প্রিন্ট
প্রথম অধ্যায়
প্রারম্ভিক
২। বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থি কোনো কিছু না থাকিলে, এই আইনে-
(১) “অন্যান্য এলাকা ভিত্তিক কার্যকর সংরক্ষণ ব্যবস্থা (OECM-Other Effective Area-based Conservation Measures)” অর্থ রক্ষিত এলাকার বাহিরে ধারা ২৩ এর উপ-ধারা (৪) অনুসারে সরকার কর্তৃক স্বীকৃত (recognized) কোনো এলাকা যাহা একটি সুনির্দিষ্ট পরিচালনা পদ্ধতি ও ব্যবস্থাপনার আওতায় এমনভাবে পরিচালিত হইতেছে এবং যাহা দীর্ঘমেয়াদি স্বস্থানিক (in-situ) জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণকে সমৃদ্ধ ও টেকসই করে, বাস্তুতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও সেবা অব্যাহত রাখে এবং স্থানীয়, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয়, আর্থ-সামাজিক ও অন্যান্য সামাজিক মূল্যবোধকে অক্ষুণ্ন রাখে ;
(২) “অভয়ারণ্য” অর্থ মুখ্যত বন্যপ্রাণীর নিরাপদ বংশ বিস্তারের লক্ষ্যে সকল প্রাকৃতিক সম্পদ যেমন-উদ্ভিদ, মাটি ও পানি সংরক্ষণের নিমিত্ত ব্যবস্থাপনা করা হয় এইরূপ এলাকা যাহা ধারা ১৮ অনুসারে সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ঘোষিত ;
(৩) “অসম্পূর্ণ ট্রফি” অর্থ কোনো বন্যপ্রাণী বা আবদ্ধ বন্যপ্রাণীর সম্পূর্ণ বা উহার অংশ বিশেষ যাহা পরিশোধন বা প্রক্রিয়াজাত করা হয় নাই এবং বিনষ্ট হইবার আশঙ্কা রহিয়াছে ;
(৪) “আবদ্ধ প্রাণী” অর্থ আবদ্ধ বা আটক অথবা উক্তরূপ অবস্থায় জন্মগ্রহণকারী প্রাণী ;
(৫) “আবাসস্থল” অর্থ জলজ, স্থলজ ও ভূ-উপরিস্থ এমন কোনো স্থান যাহা বন্যপ্রাণীর প্রাকৃতিক বাসস্থান এবং যাহা বন্যপ্রাণীর বিচরণ, প্রজনন ও খাদ্য সংস্থান ক্ষেত্র ;
(৬) “ইকোট্যুরিজম বা প্রকৃতি পর্যটন” অর্থ প্রকৃতির কোনো ক্ষতিসাধন না করিয়া প্রকৃতিতে ভ্রমণ যাহার মাধ্যমে কোনো প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত এলাকার পরিবেশগত সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও স্থানীয় জনসাধারণের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধিত হইয়া থাকে ;
(৭) “ইকোপার্ক” অর্থ উদ্ভিদ ও প্রাণীর স্বাভাবিক প্রাকৃতিক বাস্তুতান্ত্রিক (ecological) আবাসস্থল ও নয়নাভিরাম দৃশ্য সংবলিত এলাকা যেখানে পর্যটকদের প্রকৃতি উপভোগের সুযোগ সৃষ্টি করা হয় এবং যাহা ধারা ২১ অনুসারে সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ঘোষিত ;
(৮) “উদ্ভিদ উদ্যান” অর্থ ধারা ২১ অনুসারে সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ঘোষিত কোনো এলাকা যেখানে শিক্ষা, গবেষণা, জিনপুল (gene pool) উৎস সংরক্ষণ এবং উন্নয়নের জন্য দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা হয় ;
(৯) “কনভেনশন অন বায়োলজিক্যাল ডাইভারসিটি (Convention on Biological Diversity)” অর্থ পৃথিবীর উদ্ভিদ ও প্রাণী বৈচিত্র্য সংরক্ষণে একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি (১৯৯২) যাহার মূল লক্ষ্য জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, ইহার উপাদানসমূহের টেকসই ব্যবহার এবং উহা হইতে প্রাপ্ত সম্পদের সুষ্ঠু ও সুষম ব্যবহার নিশ্চিতকরণ ;
(১০) “কমিউনিটি কনজারভেশন এলাকা (Community Conservation Area)” অর্থ কোনো এলাকা যেখানে স্থানীয় জনগোষ্ঠী বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বিশেষ সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করিয়াছে এবং যাহা ধারা ২৩ অনুসারে সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ঘোষিত ;
(১১) “কর্মকর্তা” অর্থ এই আইন বা তদধীন প্রণীত বিধির সকল বা যে কোনো উদ্দেশ্য পালনের নিমিত্ত নিয়োগপ্রাপ্ত বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং Forest Act, 1927 (Act No. XVI of 1927) এর section 2 এর clause (2) এ সংজ্ঞায়িত বন কর্মকর্তাও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে ;
(১২) “করিডোর (corridor)” অর্থ বন্যপ্রাণীর আবাসস্হল বা রক্ষিত এলাকার প্রান্ত সীমানায় অবস্থিত চলাচল পথ বা এলাকা যাহার মধ্য দিয়া বন্যপ্রাণী এক বনাঞ্চল বা এলাকা হইতে অন্য বনাঞ্চল বা এলাকায় যাতায়াত করিয়া থাকে এবং যাহা ধারা ২৪ এর অধীন করিডোর হিসাবে সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ঘোষিত ;
(১৩) “কোর জোন (core zone)” অর্থ ধারা ২৪ অনুসারে সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ঘোষিত রক্ষিত এলাকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ এলাকা যেখানে বন্যপ্রাণীর নিরাপদ বংশবৃদ্ধির জন্য প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ এবং পর্যটন সীমিত করিবার মাধ্যমে ব্যবস্থাপনা করা হয় ;
(১৪) “কুঞ্জবন” অর্থ কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় সামাজিক, ধর্মীয়, ঐতিহ্যগত বা প্রথাগত মূল্য এবং বন্যপ্রাণীর আবাস রহিয়াছে এইরূপ বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষরাজি ও লতাগুল্মের সমাহার যাহা ধারা ১৬ এর অধীন কুঞ্জবন হিসাবে ঘোষিত ;
(১৫) “চিড়িয়াখানা” অর্থ চিড়িয়াখানা আইন, ২০২৩ (২০২৩ সনের ৪৫ নং আইন) এর ধারা ২ এর দফা (৩) সংজ্ঞায়িত চিড়িয়াখানা;
(১৬) “জলাভূমি” অর্থ বাংলাদেশ পানি আইন, ২০১৩ (২০১৩ সনের ১৪ নং আইন) এর ধারা ২ এর দফা (৬) এ সংজ্ঞায়িত জলাভূমি এবং ভাটার সময় সমুদ্রের পানির গভীরতা ৬ মিটার পর্যন্ত হইয়া থাকে এমন উপকূলীয় জোয়ারভাটা সমৃদ্ধ এলাকাও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে ;
(১৭) “জলাধার” অর্থ বাংলাদেশ পানি আইন, ২০১৩ (২০১৩ সনের ১৪ নং আইন) এর ধারা ২ এর দফা (৫) এ সংজ্ঞায়িত জলাধার ;
(১৮) “জাতীয় উদ্যান” অর্থ ধারা ১৮ এর অধীন সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ঘোষিত তুলনামূলকভাবে বৃহত্তর কোনো এলাকা যাহা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, শিক্ষা ও গবেষণার উদ্দেশ্যে ব্যবস্থাপনা করা হয় ;
(১৯) ‘‘জীববৈচিত্র্য’’ অর্থ জীবজগতের মধ্যে বিরাজমান বিভিন্নতা, যাহা সামগ্রিকভাবে পরিবেশের অংশ এবং স্থলজ, জলজ বা সামুদ্রিক পরিবেশে বিদ্যমান প্রজাতিগত বিভিন্নতা (species diversity), কৌলিগত বিভিন্নতা (genetic diversity) ও প্রতিবেশগত বিভিন্নতাও (ecosystem diversity) ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে ;
(২০) “ট্রফি (trophy)” অর্থ কোনো মৃত বা আবদ্ধ বন্যপ্রাণীর সম্পূর্ণ বা উহার কোনো অংশ, যাহা পরিশোধন বা প্রক্রিয়াজাত করিয়া স্বাভাবিকভাবে রাখা হয়, যেমন-
(ক) চামড়া, পশমের মোটা চাদর, সম্পূর্ণ বা আংশিক মাউন্টিং বন্যপ্রাণী অথবা ট্যাক্সিডার্মি করা অংশ ; এবং
(খ) হরিণের শিং ও হাড়, কচ্ছপের শক্ত খোলস, শামুক ও ঝিনুকের খোল, হস্তীদন্ত, মৌচাক, পশম, পালক, নখ, দাঁত, খুর এবং ডিম ;
(২১) “তফসিল” অর্থ এই আইনের তফসিল ;
(২২) “নমুনা” অর্থ-
(ক) জীবন্ত বা মৃত কোনো উদ্ভিদ বা বন্যপ্রাণী; বা
(খ) কোনো বন্যপ্রাণী বা সহজেই শনাক্তযোগ্য এমন প্রাণীর দেহাংশ বা উহা হইতে উৎপাদিত বস্তু; বা
(গ) তফসিল ৪ এ উল্লিখিত কোনো উদ্ভিদ বা উহার অংশ বা উহা হইতে উৎপন্ন দ্রব্য;
(২৩) “নির্ধারিত” অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত কোনো বিধি দ্বারা নির্ধারিত;
(২৪) “নিষ্ঠুর আচরণ” অর্থ বন্যপ্রাণীর প্রতি এমন কোনো ইচ্ছাকৃত বা অবহেলাজনিত কার্য বা অবহেলা বোঝায়, যাহার ফলে বন্যপ্রাণীর অপ্রয়োজনীয় কষ্ট, আঘাত, অঙ্গহানি বা শারীরিক যন্ত্রণা কিংবা মৃত্যু ঘটে অথবা তাহাদের প্রাকৃতিক আচরণ, আবাসস্থল, প্রজনন ও জীবনধারা বিঘ্নিত হয়;
(২৫) “ন্যূনতম বিপদাপন্ন (Least Concern; LC) প্রজাতি” অর্থ কোনো বন্যপ্রাণী বা উদ্ভিদের প্রজাতি যাহা সবচেয়ে কম বিপদগ্রস্ত, সহজেই দেখা যায় ও ব্যাপকভাবে বিস্তৃত;
(২৬) “পচনশীল বনজদ্রব্য” অর্থ মৃত বন্যপ্রাণী বা উহার অংশবিশেষ (হাড়, দাঁত, নখ ও শিং ব্যতীত), অপ্রক্রিয়াজাত কাঠ, বাঁশ, বেত, জ্বালানি কাঠ বা উহার অংশ বিশেষ বা উদ্ভিদ হইতে উৎপন্ন কোনো দ্রব্য সামগ্রী, যাহা প্রাকৃতিকভাবে পচনশীল;
(২৭) “পজেশন সার্টিফিকেট” অর্থ ধারা ২৯ এর অধীন প্রদত্ত পজেশন সার্টিফিকেট;
(২৮) “পবিত্র বৃক্ষ” অর্থ কোনো ধর্ম ও গোত্রের জনগোষ্ঠীর নিকট ধর্মীয় পবিত্র উদ্ভিদ হিসাবে স্বীকৃত কোনো বৃক্ষ;
(২৯) “পরিযায়ী প্রজাতি” অর্থ ঐ সকল বন্যপ্রাণী যাহারা এক বা একাধিক দেশের ভৌগোলিক সীমানা অতিক্রম করিয়া বৎসরের একটি নির্দিষ্ট সময় আসা-যাওয়া করিয়া থাকে;
(৩০) “প্রধান বন্যপ্রাণী ওয়ার্ডেন”, “অতিরিক্ত প্রধান বন্যপ্রাণী ওয়ার্ডেন”, “যুগ্মপ্রধান বন্যপ্রাণী ওয়ার্ডেন”, “উপপ্রধান বন্যপ্রাণী ওয়ার্ডেন”, “বন্যপ্রাণী ওয়ার্ডেন” অর্থ ধারা ৮ এর অধীন যথাক্রমে “প্রধান বন্যপ্রাণী ওয়ার্ডেন”, “অতিরিক্ত প্রধান বন্যপ্রাণী ওয়ার্ডেন”, “যুগ্মপ্রধান বন্যপ্রাণী ওয়ার্ডেন”, উপপ্রধান বন্যপ্রাণী ওয়ার্ডেন” ও “বন্যপ্রাণী ওয়ার্ডেন” হিসাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা;
(৩১) “প্রায়-বিপদাপন্ন (Near Threatened; NT) প্রজাতি” অর্থ কোনো বন্যপ্রাণী বা উদ্ভিদের প্রজাতি যাহা নিকট ভবিষ্যতে বিপদাপন্ন হইয়া পড়িবার ঝুঁকিতে রহিয়াছে;
(৩২) “বনজদ্রব্য” অর্থ Forest Act, 1927 (Act XVI of 1927) এর section 2 এর clause (4) এ সংজ্ঞায়িত বনজদ্রব্য;
(৩৩) “বন্যপ্রাণী” অর্থ বিভিন্ন প্রকার ও জাতের প্রাণী বা তাহাদের জীবনচক্রের যেকোনো পর্যায়সমূহ যাহাদের উৎস বন্য হিসাবে বিবেচিত হইয়া থাকে;
(৩৪) “বন্যপ্রাণী ট্রাস্ট ফান্ড” অর্থ ধারা ৯ অনুসারে গঠিত ট্রাস্ট ফান্ড;
(৩৫) “বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্র” অর্থ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত কেন্দ্র যেখানে দেশি বিলুপ্ত, বিপদাপন্ন, প্রায় বিপদাপন্ন, ন্যূনতম বিপদাপন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণী পুনর্বাসনের নিমিত্ত রাখিয়া বংশবৃদ্ধি করা হয়;
(৩৬) “বাফার জোন (buffer zone)” অর্থ কোর জোন ব্যতীত রক্ষিত এলাকার অবশিষ্ট অংশ যেখানে রক্ষিত এলাকার প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের সহিত সামঞ্জস্য রাখিয়া বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষা ও পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রয়োজন রহিয়াছে এবং যাহা ধারা ২৪ অনুসারে সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ঘোষিত;
(৩৭) “বাস্তুতন্ত্র (ecosystem)” অর্থ প্রাকৃতিক পরিবেশের মধ্যস্হিত কার্যকর এলাকা বা ব্যবস্হা (functional unit) যাহা উক্ত এলাকার উদ্ভিদ, প্রাণী, ক্ষুদ্র অণুজীব এবং জড় বস্তুসমূহের আন্তঃসম্পর্কের উপর নির্ভরশীল;
(৩৮) “বিধি” অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি;
(৩৯) “বোর্ড” অর্থ ধারা ৬ এর অধীন গঠিত বন্যপ্রাণী উপদেষ্টা বোর্ড;
(৪০) “বিদেশি প্রাণি” অর্থ দেশের বাহির হইতে আনা হইয়াছে এমন CITES Appendix ভুক্ত বা বহির্ভূত আবদ্ধ প্রাণি বা উহাদের বংশধর বা মিউট্যান্টসমূহ বা উহার অংশ বা ট্রফি;
(৪১) “বিপদাপন্ন (Threatened) প্রজাতি” অর্থ কোনো বন্যপ্রাণী বা উদ্ভিদের প্রজাতি যাহা IUCN Red List এ মহাবিপন্ন (Critically Endangered; CR), বিপন্ন (Endangered; EN) বা সংকটাপন্ন (Vulnerable; VU) হিসাবে বিবেচিত এবং যাহা বিলুপ্ত হইবার হুমকির সম্মুখীন;
(৪২) “বিপন্ন (Endangered; EN) প্রজাতি” অর্থ কোনো বন্যপ্রাণী বা উদ্ভিদের প্রজাতি যাহার কোনো একটি দেশে বা বৈশ্বিকভাবে প্রকৃতিতে বিলুপ্ত হইয়া যাইবার সম্ভাবনা রহিয়াছে;
(৪৩) “ব্যক্তি” অর্থ প্রাকৃতিক সত্তাবিশিষ্ট কোনো ব্যক্তি এবং ইহাতে কোনো প্রতিষ্ঠান, কোম্পানি, অংশীদারি কারবার, কর্পোরেশন, ফার্ম, সমিতি, সংঘ বা ব্যক্তিসমষ্টি, সংবিধিবদ্ধ হউক বা না হউক, অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(৪৪) “ভারমিন (vermin)” অর্থ তফসিল ৩ এ উল্লিখিত কৃষি ফসলের ক্ষতিকারক প্রাণী;
(৪৫) “মহাবিপন্ন (Critically Endangered; CR) প্রজাতি” অর্থ কোনো বন্যপ্রাণী বা উদ্ভিদের প্রজাতি যাহার কোনো একটি দেশে বা বৈশ্বিকভাবে প্রকৃতিতে বিলুপ্ত হইয়া যাইবার সর্বোচ্চ ও স্পষ্ট সম্ভাবনা রহিয়াছে;
(৪৬) “রক্ষিত উদ্ভিদ (protected plants)” অর্থ তফসিল ৪ এ উল্লিখিত কোনো প্রজাতির উদ্ভিদ বা উদ্ভিদজাত দ্রব্যাদি;
(৪৭) “রক্ষিত এলাকা (protected area)”অর্থ ধারা ১৮ ও ২১ অনুসারে সরকার ঘোষিত সকল অভয়ারণ্য, জাতীয় উদ্যান, সাফারি পার্ক, ইকোপার্ক, উদ্ভিদ উদ্যান, বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্র এবং বিশেষ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এলাকা;
(৪৮) “রক্ষিত বন্যপ্রাণী (protected animal)” অর্থ তফসিল ১(ক), তফসিল ১(খ), তফসিল ১(গ) ও তফসিল ২ এ উল্লিখিত বন্যপ্রাণী;
(৪৯) “লাইসেন্স” অর্থ ধারা ২৯ এর অধীন প্রদত্ত লাইসেন্স;
(৫০) “লালন-পালন যোগ্য বন্যপ্রাণী” অর্থ সরকার কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে সময় সময় ঘোষিত বন্যপ্রাণী;
(৫১) “ল্যান্ডস্কেপ জোন (landscape zone)” অর্থ কোনো স্বীকৃত অভয়ারণ্য, জাতীয় উদ্যান ও ইকোপার্ক এর বাহিরে সরকারি বা বেসরকারি এলাকা, যাহা রক্ষিত এলাকার জীববৈচিত্র্য নিয়ন্ত্রণ করিয়া থাকে ও রক্ষিত এলাকার অবক্ষয় রোধে ও বন্যপ্রাণীর সুরক্ষায় প্রাকৃতিক ভূ-দৃশ্যের সহিত মিল রাখিয়া ব্যবস্থাপনা করা হয় এবং যাহা ধারা ২৪ এর অধীন ল্যান্ডস্কেপ জোন হিসাবে ঘোষিত এলাকা;
(৫২) “শিকার” অর্থ-
(ক) কোনো বন্যপ্রাণীকে হত্যা করা, ধরা, বিষ প্রয়োগ করা বা অনুরূপ কোনো উদ্যোগ; বা
(খ) উপ-দফা (ক) এ বর্ণিত কোনো উদ্দেশ্যে বন্যপ্রাণীকে তাড়াইয়া নেওয়া; বা
(গ) কোনো বন্যপ্রাণীকে আহত বা ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং কোনো বন্যপ্রাণীর কোনো অংশ নেওয়া বা বন্য পাখির বা সরীসৃপের বাসা বা ডিম সংগ্রহ বা ধ্বংস করা;
(৫৩) “সহ-ব্যবস্থাপনা” অর্থ ধারা ২৫ এ উল্লিখিত পদ্ধতি অনুসরণ করিয়া সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সক্রিয় অংশগ্রহণে কোনো এলাকার বন্যপ্রাণী ও প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা করা;
(৫৪) “সাইটিস (CITES)” অর্থ Convention on International Trade in Endangered Species of Wild Fauna and Flora;
(৫৫) “সাফারি পার্ক”অর্থ ধারা ২১ অনুসারে সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ঘোষিত এইরূপ বন এলাকা যেখানে দেশি-বিদেশি বন্যপ্রাণীর যথাসম্ভব প্রাকৃতিক ও উন্মুক্ত পরিবেশে বিচরণ করিবার সুযোগ থাকিবে এবং যেখানে দর্শনার্থীদের বন্যপ্রাণী দর্শনের ব্যবস্থা থাকিবে;
(৫৬) “সিএমএস (CMS)” অর্থ Convention on the Conservation of Migratory Species of Wild Animals;
(৫৭) “স্মারক বৃক্ষ” অর্থ সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও প্রথাগত মূল্য রহিয়াছে এইরূপ ঐতিহ্যবাহী বৃক্ষ বা পুরাতন বয়স্ক দেশীয় উদ্ভিদ বা শতবর্ষী বৃক্ষ;
(৫৮) “সংকটাপন্ন (Vulnerable; VU) প্রজাতি” অর্থ কোনো বন্যপ্রাণী বা উদ্ভিদের প্রজাতি যাহার কোনো একটি দেশে বা বৈশ্বিকভাবে প্রকৃতিতে বিপন্ন হইয়া পড়িবার সমূহ সম্ভাবনা রহিয়াছে;
(৫৯) “ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী” অর্থ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইন, ২০১০ (২০১০ সনের ২৩ নং আইন) এর ধারা ২ এর দফা (২) এ সংজ্ঞায়িত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী;