দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল আইন, ২০০২
( ২০০২ সনের ২৮ নং আইন )
  [১ ডিসেম্বর, ২০০২]
     
      কতিপয় অপরাধের ত্বরিত বিচারের জন্য দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল স্থাপনকল্পে প্রণীত আইন৷
 

যেহেতু কতিপয় অপরাধের ত্বরিত বিচারের জন্য দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল স্থাপন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়;

সেহেতু এতদ্‌দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল:-

   
 
সংক্ষিপ্ত শিরোনামা ও প্রবর্তন  
১৷ (১) এই আইন দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল আইন, ২০০২ নামে অভিহিত হইবে৷

(২) ইহা ২৪ অক্টোবর, ২০০২ ইংরেজী মোতাবেক ৯ কার্তিক, ১৪০৯ বঙ্গাব্দ তারিখে কার্যকর হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে৷
   
   
 
আইনের প্রাধান্য  
২৷ আপাততঃ বলবত্ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের বিধানাবলী প্রাধান্য পাইবে৷
   
   
 
সংজ্ঞা  
৩৷ বিষয় বা প্রসংগের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে,-

(ক) “আদালত” অর্থ দায়রা আদালত, বিশেষ আদালত ও ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত;

(খ) “দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল” অর্থ ধারা ৪ এর অধীন স্থাপিত দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল;

(গ) “দায়রা আদালত” অর্থ Code of Criminal Procedure, 1898 (Act No. V of 1898) এর অধীন গঠিত Court of Session;

(ঘ) “ফৌজদারী কার্যবিধি” অর্থ Code of Criminal Procedure, 1898 (Act No. V of 1898);

(ঙ) “বিশেষ আদালত” অর্থ Special Powers Act, 1974 (Act No. XIV of 1974) এর অধীন গঠিত Special Tribunal, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (২০০০ সনের ৮ নং আইন) এর অধীন গঠিত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল, এসিড অপরাধ দমন আইন, ২০০২ (২০০২ সনের ২নং আইন) এর অধীন গঠিত এসিড অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল; এবং

(চ) “ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত” অর্থ ফৌজদারী কার্যবিধিতে উল্লিখিত যে কোন শ্রেণীর বা যে কোন পদের বা নামের ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত৷
   
   
 
দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল স্থাপন  
৪৷ (১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, সমগ্র দেশের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল স্থাপন করিবে৷

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন একাধিক দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল স্থাপন করা হইলে, ট্রাইব্যুনাল গঠনকারী প্রজ্ঞাপনে সরকার প্রতিটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ারভুক্ত এলাকা নির্দিষ্ট করিয়া দিবে৷

(৩) প্রত্যেক দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে একজন করিয়া বিচারক থাকিবেন এবং উক্ত বিচারক বিচার কর্ম বিভাগের জেলা জজ পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের মধ্য হইতে নিযুক্ত হইবেন৷

(৪) সরকার যে স্থান বা স্থানসমূহ নির্ধারণ করিবে সেই স্থানে বা স্থানসমূহের যে কোন স্থানে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল বসিতে পারিবে এবং উহার কার্যক্রম পরিচালনা করিতে পারিবে৷
   
   
 
এখতিয়ার  
৫৷ সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, যে মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করিবে শুধু সেই মামলাই এই ট্রাইব্যুনাল বিচার করিবে৷
   
   
 
মামলা স্থানান্তর  
৬৷ সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, জনস্বার্থে, হত্যা, ধর্ষণ, আগ্নেয়াস্ত্র, বিস্ফোরক দ্রব্য এবং মাদকদ্রব্য সংক্রান্ত অপরাধের বিচারাধীন কোন মামলা উহার যে কোন পর্যায়ে ক্ষেত্রমত, দায়রা আদালত বা বিশেষ আদালত বা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত হইতে বিচারের জন্য দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করিতে পারিবে৷
   
   
 
দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মর্যাদা ও দণ্ডারোপের ক্ষমতা  
৭৷ (১) দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল একটি দায়রা আদালত বলিয়া গণ্য হইবে৷

(২) দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল তত্কর্তৃক বিচারকৃত অপরাধের জন্য সংশ্লিষ্ট আইন দ্বারা নির্ধারিত যে কোন দণ্ড আরোপ করিতে পারিবে৷
   
   
 
বিচার কার্যক্রম  
৮৷ (১) যে পর্যায়ে কোন একটি মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হইবে সেই পর্যায় হইতে উক্ত মামলার বিচারকার্য পরিচালিত হইবে৷

(২) যে আদালত হইতে মামলা স্থানান্তর করা হইবে সেই আদালত কর্তৃক গৃহীত সাক্ষ্য-সাবুদ দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের সাক্ষ্য-সাবুদ বলিয়া বিবেচিত হইবে এবং সুবিচারের জন্য প্রয়োজন না হইলে এই সাক্ষ্য-সাবুদ পুনরায় গ্রহণ করার প্রয়োজন হইবে না৷
   
   
 
বিচারের বিশেষ পদ্ধতি  
৯৷ (১) দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরিত মামলার বিচারের ক্ষেত্রে ফৌজদারী কার্যবিধির Chapter XX, যতদূর এই আইনের সহিত সাংঘর্ষিক না হয় ততদূর, প্রযোজ্য হইবে৷

(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত কোন মামলা সম্পর্কিত অপরাধটির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা সাত বত্সরের অধিক কারাদণ্ড না হইলে, মামলাটির বিচার সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে নিষ্পন্ন হইবে এবং সেই ক্ষেত্রে ফৌজদারী কার্যবিধির Chapter XXII যতদূর সম্ভব অনুসরণ করা হইবে৷

(৩) দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরিত কোন মামলায় অভিযুক্ত কিংবা দণ্ডপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তির জামিনে মুক্তির আবেদন নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে মামলাটি যে আদালত হইতে স্থানান্তরিত করা হইয়াছিল, সেই আদালতে এই আবেদন দাখিল করা হইলে যে বিধান প্রযোজ্য হইত সেই বিধান প্রযোজ্য হইবে৷
   
   
 
মামলা নিষ্পত্তির মেয়াদ  
১০৷ (১) দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরিত কোন মামলা স্থানান্তরের তারিখ হইতে নব্বই কার্য দিবসের মধ্যে নিষ্পত্তি করিতে হইবে৷

(২) কোন অনিবার্য কারণে উক্ত মেয়াদের মধ্যে কোন মামলা নিষ্পত্তি করা সম্ভব না হইলে, দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া অতিরিক্ত ত্রিশ কার্য দিবসের মধ্যে মামলাটি নিষ্পত্তি করিতে পারিবে এবং তত্সম্পর্কে সুপ্রীম কোর্টকে লিখিতভাবে অবহিত করিবে, যাহার একটি অনুলিপি সরকারের নিকট প্রেরণ করিতে হইবে৷

(৩) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত বর্ধিত সময়ের মধ্যেও যদি যুক্তিসঙ্গত কোন কারণে কোন মামলা নিষ্পত্তি করা সম্ভব না হয়, তাহা হইলে ট্রাইব্যুনাল উহার কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া মামলাটি নিষ্পত্তির জন্য সর্বশেষ আরো পনের কার্য দিবস সময় নিতে পারিবে এবং এইরূপ সময় বর্ধিতকরণ সম্পর্কে সুপ্রীম কোর্টকে লিখিতভাবে অবহিত করিবে, যাহার একটি অনুলিপি সরকারের নিকট প্রেরণ করিতে হইবে৷

(৪) কোন ক্ষেত্রে উপ-ধারা (৩) এ উল্লিখিত সর্বশেষ বর্ধিত মেয়াদের মধ্যেও যদি কোন মামলা নিষ্পত্তি করা সম্ভব না হয়, তাহা হইলে মামলাটি যে আদালত হইতে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরিত করা হইয়াছিল সেই আদালতে উক্ত ট্রাইব্যুনাল কারণ লিপিবদ্ধ করতঃ উহা ফেরত পাঠাইবে এবং উক্তরূপে ফেরত পাঠানো সম্পর্কে কারণ লিপিবদ্ধ করতঃ সুপ্রীম কোর্টকে লিখিতভাবে অবহিত করিবে, যাহার একটি অনুলিপি সরকারের নিকট প্রেরণ করিতে হইবে৷

(৫) উপ-ধারা (৪) এর অধীন কোন মামলা কোন আদালতে ফেরত আসিলে সেই মামলাটির বিচারকার্য উক্ত আদালতে বিচারাধীন অন্যান্য সকল মামলার উপর প্রাধান্য পাইবে এবং যে পর্যায়ে মামলাটি ফেরত আসিয়াছে সেই পর্যায় হইতে উহার বিচারকার্য পরিচালনা করা হইবে, যেন উক্ত আদালতে মামলাটি ঐ পর্যায়ে বিচারাধীন ছিল এবং ইহা কখনও স্থানান্তরিত হয় নাই:

তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত আদালতে উক্ত সময়ে যদি অন্য কোন মামলার শুনানী চলিতে থাকে, তবে ঐ মামলার শুনানী শেষ হইবার পর ফেরতপ্রাপ্ত মামলাটির শুনানী শুরু করিতে হইবে এবং ইহার শুনানী শুরু করিবার পর ইহা শেষ না হওয়া পর্যন্ত একটানা চলিতে থাকিবে এবং অনিবার্য কোন কারণ ব্যতীত, যাহা লিপিবদ্ধ করিতে হইবে, ইহার শুনানী মুলতবী করা যাইবে না৷
   
   
 
বিচারকের বদলীর ক্ষেত্রে পদ্ধতি  
১১৷ যদি কোন মামলার বিচারকার্য চলাকালে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক কোন কারণে পরিবর্তিত হইয়া যায়, তাহা হইলে তাহার স্থলে যিনি উক্ত ট্রাইব্যুনালে নিযুক্ত হইবেন তিনি মামলাটি পূর্ববর্তী বিচারক যে পর্যায়ে রাখিয়া গিয়াছেন সেই পর্যায় হইতে বিচার শুরু করিবেন এবং তাহার পূর্ববর্তী বিচারক যদি কোন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন, তাহা হইলে পুনরায় উক্ত সাক্ষ্য গ্রহণ করিবার প্রয়োজন হইবে না, তবে যদি তিনি ন্যায়বিচারের স্বার্থে উক্ত সাক্ষীর সাক্ষ্য পুনরায় গ্রহণ করা একান্ত অপরিহার্য বলিয়া মনে করেন, তাহা হইলে উক্ত সাক্ষীকে তলব করিয়া পুনরায় সাক্ষ্য গ্রহণ করিতে পারিবেন৷
   
   
 
বিচারকার্য মুলতবী  
১২৷ দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলার বিচারকার্য শুরু হইলে উহা শেষ না হওয়া পর্যন্ত একটানা চলিবে, তবে ট্রাইব্যুনাল যদি এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে, ন্যায় বিচারের স্বার্থে বিচারকার্য মুলতবী করা একান্ত প্রয়োজন, তাহা হইলে স্বল্পকালীন সময়ের জন্য, যাহা তিন কার্য দিবসের অধিক হইবে না, বিচারকার্য মুলতবী করা যাইবে:

তবে শর্ত থাকে যে, যদি উক্তরূপ মুলতবী ধারা ১০ এ উল্লিখিত সময়ের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি অসম্ভব করিতে পারে, তাহা হইলে কোন মুলতবী মঞ্জুর করা যাইবে না৷
   
   
 
বিচারাধীন অপরাধের সহিত জড়িত অন্য অপরাধের বিচার  
১৩৷ এই আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোন দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন কোন মামলার অপরাধের সঙ্গে অন্য কোন অপরাধ যদি এমনভাবে জড়িত থাকে যে ন্যায়বিচারের স্বার্থে উক্ত অন্য অপরাধের বিচার বিচারাধীন অপরাধের সহিত একই সঙ্গে হওয়া উচিত, তাহা হইলে উক্ত অন্য অপরাধটি বিচারাধীন অপরাধের সহিত দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে একই সঙ্গে বিচার হইবে, যেন ঐ অপরাধটির মামলা এই আইনের অধীনে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হইয়াছে৷
   
   
 
আপীল  
১৪৷ দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের চূড়ান্ত রায়ের বিরুদ্ধে রায় প্রদানের তারিখ হইতে ত্রিশ দিনের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে আপীল করা যাইবে:

তবে শর্ত থাকে যে, রায়ের জাবেদা নকল (certified copy) পাইতে যে সময় লাগিবে উহা উক্ত সময় হইতে বাদ যাইবে৷
   
   
 
দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল, ইত্যাদির জবাবদিহিতা  
১৫৷ (১) কোন মামলা ধারা ১০ এর উপ-ধারা (৩) এ উল্লিখিত সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি না হইবার ক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনালকে উহার কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া একটি প্রতিবেদন ত্রিশ দিনের মধ্যে সুপ্রীম কোর্টের নিকট দাখিল করিতে হইবে, যাহার একটি অনুলিপি সরকারের নিকট প্রেরণ করিতে হইবে৷

(২) অনুরূপ ক্ষেত্রে বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর ও সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাকেও উহার কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া একটি প্রতিবেদন ত্রিশ দিনের মধ্যে সরকারের নিকট দাখিল করিতে হইবে, যাহার একটি অনুলিপি সুপ্রীম কোর্টে প্রেরণ করিতে হইবে৷

(৩) উপ-ধারা (১) বা (২) এর অধীন পেশকৃত প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর যথাযথ কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ার জন্য দায়ী ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন৷
   
   
 
ক্যামেরায় গৃহীত ছবি, রেকর্ডকৃত কথাবার্তা ইত্যাদির সাক্ষ্যমূল্য  
১৬৷ কোন পুলিশ কর্মকর্তা বা আইন প্রয়োগকারী বাহিনীর সদস্য বা অন্য কোন ব্যক্তি কোন অপরাধ সংঘটন বা সংঘটনের প্রস্তুতি গ্রহণ বা উহা সংঘটনের সহায়তা সংক্রান্ত কোন ঘটনার চলচ্চিত্র বা স্থিরচিত্র ধারণ বা গ্রহণ করিলে বা কোন কথাবার্তা বা আলাপ আলোচনা টেপ রেকর্ড বা ডিস্কে ধারণ করিলে, উক্ত চলচ্চিত্র বা স্থিরচিত্র বা টেপ বা ডিস্ক উক্ত অপরাধের বিচারে প্রমাণ হিসাবে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে গ্রহণযোগ্য হইবে:

তবে শর্ত থাকে যে, শুধু উক্ত প্রমাণের উপর ভিত্তি করিয়া দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শাস্তি প্রদান করিতে পারিবে না৷
   
   
 
ফৌজদারী কার্যবিধির প্রয়োগ  
১৭৷ এই আইনের বিধাবালীর সহিত অসমঞ্জস না হওয়া সাপেক্ষে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন কোন মামলার বিচারের ক্ষেত্রে ফৌজদারী কার্যবিধি প্রযোজ্য হইবে৷
   
   
 
পাবলিক প্রসিকিউটর  
১৮৷ সরকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের জন্য বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর নিয়োগ করিবে৷
   
   
 
মামলার বিবরণী  
১৯৷ প্রত্যেক দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল, প্রতি ইংরেজী মাসের পরবর্তী সাত দিনের মধ্যে ঐ মাসে যতগুলি মামলা বিচারাধীন ছিল এবং যতগুলি মামলাস্থানান্তর করা হইয়াছিল উহাদের প্রত্যেকটির নম্বর এবং মোট সংখ্যা, উহাদের মধ্যে শুনানীর জন্য নির্ধারিত মামলার নম্বর ও তারিখ, উহাদের মধ্যে নিষ্পত্তিকৃত মামলার নম্বর ও মোট সংখ্যা, নিষ্পত্তিকৃত মামলার ফলাফল এবং মুলতবীকৃত মামলার নম্বর ও সংখ্যা, মুলতবীর কারণ ও মুলতবীর জন্য প্রার্থনাকারীর নাম সম্বলিত একটি বিবরণী সুপ্রীম কোর্টে দাখিল করিবে, যাহার একটি অনুলিপি সরকারের নিকট প্রেরণ করিতে হইবে৷
   
   
 
বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা  
২০৷ সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে৷
   
   
 
রহিতকরণ ও হেফাজত  
২১৷ (১) দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল অধ্যাদেশ, ২০০২ (অধ্যাদেশ নং ১, ২০০২) এতদ্‌দ্বারা রহিত করা হইল৷

(২) উক্তরূপ রহিতকরণ সত্ত্বেও রহিত অধ্যাদেশের অধীন কৃত কাজকর্ম এবং গৃহীত ব্যবস্থা এই আইনের অধীন কৃত এবং গৃহীত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে৷
   
   
   
 

Copyright © 2010, Legislative and Parliamentary Affairs Division
Ministry of Law, Justice and Parliamentary Affairs