প্রিন্ট
১৮০। 2[(১) কোনো ব্যক্তি কর্তৃক ধারা ১৭০ক-তে দাখিলকৃত রিটার্ন স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্বনির্ধারণী পদ্ধতিতে নিষ্পন্ন করিতে চাহিলে, এই ধারার অধীন কর নির্ধারণ সম্পন্ন হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে, যদি উক্ত রিটার্ন-
(ক) ধারা ১৬৯ এ উল্লিখিত সকল বিধান পরিপালনপূর্বক দাখিল করা হয়; এবং
(খ) ধারা ১৭৩ এ উল্লিখিত সকল বিধান পরিপালনপূর্বক কর পরিশোধ করা হয়।]
3[***]
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন রিটার্ন দাখিল করিবার পর যদি করদাতা কর্তৃক পরিলক্ষিত হয় যে তাহার দাখিলকৃত রিটার্নে-
(ক) প্রদর্শিত 4[আয়ের কারণে]; বা
(খ) দাবিকৃত কর অব্যাহতি বা 5[ক্রেডিটের কারণে]; বা
(গ) অন্য কোনো কারণে,
এই আইনের অধীন প্রদেয় কর সঠিকভাবে পরিগণিত হয় নাই বা সঠিক অঙ্কে পরিশোধিত হয় নাই 6[বা রিটার্নে কোনো তথ্য সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয় নাই], তাহা হইলে তিনি একটি লিখিত বিবৃতিতে কারণ উল্লেখপূর্বক সংশোধিত রিটার্ন দাখিল করিতে পারিবেন 7[।]
8[***]
(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রসমূহে কোনো সংশোধিত রিটার্ন দাখিল করা যাইবে না-
(ক) উপ-ধারা (১) এর অধীন রিটার্ন দাখিল করিবার তারিখ হইতে ১৮০ (একশত আশি) দিন শেষ হইবার পর;
(খ) সংশোধিত রিটার্ন প্রথমবার দাখিলের পর; বা
(গ) মূল রিটার্নটি ধারা ১৮২ এর অধীনে অডিটের জন্য নির্বাচিত হইবার পর।
(৪) উপ-ধারা (১) এর অধীন দাখিলকৃত রিটার্নের ক্ষেত্রে, নূতন কোনো স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতার ব্যবসায়ের প্রারম্ভিক মূলধনের উৎস সম্পর্কে কোনো প্রশ্ন উত্থাপন করা হইবে না, যদি করদাতা-
(ক) এইরূপ খাত হইতে আয় প্রদর্শন করেন যাহা কর অব্যাহতি প্রাপ্ত নহে এবং প্রদর্শিত আয় করমুক্ত সীমা অতিক্রম করে;
(খ) প্রারম্ভিক মূলধনের ২০% (বিশ শতাংশ) এর নিম্নে নহে এইরূপ পরিমাণ আয় প্রদর্শন করেন;
(গ) রিটার্ন দাখিল করিবার সময় বা তৎপূর্বে নিয়মিত করহারে পরিগণিত কর ও অন্যান্য প্রযোজ্য অঙ্ক পরিশোধ করেন;
(ঘ) প্রর্দর্শিত ব্যবসায়ের অস্তিত্ব সম্পর্কিত প্রমাণাদি দাখিল করেন;
9[(ঙ) ধারা ১৭০ এ উল্লিখিত সময়সীমা অনুযায়ী রিটার্ন দাখিল করেন; এবং]
(চ) লিখিতভাবে উল্লেখ করেন যে, দাখিলকৃত রিটার্নটি 10[বিলম্ব] রিটার্ন নহে।
11[***]
(৬) এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে,-
(ক) “নিয়মিত করহার” অর্থ এইরূপ করহার যাহা অব্যাহতিপ্রাপ্ত নয় বা হ্রাসকৃত নহে;
(খ) “12[বিলম্ব] রিটার্ন” অর্থ এইরূপ রিটার্ন যাহা আয়বর্ষ সংশ্লিষ্ট করবর্ষের মধ্যে দাখিল হয় নাই।
১৮১। (১) ধারা ১৮০ এর অধীন দাখিলকৃত “স্বনির্ধারণী রিটার্ন” বা সংশোধিত রিটার্ন উপকর কমিশনার নিম্নবর্ণিত পদ্ধতিতে প্রসেস করিবেন, যথা:-
(ক) দাখিলকৃত রিটার্নে কোনো গাণিতিক ত্রুটি অথবা উক্ত রিটার্নে বা রিটার্নের সহিত দাখিলকৃত কোনো বিবৃতি বা দলিলাদিতে বিদ্যমান কোনো তথ্যের আলোকে কোনো অশুদ্ধ দাবি পরিলক্ষিত হইলে উহা সমন্বয়পূর্বক আয় পরিগণনা করিতে হইবে;
(খ) এই আইনের অধীন প্রদেয় কর এবং অন্য কোনো অঙ্ক দফা (ক) এর ভিত্তিতে পরিগণনা করিতে হইবে; এবং
(গ) উৎস করসহ পরিশোধিত অগ্রিম কর এবং এই আইনের অধীন পরিশোধিত করের ক্রেডিট প্রদান করিয়া প্রদেয় বা প্রত্যর্পণযোগ্য কর নির্ধারণ করিতে হইবে।
(২) রিটার্ন প্রসেসের ফলশ্রুতিতে আয়, কর বা অন্যান্য উল্লেখযোগ্য অঙ্কের পরিমাণের সহিত ধারা ১৮০ এর অধীন দাখিলকৃত “স্বনির্ধারণী রিটার্ন” বা সংশোধিত রিটার্নে প্রদর্শিত অঙ্কের পার্থক্য হইলে উপকর কমিশনার নিম্নবর্ণিতভাবে করদাতাকে লিখিত নোটিশ প্রদান করিবেন, যথা:-
(ক) রিটার্ন প্রসেসের ফলশ্রুতিতে পরিগণিত আয়, কর, প্রত্যর্পণযোগ্য কর বা অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি সংবলিত পরিগণনা পত্র নোটিশের সহিত সংযুক্ত করিয়া পার্থক্যের পরিমাণ করদাতাকে অবহিত করিবেন;
(খ) নোটিশে উল্লিখিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন প্রসেস প্রক্রিয়ায় উদ্ভূত অতিরিক্ত দায় বা প্রত্যর্পণ হ্রাস সম্পর্কে লিখিতভাবে করদাতার অবস্থান ব্যাখ্যা করিবার সুযোগ প্রদান করিবেন; এবং
(গ) নোটিশে উল্লিখিত সময়ের মধ্যে, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, তাহাকে নিম্নবর্ণিত সুযোগ প্রদান করিবেন, যথা:-
(অ) নোটিশে উল্লিখিত পার্থক্য নিরসনক্রমে সংশোধিত রিটার্ন দাখিল করিবার; এবং
(আ) উক্ত প্রসেসের ফলে প্রদেয় কর এবং অন্যান্য প্রদেয় অঙ্ক পরিশোধ করিবার।
(৩) যেইক্ষেত্রে উপ-ধারা (২) এর অধীন নোটিশ প্রদান করা হয়, সেইক্ষেত্রে উপকর কমিশনার-
(ক) নিম্নবর্ণিত শর্তাদি পূরণ সম্পর্কে নিশ্চিত হইয়া ৯০ (নব্বই) দিনের মধ্যে সংশোধিত রিটার্নের গ্রহণপত্র প্রেরণ করিবেন, যথা:-
(অ) উপ-ধারা (২) এর দফা (গ) এর বিধান অনুসারে সংশোধিত রিটার্ন দাখিল করা হইয়াছে কিনা;
(আ) প্রসেসের ফলশ্রুতিতে এই আইনের অধীন প্রদেয় কোনো কর বা অন্যান্য অঙ্ক সংশোধিত রিটার্ন জমাকালে বা তাহার পূর্বে পরিশোধ করা হইয়াছে কিনা; এবং
(ই) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত পার্থক্যটির রিটার্নে যথোচিত সুরাহা হইয়াছে কিনা;
(খ) দফা (ক)-তে উল্লিখিত কোনো শর্ত পূরণ করা না হইলে, উপ-ধারা (২) এর অধীন প্রদত্ত নোটিশে উল্লিখিত তারিখ উত্তীর্ণ হইবার পরবর্তীতে আয়, কর, প্রত্যর্পণযোগ্য কর বা অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি সংবলিত পরিগণনা পত্রসহ একটি দাবির নোটিশ জারি করিতে হইবে;
(গ) উপ-ধারা (২) এর অধীন নোটিশ প্রদানের তারিখ হইতে ৬ (ছয়) মাসের মধ্যে দফা (খ)-তে উল্লিখিত দাবির নোটিশ জারি করিতে হইবে।
(৪) এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, "রিটার্নে বা রিটার্নের সহিত দাখিলকৃত কোনো বিবৃতি বা দলিলাদিতে বিদ্যমান কোনো তথ্যের আলোকে কোনো অশুদ্ধ দাবি" অর্থ প্রদত্ত তথ্যের ভিত্তিতে এইরূপ কোনো দাবি, যাহা কোনো রিটার্ন বা কোনো বিবরণী বা দাখিলকৃত দলিলাদি হইতে উদ্ভূত-
(ক) কোনো আইটেম, যাহা অন্য কোনো সমজাতীয় এন্ট্রির সহিত সঙ্গতিপূর্ণ নহে, বা অন্য কোনো আইটেম, যাহা রিটার্নের কোনো বিবরণী বা দলিলাদির সহিত অসামঞ্জস্যপূর্ণ; অথবা
(খ) কোনো কর্তন, অব্যাহতি, রেয়াত বা ক্রেডিট, যেইক্ষেত্রে অনুমোদিত আইনগত সীমার আর্থিক পরিমাণ, অনুপাত বা ভগ্নাংশ হিসাবে নির্ধারিত কোনো কর্তন অব্যাহতি, রেয়াত বা ক্রেডিট সীমাকে অতিক্রম করে।
13[১৮২। (১) বোর্ড, ধারা ১৮০ এর অধীন দাখিলকৃত রিটার্ন বা সংশোধিত রিটার্ন অডিট করিবার উদ্দেশ্যে, অডিট ঝুঁকির কারণ, অডিট পরিচালনা এবং অডিট নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া উল্লেখপূর্বক অডিট নির্দেশনা প্রণয়ন করিবে।
(২) বোর্ড বা বোর্ডের অধীনস্থ কোনো আয়কর কর্তৃপক্ষ উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত অডিট নির্দেশনা অনুযায়ী অডিটের জন্য রিটার্ন বা সংশোধিত রিটার্ন নির্বাচন করিতে পারিবে।
(৩) বোর্ডের অধীনস্থ কোনো আয়কর কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্বাচিত রিটার্ন বা সংশোধিত রিটার্ন অডিটের জন্য বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত হইতে হইবে।
(৪) উপকর কমিশনার উপ-ধারা (২) এর অধীন অডিট এর জন্য নির্বাচিত বা উপ-ধারা (৩) এর অধীন অডিট এর জন্য অনুমোদিত রিটার্ন বা সংশোধিত রিটার্ন এর তালিকা প্রাপ্তির পর সংশ্লিষ্ট করদাতাকে অডিট এর কারণসমূহ সম্পর্কে অবহিত করিবেন।
(৫) অডিট সমাপনান্তে, যেইক্ষেত্রে উপকর কমিশনার এর নিকট প্রতীয়মান হয় যে, এই আইনের পরিপালন এবং করদাতার আয়, ব্যয় ও পরিসম্পদ সংক্রান্ত সকল তথ্যাদি করদাতার রিটার্নে বা সংশোধিত রিটার্নে যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয় নাই, সেইক্ষেত্রে তিনি করদাতার নিকট অডিট প্রতিবেদন প্রেরণ করিবেন এবং একটি নোটিশ প্রেরণ করিবেন যাহাতে করদাতাকে অডিট প্রতিবেদনের ফলাফল প্রতিফলিত করিয়া প্রাসংগিক লিখিত ব্যাখ্যা ও প্রমাণাদিসহ একটি সংশোধিত রিটার্ন দাখিল করিবার নির্দেশ প্রদান করিবেন।
(৬) করদাতা কর্তৃক সংশোধিত রিটার্ন দাখিল হইলে উপকর কমিশনার যদি এই মর্মে সন্তুষ্ট হন যে, অডিট প্রতিবেদনে উল্লিখিত ফলাফলগুলি সংশোধিত রিটার্নে যথাযথভাবে প্রতিফলিত হইয়াছে এবং অডিট প্রতিবেদন অনুযায়ী করদায় এবং অন্যান্য প্রযোজ্য অঙ্ক সম্পূর্ণরূপে পরিশোধ করা হইয়াছে, তাহা হইলে তিনি সংশোধিত রিটার্ন গ্রহণ করিবেন এবং অডিট নিষ্পন্ন হইয়াছে মর্মে করদাতার নিকট একটি পত্র প্রেরণ করিবেন।
(৭) উপ-ধারা (৫) এর অধীন নোটিশ পরিপালনার্থে করদাতা কর্তৃক দাখিলকৃত সংশোধিত রিটার্ন, ব্যাখ্যা, প্রমাণাদি সন্তোষজনক না হইলে অথবা উক্ত নোটিশ পরিপালনের ব্যর্থতায়, উপকর কমিশনার ধারা ১৮৩ বা ক্ষেত্রমত, ধারা ১৮৪ এর অধীন কর নির্ধারণ করিতে পারিবেন।
(৮) যেই করবর্ষে কোনো রিটার্ন বা সংশোধিত রিটার্ন দাখিল করা হইয়াছে সেই করবর্ষ সমাপ্ত হইবার অনধিক ২ (দুই) করবর্ষের মধ্যে উক্ত রিটার্ন বা সংশোধিত রিটার্ন উপ-ধারা (২) এর অধীন অডিটের নিমিত্ত নির্বাচন বা উপ-ধারা (৩) এর অধীন অডিটের নিমিত্ত অনুমোদন করিতে হইবে।]
১৮৩। 15[(১) উপকর কমিশনার, এই ধারার অধীন, সংশ্লিষ্ট রিটার্ন, দলিলাদি বা এই আইনের অন্য কোনো বিধান অনুযায়ী নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রসমূহে প্রদেয় কর নির্ধারণ করিতে পারিবেন, যদি-
(ক) কোনো ব্যক্তি ধারা ১৭০ক এর উপ-ধারা (৪) অথবা উপ-ধারা (৫) অনুযায়ী তার রিটার্নটি উপকর কমিশনার কর্তৃক কর নির্ধারণের জন্য দাখিল করেন বা কর নির্ধারণের জন্য দাখিল বলিয়া গণ্য হয়;
(খ) কোনো ব্যক্তি ধারা ১৭৪ এর অধীন বিলম্ব রিটার্ন দাখিল করেন;
(গ) কোনো ব্যক্তি ধারা ১৭৫ এর উপ-ধারা (১) এর দফা (ক) ব্যতীত, দফা (খ), (গ), (ঘ) ও (ঙ) অনুযায়ী সংশোধিত রিটার্ন দাখিল করেন;]
16[***]
(৩) যেইক্ষেত্রে উপকর কমিশনার কোনো করদাতার কর নির্ধারণের জন্য করদাতার উপস্থিতি বা কোনো সাক্ষ্য প্রমাণাদির প্রয়োজন বিবেচনা করেন, সেইক্ষেত্রে উপকর কমিশনার উক্ত ব্যক্তিকে এই মর্মে নোটিশ প্রদান করিবেন যে, তাহাকে-
(ক) নোটিশে উল্লিখিত তারিখ এবং সময়ে, নিজে বা অনুমোদিত প্রতিনিধি দ্বারা, উপকর কমিশনারের সম্মুখে হাজির হইতে হইবে; অথবা
(খ) নোটিশে উল্লিখিত রিটার্নের সমর্থনে প্রয়োজনীয় প্রমাণ দাখিল করিতে হইবে।
(৪) যেইক্ষেত্রে করদাতা উপ-ধারা (৩) এর অধীন প্রদত্ত নোটিশ পরিপালন করেন, সেইক্ষেত্রে উপকর কমিশনার কর নির্ধারণ প্রক্রিয়া শুরু করিবেন।
17[(৪ক) কর নির্ধারণ সম্পন্ন হওয়ার পূর্বে করদাতা সংশোধিত রিটার্ন দাখিল করিলে উপকর কমিশনার উপ-ধারা (৩) অনুযায়ী শুনানির নোটিশ প্রদান করিবেন।]
18[(৫) উপকর কমিশনার করদাতার কর নির্ধারণকালে অধিকতর শুনানি বা প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য, প্রমাণ চাহিতে পারিবেন এবং সেইক্ষেত্রে উপকর কমিশনার শুনানির নোটিশে চাহিত তথ্য-প্রমাণাদি সুনির্দিষ্টভাবে লিপিবদ্ধ এবং পরিপালনে ব্যর্থতায় উদ্ভূত ফলাফলের বর্ণনা করিবেন।]
(৬) উপকর কমিশনার শুনানির সুযোগ প্রদান ব্যতীত করদাতা কর্তৃক প্রদর্শিত কোনো ব্যয় অননুমোদন করিতে পারিবে না।
(৭) উপকর কমিশনার শুনানি অন্তে উপস্থাপিত সাক্ষ্য প্রমাণ বিবেচনাক্রমে লিখিতভাবে বা নির্দিষ্ট ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে কর নির্ধারণী আদেশ প্রদান করিবেন এবং উক্ত আদেশ প্রদানের ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে উক্ত আদেশ করদাতাকে অবহিত করিবেন।
(৮) করদাতা উপ-ধারা (৩) বা (৫) এর অধীন প্রদত্ত নোটিশ পরিপালনে ব্যর্থ হইলে, উপকর কমিশনার ধারা ১৮৪ এর অধীন সর্বোত্তম বিচারভিত্তিক কর নির্ধারণ করিতে পারিবেন।
১৮৪। 19[(১) এই ধারার অন্যান্য বিধান সাপেক্ষে, উপকর কমিশনার নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে করদাতার সর্বোত্তম বিচারভিত্তিক কর নির্ধারণ করিতে পারিবেন, যথা:-
(ক) যেক্ষেত্রে, কোনো ব্যক্তি বিশেষ পরিস্থিতি উদ্ভবের পরিপ্রেক্ষিতে ধারা ১৭২ এর অধীন রিটার্ন দাখিলে ব্যর্থ হন; অথবা
(খ) যেক্ষেত্রে, কোনো ব্যক্তি ধারা ১৭৫ এর উপ-ধারা (১) এর দফা (ক) ব্যতীত, দফা (খ), (গ) ও (ঘ) অনুযায়ী সংশোধিত রিটার্ন দাখিলে ব্যর্থ হন; বা
(গ) যেক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি ধারা ১৮৩ এর উপ-ধারা (৩) বা (৪ক) বা ধারা ১৯১ বা ১৯৩ বা ২১২ এর অধীন প্রদত্ত নোটিশ পরিপালনে ব্যর্থ হইয়াছেন।
ব্যাখ্যা।-এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, “সর্বোত্তম বিচারভিত্তিক কর নির্ধারণ (Best judgement assessment)” অর্থ-
(অ) করদাতা রিটার্ন বা সংশোধিত রিটার্ন দাখিল না করিলে; বা
আ) নোটিশ বা আইনগত নির্দেশনা অনুসরণ না করিলে,
এই আইনের বিধান অনুসারে প্রাপ্ত নির্ভরযোগ্য তথ্য, প্রমাণ এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয়ের ভিত্তিতে উপকর কমিশনার কর্তৃক সরল বিশ্বাসে ও নৈর্ব্যক্তিকভাবে (objectively) সম্পাদিত কোনো করদাতার যৌক্তিক অনুমানভিত্তিক কর নির্ধারণ।]
(২) প্রাপ্ত তথ্য ও বিষয়াদি বিবেচনা করিবার পর এবং মামলার আইনি ও বাস্তব দিকসমূহ যথাযথ মূল্যায়নের পর সর্বোত্তম বিচারভিত্তিক কর নির্ধারণ করা হইবে।
(৩) এই ধারার অধীন প্রদত্ত কর নির্ধারণী আদেশে উপকর কমিশনার কর্তৃক সর্বোত্তম বিচারভিত্তিক কর নির্ধারণের ভিত্তিসমূহ প্রতিফলিত থাকিবে।
(৪) উপকর কমিশনার লিখিতভাবে বা নির্দিষ্ট ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে সর্বোত্তম বিচারভিত্তিক কর নির্ধারণ আদেশ প্রদান করিবেন এবং উক্তরূপ আদেশ প্রদানের তারিখ হইতে ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে তাহা করদাতাকে অবহিত করিবেন।
১৮৫। 20[(১) উপকর কমিশনার অর্থবৎসর পরবর্তী ১লা জুলাইয়ের পর যে কোনো সময়, দাখিলকৃত রিটার্ন এবং সহিত সংযুক্ত হিসাবপত্র ও দলিলাদির ভিত্তিতে বা যেইক্ষেত্রে রিটার্ন দাখিল করা হয় নাই, সেইক্ষেত্রে সর্বশেষ কর নির্ধারণের ভিত্তিতে, সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে, করদাতার সাময়িক কর নির্ধারণ করিতে পারিবেন।]
21[***]
22[(৪) এই ধারার অধীন সাময়িক কর নির্ধারণের ক্ষেত্রে, উপকর কমিশনার নিম্নরূপ কার্যক্রমও গ্রহণ করিতে পারিবেন, যথা:-
(ক) রিটার্ন, হিসাব এবং দলিলাদির কোনো গাণিতিক ত্রুটি সংশোধন;
(খ) রিটার্ন, হিসাব এবং দলিলাদি হইতে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ধারা ৭০ এবং ৭১ এর অধীন কোনো লোকসানের সমন্বয় এবং জের টানা বা অবচয় ভাতার জের টানা।]
(৫) পরিশোধ এবং পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে সাময়িক কর নির্ধারণের ভিত্তিতে প্রদেয় কর এইরূপে বিবেচিত হইবে যেন তাহা নিয়মিত কর নির্ধারণের ভিত্তিতে নির্ধারিত হইয়াছে।
(৬) এই ধারার অধীন করদায় পরিগণনার ক্ষেত্রে নিম্নবর্ণিত অঙ্ক ক্রেডিট প্রদান করা হইবে, যথা:-
(ক) কোনো কর যাহা উৎসে কর্তন বা সংগ্রহ করা হইয়াছে এবং সরকারকে প্রদান করা হইয়াছে; এবং
(খ) পরিশোধিত কোনো অগ্রিম কর।
(৭) যেইক্ষেত্রে সাময়িক কর নির্ধারণের মাধ্যমে করদাবির বিপরীতে যেকোনো পরিমাণ অর্থ প্রদান করা হয়, সেইক্ষেত্রে একই করবর্ষের জন্য নিয়মিত কর নির্ধারণের অধীন প্রদেয় কর পরিগণনার ক্ষেত্রে উক্ত পরিমাণে করের ক্রেডিট প্রদান করা হইবে।
(৮) এই ধারার অধীন কোনো সাময়িক কর নির্ধারণের কারণে কৃত কাজ বা সংক্ষুব্ধতা বা ক্ষতিগ্রস্ততা উহার নিয়মিত কর নির্ধারণের ক্ষেত্রে উত্থাপিত কোনো সমস্যা নিরসনকল্পে গৃহীত উদ্যোগকে অগ্রাহ্য করিবে না।
(৯) এই ধারার অধীন কৃত সাময়িক কর নির্ধারণের বিরুদ্ধে কোনো আপিল দায়ের করা যাইবে না।
১৮৬। (১) কর কমিশনারের অনুমোদনক্রমে, উপকর কমিশনার ধারা ১৭৭ এর অধীন দাখিলকৃত উৎস করের রিটার্ন হইতে কতিপয় রিটার্ন অডিটের জন্য নির্বাচন করিবেন।
(২) উপকর কমিশনার নির্বাচিত উৎস কর রিটার্নের নিম্নবর্ণিত বিষয়ে অডিট পরিচালনা করিবেন, যথা:-
(ক) অংশ ৭ এবং তদুদ্দেশ্যে প্রণীত বিধিতে বর্ণিত হারে, পরিমাণে এবং পদ্ধতিতে কর কর্তন বা সংগ্রহ করা হইয়াছে কিনা;
(খ) সংগৃহীত বা কর্তনকৃত কর সরকারের হিসাবে প্রদান করা হইয়াছে কিনা, বা নির্ধারিত সময়ে এবং পদ্ধতিতে প্রদান করা হইয়াছে কিনা;
(গ) কর কর্তন বা সংগ্রহের সনদ এই আইনের বিধানানুযায়ী প্রদত্ত হইয়াছে কিনা।
(৩) যেইক্ষেত্রে উপ-ধারা (২) এর অধীন কোনো হিসাবে দেখা যায় যে, উক্ত উপ-ধারায় উল্লিখিত বিষয়সমূহের ক্ষেত্রে এই আইনের বিধানসমূহ অনুসরণ করা হয় নাই, সেইক্ষেত্রে উপকর কমিশনার অডিট পরিচালনার ক্ষেত্রে ধারা ১৪৩, ১৪৪ এবং ২৬৬ সহ এই আইনের অধীন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করিতে পারিবেন।
(৪) উপ-ধারা (১) এর অধীন অডিটের উদ্দেশ্যে রিটার্ন নির্বাচন এবং অডিট নিষ্পন্নের উদ্দেশ্যে বোর্ড যেইরূপ উপযুক্ত বিবেচনা করিবে সেইরূপ আবশ্যিকভাবে পরিপালনীয় পূর্ণাঙ্গ অডিট নির্দেশিকা প্রণয়ন করিবে।
(৫) রিটার্ন দাখিলের পর ৪ (চার) বৎসর উত্তীর্ণ হইয়াছে এইরূপ কোনো রিটার্ন অডিটের জন্য নির্বাচন করা যাইবে না।
১৮৭। কোনো ফার্ম বা ব্যক্তিসংঘের কর নির্ধারণের ক্ষেত্রে-
(ক) প্রথমে ফার্মের বা ব্যক্তিসংঘের মোট আয় নির্ধারণ করিতে হইবে এবং অতঃপর মোট আয়ের ভিত্তিতে করদায় নিরূপণ করিতে হইবে; এবং
(খ) পরবর্তীতে 23[***] আয় অংশীদার বা সদস্যদের মধ্যে আনুপাতিক হারে বন্টন করিতে হইবে।
১৮৯। যেইক্ষেত্রে কোনো ফার্মের কর নির্ধারণের সময় প্রতীয়মান হয় যে, কর নির্ধারণ সংশ্লিষ্ট ফার্মের উত্তরসূরি হিসাবে নূতন ফার্ম প্রতিষ্ঠা করা হইয়াছে এবং যাহার কর নির্ধারণ ধারা ১৮৮ দ্বারা নির্ধারণ করা সম্ভব নহে সেইক্ষেত্রে ধারা ১৯০ এর অধীন ব্যবসার উত্তরাধিকার সংক্রান্ত কর নির্ধারণী বিধানের আলোকে পূর্বসূরি ফার্ম এবং উত্তরসূরি ফার্ম এর জন্য পৃথক কর নির্ধারণ করিতে হইবে 24[এবং কর নির্ধারণের প্রয়োজনে, উপকর কমিশনার এই ধারার অধীন নোটিশ জারি করিতে পারিবেন এবং করদাতা ধারা ১৭২ এর অধীন রিটার্ন দাখিল করিবেন]।
১৯১। (১) ধারা ১৮৯ এর বিধান ব্যতিরেকে, যেইক্ষেত্রে কোনো অর্থবর্ষে কোনো ব্যবসা বন্ধ হয়, সেইক্ষেত্রে উক্ত বৎসরের কর নির্ধারণ করা যাইবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনো আয়বর্ষের কর নির্ধারণের ক্ষেত্রে যে আয়বর্ষে ব্যবসা বন্ধ হইয়াছে সেই আয়বর্ষের শুরু হইতে যেই তারিখে ব্যবসা বন্ধ হইয়াছে সেই সময়ের জন্য আয় পরিগণনা করা হইবে।
(৩) কোনো অর্থবৎসরে কোনো ব্যবসা বন্ধ হইলে তাহা ব্যবসা বন্ধ হইবার ১৫ (পনেরো) দিনের মধ্যে উপকর কমিশনারকে নোটিশ প্রদান করিতে হইবে এবং নোটিশের সহিত আয়বর্ষ শেষের তারিখ হইতে যে তারিখে ব্যবসা বন্ধ হইয়াছে সে সময়কাল পর্যন্ত আয়ের রিটার্ন দাখিল করিতে হইবে, তবে এইক্ষেত্রে উক্ত সময়ের জন্য আয়ের ক্ষেত্রে অর্থবৎসর ই করবর্ষ হিসাবে গণ্য হইবে।
(৪) উপ-ধারা (৩) এর অধীন নোটিশ প্রদানে ব্যর্থতায় উপকর কমিশনার ব্যবসা বন্ধের তারিখ পর্যন্ত সময়ের জন্য কোনো অঙ্ক জরিমানা হিসাবে আদায় করিবার নির্দেশ প্রদান করিতে পারেন, তবে এই জরিমানার অঙ্ক অব্যবহিত পূর্বের করবর্ষের করের অঙ্ক অপেক্ষা অধিক হইবে না।
(৫) উপ-ধারা (১) এর অধীন কর নির্ধারণ করিবার ক্ষেত্রে উপকর কমিশনার-
(ক) যে ব্যক্তির কর নির্ধারণ হইবে তাহার;
(খ) ফার্মের ক্ষেত্রে ব্যবসা বন্ধের সময় যিনি ফার্মের অংশীদার ছিলেন তাহার; এবং
(গ) কোম্পানির ক্ষেত্রে কোম্পানির 25[মুখ্য কর্মকর্তার]-
উপর নোটিশ জারি করিয়া কমপক্ষে ৭ (সাত) দিন সময় প্রদান করিয়া ধারা ১৬৯ অনুসারে রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিবরণী এবং তথ্যসহ নোটিশে বর্ণিত বিবরণী, রেকর্ড এবং দলিলাদি সংযুক্ত করিয়া রিটার্ন দাখিলের নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবেন।
26[(৬) কর নির্ধারণের উদ্দেশ্যে উপ-ধারা (৫) এর অধীন উপকর কমিশনার কর্তৃক প্রদত্ত নোটিশের প্রেক্ষিতে করদাতা ধারা ১৭২ এর অধীন রিটার্ন দাখিল করিবেন এবং উপকর কমিশনার এই আইনের বিধানাবলি যতটুকু প্রযোজ্য ততটুকু প্রয়োগ করিবেন।]
১৯২। (১) এই আইনের উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, হিন্দু অবিভক্ত পরিবার হিসাবে নির্ধারিত কোনো হিন্দু পরিবারকে সেই পর্যন্ত হিন্দু অবিভক্ত পরিবার হিসাবে বিবেচনা করা হইবে, যেই পর্যন্ত না, উক্ত পরিবারের পক্ষ হইতে এই ধারার অধীন উক্ত পরিবারের বিভক্তি সংক্রান্ত তথ্য প্রদান করা হয়।
(২) যেইক্ষেত্রে হিন্দু অবিভক্ত পরিবারের কর নির্ধারণের সময়, উক্ত পরিবারের কোনো সদস্য কর্তৃক দাবি করা হয় যে, উক্ত পরিবারের সদস্যদের মধ্যে একটি বিভাজন ঘটিয়াছে, সেইক্ষেত্রে উপকর কমিশনার উক্ত পরিবারের সকল সদস্যকে নোটিশ প্রদানের পর উহার তদন্ত করিবেন।
(৩) তদন্ত সমাপ্তির পর, উপকর কমিশনার যৌথ পারিবারিক সম্পত্তি বিভাজিত হইয়াছে কিনা তাহার তদন্তলব্ধ ফলাফল লিপিবদ্ধ করিবেন এবং যদি কোনো বিভক্তি থাকে তবে কোন্ তারিখে উক্ত পরিবার বিভক্ত হইয়াছে তৎসংক্রান্ত তথ্য রেকর্ড করিবেন।
(৪) যেইক্ষেত্রে উপ-ধারা (৩) এর অধীন কোনো সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে, অবিভক্ত পরিবারের বিভাজন কোনো আয়বর্ষের মেয়াদ শেষ হইবার পর সংঘটিত হয়, সেইক্ষেত্রে অবিভক্ত পরিবারের আয়বর্ষের মোট আয় এইরূপভাবে নির্ধারণ করা হইবে যেন কোনো বিভাজন সংঘটিত হয় নাই; এবং পরিবারের প্রত্যেক সদস্য বা দলের প্রত্যেক সদস্য যে করের জন্য পৃথকভাবে দায়বদ্ধ তাহার অতিরিক্ত হিসাবে উক্ত পরিবারের নিরূপিত আয়ের উপর প্রদেয় করের জন্য যৌথভাবে বা পৃথকভাবে দায়বদ্ধ হইবেন।
(৫) উপ-ধারা (৩) এর অধীন সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে, অবিভক্ত পরিবারের বিভাজন কোনো আয়বর্ষের মধ্যে সংঘটিত হইয়াছিল, বিভাজনের তারিখের পূর্ব পর্যন্ত অবিভক্ত পরিবারের মোট আয় এইরূপভাবে নির্ধারণ করা হইবে যেন কোনো বিভাজন সংঘটিত হয় নাই; এবং পরিবারের প্রত্যেক সদস্য যে করের জন্য পৃথকভাবে দায়বদ্ধ তাহার অতিরিক্ত হিসাবে উক্ত পরিবারের উক্ত সময়ের জন্য নিরূপিত আয়ের উপর প্রদেয় করের জন্য যৌথভাবে বা পৃথকভাবে দায়বদ্ধ হইবেন।
(৬) এই ধারায় যাহা কিছুই থাকুক না কেন, যদি কোনো হিন্দু অবিভক্ত পরিবারের কর নির্ধারণ সম্পন্ন হইবার পর উপকর কমিশনারের বিশ্বাস করিবার কারণ থাকে যে, উক্ত পরিবারের বিভাজন ইতোমধ্যে কার্যকর হইয়াছে, তাহা হইলে পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের নিকট হইতে কর পুনরুদ্ধারযোগ্য হইবে, বিভাজনের পূর্বে পরিবারের আয়ের ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যগণ প্রত্যেকে যৌথভাবে এবং পৃথকভাবে দায়বদ্ধ হইবেন।
(৭) এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, হিন্দু অবিভক্ত পরিবারের কোনো সদস্যের বা দলের পৃথক দায়বদ্ধতা তাহার বা বরাদ্দকৃত বিভাজিত পরিবারের সম্পত্তির অংশ অনুসারে পরিগণনা করা হইবে।
(৮) এই ধারার বিধানসমূহ, যতদূর সম্ভব, হিন্দু অবিভক্ত পরিবারের আবেদনের ভিত্তিতে উক্ত পরিবারের বিভাজনের তারিখ পর্যন্ত যেকোনো সময়ের জন্য কোনো জরিমানা, সুদ, দণ্ড বা অন্য কোনো অঙ্ক আরোপ এবং আদায়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে।
১৯৩। (১) উপকর কমিশনার নিম্নবর্ণিতভাবে বাংলাদেশে কাজ করিবার জন্য অনুমোদনপ্রাপ্ত কোনো 28[স্বাভাবিক] ব্যক্তির, যিনি চলতি অর্থবর্ষে বা ইহার মেয়াদ উত্তীর্ণ হইবার অল্প সময় পর বাংলাদেশ ছাড়িয়া চলিয়া যাইতে পারেন এবং তাহার প্রত্যাবর্তনের কোনো ইচ্ছে নাই, উক্ত বৎসরের মোট আয়ের উপর ভিত্তি করিয়া কর নির্ধারণ করিতে পারিবেন, যথা:-
(ক) যদি পূর্বে তাহার কর নির্ধারণ হইয়া থাকে সেইক্ষেত্রে পূর্ববর্তী যেই আয়বর্ষে আয় নিরূপিত হইয়াছে তাহা সমাপ্ত হইবার পর হইতে যে সম্ভাব্য তারিখে বাংলাদেশ ত্যাগ করিবেন উক্ত সময়ের জন্য; এবং
(খ) যদি পূর্বে তাহার কর নির্ধারণ না হইয়া থাকে সেইক্ষেত্রে বাংলাদেশ ত্যাগের সম্ভাব্য তারিখ পর্যন্ত বাংলাদেশে অবস্থানকালীন পূর্ণ মেয়াদের জন্য।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন নিম্নবর্ণিতভাবে কর নির্ধারণ করা হইবে, যথা:-
(ক) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত সময়ের আওতাধীন প্রত্যেকটি পূর্ণ আয়বর্ষের ক্ষেত্রে, যথাসময়ে কর নির্ধারণ করা হইলে যে হারে কর আরোপ হইত সেই হার প্রযোজ্য হইবে; এবং
(খ) সর্বশেষ সমাপ্ত আয়বর্ষের পর প্রস্থানের সম্ভাব্য তারিখের মধ্যবর্তী সময়ের ক্ষেত্রে যে অর্থবর্ষে এইরূপ কর নির্ধারণ করা হইয়াছে সেই অর্থবৎসরে বলবৎ হারে এবং উক্ত আয়ের ক্ষেত্রে উক্ত সময়ের জন্য জন্যে অর্থবৎসর কেই করবর্ষ হিসাবে বিবেচনা করা হইবে।
(৩) এই ধারার অধীন কর নির্ধারণের উদ্দেশ্যে, উপকর কমিশনার সংশ্লিষ্ট 29[স্বাভাবিক] ব্যক্তিকে এ মর্মে নোটিশ জারি করিবেন যেন নিম্নবর্ণিত তথ্যাদি নোটিশে উল্লিখিত সময়ের মধ্যে, যাহা ৭ (সাত) দিনের নিম্নে নহে, দাখিল করা আবশ্যক-
(ক) ধারা ১৬৬ এর অধীন রিটার্ন, যেই ফরমে এবং যেই নিয়মে প্রতিপাদনপূর্বক দাখিল করিবার বিধান রহিয়াছে সেই ফরমে ও পদ্ধতিতে নোটিশে বর্ণিত অন্যান্য বিবরণাদি প্রতিপাদনপূর্বক সংযোজন করিয়া উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত মেয়াদে প্রতিটি পূর্ণ আয়বর্ষের মোট আয় সংবলিত রিটার্ন; এবং
(খ) প্রতিটি পূর্ণ আয়বর্ষ উত্তীর্ণ হইবার পর হইতে তাহার বাংলাদেশ ত্যাগ করিবার সম্ভাব্য তারিখ পর্যন্ত মেয়াদে মোট আয়ের একটি প্রাক্কলন।
30[(৪) কর নির্ধারণের জন্য উপ-ধারা (৩) এর অধীন উপকর কমিশনার কর্তৃক জারীকৃত নোটিশের প্রেক্ষিতে করদাতা ধারা ১৭২ এর অধীন রিটার্ন দাখিল করিবেন।]
১৯৪। (১) কোনো ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করিলে, তাহার আইনগত প্রতিনিধি এই আইনের অধীন প্রদেয় কোনো কর বা অন্য কোনো অর্থ প্রদানের জন্য সেইরূপে দায়বদ্ধ হইবেন, যেইরূপে উক্ত মৃত ব্যক্তি মৃত্যুবরণ না করিলে দায়বদ্ধ হইতেন; এবং এই আইনের উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, মৃত ব্যক্তির আইনগত প্রতিনিধি, করদাতা বলিয়া গণ্য হইবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, মৃত ব্যক্তির আইনগত প্রতিনিধিকে করদাতা হিসাবে গণ্য করিবার পূর্বে উক্ত বিষয়ে উপকর কমিশনার আইনগত প্রতিনিধির নিকট নোটিশ প্রেরণ করিবেন।
(২) মৃত ব্যক্তির আয় নির্ধারণ ও কর আদায়ের উদ্দেশ্যে,-
(ক) মৃত্যুর পূর্বে মৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে গৃহীত যেকোনো কার্যক্রম আইনগত প্রতিনিধির বিরুদ্ধে গ্রহণ করা হইয়াছে মর্মে বিবেচিত হইবে এবং উক্ত মৃত ব্যক্তির মৃত্যুর তারিখে উক্ত কার্যক্রম যেই পর্যায়ে ছিল সেই পর্যায় হইতে চলমান থাকিবে; এবং
(খ) জীবিত থাকাকালে উক্ত মৃত ব্যক্তির ক্ষেত্রে যেই কার্যক্রম গ্রহণ করা যাইত, আইনগত প্রতিনিধির ক্ষেত্রেও একই কার্যক্রম গ্রহণ করা যাইবে, এবং এই আইনের সকল বিধান যতদ্রুত সম্ভব তাহার ক্ষেত্রে একইভাবে প্রয়োগযোগ্য হইবে।
(৩) এই আইনের অধীন আইনগত প্রতিনিধির দায় কেবল মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি হইতে দায় নিরসনের সক্ষমতা পর্যন্ত সীমিত থাকিবে।
(৪) এই ধারা এবং অন্যান্য ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, মৃত ব্যক্তির অধিকার, স্বার্থ এবং দায়বদ্ধতা জড়িত থাকিলে "আইনগত প্রতিনিধি" বলিতে নির্বাহক, প্রশাসক এবং মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি পরিচালনাকারী যেকোনো ব্যক্তি অন্তর্ভুক্ত হইবেন।
১৯৫। (১) উপকর কমিশনার 31[কোম্পানি ব্যতীত যেকোনো ব্যক্তি, যাহার ইতঃপূর্বে কখনো কর নির্ধারণ হয় নাই, তাহার ক্ষেত্রে স্পটে কর নির্ধারণ] করিতে পারিবেন, যদি উক্ত ব্যক্তির-
(ক) 32[ব্যবসা খাতে] করযোগ্য আয় থাকে;
(খ) রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা থাকে;
(গ) এই আইনের কোনো বিধানাবলি পরিপালনের বাধ্যবাধকতা থাকে;
(ঘ) এই আইনের কোনো বিধানাবলি কার্যকরণে বা পরিপালনে ব্যর্থ হইলে।
(২) কর কমিশনার তাহার এখতিয়ারে তাহার অধীনস্ত যেকোনো উপকর কমিশনারকে এই ধারার অধীন কর নির্ধারণের জন্য ক্ষমতার্পণ করিতে পারিবেন।
33[(৩) উপকর কমিশনার উপ-ধারা (১) এর অধীন স্পটে কর নির্ধারণকালে করযোগ্য ব্যবসা আয় থাকিলে উহার সর্বোচ্চ ৪ (চার) গুণ প্রারম্ভিক মূলধন সুবিধা প্রদানপূর্বক কর নির্ধারণ করিতে পারিবেন।]
১৯৬। (১) এই আইন বা বাংলাদেশে বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, ধারা ৪ এ বর্ণিত আয়কর কর্তৃপক্ষ, এই আইনের অধীন প্রতিষ্ঠিত কর আপিল ট্রাইব্যুনাল এবং বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট ব্যতীত অন্য কোনো ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষ এই আইনের অধীন সম্পন্ন কোনো কর নির্ধারণ লইয়া প্রশ্ন উত্থাপন করিতে পারিবে না।
(২) উপ-ধারা (১) এর বিধান লঙ্ঘন করিয়া কোনো কর্ম সম্পাদিত হইলে বা কোনো প্রকার প্রশ্ন উত্থাপিত হইলে উহা বাতিল বা অকার্যকর বলিয়া গণ্য হইবে এবং উহার কোনো প্রকার আইনি কার্যকারিতা থাকিবে না।