মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য অধ্যাদেশ, ২০০৮
( ২০০৮ সনের ২০ নং অধ্যাদেশ)
  [২১ মে, ২০০৮]
     
     মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্যের উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, মান নিয়ন্ত্রণ, আমদানি, রপ্তানি, বিপণন, বিক্রয়, বিতরণ এবং এতদসংক্রান্ত আনুষঙ্গিক বিষয়াদি সম্পর্কে বিধান করিবার লক্ষ্যে প্রণীত
 
অধ্যাদেশ

যেহেতু মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্যের উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, মান নিয়ন্ত্রণ, আমদানি, রপ্তানি, বিপণন, বিক্রয়, বিতরণ এবং এতদসংক্রান্ত আনুষঙ্গিক বিষয়াদি সম্পর্কে বিধান করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; এবং


যেহেতু সংসদ ভাঙ্গিয়া যাওয়া অবস্থায় রহিয়াছে এবং রাষ্ট্রপতির নিকট উহা সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হইয়াছে যে, আশু ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি বিদ্যমান রহিয়াছে;


সেহেতু গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৯৩(১) এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি নিম্নরূপ অধ্যাদেশ প্রণয়ন ও জারী করিলেনঃ-




   
 
সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তন  
১৷ (১)এই অধ্যাদেশ মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য অধ্যাদেশ, ২০০৮ নামে অভিহিত হইবে৷

(২) সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, যেই তারিখ নির্ধারণ করিবে সেই তারিখে এই অধ্যাদেশ কার্যকর হইবে৷
   
   
 
সংজ্ঞা  
২৷ বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই অধ্যাদেশে-

(ক)‘অধিদপ্তর’ অর্থ মৎস্যখাদ্য সংক্রান্ত বিষয়ে মৎস্য অধিদপ্তর এবং পশুখাদ্য সংক্রান্ত বিষয়ে পশুসম্পদ অধিদপ্তর;

(খ)‘কোম্পানী’ অর্থ কোম্পানী আইন, ১৯৯৪ (১৯৯৪ সরে ১৮ নং আইন) এ সংজ্ঞায়িত কোম্পানী;

(গ) ‘খামার’ অর্থ মৎস্য ও গৃহপালিত পশুর হ্যাচারি, নার্সারি, প্রজনন খামার এবং মৎস্য ও গৃহপালিত পশুর বাণিজ্যিক খামার;

(ঘ) ‘নির্ধারিত’ অর্থ বিধি দ্বারা নির্ধারিত;

(ঙ)‘পশু’ অর্থ নিম্নবর্ণিত সকল ধরনের প্রাণী অন্তর্ভুক্ত হইবে, যথাঃ-

(অ) মানুষ ব্যতীত সকল স্তন্যপায়ী প্রাণী;

(আ) পাখি;

(ই) সরীসৃপ জাতীয় প্রাণী;

(ঈ) মৎস্য ব্যতীত অন্যান্য জলজ প্রাণী; এবং

(উ) সরকার কর্তৃক, সময় সময়, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা ঘোষিত অন্য কোন প্রাণী;

(চ)‘পশুখাদ্য’ অর্থ পশুর জীবনধারণ ও অপুষ্টি হইতে রক্ষার উদ্দেশ্যে কৃত্রিম বা অন্যভাবে প্রস্তুতকৃত বিভিন্ন পুষ্টিযুক্ত খাদ্যদ্রব্য বা উহার মিশ্রণ;

(ছ)‘পরিচালক’ অর্থ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠারে ক্ষেত্রে উহার কোন অংশীদার বা পরিচালনা বোর্ডের সদস্য;

(জ)‘ব্যক্তি’ অর্থ বিধিবদ্ধ আইরে অধীন নিবন্ধিত কোন ব্যক্তি, কোম্পানী, প্রতিষ্ঠান, সংস্থা, সংঘ, সংগঠন বা সমিতি;

(ঝ)‘বিধি’ অর্থ এই অধ্যাশের অধীন প্রণীত বিধি;

(ঞ)‘ভেজাল মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য’ অর্থ কোন বিষাক্ত বা ক্ষতিকর উপাদানযুক্ত মৎস্যখাদ্য বা পশুখাদ্য যাহা মৎস্য,পশু বা অন্যান্য প্রাণী বা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর অথবা এমন মৎস্যখাদ্য বা পশুখাদ্য যাহা এই অধ্যাশের ধারা ১১ এবং ১৩ তে উল্লিখিত বিষয়াদির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নহে, অথবা মান নিয়ন্ত্রণ ল্যাবরেটরীতে ভেজাল বা বিষাক্ত বা ক্ষতিকর মৎস্যখাদ্য বা পশুখাদ্য বা অপদ্রব্য হিসাবে প্রমাণিত;

(ট)‘মৎস্য’ অর্থ সকল প্রকার কোমল অস্থি ও কঠিন অস্থি বিশিষ্ট মাছ (Cartilaginous and Bony fishes), স্বাদু ও লবণাক্ত পানির চিংড়ি (Prawn and shrimp), উভচর জলজ প্রাণী, কচ্ছপ, কাছিম, কাঁকড়াজাতীয় (Crustacean), শামুক বা ঝিনুক জাতীয় (Molluscs) জলজ প্রাণী, একাইনোডার্মস জাতীয় (Sea Cucumber), ব্যাঙ (Frogs) এবং উহাদের জীবনচক্রের যে কোন ধাপ এবং সরকার কর্তৃক, সময় সময়, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা ঘোষিত অন্য কোন জলজ প্রাণী;

(ঠ)‘মৎস্যখাদ্য’ অর্থ মাছের জীবনধারণ ও অপুষ্টি হইতে রক্ষার উদ্দেশ্যে কারখানায় বা অন্যভাবে প্রস্তুতকৃত বিভিন্ন পুষ্টিযুক্ত খাদ্যদ্রব্য বা উহার মিশ্র্রণ;

(ড)‘মহাপরিচালক’ অর্থ মৎস্য অধিদপ্তরে মহাপরিচালক এবং পশুসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক;

(ঢ)‘মান নিয়ন্ত্রণ ল্যাবরেটরী’ অর্থ নিম্নবর্ণিত প্রতিষ্ঠান সমূরে মান নিয়ন্ত্রণ ল্যাবরেটরী, যথাঃ-

(অ) মৎস্য অধিদপ্তর;

(আ) পশুসম্পদ অধিদপ্তর;

(ই) বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস এন্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউট (বিএসটিআই);

(ঈ) বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর);

(উ) বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট;

(ঊ) বাংলাদেশ পশুসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট;

(ঋ) বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্য বিজ্ঞান অনুষদ;

(এ) পশু চিকিৎসা অনুষদ;

(ঐ) পশুপালন অনুষদ;

(ও) বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের ল্যাবরেটরী, এবং

(ঔ) সরকার কর্তৃক, সময় সময়, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা নির্ধারিত অন্য কোন ল্যাবরেটরী;

(ণ)‘লাইসেন্স’ অর্থ মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, আমদানি, রপ্তানি, বিক্রয়, বিতরণ, পরিবহন এবং আনুষঙ্গিক কার্যাবলী সম্পাদন করিবার লক্ষ্যে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ধারা ৫ এর অধীন প্রদত্ত লাইসেন্স;

(ত)‘লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ’ অর্থ মৎস্যখাদ্য সংক্রান্ত বিষয়ে মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বা মহাপরিচালক কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং পশুখাদ্য সংক্রান্ত বিষয়ে পশুসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বা মহাপরিচালক কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা;

(থ)‘সরকার’ অর্থ মৎস্য ও পশুসম্পদ মন্ত্রণালয়;

(দ) ‘ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা’ অর্থ মহাপরিচালক কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত অধিদপ্তরে প্রথম শ্রেণীর কোন কর্মকর্তা।
   
   
 
মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ  
৩৷ (১) মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বা তাঁহার নিকট হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মৎস্যখাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ বলিয়া বিবেচিত হইবেন৷

(২) পশুসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বা তাঁহার নিকট হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পশুখাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ বলিয়া বিবেচিত হইবেন৷
   
   
 
মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, ইত্যাদিসহ আনুষঙ্গিক কার্যাবলী সম্পাদন  
৪৷ (১) এই অধ্যাদেশ কার্যকর হইবার পর কোন ব্যক্তি ধারা ৫ এর অধীন লাইসেন্স গ্রহণ ব্যতীত মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, আমদানি, রপ্তানি, বিপণন, বিক্রয়, বিতরণ এবং আনুষঙ্গিক কার্যাবলী সম্পাদন করিতে পারিবেনা৷

(২) এই অধ্যাদেশ কার্যকর হইবার অব্যবহিত পূর্বে কোন ব্যক্তি মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য উত্পাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, আমদানি, রপ্তানি, বিপণন, বিক্রয়, বিতরণ এবং আনুষঙ্গিক কার্যাবলী সম্পাদন করিয়া থাকিলে তিনি এই অধ্যাদেশ কার্যকর হইবার অনধিক ৬ (ছয়) মাসের মধ্যে ধারা ৫ এর উপ-ধারা (১) এ নির্ধারিত পদ্ধতিতে ও ফরমে লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করিতে পারিবে৷

(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন আবেদন প্রাপ্তির পর লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ ধারা ৫ এ বর্ণিত পদ্ধতি অনুসরণ করিবে৷

(৪) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত সময়সীমার মধ্যে লাইসেন্সের জন্য আবেদন করা না হইলে লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ এই অধ্যাদেশ কার্যকর হইবার অব্যবহিত পূর্বের মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য উত্পাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, আমদানি, রপ্তানি, বিপণন, বিক্রয়, বিতরণ এবং আনুষঙ্গিক কার্যাবলী পরিচালনার যাবতীয় কার্যক্রম বন্ধ রাখিবার নির্দেশ প্রদান করিবে৷
   
   
 
লাইসেন্স প্রদান  
৫৷ (১) এই অধ্যাদেশের অধীন মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য উত্পাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, আমদানি, রপ্তানি, বিপণন, বিক্রয়, বিতরণ এবং আনুষঙ্গিক কার্যাবলী সম্পাদন করিতে ইচ্ছুক কোন ব্যক্তি লাইসেন্সের জন্য লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষের নিকট বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে ও ফরমে আবেদন করিতে পারিবেনঃ

তবে শর্ত থাকে যে, এতদুদ্দেশ্যে বিধি প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত কোন ব্যক্তি লাইসেন্সের জন্য লিখিত আবেদন করিতে পারিবেন৷

(২) উপধারা (১) এর অধীন লাইসেন্সের জন্য আবেদন করা হইলে লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ -

(ক)যদি এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে, আবেদনকারী মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, আমদানি, রপ্তানি, বিপণন, বিক্রয়, বিতরণ এবং আনুষঙ্গিক কার্যাবলী সম্পাদন করিবার জন্য নির্ধারিত শর্তাবলী পূরণ করিয়াছেন, তাহা হইলে লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ আবেদনকারীর নিকট হইতে ধারা ৭ এর অধীন নির্ধারিত ফি আদায় করিয়া ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে আবেদনকারীকে লাইসেন্স প্রদান করিবে; অথবা

(খ)যদি এইরূপ অভিমত পোষণ করে যে, নির্ধারিত শর্তাবলী পূরণ করিবার জন্য আবেদনকারীকে সুযোগ প্রদান করা সমীচীন, তাহা হইলে উক্ত শর্তাবলী পূরণ করিবার জন্য লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ আবেদনকারীকে অনধিক ৩০ (ত্রিশ) দিন সময় প্রদান করিতে পারিবে; এবং

(অ)উক্ত সময়ের মধ্যে উল্লিখিত সকল শর্তাবলী প্রতিপালন করিতে আবেদনকারী সক্ষম হইয়াছে মর্মে সন্তুষ্ট হইবার পর পরবর্তী ১৫ (পনের) দিনের মধ্যে আবেদন মঞ্জুর করিয়া আবেদনকারীকে লাইসেন্স প্রদান করিবে; বা

(আ) উক্ত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় শর্তাবলী পূরণ করিতে আবেদনকারী ব্যর্থ হইলে আবেদন নামঞ্জুর করিয়া ১৫(পনের) দিনের মধ্যে আবেদনকারীকে অবহিত করিবে; অথবা

(গ) যদি এইরূপ অভিমত পোষণ করে যে, আবেদনকারী নির্ধারিত শর্তাবলীর মধ্যে অধিকাংশ শর্ত পূরণ করিতে সক্ষম হয় নাই এবং আবেদনকারীকে দফা (খ) এ উল্লিখিত সুযোগ প্রদান করা হইলে উক্ত সময়ের মধ্যে অবশিষ্ট শর্তাবলী পূরণ করিতে সক্ষম হইবার সম্ভাবনা নাই, তাহা হইলে আবেদনকারীর আবেদন সরাসরি নামঞ্জুর করিয়া ১৫ (পনের) দিনের মধ্যে আবেদনকারীকে অবহিত করিবে৷
   
   
 
লাইসেন্সের মেয়াদ ও নবায়ন  
৬৷ (১) এই অধ্যাদেশের অধীন প্রদও লাইসেন্সের মেয়াদ হইবে লাইসেন্স ইস্যুর তারিখ হইতে ১ (এক) বছর৷

(২) উপ-ধারা (১) এ বর্ণিত লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হইবার ৬০ (ষাট) দিন পূর্বে নির্ধারিত ফিসহ নবায়নের জন্য লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষের নিকট নির্ধারিত ফরমে আবেদন করিতে হইবে৷

(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন আবেদন প্রাপ্তির পর লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ যদি এই মর্মে সন্তষ্ট হয় যে, আবেদনকারী এই অধ্যাদেশের অধীন প্রণীত বিধি বা লাইসেন্সের শর্তাবলী যথাযথভাবে প্রতিপালন করিয়াছে তাহা হইলে লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ আবেদন প্রাপ্তির ৩০(ত্রিশ) দিনের মধ্যে লাইসেন্সটি নবায়ন করিবে অথবা লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ যদি এই মর্মে সন্তষ্ট হয় যে, আবেদনকারী প্রযোজ্য শর্তাবলী প্রতিপালন করে নাই তবে লাইসেন্স নবায়নের আবেদনটি নামঞ্জুর করিবে৷

(৪) উপ-ধারা (৩) অনুযায়ী লাইসেন্স নবায়নের আবেদন লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ কর্তৃক মঞ্জুর বা নামঞ্জুরের আদেশ না পাওয়া পর্যন্ত লাইসেন্সটি বহাল আছে বলিয়া গণ্য হইবে এবং তদানুসারে লাইসেন্স গ্রহীতা তাহার কার্যাবলী সম্পাদন করিতে পারিবে৷
   
   
 
লাইসেন্স ফি ও নবায়ন ফি  
৭৷ এই অধ্যাদেশের অধীন প্রদেয় লাইসেন্স এর ফি ও নবায়ন ফি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবেঃ

তবে শর্ত থাকে যে, এতদুদ্দেশ্যে বিধি প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, লাইসেন্স ফি ও নবায়ন ফি এর হার নির্ধারণ করিতে পারিবে৷
   
   
 
লাইসেন্স বাতিল ও স্থগিতকরণ  
৮৷ (১) কোন লাইসেন্স গ্রহীতা এই অধ্যাদেশ বা তদধীন প্রণীত বিধি বা লাইসেন্সের কোন শর্ত ভঙ্গ করিলে লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ লাইসেন্স গ্রহীতাকে যুক্তিসঙ্গত কারণ দর্শানোর সুযোগ প্রদান করিয়া প্রদত্ত লাইসেন্স স্থগিত বা বাতিল করিতে পারিবে৷

(২) উপ-ধারা (১) অনুযায়ী কোন লাইসেন্স স্থগিত বা বাতিল করা হইলে স্থগিত বা বাতিল আদেশের তারিখ হইতে ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে লাইসেন্স গ্রহীতা সরকারের নিকট নির্ধারিত ফি প্রদান সাপেক্ষে আপীল করিতে পারিবে এবং সরকার উক্ত আপীল দায়েরের তারিখ হইতে ৬০ (ষাট) দিনের মধ্যে আপীল নিষ্পত্তি করিবে এবং এই ক্ষেত্রে সরকারের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলিয়া গণ্য হইবেঃ

তবে শর্ত থাকে যে, সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি আপীল আদেশ অবহিত হওয়ার তারিখ হইতে ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে উহা পুনর্বিবেচনার জন্য আবেদন করিতে পারিবেন৷

(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন আপীল আদেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন প্রাপ্তির অনধিক ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে উহা নিষ্পত্তি করিতে হইবে৷
   
   
 
আদর্শমাত্রা  
৯৷ (১) সরকার বাণিজ্যিকভিত্তিতে উৎপাদিতব্য মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্যের গুণগতমান বজায় রাখিবার লক্ষ্যে বিধি দ্বারা মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্যের বিভিন্ন উপাদানের আদর্শমাত্রা নির্ধারণ করিয়া দিবে এবং বাণিজ্যিকভিত্তিতে মত্স্যখাদ্য ও পশুখাদ্য প্রস্তুতকালে উক্ত আদর্শমাত্রা অনুসরণ বাধ্যতামূলক হইবে৷

(২) মান নিয়ন্ত্রণ ল্যাবরেটরীতে পরীক্ষায় কোন মৎস্যখাদ্য বা পশুখাদ্যে উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত আদর্শমাত্রা না পাওয়া গেলে বা পুষ্টি বিরোধী কোন উপাদানের উপস্থিতি প্রমাণিত হইলে বা উহাতে মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্যের অযোগ্য বা ক্ষতিকর কোন দ্রব্যের মিশ্রণ পাওয়া গেলে উক্ত মৎস্যখাদ্য বা পশুখাদ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করা যাইবে৷
   
   
 
মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্যের মান নিশ্চিতকরণ  
১০৷ (১) আমদানিকৃত ও দেশে উৎপাদিত যে কোন মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য বাজারজাত করিবার যে কোন পর্যায়ে উহার মান যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কোন উৎপাদক, আমদানিকারক বা বিক্রেতার নিকট হইতে নমুনা সংগ্রহ করিয়া উহা মান নিয়ন্ত্রণ ল্যাবরেটরীতে পরীক্ষা করাইতে পারিবে৷

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন পরীক্ষায় মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য ব্যবহারের অনুপযোগী প্রমাণিত হইলে উক্ত মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য বাজেয়াপ্ত করা হইবে এবং উহার আমদানীকারক, উৎপাদনকারী ও বাজারজাতকারী এই অধ্যাদেশের অধীন অপরাধ করিয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে৷

(৩) মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্যের যে সকল উপকরণ বিপণন হইয়া থাকে উহা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পদ্ধতি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে৷
   
   
 
ক্ষতিকর ও ভেজাল মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য উৎপাদন, আমদানি, রপ্তানি, বিক্রয়, পরিবহন ও বিপণন নিষিদ্ধ  
১১৷ (১) কোন ব্যক্তি, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অথবা উহার পক্ষে অন্য কোন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানীর মাধ্যমে এমন কোন মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, আমদানি, রপ্তানি, বিক্রয়, পরিবহন বা বিতরণ করিতে পারিবে নঃ

(ক) যাহাতে মানুষ, পশু, মৎস্য বা পরিবেশের জন্য কোন বিষাক্ত বা ক্ষতিকর পদার্থ থাকে; এবং

(খ) যাহা আদর্শমাত্রার সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ৷

(২) মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য আমদানির ক্ষেত্রে রপ্তানিকারক দেশের উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত তেজস্ক্রিয়তা পরীক্ষণ সম্পর্কিত প্রত্যয়নপত্র এবং উক্ত খাদ্যদ্রব্য মৎস্য ও পশুর খাওয়ার উপযোগী মর্মে প্রত্যয়নপত্র শিপিং ডকুমেন্টের সহিত বাধ্যতামূলকভাবে সংযুক্ত করিতে হইবে৷

(৩) কোন ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর বিধান লংঘন করিলে উহা এই অধ্যাদেশের অধীন অপরাধ হিসাবে গণ্য হইবে৷
   
   
 
পাত্র ও লেবেলিং  
১২৷ (১) কোন মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য বাজারজাত করা যাইবে না, যদি-

(ক) উক্ত খাদ্য অনুমোদিত পাত্র বা প্যাকেটে সংরক্ষিত এবং বায়ুনিরোধ অবস্থায় মোড়কজাত না হয়; এবং

(খ) উক্ত পাত্র বা প্যাকেটে নিম্নবর্ণিত বিষয়গুলি উল্লেখ না থাকে, যথাঃ-

(১) প্রস্তুত কারকের নাম ও যে দেশে প্রস্তুত সেই দেশের নাম;

(২) সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নাম, ঠিকানা ও নিবন্ধন নম্বর;

(৩) মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্যের প্রকৃত ওজন;

(৪) বিদ্যমান বিভিন্ন খাদ্য উপকরণের ও পুষ্টি উপাদানের নাম এবং শতকরা হার;

(৫) মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য চিহ্নিত করার জন্য প্রদেয় লট নম্বর বা অন্যবিধ উপায়;

(৬) উৎপাদিত পণ্যের উৎস সনাক্তকরণ কোড;

(৭) কোন জাতীয় মৎস্য বা পশুর খাদ্য তাহার উল্লেখ;

(৮) উৎপাদনের তারিখ এবং মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ৷

(২) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন সরকার, প্রয়োজনে, মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য বিপণন এবং লেবেলিং সম্পর্কিত বিষয়াদি বিধি দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করিতে পারিবে৷
   
   
 
মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্যে এন্টিবায়োটিক, গ্রোথ হরমোন, কীটনাশক, ইত্যাদি ব্যবহার নিষিদ্ধকরণ  
১৩৷ (১) মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্যে এন্টিবায়োটিক, গ্রোথ হরমোন, স্টেরয়েড ও কীটনাশকসহ অন্যান্য ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করা যাইবে না৷

(২) কোন ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর বিধান লংঘন করিলে উহা এই অধ্যাদেশের অধীন অপরাধ হিসাবে গণ্য হইবে৷
   
   
 
কারখানা বা সংশ্লিষ্ট স্থানে প্রবেশের ক্ষমতা  
১৪৷ মহাপরিচালক বা তাঁহার নিকট হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এই অধ্যাদেশ ও বিধি সাপেক্ষে, যুক্তিসঙ্গত সময়ে কোন মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য কারখানা ও উহার প্রাঙ্গণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ পদ্ধতি, প্রক্রিয়াজাতকরণের উদ্দেশ্যে উক্ত কারখানায় আনীত মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্যের যে কোন উপাদান ও উপাদানসমূহ মজুদ করিবার স্থান, পরিবহনকারী যে কোন যান, বিক্রয় কেন্দ্র বা এতদসংশ্লিষ্ট অন্য কোন স্থান বা যানবাহন এবং মাননিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত যে কোন দলিল পরিদর্শন করিতে পারিবেন৷
   
   
 
ক্ষতিকর ও ভেজাল মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য বাজেয়াপ্তকরণ, বিনষ্টকরণ, ইত্যাদি  
১৫৷(১) কোন মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য ক্ষতিকর ও ভেজাল প্রমাণিত হইলে মহাপরিচালক বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উক্ত মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য এবং উহাদের উৎপাদন কাজে ব্যবহৃত পণ্য ও যন্ত্রপাতির সমুদয় বা কোন অংশ বাজেয়াপ্ত করিতে পারিবেন৷

(২) বাজেয়াপ্ত অস্বাস্থ্যকর বা পঁচা বা দূষিত বা ভেজাল মিশ্রিত মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য মহাপরিচালক বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিনষ্ট করিবার জন্য নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবেন৷

(৩) উপ-ধারা (১) এ জব্দকৃত মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা তাঁহার মনোনীত প্রতিনিধির উপস্থিতিতে জনস্বাস্থ্যের বা পরিবেশের উপর বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে না এমন স্বাস্থ্যসম্মত পন্থায় বিনষ্ট করিবেন এবং উক্তরূপে বিনষ্টকরণ সংক্রান্ত রেকর্ডপত্র কারখানা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক যথাযথভাবে সংরক্ষণ করিতে হইবে৷
   
   
 
কোম্পানী কর্তৃক অপরাধ সংঘটন  
১৬৷ কোন কোম্পানী কর্তৃক এই অধ্যাদেশের অধীন কোন অপরাধ সংঘটিত হইলে উক্ত অপরাধের সহিত প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতা রহিয়াছে কোম্পানীর এমন প্রত্যেক পরিচালক, ম্যানেজার, সচিব, অংশীদার, কর্মকর্তা এবং কর্মচারী উক্ত অপরাধ সংঘটন করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে, যদি না তিনি প্রমাণ করিতে পারেন যে, উক্ত অপরাধ তাহার অজ্ঞাতসারে সংঘটিত হইয়াছে অথবা উক্ত অপরাধ রোধ করিবার জন্য তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করিয়াছেন৷
   
   
 
অপরাধ বিচারার্থ গ্রহণ ও বিচার  
১৭৷ (১) মহাপরিচালক বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তার লিখিত অভিযোগ ব্যতীত কোন আদালত এই অধ্যাদেশের অধীন কোন মামলা বিচারার্থে গ্রহণ করিবে না৷

(২) এই অধ্যাদেশের অধীন অপরাধসমূহ প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট বা, ক্ষেত্রমত, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক বিচার্য হইবে৷
   
   
 
অপরাধের আমলযোগ্যতা ও জামিনযোগ্যতা  
১৮। এই অধ্যাদেশের অধীন অপরাধসমূহ অ-আমলযোগ্য (non-cognizable) ও জামিনযোগ্য (bailable) হইবে।
   
   
 
দন্ড  
১৯। যদি কোন ব্যক্তি এই অধ্যাদেশের অধীন কোন অপরাধ করেন তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি অনুরূপ অপরাধের জন্য অনূর্ধ্ব এক বৎসরের কারাদণ্ড, বা অনূর্ধ্ব ৫০০০০.০০ (পঞ্চাশ হাজার) টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
   
   
 
Code of Criminal Procedure, 1898 (Act V of 1898) এর প্রয়োগ  
২০৷ এই অধ্যাদেশের অধীন অপরাধের তদন্ত, বিচার, আপীল ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিষয়ে Code of Criminal Procedure, 1898 প্রযোজ্য হইবে৷
   
   
 
দায়মুক্তি  
২১৷ এই অধ্যাদেশ বা তদ্‌ধীন প্রণীত বিধির অধীন সরল বিশ্বাসে কৃত কোন কার্যের জন্য কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোন মামলা, ফৌজদারী কার্যক্রম বা অন্য কোন আইনগত কার্যধারা রুজু করা যাইবে না৷
   
   
 
বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা  
২২৷ সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে৷
   
   
 
ইংরেজিতে অনুদিত পাঠ প্রকাশ  
২৩৷ এই অধ্যাদেশ কার্যকরী হইবার পর সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই অধ্যাদেশের ইংরেজিতে অনূদিত একটি পাঠ প্রকাশ করিবে যাহা এই অধ্যাদেশের অনুমোদিত ইংরেজি পাঠ (Authentic English Text) নামে অভিহিত হইবেঃ

তবে শর্ত থাকে যে, বাংলা ও ইংরেজি পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাইবে৷
   
   
   
 

Copyright © 2010, Legislative and Parliamentary Affairs Division
Ministry of Law, Justice and Parliamentary Affairs