THE

  [২৭ অক্টোবর, ২০১৩]
 
   
     
    
মেরিটাইম সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন পর্যায়ে অগ্রসরমান বিশ্বের সাথে সঙ্গতি রক্ষা ও সমতা অর্জন এবং জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, আধুনিক জ্ঞানচর্চা ও পঠন-পাঠনের সুযোগ সৃষ্টি ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ স্থাপন করিবার জন্য প্রণীত আইন
 
    যেহেতু উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন ক্ষেত্রে অগ্রসরমান বিশ্বের সাথে সঙ্গতি রক্ষা ও সমতা অর্জন এবং জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মেরিটাইম বিষয়ে উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, আধুনিক জ্ঞানচর্চা ও পঠন-পাঠনের সুযোগ সৃষ্টি ও সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ মেরিন একাডেমির বিদ্যমান ক্যাম্পাসে একটি বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় হিসাবে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ’ স্থাপন করিবার লক্ষ্যে বিধান করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়;

সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল:—
   
 
 
 
  ১। সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তন  
১। (১) এই আইন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ আইন, ২০১৩ নামে অভিহিত হইবে।

(২) এই আইন অবিলম্বে কার্যকর হইবে।
 
 
 
  ২। সংজ্ঞা  
২। বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে—

(১) “অঙ্গীভূত একাডেমি, ইনস্টিটিউট, কেন্দ্র বা প্রতিষ্ঠান” অর্থ এই আইন, সংবিধি, বিশ্ববিদ্যালয় বিধি এবং প্রবিধান অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক স্বীকৃত ও অঙ্গীভূত, স্নাতক, স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের কোন মেরিন বা মেরিটাইম শিক্ষা বা প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান;

(২) “অধিভুক্ত একাডেমি, ইনস্টিটিউট, কেন্দ্র বা প্রতিষ্ঠান” অর্থ এই আইন, সংবিধি, বিশ্ববিদ্যালয় বিধি এবং প্রবিধান অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক স্বীকৃত ও অধিভুক্ত, স্নাতক, স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের কোন মেরিন বা মেরিটাইম শিক্ষা বা প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান;

(৩) “অনুষদ” অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদ;

(৪) “অর্থ কমিটি” অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ কমিটি;

(৫) “ইনস্টিটিউট” অর্থ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক স্বীকৃত বা স্থাপিত কোন ইনস্টিটিউট;

(৬) “একাডেমি” অর্থ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক স্বীকৃত বা স্থাপিত কোন একাডেমি;

(৭) “একাডেমিক কাউন্সিল” অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিল;

(৮) “কর্তৃপক্ষ” অর্থ ধারা ২১ এ উল্লিখিত কোন কর্তৃপক্ষ;

(৯) “কর্মকর্তা” অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন কর্মকর্তা;

(১০) “কর্মচারী” অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন কর্মচারী;

(১১) “কেন্দ্র” অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্র;

(১২) “চ্যান্সেলর” অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর;

(১৩) “ট্রেজারার” অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার;

(১৪) “ডিন” অর্থ অনুষদের ডিন;

(১৫) “নির্ধারিত” অর্থ সংবিধি, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি বা প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত;

(১৬) “পরিচালক” অর্থ একাডেমি, ইনস্টিটিউট বা কেন্দ্রের পরিচালক;

(১৭) “প্রক্টর” অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর;


(১৮) “প্রভোস্ট” অর্থ কোন হলের প্রধান;


(১৯) “পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও মূল্যায়ন কমিটি” অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের “পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও মূল্যায়ন কমিটি;

(২০) “পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক” অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক;

(২১) “প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর” অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর;

(২২) “বিভাগ” অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন বিভাগ;

(২৩) “বিভাগীয় প্রধান” অর্থ কোন বিভাগের প্রধান;

(২৪) “বিশ্ববিদ্যালয়” অর্থ ধারা ৪ এর অধীন স্থাপিত ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ’;


(২৫) “মঞ্জুরী কমিশন” অর্থ University Grants Commission of Bangladesh Order, 1973 (P.O.No.10 of 1973) এর অধীন গঠিত University Grants Commission of Bangladesh;

(২৬) “বোর্ড অব গভর্ণরস” অর্থ অঙ্গীভূত একাডেমি বা ইনস্টিটিউটের বোর্ড অব গভর্ণরস;

(২৭) “সংবিধি (Statute)” অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত সংবিধি;

(২৮) “বিশ্ববিদ্যালয় বিধি ” অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি;

(২৯) “প্রবিধান (Regulation)” অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত প্রবিধান;

(৩০) “ভাইস-চ্যান্সেলর” অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর;

(৩১) “রেজিস্ট্রার” অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার;

(৩২) “রেজিস্টার্ড গ্রাজুয়েট” অর্থ এই আইনের বিধান অনুযায়ী রেজিস্টার্ড গ্রাজুয়েট;

(৩৩) “শিক্ষার্থী” অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষা-কার্যক্রমে ভর্তিকৃত কোন ছাত্র বা ছাত্রী;

(৩৪) “শিক্ষক’’ অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক বা প্রভাষক এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক নিযুক্ত অন্য কোন ব্যক্তিও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবেন;

(৩৫) “সিন্ডিকেট” অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট;

(৩৬) “সংস্থা” অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন সংস্থা; এবং

(৩৭) “হল” অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সংঘবদ্ধ জীবন এবং সহশিক্ষাক্রমিক শিক্ষাদানের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণাধীন আবাসন।
 
 
 
  ৩। আইনের প্রাধান্য  
৩। আপাতত: বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের বিধানাবলি কার্যকর হইবে।
 
 
 
  ৪। বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন  
৪। (১) এই আইনের বিধান অনুযায়ী চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় অবস্থিত বাংলাদেশ মেরিন একাডেমির ক্যাম্পাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য সরকার কর্তৃক নির্ধারিত জায়গায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ (Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman Maritime University, Bangladesh) নামে একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হইবে।

(২) বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর, ভাইস-চ্যান্সেলর, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর, ট্রেজারার, সিন্ডিকেট, সিনেট ও একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্যগণের সমন্বয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ নামে একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা গঠিত হইবে।

(৩) বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ধারাবাহিকতা ও একটি সাধারণ সীলমোহর থাকিবে এবং এই আইনের বিধান সাপেক্ষে, ইহার স্থাবর ও অস্থাবর উভয় প্রকার সম্পত্তি অর্জন করিবার, অধিকারে রাখিবার এবং হস্তান্তর করিবার ক্ষমতা থাকিবে এবং উক্ত নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে বা বিপক্ষে মামলা দায়ের করা যাইবে।
 
 
 
  ৫। অঙ্গীভূত ও অধিভুক্ত একাডেমি, ইনস্টিটিউট বা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি  
৫। (১) অঙ্গীভূত ও অধিভুক্ত একাডেমি, ইনস্টিটিউট বা প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক কার্যক্রম সরেজমিনে তদারকীকরণ, নিয়ন্ত্রণ, ব্যবস্থাপনা, উন্নয়ন ইত্যাদি সংক্রান্ত বিষয়াদি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীনে পরিচালিত হইবে।

(২) বাংলাদেশ মেরিন একাডেমি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত একাডেমী হইবে।

(৩) এই ধারায় উল্লিখিত বিষয়াদি সম্পর্কিত বিধান সংবিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
 
 
 
  ৬। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষমতা  
৬। এই আইন এবং মঞ্জুরী কমিশনের আদেশের বিধান সাপেক্ষে, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিম্নবর্ণিত ক্ষমতা থাকিবে, যথা:—

(ক) নিরাপদ জাহাজ চলাচল ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসন, নৌ-প্রকৌশল ও প্রযুক্তি, ওশ্যানোগ্রাফি, আন্তর্জাতিক মেরিটাইম আইন, মেরিটাইম স্ট্র্যাটেজি, মেরিটাইম সিকিউরিটি, জাহাজ নির্মাণ প্রকৌশল ও স্থাপত্য, হাইড্রোগ্রাফি, সামুদ্রিক সম্পদ, মেরিটাইম লেজিসলেটিভ এবং নৌ-সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়ে নূতন নূতন শাখার স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে শিক্ষাদান, গবেষণা, জ্ঞানের উৎকর্ষ সাধন ও জ্ঞান বিতরণের ব্যবস্থা করা;

(খ) বিভাগ, একাডেমি এবং ইনস্টিটিউটে শিক্ষাদানের জন্য পাঠ্যক্রম নির্ধারণ করা;

(গ) অনুষদ, বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের মধ্যে সমন্বয় সাধন করা;

(ঘ) বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত পাঠক্রমে অধ্যয়ন সম্পূর্ণ করিয়াছেন এবং সংবিধির শর্তানুযায়ী এবং সংবিধিতে বর্ণিত পদ্ধতিতে গবেষণা কাজ সম্পন্ন করিয়াছেন এমন ব্যক্তিদের পরীক্ষা গ্রহণ, মূল্যায়ন ও ডিগ্রি এবং অন্যান্য একাডেমিক সম্মান প্রদান করা;

(ঙ) সংবিধিতে বর্ণিত পদ্ধতিতে সম্মানসূচক ডিগ্রি বা অন্য কোন সম্মাননা প্রদান করা;

(চ) অনুষদ, একাডেমি, বিভাগ বা ইনস্টিটিউটের ছাত্র নহেন এমন ব্যক্তিকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক নির্ধারিত সার্টিফিকেট ও ডিপ্লোমা প্রদানের উদ্দেশ্যে বক্তৃতামালার আয়োজন ও শিক্ষার ব্যবস্থা করা এবং সংবিধি অনুযায়ী ডিপ্লোমা বা সার্টিফিকেট প্রদান করা;

(ছ) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনে তদ্কর্তৃক নির্ধারিত পন্থায় দেশে-বিদেশে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহিত সহযোগিতা ও যৌথ কর্মসূচী গ্রহণ করা;

(জ) বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন ও সরকার কর্তৃক নির্ধারিত শর্ত এবং বাজেট বরাদ্দ সাপেক্ষে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনে অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক, প্রভাষক, সুপারনিউমারারী অধ্যাপক ও এমিরেটাস অধ্যাপকের পদ এবং প্রয়োজনীয় অন্য কোন গবেষক ও শিক্ষকের পদ সৃষ্টি করা এবং সংশ্লিষ্ট বাছাই বোর্ড কর্তৃক সুপারিশকৃত ব্যক্তিগণকে সেই সকল পদে নিয়োগ প্রদান করা;

(ঝ) বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের বসবাসের জন্য হল স্থাপন, উহার পরিদর্শন ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা করা;

(ঞ) দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় এবং দেশের বাহিরের বিশ্ববিদ্যালয় ও একাডেমিক সংস্থাগুলির সহিত প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা;

(ট) মেধার স্বীকৃতি প্রদানের উদ্দেশ্যে সংবিধি অনুযায়ী ফেলোশীপ, স্কলারশীপ, পুরস্কার ও পদক প্রবর্তন ও প্রদান করা;


(ঠ) শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও গবেষণার উন্নয়নের লক্ষ্যে একাডেমিক যাদুঘর, পরীক্ষাগার, অনুষদ, কেন্দ্র স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ, সম্প্রসারণ, একত্রীকরণ ও বিলোপ সাধন করা;

(ড) বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও একাডেমিক শৃঙ্খলা তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণ, পাঠক্রম সহায়ক কার্যক্রমের উন্নতি বিধান এবং তাহাদের স্বাস্থ্যের উৎকর্ষ সাধনের ব্যবস্থা করা;

(ঢ) সংবিধি দ্বারা নির্ধারিত ফিস দাবী ও আদায় করা;

(ণ) বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার সম্প্রসারণ ও উন্নয়নের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন ও সরকারের অনুমতিক্রমে, দেশী ও বিদেশী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নিকট হইতে অনুদান, চাঁদা ও বৃত্তি গ্রহণ করা;


(ত) বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ্য অর্জনের জন্য কোন চুক্তিতে আবদ্ধ হওয়া, চুক্তি বাস্তবায়ন করা, চুক্তির শর্ত পরিবর্তন করা অথবা চুক্তি বাতিল করা;

(থ) ডিগ্রি, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা এবং সার্টিফিকেট কোর্সের জন্য শিক্ষাক্রম ও পাঠক্রমসমূহের (curriculum and syllabus) পরিকল্পনা প্রণয়ন ও গ্রহণ করা;

(দ) শিক্ষা ও গবেষণার উন্নতি ও অগ্রগতির জন্য পুস্তক ও জার্নাল প্রকাশ করা;

(ধ) শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রদান, পরীক্ষণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিসাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জন ও বাস্তবায়নকল্পে অন্যান্য কাজকর্ম সম্পাদন করা;


(ন) একাডেমি, ইনস্টিটিউট বা প্রতিষ্ঠানসমূহকে অধিভুক্ত করা বা অধিভুক্তি বাতিল করা;এবং

(প) অঙ্গীভূত বা অধিভুক্ত একাডেমি, ইনস্টিটিউট বা প্রতিষ্ঠানসমূহের একাডেমিক কার্যক্রম তদারকীকরণ, ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণের জন্য রেগুলেটরী বডি হিসাবে কাজ করা।
 
 
 
  ৭। জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সকলের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় উন্মুক্ত  
৭। যে কোন জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র এবং যে কোন শ্রেণীর পুরুষ ও নারীর জন্য, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক নির্ধারিত ভর্তির যোগ্যতা থাকা সাপেক্ষে, বিশ্ববিদ্যালয় উম্মুক্ত থাকিবে এবং ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, জন্মস্থান, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা এবং শ্রেণীর কারণে কাহারও প্রতি কোন প্রকার বৈষম্য করা যাইবে না।
 
 
 
  ৮। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাদান  
৮। (১) বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল স্বীকৃত শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম, বিশ্ববিদ্যালয় বা ইহার অঙ্গীভূত একাডেমি, ইনস্টিটিউট বা গবেষণা কেন্দ্র কর্তৃক পরিচালিত হইবে এবং পরীক্ষাগার বা কর্মশিবিরের সকল বক্তৃতা ও কর্ম উহার অন্তর্ভুক্ত হইবে।

(২) বিশ্ববিদ্যালয় বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে শিক্ষকগণ শিক্ষাদান পরিচালনা করিবেন।

(৩) শিক্ষাদানের দায়িত্ব কোন্‌ কর্তৃপক্ষের উপর থাকিবে তাহা সংবিধি দ্বারা নির্ধারণ করা হইবে।

(৪) শিক্ষাক্রম, পাঠ্যসূচী ও ভর্তি সংক্রান্ত বিষয়াবলি সংবিধি এবং বিশ্ববিদ্যালয় বিধি দ্বারা নির্ধারণ করা হইবে।
 
 
 
  ৯। মঞ্জুরী কমিশনের দায়িত্ব  
৯। (১) মঞ্জুরী কমিশন এক বা একাধিক ব্যক্তি সমন্বয়ে গঠিত কমিটি দ্বারা বিশ্ববিদ্যালয় ও উহার ভবন, গ্রন্থাগার, পরীক্ষাগার, যন্ত্রপাতি বা সহযোগী প্রতিষ্ঠান এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক পরিচালিত পরীক্ষা, শিক্ষাদান ও অন্যান্য কার্যক্রম পরিদর্শন করাইতে পারিবে;

(২) মঞ্জুরী কমিশন তদকর্তৃক অনুষ্ঠেয় প্রত্যেক পরিদর্শন বা মূল্যায়নের অভিপ্রায় সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়কে পূর্বাহ্নে অবহিত করিবে এবং এইরূপ পরিদর্শন ও মূল্যায়নে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিত্বের অধিকার থাকিবে।

(৩) মঞ্জুরী কমিশন অনুরূপ পরিদর্শন বা মূল্যায়ন প্রতিবেদনে উহার অভিমত অবহিত করিয়া, তৎসম্পর্কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সিন্ডিকেটকে পরামর্শ দিবে এবং সিন্ডিকেট তদকর্তৃক গৃহীত ব্যবস্থার প্রতিবেদন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের নিকট প্রেরণ করিবে।

(৪) মঞ্জুরী কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত রেজিস্টার ও নথিপত্র রক্ষণাবেক্ষণ করিবে এবং মঞ্জুরী কমিশনের চাহিদা অনুযায়ী পরিসংখ্যান, প্রতিবেদন ও তথ্য সরবরাহ করিবে।

(৫) মঞ্জুরী কমিশন শিক্ষা ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রয়োজনাদি নিরূপণ করিবে এবং বিশ্ববিদ্যালয় উহার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করিবে।


(৬) মঞ্জুরী কমিশন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট ও অন্যান্য আর্থিক প্রয়োজন পরীক্ষা করিয়া প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ সরকারের নিকট প্রস্তাব প্রেরণ করিবে।

(৭) ক্ষেত্রবিশেষে মঞ্জুরী কমিশনের মাধ্যমে শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রয়োজন অনুযায়ী পদ সৃষ্টি ও নিয়োগ প্রদান করিবে।
 
 
 
  ১০। বিশ্ববিদ্যালয় কর্মকর্তা  
১০। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিম্নবর্ণিত কর্মকর্তা থাকিবে, যথা:—

(ক) ভাইস-চ্যান্সেলর;

(খ) প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর;


(গ) ট্রেজারার;

(ঘ) অনুষদের ডিন;

(ঙ) ইনস্টিটিউটের পরিচালক;


(চ) রেজিস্ট্রার;

(ছ) বিভাগীয় প্রধান;

(জ) গ্রন্থাগারিক;

(ঝ) প্রভোস্ট;

(ঞ) প্রক্টর;

(ট) পরিচালক (অর্থ ও হিসাব);

(ঠ) পরিচালক (পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও মূল্যায়ন);

(ড) পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক;

(ঢ) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী;

(ণ) প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা; এবং

(ত) সংবিধি দ্বারা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা হিসাবে ঘোষিত অন্যান্য কর্মকর্তা।
 
 
 
  ১১। চ্যান্সেলর  
১১। (১) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর হইবেন এবং তিনি একাডেমিক ডিগ্রি ও সম্মানসূচক ডিগ্রি প্রদানের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করিবেন:

তবে শর্ত থাকে যে, চ্যান্সেলর ইচ্ছা করিলে, কোন সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করিবার জন্য অন্য কোন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে মনোনীত করিতে পরিবেন।

(২) চ্যান্সেলর এই আইন এবং সংবিধি দ্বারা অর্পিত ক্ষমতার অধিকারী হইবেন।

(৩) সম্মানসূচক ডিগ্রি প্রদানের প্রতিটি প্রস্তাবে চ্যান্সেলরের অনুমোদন থাকিতে হইবে।


(৪) চ্যান্সেলর বিশ্ববিদ্যালয়ের যে কোন ঘটনার তদন্ত করাইতে পারিবেন এবং তদন্ত প্রতিবেদন চ্যান্সেলর কর্তৃক সিন্ডিকেটে পাঠানো হইলে সিন্ডিকেট সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করিবে এবং গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে চ্যান্সেলরকে অবহিত করিবে।

(৫) চ্যান্সেলরের নিকট যদি সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হয় যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম বিঘ্নিত হওয়ার মত অস্বাভাবিক পরিস্থিতি বিরাজ করিতেছে, তাহা হইলে, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালু রাখিবার স্বার্থে প্রয়োজনীয় আদেশ ও নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবেন এবং অনুরূপ আদেশ ও নির্দেশ বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য বাধ্যতামূলক হইবে এবং ভাইস-চ্যান্সেলর উক্ত আদেশ বা নির্দেশ কার্যকর করিবেন।
 
 
 
  ১২। ভাইস-চ্যান্সেলর নিয়োগ  
১২। (১) চ্যান্সেলর, তদ্‌কর্তৃক নির্ধারিত শর্তে, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর রিয়ার এডমিরাল বা তদূর্ধ্ব পদবীর চাকুরিরত বা অবসরপ্রাপ্ত বাংলাদেশে নৌবাহিনীর কোন কর্মকর্তাকে ৪ (চার) বৎসর মেয়াদের জন্য ভাইস-চ্যান্সেলর নিযুক্ত করিবেন:

তবে শর্ত থাকে যে, নিয়োজিত ব্যক্তি একাদিক্রমে বা অন্যভাবে দুই মেয়াদের বেশি সময়কালের জন্য ভাইস-চ্যান্সেলরের পদে নিয়োগলাভের যোগ্য হইবেন না।

(২) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, ভাইস-চ্যান্সেলর চ্যান্সেলরের সন্তুষ্টি সাপেক্ষে, স্বপদে বহাল থাকিবেন।

(৩) ভাইস-চ্যান্সেলরের পদ শূন্য হইলে কিংবা ছুটি, অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোন কারণে তিনি তাহার দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে, শূন্য পদে নবনিযুক্ত ভাইস-চ্যান্সেলর কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত কিংবা ভাইস-চ্যান্সেলর পুনরায় স্বীয় দায়িত্ব পালনে সমর্থ না হওয়া পর্যন্ত চ্যান্সেলরের ভিন্নরূপ সিদ্ধান্ত না থাকা সাপেক্ষে, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর ভাইস-চ্যান্সেলরের দায়িত্ব পালন করিবেন;

তবে, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলরের পদ শূন্য থাকিলে বা কোন কারণে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর দায়িত্ব পালনে অপারগ হইলে ট্রেজারার ভাইস-চ্যান্সেলরের দায়িত্ব পালন করিবেন।
 
 
 
  ১৩। ভাইস-চ্যান্সেলরের ক্ষমতা ও দায়িত্ব  
১৩। (১) ভাইস-চ্যান্সেলর বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বক্ষণিক প্রধান একাডেমিক ও প্রশাসনিক নির্বাহী কর্মকর্তা হইবেন এবং পদাধিকারবলে সিন্ডিকেট, একাডেমিক কাউন্সিল এবং পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কমিটির সভাপতি থাকিবেন।

(২) ভাইস-চ্যান্সেলর তাহার দায়িত্ব পালনে চ্যান্সেলরের নিকট দায়ী থাকিবেন।

(৩) ভাইস-চ্যান্সেলর এই আইন, সংবিধি এবং বিশ্ববিদ্যালয় বিধির বিধানাবলি বিশ্বস্ততার সহিত পালন ও কার্যকর করিবেন এবং তদুদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় ক্ষমতা প্রয়োগ করিতে পারিবেন।

(৪) ভাইস-চ্যান্সেলর বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন কর্তৃপক্ষ বা সংস্থার যে কোন সভায় উপস্থিত থাকিতে এবং উহার কার্যাবলিতে অংশগ্রহণ করিতে পারিবেন, তবে তিনি উহার সদস্য না হইলে উহাতে কোন ভোট প্রদান করিতে পারিবেন না।

(৫) ভাইস-চ্যান্সেলর বিশ্ববিদ্যালয়ের যে কোন অনুষদ, একাডেমি, ইনস্টিটিউট, কেন্দ্র বা বিভাগ পরিদর্শন করিতে পারিবেন।

(৬) ভাইস-চ্যান্সেলর, সিন্ডিকেট, একাডেমিক কাউন্সিল এবং পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কমিটির সভা আহবান করিবেন ও সভাপতিত্ব করিবেন এবং সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।

(৭) ভাইস-চ্যান্সেলর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং শিক্ষার্থীদের উপর সাধারণ নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা প্রয়োগ করিবেন।

(৮) ভাইস-চ্যান্সেলর বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক, প্রশাসনিক ও আর্থিক শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য দায়ী থাকিবেন।

(৯) ভাইস-চ্যান্সেলর বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিল সংগ্রহ ও গঠনের উপর গুরুত্ব আরোপ করিবেন।

(১০) বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন কর্তৃপক্ষ বা সংস্থার সিদ্ধান্তের সহিত ভাইস-চ্যান্সেলর ঐকমত্য পোষণ না করিলে, তিনি তাহার দ্বিমত পোষণের কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া সিদ্ধান্তটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা সংস্থার নিকট পুনর্বিবেচনার জন্য ফেরত পাঠাইতে পারিবেন এবং যদি উক্ত কর্তৃপক্ষ বা সংস্থা পুনর্বিবেচনার পর ভাইস-চ্যান্সেলরের সহিত ঐকমত্য পোষণ না করেন, তাহা হইলে তিনি বিষয়টি সিদ্ধান্তের জন্য চ্যান্সেলরের নিকট প্রেরণ করিতে পারিবেন এবং এই ক্ষেত্রে চ্যান্সেলরের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হইবে।

(১১) বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার ক্ষেত্রে জরুরী পরিস্থিতির উদ্ভব হইলে এবং ভাইস-চ্যান্সেলরের বিবেচনায় তৎসম্পর্কে তাৎক্ষণিক কোন ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজনীয় বিবেচিত হইলে তিনি সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবেন এবং যে কর্তৃপক্ষ বা সংস্থা সাধারণত: বিষয়টি সম্পর্কে ব্যবস্থা গ্রহণ করিবার অধিকারপ্রাপ্ত সেই কর্তৃপক্ষ বা সংস্থাকে, যথাশীঘ্র সম্ভব, তদকর্তৃক গৃহীত ব্যবস্থা অবহিত করিবেন।

(১২) বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদিত বাজেট বাস্তবায়নে ভাইস-চ্যান্সেলর সার্বিক দায়িত্ব পালন করিবেন।

(১৩) ভাইস-চ্যান্সেলর তাহার বিবেচনায় প্রয়োজন মনে করিলে তাহার যে কোন ক্ষমতা বা দায়িত্ব, সিন্ডিকেটের অনুমোদনক্রমে, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন শিক্ষক বা কর্মকর্তাকে অর্পণ করিতে পারিবেন।

(১৪) এই আইন, সংবিধি, বিশ্ববিদ্যালয় বিধি ও প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত অন্যান্য ক্ষমতা ভাইস-চ্যান্সেলর প্রয়োগ করিবেন।

(১৫) প্রো-ভাইস চ্যান্সেলরের পদ শূন্য থাকিলে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রো-ভাইস চ্যান্সেলরের সকল ক্ষমতা প্রয়োগ করিবেন।
 
 
 
  ১৪। প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর নিয়োগ  
১৪। (১) চ্যান্সেলর প্রয়োজনবোধে, তদকর্তৃক নির্ধারিত শর্তে ও মেয়াদে মেরিটাইম শিক্ষা বিষয়ে সিলেকশন গ্রেডভুক্ত কোন অধ্যাপক বা বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কমোডর পদমর্যাদা সম্পন্ন কোন কর্মকর্তাকে ৪ (চার) বৎসর মেয়াদের জন্য প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর নিযুক্ত করিতে পারিবেন:

তবে শর্ত থাকে যে, কোন ব্যক্তি একাদিক্রমে বা অন্যভাবে দুই মেয়াদের বেশী সময়কালের জন্য প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর পদে নিয়োগলাভের যোগ্য হইবেন না।

(২) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, চ্যান্সেলর, প্রয়োজনবোধে, যে কোন সময় কারণ দর্শানো ব্যতিরেকে, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলরকে তাহার পদ হইতে অব্যাহতি প্রদান করিতে পারিবেন।

(৩) প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর সংবিধি ও বিশ্ববিদ্যালয় বিধি দ্বারা নির্ধারিত এবং ভাইস-চ্যান্সেলর কর্তৃক প্রদত্ত ক্ষমতা প্রয়োগ এবং দায়িত্ব পালন করিবেন।
 
 
 
  ১৫। ট্রেজারার  
১৫। (১) চ্যান্সেলর, তৎকর্তৃক নির্ধারিত শর্তে, ও মেয়াদে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কমোডর অথবা সিলেকশন গ্রেডভুক্ত কোন অধ্যাপক, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৫ (পনের) বৎসরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ১ (এক) জন অধ্যাপক অথবা আর্থিক ব্যবস্থাপনায় ১৫ (পনের) বৎসরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ১ (এক) জন ব্যক্তিকে ৪ (চার) বৎসর মেয়াদের জন্য ট্রেজারার নিযুক্ত করিবেন, ট্রেজারার বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ (এক) জন পূর্ণকালীন কর্মকর্তা হইবেন, এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক বিষয় তাহার নিয়ন্ত্রণে থাকিবে।

(২) ছুটি, অসুস্থতা বা অন্য কোন কারণে ট্রেজারারের পদ সাময়িকভাবে শূন্য হইলে সিন্ডিকেট অবিলম্বে চ্যান্সেলরকে তৎসম্পর্কে অবহিত করিবে এবং চ্যান্সেলর ট্রেজারারের কার্যাবলি সম্পাদনের জন্য যেইরূপ ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন বলিয়া মনে করিবেন সেইরূপ ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।

(৩) ট্রেজারার বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিলের সার্বিক তত্ত্বাবধান করিবেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ সংক্রান্ত নীতি সম্পর্কে ভাইস-চ্যান্সেলর, সংশ্লিষ্ট কমিটি, ইনস্টিটিউট ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে পরামর্শ প্রদান করিবেন।

(৪) ট্রেজারার, সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণ সাপেক্ষে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তি ও বিনিয়োগ পরিচালনা করিবেন এবং তিনি বার্ষিক বাজেট ও হিসাব-বিবরণী পেশ করিবার জন্য সিন্ডিকেটের নিকট দায়ী থাকিবেন।

(৫) যেই খাতের জন্য অর্থ মঞ্জুর বা বরাদ্দ করা হইয়াছে সেই খাতেই যেন উহা ব্যয় হয় তাহা দেখার জন্য ট্রেজারার, সিন্ডিকেট প্রদত্ত ক্ষমতা সাপেক্ষে, দায়ী থাকিবেন।

(৬) ট্রেজারার বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে অর্থ সংক্রান্ত সকল চুক্তিতে স্বাক্ষর করিবেন।

(৭) ট্রেজারার সংবিধি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি দ্বারা নির্ধারিত অন্যান্য ক্ষমতাও প্রয়োগ করিবেন।
 
 
 
  ১৬। রেজিস্ট্রার  
১৬। চ্যান্সেলর, তদ্‌কর্তৃক নির্ধারিত শর্তে ও মেয়াদে, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কমোডর পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা বা সমপদমর্যাদা সম্পন্ন বেসামরিক কোন কর্মকর্তাকে রেজিস্ট্রার হিসাবে নিয়োগ দান করিবেন। রেজিস্ট্রার বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক কর্মকর্তা হইবেন এবং তিনি—

(ক) সিন্ডিকেটের সদস্য হইবেন এবং একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করিবেন;

(খ) ভাইস-চ্যান্সেলর কর্তৃক তাহার হেফাজতে ন্যস্ত সকল গোপনীয় প্রতিবেদন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল রেকর্ডপত্র, দলিলপত্র ও সাধারণ সীলমোহর ইত্যাদি রক্ষণাবেক্ষণ করিবেন;

(গ) সংবিধি অনুসারে রেজিস্টার্ড গ্রাজুয়েটদের একটি রেজিস্টার রক্ষণাবেক্ষণ করিবেন;

(ঘ) সিন্ডিকেট কর্তৃক তাহার তত্ত্বাবধানে ন্যস্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল সম্পত্তির তত্ত্বাবধায়ক হইবেন;

(ঙ) বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল অফিস সংক্রান্ত চিঠিপত্রের আদান-প্রদান করিবেন;

(চ) অনুষদের ডিনদের সহিত তাহাদের প্ল্যান, প্রোগ্রাম ও সিডিউল সম্পর্কে যোগাযোগ রক্ষা করিবেন;

(ছ) সংবিধি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি দ্বারা নির্ধারিত বা একাডেমিক কাউন্সিল এবং সিন্ডিকেট কর্তৃক সময় সময় অর্পিত অথবা ভাইস-চ্যান্সেলর কর্তৃক প্রদত্ত অন্যান্য দায়িত্ব পালন করিবেন;

(জ) বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে অর্থ সংক্রান্ত চুক্তি ব্যতিত অন্যান্য সকল চুক্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে স্বাক্ষর করিবেন;

(ঝ) নিয়োগ ও তদবিষয়ক বিজ্ঞপ্তির জন্য দায়ী থাকিবেন;

(ঞ) বাছাই বোর্ড গঠন করা, বাছাই বোর্ড কর্তৃক সুপারিশকৃত নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিষয়ে সিন্ডিকেটের অনুমোদন গ্রহণ এবং নিয়োগপত্র জারি করিবার জন্য দায়ী থাকিবেন;

(ট) শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পদোন্নতির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুপারিশ অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করিবেন;

(ঠ) শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ব্যক্তিগত নথিপত্র রক্ষণাবেক্ষণ করিবেন;

(ড) বাৎসরিক গোপনীয় প্রতিবেদন ফর্ম সংগ্রহ, রক্ষণ ও বিতরণ করিবেন;

(ঢ) ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের জন্য সার্ভিস বুকের প্রচলন করিবেন এবং এন্ট্রিসমূহ নথিভুক্ত, লিপিবদ্ধকরণ ও হালনাগাদ করিবেন;

(ণ) সার্ভিস বুকের নিয়ম ভঙ্গকারি সকলের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন;

(ত) ক্রয় সংক্রান্ত বিষয়াবলি দরপত্র প্রক্রিয়াকরণ নিশ্চিত করিবেন;

(থ) ভান্ডারের রেজিস্টারে প্রয়োজনীয় এন্ট্রি এবং বিতরণ নিশ্চিত করিবেন;

(দ) সংশ্লিষ্ট সকলের প্রাপ্য ছুটির বিষয়ে সিদ্ধান্ত প্রদান করিবেন;

(ধ) বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পরিচালনার ক্ষেত্রে গতিশীলতা আনয়নের জন্য সমন্বয়কারী হিসাবে কাজ করিবেন;

(ন) ক্যাম্পাসের পরিচ্ছন্নতা এবং পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন;

(প) বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক নিরাপত্তা বিধান করিবেন;

(ফ) রেজিস্ট্রেশন কার্ড, মাইগ্রেশন কার্ড, ট্রান্সফার সার্টিফিকেট ইত্যাদি প্রদান এবং সংশ্লিষ্ট সকল নথিপত্র সংরক্ষণ করিবেন;

(ব) ভর্তি সংক্রান্ত নথিপত্র সংরক্ষণ করিবেন;

(ভ) মেকানিক্যাল ট্রান্সপোর্ট সেকশনের নির্বিঘ্ন কার্যকারিতা নিশ্চিত করিবেন; এবং

(ম) বক্তৃতা, হাতে কলমে প্রদর্শন, টিউটোরিয়াল, পরীক্ষাগারের কাজ, গবেষণা, ব্যক্তিগত পড়াশোনাসহ একাডেমিক শিক্ষকমন্ডলীর কাজের সময়সূচী ও ব্যক্তিগত পথ নির্দেশনার মাধ্যমে ছাত্রদের সহিত যোগযোগ স্থাপন এবং তাহাদের সহশিক্ষাক্রমিক কার্যাবলীর তদারকীর বিষয়ে ডিন ও বিভাগীয় প্রধানগণের সহিত যোগাযোগ রক্ষা করিবেন।
 
 
 
  ১৭। ডিন  
১৭। (১) ভাইস-চ্যান্সেলর, সিন্ডিকেটের অনুমোদনক্রমে, তদকর্তৃক নির্ধারিত শর্তে, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কমোডর বা সংশ্লিষ্ট ফ্যাকালটির সিলেকশন গ্রেডভুক্ত অধ্যাপক পদবীর কোন কর্মকর্তাকে, অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী, প্রত্যেক ফ্যাকালটির জন্য অন্যূন্য ৩ (তিন) বৎসর মেয়াদের জন্য একজন করে ডিন নিয়োগদান করিতে পারিবেন:

তবে শর্ত থাকে যে, কোন ডিন পর পর ২ (দুই) মেয়াদের জন্য নিযুক্ত হইতে পারিবেন না:

আরও শর্ত থাকে যে, কোন বিভাগে অধ্যাপক না থাকিলে সেই বিভাগের জ্যেষ্ঠতম সহযোগী অধ্যাপক ডিন পদে নিয়োগপ্রাপ্ত হইবেন এবং কোন বিভাগের ১ (এক) জন অধ্যাপক ডিনের দায়িত্ব পালন করিয়া থাকিলে ঐ বিভাগের পরবর্তী পালাসমূহে অবশিষ্ট অধ্যাপকগণ জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে ডিন পদে নিযুক্তির সুযোগ পাইবেন:

আরও শর্ত থাকে যে, একাধিক বিভাগে সমজ্যেষ্ঠ অধ্যাপক অথবা সহযোগী অধ্যাপক থাকিলে, সেই ক্ষেত্রে তাহাদের মধ্যে ডিন পদের আবর্তনক্রম ভাইস-চ্যান্সেলর কর্তৃক নির্দিষ্ট হইবে।

(২) ছুটি, অসুস্থতা বা অন্য কোন কারণে ডিনের পদ শূন্য হইলে ভাইস-চ্যান্সেলর ডিন পদের দায়িত্ব পালনের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।

(৩) শিক্ষা সম্বন্ধীয় যে কোন কমিটির যে কোন সভায় ডিনগণ উপস্থিত থাকিতে এবং সভার কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করিতে পারিবেন, তবে তিনি ঐ কমিটির সদস্য না হইলে তাহার ভোটাধিকার প্রয়োগ করিতে পারিবেন না।

(৪) ডিন, অনুষদ প্রধান হিসাবে, শিক্ষা সংক্রান্ত সকল বিষয় কার্যকর করিবার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন এবং তিনি—

(ক) তাহার অধীন সকল বিভাগের কার্যক্রম যথাযথ কার্যকর করিবার জন্য দায়ী থাকিবেন;

(খ) তাহার বিভাগের মাধ্যমে অধিভুক্ত সকল প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করিবেন;

(গ) একাডেমিক কাউন্সিল, সিন্ডিকেট ও ভাইস-চ্যান্সেলর হইতে প্রাপ্ত সকল আদেশ ও নির্দেশাবলী কার্যকর করিবার জন্য নিয়মিত বিরতির মাধ্যমে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করিবেন;

(ঘ) প্রয়োজনবোধে, পরীক্ষক, মডারেটর ও প্রশ্ন প্রণেতাদের পরিবর্তনের ব্যবস্থা করিতে পারিবেন;

(ঙ) অনুষদের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমের প্রধান হিসাবে নিয়োজিত থাকিবেন;
 
 
 
  ১৮। একাডেমি বা ইনস্টিটিউট পরিদর্শক  
১৮। (১) ভাইস-চ্যান্সেলর, সিন্ডিকেটের অনুমোদনক্রমে, তদ্‌কর্তৃক নির্ধারিত শর্তে, অধ্যাপক বা সমপদমর্যাদাসম্পন্ন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কোন কর্মকর্তাকে, অন্যূন ৩ (তিন) বৎসর মেয়াদের জন্য একাডেমি বা ইনস্টিটিউট পরিদর্শক হিসাবে নিয়োগ দান করিতে পারিবে।

(২) একাডেমি বা ইনস্টিটিউট পরিদর্শক একাডেমি বা ইনস্টিটিউট সম্পর্কিত বিষয়ের দায়িত্বে থাকিবেন এবং সংবিধি ও বিশ্ববিদ্যালয় বিধি দ্বারা নির্ধারিত অথবা ভাইস-চ্যান্সেলর কর্তৃক প্রদত্ত অন্যান্য দায়িত্ব পালন করিবেন।
 
 
 
  ১৯। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক  
১৯। (১) পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক—

(ক) পরীক্ষা পরিচালনার সহিত সম্পর্কিত সকল বিষয়ের দায়িত্বে থাকিবেন এবং সংবিধি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি দ্বারা নির্ধারিত এবং ভাইস-চ্যান্সেলর কর্তৃক প্রদত্ত অন্যান্য সকল দায়িত্ব পালন করিবেন;

(খ) সকল পরীক্ষা পরিচালনা করিবেন;

(গ) পরীক্ষার সময়সূচী নির্ধারণ এবং উহা যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থীকে অবহিত করিবার ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন;

(ঘ) পরীক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন, পরীক্ষার জন্য আবেদনপত্র গ্রহণ, রোল নম্বর বরাদ্দকরণ, প্রবেশপত্র জারি এবং উহা অধিভুক্ত একাডেমি বা প্রতিষ্ঠানসমূহের পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রেরণের ব্যবস্থা করিবেন;

(ঙ) পরীক্ষা গ্রহণের জন্য পরীক্ষা কমিটি গঠন এবং উহা অনুষদ সদস্যদেরকে অবহিত করিবার ব্যবস্থা করিবেন;

(চ) ভাইস-চ্যান্সেলরের সহিত আলোচনা সাপেক্ষে প্রশ্নপত্র প্রণেতা এবং মডারেটর নির্বাচন করিবেন;

(ছ) সকল প্রকার প্রশ্নপত্র প্রস্ত্তত, মডারেশন এবং মুদ্রণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করিবেন এবং প্রেস কর্তৃপক্ষের সহিত যোগাযোগ করিবেন;

(জ) পরীক্ষাসমূহ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য সকল প্রকার প্রশাসনিক কার্যক্রম গ্রহণ করিবেন;

(ঝ) বিষয় ভিত্তিক পরীক্ষকগণের নামের তালিকা প্রস্ত্তত করিবেন;

(ঞ) পরীক্ষার উত্তরপত্র সংগ্রহ এবং উহা পরীক্ষকগণের নিকট প্রেরণের ব্যবস্থা করিবেন;

(ট) মৌখিক এবং ব্যবহারিক পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ এবং নির্দিষ্ট তারিখে পরীক্ষা গ্রহণ নিশ্চিত করিবেন;

(ঠ) প্রধান পরীক্ষকের নিকট হইতে নম্বরপত্র সংগ্রহ করিবেন, টেবুলেটর নিয়োগ করিবেন এবং টেবুলেশন সম্পন্ন করিবার ব্যবস্থা করিবেন;

(ড) কম্পিউটার ইউনিট, রেজিস্ট্রেশন বিভাগ এবং অধিভুক্ত একাডেমি বা প্রতিষ্ঠানসমূহের সহিত প্রয়োজনীয় সমন্বয় সাধন করিবেন;

(ঢ) ফলাফল প্রকাশের পূর্বে উহা একাডেমিক কাউন্সিল এবং সিন্ডিকেটের নিকট উপস্থাপন করিবেন;

(ণ) নির্ধারিত সময়সূচী মোতাবেক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করিবেন এবং ফলাফলে যদি কোন ভুল পরিলক্ষিত হয় উহা সংশোধনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করিবেন;

(ত) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মাঝে সনদপত্র এবং প্রশংসাপত্র বিতরণ করিবেন;

(থ) পরীক্ষা বিষয়ক সকল প্রকার সভার প্রয়োজনীয় কর্মপত্র প্রস্ত্তত করিবেন;

(দ) সকল পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণের জন্য প্রয়োজনবোধে শিক্ষক ও কর্মকর্তাগণের সমন্বয়ে পরিদর্শন টিম গঠন করিবেন;

(ধ) পরীক্ষা সংক্রান্ত সকল অভিযোগের তদন্ত করিবেন;

(ন) বিশ্ববিদ্যালয় এবং অধিভুক্ত একাডেমি বা প্রতিষ্ঠানসমূহের বিভিন্ন কার্যালয়ের সহিত সমন্বয় সাধন করিবেন;


(প) পরীক্ষা সংক্রান্ত সকল সামগ্রী সংগ্রহ, গুদামজাতকরণ এবং বিতরণের নিশ্চয়তা বিধান করিবেন;

(ফ) উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণ সংক্রান্ত সকল দায়িত্ব পালন করিবেন; এবং

(ব) ভাইস-চ্যান্সেলর, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর, ট্রেজারার এবং ডিনের সকল প্রকার আইনানুগ আদেশ এবং নির্দেশাবলী পালন করিবেন।
 
 
 
  ২০। অন্যান্য কর্মকর্তা নিয়োগ, ক্ষমতা ও দায়িত্ব  
২০। বিশ্ববিদ্যালয়ের যে সকল কর্মকর্তার নিয়োগ পদ্ধতি, দায়িত্ব ও ক্ষমতা সম্পর্কে এই আইনের কোথাও উল্লেখ নাই, সিন্ডিকেট সংবিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে সেই সকল কর্মকর্তার নিয়োগ পদ্ধতি, দায়িত্ব ও ক্ষমতা নির্ধারণ করিবে।
 
 
 
  ২১। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ  
২১। বিশ্ববিদ্যালয়ে নিম্নবর্ণিত কর্তৃপক্ষ থাকিবে, যথা:—

(ক) সিনেট;

(খ) সিন্ডিকেট;

(গ) একাডেমিক কাউন্সিল;

(ঘ) অনুষদ;

(ঙ) পাঠক্রম কমিটি;

(চ) অর্থ কমিটি;

(ছ) পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও মূল্যায়ন কমিটি;

(জ) বাছাই বোর্ড;

(ঝ) শৃঙ্খলা কমিটি;

(ঞ) বোর্ড অব এডভ্যান্সড স্টাডিজ এন্ড রিসার্চ; এবং


(ট) সংবিধি মোতাবেক গঠিত অন্যান্য কর্তৃপক্ষ।
 
 
 
  ২২। সিনেট  
২২। (১) বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা প্রণয়ন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী হইবে সিনেট।

(২) নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে সিনেট গঠিত হইবে, যথা:—

(ক) ভাইস-চ্যান্সেলর, যিনি উহার চেয়ারম্যানও হইবেন;

(খ) বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান কর্তৃক মনোনীত একজন পূর্ণকালীন সদস্য;

(গ) সচিব, শিক্ষা মন্ত্রণালয় অথবা তদকর্তৃক মনোনীত অন্যূন যুগ্ম-সচিব পদমর্যাদাসম্পন্ন ১ (এক) জন প্রতিনিধি;

(ঘ) সচিব, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অথবা তদকর্তৃক মনোনীত অন্যূন যুগ্ম-সচিব পদমর্যাদাসম্পন্ন ১ (এক) জন প্রতিনিধি;

(ঙ) সচিব, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় অথবা তদকর্তৃক মনোনীত অন্যূন যুগ্ম-সচিব পদমর্যাদাসম্পন্ন ১ (এক) জন প্রতিনিধি;

(চ) সচিব, নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় অথবা তদকর্তৃক মনোনীত অন্যূন যুগ্ম-সচিব পদমর্যাদাসম্পন্ন ১ (এক) জন প্রতিনিধি;

(ছ) সচিব, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় অথবা তদকর্তৃক মনোনীত অন্যূন যুগ্ম-সচিব পদমর্যাদাসম্পন্ন ১ (এক) জন প্রতিনিধি;

(জ) প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর;

(ঝ) মহাপরিচালক, সমূদ্র পরিবহন অধিদপ্তর;

(ঞ) নৌ-বাহিনী প্রধান কর্তৃক মনোনীত রিয়াল এডমিরাল পদমর্যাদার ১ (এক) জন প্রতিনিধি;

(ট) মহাপরিচালক, বাংলাদেশ কোস্টগার্ড;

(ঠ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন;

(ড) চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ (এক) জন অধ্যাপক;

(ঢ) ট্রেজারার;

(ণ) অনুষদসমূহের ডিন;

(ত) অঙ্গীভূত বা অধিভুক্ত কলেজ, একাডেমি, ইনস্টিটিউট বা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণের মধ্য হইতে সরকার কর্তৃক মনোনীত ১ (এক) জন প্রতিনিধি;

(থ) চেয়ারম্যান, নটিক্যাল ইনস্টিটিউট (এনআই লন্ডন) এর বাংলাদেশ শাখা;

(দ) চেয়ারম্যান, ইনস্টিটিউট অব মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং, সাইন্স এন্ড টেকনোলজি (ইমারেস্ট-লন্ডন) এর বাংলাদেশ শাখা;

(ধ) বিশ্ববিদ্যালয়ের নিবন্ধিত অ্যালামনাই এসোসিয়েশনের ২ (দুই) জন প্রতিনিধি;

(ন) রেজিস্ট্রার, যিনি সিনেটের সাচিবিক দায়িত্ব পালন করিবেন।

(৩) সিনেটে মনোনীত সদস্যগণ প্রত্যেকে তাঁহার মনোনয়নের তারিখ হইতে ৩ (তিন) বৎসর মেয়াদে স্বীয় পদে বহাল থাকিবেন।

(৪) সিনেটের কোন সদস্য যে পদ বা প্রতিষ্ঠান হইতে মনোনীত হইয়াছিলেন তিনি যদি সেই পদ বা প্রতিষ্ঠানে না থাকেন তাহা হইলে তিনি সিনেটের সদস্য পদে অধিষ্ঠিত থাকিবেন না।
 
 
 
  ২৩। সিনেটের সভা  
২৩। (১) সিনেট চেয়ারম্যানের অনুমোদনক্রমে, বৎসরে অন্যূন ০১ (এক) বার, সিনেটের বার্ষিক সভা অনুষ্ঠিত হইবে:

তবে শর্ত থাকে যে, সিনেট চেয়ারম্যান শিক্ষাবর্ষের যে কোন সময় সিনেটের বিশেষ সভা আহবান করিতে পারিবেন।

(২) সিনেটের সকল সভায় উহার চেয়ারম্যান সভাপতিত্ব করিবেন, তবে চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে, তদকর্তৃক অনুমোদিত হইলে সিনেটের অপর কোন সদস্য সিনেটের সভায় সভাপতিত্ব করিতে পারিবেন।

(৩) কোরাম গঠনের জন্য, সভার সভাপতিসহ, সদস্যবৃন্দের অন্যূন ৬০ (ষাট) শতাংশ সদস্যের উপস্থিতির প্রয়োজন হইবে।
 
 
 
  ২৪। সিনেটের ক্ষমতা ও দায়িত্ব  
২৪। এই আইন ও মঞ্জুরী কমিশন আদেশের বিধানাবলি সাপেক্ষে, সিনেট—

(ক) সিন্ডিকেট কর্তৃক প্রস্তাবিত সংবিধি অনুমোদন, সংশোধন ও বাতিল করিতে পারিবে;

(খ) সিন্ডিকেট কর্তৃক পেশকৃত প্রস্তাব, বার্ষিক প্রতিবেদন, বার্ষিক হিসাব ও বার্ষিক সম্ভাব্য ব্যয়ের প্রস্তাব বিবেচনাক্রমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিবে;এবং

(গ) এই আইন বা সংবিধি দ্বারা অর্পিত অন্যান্য ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করিবে।
 
 
 
  ২৫। সিন্ডিকেট  
২৫। (১) নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে সিন্ডিকেট গঠিত হইবে, যথা:—

(ক) ভাইস-চ্যান্সেলর, যিনি উহার সভাপতিও হইবেন;

(খ) প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর;

(গ) বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন কর্তৃক মনোনীত পূর্ণকালীন সদস্য পদমর্যাদার ১ (এক) জন প্রতিনিধি;

(ঘ) ট্রেজারার;

(ঙ) শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক মনোনীত অন্যূন যুগ্ম-সচিব পদমর্যাদা সম্পন্ন ১ (এক) জন প্রতিনিধি;

(চ) নৌ-পরিবহণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক মনোনীত অন্যূন যুগ্ম-সচিব পদমর্যাদা সম্পন্ন ১ (এক) জন প্রতিনিধি;

(ছ) প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক মনোনীত অন্যূন যুগ্ম-সচিব পদমর্যাদা সম্পন্ন ১ (এক) জন প্রতিনিধি;

(জ) লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ কর্তৃক মনোনীত অন্যূন যুগ্ম-সচিব পদমর্যাদা সম্পন্ন ১ (এক) জন প্রতিনিধি;

(ঝ) জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ বিভাগ কর্তৃক মনোনীত অন্যূন যুগ্ম-সচিব পদমর্যাদাসম্পন্ন ১ (এক) জন প্রতিনিধি;

(ঞ) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় কর্তৃক মনোনীত অন্যূন যুগ্ম-সচিব পদমর্যাদাসম্পন্ন ১ (এক) জন প্রতিনিধি;

(ট) ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন;

(ঠ) বাংলাদেশ নৌ-বাহিনী কর্তৃক মনোনীত অন্যূন কমোডর পদমর্যাদা সম্পন্ন ১ (এক) জন প্রতিনিধি;

(ড) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর কর্তৃক মনোনীত ১ (এক) জন প্রতিনিধি (অধ্যাপক পদমর্যাদার নীচে নয়);

(ঢ) চ্যান্সেলর কর্তৃক মনোনীত ২ (দুই) জন বিশিষ্ট মেরিন প্রফেশনাল;

(ণ) সিন্ডিকেট কর্তৃক মনোনীত ১ (এক) জন ডিন;

(ত) আঞ্চলিক কমান্ডার, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড;

(থ) চেয়ারম্যান, নটিক্যাল ইনস্টিটিউট [এনআই - লন্ডন] এর বাংলাদেশ শাখা;

(দ) চেয়ারম্যান, ইনস্টিটিউট অব মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং, সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজি [ইমারেস্ট- লন্ডন] এর বাংলাদেশ শাখা;

(ধ) সভাপতি, বাংলাদেশ ওশ্যান-গোয়িং শিপওনার্স অ্যাসোসিয়েশন;

(ন) ভাইস-চ্যান্সেলর কর্তৃক মনোনীত অধিভুক্ত বা অঙ্গীভূত, একাডেমি, ইনস্টিটিউট বা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণের মধ্য হইতে ২ (দুই) জন প্রতিনিধি;

(প) একাডেমিক কাউন্সিল কর্তৃক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকগণের মধ্য হইতে মনোনীত ২ (দুই) জন প্রতিনিধি; এবং

(ফ) রেজিস্ট্রার, যিনি সিন্ডিকেটের সাচিবিক দায়িত্ব পালন করিবেন।

(২) সিন্ডিকেট কর্তৃক মনোনীত সদস্যগণ প্রত্যেকে তাঁহার মনোনয়নের তারিখ হইতে ২ (দুই) বৎসর মেয়াদে স্বীয় পদে বহাল থাকিবেন।

(৩) সিন্ডিকেটের কোন সদস্য পদত্যাগ করিতে চাহিলে যে কোন সময় সভাপতিকে সম্বোধন করিয়া তাহার স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে পারিবেন।

(৪) সিন্ডিকেটের কোন সদস্য যে পদ বা প্রতিষ্ঠান হইতে মনোনীত হইয়াছিলেন তিনি যদি সেই পদ বা প্রতিষ্ঠানে না থাকেন তাহা হইলে তিনি সিন্ডিকেটের সদস্য পদে অধিষ্ঠিত থাকিবেন না।
 
 
 
  ২৬। সিন্ডিকেটের সভা  
২৬। (১) এই ধারার অন্যান্য বিধান সাপেক্ষে সিন্ডিকেট উহার সভার কার্য পদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে।

(২) সিন্ডিকেটের সভা ভাইস চ্যান্সেলর কর্তৃক নির্ধারিত তারিখ, স্থান ও সময়ে অনুষ্ঠিত হইবেঃ

তবে শর্ত থাকে যে, প্রতি ০৩ (তিন) মাসে সিন্ডিকেটের কমপক্ষে একটি সভা অনুষ্ঠিত হইবে।

(৩) সভাপতি যখনই উপযুক্ত মনে করিবেন তখনই সিন্ডিকেটের বিশেষ সভা আহবান করিতে পারিবেন।

(৪) কোরাম গঠনের জন্য, সভার সভাপতিসহ, সদস্যবৃন্দের অন্যূন ৫০ (পঞ্চাশ) শতাংশ সদস্যের উপস্থিতির প্রয়োজন হইবে।
 
 
 
  ২৭। সিন্ডিকেটের ক্ষমতা ও দায়িত্ব  
২৭। (১) এই আইন ও মঞ্জুরী কমিশন আদেশের বিধানাবলি সাপেক্ষে, সিন্ডিকেট বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাহী সংস্থা হইবে এবং এই আইন ও ভাইস-চ্যান্সেলরের উপর অর্পিত ক্ষমতা সাপেক্ষে, বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যাবলী, সংস্থাসমূহ এবং সম্পত্তির উপর সাধারণ ব্যবস্থাপনা, রক্ষণাবেক্ষণ ও তত্ত্বাবধানের ক্ষমতা থাকিবে, এবং এই আইন, সংবিধি, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি ও প্রবিধি যথাযথভাবে পালিত হইতেছে কিনা তাহার প্রতি লক্ষ্য রাখিবে।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রয়োগযোগ্য ক্ষমতা ও সামগ্রিকতাকে ক্ষুন্ন না করিয়া সিন্ডিকেট বিশেষত:—

(ক) সিনেটের ও চ্যান্সেলরের অনুমোদন সাপেক্ষে, সংবিধি প্রণয়ন, সংশোধন বা বাতিল করিবে;

(খ) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ও কার্যধারা সম্পর্কে নীতিমালা প্রণয়ন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিবে;


(গ) বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক প্রতিবেদন, বার্ষিক হিসাব ও বার্ষিক বাজেটের প্রস্তাব বিবেচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিবে;


(ঘ) বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক প্রয়োজন নিরূপন, সম্পত্তি অর্জন, আহরণ ও তহবিল সংগ্রহ করিবে এবং উহা নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করিবে;

(ঙ) অর্থ সংক্রান্ত বিষয়ে অর্থ কমিটির পরামর্শ বিবেচনা করিবে;

(চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ সীলমোহরের আকার ও প্রকৃতি নির্ধারণ এবং উহার হেফাজতের ব্যবস্থা ও ব্যবহার পদ্ধতি নিরূপণ করিবে;

(ছ) বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন বাবদ প্রকল্প গ্রহণ এবং সরকারের নিকট অর্থ বরাদ্দের সুপারিশ করিবে;

(জ) সাধারণ বা বিশেষ উদ্দেশ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাপ্ত সকল তহবিল পরিচালনা করিবে;

(ঝ) এই আইন বা সংবিধিতে অন্য কোন বিধান না থাকিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও অন্যান্য কর্মচারী নিয়োগ ও তাহাদের দায়িত্ব ও চাকুরীর শর্তাবলী নির্ধারণ করিবে;

(ঞ) বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন বিশেষায়িত বিষয়ে শিক্ষককে আকৃষ্ট করিতে বিশেষ ভাতা প্রদানের জন্য মন্ত্রণালয়ের নিকট সুপারিশ প্রেরণ করিবে;

(ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে উইল, দান এবং অন্যবিধভাবে হস্তান্তরকৃত স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি গ্রহণ করিবে;


(ঠ) একাডেমিক কাউন্সিলের সুপারিশক্রমে সরকার ও মঞ্জুরী কমিশনের অনুমোদন সাপেক্ষে, নূতন শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম, প্রাগ্রসর (advanced) শিক্ষা কেন্দ্র স্থাপন, আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক নূতন শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কার্যক্রম চালু বা বন্ধ এবং পুরাতন কার্যক্রম বাতিল করিতে পারিবে;

(ড) সংবিধি দ্বারা প্রদত্ত অন্য যে কোন দায়িত্ব পালন ও ক্ষমতা প্রয়োগ করিতে পারিবে;

(ঢ) বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠান এবং উহার ফলাফল প্রকাশের ব্যবস্থা করিবে;

(ণ) এই আইন দ্বারা অর্পিত ভাইস-চ্যান্সেলরের ক্ষমতাবলী সাপেক্ষে এই আইন, সংবিধি এবং বিশ্ববিদ্যালয় বিধির বিধান অনুসারে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহিত সংশ্লিষ্ট সকল বিষয় নিয়ন্ত্রণ ও নির্ধারণ করিবে;

(ত) বিভাগ, একাডেমি, ইনস্টিটিউট ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের ব্যবস্থা করিবে অথবা পরিদর্শনের নির্দেশ দিবে;

(থ) এই আইন, মঞ্জুরী কমিশন আদেশ ও সংবিধির বিধান সাপেক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় বিধি প্রণয়ন করিবে;

(দ) সংবিধি অনুসারে এবং একাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেটের সুপারিশক্রমে সরকার ও মঞ্জুরী কমিশনের পূর্বানুমতি ও বাজেটে বরাদ্দ সাপেক্ষে অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক, প্রভাষক এবং অন্যান্য শিক্ষক ও গবেষকের পদসৃষ্টি, বিলোপ বা সাময়িকভাবে স্থগিত করিতে পারিবে;

(ধ) সংবিধি অনুসারে এবং একাডেমিক কাউন্সিলের সুপারিশ অনুযায়ী মঞ্জুরী কমিশনের পূর্ব অনুমোদন লইয়া নূতন বিভাগ প্রতিষ্ঠা এবং শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি করিবে;

(ন) সংবিধি অনুসারে এবং একাডেমিক কাউন্সিলের সুপারিশ অনুযায়ী কোন বিভাগ বা ইনস্টিটিউট বিলোপ বা সাময়িকভাবে স্থগিত করিবে;

(প) সংবিধি অনুসারে এবং একাডেমিক কাউন্সিলের সুপারিশ অনুযায়ী কোন পন্ডিত ব্যক্তিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরূপে স্বীকৃতি প্রদান করিবে;

(ফ) প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত শর্ত সাপেক্ষে এবং ভাইস-চ্যান্সেলরের সুপারিশক্রমে করণিক ও অন্যান্য কর্মচারী নিয়োগের বিষয়ে উহার ক্ষমতা কোন নির্ধারিত ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষকে অর্পণ করিবে;


(ব) ভাইস-চ্যান্সেলর, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর ও ট্রেজারার ব্যতীত বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ, তাহাদের দায়িত্ব ও চাকুরীর শর্তাবলী নির্ধারণ এবং তাহাদের কোন পদ স্থায়ীভাবে শূন্য হইলে সেই পদ পূরণ করিতে এবং কোন পন্ডিত ব্যক্তিকে শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে তাহার বিশেষ অবদানের জন্য মেধা ও মনীষার স্বীকৃতি হিসাবে পুরস্কৃত করিতে পারিবে;

(ভ) নিজস্ব উৎস হইতে প্রাপ্ত আয়ের সহিত সামঞ্জস্য রাখিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট বিবেচনা ও অনুমোদন করিবে;

(ম) সংবিধি ও এই আইন দ্বারা তদপ্রতি অর্পিত বা আরোপিত অন্যান্য ক্ষমতা প্রয়োগ এবং দায়িত্ব পালন করিবে; এবং

(য) বিশ্ববিদ্যালয়ের এইরূপ অন্যান্য ক্ষমতা প্রয়োগ করিবে, যাহা এই আইন বা সংবিধির অধীন অন্য কোন কর্তৃপক্ষকে প্রদত্ত নহে।
 
 
 
  ২৮। একাডেমিক কাউন্সিল  
২৮। (১) নিম্নবর্ণিত সদস্যগণের সমন্বয়ে একাডেমিক কাউন্সিল গঠিত হইবে, যথা:—

(ক) ভাইস-চ্যান্সেলর, যিনি উহার সভাপতিও হইবেন;

(খ) প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর;

(গ) অনুষদসমূহের ডিন;

(ঘ) সকল বিভাগের বিভাগীয় প্রধানগণ;

(ঙ) একাডেমি, ইনস্টিটিউট বা কেন্দ্র সমূহের প্রধানগণ;

(চ) প্রক্টর;

(ছ) বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭ (সাত) জন অধ্যাপক যাহারা ভাইস-চ্যান্সেলর কর্তৃক জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে মনোনীত হইবেন;

(জ) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর কর্তৃক মনোনীত উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ (এক) জন অধ্যাপক;

(ঝ) চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর কর্তৃক মনোনীত উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ (এক) জন অধ্যাপক;

(ঞ) বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারিক;

(ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষকগণের মধ্য হইতে ভাইস-চ্যান্সেলর কর্তৃক জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে ১ (এক) জন সহযোগী অধ্যাপক, ১ (এক) জন সহকারী অধ্যাপক ও ১ (এক) জন প্রভাষক মনোনীত হইবেন;

(ঠ) পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক; এবং

(ড) রেজিস্ট্রার, যিনি একাডেমিক কাউন্সিলের সচিবও হইবেন।


(২) একাডেমিক কাউন্সিলের মনোনীত সদস্যগণ তাহাদের মনোনয়নের তারিখ হইতে ২ (দুই) বৎসর মেয়াদে স্বীয় পদে বহাল থাকিবেন:

তবে শর্ত থাকে যে, কোন সদস্য যে কোন সময় সভাপতিকে সম্বোধন করিয়া তাহার স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে পারিবেন।

(৩) একাডেমিক কাউন্সিলের কোন মনোনীত সদস্য মেয়াদ শেষ হওয়া সত্ত্বেও তাহার স্থলাভিষিক্ত ব্যক্তি কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্বীয় পদে বহাল থাকিবেন:

তবে শর্ত থাকে যে, যে পদ বা প্রতিষ্ঠান হইতে তিনি মনোনীত হইয়াছিলেন সেই পদ বা প্রতিষ্ঠানে যদি না থাকেন, তাহা হইলে একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য পদেও অধিষ্ঠিত থাকিতে পারিবেন না।
 
 
 
  ২৯। একাডেমিক কাউন্সিলের ক্ষমতা ও দায়িত্ব  
২৯। (১) একাডেমিক কাউন্সিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা বিষয়ক প্রধান সংস্থা হইবে এবং এই আইন, সংবিধি ও বিশ্ববিদ্যালয় বিধির বিধান সাপেক্ষে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল একাডেমিক কার্যক্রমের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নির্ধারণ, একাডেমিক বর্ষসূচী ও তদ্‌সম্পর্কিত পরিকল্পনা প্রণয়ন, শিক্ষা প্রশিক্ষণ ও পরীক্ষার মান নির্ধারণ ও সংরক্ষণের জন্য দায়ী থাকিবে এবং এই সকল বিষয়ের উপর উহার নিয়ন্ত্রণ ও তত্ত্বাবধান ক্ষমতা থাকিবে।

(২) একাডেমিক কাউন্সিল, এই আইন, মঞ্জুরী কমিশন আদেশ, সংবিধি, ভাইস-চ্যান্সেলর এবং সিন্ডিকেটের ক্ষমতা সাপেক্ষে, শিক্ষাক্রম (curriculum) ও পাঠক্রম (syllabus) এবং শিক্ষাদান, গবেষণা ও পরীক্ষার সঠিক মান নির্ধারণের জন্য প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে।

(৩) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত সামগ্রিক ক্ষমতার আওতায় একাডেমিক কাউন্সিলের নিম্নরূপ ক্ষমতাও অন্তর্ভুক্ত থাকিবে, যথা:—

(ক) আন্তর্জাতিক চাহিদা ও দেশের আর্থ সামাজিক চাহিদার সহিত সঙ্গতি রাখিয়া মঞ্জুরী কমিশনের অনুমোদনক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠক্রম প্রণয়ন করা;

(খ) সার্বিকভাবে শিক্ষা সংক্রান্ত সকল বিষয়ে সিন্ডিকেটকে পরামর্শ দান করা;

(গ) শিক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে বিধান প্রণয়নের জন্য সিন্ডিকেটের নিকট প্রস্তাব পেশ করা;

(ঘ) গবেষণায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের নিকট হইতে রিপোর্ট তলব করা এবং তৎসম্পর্কে সিন্ডিকেটের নিকট সুপারিশ করা;

(ঙ) বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগ এবং পাঠক্রম কমিটিসমূহ গঠনের জন্য সিন্ডিকেটের নিকট প্রস্তাব পেশ করা;

(চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপনা ও গবেষণার মান উন্নয়নের ব্যবস্থা করা;

(ছ) সিন্ডিকেটের অনুমোদন সাপেক্ষে এবং অনুষদের সুপারিশক্রমে, সকল পরীক্ষার প্রতিটি পত্রের পাঠ্যসূচী ও পাঠক্রম এবং পঠন ও গবেষণার সীমারেখা নির্ধারণ করা:

তবে শর্ত থাকে যে, একাডেমিক কাউন্সিল কেবলমাত্র অনুষদের সুপারিশমালা গ্রহণ, পরিমার্জন, অগ্রাহ্য বা ফেরত প্রদান করিতে পারিবে এবং প্রয়োজনবোধে পরিবর্তন, পরিবর্ধন বা সংশোধনের জন্য অনুষদের নিকট ফেরত পাঠাইতে পারিবে:

আরও শর্ত থাকে যে, অনুষদ কর্তৃক গৃহীত বিভাগীয় পাঠক্রম কমিটির কোন সিদ্ধান্তের সহিত একাডেমিক কাউন্সিল একমত না হইলে বিষয়টি সিন্ডিকেটের নিকট প্রেরণ করা হইবে এবং এই বিষয়ে সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হইবে।

(জ) এম. ফিল বা ডক্টরেট ডিগ্রির জন্য কোন প্রার্থী থিসিসের জন্য কোন প্রস্তাব করিলে সংবিধি (যদি থাকে) অনুসারে, সে সম্পর্কে সিদ্ধান্ত প্রদান করা;

(ঝ) অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুরূপ পরীক্ষার সমমান সম্পন্ন হইলে সেইরূপ সমমান সম্পন্ন হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়া;

(ঞ) বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপনা ও গবেষণার ক্ষেত্রে নূতন কোন উন্নয়ন প্রস্তাবের উপর সিন্ডিকেটকে পরামর্শ দেওয়া;

(ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার ব্যবহার সংক্রান্ত প্রবিধান প্রণয়ন এবং গ্রন্থাগার সুষ্ঠু পরিচালনার উদ্দেশ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা;

(ঠ) বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা উন্নয়নের সুপারিশ করা এবং ইহার নিকট প্রেরিত শিক্ষা সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয়ে সিন্ডিকেটকে পরামর্শ দান করা;

(ড) নূতন অনুষদ প্রতিষ্ঠা এবং কোন অনুষদ, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা বিষয়ক যাদুঘরে নূতন বিষয় প্রবর্তনের জন্য প্রস্তাব সিন্ডিকেটের বিবেচনার জন্য পেশ করা;


(ঢ) অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক, প্রভাষক, অন্যান্য শিক্ষক বা গবেষকের পদ সৃষ্টি, বিলোপ বা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার প্রস্তাব বিবেচনা করা এবং তদ্‌সম্পর্কে সিন্ডিকেটের নিকট সুপারিশ করা;

(ণ) ডিগ্রি, সার্টিফিকেট, ডিপ্লোমা, বৃত্তি, ফেলোশীপ, স্কলারশীপ, স্টাইপেন্ড, পুরস্কার, পদক ইত্যাদি প্রদানের উদ্দেশ্যে বিধান প্রণয়ন এবং উপযুক্ত ব্যক্তিকে তাহা প্রদানের জন্য সিন্ডিকেটের নিকট সুপারিশ করা;

(ত) শিক্ষকগণের প্রশিক্ষণ ও কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত নীতি নির্ধারণ বিষয়ে সিন্ডিকেটের নিকট প্রস্তাব পেশ এবং প্রশিক্ষণ ও ফেলোশীপ প্রদানের বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করা;

(থ) সংশ্লিষ্ট কমিটিসমূহের সুপারিশক্রমে কোর্স ও সিলেবাস নির্ধারণ, প্রত্যেক কোর্সের জন্য পরীক্ষক প্যানেল অনুমোদন, গবেষণা ডিগ্রির জন্য গবেষণার প্রতিটি বিষয়ের প্রস্তাব অনুমোদন এবং এইরূপ প্রত্যেক বিষয়ে পরীক্ষা গ্রহণের জন্য পরীক্ষক নিয়োগ করা;

(দ) কোন ছাত্র বা পরীক্ষার্থীকে কোন কোর্স মওকুফ (exemption) বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা;

(ধ) বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও অনুষদের গুণগত উৎকর্ষ বৃদ্ধি ও তাহা সংরক্ষণ করিবার লক্ষ্যে প্রবিধান প্রণয়ন এবং দেশ বিদেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চ শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সহিত যোগসূত্র বা যৌথ কার্যক্রম গ্রহণ করিবার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা; এবং

(ন) বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে ছাত্র ভর্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করা, ভর্তির যোগ্যতা ও শর্তাবলী নির্ধারণ এবং তদুদ্দেশ্যে পরীক্ষা গ্রহণের ব্যবস্থা করা।

(৪) একাডেমিক কাউন্সিল সংবিধি দ্বারা নির্ধারিত এবং সিন্ডিকেট কর্তৃক প্রদত্ত শিক্ষা বিষয়ক অন্যান্য দায়িত্ব পালন ও ক্ষমতা প্রয়োগ করিবে।
 
 
 
  ৩০। অনুষদ  
৩০। (১) একাডেমিক কাউন্সিলের সুপারিশক্রমে এবং সিন্ডিকেটের অনুমোদন সাপেক্ষে নির্ধারিত বিষয়সমূহের সমন্বয়ে এক বা একাধিক অনুষদ গঠিত হইবে।

(২) একাডেমিক কাউন্সিলের নিয়ন্ত্রণ সাপেক্ষে প্রত্যেক অনুষদ সংবিধি ও বিশ্ববিদ্যালয় বিধি দ্বারা নির্দিষ্ট বিষয়ে শিক্ষা কার্য ও গবেষণা পরিচালনার দায়িত্বে থাকিবে।

(৩) অনুষদের গঠন, ক্ষমতা ও কার্যাবলী, সংবিধি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।

(৪) প্রত্যেক অনুষদে ১ (এক) জন করিয়া ডিন থাকিবেন এবং তিনি ভাইস-চ্যান্সেলরের নিয়ন্ত্রণ ও সাধারণ তত্ত্বাবধান সাপেক্ষে, অনুষদ সম্পর্কিত সংবিধি বিশ্ববিদ্যালয় বিধি ও প্রবিধান যথাযথভাবে পালনের জন্য দায়ী থাকিবেন।
 
 
 
  ৩১। একাডেমি, ইনস্টিটিউট, কেন্দ্র বা অনুরূপ প্রতিষ্ঠান  
৩১। (১) বিশ্ববিদ্যালয় প্রয়োজনবোধে, মঞ্জুরী কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে চ্যান্সেলর কর্তৃক অনুমোদন সাপেক্ষে, মেরিটাইম বিষয়ক গবেষণা কার্য পরিচালনাসহ কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে উচ্চতর শিক্ষা ও গবেষণার জন্য সংবিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে উহার অঙ্গীভূত একাডেমি, ইনস্টিটিউট, কেন্দ্র হিসাবে এক বা একাধিক ইনস্টিটিউট স্থাপন করিতে পারিবে বা ক্ষেত্রমত, উক্ত বিষয় সংশ্লিষ্ট কোন ইনস্টিটিউটকে অধিভুক্ত করিতে পারিবে।

(২) প্রতিটি একাডেমি, ইনস্টিটিউট বা কেন্দ্র পরিচালনার জন্য ১ (এক) জন পরিচালকসহ পৃথক বোর্ড অব গভর্ণরস থাকিবে যাহা সংবিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
 
 
 
  ৩২। বিভাগ  
৩২। (১) বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষাদান করা হয় এমন একটি বিষয়ের সকল শিক্ষকের সমম্বয়ে একটি বিভাগ গঠিত হইবে।

(২) বিভাগীয় অধ্যাপকদের মধ্য হইতে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে পালাক্রমে ৩ (তিন) বৎসর মেয়াদে ভাইস-চ্যান্সেলর কর্তৃক বিভাগীয় প্রধান নিযুক্ত হইবেন।

(৩) যদি কোন বিভাগে অধ্যাপক না থাকেন তাহা হইলে ভাইস-চ্যান্সেলর সহযোগী অধ্যাপকের মধ্যে হইতে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে পালাক্রমে ১ (এক) জনকে বিভাগীয় প্রধান নিযুক্ত করিবেন:

তবে শর্ত থাকে যে, সহযোগী অধ্যাপকের নিম্নের কোন শিক্ষককে বিভাগীয় প্রধান পদে নিযুক্ত করা যাইবে না:

আরও শর্ত থাকে যে, অন্যূন সহযোগী অধ্যাপক পদমর্যাদার কোন শিক্ষক কোন বিভাগে কর্মরত না থাকিলে, সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রবীণতম শিক্ষক উহার প্রধান হইবেন।

ব্যাখ্যা: এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে পদবী ও পদমর্যাদার ভিত্তিতে জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ করা হইবে এবং কোন ক্ষেত্রে পদবী ও পদমর্যাদা সমান হইলে সমপদে চাকুরীকালে দীর্ঘতার ভিত্তিতে জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ করা হইবে।

(৪) ডিনের সাধারণ তত্ত্বাবধানে বিভাগীয় প্রধান বিভাগের অন্যান্য সদস্যগণের সহযোগিতায় সংশ্লিষ্ট বিভাগের কার্য পরিকল্পনা ও সমন্বয় সাধনের জন্য দায়ী থাকিবে।


(৫) একাডেমিক কাউন্সিল এবং ভাইস-চ্যান্সেলর কর্তৃক সময় সময় প্রদত্ত নির্দেশ সাপেক্ষে, বিভাগীয় প্রধান তাহার বিভাগে শিক্ষাদান ও গবেষণা সংগঠন ও পরিচালনার জন্য ডিনের নিকট দায়ী থাকিবেন।

(৬) বিভাগীয় প্রধান সংবিধি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি দ্বারা নির্ধারিত ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করিবেন।
 
 
 
  ৩৩। পাঠক্রম কমিটি  
৩৩। প্রত্যেক অনুষদে সংবিধি দ্বারা নির্ধারিত পাঠক্রম কমিটি থাকিবে।
 
 
 
  ৩৪। বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিল  
৩৪। (১) বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি তহবিল থাকিবে এবং উহাতে নিম্নবর্ণিত অর্থ জমা হইবে, যথা:—

(ক) সরকার ও মঞ্জুরী কমিশন কর্তৃক প্রদত্ত অনুদান;

(খ) প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী কর্তৃক প্রদত্ত অনুদান;

(গ) বৃত্তিদান তহবিল (এনডাওমেন্ট) ফান্ড;

(ঘ) ছাত্র-ছাত্রী কর্তৃক প্রদত্ত বেতন, ফিস, ইত্যাদি;

(ঙ) বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তি হইতে প্রাপ্ত ও পরিচালন উৎসারিত আয়;

(চ) বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক অন্যান্য উৎস হইতে প্রাপ্ত অর্থ;

(ছ) সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, কোন বিদেশী সংস্থা, ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান হইতে প্রাপ্ত অনুদান;

(জ) স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, প্রতিষ্ঠান, কোম্পানী বা ব্যক্তি কর্তৃক প্রদত্ত অনুদান;

(ঝ) বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক গৃহীত ঋণ; এবং


(ঞ) বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ বিনিয়োগ হইতে প্রাপ্ত আয় বা মুনাফা।

(২) এই তহবিলের অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে তদকর্তৃক অনুমোদিত কোন তফসিলী ব্যাংকে জমা রাখা হইবে এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রবিধান অনুযায়ী নির্ধারিত পদ্ধতিতে এই তহবিল হইতে অর্থ উত্তোলন করা যাইবে।

(৩) এই তহবিল হইতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয় যাবতীয় ব্যয় নির্বাহ করা হইবে।

(৪) বিশ্ববিদ্যালয় তহবিলের অর্থ সিন্ডিকেট কর্তৃক অনুমোদিত কোন খাতে বিনিয়োগ করা যাইবে।

(৫) বিশ্ববিদ্যালয় ইচ্ছা করিলে কোন বিশেষ উদ্দেশ্যে অন্য কোন তহবিল গঠন করিতে পারিবে এবং সংবিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে উক্ত তহবিল পরিচালনা করিতে পারিবে।
 
 
 
  ৩৫। অর্থ কমিটি  
৩৫। (১) নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে অর্থ কমিটি গঠিত হইবে, যথা:—

(ক) ভাইস-চ্যান্সেলর , যিনি ইহার সভাপতিও হইবেন;

(খ) প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর;

(গ) রেজিস্ট্রার;

(ঘ) ট্রেজারার;

(ঙ) ভাইস-চ্যান্সেলর কর্তৃক জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে মনোনীত ১ (এক) জন ডিন;

(চ) ভাইস-চ্যান্সেলর কর্তৃক মনোনীত অঙ্গীভূত বা অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠানসমূহের ১ (এক) জন প্রধান;

(ছ) একাডেমিক কাউন্সিল কর্তৃক মনোনীত ২ (দুই) জন শিক্ষক;

(জ) সিন্ডিকেট কর্তৃক মনোনীত ১ (এক) জন প্রতিনিধি, যিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকুরীতে নিয়োজিত নহেন;

(ঝ) সরকার কর্তৃক মনোনীত ২ (দুই) জন পরিকল্পনাবিদ বা অর্থ বিশারদ;

(ঞ) মঞ্জুরী কমিশনের ১ (এক) জন প্রতিনিধি, পরিচালক পদমর্যাদার নিম্নে নহে;

(ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী; এবং

(ঠ) পরিচালক (অর্থ), যিনি ইহার সদস্য-সচিবও হইবেন।

(২) পরিচালক (অর্থ) সভাপতির অনুমোদনক্রমে, অর্থ কমিটির সভা আহবান করিবেন এবং সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।

(৩) অর্থ কমিটির কোন মনোনীত সদস্য ২ (দুই) বৎসর মেয়াদে তাহার পদে অধিষ্ঠিত থাকিবেনঃ

তবে শর্ত থাকে যে, কোন সদস্য যে কোন সময় সভাপতিকে উদ্দেশ্য করিয়া তাহার স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে পারিবেন।

(৪) অর্থ কমিটির কোন মনোনীত সদস্য মেয়াদ শেষ হওয়া সত্ত্বেও তাহার স্থলাভিষিক্ত ব্যক্তি কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্বীয় পদে বহাল থাকিবেন:

তবে শর্ত থাকে যে, যে পদ বা প্রতিষ্ঠান হইতে তিনি মনোনীত হইয়াছিলেন সেই পদ বা প্রতিষ্ঠানে যদি না থাকেন, তাহা হইলে তিনি অর্থ কমিটির সদস্য পদেও অধিষ্ঠিত থাকিবেন না ।
 
 
 
  ৩৬। অর্থ কমিটির ক্ষমতা ও দায়িত্ব  
৩৬। অর্থ কমিটি—

(ক) বিশ্ববিদ্যালয়ের আয় ও ব্যয়ের তত্ত্বাবধান করিবে;

(খ) বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক বাজেট বিবেচনা করিবে এবং এতদ্‌সম্পর্কে সিন্ডিকেটকে পরামর্শ প্রদান করিবে;

(গ) বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ও তহবিল, সম্পদ ও হিসাব নিকাশ সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয়ে সিন্ডিকেটকে পরামর্শ দান করিবে;

(ঘ) ভাইস চ্যান্সেলরের নির্দেশনা অথবা এতদ্সংক্রান্ত আদেশ ও নির্দেশ অনুযায়ী অন্যান্য দায়িত্ব পালন করিবে;

(ঙ) শিক্ষক এবং কর্মকর্তা বা কর্মচারীদের সকল প্রকার পেনশন এবং অবসরজনিত সকল পাওনা পরিশোধ করিবে;

(চ) সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুপারিশক্রমে শিক্ষক এবং কর্মকর্তা বা কর্মচারীদের ঋণ এবং অগ্রিম পরিশোধের ব্যবস্থা করিবে;

(ছ) শিক্ষক এবং কর্মকর্তা বা কর্মচারীদের স্বাস্থ্য-বীমা এবং জীবন-বীমার সকল প্রকার হিসাব যথাযথভাবে সংরক্ষণ করিবে; এবং

(জ) সংবিধি দ্বারা নির্ধারিত অথবা ভাইস-চ্যান্সেলর অথবা সিন্ডিকেট কর্তৃক প্রদত্ত অন্যান্য দায়িত্ব পালন করিবে।
 
 
 
  ৩৭। পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও মূল্যায়ন কমিটি  
৩৭। (১) বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও মূল্যায়ন কমিটি থাকিবে এবং উহা নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে গঠিত হইবে, যথা:—

(ক) ভাইস-চ্যান্সেলর, যিনি ইহার সভাপতিও হইবেন;

(খ) প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর;

(গ) ট্রেজারার;

(ঘ) ভাইস-চ্যান্সেলর কর্তৃক জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে, মনোনীত ১ (এক) জন ডিন;

(ঙ) সিন্ডিকেট কর্তৃক মনোনীত সিন্ডিকেটের ২ (দু্ই) জন সদস্য, যাহাদের মধ্যে ১ (এক) জন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন চাকুরীতে নিয়োজিত নহেন;

(চ) সরকার কর্তৃক মনোনীত ১ (এক) জন প্রকৌশলী যিনি পদমর্যাদায় গণপূর্ত বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর নিম্নে নহেন;


(ছ) ভাইস-চ্যান্সেলর কর্তৃক মনোনীত ১ (এক) জন প্রকৌশলী বা স্থপতি; যিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন চাকুরীতে নিয়োজিত নহেন;

(জ) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী; এবং

(ঝ) পরিচালক (পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও মূল্যায়ন), যিনি ইহার সদস্য-সচিবও হইবেন।

(২) পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও মূল্যায়ন কমিটির কোন মনোনীত সদস্য ২ (দুই) বৎসরের মেয়াদে তাহার পদে অধিষ্ঠিত থাকিবেন:

তবে শর্ত থাকে যে, কোন সদস্য যে কোন সময় সভাপতিকে উদ্দেশ্য করিয়া তাহার স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে পারিবেন।

(৩) পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও মূল্যায়ন কমিটির কোন মনোনীত সদস্য মেয়াদ শেষ হওয়া সত্ত্বেও তাহার স্থলাভিষিক্ত ব্যক্তি কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্বীয় পদে বহাল থাকিবেন:

তবে শর্ত থাকে যে, যে পদ বা প্রতিষ্ঠান হইতে তিনি মনোনীত হইয়াছিলেন সেই পদ বা প্রতিষ্ঠানে যদি না থাকেন, তাহা হইলে তিনি পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও মূল্যায়ন কমিটির সদস্য পদেও অধিষ্ঠিত থাকিবেন না ।

(৪) পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও মূল্যায়ন কমিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান পরিকল্পনা সংস্থা হইবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশ্যের সহিত সামঞ্জস্য রাখিয়া ইহার জন্য উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন করিবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন কর্মসূচীর মূল্যায়ন করিবে।

(৫) এই কমিটি সংবিধি দ্বারা নির্ধারিত অথবা ভাইস-চ্যান্সেলর অথবা সিন্ডিকেট কর্তৃক প্রদত্ত অন্যান্য কার্যাবলীও সম্পাদন করিবে।
 
 
 
  ৩৮। বাছাই বোর্ড  
৩৮। (১) বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগে সুপারিশ প্রদানের জন্য এক বা একাধিক বাছাই বোর্ড গঠন করা যাইবে।

(২) বাছাই বোর্ডের গঠন ও কার্যাবলী সংবিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।

(৩) বাছাই বোর্ডের সুপারিশের সহিত সিন্ডিকেট একমত না হইলে বিষয়টি চ্যান্সেলরের নিকট প্রেরণ করিতে হইবে এবং এই বিষয়ে চ্যান্সেলরের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হইবে।
 
 
 
  ৩৯। শৃঙ্খলা বোর্ড  
৩৯। (১) বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি শৃঙ্খলা বোর্ড থাকিবে।

(২) শৃঙ্খলা বোর্ডের গঠন, ক্ষমতা, মেয়াদ ও কার্যাবলী বিশ্ববিদ্যালয় সংবিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।

(৩) শৃঙ্খলা বোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ছাত্র, কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের জন্য আচরণ বিধি প্রণয়ন করিবে।
 
 
 
  ৪০। জনসম্পর্ক ও তথ্য বিভাগ  
৪০। বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি জনসম্পর্ক ও তথ্য বিভাগ থাকিবে এবং উক্ত বিভাগের দায়িত্ব ও কর্তব্য হইবে নিম্নরূপ, যথা:—

(ক) যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে, বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ে প্রচারণা, প্রিন্ট ও তথ্য প্রকাশ;


(খ) সিম্পোজিয়াম, সেমিনার ও ওয়ার্কশপসমূহে অংশগ্রহণের জন্য অতিথিদের জন্য আমন্ত্রণপত্র মুদ্রণ;

(গ) নীতি অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল কর্মকাণ্ডের ব্যাপক প্রচারের ব্যবস্থাকরণ;

(ঘ) জনস্বার্থে তথ্য সরবরাহের জন্য প্রেস কনফারেন্সের ব্যবস্থা গ্রহণ; এবং

(ঙ) ডিজিটাল বা আইসিটি বিষয়ক কর্মকাণ্ড পরিচালনা এবং ওয়েব-পেজ প্রস্ত্ততকরণ।
 
 
 
  ৪১। লাইব্রেরী ও আর্কাইভ  
৪১। (১) বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি কেন্দ্রীয় লাইব্রেরী ও আর্কাইভ থাকিবে।

(২) গ্রন্থাগারিক নিম্নবর্ণিত কার্যক্রম গ্রহণ করিবেন, যথা:—

(ক) লাইব্রেরীর উন্নয়নের জন্য নীতিমালা তৈরী;

(খ) বই, সাময়িকী ইত্যাদি সংগ্রহ এবং বিতরণের ব্যবস্থা গ্রহণ;

(গ) লাইব্রেরী বুলেটিন প্রকাশ;

(ঘ) লাইব্রেরী ব্যবহারকারিদের জন্য ইন্টারনেট সার্ভিসের ব্যবস্থা গ্রহণ; এবং

(ঙ) লাইব্রেরী বিষয়ক আন্তঃ বিশ্ববিদ্যালয় সহযোগিতা ও উন্নয়ন সাধন।
 
 
 
  ৪২। মুদ্রণ ও প্রকাশনা বিভাগ  
৪২। বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি মুদ্রণ ও প্রকাশনা বিভাগ থাকিবে এবং উক্ত বিভাগ নিম্নবর্ণিত কার্যাদি সম্পন্ন করিবে:—

(ক) প্রশ্নপত্র মুদ্রণ;

(খ) উত্তরপত্র প্রস্ত্তত;

(গ) গবেষণামূলক প্রবন্ধ, পুস্তক, জার্নাল ইত্যদি মুদ্রণ ও প্রকাশ; এবং

(ঘ) ভাইস-চ্যান্সেলর কর্তৃক অর্পিত অন্যান্য কার্যাদি।
 
 
 
  ৪৩। বাছাই কমিটি  
৪৩। (১) বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগে সুপারিশ প্রদানের জন্য এক বা একাধিক বাছাই কমিটি গঠন করা যাইবে।

(২) বাছাই কমিটির গঠন ও কার্যাবলী সংবিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।

(৩) বাছাই কমিটির সুপারিশের সহিত সিন্ডিকেট একমত না হইলে বিষয়টি চ্যান্সেলরের নিকট প্রেরণ করিতে হইবে এবং এই বিষয়ে চ্যান্সেলরের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হইবে।
 
 
 
  ৪৪। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ইউনিট
 
৪৪। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিম্নবর্ণিত একাডেমিক ইউনিট থাকিবে, যথা:—

(ক) স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষা বিষয়ক প্রতিষ্ঠান;

(খ) স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান; এবং

(গ) কারিকুলাম উন্নয়ন ও মূল্যায়ন কেন্দ্র।


 
 
 
  ৪৫। স্নাতক পর্যায়ে শিক্ষা বিষয়ক প্রতিষ্ঠান  
৪৫। (১) স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষা বিষয়ক প্রতিষ্ঠান, একাডেমিক কাউন্সিল এবং সিন্ডিকেটের সার্বিক তত্ত্বাবধানে, স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষা সংগঠন, পাঠ্ক্রম ও পাঠ্যসূচী নির্ধারণ এবং একাডেমিক কাউন্সিলের বিবেচনার জন্য পরীক্ষা পদ্ধতি সুপারিশ করিবে, প্রশিক্ষণের মান সংরক্ষণ করিবে এবং শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করিবে।

(২) স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষা বিষয়ক প্রতিষ্ঠানসমূহের নিজস্ব পরিচালনা বিধি এবং একাডেমিক ও ব্যবস্থাপনা কর্মসূচী থাকিবে, তবে নীতি-নির্ধারণী ক্ষেত্রে ইহা স্নাতকোত্তর শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্র এবং কারিকুলাম উন্নয়ন ও মূল্যায়ন কেন্দ্রের সহিত যোগাযোগ এবং সমন্বয় রক্ষা করিবে।
 
 
 
  ৪৬। স্নাতকোত্তর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গবেষণা কেন্দ্র  
৪৬। স্নাতকোত্তর শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্র নিরাপদ জাহাজ চলাচল ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসন, নৌ-প্রকৌশল ও প্রযুক্তি, ওশ্যানোগ্রাফি, আন্তর্জাতিক মেরিটাইম আইন, মেরিটাইম স্ট্র্যাটেজি, মেরিটাইম সিকিউরিটি, জাহাজ নির্মাণ প্রকৌশল ও স্থাপত্য, হাইড্রোগ্রাফি, সামুদ্রিক সম্পদ, মেরিটাইম লজিসটিক্স এবং নৌ সংশ্লিষ্ট সকল বিষয় লইয়া গঠিত হইবে এবং ইহা : —

(ক) সম্মান ও স্নাতকোত্তর শিক্ষা সংগঠনের দায়িত্ব পালন করিবে;

(খ) একাডেমিক, ইনস্টিটিউট বা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাগ্রসর শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়নের জন্য দায়ী থাকিবেন;

(গ) একাডেমিক কাউন্সিল এবং সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তাবলীর সহিত সংগতিপূর্ণ হওয়া সাপেক্ষে নিজস্ব পরিচালনা বিধি, একাডেমিক প্রোগ্রাম ও ব্যবস্থাপনা অনুযায়ী পরিচালিত হইবে:

তবে শর্ত থাকে যে, নীতি নির্ধারণী ক্ষেত্রে ইহা স্নাতক পর্যায়ে শিক্ষা বিষয়ক প্রতিষ্ঠান এবং কারিকুলাম উন্নয়ন ও মূল্যায়ন কেন্দ্রের সহিত যোগাযোগ ও সমন্বয় রক্ষা করিবে।
 
 
 
  ৪৭। কারিকুলাম উন্নয়ন ও মূল্যায়ন কেন্দ্র
 
৪৭। (১) কারিকুলাম উন্নয়ন ও মূল্যায়ন কেন্দ্র নিম্নবর্ণিত দায়িত্বে থাকিবে, যথা:—



(ক) জাতীয় ভাবধারার সহিত সংগতি রাখিয়া বিভিন্ন স্তরে শিক্ষা কোর্স এবং কারিকুলাম মূল্যায়ন;



(খ) বিভিন্ন পাঠক্রম ও পাঠ্যসূচীতে জ্ঞান-বিজ্ঞানের সর্বশেষ অগ্রগতির প্রতিফলন;



(গ) পরিবর্তনশীল সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা ও প্রয়োজনের প্রেক্ষিতে উচ্চশিক্ষার লক্ষ্য ও প্রকৃতি নির্ধারণ;



(ঘ) উপযুক্ত মূল্যায়নের মাধ্যমে আধুনিক ও যথোপযোগী শিক্ষা উপকরণ উদ্ভাবন ও ব্যবহারে উৎসাহ প্রদান;



(ঙ) শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রয়োজন নির্ধারণপূর্বক তাহা ব্যক্তিগত, সামাজিক ও জাতীয় পর্যায়ে উন্নয়ন লক্ষ্যের সহিত সমন্বিতকরণ;

(চ) শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের একাডেমিক কার্যক্রমের মূল্যায়ন।

(২) একাডেমিক কাউন্সিল এবং সিন্ডিকেটের সার্বিক তত্ত্বাবধানে কারিকুলাম উন্নয়ন ও মূল্যায়ন কেন্দ্রের নিজস্ব পরিচালনা বিধি ও ব্যবস্থাপনা কর্মসূচী থাকিবে:



তবে শর্ত থাকে যে, নীতি নির্ধারণী ক্ষেত্রে ইহা স্নাতকোত্তর শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্র এবং স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষা বিষয়ক প্রতিষ্ঠানের সহিত যোগাযোগ ও সমন্বয় রক্ষা করিবে।


 
 
 
  ৪৮। বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য কর্তৃপক্ষ  
৪৮।সংবিধি দ্বারা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ হিসাবে ঘোষিত অন্যান্য কর্তৃপক্ষের গঠন ক্ষমতা ও কার্যাবলী সংবিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
 
 
 
  ৪৯। সংবিধি  
৪৯।এই আইনের বিধান সাপেক্ষে, সংবিধি দ্বারা নিম্নবর্ণিত সকল বা যে কোন বিষয় সম্পর্কে বিধান করা যাইবে, যথা:—

(ক) ভাইস-চ্যান্সেলরের ক্ষমতা ও দায়িত্ব নির্ধারণ;

(খ) প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলরের ক্ষমতা ও দায়িত্ব নির্ধারণ;

(গ) ট্রেজারারের ক্ষমতা ও দায়িত্ব নির্ধারণ;

(ঘ) জ্ঞান বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ের প্রখ্যাত ব্যক্তিদের সম্মানে অধ্যাপক পদ (চেয়ার) প্রবর্তন;

(ঙ) সম্মানসূচক ডিগ্রি বা অন্য কোন সম্মান প্রদান;

(চ) ফেলোশীপ, স্কলারশীপ, বৃত্তি, পুরস্কার ও পদক প্রবর্তন;

(ছ) গবেষণা কার্যক্রমের ধরণ নির্ধারণ;

(জ) ডিপ্লোমা বা সার্টিফিকেট প্রদান;

(ঝ) শিক্ষাদানকারী কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ;

(ঞ) শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচী নির্ধারণ;

(ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তাগণের পদবী, ক্ষমতা, কর্তব্য ও কর্মের শর্তাবলী নির্ধারণ;

(ঠ) বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের গঠন, ক্ষমতা ও কার্যাবলী নির্ধারণ;

(ড) ইনস্টিটিউট ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান এবং ইহাদের রক্ষণাবেক্ষণ;

(ঢ) প্রতিনিধি নির্বাচন পদ্ধতি নির্ধারণ;

(ণ) বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ, পদোন্নতি ও ছাঁটাই সংক্রান্ত পদ্ধতি নির্ধারণ;

(ত) বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও অন্যান্য কর্মচারীর কল্যাণার্থে অবসর ভাতা, গোষ্ঠী বীমা, কল্যাণ ও ভবিষ্য তহবিল গঠন;

(থ) শিক্ষক ও গবেষকের পদ সৃষ্টি, বিলোপ বা সাময়িকভাবে স্থগিতকরণ সংক্রান্ত বিধান নির্ধারণ;

(দ) নূতন বিভাগ বা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা, সাময়িকভাবে স্থগিতকরণ, বিলোপ সাধন এবং শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ সৃষ্টির বিধান নির্ধারণ;

(ধ) একাডেমিক কাউন্সিলের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নির্ধারণ;

(ন) ডক্টরেট ডিগ্রির জন্য অভিসন্দর্ভের বিষয় নির্ধারণ;

(প) অনুষদের গঠন, ক্ষমতা ও কার্যাবলী নির্ধারণ;

(ফ) বাছাই বোর্ডের গঠন ও কার্যাবলী নির্ধারণ;

(ব) স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও অন্যান্য পাঠক্রমে ভর্তি ও পরীক্ষা সংক্রান্ত বিধান প্রণয়ন;

(ভ) কমিটি গঠন সংক্রান্ত বিধান প্রণয়ন;

(ম) রেজিস্টারভুক্ত গ্রাজুয়েটদের রেজিস্টার সংরক্ষণ; এবং

(য) এই আইনের অধীন সংবিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে বা হইতে পারে এইরূপ অন্যান্য বিষয়।




 
 
 
  ৫০। সংবিধি প্রণয়ন  
৫০। (১) এই ধারায় বর্ণিত পদ্ধতিতে সিন্ডিকেট সংবিধি প্রণয়ন, সংশোধন বা বাতিল করিতে পারিবে।

(২) তফসিলে বর্ণিত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সংবিধি চ্যান্সেলরের অনুমোদন ব্যতিত সংশোধন বা বাতিল করা যাইবে না।

(৩) সিন্ডিকেট কর্তৃক প্রণীত সকল সংবিধি, সিনেটের সুপারিশসহ, অনুমোদনের জন্য চ্যান্সেলরের নিকট পেশ করিতে হইবে।

(৪) চ্যান্সেলর কর্তৃক অনুমোদিত না হইলে সিন্ডিকেটের প্রস্তাবিত কোন সংবিধি বৈধ হইবে না।
 
 
 
  ৫১। বিশ্ববিদ্যালয় বিধি  
৫১। এই আইন ও সংবিধির বিধান সাপেক্ষে, বিশ্ববিদ্যালয় বিধি দ্বারা নিম্নবর্ণিত সকল বা যে কোন বিষয় সম্পর্কে বিধান করা যাইবে, যথা:—

(ক) ভাইস-চ্যান্সেলরের ক্ষমতা ও দায়িত্ব নির্ধারণ;

(খ) প্রো ভাইস-চ্যান্সেলরের ক্ষমতা ও দায়িত্ব নির্ধারণ;

(গ) ট্রেজারারের ক্ষমতা ও দায়িত্ব নির্ধারণ;

(ঘ) বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ভর্তি এবং তাহাদের তালিকাভুক্তি;

(ঙ) বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি, ডিপ্লোমা বা সার্টিফিকেট কোর্সের শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচী প্রণয়ন;

(চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি, ডিপ্লোমা বা সার্টিফিকেট কোর্সের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ এবং ডিগ্রি, সার্টিফিকেট ও ডিপ্লোমা পাওয়ার যোগ্যতার শর্তাবলী নির্ধারণ;

(ছ) শিক্ষাদান, টিউটরিয়াল ক্লাস, গবেষণাগার ও কর্মশিবির পরিচালনার পদ্ধতি নিরূপন;

(জ) বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের বসবাসের শর্তাবলী এবং তাহাদের আচরণ ও শৃঙ্খলা;

(ঝ) বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠক্রম এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা, ডিগ্রি, সার্টিফিকেট ও ডিপ্লোমায় ভর্তির জন্য আদায়যোগ্য ফিস নির্ধারণ;

(ঞ) বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থায়ী কমিটি গঠন ও উহাদের ক্ষমতা ও দায়িত্ব নির্ধারণ;

(ট) শিক্ষাদান ও পরীক্ষা পরিচালনা পদ্ধতি নির্ধারণ;

(ঠ) বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদ গঠনসহ উহাদের ক্ষমতা ও দায়িত্ব নির্ধারণ;

(ড) ফেলোশিপ, স্কলারশীপ বা বৃত্তি, পুরস্কার, সম্মাননা ও পদক প্রবর্তন;

(ঢ) বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সংস্থা গঠন ও উহার ক্ষমতা, দায়িত্ব ও কর্তব্য নির্ধারণ; এবং

(ণ) এই আইন বা সংবিধির অধীন বিশ্ববিদ্যালয় বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে অথবা হইতে পারে এইরূপ অন্যান্য বিষয়।
 
 
 
  ৫২। বিশ্ববিদ্যালয় বিধি প্রণয়ন  
৫২। সিন্ডিকেট, মঞ্জুরী কমিশনের সুপারিশক্রমে এবং চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে, বিশ্ববিদ্যালয় বিধি প্রণয়ন করিবে:



তবে শর্ত থাকে যে, নিম্নবর্ণিত বিষয়ে একাডেমিক কাউন্সিলের সুপারিশ ব্যতিত বিশ্ববিদ্যালয় বিধি প্রণয়ন করা যাইবে না, যথা:—

(ক) শিক্ষা বিভাগ প্রতিষ্ঠা;

(খ) বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের রেজিস্ট্রেশন;

(গ) অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক পরিচালিত পরীক্ষাসমূহের সমতা বিধান;

(ঘ) পরীক্ষা পরিচালনা;

(ঙ) ফেলোশীপ ও বৃত্তি প্রবর্তন;

(চ) বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রদত্ত সকল ডিগ্রি, ডিপ্লোমা ও সার্টিফিকেটের জন্য পাঠ্যসূচী প্রণয়ন ও পাঠক্রম নির্ধারণ;

(ছ) বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ভর্তি এবং তাহাদের তালিকাভুক্তি;

(জ) হলে ছাত্র বা ছাত্রীদের বসবাসের শর্তাবলী; এবং

(ঝ) বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি, ডিপ্লোমা বা সার্টিফিকেট কোর্সে ভর্তি, উহার বিভিন্ন পরীক্ষায় অংশগ্রহণে এবং উহার ডিগ্রি, সার্টিফিকেট ও ডিপ্লোমা পাওয়ার যোগ্যতার শর্তাবলী।
 
 
 
  ৫৩। প্রবিধান  
৫৩। (১) বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং অন্যান্য সংস্থাসমূহ নিম্নবর্ণিত উদ্দেশ্যে এই আইন, সংবিধি ও বিশ্ববিদ্যালয় বিধির সহিত সঙ্গতিপূর্ণ প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে, যথা:—

(ক) উহাদের নিজ নিজ সভায় অনুসরণীয় কার্যবিধি প্রণয়ন এবং কোরাম গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সদস্য সংখ্যা নির্ধারণ;

(খ) এই আইন, সংবিধি বা বিশ্ববিদ্যালয় বিধি মোতাবেক প্রবিধান দ্বারা নির্ধারণযোগ্য সকল বিষয়ের উপর বিধান প্রণয়ন; এবং

(গ) উক্ত কর্তৃপক্ষসমূহের সহিত সংশ্লিষ্ট, অথচ এই আইন, সংবিধি বা বিশ্ববিদ্যালয় বিধিতে বিধৃত হয় নাই এইরূপ অন্যান্য বিষয় সম্পর্কে বিধান প্রণয়ন।

(২) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেক কর্তৃপক্ষ বা সংস্থা উহার সভার তারিখ এবং বিবেচ্য বিষয় সম্পর্কে উক্ত কর্তৃপক্ষের বা সংস্থার সদস্যগণকে নোটিশ প্রদান এবং সভার কার্যবিবরণীর রেকর্ড সংরক্ষণ সম্পর্কে প্রবিধান প্রণয়ন করিবে।

(৩) সিন্ডিকেট এই আইনের অধীন প্রণীত কোন প্রবিধান তদ্‌কর্তৃক নির্ধারিত প্রকারে সংশোধন বা বাতিল করিবার নির্দেশ দিতে পারিবে এবং উক্ত নির্দেশ পালনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বাধ্য থাকিবে:

তবে শর্ত থাকে যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন কর্তৃপক্ষ বা সংস্থা অনুরূপ নির্দেশে অসন্তুষ্ট হইলে বিষয়টি সম্পর্কে চ্যান্সেলরের নিকট আপীল করিতে পারিবে এবং আপীলের উপর চ্যান্সেলর প্রদত্ত সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হইবে।
 
 
 
  ৫৪। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠক্রমে ভর্তি  
৫৪। (১) এই আইন এবং সংবিধির বিধান সাপেক্ষে, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও অন্যান্য পাঠক্রমের ছাত্র ভর্তি একাডেমিক কাউন্সিল কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে নিযুক্ত ভর্তি কমিটি কর্তৃক প্রণীত বিধি দ্বারা পরিচালিত হইবে।

(২) নিম্নবর্ণিত কোন শিক্ষার্থী ভর্তির যোগ্য হইবেন না যদি তিনি—

(ক) বাংলাদেশের কোন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের কিংবা বাংলাদেশে আপাততঃ বলবৎ কোন আইনের অধীন কোন উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় কিংবা সংবিধি দ্বারা সমমানের বলিয়া স্বীকৃত অন্য কোন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হইয়া থাকেন কিংবা,

(খ) বিদেশের স্বীকৃত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা কর্তৃক অনুষ্ঠিত সমমানের বা সমপর্যায়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হইয়া থাকেন কিংবা,

(গ) বিশ্ববিদ্যালয় বিধি দ্বারা নির্ধারিত অন্যান্য যোগ্যতা সম্পন্ন না হন ।

(৩) যে সকল শর্তাধীনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি, ডিপ্লোমা, সার্টিফিকেট ও স্নাতকোত্তর কোর্সে ছাত্র ভর্তি করা হইবে তাহা সংবিধি ও বিশ্ববিদ্যালয় বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।

(৪) কোন কোর্সে ডিগ্রির জন্য ভর্তির উদ্দেশ্যে বিশ্ববিদ্যালয়, উহার বিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে অন্য কোন বিশ্ববিদ্যালয় বা স্বীকৃত সংস্থা কর্তৃক প্রদত্ত ডিগ্রিকে তদ্‌কর্তৃক প্রদত্ত কোন ডিগ্রির সমমানের বলিয়া স্বীকৃতি দান করিতে পারিবে অথবা স্বীকৃত কোন বিশ্ববিদ্যালয় বা বোর্ডের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা ব্যতিত অন্য কোন পরীক্ষাকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার সমমানের বলিয়া স্বীকৃতি দান করিতে পারিবে।

(৫) ভর্তির সময় প্রদত্ত মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে কোন ছাত্র-ছাত্রীকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করা হইলে এবং পরবর্তীতে উহা প্রমাণিত হইলে ভর্তি বাতিলযোগ্য হইবে।

(৬) কোন ছাত্র নৈতিক স্খলনের দায়ে উপযুক্ত আদালত কর্তৃক দোষী সাব্যস্ত হইলে তাহার ভর্তি বাতিলযোগ্য হইবে।
 
 
 
  ৫৫। শিক্ষার মাধ্যম  
৫৫। আন্তর্জাতিকতার প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মাধ্যম হইবে ইংরেজী।
 
 
 
  ৫৬। পরীক্ষা  
৫৬। (১) ভাইস-চ্যান্সেলরের নিয়ন্ত্রণাধীন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক পরীক্ষা পরিচালনার জন্য যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।

(২) একাডেমিক কাউন্সিল পরীক্ষা কমিটিসমূহ গঠন করিবে এবং উহাদের গঠন, ক্ষমতা ও কার্যাবলী বিশ্ববিদ্যালয় বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।

(৩) কোন পরীক্ষক কোন কারণে পরীক্ষা সংক্রান্ত দায়িত্ব পালনে অপারগ হইলে ভাইস-চ্যান্সেলরের নির্দেশে তাঁহার স্থলে অন্য ১ (এক) জন পরীক্ষক নিয়োগ দেএয়া যাইবে ।
 
 
 
  ৫৭। পরীক্ষা পদ্ধতি  
৫৭। (১) বিশ্ববিদ্যালয়ে সেমিস্টার ও নির্ধারিত সংখ্যক ক্রেডিট (credits) পদ্ধতিতে পরীক্ষা গ্রহণ করা হইবে।

(২) সম্পূর্ণ পাঠ্যসূচিকে কয়েকটি সেমিস্টারে ভাগ করা হইবে এবং ডিগ্রি, স্নাতকোত্তর বা ডিপ্লোমা বিশেষের জন্য নির্ধারিত সংখ্যক ক্রেডিট (credits) প্রাপ্তির ভিত্তিতে ডিগ্রি লাভে সর্বোচ্চ সময় নির্ধারিত থাকিবে এবং প্রত্যেক কোর্সের সফল সমাপ্তি এবং উহার উপর পরীক্ষা গ্রহণের পর পরীক্ষার্থীকে গ্রেড বা নম্বর প্রদান করা হইবে।

(৩) সকল সেমিস্টার পরীক্ষায় প্রাপ্ত গ্রেড বা নম্বরের যোগফলের ভিত্তিতে পরীক্ষার্থীকে ডিগ্রি প্রদান করা হইবে।

(৪) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি কোর্স, যাহা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন ডিগ্রি প্রদানের জন্য নির্ধারিত কোর্সের অংশবিশেষ, উহা পরীক্ষণের জন্য নিযুক্ত পরীক্ষকগণের ১ (এক) জন সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ব্যতিত ভিন্ন কোর্সের ১ (এক) জন শিক্ষক পরীক্ষক হইবেন।
 
 
 
  ৫৮। চাকুরীর শর্তাবলী  
৫৮। (১) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেক শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী লিখিত নিয়োগবিধির ভিত্তিতে নিযুক্ত হইবেন।

(২) বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী সকল সময় সততা ও কর্তব্যপরায়ণতার সহিত কর্তব্য পালন করিবেন এবং পদ সংক্রান্ত দায়িত্ব পালনে ন্যায়পরায়ন ও নিরপেক্ষ হইবেন।

(৩) নিয়োগের শর্তাবলীতে স্পষ্টভাবে ভিন্নরূপ কিছু উল্লেখ না থাকিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেক শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বক্ষণিক শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরূপে গণ্য হইবেন।

(৪) কোন শিক্ষক, কর্মকর্তা বা কর্মচারী কোন রাজনৈতিক সংগঠনের সদস্য হইতে পারিবেন না।

(৫) বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন বেতনভোগী শিক্ষক, কর্মকর্তা ও বা কর্মচারী সংসদ সদস্য হিসাবে অথবা স্থানীয় সরকারের কোন পদে নির্বাচিত হইবার জন্য প্রার্থী হইতে চাহিলে তিনি তাহার মনোনয়নপত্র দাখিলের পূর্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকুরী হইতে ইস্তফা দিবেন।

(৬) বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন বেতনভোগী শিক্ষক, কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে তাহার কর্তব্যে অবহেলা, অসদাচরণ, নৈতিক স্খলন বা অদক্ষতার কারণে সংবিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে চাকুরী হইতে অপসারণ বা পদচ্যুত করা অথবা অন্য কোন প্রকার শাস্তি প্রদান করা যাইবে।
 
 
 
  ৫৯। বার্ষিক প্রতিবেদন  
৫৯। বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক প্রতিবেদন সিন্ডিকেটের পরামর্শ অনুসারে প্রস্ত্তত করিতে হইবে এবং পরবর্তী শিক্ষা বৎসর আরম্ভের ত্রিশ দিনের মধ্যে উহা মঞ্জুরী কমিশ নের মাধ্যমে সরকারের নিকট পেশ করিতে হইবে।
 
 
 
  ৬০। বার্ষিক হিসাব  
৬০। (১) বিশ্ববিদ্যালয় যথাযথভাবে উহার হিসাব রক্ষণ করিবে এবং হিসাবের বার্ষিক বিবরণী প্রস্ত্তত করিবে।

(২) বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক হিসাব-নিরীক্ষার জন্য ভাইস-চ্যান্সেলর যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।
 
 
 
  ৬১। পরিদর্শন ও প্রতিবেদন  
৬১। (১) বিশ্ববিদ্যালয়, বিশেষভাবে দায়িত্ব প্রাপ্ত ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ দ্বারা, প্রত্যেকটি অঙ্গীভূত ও অধিভুক্ত, একাডেমি, ইনস্টিটিউট বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সময় সময়, পরিদর্শন করাইতে পারিবে এবং উক্তরূপে পরিদর্শিত কোন প্রতিষ্ঠানকে নির্দিষ্ট সময়-সীমার মধ্যে প্রয়োজনীয় যে কোন ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে।

(২) সিন্ডিকেট বা একাডেমিক কাউন্সিলের চাহিদা অনুযায়ী প্রত্যেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে যে কোন প্রতিবেদন, বিবরণ ও তথ্য সরবরাহ করিতে হইবে।
 
 
 
  ৬২। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষাদান এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও অধিভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা, ইত্যাদি  
৬২। (১) একাডেমিক কাউন্সিলের পরামর্শক্রমে সিন্ডিকেট কোন অঙ্গীভূত ও অধিভুক্ত, একাডেমি, ইনস্টিটিউট, কেন্দ্র বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে যে সকল বিষয়ে এবং যে পর্যায়ের শিক্ষাদানের ক্ষমতা প্রদান করিবে, সংশ্লিষ্ট একাডেমি, ইনস্টিটিউট, কেন্দ্র বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সেই সকল বিষয়ে এবং সেই পর্যায়ে শিক্ষাদান করিবে; কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন ব্যতিরেকে ভিন্নরূপ কোন শিক্ষাদান করা যাইবে না।

(২) একাডেমিক কাউন্সিল এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার সুপারিশ বিবেচনা করিয়া সংশ্লিষ্ট একাডেমি, ইনস্টিটিউট, কেন্দ্র বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সহিত পরামর্শক্রমে, সমন্বয়ের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষাদানের ব্যবস্থা করিতে হইবে।

(৩) অঙ্গীভূত ও অধিভুক্ত একাডেমি, ইনস্টিটিউট, কেন্দ্র বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছাত্র-ছাত্রীদের উপকারার্থে শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের নির্বাচিত বিষয়ে বক্তৃতা বা কোর্স পরিচালনার ব্যবস্থা করিতে পারিবে।

(৪) বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন শিক্ষক কর্তৃক প্রদত্ত এবং কোন প্রতিষ্ঠান কর্তৃক আয়োজিত কোন বক্তৃতা, ভাইস-চ্যান্সেলরের পূর্বানুমতিক্রমে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য উন্মুক্ত করা যাইবে।
 
 
 
  ৬৩। কর্তৃপক্ষের সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে বিধি-নিষেধ  
৬৩। কোন ব্যক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বা অঙ্গীভূত ইনস্টিটিউটের কোন পদে অধিষ্ঠিত থাকিবার বা বিশ্ববিদ্যালয় বা কোন অঙ্গীভূত ইনস্টিটিউটের কোন কর্তৃপক্ষ বা অন্য কোন সংস্থার সদস্য হওয়ার বা থাকিবার যোগ্য হইবেন না, যদি তিনি—

(ক) অপ্রকৃতিস্থ বা অন্য কোন অসুস্থতাজনিত কারণে ২ (দুই) বৎসরের অধিককাল তাঁহার দায়িত্ব পালনে অক্ষম হন;

(খ) আর্থিকভাবে দেউলিয়া ঘোষিত হইবার পর দায় হইতে অব্যাহতি লাভ না করিয়া থাকেন;

(গ) নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে আদালত কর্তৃক দোষী সাব্যস্ত হন; এবং

(ঘ) সিন্ডিকেটের বিশেষ অনুমতি ব্যতিরেকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক পরিচালিত কোন পরীক্ষার পাঠক্রম হিসাবে নির্ধারিত কোন বই, তাহা স্বলিখিত হোক বা সম্পাদিত হোক, এর প্রকাশনা, সংগ্রহ বা সরবরাহকারী কোন প্রতিষ্ঠানের অংশীদার হিসাবে বা অন্য কোন প্রকারে আথিক স্বার্থে জড়িত থাকেন।
 
 
 
  ৬৪। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বা সংস্থা গঠন সম্পর্কে বিরোধ
 
৬৪। এই আইন, সংবিধি বা বিশ্ববিদ্যালয় বিধিতে এতদ্‌সম্পর্কিত বিধির অবর্তমানে, কোন ব্যক্তির বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন কর্তৃপক্ষ বা অন্য কোন সংস্থার সদস্য হওয়ার অধিকার সম্পর্কিত কোন প্রশ্ন উত্থাপিত হইলে উহা মঞ্জুরী কমিশনের সুপারিশক্রমে চ্যান্সেলরের নিকট প্রেরিত হইবে এবং এই বিষয়ে চ্যান্সেলরের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হইবে।
 
 
 
  ৬৫। কমিটি গঠন  
৬৫। এই আইন বা সংবিধি দ্বারা কোন কর্তৃপক্ষকে কমিটি গঠনের ক্ষমতা প্রদান করা হইলে উক্ত কমিটি, ভিন্নরূপ কোন বিধান না থাকিলে, উক্ত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক স্থিরকৃত উহার সদস্য এবং প্রয়োজনবোধে অন্যান্য ব্যক্তি সমন্বয়ে গঠিত হইবে; তবে, তাহা সিন্ডিকেট কর্তৃক অনুমোদিত হইতে হইবে।
 
 
 
  ৬৬। আকস্মিক-সৃষ্ট শূন্যপদ পূরণ  
৬৬। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন কর্তৃপক্ষ, অঙ্গীভূত ইনস্টিটিউট বা অন্য কোন সংস্থার পদাধিকারবলে সদস্য নন এইরূপ কোন সদস্যের পদে আকস্মিক শূন্যতা সৃষ্টি হইলে যে কর্তৃপক্ষ উক্ত সদস্যকে নিযুক্ত, নির্বাচিত বা মনোনীত করিয়াছিলেন সেই কর্তৃপক্ষ যতশীঘ্র সম্ভব, উক্ত শূন্য পদ পূরণ করিবেন এবং যে ব্যক্তি এই প্রকার শূন্য পদে নিযুক্ত, নির্বাচিত বা মনোনীত হইবেন তিনি যাঁহার স্থলাভিষিক্ত হইয়াছেন, তাঁহার অসমাপ্ত কার্যকলাপের জন্য উক্ত কর্তৃপক্ষ বা সংস্থার সদস্য পদে বহাল থাকিবেন।
 
 
 
  ৬৭। এখতিয়ার  
৬৭। এই আইন দ্বারা ইহার অধীনে অর্পিত সমুদয় ক্ষমতা বিশ্ববিদ্যালয় নিজ ক্ষেত্রে প্রয়োগ করিবে।
 
 
 
  ৬৮। বিতর্কিত বিষয়ে চ্যান্সেলরের সিদ্ধান্ত  
৬৮। এই আইন বা সংবিধিতে সুনির্দিষ্টভাবে বিধৃত হয় নাই এইরূপ কোন বিষয় বা চুক্তি সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয় এবং উহার কোন শিক্ষক বা কর্মকর্তার মধ্যে বিরোধ দেখা দিলে বিরোধটি উক্ত শিক্ষক বা কর্মকর্তার লিখিত অনুরোধক্রমে ভাইস-চ্যান্সেলর কর্তৃক চ্যান্সেলরের নিকট সিদ্ধান্তের জন্য প্রেরণ করা হইবে এবং এই বিষয়ে চ্যান্সেলরের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হইবে।
 
 
 
  ৬৯। অবসর ভাতা ও ভবিষ্য তহবিল  
৬৯। সংবিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতি এবং শর্তাবলী সাপেক্ষে, বিশ্ববিদ্যালয় উহার শিক্ষক, কর্মকর্তা ও অন্যান্য কর্মচারীদের কল্যাণার্থে যেইরূপ সমীচীন মনে করিবে সেইরূপ অবসর ভাতা, গোষ্ঠীবীমা, কল্যাণ বা ভবিষ্য তহবিল গঠন অথবা আনুতোষিক বা গ্রাচ্যুইটি দানের ব্যবস্থা করিতে পারিবে এবং তাহা সিন্ডিকেট কর্তৃক অনুমোদিত হইতে হইবে।
 
 
 
  ৭০। সংবিধিবদ্ধ মঞ্জুরী  
৭০। এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, বিশ্ববিদ্যালয় তাহার প্রয়োজন অনুসারে ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের জন্য সরকার কর্তৃক নির্ধারিত অর্থ প্রাপ্ত হইবে।
 
 
 
  ৭১। অসুবিধা দূরীকরণ  
৭১। বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যাবলী সম্পাদনের ক্ষেত্রে অথবা উহার কোন কর্তৃপক্ষের প্রথম বৈঠকের বিষয়ে বা এই আইনের বিধানাবলি প্রথম কার্যকর করিবার বিষয়ে কোন অসুবিধা দেখা দিলে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল কর্তৃপক্ষ গঠিত হইবার পূর্বে যে কোন সময়ে উক্ত অসুবিধা দূরীকরণের জন্য সমীচীন বা প্রয়োজনীয় বলিয়া চ্যান্সেলরের নিকট প্রতীয়মান হইলে তিনি আদেশ দ্বারা এই আইন এবং সংবিধির সঙ্গে যতদূর সম্ভব সঙ্গতি রক্ষা করিয়া যে কোন পদে নিয়োগ দান বা অন্য কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবেন এবং এই প্রকার প্রত্যেকটি আদেশ এইরূপে কার্যকর হইবে যেন উক্ত নিয়োগদান ও ব্যবস্থা গ্রহণ এই আইনের বিধান অনুসারে করা হইয়াছে।
 
 
 
  ৭২। বিশেষ বিধান  
৭২। এই আইন কার্যকর হইবার সঙ্গে সঙ্গে—

(ক) আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সহিত ধারা ৫ এর উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত বাংলাদেশ মেরিন একাডেমির অধিভুক্তি বাতিল হইবে এবং উক্ত একাডেমির বিষয়সম্পত্তি, শিক্ষক, কর্মচারী বা ছাত্র-ছাত্রী সম্পর্কে এই আইন অনুযায়ী গৃহীত ব্যবস্থার ক্ষেত্রে উহার আর কোন এখতিয়ার থাকিবে না;

(খ) এই আইন কার্যকর হইবার অব্যবহিত পূর্বে ধারা ৫ এর উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত একাডেমিতে অধ্যয়নরত ছাত্র-ছাত্রীগণ এই আইনের অধীন প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী বলিয়া গণ্য হইবেন এবং তাঁহাদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রেশন নম্বর এবং আনুষঙ্গিক নিয়মাবলী এমনভাবে প্রযোজ্য হইবে যেন উক্ত রেজিস্ট্রেশন নম্বর এবং আনুষঙ্গিক নিয়মাবলী এই আইনের অধীন প্রতিষ্ঠিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ কর্তৃক প্রদত্ত হইয়াছে।
 
 
 
 
 

Copyright © 2010, Legislative and Parliamentary Affairs Division
Ministry of Law, Justice and Parliamentary Affairs