সরকারী অ্যাটর্নি সার্ভিস অধ্যাদেশ, ২০০৮
( ২০০৮ সনের ১৯ নং অধ্যাদেশ)
  [১৮ মে, ২০০৮]
     
     আদালতে মামলা পরিচালনা ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়াদি সম্পর্কে সরকারের পক্ষে দায়িত্ব পালনের জন্য একটি স্থায়ী সরকারী অ্যাটর্নি সার্ভিস প্রতিষ্ঠা এবং উক্ত সার্ভিসে নিয়োগ ও কর্মের শর্তাবলী নিয়ন্ত্রণকল্পে প্রণীত
 
অধ্যাদেশ

যেহেতু আদালতে মামলা পরিচালনা ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়াদি সম্পর্কে সরকারের পক্ষে দায়িত্ব পালনের জন্য একটি স্থায়ী সরকারী অ্যাটর্নি সার্ভিস প্রতিষ্ঠা এবং উক্ত সার্ভিসে কর্মকর্তাগণের নিয়োগ ও কর্মের শর্তাবলী নিয়ন্ত্রণ করিবার জন্য বিধান করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; এবং


যেহেতু সংসদ ভাঙ্গিয়া যাওয়া অবস্থায় রহিয়াছে এবং রাষ্ট্রপতির নিকট ইহা সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হইয়াছে যে, আশু ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি বিদ্যমান রহিয়াছে;


সেহেতু গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৯৩(১) এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি নিম্নরূপ অধ্যাদেশ প্রণয়ন ও জারী করিলেনঃ-


   
প্রথম পরিচ্ছেদ
প্রারম্ভিক
 
সংক্ষিপ্ত শিরনামা, প্রয়োগ ও প্রবর্তন  
১৷ (১) এই অধ্যাদেশ সরকারী অ্যাটর্নি সার্ভিস অধ্যাদেশ, ২০০৮ নামে অভিহিত হইবে৷

(২) সমগ্র বাংলাদেশে ইহার প্রয়োগ হইবে৷

(৩) ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে৷
   
   
 
সংজ্ঞা  
২৷ বিষয় বা প্রসংগের পরিপন্থী কিছু না থাকিলে, এই অধ্যাদেশে, -

(ক) “অধিদপ্তর” অর্থ ধারা ৫ এর অধীন প্রতিষ্ঠিত সরকারী অ্যাটর্নি অধিদপ্তর;

(খ) “আদালত” অর্থ সুপ্রীম কোর্টসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিদ্যমান দেওয়ানী ও ফৌজদারী আদালত, এবং কোন বিশেষ আইনের অধীন প্রতিষ্ঠিত কোন বিশেষ আদালত বা ট্রাইব্যুনাল, আপীল আদালত বা আপীল ট্রাইব্যুনালও উহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;

(গ) "অ্যাটর্নি " অর্থ সরকারী অ্যাটর্নি সার্ভিসের যে কোন শাখায় স্থায়ীভাবে নিযুক্ত কোন আইন কর্মকর্তা;

(ঘ) “অ্যাটর্নি-জেনারেল” অর্থ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৬৪ এর অধীন নিযুক্ত অ্যাটর্নি-জেনারেল;

(ঙ) “কমিশন” অর্থ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৩৭ এর অধীন প্রতিষ্ঠিত সরকারী কর্ম কমিশন;

(চ) “কর্মকর্তা” অর্থে অ্যাটর্নি সার্ভিসে নিযুক্ত আইন কর্মকর্তা ছাড়াও অন্যান্য কর্মকর্তাগণও অন্তর্ভুক্ত হইবেন;

(ছ) “কর্মচারী” অর্থ অ্যাটর্নি সার্ভিস এবং অধিদপ্তরে নিযুক্ত কর্মচারী;

(জ) “জেলা অ্যাটর্নি” অর্থ এই অধ্যাদেশের অধীন নিযুক্ত জেলা অ্যাটর্নি;

(ঝ) “তফসিল” অর্থ এই অধ্যাদেশের তফসিল;

(ঞ) “নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ” অর্থ রাষ্ট্র্রপতি বা তাঁহার নিকট হইতে এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তা;

(ট) “পদ” অর্থ তফসিল ১ ও ২ এ উল্লিখিত কোন পদ;

(ঠ) “প্রয়োজনীয় যোগ্যতা” অর্থ সংশ্লিষ্ট পদের জন্য তফসিল ১ ও ২ এ উল্লিখিত যোগ্যতা;

(ড) “বিধি” অর্থ এই অধ্যাদেশের অধীন প্রণীত বিধি;

(ঢ) “মহা-পরিচালক” অর্থ অধিদপ্তরের মহা-পরিচালক;

(ণ) “শিক্ষানবিস” অর্থ কোন পদে শিক্ষানবিস হিসাবে নিযুক্ত কোন ব্যক্তি;

(ত) “সার্ভিস” অর্থ ধারা ৩ এর অধীন প্রতিষ্ঠিত সরকারী অ্যাটর্নি সার্ভিস;

(থ) “স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয়” অর্থ আপাততঃ বলবত্ কোন আইন দ্বারা বা আইনের অধীন প্রতিষ্ঠিত কোন বিশ্ববিদ্যালয়; এবং এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, কমিশনের সহিত পরামর্শক্রমে, সরকার কর্তৃক স্বীকৃত কোন বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয়ও উহার অন্তর্ভুক্ত হইবে৷
   
   
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ
সার্ভিস ও অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা
 
সরকারী অ্যাটর্নি সার্ভিস প্রতিষ্ঠা  
৩৷ (১) সুপ্রীম কোর্টসহ জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ের আদালতসমূহে সরকারের পক্ষে মামলা পরিচালনা ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ে দায়িত্ব পালনের জন্য সরকার, সরকারী অ্যাটর্নি সার্ভিস নামে, একটি সার্ভিস প্রতিষ্ঠা করিবে ৷

(২) সুপ্রীম কোর্ট শাখা ও জেলা শাখা নামে সার্ভিসের দুইটি শাখা থাকিবে৷

(৩) ধারা ১৩ এর বিধান সাপেক্ষে, তফসিল ১ ও ২ এ বর্ণিত পদসমূহে নিযুক্ত কর্মকর্তাগণের সমন্বয়ে সার্ভিস গঠিত হইবে৷

(৪) সার্ভিসে নিযুক্ত অ্যাটর্নিগণ সরকারী আইন কর্মকর্তা হিসাবে গণ্য হইবেন৷
   
   
 
সার্ভিসের কর্ম পরিধি  
৪৷ (১) জেলা শাখায় নিযুক্ত অ্যাটর্নিগণ জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ে অবস্থিত দেওয়ানী ও ফৌজদারী আদালতে সরকারের পক্ষে দেওয়ানী ও ফৌজদারী মামলা পরিচালনা ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়াদি সম্পর্কে দায়িত্ব পালন করিবেন৷

(২) সুপ্রীম কোর্ট শাখায় নিযুক্ত অ্যাটর্নিগণ সুপ্রীম কোর্টে সরকারের পক্ষে মামলা পরিচালনা ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়াদি সম্পর্কে দায়িত্ব পালন করিবেন৷

(৩) সুপ্রীম কোর্ট শাখায় নিযুক্ত অ্যাটর্নিগণ সুপ্রীম কোর্টে সরকারের পক্ষে মামলা দায়ের বা পরিচালনার বিষয়ে অ্যাটর্নি-জেনারেল এবং সরকার বা সরকার কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে মনোনীত কোন কর্মকর্তার নিকট হইতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা বা পরামর্শ গ্রহণ করিবেন৷

(৪) সুপ্রীম কোর্ট শাখায় নিযুক্ত অ্যাটর্নিগণ অ্যাটর্নি-জেনারেল এবং সরকার বা সরকার কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে মনোনীত কোন কর্মকর্তা কর্তৃক নির্দেশিত হইলে, সরকারের পক্ষে সুপ্রীম কোর্ট ছাড়াও ঢাকায় বা ঢাকার বাহিরে অবস্থিত যে কোন আদালত বা ট্রাইব্যুনালেও দেওয়ানী বা ফৌজদারী মামলা পরিচালনা করিতে পারিবেন৷

(৫) এই অধ্যাদেশের অধীন দায়িত্ব পালনের জন্য অতিরিক্ত অ্যাটর্নি-জেনারেল, ডেপুটি অ্যাটর্নি-জেনারেল ও সহকারী অ্যাটর্নি-জেনারেলগণের সকল আদালতে বক্তব্য পেশ করিবার অধিকার থাকিবে৷

(৬) সরকারের পক্ষে মামলা দায়ের ও পরিচালনা সংক্রান্ত বিষয়ে জেলা অ্যাটর্নি দেওয়ানী মামলার ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসক এবং ফৌজদারী মামলার ক্ষেত্রে পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট এর সহিত প্রয়োজনীয় সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে কার্য সম্পাদন করিবেন৷

(৭) উপ-ধারা (৬) এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, কোন আইনের অধীন বা দ্বারা কোন মহানগর এলাকায় পৃথক মহানগর পুলিশ বা আদালত প্রতিষ্ঠিত হইয়া থাকিলে, উক্ত উপ-ধারায় বর্ণিত পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট এর স্থলে পুলিশ কমিশনার বা, ক্ষেত্রমত, উপ-পুলিশ কমিশনারকে বুঝাইবে, এবং জেলা প্রশাসক অর্থি উক্ত এলাকা যে জেলার অন্তর্গত সে জেলার জেলা প্রশাসককে বুঝাইবে৷

(৮) জেলা শাখায় নিযুক্ত অ্যাটর্নিগণ, সরকার বা জেলা অ্যাটর্নি কর্তৃক নির্দেশিত হইলে, সংশ্লিষ্ট জেলায় Civil Courts Act, 1887 বা Code of Criminal Procedure, 1898 এর অধীন প্রতিষ্ঠিত সাধারণ দেওয়ানী বা ফৌজদারী আদালত ছাড়াও, অন্য কোন আইনের অধীন প্রতিষ্ঠিত অন্য কোন আদালতেও সরকারের পক্ষে দেওয়ানী ও ফৌজদারী মামলা দায়ের ও পরিচালনা করিতে পারিবেন৷

(৯) উপ-ধারা (৬) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই ধারার অধীন সরকারের পক্ষে কোন আদালতে দেওয়ানী বা ফৌজদারী, উভয়বিধ, মামলা পরিচালনার বিষয়ে জেলা অ্যাটর্নির সহিত সার্বিক সমন্বয় সাধনের দায়িত্ব জেলা প্রশাসকের উপর ন্যস্ত থাকিবে৷
   
   
 
অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা, ইত্যাদি  
৫৷ (১) সার্ভিসের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ও তত্ত্বাবধানের জন্য সরকার, সরকারী অ্যাটর্নি অধিদপ্তর নামে, একটি অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করিবে৷

(২) অধিদপ্তরের একজন মহা-পরিচালক থাকিবে৷

(৩) মহা-পরিচালক ছাড়াও অধিদপ্তরের সরকার কর্তৃক নির্ধারিত সংখ্যক অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারী থাকিবে৷

(৪) সরকার, তৎনির্ধারিত পদ্ধতিতে, অধিদপ্তরের মহা-পরিচালক ও অন্যান্য প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তা পদে নিয়োগ দান করিবে৷

(৫) মহা-পরিচালক অধিদপ্তরের প্রধান নির্বাহী হইবেন এবং অধিদপ্তরের অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ তাহার অধস্তন হইবেন ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে থাকিবেন৷

(৬) উপ-ধারা (৪) এর বিধান সাপেক্ষে, এই অধ্যাদেশের অধীন প্রণীত বিধি দ্বারা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণকে নিয়োগ করা হইবেঃ

তবে শর্ত থাকে যে, এই অধ্যাদেশের অধীন বিধি প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত মহা-পরিচালক, অধিদপ্তরের দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্র্থ শ্রেণীর পদে, এই অধ্যাদেশ ও অনুরূপ সরকারী পদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সাধারণ বিধানাবলী অনুসরণ সাপেক্ষে, নিয়োগ দান করিবেন৷

(৭) অধিদপ্তর আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে ন্যস্ত থাকিবে৷

(৮) অধিদপ্তরের কার্যালয় ঢাকায় থাকিবে৷
   
   
 
অধিদপ্তরের কর্ম পরিধি  
৬৷ অধিদপ্তর সার্ভিসের উপর তত্ত্বাবধান ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ প্রয়োগ করিবে এবং এতদুদ্দেশ্যে সার্ভিসের নিযুক্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ অধিদপ্তরের মহা-পরিচালকের অধস্তন গণ্য হইবেন৷
   
   
 
সার্ভিসের জেলা শাখার জেলা ইউনিট ও উহার প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ  
৭৷ (১) প্রতিটি জেলায় নিযুক্ত জেলা অ্যাটর্নি এবং তাহার অধস্তন অ্যাটর্নিগণের সমন্বয়ে গঠিত সার্ভিসের জেলা শাখার অংশ সরকারী অ্যাটর্নি সার্ভিসের জেলা শাখার জেলা ইউনিট হিসাবে অভিহিত হইবে৷

(২) সার্ভিসের জেলা শাখার জেলা ইউনিটের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ জেলা অ্যাটর্নির উপর ন্যস্ত থাকিবে, এবং জেলা অ্যাটর্নি, জেলা ইউনিটের প্রধান নির্বাহী হইবেন এবং উক্ত জেলা ইউনিটের অবশিষ্ট অ্যাটর্নিগণসহ অন্যান্য সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারী তাঁহার নিয়ন্ত্রণাধীন হইবেন৷
   
   
 
সার্ভিসের সুপ্রীম কোর্ট শাখার প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ  
৮৷ (১) বিচার ও মামলা সম্পর্কিত বিষয়ে সুপ্রীম কোর্ট শাখার নিয়ন্ত্রণ অ্যাটর্নি-জেনারেল এর উপর ন্যস্ত থাকিবে এবং তদুদ্দেশ্যে উক্ত শাখায় নিযুক্ত অবশিষ্ট অ্যাটর্নিগণসহ অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ তাঁহার অধস্তন গণ্য হইবেন৷

(২) চাকুরী সম্পর্কিত বিষয়াদি সম্পর্কে সুপ্রীম কোর্ট শাখায় নিযুক্ত অ্যাটর্নিগণসহ অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণের উপর মহা-পরিচালকের নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা থাকিবে এবং তদুদ্দেশ্যে তাহারা মহা-পরিচালকের অধস্তন গণ্য হইবেন৷
   
   
তৃতীয় পরিচ্ছেদ
সার্ভিসে নিয়োগ ও কর্মের শর্তাবলী নিয়ন্ত্রণ
 
নিয়োগ পদ্ধতি  
৯৷ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৯(৩) এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, পদ সংরক্ষণ সংক্রান্ত নির্দেশাবলী এবং ধারা ২২ ও ২৩ এর বিধান সাপেক্ষে, কোন পদে তফসিল ১ ও ২ এ উল্লিখিত পদ্ধতিতে নিয়োগ করিতে হইবে৷
   
   
 
সরাসরি নিয়োগ  
১০৷ (১) কমিশনের সুপারিশ ব্যতীত, সার্ভিসের কোন প্রবেশ পদে কোন ব্যক্তিকে সরাসরি নিয়োগ দান করা যাইবে না৷

(২) সার্ভিসের সুপ্রীম কোর্ট শাখার প্রবেশ পদ হইবে সহকারী অ্যাটর্নি-জেনারেল এবং জেলা শাখার প্রবেশ পদ হইবে সহকারী জেলা অ্যাটর্নি৷

(৩) কোন পদে সরাসরি নিয়োগের জন্য কোন ব্যক্তি অযোগ্য হইবেন, যদি তিনি-

(ক) বাংলাদেশের নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দা না হন অথবা ,বাংলাদেশে ডমিসাইল না হন;

(খ) এমন কোন ব্যক্তিকে বিবাহ করেন অথবা বিবাহ করিবার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হন যিনি বাংলাদেশের নাগরিক নহেন৷

(৪) কোন পদে কোন ব্যক্তিকে সরাসরি নিয়োগ করা হইবে না, যদি-

(ক) তজ্জন্য তাঁহার নির্ধারিত প্রয়োজনীয় যোগ্যতা না থাকে এবং, সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে, তাঁহার বয়স উক্ত পদের জন্য তফসিলে উল্লেখিত বয়সসীমার মধ্যে না হয়;

(খ) স্বাস্থ্য পরীক্ষার উদ্দেশ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কর্তৃক গঠিত মেডিক্যাল বোর্ড অথবা, ক্ষেত্রমত, তৎকর্তৃক মনোনীত কোন মেডিক্যাল অফিসার এই মর্মে প্রত্যয়ন না করেন যে, উক্ত ব্যক্তি স্বাস্থ্যগতভাবে অনুরূপ পদে নিয়োগযোগ্য এবং তিনি এইরূপ কোন দৈহিক বৈকল্যে ভুগিতেছেন না যাহা সংশ্লিষ্ট পদের দায়িত্ব পালনে কোন ব্যাঘাত সৃষ্টি করিতে পারে; এবং

(গ) তাঁহার পূর্ব কার্যকলাপ যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক যাচাইয়ের মাধ্যমে দেখা যায় যে, প্রজাতন্ত্রের চাকুরীতে নিযুক্তির জন্য তিনি অনুপযুক্ত ৷

ব্যাখ্যঃ কোন পদে নিয়োগের জন্য কোন প্রার্থীর বয়স উক্ত পদে আবেদন দাখিলের নির্ধারিত শেষ দিনে উক্ত পদের জন্য তফসিলে উল্লেখিত বয়সসীমার মধ্যে হইয়া থাকিলে, নিয়োগের সময় তাহার প্রকৃত বয়স নির্ধারিত বয়স অতিক্রম করিয়া থাকিলেও তিনি উপ-ধারা (৪)এর দফা (ক) এর অধীন উক্ত পদে নিয়োগ লাভের জন্য যোগ্য বিবেচিত হইবেন৷
   
   
 
পদোন্নতির মাধ্যমে নিয়োগ  
১১৷ (১) এতদুদ্দেশ্যে সরকার কর্তৃক গঠিত সংশ্লিষ্ট বাছাই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে কোন পদে পদোন্নতির মাধ্যমে নিয়োগ করা যাইবে৷

(২) চাকুরীর বৃত্তান্ত সন্তোষজনক না হইলে, কোন ব্যক্তি পদোন্নতির মাধ্যমে নিয়োগের জন্য যোগ্য বলিয়া বিবেচিত হইবেন না৷
   
   
 
শিক্ষানবিস ও চাকুরীতে স্থায়ীকরণ  
১২৷ (১) সার্ভিসের যে কোন শাখার কোন প্রবেশ পদের বিপরীতে নিয়োগের জন্য বাছাইকৃত ব্যক্তিকে প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষানবিসের স্তরে যোগদানের তারিখ হইতে দুই বছরের জন্য শিক্ষানবিস হিসাবে নিয়োগ করা হইবেঃ

তবে শর্ত থাকে যে, নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ, কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া, কোন শিক্ষানবিসের শিক্ষানবিসির মেয়াদ এইরূপ বৃদ্ধি করিতে পারিবে যাহাতে বর্ধিত মেয়াদ সর্বসাকুল্যে তিন বছরের অধিক না হয়৷

(২) কোন শিক্ষানবিসের শিক্ষানবিসির মেয়াদ চলাকালে তাঁহার আচরণ ও কর্ম সন্তোষজনক নহে, বা তাহার কর্মদক্ষ হইবার সম্ভাবনা নাই মনে করিলে, নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ, কোনরূপ কারণ প্রদর্শন ব্যতিরেকে, তাঁহার চাকুরীর অবসান ঘটাইতে পারিবে৷

(৩) শিক্ষানবিসির মেয়াদ, বর্ধিত মেয়াদ থাকিলে তৎসহ, পূর্ণ হইবার পর নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ-

(ক) যদি এই মর্মে সন্তষ্ট হয় যে, উক্ত মেয়াদ চলাকালে কোন শিক্ষানবিসের আচরণ ও কর্ম সন্তোষজনক ছিল তাহা হইলে, তাহার চাকুরী স্থায়ী করিবে; এবং

(খ) যদি মনে করে যে, উক্ত মেয়াদ চলাকালে শিক্ষানবিসের আচরণ ও কর্ম সন্তোষজনক ছিল না, তাহা হইলে উক্ত কর্তৃপক্ষ, কোনরূপ কারণ প্রদর্শন ব্যতিরেকে, তাহার চাকুরীর অবসান ঘটাইতে পারিবে৷

(৪) কোন শিক্ষানবিসকে কোন নির্দিষ্ট পদে স্থায়ী করা হইবে না, যতক্ষণ না সরকারী আদেশবলে, সময় সময়, যে পরীক্ষা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়, সেই পরীক্ষায় তিনি উত্তীর্ণ হন ও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন৷
   
   
 
অতিরিক্ত অ্যাটর্নি-জেনারেল পদে চুক্তি-ভিত্তিক নিয়োগ  
(১) সরকার, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি-জেনারেল পদের ৫০ শতাংশ পদ, তৎকর্তৃক নির্ধারিত শর্তে, চুক্তির ভিত্তিতে নিয়োগের মাধ্যমে পূরণ করিতে পারিবে৷

(২) এই অধ্যাদেশে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, উপ-ধারা (১) এর অধীন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি-জেনারেল পদে নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিগণ সার্ভিসের কর্মকর্তা হইবেন না৷
   
   
 
কর্মস্থল নির্ধারণ, বদলী, ইত্যাদি  
১৪৷ তফসিল ২ এ উল্লিখিত সার্ভিসের জেলা শাখার পদসমূহে কর্মরত অ্যাটর্নিগণ জনস্বার্থে আন্তঃজেলা বদলীযোগ্য হইবেনঃ

তবে শর্ত থাকে যে, ধারা ২৩ এর অধীন জেলা শাখায় জেলা অ্যাটর্নি ও অতিরিক্ত জেলা অ্যাটর্নি পদে বিশেষ নিয়োগপ্রাপ্ত অ্যাটর্নিগণ, তাহাদের সম্মতি ব্যতিরেকে, আন্তঃজেলা বদলীযোগ্য হইবেন না৷
   
   
 
জেলা শাখা হইতে প্রেষণে বদলী  
১৫৷ ধারা ১৮ এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সার্ভিসের জেলা শাখার জেলা অ্যাটর্নি ও অতিরিক্ত জেলা অ্যাটর্নিকে সরকার, সার্ভিসের সুপ্রীম কোর্ট শাখার ডেপুটি অ্যাটর্নি-জেনারেল পদে সাময়িকভাবে প্রেষণে নিয়োগদান করিতে পারিবে৷
   
   
 
সার্ভিস হইতে প্রেষণে নিয়োগ  
১৬৷ সার্ভিসের যে কোন শাখা হইতে অ্যাটর্নিগণকে সরকার অন্যত্র সমপর্যায়ভুক্ত পদে সাময়িকভাবে প্রেষণে নিয়োগদান করিতে পারিবে৷
   
   
 
সুপ্রীম কোর্ট শাখায় স্থায়ী নিয়োগ  
১৭৷ সরকার, সার্ভিসের সুপ্রীম কোর্ট শাখায় সহকারী অ্যাটর্নি-জেনারেল পদের ৭৫ শতাংশ পদে সরাসরি স্থায়ী নিয়োগদান করিবে, এবং অতিরিক্ত অ্যাটর্নি-জেনারেল পর্যন্ত পদসমূহ, ধারা ১৩ এর বিধান সাপেক্ষে, পদোন্নতির মাধ্যমে তফসিল ১ এ বর্ণিত প্রয়োজনীয় যোগ্যতা সাপেক্ষে, পূরণ করিবে৷
   
   
 
জেলা শাখা হইতে সুপ্রীম কোর্ট শাখায় স্থায়ী নিয়োগ  
১৮৷ সরকার, সার্ভিসের জেলা শাখার যুগ্ম জেলা-অ্যাটর্নিগণের মধ্য হইতে পদোন্নতির মাধ্যমে সার্ভিসের সুপ্রীম কোর্ট শাখার সহকারী অ্যাটর্নি-জেনারেল পদের ২৫ শতাংশ পদ স্থায়ীভাবে পূরণ করিবে৷
   
   
 
অবসর গ্রহণের বয়সসীমা  
১৯৷ The Public Servants (Retirement) Act, 1974 এর বিধানে ভিন্নতর যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সার্ভিসের -

(ক) সুপ্রীম কোর্ট শাখায় সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল পদে সরাসরি বা পদোন্নতির মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগণ ৬২ বছর;

(খ) সুপ্রীমকোর্ট শাখায় ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবং অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল পদে ধারা ২২ এর অধীন বিশেষ নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগণ ৬৫ বছর; এবং

(গ) জেলা শাখায় যুগ্ম জেলা অ্যাটর্নি, অতিরিক্ত জেলা অ্যাটর্নি এবং জেলা অ্যাটর্নি পদে ধারা ২৩ এর অধীন বিশেষ নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগণ ৬০ বছর;

বয়স হইলে চাকুরী হইতে অবসরপ্রাপ্ত হইবেন৷
   
   
 
বেতন, ভাতা, ইত্যাদি  
২০৷ সরকারী কর্মকর্তাগণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বেতন, ভাতা, ছুটি, ভবিষ্য তহবিল, আনুতোষিক, পেনশন ও চাকুরীর অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা সংক্রান্ত প্রচলিত আইন, আদেশ ও বিধিমালা এই অধ্যাদেশের অধীন সার্ভিসে নিযুক্ত কর্মকর্তাগণের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হইবে৷
   
   
 
চাকুরীর সাধারণ শর্তাবলী  
২১৷ এই অধ্যাদেশের বিধানাবলী সাপেক্ষে, প্রজাতন্ত্রের অসামরিক পদে নিযুক্ত সরকারী কর্মকর্তাগণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য জ্যেষ্ঠতাসহ চাকুরীর অন্যান্য শর্তাবলী, এই অধ্যাদেশের অধীন সার্ভিসে নিযুক্ত কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হইবে৷
   
   
চতুর্থ পরিচ্ছেদ
নিয়োগ সম্পর্কিত বিশেষ ক্রান্তিকালীন বিধান
 
সুপ্রীম কোর্ট শাখায় বিশেষ নিয়োগ  
২২৷ (১) এই অধ্যাদেশে যাহা কিছুই থাকুক না কেন-

(ক) সুপ্রীম কোর্টে আইন পেশায় অন্যুন ২০ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আইনজীবীগণ অতিরিক্ত অ্যাটর্নি-জেনারেল পদে এবং অন্যুন ১৫ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আইনজীবীগণ ডেপুটি অ্যাটর্নি-জেনারেল পদে, দফা (খ) এর বিধান সাপেক্ষে, এককালীন সরাসরি নিয়োগ লাভের যোগ্য হইবেন;

(খ) দফা (ক) এর অধীন এককালীন সরাসরি নিয়োগ লাভে আগ্রহী প্রার্থীর বয়স আবেদন দাখিলের নির্ধারিত শেষ দিনে-

(অ) অতিরিক্ত অ্যাটর্নি-জেনারেল পদের ক্ষেত্রে, অনূর্ধ্ব ৫৫ বছর; এবং

(আ) ডেপুটি অ্যাটর্নি-জেনারেল পদের ক্ষেত্রে, অনূর্ধ্ব ৫০ বছর, হইতে হইবে৷

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন কোন ব্যক্তি নিয়োগের জন্য যোগ্য হইবেন না, যদি ধারা ১০ এর -

(ক) উপ-ধারা (৩) এর বিধান মোতাবেক তিনি অযোগ্য হন; এবং

(খ) উপ-ধারা (৪) এর দফা (ক) ও (গ) এর বিধান অনুযায়ী তাঁহার যোগ্যতা না থাকে৷

(৩) এই ধারার অধীন বাছাই ও নিয়োগের পর্যায়ে একই পদে একাধিক ব্যক্তিকে নিয়োগদান করা হইলে, উপ-ধারা (৪) ও (৫) এর বিধান সাপেক্ষে, আইন পেশায় যিনি জ্যেষ্ঠতর ছিলেন, তিনিই জ্যেষ্ঠতর হইবেন৷

(৪) উপ-ধারা (১) এর অধীন কোন পদে নিয়োগের জন্য বাছাইকৃত দুই বা ততোধিক ব্যক্তি একই তারিখে আইন পেশায় যোগদান করিয়া থাকিলে, বয়সের জ্যেষ্ঠতা দ্বারা উক্ত পদে তাঁহাদের জ্যেষ্ঠতা নির্ধারিত হইবে৷

(৫) এই ধারার অধীন পরবর্তী পর্যায়ে কোন পদে বাছাইয়ের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি, পূর্ববর্তী পর্যায়ে নিয়োগকৃত কোন ব্যক্তি অপেক্ষা বয়সে অথবা আইন পেশায় জ্যেষ্ঠতর হইবার কারণে, উক্ত পদে পূর্ববর্তী পর্যায়ে নিযুক্ত ব্যক্তি বা ব্যক্তিগণ অপেক্ষা জ্যেষ্ঠতর হইবেন না ৷

(৬) উপ-ধারা (১) এ বর্ণিত কোন পদে নিয়োগ লাভের জন্য আবেদনকারীগণের মধ্যে কেহ ইতিপূর্বে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি- জেনারেল, ডেপুটি অ্যাটর্নি-জেনারেল বা সহকারী অ্যাটর্নি-জেনারেল পদে দায়িত্ব পালন করিয়া থাকিলে, উক্ত পদে নিয়োগ লাভের উদ্দেশ্যে উহা সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীর বিশেষ যোগ্যতা হিসাবে বিবেচিত হইবে৷

(৭) কমিশন, এই ধারার অধীন নিয়োগ প্রদানের জন্য তৎকর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতি বা নীতিমালা অনুসরণপূর্বক প্রার্থী বাছাই করিবে, এবং সংশ্লিষ্ট পদে নিয়োগের জন্য সরকারের নিকট সুপারিশ করিবে৷

(৮) এই ধারার অধীন বিশেষ ব্যবস্থায় অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এবং ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলের নির্ধারিত সংখ্যক পদে একবারে কিংবা পর্যায়ক্রমে সরাসরি নিয়োগ দান করা যাইবে৷

(৯) উপ-ধারা (৭) এর অধীন কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে, এই ধারার অধীন নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগণকে জ্যেষ্ঠতার ক্রমানুসারে নিয়োগ দান করিবে৷

(১০) সরকার, এই ধারার অধীন বিশেষ ব্যবস্থায় নিযুক্ত অতিরিক্ত অ্যাটর্নি-জেনারেলকে তাহার মূল বেতনের সহিত উহার অতিরিক্ত ১০০ শতাংশ এবং ডেপুটি অ্যাটর্নি-জেনারেলকে তাহার মূল বেতনের সহিত উহার অতিরিক্ত ৭৫ শতাংশ হারে বিশেষ ভাতা প্রদান করিবে৷

(১১) এই অধ্যাদেশ কার্যকর হইবার দুই বছর পর এই ধারার অধীন বিশেষ ব্যবস্থায় কোন নিয়োগদান করা যাইবে না৷
   
   
 
জেলা শাখায় বিশেষ নিয়োগ  
২৩৷ (১) এই অধ্যাদেশে যাহা কিছুই থাকুক না কেন-

(ক) বাংলাদেশে আইন পেশায় অন্যুন ১৫ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আইনজীবীগণ জেলা অ্যাটর্নি পদে, অন্যুন ১০ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আইনজীবীগণ অতিরিক্ত জেলা-অ্যাটর্নি পদে, এবং অন্যুন ০৭ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আইনজীবীগণ যুগ্ম জেলা-অ্যাটর্নি পদে, দফা (খ) এর বিধান সাপেক্ষে,এককালীন সরাসরি নিয়োগ লাভের যোগ্য হইবেন;

(খ) পূর্ববর্তী দফা (ক) এর অধীন এককালীন সরাসরি নিয়োগ লাভে আগ্রহী প্রার্থীর বয়স আবেদন দাখিলের নির্ধারিত শেষ দিনে-

(অ) জেলা-অ্যাটর্নি পদের ক্ষেত্রে, অনূর্ধ্ব ৫৪ বছর;

(আ) অতিরিক্ত জেলা-অ্যাটর্নি পদের ক্ষেত্রে, অনূর্ধ্ব ৪৫ বছর; এবং

(ই) যুগ্ম জেলা-অ্যাটর্নি পদের ক্ষেত্রে, অনূর্ধ্ব ৩৮ বছর; হইতে হইবে৷

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন কোন ব্যক্তি নিয়োগের জন্য যোগ্য হইবেন না, যদি ধারা ১০ এর -

(ক) উপ-ধারা (৩) এর বিধান মোতাবেক তিনি অযোগ্য হন; এবং

(খ) উপ-ধারা (৪) এর দফা (ক) ও (গ) এর বিধান অনুযায়ী তাঁহার যোগ্যতা না থাকে৷

(৩) এই ধারার অধীন কোন একটি বাছাই ও নিয়োগের পর্যায়ে একই পদে একাধিক ব্যক্তিকে নিয়োগদান করা হইলে, উপ-ধারা (৪) ও (৫) এর বিধান সাপেক্ষে, আইন পেশায় যিনি জ্যেষ্ঠতর ছিলেন, তিনিই জ্যেষ্ঠতর হইবেন৷

(৪) উপ-ধারা (১) এর অধীন কোন পদে নিয়োগের জন্য বাছাইকৃত দুই বা ততোধিক ব্যক্তি একই তারিখে আইন পেশায় যোগদান করিয়া থাকিলে, বয়সের জ্যেষ্ঠতা দ্বারা উক্ত পদে তাঁহাদের জ্যেষ্ঠতা নির্ধারিত হইবে৷

(৫) এই ধারার অধীন পরবর্তী পর্যায়ে কোন পদে বাছাইয়ের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি, পূর্ববর্তী পর্যায়ে নিয়োগকৃত কোন ব্যক্তি অপেক্ষা বয়সে অথবা আইন পেশায় জ্যেষ্ঠতর হইবার কারণে, উক্ত পদে পূর্ববর্তী পর্যায়ে নিযুক্ত ব্যক্তি বা ব্যক্তিগণ অপেক্ষা জ্যেষ্ঠতর হইবেন না ৷

(৬) উপ-ধারা (১) এ বর্ণিত কোন পদে নিয়োগ লাভের জন্য আবেদনকারীগণের মধ্যে কেহ ইতিপূর্বে গভর্নমেন্ট প্লিডার, সহকারী গভর্নমেন্ট প্লিডার, লোকাল গভর্নমেন্ট প্লিডার, পাবলিক প্রসিকিউটর, স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর, অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর বা সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর পদে দায়িত্ব পালন করিয়া থাকিলে, উক্ত পদে নিয়োগ লাভের উদ্দেশ্যে উহা সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীর বিশেষ যোগ্যতা হিসাবে বিবেচিত হইবে৷

(৭) কমিশন, এই ধারার অধীন নিয়োগ প্রদানের জন্য তৎকর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতি ও নীতিমালা অনুসরণপূর্বক প্রার্থী বাছাই করিবে, এবং সংশ্লিষ্ট পদে নিয়োগের জন্য সরকারের নিকট সুপারিশ করিবে৷

(৮) এই ধারার অধীন বিশেষ ব্যবস্থায় জেলা-অ্যাটর্নি, অতিরিক্ত জেলা-অ্যাটর্নি এবং যুগ্ম জেলা-অ্যাটর্নির নির্ধারিত সংখ্যক পদে একবারে কিংবা পর্যায়ক্রমে সরাসরি নিয়োগ দান করা যাইবে৷

(৯) উপ-ধারা (৭) এর অধীন কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে সরকার, গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে, এই ধারার অধীন নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জ্যেষ্ঠতার ক্রমানুসারে নিয়োগ প্রদান করিবে৷

(১০) সরকার, এই ধারার অধীন বিশেষ ব্যবস্থায় নিযুক্ত জেলা-অ্যাটর্নি, অতিরিক্ত জেলা-অ্যাটর্নি এবং যুগ্ম জেলা-অ্যাটর্নিকে তাহাদের মূল বেতনের সহিত উহার অতিরিক্ত যথাক্রমে, ১০০ শতাংশ, ৭৫ শতাংশ এবং ৫০ শতাংশ হারে বিশেষ ভাতা প্রদান করিবে৷

(১১) এই অধ্যাদেশ কার্যকর হইবার দুই বছর পর এই ধারার অধীন বিশেষ ব্যবস্থায় কোন নিয়োগদান করা যাইবে না৷
   
   
পঞ্চম পরিচ্ছেদ
বিবিধ
 
সার্ভিসের কর্মকর্তাগণ সরকারী কর্মচারী ও লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত হওয়া সম্পর্কিত বিধান  
২৪৷ সার্ভিসের যে কোন শাখায় এই অধ্যাদেশের বিধান অনুযায়ী স্থায়ীভাবে নিযুক্ত কর্মকর্তাগণ সরকারী কর্মচারী এবং প্রজাতন্ত্রের লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত বলিয়া গণ্য হইবেন৷
   
   
 
বেসরকারী আইনজীবী নিয়োগ  
২৫৷ এই অধ্যাদেশে ভিন্নতর যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সরকার, প্রয়োজনে, নির্ধারিত শর্তে, যে কোন আদালতে সরকারের পক্ষে কোন নির্দিষ্ট মামলা পরিচালনা করিবার জন্য বেসরকারী আইনজীবী নিয়োগ করিতে পারিবে৷
   
   
 
সরল বিশ্বাসে কৃত কাজকর্ম রক্ষণ  
২৬৷এই অধ্যাদেশ বা তদধীন প্রণীত বিধির অধীনে সরল বিশ্বাসে কৃত কোন কাজের ফলে কোন ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হইলে বা তাহার ক্ষতিগ্রস্ত হইবার সম্ভাবনা থাকিলে, তজ্জন্য সরকার বা সার্ভিসের কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে কোন দেওয়ানী বা ফৌজদারী মামলা বা অন্য কোন আইনগত কার্যধারা দায়ের বা রুজু করা যাইবে না৷
   
   
 
তফসিল সংশোধন সংক্রান্ত বিধান  
২৭৷ সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, তফসিল সংশোধন করিতে পারিবে৷
   
   
 
বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা  
২৮৷সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে৷
   
   
 
ইংরেজীতে অনূদিত পাঠ প্রকাশ  
২৯৷ এই অধ্যাদেশ প্রবর্তনের পর সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই অধ্যাদেশের মূল বাংলা পাঠের ইংরেজীতে অনূদিত একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ প্রকাশ করিবে৷

(২) বাংলা ও উক্ত ইংরেজী পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাইবে৷
   
   
 
রহিতকরণ ও হেফাজত  
৩০৷ (১) এতদ্‌দ্বারা The Bangladesh Law Officers Order, 1972 ( P.O.No. 6 of 1972 ) রহিত করা হইল৷

(২) উপ-ধারা (১) দ্বারা রহিত হওয়া সত্ত্বেও, উক্ত রহিত আইনের অধীন নিযুক্ত কোন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি-জেনারেল, ডেপুটি অ্যাটর্নি-জেনারেল এবং সহকারী অ্যাটর্নি-জেনারেল, বিশেষ আদেশ দ্বারা নিজ নিজ পদ হইতে অব্যাহতিপ্রাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত, নিজ নিজ পদে, এই অধ্যাদেশ কার্যকর হইবার পরবর্তী দুই বছর পর্যন্ত, নিয়োগের সংশ্লিষ্ট নির্ধারিত শর্তে এমনভাবে বহাল থাকিবেন, যেন উক্ত আইন রহিত করা হয় নাই৷

(৩) এই অধ্যাদেশ কার্যকর হওয়া সত্ত্বেও, বর্তমান ব্যবস্থায় নিযুক্ত গভর্নমেন্ট প্লিডার, সহকারী গভর্নমেন্ট প্লিডার, লোকাল গভর্নমেন্ট প্লিডার, পাবলিক প্রসিকিউটর, স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর, অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর এবং সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটরগণ, বিশেষ আদেশ দ্বারা নিজ নিজ পদ হইতে অব্যাহতিপ্রাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত, নিজ নিজ পদে, এই অধ্যাদেশ কার্যকর হইবার পরবর্তী তিন বছর পর্যন্ত, নিয়োগ সংশ্লিষ্ট নির্ধারিত শর্তে এমনভাবে বহাল থাকিবেন যেন এই অধ্যাদেশ কার্যকর হয় নাই৷

[ (৪) এই অধ্যাদেশ কার্যকর হওয়া সত্বেও, সার্ভিস গঠিত না হওয়া পর্যন কোন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি-জেনারেল, ডেপুটি অ্যাটর্নি-জেনারেল এবং সহকারী অ্যাটর্নি-জেনারেল অথবা গভর্নমেন্ট প্লিডার, অতিরিক্ত গভর্ণমেন্ট প্লিডার, সহকারী গভর্নমেন্ট প্লিডার, লোকাল গভর্নমেন্ট প্লিডার, পাবলিক প্রসিকিউটর, স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর, অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর এবং সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর পদে নিয়োগের প্রয়োজন হইলে সরকার উপ-ধারা (১) এর অধীন রহিত আইন বা, ক্ষেত্রমত, বিদ্যমান ব্যবস্থার অধীন উক্ত পদ বা পদসমূহে এমনভাবে নিয়োগ প্রদান করিতে পারিবে যেন উক্ত আইন রহিত করা হয় নাই বা এই অধ্যাদেশ কার্যকর হয় নাই।]
   
   
   
 
১ উপ-ধারা (৪) সরকারী অ্যাটর্নি সার্ভিস (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০০৮ (২০০৮ সনের ৪১ নং অধ্যাদেশ) এর ২ ধারাবলে সংযোজিত।

Copyright © 2010, Legislative and Parliamentary Affairs Division
Ministry of Law, Justice and Parliamentary Affairs