THE

  [৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬]
 
   
     
    
The Bangladesh Cha Sramik Kallyan Fund Ordinance, 1986 রহিতক্রমে উহা পুনঃ প্রণয়নের উদ্দেশ্যে প্রণীত আইন
 
    যেহেতু সংবিধান (পঞ্চদশ সংশোধন) আইন, ২০১১ (২০১১ সনের ১৪ নং আইন), অতঃপর ‘‘পঞ্চদশ সংশোধনী’’ বলিয়া উল্লিখিত, দ্বারা সংবিধান (সপ্তম সংশোধন) আইন, ১৯৮৬ (১৯৮৬ সনের ১নং আইন) বিলুপ্তির ফলশ্রুতিতে ১৯৮২ সনের ২৪ মার্চ হইতে ১৯৮৬ সনের ১১ নভেম্বর পর্যন্ত সময়ের মধ্যে সামরিক ফরমান দ্বারা জারিকৃত অধ্যাদেশসমূহ, অতঃপর ‘‘উক্ত অধ্যাদেশসমূহ’’ বলিয়া উল্লিখিত, অনুমোদন ও সমর্থন (ratification and confirmation) সংক্রান্ত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের চতুর্থ তফসিলের ১৯ অনুচ্ছেদ বিলুপ্ত হওয়ায় উক্ত অধ্যাদেশসমূহ কার্যকারিতা হারাইয়াছে; এবং



যেহেতু সিভিল আপীল নং ৪৮/২০১১ তে সুপ্রীমকোর্টের আপীল বিভাগ কর্তৃক প্রদত্ত রায়ে সামরিক আইনকে অসাংবিধানিক ঘোষণাপূর্বক উহার বৈধতা প্রদানকারী সংবিধান (সপ্তম সংশোধন) আইন, ১৯৮৬ (১৯৮৬ সনের ১নং আইন) বাতিল ঘোষিত হওয়ার ফলশ্রুতিতে উক্ত অধ্যাদেশসমূহ কার্যকারিতা হারাইয়াছে; এবং



যেহেতু উক্ত অধ্যাদেশসমূহ এবং উহাদের অধীন প্রণীত বিধি, প্রবিধান, উপ -আইন, ইত্যাদি প্রজাতন্ত্রের কর্মের ধারাবাহিকতা, আইনের শাসন, জনগণের অধিকার সংরক্ষণ এবং বহাল ও অক্ষুণ্ণ রাখিবার নিমিত্ত, জনস্বার্থে, উক্ত অধ্যাদেশসমূহের কার্যকারিতাপ্রদান করা আবশ্যক; এবং





যেহেতু দীর্ঘ সময় পূর্বে জারীকৃত উক্ত অধ্যাদেশসমূহ যাচাই-বাছাইপূর্বক যথাসময়ে নূতনভাবে আইন প্রণয়ন করা সময় সাপেক্ষে; এবং



যেহেতু পঞ্চদশ সংশোধনী এবং সুপ্রীম-কোর্টের আপীল বিভাগের প্রদত্ত রায়ের প্রেক্ষিতে সৃষ্ট আইনী শূন্যতা সমাধানকল্পে সংসদ অধিবেশনে না থাকাবস্থায় আশু ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি বিদ্যমান ছিল বলিয়া রাষ্ট্রপতির নিকট প্রতীয়মান হওয়ায় তিনি ২১ জানুয়ারি, ২০১৩ তারিখে ২০১৩ সনের ২ নং অধ্যাদেশ প্রণয়ন ও জারি করিয়াছেন; এবং



যেহেতু সংবিধানের ৯৩(২) অনুচ্ছেদের নির্দেশনা অনুযায়ী উক্ত অধ্যাদেশসমূহের মধ্যে কতিপয় অধ্যাদেশ কার্যকর রাখিবার স্বার্থে ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ হইতে ১৯৮৬ সালের ১১ নভেম্বর তারিখ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে জারীকৃত কতিপয় অধ্যাদেশ কার্যকরকরণ (বিশেষ বিধান) আইন, ২০১৩ (২০১৩ সনের ৭নং আইন) প্রণীত হইয়াছে; এবং



যেহেতু উক্ত অধ্যাদেশসমূহের আবশ্যকতা ও প্রাসঙ্গিকতা পর্যালোচনা করিয়া যে সকল অধ্যাদেশ আবশ্যক বিবেচিত হইবে সেইগুলি সকল স্টেক-হোল্ডার ও সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয় বা বিভাগের মতামত গ্রহণ করিয়া প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সংশোধন ও পরিমার্জনক্রমে বাংলায় নূতন আইন প্রণয়ন করিবার জন্য সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিয়াছে; এবং



যেহেতু সরকারের উপরি বর্ণিত সিদ্ধান্তের আলোকে The Bangladesh Cha Sramik Kallyan Fund Ordinance, 1986 (Ordinance No. LXII of 1986) শীর্ষক অধ্যাদেশটি রহিতক্রমে উহার বিষয়বস্তুর আলোকে নূতনভাবে আইন প্রণয়ন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়;



সেহেতু এতদ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল :
   
 
 
 
  ১। সংক্ষিপ্ত শিরোনাম, প্রয়োগ ও প্রবর্তন  
১। (১) এই আইন বাংলাদেশ চা শ্রমিক কল্যাণ তহবিল আইন, ২০১৬ নামে অভিহিত হইবে।

(২) ইহা বাংলাদেশের চা বাগানে কর্মরত সকল স্থায়ী চা শ্রমিকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে।

(৩) ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে।
 
 
 
  ২। সংজ্ঞা  
২। বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে,

(১) ‘‘চেয়ারম্যান’’ অর্থ বোর্ডের চেয়ারম্যান;

(২) ‘‘তহবিল’’ অর্থ ধারা ৭ এর অধীন গঠিত বাংলাদেশ চা শ্রমিক কল্যাণ তহবিল;

(৩) ‘‘পরিবার’’ অর্থ-

(ক) কোন পুরুষ শ্রমিকের ক্ষেত্রে, তাহার স্ত্রী বা স্ত্রীগণ, এবং মহিলা শ্রমিকের ক্ষেত্রে, তাহার স্বামী;

(খ) কোন শ্রমিকের অনূর্ধ্ব ১৮ (আঠারো) বৎসর বয়সের বৈধ ওসৎ সন্তানগণ;

(গ) কোন শ্রমিকের সহিত একত্রে বসবাসরত ও তাহার উপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল ১৮ (আঠারো) বৎসরের ঊর্ধ্ব বয়সের বৈধ ও সৎ সন্তানগণ; এবং

(ঘ) কোন শ্রমিকের সহিত একত্রে বসবাসরত ও তাহার উপর নির্ভরশীল পিতা-মাতা, ভগ্নী, ভ্রাতা, পিতামহ, পিতামহী, মাতামহ, মাতামহী, পৌত্র, পৌত্রী, দৌহিত্র এবং দৌহিত্রীগণ;

(৪) ‘‘প্রবিধান’’ অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত প্রবিধান;

(৫) ‘‘বোর্ড’’ অর্থ তহবিলের পরিচালনা বোর্ড;

(৬) ‘‘সদস্য’’ অর্থ বোর্ডের সদস্য; এবং

(৭) ‘‘শ্রমিক’’ অর্থ বাংলাদেশের চা বাগানে কর্মরত কোন চা শ্রমিক।
 
 
 
  ৩। আইনের প্রাধান্য  
৩। অন্য কোন আইন, বিধি, আদেশ, প্রজ্ঞাপন, চুক্তি বা দলিলাদিতে ভিন্নতর যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইন এবং উহার অধীন প্রণীত প্রবিধানের বিধান কার্যকর থাকিবে, তবে ইহার অধীন কোন কিছুই কোন শ্রমিকের অবসর গ্রহণ বা অক্ষমতা বা মৃত্যুর কারণে তাহার বা তাহার পরিবারের কোন পেনশন, ভবিষ্য তহবিল, গ্র্যাচুইটি বা অন্যান্য সুবিধাদি প্রাপ্তির বিদ্যমান অধিকারকে ক্ষুণ্ণ করিবে না।
 
 
 
  ৪। পরিচালনা বোর্ড গঠন  
৪। (১) এই আইন প্রবর্তনের পর সরকার, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, যথাশীঘ্র সম্ভব, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বাংলাদেশ চা শ্রমিক কল্যাণ তহবিল পরিচালনা বোর্ড নামে একটি বোর্ড গঠন করিবে।

(২) নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে পরিচালনা বোর্ড গঠিত হইবে, যথা :-

(ক) চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ চা বোর্ড, পদাধিকারবলে, যিনি উহার চেয়ারম্যানও হইবেন;

(খ) বাংলাদেশ চা সংসদের সদস্যগণের মধ্য হইতে ২ (দুই) জনপ্রতিনিধি;

(গ) বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্যগণের মধ্য হইতে ২ (দুই) জন প্রতিনিধি;

(ঘ) শ্রম পরিদপ্তরের ১ (এক) জন উপযুক্ত প্রতিনিধি;

(ঙ) চা বাগান বিষয়ে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ১ (এক) জন উপযুক্ত প্রতিনিধি;

(চ) বাংলাদেশ চা বোর্ডের ১ (এক) জন কর্মকর্তা, যিনি উহার সদস্য-সচিবও হইবেন।

(৩) উপ-ধারা (২) এর দফা (ক) ব্যতীত অন্যান্য দফাসমূহে উল্লিখিত সদস্যগণ সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন তাহাদের নিযুক্তির তারিখ হইতে ৩ (তিন) বৎসর মেয়াদে স্বীয় পদে বহাল থাকিবেন।

(৪) উপ-ধারা (৩) এ যাহা কিছুই থাকুন না কেন, সরকার উক্ত মেয়াদ শেষ হইবার পূর্বেও কোন কারণ দর্শানো ব্যতিরেকে উক্তরূপ কোন সদস্যকে তাহার পদ হইতে অব্যাহতি প্রদান করিতে পারিবে।

(৫) বোর্ডের কোন সদস্য চেয়ারম্যান বরাবর স্বহস্তে লিখিত পত্রযোগে স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে পারিবেন :

তবে শর্ত থাকে যে, চেয়ারম্যান কর্তৃক গৃহীত না হওয়া পর্যন্ত কোন পদত্যাগ কার্যকর হইবে না।
 
 
 
  ৫। বোর্ডের সভা  
৫। (১) এই ধারার অন্যান্য বিধানাবলী সাপেক্ষে, বোর্ড উহার সভার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে।

(২) বোর্ডের সভা চেয়ারম্যান কর্তৃক নির্ধারিত তারিখ, সময় ও স্থানে অনুষ্ঠিত হইবে।

(৩) চেয়ারম্যান বোর্ডের সকল সভায় সভাপতিত্ব করিবেন এবং তাহার অনুপস্থিতিতে তদকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন সদস্য উক্ত সভায় সভাপতিত্ব করিবেন।

(৪) অন্যূন ৩ (তিন) জন সদস্যের উপস্থিতিতে বোর্ডের সভার কোরাম গঠিত হইবে।

(৫) বোর্ডের সভায় প্রত্যেক সদস্যের একটি করিয়া ভোট থাকিবে এবং ভোটের সমতার ক্ষেত্রে সভায় সভাপতিত্বকারী ব্যক্তির দ্বিতীয় বা নির্ণায়ক ভোট প্রদানের ক্ষমতা থাকিবে।

(৬) বোর্ডের কোন কার্য বা কার্যধারা কেবল উক্ত বোর্ডের কোন সদস্য পদে শূন্যতা বা বোর্ড গঠনে ক্রটি থাকিবার কারণে অবৈধ হইবে না এবং তদসম্পর্কে কোন প্রশ্নও উত্থাপন করা যাইবে না।
 
 
 
  ৬। বোর্ডের ক্ষমতা  
৬। বোর্ডের নিম্নরূপ ক্ষমতা থাকিবে, যথা :-

(ক) সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, শ্রমিকগণ ও তাহাদের পরিবারের কল্যাণের জন্য বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ এবং উক্তরূপ প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য তহবিল হইতে অনুদান মঞ্জুর;

(খ) তহবিলের অর্থ সরকারের সঞ্চয় স্কীম বা সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে অন্য কোন লাভজনক খাতে বিনিয়োগ;

(গ) এই আইন ও প্রবিধানের বিধান অনুযায়ী শ্রমিকগণ বা তাহাদের পরিবারকে তহবিল হইতে অনুদান মঞ্জুর;

(ঘ) তহবিল পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনাসহ প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত অন্যান্য ব্যয় মঞ্জুর; এবং

(চ) তহবিল পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার জন্য প্রয়োজনীয় সকল কার্য-সম্পাদন।
 
 
 
  ৭। তহবিল  
৭। (১) বাংলাদেশ চা শ্রমিক কল্যাণ তহবিল নামে বোর্ডের একটি তহবিল থাকিবে এবং উহাতে নিম্নবর্ণিত উৎস হইতে প্রাপ্ত অর্থ জমা হইবে, যথা :-

(ক) ধারা ১৬ এর অধীন রহিত Ordinance এর section 7 এর sub-section (2) এর clause (a) এর অধীন বোর্ড কর্তৃক প্রদত্ত ১ (এক) কোটি টাকাসহ রক্ষিত সমুদয় অর্থ;

(খ) সরকার কর্তৃক প্রদত্ত অনুদান বা দান;

(গ) চা বাগান, বা কোন স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বা কোন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি কর্তৃক প্রদত্ত অনুদান বা দান;

(ঘ) তহবিলের অর্থ বিনিয়োগ হইতে প্রাপ্ত আয়; এবং

(ঙ) অন্য কোন বৈধ উৎস হইতে প্রাপ্ত অর্থ।

(২) তহবিলের অর্থ, বোর্ডের অনুমোদনক্রমে, কোন তফসিলি ব্যাংকে জমা রাখিতে হইবে।

(৩) বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতিতে তহবিল পরিচালিত হইবে।

(৪) তহবিলের অর্থ হইতে বোর্ড পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহ করা হইবে।

ব্যাখ্যা। উপ-ধারা (২) এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, ‘তফসিলি ব্যাংক’ অর্থ Bangladesh Bank Order, 1972 (P.O. No. 127 of 1972) এর Article 2(j) তে সংজ্ঞায়িত Scheduled Bank।
 
 
 
  ৮। মৃত্যু ও স্থায়ী অক্ষমতার ক্ষেত্রে এককালীন অনুদান সহায়তা প্রদান  
৮। যদি কোন শ্রমিক-

(ক) নিজ দায়িত্ব পালনকালে শারীরিক বা মানসিকভাবে প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত চিকিৎসা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক স্থায়ীরূপে অক্ষম বলিয়া ঘোষিত হন এবং সেই কারণে চাকুরী হইতে অবসরপ্রাপ্ত, অপসারিত বা অব্যাহতিপ্রাপ্ত হন; অথবা

(খ) চাকুরীরত অবস্থায় কিংবা চাকুরী হইতে অবসর গ্রহণ করিয়া থাকিলে অবসর গ্রহণের তারিখ হইতে ৫ (পাঁচ) বৎসরের মধ্যে মৃত্যুবরণ করেন,

তাহা হইলে উক্ত শ্রমিকের মৃত্যুর ক্ষেত্রে তাহার স্ত্রী বা স্ত্রীগণ বা স্বামীকে তহবিল হইতে প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পরিমাণ অর্থ এককালীন অনুদান সহায়তা হিসাবে মঞ্জুর করা যাইবে।
 
 
 
  ৯। বিবাহ অনুদান  
৯। মৃত বা স্থায়ীভাবে অক্ষম বা চরম দুর্দশাগ্রস্থ কোন শ্রমিকের কন্যার বিবাহের জন্য বোর্ড তহবিল হইতে কল্যাণমূলক অনুদান মঞ্জুর করিতে পারিবে।
 
 
 
  ১০। শিক্ষা অনুদান  
১০। (১) চাকুরীরত, মৃত বা স্থায়ীভাবে অক্ষম কোন শ্রমিকের সন্তানদের শিক্ষার জন্য বোর্ড মাসিক ভিত্তিতে ১ (এক) বৎসর মেয়াদের জন্য কল্যাণমূলক অনুদান মঞ্জুর করিতে পারিবে।

(২) সফলভাবে কোর্স সমাপ্তির জন্য প্রয়োজনীয় বিবেচিত হইলে, উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রদত্ত কল্যাণমূলক অনুদান বোর্ড কর্তৃক বাৎসরিক ভিত্তিতে নবায়নযোগ্য হইবে।
 
 
 
  ১১। বিশেষ অনুদান  
১১। (১) বোর্ড, তহবিল হইতে কোন শ্রমিক বা তাহার পরিবারকে নিম্নবর্ণিত সকল বা যে কোন একটি উদ্দেশ্যে বিশেষ কল্যাণমূলক অনুদান মঞ্জুর করিতে পারিবে, যথা:

(ক) রক্ত পরিসঞ্চালনসহ যে কোন ধরনের চিকিৎসা সহায়তা;

(খ) চশমা এবং শরীরের জন্য সহায়ক অন্যান্য সরঞ্জামাদি ক্রয়;

(গ) দাফন বা অন্ত্যোষ্টিক্রিয়া;

(ঘ) শারীরিক আঘাত বা দুর্ঘটনাজনিত ক্ষতির জন্য সহায়তা; এবং

(ঙ) পাঠ্যপুস্তক ক্রয়।

(২) বোর্ড কোন শ্রমিকের চরম আর্থিক দূরবস্থার ক্ষেত্রে কোন শ্রমিক বা তাহার পরিবারকে উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত অনুদান ছাড়াও তহবিল হইতে বিশেষ কল্যাণমূলক অনুদান মঞ্জুর করিতে পারিবে।
 
 
 
  ১২। কল্যাণ অনুদানের পরিমাণ  
১২। ধারা ৯, ১০ এবং ১১ এর অধীন বিশেষ কল্যাণমূলক অনুদান প্রবিধান দ্বারা যে হারে নির্ধারিত থাকিবে সেই হারে এবং কোন ক্ষেত্রে উক্ত হার নির্ধারিত না থাকিলে বোর্ড কর্তৃক উহার গুরুত্ব বিবেচনা করিয়া নির্ধারিত হারে প্রদেয় হইবে।
 
 
 
  ১৩। হিসাবরক্ষণ ও নিরীক্ষা  
১৩। তহবিলের হিসাব, সরকার কর্তৃক, বাংলাদেশের মহা-হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের সহিত আলোচনাক্রমে নির্দেশিত পদ্ধতিতে, বোর্ড কর্তৃক, সময় সময় এতদুদ্দেশ্যে নিয়োজিত কর্মকর্তা বা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সংরক্ষণ করিতে হইবে।
 
 
 
  ১৪। কর প্রদান হইতে অব্যাহতি  
১৪। সরকার, লিখিত আদেশ দ্বারা, তহবিলকে সরকার বা কোন স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক আরোপিতব্য যে কোন কর, রেট বা ডিউটি হইতে অব্যাহতি প্রদান করিতে পারিবে।
 
 
 
  ১৫। প্রবিধান প্রণয়নের ক্ষমতা  
১৫। এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, বোর্ড, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে।
 
 
 
  ১৬। রহিতকরণ ও হেফাজত  
১৬। (১) The Bangladesh Cha Sramik Kallyan Fund Ordinance, 1986 (Ordinance No. LXII of 1986), অত:পর উক্ত Ordinance বলিয়া উল্লিখিত, এতদ্বারা রহিত করা হইল।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন রহিতকরণ সত্ত্বেও, উক্ত Ordinance এর অধীন -

(ক) কৃত কোন কার্য বা গৃহীত কোন ব্যবস্থা এই আইনের অধীনকৃত বা গৃহীত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে;

(খ) বোর্ড কর্তৃক বা উহার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত কোন মামলা বা গৃহীত কার্যধারা বা সূচিত কোন কার্যক্রম অনিষ্পন্ন থাকিলে উহা এমনভাবে নিষ্পন্ন করিতে হইবে যেন উহা এই আইনের অধীন দায়েরকৃত বা গৃহীত বা সূচিত হইয়াছে;

(গ) গঠিত ফান্ডের -

(অ) সকল সম্পদ, অধিকার, ক্ষমতা এবং উক্ত ফান্ডের সকল হিসাব বহি, রেজিস্ট্রার, রেকর্ডপত্রসহ সকল দলিল-দস্তাবেজ এই আইন প্রবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বোর্ডে হস্তান্তরিত হইবে; এবং

(আ) নগদ অর্থ, বিনিয়োগকৃত অর্থ ও ব্যাংক জমা এই আইন প্রবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তহবিলে হস্তান্তরিত হইবে।

(৩) উক্ত Ordinance রহিত হওয়া সত্ত্বেও, উহার অধীন প্রণীত কোন প্রবিধানমালা, প্রদত্ত কোন মঞ্জুরী, জারিকৃত কোন প্রজ্ঞাপন, প্রদত্ত কোন আদেশ, নির্দেশ বা অনুমোদন, প্রণীত সকল কার্যক্রম এবং রক্ষিত কোন নিরীক্ষা ও হিসাব উপ-ধারা (১) এর অধীন রহিতের অব্যবহিত পূর্বে বলবৎ থাকিলে, এই আইনের কোন বিধানের সহিত অসামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়া সাপেক্ষে, এই আইনের অনুরূপ বিধানের অধীন প্রণীত, প্রদত্ত, অনুমোদিত, জারিকৃত ও রক্ষিত বলিয়া গণ্য হইবে এবং এই আইনের অধীন রহিত বা সংশোধিত না হওয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকিবে।
 
 
 
 
 

Copyright © 2010, Legislative and Parliamentary Affairs Division
Ministry of Law, Justice and Parliamentary Affairs