সিলেট সিটি কর্পোরেশন আইন, ২০০১
( ২০০১ সনের ১০ নং আইন )
  [৯ এপ্রিল, ২০০১]
     
      সিলেট সিটি কর্পোরেশন স্থাপনকল্পে প্রণীত আইন৷
 

যেহেতু সিলেট সিটি কর্পোরেশন স্থাপনকল্পে বিধান করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়;

সেহেতু এতদ্‌দ্বারা নিম্্নরূপ আইন করা হইল:-

   
প্রথম ভাগ
প্রারম্ভিক
 
সংক্ষিপ্ত শিরোনামা  
১৷ এই আইন সিলেট সিটি কর্পোরেশন আইন, ২০০১ নামে অভিহিত হইবে৷
   
   
 
সংজ্ঞা  
২৷ বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে,-

(ক) “ইমারত” অর্থে কোন দোকান, বাড়ী-ঘর, কুঁড়ে ঘর, বহির্বাটি, আস্তাবল অথবা ঘেরা বা আচ্ছাদন-সংযুক্ত যে কোন স্থানকে বুঝাইবে;

(খ) “ওয়ার্ড” অর্থ ধারা ২০ এবং ২৩ এর অধীনে বিভক্ত ওয়ার্ড;

(গ) “কর্পোরেশন” অর্থ সিলেট সিটি কর্পোরেশন;

(ঘ) “কমিশনার” অর্থ কর্পোরেশনের কমিশনার;

(ঙ) “জনপথ” অর্থে সর্বসাধারণের ব্যবহার্য পথ, রাস্তা ও সড়ককেও বুঝাইবে;

(চ) “তফসিল” অর্থ এই আইনের সহিত সংযুক্ত কোন তফসিল;

(ছ) “নির্ধারিত” অর্থ এই আইনের বিধি দ্বারা নির্ধারিত;

(জ) “নির্বাচন আপীল ট্রাইব্যুনাল” অর্থ ধারা ৩১ এর অধীনে গঠিত নির্বাচন আপীল ট্রাইব্যুনাল;

(ঝ) “নির্বাচন কমিশন” অর্থ সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদের অধীনে প্রতিষ্ঠিত নির্বাচন কমিশন;

(ঞ) “নির্বাচন ট্রাইব্যুনাল” অর্থ ধারা ৩১ এর অধীন গঠিত নির্বাচন ট্রাইব্যুনাল;

(ট) “প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা” অর্থ কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা;

(ঠ) “প্রবিধান” অর্থ এই আইনের অধীনে প্রণীত প্রবিধান;

[ * * *]

(ঢ) “বিধি” অর্থ এই আইনের অধীনে প্রণীত বিধি;

(ণ) “মেয়র” অর্থ কর্পোরেশনের মেয়র;

(ত) “সংরক্ষিত আসন” অর্থ এই আইনের ধারা ৪ এর উপ-ধারা (৩) এ উল্লিখিত সংরক্ষিত আসন;

(থ) “সাধারণ আসন” অর্থ সংরক্ষিত আসন ব্যতীত ধারা ৪ এর উপ-ধারা (১) এর দফা [ (গ)] এ উল্লিখিত আসন;

(দ) “সিলেট মহানগর” বা “মহানগর” অর্থ প্রথম তফসিলে বর্ণিত এলাকা;

(ধ) “স্থানীয় কর্তৃপক্ষ” অর্থে জেলা পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদকেও বুঝাইবে৷
   
   
দ্বিতীয় ভাগ
কর্পোরেশন
প্রথম পরিচ্ছেদ
কপোরের্শন গঠন
 
সিলেট সিটি কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠা  
৩৷ (১) এই আইন বলবত্ হইবার পর এই আইনের বিধান মোতাবেক সিলেট মহানগরে সিলেট সিটি কর্পোরেশন নামে একটি সিটি কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠিত হইবে৷

(২) সিলেট সিটি কর্পোরেশন এলাকা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৫৯ এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে একটি স্থানীয় প্রশাসনিক ইউনিট হইবে৷

(৩) কর্পোরেশন একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হইবে এবং ইহার স্থায়ী ধারাবাহিকতা ও একটি সাধারণ সীলমোহর থাকিবে, এবং এই আইন ও বিধি সাপেক্ষে, ইহার স্থাবর ও অস্থাবর উভয় প্রকার সম্পত্তি অর্জন করিবার, অধিকারে রাখিবার ও হস্তান্তর করিবার ক্ষমতা থাকিবে এবং ইহার নামে ইহা মামলা দায়ের করিতে পারিবে বা ইহার বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করা যাইবে৷
   
   
 
কর্পোরেশন গঠন  
৪৷ (১) কর্পোরেশন নিম্নলিখিত ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে গঠিত হইবে, যথা:-

(ক) মেয়র;

[ * * *]

(গ) সরকার কর্তৃক সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা নির্ধারিত সংখ্যক কমিশনার; এবং

(ঘ) উপ-ধারা (৩) অনুযায়ী কেবল মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত নির্ধারিত সংখ্যক কমিশনার৷

(২) মেয়র [ * * *] কমিশনারগণ প্রত্যক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে এই আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রাপ্ত বয়স্ক ভোটাধিকারের ভিত্তিতে নির্বাচিত হইবেন৷

(৩) উপ-ধারা (১) এর দফা [ (গ)] এর অধীন নির্ধারিত সংখ্যক কমিশনারের এক-তৃতীয়াংশের সমসংখ্যক আসন, অতঃপর সংরক্ষিত আসন বলিয়া উল্লিখিত, মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত থাকিবে:

তবে শর্ত থাকে যে, এই উপ-ধারার কোন কিছুই এই ধারার অধীন কোন আসনে কোন মহিলার নির্বাচন নিবৃত্ত করিবে না৷

ব্যাখ্যা৷- এই উপ-ধারার অধীন সংরক্ষিত আসনের সংখ্যা নির্ধারণের ক্ষেত্রে, যদি উক্ত সংখ্যার ভগ্নাংশ থাকে এবং উক্ত ভগ্নাংশ অর্ধেক বা তদূর্ধ হয়, তবে উহাকে পূর্ণ সংখ্যা বলিয়া গণ্য করিতে হইবে এবং যদি উক্ত ভগ্নাংশ অর্ধেক এর কম হয়, তবে উহাকে উপেক্ষা করিতে হইবে৷

(৪) মেয়র [ * * *] কর্পোরেশনের কমিশনার বলিয়া গণ্য হইবেন৷
   
   
 
কর্পোরেশনের মেয়াদ  
৫৷ (১) কর্পোরেশনের মেয়াদ উহা গঠিত হইবার পর উহার প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হইবার তারিখ হইতে পাঁচ বত্সর হইবে:

তবে শর্ত থাকে যে, কর্পোরেশনের মেয়াদ শেষ হওয়া সত্ত্বেও, উহা পুনর্গঠিত কর্পোরেশনের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করিয়া যাইবে৷

(২) এই আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কর্পোরেশনের সাধারণ আসনের শতকরা পঁচাত্তর ভাগের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইলে এবং নির্বাচিত কমিশনারগণের নাম সরকারী গেজেটে প্রকাশিত হইলে, কর্পোরেশন, এই আইনের অন্যান্য বিধান সাপেক্ষে, যথাযথভাবে গঠিত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে৷

ব্যাখ্যা৷-এই উপ-ধারার অধীন শতকরা পঁচাত্তর ভাগ গণনায় ভগ্নাংশের ক্ষেত্রে, শতকরা দশমিক পাঁচ শূন্যের কম ভগ্নাংশ হিসাবে নেওয়া হইবে না এবং শতকরা দশমিক পাঁচ শূন্য বা উহার বেশী ভগ্নাংশকে একক সংখ্যা ধরা হইবে৷

(৩) মেয়র [ * * *] ও অন্যান্য কমিশনারগণের শপথ গ্রহণের ত্রিশ দিনের মধ্যে, অথবা কর্পোরেশন পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান কর্পোরেশনের মেয়াদ উত্তীর্ণের ত্রিশ দিনের মধ্যে যাহা পরে হয়, কর্পোরেশন উহার প্রথম সভা অনুষ্ঠান করিবে৷
   
   
 
মেয়র [ * * * ] ও কমিশনারগণের শপথ  
৬৷ মেয়র [ * * *] বা কোন কমিশনার পদে নির্বাচিত ব্যক্তি তাঁহার কার্যভার গ্রহণের পূর্বে নির্ধারিত পদ্ধতি ও সময়ের মধ্যে নিম্নলিখিত ফরমে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ব্যক্তির সম্মুখে শপথ গ্রহণ বা ঘোষণা করিবেন এবং শপথপত্র বা ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর দান করিবেন, যথা:-



১০[ আমি, ..............................,] সিলেট সিটি কর্পোরেশনে মেয়র/ ১১[ * * *] কমিশনার নির্বাচিত হইয়া সশ্রদ্ধচিত্তে শপথ ১২[ * * *] করিতেছি যে, আমি আইন অনুযায়ী ও বিশ্বস্ততার সহিত আমার পদের কর্তব্য পালন করিব এবং আমি বাংলাদেশের প্রতি অকৃত্রিম বিশ্বাস ও আনুগত্য পোষণ করিব৷”
   
   
 
সম্পত্তি সম্পর্কিত ঘোষণা  
৭৷ মেয়র ১৩[ * * *] এবং প্রত্যেক কমিশনার তাঁহার দায়িত্বভার গ্রহণের পূর্বে তাঁহার এবং তাঁহার পরিবারের কোন সদস্যের স্বত্ব, দখল বা স্বার্থ আছে এই প্রকার যাবতীয় স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির একটি লিখিত বিবরণ সরকার কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতিতে ও নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের নিকট দাখিল করিবেন৷

ব্যাখ্যা৷-এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে পরিবারের সদস্য বলিতে মেয়র ১৪[ * * *] বা সংশ্লিষ্ট কমিশনারের স্বামী বা স্ত্রী, এবং তাঁহার সঙ্গে বসবাসকারী ও তাঁহার উপর সম্পূর্ণভাবে নির্ভরশীল তাঁহার ছেলেমেয়ে, পিতা-মাতা ও ভাইবোনকে বুঝাইবে৷
   
   
 
মেয়র ১৫[ * * * ] এবং কমিশনারের যোগ্যতা ও অযোগ্যতা  
৮৷ (১) কোন ব্যক্তি বাংলাদেশের নাগরিক হইলে ও তাঁহার বয়স পঁচিশ বত্সর হইলে এবং তাঁহার নাম কর্পোরেশনের কোন ওয়ার্ডের ভোটার তালিকায় লিপিবদ্ধ থাকিলে উপ-ধারা (২) এর বিধান সাপেক্ষে মেয়র ১৬[ * * *] বা কমিশনার নির্বাচিত হইবার এবং উক্তরূপ মেয়র ১৭[ * * *] বা কমিশনার থাকিবার যোগ্য হইবেন৷



(২) কোন ব্যক্তি মেয়র ১৮[ * * *] বা কমিশনার নির্বাচিত হইবার এবং উক্তরূপ মেয়র ১৯[ * * *] বা কমিশনার থাকিবার যোগ্য হইবেন না, যদি-



(ক) তিনি বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পরিত্যাগ করেন বা হারান;



(খ) তাঁহাকে কোন আদালত অপ্রকৃতিস্থ বলিয়া ঘোষণা করেন;



(গ) তিনি দেউলিয়া ঘোষিত হইবার পর দায় হইতে অব্যাহতি লাভ না করিয়া থাকেন;



(ঘ) তিনি দুর্নীতি বা নৈতিক স্খলনজনিত কোন ফৌজদারী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হইয়া অন্যুন দুই বত্সর কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন এবং তাহার মুক্তি লাভের পর পাঁচ বত্সর অতিবাহিত না হইয়া থাকে; অথবা

(ঙ) তিনি প্রজাতন্ত্রের বা কর্পোরেশনের অথবা অন্য কোন স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কর্মে লাভজনক সার্বক্ষণিক কোন পদে অধিষ্ঠিত থাকেন; অথবা



(চ) তিনি কর্পোরেশনের কোন কাজ সম্পাদনের বা মালামাল সরবরাহের জন্য ঠিকাদার হন, অথবা কর্পোরেশনের কোন বিষয়ে তাঁহার কোনরূপ আর্থিক স্বার্থ থাকে অথবা, তিনি কর্পোরেশন এলাকায় সরকার কর্তৃক নিযুক্ত কোন অত্যাবশ্যকীয় দ্রব্যের দোকানদার হন; অথবা



(ছ) তাহার নিকট এই আইনের অধীনে আরোপিত কর, রেট, সেস, টোল অথবা ফি কিংবা কোন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান হইতে গৃহীত কোন ঋণ মেয়াদ উত্তীর্ণ অবস্থায় অনাদায়ী থাকে৷



ব্যাখ্যা৷- এই উপ-ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে-



(অ) “ব্যাংক” অর্থ ব্যাংক কোম্পানী আইন, ১৯৯১ (১৯৯১ সনের ১৪ নং আইন) এর ধারা ৫(ণ) তে সংজ্ঞায়িত ব্যাংক কোম্পানী;



(আ) “আর্থিক প্রতিষ্ঠান” অর্থ আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইন, ১৯৯৩ (১৯৯৩ সনের ২৭ নং আইন) এর ধারা ২(খ) তে সংজ্ঞায়িত আর্থিক প্রতিষ্ঠান;



২০[ * * *] অথবা



(ঝ) তিনি প্রজাতন্ত্রের বা কোন স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কোন পদ হইতে নৈতিক স্খলনজনিত অসদাচরণের দায়ে বরখাস্ত হন এবং তাঁহার বরখাস্তের তারিখ হইতে যদি পাঁচ বত্সর অতিক্রান্ত না হইয়া থাকে৷
   
   
 
একাধিক আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিষিদ্ধ  
৯৷ (১) কোন ব্যক্তি একই সঙ্গে মেয়র ২১[ * * *] এবং কমিশনার পদের কিংবা একের অধিক কমিশনার পদের জন্য নির্বাচন প্রার্থী হইতে পারিবেন না এবং যদি কোন ব্যক্তি এইরূপ পদের জন্য নির্বাচন প্রার্থী হন, তাহা হইলে তাহার উভয় মনোনয়ন পত্র বাতিল হইয়া যাইবে৷

(২) উপ-ধারা (১) এর বিধান সত্ত্বেও কর্পোরেশনের চলতি মেয়াদ অব্যাহত থাকার সময়ে মেয়র ২২[ * * *] এর পদ শূন্য হইলে কোন কমিশনার মেয়র

২৩[ * * *] নির্বাচনের জন্য প্রার্থী হইতে পারিবেন এবং তিনি মেয়র ২৪[ * * *] নির্বাচিত হইলে মেয়র ২৫[ * * *] হিসাবে তিনি যে তারিখ শপথ গ্রহণ করিবেন সেই তারিখে তাঁহার কমিশনারের পদ শূন্য হইয়া যাইবে৷
   
   
 
মেয়র ২৬[ * * * ] ও কমিশনারগণের পদ ত্যাগ  
১০৷ (১) সরকারের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে মেয়র ২৭[ * * *] স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে পারিবেন৷



(২) কোন কমিশনার মেয়রের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে পারিবেন৷



(৩) প্রাপক যে তারিখে পদ ত্যাগ পত্র পাইবেন সেই তারিখ হইতে পদ ত্যাগ কার্যকর হইবে৷
   
   
 
মেয়র ২৮[ * * *] এবং কমিশনারগণের অপসারণ  
১১৷ (১) মেয়র ২৯[ * * *] বা কোন কমিশনার তাঁহার স্বীয় পদ হইতে অপসারণযোগ্য হইবেন, যদি তিনি-



(ক) যুক্তিসঙ্গত কারণ ব্যতিরেকে কর্পোরেশনের পর পর তিনটি সভায় অনুপস্থিত থাকেন; অথবা



(খ) কর্পোরেশন বা রাষ্ট্রের স্বার্থ হানিকর কোন কাজে জড়িত থাকেন; অথবা



(গ) অসদাচরণ বা নৈতিক স্খলনজনিত কোন ফৌজদারী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হইয়া আদালত কর্তৃক দণ্ডপ্রাপ্ত হন; অথবা



(ঘ) তাঁহার দায়িত্ব পালন করিতে অস্বীকার করেন; অথবা



(ঙ) শারীরিক বা মানসিক অসামর্থের কারণে তাঁহার দায়িত্ব পালনে অক্ষম হন;

(চ) অসদাচরণ অথবা কর্পোরেশনের কোন অর্থ বা সম্পত্তির কোন ক্ষতিসাধন বা উহা আত্মাসাতের বা অপপ্রয়োগের জন্য দায়ী হন৷



ব্যাখ্যা৷- (ক) এই উপ-ধারায়, “অসদাচরণ” বলিতে ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি এবং ইচ্ছাকৃত কু-শাসন বুঝাইবে৷



(২) সরকার, সরকারী গেজেটে আদেশ দ্বারা, উপ-ধারা (১) এ বর্ণিত কারণে মেয়র ৩০[ * * *] বা কোন কমিশনারকে অপসারণ করিতে পারিবেন৷



(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন অপসারণের ক্ষেত্রে কারণ দর্শাইবার জন্য সুযোগ দান না করিয়া প্রয়োজনানুরূপ তদন্ত ব্যতিরেকে উপ-ধারা (১)-এ উল্লিখিত কোন কারণে অপসারণ করা যাইবে না:



তবে শর্ত থাকে যে, উপ-ধারা (১) এর দফা (গ)-এ বর্ণিত কারণে অপসারণের ক্ষেত্রে কোনরূপ তদন্ত অনুষ্ঠানের প্রয়োজন হইবে না৷



(৪) এই আইনের অন্যান্য বিধানে যাহা কিছুই থাকুক না কেন এই ধারা অনুযায়ী অপসারিত কোন ব্যক্তি কর্পোরেশনের কার্যকালের অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য মেয়র ৩১[ * * *] বা কমিশনার কোন পদে নির্বাচিত হইবার যোগ্য হইবেন না৷
   
   
 
মেয়র ৩২[ * * * ] ও কমিশনার পদ শূন্য হওয়া  
১২৷ মেয়র ৩৩[ * * *] ও কমিশনারের পদ শূন্য হইবে, যদি-



(ক) তিনি ধারা ৮(২) এর অধীন মেয়র ৩৪[ * * *] বা কমিশনার হইবার অযোগ্য হইয়া পড়েন;



(খ) তিনি ধারা ৬ এর অধীন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শপথ গ্রহণ বা ঘোষণা করিতে ব্যর্থ হন এবং যদি যুক্তিসঙ্গত কারণে সরকার কর্তৃক উক্ত নির্ধারিত সময়-সীমা বর্ধিত করা না হয়;



(গ) তিনি ধারা ১০ এর অধীনে পদত্যাগ করেন; অথবা



(ঘ) তিনি ধারা ১১ এর অধীনে তাহার পদ হইতে অপসারিত হন; অথবা



(ঙ) তিনি মৃত্যুবরণ করেন৷
   
   
 
আকস্মিক পদ শূন্যতা  
১৩৷ কর্পোরেশনের মেয়াদ শেষ হইবার একশত আশি দিন পূর্বে মেয়র ৩৫[ * * *] বা কোন কমিশনারের পদ শূন্য হইলে পদটি শূন্য হইবার নব্বই দিনের মধ্যে ইহা পূরণ করিতে হইবে, এবং যিনি উক্ত পদে নির্বাচিত হইবেন তিনি কর্পোরেশনের অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য উক্ত পদে বহাল থাকিবেন৷
   
   
 
৩৬[ * * * ] মেয়রের ছুটি  
১৪৷ অসুস্থতা বা অন্যবিধ কারণে কর্পোরেশন ৩৭[ * * *] মেয়রকে বত্সরে সর্বোচ্চ তিন মাস ছুটি মঞ্জুর করিতে পারিবে৷
   
   
 
কমিশনারগণের ভাতা  
১৫৷ প্রত্যেক কমিশনার কর্পোরেশন বা উহার স্থায়ী কমিটি বা অন্য কোন কমিটির সভায় যোগদানের জন্য কর্পোরেশন কর্তৃক সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে নির্ধারিত হারে মাসিক ভাতা পাইবার অধিকারী হইবেন৷
   
   
 
৩৮[ ** * ] মেয়রের সম্মানী ও অন্যান্য সুবিধা  
১৬৷ ৩৯[ * * *] মেয়র কর্পোরেশন হইতে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত হারে সম্মানী ও অন্যান্য সুবিধাদি পাইবার অধিকারী হইবেন৷
   
   
 
মেয়র ৪০[ * * * ] ও কমিশনারগণের রেকর্ডপত্র দেখিবার অধিকার  
১৭৷ (১) মেয়র ৪১[ * * *] কর্পোরেশনের রেকর্ডপত্র দেখিতে পারিবেন এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কিংবা কর্পোরেশনের অন্য কোন কর্মকর্তার নিকট হইতে কর্পোরেশন সম্পর্কিত যে কোন বিষয়ে রিপোর্ট চাহিতে পারিবেন৷



(২) কোন কমিশনার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে যথাযথ নোটিশ প্রদান করিয়া অফিস চলাকালীন সময়ে কর্পোরেশনের রেকর্ডপত্র দেখিতে পারিবেন:



তবে শর্ত থাকে যে, যদি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মত পোষণ করেন যে, কোন বিশেষ ক্ষেত্রে অনুরূপ অধিকার প্রয়োগ করিতে দেওয়া উচিত হইবে না, তাহা হইলে তিনি বিষয়টি মেয়রের নিকট পেশ করিবেন এবং তত্সম্পর্কে মেয়রের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হইবে৷
   
   
 
৪২[ * * *] কমিশনার কর্তৃক মেয়রের দায়িত্ব পালন  
১৮৷ (১) অনুপস্থিতি কিংবা অসুস্থতাহেতু বা অন্য কোন কারণে মেয়র দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে, তিনি পুনরায় স্বীয় দায়িত্ব পালনে সমর্থ না হওয়া পর্যন্ত, ৪৩[ তত্কর্তৃক] লিখিতভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কমিশনার মেয়রের দায়িত্ব পালন করিবেন৷



(২) পদত্যাগ, অপসারণ অথবা মৃত্যুজনিত কারণে মেয়রের পদ শূন্য হইলে, শূন্য পদে নবনির্বাচিত মেয়র কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত ৪৪[ , সরকার কর্তৃক মনোনীত কোন কমিশনার] মেয়র হিসাবে দায়িত্ব পালন করিবেন৷
   
   
 
গেজেট নোটিফিকেশন  
১৯৷ মেয়র ৪৫[ * * *] বা কোন কমিশনারের নির্বাচন, পদত্যাগ, অপসারণ বা কোন পদশূন্যতা নির্বাচন কমিশন, সরকারী গেজেটে প্রকাশ করিবে৷
   
   
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ
মেয়র এবং কমিশনার নিবার্চন
 
মহানগরকে ওয়ার্ডে বিভক্তিকরণ  
২০৷ ধারা ৪(১) এর দফা ৪৬[ (গ)] তে উল্লিখিত কমিশনার নির্বাচনের উদ্দেশ্যে সীমা নির্ধারণ কর্মকর্তা মহানগরকে উক্ত দফার অধীনে নির্ধারিত সংখ্যক কমিশনারের সমসংখ্যক ওয়ার্ডে বিভক্ত করিবেন৷
   
   
 
সীমা নির্ধারণ কর্মকর্তা নিয়োগ  
২১৷ (১) সীমা নির্ধারণের উদ্দেশ্যে নির্বাচন কমিশন সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত ব্যক্তিগণের মধ্য হইতে একজন সীমা নির্ধারণ কর্মকর্তা এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক সহকারী সীমা নির্ধারণ কর্মকর্তা নিয়োগ করিতে পারিবে৷

(২) সহকারী সীমা নির্ধারণ কর্মকর্তা সীমা নির্ধারণ কর্মকর্তাকে তাঁহার কার্য সম্পাদনে সহায়তা করিবেন এবং সীমা নির্ধারণ কর্মকর্তার নিয়ন্ত্রণাধীন সীমা নির্ধারণ কর্মকর্তার কার্যাবলীও সম্পাদন করিতে পারিবেন৷
   
   
 
ওয়ার্ডের সীমা নির্ধারণ  
২২৷ (১) ওয়ার্ডসমূহের সীমা নির্ধারণের ক্ষেত্রে এলাকার অখণ্ডতা এবং জনসংখ্যার যথাসম্ভব সম-বিভাজনের প্রতি লক্ষ্য রাখিতে হইবে৷

(২) সীমা নির্ধারণ কর্মকর্তা ওয়ার্ডসমূহের সীমা নির্ধারণকল্পে প্রয়োজনীয় তদন্ত অনুষ্ঠান করিতে ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পরীক্ষা করিতে পারিবেন এবং এতদসংক্রান্ত বিষয়ে প্রাপ্ত আপত্তি ও পরামর্শ বিবেচনা করিয়া মহানগরের কোন এলাকা কোন ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত হইবে তাহা উল্লেখ করিয়া বিধি অনুযায়ী একটি প্রাথমিক ওয়ার্ড তালিকা প্রকাশ করিবেন এবং উক্ত বিষয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপত্তি ও পরামর্শ দাখিল করিবার আহ্বান জানাইয়া একটি নোটিশ প্রকাশ করিবেন৷

(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীনে প্রাপ্ত কোন আপত্তি বা পরামর্শ বা প্রাথমিক তালিকায় পরিলক্ষিত ত্রুটি-বিচ্যুতি বিধি অনুযায়ী নিষ্পত্তিপূর্বক ওয়ার্ডসমূহের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করিতে হইবে৷
   
   
 
সংরক্ষিত আসনের ওয়ার্ড-সীমা নির্ধারণ  
২৩৷ সংরক্ষিত আসনের কমিশনার নির্বাচনের উদ্দেশ্যে, সীমা নির্ধারণ কর্মকর্তা-

(ক) ধারা ২০ এর অধীনে মহানগরকে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ওয়ার্ডে বিভক্তিকরণের সঙ্গে সঙ্গে ঐ সকল ওয়ার্ডকে এইরূপ সমন্বিত ওয়ার্ডরূপে চিহ্নিত করিবেন যেন এইরূপ সমন্বিত ওয়ার্ডের সংখ্যা সংরক্ষিত আসন সংখ্যার সমান হয়; এবং

(খ) সমন্বিত ওয়ার্ডের সীমা নির্ধারণের ক্ষেত্রে ধারা ২২ এ বর্ণিত পদ্ধতি যথাসম্ভব অনুসরণ করিবেন৷
   
   
 
ভোটার তালিকা  
২৪৷ (১) প্রত্যেক ওয়ার্ডের জন্য নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রণীত একটি ভোটার তালিকা থাকিবে৷

(২) কোন ব্যক্তি কোন ওয়ার্ডের ভোটার তালিকাভুক্ত হইবার অধিকারী হইবেন, যদি তিনি-

(ক) বাংলাদেশের নাগরিক হন;

(খ) আঠার বত্সরের কম বয়স্ক না হন;

(গ) কোন যোগ্য আদালত কর্তৃক অপ্রকৃতিস্থ বলিয়া ঘোষিত না হন; এবং

(ঘ) সেই ওয়ার্ডের বাসিন্দা হন বা বাসিন্দা বলিয়া গণ্য হন৷
   
   
 
ভোটাধিকার  
২৫৷ প্রত্যেক ব্যক্তি যাহার নাম কর্পোরেশনের কোন ওয়ার্ডের আপাততঃ বলবত্ ভোটার তালিকায় অন্তর্ভূক্ত থাকে, কর্পোরেশনের নির্বাচনে ভোট প্রদান করিতে পারিবেন৷
   
   
 
কমিশনার নির্বাচন  
২৬৷ (১) ধারা ২০ এর অধীনে বিভক্ত প্রত্যেক ওয়ার্ড হইতে একজন কমিশনার নির্বাচিত হইবেন৷

(২) ধারা ২৩ এর দফা (ক) এর অধীনে সমন্বিত প্রত্যেক ওয়ার্ড হইতে একজন মহিলা কমিশনার নির্বাচিত হইবেন৷
   
   
 
নির্বাচনের সময়, ইত্যাদি  
২৭৷ (১) নিম্নবর্ণিত সময়ে কর্পোরেশনের মেয়র ৪৭[ * * *] ও কমিশনারগণের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে, যথা:-

(ক) কর্পোরেশন প্রথমবার গঠনের ক্ষেত্রে, এই আইন বলবত্ হইবার পর যথাশীঘ্র সম্ভব;

(খ) কর্পোরেশনের মেয়াদ শেষ হইবার ক্ষেত্রে, উক্ত মেয়াদ শেষ হইবার পূর্ববর্তী একশত আশি দিনের মধ্যে;

(গ) ধারা ১৫৫ এর অধীনে কর্পোরেশনের গঠন বাতিলের ক্ষেত্রে, বাতিলাদেশ জারীর পরবর্তী একশত আশি দিনের মধ্যে৷

(২) উপ-ধারা (১) এবং দফা (খ) ও (গ) এর অধীনে নির্বাচিত মেয়র ৪৮[ * * *] অথবা কমিশনার, কর্পোরেশনের মেয়াদ অথবা ক্ষেত্রমত, কর্পোরেশনের গঠন বাতিলের মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত কর্পোরেশনের কার্যভার গ্রহণ করিতে পারিবেন না৷
   
   
 
নির্বাচন পরিচালনা  
২৮৷ (১) নির্বাচন কমিশন বিধি অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠান ও পরিচালনা করিবেন এবং অনুরূপ বিধিতে নিম্নবর্ণিত সকল অথবা যে কোন বিষয়ে বিধান করা যাইবে, যথা:-

(ক) নির্বাচন পরিচালনার উদ্দেশ্যে রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার, প্রিজাইডিং অফিসার এবং পোলিং অফিসার নিয়োগ এবং তাঁহাদের ক্ষমতা ও দায়িত্ব;

(খ) প্রার্থী মনোনয়ন, মনোনয়নের ক্ষেত্রে আপত্তি এবং মনোনয়ন বাছাই;

(গ) প্রার্থীগণ কর্তৃক প্রদেয় জামানত এবং উক্ত জামানত ফেরত প্রদান বা বাজেয়াপ্তকরণ;

(ঘ) প্রার্থীপদ প্রত্যাহার;

(ঙ) প্রার্থীগণের এজন্টে নিয়োগ;

(চ) প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং বিনা-প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষেত্রে নির্বাচন পদ্ধতি;

(ছ) ভোট গ্রহণের তারিখ, সময় ও স্থান এবং নির্বাচন পরিচালনা সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয়;

(জ) ভোট দানের পদ্ধতি;

(ঝ) ভোট বাছাই ও গণনা, ফলাফল ঘোষণা এবং সমসংখ্যক ভোটের ক্ষেত্রে অনুসরণীয় পদ্ধতি;

(ঞ) ব্যালট পেপার এবং নির্বাচন সংক্রান্ত অন্যান্য কাগজপত্রের হেফাজত ও বিলিবন্টন;

(ট) যে অবস্থায় ভোট গ্রহণ স্থগিত করা যায় এবং পুনরায় ভোট গ্রহণ করা যায়;

(ঠ) নির্বাচনী ব্যয়;

(ড) নির্বাচনের দুর্নীতিমূলক বা অবৈধ কার্যকলাপ ও অন্যান্য নির্বাচনী অপরাধ এবং উহার দণ্ড;

(ঢ) নির্বাচনী বিরোধ এবং উহার বিচার ও নিষ্পত্তি; এবং

(ণ) নির্বাচন সম্পর্কিত আনুষঙ্গিক অন্যান্য বিষয়৷

(২) উপ-ধারা (১) এর দফা (ড) এর ক্ষেত্রে প্রণীত বিধিতে কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয়বিধ দণ্ডের বিধান করা যাইবে, তবে কারাদণ্ডের মেয়াদ সাত বত্সরের অধিক হইবে না৷
   
   
 
নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ  
২৯৷ মেয়র ৪৯[ * * *] এবং কমিশনার হিসাবে নির্বাচিত সকল ব্যক্তির নাম নির্বাচনের পর যথাশীঘ্র সম্ভব, নির্বাচন কমিশন সরকারী গেজেটে প্রকাশ করিবে৷
   
   
তৃতীয় পরিচ্ছেদ
নিবার্চন বিরোধ
 
নির্বাচনী দরখাস্ত দাখিল  
৩০৷ (১) এই আইনের অধীনে অনুষ্ঠিত কোন নির্বাচন বা গৃহীত নির্বাচনী কার্যক্রম বিষয়ে নির্বাচন ট্রাইব্যুনাল ব্যতীত কোন আদালত বা অন্য কোন কর্তৃপক্ষের নিকট আপত্তি উত্থাপন করা যাইবে না৷

(২) কোন নির্বাচনের প্রার্থী ব্যতীত অন্য কোন ব্যক্তি উক্ত নির্বাচন বা নির্বাচনী কার্যক্রম বিষয়ে আপত্তি উত্থাপন ও প্রতিকার প্রার্থনা করিয়া নির্বাচন ট্রাইব্যুনালে আবেদন করিতে পারিবেন না৷
   
   
 
নির্বাচন ট্রাইব্যুনাল ও নির্বাচন আপীল ট্রাইব্যুনাল গঠন  
৩১৷ এই আইনের অধীনে নির্বাচন সম্পর্কিত বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্দেশ্যে নির্বাচন কমিশন একজন সাব-জজ পদমর্যাদার বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তার সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক নির্বাচন ট্রাইব্যুনাল এবং একজন জেলাজজ পদমর্যাদার বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তার সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক নির্বাচন আপীল ট্রাইব্যুনাল গঠন করিবে৷
   
   
 
নির্বাচন দরখাস্ত বদলী  
৩২৷ নির্বাচন কমিশন নিজ উদ্যোগে অথবা এতদুদ্দেশ্যে কোন এক পক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে মামলার যে কোন পর্যায়ে কোন নির্বাচনী দরখাস্ত বা আপীল এক ট্রাইব্যুনাল হইতে অন্য ট্রাইব্যুনালে অথবা ক্ষেত্রমতে, এক আপীল ট্রাইব্যুনাল হইতে অন্য আপীল ট্রাইব্যুনালে বদলী করিতে পারিবে; এবং যে ট্রাইব্যুনালে বা আপীল ট্রাইব্যুনালে তাহা বদলী করা হয় সেই ট্রাইব্যুনাল বা আপীল ট্রাইব্যুনাল উক্ত দরখাস্ত বা আপীল যে পর্যায়ে বদলী করা হইয়াছে সেই পর্যায় হইতে উহার বিচার কার্য চলিতে থাকিবে:

তবে শর্ত থাকে যে, নির্বাচনী দরখাস্ত বা আপীল যে ট্রাইব্যুনাল বা আপীল ট্রাইব্যুনালে বদলী করা হইয়াছে সেই ট্রাইব্যুনাল উপযুক্ত মনে করিলে ইতোপূর্বে পরীক্ষিত কোন সাক্ষীকে পুনরায় তলব বা পরীক্ষা করিতে পারিবে৷
   
   
 
নির্বাচনী দরখাস্ত, আপীল ইত্যাদি নিষ্পত্তি  
৩৩৷ নির্বাচনী দরখাস্ত ও আপীল দায়েরের পদ্ধতি, ট্রাইব্যুনাল ও আপীল ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক নির্বাচন বিরোধ নিষ্পত্তির পদ্ধতি, ট্রাইব্যুনাল ও আপীল ট্রাইব্যুনালসমূহের এখতিয়ার ও ক্ষমতা, সংশ্লিষ্ট পক্ষকে প্রদেয় প্রতিকার এবং আনুষঙ্গিক সকল বিষয় বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে৷
   
   
চতুর্থ পরিচ্ছেদ
কপোরের্শনের কাযাবর্লী
 
কর্পোরেশনের কার্যাবলী  
৩৪৷ বিধি এবং সরকার কর্তৃক সময় সময় প্রদত্ত নির্দেশ সাপেক্ষে, কর্পোরেশন, উহার তহবিলের সঙ্গতি অনুযায়ী চতুর্থ ভাগে বর্ণিত কর্পোরেশন কর্তৃক অবশ্য সম্পাদনীয় কার্যাবলী সম্পাদন করিবে এবং উক্ত ভাগে বর্ণিত অন্যান্য কার্যাবলীও সম্পাদন করিতে পারিবে এবং কর্পোরেশন কর্তৃক সম্পাদন করা যথাযথ মর্মে সরকার কর্তৃক ঘোষিত হইলে অন্য যে কোন কাজও করিতে পারিবে৷
   
   
 
সরকারের নিকট কর্পোরেশনের কার্যাবলী হস্তান্তর, ইত্যাদি  
৩৫৷ এই আইনে অথবা আপাততঃ বলবত্ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সরকার প্রয়োজনবোধে তত্কর্তৃক নির্ধারিত শর্ত সাপেক্ষে,-

(ক) কর্পোরেশন কর্তৃক পরিচালিত কোন প্রতিষ্ঠান বা কর্ম, সরকারের ব্যবস্থাপনায় বা নিয়ন্ত্রণে; এবং

(খ) সরকার কর্তৃক পরিচালিত কোন প্রতিষ্ঠান বা কর্ম কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনায় বা নিয়ন্ত্রণে হস্তান্তর করার নির্দেশ দিতে পারিবে৷
   
   
পঞ্চম পরিচ্ছেদ
নির্বাহী ক্ষমতা
 
নির্বাহী ক্ষমতা  
৩৬৷ (১) এই আইনের অধীনে যাবতীয় কার্যাবলী যথাযথভাবে সম্পাদনের জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু করিবার ক্ষমতা কর্পোরেশনের থাকিবে৷

(২) এই আইন এবং বিধিতে ভিন্নরূপ বিধান না থাকিলে, কর্পোরেশনের নির্বাহী ক্ষমতা মেয়রের উপর ন্যস্ত থাকিবে এবং এই আইন ও বিধি অনুযায়ী উহা মেয়র কর্তৃক প্রত্যক্ষভাবে অথবা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বা মেয়রের নিকট হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্য কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারীর মাধ্যমে প্রযুক্ত হইবে৷

(৩) কর্পোরেশনের নির্বাহী বা অন্য কোন কার্য কর্পোরেশনের নামে গৃহীত হইয়াছে বলিয়া প্রকাশ করা হইবে এবং উহা নির্ধারিত পদ্ধতিতে প্রমাণীকৃত হইতে হইবে৷
   
   
 
মহানগরকে জোনে বিভক্তিকরণ  
৩৭৷ (১) কর্পোরেশনের সুষ্ঠু প্রশাসন ও কার্য-পরিচালনার উদ্দেশ্যে সরকার মহানগরকে প্রয়োজনীয় সংখ্যক জোনে বিভক্ত করিতে পারিবে৷

(২) প্রত্যেক জোনে একটি করিয়া জোনাল অফিস থাকিবে এবং উহা কর্পোরেশন কর্তৃক প্রদত্ত কার্যাবলী সম্পাদন করিবে৷
   
   
 
কার্য নিষ্পন্নকরণ  
৩৮৷ কর্পোরেশনের সকল কার্য নির্ধারিত পদ্ধতিতে উহার বা উহার স্থায়ী কমিটিসমূহের সভায় অথবা মেয়র ৫০[ * * *], প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারী কর্তৃক নিষ্পন্ন করিতে হইবে৷
   
   
 
সভা  
৩৯৷ (১) কর্পোরেশন প্রতি মাসে অন্যুন একবার সভায় মিলিত হইবে৷

(২) মেয়র অথবা তাঁহার অনুপস্থিতিতে তাঁহার দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তি, প্রয়োজন মনে করিলে যে কোন সময় কর্পোরেশনের সভা আহ্বান করিতে পারিবেন, তবে কমিশনারগণের মোট সদস্য সংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশের লিখিত অনুরোধ প্রাপ্ত হইলে, তিনি কর্পোরেশনের সভা আহ্বান করিতে বাধ্য থাকিবেন৷

(৩) কমিশনারগণের মোট সংখ্যার অন্যুন এক-তৃতীয়াংশের সার্বক্ষণিক উপস্থিতি না থাকিলে কর্পোরেশনের কোন সভায় কোন কার্য নিষ্পন্ন করা যাইবে না৷



(৪) এই আইনে ভিন্নরূপ বিধান না থাকিলে, কর্পোরেশনের সভায় সকল সিদ্ধান্ত উপস্থিত কমিশনারগণের সাধারণ সংখ্যা গরিষ্ঠ ভোটে গৃহীত হইবে৷

(৫) প্রত্যেক কমিশনারের একটি করিয়া ভোট প্রদানের ক্ষমতা থাকিবে, এবং ভোটের সমতার ক্ষেত্রে সভাপতি একটি দ্বিতীয় বা নির্ণায়ক ভোট প্রদান করিতে পারিবে৷

(৬) কর্পোরেশনের সভায় মেয়র, অথবা তাঁহার অনুপস্থিতিতে তাঁহার দায়িত্বপালনকারী ব্যক্তি অথবা উভয়ের অনুপস্থিতিতে, উপস্থিত কমিশনারগণ কর্তৃক নির্বাচিত কোন কমিশনার সভাপতিত্ব করিবেন৷

(৭) সরকার কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে নির্ধারিত কর্মকর্তাগণ কর্পোরেশনের আমন্ত্রণে উহার সভায় যোগদান এবং সভায় আলোচনায় অংশগ্রহণ করিতে পারিবেন, তবে তাহাদের ভোটাধিকার থাকিবে না৷
   
   
 
স্থায়ী কমিটি গঠন  
৪০৷ (১) কর্পোরেশন প্রত্যেক বত্সর উহার প্রথম সভায় অথবা যথাশীঘ্র সম্ভব, তত্পরবর্তী কোন সভায়, নিম্নবর্ণিত বিষয়াদির প্রত্যেকটি সম্পর্কে একটি করিয়া স্থায়ী কমিটি গঠন করিবে-

(ক) অর্থ ও সংস্থাপন;

(খ) শিক্ষা;

(গ) স্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা এবং স্বাস্থ্যরক্ষা ব্যবস্থা;

(ঘ) নগর পরিকল্পনা ও উন্নয়ন;

(ঙ) হিসাব নিরীক্ষা ও রক্ষণ;

(চ) পূর্ত ও ইমারত নির্মাণ;

(ছ) পানি ও বিদ্যুত্;

(জ) সমাজকল্যাণ ও কমিউনিটি সেন্টার৷

(২) সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, কর্পোরেশন, প্রয়োজনবোধে অন্য কোন বিষয়ের জন্যও স্থায়ী কমিটি গঠন করিতে পারিবে৷

(৩) প্রত্যেক স্থায়ী কমিটি অনধিক ছয়জন সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত হইবে, এবং তাঁহারা কমিশনারগণ কর্তৃক তাহাদের মধ্য হইতে নির্বাচিত হইবেন, তবে কোন কমিশনার একই সময়ে দুইটির অধিক স্থায়ী কমিটির সদস্য হইবেন না৷

(৪) মেয়র পদাধিকারবলে সকল স্থায়ী কমিটির সদস্য হইবেন৷

(৫) প্রত্যেক স্থায়ী কমিটি উহার সদস্যদের মধ্য হইতে উহার একজন চেয়ারম্যান এবং একজন ভাইস-চেয়ারম্যান নির্বাচিত করিবে৷



(৬) মেয়রের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে চেয়ারম্যান বা ভাইস-চেয়ারম্যান স্বীয় পদত্যাগ করিতে পারিবেন, এবং মেয়র কর্তৃক পদত্যাগপত্র প্রাপ্তির তারিখ হইতে পদত্যাগ কার্যকর হইবে৷

(৭) কোন স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান বা ভাইস-চেয়ারম্যান অথবা অন্য কোন সদস্যের পদ আকস্মিকভাবে শূন্য হইলে, তাহা উপ-ধারা (৩) এ বর্ণিত পদ্ধতিতে নির্বাচনের মাধ্যমে পূরণ করা হইবে এবং নব নির্বাচিত ব্যক্তি তাহার পূর্বসূরীর অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য তাঁহার পদে অধিষ্ঠিত থাকিবেন৷

(৮) কোন স্থায়ী কমিটি উহার উত্তরাধিকারী স্থায়ী কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করিতে থাকিবে৷
   
   
 
স্থায়ী কমিটিসমূহের কার্যাবলী  
৪১৷ (১) কর্পোরেশন প্রবিধান দ্বারা প্রত্যেক স্থায়ী কমিটির কার্যাবলী নির্ধারণ করিবে৷

(২) স্থায়ী কমিটির সকল কার্যধারা কর্পোরেশনের অনুমোদন সাপেক্ষে চূড়ান্ত হইবে৷
   
   
 
অন্যান্য কমিটি গঠন  
৪২৷ কর্পোরেশন প্রয়োজনবোধে, কমিশনারগণের মধ্য হইতে বাছাইকৃত ব্যক্তিগণের সমন্বয়ে অন্যুন

তিন সদস্যবিশিষ্ট অন্যান্য কমিটি গঠন করিতে পারিবে৷
   
   
 
কর্পোরেশনের কাজে যে কোন ব্যক্তির সম্পৃক্তকরণ  
৪৩৷ (১) কর্পোরেশন বা উহার কোন স্থায়ী কমিটি কিংবা অন্য কোন কমিটি উহার যে কোন দায়িত্ব পালনের জন্য কোন ব্যক্তির সাহায্য বা পরামর্শের প্রয়োজন বোধ করিলে উক্ত ব্যক্তিকে উহার কাজের সহিত সম্পৃক্ত করিতে পারিবে৷

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীনে কর্পোরেশন বা কোন কমিটির সহিত সম্পৃক্ত ব্যক্তি উহার সভায় আলোচনায় অংশগ্রহণ করিতে পারিবেন, তবে তাহার ভোটাধিকার থাকিবে না৷
   
   
 
কর্পোরেশনের সভায় জনসাধারণের প্রবেশাধিকার  
৪৪৷ (১) সংখ্যাগরিষ্ঠ কমিশনারগণের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কর্পোরেশনের কোন সভা একান্তে অনুষ্ঠিত না হইলে, উহার প্রত্যেক সভা জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকিবে৷

(২) কর্পোরেশন, প্রবিধান দ্বারা, উহার সভায় জনসাধারণের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করিতে পারিবে৷
   
   
 
কমিশনারগণের ভোটদানের উপর বাধা-নিষেধ  
৪৫৷ কর্পোরেশন বা উহার কোন কমিটির সভায়, কোন কমিশনারের আচরণ সম্পর্কিত কোন বিষয়ের আলোচনায় অথবা তাঁহার আর্থিক স্বার্থ এইরূপ কোন বিষয়ে অথবা তাঁহার ব্যবস্থাধীন বা নিয়ন্ত্রণাধীন আছে এইরূপ কোন সম্পত্তি বিষয়ক আলোচনায় উক্ত কমিশনার অংশগ্রহণ বা ভোট দান করিবেন না৷
   
   
 
সভার কার্যপদ্ধতি ও কার্য পরিচালনার জন্য প্রবিধান  
৪৬৷ এই আইন সাপেক্ষে, কর্পোরেশন উহার সভা এবং উহার স্থায়ী কমিটি কিংবা অন্যান্য কমিটির সভার কার্যপদ্ধতি ও কার্য পরিচালনার জন্য প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে৷
   
   
 
সভার কার্যবিবরণী লিপিবদ্ধকরণ  
৪৭৷ (১) কর্পোরেশন এবং উহার প্রত্যেক স্থায়ী কমিটি বা অন্য কোন কমিটির সভার কার্যবিবরণীতে অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে, উপস্থিত কমিশনার বা সদস্যগণের নাম উল্লেখ করিতে হইবে এবং উক্ত কার্যবিবরণী তদুদ্দেশ্যে রক্ষিত একটি বহিতে লিপিবদ্ধ করিতে হইবে এবং সভার সভাপতি কর্তৃক যাহা স্বাক্ষরিত হইতে হইবে এবং কর্পোরেশন বা সংশ্লিষ্ট কমিটির পরবর্তী সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থিত হইতে হইবে৷

(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত কার্যবিবরণী কর্পোরেশন অফিসে পরিদর্শনের জন্য উন্মুক্ত রাখিতে হইবে, তবে কমিশনার ব্যতীত অন্য যেকোন ব্যক্তি উহা পরিদর্শন করিতে চাহিলে তাঁহাকে তজ্জন্য নির্ধারিত ফিস প্রদান করিতে হইবে৷

(৩) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা প্রত্যেক সভার কার্যবিবরণীর একটি প্রতিলিপি উক্ত কার্যবিবরণী স্বাক্ষরিত হইবার তারিখ হইতে দশ দিনের মধ্যে সরকারের নিকট প্রেরণ করিবেন৷
   
   
 
কার্যাবলী ও কার্যধারা বৈধকরণ  
৪৮৷ (১) এই আইনের অধীনে কৃত কোন কার্য, বা গৃহীত কোন কার্যধারা সম্পর্কে কেবলমাত্র-

(ক) কর্পোরেশন বা উহার কোন কমিটিতে কোন পদ শূন্যতার কারণে কিংবা উহার গঠনে কোন ত্রুটি থাকার কারণে; অথবা

(খ) কোন মামুলি ত্রুটি বা অনিয়মের কারণে-

কোন প্রশ্ন উত্থাপন করা চলিবে না৷

(২) কর্পোরেশন অথবা উহার কোন কমিটির সভার কার্যবিবরণী যথাযথভাবে লিপিবদ্ধ ও স্বাক্ষরিত হইলে উহার সভা যথাযথভাবে আহ্বান করা হইয়াছে এবং পরিচালিত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে৷
   
   
 
চুক্তি  
৪৯৷ (১) কর্পোরেশন কর্তৃক বা উহার পক্ষে সম্পাদিত সকল চুক্তি-

(ক) লিখিত হইতে হইবে এবং কর্পোরেশনের নামে সম্পাদিত হইয়াছে বলিয়া প্রকাশিত হইতে হইবে; এবং

(খ) বিধি অনুসারে সম্পাদিত হইতে হইবে৷

(২) কোন চুক্তি সম্পাদনের অব্যবহিত পরে অনুষ্ঠিত কর্পোরেশনের সভায় প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা চুক্তিটি সম্পর্কে সভাকে অবহিত করিবেন৷

(৩) বিধি প্রণয়ন না করা পর্যন্ত কর্পোরেশন প্রস্তাবের মাধ্যমে উহার বিভিন্ন ধরণের চুক্তি সম্পাদনের পদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা চুক্তি সম্পাদনের ব্যাপারে বিধি বা, ক্ষেত্রমতে, প্রস্তাব অনুযায়ী কাজ করিবেন৷
   
   
 
পূর্ত কাজ  
৫০৷ সরকার বিধি দ্বারা-

(ক) কর্পোরেশন কর্তৃক সম্পাদিতব্য সকল পূর্ত কাজের পরিকল্পনা এবং আনুমানিক ব্যয়ের হিসাব প্রণয়ন করার বিধান করিবে;

(খ) উক্ত পরিকল্পনা ও ব্যয় কোন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক এবং কি শর্তে প্রযুক্তিগতভাবে এবং প্রশাসনিকভাবে অনুমোদিত হইবে, উহার বিধান করিবে;

(গ) উক্ত পরিকল্পনা ও ব্যয়ের হিসাব কাহার দ্বারা প্রণয়ন করা হইবে এবং উক্ত পূর্ত কাজ কাহার দ্বারা সম্পাদিত হইবে উহার বিধান করিবে৷
   
   
 
নথিপত্র, প্রতিবেদন, ইত্যাদি  
৫১৷ কর্পোরেশন-

(ক) উহার কার্যাবলীর নথি নির্ধারিত পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করিবে;

(খ) বিধিতে উল্লিখিত বিষয়ের উপর সাময়িক প্রতিবেদন এবং বিবরণী প্রণয়ন ও প্রকাশ করিবে;

(গ) উহার কার্যাবলী সম্পর্কে তথ্য প্রকাশের জন্য প্রয়োজনীয় বা সরকার কর্তৃক, সময় সময়, নির্দেশিত অন্যান্য ব্যবস্থাও গ্রহণ করিতে পারিবে৷
   
   
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ
কপোরের্শনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ
 
প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা  
৫২৷ (১) কর্পোরেশনের একজন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা থাকিবেন এবং তিনি সরকার কর্তৃক নির্ধারিত শর্তে নিযুক্ত হইবেন৷

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীনে নিযুক্ত কর্মকর্তা কার্যভার গ্রহণের তারিখ হইতে তিন বত্সর মেয়াদের জন্য তাঁহার পদে অধিষ্ঠিত থাকিবেন; তবে সরকার উক্ত মেয়াদ অনধিক এক বত্সর করিয়া বৃদ্ধি করিতে পারিবে৷

(৩) উপ-ধারা (২) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সরকার যে কোন সময় কোন কারণ না দর্শাইয়া প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে তাঁহার পদ হইতে প্রত্যাহার করিতে পারিবে; এবং এতদুদ্দেশ্যে আহূত কর্পোরেশনের বিশেষ সভায় উপস্থিত কমিশনারগণের মোট সংখ্যার তিন-পঞ্চমাংশের ভোটে উক্ত কর্মকর্তাকে প্রত্যাহারের জন্য প্রস্তাব গৃহীত হইলে সরকার তাহাকে অবশ্যই তাহার পদ হইতে প্রত্যাহার করিবে:

তবে শর্ত থাকে যে, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত কোন ব্যক্তি হইলে, সরকারকে এক মাসের নোটিশ না দিয়া অনুরূপ কোন বিশেষ সভা আহ্বান করা এবং অনুরূপ কোন প্রস্তাব উত্থাপন করা যাইবে না৷

(৪) এই আইন ও বিধিতে ভিন্নরূপ বিধান না থাকিলে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কর্পোরেশনের সকল সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য দায়ী থাকিবেন এবং মেয়র যে ক্ষমতা বা দায়িত্ব তাহাকে প্রদান করিবেন তিনি সেই ক্ষমতা প্রয়োগ বা দায়িত্ব পালন করিবেন৷

(৫) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্বীয় ক্ষমতা প্রয়োগ এবং দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে মেয়রের নিকট দায়ী থাকিবেন৷

(৬) অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোন কারণে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তাঁহার দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে, সরকার কর্তৃক নিযুক্ত অন্য কোন ব্যক্তি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করিবেন৷
   
   
 
প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার বিশেষ ক্ষমতা  
৫৩৷ কোন দুর্ঘটনাবশতঃ বা দুর্ঘটনার সম্ভাবনার কারণে অথবা অদৃষ্টপূর্ব কোন ঘটনা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে, কর্পোরেশনের সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হইলে বা হওয়ার সম্ভাবনা থাকিলে অথবা জনজীবন বিপন্ন হইলে বা হওয়ার সম্ভাবনা থাকিলে, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তাঁহার বিবেচনামতে উপযুক্ত ত্বরিত ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবেন এবং তত্সম্পর্কে তিনি অবিলম্বে কর্পোরেশন কিংবা সংশ্লিষ্ট স্থায়ী কমিটির নিকট প্রতিবেদন পেশ করিবেন এবং উক্ত প্রতিবেদনে অনুরূপ ব্যবস্থা গ্রহণের কারণ এবং তজ্জন্য যদি খরচ হইয়া থাকে বা হইতে পারে, তাহাও উল্লেখ করিবেন৷
   
   
 
নথিপত্রের হেফাজত  
৫৪৷ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কর্পোরেশন ও উহার সকল কমিটির যাবতীয় কাগজপত্র, দলিল দস্তাবেজসহ নথিপত্র ও কার্যবিবরণী হেফাজতের জন্য দায়ী থাকিবেন৷
   
   
 
প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার সভা সম্পর্কিত অধিকার  
৫৫৷ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কর্পোরেশন বা উহার যে কোন কমিটির সভায় উপস্থিত থাকিবার এবং সভার আলোচনায় অংশগ্রহণের অধিকার থাকিবে এবং অনুরূপ কোন সভায় তিনি, সভাপতির অনুমতিক্রমে, কোন বিষয়ে বিবৃতি প্রদান বা ব্যাখ্যা দান করিতে পারিবেন; তবে উক্তরূপ সভায় তাঁহার ভোট দানের বা প্রস্তাব উত্থাপনের কোন অধিকার থাকিবে না৷
   
   
 
পদসমূহের তফসিল  
৫৬৷ (১) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, সময় সময়, কর্পোরেশনের যে সমস্ত পদ তাঁহার বিবেচনায় থাকা প্রয়োজন মনে করেন, উহার একটি তফসিল প্রস্তুত করিয়া কর্পোরেশনের নিকট পেশ করিবেন৷

(২) কর্পোরেশন, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার মতামত গ্রহণ করিয়া উপ-ধারা (১) এর অধীনে প্রস্তুতকৃত তফসিল প্রয়োজনীয় সংশোধন করিতে এবং এইরূপে সংশোধিত তফসিল, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, চূড়ান্ত করিতে পারিবে৷
   
   
 
তফসিল বহির্ভূত পদের নিয়োগদানে বাধা-নিষেধ  
৫৭৷ ধারা ৫৬ এর অধীনে প্রস্তুত ও চূড়ান্তকৃত তফসিল বহির্ভূত কোন পদে কোন ব্যক্তিকে নিয়োগদান করা যাইবে না৷
   
   
 
নিয়োগদানকারী কর্তৃপক্ষ  
৫৮৷ এই আইনের বিধান ও বিধি সাপেক্ষে, মেয়র কর্পোরেশনের সকল প্রথম শ্রেণীর পদে এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অন্যান্য সকল পদে নিয়োগদান করিবেন৷
   
   
 
ভবিষ্য তহবিল, ইত্যাদি  
৫৯৷ কর্পোরেশন বিধি অনুসারে-

(ক) উহার কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণের জন্য ভবিষ্য তহবিল গঠন করিতে পারিবে এবং নির্ধারিত হারে উক্ত তহবিলে চাঁদা প্রদান করিবার জন্য তাহাদিগকে নির্দেশ দিতে পারিবে;

(খ) ভবিষ্য তহবিলে চাঁদা প্রদান করিতে পারিবে;

(গ) উহার কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণের অবসর গ্রহণের পর আনুতোষিক প্রদানের ব্যবস্থা করিতে পারিবে;

(ঘ) উহার কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারী তাহার উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করার কারণে অসুস্থ বা আঘাতপ্রাপ্ত হইয়া মৃত্যুবরণ করিলে, তাঁহার পরিবারকে বিশেষ আনুতোষিক প্রদান করিতে পারিবে;

(ঙ) উহার কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণের জন্য সামাজিক বীমা প্রবর্তন করিতে পারিবে এবং উহাতে চাঁদা প্রদানের জন্য তাহাদিগকে নির্দেশ দিতে পারিবে;

(চ) কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণের জন্য কল্যাণ তহবিল প্রবর্তন করিতে পারিবে এবং উহা হইতে তাহাদিগকে সাহায্য করিতে পারিবে৷
   
   
 
কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণের শাস্তি  
৬০৷ (১) বিভাগীয় কোন আইন-কানুন লঙ্ঘন কিংবা শৃঙ্খলা ভঙ্গ অথবা দায়িত্ব পালনে অবহেলা বা অসতর্কতা বা দুর্নীতি বা অসদাচরণের দায়ে কর্পোরেশনের কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে নির্ধারিত পদ্ধতিতে নিম্নলিখিত যে কোন শাস্তি প্রদান করা যাইবে:-

(ক) তিরস্কার;

(খ) জরিমানা;

(গ) বার্ষিক বেতন-বৃদ্ধি বন্ধ;

(ঘ) পদোন্নতি বন্ধ;

(ঙ) পদাবনতি;

(চ) বাধ্যতামূলক অবসর দান;

(ছ) অপসারণ;

(জ) সাময়িক বরখাস্ত;

(ঝ) বরখাস্ত:

তবে শর্ত থাকে যে, অনুরূপ কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে শাস্তিদানকারী কর্তৃপক্ষ, তাহার নিয়োগদানকারী কর্তৃপক্ষ অপেক্ষা অধঃস্তন হইবে না৷

(২) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, অনুরূপ কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে কারণ দর্শাইবার যুক্তিসঙ্গত সুযোগ দান না করিয়া বরখাস্ত বা অপসারিত বা পদাবনত করা যাইবে না:

তবে শর্ত থাকে যে, ফৌজদারী অপরাধে দণ্ডিত কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে বরখাস্ত, অপসারিত বা পদাবনত করার ক্ষেত্রে উক্ত বিধান প্রযোজ্য হইবে না৷

(৩) এই ধারা অনুযায়ী শাস্তিপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারী নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের নিকট নির্ধারিত পদ্ধতিতে আপীল করিতে পারিবেন৷
   
   
 
চাকুরীর মেয়াদ ও শর্তাবলী  
৬১৷ এই আইনের বিধান সাপেক্ষে, সরকার বিধি দ্বারা-

(ক) কর্পোরেশনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণের চাকুরীর শর্তাবলী নির্ধারণ করিতে পারিবে;

(খ) কর্পোরেশনের অধীনে বিভিন্ন পদে নিয়োগের যোগ্যতা নির্ধারণ করিতে পারিবে;

(গ) কর্পোরেশনের অধীনে বিভিন্ন পদে নিয়োগদানের ক্ষেত্রে অনুসরণীয় নীতি নির্ধারণ করিতে পারিবে;

(ঘ) কর্পোরেশনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণকে কোন জামানত দিতে হইলে, তাহার পরিমাণ ও প্রকৃতি নির্ধারণ করিতে পারিবে;

(ঙ) কর্পোরেশনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণের ছুটি ও ছুটিকালীন ভাতা মঞ্জুরী নিয়ন্ত্রণ করিতে পারিবে;

(চ) কর্পোরেশনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করিত