প্রিন্ট
1[তৃতীয় অধ্যায়
ভাড়া হইতে আয়
৩৫। এই অধ্যায়ের উদ্দেশ্যপূরণকল্পে,—
2[(১) "গৃহসম্পত্তি” অর্থে যেকোনো গৃহসম্পত্তি, ভবন বা দালানসহ নিম্নবর্ণিত পরিসম্পদও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে, যথা:-
(ক) আসবাবপত্র, ফিক্সার, ফিটিংস যাহা উক্ত গৃহের অবিচ্ছেদ্য অংশ;
(খ) গৃহসম্পত্তি যে ভূমির উপর স্থাপিত উক্ত ভূমি; এবং
(গ) কোনো স্থাপনা যাহা গুদাম হিসাবে ব্যবহৃত হয়:
তবে শর্ত থাকে যে, কোনো কারখানা ভবন প্ল্যান্ট ও মেশিনারি ভাড়া প্রদানের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসাবে ভাড়া প্রদান করা হইলে তাহা ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে না;]
(২) “ভাড়া প্রদান” অর্থ মালিকানা বা স্বত্ব ত্যাগ ব্যতিরেকে কোনো নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সম্পত্তির ব্যবহারের অধিকার প্রদান, তবে স্বীয় মালিকানাধীন হউক বা না হউক, কোনো তফসিলি ব্যাংক, বিনিয়োগ ব্যাংক, কোনো উন্নয়নমূলক ফাইন্যান্স কোম্পানি অথবা মুদারাবা বা লিজিং কোম্পানি কর্তৃক অন্য কোনো ব্যক্তিকে ভাড়া প্রদান অন্তর্ভুক্ত হইবে না;
(৩) “সম্পত্তি” অর্থ গৃহসম্পত্তি, জমি, আসবাবপত্র, ফিক্সার, কারখানা ভবন, ব্যবসার আঙ্গিনা, যন্ত্রপাতি, ব্যক্তিগত যানবাহন ও মূলধনি প্রকৃতির অন্য কোনো ভৌত পরিসম্পদ, যাহা ভাড়া প্রদান করা যায় 3[;]
4[(৪) “সেলামি বা প্রিমিয়াম” অর্থ সম্পত্তি লিজ বা ভাড়ার ক্ষেত্রে ভাড়াটিয়া কর্তৃক এককালীন প্রদত্ত অফেরতযোগ্য ও অসমন্বয়যোগ্য অর্থ বা ঋণ বা অগ্রিম বা যেকোনো অঙ্ক বা সুবিধা, তবে, ভাড়াটিয়া কর্তৃক ধারা ৩৭ এর উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত আ= বার্ষিক মূল্য, ই= ভাড়াটিয়া কর্তৃক পরিশোধিত যেকোনো সার্ভিস চার্জ, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ চার্জ, উহা যে নামেই অভিহিত হউক না কেন, অন্তর্ভুক্ত হইবে না।]
৩৬। 5[(১) কোনো ব্যক্তির কোনো সম্পত্তির ভাড়া বা লিজ প্রদানের ক্ষেত্রে, ধারা ৩৭ অনুযায়ী “মোট ভাড়ামূল্য” হইতে এই অধ্যায়ে বর্ণিত সর্বমোট অনুমোদনযোগ্য খরচ বাদ দিলে যাহা অবশিষ্ট থাকে, তাহার সহিত ধারা ৩৯ এ উল্লিখিত “বিশেষ ভাড়া আয়” যোগ করিয়া “ভাড়া হইতে আয়” পরিগণনা করিতে হইবে।]
(২) কোনো ব্যক্তির সম্পত্তির কোনো অংশ উক্ত ব্যক্তির স্বীয় ব্যবসায়ের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হইলে বা উহা হইতে প্রাপ্ত আয় উক্ত ব্যক্তির ব্যবসা 6[বা পেশা] হইতে আয় খাতে পরিগণনাযোগ্য হইলে, উক্ত অংশের জন্য এই ধারা প্রযোজ্য হইবে না।
7[(৩) হোটেল, মোটেল, হোস্টেল বা রিসোর্ট বা বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল আইন, ২০১০ (২০১০ সনের ৪২ নং আইন) এর ধারা ৪ এবং ৫ অনুসারে যথাক্রমে প্রতিষ্ঠিত ও ঘোষিত অর্থনৈতিক অঞ্চলে উক্ত আইনের ধারা ৮ অনুসারে নিয়োগকৃত অর্থনৈতিক অঞ্চল ডেভেলপার এবং বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ আইন, ২০১০ (২০১০ সনের ৮ নং আইন) এর ধারা ২০ অনুসারে নিয়োগকৃত ডেভেলপার কর্তৃক ভাড়ায় প্রদানকৃত জমি বা স্থাপনা’র ক্ষেত্র ব্যতীত অন্য কোনো সম্পত্তির ভাড়ার প্রকৃতি, কারবার, বাণিজ্য বা ব্যবসা নির্বিশেষে যে ধরনের হউক না কেন, উক্ত সম্পত্তি হইতে অর্জিত আয় “ভাড়া হইতে আয়” খাতের অধীন পরিগণনা করিতে হইবে।]
8[৩৭। (১) কোনো আয়বর্ষে কোনো ব্যক্তির স্বীয় মালিকানাধীন কোনো গৃহসম্পত্তিসহ যেকোনো সম্পত্তির মোট ভাড়ামূল্য নিম্নবর্ণিত সূত্রানুযায়ী পরিগণিত হইবে, যথা:-
অ = (আ+ই)-ঈ, যেখানে-
অ = মোট ভাড়ামূল্য,
আ = বার্ষিক মূল্য,
ই = ভাড়াটিয়া কর্তৃক পরিশোধিত যেকোনো সার্ভিস চার্জ, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ চার্জ, উহা যে নামেই অভিহিত হউক না কেন,
ঈ = শূন্যতা ভাতা যাহা কেবল বিদ্যুৎ বিল উপস্থাপন সাপেক্ষে অনুমোদনযোগ্য হইবে।
(২) কোনো আয়বর্ষে কোনো ব্যক্তির স্বীয় মালিকানাধীন কোনো সম্পত্তির ভাড়া হইতে আয় নিম্নবর্ণিত সূত্রানুযায়ী পরিগণিত হইবে, যথা:-
ক= (খ+গ), যেখানে-
ক = ভাড়া হইতে আয়,
খ = মোট ভাড়ামূল্য,
গ = ধারা ৩৯ এ উল্লিখিত বিশেষ ভাড়া হইতে আয় ।]
৩৮। (১) কোনো ব্যক্তির স্বীয় মালিকানাধীন গৃহসম্পত্তির ভাড়া হইতে প্রাপ্ত আয় পরিগণনার ক্ষেত্রে নিম্নবর্ণিত খরচ বিয়োজনযোগ্য হইবে, যথা:—
(ক) কোনো গৃহসম্পত্তির ক্ষতি বা ধ্বংসের ঝুঁকির বিপরীতে কোনো বিমা করা হইলে তাহার জন্য পরিশোধিত প্রিমিয়াম;
(খ) গৃহসম্পত্তি অর্জন, নির্মাণ, সংস্কার বা পুনঃনির্মাণের জন্য কোনো ব্যাংক বা ফাইন্যান্স কোম্পানি হইতে কোনো মূলধনি ঋণ গ্রহণ করা হইলে সেই ঋণের উপর পরিশোধিত সুদ বা মুনাফা;
(গ) গৃহসম্পত্তির উপর পরিশোধিত কোনো কর, ফি বা অন্য কোনো বার্ষিক চার্জ, যাহা মূলধনি চার্জ প্রকৃতির নহে;
(ঘ) গৃহসম্পত্তি অর্জন, নির্মাণ, মেরামত, নবনির্মাণ বা পুনঃনির্মাণের জন্য ব্যবহৃত কোনো মূলধনি ঋণের উপর কোনো ব্যাংক বা ফাইন্যান্স কোম্পানিকে ভাড়াপূর্ব সময়ে কোনো সুদ বা মুনাফা পরিশোধ করা হইয়া থাকিলে সেই সুদ বা মুনাফা ভাড়া শুরুর সহিত সংশ্লিষ্ট আয়বর্ষ হইতে একাদিক্রমে মোট ৩ (তিন) আয়বর্ষে সমকিস্তিতে:
তবে শর্ত থাকে যে, ভাড়াপূর্ব সময়ের কোনো সুদ বা মুনাফা বা উহার কোনো অংশ, যদি থাকে, উক্ত বর্ণিত সময়ের পরে বিয়োজনযোগ্য হইবে না;
(ঙ) ভাড়া সংগ্রহ, পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন, বিদ্যুৎ, গ্যাস, সার্ভিস চার্জ, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ চার্জ এবং অন্য কোনো মৌলিক সেবা সংক্রান্ত ব্যয়ের জন্য নিম্নবর্ণিত সারণীতে উল্লিখিত অংক, যথা:-
সারণী
|
ক্রমিক নং |
সম্পত্তির ধরন |
সংবিধিবদ্ধ বিয়োজন (মোট ভাড়ামূল্যের শতকরা হারে) |
|
(১) |
(২) |
(৩) |
|
১। |
বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত গৃহসম্পত্তি |
৩০% (ত্রিশ শতাংশ) |
|
২। |
অবাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত গৃহসম্পত্তি |
২৫% (পঁচিশ শতাংশ) |
(চ) গৃহসম্পত্তির আংশিক ভাড়া প্রদানের ক্ষেত্রে আংশিক ভাড়ার বিপরীতে আনুপাতিক হারে খরচ অনুমোদনযোগ্য হইবে;
(ছ) যেইক্ষেত্রে কোনো গৃহসম্পত্তি আয়বর্ষের অংশবিশেষের জন্য ভাড়া প্রদান করা হয়, সেইক্ষেত্রে ভাড়া প্রদানকৃত সময়ের আনুপাতিক হারে খরচ অনুমোদনযোগ্য হইবে।
(২) গৃহসম্পত্তি ভিন্ন অন্য কোনো সম্পত্তির ভাড়া হইতে আয় হিসাবের ক্ষেত্রে নিম্নবর্ণিত সীমা ও শর্ত সাপেক্ষে বিয়োজনসমূহ অনুমোদিত হইবে, যথা:—
(ক) ব্যবসা 9[বা পেশা] হইতে আয় পরিগণনার ক্ষেত্রে ধারা ৪৯-৫৫ অনুযায়ী যে সকল বিয়োজন যে সকল সীমা ও শর্তে অনুমোদিত;
(খ) তৃতীয় তফসিল অনুযায়ী অনুমোদিত ভাতাসমূহ ব্যতীত অন্যান্য সকল বিয়োজন ব্যাংক ট্রান্সফার এর মাধ্যমে সম্পন্ন হইলে।
৩৯। (১) ধারা ৩৮ এর উপ-ধারা (১) এর দফা (ঙ) অনুযায়ী কোনো সংবিধিবদ্ধ বিয়োজনের কোনো অংশ অব্যয়িত বলিয়া দাবি করিলে, উহা বিশেষ ভাড়া হইতে আয় হিসাবে গণ্য হইবে।
(২) অ্যাকাউন্টিং সমন্বয়ের ক্ষেত্রসমূহ ব্যতীত, ধারা ৩৮ এর উপ-ধারা (২) অনুযায়ী অননুমোদিত বিয়োজনসমূহ বিশেষ ভাড়া হইতে আয় হিসাবে গণ্য হইবে।
10[(৩) কোনো আয়বর্ষে, কোনো ব্যক্তি কর্তৃক সম্পত্তি লিজ বা ভাড়া প্রদানের বিপরীতে ফেরতযোগ্য বা সমন্বয়যোগ্য জামানত, নিরাপত্তা জামানত বা অগ্রিম বাবদ অর্থ গৃহীত বা প্রাপ্ত হইলে, উক্ত প্রাপ্ত বা গৃহীত মোট অংকের, অর্থবৎসর শেষের স্থিতির ১০% (দশ শতাংশ), বিশেষ ভাড়া আয় হিসাবে গণ্য হইবে।
(৪) কোনো আয়বর্ষে কোনো ব্যক্তি কর্তৃক সম্পত্তি লিজ বা ভাড়া প্রদানের বিপরীতে গৃহীত অফেরতযোগ্য বা অসমন্বয়যোগ্য অঙ্ক, যাহা সেলামি বা প্রিমিয়াম বা অন্য যেকোনো অঙ্ক, তাহা যে নামেই অভিহিত হউক না কেন, তাহার সমুদয় অর্থ উক্ত আয়বর্ষে উক্ত ব্যক্তির বিশেষ ভাড়া আয় হিসাবে গণ্য হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত লিজ বা ভাড়ার মেয়াদ বা ৫ (পাঁচ) বৎসর, এই দুইয়ের মধ্যে যাহা কম, সেই মেয়াদের মধ্যে এই বিশেষ ভাড়া আয়, করদাতা তাহার ইচ্ছানুযায়ী বন্টন করিতে পারিবে:
আরও শর্ত থাকে যে, যেইক্ষেত্রে করদাতা উক্ত অফেরতযোগ্য বা অসমন্বয়যোগ্য অর্থ বা তাহার কোনো অংশ পরবর্তী কোনো আয়বর্ষে ফেরত প্রদান করে, সেইক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আয়বর্ষে করদাতার “ভাড়া হইতে আয়” পরিগণনার ক্ষেত্রে, উক্ত ফেরত প্রদানকৃত অর্থ বিয়োজনযোগ্য হইবে।
(৫) এই আইনের অন্যান্য বিধানে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, গৃহসম্পত্তি ভিন্ন অন্য কোনো সম্পত্তির ভাড়া হইতে আয়ের বিপরীতে খরচের ক্ষেত্রে এই আইনের অংশ ৭ এর বিধান অনুযায়ী উৎসে কর কর্তন না করিলে, উক্ত খরচ বিশেষ ভাড়া আয় হিসাবে গণ্য হইবে।
(৬) এই আইনের অন্যান্য বিধানে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, বিশেষ ভাড়া হইতে আয় হিসাবে পরিগণিত আয়ের বিপরীতে তৃতীয় তফসিলের অধীন কোনো ভাতা অনুমোদিত হইবে না এবং এইরূপ আয়ের উপর নিয়মিত হারে করদায় নির্ধারিত হইবে।]