THE

  [২৬ জুলাই, ২০১৬]
 
   
     
    
Petroleum Act, 1934 রহিতক্রমে কতিপয় সংশোধনসহ উহা পুনঃ প্রণয়নের উদ্দেশ্যে প্রণীত আইন
 
    যেহেতু পেট্রোলিয়াম এবং অন্যান্য প্রজ্জ্বলনীয় পদার্থ আমদানি, পরিবহন, মজুদ, উৎপাদন, শোধন, মিশ্রণ বা প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে পুনঃব্যবহার উপযোগীকরণ, বিপণন ও বিতরণ সম্পর্কিত বিধান প্রণয়নকল্পে Petroleum Act, 1934 (Act No. XXX of 1934) রহিতক্রমে কতিপয় সংশোধনসহ উহা পুনঃপ্রণয়ন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়;


সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল :-
   
 
  CHAPTER প্রথম অধ্যায়

প্রারম্ভিক
 
  ১। সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তন  
১। (১) এই আইন পেট্রোলিয়াম আইন, ২০১৬ নামে অভিহিত হইবে।

(২) ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে।
 
 
 
  ২। সংজ্ঞা  
২। বিষয় বা প্রসংগের পরিপন্থি কোনো কিছু না থাকিলে এই আইনে,-

(১) ‘‘আমদানি’’ অর্থ স্থল, জল বা আকাশপথে বাংলাদেশে পেট্রোলিয়াম আনয়ন;

(২) ‘‘আড়তদার (stockist)’’ অর্থ কোনো ব্যক্তি, যিনি, সরকারের অনুমোদনক্রমে, কোনো তৈল বিপণন কোম্পানি কর্তৃক প্রথম বা দ্বিতীয় শ্রেণির পেট্রোলিয়াম মজুদের উদ্দেশ্যে, এবং এজেন্ট ও ডিলারদের মধ্যে বিতরণের কাজে আড়তদার হিসাবে নিয়োজিত;

(৩) ‘‘এজেন্ট’’ অর্থ তৈল বিপণন কোম্পানির ক্ষেত্রে, কোনো ব্যক্তি, যিনি, সরকারের অনুমোদনক্রমে, কোনো তৈল বিপণন কোম্পানি কর্তৃক দ্বিতীয় বা তৃতীয় শ্রেণির পেট্রোলিয়ামের ব্যবসা করিবার উদ্দেশ্যে এজেন্ট হিসাবে নিয়োজিত;

(৪) ‘‘ডিলার’’ অর্থ কোনো ব্যক্তি, যিনি, সরকারের অনুমোদনক্রমে, কোনো তৈল বিপণন কোম্পানি কর্তৃক প্রথম শ্রেণির পেট্রোলিয়ামের ব্যবসা করিবার উদ্দেশ্যে ডিলার হিসাবে নিয়োজিত;

(৫) ‘‘তৃতীয় শ্রেণির পেট্রোলিয়াম’’ অর্থ এমন পেট্রোলিয়াম যাহার জ্বলনাঙ্ক ৬২ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের নিম্নে নহে;

(৬) ‘‘তৈল বিপণন কোম্পানি’’ অর্থ সরকার কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো কোম্পানি, সংস্থা বা অন্য কোনো ব্যক্তি, বা তদ্‌কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো কোম্পানি, সংস্থা বা অন্য কোনো ব্যক্তি যাহার বাংলাদেশে পেট্রোলিয়াম বিপণনের অধিকার রহিয়াছে;

(৭) ‘‘দ্বিতীয় শ্রেণির পেট্রোলিয়াম’’ অর্থ এমন পেট্রোলিয়াম যাহার জ্বলনাঙ্ক অন্যূন ২৩ ডিগ্রি এবং অনধিক ৬১ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড;

(৮) ‘‘পরিবহন’’ অর্থ বাংলাদেশের মধ্যে স্থল, জল বা আকাশপথে এক স্থান হইতে অন্যস্থানে পেট্রোলিয়াম স্থানান্তরকরণ;

(৯) ‘‘পেট্রোলিয়াম’’ অর্থ তরল হাইড্রোকার্বন বা হাইড্রোকার্বনের মিশ্রণ, ও তরল হাইড্রোকার্বন সম্বলিত প্রজ্জ্বলনীয় পর্দা ও মিশ্রণ (তরল, আঠালো বা কঠিন);

(১০) ‘‘প্রথম শ্রেণির পেট্রোলিয়াম’’ অর্থ এমন পেট্রোলিয়াম যাহার জলনাঙ্ক ২৩ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের নিম্নে;

(১১) ‘‘প্রধান বিস্ফোরক পরিদর্শক’’ অর্থ প্রধান বিস্ফোরক পরিদর্শক, বাংলাদেশ (Chief Inspector of Explosives in Bangladesh);

(১২) ‘‘পেট্রোলিয়ামের জ্বলনাঙ্ক (flashing point)’’ অর্থ যে কোনো পেট্রোলিয়ামের ক্ষেত্রে, এমন পেট্রোলিয়াম যাহা-

(ক) সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় এমন পরিমাণ বাষ্প উৎপন্ন করে যাহাতে প্রজ্জ্বলন প্রয়োগ করা হইলে উহা ক্ষণস্থায়ী ঝলক (Momentary flash) সৃষ্টি করে; এবং

(খ) এই আইন ও তদ্‌ধীন প্রণীত বিধি অনুসারে নির্ধারিত হয়;

(১৩) ‘‘ফৌজদারী কার্যবিধি’’ অর্থ Code of Criminal Procedure, 1898 (Act No V of 1898);

(১৪) ‘‘বিধি’’ অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি;

(১৫) ‘‘ব্যক্তি’’ অর্থে যে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান, কোম্পানি, অংশীদারী কারবার, ফার্ম বা অন্য কোনো সংস্থাও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;

(১৬) ‘‘মজুদকরণ’’অর্থ কোনো স্থানে পেট্রোলিয়াম সংরক্ষণ করা, তবে পরিবহনের সময় কোনো স্থানে পেট্রোলিয়াম রাখা হইলে উহা ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে না;

(১৭) ‘‘মোটরযান’’ অর্থ চালিকাশক্তি উৎপাদনে পেট্রোলিয়াম ব্যবহৃত হয় এমন কোনো জলযান, স্থলযান বা উড়োজাহাজ যাহার দ্বারা জল, স্থল বা আকাশপথে কোনো মানুষ, জীবজন্তু বা পণ্যসামগ্রী, পরিবহন করা হয়;

(১৮) ‘‘লাইসেন্স’’ অর্থ এই আইনের অধীন প্রদত্ত লাইসেন্স;

(১৯) ‘‘লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ’’ অর্থ ধারা ১১ এর অধীন গঠিত লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ।
 
 
 
  ৩। আইনের প্রাধান্য  
৩। আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইন বা আইনের মর্যাদাসম্পন্ন অন্য কোনো আইনগত দলিলে ভিন্নতর যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের বিধানাবলী প্রাধান্য পাইবে।
 
  CHAPTER দ্বিতীয় অধ্যায়

পেট্রোলিয়ামের উপর নিয়ন্ত্রণ
 
  ৪। পেট্রোলিয়াম আমদানি, পরিবহন, মজুদ ও বিতরণ  
৪। কোনো ব্যক্তি -

(ক) ধারা ৩১ এর অধীন প্রণীত বিধির বিধানবলী অনুসরণ ব্যতীত পেট্রোলিয়াম আমদানি, পরিবহন, মজুদ বা বিতরণ, বা

(খ) লাইসেন্স ও উহাতে বিধৃত শর্ত প্রতিপালন ব্যতীত প্রথম শ্রেণির পেট্রোলিয়াম আমদানি, এবং কোনো পেট্রোলিয়াম পরিবহন, মজুদ বা বিতরণ, করিতে পারিবে না।
 
 
 
  ৫। পেট্রোলিয়াম উৎপাদন, শোধন, মিশ্রণ, ইত্যাদি  
৫। ধারা ৩১ এর অধীন প্রণীত বিধির বিধানাবলী অনুসরণ ব্যতীত, পেট্রোলিয়াম উৎপাদন, শোধন, মিশ্রণ বা প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে পুনঃব্যবহার করা যাইবে না।
 
 
 
  ৬। কতিপয় ক্ষেত্রে লাইসেন্সের প্রয়োজন হইবে না  
৬। এই অধ্যায়ে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, নিম্ন বর্ণিত ক্ষেত্রে লাইসেন্সের প্রয়োজন হইবে না, যথা :-

(ক) অনধিক ২০০০ (দুই হাজার) লিটার পরিমাণ দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির পেট্রোলিয়াম মজুদ বা পরিবহন :

তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত পেট্রোলিয়াম ১০০০ (এক হাজার) লিটার বা উহার কম ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন পাত্রে সংরক্ষণ (contain) করিতে হইবে;

(খ) বিক্রয়ের উদ্দেশ্য ব্যতীত অনধিক ২৫ (পঁচিশ) লিটার পরিমাণ প্রথম শ্রেণির পেট্রোলিয়াম মজুদ, পরিবহন বা আমদানি:

তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত পেট্রোলিয়াম দৃঢ়ভাবে মুখ বন্ধ কোনো প্লাস্টিক, পাথর বা ধাতব পাত্রে নিম্নলিখিত পদ্ধতি অনুযায়ী সংরক্ষণ করিতে হইবে, যথা:-

(অ) প্লাস্টিক বা পাথরের পাত্রের ক্ষেত্রে ১ (এক) লিটার, এবং

(আ) ধাতব পাত্রের ক্ষেত্রে ২৫ (পঁচিশ) লিটার, পরিমাণের অধিক হইবে না;

(গ) বাহক (carrier) হিসাবে Railways Act, 1890 (Act No. IX of 1890) এর section 3 এর sub-section (6) এ সংজ্ঞায়িত railway administration এর হেফাজতে (possession) রাখা পেট্রোলিয়াম আমদানি বা পরিবহন।
 
 
 
  ৭। মোটরযান বা স্থির ইঞ্জিনের (stationary engines) ক্ষেত্রে লাইসেন্স গ্রহণ হইতে অব্যাহতি  
৭। (১) আপাতত বলবৎ কোনো আইন প্রতিপালনক্রমে নিবন্ধন ও লাইসেন্স গ্রহণ করা হইয়াছে এমন কোনো মোটরযানের স্বত্ত্বাধিকারী বা উহার চালক বা পাইলট বা, কোনো স্থির অন্তর্দাহ ইঞ্জিনের স্বত্ত্বাধিকারীর নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে লাইসেন্স গ্রহণ প্রয়োজন হইবে না, যদি-

(ক) মোটরযানের মধ্যে নিবিষ্ট অথবা অন্তর্দাহ ইঞ্জিনের সহিত সংযুক্ত জ্বালানি ট্যাংকে ধারণকৃত পেট্রোলিয়াম আমদানি, পরিবহন বা মজুদ করা হয়; বা

(খ) দফা (ক) এর অধীন অধিকারে রাখা পেট্রোলিয়ামের অতিরিক্ত অনূর্ধ্ব ৯০ (নববই) লিটার প্রথম শ্রেণির পেট্রোলিয়াম মজুদ বা পরিবহন করা হয়:

তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত পেট্রোলিয়াম মোটরযান বা ইঞ্জিনের চালিকাশক্তি উৎপাদনে ব্যবহারের জন্য হইতে হইবে;

(২) উক্ত স্বত্ত্বাধিকারীর অন্য কোনো মোটরযান বা ইঞ্জিন থাকা সত্ত্বেও, লাইসেন্স বিহীনভাবে ধারণকৃত প্রথম শ্রেণির পেট্রোলিয়াম মজুদের পরিমাণ দফা (খ)তে উল্লিখিত পরিমাণের অধিক হইবে না।

(৩) উপ-ধারা (১) এর দফা (ক) এর অধীন লাইসেন্স ব্যতিরেকে প্রথম শ্রেণির পেট্রোলিয়াম মজুদ বা পরিবহনের ক্ষেত্রে ধারা ৬ এর দফা (খ) এর বিধান অনুসরণ করিতে হইবে, এবং উক্ত পেট্রোলিয়ামের পরিমাণ ৫ (পাঁচ) লিটারের বেশি হইলে, যে কক্ষ বা স্থানে লোক বসবাস বা কর্ম সম্পাদন করে বা জমায়েত হয় সেই স্থান হইতে বিচ্ছিন্ন স্থানে মজুদ করিতে হইবে।
 
 
 
  ৮। প্রথম শ্রেণির পেট্রোলিয়ামের আধারে (receptacles) সতর্কবাণী প্রদর্শন  
৮। (১) প্রথম শ্রেণির পেট্রোলিয়ামের সকল আধারের বাহিরতলে অথবা আধারের বাহিরতলে লিপিবদ্ধ করা দুষ্কর বা সম্ভব না হইলে উক্ত আধার যে স্থানে মজুদ রাখা হয় সেই স্থানে ‘‘পেট্রোল’’ বা ‘‘মোটর স্পিরিট’’ প্রথম শ্রেণির প্রকৃতির পেট্রোলিয়ামের সহিত সমার্থক অনুরূপ কোনো সতর্কবাণী এমন সুস্পষ্ট অক্ষরে, খোদাই, অঙ্কন, ছাপা বা মুদ্রণ করিতে হইবে যাহাতে উহা সহজে দৃশ্যমান হয়।

(২) উপ-ধারা (১) এর বিধান নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না, যথা:-

(ক) ৯ (নয়) লিটারের কম ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন দৃঢ়ভাবে মুখ বন্ধ প্লাস্টিক, পাথর বা ধাতবের কোনো আধার যাহাতে বিক্রয়ের জন্য নহে এমন প্রথম শ্রেণির পেট্রোলিয়াম থাকে;

(খ) কোনো মোটরযানের মধ্যে নিবিষ্ট অন্তর্দাহ ইঞ্জিনের সহিত সংযুক্ত ট্যাংক যাহা মোটরযান বা ইঞ্জিনে চালিকাশক্তি উৎপাদনের উদ্দেশ্যে ব্যবহারের নিমিত্ত ধারণ করা হয়;

(গ) পেট্রোলিয়াম পরিবহনের পাইপলাইন;

(ঘ) সম্পূর্ণভাবে ভূগর্ভে স্থাপিত কোনো ট্যাংক; বা

(ঙ) সরকার কর্তৃক, সময় সময়, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই ধারার কার্যকারিতা হইতে অব্যাহতি প্রদানকৃত এইরূপ কোনো শ্রেণির আধার।
 
 
 
  ৯। অব্যাহতি  
৯। ৯৫ (পঁচানব্বই) ডিগ্রি সেলসিয়াস ও তদূর্ধ্ব জ্বলনাঙ্কের পেট্রোলিয়াম মজুদ, পরিবহন এবং আমদানির ক্ষেত্রে এই আইনের বিধানাবলী প্রযোজ্য হইবে না।
 
 
 
  ১০। স্থান পরিদর্শন  
১০। (১) সরকার কোনো কর্মকর্তাকে তাহার নাম বা পদবিতে, পেট্রোলিয়াম আমদানি, মজুদ, বিতরণ, উৎপাদন, শোধন, মিশ্রণ বা প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে পুনঃব্যবহারোপযোগীর স্থান বা পরিবহনরত যানে প্রবেশের, এবং এই অধ্যায় ও বিধির বিধানাবলী অনুসারে উক্ত পেট্রোলিয়ামের সহিত সংশ্লিষ্ট সকল ধারণপাত্র, প্ল্যান্ট এবং সরঞ্জামাদিতে যথাযথভাবে ব্যবহৃত হইতেছে কিনা উহা নিশ্চিত করিবার উদ্দেশ্যে উহা পরিদর্শনের ক্ষমতা প্রদান করিতে পারিবে।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তার প্রবেশ ও পরিদর্শনের কর্মপদ্ধতি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
 
  CHAPTER তৃতীয় অধ্যায়

লাইসেন্স, ইত্যাদি
 
  ১১। লাইসেন্স, ইত্যাদি  
১১। (১) লাইসেন্স প্রদানের জন্য লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ হইবে প্রধান বিস্ফোরক পরিদর্শক বা তদ্‌কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্য কোনো বিস্ফোরক পরিদর্শক।

(২) লাইসেন্সের জন্য প্রতিটি আবেদন লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষের নিকট দাখিল করিতে হইবে।

(৩) লাইসেন্সের জন্য আবেদন, লাইসেন্স নবায়ন, সংরক্ষণ, প্রদর্শন, স্থগিতকরণ, বাতিল ও এতদ্‌সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়াদি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
 
 
 
  ১২। লাইসেন্স ইস্যুকরণ  
১২। লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতি, মেয়াদ ও শর্তে এবং ফি প্রদান সাপেক্ষে, লাইসেন্স ইস্যু করিবে।
 
  CHAPTER চতুর্থ অধ্যায়

পেট্রোলিয়াম পরীক্ষণ
 
  ১৩। পেট্রোলিয়ামের নমুনা সংগ্রহ  
১৩। (১) সরকার কোনো কর্মকর্তাকে তাহার নাম বা পদবিতে, পেট্রোলিয়াম আমদানি, পরিবহন, মজুদ, বিতরণ, উৎপাদন, শোধন, মিশ্রণ বা প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে পুনঃব্যবহারের স্থানে প্রবেশ, পরিদর্শন এবং পরীক্ষণের নিমিত্ত উক্ত স্থানে প্রাপ্ত পেট্রোলিয়ামের নমুনা সংগ্রহের ক্ষমতা প্রদান করিতে পারিবে।

(২) পরীক্ষণের নিমিত্ত পেট্রোলিয়ামের নমুনা সংগ্রহ, সংগৃহীত নমুনার মূল্য পরিশোধ, এবং নমুনা সংগ্রহের জন্য ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তার প্রবেশ, পরিদর্শন ও পরীক্ষণের কর্মপদ্ধতি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
 
 
 
  ১৪। আদর্শ পরীক্ষণ সরঞ্জাম  
১৪। (১) সরকার কর্তৃক, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এতদুদ্দেশ্যে নিযুক্ত কর্মকর্তার নিকট পেট্রোলিয়ামের জ্বলনাঙ্ক নির্ণয়ের আদর্শ পরীক্ষণ সরঞ্জাম (Standard Test Apparatus) সংরক্ষিত থাকিবে।

(২) উক্ত সরঞ্জামে ‘‘আদর্শ পরীক্ষণ সরঞ্জাম’’ শব্দগুলি দৃঢ়ভাবে মুদ্রিত বা খোদাই করা থাকিবে, এবং বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে উহা যাচাই ও সংশোধনসহ, প্রয়োজনে, উহা প্রতিস্থাপন করিতে হইবে।

(৩) কোনো ব্যক্তি যুক্তিসঙ্গত যে কোনো সময়ে সরকার কর্তৃক, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, নির্ধারিত ফি প্রদানপূর্বক, আদর্শ পরীক্ষণ সরঞ্জাম পরিদর্শন করিতে পারিবে এবং উক্ত উদ্দেশ্যে উক্ত সরঞ্জাম পরিদর্শনের নিমিত্ত উন্মুক্ত রাখিতে হইবে।
 
 
 
  ১৫। পরীক্ষণ সরঞ্জামের সনদপত্র প্রদান  
১৫। (১) পেট্রোলিয়ামের জ্বলনাঙ্ক নির্ধারণের জন্য ধারা ১৪ এর অধীন নিযুক্ত কর্মকর্তার নিকট আদর্শ পরীক্ষণ সরঞ্জামের সহিত তুলনা করিবার নিমিত্ত, সরকার কর্তৃক, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, নির্ধারিত ফি প্রদানপূর্বক, যদি থাকে, কোনো সরঞ্জাম দাখিল করা হইলে উক্ত কর্মকর্তা উক্ত সরঞ্জাম তুলনা করিবেন।

(২) যদি কোনো সরঞ্জাম আদর্শ পরীক্ষণ সরঞ্জামের সহিত তুলনা করিয়া বিধি দ্বারা নির্ধারিত সীমার মধ্যে পাওয়া যায়, তাহা হইলে উক্ত কর্মকর্তা উক্ত সরঞ্জামে একটি বিশেষ সংখ্যা এবং তুলনা করিবার তারিখ দৃঢ়ভাবে মুদ্রিত বা খোদাই করিয়া দিবেন, এবং বিধি দ্বারা নির্ধারিত ফরমে একটি সনদপত্র প্রদানপূর্বক এই মর্মে প্রত্যয়ন করিবেন যে, সরঞ্জামটি উক্ত তারিখে আদর্শ পরীক্ষণ সরঞ্জামের সহিত তুলনা করা হইয়াছে, এবং উহা বিধি দ্বারা নির্ধারিত সীমার মধ্যে পাওয়া গিয়াছে।

(৩) উপ-ধারা (২) এ প্রদানকৃত সনদপত্রে অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে সরঞ্জামটি দ্বারা পরিচালিত পরীক্ষার ফলাফলে কতটা শুদ্ধিকরণ আবশ্যক তাহা সুনির্দিষ্ট করিয়া দিবেন।

(৩) এই ধারার অধীন প্রদানকৃত সনদপত্র বিধি দ্বারা নির্ধারিত মেয়াদে বৈধ থাকিবে।

(৪) ভিন্নরূপ প্রমাণিত না হইলে, এই ধারার অধীন প্রদানকৃত কোনো সনদপত্র যে মেয়াদের জন্য বৈধ থাকিবে সেই মেয়াদে উক্ত সনদপত্রে উল্লিখিত যে কোনো বিষয়ের প্রমাণ হিসেবে গণ্য হইবে।

(৫) এই ধারার অধীন কোনো কর্মকর্তা কর্তৃক প্রদানকৃত সকল সনদপত্র বিধি দ্বারা নির্ধারিত একটি নিবন্ধন বহিতে সংরক্ষণ করিবেন।
 
 
 
  ১৬। পরীক্ষণ কর্মকর্তা  
১৬। সরকার কোনো কর্মকর্তাকে তাহার নাম বা পদবিতে, এই আইনের অধীন সংগৃহীত বা কোনো ব্যক্তি কর্তৃক পরীক্ষণের নিমিত্ত তাহার নিকট আনীত পেট্রোলিয়ামের নমুনা পরীক্ষণ করিতে, এবং উক্ত পরীক্ষণের ফলাফলের সনদপত্র প্রদানের উদ্দেশ্যে, ক্ষমতা প্রদান করিতে পারিবে।
 
 
 
  ১৭। পরীক্ষণের ধরন  
১৭। এই আইনের অধীন পেট্রোলিয়ামের পরীক্ষণ, ধারা ১৫ এর অধীন বৈধ সনদপত্র প্রাপ্ত পরীক্ষণ সরঞ্জাম দ্বারা, সনদপত্রে নির্ধারিত শুদ্ধি (Correction Specified) যথাযথভাবে বিবেচনাক্রমে, এবং বিধি দ্বারা নির্ধারিত শর্ত ও পদ্ধতি অনুসারে, করিতে হইবে।
 
 
 
  ১৮। পরীক্ষণ সনদ  
১৮। (১) পেট্রোলিয়ামের নমুনা পরীক্ষণ করিবার পর, পরীক্ষণ কর্মকর্তা সরকার কর্তৃক, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, নির্ধারিত ফরমে প্রথম শ্রেণি, দ্বিতীয় শ্রেণি বা তৃতীয় শ্রেণির পেট্রোলিয়াম এবং দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির পেট্রোলিয়ামের ক্ষেত্রে উহার জ্বলনাঙ্ক উল্লেখপূর্বক একটি সনদপত্র প্রদান করিবেন।

(২) পরীক্ষণ কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অনুরোধে, বিধি দ্বারা নির্ধারিত ফি প্রদান সাপেক্ষে, উক্ত সনদপত্রের সত্যায়িত কপি প্রদান করিবেন এবং এইরূপ সত্যায়িত কপি মূল সনদে উল্লিখিত বিষয়ের প্রমাণ হিসাবে আদালতে উপস্থাপন করা যাইবে।

(৩) এই ধারার অধীন সংগৃহীত পেট্রোলিয়ামের নমুনা বা প্রদত্ত সনদপত্র কোনো কার্যধারায় প্রমাণ হিসাবে গ্রহণযোগ্য হইবে, এবং ভিন্নরূপ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত উক্ত পেট্রোলিয়াম, প্রথম শ্রেণি বা, ক্ষেত্রমত, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় শ্রেণির পেট্রোলিয়ামের ক্ষেত্রে উহার জ্বলনাঙ্কের চূড়ান্ত প্রমাণ হিসাবে গণ্য হইবে।
 
 
 
  ১৯। পুনঃপরীক্ষণের অধিকার  
১৯। (১) পেট্রোলিয়ামের মালিক বা তাহার প্রতিনিধি পেট্রোলিয়াম পরীক্ষণের ফলাফলে অসন্তুষ্ট হইলে, তিনি পরীক্ষণের ফলাফল গ্রহণের ৭ (সাত) দিনের মধ্যে ধারা ১৩ এর অধীন ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট নূতনভাবে পেট্রোলিয়ামের নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষণের নিমিত্ত আবেদন করিতে পারিবেন।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন কৃত আবেদন, নির্ধারিত ফি প্রদানপূর্বক, দাখিল করা হইলে, উক্ত মালিক বা তাহার প্রতিনিধি বা তদ্‌কর্তৃক নিযুক্ত কোনো ব্যক্তির উপস্থিতিতে নূতনভাবে পেট্রোলিয়ামের নমুনা সংগ্রহ করিতে হইবে, এবং উক্ত মালিক বা তাহার প্রতিনিধি বা তদ্‌কর্তৃক নিযুক্ত ব্যক্তির উপস্থিতিতে পরীক্ষণ সম্পন্ন করিতে হইবে।

(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন কৃত পুনঃপরীক্ষণে যদি প্রতীয়মানয় হযে, পূর্বের পরীক্ষণ ক্রটিপূর্ণ ছিল, তাহা হইলে পরীক্ষণ কর্মকর্তা ধারা ১৮ এর অধীন প্রদানকৃত মূল সনদপত্র বাতিলপূর্বক একটি নূতন সনদপত্র ইস্যু করিবেন, এবং পেট্রোলিয়ামের মালিক বা তাহার প্রতিনিধিকে, কোনো ফি প্রদান ব্যতিরেকে, উহার সত্যায়িত কপি প্রদান করিবেন।
 
  CHAPTER পঞ্চম অধ্যায়

অপরাধ, দণ্ড, ইত্যাদি
 
  ২০। এই আইনের বিধান লঙ্ঘন করিবার দণ্ড  
২০। (১) যদি-

(ক) কোনো ব্যক্তি দ্বিতীয় অধ্যায়ের কোনো বিধান বা তদ্‌সংশ্লিষ্ট প্রণীত বিধির বিধানাবলী লঙ্ঘনপূর্বক পেট্রোলিয়াম আমদানি, পরিবহন, মজুদ, বিতরণ, উৎপাদন, শোধন, মিশ্রণ বা প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে পুনঃব্যবহার করেন; বা

(খ) কোনো ব্যক্তি ধারা ৪ বা ধারা ৫ এর সহিত সংশ্লিষ্ট ধারা ৩১ এর অধীন প্রণীত কোনো বিধির বিধানাবলী লঙ্ঘন করেন; বা

(গ) লাইসেন্স গ্রহীতা বা তদ্‌কর্তৃক পেট্রোলিয়াম আমদানি, মজুদ, বিতরণের স্থান বা পরিবহনরত যানের নিয়ন্ত্রণে বা তত্ত্বাবধানে নিযুক্ত কোনো ব্যক্তি লাইসেন্সের কোনো শর্ত লঙ্ঘন করেন; বা

(ঘ) কোনো পেট্রোলিয়াম আমদানি, মজুদ, বিতরণ, উৎপাদন, শোধন, মিশ্রণ বা প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে পুনঃব্যবহারের স্থান বা পরিবহনরত যানের আপাতত নিয়ন্ত্রণে বা দায়িত্বে নিযুক্ত কোনো ব্যক্তি ধারা ১৩ এর অধীন ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তাকে -

(অ) উক্ত স্থানে বা, ক্ষেত্রমত, যানে কোনো পেট্রোলিয়াম পরিদর্শনের সময় বা উক্ত পরিদর্শনে যুক্তিসঙ্গত সহযোগিতা প্রদানে অস্বীকার বা অবহেলা করেন, অথবা

(আ) পেট্রোলিয়ামের নমুনা সংগ্রহ করিতে অসহযোগিতা করেন;

(ঙ) ধারা ২৪ এর অধীন সংঘটিত কোনো দুর্ঘটনার সংবাদ প্রদানে ব্যর্থ হন,

তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তির উক্ত কার্য হইবে একটি অপরাধ, এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ০৬ (ছয়) মাস কারাদণ্ড বা অনধিক ১০ (দশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।

(২) যদি পেট্রোলিয়াম আমদানি, মজুদ, বিতরণ, উৎপাদন, শোধন, মিশ্রণ বা প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে পুনঃব্যবহারের স্থান বা পরিবহনরত যানের আপাতত নিয়ন্ত্রণে বা দায়িত্বে নিযুক্ত কোনো ব্যক্তি ধারা ১০ এর অধীন ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তাকে-

(অ) উক্ত স্থান বা, ক্ষেত্রমত, যান পরিদর্শনে বাধা প্রদান করেন বা যুক্তিসঙ্গত সহযোগিতা প্রদানে ব্যর্থ হন, অথবা

(আ) উক্ত পেট্রোলিয়ামের সহিত সংশ্লিষ্ট যে কোনো ধারণপাত্র, প্ল্যান্ট বা সরঞ্জামাদি প্রদর্শন করিতে অস্বীকার বা অবহেলা করেন,

তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তির উক্ত কার্য হইবে একটি অপরাধ, এবং তজ্জন্য তিনি উপ-ধারা (১) এ বর্ণিত দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।

(৩) উপ-ধারা (১) ও (২) এ উল্লিখিত কোনো অপরাধের জন্য কোনো ব্যক্তি দ্বিতীয় বার বা পুনঃপুন একই ধরনের অপরাধ সংঘটন করিলে তিনি পর্যায়ক্রমিকভাবে উক্ত দণ্ডের দ্বিগুণ হারে দণ্ডিত হইবেন।
 
 
 
  ২১। পেট্রোলিয়াম এবং ধারণপাত্র বাজেয়াপ্তকরণ  
২১। ধারা ২০ এর উপ-ধারা (১) এর দফা (ক), (খ) বা (গ) এর অধীন কোনো অপরাধ সংঘটিত হইলে দণ্ড প্রদানকারী মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা প্রথম বা দ্বিতীয় শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট-

(ক) অপরাধের সহিত সংশ্লিষ্ট পেট্রোলিয়াম, বা

(খ) পেট্রোলিয়াম আমদানি, পরিবহন, মজুদ ও বিতরণের জন্য অনুমোদিত পরিমাণ অপেক্ষা অধিক পরিমাণ পেট্রোলিয়াম আমদানি বা, ক্ষেত্রমত, পরিবহন, মজুদ বা বিতরণের জন্য দণ্ডপ্রাপ্ত হইলে, উক্ত পেট্রোলিয়ামের মধ্যে যে পরিমাণ পেট্রোলিয়াম অপরাধের সহিত সংশ্লিষ্ট সেই পরিমাণ পেট্রোলিয়াম,

উহার ধারণপাত্রসহ বাজেয়াপ্তির নির্দেশ প্রদান করিবেন।
 
 
 
  ২২। কোম্পানি কর্তৃক অপরাধ সংঘটন  
২২। (১) কোন কোম্পানি কর্তৃক কোনো অপরাধ সংঘটনের ক্ষেত্রে, উক্ত অপরাধের সহিত প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতা রহিয়াছে কোম্পানির এইরূপ প্রত্যেক পরিচালক, ম্যানেজার, সচিব, অংশীদার, কর্মকর্তা এবং কর্মচারী উক্ত অপরাধ সংঘটন করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে, যদি না তিনি প্রমাণ করিতে পারেন যে, উক্ত অপরাধ তাহার অজ্ঞাতসারে হইয়াছে অথবা উক্ত অপরাধ রোধ করিবার জন্য তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করিয়াছেন।

(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত কোম্পানি আইনগত ব্যক্তিস্বত্বা বিশিষ্ট সংস্থা (Body Corporate) হইলে, উক্ত উপ-ধারায় উল্লিখিত ব্যক্তিকে অভিযুক্ত ও দোষী সাব্যস্ত করা ছাড়াও উক্ত কোম্পানিকে আলাদাভাবে একই কার্যধারায় অভিযুক্ত ও দোষী সাব্যস্ত করা যাইবে, তবে ফৌজদারি মামলায় উহার উপর সংশ্লিষ্ট বিধান অনুসারে কেবল অর্থদণ্ড আরোপ করা যাইবে।

ব্যাখ্যা। এই ধারায়-

(ক) ‘‘কোম্পানি’’ অর্থে কোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, অংশীদারী কারবার, সমিতি, সংঘ বা সংগঠনও অন্তর্ভুক্ত;

(খ) বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে, ‘‘পরিচালক’’ অর্থে উহার কোনো অংশীদার বা পরিচালনা বোর্ডের সদস্যও অন্তর্ভুক্ত।
 
 
 
  ২৩। প্রবেশ এবং তল্লাশির ক্ষমতা  
২৩। (১) এই আইন বা বিধির বিধান অনুসরণ ব্যতিরেকে কোনো স্থানে পেট্রোলিয়াম আমদানি, পরিবহন, মজুদ, বিতরণ, উৎপাদন, শোধন, মিশ্রণ বা প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে পুনঃব্যবহার উপযোগী করা হইতেছে মর্মে বিশ্বাস করিবার যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকিলে, সরকার কর্তৃক, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তা উক্ত স্থানে প্রবেশ ও তল্লাশি করিতে এবং এই আইনের অধীন অপরাধ সংঘটিত হইয়াছে বলিয়া বিবেচিত হইলে উক্ত কর্মকর্তা উক্ত পেট্রোলিয়ামের সকল বা উহার অংশ বিশেষ জব্দ, আটক বা উক্ত স্থান হইতে অপসারণ করিতে পারিবেন।

(২) এই আইনে ভিন্নরূপ কিছু না থাকিলে, এই আইনের অধীন সকল তল্লাশির ব্যাপারে ফৌজদারী কার্যবিধির বিধান অনুসরণ করিতে হইবে।

(৩) উপ-ধারা (২) এর বিধান সাপেক্ষে, এই ধারার অধীন ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তার ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
 
 
 
  ২৪। পেট্রোলিয়ামজনিত দুর্ঘটনা সম্পর্কিত প্রতিবেদন  
২৪। কোনো পেট্রোলিয়াম বা উহার বাষ্পের প্রজ্জ্বলনে, বা সম্ভাব্য বিপজ্জনক অবস্থায় কোনো স্থান বা উহার নিকটবর্তী কোনো স্থানে পেট্রোলিয়াম রাখিবার ফলে উক্তরূপ কোনো প্রজ্জ্বলনে যদি বিস্ফোরণ বা অগ্নিকাণ্ডের মতো দুর্ঘটনা ঘটে, এবং উহাতে কোনো ব্যক্তির মৃত্যু ঘটিলে বা কোনো ব্যক্তি গুরুতরভাবে আহত হইলে বা কোনো সম্পত্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হইলে, তাহা হইলে যে ব্যক্তির কর্তৃত্বে আপাতত উক্ত পেট্রোলিয়াম রহিয়াছে সেই ব্যক্তি অবিলম্বে তাহার নিকটতম ম্যাজিস্ট্রেট বা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে এবং বিষ্ফোরক পরিদপ্তরের প্রধান বিষ্ফোরক পরিদর্শককে উক্ত বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করিবেন।
 
 
 
  ২৫। পেট্রোলিয়ামজনিত গুরুতর দুর্ঘটনার অনুসন্ধান  
২৫। (১) যদি কোনো ম্যাজিস্ট্রেটের এইরূপ বিশ্বাস করিবার যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকে যে, পেট্রোলিয়াম বা পেট্রোলিয়াম বাষ্পের প্রজ্জ্বলনের ফলে সৃষ্ট দুর্ঘটনায় কোনো ব্যক্তির মৃত্যু হইয়াছে, তাহা হইলে উক্ত বিষয়ে ফৌজদারী কার্যবিধির ধারা ১৭৬ এ বর্ণিত পদ্ধতিতে অনুসন্ধান পরিচালনা করিতে হইবে।

(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত দুর্ঘটনায় কোনো ব্যক্তির মৃত্যু না হইলেও, যদি কোনো ব্যক্তি গুরুতরভাবে আহত হন বা কোনো সম্পত্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহা হইলে সুরতহাল করিবার ক্ষমতা সম্পন্ন কোনো ম্যাজিস্ট্রেট উক্ত দুর্ঘটনাটি অনুসন্ধান করিবেন, যদি তাহার বিশ্বাস করিবার যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকে যে, পেট্রোলিয়াম বা পেট্রোলিয়াম বাষ্পের প্রজ্জ্বলনের কারণে উক্ত দুর্ঘটনা ঘটিয়াছে।

(৩) এই ধারার অধীন সম্পন্ন সকল অনুসন্ধানের ফলাফল, যথাশীঘ্র সম্ভব, সরকার এবং বিষ্ফোরক পরিদপ্তরের প্রধান বিষ্ফোরক পরিদর্শক এর নিকট প্রেরণ করিতে হইবে।
 
 
 
  ২৬। অপরাধের বিচার  
২৬। এই আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধসমূহ একজন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা প্রথম বা দ্বিতীয় শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক বিচার্য হইবে।
 
 
 
  ২৭। ফৌজদারী কার্যবিধির প্রয়োগ  
২৭। এই আইনের অধীন কৃত কোনো অপরাধের অভিযোগ দায়ের, তদন্ত, বিচার ও আপিল নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে ফৌজদারী কার্যবিধির বিধানাবলী প্রযোজ্য হইবে।
 
  CHAPTER ষষ্ঠ অধ্যায়

বিবিধ
 
  ২৮। প্রতিবেদন দাখিল  
২৮। ধারা ১০, ১৩ ও ২৩ এর অধীন ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তা উক্ত ধারাসমূহের বিধান অনুসারে তৎকর্তৃক সম্পাদিত কোনো তল্লাশি বা অনুসন্ধান প্রতিবেদনের একটি কপি বিস্ফোরক পরিদপ্তরের প্রধান বিস্ফোরক পরিদর্শকের নিকট দাখিল করিবেন।
 
 
 
  ২৯। অন্যান্য প্রজ্জ্বলনীয় পদার্থের ক্ষেত্রে এই আইনের প্রয়োগ  
২৯। (১) সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিষ্ফোরক ব্যতীত কোনো বিপজ্জনক প্রজ্জ্বলনীয় পদার্থের ক্ষেত্রে এই আইন এবং তদধীন প্রণীত বিধির বিধানাবলীর সকল বা যে কোনো বিধান, কোনো সংশোধন থাকিলে উহা নির্দিষ্টক্রমে, প্রয়োগ করিতে পারিবে, এবং উক্তরূপ প্রয়োগকৃত বিধানাবলী এইরূপে কার্যকর হইবে যেন উক্ত পদার্থ পেট্রোলিয়ামের সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত হইয়াছে।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন জারীকৃত প্রজ্ঞাপন দ্বারা কোনো প্রজ্জ্বলনীয় পদার্থের ক্ষেত্রে এই আইনের কোনো বিধান প্রয়োগ করা হইলে সরকার উক্ত পদার্থের পরীক্ষণের জন্য বিশেষ বিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে, এবং উক্তরূপ বিধান উক্ত পরীক্ষণের বিশেষ প্রয়োজনে চতুর্থ অধ্যায়ের কোনো বিধানের সম্পূরক বিধান হিসাবে অভিযোজিত করা যাইবে।
 
 
 
  ৩০। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা সীমিতকরণ  
৩০। কোনো আইন দ্বারা কোনো স্থানীয় কর্তৃপক্ষের উপর পেট্রোলিয়াম পরিবহন বা মজুদ সম্পর্কিত কোনো ক্ষমতা অর্পণ করা হইলে, সরকার সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা,-

(ক) উক্ত আইনের কার্যকারিতা, বা

(খ) যুক্তিযুক্ত মর্মে বিবেচিতভাবে উক্ত ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্র,

সীমিত করিতে পারিবে।
 
 
 
  ৩১। বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা  
৩১। (১) সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।

(২) উপ-ধারা (১) এর ক্ষমতার সামগ্রিকতাকে ক্ষুণ্ণ না করিয়া, অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে, নিম্নবর্ণিত যে কোনো বিষয়ে বিধি প্রণয়ন করা যাইবে, যথা:-

(ক) পেট্রোলিয়াম আমদানির স্থান নির্ধারণ এবং উক্ত স্থান ব্যতীত অন্য কোনো স্থানে উহার আমদানি নিষিদ্ধকরণ;

(খ) পেট্রোলিয়াম আমদানি, পরিবহন ও বিতরণ নিয়ন্ত্রণ;

(গ) প্রথম শ্রেণির পেট্রোলিয়াম আমদানির লাইসেন্সের জন্য আবেদন করিবার সময় নির্ধারণ, এবং কোনো প্রথম শ্রেণির পেট্রোলিয়ামের ক্ষেত্রে লাইসেন্সের জন্য উক্ত সময়ের মধ্যে আবেদন করা না হইলে বা লাইসেন্সের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হইলে এবং উক্ত পেট্রোলিয়াম রপ্তানি করা না হইলে উহা বাজেয়াপ্ত বা অন্য কোনোভাবে নিষ্পত্তিকরণ;

(ঘ) পেট্রোলিয়াম পরিবহনের ধারণপাত্র এবং পাইপ লাইনের প্রকৃতি ও অবস্থা নির্দিষ্টকরণ;

(ঙ) পেট্রোলিয়াম মজুদের স্থান এবং মজুদ করিবার শর্ত নির্ধারণ;

(চ) পেট্রোলিয়াম মজুদ করিবার ধারণপাত্রের প্রকৃতি, অবস্থান এবং অবস্থা নির্দিষ্টকরণ;

(ছ) প্রথম শ্রেণির পেট্রোলিয়াম আমদানি, এবং সকল শ্রেণির পেট্রোলিয়াম পরিবহন ও মজুদের লাইসেন্সের ফরম ও শর্তাবলি নির্ধারণসহ উক্ত লাইসেন্সের আবেদন পদ্ধতি, প্রদেয় ফি এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়াদি নির্ধারণ;

(জ) পেট্রোলিয়াম পরিবহনের জন্য উহার প্রেরক, প্রাপক বা বাহকের লাইসেন্স গ্রহণ সংক্রান্ত বিধানাবলী নির্ধারণ;

(ঝ) পেট্রোলিয়াম আমদানি, পরিবহন, মজুদ ও বিতরণের জন্য সম্মিলিত লাইসেন্স বা উক্ত উদ্দেশ্যসমূহের মধ্যে যে কোনো দুইটি উদ্দেশ্যে যৌথ লাইসেন্স ইস্যু সংক্রান্ত বিধানাবলী প্রণয়ন;

(ঞ) পেট্রোলিয়ামে নির্দিষ্ট কোনো বিষাক্ত পদার্থ সংযুক্তিকরণে অনুপাত নির্ধারণসহ উক্ত অনুপাতের অতিরিক্ত নির্দিষ্ট কোনো বিষাক্ত পর্দা মিশ্রিত পেট্রোলিয়ামের আমদানি, পরিবহন বা মজুদ নিষিদ্ধকরণ;

(ট) এজেন্ট, ডিলার ও আড়তদার নিয়োগ এবং লাইসেন্স ইস্যু ও উহার শর্তাবলি নির্ধারণ;

(ঠ) এজেন্ট বা ডিলারের লাইসেন্স এবং তেল বিপণন কোম্পানি ও উহার এজেন্ট, ডিলার বা আড়তদারের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি বাতিল বা পুনর্বহাল সংক্রান্ত বিধান প্রণয়ন;

(ড) এজেন্ট, ডিলার বা আড়তদার এবং তেল বিপণন কোম্পানির মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি, এবং এজেন্ট বা ডিলার লাইসেন্স ইস্যুকরণ ও উহা বাতিল সংক্রান্ত বিধান প্রণয়ন;

(ঢ) পেট্রোলিয়াম আমদানি, পরিবহন, মজুদ এবং বিতরণ নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় অন্যান্য বিষয়াদি নির্ধারণ;

(ণ) পেট্রোলিয়াম উৎপাদন, শোধন, মিশ্রণ বা প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে পুনঃব্যবহার উপযোগীকরণের শর্তাবলি নির্ধারণ;

(ত) বিধি দ্বারা নির্ধারিত পরীক্ষণে উত্তীর্ণ হয় নাই এমন প্রথম শ্রেণির পেট্রোলিয়াম ব্যতীত অন্য কোনো পেট্রোলিয়াম যে স্থানে উৎপাদন, শোধন, মিশ্রণ বা প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে পুনঃব্যবহার উপযোগী করা হয়, সেই স্থান হইতে উহা অপসারণ পদ্ধতি নির্ধারণ এবং মজুদকরণ সংক্রান্ত বিধি-নিষেধ আরোপ;

(থ) কোনো স্থানে প্রবেশ ও পরিদর্শনের জন্য ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কর্মপদ্ধতি নির্ধারণ;

(দ) পরীক্ষণের নিমিত্ত পেট্রোলিয়ামের নমুনা সংগ্রহ, সংগৃহীত নমুনার মূল্য পরিশোধ, এবং নমুনা সংগ্রহের জন্য ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তার প্রবেশ, পরিদর্শন ও পরীক্ষণের কর্মপদ্ধতি নির্ধারণ;

(ধ) আদর্শ পরীক্ষণ সরঞ্জামের স্পেসিফিকেশন, প্রতিপাদন, সংশোধন এবং প্রতিস্থাপন পদ্ধতি নির্ধারণ;

(ন) আদর্শ পরীক্ষণ সরঞ্জাম পরিদর্শনের ফি এবং উক্ত সরঞ্জামের সহিত অন্য কোনো পরীক্ষণ সরঞ্জাম তুলনাকরণের ফি ও উহার পদ্ধতি নির্ধারণ;

(প) কোনো পরীক্ষণ সরঞ্জাম তুলনা করিবার পর প্রদেয় সনদপত্রের ফরম এবং উক্ত সনদপত্রের বৈধতার মেয়াদসহ উক্ত সনদপত্রের রেজিস্ট্রেশন ফরম নির্ধারণ;

(ফ) পেট্রোলিয়ামের একাধিক নমুনা পরীক্ষণ কর্মকর্তা কর্তৃক পরীক্ষণের ক্ষেত্রে, প্রাপ্ত ফলাফলের গড় ও আদর্শ তাপমাত্রার বিচ্যুতির মানদণ্ড নির্ধারণ;

(ব) আঠালো বা কঠিন বা তলানি অথবা ঘনকারী উপাদানযুক্ত পেট্রোলিয়াম পরীক্ষণ;

(ভ) পেট্রোলিয়াম পরীক্ষণের সনদপত্রের ফরম ও উহার ফি নির্ধারণ;

(ম) পরীক্ষণাধীন নমুনাসমূহের পরীক্ষণের বিভিন্ন ফল কোনো পেট্রোলিয়ামের লটের অভিন্ন গুণগতমান সম্পর্কে সন্দেহ সৃষ্টি হইলে উক্ত লট-কে সাব-লটে বিভক্ত করিবার এবং প্রতিটি সাব-লট হইতে নমুনা গ্রহণ ও পরীক্ষণ, এবং উক্ত নমুনা পরীক্ষণের ফলাফল অনুযায়ী গড় ফলাফল গ্রহণের বিধান;

(য) পুনঃপরীক্ষণের ফি নির্ধারণ এবং ক্রটিপূর্ণ পরীক্ষণের ক্ষেত্রে উহা ফেরত প্রদানের পদ্ধতি নির্ধারণ;

(র) পেট্রোলিয়াম পরীক্ষণের সহিত যুক্ত সকল কর্মকর্তার কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ এবং উক্তরূপ পরীক্ষণের সহিত প্রাসঙ্গিক বিষয়ে বিধান প্রণয়ন।

(৩) এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি প্রাক-প্রকাশনা সাপেক্ষে হইবে।
 
 
 
  ৩২। নির্দেশনা প্রদানের বিশেষ ক্ষমতা  
৩২। পেট্রোলিয়াম আমদানি, পরিবহন, মজুদ, বিতরণ, উৎপাদন, শোধন, মিশ্রণ বা প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে পুনঃব্যবহার উপযোগীকরণের প্রক্রিয়া হইতে সৃষ্ট বিপদ হইতে জনসাধারণকে রক্ষার্থে সরকার, প্রয়োজনে, এই আইন ও বিধির বিধানাবলীর সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রাসঙ্গিক যে কোনো নির্দেশনা প্রদানসহ বিশেষ পরিস্থিতিতে কোন এলাকার জন্য প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবে।
 
 
 
  ৩৩। অসুবিধা দূরীকরণ  
৩৩। এই আইনের কোনো বিধানের অস্পষ্টতার কারণে উহা কার্যকর করিবার ক্ষেত্রে কোনো অসুবিধা দেখা দিলে, সরকার, এই আইনের উদ্দেশ্যের সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া সাপেক্ষে, সরকারি গেজেটে প্রকাশিত আদেশ দ্বারা, উক্ত বিধানের স্পষ্টীকরণ, ব্যাখ্যা প্রদান ও উক্ত বিষয়ে করণীয় সম্পর্কে নির্দেশনা প্রদান করিতে পারিবে।
 
 
 
  ৩৪। ইংরেজিতে অনূদিত পাঠ প্রকাশ  
৩৪। (১) এই আইন প্রবর্তনের পর সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের ইংরেজিতে অনূদিত একটি পাঠ প্রকাশ করিবে, যাহা এই আইনের অনুমোদিত ইংরেজি পাঠ (Authentic English Text) নামে অভিহিত হইবে।

(২) বাংলা পাঠ ও ইংরেজি পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাইবে।
 
 
 
  ৩৫। রহিতকরণ ও হেফাজত  
৩৫। (১) Petroleum Act, 1934 (Act No. XXX of 1934), অতঃপর রহিতকৃত Act বলিয়া উল্লিখিত, এতদ্দ্বারা রহিত করা হইল।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন রহিত হওয়া সত্ত্বেও, রহিতকৃত Act এর অধীন -

(ক) কৃত কোন কার্য বা গৃহীত ব্যবস্থা এই আইনের অধীন কৃত বা গৃহীত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে;

(খ) দায়েরকৃত কোনো মামলা বা গৃহীত কার্যধারা বা সূচিত যে কোনো কার্যক্রম অনিষ্পন্ন থাকিলে উহা এমনভাবে নিষ্পন্ন করিতে হইবে যেন উহা এই আইনের অধীন দায়েরকৃত বা গৃহীত বা সূচিত হইয়াছে; এবং

(গ) সম্পাদিত কোনো চুক্তি, দলিল বা ইনস্ট্রুমেন্ট এমনভাবে বহাল থাকিবে যেন উহা এই আইনের অধীন সম্পাদিত হইয়াছে।

(৩) উক্তরূপ রহিতকরণ সত্ত্বেও, রহিতকৃত Act এর অধীন প্রণীত কোনো বিধি বা প্রবিধান, জারীকৃত কোনো প্রজ্ঞাপন, প্রদত্ত কোনো আদেশ, নির্দেশ, অনুমোদন এবং সুপারিশ উক্তরূপ রহিতের অব্যবহিত পূর্বে বলবৎ থাকিলে, এই আইনের কোনো বিধানের সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া সাপেক্ষে, উহা এই আইনের অনুরূপ বিধানের অধীন প্রণীত, জারীকৃত, এবং প্রদত্ত বলিয়া গণ্য হইবে, এবং মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত অথবা এই আইনের অধীন রহিত বা সংশোধিত না হওয়া পর্যন্ত, বলবৎ থাকিবে।
 
 
 
 
 

Copyright © 2010, Legislative and Parliamentary Affairs Division
Ministry of Law, Justice and Parliamentary Affairs