THE

  [০২ মে, ২০১৩]
 
   
     
    
রাবার চাষ ও রাবার শিল্পের সার্বিক বিকাশ ও উন্নয়নের লক্ষ্যে রাবার বোর্ড প্রতিষ্ঠা এবং এতদ্‌সংক্রান্ত বিধান করার উদ্দেশ্যে প্রণীত আইন
 
    যেহেতু রাবার চাষ ও রাবার শিল্পের সার্বিক বিকাশ ও উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি বোর্ড প্রতিষ্ঠা এবং এতদ্‌সংক্রান্ত বিধান করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়;

সেহেতু এতদ্‌দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল:-
   
 
 
 
  ১। সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তন  
১। (১) এই আইন বাংলাদেশ রাবার বোর্ড আইন, ২০১৩ নামে অভিহিত হইবে।



(২) সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, যে তারিখ নির্ধারণ করিবে সেই তারিখে ইহা কার্যকর হইবে।
 
 
 
  ২। সংজ্ঞা  
২। বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে-



(১) ‘‘পরিষদ’’ অর্থ ধারা ৬ এর অধীন গঠিত বোর্ডের পরিচালনা পরিষদ;



(২) ‘‘বোর্ড’’ অর্থ ধারা ৩ এর অধীন প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ রাবার বোর্ড;

(৩) ‘‘রাবার’’ অর্থ রাবার গাছ থেকে প্রাপ্ত কষ বা ল্যাটেক্স এবং উহার উপজাত কোন পদার্থ;

(৪) ‘‘সচিব’’ অর্থ বোর্ডের সচিব; এবং

(৫) ‘‘সদস্য’’ অর্থ পরিষদের কোন সদস্য।
 
 
 
  ৩। বোর্ড প্রতিষ্ঠা  
৩। (১) এই আইন কার্যকর হইবার সঙ্গে সঙ্গে এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে বাংলাদেশ রাবার বোর্ড নামে একটি বোর্ড প্রতিষ্ঠিত হইবে।

(২) বোর্ড একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হইবে এবং ইহার স্থায়ী ধারাবাহিকতা ও একটি সাধারণ সীলমোহর থাকিবে ।

(৩) এই আইনের বিধানাবলী সাপেক্ষে, বোর্ডের স্থাবর ও অস্থাবর উভয় প্রকার সম্পত্তি অর্জন করিবার, অধিকারে রাখিবার ও হস্তান্তর করিবার ক্ষমতা থাকিবে।

(৪) ‘বাংলাদেশ রাবার বোর্ড’ এই নামে ইহার পক্ষে বা ইহার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা যাইবে।
 
 
 
  ৪। বোর্ডের কার্যালয়  
৪। (১) বোর্ডের প্রধান কার্যালয় সরকার কর্তৃক নির্ধারিত স্থানে অবস্থিত হইবে।

(২) বোর্ড, প্রয়োজনে, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, বাংলাদেশের যে কোন স্থানে উহার শাখা কার্যালয় স্থাপন করিতে পারিবে।
 
 
 
  ৫। বোর্ডের পরিচালনা ও প্রশাসন  
৫। (১) বোর্ডের একটি পরিচালনা পরিষদ থাকিবে এবং উপ-ধারা (২) এর বিধান সাপেক্ষে, বোর্ডের পরিচালনা ও প্রশাসন উক্ত পরিষদের উপর ন্যস্ত থাকিবে, এবং বোর্ড যে সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্য সম্পাদন করিতে পারিবে পরিষদও সেই সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্য সম্পাদন করিতে পারিবে।

(২) পরিষদ উহার ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্যাবলি সম্পাদনের ক্ষেত্রে, সরকার কর্তৃক , সময় সময়, প্রদত্ত নির্দেশনা, আদেশ ও নির্দেশ অনুসরণ করিবে।
 
 
 
  ৬। পরিচালনা পরিষদের গঠন  
৬। পরিচালনা পরিষদ নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে গঠিত হইবে, হথা:-

(ক) সরকার কর্তৃক, নির্ধারিত শর্তাবলী সাপেক্ষে, নিয়োজিত অন্যূন অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা অথবা রাবার বিষয়ে অভিজ্ঞ সরকার কর্তৃক মনোনীত একজন ব্যক্তি, যিনি উহার চেয়ারম্যানও হইবেন;

(খ) সকল বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব), পদাধিকারবলে;

(গ) পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় কর্তৃক মনোনীত উক্ত মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা;

(ঘ) ভূমি মন্ত্রণালয় কর্তৃক মনোনীত উক্ত মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা;

(ঙ) অর্থ বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয় কর্তৃক মনোনীত উক্ত বিভাগের উপ-সচিব পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা;

(চ) সরকার কর্তৃক মনোনীত বন অধিদপ্তরের বন সংরক্ষক পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা;

(ছ) সরকার কর্তৃক মনোনীত বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশনের পরিচালক পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা;

(জ) সরকার কর্তৃক মনোনীত বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা;

(ঝ) পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক মনোনীত পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের একজন প্রতিনিধি;

(ঞ) পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক মনোনীত পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ/জেলা পরিষদ বা অন্যান্য পরিষদের একজন প্রতিনিধি;

(ট) বাংলাদেশ রাবার বাগান মালিক সমিতির সভাপতি/প্রতিনিধি;

(ঠ) বাংলাদেশ রাবার শিল্প সমিতির সভাপতি/প্রতিনিধি;

(ড) সরকার কর্তৃক মনোনীত রাবার উৎপাদনকারী চা বাগানের একজন মালিক প্রতিনিধি;

(ঢ) সরকার কর্তৃক মনোনীত একজন রাবার বিশেষজ্ঞ; এবং

(ণ) বোর্ডের সচিব, যিনি উহার সদস্য সচিবও হইবেন।
 
 
 
  ৭। সদস্য পদের মেয়াদ  
৭। (১) ধারা ৬ এর দফা (ড) ও (ঢ) এর অধীন মনোনীত কোন সদস্য, উপ-ধারা (২) এর বিধান সাপেক্ষে, তাহার মনোনয়নের তারিখ হইতে ৩(তিন) বৎসরের জন্য সদস্য পদে বহাল থাকিবেন।

(২) উপ-ধারা (১) এর বিধান সত্ত্বেও মনোনয়ন প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ যে কোন সময় উহার প্রদত্ত কোন মনোনয়ন বাতিল করিয়া উপযুক্ত নূতন কোন ব্যক্তিকে মনোনয়ন প্রদান করিতে পারিবে।

(৩) উপ-ধারা (২) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, মেয়াদ শেষ হইবার পূর্বে যে কোন সময়, উক্ত সদস্য সরকারের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে পারিবেন এবং সরকার কর্তৃক পদত্যাগপত্র গৃহীত হইবার তারিখ হইতে সংশ্লিষ্ট পদটি শূন্য হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।
 
 
 
  ৮। বোর্ডের কার্যাবলী  
৮। বোর্ডের কার্যাবলী হইবে নিম্নরূপ, যথা:-

(ক) রাবার চাষ ও রাবার শিল্প সংক্রান্ত নীতিমালা ও পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং উহা বাস্তবায়নে সরকারকে সুপারিশ, পরামর্শ ও সহায়তা প্রদান;

(খ) সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সহযোগিতায় রাবার চাষ উপযোগী জমি চিহ্নিতকরণ;

(গ) রাবার চাষে আগ্রহী উপযুক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বাছাই এবং তাহাদের অনুকুলে জমি ইজারা বা বরাদ্দ প্রদানের নিমিত্ত সরকারের নিকট সুপারিশ পেশ;

(ঘ) ইজারা বা বরাদ্দ চুক্তির শর্ত ভঙ্গকারীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে সরকারকে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদান;

(ঙ) রাবার বাগান সৃজনে উহার মালিক বা, ক্ষেত্রমত, বরাদ্দ গ্রহীতাগণকে উদ্বুদ্ধকরণ;

(চ) রাবার বাগান সৃজন এবং রাবার শিল্প স্থাপন ও বিকাশে মালিক বা, ক্ষেত্রমত, বরাদ্দ গ্রহীতাগণকে ঋণ ও বীমা সুবিধা প্রাপ্তিতে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান;

(ছ) রাবার বাগানের মালিক বা, ক্ষেত্রমত, বরাদ্দ গ্রহীতাগণকে বৈজ্ঞানিক, কারিগরি ও অর্থনৈতিক সহায়তা প্রদান;

(জ) রাবার বাগানের মালিক, শ্রমিক ও কর্মচারীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ;

(ঝ) ক্ষতিকারক কৃত্রিম রাবার সমাগ্রীর উৎপাদন, আমাদানী, বিপণন ও ব্যবহার নিরুৎসাহিত করিবার জন্য সরকারকে পরামর্শ প্রদান;

(ঞ) রাবার বাগানের জমির অনুপযুক্ত অংশে (৩৫ ডিগ্রি ঢালের উপরে অথবা জলাবদ্ধ অংশে) ফলজ, বনজ বা ঔষধি বৃক্ষসহ অন্যান্য সাহয়ক অর্থকরী ফসল উৎপাদনে প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক সহায়তা প্রদান;

(ট) উৎপাদিত রাবার বিপণন বা, ক্ষেত্রমত, রপ্তানীর জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান;

(ঠ) বারার চাষ ও রাবার শিল্প সংক্রা ন্ত যে কোন বিষয়ে ডাটাবেজ তৈরী ও নিয়মিত হালনাগাদকরণ;

(ড) রাবার চাষ ও রাবার শিল্পের সার্বিক অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ ও পরিবীক্ষণ;

(ঢ) রাবার বাগান ও রাবার শিল্পের সহিত সংশ্লিষ্ট শ্রমিক ও কর্মচারীদের জন্য প্রয়োজনীয় কল্যাণমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ;

( ণ) রাবার চাষ ও রাবার শিল্প বিষয়ে গবেষণার নিমিত্ত রাবার গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারকে সুপারিশ প্রদান; এবং

(ত) জীবনচক্র হারানো রাবার কাঠ আহরণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিপণনে সহায়তা প্রদান;

(থ) রাবার চাষ পুনর্বাসন কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান;

(দ) সরকার কর্তৃক, সময়ে সময়ে, অর্পিত অন্য কোন দায়িত্ব পালন করা।
 
 
 
  ৯। পরিচালনা পরিষদের সভা  
৯। (১) এই ধারার বিধানাবলি সাপেক্ষে, পরিষদ উহার সভার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে।

(২) পরিষদের সভা চেয়ারম্যান কর্তৃক নির্ধারিত স্থান ও সময়ে অনুষ্ঠিত হইবে;

তবে শর্ত থাকে যে, প্রতি বৎসর পরিষদের ন্যূনতম ৩ (তিন) টি সভা অনুষ্ঠিত হইবে।

(৩) পরিষদের সকল সভায় চেয়ারম্যান সভাপতিত্ব করিবেন এবং তাহার অনুপস্থিতিতে সভায় উপস্থিত সদস্যগণ কর্তৃক মনোনীত অন্য কোন সদস্য সভায় সভাপতিত্ব করিবেন।

(৪) অন্যূন এক তৃতীয়াংশ সদস্যের উপস্থিতিতে সভার কোরাম গঠিত হইবে।

(৫) উপস্থিত সদস্যগণের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে পরিষদের সভায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হইবে এবং ভোটের সমতার ক্ষেত্রে সভাপতিত্বকারী ব্যক্তির একটি নির্ণায়ক ভোট প্রদানের ক্ষমতা থাকিবে।

(৬) শুধুমাত্র কোন সদস্যপদে শূন্যতা বা পরিষদ গঠনে ক্রুটি থাকিবার কারণে পরিষদের কোন কার্য বা কার্যধারা অবৈধ হইবে না বা তৎসম্পর্কে কোন প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে না।
 
 
 
  ১০। কমিটি গঠন ও উহার কার্যপরিধি  
১০। (১) বোর্ডের কার্যাবলি সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে বোর্ড বা কোন বিশেষ কার্য সম্পাদন বা সুপারিশ প্রণয়নের উদ্দেশ্যে পরিষদ উহার সদস্য এবং, উহার বিবেচনায়, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ অন্য কোন ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে এক বা একাধিক কমিটি গঠন করিতে পারিবে।

(২) কমিটির কার্যপরিধি বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত হইবে।
 
 
 
  ১১। বোর্ডের তহবিল  
১১। (১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, বের্ডের একটি তহবিল থাকিবে এবং উহাতে নিম্নবর্ণিত অর্থ জমা হইবে, যথা:-

(ক) সরকার কর্তৃক প্রদত্ত অনুদান;

(খ) সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে বোর্ডের নিজস্ব বিনিয়োগ হইতে প্রাপ্ত আয়;

(গ) সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে অন্য কোন উৎস হইতে প্রাপ্ত অনুদান; এবং

(ঘ) বোর্ড কর্তৃক গৃহীত ঋণ।

(২) তহবিল বোর্ডের নামে যে কোন তফসিলি ব্যাংকে জমা রাখিতে হইবে এবং পরিষদ কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতিতে তহবিল হইতে অর্থ উত্তোলন ও ব্যয় করা যাইবে।

ব্যাখ্যা। - এই ধারায় “তফসিলি ব্যাংক” বলিতে Bangladesh Bank Order, 1972 (P.O 127 of 1972) এর article 2 (j) তে সংজ্ঞায়িত Scheduled Bank কে বুঝাইবে।

(৩) তহবিল হইতে বোর্ডের প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহ করা যাইবে।
 
 
 
  ১২। বাজেট  
১২। বোর্ড, প্রত্যেক বৎসর সরকার কর্তৃক নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে, পরবর্তী অর্থ-বৎসরের বার্ষিক বাজেট বিবরণী সরকার কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট ফরমে অনুমোদনের জন্য সরকারের নিকট পেশ করিবে এবং উহাতে উক্ত অর্থ-বৎসরে সরকারের নিকট হইতে বোর্ডের কি পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হইবে উহার উল্লেখ থাকিবে।
 
 
 
  ১৩। হিসাবরক্ষণ ও নিরীক্ষা  
১৩। (১) পরিষদ, সরকার কর্তৃক নির্দেশিত পদ্ধতিতে, বোর্ডের হিসাব রক্ষণ করিবে এবং হিসাবের বার্ষিক বিবরণী প্রস্ত্তত করিবে।

(২) প্রতি বৎসর বোর্ড কর্তৃক নিয়োজিত চার্টার্ড একাউন্টেন্ট ফার্ম বোর্ডের তহবিলের হিসাব নিরীক্ষার কাজ সম্পাদন করিবে।

(৩) বাংলাদেশের মহা-হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক বা তৎকর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি নির্দিষ্ট সময় অন্তর বোর্ডের তহবিলের হিসাব নিরীক্ষা করিবেন এবং নিরীক্ষা প্রতিবেদনের একটি করিয়া অনুলিপি সরকার এবং, ক্ষেত্রমত, বোর্ডের নিকট পেশ করিবেন।

(৪) উপ-ধারা (৩) এর অধীন হিসাব নিরীক্ষার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের মহা-হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক কিংবা তাঁহার নিকট হইতে এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি বোর্ডের সকল রেকর্ড, দলিল-দস্তাবেজ, নগদ বা ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, জামানত, ভান্ডার এবং অন্যবিধ সম্পত্তি পরীক্ষা করিয়া দেখিতে পারিবেন এবং সচিব বা বোর্ডের যে কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করিতে পারিবেন।
 
 
 
  ১৪। ঋণ গ্রহণের ক্ষমতা  
১৪। (১) বোর্ড এই আইনের অধীন ইহার কার্যবলি সম্পাদনের নিমিত্ত, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, প্রয়োজনীয় ঋণ গ্রহণ করিতে পারিবে এবং প্রযোজ্য শর্তাবলির অধীন উক্ত ঋণ পরিশোধের জন্য বোর্ড দায়ী থাকিবে।
 
 
 
  ১৫। বোর্ডের সচিব এবং তাহার দায়িত্ব ও কর্তব্য  
১৫। (১) বোর্ডের একজন সচিব থাকিবেন যিনি সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন এবং তাহার চাকুরীর শর্তাবলি সরকার কর্তৃক স্থিরীকৃত হইবে।

(২) সচিব বোর্ডের সার্বক্ষণিক মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হইবেন এবং তিনি –

(ক) পরিষদের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য দায়ী থাকিবেন;

(খ) পরিষদের নিকট কর্মকাণ্ডের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করিবেন; এবং

(গ) পরিষদের নির্দেশনা অনুযায়ী বোর্ডের কার্যাবলি সম্পাদন করিবেন।

(৩) সচিবের দায়িত্ব ও কর্তব্য হইবে নিম্নরূপ, যথা:-

(ক)পরিষদের সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা বাস্তবায়ন;

(খ) বোর্ডের কর্মসূচী এবং বাৎসরিক কর্মসূচির বাজেটসহ রাজস্ব বাজেট প্রণয়ন;

(গ) পরিষদ কর্তৃক অনুমোদিত পরিকল্পনা এবং কর্মসূচী বাস্তবায়ন;

(ঘ) বোর্ডের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের শৃংখলা ও নিয়ন্ত্রণ; এবং

(ঙ) পরিষদ কর্তৃক অর্পিত অন্য কোন দায়িত্ব পালন।
 
 
 
  ১৬। বোর্ডের কর্মকর্তা ও কর্মচারী  
১৬। বোর্ড উহার কার্যাবলি সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারিবে এবং তাহাদের চাকুরীর শর্তাবলি প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
 
 
 
  ১৭। বার্ষিক প্রতিবেদন  
১৭। (১) বোর্ড প্রত্যেক বৎসরের ৩০শে সেপ্টেম্বরের মধ্যে অব্যবহিত পূর্বের অর্থবৎসরের একটি বার্ষিক প্রতিবেদন সরকারের নিকট পেশ করিবে যাহাতে, অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে, সংশ্লিষ্ট অর্থ বৎসরে গৃহীত উন্নয়ন কৌশল, পরিকল্পিত ও বাস্তবায়িত কর্মসূচী, প্রাক্কলিত ও প্রকৃত আয় ও ব্যয়, সাফল্য নিরূপণের জন্য নির্ধারিত প্রধান নির্ণায়কসমূহের আলোকে অর্জন এবং সাংগঠনিক দক্ষতা সম্পর্কে বিস্তারিত বিবরণ এবং সংশ্লিষ্ট অর্থ বৎসরের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পসমূহের হালনাগাদ অবস্থা এবং সমাপ্ত প্রকল্পসমূহের পরিচালনা ব্যবস্থার বিশ্লেষণ থাকিবে।



(২) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সরকার প্রয়োজনে, বোর্ডের নিকট হইতে যে কোন সময় বোর্ডের যে কোন বিষয়ের উপর প্রতিবেদন,বিবরণী,নথিপত্র, রেকর্ড, কাগজ বা দলিল দস্তাবেজ তলব করিতে পারিবে এবং সরকার কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত যে কোন কর্মকর্তা বোর্ডের যে কোন নথিপত্র, রেকর্ড, কাগজ বা দলিল-দস্তাবেজ পরিদর্শন করিতে পারিবে।
 
 
 
  ১৮। তথ্য সংগ্রহ, প্রবেশ ইত্যাদির ক্ষমতা  
১৮। (১) বোর্ড, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, আদেশ দ্বারা যে কোন ব্যক্তিকে রাবার চাষ, রাবার উৎপাদন এবং রাবার শিল্প সংক্রান্ত যে কোন তথ্য বা বিবরণী সরবরাহ করিবার জন্য নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে এবং উক্ত ব্যক্তি উক্ত তথ্য বা বিবরণী সরবরাহ করিতে বাধ্য থাকিবে।



(২) সচিব বা বোর্ড কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত যে কোন কর্মকর্তা বা ব্যক্তি এই আইন বা তদ্‌ধীন প্রণীত কোন বিধির অধীন তাহার উপর অর্পিত দায়িত্ব সম্পাদন করিবার উদ্দেশ্যে কোন রেকর্ড, রেজিস্টার, দলিল বা এতদ্‌সংশ্লিষ্ট কোন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরীক্ষা, যাচাই-বাছাই বা সংগ্রহ করিবার জন্য কোন রাবার বাগান বা স্থানে প্রবেশ করিবার অধিকারী হইবেন এবং সংশ্লিষ্ট রাবার বাগান ও রাবার শিল্পের মালিক, শ্রমিক ও কর্মচারী প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করিতে বাধ্য থাকিবেন।
 
 
 
  ১৯। ক্ষমতা অর্পণ  
১৯। পরিষদ এই আইন বা তদ্‌ধীন প্রণীত বিধি বা প্রবিধানের অধীন উহার কোন ক্ষমতা, লিখিত আদেশ দ্বারা সচিব বা বোর্ডের কোন কর্মকর্তাকে অর্পণ করিতে পারিবে।
 
 
 
  ২০। বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা  
২০। এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।
 
 
 
  ২১। প্রবিধান প্রণয়নের ক্ষমতা  
২১। ধারা ১৬ এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে বোর্ড, সরকারের অনুমোদনক্রমে এবং সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে।
 
 
 
  ২২। ইংরেজীতে অনূদিত পাঠ প্রকাশ  
২২। (১) এই আইন কার্যকর হইবার পর সরকার, প্রয়োজনে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের ইংরেজিতে অনূদিত একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ (Authentic English Text) প্রকাশ করিতে পারিবে।

(২) বাংলা পাঠ ও ইংরেজী পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাইবে।
 
 
 
  ২৩। রহিতকরণ ও হেফাজত  
২৩। (১) এই আইন কার্যকর হইবার সঙ্গে সঙ্গে নিম্নবর্ণিত প্রজ্ঞাপনসমূহ রহিত হইবে। যথা:-

(ক) কৃষি মন্ত্রণালয়ের বন, মৎস্য ও পশুসম্পদ বিভাগের Notification No. 1/For-109/75/1109, তারিখ 1st October 1977 ও Notification No. 1/For-109/75/1046(A), তারিখ 10th November 1977 ;

(খ) কৃষি ও বন মন্ত্রণালয়ের Notification No. 1/For-109/75/162, তারিখ 23rd March 1978;
(গ) পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন নং- পবম/-৪/বস-১৫/৯১/৪৩৯, তারিখঃ ১১-৪-১৯৯১ ইং; প্রজ্ঞাপন নং- পবম-৪/বশি-১৫/৯১/৪৮৫, তারিখঃ ০১-০৬-১৯৯১ইং; প্রজ্ঞাপন নং- পবম-৩(৫ রাবার)/৩/৯১/৭৬১, তারিখঃ ১৩-৮-১৯৯১ ইং প্রজ্ঞাপন নং- পবম-৬/রাবার-৬/৯২/৫১৫, তারিখঃ ২২-০৮-১৯৯৩ইং ও প্রজ্ঞাপন নং- পবম-৬/রাবার-৬/৯২/১২০, তারিখঃ ০৪-০৬-৯৪ ইং এবং

(ঘ) এতদ্‌সংশ্লিষ্ট অন্য কোন প্রজ্ঞাপন, যদি থাকে।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন রহিত হওয়া সত্ত্বেও , রহিত প্রজ্ঞাপনের অধীন-

(ক) কৃত কর্ম বা গৃহীত ব্যবস্থা এই আইনের অধীন কৃত বা গৃহীত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে; এবং

(খ) কোন কার্যক্রম বা গৃহীত ব্যবস্থা অনিষ্পন্ন বা চলমান থাকিলে উহা, যতদূর সম্ভব, এই আইনের বিধান অনুসারে নিষ্পন্ন করিতে হইবে।
 
 
 
 
 

Copyright © 2010, Legislative and Parliamentary Affairs Division
Ministry of Law, Justice and Parliamentary Affairs