কারাগারে আটক সাজাপ্রাপ্ত নারীদের বিশেষ সুবিধা আইন, ২০০৬
( ২০০৬ সনের ৪৮ নং আইন )
  [১১ অক্টোবর ২০০৬]
     
      কারাগারে আটক সাজাপ্রাপ্ত নারীদের বিশেষ সুবিধা প্রদানের নিমিত্ত বিধান প্রণয়নের লক্ষ্যে প্রণীত আইন
 
যেহেতু কারাগারে আটক সাজাপ্রাপ্ত নারীদের বিশেষ সুবিধা প্রদানের লক্ষ্যে বিধান করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়;
সেহেতু এতদ্‌দ্বারা নিম্নরূপ আইন প্রণয়ন করা হইলঃ-

   
 
সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তন  
১৷ (১) এই আইন কারাগারে আটক সাজাপ্রাপ্ত নারীদের বিশেষ সুবিধা আইন, ২০০৬ নামে অভিহিত হইবে৷

(২) ইহা অবিলেম্ব কার্যকর হইবে৷
   
   
 
সংজ্ঞা  
২৷ বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে-

(ক) “আদালত” অর্থ বাংলাদেশ সুপ্রীমকোর্টসহ যে কোন আদালত;

(খ) “কয়েদী” অর্থ যে কোন অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত নারী;

(গ) “কারাগার” অর্থ Prisons Act, 1894 (Act No. IX of 1894) এর section 3(1) এ সংজ্ঞায়িত “prison”;

(ঘ) “জাতীয় কমিটি” অর্থ ধারা ৬ এর অধীন গঠিত কারাগারে আটক সাজাপ্রাপ্ত নারীদের বিশেষ সুবিধা প্রদান জাতীয় কমিটি;

(ঙ) “জেলা কমিটি” অর্থ ধারা ৯ এর অধীন গঠিত কারাগারে আটক সাজাপ্রাপ্ত নারীদের বিশেষ সুবিধা প্রদান জেলা কমিটি;

(চ) “প্রবেশন অফিসার'‘ অর্থ ধারা ১৭ এর অধীন নিয়োগপ্রাপ্ত কোন প্রশেন অফিসার;

(ছ) “বিশেষ সুবিধা” অর্থ ধারা ৩ এ বর্ণিত বিশেষ সুবিধাসমূহ৷
   
   
 
বিশেষ সুবিধা  
৩৷ এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে নিম্নবণির্ত সুবিধাসমূহ বিশেষ সুবিধা হিসাবে গণ্য হইবে, যথাঃ-

(ক) কোন কয়েদীর শর্ত সাপেক্ষে মুক্তি;

(খ) বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ যেমন- ব্লক বা বাটিক, সূচী শিল্প, হেয়ার কাটিং, বাঁশ ও বেতের কাজ, দর্জি বিজ্ঞান, কাপড়ের ফুল তৈরী ইত্যাদি বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান;

(গ) কারাগারের অভ্যন্তরে থাকাকালীন সময়ে বিভিন্ন ট্রেড কোর্সে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কয়েকদিকে কারাদণ্ড ভোগের পর সমাজে সামাজিকভাবে পুনর্বাসিত করার জন্য সমাজসেবা অধিদপ্তর কর্তৃক আফটার কেয়ার সার্ভিস প্রদান; এবং

(ঘ) সরকার কর্তৃক, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা বিশেষ সুবিধা হিসাবে ঘোষিত অন্য যে কোন সুবিধা৷
   
   
 
বিশেষ সুবিধা প্রাপ্তির যোগ্যতা  
৪৷ এই আইনের অধীন ১ (এক) বত্সরের অধিক যে কোন মেয়াদে কারাদণ্ডপ্রাপ্ত কোন কয়েদি রেয়াতসহ শতকরা ৫০% কারাদণ্ড ভোগের পর বিশেষ সুবিধা পাওয়ার অধিকারী হইবে৷
   
   
 
বিশেষ সুবিধা প্রাপ্তির অযোগ্যতা  
৫৷ নিম্নবণির্ত শ্রেণীর কয়েদি এই আইনের অধীন প্রদত্ত বিশেষ সুবিধা পাওয়ার অধিকারী হইবেন না, যথাঃ-

(ক) মৃত্যুদণ্ডে দন্ডিত কয়েদি;

(খ) যে কোন অপরাধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দন্ডিত কয়েদি;

(গ) রাষ্ট্রের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা কিংবা রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে দণ্ডিত কয়েদি;

(ঘ) বিস্ফোরক দ্রব্য আইন, অস্ত্র আইন এবং মাদ্রকদ্রব্য সংশ্লিষ্ট যে কোন আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধে দন্ডিত কয়েদি৷
   
   
 
জাতীয় কমিটি  
৬৷ (১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে কারাগারে আটক সাজাপ্রাপ্ত নারীদের বিশেষ সুবিধা প্রদান জাতীয় কমিটি নামে একটি কমিটি থাকিবে৷

(২) জাতীয় কমিটি নিম্নবণির্ত সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত হইবে, যথাঃ-

(ক) সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব, যিনি ইহার চেয়ারম্যানও হইবেন;

(খ) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, যিনি ইহার কো-চেয়ারম্যানও হইবেন;

(গ) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব;

(ঘ) মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব;

(ঙ) মহা-পুলিশ পরিদর্শক;

(চ) কারা অধিদপ্তর এর মহা-পরিদর্শক;

(ছ) সমাজসেবা অধিদপ্তর এর মহা-পরিচালক;

(জ) পরিচালক, জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা;

(ঝ) সরকার কর্তৃক মনোনীত দুইজন সমাজকর্মী, অন্মধ্যে একজন মহিলা হইবেন;

(ঞ) সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব, যিনি ইহার সদস্য-সচিবও হইবেন৷

(৩) জাতীয় কমিটির মনোনীত কোন সদস্য তাঁহার মনোনয়নের তারিখ হইতে ২ (দুই) বত্সরের জন্য সদস্য পদে বহাল থাকিবেনঃ

তবে শর্ত থাকে যে, সরকার যে কোন সময় তাহার মনোনয়ন বাতিল করিতে পারিবে৷

(৪) সরকারের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে কোন মনোনীত সদস্য স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে পারিবেন৷
   
   
 
জাতীয় কমিটির দায়িত্ব ও কর্তব্য  
৭৷ জাতীয় কমিটির দায়িত্ব ও কর্তব্য হইবে নিম্নরূপ, যথাঃ-

(ক) কোন কয়েদির ১০ (দশ) বত্সরের অধিক সাজাপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা প্রদানের বিষয়টি যাচাই-বাছাইপূর্বক সুপারিশ প্রদান করা;

(খ) এই আইনের অধীন মঞ্জুরকৃত বিশেষ সুবিধা বাতিলের বিষয়ে সুপারিশ প্রদান করা;

(গ) দফা (ক) ও (খ) এ প্রদত্ত সুপারিশ বাস্তবায়নার্থ প্রশাসনিক আদেশ জারীর জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা;

(ঘ) ধারা ৩ এ উল্লিখিত বিশেষ সুবিধা ছাড়াও অন্য কোন সুবিধাকে বিশেষ সুবিধা হিসাবে ঘোষণার জন্য সরকারের নিকট সুপারিশ প্রেরণ করা;

(ঙ) বিশেষ সুবিধা মঞ্জুরের লক্ষ্যে কয়েদি কর্তৃক প্রদত্ত মুচলেকার শর্ত নির্ধারণ করা;

(চ) জেলা কমিটির কাযর্ক্রম মনিটর করা;

(ছ) স্বীয় কাযর্ক্রম সম্পর্কে সরকারের নিকট বাত্সরিক প্রতিবেদন দাখিল করা৷
   
   
 
জাতীয় কমিটির সভা  
৮৷ (১) এই ধারার অন্যান্য বিধানাবলী সাপেক্ষে, জাতীয় কমিটি উহার সভার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে৷

(২) জাতীয় কমিটির সকল সভা উহার চেয়ারম্যান কর্তৃক নির্ধারিত স্থান ও সময়ে অনুষ্ঠিত হইবেঃ

তবে শর্ত থাকে যে, প্রতি তিন মাসে জাতীয় কমিটির কমপক্ষে একটি সভা অনুষ্ঠিত হইবে৷

(৩) চেয়ারম্যান জাতীয় কমিটির সকল সভায় সভাপতিত্ব করিবেন এবং তাহার অনুপস্থিতিতে কো-চেয়ারম্যান সভাপতিত্ব করিবেন৷

(৪) অন্যুন ৪ (চার) জন সদস্যের উপস্থিতিতে জাতীয় কমিটির সভায় কোরাম হইবে৷

(৫) জাতীয় কমিটি গঠনে কোন ত্রুটি রহিয়াছে বা উহাতে কোন শূন্যতা রহিয়াছে শুধু এই কারণে জাতীয় কমিটির কোন কার্য বা কার্যধারা বে-আইনী হইবে না বা তত্সম্পর্কে কোন প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে না৷
   
   
 
জেলা কমিটি  
৯৷ (১) কারাগারে আটক সাজাপ্রাপ্ত নারীদের বিশেষ সুবিধা প্রদান জেলা কমিটি নামে প্রতিটি জেলায় একটি করিয়া কমিটি থাকিবে৷

(২) জেলা কমিটি নিম্নবণির্ত সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত হইবে, যথাঃ-

(ক) জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, যিনি ইহার সভাপতিও হইবেন;

(খ) পুলিশ সুপার (মেট্রোপলিটন এলাকার বাহিরে);

(গ) পুলিশ কমিশনার কর্তৃক মনোনীত অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার পদমযার্দার নিম্নে নহেন এমন একজন পুলিশ কর্মকর্তা (মেট্রোপলিটন এলাকার জন্য);

(ঘ) জেলা কারাগারের সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট বা ক্ষেত্রমত, সুপারিনটেনডেন্ট;

(ঙ) পাবলিক প্রসিকিউটর;

(চ) জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা;

(ছ) জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা;

(জ) জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক মনোনীত একজন মহিলা সমাজকর্মী;

(ঝ) জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার জেলা কমিটির সভাপতি কর্তৃক মনোনীত একজন প্রতিনিধি;

(ঞ) জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তর এর উপ-পরিচালক, যিনি ইহার সদস্য-সচিবও হইবেন৷

(৩) উপ-ধারা (২) এর দফা (জ) ও (ঝ) এর অধীন মনোনীত সদস্য মনোনয়নের তারিখ হইতে ২ (দুই) বত্সরের জন্য সদস্য পদে বহাল থাকিবেনঃ

তবে শর্ত থাকে যে, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা ক্ষেত্রমত, জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার জেলা কমিটির সভাপতি যে কোন সময় তাহার মনোনয়ন বাতিল করিতে পারিবেন৷

(৪) জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা ক্ষেত্রমত, জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার জেলা কমিটির সভাপতির উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে মনোনীত কোন সদস্য স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে পারিবেন৷
   
   
 
জেলা কমিটির দায়িত্ব ও কর্তব্য  
১০৷ জেলা কমিটির দায়িত্ব ও কর্তব্য হইবে নিম্নরূপ, যথাঃ-

(ক) অনূর্ধ্ব ১০ (দশ) বত্সরের সাজাপ্রাপ্ত কয়েদিকে এই আইনের অধীন বিশেষ সুবিধা প্রদানের বিষয়টি যাচাই-বাছাইপূর্বক সুপারিশ প্রদান করা;

(খ) এই আইনের অধীন মঞ্জুরকৃত বিশেষ সুবিধা বাতিলের বিষয়ে সুপারিশ প্রদান করা;

(গ) দফা (ক) ও (খ) অনুযায়ী প্রদত্ত সুপারিশ বাস্তবায়নার্থ প্রশাসনিক আদেশ জারীর জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা;

(ঘ) বিশেষ সুবিধা মঞ্জুরের লক্ষ্যে কয়েদি কর্তৃক প্রদত্ত মুচলেকার শর্ত নির্ধারণ করা;

(ঙ) প্রবেশন অফিসারের কাযর্ক্রম মনিটর করা;

(চ) স্বীয় কাযর্ক্রম সম্পর্কে জাতীয় কমিটির নিকট বাত্সরিক প্রতিবেদন দাখিল করা৷
   
   
 
জেলা কমিটির সভা  
১১৷ (১) জেলা কমিটি উহার সভার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে৷

(২) জেলা কমিটির সকল সভা উহার সভাপতি কর্তৃক নির্ধারিত স্থান ও সময়ে অনুষ্ঠিত হইবেঃ

তবে শর্ত থাকে যে, প্রতি দুই মাসে জেলা কমিটির কমপক্ষে একটি সভা অনুষ্ঠিত হইবে৷

(৩) সভাপতি জেলা কমিটির সকল সভায় সভাপতিত্ব করিবেন এবং তাঁহার অনুপস্থিতিতে তত্কর্তৃক মনোনীত জেলা কমিটির অন্য কোন সদস্য সভাপতিত্ব করিবেন৷

(৪) অন্যুন ৬ (ছয়) জন সদস্যের উপস্থিতিতে জেলা কমিটির সভায় কোরাম হইবে৷
   
   
 
বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্তির আবেদন  
১২৷ (১) ধারা ৪ এর অধীন বিশেষ সুবিধা পাওয়ার অধিকারী কোন কয়েদি বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্তির লক্ষ্যে কারাগার কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে জাতীয় কমিটি বা ক্ষেত্রমত, জেলা কমিটির নিকট আবেদন করিতে পারিবেন৷

(২) উপ-ধারা (১) এর বিধান সত্ত্বেও কোন কয়েদি বিশেষ সুবিধা পাওয়ার অধিকারী হইলে প্রবেশন অফিসার উক্ত কয়েদির সুবিধাপ্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করিবার লক্ষ্যে জাতীয় কমিটি বা ক্ষেত্রমত, জেলা কমিটির নিকট প্রতিবেদন দাখিল করিবেন৷
   
   
 
বিশেষ সুবিধা প্রদান প্রশাসনিক আদেশ জারী  
১৩৷ জাতীয় কমিটি বা ক্ষেত্রমত, জেলা কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই আইনের অধীন বিশেষ সুবিধা প্রদান বিষয়ে প্রশাসনিক আদেশ জারী করিবে এবং এই ক্ষেত্র জাতীয় কমিটি কিংবা জেলা কমিটির সুপারিশ চূড়ান্ত বলিয়া গণ্য হইবে৷
   
   
 
বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত কয়েদির জন্য প্রযোজ্য শর্তাবলী  
১৪৷ (১) কোন কয়েদিকে এই আইনের অধীন বিশেষ সুবিধা প্রদান করা হইলে, তাহাকে তফসিলে উল্লিখিত ‘ছক' অনুযায়ী একটি মুচকো কারাগার কর্তৃপক্ষের নিকট দাখিল করিতে হইবে৷

(২) বিশেষ সুবিধা প্রদানের জন্য যে শর্ত নির্ধারণ করা হইবে তাহা উপ-ধারা (১) এ বর্ণিত মুচলেকাতে উল্লেখ থাকিবে এবং বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত কয়েদি উক্ত শর্ত মানিয়া চলিতে বাধ্য থাকিবে৷
   
   
 
বিশেষ সুবিধা বাতিল  
১৫৷ (১) এই আইনের ধারা ১৪ এর অধীন প্রদত্ত কোন শর্ত কোন কয়েদি লঙ্ঘন করিলে প্রবেশন অফিসার উক্ত শর্ত লংঘনের বিষয়ে জাতীয় কমিটি বা ক্ষেত্রমত, জেলা কমিটির নিকট বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করিবেন৷

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রতিবেদন প্রাপ্তির পর জাতীয় কমিটি বা ক্ষেত্রমত, জেলা কমিটি প্রতিবেদন বিবেচনাপূর্বক উক্ত কয়েদিকে ব্যক্তিগতভাবে শুনানীর সুযোগ প্রদান করিয়া ক্ষেত্রমত, প্রদত্ত বিশেষ সুবিধা বাতিল করিবার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এর নিকট সুপারিশ প্রেরণ করিবে৷

(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন প্রেরিত সুপারিশ অনুযায়ী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রদত্ত বিশেষ সুবিধা বাতিল সংক্রান্ত প্রশাসনিক আদেশ জারী করিবে৷

(৪) উপ-ধারা (৩) এর অধীন বিশেষ সুবিধা একবার বাতিল করা হইলে কোন কয়েদি পুনরায় বিশেষ সুবিধা পাওয়ার অধিকারী হইবেন না৷
   
   
 
রিভিউ  
১৬৷ (১) ধারা ১৫ এর অধীন কোন কয়েদির বিশেষ সুবিধা বাতিল করা হইলে উক্ত কয়েদি বাতিল আদেশটি রিভিউ করিবার জন্য আদেশ প্রাপ্তির ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করিতে পারিবেন৷

(২) উপ-ধারা (১) অনুযায়ী কোন আবেদন করা হইলে স্বরাষ্ট মন্ত্রণালয় উক্ত আবেদন বিবেচনাপূর্বক যথাযথ আদেশ প্রদান করিতে পারিবে এবং এই ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলিয়া গণ্য হইবে৷
   
   
 
প্রবেশন অফিসার  
১৭৷ (১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার প্রয়োজনীয় সংখ্যক প্রবেশন অফিসার নিয়োগ করিতে পারিবে৷

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রবেশন অফিসার নিয়োগ না হওয়া পযর্ন্ত সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিয়োগকৃত প্রবেশন অফিসারগণ এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে ‘প্রবেশন অফিসার' হিসাবে দায়িত্ব্‌ পালন করিবেন৷

(৩) এই ধারা অধীন নিয়োগপ্রাপ্ত প্রবেশন অফিসারের দায়িত্ব, ক্ষমতা ও কর্ম পদ্ধতি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে৷
   
   
 
বিধি প্রণয়ন  
১৮৷ এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে৷
   
   
   
 

Copyright © 2010, Legislative and Parliamentary Affairs Division
Ministry of Law, Justice and Parliamentary Affairs