন উৎস হইতে প্রাপ্ত অর্থ।

(২) বোর্ডের তহবিল বোর্ডের নামে যে কোন তফসিলি ব্যাংকে জমা রাখা হইবে এবং বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে তহবিল হইতে অর্থ উঠানো যাইবে।

(৩) বোর্ডের তহবিল হইতে বোর্ডের প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহ করা হইবে।

(৪) বোর্ড উহার তহবিল সরকার কতর্ৃক অনুমোদিত কোন খাতে বিনিয়োগ করিতে পারিবে।

(৫) বোর্ড প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, কোন ব্যাংক বা ঋণ প্রদানকারী সংস্থা বা অন্য কোন উৎস হইতে অর্থ ঋণ হিসাবে গ্রহণ করিতে পারিবে:

তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত ঋণ পরিশোধের প্রক্রিয়াও ঋণ গ্রহণ প্রস্তাবে উল্লেখ থাকিতে হইবে।
   
   
 
বাজেট  
২১। বোর্ড প্রতি বৎসর সরকার কতর্ৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরবর্তী অর্থ বৎসরের বার্ষিক উন্নয়ন বাজেট এবং রাজস্ব বাজেট বিবরণী সরকারের নিকট পেশ করিবে এবং উহাতে উক্ত অর্থ বৎসরে সরকারের নিকট হইতে বোর্ডের কি পরিমাণ অর্থ প্রয়োজন হইবে উহার উল্লেখ থাকিবে।
   
   
 
হিসাব রক্ষণ ও নিরীক্ষা  
২২। (১) বোর্ড উহার যাবতীয় ব্যয়িত অর্থের যথাযথ হিসাব রক্ষণসহ অন্যান্য আনুষংগিক রেকর্ড সংরক্ষণ করিবে এবং আয়-ব্যয়ের হিসাবের বিবরণী, নগদ তহবিল প্রবাহের বিবরণী ও স্থিতিপত্রসহ হিসাবের বার্ষিক প্রতিবেদন প্রস্তুত করিবে।

(২) প্রতি অর্থ বৎসরের বোর্ডের হিসাব বাংলাদেশের মহা-হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক কতর্ৃক নিযুক্ত নিরীক্ষক দ্বারা পরীক্ষিত ও নিরীক্ষিত হইবে এবং বোর্ড প্রত্যেক অর্থ বৎসর সমাপ্তির চার মাসের মধ্যে হিসাব নিরীক্ষণ সম্পাদন নিশ্চিত করতঃ নিরীক্ষা প্রতিবেদনের অনুলিপি সরকারের নিকট পেশ করিবে।

(৩) উপ-ধারা (২) মোতাবেক হিসাব নিরীক্ষার উদ্দেশ্যে মহা-হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক কিংবা তৎকতর্ৃক নিযুক্ত নিরীক্ষক কিংবা তাহাদের নিকট হইতে এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি বোর্ডের সকল রেকর্ড, দলিল, দস্তাবেজ, নগদ ও ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, জামানত, ভান্ডার এবং অন্যবিধ সম্পত্তি পরীক্ষা করিয়া দেখিতে পারিবেন এবং বোর্ডের কোন সদস্য বা যে কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করিতে পারিবেন।

(৪) বোর্ড নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উলি্লখিত অনিয়ম ও ত্রুটি-বিচু্যতি নিরসনকল্পে বোর্ড কতর্ৃক গৃহীত পদক্ষেপ ও মতামত সম্বলিত একটি প্রতিবেদন নিরীক্ষা প্রতিবেদন প্রাপ্তির তিন মাসের মধ্যে সরকারের নিকট পেশ করিবে।
   
   
 
সরল বিশ্বাসে কৃত কাজকর্ম রক্ষণ  
২৩। এই আইন, বিধি বা প্রবিধানের অধীন সরল বিশ্বাসে কৃত কোন কাজকর্মের ফলে কোন ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হইলে বা তাহার ক্ষতিগ্রস্ত হইবার সম্ভাবনা থাকিলে তজ্জন্য পরিষদের চেয়ারম্যান বা অন্য কোন সদস্য বা বোর্ডের কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে কোন দেওয়ানী বা ফৌজদারী মামলা দায়ের বা অন্য কোন আইনগত কার্যধারা গ্রহণ করা যাইবে না।
   
   
 
জনসেবক  
২৪। চেয়ারম্যান ও অন্যান্য সদস্য এবং বোর্ডের কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ Penal Code (Act XLV of 1860) এর section 2-G “Public servant” (জনসেবক) কথাটি যে অর্থে ব্যবহৃত হইয়াছে সেই অর্থে public servant (জনসেবক) বলিয়া গণ্য হইবেন।
   
   
 
বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা  
২৫। এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।
   
   
 
প্রবিধান প্রণয়নের ক্ষমতা  
২৬। এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে বোর্ড, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে এবং সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইন বা কোন বিধির সহিত অসামঞ্জস্যপূর্ণ নহে এইরূপ প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে।
   
   
 
রহিতকরণ ও হেফাজত  
২৭। (১) Bangladesh Water and Power Development Boards Order, 1972 (P.O. No. 59 of 1972) এর অধীন প্রতিষ্ঠিত Bangladesh Water Development Boardএর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিধানাবলী, অতঃপর উক্ত বিধানাবলী বলিয়া উলি্লখিত, এতদ্দ্বারা রহিত করা হইল।

(২) উক্ত বিধানাবলী রহিত হইবার সংগে সংগে-

(ক) উহার অধীনে প্রতিষ্ঠিত Bangladesh Water Development Board, অতঃপর বিলুপ্ত Board বলিয়া উলি্লখিত, বিলুপ্ত হইবে;

(খ) বিলুপ্ত Board এর তহবিল, নগদ ও ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ এবং সিকিউরিটিসহ সকল স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি এবং ঐ সকল সম্পত্তিতে বিলুপ্ত Board এর যাবতীয় অধিকার ও স্বার্থ বোর্ডে ন্যস্ত হইবে;

(গ) বিলুপ্ত Board এর সকল ঋণ, দায় ও দায়িত্ব এবং উহার দ্বারা, উহার পক্ষে বা উহার সহিত সম্পাদিত সকল চুক্তি যথাক্রমে বোর্ডের ঋণ, দায় ও দায়িত্ব এবং উহার দ্বারা, পক্ষে বা সহিত সম্পাদিত চুক্তি বলিয়া গণ্য হইবে;

(ঘ) বিলুপ্ত ইড়ধৎফ কতর্ৃক বা উহার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত কোন মামলা বা সূচিত অন্য কোন আইনগত কার্যধারা বোর্ড কতর্ৃক বা উহার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত বা সূচিত মামলা বা কার্যধারা বলিয়া গণ্য হইবে;

(ঙ) বিলুপ্ত Board এর সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারী বোর্ডের কর্মকর্তা ও কর্মচারী হইবেন এবং এই আইন প্রবর্তনের অব্যবহিত পূর্বে তাহারা যে শর্তাধীনে চাকুরীতে ছিলেন, তাহা এই আইনের বিধান অনুযায়ী পরিবর্তিত না হওয়া পর্যন্ত, সেই একই শর্তে চাকুরীরত থাকিবেন।

(৩) উক্ত বিধানাবলী রহিত হওয়া সত্বেও-

(ক) উহার অধীন প্রণীত কোন rules বা regulations, জারীকৃত কোন প্রজ্ঞাপন, প্রদত্ত কোন আদেশ, নির্দেশ, অনুমোদন, উপদেশ বা সুপারিশ, প্রণীত সকল স্কীম বা পরিকল্পনা, আরোপিত সকল লেভী, রেইট, টোল, চার্জ বা জরিমানা, অনুমোদিত সকল বাজেট এবং কৃত সকল কাজকর্ম উক্ত রহিতের অব্যবহিত পূর্বে বলবৎ থাকিলে এবং এই আইনের কোন বিধানের সহিত অসামঞ্জস্যপূর্ণ না হইলে এই আইনের অনুরূপ বিধানের অধীন প্রণীত, জারীকৃত, প্রদত্ত, আরোপিত, অনুমোদিত এবং কৃত বলিয়া গণ্য হইবে, এবং মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত অথবা এই আইনের অধীন রহিত বা সংশোধিত না হওয়া পর্যন্ত, বলবৎ থাকিবে;

(খ) উহার অধীন গঠিত কোন কমিটি, উহার গঠন বা কার্যপরিধি এই আইনের বিধানাবলীর সহিত অসামঞ্জস্যপূর্ণ না হইলে, এইরূপ অব্যাহত থাকিবে যেন উক্ত কমিটি এই আইনের অধীন গঠিত হইয়াছে।
   
   
   
 

Copyright © 2010, Legislative and Parliamentary Affairs Division
Ministry of Law, Justice and Parliamentary Affairs