প্রিন্ট

18/05/2024
ক্যাডেট কলেজ আইন, ২০১৭

ক্যাডেট কলেজ আইন, ২০১৭

( ২০১৭ সনের ১ নং আইন )

ক্যাডেট কলেজ সম্পর্কিত বিদ্যমান আইন রহিতপূর্বক কতিপয় সংশোধনীসহ উহা পুনঃপ্রণয়নকল্পে প্রণীত আইন
যেহেতু বাংলাদেশে ক্যাডেট কলেজ সম্পর্কিত বিদ্যমান আইন রহিতপূর্বক কতিপয় সংশোধনীসহ উহা পুনঃপ্রণয়নকল্পে বিধান করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়;
 
 
 
 
সেহেতু, এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল: -
 
সংক্ষিপ্ত শিরোনাম, প্রয়োগ ও প্রবর্তন
১। (১) এই আইন ক্যাডেট কলেজ আইন, ২০১৭ নামে অভিহিত হইবে।
 
 
(২) সমগ্র বাংলাদেশে ইহার প্রয়োগ হইবে।
 
 
(৩) ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে।
সংজ্ঞা
২। বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থি কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে, -
 
 
(ক) ‘‘কর্মচারী’’ অর্থ কলেজের কর্মে বেতন-ভাতাদিযুক্ত নিয়মিত পদে নিযুক্ত কোন ব্যক্তি;
 
 
(খ) ‘‘ক্যাডেট’’ অর্থ কলেজের একজন শিক্ষার্থী;
 
 
(গ) ‘‘কলেজ’’ অর্থ ধারা ৩ এর অধীন প্রতিষ্ঠিত কোন ক্যাডেট কলেজ;
 
 
(ঘ) ‘‘কেন্দ্রীয় পরিষদ’’ অর্থ ধারা ৬ এর অধীন গঠিত ক্যাডেট কলেজ কেন্দ্রীয় পরিষদ;
 
 
(ঙ) ‘‘চেয়ারম্যান’’ অর্থ ধারা ৬ এর অধীন গঠিত কেন্দ্রীয় পরিষদের চেয়ারম্যান;
 
 
(চ) ‘‘পরিচালনা পরিষদ’’ অর্থ ধারা ৯ এর অধীন গঠিত ক্যাডেট কলেজ পরিচালনা পরিষদ;
 
 
(ছ) ‘‘বিধি’’ অর্থ ধারা ১৬ এর অধীন প্রণীত বিধি;
 
 
(জ) ‘‘সভাপতি’’ অর্থ ধারা ৯ এর অধীন গঠিত পরিচালনা পরিষদের সভাপতি।
 
ক্যাডেট কলেজ প্রতিষ্ঠা
৩। (১) সরকার, প্রয়োজনে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, প্রজ্ঞাপনে উল্লিখিত তারিখে কোন এলাকায় এক বা একাধিক ক্যাডেট কলেজ প্রতিষ্ঠা করিতে পারিবে।
 
 
(২) প্রত্যেক কলেজ উহার নিজ নামে একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হইবে এবং উহার স্থায়ী ধারাবাহিকতাসহ একটি সাধারণ সিলমোহর থাকিবে, এবং উহার স্থাবর ও অস্থাবর উভয় প্রকারের সম্পত্তি অর্জন, ধারণ ও হস্তান্তর করিবার, চুক্তি সম্পাদন করিবার, এবং এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, অন্যান্য প্রয়োজনীয় কার্য সম্পাদন করিবার ক্ষমতা থাকিবে, এবং ইহা স্বীয় নামে মামলা করিতে পারিবে এবং ইহার বিরুদ্ধেও মামলা করা যাইবে।
 
কলেজের কার্যালয়
৪। সরকার কর্তৃক, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, নির্ধারিত স্থানে কলেজের কার্যালয় অবস্থিত হইবে।
কলেজের ক্ষমতা ও কার্যাবলী
৫। কলেজের ক্ষমতা ও কার্যাবলী হইবে নিম্নরূপ, যথা:-
 
 
(ক) বিশেষায়িত পদ্ধতিতে আধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষা প্রদান;
 
 
(খ) ক্যাডেটদের প্রাথমিক সামরিক প্রশিক্ষণ প্রদান;
 
 
(গ) কলেজ কর্তৃক উপযুক্ত বলিয়া বিবেচিত শাখা বা বিষয়ে পাঠ দান;
 
 
(ঘ) মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশিত পাঠক্রম সকল শ্রেণির জন্য অনুসরণ;
 
 
(ঙ) দফা (ক) হইতে (ঘ) তে বর্ণিত ক্ষমতা ও কার্যাবলীর পরিপূরক হিসাবে, কলেজের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য বাস্তবায়ন করিবার উদ্দেশ্যে শিক্ষার মানবিক, বিজ্ঞান ও অন্যান্য শাখার প্রসার সাধনে, আবশ্যক বিবেচিত, অন্য যে কোন কার্য সম্পাদন করা।
 
কেন্দ্রীয় পরিষদের গঠন
৬। ক্যাডেট কলেজসমূহের একটি কেন্দ্রীয় পরিষদ থাকিবে এবং উহা নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে গঠিত হইবে, যথা:-
 
 
(ক) সচিব, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, পদাধিকারবলে, যিনি উহার চেয়ারম্যানও হইবেন ;
 
 
(খ) সভাপতি, পরিচালনা পরিষদ, পদাধিকারবলে ;
 
 
(গ) অর্থ বিভাগ কর্তৃক মনোনীত উক্ত বিভাগের অন্যূন যুগ্ম-সচিব পদমর্যাদার একজন কর্মচারী ;
 
 
(ঘ) শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক মনোনীত উক্ত মন্ত্রণালয়ের অন্যূন যুগ্ম-সচিব পদমর্যাদার একজন কর্মচারী;
 
 
(ঙ) যুগ্ম-সচিব (পূর্ত ও উন্নয়ন), প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, পদাধিকারবলে ;
 
 
(চ) পরিচালক, শিক্ষা পরিদপ্তর, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, পদাধিকারবলে ;
 
 
(ছ) পরিচালক, শিক্ষা পরিদপ্তর, বাংলাদেশ নৌবাহিনী, পদাধিকারবলে ;
 
 
(জ) পরিচালক, শিক্ষা পরিদপ্তর, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী, পদাধিকারবলে ;
 
 
(ঝ) পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন), মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, পদাধিকারবলে ;
 
 
(ঞ) অধ্যক্ষ, ক্যাডেট কলেজ (সকল), পদাধিকারবলে ;
 
 
(ট) এ্যাসিস্ট্যান্ট এ্যাডজুটেন্ট জেনারেল (ক্যাডেট কলেজ সংশ্লিষ্ট), সেনাসদর, পদাধিকারবলে ; এবং
 
 
(ঠ) যুগ্ম-সচিব (ক্যাডেট কলেজ সংশ্লিষ্ট), প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, পদাধিকারবলে যিনি উহার সদস্য-সচিবও হইবেন।
 
কেন্দ্রীয় পরিষদের সভা
৭। (১) চেয়ারম্যান কর্তৃক নির্ধারিত তারিখে, কেন্দ্রীয় পরিষদ সাধারণভাবে প্রতি বৎসর ২(দুই) বার ঢাকায়, সভায় মিলিত হইবে।
 
 
(২) চেয়ারম্যান, প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় পরিষদের বিশেষ সভা আহবান করিতে পারিবেন।
 
 
(৩) চেয়ারম্যান কেন্দ্রীয় পরিষদের সকল সভায় সভাপতিত্ব করিবেন।
 
 
(৪) মোট সদস্য সংখ্যার অন্যূন অর্ধেক সদস্যের উপস্থিতিতে সভার কোরাম গঠিত হইবে।
 
 
(৫) সভায় উপস্থিত সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সম্মতির ভিত্তিতে সভার সিদ্ধান্ত গৃহীত হইবে।
 
 
(৬) উপস্থিত সদস্যগণের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে সভার সিদ্ধান্ত গৃহীত হইবে এবং ভোটের সমতার ক্ষেত্রে সভাপতিত্বকারী ব্যক্তির দ্বিতীয় বা নির্ণায়ক ভোট প্রদানের ক্ষমতা থাকিবে।
 
কেন্দ্রীয় পরিষদের ক্ষমতা ও দায়িত্ব
৮। কেন্দ্রীয় পরিষদের ক্ষমতা ও দায়িত্ব হইবে নিম্নরূপ, যথা: -
 
 
(ক) কলেজের কর্মচারীগণের দায়িত্ব ও চাকরির শর্তাবলি নির্ধারণ ;
 
 
(খ) মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশিত পাঠক্রম সকল শ্রেণির জন্য অনুসরণ নিশ্চিতকরণ ;
 
 
(গ) কলেজের বার্ষিক হিসাব, স্থিতিপত্র এবং বার্ষিক বাজেট প্রাক্কলন বিবেচনা, অনুমোদন ও কার্যার্থে সরকারের নিকট অগ্রায়ন ;
 
 
(ঘ) সকল কলেজের জন্য অভিন্ন কোন বিষয় বা রীতি বা পদ্ধতি নির্ধারণ ;
 
 
 
(ঙ) কেন্দ্রীয় পরিষদের পক্ষে ইহার চেয়ারম্যান কর্তৃক কলেজসমূহের অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ পদে নিয়োগ অনুমোদন ; এবং
 
 
(চ) কলেজ সম্পর্কিত যে কোন নীতিগত বিষয় নির্ধারণ।
 
পরিচালনা পরিষদ গঠন
৯। নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে পরিচালনা পরিষদ গঠিত হইবে, যথা:-
 
 
(ক) এ্যাডজুটেন্ট জেনারেল, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, পদাধিকারবলে, যিনি উহার সভাপতিও হইবেন;
 
 
(খ) যুগ্ম-সচিব (ক্যাডেট কলেজ সংশ্লিষ্ট), প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, পদাধিকারবলে;
 
 
(গ) অধ্যক্ষ, ক্যাডেট কলেজ (সকল), পদাধিকারবলে; এবং
 
 
(ঘ) এ্যাসিস্ট্যান্ট এ্যাডজুটেন্ট জেনারেল (ক্যাডেট কলেজ সংশ্লিষ্ট), সেনাসদর, পদাধিকারবলে, যিনি উহার সদস্য-সচিবও হইবেন।
 
পরিচালনা পরিষদের সভা
১০। (১) এই ধারার অন্যান্য বিধানাবলি সাপেক্ষে, পরিচালনা পরিষদ উহার সভার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে।
 
 
(২) পরিচালনা পরিষদের সভা সভাপতি কর্তৃক নির্ধারিত তারিখ, সময় ও স্থানে অনুষ্ঠিত হইবে।
 
 
(৩) মোট সদস্য সংখ্যার অন্যূন অর্ধেক সদস্যের উপস্থিতিতে পরিচালনা পরিষদের সভার কোরাম গঠিত হইবে।
 
 
(৪) সভাপতি পরিচালনা পরিষদের সকল সভায় সভাপতিত্ব করিবেন।
 
 
(৫) সভায় উপস্থিত সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সম্মতির ভিত্তিতে সভার সিদ্ধান্ত গৃহীত হইবে।
 
 
(৬) উপস্থিত সদস্যগণের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে সভার সিদ্ধান্ত গৃহীত হইবে এবং ভোটের সমতার ক্ষেত্রে সভাপতিত্বকারী ব্যক্তির দ্বিতীয় বা নির্ণায়ক ভোট প্রদানের ক্ষমতা থাকিবে।
 
পদে শূন্যতা হেতু কার্যক্রম অকার্যকর না হওয়া
১১। কোন পদে শূন্যতা বিদ্যমান থাকিবার কারণে, কেন্দ্রীয় পরিষদ কিংবা পরিচালনা পরিষদের কোন সিদ্ধান্ত, কার্য বা কার্যধারা অকার্যকর বলিয়া গণ্য হইবে না।
পরিচালনা পরিষদের ক্ষমতা ও দায়িত্ব
১২। (১) পরিচালনা পরিষদ ক্যাডেট কলেজের নির্বাহী পরিষদ হিসাবে দায়িত্ব পালন করিবে, এবং এই আইনের অন্যান্য বিধান ও পরিচালনা পরিষদকে প্রদত্ত ক্ষমতা সাপেক্ষে, কলেজের কার্যক্রম ও বিষয় সম্পত্তির সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও তত্ত্বাবধান করিবে।
 
 
(২) কলেজের যাবতীয় পরিসম্পদ পরিচালনা পরিষদের অধীন ন্যস্ত থাকিবে।
 
 
(৩) এই আইনের অন্যান্য বিধান সাপেক্ষে, পরিচালনা পরিষদ, অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে, নিম্নবর্ণিত ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করিবে, যথা:-
 
 
(ক) কলেজের সম্পত্তি ও তহবিল ধারণ, নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা;
 
 
(খ) কলেজের সাধারণ সিলমোহরের আকৃতি নির্ধারণ এবং উহার হেফাজত ও ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ;
 
 
(গ) সরকারের নিকট কলেজের আর্থিক চাহিদার একটি পূর্ণ বার্ষিক বাজেট বিবরণী পেশ;
 
 
(ঘ) সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে কলেজে ন্যস্ত যে কোন তহবিলের তত্ত্বাবধান;
 
 
(ঙ) কলেজের পক্ষে যে কোন স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তর;
 
 
(চ) কলেজে ক্যাডেট ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা;
 
 
(ছ) এই আইনের বিধানাবলি সাপেক্ষে, অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ ব্যতীত, সকল কর্মচারীর নিয়োগ এবং শূন্য পদ পূরণের ব্যবস্থা গ্রহণ;
 
 
(জ) কলেজের উন্নতির প্রস্তাব বিবেচনা ও পরীক্ষণ এবং এতদ্‌সংক্রান্ত উদ্যোগ গ্রহণ;
 
 
(ঝ) বাৎসরিক প্রতিবেদন, হিসাব এবং আর্থিক প্রাক্কলন সম্পর্কিত প্রস্তাবসমূহ বিবেচনাক্রমে উহা অনুমোদন এবং উহা কার্যার্থে সরকার বা, ক্ষেত্রমত, কেন্দ্রীয় পরিষদের নিকট অগ্রায়ন;
 
 
(ঞ) কলেজসমূহের অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ পদে নিয়োগের জন্য কেন্দ্রীয় পরিষদের চেয়ারম্যান বরাবর সুপারিশ প্রেরণ; এবং
 
 
(ট) এই আইন বা বিধির উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, উহার উপর অর্পিত বা আরোপিত অন্যান্য ক্ষমতা প্রয়োগ, দায়িত্ব পালন ও কার্যসম্পাদন।
বার্ষিক প্রতিবেদন
১৩। (১) পরিচালনা পরিষদের নির্দেশনায় কলেজসমূহ বার্ষিক প্রতিবেদন প্রস্তুত করিয়া সংশ্লিষ্ট শিক্ষাবর্ষ সমাপ্তির ৩ (তিন) মাসের মধ্যে সরকার, কেন্দ্রীয় পরিষদ ও পরিচালনা পরিষদের নিকট পেশ করিবে।
 
 
(২) সরকার বা, ক্ষেত্রমত, কেন্দ্রীয় পরিষদ, উপ-ধারা (১) এর অধীন পেশকৃত বার্ষিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করিয়া, কোন বিষয়ে পরিচালনা পরিষদ কর্তৃক কোন ব্যবস্থা গ্রহণ আবশ্যক মনে করিলে, পরিচালনা পরিষদকে উহা অবহিত করিবে, এবং পরিচালনা পরিষদ, যেইরূপ উপযুক্ত মনে করিবে সেইরূপ ব্যবস্থা গ্রহণ করিয়া তদ্‌কর্তৃক গৃহীত ব্যবস্থা সম্পর্কে সরকারকে বা, ক্ষেত্রমত, কেন্দ্রীয় পরিষদকে অবহিত করিবে।
 
বার্ষিক বাজেট
১৪। (১) পরিচালনা পরিষদ কলেজের জন্য বার্ষিক বাজেট প্রাক্কলন প্রস্তুত করিয়া বিবেচনা ও অনুমোদনের জন্য কেন্দ্রীয় পরিষদের নিকট দাখিল করিবে।
 
 
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন বার্ষিক বাজেট প্রাক্কলন কেন্দ্রীয় পরিষদের নিকট দাখিলকৃত হইলে, উক্ত পরিষদ, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, প্রয়োজনীয় মতামত বা সুপারিশসহ, উক্ত বিষয়ে পরবর্তী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য উহা সরকারের নিকট অগ্রায়ন করিবে।
 
 
(৩) কেন্দ্রীয় পরিষদের মতামত বা সুপারিশের আলোকে, সরকার, কলেজসমূহকে প্রতি বৎসর প্রয়োজনীয় পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ প্রদান করিবে।
 
হিসাবরক্ষণ ও নিরীক্ষা
১৫। (১) কলেজসমূহ উহার আয়-ব্যয়ের যথাযথ হিসাব সংরক্ষণ করিবে এবং হিসাবের বার্ষিক বিবরণী প্রস্তুত করিবে।
 
 
(২) বাংলাদেশের মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক প্রতি বৎসর কলেজসমূহের হিসাব নিরীক্ষা করিবেন।
 
 
(৩) নিরীক্ষা প্রতিবেদনের অনুলিপি সরকার, পরিচালনা পরিষদ ও সংশ্লিষ্ট কলেজ কর্তৃপক্ষকে প্রদান করিতে হইবে।
 
 
(৪) উপ-ধারা-২ এর অধীন হিসাব নিরীক্ষার উদ্দেশ্যে মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক কিংবা তাহার নিকট হইতে এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি কলেজের সকল রেকর্ড, দলিল-দস্তাবেজ, নগদ বা ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, জামানত, ভান্ডার এবং অন্যবিধ সম্পত্তি পরীক্ষা করিয়া দেখিতে পারিবেন এবং কলেজের হিসাব সংশ্লিষ্ট যে কোন ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করিতে পারিবেন।
বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা
১৬। এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।
রহিতকরণ ও হেফাজত
১৭। (১) Cadet College Ordinance, 1964 (Ordinance No. II of 1964), অতঃপর উক্ত Ordinance বলিয়া উল্লিখিত, এতদ্দ্বারা রহিত করা হইল।
 
 
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন রহিতকরণ সত্ত্বেও, উক্ত Ordinance এর অধীন -
 
 
(ক) প্রতিষ্ঠিত কলেজসমূহ ধারা ৩ এর অধীন প্রতিষ্ঠিত কলেজ বলিয়া গণ্য হইবে, এবং উক্ত কলেজে কর্মরত সকল কর্মচারী এই আইনের অধীন কর্মচারী বলিয়া গণ্য হইবেন;
 
 
(খ) অনিষ্পন্ন বা চলমান কার্যক্রম এমনভাবে নিষ্পন্ন করিতে হইবে বা চলমান থাকিবে যেন উক্ত Ordinance রহিত হয় নাই;
 
 
(গ) প্রণীত কোন বিধি, প্রবিধান বা জারীকৃত কোন আদেশ বা প্রজ্ঞাপন, এই আইনের সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া সাপেক্ষে, এই আইনের অধীন জারীকৃত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।
 
ইংরেজিতে অনূদিত পাঠ প্রকাশ
১৮। (১) এই আইন প্রবর্তনের পর সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা এই আইনের বাংলা পাঠের ইংরেজিতে অনূদিত একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ (Authentic English Text) প্রকাশ করিতে পারিবে।
 
 
(২) বাংলা পাঠ ও ইংরেজি পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাইবে।

Copyright © 2019, Legislative and Parliamentary Affairs Division
Ministry of Law, Justice and Parliamentary Affairs